You are currently viewing তৃতীয় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৩ বিভিন্ন ধরনের পদার্থ

তৃতীয় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৩ বিভিন্ন ধরনের পদার্থ

তৃতীয় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৩ বিভিন্ন ধরনের পদার্থ পোস্টে এই অধ্যায়ের অনুশীলনীর প্রশ্নউত্তর সহ অতিরিক্ত সংক্ষিপ্ত ও কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নউত্তর ও ৩য় শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের শেষে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিচে চোখ রাখুন।

৩য় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৩ বিভিন্ন ধরনের পদার্থ

>> অধ্যায়টির মূলভাব জেনে নিই
আমাদের চারপাশে আমরা বিভিন্ন ধরনের বস্তু দেখতে পাই। তাদের প্রত্যেকেরই আকার, আয়তন ও ওজন আছে। কোনোটির আবার নির্দিষ্ট আয়তন নেই, কিন্তু ওজন আছে। তরল পদার্থ পাত্রভেদে ভিন্ন ভিন্ন আকার ধারণ করে। তবে প্রায় সব কঠিন বস্তুকেই আমরা একটি শ্রেণিতে ফেলতে পারি, কারণ এদেরকে যেখানেই রাখা যাক এদের আকার, আয়তন ও ওজন বদলাবে না। কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো প্রত্যেকেরই নির্দিষ্ট ওজন আছে। পানিকে তিন অবস্থাতেই রূপান্তর করা যায়। তবে পানি ছাড়া অন্যান্য কঠিন বস্তুর ক্ষেত্রেও এই রূপান্তর সম্ভব; যেমনÑ লোহা।

৩য় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৩ অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর

১। শূন্যস্থান পূরণ কর।
১) বরফ হচ্ছে পানির — অবস্থা।
২) পানি — হলে বরফে পরিণত হয়।
৩) পানিকে — দিলে জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়।
৪) সকল জিনিস — দিয়ে তৈরি।
উত্তর : ১) কঠিন, ২) অনেক বেশি ঠাণ্ডা, ৩) তাপ, ৪) পদার্থ।
২। সঠিক উত্তরটিতে (√) টিক চিহ্ন দাও।
১) কোনটি কঠিন পদার্থ?
ক. পানি খ. জলীয় বাষ্প
গ. ফলের রস √ঘ. আইসক্রিম
২) কোনটি তরল পদার্থ?
√ক. তেল খ. জলীয় বাষ্প
গ. বুদবুদ ঘ. বরফ
৩। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
১) পানির তিনটি অবস্থার নাম কী?
উত্তর : পানি তিন অবস্থায় থাকতে পারে। পানির এই তিনটি অবস্থা হলোÑ কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
২) পদার্থ কী ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : যার আয়তন ও ওজন আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। পদার্থ ভারী বা হালকা, গোল বা যেকোনো আকারের, নরম বা শক্ত হতে পারে। যেমনÑ চেয়ার, টেবিল, বই ইত্যাদি।
৩) কঠিন এবং তরল পদার্থের মধ্যে দুইটি পার্থক্য লেখ।
উত্তর : কঠিন ও তরল পদার্থের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিচে দেওয়া হলোÑ
কঠিন পদার্থ তরল পদার্থ
১. কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার আছে। ১. তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আকার নেই।
২. কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে তরলে পরিণত হয়। যেমনÑ বরফকে তাপ দিলে পানি হয়। ২. তরল পদার্থকে তাপ দিলে বায়বীয় পদার্থে পরিণত হয়। যেমনÑ পানিকে তাপ দিলে জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়।
৪) বায়বীয় পদার্থের দুইটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর : বায়বীয় পদার্থের দুইটি বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলোÑ
১. বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ওজন আছে।
২. বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আয়তন নেই।
৫) পাঁচটি তরল পদার্থের নাম লেখ।
উত্তর : পাঁচটি তরল পদার্থের নাম নিচে লেখা হলোÑ
ক) পানি, খ) দুধ, গ) ফলের জুস, ঘ) তেল, ঙ) মধু।
৪। বামপাশের বাক্যের সাথে ডানপাশের শব্দের মিল কর।
যে পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন এবং আকার থাকে তরল পদার্থ
যে পদার্থ একটি বদ্ধ পাত্রের পুরো জায়গা দখল করে কঠিন পদার্থ
যে পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার নেই বায়বীয় পদার্থ
উত্তর :
যে পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন এবং আকার থাকে কঠিন পদার্থ।
যে পদার্থ একটি বদ্ধ পাত্রের পুরো জায়গা দখল করে বায়বীয় পদার্থ।
যে পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার নেই তরল পদার্থ।

৩য় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৩ অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর

>> সত্য হলে ‘স’ এবং মিথ্যা হলে ‘মি’ লেখ।
১) পানি একটি বায়বীয় পদার্থ।
২) গ্যাসের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন আছে।
৩) অনেক বেশি তাপমাত্রায় লোহাকে তরল করা যায়।
৪) পানিতে ডুবন্ত গøাস থেকে যে বুদ্বুদ বের হয় তা আসলে বাতাস।
৫) কঠিন ও তরল বস্তুর মধ্যে একটি মিল হলো উভয়েরই নির্দিষ্ট আকার আছে।
উত্তর : ১) মি, ২) মি, ৩) স,
৪) স, ৫) মি।
য় বামপাশের বাক্যের সাথে ডানপাশের শব্দের মিল কর।
ক) বায়বীয় পদার্থের তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
খ) পদার্থকে একটি কঠিন পদার্থ।
গ) লোহাকে বেশি তাপে উত্তপ্ত করলে নির্দিষ্ট ওজন আছে।
ঘ) ইট তিন অবস্থায় থাকতে পারে।
ঙ) পানি তরল হয়।
উত্তর :
ক) বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ওজন আছে।
খ) পদার্থকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
গ) লোহাকে বেশি তাপে উত্তপ্ত করলে তরল হয়।
ঘ) ইট একটি কঠিন পদার্থ।
ঙ) পানি তিন অবস্থায় থাকতে পারে।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

১. কঠিন পদার্থের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর : কঠিন পদার্থের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১) এর নির্দিষ্ট আকার আছে।
২) এর নির্দিষ্ট আয়তন আছে।
৩) এর নির্দিষ্ট ওজন আছে।
২. কঠিন পদার্থের সাথে তরল পদার্থের মূল পার্থক্য কোথায়?
উত্তর : কঠিন পদার্থের সাথে তরল পদার্থের মূল পার্থক্য হলোÑ কঠিন পদার্থের অবশ্যই নির্দিষ্ট আকার, আয়তন ও ওজন থাকে। কিন্তু তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন ও ওজন থাকলেও নির্দিষ্ট আকার নেই।
৩. তরল পদার্থের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর : তরল পদার্থের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলোÑ
১) এর নির্দিষ্ট ওজন আছে।
২) এর নির্দিষ্ট আয়তন আছে।
৩) এর নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
৪. আমরা যেসব বস্তু দেখতে পাই ও ব্যবহার করি তাদের কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করতে পারি ও কী কী?
উত্তর : আমরা যেসব বস্তু দেখতে পাই ও ব্যবহার করি তাদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করতে পারি। যেমনÑ কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
৫. পানির তিন অবস্থা কী কী? এদের উদাহরণ দাও।
উত্তর : পানির তিনটি অবস্থা হলোÑ কঠিন, তরল ও বায়বীয়। কঠিন অবস্থায় পানি বরফ হয়, স্বাভাবিক অবস্থায় পানি তরল থাকে এবং বায়বীয় অবস্থায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়।
৬. বায়বীয় পদার্থের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর : বায়বীয় পদার্থের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলোÑ
১) এর নির্দিষ্ট ওজন আছে।
২) এর নির্দিষ্ট আয়তন নেই।
৩) এর নির্দিষ্ট আকার নেই।

কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন ও উত্তর

ন্ধ সাধারণ
১. আইসক্রিম কোন ধরনের পদার্থ? এর বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর: আইসক্রিম কঠিন পদার্থ। কিন্তু বাইরের পরিবেশের তাপ পেলে আইসক্রিম তরল হয়ে যায়।
নিচে আইসক্রিমের কঠিন ও তরল অবস্থার বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলোÑ
কঠিন অবস্থায় বৈশিষ্ট্য :
১) নির্দিষ্ট আকার আছে ২) নির্দিষ্ট আয়তন আছে
৩) নির্দিষ্ট ওজন আছে
তরল অবস্থায় বৈশিষ্ট্য :
১) নির্দিষ্ট আয়তন আছে ২) নির্দিষ্ট ওজন আছে
৩) নির্দিষ্ট আকার নেই
২. তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটলে পানির অবস্থার পরিবর্তন ঘটে কীভাবে?
উত্তর : পানি তিন অবস্থায় থাকতে পারে। যেমন-কঠিন, তরল ও বায়বীয়। তাপ দিলে তরল পানি জলীয় বাষ্পে পরিণত হয়। এটা পনির বায়বীয় অবস্থা। জলীয় বাষ্প ঠাণ্ডা হলে আবার পানিতে পরিণত হয়। পানিকে যদি অনেক বেশি ঠাণ্ডা করা হয় তবে তা বরফে পরিণত হয়। এটা পানির কঠিন অবস্থা। আবার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে বরফ গলে পানিতে পরিণত হয়। এভাবেই তাপমাত্রা কম-বেশি হলে পানির অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।
ন্ধ যোগ্যতাভিত্তিক
৩. গরম দুধ ভর্তি গøাস থেকে তুমি ধোঁয়া উঠতে দেখলে। গরম দুধ কী ধরনের পদার্থ? ধোঁয়া উঠার কারণ লেখ। তোমার দেখা খাবার থেকে ধোঁয়া উঠার ৫টি উদাহরণ দাও।
উত্তর : গরম দুধ তরল পদার্থ।
দুধ বেশি গরম করলে বুদবুদ উঠতে থাকে। বুদবুদে পানির অদৃশ্য জলীয় বাষ্প বাহিরের ঠাণ্ডা বাতাসের সংস্পর্শে ঠাণ্ডা হলে ছোট ছোট পানি কণা জমে দৃশ্যমান হওয়াই ধোঁয়া উঠার কারণ।
আমার দেখা খাবার থেকে ধোঁয়া উঠার ৫টি উদাহরণ হলোÑ
১) গরম চা বা কফি থেকে ধোঁয়া বের হয়
২) তরকারি রান্নার সময় ধোঁয়া দেখা যায়।
৩) পানি ফোটানোর সময় ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
৪) ভাত রান্নার সময় ধোঁয়া দেখা যায়।
৫) গরম পিঠা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply