You are currently viewing তৃতীয় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৭ খাদ্য

তৃতীয় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৭ খাদ্য

তৃতীয় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৭ খাদ্য পোস্টে এই অধ্যায়ের অনুশীলনীর প্রশ্নউত্তর সহ অতিরিক্ত সংক্ষিপ্ত ও কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নউত্তর ও ৩য় শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের শেষে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর দেখতে নিচে চোখ রাখুন।

৩য় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৭ খাদ্য

>> অধ্যায়টির মূলভাব জেনে নিই
শরীর সুস্থ ও সবল রাখার জন্য আমাদের খাদ্যের প্রয়োজন। খাবার ছাড়া কোনো জীব বেশি দিন বেঁচে থাকতে পারে না। তবে শুধু খাবার খেলেই চলবে না, এর পুষ্টিগুণ বিচার করে সঠিক পরিমাণে খেতে হবে। খাদ্যে আমিষ, শর্করা, স্নেহ জাতীয় খাবার ছাড়াও পানি, ভিটামিন ও খনিজ লবণের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে হবে। এসব উপাদান শরীরের বৃদ্ধি ঘটায়, ক্ষয় পূরণ করে, শরীরে শক্তি জোগায় ও বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে রক্ষা করে। মৌসুমি ফল ও সবজি সংরক্ষণ করে আমরা সারা বছর খেতে পারি। তবে খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখতে সংরক্ষণ প্রক্রিয়া অবশ্যই যথাযথ হতে হবে।

৩য় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৭ অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর

১। শূন্যস্থান পূরণ কর।
(১) দেহের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য আমাদের — প্রয়োজন।
(২) সবজিতে প্রচুর পরিমাণে — ও — রয়েছে।
(৩) আমাদের খাদ্যের প্রধান উপাদানগুলো হচ্ছে —, — এবং —।
(৪) দেহের প্রয়োজনীয় উপাদান — খাদ্যে পাওয়া যায়।
উত্তর : ১) খাদ্য, ২) ভিটামিন, খনিজ লবণ, ৩) আমিষ, শর্করা, চর্বি, ৪) সুষম।
২। সঠিক উত্তরটিতে (চ) টিক চিহ্ন দাও।
(১) আমিষের প্রধান কাজ কী?
ক. শক্তি যোগান খ. দুর্বলতা দূর করা
গ. রোগ প্রতিরোধ করা চ ঘ. দেহের গঠন ও বৃদ্ধি
(২) গ্রীষ্মকালীন ফল কোনটি?
ক. কলা খ. বরই
চ গ. লিচু ঘ. জলপাই
(৩) অধিক আমিষের উৎস কোনটি?
ক. লাউ খ. কুমড়া
চ গ. ডাল ঘ. আলু

