ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা মিনু

মিনু
বনফুল
 লেখক পরিচিতি
নাম প্রকৃত নাম : বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়। সাহিত্যিক ছদ্মনাম : বনফুল।
জন্ম পরিচয় জন্ম : ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে। জন্মস্থান : বিহারের পূর্ণিয়া জেলার মণিহারপুর গ্রামে।
পেশা/কর্মজীবন পেশা : চিকিৎসক।
সাহিত্য সাধনা গল্পগ্রন্থ : বনফুলের গল্প, বাহুল্য, অদৃশ্যলোকে, বহুবর্ণ, অনুগামিনী, বিন্দুবিসর্গ প্রভৃতি। উপন্যাস : অগ্নি, তৃণখÐ, জঙ্গম, স্থাবর প্রভৃতি। কাব্যগ্রন্থ : বনফুলের কবিতা।
রচনার বৈশিষ্ট্য ব্যঙ্গ-রসিকতা, বিজ্ঞানমনস্ক।
পুরস্কার ও সম্মাননা সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে লাভ করেন পদ্মভ‚ষণ উপাধি। এছাড়া পান রবীন্দ্র পুরস্কার, জগত্তারিণী পদক, আনন্দ পুরস্কার প্রভৃতি।
জীবনাবসান ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে ।

বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

 বিষয়ক্রম অনুযায়ী বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
ন্ধ লেখক পরিচিতি º বোর্ড বই, পৃষ্ঠা ০৯
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১. ‘বনফুল’-এর প্রকৃত নাম কী?
[বিএএফ শাহীন কলেজ, যশোর; মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর খ বেগম রোকেয়া
গ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত  বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
২. বনফুল কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন? (জ্ঞান)
 ১৮৯৯ খ ১৯০১ গ ১৮৭৬ ঘ ১৯২০
৩. ‘বনফুল’ পেশায় কী ছিলেন? [ঝিনাইদহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক ইঞ্জিনিয়ার খ শিক্ষক  চিকিৎসক ঘ ব্যবসায়ী
৪. সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে বনফুল কোন উপাধি পান?
ক ভাষাবিজ্ঞানী খ বিশারদ
গ ডি. লিট  পদ্মভ‚ষণ
৫. বনফুলের জš§স্থান কোথায়? (জ্ঞান)
 বিহার খ ফরিদপুর গ বরিশাল ঘ কলকাতা
৬. বনফুল রচিত ‘অনুগামিনী’ কোন শ্রেণির গ্রন্থ?
 গল্পগ্রন্থ খ উপন্যাস
গ কাব্যগ্রন্থ ঘ নাট্যগ্রন্থ
৭. নিচের কোনটি বনফুলের গল্পগ্রন্থ? (জ্ঞান)
ক হিন্দুমেলা  বাহুল্য গ পাতাবাহার ঘ এটমের কথা
৮. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় মৃত্যুবরণ করেন কত খ্রিষ্টাব্দে? (জ্ঞান)
ক ১৯৫০ খ ১৯৬০ গ ১৯৭০  ১৯৭৯
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৯. বনফুলের উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ হলো (অনুধাবন)
র. ‘বাহুল্য’ ও ‘বনফুলের গল্প’ রর. ‘বহুবর্ণ’ ও ‘অনুগামিনী’
ররর. ‘পাতাবাহার’ ও ‘এটমের কথা’
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও রর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১০. বনফুলের গল্পের বিষয়বস্তু হচ্ছে (উচ্চতর দক্ষতা)
র. বাস্তবজীবন রর. মানুষের সংবেদনশীলতা
ররর. জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিচিত্র উপাদান
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
ন্ধ মূলপাঠ º বোর্ড বই, পৃষ্ঠা ০৬
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১১. মিনুর বাবা মারা গেছে কখন? (জ্ঞান)
ক মিনুর জন্মের পরে  মিনুর জন্মের আগে
গ মিনুর ৩ বছর বয়সে ঘ মিনুর ৫ বছর বয়সে
১২. মিনু কেমন মেয়ে ছিল? (জ্ঞান)
ক দাদি-মরা মেয়ে খ চাচি-মরা মেয়ে
 মা-মরা মেয়ে ঘ নানি-মরা মেয়ে
১৩. মিনু কার কাছে মানুষ হয়েছে? [সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা]
 পিসিমা খ দাদা গ বাবা ঘ খালা
১৪. মিনুর বয়স কত? [খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়]
ক পাঁচ খ ছয় গ সাত  দশ
১৫. মিনুর পিসিমার স্বামীর নাম কী? (জ্ঞান)
 যোগেন বসাক খ কালামিয়া
গ অশোক কুমার ঘ প্রণব রায়
১৬. মিনুর শারীরিক অবস্থা কেমন? (অনুধাবন)
ক স্বাভাবিক খ পক্ষাঘাতগ্রস্ত গ বোবা  বোবা ও কালা
১৭. মানুষের সাধারণত কতটি ইন্দ্রিয় থাকে? (জ্ঞান)
ক ২টি খ ৪টি  ৫টি ঘ ৬টি
১৮. মিনুর জগৎটা কীসের? (জ্ঞান)
ক চিন্তার জগৎ  চোখের জগৎ
গ অন্ধকার জগৎ ঘ আলোকিত জগৎ
১৯. ‘মিনু’ গল্পে পেটভাতায় সর্বগুণান্বিতা চাকরানি কে? (জ্ঞান)
ক কাদের খ মানু
 মিনু ঘ রিপা
২০. পূর্ব আকাশে কোন তারা ওঠে? (জ্ঞান)
ক নয়নতারা  শুকতারা
গ সন্ধ্যাতারা ঘ ধ্রæবতারা
২১. শুকতারা সাধারণত কোন সময়ে আকাশে দেখতে পাওয়া যায়? (জ্ঞান)
ক রাতে  ভোরে
গ দিনে ঘ বিকালে
২২. মিনু ঘুম থেকে কখন ওঠে? (জ্ঞান)
 খুব ভোরে খ বিকালে
গ রাতে ঘ সন্ধ্যায়
২৩. কবির চোখে শুকতারা কেমন? (অনুধাবন)
 নিশাবসানের আলোকদূত খ গ্রহদূত
গ শত্রæ ঘ সই
২৪. বৈজ্ঞানিকের চোখে শুকতারা কেমন? (অনুধাবন)
ক গ্রহপুঞ্জ খ আকাশের উপগ্রহ
 বিশাল বাষ্পমÐিত প্রকাÐ গ্রহ ঘ সই
২৫. মিনু খুব ভোরে ওঠে কেন? (অনুধাবন)
ক মাটি কাটতে  কয়লা ভাঙতে
গ প্রদীপ জ্বালাতে ঘ চুলা ধরাতে
২৬. নিচের কোনটি মিনুর বন্ধু? [বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়]
ক প্রজাপতি খ ঘাসফড়িং  পিঁপড়া ঘ মৌমাছি
২৭. মিনুর মতে, শুকতারা কেমন করে জ্বলছে?
 দপদপ করে খ গপাপগ করে
গ মিটমিট করে ঘ রাগত ভঙ্গিতে
২৮. কয়লা ভাঙার পাথরের নাম কী? [বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়]
ক রানু খ মানু  শানু ঘ পানু
২৯. মিনুর কোন ইন্দ্রিয় খুবই প্রখর? [বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয়]
ক পঞ্চম ইন্দ্রিয় খ চতুর্থ ইন্দ্রিয়
 ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় ঘ প্রথম ইন্দ্রিয়
৩০. ‘মিনু’ গল্পে শুকতারার আশপাশে কোন মেঘের কথা বলা হয়েছে? (জ্ঞান)
 কালো মেঘ খ সাদা মেঘ
গ তুলো মেঘ ঘ পেঁজা মেঘ
৩১. কয়লাগুলোকে মিনুর কাছে কী মনে হয়? (জ্ঞান)
ক বন্ধু  শত্রæ গ পড়শি ঘ সই
৩২. মিনুর কয়লা ভাঙার হাতুড়ির নাম কী? (জ্ঞান)
 গদাই খ শান্ত গ বিমান ঘ বসু
৩৩. কার সঙ্গে মিল আছে বলে মিনু তার পাথরটার নাম শানু রেখেছে?(জ্ঞান)
 শানের সঙ্গে খ কাদার সঙ্গে
গ ইটের সঙ্গে ঘ পাথরের সঙ্গে
৩৪. গল্পে ‘ঘুঁটে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? (অনুধাবন)
ক জ্বালানি  উনুনের তরকারি
গ খেলনা ঘ পাথর
৩৫. মিনু উনুনের নাম কী রেখেছে? (জ্ঞান)
ক ডাইনি খ বুড়ি
গ গদাই  রাক্ষসী
৩৬. জ্বলন্ত কয়লাগুলোকে মিনুর কাছে কী মনে হয়? [খুলনা জিলা স্কুল]
ক মিঠাই খ সন্দেশ
 রক্তাক্ত মাংস ঘ চকোলেট
৩৭. আগুনের লাল আভাকে মিনুর কেমন মনে হয়েছে?
ক কাঁদানে গ্যাস  রাক্ষসীর তৃপ্তি
গ ডাইনি ঘ লালফিতা
৩৮. কয়লা ছাড়াও মিনুর আর একদল শত্রæ আছে, তারা কারা? (জ্ঞান)
 বোলতা, ভিমরুল খ মৌমাছি
গ মাছি ঘ মশা
৩৯. মিনুর উচ্ছ¡সিত আনন্দের অভিব্যক্তি কেমন? (অনুধাবন)
 কুঁই কুঁই কুঁই কুঁই শব্দ খ লাফালাফি
গ মারামারি করা ঘ চেঁচিয়ে ওঠা
৪০. রান্নাঘরের বাসনগুলো মিনুর কী? (জ্ঞান)
 বন্ধু খ আত্মীয়
গ মিত্র ঘ সই
৪১. মিনু ঘটিটার নাম কী রেখেছে? (জ্ঞান)
ক মালা খ কারু  পুটি ঘ বিনু
৪২. মিনুর রান্নাঘরে কতটি গেলাস রয়েছে? (জ্ঞান)
ক ১টি খ ৩টি গ ৫টি  ৪টি
৪৩. মিনু রান্নাঘরের মিটসেফটার নাম কী দিয়েছে? (জ্ঞান)
 গপগপা খ সপসপা গ রাক্ষসী ঘ ডাইনি
৪৪. অবসর পেলে মিনু কোথায় যায়? (জ্ঞান)
ক মাঠে  ছাদে গ পুকুরপাড়ে ঘ বারান্দায়
৪৫. মিনুর প্রতি তার পিসিমার কেমন আচরণ প্রকাশ পেয়েছে? (অনুধাবন)
ক নিষ্ঠুর
খ দায়িত্বশীল
 অনাথাকে আশ্রয়দাতার মতো
ঘ অভিভাবকের মতো
৪৬. কাঁঠালগাছের ডালে কোন পাখি এসে বসেছিল? (জ্ঞান)
 হলদে পাখি খ টুনটুনি পাখি
গ খয়েরি পাখি ঘ কোকিল
৪৭. ‘মিনু’ গল্পে হলদে পাখিকে মিনুর অভিব্যক্তিতে কীরূপে দেখানো হয়েছে?(জ্ঞান)
ক কুলক্ষণ  শুভ লক্ষণ
গ বন্ধু ঘ শত্রæ
৪৮. বাবা সম্পর্কে মিনুর ধারণা কেমন ছিল? (অনুধাবন)
ক বাবা আর না ফিরুক  একদিন ফিরে আসবে
গ মারা গেছে ঘ চলে গেছে তাকে ছেড়ে
৪৯. মিনু নীরবে সব কাজ করে কেন? (অনুধাবন)
ক পিসিমার সংসারে থাকে বলে
 বোবা-কালা বলে
গ কাজের প্রতি আগ্রহ বলে
ঘ কল্পনায় থাকে বলে
৫০. শুকতারার আশপাশে কালো কীসের টুকরো দেখা যায়?
ক কয়লার
খ ছায়ার
গ তারার
 মেঘের
৫১. ‘শত্রæর উপর হাতুড়ি চালিয়ে ভারি তৃপ্তি হয় ওর’-এ কথাটির উৎপত্তি মিনুর মনের কোন বিষয়টি ফুটিয়ে তুলেছেন? [উচ্চতর দক্ষতা]
ক ক্ষোভ  প্রতিশোধস্পৃহা গ রাগ ঘ অভিমান
৫২. মিনুর শুকতারাকে বন্ধু মনে হয় কেন? (অনুধাবন)
ক পূর্ব আকাশে দপদপ করে জ্বলছে বলে
খ ভাসমান তারকামÐলী বলে
গ প্রতিদিন ওঠে বলে
 তার কাজের সাথে মিল আছে বলে
৫৩. মিনুর জগতের বাসিন্দা নয় কে? (অনুধাবন)
ক পিঁপড়া  বোলতা গ মিটসেফ ঘ পুটি
৫৪. মিনু বোলতা-ভিমরুলকে ঝাঁটা-পেটা করে কেন? (অনুধাবন)
ক ঘরে ঢুকেছিল বলে
 একবার কামড়েছিল বলে
গ পাখির খাদ্য বানানোর জন্য
ঘ মুরগিকে খেতে দেয়ার জন্য
৫৫. তোবড়ানো ঘটিতে মিনুর রোজ হাত বোলানোর কারণ কী? (অনুধাবন)
 মমতা প্রকাশ খ তোবড়ানো সারানো
গ ঘটি বন্ধু বলে ঘ ঘটি পছন্দ নয় বলে
৫৬. মিনুর কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনটি? (অনুধাবন)
ক কাঁঠালগাছের ডাল দেখা খ শুকতারার সাথে কথা বলা
 হলদে পাখির আগমন ঘ টুনুর বাবার আগমন
৫৭. “দৃষ্টির ভেতর দিয়ে সৃষ্টিকে গ্রহণ করেছে সে” – এখানে দৃষ্টি বলতে কোন বিষয়কে বোঝানো হয়েছে? (অনুধাবন)
ক শ্রবণশক্তি খ দৃষ্টিশক্তি
গ অণু  কল্পনাশক্তি
৫৮. আগুন, বোলতা ও ভিমরুলের প্রতি মিনুর আচরণের মধ্যে কোন বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে? (উচ্চতর দক্ষতা)
 ক্ষতিকারক বিষয়ের প্রতি বিদ্বেষ
খ অত্যাচারীর প্রতি যথার্থ আচরণ
গ অত্যাচারীকে ঘৃণা করার মানসিকতা
ঘ প্রতিশোধপরায়ণতা
৫৯. যোগেন বসাক চরিত্রটি কোন ধরনের চরিত্র? (অনুধাবন)
 সুবিধাভোগী খ বন্ধুত্বসুলভ
গ অহংকারী ঘ বেহায়া
৬০. ‘মিনু’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক যোগেন বসাক খ পিসিমা
 মিনু ঘ টুনু
৬১. কোন বিষয়টি মিনুর চরিত্রের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ? (অনুধাবন)
ক বোবা-কালা খ শান্ত-স্বভাব
 তেজি ও ঝগড়াটে ঘ দায়িত্বশীল
৬২. “বীণা তার খুড়তুতো বোনের বাসায় আশ্রিতা হিসেবে থেকে তাদের বাড়ির সব কাজ করে দেয়” বীণা চরিত্রের সাথে ‘মিনু’ গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য আছে? (প্রয়োগ)
ক যোগেন বসাক খ টুনি
গ পিসিমা  মিনু
৬৩. ‘মিনু’ গল্পের লেখক কে? (জ্ঞান)
 বনফুল খ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ কাজী নজরুল ইসলাম ঘ বেগম রোকেয়া
৬৪. মিনু কখন ঘুম থেকে ওঠে?
 ভোর ৪টায় খ ভোর সাড়ে ৪টার
গ ভোর ৫টায় ঘ ভোর সাড়ে ৫টায়
৬৫. মিনু গল্পে হারু, বারু, তারু, কারু-এগুলো কীসের নাম?
 গেলাসের খ পাতিলের
গ জগের ঘ গামলার
৬৬. গাছের ডালে হলুদ পাখি বসতে দেখে মিনুর কী মনে হলো?
 বাবা এসেছে খ মা এসেছে
গ পিসিমা এসেছে ঘ দাদু এসেছে
৬৭. মিনু গল্পে উনুন রাক্ষসী কাকে খায়? [বি.এন কলেজ, ঢাকা]
ক গদাইকে খ শানুকে গ পিঁপড়েদের  কয়লাদের
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৬৮. মিনুর দৈনন্দিন কর্তব্য- (অনুধাবন)
র. ছাদে ওঠা রর. কাঁঠালগাছ দেখা ররর. স্কুলে যাওয়া
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৬৯. সূর্যের সঙ্গে মিনুর সম্পর্ক হলো (অনুধাবন)
র. বন্ধু রর. সখা ররর. শত্রæ
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ র ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৭০. মিনুর শত্রæ হলো (অনুধাবন)
র. বোলতা রর. ভিমরুল ররর. মিটসেফ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৭১. মিনুর অসহায়ত্ব আমাদের [উত্তরা হাইস্কুল, ঢাকা]
র. ব্যথিত করে রর. বিবেকবোধ জাগ্রত করে
ররর. সমাজের চিত্র তুলে ধরে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৭২ ও ৭৩ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
জš§ থেকেই রুবির একটি হাত নেই। তবে এ বিষয়টিকে রুবি খুব স্বাভাবিক মনে করে। এ নিয়ে তার কোনো দুঃখবোধ নেই। সে স্বপ্ন দেখে। এই স্বপ্নই তাকে সমস্ত প্রতিক‚লতা জয় করতে সাহায্যে করে।
৭২. রুবির সাথে ‘মিনু’ গল্পের কার সাদৃশ্য রয়েছে? (প্রয়োগ)
ক পিসিমার খ টুনুর গ পিসেমশাইয়ের  মিনুর
৭৩. প্রতিবন্ধকতা সত্তে¡ও রুবি ও মিনু স্বপ্ন দেখে। এতে তাদের মধ্যে কোন বিষয়টির প্রকাশ লক্ষণীয়? (উচ্চতর দক্ষতা)
র. জীবনবোধ রর. প্রতিক‚লতা জয়ের মানসিকতা
ররর. সমাজ পরিবর্তনের মানসিকতা
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৭৪ ও ৭৫ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
সবুর সাহেব প্রতিদিন ভোরে খোলা মাঠে দৌড়াতে বের হন। পুব আকাশের শুকতারা দেখে তার মনে পুলক জাগে। মাঠের ঘাসগুলোকে যেন বন্ধু মনে হয়।
৭৪. সবুর সাহেব ‘মিনু’ গল্পে কার প্রতিরূপ? (প্রয়োগ)
 মিনুর খ পিসিমার
গ যোগেন বসাকের ঘ টুনুর
৭৫. অনুচ্ছেদটি ‘মিনু’ গল্পের যে বিষয়কে ফুটিয়ে তুলেছে (উচ্চতর দক্ষতা)
র. প্রতিদিনের অভ্যাস রর. প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্ব
ররর. প্রকৃতি থেকে শিক্ষালাভ
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড় ৭৬ ও ৭৭ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
জমিলা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্তে¡ও কাজে খুব দক্ষ। সে যেন মনের চোখ দিয়ে সবই দেখতে পায়। তার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তার মহাজন নিজের মেয়েদের মতোই তাকে সুযোগ-সুবিধা দেয়।
৭৬. জমিলা চরিত্রের সাথে মিনু চরিত্রের সাদৃশ্য কোথায়? (প্রয়োগ)
 উভয় স্বীয় কাজে দক্ষ খ উভয় স্বপ্ন দেখে
গ উভয় উচ্চাকাক্সক্ষা ঘ উভয় হীন মনোবলে ভোগে
৭৭. মিনুর অবস্থান পরিবর্তনে জমিলার মহাজনের নিকট থেকে যে বিষয়টি গ্রহণ করা যায়- (উচ্চতর দক্ষতা)
র. দায়িত্ববোধ রর. সহানুভ‚তি
ররর. অর্থনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
ন্ধ শব্দার্থ ও টীকা º বোর্ড বই, পৃষ্ঠা ৮-৯
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৭৮. ‘গ্রহ’ শব্দের অর্থ কী? (জ্ঞান)
 সূর্য প্রদক্ষিণকারী জ্যোতিষ্ক খ সূর্য প্রদক্ষিণকারী উপগ্রহ
গ সূর্য প্রদক্ষিণকারী নক্ষত্র ঘ আকাশের ভাসমান তারকামÐলী
৭৯. ‘খিড়কি’ শব্দের অর্থ কী? (জ্ঞান)
ক সদর দরজা খ উঠান
গ বারান্দা  বাড়ির পেছনের দরজা
৮০. ‘ডেলিপ্যাসেঞ্জারি’ শব্দের অর্থ কী? (জ্ঞান)
 প্রত্যহ যাতায়াতকারী খ যাত্রা করা
গ চলে যাওয়া ঘ তদারকি করা
৮১. ‘উনুন’ শব্দের অর্থ কী? (জ্ঞান)
ক মাচা  চুলা গ ক‚প ঘ বাগান
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৮২. ‘রোমাঞ্চিত’ বলতে বোঝায় (অনুধাবন)
র. পুলকিত রর. আনন্দিত ররর. হতাশাগ্রস্ত
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৮৩. ‘সই’ হলো (অনুধাবন)
র. সখির কথ্যরূপ রর. বন্ধু ররর. আত্মীয়
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৮৪. মিনুর যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে কোন বিষয়টি পুরো গল্পে তাকে সাহায্য করেছে?
ক চিন্তাভাবনা  স্বপ্ন গ অনিচ্ছা ঘ ইচ্ছা
৮৫. ‘মিনু’ চরিত্রটি আমাদের কোন বিষয়টি শিখতে সাহায্য করে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক স্বপ্ন দেখতে খ স্বপ্নের দ্বারা আশা করতে
গ স্বপ্ন দ্বারা বিভ্রান্ত হতে  স্বপ্ন দিয়ে প্রতিক‚লতা জয় করতে
৮৬. প্রকৃতির সঙ্গে মিনুর নানা কল্পনার যে মিশেল তা থেকে আমরা বুঝতে পারি- (উচ্চতর দক্ষতা)
 প্রকৃতির সঙ্গে তার মিতালি খ প্রকৃতির সঙ্গে তার দ্ব›দ্ব
গ প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ঘ প্রকৃতিকে ব্যবহারের ক্ষমতা
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৮৭. মিনু ছিল একাধারে (অনুধাবন)
র. বাক্প্রতিবন্ধী রর. শ্রবণ প্রতিবন্ধী ররর. দৃষ্টি প্রতিবন্ধী
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৮৮. যেসব মানুষের প্রতি মমত্ববোধ জাগ্রত করা ‘মিনু’ গল্প পাঠের উদ্দেশ্য তা হলো- (অনুধাবন)
র. শারীরিকভাবে অসুস্থ মানুষ রর. মানুসিকভাবে অসুস্থ মানুষ
ররর. অশিক্ষিত মানুষ
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন- ১ ল্ফল্ফ
জয়া প্রীতির মতো গুছিয়ে কথা বলতে এবং দ্রæত কাজ করতে পারে না। তবে ভালো করে বুঝিয়ে বললে সময় নিয়ে সব কাজই মোটামুটি করতে পারে। জয়া প্রীতিদের বাসায় আশ্রিত হলেও প্রীতির মা জয়াকে খুব ভালোবাসেন। তিনি জয়াকে অক্ষরজ্ঞান থেকে শুরু করে রান্না, সেলাই প্রভৃতি কাজ শেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি প্রীতিকে বললেন, ‘উপযুক্ত পরিবেশ পেলে এরাও বিভিন্ন প্রতিক‚ল অবস্থা অতিক্রম করতে পারবে। [পিএন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী]
ক. মিনুর বয়স কত? ১
খ. মিনু তার বাবাকে নিয়ে কী ভাবত- ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকে জয়ার সাথে ‘মিনু’ গল্পের মিনুর বৈসাদৃশ্যগুলো নিরূপণ কর। ৩
ঘ. মিনু ও জয়া সম্পর্কে প্রীতির মায়ের উক্তিটি ‘মিনু’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪

ক মিনুর বয়স দশ বছর।
খ মিনু তার বাবাকে নিয়ে ভাবত যে তার বাবা একদিন ফিরে আসবে।
মিনু বোবা-কালা। মাসিমা একদিন চিৎকার করে বলেছিল-তার বাবা বিদেশ থাকে। মিনু বড় হলে ফিরে আসবে। তাই সে বাবার প্রতীক্ষায় ছিল। হঠাৎ একদিন ছাদে থাকা অবস্থায় মিনু দেখতে পায় পাশের বাসার টুনুর বাবা এসেছে বিদেশ থেকে। আর ঐ সময়ে কাঁঠাল গাছের সরু ডালে হলদে পাখি বসা। তখন থেকে মিনু মনে মনে ভাবত, আবার যেদিন এ ডালে হলদে পাখি বসবে। সেদিন বাবা ফিরে আসবে।
গ উদ্দীপকের জয়ার সাথে ‘মিনু’ গল্পের মিনুর যথেষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
ভালো মন্দ মিলেই আমাদের সমাজ গড়ে উঠেছে। ভালো মানুষের আশ্রয়ে জীবনে আলো ফোটে আর মন্দের সাহচর্যে জীবনে দুর্দশা নেমে আসে। উদ্দীপকের জয়া ও গল্পের মিনুর জীবনে বিষয়টি সুস্পষ্ট। গল্পের মিনু এতিম। দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় মিলেছে। দশ বছর বয়স হলেও পিসিমার সংসারের যাবতীয় কাজ তাকেই করতে হয়। সকল কাজের বিনিময়ে জোটে শুধু তিন বেলা খাবার। আদর-ভালোবাসা, লেখাপড়া সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অন্যদিকে উদ্দীপকের জয়াও মিনুর মতো অন্যের বাসায় আশ্রিত। কিন্তু মিনুর মতো অবহেলা-অযতেœ দিন কাটে না তার। প্রীতির মা তাকে খুব ভালোবাসেন। জয়াকে অক্ষরজ্ঞান থেকে শুরু করে রান্না, সেলাই প্রভৃতি কাজ শেখানোর চেষ্টা করেন। জয়ার জন্য তিনি ভেবেছেন, ভালো পরিবেশে সে ভালো থাকবে। অসুস্থতা কাটিয়ে উঠতে পারবে। কিন্তু মিনুর জন্য ভাববার কেউ ছিল না। এসব ক্ষেত্রেই জয়ার সাথে মিনুর পার্থক্য।
ঘ ‘উপযুক্ত পরিবেশ পেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও প্রতিক‚ল অবস্থা অতিক্রম করতে পারবে’- মিনু ও জয়া সম্পর্কে প্রীতির মায়ের এ উক্তিটি যথার্থ।
বিচিত্র মানুষের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে আমাদের এ সমাজ। কেউ সুস্থ, কেউবা পুরোপুরি সুস্থ নয়। যারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু রয়েছে তাদের প্রতি মমত্ববোধ জাগ্রত করলে অবশ্যই তারা সমস্ত বাধা অতিক্রম করতে পারবে। গল্পের মিনু এতিম ও বাকপ্রতিবন্ধী। পিসিমার বাড়িতে আশ্রিত। দশ বছর বয়স হলেও সংসারের যাবতীয় কাজ করে বিনিময়ে পায় শুধু তিনবেলা খাবার। স্নেহ-ভালোবাসা কাকে বলে সে জানে না। তারপরও সে জীবনকে তুচ্ছ ভাবে না। মনের কথা ব্যক্ত করে প্রকৃতির কাছে। স্বপ্ন দেখে একদিন বাবা আসবে। এই স্বপ্নই তাকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।
উদ্দীপকের জয়া অন্যের বাড়িতে আশ্রিত হলেও পায় ভালোবাসা। প্রীতির মা তাকে অক্ষরজ্ঞান থেকে শুরু করে রান্না, সেলাই প্রভৃতি কাজ শেখান। কীভাবে জয়া ভালো থাকবে, অসুস্থতা কাটিয়ে উঠবে সে চিন্তাও তিনি করেন। প্রীতির মায়ের মতো যদি গল্পের মিনু এবং সমাজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য এমন চিন্তা ও কাজ করা যেত তাহলে তারাও সব প্রতিক‚লতা অতিক্রম করে বাঁচতে শিখত। সকল অসুস্থতা ও বাধা কাটিয়ে ভালো থাকতে পারত।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, সমাজের সবাই যদি প্রীতির মায়ের মতো ভাবত তাহলে মিনু ও জয়ার মতো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা সুস্থ হয়ে উঠত।

প্রশ্ন- ২ ল্ফল্ফ
নিচের চিত্রকল্পটি পর্যবেক্ষণ করে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক. মিনুর পিসেমশায়ের নাম কী? ১
খ. ‘মিনুর জগৎ চোখের জগৎ’Ñ ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকের চিত্রকর্মটির সঙ্গে ‘মিনু’ গল্পের কোন দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে? নির্ণয় কর। ৩
ঘ.চিত্রটি ‘মিনু’ গল্পের সামগ্রিক বিষয় ধারণ করে কী? মতের পক্ষে যুক্তি দাও। ৪

ক মিনুর পিসেমশায়ের নাম যোগেন বসাক।
খ মিনুর জগৎ চোখের জগৎ। কারণ চোখ দিয়েই মিনু জগৎটাকে দেখে, অনুভব করে এবং সে অনুযায়ী সবকিছু করে।
মিনু শুধু বোবা নয়, কালাও। ফলে কথা বলতে যেমন পারে না, তেমনি অনেক চেঁচিয়ে বললে তবে শুনতে পায়। অবশ্য সব কথা শোনার দরকারও হয় না। ঠোঁটনাড়া আর মুখের ভাব দেখেই সব বুঝতে পারে সে। চোখই তার প্রধান ইন্দ্রিয়। দৃষ্টির ভেতর দিয়েই সৃষ্টিকে গ্রহণ করেছে সে। দৃষ্টি দিয়েই সৃষ্টিকে নতুনরূপে, নতুন রঙে আবিষ্কার করেছে। তাই বলা যায়, মিনুর জগৎ মূলত চোখের জগৎ।
গ উদ্দীপকের চিত্রকর্মটির মধ্যে আলোচ্য ‘মিনু’ গল্পের মিনুর কঠোর পরিশ্রম করার দিকটি ফুটে উঠেছে।
কঠোর পরিশ্রম শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। অমানবিক পরিশ্রম শিশুদের দিয়ে করানো উচিত নয়। মিনু তার বাবা-মাকে হারিয়ে দশ বছর বয়স থেকে তার দূরসম্পর্কের এক পিসিমার (ফুফুর) বাড়িতে থাকত। সেই অল্প বয়সেই মিনু তার পিসিমার সংসারের সব কাজ করে দিত। সে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে রান্নাঘরে গিয়ে কয়লা ভাঙত। কয়লা ভাঙার পর সেগুলো উনুনে দিয়ে পোড়াত। পিসিমা ঘুম থেকে ওঠার আগেই মিনু বাড়ির সব কাজ শেষ করে ফেলত। পিসিমার ঘরের সব কাজ করে দিলেও বিনিময়ে মিনু কোনো আদর ও যতœ পেত না। উদ্দীপকের মেয়েটিও মিনুর বয়সি। সে কম বয়সে অনেক হাঁড়ি-পাতিল পরিষ্কার করছে। ছবিতে কাজের প্রতি শিশুটির মনোযোগ মিনুকেই মনে করিয়ে দেয়। মিনুও এভাবে তার পিসিমার বাসায় কাজ করত। তাই উদ্দীপকের শিশুর সঙ্গে মিনুর অক্লান্ত পরিশ্রমের বিষয়টির সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ চিত্রে ‘মিনু’ গল্পের কেবল একটি বিষয় (কাজ করার বিষয়) প্রকাশিত হওয়ায় চিত্রটি ‘মিনু’ গল্পের সামগ্রিক বিষয় ধারণ করে না।
‘মিনু’ গল্পে মিনু বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। তাই বলে, পিতৃ-মাতৃহীন মিনু নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে না। দূরসম্পর্কীয় এক আত্মীয়ের বাসায় তাকে থাকতে হয়। এখানে গৃহকর্মে তার অখÐ মনোযোগ। সে খুব পরিশ্রমীও বটে। এছাড়া প্রকৃতির সঙ্গে তার রয়েছে গভীর মিতালি।
প্রকৃতির সবকিছুকে সে নিজস্ব ভাষায় নামকরণ করেছে। তার বাবার আগমনে প্রতীক্ষা করে। বাবা না আসায় তার কষ্ট হয়। এতকিছুর পরও সে স্বপ্ন দেখে। মিনু চরিত্রটির এসব বিষয় নিয়ে ‘মিনু’ গল্পটি রচিত।
উদ্দীপকের চিত্রটিতে একটি শিশুকে পরিশ্রমের কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। এতে মিনু গল্পের শুধু মিনুর কাজে মনোযোগ ও পরিশ্রমের বিষয়টিই প্রকাশ পায়। উপরে বর্ণিত ‘মিনু’ গল্পের অন্যান্য বিষয় এতে অনুপস্থিত।
প্রশ্ন- ৩ ল্ফল্ফ
তপুর ছোট ভাই অপুর একটি পা ভাঙা। এতে সে ঠিকমতো হাঁটতে পারে না। তাই তপু তাকে সাইকেলে করে স্কুলে নিয়ে যায়। তপু যখন গাছে চড়ে, পুকুরে মাছ ধরে কিংবা পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলে তখন অপু মনে মনে কষ্ট পায়। তপু মাঝে মাঝে যে খেলাগুলোতে দৌড়াতে হয় না, সেগুলো অপুর সঙ্গে খেলে।
ক. মিনু হাতুড়িটার কী নাম রেখেছিল? ১
খ. ‘দৃষ্টির ভিতর দিয়ে সৃষ্টিকে গ্রহণ করেছে সে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ২
গ. উদ্দীপকের অপু ও মিনুর মধ্যে যে বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায় তা নির্ণয় কর। ৩
ঘ. “অপুর মনঃকষ্ট ও মিনুর মনঃকষ্ট ভিন্ন”Ñউক্তিটি বিশ্লেষণ কর। ৪

ক মিনু হাতুড়িটার নাম রেখেছিল গদাই।
খ দৃষ্টির ভিতর দিয়ে সৃষ্টিকে গ্রহণ করেছে বলতে বোবা মিনুর দেখার জগৎকে বোঝানো হয়েছে।
বাকা ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী মিনু চারপাশের সবকিছু দেখে ও প্রকাশ করে দৃষ্টি দিয়ে। বলতে বা শুনতে না পারলেও সে আশপাশের সবকিছু দেখে তাকে অন্যরকমভাবে মনের মধ্যে সাজায়। তাই দৃষ্টিই তার সব বলেই উক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
গ নিজস্ব জগতে বিচরণ করে বোবা-কালা মেয়ে মিনু আর অপু তার জগতে বন্দি- এখানেই দুজনের মধ্যে বৈসাদৃশ্য।
বিচিত্র মানুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা আমাদের এ সমাজে কেউ সুস্থ, কেউবা পূর্ণ সুস্থ নয়। উদ্দীপকের অপু ও গল্পের মিনু দুজনেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু হলেও তাদের মধ্যে কিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের অপুর জগৎ তার চোখের সামনে বিচরণ করে। সে ইচ্ছা করলেই তার জগতে বিচরণ করতে পারে না। অন্যের সহায়তা লাগে। সে ইচ্ছা করলেই যেখানে সেখানে যেতে পারে না। তপুর সহায়তায় সে স্কুলে যায়, খেলাধুলা করে। অপরদিকে, মিনু বোবা-কালা হলেও সংসারের যাবতীয় কাজ করে, ঠোঁট নাড়া আর মুখের ভাব দেখেই সব বুঝতে পারে সে। দৃষ্টির ভেতর দিয়েই সৃষ্টিকে গ্রহণ করেছে সে। নিজের মনের কথা অন্যকে বোঝাতে পারে না মিনু। নিজের সাথে নিজের নিয়ন্তর বোঝাপড়া চলে। কিন্তু জীবনকে তুচ্ছ মনে করে না। তাই বলা যায়, অবস্থানগত দিক থেকে দুজনেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু হলেও তাদের অবস্থানে বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। মিনু সবখানেই বিচরণ করে মনের সুখে, অপু তা পারে না।
ঘ ‘অপুর মনঃকষ্ট ও মিনুর মনঃকষ্ট ভিন্ন’ উক্তিটি যথার্থ।
বিচিত্র মানুষের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে আমাদের এ সমাজ। কেউ সুস্থ, কেউবা পুরো সুস্থ নয়। উদ্দীপকের অপু ও গল্পের মিনু দুজনই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু হলেও তাদের মনের কষ্ট ভিন্ন ভিন্ন।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু মিনু পিসিমার বাড়িতে থাকে। জন্মের আগেই বাবাকে হারিয়েছে সে। পিতৃমাতৃহীন মিনু পিসিমার সংসারে যাবতীয় কাজ করলেও কোনো সুযোগ-সুবিধা পায় না। বাইরের প্রকৃতির সাথে তার সম্বন্ধ। আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রিত হয়ে শত কষ্টের মাঝেও সে জীবনকে তুচ্ছ মনে করে না। বাবার জন্য প্রতীক্ষা করে তাই অবসর সময়ে প্রতিদিন ছাদে যায় হলদে পাখির আগমনের আশায়। কিন্তু হলদে পাখি এসে ডালে বসলেও তার বাবা আর আসে না। আর এখানেই মিনুর মনঃকষ্ট।
উদ্দীপকে অপুর মনঃকষ্ট অন্য ক্ষেত্রে। মিনুর মতো সে মনের সুখে বিচরণ করতে পারে না। এক পা ভাঙা হওয়ায় সে পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে পারে না। অন্যরা যখন পুকুরে মাছ ধরে, গাছে চড়ে কিংবা ফুটবল খেলে তখন অপুর খুব কষ্ট হয়। তার মনের মধ্যে কষ্ট বাসা বাঁধে।
অপুর কষ্ট শারীরিক অক্ষমতায় আর মিনুর কষ্ট বাবার আগমনের স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায়। তাই বলা যায় অপুর মনঃকষ্ট ও মিনুর মনঃকষ্ট ভিন্ন।
প্রশ্ন- ৪ ল্ফল্ফ

সেঁজুতি খুব নিঃসঙ্গ। নিঃসঙ্গতার কারণ বাবা-মা দুজনই চাকরিজীবী। তাই বন্ধুহীন সেঁজুতি জানালার পাশে জারুল গাছ, গাছে উড়ে আসা পাখির সাথে নিজের মনে গহীনে লুকিয়ে থাকা কথাগুলো ব্যক্ত করে ওদের সাথে। মাঝে মাঝে আনমনে আকাশে তাকিয়ে থাকতে থাকত সে, স্বপ্ন দেখে পাখি হয়ে আকাশ পথে বিশ্ব ভ্রমণ করার।

ক. মিনুর হাত থেকে একদিন কোন জিনিসটি পড়ে গিয়েছিল? ১
খ. দুপুরে মিনু ঘুরে বেড়ায় কেন? ২
গ. উদ্দীপকে সেঁজুতি ‘মিনু’ গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিচ্ছবি- ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.‘প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও মিনু ও সেঁজুতি দুজনেরই আশ্রয় প্রকৃতি’ উক্তিটি উদ্দীপক ও গল্পের আলোকে মূল্যায়ন কর। ৪

ক মিনুর হাত থেকে একদিন ঘটিটা পড়ে গিয়েছিল।
খ বোলতা বা ভিমরুলকে মারার জন্য দুপুরে মিনু ঘুরে বেড়ায়।
একবার বোলতা বা ভিমরুল তাকে কামড়েছিল। তাই প্রতিশোধ নিতে মিনু দুপুরে যখন পিসিমা ঘুমোয় তখন কোমরে কাপড় জড়িয়ে গামছায় প্রকাÐ গেরো বেঁধে বাড়ি থেকে বের হয়। বোলতা বা ভিমরুল দেখতে পেলেই শোঁ করে গামছা ঘুরিয়ে মারে। সঙ্গে সঙ্গে বোলতা বা ভিমরুল পড়ে যায় মাটিতে। তারপর মরা বোলতা বা ভিমরুল মিনু খেতে দেয় পিঁপড়াদের। মূলত মিনু তার শত্রæ বোলতা ও ভিমরুলের প্রতি প্রতিশোধ নিতেই দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে ঘুরে বেড়ায়।
গ উদ্দীপকের সেঁজুতি ‘মিনু’ গল্পের মিনু চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।
প্রত্যেক মানুষই চায় আপনজন বিশেষ করে বাবা-মার সান্নিধ্য, বাবা-মার ভালোবাসা বঞ্চিত শিশু বড়ই অভাগা। অবস্থানগত ভিন্নতা থাকলেও নিঃসঙ্গতার কারণে সেঁজুতি ও মিনু একই সূত্রে গাঁথা।
উদ্দীপকের সেঁজুতি প্রতিবন্ধী নয়, তার মা-বাবাও আছে। কিন্তু মা-বাবা চাকরিজীবী হওয়ায় সে নিঃসঙ্গ। নিজের মনের কথাগুলো সে ব্যক্ত করে জারুল গাছ, গাছে উড়ে আসা পাখির কাছে। মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখে পাখি হয়ে আকাশ ভ্রমণ করার। অন্যদিকে মিনু এতিম ও প্রতিবন্ধী। আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় পেলেও সংসারের যাবতীয় কাজ করে। নিজের কথা কাউকে বোঝাতে পারে না বলে তার নিঃসঙ্গতা দূর করতে প্রকৃতির সঙ্গে করেছে মিতালি। তাই বলা যায়, অবস্থানের ভিন্নতা থাকা সত্তে¡ও নিঃসঙ্গতা ও প্রকৃতির সাথে বন্ধুত্ব করার দিক দিয়ে সেঁজুতি মিনুর প্রতিচ্ছবি।
ঘ ‘প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও মিনু ও সেঁজুতি দুজনেরই আশ্রয় প্রকৃতি’- মন্তব্যটি যথার্থ।
মা-বাবা সন্তানের প্রধান আশ্রয়স্থল। মা-বাবার ভালোবাসা ছাড়া সন্তানের জীবনে নেমে আসে হতাশা।
উদ্দীপকে সেঁজুতি ও ‘মিনু’ গল্পের মিনু তাদের নিঃসঙ্গতা দূর করতে প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি করেছে। সেঁজুতির মা-বাবা দুজনেই চাকরিজীবী হওয়ায় সেঁজুতি নিঃসঙ্গতায় ভোগে। বন্ধুহীন সেঁজুতি মনের কথা ব্যক্ত করে জারুল গাছ, গাছে উড়ে আসা পাখির সাথে। স্বপ্ন দেখে পাখি হয়ে আকাশে ওড়ার। আর মিনু মা-বাবা না থাকায় নিঃসঙ্গ। আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় পেলে কেউ তাকে আপন করে নেয়নি। বোবা-কালা বলে নিজের মনের কথা কাউকে বলতে পারে না। তাই ভোরবেলার সূর্য, শুকতারা, হলদে পাখি, পিঁপড়া, রান্নাঘর এদের কাছেই নিজেকে ব্যক্ত করেছে।
মিনু ও সেঁজুতি দুজনেই প্রকৃতিকে তাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলে প্রকৃতির উপাদানগুলোই যেন তাদের আশ্রয়ের প্রতীক।

 অনুশীলনের জন্য সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক (উত্তরসংকেতসহ)
প্রশ্ন- ৫ ল্ফল্ফ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘পোস্টমাস্টার’ গল্পে পোস্টমাস্টারের কাজের মেয়ে ‘রতন’। এই দুনিয়াতে পোস্টমাস্টার ছাড়া রতনের আর কেউ নেই। পোস্টমাস্টারও রতনকে কাজের মেয়ে মনে করে না। সে রতনের সাথে গল্প করে। তার কাজে সাহায্য করে। এমনকি পোস্টমাস্টার রতনকে পড়াশোনাও শেখায়।
ক. বনফুলের প্রকৃত নাম কী? ১
খ. গৃহপরিচারিকার কাজে মিনুর ভ‚মিকা কেমন ছিল- ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকের রতন ও ‘মিনু’ গল্পের মিনুর অবস্থানগত পার্থক্য ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. “পোস্টমাস্টার ও ‘মিনু’ গল্পের পিসেমশাই দুজন বিপরীত প্রান্তের মানুষ” মন্তব্যটি যাচাই কর। ৪

ক বনফুলের প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
খ গৃহপরিচারিকার কাজে মিনু অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভ‚মিকা পালন করেছে।
দশ বছরের বোবা-কালা মেয়ে মিনু পেটভাতায় সর্বগুণান্বিতা চাকরানির মতো খাটে পিসিমার বাড়িতে। সে ভোর চারটার সময় উঠে কয়লা ভাঙতে শুরু করে। তারপর উনুন জ্বালিয়ে দেয়। রান্নাঘরের বাসনগুলো অনেক ভালোবাসে মিনু। তুবড়ে যাওয়া ঘটিটার জন্য তার মায়া হয়। গেলাসগুলো মাজা বা ধোয়ার সময় তার মনে হয় সে যেন ছোট ছেলেদের স্নান করাচ্ছে। গৃহের কাজে মিনুর একাগ্রতা দেখে মনে হয় সত্যিই এক দায়িত্বশীল গৃহপরিচারিকা সে।
গ সুবিধাবঞ্চিত মিনুর সাথে রতনের অবস্থানগত ভিন্নতা তুলে ধরতে হবে।
ঘ ‘পোস্টমাস্টার’ গল্পের পোস্টমাস্টার ও ‘মিনু’ গল্পের যোগেন বসাক উভয়ের চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে হবে।
প্রশ্ন- ৬ ল্ফল্ফ
৫ বছর বয়সে নিতু মা-বাবা দুজনকেই হারায়। এরপর চাচা নিতুকে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। নিতু পোলিও রোগে আক্রান্ত হওয়ায় চলাচল ঠিকমতো করতে পারত না। বাসার সবাই তাকে ভালোবাসত। সে খুঁড়িয়ে বাগানে গিয়ে ফুল পাখি ও গাছের সাথে মনের কথা বলত।
ক. সাহিত্যে কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে বনফুল কী উপাধিতে ভ‚ষিত হন? ১
খ. উনুনকে মিনু কেন রাক্ষসী মনে করে? ২
গ. উদ্দীপকের নিতু ও ‘মিনু’ গল্পের মিনুর কী মিল খুঁজে পাওয়া যায়- ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. নিতু ও মিনুর মধ্যে কে বেশি পরিশ্রমী? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দাও। ৪

ক সাহিত্য কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে বনফুল পদ্মভ‚ষণ উপাধিতে ভ‚ষিত হন।
খ উনুনে যা দেওয়া হয় সেটাকেই উনুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এজন্য উনুনকে মিনু রাক্ষসী মনে করে।
উনুনে ঘুঁটের ওপর কেরোসিন তেল ছড়িয়ে দিয়ে আগুন দিলে অতি সহজেই ঘুঁটেগুলো জ্বলে ওঠে। এ সময় জ্বলন্ত কয়লাগুলোকে দেখে মিনুর মনে হয় রক্তাক্ত মাংস আর আগুনের লাল আভাকে মনে হয় রাক্ষসীর তৃপ্তি। সবকিছু পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়ার কারণে উনুনকে মিনর কাছে রাক্ষসী মনে হয়।
গ মিনু ও নিতু উভয়েই প্রকৃতির কাছে নিজের আবেগ-অনুভ‚তি ভাগাভাগি করেছেন।-এ বিষয়টি আলোচনা করতে হবে।
ঘ নিতু ও সম্পর্কিত আলোচনার মধ্য দিয়ে মিনু যে অধিক পরিশ্রমী সে বিষয়টি ফুটিয়ে তুলতে হবে।

জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

 জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ মা মরা মেয়ে কে?
উত্তর : মা মরা মেয়ে মিনু।
প্রশ্ন \ ২ \ মহৎ হয়ে কার সুবিধা হয়েছে?
উত্তর : মহৎ হয়ে যোগেন বসাকের সুবিধা হয়েছে।
প্রশ্ন \ ৩ \ কী দেখে মিনু সব বুঝতে পারে?
উত্তর : ঠোঁট নাড়া আর মুখের ভাব দেখে মিনু সব বুঝতে পারে।
প্রশ্ন \ ৪ \ কার চোখে শুকতারা বিরাট বিশাল বাষ্পমÐিত প্রকাÐ গ্রহ?
উত্তর : বৈজ্ঞানিকের চোখে শুকতারা বিরাট বিশাল বাষ্পমÐিত প্রকাÐ গ্রহ।
প্রশ্ন \ ৫ \ জ্বলন্ত কয়লাগুলোকে মিনুর কী মনে হয়?
উত্তর : জ্বলন্ত কয়লাগুলোকে মিনুর মনে হয় রক্তাক্ত মাংস।
প্রশ্ন \ ৬ \ কার ওপর হাতুড়ি চালিয়ে মিনুর ভারি তৃপ্তি হয়?
উত্তর : কয়লার ওপর হাতুড়ি চালিয়ে মিনুর ভারি তৃপ্তি হয়।
প্রশ্ন \ ৭ \ বোলতা দেখলে মিনু কী করে?
উত্তর : বোলতা দেখলে মিনু শোঁ করে গামছা ঘুরিয়ে মারে।
প্রশ্ন \ ৮ \ মিনুর মনে কী গাঁথা হয়ে আছে?
উত্তর : মিনুর মনে গাঁথা হয়ে আছে যে, তার বাবা আসবে।
প্রশ্ন \ ৯ \ মিনুর ধারণা কবে তার বাবা আসবে?
উত্তর : মিনুর ধারণা যেদিন কাঁঠাল গাছের সরু ডালটায় হলদে পাখি এসে বসবে, সেদিন তার বাবা আসবে।
প্রশ্ন \ ১০ \ মিনু উনুনকে কী বলে?
উত্তর : মিনু উনুনকে রাক্ষসী বলে।
প্রশ্ন \ ১১ \ মিনুর পিসেমশায় কী করেন?
উত্তর : মিনুর পিসেমশায় ডেলিপ্যাসেঞ্জারি করেন।
প্রশ্ন \ ১২ \ শুকতারার আশপাশে কালো মেঘের টুকরোকে মিনু কী ভাবে?
উত্তর : শুকতারার আশপাশে কালো মেঘের টুকরোকে মিনু ভাবে কয়লা।
প্রশ্ন \ ১৩ \ বোলতা-ভীমরুল মারার সময় মিনু কেমন শব্দ করে?
উত্তর : বোলতা-ভীমরুল মারার সময় মিনু হিসহিস শব্দ করে।
প্রশ্ন \ ১৪ \ ঘুঁটেকে মিনুর কাছে কী মনে হয়?
উত্তর : ঘুঁটেকে মিনুর কাছে মনে হয় তরকারি।
প্রশ্ন \ ১৫ \ মিনু কার জন্য অপেক্ষা করে?
উত্তর : মিনু বাবার জন্য অপেক্ষা করে।
প্রশ্ন \ ১৬ \ মিনু মিটসেফটার কী নাম দিয়েছে?
উত্তর : মিনু মিটসেফটার নাম দিয়েছে গপগপা।
প্রশ্ন \ ১৭ \ মিনু কখন ঘুম থেকে ওঠে?
উত্তর : মিনু ভোর সাড়ে চারটায় ঘুম থেকে ওঠে?
প্রশ্ন \ ১৮ \ অবসর সময়ে মিনু কোথায় যায়?
উত্তর : অবসর সময়ে মিনু ছাদে যায়।
 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ যোগেন বসাকের সুবিধা হওয়ার কারণ কী- বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর : চব্বিশ ঘণ্টার জন্য একজন চাকরানি পাওয়াতে যোগেন বসাকের সুবিধা হয়েছে।
মিনু অনাথ একটি মেয়ে। তার বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। সে তার পিসিমার বাড়িতে থাকে। তার পিসেমশায়ের নাম যোগেন বসাক। মিনু বোবা এবং কানেও কম শোনে। তার বয়স দশ বছর হলেও সে সব কাজ করতে পারে। সে সর্ব গুণে গুণান্বিতা। শুধু পেটভাতায় এমন একজন চাকরানি পাওয়ায় যোগেন বসাকের সুবিধা হয়েছে।
প্রশ্ন \ ২ \ মিনু কয়লা ভাঙতে ভাঙতে অস্পষ্ট হিসহিস করে কেন?
উত্তর : রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে মিনু অস্পষ্ট হিসহিস শব্দ করে।
মিনু কথা বলতে পারে না। সে তার রাগ বা আনন্দের প্রকাশ ঘটায় অদ্ভুত শব্দ করে। মিনু কয়লাগুলোকে নিজের শত্রæ এবং হাতুড়ি ও যে পাথরের উপর রেখে কয়লা ভাঙে সেই পাথরকে বন্ধু মনে করে। শত্রæর ওপর প্রতিশোধ নিতে পারলে মানুষ যেমন খুশি হয় তেমনি মিনু তার শত্রæরূপী কয়লা ভাঙার সময় আনন্দে অস্পষ্ট হিসহিস শব্দ করে। যেন সে ঝাল মিটিয়ে শত্রæর মাথা ভাঙছে।
প্রশ্ন \ ৩ \ মিনু ঘুঁটেকে তরকারি মনে করে কেন?
উত্তর : মিনু ঘুঁটেকে তরকারি হিসেবে কল্পনা করে।
মিনু কালা ও বোবা। সে স্বাভাবিক জগতের বাইরে নিজস্ব একটি জগৎ তৈরি করে নিয়েছে। এ জগতে ঘুঁটেকে সে তরকারি মনে করে। সে ভাবে উনুন কেরোসিন তেল দেয়া ঘুঁটের তরকারি দিয়ে শত্রæদের মানে কয়লাদের খাবে। উনুন বা চুলা যেহেতু ঘুঁটের সাহায্যে কয়লাগুলো পোড়াতে পারে, এজন্য মিনু ঘুঁটেকে তরকারি মনে করে।
প্রশ্ন \ ৪ \ হলদে পাখির সঙ্গে মিনুর সম্পর্ক কী? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর : মিনু ভাবে কাঁঠাল গাছে হলদে পাখি এসে বসলে তার বাবা বিদেশ থেকে ফিরে আসবে।
মিনু একদিন ছাদে দাঁড়িয়েছিল। সে সময় সে দেখতে পেল পাশের বাড়ির টুনুর বাবা বিদেশ থেকে অনেক জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং একই সময় কাঁঠাল গাছের সরু শুকনা ডালে একটি হলদে পাখি বসে আছে। এ থেকে তার মনে একটি বিশ্বাস জন্ম নেয় যে, আবার যেদিন কোনো হলদে পাখি কাঁঠাল গাছে এসে বসবে তার বাবা সেদিন ফিরে আসবে। এজন্য মিনু হলদে পাখির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে।
প্রশ্ন \ ৫ \ মিনু ছাদ থেকে ছুটে বাইরে বেরিয়ে গেল কেন?
উত্তর : নিশ্চয় তার বাবা বিদেশ থেকে ফিরে এসেছে এটা মনে করে, মিনু ছাদ থেকে ছুটে বাইরে বেরিয়ে গেল।
ছাদের পাশে কাঁঠাল গাছের সরু ডালটায় যেদিন হলদে পাখি এসে বসেছিল সেদিন পাশের বাড়ির টুনুর বাবা বিদেশ থেকে এলো। এটা দেখে মিনুর মনে বিশ্বাস জান্মল যে, আবার যেদিন হলদে পাখিটা কাঁঠাল গাছে বসবে, সেদিন অবশ্যই তার বাবা ফিরে আসবে। এ কারণে একদিন ছাদে উঠে সে হলদে পাখি দেখতে পেয়ে মিনু দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে গেল।
প্রশ্ন \ ৬ \ ‘বিস্ফারিত নয়নে সে চেয়ে থাকে’-কে, কেন?
উত্তর : মিনু বিস্ফারিত নয়নে চেয়ে থাকে।
‘মিনু’ গল্পে মিনু বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী হলেও সে অনেক বিষয় সম্পর্কে যেসব ধারণা করে, তা সাধারণ বুদ্ধিতে সম্ভব নয়। ঘুঁটেকে তার কাছে মনে হয় তরকারি আর কয়লাকে শত্রæ, তাই কেরোসিন দেওয়া ঘুঁটের তরকারি দিয়ে তার শত্রæকে উনুন রাক্ষসী খায় বলে তার ধারণা। চুলোয় আগুনের আঁচ উঠলে কয়লাগুলোকে তার রক্তাক্ত মাংস মনে হয় আর আগুনের লাল আভাকে মনে হয় রাক্ষসী তৃপ্তি। বিস্ফারিত নয়নে তখন সেদিকে তাকিয়ে থাকে সে।
প্রশ্ন \ ৭ \ ‘সে জগতে তার শত্রæ-মিত্র সব আছে’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর : উদ্ধৃত বাক্যে মিনুর মনের অভিনব জগৎকে বোঝানো হয়েছে।
‘মিনু’ গল্পে শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী মিনু। প্রকৃতির সঙ্গে তার ভাব। প্রকৃতির যে বিষয়গুলো তার ভালো লাগে তা তার বন্ধু আর যা ভালো লাগে না তা যদি কোনোভাবে তাকে কষ্ট দেয়, সেটা তার শত্রæ হয়ে যায়। এভাবে নিজের মনে মনে প্রকৃতির সঙ্গে চলে তার মনের সংসারের ভাঙাগড়া। তার মনের সে জগতে অনেক কিছু তার শত্রæ হয়ে যায়, আবার অনেক কিছু তার সই হয়ে যায়।
প্রশ্ন \ ৮ \ পিঁপড়েদের সঙ্গে মিনুর কী রকম সম্পর্ক?
উত্তর : পিঁপড়েদের সঙ্গে মিনুর বন্ধুত্বের সম্পর্ক।
মিনু তার শত্রæ বোলতা বা ভিমরুল মেরে পিঁপড়েদের খেতে দেয়। মরা বোলতা বা ভিমরুলকে নিয়ে যাওয়ার জন্য শত শত পিঁপড়ে চলে আসে। যখন পিঁপড়েরা সেটা টানতে টানতে নিয়ে যায় তখন আনন্দে উচ্ছ¡সিত হয়ে মিনু কুঁই কুঁই কুঁই শব্দ করে তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply