তৃতীয় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৬ বায়ু

You are currently viewing তৃতীয় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৬ বায়ু

তৃতীয় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৬ বায়ু পোস্টে এই অধ্যায়ের অনুশীলনীর প্রশ্নউত্তর সহ অতিরিক্ত সংক্ষিপ্ত ও কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নউত্তর ও ৩য় শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের শেষে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিচে চোখ রাখুন।

৩য় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৬ বায়ু

>> অধ্যায়টির মূলভাব জেনে নিই
পরিবেশের অতি প্রয়োজনীয় কিন্তু অদৃশ্য উপাদান হচ্ছে বায়ু। বায়ুমণ্ডল আমাদের পৃথিবীকে ঘিরে আছে। নানা রকম গ্যাসের মিশ্রণে বায়ু গঠিত। বায়ুতে প্রধানত নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড ও জলীয় বাষ্প থাকে। বায়ুতে অক্সিজেন না থাকলে আমরা বেঁচে থাকতে পারতাম না। আগুন জ্বালানোর জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। উদ্ভিদের খাদ্য তৈরিতে কার্বন ডাইঅক্সাইড লাগে। বায়ুর নাইট্রোজেন মাটির সাথে মিশে উদ্ভিদের পাতার সবুজ অংশ তৈরিতে সহায়তা করে। মানুষ নানাভাবে বায়ু দূষিত করে। যেমনÑ মোটরগাড়ি ও কলকারখানার ধোঁয়া, সিগারেটের ধোঁয়া, ইটের ভাটার ধোঁয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও বসন্ত রোগীর দেহের জীবাণু বায়ুকে দূষিত করে। গাড়ির কালো ধোঁয়া রোধ করে, পায়ে হেঁটে অথবা সাইকেলে চলাচল করে, ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে বায়ু দূষণ রোধ করা যায়।

৩য় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৬ অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর

১। শূন্যস্থান পূরণ কর।
(১) গাড়ির — বায়ু দূষিত করে।
(২) বৈদ্যুতিক বাতিতে — ব্যবহার করা হয়।
(৩) আগুন নেভাতে — ব্যবহার হয়।
(৪) গাড়ির চাকায় — ব্যবহার করা হয়।
(৫) পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে চড়ে — রোধ করা যায়।
উত্তর : (১) ধোঁয়া, (২) নাইট্রোজেন, (৩) কার্বন ডাই অক্সাইড, (৪) বায়ু, (৫) বায়ু দূষণ।
২। সঠিক উত্তরটিতে (চ) টিক চিহ্ন দাও।
(১) উদ্ভিদ কার্বন ডাইঅক্সাইড কী কাজে ব্যবহার করে?
চ ক. খাদ্য তৈরিতে খ. বৃদ্ধিতে
গ. ফুল ফোটাতে ঘ. ফল উৎপাদনে
(২) প্রাণীর শ্বাসকার্যে কোন গ্যাস প্রয়োজন?
ক. কার্বন ডাইঅক্সাইড চ খ. অক্সিজেন
গ. নাইট্রোজেন ঘ. জলীয় বাষ্প
(৩) সারের কোন উপাদান উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সহায়ক?
ক. কার্বন ডাইঅক্সাইড খ. অক্সিজেন
চ গ. নাইট্রোজেন ঘ. পানি

৩। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
১) আমাদের চারপাশে বায়ু আছে এমন তিনটি উদাহরণ দাও।
উত্তর : আমাদের চারপাশে আমরা বিভিন্নভাবে বায়ুর উপস্থিতি অনুভব করি। এর তিনটি উদাহরণ নিচে দেওয়া হলোÑ
১) বাতাসে ফুলানো ব্যাগ পানির ভেতরে নিয়ে বায়ু ছেড়ে দিলে বুদবুদ হয়ে উপরে উঠে আসে।
২) হাত নাড়ালে আমাদের গায়ে বাতাস লাগে।
৩) নৌকার পালে বাতাস লাগলে নৌকা চলে।
২) বায়ুর চারটি উপাদানের নাম লেখ।
উত্তর : বায়ুতে বিভিন্ন উপাদান আছে। এর মধ্যে চারটি উপাদান হলো :
১) নাইট্রোজেন, ২) অক্সিজেন, ৩) কার্বন ডাইঅক্সাইড ও ৪) জলীয় বাষ্প।
৩) বায়ুদূষণ প্রতিরোধ করার তিনটি উপায় লেখ।
উত্তর : বায়ুদূষণ প্রতিরোধের তিনটি উপায় হলোÑ
১) পায়ে হেঁটে অথবা সাইকেলে চলাচল করা।
২) ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা।
৩) মোটরগাড়ি এবং কলকারখানার কালো ধোঁয়া রোধ করা।
৪। বামপাশের শব্দের সঙ্গে ডানপাশের শব্দের মিল কর।
সার
আগুন নেভানো
প্রাণীর শ্বাস-প্রশ্বাস
আলুর চিপসের প্যাকেট
সোডা, কোমল পানীয় অক্সিজেন
কার্বন ডাইঅক্সাইড
নাইট্রোজেন
উত্তর :
সার – নাইট্রোজেন।
আগুন নেভানো – কার্বন ডাইঅক্সাইড।
প্রাণীর শ্বাস-প্রশ্বাস – অক্সিজেন।
আলুর চিপসের প্যাকেট – নাইট্রোজেন।
সোডা, কোমল পানীয় – কার্বন ডাইঅক্সাইড।

তৃতীয় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৬ বায়ু অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর

>> সত্য হলে ‘স’ এবং মিথ্যা হলে ‘মি’ লেখ :
১) জীবের বেঁচে থাকার জন্য বায়ু প্রয়োজন।
২) বায়ু পরিবেশের একটি উপাদান।
৩) সবখানেই বায়ু আছে।
৪) আলুর চিপস জাতীয় খাদ্যের প্যাকেটে অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়।
৫) দূষিত বায়ু হৃদরোগের কারণ হতে পারে।
উত্তর : ১) স, ২) স, ৩) স, ৪) মি, ৫) স।
>> বাম পাশের অংশের সাথে ডান পাশের অংশের মিল কর :
ক) বায়ু উপাদান হলো কার্বন ডাই অক্সাইড।
খ) হাতপাখা নাড়ালে বায়ু দূষিত হয়।
গ) বায়ুর বায়ুর উপস্থিতি বোঝা যায়।
ঘ) সিগারেটের ধোঁয়ায় জীবের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন।
ঙ) অক্সিজেন দেখা যায় না।

উত্তর :
ক) বায়ু দেখা যায় না।
খ) হাতপাখা নাড়ালে বায়ুর উপস্থিতি বোঝা যায়।
গ) বায়ুর উপাদান হলো কার্বন ডাইঅক্সাইড।
ঘ) সিগারেটের ধোঁয়ায় বায়ু দূষিত হয়।
ঙ) অক্সিজেন জীবের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন।
>> শূন্যস্থান পূরণ কর :
১) বায়ুভর্তি ব্যাগ পানির ভেতরে নিয়ে ছেড়ে দিলে বায়ু — হয়ে উপরে উঠে আসে।
২) উদ্ভিদ — তৈরিতে বায়ু ব্যবহার করে।
৩) প্রাণী বেঁচে থাকার জন্য — উপর নির্ভর করে।
৪) বৈদ্যুতিক বাতির বাল্বে — ব্যবহার করা হয়।
৫) বায়ু দূষণ প্রতিরোধ করে আমরা বায়ু — রাখতে পারি।
উত্তর : ১) বুদবুদ, ২) খাদ্য, ৩) অক্সিজেনের, ৪) নাইট্রোজেন, ৫) পরিষ্কার।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

১. কোন গ্যাস কোনোকিছু জ্বলতে সাহায্য করে?
উত্তর : অক্সিজেন গ্যাস কোনোকিছু জ্বলতে সাহায্য করে।
২. আগুন নেভানোর যন্ত্রে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
উত্তর : আগুন নেভানোর যন্ত্রে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
৩. উদ্ভিদের কোন অংশে খাদ্য তৈরি হয়?
উত্তর : উদ্ভিদের সবুজ পাতায় খাদ্য তৈরি হয়।
৪. উদ্ভিদের খাদ্য তৈরিতে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
উত্তর : উদ্ভিদের খাদ্য তৈরিতে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
৫. আমাদের চারপাশে বায়ুর উপস্থিতির দুটি ঘটনা লেখ।
উত্তর : বায়ুর উপস্থিতি বোঝার জন্য অনেক ঘটনা রয়েছে। এরূপ দুটি ঘটনা হলো-
১) হাতপাখা ব্যবহার করে বায়ুর উপস্থিতি বোঝা যায়।
২) বায়ু প্রবাহ উইন্ডমিলের চাকা ঘুরিয়ে বায়ুর উপস্থিতি প্রমাণ করে।
৬. বায়ুর তিনটি উপাদানের নাম লেখ।
উত্তর : বায়ুর তিনটি উপাদান হলোÑ
নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড।
৭. বায়ু ব্যবহারের দুটি উদাহরণ দাও।
উত্তর : মানুষ বিভিন্নভাবে বায়ু ব্যবহার করে। যেমনÑ
১) সাইকেল ও গাড়ির চাকায় বায়ু ব্যবহার করা হয়।
২) বায়ুপ্রবাহ উইন্ডমিলের চাকা ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরিতে সহায়তা করে।

কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন ও উত্তর

ন্ধ সাধারণ
১. বায়ুর উপস্থিতি অনুভব করার দুটি ব্যবস্থা লেখ। বায়ুর তিনটি উপাদানের দুটি করে ব্যবহার লেখ।
উত্তর : বায়ুর উপস্থিতি অনুভব করার দুটি ব্যবস্থা হলো-
১) বাতাসে ফোলানো ব্যাগ পানির ভেতরে নিয়ে বায়ু ছেড়ে দিলে তা বুদবুদ হয়ে উপরে উঠে আসে।
২) হাত নাড়ালে আমাদের গায়ে বাতাস লাগে।
বায়ুর তিনটি উপাদানের দুটি করে ব্যবহার হলো-
বায়ুর উপাদান আমাদের জীবনে এর ব্যবহার
অক্সিজেন র) প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন আবশ্যক।
রর) আগুন জ্বালাতে অক্সিজেন প্রয়োজন।
কার্বন ডাইঅক্সাইড র) উদ্ভিদের খাদ্য তৈরিতে দরকার।
রর) আগুন নেভাতে ব্যবহৃত হয়।
নাইট্রোজেন র) সার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
রর) বৈদ্যুতিক বাল্বে ব্যবহৃত হয়।
২. বায়ু দূষণের কারণগুলো লেখ।
উত্তর : নানা কারণে বায়ু দূষিত হয়। নিচে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হলোÑ
১) ইটের ভাটা, কলকারখানা, বাস, রেলগাড়ি ইত্যাদির কালো ধোঁয়া বায়ুতে মিশে বায়ু দূষিত করে।
২) সিগারেটের ধোঁয়া বায়ুকে দূষিত করে।
৩) আগুনের ছাই ও ধোঁয়া বায়ু দূষিত করে।
৪) যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেললে ও মলমূত্র ত্যাগ করলে বায়ু দূষিত হয়।

৩. বায়ু দূষণ প্রতিরোধের উপায়গুলো লিখ।
উত্তর : বায়ু দূষণ প্রতিরোধের উপায়গুলো নিচে উল্লেখ করা হলোÑ
১) পরিবেশবান্ধব ইটের ভাটা, কল-কারখানা নির্মাণ করতে হবে।
২) সিগারেট খাওয়া বন্ধ করতে হবে।
৩) ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।
৪) পায়ে হেঁটে এবং সাইকেলে চলাচল করে বায়ু দূষণ রোধ করা যায়।
৫) গাড়ির কালো ধোঁয়া রোধ করে বায়ু দূষণ কমানো সম্ভব।
ন্ধ যোগ্যতাভিত্তিক
৪. বায়ু দূষণ কী? তোমার শহরের বায়ু দূষণের ২টি কারণ লেখ। বায়ু দূষণ রোধে তোমার নেওয়া পাঁচটি পদক্ষেপ উল্লেখ কর।
উত্তর : বিভিন্ন উৎস থেকে বায়ুতে ক্ষতিকর জিনিস মিশে নির্মল বায়ুকে দূষিত করাই হলো বায়ু দূষণ।
আমার শহরের বায়ু দূষণের একাধিক কারণের মধ্যে ২টি কারণ হলোÑ
১) মোটরগাড়ি ও কলকারখানার ধোঁয়া বায়ু দূষিত করে।
২) যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা এবং মলমূত্র ত্যাগ করায় বায়ু দূষিত হয়।
বায়ু দূষণ রোধে আমার নেওয়া পাঁচটি পদক্ষেপ হলোÑ
১) পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে চলাচল করব।
২) ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলব।
৩) কলকারখানা ও গাড়ির কালো ধোঁয়া রোধ করার চেষ্টা করব।
৪) বন-জঙ্গল কাটা বন্ধ ও সংরক্ষণ করব।
৩) বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্বন্ধে জনগণকে সচেতন করব।

——————

Share to help others:

Leave a Reply