৩। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
(১) ফল ও সবজি আমাদের কেন খাওয়া প্রয়োজন?
উত্তর : বিভিন্ন ফল এবং শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ লবণ বিদ্যমান। ভিটামিন ও খনিজ লবণ আমাদের দেহকে কর্মক্ষম ও সুস্থ রাখে। তাই স্বাস্থ্য ভালো রাখা ও রোগ প্রতিরোধের জন্য আমাদের নিয়মিত ফল ও সবজি খাওয়া প্রয়োজন।
(২) ভিটামিন আমাদের দেহে কী কাজ করে?
উত্তর : বিভিন্ন ফল এবং শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য উপাদান ভিটামিন পাওয়া যায়। ভিটামিন আমাদের দেহ কর্মক্ষম ও সুস্থ রাখে। এছাড়া এটি দেহে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলে আমাদেরকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে।
(৩) সুষম খাদ্য কেন গ্রহণ করতে হয়?
উত্তর : সুষম খাদ্য হলো সেই খাদ্য যাতে আমাদের দেহের প্রয়োজনীয় সকল উপাদান পরিমাণ মতো থাকে। এ খাদ্যে আমিষ, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ লবণ প্রয়োজনীয় পরিমাণে থাকতে হবে। আমাদের দেহে খাদ্যের সকল উপাদানের কাজ এ খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। সুষম খাদ্য আমাদের দেহ সুস্থ রাখে এবং শক্তিশালী করে। এছাড়া এটি দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটায় এবং রোগের সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে। আর এজন্যই আমাদেরকে সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হয়।
(৪) খাদ্য সংরক্ষণের দুইটি উপায় লেখ।
উত্তর : খাদ্য সংরক্ষণের দুইটি উপায় হলোÑ
ক) শুকিয়ে : রোদে বা চুলার আগুনে শুকিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়। যেমনÑ ফল, মাছ, মাংস ও ডাল ইত্যাদি।
খ) বোতলজাত/টিনজাত করে : খাদ্যদ্রব্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট সময় ধরে উত্তপ্ত করে বোতলে ভরে সংরক্ষণ করা যায়। যেমনÑ ফল, সবজি, মাংস, রান্না করা খাবার ইত্যাদি।
(৫) পুষ্টি কী তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : পুষ্টি হলো জীবদেহের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদান। আমরা খাদ্য থেকে পুষ্টি পেয়ে থাকি। মানুষ ও অন্যান্য সকল প্রাণীরই খাদ্যের প্রয়োজন। কারণ মানুষ তার খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি পেয়ে থাকে। আর খাদ্য আমাদের বৃদ্ধি ও কাজ করার প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দেয়। আমিষ, শর্করা ও চর্বি পুষ্টির প্রধান উপাদান হলেও ভিটামিন ও খনিজ লবণও এটির উপাদান।
(৬) তিনটি বারোমাসি ফলের নাম লেখ।
উত্তর : তিনটি বারোমাসি ফল হলোÑ
১) পেঁপে ২) কলা ও ৩) নারিকেল
৪। ডানপাশের শব্দের সঙ্গে বামপাশের শব্দের মিল কর।
আমিষ পনির
ভিটামিন চাউল
চর্বি রোগ প্রতিরোধ
শর্করা মাছ
উত্তর : আমিষ-মাছ।
ভিটামিন-রোগ প্রতিরোধ।
চর্বি-পনির।
শর্করা-চাউল।

৩য় শ্রেণির বিজ্ঞান অধ্যায় ৭ অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর

>> সত্য হলে ‘স’ এবং মিথ্যা হলে ‘মি’ লেখ।
১) কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি আমরা আমিষ থেকে পেয়ে থাকি।
২) খাদ্য গ্রহণ, হজম ও শরীরের শোষণের কাজে নিরাপদ পানি পান করা প্রয়োজন।
৩) ডাল আমিষ জাতীয় খাদ্য।
৪) উদ্ভিদজাত সয়াবিন তেলে চর্বি নেই।
৫) পেঁপে, কলা ও নারিকেল বারোমাসি ফল।
উত্তর : ১) মি, ২) স, ৩) স, ৪) মি, ৫) স।
>> বাম পাশের অংশের সাথে ডান পাশের অংশের মিল কর।
ক) গ্রীষ্মকালীন ফল কলা
খ) বারোমাসি ফল মাছ, মাংস
গ) শীতকালীন ফল কাঁঠাল
ঘ) আমিষ বরই
উত্তর : ক) গ্রীষ্মকালীন ফল – কাঁঠাল।
খ) বারোমাসি ফল – কলা।
গ) শীতকালীন ফল – বরই।
ঘ) আমিষ – মাছ, মাংস।

>> শূন্যস্থান পূরণ কর।
১) প্রাণী খাদ্য হিসাবে — বা অন্য কোনো প্রাণী খেয়ে থাকে।
২) খাদ্য আমাদের বৃদ্ধি এবং কাজ করার — জোগায়।
৩) শিমের বিচিতে প্রচুর পরিমাণে — আছে।
৪) উদ্ভিদজাত সয়াবিন তেলে — রয়েছে।
৫) — ও — আমাদের দেহ কর্মক্ষম ও সুস্থ রাখে।
৬) দামি অথবা কম দামি সব খাদ্যেই — আছে।
৭) স্বাস্থ্য ভালো রাখা এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য — খাওয়া প্রয়োজন।
৮) শশা, পানি কচু, করলা — সবজি।
৯) — কারণে খাবার পচে।
১০) — মাধ্যমে খাদ্য নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।
উত্তর : ১) উদ্ভিদ, ২) প্রয়োজনীয় শক্তি, ৩) আমিষ, ৪) চবির্, ৫) ভিটামিন, খনিজ লবণ, ৬) পরিমিত পুষ্টিমান, ৭) ফল, ৮) গ্রীষ্মকালীন, ৯) জীবাণুর, ১০) সংরক্ষণের।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

১. আমরা কেন খাবার খাই?
উত্তর : শরীর সুস্থ ও সবল রাখার জন্য আমরা খাবার খাই।
২. পুষ্টি উপাদান প্রধানত কয়টি ও কী কী?
উত্তর : পুষ্টির উপাদান প্রধানত তিনটি। যথাÑ ১) আমিষ, ২) শর্করা ও ৩) চর্বি।
৩. আমিষের দুইটি কাজ লেখ।
উত্তর : আমিষের দুইটি কাজ হলোÑ
ক) দেহ গঠন করে।
খ) দেহের মাংসপেশির ক্ষয়পূরণ করে।
৪. পানি পান করার প্রয়োজনীয়তা কী?
উত্তর : খাদ্য হজম এবং তা দেহে শোষণের জন্য পরিমাণমতো নিরাপদ পানি পান করা প্রয়োজন।
৫. সুষম খাদ্য বলতে কী বোঝ?
উত্তর : যে খাদ্যে আমাদের দেহের প্রয়োজনীয় সকল উপাদান পরিমাণমতো থাকে সেই খাদ্যকে সুষম খাদ্য বলে।
৬. তিনটি বারোমাসি শাকের নাম লেখ।
উত্তর : তিনটি বারোমাসি শাক হলো লালশাক, কলমিশাক ও কচুশাক।

কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন ও উত্তর

ন্ধ সাধারণ
১. সুষম খাদ্যের ২টি উপকারিতা লেখ। এর অভাবজনিত ৫টি লক্ষণ উল্লেখ কর।
উত্তর : সুষম খাদ্যের উপকারিতাÑ
ক) দেহ সুস্থ রাখে ও শক্তিশালী করে।
খ) দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটায় এবং রোগের আক্রমণ কমায়।
সুষম খাদ্যের অভাবজনিত ৫টি লক্ষণ হলোÑ
১) দেহে প্রত্যেক পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দেয়।
২) দেহের স্বাভাবিক গঠন ও বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
৩) দেহের ক্ষয়পূরণ, রক্ত তৈরি ও কাজ করার শক্তি তৈরি ইত্যাদি কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
৪) বিভিন্ন রোগজীবাণু দেহে আক্রমণ করতে পারে।
৫) দেহ দুর্বল, অসুস্থ ও কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়তে পারে।
২. প্রয়োজনীয় পুষ্টিযুক্ত খাদ্য নির্বাচনে কোন কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হয়? দামের ও দেশের ভিন্নতায় পুষ্টিমানের উপর প্রভাব সম্পর্কে লেখ।
উত্তর : প্রয়োজনীয় পুষ্টিযুক্ত খাদ্য নির্বাচনে বয়স, কাজের ধরন, দেহের বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়।
দামি বা কম দামি সব খাদ্যেই পরিমিত পুষ্টিমান আছে। কোনো খাদ্যের দাম এবং উৎস বিভিন্ন হলেও পুষ্টিমান একই হতে পারে। একইভাবে দেশি-বিদেশি খাবারগুলোর মধ্যেও পুষ্টি উপাদানের তেমন কোনো পার্থক্য নেই। পুষ্টি উপাদানগুলোর গঠন বৈশিষ্ট্যও একই রকম।
ন্ধ যোগ্যতাভিত্তিক
৩. আজ স্কুলে শিক্ষক তোমাদেরকে খাদ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি শিখিয়ে দেন। খাদ্য কী? তুমি কেন খাদ্য সংরক্ষণ করবে? খাদ্য সংরক্ষণে তুমি কী কী পদ্ধতি গ্রহণ করবে?
উত্তর : সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য আমরা যেসব খাবার গ্রহণ করে থাকি তা-ই খাদ্য।
পোকামাকড় ও জীবাণু খাদ্যে মিশে খাবার নষ্ট হয়। জীবাণুর কারণে খাবার পচে। খাদ্য যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য আমি খাদ্য সংরক্ষণ করবো।
খাদ্য সংরক্ষণে নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলো গ্রহণ করবো-
১) রোদে শুকিয়ে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ।
২) আচার হিসেবে সংরক্ষণ।
৩) বিশেষ ধরনের রান্নার মাধ্যমে সংরক্ষণ।
৪) লবণজাত করে সংরক্ষণ।
৫) ফ্রিজে সংরক্ষণ।

——————

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply