ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা তোলপাড়

তোলপাড়
শওকত ওসমান
 লেখক পরিচিতি
নাম প্রকৃত নাম : আজিজুর রহমান; সাহিত্যিক নাম : শওকত ওসমান।
জন্ম পরিচয় জন্ম : ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দ; জন্মস্থান : পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রাম।
পেশা/কর্মজীবন অধ্যাপনা (ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান)।
সাহিত্য সাধনা শিশুতোষ রচনা : ওটন সাহেবের বাংলো, ডিগবাজি, মসকুইটো ফোন, তারা দুইজন, ক্ষুদে সোশালিস্ট, ছোটদের নানা গল্প, কথা রচনার কথা ও পঞ্চসঙ্গী ইত্যাদি; উপন্যাস : জননী, ক্রীতদাসের হাসি, জাহান্নাম হইতে বিদায়, সমাগম, চৌরসন্ধি, রাজা উপাখ্যান, নেকড়ে অরণ্য, পতঙ্গপিঞ্জর, রাজপুরুষ; গল্পগ্রন্থ : ঈশ্বরের প্রতিদ্ব›দ্বী, জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প, মনিব ও তাহার কুকুর; প্রবন্ধগ্রন্থ : ভাব ভাষা ভাবনা, সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই, মুসলিম মানসের রূপান্তর।
পুরস্কার ও সম্মাননা আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার ইত্যাদি।
জীবনাবসান ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দ।

বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

ন্ধ লেখক পরিচিতি
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১. ‘তোলপাড়’ গল্পটির লেখক কে? (জ্ঞান)
ক হুমায়ুন আজাদ খ আল মাহমুদ
 শওকত ওসমান ঘ আবু ইসহাক
২. শওকত ওসমানের জন্ম কোন জেলায়? (জ্ঞান)
 হুগলি খ বগুড়া গ রাজশাহী ঘ ঢাকা
৩. শওকত ওসমানের প্রকৃত নাম কোনটি? [ল²ীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক সোলায়মান মলি­ক খ গিয়াস উদ্দিন
গ জাহিদুর রহমান  আজিজুর রহমান
৪. শওকত ওসমানের জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দে? (জ্ঞান)
 ১৯১৭ খ ১৯২৭ গ ১৯২৫ ঘ ১৯১৯
৫. শওকত ওসমান দীর্ঘদিন কোন পেশায় নিযুক্ত ছিলেন? (জ্ঞান)
ক সাংবাদিকতা  অধ্যাপনা
গ পারিবারিক ব্যবসায় ঘ ওকালতি
৬. নিচের কোনটি শওকত ওসমানের লেখা গ্রন্থ? (জ্ঞান)
ক চলে মুসাফির খ প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
গ মাশুকের দরবার  খুদে সোশালিস্ট
৭. শওকত ওসমান কোন গ্রামে জš§গ্রহণ করেন? (জ্ঞান)
 সবল সিংহপুর খ সবল রায়পুর
গ সবল হরসপুর ঘ সবল হংসপুর
৮. নিচের কোন গ্রন্থটি শওকত ওসমানের শিশুতোষ রচনা নয়?
ক তারা দুইজন খ ডিগবাজি
গ পঞ্চসঙ্গী  জননী
৯. শওকত ওসমান মৃত্যুবরণ করেন কত খ্রিষ্টাব্দে? (জ্ঞান)
ক ১৯৫৮ খ ১৯৬৯ গ ১৯৭৮  ১৯৯৮
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১০. শওকত ওসমান জন্মগ্রহণ করেন (অনুধাবন)
র. হুগলি জেলায়
রর. সবল সিংহপুর গ্রামে ররর. ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১১. শওকত ওসমানের ছোটদের জন্য লিখিত গ্রন্থ- (অনুধাবন)
র. তারা দুইজন ও ডিগবাজি
রর. মসকুইটো ফোন ও ওটন সাহেবের বাংলো
ররর. জানা অজানার দেশে ও রহস্যের শেষ নেই
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১২. শওকত ওসমানের প্রাপ্ত সাহিত্য পুরস্কারের নাম হচ্ছে- (অনুধাবন)
র. একুশে পদক
রর. বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার
ররর. ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
ন্ধ মূলপাঠ
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৩. কারা ঢাকা শহরে গুলি করে মানুষ মেরেছিল? (জ্ঞান)
 পাঞ্জাবি মিলিটারিরা খ উত্তেজিত জনগণ
গ সাবুরা ঘ মুক্তিবাহিনী
১৪. ঢাকা শহর থেকে গাবতলি গ্রামের দূরত্ব কত? (জ্ঞান)
ক ত্রিশ মাইল খ চল্লিশ মাইল
 পঞ্চাশ মাইল ঘ ষাট মাইল
১৫. ঢাকা শহরে কত তারিখ রাতে পাঞ্জাবি মিলিটারিরা সাধারণ জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে? (জ্ঞান)
ক একুশে ফেব্র“য়ারি রাতে  পঁচিশে মার্চের রাতে
গ ৩রা মার্চের রাতে ঘ ছাব্বিশে মার্চের রাতে
১৬. সাবুর বাড়ির পাশ দিয়ে কোন সড়কটি গেছে? (জ্ঞান)
ক ইউনিয়ন পরিষদের সড়ক খ বিসিকের সড়ক
গ জেলা থানার সড়ক  জেলা বোর্ডের সড়ক
১৭. মানুষের স্রোতকে সাবু কী হিসেবে দেখেছে? (জ্ঞান)
 পিঁপড়ের সারি খ সারি
গ মাছির সারি ঘ হাতির সারি
১৮. কে খুব ভোরে উঠে মুড়ি ভেজে দিয়েছিলেন? (জ্ঞান)
ক প্রৌঢ় নারী খ মিসেস রহমান
 জৈতুন বিবি ঘ সাবু
১৯. কাকে দেখে সাবু অবাক হয়ে তাকিয়েছিল? (জ্ঞান)
ক জৈতুন বিবিকে খ সদ্য বিধবাকে
গ বুড়ো ভদ্রলোককে  প্রৌঢ় নারীকে
২০. প্রৌঢ় নারীর ফরসা চেহারা দেখে সাবুর কীসের মতো মনে হয়েছে? (জ্ঞান)
ক জিন খ নীল পরি গ লাল পরি  ধলা পরি
২১. প্রৌঢ় নারী সাবুকে কত টাকার নোট দিল? (জ্ঞান)
 পাঁচ খ সাত গ দশ ঘ একশ
২২. সাবুর পরনে কী ছিল? (জ্ঞান)
ক লুঙ্গি খ ফুলপ্যান্ট  হাফপ্যান্ট ঘ গামছা
২৩. ‘বিপদে পইড়া মানুষ বাড়ি আইলে কিছু লওয়া উচিত না।’Ñ উক্তিটি কার? (জ্ঞান)
 সাবুর মায়ের খ সাবুর
গ বৃদ্ধ মহিলার ঘ গ্রামের মুরব্বির
২৪. প্রৌঢ় নারী বা মিসেস রহমানের বাড়ি কোথায় ছিল? (জ্ঞান)
 লালমাটিয়ায় খ গুলশানে
গ পুরান ঢাকায় ঘ আজিমপুরে
২৫. কে নিমিষে ভিড়ে মিশে গেলেন? (জ্ঞান)
 মিসেস রহমান খ জৈতুন বিবি
গ সদ্য বিধবা ঘ সত্তর বছরের বুড়ো
২৬. কার মনে শহর দেখার সাধ জাগল? (জ্ঞান)
ক জৈতুন বিবির  সাবুর
গ শওকত ওসমানের ঘ বৃদ্ধের
২৭. সত্তর বছরের বুড়োর সঙ্গে কয়টি মাঝবয়সি মেয়ে ছিল? (জ্ঞান)
ক ৪টি  ৩টি গ ২টি ঘ ৫টি
২৮. সত্তর বছরের বুড়োর সঙ্গে থাকা জওয়ানের পরনে কী ছিল? (জ্ঞান)
 লুঙ্গি ও হাফশার্ট খ পাজামা ও পাঞ্জাবি
গ ফুলপ্যান্ট ও টিশার্ট ঘ হাফপ্যান্ট ও হাফশার্ট
২৯. বুড়োর তিন ছেলেকে কারা গুলি করে মেরেছে? (জ্ঞান)
ক শহরের গুণ্ডারা খ মুক্তিবাহিনীরা
 পাঞ্জাবি মিলিটারিরা ঘ রাজাকাররা
৩০. বুড়োর পরিবার কোথায় বিশ্রাম নিতে বসেছিল? (জ্ঞান)
ক পথের ধারে  গাছের ছায়ায়
গ বাড়ির উঠানে ঘ নদীর পাড়ে
৩১. নদীর ঘাটটি সাবুর বাড়ির এলাকা থেকে কত মাইল দূরে ছিল? (জ্ঞান)
 দুই খ তিন গ এক ঘ চার
৩২. জীবনে কে নামাজ কাজা করেনি? (জ্ঞান)
ক জৈতুন বিবি খ মিসেস রহমান
গ সাবু  বৃদ্ধ লোকটি
৩৩. ‘পাকিস্তান হলে মুসলমানদের মঙ্গল হবে’ বুড়োর এ উক্তির মাধ্যমে লেখক কোনটি প্রকাশ করতে চেয়েছেন? (উচ্চতর দক্ষতা)
 পাকিস্তানিদের প্রতি আক্ষেপ
খ বাঙালিদের প্রতি অবজ্ঞা
গ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি উৎসাহ
ঘ পাকিস্তানিদের প্রতি উৎসাহ
৩৪. সাবু কল্পনার চোখে কাদের দেখতে পেল? (অনুধাবন)
 খাকি উর্দি পরা সিপাই
খ নীল উর্দি পরা সিপাই
গ সবুজ পাঞ্জাবি পরা বালক
ঘ লাল শাড়ি পরা মহিলা
৩৫. কার বুকে আশ্চর্য তোলপাড় শুরু হয়? (অনুধাবন)
ক সিপাহির খ বৃদ্ধের  সাবুর ঘ জওয়ানের
৩৬. জৈতুন বিবি হকচকিয়ে গেলেন কেন? [সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা]
ক মিসেস রহমানকে দেখার কারণে
 সাবুর চিৎকারের কারণে
গ পাঞ্জাবি মিলিটারি দেখার কারণে
ঘ অতিরিক্ত কাজের কারণে
৩৭. সব মানুষ শহর ছেড়ে চলে আসছিল কেন? (অনুধাবন)
ক থাকার স্থানের জন্য  জীবন রক্ষার জন্য
গ বেড়ানোর জন্য ঘ অর্থ উপার্জনের জন্য
৩৮. গাবতলি গ্রামে শহরের সব খবর দুদিন পর এসে পৌঁছায় কেন? (অনুধাবন)
ক জনবল কম থাকার কারণে
খ গাবতলি গ্রামের দূরত্বের কারণে
গ ডাকবিভাগ না থাকার কারণে
 যাতায়াতের অসুবিধার কারণে
৩৯. পঁচিশে মার্চের রাতে পাঞ্জাবি মিলিটারিরা বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কেন? (অনুধাবন)
 হত্যাযজ্ঞ চালানোর জন্য
খ সবাইকে বন্দি করার জন্য
গ মানুষকে শাস্তি দেয়ার জন্য
ঘ সবাইকে রক্ষা করার জন্য
৪০. জৈতুন বিবির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যটির মাঝে শিক্ষণীয় কী? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক লোভহীনভাবে শ্রমের  নিঃস্বার্থভাবে পরোপকারিতার
গ সততার ঘ ধৈর্যশীলতার
৪১. রফিকদের এলাকায় এক রাতে ডাকাত দল নির্মমভাবে মানুষদের হত্যা করে। ডাকাত দলের সঙ্গে ‘তোলপাড়’ গল্পের কাদের তুলনা করা যায়? (প্রয়োগ)
ক জওয়ানদের  পাঞ্জাবি মিলিটারিদের
গ শহর থেকে আগত মানুষদের
ঘ মুক্তিবাহিনীদের
৪২. রহমত নামের এক বৃদ্ধলোক ক্ষুধা ও পিপাসার যন্ত্রণায় ছটফট করছে। বাবুল তাকে খাবার ও পানি দিয়ে সাহায্য করল। বাবুলের চরিত্রের সঙ্গে ‘তোলপাড়’ গল্পের কার চরিত্রের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়? (প্রয়োগ)
 সাবুর খ জওয়ানের
গ বৃদ্ধ লোকটির ঘ মিসেস রহমানের
৪৩. ‘তোলপাড়’ গল্পে সাবু শহর থেকে আগত লোকদের বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করছে। এর মাধ্যমে তার চরিত্রের কোন গুণটি প্রকাশিত হয়? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক একাগ্রতা  সহানুভূতিশীলতা
গ ঐক্যবদ্ধতা ঘ ধৈর্যশীলতা
৪৪. জৈতুন বিবি তার ছেলে সাবুকে শহর থেকে আগত গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছ থেকে উপকারের বিনিময়ে টাকা বা বকশিশ নিতে নিষেধ করল। এ আদেশ প্রদানের মাধ্যমে তার চরিত্রের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক নিঃস্বার্থভাবে একাত্মতার
খ অন্যের উপর তদারকির
গ নিঃস্বার্থ ও লোভহীনতার
 নিঃস্বার্থভাবে পরোপকারিতার
৪৫. মিসেস রহমান পানি খেয়ে সাবুকে পাঁচ টাকা দিতে চাইল। তার চরিত্রের এ দিকটির মাধ্যমে কোনটি প্রকাশিত হয়েছে? (উচ্চতর দক্ষতা)
 কৃতজ্ঞতাবোধ খ সরলতাবোধ
গ সহযোগিতা ঘ বন্ধুসুলভ আচরণ
৪৬. পাঞ্জাবি মিলিটারিরা বুড়োর তিন ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলেছে। এ কাজটির মাধ্যমে তাদের চরিত্রের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? (উচ্চতর দক্ষতা)
 নির্মমতা খ সহিংসতা গ স্বার্থপরতা ঘ একতাবদ্ধতা
৪৭. মোহনপুর গ্রামের যুবকরা বিপদগ্রস্ত লোকদের কাঁধে করে খাল পার করে দেয়। মোহনপুর গ্রামের যুবকদের সঙ্গে কাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়? (প্রয়োগ)
 গাবতলি গ্রামের লোকদের
খ শহর থেকে আগত লোকদের
গ পাঞ্জাবি মিলিটারিদের
ঘ বৃদ্ধের পরিবারের লোকদের
৪৮. ‘তোলপাড়’ গল্পে সম্ভ্রান্ত বৃদ্ধের পরিবারের মতো পরিস্থিতির শিকার নিচের কোন চরিত্রটি? (অনুধাবন)
ক সাবু খ জৈতুন বিবি
 মিসেস রহমান ঘ গ্রামবাসী
৪৯. ‘তোলপাড়’ গল্পে সাবু চরিত্রের মধ্য দিয়ে নিচের কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক সত্যবাদিতা খ সততা
 দায়িত্বশীল ভ‚মিকা ঘ ন্যায়পরায়ণতা
৫০. সাবুর বুকে অত্যাচারী পাঞ্জাবি মিলিটারিদের মোকাবিলার জন্য আশ্চর্য তোলপাড় শুরু হয়। এখানে সাবুর কোন ধরনের মানসিকতার প্রকাশ ঘটে? (উচ্চতর দক্ষতা)
 প্রতিশোধপরায়ণতার খ অন্যের ক্ষতি করা
গ সাহসিকতার ঘ ধৈর্যশীলতার
৫১. ‘তোলপাড়’ গল্পের প্রেক্ষাপট কোনটি? [বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন খ বাষট্টির আন্দোলন
গ উনসত্তরের গণআন্দোলন  একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
৫২. সাবুর হাত বার বার মুষ্টিবদ্ধ হওয়া কী প্রমাণ করে? [খুলনা জিলা স্কুল]
ক দাম্ভিকতা খ হিংস্রতা
 প্রতিশোধস্পৃহা ঘ আমুদেপনা
৫৩. ‘গরিব হইতাম পারি, কিন্তু আমরা জানোয়ার না’ কথাটি কে বলেছে?
ক সাবু খ মিসেস রহমান
গ বৃদ্ধ  জৈতুন বিবি
৫৪. সাবুর মায়ের নাম কী? [ল²ীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক জয়নাব বিবি খ জরিনা বিবি
 জৈতুন বিবি ঘ জায়েদা বিবি
৫৫. ‘তোলপাড়’ গল্পে তুলে ধরা হয়েছে [চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল]
ক সাবুর মহত্ত¡  পাকিস্তানিদের প্রতিরোধের প্রেরণা
গ সাবুর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ঘ শহুরে মানুষের দুর্দশা
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৫৬. জৈতুন বিবি তার সন্তান সাবুকে বিপদগ্রস্ত লোকের কাছ থেকে অর্থ নিতে নিষেধ করে। তার এ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থেকে শিক্ষণীয় দিকটি হলোÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. নিঃস্বার্থভাবে পরোপকার করা
রর. মুক্তিযুদ্ধে উজ্জীবিত হওয়া
ররর. বিপদগ্রস্তকে সহযোগিতা করা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৭. মিসেস রহমানের দৃষ্টিতে সাবুর জন্য ফুটে ওঠে (অনুধাবন)
র. সহমর্মিতা রর. মমতা
ররর. কৃতজ্ঞতা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৮. সাবুর শরীর থর থর করে কাঁপছে (অনুধাবন)
র. পাঞ্জাবি মিলিটারিদের হত্যাযজ্ঞের খবর শোনার কারণে
রর. অতিরিক্ত উত্তেজিত হওয়ার কারণে
ররর. হাজার হাজার মানুষ দেখার কারণে
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৯. জেলা বোর্ডের সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ গাবতলি গ্রামে প্রবেশ করছিল (অনুধাবন)
র. যুদ্ধ করার জন্য
রর. মিলিটারিদের হাত থেকে বাঁচার জন্য
ররর. নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছার জন্য
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর  রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৬০. জৈতুন বিবি খুব ভোরে উঠে মুড়ি ভেজেছিলেন (অনুধাবন)
র. বিপদগ্রস্ত মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য
রর. শহর থেকে আগত মানুষদের খাওয়ানোর জন্য
ররর. মানুষকে দান করার জন্য
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৬১. সাবু প্রৌঢ় মহিলার দেয়া টাকাটা না নেয়ার কারণ (অনুধাবন)
র. মায়ের নিষেধ রর. নিজের বিবেকের বাধা
ররর. শিক্ষকের নিষেধ
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৬২. আবিরকে তার বাবা-মা কোনো কাজের নির্দেশ দিলে সে বিরক্তবোধ করত কিন্তু এলাকায় সবার বিপদে সে স্বপ্রণোদিত হয়ে সাহায্যে এগিয়ে আসে ও বাবা-মায়ের উপদেশ শোনে। আবিরের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হলো (প্রয়োগ)
র. সাবুর রর. জৈতুন বিবির
ররর. জওয়ানের
নিচের কোনটি সঠিক?
 র খ রর গ র ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৬৩. ‘তোলপাড়’ গল্পে উপস্থাপিত হয়েছে (অনুধাবন)
র. মিলিটারিদের জুলুমের চিত্র
রর. সাবুর সহানুভ‚তি
ররর. সাবুর যুদ্ধ জয়
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৬৪. সাবুর চরিত্রের মধ্যে ফুটে ওঠে [নারায়ণগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
র. বাংলার গ্রামের কিশোরদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা
রর. গরিব হওয়া সত্তে¡ও পরোপকারী মনোভাব
ররর. আত্মসম্মানবোধের প্রকৃষ্ট উদাহরণ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৬৫. সাবুর বুকে তোলপাড় হওয়ার কারণ (অনুধাবন)
র. দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা
রর. পাকিস্তানিদের প্রতি ঘৃণা
ররর. শত্রæর প্রতি আক্রোশ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৬৬. সাবুর মধ্যে অসীম আক্রোশ জšে§ছে [রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
র. দেশের মানুষকে অত্যাচারিত হতে দেখে
রর. পাকিস্তানিরা সাবুর আত্মীয়কে মেরেছে বলে
ররর. পাকিস্তানিদের বর্বরতা দেখে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৬৭ ও ৬৮নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
হাসিমপুর গ্রামে বিশাল ঝড়ে বেশিরভাগ বাড়িঘর ভেঙে যায়। ওই গ্রামের সম্ভ্রান্ত মহিলা আফসানা খাতুন সবাইকে খাদ্য প্রদান করেন এবং তার দুই ছেলেকে সকলের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন। তিনি তার দুই ছেলেকে প্রচুর খাদ্য ও অর্থ দিয়ে গ্রামে পাঠান।
৬৭. সম্ভ্রান্ত মহিলা আফসানা খাতুনের সঙ্গে ‘তোলপাড়’ গল্পের কার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়? (প্রয়োগ)
ক মিসেস রহমানের খ বিধবা পুত্রবধূর
 জৈতুন বিবির ঘ গ্রামের মুরব্বিদের
৬৮. উক্ত সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রটি ও আফসানা খাতুনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে শিক্ষণীয় দিক হলো (উচ্চতর দক্ষতা)
র. অসহায়দের প্রতি সহমর্মিতা পোষণ করা
রর. নিঃস্বার্থভাবে পরোপকার করা
ররর. বিপদগ্রস্তদের সহযোগিতা করা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৬৯ ও ৭০নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতায় মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। হাজার হাজার মানুষ ভীতিগ্রস্ত জীবনযাপন করেছিল এবং যাযাবর অবস্থায় তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। মোটকথা মুক্তিযুদ্ধের কারণে মানুষের জীবনে চরম দুরবস্থা ঘনিয়ে আসে।
৬৯. মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সে প্রেক্ষাপটকে বোঝানোর জন্য উদ্দীপকে যে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে কোন গল্পে তার প্রতিফলন ঘটেছে? (প্রয়োগ)
 তোলপাড় খ লাল গরুটা গ মিনু ঘ অমর একুশে
৭০. অনুচ্ছেদের মূল বিষয় উক্ত গল্পের বিষয়ের দিক থেকে অভিন্ন কীভাবে? (অনুধাবন)
˜ মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা খ মানুষের জীবনচিত্র তুলে ধরায়
গ মানুষের নির্যাতনের কথা তুলে ধরায় ঘ প্রতিবাদী মানুষের কথা তুলে ধরায়
ন্ধ শব্দার্থ ও টীকা
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৭১. ‘জয়িফ’ শব্দের অর্থ কী? (জ্ঞান)
 দুর্বল বা বৃদ্ধ খ সবল বা যুবক
গ নরম বা সাধারণ ঘ শীতল বা বরফ
৭২. গারো পাহাড় বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত? (জ্ঞান)
ক রংপুর, ঠাকুরগাঁও খ ময়মনসিংহ, দিনাজপুর
গ রংপুর, বগুড়া  রংপুর, ময়মনসিংহ
৭৩. ‘কাফেলা’ শব্দের অর্থ কী? (জ্ঞান)
ক সারি বেঁধে চলা পিঁপড়ের দল
 সারি বেঁধে চলা পথিকের দল
গ এলোমেলো চলা পথিকের দল
ঘ এলোমেলো চলা পিঁপড়ের দল
৭৪. ‘খাবি খাওয়া’ শব্দের অর্থ কী? (জ্ঞান)
ক শরণাপন্ন হওয়া খ সহনুভ‚তিশীল হওয়া
 মরণাপন্ন হওয়া ঘ কঠোর হওয়া
৭৫. উর্দি কাদের পোশাক? (জ্ঞান)
 সৈনিকদের খ সাধারণ মানুষের
গ অভিজাতদের ঘ বিশেষ গোষ্ঠী
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৭৬. ‘কুঁচো ছেলেমেয়ে’ বলতে বোঝায় (অনুধাবন)
র. ছোট ছোট ছেলেমেয়ে রর. কালো বর্ণের ছেলেমেয়ে
ররর. কুৎসিত চেহারার ছেলেমেয়ে
নিচের কোনটি সঠিক?
 র খ রর গ র ও ররর ঘ র ও ররর
৭৭. কাদের প্রতি সাবুর ঘৃণা বাড়তে থাকে? (অনুধাবন)
র. পাকিস্তানিদের রর. শহরবাসীদের
ররর. শহরত্যাগীদের
নিচের কোনটি সঠিক?
 র খ র ও ররর গ র ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৭৮. চাঙারি বলতে বোঝায় (অনুধাবন)
র. বাঁশের কাঠি দিয়ে তৈরি ডালা
রর. বাঁশের কাঠি দিয়ে তৈরি ঝুড়ি বা টুকরি
ররর. বাঁশ দিয়ে তৈরি সাঁকো
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
ন্ধ পাঠ পরিচিতি
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৭৯. ‘তোলপাড়’ গল্পটির শিক্ষণীয় বিষয় কী? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক আন্দোলনের দিকনির্দেশনা পাওয়া
 মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়া
গ স্বার্থপরতা পরিত্যাগ করা
ঘ পরোপকারিতার প্রশিক্ষণ নেয়া
৮০. সাবু ক্ষুব্ধ হয় কেন? (অনুধাবন)
 হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুরতা অনুভব করে
খ হানাদার বাহিনীর উপস্থিতির কারণে
গ শহরবাসীদের পলায়নের কারণে
ঘ পরিবারের দরিদ্রতার কারণে
৮১. প্রৌঢ় নারীর বয়স কত? (জ্ঞান)
ক ৬০ এর কাছাকাছি  ৫০ এর বেশি
গ ৭০ ঘ ৪৩
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৮২. মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের অত্যাচার দেখে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য রহিম ব্যাপারির মন চঞ্চল হয়ে ওঠে। তার সাথে মিল রয়েছে (প্রয়োগ)
র. সাবুর
রর. ধার্মিক বৃদ্ধের
ররর. বুড়ো লোকটির
নিচের কোনটি সঠিক?
 র খ রর গ ররর ঘ র, রর ও ররর
৮৩. সাবুর মন বেদনায় সিক্ত হয় (অনুধাবন)
র. শহরত্যাগী মানুষের অসহায়ত্ব দেখে
রর. শহরত্যাগী মানুষের দুঃখকষ্ট দেখে
ররর. শহরত্যাগী মানুষের দুর্দশা দেখে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৮৪. সাবু শহর থেকে আসা ক্লান্ত মানুষের সাহায্য করেছিল (অনুধাবন)
র. ভাত দিয়ে রর. মুড়ি দিয়ে
ররর. পানি দিয়ে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ র ও রর  রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন- ১ ল্ফল্ফ
বারো বছরের বালক অজয়দের এলাকায় ডাকাত দল মাঝে মাঝেই বিভিন্ন বাড়িতে ডাকাতি করে, বহু লোক হত্যা করে। এরপর তারা বিভিন্ন বাড়ি থেকে যুবতি মেয়েদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। তারা এলাকার মানুষকে দিনের পর দিন নির্মম নির্যাতন করে। অজয় বয়সে ছোট হলেও ডাকাত দলের এ অত্যাচার ও নির্মমতা দেখে তার মনে ঘৃণা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তাদের মোকাবিলা করার জন্য তার কিশোর মন চঞ্চল হয়ে ওঠে।
ক. ঢাকা থেকে গাবতলি গ্রামের দূরত্ব কত ছিল? ১
খ. সাবুদের গাবতলি গ্রামে গোটা শহর হুমড়ি খেয়ে পড়ল কেন? ২
গ. অজয়দের এলাকার ডাকাত দলের সঙ্গে ‘তোলপাড়’ গল্পের কাদের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়Ñ নির্ণয় কর। ৩
ঘ.“উদ্দীপকের অজয় ও ‘তোলপাড়’ গল্পের সাবু চরিত্রে প্রকাশিত ক্ষোভই অন্যায় দূরীকরণে সক্ষম” উক্তিটির পক্ষে তোমার মতামত দাও। ৪

ক ঢাকা থেকে গাবতলি গ্রামের দূরত্ব ছিল পঞ্চাশ মাইল।
খ পাঞ্জাবি মিলিটারিদের অত্যাচারের থেকে বাঁচার জন্য সাবুদের গাবতলি গ্রামে গোটা শহর হুমড়ি খেয়ে পড়ল।
পঁচিশে মার্চের রাতে পাঞ্জাবি মিলিটারিরা ঢাকায় সাধারণ জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা জীবন্ত যাকে পেয়েছে তাকে হত্যা করেছে। তাই ঢাকার অসহায় জনগণ নিজের জীবন রক্ষার জন্য সবাই ঢাকা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে রওনা হয়। হাজার হাজার মানুষ গাবতলি গ্রামের উপর দিয়ে জেলা বোর্ডের সড়ক অতিক্রম করে নিরাপদ আশ্রয়ের লক্ষ্যে যাত্রা করে এবং অনেকে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য রাস্তায় যাত্রা বিরতি করে। শহরের মানুষের ভিড়ে গ্রামটা ভরে ওঠে। এ কারণে বলা হয়েছে, সাবুদের গাবতলি গ্রামে গোটা শহর যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ল।
গ অজয়দের এলাকার ডাকাত দলের সঙ্গে ‘তোলপাড়’ গল্পের পাঞ্জাবি মিলিটারিদের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
অজয়দের এলাকায় ডাকাত দল হঠাৎ এক রাতে আক্রমণ করে এবং তারা বহু লোককে হত্যা করে। এছাড়া তারা বহু নারীকে অপহরণ করে নিয়ে তাদের জন্য মুক্তিপণ দাবি করে। তারা এলাকার মানুষকে দিনের পর দিন কঠিন নির্যাতন করে। ‘তোলপাড়’ গল্পেও বাঙালি জনগণের ওপর ২৫শে মার্চের রাতে পাঞ্জাবি মিলিটারিরা ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নির্বিচারে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে। নারীদের অপহরণ করে নির্মম নির্যাতন চালায়।
উদ্দীপকের অজয়দের গ্রামে ডাকাত দলের আগমন ও ২১শে মার্চে ঢাকা শহরে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ একই রকম। তাদের নির্যাতনের ধরনও একই রকম। এই প্রেক্ষিতে বলা যায় উদ্দীপকের ডাকাত ও পাঞ্জাবিদের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ উদ্দীপকের অজয় ও ‘তোলপাড়’ গল্পের সাবু চরিত্রে প্রকাশিত ক্ষোভই অন্যায় দূরীকরণে সক্ষম কথাটির সাথে আমি একমত।
উদ্দীপকে অজয়দের গ্রামে ডাকাত দল আক্রমণ করে বহু মানুষ হত্যা করে। অনেক নারীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। এতে অজয়ের মনে ঘৃণা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ‘তোলপাড়’ গল্পে পাকিস্তানি মিলিটারিরা ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকা শহরের শত শত মানুষ হত্যা করে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। এতে সাবুর মনে পাকিস্তানি অত্যাচারীদের প্রতি ঘৃণা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আমাদের সমাজে উদ্দীপক ও ‘তোলপাড়’ গল্পে উল্লিখিত অন্যায়ের মতো বহু অন্যায় সংঘটিত হয়। শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ তথা সর্বস্তরের মানুষের মনে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে তারা এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেকোনো মানুষের দায়িত্বশীল উদ্যোগ সমাজ থেকে অন্যায় দূরীকরণে সক্ষম। যেমন : বাঙালিদের মনে সাবুর মতো ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ার ফলেই আমরা পাকিস্তানিদের অপশাসন দূর করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের আমরা পরাজিত করেছি।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সাধারণ মানুষের মনে সঞ্চিত ক্ষোভ কোনো বড় শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রেরণা জোগায়। তাই বলা যায় অজয়, সাবু এদের মনের পুঞ্জিভ‚ত ক্ষোভই অন্যায় দমনে যথেষ্ট।
প্রশ্ন- ২ ল্ফল্ফ
শান্তিপূর্ণ গ্রামটা যেন হঠাৎ করেই মৃত্যুপুরী হয়ে গেল। কোথাও কোনো মানুষ নেই। এমনকি জীবজন্তুর চোখে পড়ে না। শুধু দু-একটা পাখি এদিক-ওদিকে ভীতস্বরে ডেকে উঠছে। পাশের ঝোপে লুকিয়ে এসব ভাবতে ভাবতেই আশ্চর্য হয় তাপস। তার বয়স পনেরো বছর। দুদিন আগে তাদের পাশের গ্রামে মিলিটারি এসেছে। তারপর থেকেই গ্রামটা নিশ্চুপ। এমন সময় পায়ের আওয়াজ শুনল তাপস। তারপর দেখল সবুজ হেলমেট আর খাকি পোশাক পরা মিলিটারিরা আসছে। খালি গ্রাম দেখে তারা শূন্য ঘরগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিল। এই দৃশ্য দেখে তাপস উত্তেজনায় কাঁপতে থাকে। হাতের মুঠো শক্ত হয়। দৃঢ় শপথ নেয় একাকী দাঁড়িয়ে। এ অন্যায় রুখে দেবে সে, যেভাবেই হোক।
ক. মিসেস রহমানের বাসা ঢাকার কোন এলাকায় ছিল? ১
খ. ‘গরিব হইতাম পারি, কিন্তু আমরা জানোয়ার না’Ñ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকে ‘তোলপাড়’ গল্পের কোন ভাবটি প্রকাশ পেয়েছে? ৩
ঘ.“উদ্দীপকের তাপস ‘তোলপাড়’ গল্পের সাবু চরিত্রেরই প্রতিনিধি।” বিশ্লেষণ কর। ৪

ক মিসেস রহমানের বাসা ঢাকার লালমাটিয়া এলাকায় ছিল।
খ ‘গরিব হইতাম পারি, কিন্তু আমরা জানোয়ার না’Ñ উক্তিটি ‘তোলপাড়’ গল্পের সাবুর।
‘তোলপাড়’ গল্পে মিসেস রহমান নামক একজন প্রৌঢ় নারী মুক্তিযুদ্ধের সময় শহর থেকে গাবতলি গ্রামে পৌঁছলে পথিমধ্যে তাকে সাবু নামের ওই গ্রামের একটি ছেলে পানি পান করায়। তিনি খুশি হয়ে তাকে পাঁচ টাকা বখশিশ দিতে চাইলে সাবু তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তাই সে মিসেস রহমানের টাকাটা না নিয়ে তাকে বলল, ‘গরিব হইতাম পারি, কিন্তু আমরা জানোয়ার না।’ সাবুর এ উক্তিটির মধ্যে তার পরোপকারিতা ও আদর্শের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
গ ‘তোলপাড়’ গল্পে পাকিস্তানি মিলিটারিদের অত্যাচারে সাবুর মনে প্রতিবাদ ও প্রতিশোধের যে মিশ্র ভাবটি সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়টিই উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
‘তোলপাড়’ গল্পে দেখা যায়, মিলিটারিদের আক্রমণের পর ঢাকা শহর থেকে সাবুদের গ্রামে অত্যাচারিত মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। একদিন সাত-আট জনের একটা অসহায় পরিবার এলো। তিন বিধবা, পুত্রবধূ আর নাতি-নাতনি রয়েছে অসহায় বৃদ্ধের সঙ্গে। বৃদ্ধের সামনেই তার তিন পুত্রকে মিলিটারিরা হত্যা করেছে। তাদের কষ্ট দেখে সাবুর মনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরূপ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তার মনে বিদ্রোহের আগুন দানা বাধে।
উদ্দীপকে তাপস নামক ছেলেটির মধ্যেও সাবুর মতো দৃঢ়তা প্রকাশ পেয়েছে। তাপসদের গ্রাম হঠাৎ করেই মৃত্যুপুরীর মতো হয়ে গেছে। এর কারণ হলো পাশের গ্রামে মিলিটারির উপস্থিতি। একটি ঝোপে লুকিয়ে হঠাৎ তাপস মিলিটারিদেরকে দেখতে পায়। গ্রাম খালি দেখে ধ্বংসের নেশায় তারা জনশূন্য ঘরগুলোতে আগুন দিতে শুরু করেছে। তা দেখে তাপসের মনে বিদ্রোহ সৃষ্টি হয়। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে, যেভাবেই হোক এ ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিশোধ সে নেবেই। এ থেকে বলা যায়, ‘তোলপাড়’ গল্পে অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার ও প্রতিশোধ নেওয়ার ভাবটিই উদ্দীপকে প্রদর্শিত হয়েছে।
ঘ পাকিস্তানি মিলিটারির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাবের দিক থেকে উদ্দীপকের তাপস ‘তোলপাড়’ গল্পের সাবু চরিত্রের প্রতিনিধি।
‘তোলপাড়’ গল্পে সাবু নামক কিশোরের অটল সংকল্পের পরিচয় পাওয়া যায়। ঢাকা শহর থেকে দলে দলে মানুষ সাবুদের গ্রামে আসতে থাকে। মিলিটারির আক্রমণের বিভীষিকায় সবাই পালাতে চায়। কেউ বাবা হারিয়ে, কেউ মা হারিয়ে, কেউ ভাই হারিয়ে এক বুক শোক নিয়ে ছুটতে থাকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। তাদের সবার চোখে মুখে অনিশ্চয়তার ছাপ। এসব সাবুর সহ্য হয় না। ধীরে ধীরে তার মধ্যে বিদ্রোহভাব সঞ্চার হয়। এক সময় সে বোধ তোলপাড় রূপ ধারণ করে। পাকিস্তানি মিলিটারিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অগ্নিমশাল তোলপাড়।
উদ্দীপকেও তাপস নামের কিশোরের বিদ্রোহের ভাব স্পষ্ট হয়েছে। পাশের গ্রামে মিলিটারি আসায় তাদের গ্রামের সমস্ত মানুষ ভয়ে আত্মগোপন করল ফলে গ্রামে কোনো মানুষের চিহ্ন রইল না। ভয়ে গবাদি পশুগুলোও ডাকতে ভুলে গেছে। এরূপ নিশ্চুপ পরিবেশ তাপসের মনে প্রশ্নের সৃষ্টি করে। একটা ঝোপের ভেতর লুকিয়ে হঠাৎ তাপস সবুজ হেলমেট পরা মিলিটারিদের দেখতে পায়। গ্রামে মানুষ না পেয়ে পাশবিক আক্রোশে তারা শূন্যঘর পোড়াতে থাকে। এসব দেখে তাপস সহ্য করতে পারে না, চুপি চুপি এই পাশবিকতার প্রতিশোধের শপথ নেয়।
উদ্দীপকের তাপসের বিদ্রোহী মন যে ধরনের ঘটনার প্রেক্ষিতে জেগে উঠে। তেমনি ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘তোলপাড়’ গল্পের সাবুর মনও জেগে ওঠে। ঘটনার সূত্রে তাদের মনের ভাব অভিন্ন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের তাপস ‘তোলপাড়’ গল্পের সাবু চরিত্রের প্রতিনিধি।
প্রশ্ন- ৩ ল্ফল্ফ
আবিদের বয়স ১৮ বছর। সে একজন রিকশাচালক। একদিন তার রিকশায় একজন বয়স্ক ভদ্রলোক ভুলে একটি ব্যাগ ফেলে চলে যায়। আবিদ ব্যাগের মধ্যে তার মোবাইল নম্বর খুঁজে পেয়ে তাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। বয়স্ক ভদ্রলোকটি আবিদের ফোন পেয়ে দ্রুত ছুটে আসে এবং ব্যাগটি বুঝে পেয়ে সে আবিদকে ১০০ টাকা বখশিশ দিতে চাইলে আবিদ টাকাটি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। আবিদ বলে, ‘মানুষের উপকার করার বিনিময়ে কিছু নেয়া উচিত নয়।
ক. ধলা পরির মতো দেখতে মহিলাটির নাম কী? ১
খ. “মাফ করবেন, টাকা নিলে আমারে মা বাড়ি থাইকা বাইর কইরা দিব” ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকে রিকশাচালকের সঙ্গে ‘তোলপাড়’ গল্পের কোন চরিত্রটির সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়? নিরূপণ কর। ৩
ঘ. ‘মানুষের উপকারের বিনিময়ে কিছু নেয়া উচিত নয়’ ‘তোলপাড়’ গল্পের আলোকে রিকশাচালক আবিদের উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর। ৪

ক ধলা পরির মতো দেখতে মহিলাটির নাম মিসেস রহমান।
খ মায়ের নৈতিকতাকে ভয় ও সম্মান দেখিয়ে সাবু প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছে।
সাবু তাদের গ্রামে আসা মিসেস রহমানের উদ্দেশ্যে কথাটি বলেছে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী সারা শহরে হামলা করে। নির্যাতিত মানুষ শহর ছেড়ে পালাতে থাকে। তেমনি কিছু পলায়নপর মানুষরা সাবুদের গ্রামে আসে। সাবুরা মুড়ি ভেজে তাদের খাওয়ায়। এদের একজন মিসেস রহমান। যিনি পানি পানের প্রতিদানস্বরূপ সাবুকে পাঁচটি টাকা দিয়েছিলেন। সাবু টাকা না নিয়ে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিল।
গ উদ্দীপকে রিকশাচালকের সঙ্গে ‘তোলপাড়’ গল্পের সাবুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে আবিদ রিকশাচালক হয়েও একজন বৃদ্ধ লোকের ব্যাগ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে। সে ব্যাগ ফেলে যাওয়া বৃদ্ধ লোকটির ব্যাগের মধ্যে ফোন নম্বর খুঁজে পেয়ে তাকে ফোন করে এবং ব্যাগটি ফিরিয়ে দেয়। সেই ভদ্রলোকটি তাকে ১০০ টাকা দিতে চাইলে সে দরিদ্র হওয়া সত্তে¡ও সেই টাকা নেয় না এবং বলে মানুষের উপকারের বিনিময়ে কিছু নেয়া উচিত নয়। ঠিক একইভাবে ‘তোলপাড়’ গল্পের সাবুও মিসেস রহমানকে পানি পান করিয়ে উপকার করে তার বিনিময়ে মিসেস রহমান তাকে ৫ টাকা বখশিশ দিতে চাইলে সাবু তা ফিরিয়ে দেয়।
রিকশাচালক আবিদ ও সাবু দুজনই নিঃস্বার্থভাবে মানুষের উপকার করে। তাই বলা যায়, শহর থেকে আসা উদ্দীপকের রিকশাচালক ও ‘তোলপাড়’ গল্পের সাবুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে একইরূপ সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
ঘ ‘মানুষের উপকারের বিনিময়ে কিছু নেয়া উচিত নয়’ রিকশাচালক আবিদের এ উক্তিটির মাধ্যমে তার অপূর্ব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যা ‘তোলপাড়’ গল্পে আমরা সাবুর মধ্যেও লক্ষ করি।
‘তোলপাড়’ গল্পে সাবু মিসেস রহমান নামক একজন প্রৌঢ় নারীকে পথিমধ্যে পানি পান করালে তিনি খুশি হয়ে সাবুকে পাঁচ টাকা বখশিশ দিতে চান। আর সাবু তা নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বলে যে তার মা বলেছে, ‘বিপদে পইড়া মানুষ বাড়ি আইলে কিছু লওয়া উচিত না।’ যার কারণে সে বখশিশ ফিরিয়ে দিয়েছে।
উদ্দীপকে রিকশাচালক আবিদ। তার রিকশায় একজন বৃদ্ধ লোকের ব্যাগ রয়ে গেলে সে তাকে ওই ব্যাগটি ফিরিয়ে দেয়। ব্যাগটি ফিরে পেয়ে ভদ্রলোকটি আবিদকে কিছু টাকা বখশিশ দিতে চাইলে আবিদ তা নিতে অস্বীকার করে। মানুষকে সাহায্য করা প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। সে টাকাটি না নিয়ে বৃদ্ধ লোকটিকে বলল, মানুষের উপকারের বিনিময়ে কিছু নেয়া উচিত নয়।
রিকশাওয়ালা আদিম ও সাবু একেবারে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের উপকারে এসেছে। মূলত উপকারের বিনিময়ে কোনো কিছু প্রত্যাশা করলে উপকারের যথার্থতা রক্ষিত হয় না। এতে মনুষ্যত্ববোধের বিকাশ ঘটে না। কারণ বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো মানুষের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। তাই বলা যায় মানুষের উপকারের বিনিময়ে কিছু নেয়া উচিত নয় উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রশ্ন- ৪ ল্ফল্ফ
১৯৭১ সালের কথা। সোহানের বয়স তখন ১৮। দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। পাকবাহিনী গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। অবাধে হত্যা করছে অগণিত নারী-পুরুষ। মানুষ গ্রাম ছেড়ে পালাতে শুরু করেছে। এ দৃশ্য দেখে সোহান আর সহ্য করতে পারল না। তার মনের মধ্যেও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রতি ঘৃণা জন্মায়। সেও যুদ্ধে যাওয়ার জন্য মন স্থির করল। যাওয়ার সময় মাকে বলল, “আমি আমার বাংলাকে ভালোবাসি মা”।
ক. শহর থেকে আসা মানুষের জন্য জৈতুন বিবি কী ভেজে দিয়েছিল? ১
খ. সাবুর শরীর থরথর করে কাঁপছে কেন? ২
গ. সোহানের মনের অবস্থার সঙ্গে কার মনের অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে- বর্ণনা কর। ৩
ঘ.“উদ্দীপক ও ‘তোলপাড়’ গল্পে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার সার্থক প্রকাশ ঘটেছে” মন্তব্যটি যাচাই কর। ৪

ক শহর থেকে আসা মানুষের জন্য জৈতুন বিবি মুড়ি ভেজে দিয়েছিল।
খ ঢাকা শহরে পাঞ্জাবিরা গুলি করে মানুষ মারছে সে কথা মাকে বলতে গিয়ে সাবুর শরীর থরথর করে কাঁপতে থাকে।
শহর ছেড়ে পালিয়ে আসা মানুষের কাছে সাবু শুনতে পায় পাঞ্জাবি মিলিটারিরা নিরস্ত্র বাঙালিদের গুলি করে মারছে। সেই খবর সাবু মাকে দেয়ার জন্য দৌড়ে আসে। মা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখে সাবু কাঁপছে। তাকে খুব উত্তেজিত দেখাচ্ছে। মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। কারণ হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে তার শরীর থরথর করে কাঁপতে থাকে।
গ উদ্দীপকের সোহানের মনের অবস্থার সাথে ‘তোলপাড়’ গল্পের সাবুর মনের অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে। তারা দুজনই স্বদেশপ্রেমে উৎসাহী হয়ে মুক্তিযুদ্ধে যেতে চেয়েছে।
‘তোলপাড়’ গল্পে সাবুর মনের মধ্যে এক রকম যন্ত্রণা বিরাজ করছে। কেননা সে পাকিস্তানিদের বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতার কথা শুনেছে। নিরস্ত্র ও নিরীহ হাজার হাজার মানুষকে তারা গুলি করে মেরেছে। সবাই তাদের ভয়ে শহর ছেড়ে গ্রামে পালাচ্ছে।
আলোচ্য উদ্দীপকে সোহান পাকিস্তানিদের নিষ্ঠুরতা দেখে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য মন স্থির করেছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে মানুষকে হত্যা করছে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে, তাই সোহানের মনের মধ্যে একটা অশান্তি কাজ করছে। সে মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে দেশকে স্বাধীন করে ফিরে আসবে বলে মাকে কথা দিয়েছে। এ অবস্থা দেখে পাকিস্তানিদের অত্যাচারের মোকাবিলা করার জন্য সাবুর মন চঞ্চল হয়ে ওঠে। সোহান ও সাবু দুজনের মনের মধ্যেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও দেশপ্রেমের একটি চিরন্তন রূপ প্রকাশিত হয়েছে। পাঠ্যপুস্তক এবং উদ্দীপকের প্রেক্ষিতে যা সাদৃশ্যপূর্ণ মনে করা যায়।
ঘ “উদ্দীপক ও ‘তোলপাড়’ গল্পে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার সার্থক প্রকাশ ঘটেছে” মন্তব্যটি যথার্থ।
পাকিস্তানি সৈন্যরা বাঙালির ওপর হায়েনার মতো নিষ্ঠুর আচরণ করেছে মুক্তিযুদ্ধের সময়। তারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা ও অমানবিক নির্যাতন করে পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত মানবতার কাছে তাদের হার মানতে হয়েছে।
আলোচ্য উদ্দীপক ও ‘তোলপাড়’ গল্পে মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার চিত্র ফুটে উঠেছে। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি হানাদাররা ঘুমন্ত, নিরস্ত্র, নিরীহ বাঙালিদের ওপর হিংস্র পশুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। শহর ও গ্রামের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে। যাকেই জীবন্ত পেয়েছে তাকেই হত্যা করেছে। নারী ও শিশুদের ওপর চালিয়েছে অমানবিক নির্যাতন; যা মধ্যযুগের নির্যাতনকেও হার মানায়। তাদের নির্মম নির্যাতনে মানুষ নিজের আশ্রয় থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের হাত থেকে ছোটবড়, বৃদ্ধ-শিশু কেউ রক্ষা পায়নি। তাদের অত্যাচার, অবিচার ছিল মানুষের জন্য চরম লজ্জার। আর এ বিষয়ই উদ্দীপক ও ‘তোলপাড়’ গল্পে যথার্থভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
 অনুশীলনের জন্য সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক (উত্তরসংকেতসহ)
প্রশ্ন- ৫ ল্ফল্ফ মহানুভবতা ও পরোপকারিতা

হাসিমপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা মেহেরুন্নেসা। তার এলাকায় একবার মহামারী দেখা দেয়। মহামারীর ভয়ে অনেক লোক গ্রাম থেকে পালিয়ে যায়। মেহেরুন্নেসা ও তার পুত্র বাবলু অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসে ও তাদের সেবা করে। তারা দুজনই মহামারীতে আক্রান্ত অসুস্থ লোকদের চিকিৎসা ও সেবার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলে।
ক. জৈতুন বিবির ছেলের নাম কী? ১
খ. ‘ভিড় নয় স্রোত’ কোন কারণে এ কথা বলা হয়েছে? ২
গ. হাসিমপুর গ্রামের মেহেরুন্নেসার সঙ্গে ‘তোলপাড়’ গল্পের কার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয় বর্ণনা কর। ৩
ঘ. ‘মেহেরুন্নেসা ও তার ছেলের কর্মকাণ্ডই ‘তোলপাড়’ গল্পের প্রতিচ্ছবি’ Ñ মন্তব্যটির ওপর তোমার মতামত ব্যক্ত কর। ৪

ক জৈতুন বিবির ছেলের নাম সাবু।
খ প্রাণ বাঁচাতে শহর ছেড়ে আসা হাজার হাজার মানুষের ভিড়কে লেখক স্রোত বলে অভিহিত করেছেন।
১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর হাজার হাজার মানুষ শহর ছেড়ে চলে আসতে থাকে। নারী, শিশু, বৃদ্ধ নির্বিশেষে সবাই-গণ্যমান্য ব্যক্তি, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত প্রায় সব বয়সের সব শ্রেণির মানুষই একযোগে আসতে থাকে। তাদেরই সৃষ্ট ভিড়কে লেখক জনগণের স্রোত তথা স্রোত হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ঢ-পষঁংরাব লিংক : প্রয়োগ (গ) ও উচ্চতর দক্ষতার (ঘ) প্রশ্নের উত্তরের জন্য অনুরূপ যে প্রশ্নের উত্তর জানা থাকতে হবে-
গ ‘তোলপড়’ গল্পের সাবুর সঙ্গে মেহেরন্নেছার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলতে হবে।
ঘ সাবু পলায়নপর পরিশ্রান্ত মানুষের সেবা করে যে উদায় মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে- ঠিক তেমনি উদ্দীপকের মেহেরুন্নেছার চরিত্রের সহানুভবতার দিকটি ফুটিয়ে তুলতে হবে।
প্রশ্ন- ৬ ল্ফল্ফ
নদীর ধারে ছোট একটি গ্রাম নাম রূপনগর। কফিল উদ্দিন ছেলেমেয়ে নিয়ে ঐ গ্রামে সুখে-শান্তিতে বাস করত। তার ছোট ছেলের নাম শিশির। শিশিরের বয়স যখন আট বছর, তখন তার মা ও বড় বোনকে পাকিস্তানি বাহিনী জোর করে তুলে নিয়ে যায়। বাবাকে নির্যাতন করে ফেলে রাখে। এই ঘটনা শিশির নিজ চোখে দেখেছে। তারপর থেকেই সে পাকিস্তানিদের ঘৃণা করে।
ক. ‘তোলপাড়’ গল্পটির রচয়িতা কে? ১
খ. ‘একদম পিলপিল মানুষের সারি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ২
গ. উদ্দীপকে ‘তোলপাড়’ রচনার ‘সাবু’ চরিত্রের প্রকাশিত দিকটি ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকটি ‘তোলপাড়’ সামগ্রিক ভাব ধারণ করে কি? মতের পক্ষে যুক্তি দাও। ৪

ক ‘তোলপাড়’ গল্পটির রচয়িতা শওকত ওসমান।
খ পঁচিশে মার্চের রাতের ঘটনার পর শহর ছেড়ে আসা মানুষদের ভিড়কে পিলপিল পিঁপড়ের সারি বলা হয়েছে।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর হাজার হাজার মানুষ শহর ছেড়ে চলে আসে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। তারা দেশের বিভিন্ন গ্রামে বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় গ্রহণ করে। এরকমই শহর ছেড়ে আসা মানুষদের সারিকে পিলপিল পিঁপড়ের সারির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
ঢ-পষঁংরাব লিংক : প্রয়োগ (গ) ও উচ্চতর দক্ষতার (ঘ) প্রশ্নের উত্তরের জন্য অনুরূপ যে প্রশ্নের উত্তর জানা থাকতে হবে
গ ‘তোলপাড়’ গল্পের সাবুর হানাদার বাহিনীর প্রতি সৃষ্ট ঘৃণার সাথে উদ্দীপকের শিশিরের ঘৃণার তুলনামূলক আলোচনা করতে হবে।
ঘ উদ্দীপকটি ‘তোলপাড়’ গল্পের সামগ্রিক ভাব ধারণ করে না। এ বিষয়টি ফুটিয়ে তুলতে হবে। কারণ উদ্দীপকে শুধু শিশিরের ঘৃণার বিষয়টি উঠে এসেছে।
প্রশ্ন- ৭ ল্ফল্ফ

ক. শওকত ওসমান কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? ১
খ. ‘অসীম আক্রোশে তার রক্ত টগবগ করে ফুটতে থাকে’-কেন? ২
গ. উদ্দীপকের ছবিটি ‘তোলপাড়’ গল্পের কীসের প্রতীক? নিরূপণ কর। ৩
ঘ. উপরের ছবির প্রেক্ষাপটই ‘তোলপাড়’ গল্পের মূল বিষয় মন্তব্যটি যাচাই কর। ৪

ক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
খ পাক-বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের চিত্র দেখে তাদের ওপর ক্ষোভ আর ঘৃণার আক্রোশে সাবুর রক্ত টগবগ করে ফুটতে থাকে।
মানুষের প্রতি হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুরতা অনুভব করে সাবু ক্ষুব্ধ হয়। শহর ত্যাগী মানুষের অসহায়ত্ব ও কষ্ট দেখে তার মন বেদনায় সিক্ত হয়ে ওঠে। পাকিস্তানিদের প্রতি তার ঘৃণা বেড়ে যায়।
ঢ-পষঁংরাব লিংক : প্রয়োগ (গ) ও উচ্চতর দক্ষতার (ঘ) প্রশ্নের উত্তরের জন্য অনুরূপ যে প্রশ্নের উত্তর জানা থাকতে হবে-
গ উদ্দীপকের ছবিটি হানাদার বাহিনীকে রুখে দেওয়ার প্রতীক এ বিষয়টি আলোচনা করতে হবে।
ঘ উদ্দীপকে তুলে ধরা ছবিটির মধ্যেই ‘তোলপাড়’ গল্পের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়টি ফুটে উঠেছে সে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে।

জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

 জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ শওকত ওসমান কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর : শওকত ওসমান ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন \ ২ \ ‘ওটন সাহেবের বাংলো’- গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
উত্তর : ‘ওটন সাহেবের বাংলো’ গ্রন্থটি শওকত ওসমান রচনা করেছেন।
প্রশ্ন \ ৩ \ কে ‘মা মা’ চিৎকার দিতে দিতে ঘরে ঢুকেছিল?
উত্তর : সাবু ‘মা মা’ চিৎকার দিতে দিতে ঘরে ঢুকেছিল।
প্রশ্ন \ ৪ \ সাবুর মায়ের নাম কী?
উত্তর : সাবুর মায়ের নাম জৈতুন বিবি।
প্রশ্ন \ ৫ \ ঢাকা শহরে কারা গুলি করে মানুষ মারছে?
উত্তর : ঢাকা শহরে মিলিটারিরা গুলি করে মানুষ মারছে।
প্রশ্ন \ ৬ \ প্রৌঢ়া মহিলার নাম কী?
উত্তর : প্রৌঢ়া মহিলার নাম মিসেস রহমান।
প্রশ্ন \ ৭ \ বুড়োর কয় ছেলেকে তার সামনেই পাঞ্জাবিরা গুলি করে মেরেছে?
উত্তর : বুড়োর তিন ছেলেকে তার সামনেই পাঞ্জাবিরা গুলি করে মেরেছে।
প্রশ্ন \ ৮ \ বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য সাবুর মা কী ভেজে দেয়?
উত্তর : বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য সাবুর মা মুড়ি ভেজে দেয়।
প্রশ্ন \ ৯ \ ‘জয়িফ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর : ‘জয়িফ’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে দুর্বল বা বৃদ্ধ।
প্রশ্ন \ ১০ \ পাঞ্জাবি মিলিটারি কখন বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে?
উত্তর : পাঞ্জাবি মিলিটারি ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের রাতে বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
প্রশ্ন \ ১১ \ কল্পনায় সাবু তার সামনে কী দেখতে পায়?
উত্তর : কল্পনায় সাবু তার সামনে খাকি উর্দি পরা কতকগুলো সেপাই দেখতে পায়।
প্রশ্ন \ ১২ \ মিলিটারিদের মোকাবিলা করার জন্য কার বুকে তোলপাড় শুরু হয়?
উত্তর : মিলিটারিদের মোকাবিলা করার জন্য সাবুর বুকে তোলপাড় শুরু হয়।
প্রশ্ন \ ১৩ \ সাবু কার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়েছিল?
উত্তর : সাবু এক প্রৌঢ় নারীর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়েছিল।
প্রশ্ন \ ১৪ \ প্রৌঢ় নারীকে সাবুর কী মনে হয়েছিল?
উত্তর : প্রৌঢ় নারীকে সাবুর ধলা পরি মনে হয়েছিল।
প্রশ্ন \ ১৫ \ কী নিলে সাবুর মা রাগ করবেন?
উত্তর : পাঁচ টাকা বখশিশ নিলে সাবুর মা রাগ করবেন।
প্রশ্ন \ ১৬ \ লালমাটিয়া কার বাড়ি?
উত্তর : লালমাটিয়া মিসেস রহমানের বাড়ি।
প্রশ্ন \ ১৭ \ কার রক্ত আক্রোশে টগবগ করে ফুটতে থাকে?
উত্তর : সাবুর রক্ত আক্রোশে টগবগ করে ফুটতে থাকে।
প্রশ্ন \ ১৮ \ কোন সড়ক দিয়ে ঢাকা থেকে মানুষ গ্রামে আসতে শুরু করেছিল?
উত্তর : জেলা বোর্ডের সড়ক দিয়ে ঢাকা থেকে মানুষ গ্রামে আসতে শুরু করেছিল।
প্রশ্ন \ ১৯ \ প্রৌঢ়া পানি খেয়ে সাবুকে কত টাকা দিয়েছিল?
উত্তর : প্রৌঢ় পানি খেয়ে সাবুকে পাঁচ টাকা দিয়েছিল।
 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ সাবু মা মা চিৎকার দিতে দিতে ঘরে ঢুকল কেন?
উত্তর : ঢাকা শহরে গুলি করে অগণিত মানুষ মারার কথা জানানোর জন্য সাবু মা মা চিৎকার দিতে দিতে ঘরে ঢুকল।
ঢাকা শহরে পাঞ্জাবি মিলিটারিরা হাজার হাজার বাঙালিকে গুলি করে মারছে। তাই বিপদগ্রস্ত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে শহর ছেড়ে গ্রামের দিকে চলে আসছে। সাবু তার মাকে এ ঘটনাটি বলার জন্য ব্যস্ত হয়ে মা মা চিৎকার দিতে দিতে ঘরে ঢুকল।
প্রশ্ন \ ২ \ গাবতলি গ্রামের মানুষের কাছে ঢাকা শহরের মানুষ হত্যার ঘটনাটি পরদিনই পৌঁছার কারণ কী?
উত্তর : জওয়ানদের অর্থাৎ তরুণদের জন্য ঢাকা শহরে মানুষ হত্যার ঘটনাটি পরদিনই পৌঁছে যায় গাবতলি গ্রামের মানুষের কাছে।
ঢাকা শহর থেকে গাবতলি গ্রাম পঞ্চাশ মাইল দূরে। যাতায়াতের সুবিধাও তেমন ভালো নেই। তাই সব খবরই দুদিন পরে এসে পৌঁছায়। কিন্তু পাঞ্জাবি মিলিটারি কর্তৃক হাজার হাজার মানুষ হত্যার ঘটনাটি পরদিনই পৌঁছে যায় গাবতলি গ্রামের মানুষের কাছে। কারণ হত্যাযজ্ঞ শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই জওয়ানরা সোজা হেঁটে হেঁটে বাড়ি পৌঁছে যায়। তারাই মানুষ হত্যার ঘটনাটি সবাইকে জানিয়ে দেয়।
প্রশ্ন \ ৩ \ “জীবন্ত যাকে পাচ্ছে তাকেই হত্যা করছে।” ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ‘জীবন্ত যাকে পাচ্ছে, তাকেই হত্যা করছে।’ উক্তিটি দ্বারা ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকা শহরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পৈশাচিকতাকে বোঝানো হয়েছে।
পশ্চিম পাকিস্তানি মিলিটারিরা রাতের আঁধারে ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর হামলা চালায়। ঢাকার অসংখ্য মানুষকে গুলি করে, বেয়নেট চার্জ করে এবং আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে। বাছবিচার ছাড়া তারা নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করতে পারে। আলোচিত প্রম্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন \ ৪ \ সাবু প্রৌঢ় নারীকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়েছিল কেন?
উত্তর : প্রৌঢ় নারীটির খুব ফরসা চেহারা দেখে সাবু অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়েছিল।
প্রৌঢ় নারীটিকে দেখে সাবুর মনে হয় সে যেন ধলা পরি। তার জীবনে হাঁটার অভ্যাস নেই। অথচ পাঞ্জাবি সেনাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে পালাতে গিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তিনি ক্লান্ত, যা তার মুখ দেখে বোঝা যায়। তাই সাবু বৃদ্ধার এ করুণ অবস্থা দেখে অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়েছিল।
প্রশ্ন \ ৫ \ সাবু পলায়নরতদের মুড়ি এনে খাওয়ায় কেন?
উত্তর : পলায়নরতদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য সাবু মুড়ি এনে খাওয়ায়।
পাঞ্জাবি মিলিটারিদের হত্যাযজ্ঞের কবল থেকে আত্মরক্ষার জন্য শহর ছেড়ে সব মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যাত্রা শুরু করে। তাদের মাথার উপরে প্রচণ্ড রোদের দাবদাহ। মানুষের ভিড়ে নিশ্বাসে নিশ্বাসে তাপ বাড়ে। হাঁটার জন্য তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ক্ষুধার জ্বালা ও পিপাসায় তারা সবাই কাতর। তাই সাবু তাদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য চাঙারি বোঝাই করে মুড়ি এনে খাওয়ায়।
প্রশ্ন \ ৬ \ সাবুর বুকে তোলপাড় শুরু হওয়ার কারণ দর্শাও।
উত্তর : পাকিস্তানি মিলিটারির অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সাবুর বুকে তোলপাড় শুরু হয়।
সাবু যদিও কখনো ঢাকা শহরে যায়নি বা ঢাকায় মিলিটারির তাণ্ডব দেখেনি, কিন্তু পালিয়ে আসা মানুষের দুরবস্থা দেখে তা কল্পনা করতে পারে এবং শত্রæদের প্রতি প্রচণ্ড রোষ অনুভব করে। এসব ঘৃণ্য পশুদের মোকাবিলা করার জন্যই সাবুর মনে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়।
প্রশ্ন \ ৭ \ গাবতলি গ্রামের লোকজন মিলিটারিদের জুলুমের খবর জানবার আগ্রহ দেখায় না কেন?
উত্তর : সম্ভ্রান্ত একটি পরিবারের বিপর্যস্ত অবস্থা দেখে গাবতলি গ্রামের লোকজন মিলিটারিদের জুলুমের খবর জানতে আগ্রহী হয় না।
২৫শে মার্চ কালরাতের পর এক সম্ভ্রান্ত পরিবার গাবতলি গ্রামে আশ্রয় নেয় কারণ তাদের সঙ্গে ছিল সত্তর বছরের একজন বুড়ো ও ছোট ছোট ছেলেমেয়ে। বুড়োর তিন জন মেয়ের সহায়তায় চলতে হয়, কারণ সে ঠিকমতো হাঁটতে পারে না। পরে শোনা যায় যে, সঙ্গে থাকা তিন জন মেয়ে তার বিধবা পুত্রবধূ। পাঞ্জাবি মিলিটারিরা তার ছেলেদের চোখের সামনে গুলি করে মেরেছে। এ কথা শুনে গাবতলির কৌত‚হলী লোকজন মিলিটারির জুলুমের খবর শোনার আগ্রহের পরিবর্তে তাদের উপকারের জন্য উঠেপড়ে লেগে যায়।
প্রশ্ন \ ৮ \ ‘ছেলে আর কোথায় পাব’-এ বাক্যটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : উদ্ধৃত বাক্যটিতে তিন সন্তানকে হারিয়ে বৃদ্ধের মনের যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে হানাদারদের নির্যাতনে শহিদ হয় ‘তোলপাড়’ গল্পের বুড়োর তিন ছেলে। তাই শহর থেকে পলায়নরত মানুষের সঙ্গে বিধবা পুত্রবধূ ও নাতিনাতনিদের নিয়ে পালিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু রোদ-গরমে, নিজের শারীরিক অক্ষমতায় নাজেহাল হয়ে পড়েন। গাবতলি গ্রামের মানুষ তাদের সাহায্য করলে বুড়ো তাদেরকেই তার ছেলে মনে করে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন। পাশাপাশি নিজ ছেলেদের হারানোর জন্য আক্ষেপ করেন। উদ্ধৃত বাক্যে তার সে হাহাকারই ধ্বনিত হয়েছে।
প্রশ্ন \ ৯ \ বুড়োর বুকে দীর্ঘশ্বাস জাগে কেন?
উত্তর : বুড়োর স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ায় তার বুকে দীর্ঘশ্বাস জাগে।
১৯৪৭ সালে ইসলামের নামে মুসলমানদের জন্য পৃথক ভ‚মির ব্যবস্থা করতে দেশবিভাগ করা হয়, কিন্তু দেশ বিভক্ত হওয়ার পর মুসলমানদের
যে মঙ্গল হওয়ার কথা ছিল তা আর হয় না। বরং ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত ২৪ বছর ধরে চলে শোষণ; যার চরম পর্যায়ে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকার এদেশের নিরীহ বাঙালিদের নির্মমভাবে হত্যা করে। ‘তোলপাড়’ গল্পের বুড়োর ছেলেকেও পাক হানাদাররা গুলি করে মারে। তাই ধার্মিক মুসলমান বুড়ো বুঝতে পারেন, কত বড় বিশ্বাসঘাতকতা করে পাকিস্তানিরা। কারণ পাকিস্তানিদের শাসনে এ দেশের মুসলমানদের মঙ্গলতো হয়নিই, বৃদ্ধের ওপর নির্মমভাবে বাঙালিদের হত্যা করা হচ্ছে। এ কারণে তার বুকে দীর্ঘশ্বাস জাগে।
প্রশ্ন \ ১০ \ মিসেস রহমান সাবুকে পাঁচ টাকা দিতে চাইল কেন?
উত্তর : মিসেস রহমান তেষ্টা মেটাতে পেরে সাবুর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাকে পাঁচ টাকা বখশিশ দিতে চাইলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাঞ্জাবি হানাদারদের অত্যাচারে ঢাকা শহর থেকে আগত হাজার হাজার বিপদগ্রস্ত মানুষের মধ্যে মিসেস রহমানও একজন। তিনি ঢাকা থেকে পায়ে হেঁটে গাবতলি গ্রামে এসে ক্লান্ত হয়ে সাবুর সাহায্যে পানি পান করে তেষ্টা মেটান।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply