You are currently viewing তৃতীয় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৪ জীবনের জন্য পানি

তৃতীয় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৪ জীবনের জন্য পানি

তৃতীয় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৪ জীবনের জন্য পানি পোস্টে এই অধ্যায়ের অনুশীলনীর প্রশ্নউত্তর সহ অতিরিক্ত সংক্ষিপ্ত ও কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নউত্তর ও ৩য় শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের শেষে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিচে চোখ রাখুন।

৩য় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৪ জীবনের জন্য পানি

>> অধ্যায়টির মূলভাব জেনে নিই
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পানি আবশ্যক। পানি ছাড়া মানুষ কেন, কোনো জীবই বাঁচতে পারে না। পান করা থেকে শুরু করে গোসল করা, থালাবাসন ধোয়া, কাপড়-চোপড় ধোয়া, চাষাবাদ করাসহ সকল কাজে পানি প্রয়োজন। এসবের মধ্যে পান ও আহারের জন্য আমরা নিরাপদ পানি ব্যবহার করি বা অনিরাপদ পানি ফুটিয়ে অথবা শোধন করে ব্যবহার করি। আর অন্যান্য সাধারণ কাজে আমরা বিভিন্ন উৎসের পানি ব্যবহার করে থাকি। নিরাপদ পানির উৎসগুলো হলোÑ নলক‚প, কুয়া, বৃষ্টি ইত্যাদি। তবে নিরাপদ না হলেও প্রয়োজনীয়তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পানির অন্যান্য উৎসগুলো হলো- পুকুর, খাল, বিল, হাওর, ডোবা, নদী ও সাগর। পৃথিবী পৃষ্ঠের চার ভাগের তিন ভাগ পানি দ্বারা ঢাকা। তবুও ব্যবহার উপযোগী পানি খুব বেশি পরিমাণে নেই। নিরাপদ পানি শেষ হয়ে গেলে আমাদের জীবন ধারণ কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আমাদের উচিত নিরাপদ পানির উৎসের দূষণ ও অপচয় রোধ করা।

৩য় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৪ অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর

১। শূন্যস্থান পূরণ কর।
১) পানি একটি — সম্পদ।
২) পানিতে ক্ষতিকর বর্জ্য মিশলে পানি — হয়।
৩) বৃষ্টি, নদী, সমুদ্র এবং পানির কল এগুলো পানির —।
৪) সমুদ্রের পানি —।
উত্তর : ১) প্রাকৃতিক, ২) দূষিত, ৩) উৎস, ৪) লোনা।
২। সঠিক উত্তরটিতে (চ) টিক চিহ্ন দাও।
(১) কোনটি পানি দূষণের কারণ?
চ ক. পানিতে ময়লা ফেলা
খ. পানিতে নৌকা চালানো
গ. পানিতে মাছ ধরা
ঘ. খাবার রান্না করা
(২) কোন রং এর নলক‚প থেকে নিরাপদ পানি পাওয়া যায়?
ক. নীল খ. হলুদ
চ গ. সবুজ ঘ. লাল
(৩) কোনটি নিরাপদ পানি?
ক. পুকুরের পানি চ খ. ফুটানো পানি
গ. নদীর পানি ঘ. সাগরের পানি
৩। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
১) আমরা কী কী কাজে পানি ব্যবহার করি?
উত্তর : পানি আমাদের অনেক কাজে লাগে। যেমনÑ
১) আমরা পানি পান করি।
২) রান্নার কাজে পানি ব্যবহার করি।
৩) পরিচ্ছন্নতা ও ধোয়া-মোছার কাজে পানি আবশ্যক।
৪) কলকারখানায় পানি ব্যবহৃত হয়।
৫) চাষাবাদের কাজে আমরা পানি ব্যবহার করি।
২) পানি দূষণের তিনটি কারণ লেখ।
উত্তর : পানি বিভিন্নভাবে দূষিত হয়। যেমনÑ
১) পানিতে ময়লা বা আবর্জনা ফেললে।
২) কলকারখানার দূষিত বর্জ্য পানিতে মিশালে।
৩) পুকুরের পানিতে গরু ছাগল ও অন্যান্য প্রাণী গোসল করালে।
৩) আমরা কীভাবে পানি দূষণ রোধ করতে পারি?
উত্তর : আমাদের বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ পানির ব্যবহার অপরিসীম। নিরাপদ পানির জন্য এর উৎসগুলোর দূষণ রোধ করতে হয়। পানির উৎসগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে আমরা পানি দূষণ রোধ করতে পারি। যেমন :
১) পানিতে কলকারখানার দূষিত বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে।
২) পানিতে তেল ও ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে।
৩) পুকুর ও নদীতে গরু-ছাগল গোসল করানো বন্ধ করতে হবে।
৪) পানি দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে লোকজনকে সচেতন করতে হবে।
এরকম ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আমরা পানির দূষণ রোধ করতে পারি।
৪) আমরা কীভাবে পানির অপচয় রোধ করতে পারি?
উত্তর : পৃথিবী পৃষ্ঠের চার ভাগের তিন ভাগ পানি দ্বারা ঢাকা হলেও পানের উপযোগী নিরাপদ পানির পরিমাণ খুবই কম। তাই পানির অপচয় রোধে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত। এজন্য আমরা কতগুলো উপায় অবলম্বন করতে পারি। যেমনÑ
১) বিনা প্রয়োজনে নলক‚পের পানি না তোলা।
২) অযথা পানির কল ছেড়ে না রাখা।
৩) ব্যবহারের পর পানির কল বন্ধ রাখা।
৪) বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা।
৪। নিচের ছকে পানির উৎসগুলোকে নিরাপদ পানি এবং অনিরাপদ পানি এ দুভাগে সাজাও।
ফিল্টার করা পানি, সমুদ্রের পানি, লাল রঙের নলক‚পের পানি, সবুজ রঙের নলক‚পের পানি, ফুটানো পানি, পুকুরের পানি

নিরাপদ পানি অনিরাপদ পানি

উত্তর : নিচের ছকে পানির উৎসগুলোকে নিরাপদ পানি এবং অনিরাপদ পানি এ দু ভাগে সাজালামÑ
নিরাপদ পানি অনিরাপদ পানি
ফিল্টার করা পানি সমুদ্রের পানি
সবুজ রঙের নলক‚পের পানি লাল রঙের নলক‚পের পানি
ফুটানো পানি পুকুরের পানি

৩য় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৪ অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর

>> সত্য হলে ‘স’ এবং মিথ্যা হলে ‘মি’ লেখ।
১) সব উৎসের পানি পান করা নিরাপদ।
২) সাগরের পানি মিষ্টি স্বাদের।
৩) মোটর চালিয়ে গভীর নলক‚পের পানি উঠানো যায়।
৪) পিপাসা পেলে আমরা পানি পান করি।
৫) উদ্ভিদের পানির প্রয়োজন নেই।
উত্তর : ১) মি, ২) মি, ৩) স, ৪) স, ৫) মি।
>> বাম পাশের অংশের সাথে ডান পাশের অংশের মিল কর।
ক) পানির আরেক নাম তিন ভাগ পানি।
খ) পৃথিবী পৃষ্ঠের চার ভাগের ছেড়ে রাখব না
গ) নিরাপদ পানির জীবন।
ঘ) কুয়া ও বাঁধ মানুষের তৈরি পানির উৎস
ঙ) অযথা পানির কল খুব অভাব।
উত্তর :
ক) পানির আরেক নাম জীবন।
খ) পৃথিবী পৃষ্ঠের চার ভাগের তিন ভাগ পানি।
গ) নিরাপদ পানির খুব অভাব।
ঘ) কুয়া ও বাঁধ মানুষের তৈরি পানির উৎস।
ঙ) অযথা পানির কল ছেড়ে রাখব না।
>> শূন্যস্থান পূরণ কর।
১) ঝরনা, নলক‚প ও কুয়া মাটির — পানি।
২) পুকুর, ডোবা, খাল ও নদীর পানিতে ময়লা ও — মিশে থাকে।
৩) পুকুরের পানি — পান করা যায়।
৪) সাগরের পানি পান করার — নয়।
৫) গ্রামের মানুষ সাধারণত — ও — পানি পান করে থাকে।
৬) কোনো কোনো নলক‚পের পানিতে — মিশে থাকে।
৭) আর্সেনিকযুক্ত নলক‚পকে — রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়।
৮) — জন্য পানি প্রয়োজন।
৯) পৃথিবীতে — সীমিত পরিমাণে রয়েছে।
১০) নিরাপদ পানি শেষ হয়ে গেলে আমাদের জীবন ধারণ — হয়ে পড়বে।
উত্তর : ১) নিচের, ২) রোগজীবাণু , ৩) ফুটিয়ে, ৪) উপযোগী, ৫) নলক‚প, কুয়ার, ৬) আর্সেনিক, ৭) লাল, ৮) জীবনের, ৯) প্রাকৃতিক সম্পদ, ১০) কঠিন।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

১. পানির কয়েকটি প্রাকৃতিক উৎসের নাম লেখ।
উত্তর : পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলো হলো- বৃষ্টি, বিল, হাওর, প্রাকৃতিক ঝরনা, নদী, সাগর ও ভ‚গর্ভস্থ পানি।
২. পানির কৃত্রিম উৎসের নাম লেখ।
উত্তর : পুকুর, খাল, কুয়া, নলক‚প ও কৃত্রিম ঝরনা।
৩. গ্রামের মানুষ সাধারণত কোন উৎসের পানি পান করে?
উত্তর : গ্রামের মানুষ সাধারণত নলক‚প ও কুয়ার পানি পান করে।
৪. পানির উৎসগুলোকে কয়ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?
উত্তর : পানির উৎসগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথাÑ (ক) প্রাকৃতিক উৎস (খ) মানুষের তৈরি উৎস।
৫. স্বাদের উপর ভিত্তি করে পানির উৎসকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?
উত্তর : স্বাদের উপর ভিত্তি করে পানির উৎসকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথাÑ (ক) স্বাদু পানির উৎস (খ) লোনা পানির উৎস।

কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন ও উত্তর

ন্ধ সাধারণ
১. কিসের জন্য স্বাদু পানি প্রয়োজন? স্বাদু পানির উৎসগুলো লেখ। পান করার জন্য কোন ধরনের স্বাদু পানি নিরাপদ এবং কোনগুলো অনিরাপদ? লেখ।
উত্তর : পান করা, রান্না করা এবং গোসল করার জন্য স্বাদু পানি প্রয়োজন।
স্বাদু পানির উৎসগুলো হলো বৃষ্টি, পুকুর, কুয়া ও পানির কল।
বোতলে প্রক্রিয়াজাত করা পানি, ফুটানো পানি, ফিল্টার করা পানি এবং নলক‚পের পানি পান করার জন্য নিরাপদ। আর পুকুর ও নদীর দূষিত স্বাদু পানি পান করা আমাদের জন্য অনিরাপদ।
২. পানির পাঁচটি ব্যবহার লিখ।
উত্তর : আমরা বিভিন্নকাজে পানি ব্যবহার করি। এর পাঁচটি ব্যবহার নিম্নরূপ
১) পান করা।
২) রান্নার কাজে।
৩) পরিচ্ছন্নতা ও ধোয়া-মোছার কাজে।
৪) ফসল ফলাতে।
৫) মৎস্য খামারে এবং কলকারখানায় পানি ব্যবহৃত হয়।
৩. পানি আমরা কোথা থেকে পাই?
উত্তর : বেঁচে থাকার জন্য মানুষসহ সকল প্রাণী ও উদ্ভিদের পানি প্রয়োজন। আর আমাদের চারপাশের বিভিন্ন উৎস থেকে পানি পেয়ে থাকি। বৃষ্টি, নদী-নালা, খাল-বিল, হ্রদ, সমুদ্র ইত্যাদি প্রাকৃতিক উৎস থেকে পানি পাওয়া যায়। এছাড়া পুকুর, কুয়া ও নলক‚পের মতো মানুষের তৈরি উৎস থেকে আমরা পানি পেতে পারি।
৪. পানির উৎস এবং ব্যবহারের মধ্যে সম্পর্ক কী?
উত্তর : আমাদের চারপাশে পানির বিভিন্ন উৎস রয়েছে। কিন্তু সকল উৎসের পানি সব কাজে ব্যবহার করা যায় না। উৎসের ভিন্নতায় পানি ব্যবহারে ভিন্নতা তৈরি হয়। যেমনÑ পুকুরের পানি গোসল করা ও মৎস্য চাষে ব্যবহার করা হয় কিন্তু পান করা বা রান্নার কাজে ব্যবহার হয় না। তাই পানির উৎস ও ব্যবহার এর মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
৫. পানি কীভাবে দূষিত হয়?
উত্তর : বেঁচে থাকার জন্য পানি প্রয়োজন হলেও দূষিত পানি আমাদের জন্য ক্ষতিকর। আমাদের জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পানি বিভিন্নভাবে দূষিত হয়। মূলত পানিতে ক্ষতিকর বস্তু মিশলেই পানি দূষিত হয়। কারখানার দূষিত বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা পানিতে ফেললে এগুলো থেকে ক্ষতিকর বস্তু পানিতে মিশে পানিকে দূষিত করে। এছাড়া পানিতে গরু-ছাগল গোসল করানো ও কাপড় ধোয়ার কাজ করার মাধ্যমেও পানি দূষিত হয়।
ন্ধ যোগ্যতাভিত্তিক
৬. স্বাস্থ্যকর্মী তোমাদের নলক‚পের পানি পরীক্ষা করে এর মুখে লাল রং লাগিয়ে দিলেন। এর কারণ কী? এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য তোমার নেওয়া ৪টি পদক্ষেপ লেখ।
উত্তর : নলক‚পের পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যকর্মী আমাদের নলক‚পের মুখে লাল রং লাগিয়ে দেন।
এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য আমার নেওয়া ৪টি পদক্ষেপ হলোÑ
১. লাল রং করা নলক‚পের পানি পান করব না।
২. রান্নার কাজে এ পানি ব্যবহার করব না।
৩. খাওয়ার জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করব।
৪. পুকুর বা নদীর পানি ছাঁকন পদ্ধতিতে ছেঁকে ফুটিয়ে সংরক্ষণ করব।
৭. পানি দূষণ কী? পানি দূষণের কারণ কী? তোমার গ্রামের পুকুরটির পানি দূষণ রোধে তোমার নেওয়া পাঁচটি পদক্ষেপ লেখ।
উত্তর : পানিতে ক্ষতিকর বস্তু মিশ্রিত হয়ে নিরাপদ পানি অনিরাপদ হওয়াকে পানি দূষণ বলে।
পানিতে তেল, ময়লা-আবর্জনা এবং অন্যান্য ক্ষতিকর বর্জ্য ফেললে এদের থেকে ক্ষতিকর পদার্থ পানিতে মিশ্রিত হয়। তখন পানি দূষিত হয়।
আমার গ্রামের পুকুরটির পানি দূষণ রোধে আমার নেওয়া পাঁচটি পদক্ষেপ হলোÑ
১) পুকুরের পানিতে গরু-ছাগল গোসল করানো বন্ধ করব।
২) পুকুরে কাপড়-চোপড় ও বাসন-কোসন ধোয়া থেকে সকলকে বিরত রাখব।
৩) পুকুরে যেন কেউ ময়লা আবর্জনা ফেলতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখব।
৪) প্রাণীর মৃতদেহ পুকুরে ফেলতে নিষেধ করব।
৫) পানি দূষণ রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করব।
৮. পানি কী? এটি সংরক্ষণ প্রয়োজন কেন? পানি অপচয় রোধে তোমার করণীয় কী?
উত্তর : পানি একটি প্রাকৃতিক সম্পদ।
আমাদের জীবনের জন্য পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পৃথিবীতে এই মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত পরিমাণে রয়েছে। এর মধ্যে আবার স্বাদু পানির পরিমাণ খুবই কম। তাই পানি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
পানি অপচয় রোধে আমার করণীয় হলো
১) দাঁত ব্রাশ করা এবং হাত ধোয়ার সময় পানির অপচয় না করা ।
২) কাপড় ধোয়ার সময় পানির অপচয় না করা।
৩) গোসলের সময় অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না করা ।
৪) বিনা কারণে পানির কল না ছাড়া।
৫) পানি অপচয় রোধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সকলকে সচেতন করা।

——————

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply