পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অধ্যায় ৬ জলবায়ু ও দুর্যোগ

অধ্যায় ৬ জলবায়ু ও দুর্যোগ

 অনুশীলনীর প্রশ্ন ও সমাধান

 অল্পকথায় উত্তর দাও :
প্রশ্ন \ ১ \ দুর্যোগের দুটি প্রাকৃতিক কারণ উল্লেখ কর।
উত্তর : দুর্যোগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক কারণ হলো :
১. প্রাকৃতিক অবস্থান এবং ২. জলবায়ুর পরিবর্তন।
প্রশ্ন \ ২ \ দুর্যোগের দুটি মানবসৃষ্ট কারণ উল্লেখ কর।
উত্তর : মানবসৃষ্ট দুর্যোগের দুটি কারণ হলো :
১. নদী তীরবর্তী গাছপালা কেটে ফেললে নদীভাঙন দেখা দেয়।
২. কলকারখানার মাধ্যমে বায়ু দূষণের ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ফলে পরিবেশ শুষ্ক হয়ে যায়।
প্রশ্ন \ ৩ \ বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের তিনটি কারণ উল্লেখ কর।
উত্তর : জলবায়ু পরিবর্তনের তিনটি কারণ হলো :
ক. গাছপালা কাটার কারণে বন-জঙ্গলের পরিমাণ কমে যাওয়া।
খ. কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া।
গ. নদী ধ্বংস হওয়া।
 প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
প্রশ্ন \ ১ \ বাংলাদেশের কোন অঞ্চলগুলোতে নদী ভাঙনের প্রবণতা রয়েছে? কেন?
উত্তর : বাংলাদেশ নদ-নদীর দেশ হওয়ায় এদেশের অনেক জায়গাতেই নদীভাঙনের প্রবণতা দেখা যায়। এদেশের প্রধান নদী পদ্মা, যমুনা ও মেঘনাসহ ৭৫টি নদীতে নিয়মিত নদীভাঙন ঘটে থাকে। যমুনা, মেঘনা ও পদ্মা নদী তীরের ভাঙন সর্বাধিক এবং এ নদীগুলোর ক্রমাগত ভাঙনে সিরাজগঞ্জ ও চাঁদপুর জেলা শহর দুটি বিপদাপন্ন। এ অঞ্চলগুলোতে বন্যার ফলে নদী তীরবর্তী এলাকা ভাঙনের শিকার হয়। নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে নদী দ্রæতবেগে ছুটে চলে এবং প্রশস্ত আঁকাবাঁকা নদীতে বেশি ভাঙন ঘটে।
প্রশ্ন \ ২ \ বাংলাদেশের কোন অঞ্চলগুলোতে খরা বেশি হয়?
উত্তর : দীর্ঘসময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে। আমাদের দেশের কোনো কোনো অঞ্চল খরার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়। তাছাড়া এসব অঞ্চলে অল্পসংখ্যক নদী থাকার কারণে খরার প্রবণতা বেশি। দীর্ঘকাল ধরে শুষ্ক আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সেখানে খরা হয়।
প্রশ্ন \ ৩ \ বাংলাদেশের কোন অঞ্চলগুলো ভ‚মিকম্পপ্রবণ?
উত্তর : ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে ভ‚মিকম্পের নিশ্চিত ঝুঁকি রয়েছে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল অধিক ভ‚মিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল তুলনামূলক কম ভ‚মিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। বাংলাদেশের পূর্বাংশে রয়েছে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় এবং এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, সেলপাথর এবং কর্দম দ্বারা গঠিত। গঠনগত কারণে এ অঞ্চলে ভ‚মিকম্পের প্রবণতা বেশি।

 বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

 যোগ্যতাভিত্তিক
১. তুমি এবং তোমার ছোট বোন ঘরের মধ্যে অবস্থান করছ। সে সময় হঠাৎ গৃহে আগুন লেগে গেল। তোমরা সর্বপ্রথম কোন কাজটি করবে?
ক. ঘর থেকে বের হয়ে যাব 
খ. আগুন নেভানোর চেষ্টা করব
গ. অগ্নি নির্বাপক বাহিনীকে খবর দেব
ঘ. সাহায্যের জন্য প্রতিবেশীদেরকে ডাকব
২. তুমি বিদ্যালয় ভবনের তৃতীয় তলায় বসে আছ। হঠাৎ ভ‚মিকম্প শুরু হলো। তুমি তখন কী করবে?
ক. নিজ আসনে বসে থাকব
খ. বেঞ্চের নিচে আশ্রয় নেব 
গ. শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে যাব
ঘ. নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা শুরু করব
৩. কীসের অভাবে খরা হয়?
ক. বাতাস খ. পানি  গ. গবাদি পশু ঘ. ফসল
৪. আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে জানা গেল তোমার এলাকায় একটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তুমি কী করবে?
ক. নিজ ঘরে থাকব
খ. আশ্রয়কেন্দ্রে যাব 
গ. প্রতিবেশীদের বাড়িতে যাব
ঘ. আত্মীয়ের বাড়িতে যাব
৫. বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল সমুদ্রে তলিয়ে গেলে নিচের কোনটির ওপর প্রভাব পড়বে?
ক. নৌ যোগাযোগ বৃদ্ধি
খ. বহু মানুষ গৃহহীন হবে 
গ. লবণ উৎপাদন বাড়বে
ঘ. মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি পাবে
৬. গত বর্ষায় রিনাদের গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এই দুর্যোগের প্রধান কারণ কী ছিল?
ক. টর্নেডো খ. গাছ কাটা
গ. সাইক্লোন ঘ. তীব্র বন্যা 
৭. জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কত শতাংশ এলাকা সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে?
ক. ১৮ খ. ২০ 
গ. ২৫ ঘ. ৩০
৮. ভ‚মিকম্পের সময় ঘরের কোথায় অবস্থান করা আমাদের জন্য নিরাপদ?
ক. ব্রিজের নিচে খ. গাছের নিচে
গ. ঘরের কোণে ঘ. গাড়ির ভিতর
৯. সিলেট বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল অঞ্চল। এর কারণ হলো-
ক. প্রচুর গাছপালা  খ. অনেক পাহাড়
গ. অসংখ্য হাওর ঘ. অজস্র প্রতিত জমি
১০. ইমন জলবায়ু সম্পর্কিত প্রতিবেদন তৈরি করতে চাইলে কত বছরের বেশি সময়ের গড় আবহাওয়া সম্পর্কে জানতে হবে?
ক. ২০-৩০ বছরের খ. ৩০-৪০ বছরের 
গ. ৫০-৬০ বছরের ঘ. ৪০-৬০ বছরের
১১. গত ১২ই ফেব্রæয়ারি চট্টগ্রামে ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী এক কম্পনে হাজারবাগে একটি দোতলা দালানে ফাটল ধরে। এ কম্পনকে কী বলে?
ক. অগ্ন্যুৎপাত খ. ভ‚মিকম্প 
গ. আকস্মিক পরিবর্তন ঘ. ধীর পরিবর্তন
১২. বর্তমান হারে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে এর কী প্রভাব পড়বে?
ক. গাছপালা ও প্রাণী ধ্বংস হয়ে যাবে
খ. ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বেড়ে যাবে
গ. পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাবে
ঘ. নিম্নাঞ্চল সমুদ্রে তলিয়ে যাবে 
১৩. বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন যে প্রতিনিয়ত সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর যথার্থ কারণ হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?
ক. বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে
খ. জলধারগুলো ভরাট করা
গ. তাপমাত্রা বেড়ে বরফ গলে যাচ্ছে 
ঘ. নদী ভাঙন হওয়া
১৪. তুমি যদি গাছ না লাগিয়ে শুধু গাছ কেটে ফেল, তাহলে কেনটি ঘটবে বলে তুমি মনে কর?
ক. বন্যা খ. অতিবৃষ্টি
গ. খরা  ঘ. ঘূর্ণিঝড়
১৫. পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আরিয়ানের বাড়ি রংপুর অঞ্চলে। বছরের কোনো এক সময় দেখা গেল চাপকল দিয়ে পানি ওঠানো যাচ্ছে না। কী কারণে পানি ওঠানো যাচ্ছে না?
ক. মাটির আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায়
খ. ভ‚গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় 
গ. জলাবদ্ধতা
ঘ. ভ‚গর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক দূূষণ
১৬. রতনদের বাড়ি দিনাজপুর। তাদের এলাকায় মারাত্মক দুর্যোগ কোনটি?
ক. খরা  খ. নদীভাঙন
গ. জলোচ্ছ¡াস ঘ. ঘূর্ণিঝড়
১৭. অনেক সময় উঁচু রাস্তা বা বাঁধের উপর মাচা বানিয়ে অনেক পরিবার বাস করে কেন?
ক. বন্যার কারণে  খ. খরার কারণে
গ. দুর্ভিক্ষের কারণে ঘ. মহামারীর কারণে
১৮. ভ‚মিকম্প অনুভ‚ত হলে তুমি কী করবে?
ক. ঘরে বসে থাকব
খ. গাছের নিচে আশ্রয় নেব
গ. পুরোপুরি শান্ত থাকব 
ঘ. ছোটাছুটি করব
১৯. গত বর্ষায় রেহানাদের পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এটির কারণ কী?
ক. ঘূর্ণিঝড় খ. মারাত্মক বন্যা 
গ. জলোচ্ছ¡াস ঘ. গাছপালা কাটা
২০. বিপুল উত্তরাঞ্চলে বাস করে। উত্তরাঞ্চলের জন্য একটি মারাত্মক দুর্যোগ হলোÑ
ক. ভ‚মিকম্প খ. খরা 
গ. বন্যা ঘ. নদীভাঙন
২১. তুমি হঠাৎ করে অনুভব করলে ভ‚মিকম্প হচ্ছে। এক্ষেত্রে তোমার করণীয় কী?
ক. শক্ত কোনো আসবাবের নিচে আশ্রয় নিব 
খ. ছুটোছুটি করে বাইরে বের হব
গ. আলমারি বা জানালার কাছে দাঁড়াব
ঘ. দালানের নিচে গিয়ে আশ্রয় নিব
২২. ভ‚মিকম্পের সময় তুমি বিছানায় থাকলে কী করবে?
ক. ওঠে দৌড় দিবে
খ. আলমারির কাছে যেতে হবে
গ. টেবিলের উপরে বসতে হবে
ঘ. বালিশের নিচে মাথা দেবে 
২৩. বিভিন্ন কারণে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। নিচে কোনটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বলে তুমি মনে কর?
ক. বন-জঙ্গল ধ্বংস করা
খ. জলাধার ভরাট করা
গ. কলকারখানার কালো ধোঁয়া
ঘ. অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি 
২৪. প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে একটি হলো নদীভাঙন। বিভিন্ন কারণে নদী ভেঙে যায়। নিচের কোন প্রাকৃতিক কারণে নদী ভাঙে?
ক. ভ‚মিকম্প  খ. অপরিকল্পিত নদী খনন
গ. বালু উত্তোলন ঘ. নদীর তীরবর্তী গাছপালা কাটা
২৫. পদ্মা নদীর ভাঙন প্রক্রিয়া তীব্র হতে পারে কোনটির কারণে?
ক. নদী খনন খ. পানি উত্তোলন
গ. বন্যা  ঘ. নদী তীরবর্তী বৃক্ষ বনায়ন
২৬. পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে নিচের কোন দেশ?
ক. ভারত খ. পাকিস্তান
গ. চীন ঘ. বাংলাদেশ 
২৭. জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ নিচের কোন প্রভাব থেকে মুক্ত থাকছে?
ক. অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি হচ্ছে
খ. ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানছে
গ. অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা তৈরি থেকে 
ঘ. মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে
২৮. বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ¡াস, বন্যা, খরা, ভ‚মিকম্প ইত্যাদি বছরব্যাপী কম বেশি পত্রিকার লিড নিউজে থাকে। এ ঘটনাগুলো একত্রে কী নামে পরিচিত?
ক. দুর্বিপাক খ. দুর্যোগ 
গ. জলবায়ু ঘ. বিপর্যয়
২৯. বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল অধিক খরাপ্রবণ। এসব অঞ্চলে কেন খরা দেখা দেয়?
ক. ফসলের অভাবে
খ. বাতাসের অভাবে
গ. বৃক্ষরোপণের অভাবে
ঘ. শুষ্ক আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে 
৩০. তোমার মতে, নদীভাঙনের মানবসৃষ্ট কারণ কোনটি?
ক. ঘূর্ণিঝড়
খ. ভ‚মিকম্প
গ. পরিকল্পিত নদী খনন
ঘ. নদী তীরবর্তী গাছপালা কেটে ফেলা 
৩১. তোমার মতে, লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে কেন?
ক. খরার কারণে খ. নদীভাঙনের কারণে 
গ. শিক্ষার অভাবে ঘ. দারিদ্র্যের কারণে
৩২. কেন বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে চি‎ি‎হ্নত হয়েছে?
ক. প্রকৃতির জন্য খ. জলবায়ুর পরিবর্তনের জন্য 
গ. উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য ঘ. ভ‚মিকম্পের জন্য
৩৩. বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এখানে দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসের অন্যতম উপায় কী?
ক. গণসচেতনতা বৃদ্ধি খ. কর্ম-পরিকল্পনা তৈরি
গ. পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ  ঘ. অধিক হারে বৃক্ষরোপণ
৩৪. বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনে দ্রæত নিচের কোনটি দেখা যাচ্ছে না?
ক. তাপমাত্রা বৃদ্ধি খ. গাছপালা ও প্রাণীর বৃদ্ধি 
গ. ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘ. ভয়াবহ বন্যার পরিমাণ বৃদ্ধি
৩৫. বাংলাদেশে নদীভাঙনের প্রাকৃতিক কারণ কোনটি?
ক. বালু উত্তোলন খ. বন্যা 
গ. নদী খনন ঘ. ঘূর্ণিঝড়
৩৬. রিমিদের বাড়ি বন্যা কবলিত এলাকা হওয়ায় তার পড়ালেখার খুব ক্ষতি হয়। এটি কোন ধরনের দুর্যোগ?
ক. প্রাকৃতিক  খ. বৈশ্বিক
গ. মানবসৃষ্ট ঘ. আঞ্চলিক
৩৭. তুমি যদি গাছ না লাগিয়ে শুধু কেটে ফেলো তবে কোনটি ঘটবে?
ক. খরা  খ. নদীভাঙন
গ. বন্যা ঘ. জলোচ্ছ¡াস
৩৮. তুমি খরাপ্রবণ এলাকা পরিদর্শনে কোন জেলার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিবে?
ক. পাবনা খ. সিরাজগঞ্জ গ. বগুড়া ঘ. জামালপুর
৩৯. বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম কারণ কোনটি?
ক. গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া
খ. উত্তরের বিশাল পর্বতমালা
গ. দেশের ভৌগোলিক অবস্থান 
ঘ. দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উপস্থিতি
৪০. বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল অধিক খরাপ্রবণ। এসব অঞ্চলের খরা দূরীকরণে কী করা উচিত?
ক. বনভূমি কেটে ঘরবাড়ি তৈরি করা
খ. অধিক গাছপালা লাগানো 
গ. মাটি উর্বর করা
ঘ. মাটির ক্ষয়রোধ করা
 সাধারণ
৪১. কত সালের মধ্যে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ এলাকা সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে?
ক. ২০২০ খ. ২০৩০ গ. ২০৪০ ঘ. ২০৫০ 
৪২. শুষ্ক ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কী হয়?
ক. বন্যা খ. খরা 
গ. নদীভাঙন ঘ. ভ‚মিকম্প
৪৩. বাংলাদেশের শতকরা কত ভাগ এলাকায় বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ ঘটে।
ক. প্রায় ৫৬ ভাগ খ. প্রায় ৬০ ভাগ
গ. প্রায় ৬৪ ভাগ ঘ. প্রায় ৬৮ ভাগ
৪৪. বিনা কারণে বন্য প্রাণী হত্যা করলে নিচের কোনটি ঘটতে পারে?
ক. জলবায়ুর পরিবর্তন
খ. প্রাকৃতিক দূষণ
গ. প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট
ঘ. পৃথিবীর বিলুপ্ত
৪৫. প্রতি বছর বাংলাদেশ কেন দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছে?
ক. জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য
খ. রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের জন্য
গ. সেতু নির্মাণের জন্য
ঘ. জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য 
৪৬. কীভাবে ভ‚মিকম্পের ক্ষতি কমানো যায়?
ক. অধিক হারে বৃক্ষরোপণ করে
খ. জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে
গ. পরিবেশ দূষণ রোধের মাধ্যমে
ঘ. ভ‚মিকম্প সহনশীল ঘর নির্মাণ করে 
৪৭. কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়?
ক. বন্যা খ. খরা
গ. হাম  ঘ. সিডর
৪৮. নদীভাঙন মারাত্মক রূপ ধারণ করে কখন?
ক. বন্যার সময়  খ. খরার সময়
গ. ঘূর্ণিঝড়ের সময় ঘ. জলোচ্ছ¡াসের সময়
৪৯. কলকারখানার বর্জ্য পানিতে মিশলে কোনটি ঘটবে?
ক. পলির সৃষ্টি খ. মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি
গ. পানিদূষণ  ঘ. নদী ভরাট
৫০. আইলা, সিডর ও ঘূর্ণিঝড় হচ্ছেÑ
ক. নদী খ. দুর্যোগ 
গ. ভ‚মিকম্প ঘ. জলবায়ু
৫১. দুর্যোগের পূর্বাভাস জানাতে কোনটি ব্যবহৃত হয় না?
ক. টেলিভিশন খ. রেডিও
গ. টেপ রেকর্ডার  ঘ. মাইক
৫২. জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ভ‚মিকা কে রাখে?
ক. গাছপালা খ. মানুষ 
গ. ভ‚মিকম্প ঘ. পশুপাখি
৫৩. বাংলাদেশ নিচের কোন দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যে নেই?
ক. ঘূর্ণিঝড় খ. জলোচ্ছ¡াস
গ. অগ্ন্যুৎপাত  ঘ. নদীভাঙন
৫৪. কলকারখানা, যানবাহনের ধোঁয়া, নদী ধ্বংস হয়ে যাওয়া এসবের জন্য কী হচ্ছে?
ক. বায়ুদূষণ খ. পানিদূষণ
গ. শব্দ দূষণ ঘ. জলবায়ুর পরিবর্তন 
৫৫. কীসের পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীতে বিভিন্ন দুর্যোগের সৃষ্টি হচ্ছে?
ক. তাপমাত্রার খ. আবহাওয়ার
গ. জীবনযাত্রার ঘ. জলবায়ুর 
৫৬. মানুষ সচেতন ও সতর্ক থাকলে কী থেকে আত্মরক্ষা করতে পারে?
ক. প্রাকৃতিক দুর্যোগ  খ. যানবাহন
গ. হিংস্র প্রাণী ঘ. মৃত্যু
৫৭. কত বছরের বেশি আবহাওয়ার গড়কে জলবায়ু বলে?
ক. ২০ বছরের খ. ২৫ বছরের
গ. ৩০ বছরের  ঘ. ১০ বছরের
৫৮. বাংলাদেশের অধিক খরাপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?
ক. পূর্ব অঞ্চল খ. পশ্চিম অঞ্চল
গ. দক্ষিণ অঞ্চল ঘ. উত্তর অঞ্চল 
৫৯. বাংলাদেশ নিচের কোন দুর্যোগ ঝুঁকির মধ্যে নেই?
ক. ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ¡াস খ. অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি
গ. অগ্ন্যুৎপাত ও টর্নেডো ঘ. নদীভাঙন ও ভ‚মিকম্প
৬০. বড় ধরনের ভ‚মিকম্পের দ্বিতীয় ঝুঁকি কী?
ক. বন্যা  খ. খরা গ. নদীভাঙন ঘ. ঝড়
৬১. কোথায় প্রায়ই মৃদু ও মাঝারি ভ‚মিকম্প হচ্ছে?
ক. ভারতে খ. শ্রীলঙ্কায়
 গ. বাংলাদেশে ঘ. পাকিস্তানে

 

 সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

 যোগ্যতাভিত্তিক
প্রশ্ন-১ : আবহাওয়া কাকে বলে?
উত্তর : নির্দিষ্ট সময়ের কোনো নির্দিষ্ট স্থানের আকাশ ও বায়ুমন্ডলের সাময়িক অবস্থাকে আবহাওয়া বলে।
প্রশ্ন-২ : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কী সমস্যা হচ্ছে?
উত্তর : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে প্রতি বছর অতিবৃষ্টি, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ¡াস ইত্যাদি সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রশ্ন-৩ : বাংলাদেশের কয়েকটি দুর্যোগের নাম লিখ?
উত্তর : বাংলাদেশের কয়েকটি দুর্যোগের নাম হলো : নদী ভাঙন, খরা, ভ‚মিকম্প, বন্যা, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, ইত্যাদি।
প্রশ্ন-৪ : জলবায়ু কাকে বলে?
উত্তর : সাধারণত ৩০-৪০ বছরের বেশি সময়ের আবহাওয়ার গড়কে জলবায়ু বলে।
প্রশ্ন-৫ : দুর্যোগ কাকে বলে?
উত্তর : দুর্যোগ হলো প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে প্রকৃতি ও পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় যা আমাদের জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে থাকে।
প্রশ্ন-৬ : স্যার ক্লাসে একটি দেশের বহু বছরের গড় আবহাওয়া সম্পর্কে পড়াচ্ছেন। স্যার কোন বিষয়টি পড়াচ্ছেন?
উত্তর : স্যার জলবায়ু বিষয়টি পড়াচ্ছেন।
প্রশ্ন-৭ : রোকন বাংলাদেশের ৩০-৪০ বছরের গড় আবহাওয়া সম্পর্কে পড়ছে। রোকন কোন বিষয়টি পড়ছে?
উত্তর : রোকন জলবায়ু বিষয়টি পড়ছে।
প্রশ্ন-৮ : মিনাদের গ্রামের গড় তাপমাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কারণ কোনটি?
উত্তর : মিনাদের গ্রামের গড় তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণ জলবায়ু পরিবর্তন।
প্রশ্ন-৯ : সোনিয়াদের গ্রামে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এর কারণ কোনটি?
উত্তর : সোনিয়াদের গ্রামে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণ জলবায়ু পরিবর্তন।
প্রশ্ন-১০ : গ্রামে নদীভাঙনের ফলে কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এর মানবসৃষ্ট একটি কারণ কী?
উত্তর : গ্রামে নদীভাঙনের মানবসৃষ্ট একটি কারণ নদী থেকে বালু উত্তোলন।
প্রশ্ন-১১ : একটি গ্রামের নদীর পাড় ভেঙে বাড়িঘর, ফসলের মাঠ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দুর্যোগটির নাম কী?
উত্তর : দুর্যোগটির নাম নদী ভাঙন।
প্রশ্ন-১২ : রবিদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজমান। এর ফলে কোন দুর্যোগটি দেখা দিতে পারে?
উত্তর : এর ফলে খরা দুর্যোগটি দেখা দিতে পারে।
প্রশ্ন-১৩ : মিম গ্রামে গিয়ে দেখলো গ্রামের পুকুর, খাল বিল সব শুকিয়ে গেছে। মিমদের গ্রামে এরূপ অবস্থার কারণ কোনটি?
উত্তর : মিমদের গ্রামে এরূপ অবস্থার কারণ খরা।
প্রশ্ন-১৪ : মকবুল মিয়া পানির অভাবে তার জমিতে ফসল ফলাতে পারছেন না। এর পেছনে কোন কারণ দায়ী?
উত্তর : এর পেছনে খরা দায়ী।
প্রশ্ন-১৫ : তোমার বাড়িতে ভ‚মিকম্প অনুভ‚ত হলো। এক্ষেত্রে তোমার করণীয় কী হবে?
উত্তর : এক্ষেত্রে আমি কাঠের টেবিল বা শক্ত কোনো আসবাবের নিচে আশ্রয় নিব।
প্রশ্ন-১৬ : হীরাদের বাড়ি বাংলাদেশের পশ্চিম অঞ্চলে। তাদের অঞ্চলটি কোন ধরনের ভ‚মিকম্পপ্রবণ এলাকা?
উত্তর : তাদের অঞ্চলটি তুলোনামূলক কম ভ‚মিকম্পপ্রবণ এলাকা।
প্রশ্ন-১৭ : নির্দিষ্ট সময়ের নির্দিষ্ট স্থানের আকাশ ও বায়ুমণ্ডলের সাময়িক অবস্থাকে তুমি কী বলবে?
উত্তর : নির্দিষ্ট সময়ের নির্দিষ্ট স্থানের আকাশ ও বায়ুমণ্ডলের সাময়িক অবস্থাকে আমি আবহাওয়া বলব।
প্রশ্ন-১৮ : কোনো স্থানের আবহাওয়া পরিবর্তনের নির্দিষ্ট ধারাকে কী বলা হয়ে থাকে?
উত্তর : কোনো স্থানের আবহাওয়া পরিবর্তনের নির্দিষ্ট ধারাকে জলবায়ু বলা হয়ে থাকে।
প্রশ্ন-১৯ : বিশ্বে তাপমাত্রা বেড়ে বরফ গলতে শুরু করেছে, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির এ আচরণকে তুমি কী হিসেবে দেখবে?
উত্তর : প্রকৃতির এ আচরণকে আমি জলবায়ু পরিবর্তন হিসেবে দেখব।
প্রশ্ন-২০ : তোমার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর মধ্যে কোন দেশ অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশে পরিণত হয়েছে?
উত্তর : জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশে পরিণত হয়েছে।
প্রশ্ন-২১ : বন-জঙ্গলের পরিমাণ কমে যাওয়া, নদী ধ্বংস হওয়া, জলাধার ভরাট করা ইত্যাদির ফলে সমুদ্রের পানির কী হবে?
উত্তর : বন-জঙ্গলের পরিমাণ কমে যাওয়া, নদী ধ্বংস হওয়া, জলাধার ভরাট করা ইত্যাদির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে।
প্রশ্ন-২২ : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের জমিতে কী রকম প্রভাব দেখা যাচ্ছে?
উত্তর : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে।
প্রশ্ন-২৩ : নদীভাঙনের ফলে কী ক্ষতি হয়?
উত্তর : নদীভাঙনের ফলে কৃষি জমি, ঘরবাড়ি, জনবসতি এমনকি পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়। অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন ব্যাহত হয়।
 সাধারণ
প্রশ্ন-২৪ : খরা হয় কীভাবে?
উত্তর : দীর্ঘকাল ধরে শুষ্ক আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে খরা হয়।
প্রশ্ন-২৫ : নদীভাঙনের কারণ উল্লেখ কর।
উত্তর : নদীভাঙনের কারণ মূলত দুটি। যথা : প্রাকৃতিক কারণ এবং মানবসৃষ্ট কারণ। প্রাকৃতিক কারণের মধ্যে বন্যা অন্যতম। অন্যদিকে মানবসৃষ্ট কারণের মধ্যে রয়েছে অপরিকল্পিত নদী খনন, বালু উত্তোলন, নদী তীরবর্তী গাছপালা কাটা ইত্যাদি।
প্রশ্ন-২৬ : বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের নাম লিখ।
উত্তর : বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের নাম হচ্ছে সিডর।
প্রশ্ন-২৭ : সিডরে কতজনের জীবনহানি ঘটে?
উত্তর : সিডরে ৩,৪৪৭ জনের জীবনহানি ঘটে।
প্রশ্ন-২৮ : দুর্যোগের পূর্বাভাস জানতে পারলে কী করবে?
উত্তর : দুর্যোগের পূর্বাভাস জানতে পারলে তা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশীদের কাছে প্রচার করে তাদেরকে সতর্ক করে দেব।
প্রশ্ন-২৯ : ঘূর্ণিঝড় আইলায় কতজন নিখোঁজ হয়?
উত্তর : ঘূর্ণিঝড় আইলায় ৮,২০৮ জন নিখোঁজ হয়।
প্রশ্ন-৩০ : কত সালের মধ্যে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ এলাকা সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে?
উত্তর : ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ২০ শতাংশ এলাকা সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে।
প্রশ্ন-৩১ : দুর্যোগের ফলে পরিবেশের কী কী ক্ষতি হচ্ছে?
উত্তর : দুর্যোগের ফলে বন ধ্বংস হচ্ছে, কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, পানি ও বাতাস দূষিত হচ্ছে।
প্রশ্ন-৩২ : দুর্যোগের সময় মানুষ কীসের সংকটে পড়ে?
উত্তর : দুর্যোগের সময় মানুষ আশ্রয়, পানি, খাদ্য, চিকিৎসা, কর্মসংস্থানের অভাবসহ বিভিন্ন সংকটে পড়ে।
প্রশ্ন-৩৩ : বাংলাদেশের কোন এলাকার মানুষ খাবার পানি, চাষাবাদ ও পশুপালনের জন্য বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল?
উত্তর : বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ খাবার পানি, চাষাবাদ ও পশুপালনের জন্য বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল।
প্রশ্ন-৩৪ : কী কারণে প্রতিনিয়ত পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে?
উত্তর : প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দূষণের কারণে প্রতিনিয়ত পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে।
প্রশ্ন-৩৫ : জলবায়ু পরিবর্তনের একটি কারণ লিখ।
উত্তর : জলবায়ু পরিবর্তনের একটি কারণ হলো শিল্পকারখানার দূষণ।
প্রশ্ন-৩৬ : বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর : জলবায়ুর পরিবর্তনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে বায়ুম™ল শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে বৃষ্টিপাত কমে যায়।

 কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন ও উত্তর

 যোগ্যতাভিত্তিক
প্রশ্ন-১ : দুর্যোগ কাকে বলে? একটি বন্যা তোমাদের এলাকায় ধেয়ে আসছে। এক্ষেত্রে তুমি এবং তোমার পরিবারের চারটি করণীয় লিখ।
উত্তর : দুর্যোগ : দুর্যোগ হচ্ছে একটি মারাত্মক পরিস্থিতি যা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী, সম্পদ এবং পরিবেশের অনেক ক্ষতি করে। একটি বন্যা আমাদের এলাকায় ধেয়ে আসলে আমি ও আমার পরিবারের করণীয় হলো :
১. উঁচু মাচা বা পাটাতন তৈরি করে তার উপর খাদ্যশস্য, বীজ ইত্যাদি সংরক্ষণ করব।
২. শুকনা খাবার যেমন চিড়া, মুড়ি, খৈ, গুড় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র বিশেষ করে খাবার স্যালাইন ঘরে মজুদ রাখব।
৩. গবাদি পশু ও হাঁস মুরগি উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখব।
৪. নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রের খোঁজ রাখব।
প্রশ্ন-২ : করিম টেবিলে বসে বই পড়েছিল। হঠাৎ সে লক্ষ্য করল পড়ার টেবিলসহ ঘরের সকল আসবাবপত্রে এক ধরনের কাপুনি হচ্ছে। সে কোন ধরনের দুর্যোগ লক্ষ করল? উক্ত দুর্যোগের চারটি করণীয় লেখ।
করিম ভ‚মিকম্প নামক দুর্যোগটি লক্ষ্য করেছিল। ভ‚মিকম্পে চারটি করণীয় হলো :
১. কাঠের টেবিল বা শক্ত কোন আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিতে হবে।
২. বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে নিতে হবে।
৩. আতঙ্কিত হয়ে ছুটোছুটি করা যাবে না।
৪. প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা বাড়িতেই রাখতে হবে।
প্রশ্ন-৩ : নদী ভাঙনের পাঁচটি করণীয় উল্লেখ কর।
নদীভাঙনের পাঁচটি করণীয় হলো :
১. থাকার ঘর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া।
২. গোয়াল ঘর ও রান্না ঘর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা।
৩. ঘরের মূল্যবান সামগ্রী ও দলিলপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা।
৪. হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল নিরাপদ স্থানে রাখা।
৫. নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করা।
প্রশ্ন-৪ : দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি সম্পর্কে যা জান লেখ।
উত্তর : দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতি নিচে তুলে ধরা হলো :
১. প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, বইখাতা, পোশাক নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করব।
২. বন্যা মোকাবিলার জন্য সাঁতার শেখা বা ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য লাইফ জ্যাকেট, পুরনো টায়ার বা বাতাস ভর্তি টিউব ইত্যাদি সামগ্রী বাড়িতে রেখে দেব।
৩. আমরা সবাই যে অঞ্চলে বাস করি সেসব অঞ্চলের দুর্যোগের কারণ, ফলাফল বা প্রভাব সম্পর্কে জানব।
৪. সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, মাইক বা অন্যান্য প্রচারের মাধ্যমে দুর্যোগের বা আবহাওয়া বার্তা শুনব।
৫. বাড়ির আশেপাশে গাছ লাগাব।
প্রশ্ন-৫ : খরার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়?
উত্তর : খরায় ক্ষয়ক্ষতি কমানো সহজ নয়। এজন্য নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। যেমন :
১. ভ‚গর্ভস্থ পানির স্তর পরীক্ষা করে মাটির নিচ থেকে পানি উত্তোলন বন্ধ করে খরা মোকাবিলা করা যেতে পারে।
২. বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে রাখতে হবে, যাতে দরকারের সময় ব্যবহার করা যায়।
৩. ব্যাপক বনায়ন সৃষ্টি করা গেলে মাটি পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখতে পারবে এবং মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকবে।
৪. পানির অপচয় রোধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
৫. বন উজাড় বন্ধ করতে হবে।
প্রশ্ন-৬ : বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ কী? বাংলাদেশে ঘটে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর নাম লিখ।
উত্তর : বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দেয়ার কারণগুলো হলো :
১. বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির উপক‚লীয় এলাকা।
২. সীমান্তের বাইরে নদনদীর অবস্থান।
৩. দেশের উত্তর অংশ থেকে দক্ষিণ দিকে সমভ‚মির ক্রমনিম্ন ঢাল।
৪. বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি এবং মাঝেমাঝে অনাবৃষ্টি ইত্যাদি।
বাংলাদেশে ঘটে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো হলো: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ¡াস, নদীভাঙন, খরা, ভ‚মিকম্প ইত্যাদি।
প্রশ্ন-৭ : ভ‚মিকম্প মোকাবিলায় কোন কোন বিষয় মনে রাখতে হবে?
উত্তর : ভ‚মিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ভ‚মিকম্পের সময় আমাদের কতগুলো বিষয় মনে রাখতে হবে। যেমন :
১. ভ‚মিকম্পের সময় আমাদেরকে পুরোপুরি শান্ত থাকতে হবে।
২. কাঠের টেবিল বা শক্ত কোনো আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিতে হবে।
৩. বারান্দা, আলমারি, জানালা বা ঝোলানো ছবি থেকে দূরে থাকতে হবে।
৪. প্রথম ভ‚কম্পন থেমে যাবার পর সারিবদ্ধভাবে ঘর থেকে বের হয়ে খালি জায়গায় আশ্রয় নিতে হবে।
৫. প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা বাড়িতেই রাখতে হবে।
 সাধারণ
প্রশ্ন-৮ : বিভিন্ন দুর্যোগে শিশুদের লেখাপড়ায় কী কী সমস্যা হয় তা পাঁচটি বাক্যে লিখ।
উত্তর : বাংলাদেশে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। এ সময় শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। ফলে তাদের লেখাপড়ার অনেক ক্ষতি হয়। অনেক সময় বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে বাড়িঘরে পানি ওঠে, রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যায়। এতে করে শিশুরা লেখাপড়া করতে পারে না।
প্রশ্ন-৯ : ভ‚মিকম্পের সময় আমাদের করণীয় সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য লিখ।
উত্তর : ভ‚মিকম্পের সময় আমাদের করণীয় হলো :
১. পুরোপুরি শান্ত থাকতে হবে।
২. আতঙ্কিত হয়ে ছুটোছুটি করা যাবে না।
৩. বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখতে হবে।
৪. কাঠের টেবিল বা শক্ত কোনো আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিতে হবে।
৫. পাকা দালানে থাকলে বিমের পাশে দাঁড়াতে হবে।
প্রশ্ন-১০ : ঘূর্ণিঝড়ের ফলে কী কী সমস্যা হয়?
উত্তর : ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যে সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয় তা নিচে দেওয়া হলো :
ঘূর্ণিঝড়ে মানুষ, পশুপাখি, মাছসহ অন্যান্য প্রাণী, ফসল, ঘরবাড়ি, গাছপালা, রাস্তাঘাট সবকিছুরই ক্ষতি হয়। এ সময় মানুষ আশ্রয়, পানি, খাদ্য, চিকিৎসা, কর্মসংস্থানের অভাবসহ বিভিন্ন সংকটে পড়ে। শিশুরাও বিদ্যালয়ে যেতে না পারায় তাদের লেখাপড়ার ক্ষতি হয়। অনেক সময় ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে আশয়কেন্দ্রে চলে যেতে হয়। সেখানে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন-১১ : খরার কারণে কী কী সংকট দেখা দেয়?
উত্তর : খরার কারণে কুয়া, খাল, বিল ইত্যাদির পানি শুকিয়ে যায়। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যায়। ভ‚গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির আর্দ্রতা কমে যায়। মাঠের ফসল ফলাতে কষ্ট হয় এবং গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দেয়।
প্রশ্ন-১২ : বাংলাদেশে নদীভাঙনের কারণগুলো উলে­খ কর।
উত্তর : বাংলাদেশের অসংখ্য নদী ও নদীর শাখা-প্রশাখা রয়েছে। বিভিন্ন কারণে নদীগুলোর পাড় ভেঙে যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণ। প্রাকৃতিক কারণের মধ্যে প্রধান হলো বন্যা, ভূমিকম্প ইত্যাদি। অন্যদিকে মানবসৃষ্ট কারণের মধ্যে রয়েছে অপরিকল্পিত নদী খনন, বালু উত্তোলন, নদী তীরবর্তী গাছপালা কেটে ফেলা ইত্যাদি।
প্রশ্ন-১৩ : ‘বাংলাদেশ নানা দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছে’Ñএ সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য লেখ।
উত্তর : প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে জলবায়ু পরিবর্তিত হয়ে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে প্রতি বছর অতিবৃষ্টি, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ¡াস, অনাবৃষ্টি প্রভৃতি দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। একারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সমতল ভ‚মিতে লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশে পরিণত হয়েছে।
প্রশ্ন-১৪ : বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের জন্য খরা একটি মারাত্মক দুর্যোগ? এর কারণ কী?
উত্তর : বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের জন্য খরা একটি মারাত্মক দুর্যোগ। এসব অঞ্চলে খরা সৃষ্টির বিভিন্ন কারণ রয়েছে। যেমন- এ অঞ্চলে দীর্ঘকাল ধরে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করে। এখানে অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়। এছাড়া এ অঞ্চলে নদীর সংখ্যা কম।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply