নবম – দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় প্রথম অধ্যায় পূর্ব বাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭- ১৯৭০)

প্রথম অধ্যায় পূর্ব বাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭- ১৯৭০)
অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে জেনে রাখি

 ভাষা আন্দোলন : ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বাধিকার আন্দোলন। পরবর্তীকালে এই আন্দোলন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্ম দেয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের প্রথম পদক্ষেপ ছিল এই আন্দোলন।
 শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব : ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ভাষা আন্দোলনের পরের বছর থেকে প্রতিবছর ২১ ফেব্রæয়ারি দিনটি বাঙালির শহিদ দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয়ে আসছে। ২১-এর প্রভাতফেরি ও প্রভাতফেরির গান বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হয়েছে। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২১ ফেব্রæয়ারি বাঙালি জাতি রক্তের বিনিময়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছিল। বিশ্বের ইতিহাসে অনন্যসাধারণ ঘটনা হিসেবে আমাদের ভাষা ও শহিদ দিবস আজ আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের স্বীকৃতি লাভ করেছে।
 ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের সংবিধান : সংবিধান একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালিত হয়। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে দ্রæত সংবিধান রচনার দাবি ওঠে। কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর অনিচ্ছায় নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তান ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ভারত স্বাধীনতা আইন দ্বারা পরিচালিত হতে থাকে। বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সংবিধান প্রণীত হলেও তা মাত্র দুই বছর স্থায়ী ছিল। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করলে পাকিস্তানে সাংবিধানিক শাসনের অবসান ঘটে।
 ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের সামরিক শাসন ও আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র : ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন। এর কিছু দিনের মধ্যে ২৭ অক্টোবর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে এবং শাসন ও রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেন। তিনি এক অদ্ভুত ও নতুন নির্বাচন কাঠামো প্রবর্তন করেন। তার এই নির্বাচনের মূলভিত্তি ছিল ‘মৌলিক গণতন্ত্র’। মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে এক ধরনের সীমিত গণতন্ত্র। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ জারি করা হয়।
 পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য : ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের লাহোর প্রস্তাব অনুসারে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। কিন্তু লাহোর প্রস্তাবের মূলনীতি অনুযায়ী পূর্ব বাংলা পৃথক রাষ্ট্রের মর্যাদা পায়নি। দীর্ঘ ২৪ বছর পূর্ব বাংলাকে স্বায়ত্তশাসনের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়েছে। এ সময় পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক নীতি অনুসরণ করে। এরই প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলায় স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
 ৬ দফা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ : পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্য ছিল, ৬ দফা দাবি আদায়ের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা। মূলত ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ অবসানের পর পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের চরম অবহেলা, পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি সীমাহীন বৈষম্যের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু সোচ্চার হন। ৬ দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের চ‚ড়ান্ত প্রকাশ। এটি ছিল বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক বা মুক্তির সনদ।
 ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা : আগরতলা মামলাটি দায়ের করা হয় ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলাতে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক হয়। সেখানে ভারতের সহায়তায় সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করা হয়। এজন্য মামলাটির নাম হয় ‘আগরতলা মামলা’। সরকারি নথিতে মামলার নাম হলো ‘রাষ্ট্র’ বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য।
 ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য : ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির পর ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন নতুন রূপ লাভ করে। ২৩ ফেব্রæয়ারির সংবর্ধনা সভায় বঙ্গবন্ধু ১১ দফা দাবির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং ৬ দফা ও ১১ দফা বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ প্রতিশ্রæতি দেন।
ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে গ্রাম ও শহরের কৃষক ও শ্রমিকদের মাঝে শ্রেণি চেতনার উন্মেষ ঘটে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আকাক্সক্ষা বৃদ্ধি পায়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ পরিপূর্ণতা লাভ করে, যাতে বলীয়ান হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে।
 ’৭০ এর নির্বাচনের গুরুত্ব : বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পেছনে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের গুরুত্ব অনেক। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের পর এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে বাঙালি জাতি ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি সর্বক্ষেত্রে যে স্বাতন্ত্র্য দাবি করে আসছিল, ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে বাঙালির সে স্বাতন্ত্র্যবাদের বিজয় ঘটে।

বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর 
১. ভাষা আন্দোলন পূর্ববাংলায় কোন ভাবাদর্শ ছড়িয়ে দেয়?
 বাঙালি জাতীয়তাবাদ খ অসা¤প্রদায়িক মনোভাব
গ দ্বিজাতিতত্ত¡ ঘ স্ব-জাত্যবোধ
নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ২ ও ৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও।
রিফাত প্রতিবছর ২১ ফেব্র“য়ারিতে ঘরে বসে টিভির পর্দায় কার্টুন ছবি দেখে। কিন্তু সে এ বছর ২১ ফেব্র“য়ারিতে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে স্কুলে আসে এবং প্রতিজ্ঞা করে যে, সে প্রতিবছর শহিদ মিনারে ফুল দেবে এবং ইংরেজি অক্ষরে আর বাংলা লিখবে না।
২. প্রতিবছর শহিদ মিনারে ফুলদানের প্রতিজ্ঞা, রিফাতের আচরণে প্রকাশ পেয়েছেÑ
র. ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা
রর. বাহবা পাবার প্রত্যাশা
ররর. শহিদদের স্মৃতি হৃদয়ে লালন করা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৩. রিফাতের এই মানসিক পরিবর্তনের মূলে যে মূল্যবোধ প্রতিফলিত হয়েছে, তা হলোÑ
ক বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা খ অনুকরণ করার মানসিকতা
 নিজ ভাষার প্রতি মমত্ববোধ ঘ ইংরেজি ভাষা লেখার প্রতি অনিহা

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় কত সালে?
উত্তর : ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় ।
প্রশ্ন \ ২ \ কার নেতৃত্বে ‘তমদ্দুন মজলিস’ গঠিত হয়?
উত্তর : আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ‘তমদ্দুন মজলিস’ গঠিত হয় ।
প্রশ্ন \ ৩ \ তমদ্দুন মজলিস কবে গঠিত হয়?
উত্তর : ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয় ।
প্রশ্ন \ ৪ \ সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় কবে?
উত্তর : ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় ।
প্রশ্ন \ ৫ \ কত তারিখে পূর্ববাংলায় সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়?
উত্তর : ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ পূর্ববাংলায় সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়।
প্রশ্ন \ ৬ \ কত সালে বাংলা ভাষা পাকিস্তানের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়?
উত্তর : ১৯৫৬ সালে বাংলা ভাষা পাকিস্তানের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় ।
প্রশ্ন \ ৭ \ ইউনেস্কো কত সালে ২১ ফেব্র“য়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা দেয়?
উত্তর : ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্র“য়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা দেয় ।
প্রশ্ন \ ৮ \ প্রথম শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন কে?
উত্তর : \ প্রথম শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন শফিউরের পিতা ।
প্রশ্ন \ ৯ \ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার এক নম্বর আসামি কে ছিলেন?
উত্তর : আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার এক নম্বর আসামি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
প্রশ্ন \ ১০ \ ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ কত দিন অব্যাহত ছিল?
উত্তর : ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ ১৭ দিন অব্যাহত ছিল ।
প্রশ্ন \ ১১ \ পৃথিবীতে কত হাজার ভাষা রয়েছে?
উত্তর : পৃথিবীতে ৬০০০ -এর বেশি ভাষা রয়েছে।
প্রশ্ন \ ১২ \ ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের ফলে কয়টি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়?
উত্তর : ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের ফলে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
প্রশ্ন \ ১৩ \ ভারতবর্ষ বিভক্তিতে কোন তত্তে¡র ব্যাপক প্রভাব ছিল?
উত্তর : ভারতবর্ষের বিভক্তিতে দ্বিজাতিতত্তে¡র ব্যাপক প্রভাব ছিল।
প্রশ্ন \ ১৪\ কোন আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভাবাদর্শ ছড়িয়ে দেয়?
উত্তর : ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভাবাদর্শ ছড়িয়ে দেয়।
প্রশ্ন \ ১৫\ পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই কী নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়?
উত্তর : পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই এর রাষ্ট্রভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
প্রশ্ন \ ১৬ \ কে মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করেন?
উত্তর : মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করেন।
প্রশ্ন \ ১৭ \ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন কে?
উত্তর : মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
প্রশ্ন \ ১৮ \ চৌধুরী খলীকুজ্জামান কত তারিখে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন?
উত্তর : চৌধুরী খলীকুজ্জামান ১৯৪৭ সালের ১৭ মে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন।
প্রশ্ন \ ১৯ \ ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ পুস্তিকাটি কোন সংগঠন প্রকাশ করে?
উত্তর : ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ পুস্তিকাটি তমদ্দুন মজলিস প্রকাশ করে।
প্রশ্ন \ ২০ \ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত কোথায় গৃহীত হয়?
উত্তর : করাচিতে অনুষ্ঠিত এক শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রশ্ন \ ২১ \ ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সংগ্রাম পরিষদ’ কবে নতুনভাবে গঠিত হয়?
উত্তর : ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সংগ্রাম পরিষদ’ ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে নতুনভাবে গঠিত হয়।
প্রশ্ন \ ২২ \ কখন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবি জানান?
উত্তর : ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্র“য়ারি ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবি জানান।
প্রশ্ন \ ২৩ \ কখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠিত হয়?
উত্তর : ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠিত হয়।
প্রশ্ন \ ২৪ \ ১৯৪৮ সালের কত তারিখে পূর্ববাংলায় সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়?
উত্তর : ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ পূর্ববাংলায় সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়।
প্রশ্ন \ ২৫ \ পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দীন খান কবে সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে ৮ দফা চুক্তি স্বাক্ষর করেন?
উত্তর : পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দীন খান ১৯৪৮ সালে ১৫ মার্চ সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে ৮ দফা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
প্রশ্ন \ ২৬ \ কবে মুহম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন?
উত্তর : ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ মুহম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন।
প্রশ্ন \ ২৭ \ কখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দীন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা করেন?
উত্তর : ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দীন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা করেন।
প্রশ্ন \ ২৮ \ কাকে আহŸায়ক করে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নতুনভাবে গঠিত হয়?
উত্তর : আব্দুল মতিনকে আহŸায়ক করে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নতুনভাবে গঠিত হয়।
প্রশ্ন \ ২৯ \ ১৯৫২ সালের কত তারিখে দেশব্যাপী হরতাল আহŸান করা হয়?
উত্তর : ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারি দেশব্যাপী হরতাল আহŸান করা হয়।
প্রশ্ন \ ৩০ \ ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্র“য়ারি শোক র‌্যালিতে পুলিশের হামলায় মৃত্যুবরণ করেন কে?
উত্তর : ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্র“য়ারি শোক র‌্যালিতে পুলিশের হামলায় শফিউর মৃত্যুবরণ করেন।
প্রশ্ন \ ৩১ \ কত তারিখে প্রথম শহিদ মিনার উদ্বোধন করা হয়?
উত্তর : ১৯৬২ সালের ২৩ ফেব্র“য়ারি প্রথম শহিদ মিনার উদ্বোধন করা হয়।
প্রশ্ন \ ৩২ \ কত তারিখে পুলিশ প্রথম শহিদ মিনারটি ভেঙে ফেলে?
উত্তর : ১৯৫২ সালের ২৪ ফেব্র“য়ারি পুলিশ প্রথম শহিদ মিনারটি ভেঙে ফেলে।
প্রশ্ন \ ৩৩ \ ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্র“য়ারি’ গানটি কে রচনা করেন।
উত্তর : ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্র“য়ারি’ গানটি রচনা করেন আবদুল গাফফার চৌধুরী।
প্রশ্ন \ ৩৪ \ ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ গানটি কে লিখেছেন?
উত্তর : ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ গানটি আব্দুল লতিফ লিখেছেন।
প্রশ্ন \ ৩৫ \ কোন সংস্থা শহিদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়?
উত্তর : জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো শহিদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়।
প্রশ্ন \ ৩৬ \ কত সালে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠিত হয়?
উত্তর : ১৯৪৯ সালে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠিত হয়।
প্রশ্ন \ ৩৭ \ পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর : পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
প্রশ্ন \ ৩৮ \ পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক কে ছিলেন?
উত্তর : পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সামসুল হক।
প্রশ্ন \ ৩৯ \ পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক হন কে?
উত্তর : পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক হন শেখ মুজিবুর রহমান।
প্রশ্ন \ ৪০ \ প্রাদেশিক যুক্তফ্রন্ট সরকার কতদিন ক্ষমতায় ছিল?
উত্তর : প্রাদেশিক যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
প্রশ্ন \ ৪১ \ কত সালে পাকিস্তানে নতুন শাসনতন্ত্র গৃহীত হয়?
উত্তর : ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানে নতুন শাসনতন্ত্র গৃহীত হয়।
প্রশ্ন \ ৪২ \ আওয়ামী লীগ কত সালে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে?
উত্তর : আওয়ামী লীগ ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
প্রশ্ন \ ৪৩ \ কত সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর : ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন \ ৪৪ \ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে জনগণ ২১ দফাকে কী বলে বিবেচনা করে?
উত্তর : প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে জনগণ ২১ দফাকে স্বার্থ রক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে।
প্রশ্ন \ ৪৫ \ পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আসন সংখ্যা ছিল কতটি?
উত্তর : পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আসন সংখ্যা ছিল ২৩৭টি।
প্রশ্ন \ ৪৬ \ পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কতটি আসন লাভ করে?
উত্তর : পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
প্রশ্ন \ ৪৭ \ পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগ কতটি আসন লাভ করে?
উত্তর : পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগ ৯টি আসন লাভ করে।
প্রশ্ন \ ৪৮ \ যুক্তফ্রন্টের কোন নেতা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন?
উত্তর : যুক্তফ্রন্টের কৃষক-প্রজা পার্টির নেতা এ. কে. ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন \ ৪৯ \ পাকিস্তানের গভর্নর কবে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে?
উত্তর : পাকিস্তানের গভর্নর ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে।
প্রশ্ন \ ৫০ \ কত সালে পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করা হয়?
উত্তর : ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করা হয়।
প্রশ্ন \ ৫১ \ সামরিক শাসনের ফলে পাকিস্তানে কত সালের সংবিধান বাতিল করা হয়?
উত্তর : সামরিক শাসনের ফলে পাকিস্তানে ১৯৫৬ সালে গৃহীত সংবিধান বাতিল করা হয়।
প্রশ্ন \ ৫২ \ আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর কাকে উৎখাত করে ক্ষমতায় বসেন?
উত্তর : আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মীর্জাকে উৎখাত করে ক্ষমতায় বসেন।
প্রশ্ন \ ৫৩ \ সামরিক শাসনকে দীর্ঘায়িত করার জন্য আইয়ুব খান কোন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন?
উত্তর : সামরিক শাসনকে দীর্ঘায়িত করার জন্য আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থা চালু করেছিলেন।
প্রশ্ন \ ৫৪ \ আইয়ুব খান কত সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন?
উত্তর : আইয়ুব খান ১৯৬৫ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।
প্রশ্ন \ ৫৫ \ ১৯৬৫ সালের কত তারিখে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল?
উত্তর : ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।
প্রশ্ন \ ৫৬ \ ৬ দফায় কোন ধরনের সরকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল?
উত্তর: ৬ দফায় সংসদীয় পদ্ধতির সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছিল।

 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ বাঙালির জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন কী ভ‚মিকা রাখে?
উত্তর : বাঙালির জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে। পাকিস্তানের প্রতি আগে যে মোহ ছিল তা দ্রুত কেটে যেতে থাকে। নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক ও গুরুত্ব পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে। ভাষাকেন্দ্রিক এই ঐক্যই জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে।
প্রশ্ন \ ২ \ আওয়ামী মুসলিম লীগের গঠন সম্পর্কে লেখ।
উত্তর : মুসলিম লীগের দ্বিজাতিতাত্তি¡ক ধ্যানধারণা থেকে বের হয়ে প্রগতিশীল বাঙালি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন এক সম্মেলনের মাধ্যমে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠন করে। দলটির প্রথম সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক এবং যুগ্ম সম্পাদক হন শেখ মুজিবুর রহমান।
প্রশ্ন \ ৩ \ পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে কী বৈষম্য ছিল? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য ছিল ব্যাপক। পাকিস্তান সৃষ্টির আগে পূর্ববাংলা পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় এগিয়ে ছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পর শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দে পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের দ্বিগুণের বেশি লাভ করতে থাকে। ফলে পশ্চিম পাকিস্তানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার জন্য নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
প্রশ্ন \ ৪ \ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার ৫টি দফা উলে­খ কর।
উত্তর : ৪টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার মধ্যে ৫ দফা উল্লেখ করা হলো :
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে।
২. বাংলাকে শিক্ষার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হবে।
৩. বাংলা ভাষার শহিদদের স্মরণে শহিদ মিনার নির্মাণ করা হবে।
৪. ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব অনুযায়ী পূর্ববাংলার পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হবে।
৫. পরপর তিনটি উপনির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট পরাজিত হলে মন্ত্রিসভা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবে।
প্রশ্ন \ ৫ \ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ সম্পর্কে কী জান? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধ ১৭ দিন ধরে অব্যাহত ছিল। তখন পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণরূপে অরক্ষিত ছিল। বিষয়টি পূর্ববাংলার জনগণের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও বৈষম্যমূলক মনে হয়েছিল। ‘ইসলাম বিপন্ন হওয়া’, রবীন্দ্র সংগীতকে ‘হিন্দু সংস্কৃতি’, নজরুল ইসলামের গানে ‘হিন্দুয়ানি’র অভিযোগ তুলে এসব বাদ দেওয়ার যুগপৎ চেষ্টা করা হয়। ফলে পূর্ববাংলার জনগণ নিজেদের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করে। বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হতে থাকে।
প্রশ্ন \ ৬ \ পশ্চিম পাকিস্তানি সরকার উর্দুকে কেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল?
উত্তর : পশ্চিম পাকিস্তানিরা জানত কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার সংস্কৃতিকে ধ্বংস করাই যথেষ্ট। উর্দু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হলে সব ক্ষেত্রে উর্দু ভাষাভাষী লোকরাই বেশি প্রাধান্য পাবে। এসব সাত-পাঁচ ভেবে এবং নিজেদের লোভী চিন্তা সফল করার জন্য পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল।
প্রশ্ন \ ৭ \ ৬ দফা দাবির প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ৬ দফা উপস্থাপনের পর শেখ মুজিবকে নানা মামলায় জড়ানো হতে থাকে। তিনি ৬ দফা প্রচারের জন্য পূর্ববাংলার বিভিন্ন জায়গায় জনসভায় যোগদান করেন। তাকে প্রায় সব স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু তিনি তাতে মোটেও বিচলিত বোধ করেননি। নির্ভীক শেখ মুজিবকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালে ‘আগরতলা’ মামলার এক নম্বর আসামি করে। শেখ মুজিবসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা রুজু করা হয়। রাষ্ট্রদ্রোহী এই মামলার বিরুদ্ধে প্রথমে ছাত্রসমাজ ১১ দফা দাবিনামা দিয়ে প্রতিবাদ জানায়। অবশেষে ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান ঘটে।

 

 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন- ১  পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য

সারণি-ক
তুলনার বিষয় পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তান
সেনা কর্মকর্তা ৯৫% ৫%
সাধারণ সৈনিক ৯৬% ৪%
নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ৮১% ১৯%
নৌবাহিনীর অন্যান্য পদ ৯১% ৯%
সারণি-খ
সাল পশ্চিম পাকিস্তান পায় পূর্ব পাকিস্তান পায়
১৯৫৫Ñ১৯৬০ সাল পর্যন্ত ৫০০ কোটি টাকা ১১৩ কোটি টাকা
১৯৬০Ñ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত ২২,২৩০ মিলিয়ন টাকা ৬৪৮০ মিলিয়ন টাকা

ক. পাকিস্তানি শাসন আমলে বাঙালিদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলনের নাম কী ছিল?
খ. ছয় দফা আন্দোলনকে কেন বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়?
গ. প্রদত্ত সারণি-ক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর যে বৈষম্য ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. সারণি-খ এর প্রদর্শিত বৈষম্যের প্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন কর।

ক পাকিস্তানি শাসন আমলে বাঙালিদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলনের নাম ছিল ভাষা আন্দোলন।
খ ৬ দফা পূর্ববাংলার জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরে। এ কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। তাই ৬ দফা আন্দোলনকে পূর্ববাংলা বা বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
গ প্রদত্ত সারণি ‘ক’-এ পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর যে বৈষম্য ফুটে উঠেছে তা হলো প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য বিরাজ করছিল। মোট অফিসারদের মাত্র ৫% সেনা কর্মকর্তা ছিল বাঙালি; যেখানে ৯৫% ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি। আবার, সাধারণ সৈনিকের ক্ষেত্রে ৯৬% ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি আর পূর্ব পাকিস্তানিরা ছিল মাত্র ৪%। নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ৮১% ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি, অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তানি অর্থাৎ বাঙালিরা ছিল মাত্র ১৯%। আবার নৌবাহিনীর অন্যান্য পদে মাত্র ৯% ছিল পূর্ব পাকিস্তানি যেখানে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ছিল ৯১%। এ বিষয়গুলোই প্রদত্ত সারণি ‘ক’-এ উলে­খ করা হয়েছে।
ঘ সারণি ‘খ’-এ পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ববাংলার চেয়ে পশ্চিম পাকিস্তান অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। যেমন : ১৯৫৫Ñ৫৬ সাল থেকে ১৯৫৯Ñ৬০ সাল পূর্ব পাকিস্তান লাভ করেছিল মোট বাজেট বরাদ্দের ১১৩ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তান তখন পেয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। একইভাবে ১৯৬০Ñ৬১ থেকে ১৯৬৪Ñ৬৫ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬,৪৮০ মিলিয়ন টাকা আর পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা ছিল ২২,২৩০ মিলিয়ন টাকা। ফলে ব্যবসায়-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে কয়েক গুণ পিছিয়ে পড়ে।
সুতরাং দেখা যায়, পূর্ব পাকিস্তান ব্যাপকভাবে অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছিল।

প্রশ্ন- ২  ছয়দফা কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক বৈষম্য

চিত্র : ক

চিত্র : খ
ক. কতো সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
খ. বাঙালি জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝায়?
গ. ছয় দফার কোন দাবি চিত্র ‘ক’-এ প্রদর্শিত তথ্যের আলোকে উত্থাপিত হয়েছিল তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “চিত্র ‘খ’-এ প্রদর্শিত বৈষম্যের কারণেই ছয় দফা দাবি তোলা হয়েছিল”Ñ তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

ক ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
খ বাংলা ভাষা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতিগত পরিচয়ে জাতীয় ঐক্য গঠিত হয়। এই জাতীয় ঐক্যই বাঙালি জাতীয়তাবাদ। জাতি গঠনের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ভাষা অন্যতম। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারি পূর্বাপর ঘটনার মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে আমাদের মধ্যে যে জাতীয় চেতনার জন্ম হয়, তা-ই মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ মূলত বাঙালি জাতির ঐক্যের প্রতীক।
গ ৬ দফার যে দাবি চিত্র ‘ক’ -এ প্রদর্শিত তথ্যের আলোকে উত্থাপিত হয়েছিল তা হলো অঙ্গরাজ্যগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আধাসামরিক বাহিনী গঠন করার ক্ষমতা দেওয়া। ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। উদ্দীপকে যদিও দেখা যাচ্ছে পররাষ্ট্র বিষয়ক ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনে বাঙালিদের সুযোগ দেওয়া হতো না কিন্তু একই দেশের কাঠামোতে কেন্দ্রীয় এ দুটি বিষয় পৃথক করা যায় না। তাই বঙ্গবন্ধু ৬ দফা দাবির প্রথম দফায় দাবি করেন- কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্য সব বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। আর এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে ৬ দফা দাবির শেষ দাবিটি ছিল অঙ্গ রাজ্যগুলোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা। অঙ্গ রাজ্যগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আধাসামরিক বাহিনী গঠন করার ক্ষমতা দেওয়া। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হয়েছিল। মোট অফিসারের মাত্র ৫%, সাধারণ সৈনিকদের মাত্র ৪%, নৌবাহিনীর উচ্চ পদে ১৯%, নিম্নপদে ৯%, বিমান বাহিনীর পাইলটদের ১১% এবং টেকনিশিয়ানদের ১.৭% ছিলেন বাঙালি। উদ্দীপকেও দেখা যায়, চিত্র-ক-এ স্থল বাহিনীর ৫%, পাইলটদের ১১% এবং বিমান বাহিনীর ৪% ছিলেন বাঙালি। এছাড়া ১৯৬৫ সালে সংঘটিত ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণ অরক্ষিত ছিল। এই বৈষম্যের পরিপ্রেক্ষিতে ছয়দফা দাবির একটি দাবিতে উলে­খ করা হয়, আঞ্চলিক সংহতি রক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থায় যথাযথ ভ‚মিকা পালনের জন্য অঙ্গরাষ্ট্রগুলোকে তাদের নিজস্ব কর্তৃত্বাধীনে আধাসামরিক বাহিনী বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা দিতে হবে।
ঘ চিত্র ‘খ’-এ প্রদর্শিত তথ্যগুলো পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য তুলে ধরেছে। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবির অন্যতম কারণ ছিল অর্থনৈতিক বৈষম্য। পাকিস্তানি শাসনামলে পূর্ব পাকিস্তানকে অতি ধূর্ততার সাথে শোষণ করা হয়। শাসন সংক্রান্ত, সামরিক সংক্রান্ত, উন্নয়ন সংক্রান্ত সকল বিষয়ে পূর্ব পাকিস্তানকে অবজ্ঞা করা হয়। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির সামাজিক কাঠামোর ভিত্তি ছিল সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ধাঁচের। পূর্ব পাকিস্তানের সমাজকাঠামো ছিল মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণিভিত্তিক, অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তানের সমাজকাঠামো ছিল ভ‚স্বামী, পুঁজিপতি ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিভিত্তিক। একই পাকিস্তানের এ দুধরনের সমাজকাঠামোর বিপরীতমুখী গতিধারা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাট বৈষম্য সৃষ্টি করে। আইয়ুব শাসনামলে এ বৈষম্য ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হয়। যেমন, ১৯৫৫-৫৬ সাল থেকে ১৯৫৯-৬০ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান লাভ করেছিল মোট বাজেট বরাদ্দের ১১৩ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তান তখন পেয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। একইভাবে ১৯৬০-৬১ থেকে ১৯৬৪-৬৫ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬,৪৮০ মিলিয়ন টাকা আর পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা ছিল ২২,২৩০ মিলিয়ন টাকা। ফলে ব্যবসায়-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিসহ অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান হতে কয়েক গুণ পিছিয়ে পড়ে। সুতরাং একথা বলা অমূলক হবে না যে, চিত্রে প্রদর্শিত বৈষম্যের কারণেই ৬ দফা দাবি তোলা হয়েছিল।

 গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১. কার নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়?
 অধ্যাপক আবুল কাশেম খ ড. মুহাম্মদ এনামুল
গ ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ ঘ চৌধুরী খালেকুজ্জামান
২. নিচের কোনটি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে?
ক ভাষা আন্দোলন খ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
 ছয়দফা কর্মসূচি ঘ এগার দফা কর্মসূচি
৩. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কত সালে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবি জানান?
ক ১৯৪৭  ১৯৪৮ গ ১৯৫১ ঘ ১৯৫২
৪. ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ শীর্ষক কবিতার প্রেক্ষাপট নিচের কোনটি?
ক গণঅভ্যুত্থান  ভাষা আন্দোলন
গ স্বাধীনতা যুদ্ধ ঘ ১৯৪৭ এর দেশ বিভাগ
৫. ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন
 আইয়ুব খান খ ইস্কান্দার মির্জা গ টিক্কা খান ঘ নিয়াজি
৬. কখন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়?
ক ১৯৪৭ সালের ১৩ আগস্ট  ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট
গ ১৯৪৮ সালের ১৩ আগস্ট ঘ ১৯৪৮ সালের ১৪ আগস্ট
৭. ‘বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ’কে আইয়ুব সরকার কী নামে আখ্যায়িত করে?
ক অতিরঞ্জিত কর্মসূচি খ বাঙালি জাতীয়তাবাদের কর্মসূচি
 বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি ঘ পূর্ব বাংলার মুক্তির সনদ
৮. মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন কে?
 তাজউদ্দিন আহমেদ খ সৈয়দ নজরুল ইসলাম
গ এম মনসুর আলী ঘ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
৯. বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে গঠিত হয়
 রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ খ রাষ্ট্রভাষা গণপরিষদ
গ স্বাধীন বাংলা পরিষদ ঘ বাংলা ভাষা উন্নয়ন পরিষদ
১০. কোন সাল থেকে ২১শে ফেব্রæয়ারি শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে?
ক ১৯৫২  ১৯৫৩ গ ১৯৫৪ ঘ ১৯৫৫
১১. ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলে
ক আওয়ামী লীগের উত্থান ঘটে
 দেশ স্বাধীন হয়
গ ছাত্রলীগের জন্ম হয়
ঘ বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে
১২. বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি কী ছিল?
ক সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন
 ভাষা আন্দোলন
গ ছয়-দফা আন্দোলন
ঘ ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
১৩. পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক কে ছিলেন?
ক শেখ মুজিবুর রহমান
 শামসুল হক
গ মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
ঘ এম. মনসুর আলী
১৪. কাজী নজরুল ইসলামের গানে পাকিস্তানিরা কীসের অভিযোগ তুলেছিল?
 হিন্দুয়ানির খ হিন্দু সংস্কৃতির
গ অপসংস্কৃতির ঘ পাশ্চাত্য সংস্কৃতির
১৫. ঐতিহাসিক ছয়-দফায় কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কোন দুইটি বিষয় থাকার কথা বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করেছিলেন?
ক শিল্পায়ন ও অর্থনীতি খ প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতি
 প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র ঘ সামরিক শাসন ও বাণিজ্য
১৬. ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠিত হয় কত সালে?
ক ১৯৪৭ খ ১৯৪৮  ১৯৪৯ ঘ ১৯৫২
১৭. ১৯৪৮ সালের কত তারিখে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রেসকোর্স ময়দানে ঘোষণা দেন যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা?
ক ২০ মার্চ  ২১ মার্চ গ ২২ মার্চ ঘ ২৩ মার্চ
১৮. ৬ দফার উদ্দেশ্য কী ছিল?
 জনগণের অধিকার রক্ষা
খ বাংলাকে শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে স্বীকৃতিদান
গ ২১ ফেব্রæয়ারিকে ‘শহিদ দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করা
ঘ শাসন বিভাগ হতে বিচার বিভাগকে পৃথক করা
১৯. ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ কত দিন অব্যাহত ছিল?
ক ২০ খ ১৯ গ ১৮  ১৭
২০. পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের আসন সংখ্যা কত ছিল?
ক ৩৩০টি খ ৩০৯টি গ ৩৩৩টি  ৩১০টি
২১. পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বেই কোন বিষয় নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়?
ক প্রস্তাবিত রাষ্ট্রের সংবিধান কেমন হবে
খ প্রস্তাবিত রাষ্ট্রের রাজধানী কোথায় হবে
 প্রস্তাবিত রাষ্ট্রের ভাষা কী হবে
ঘ প্রস্তাবিত রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি কী হবে
২২. কোন সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
ক ১৯৫৪ খ ১৯৬৬ গ ১৯৬৯  ১৯৭০
২৩. কার নেতৃত্বে ‘তমদ্দুন মজলিশ’ গড়ে ওঠে?
ক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ খ ড. মুহম্মদ এনামুল হক
 অধ্যাপক আবুল কাসেম ঘ আবদুল হামিদ খান ভাসানী
২৪. কৃষিক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে কত বৈষম্য ছিল? (১৯৬৬ সালের তথ্য অনুসারে)
ক ৫৬%  ৫৮% গ ৬৫% ঘ ৮১%
২৫. ঢাকায় ২১ ফেব্রæয়ারি ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে ‘স্মৃতির মিনার’ কবিতাটি রচনা করেন কে?
ক মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী  আলাউদ্দিন আল আজাদ
গ আবদুল গাফফার চৌধুরী ঘ ড. মুনির চৌধুরী
২৬. ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানের প্রশাসনিক চিত্রে কৃষিখাতে বাঙালি কত শতাংশ ছিল?
ক ১৯%  ২১% গ ২২% ঘ ২৭%
২৭. ‘তমদ্দুন মজলিশ’ সাংস্কৃতিক সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা কে?
ক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ  অধ্যাপক আবুল কাশেম
গ ড. মুহাম্মদ এনামুল হক ঘ মোঃ শামসুল হক
২৮. “পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ” দলটি গঠিত হয় কত সালে?
ক ১৯৪৭ খ ১৯৪৮  ১৯৪৯ ঘ ১৯৫২
২৯. প্রথম শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন কে?
 শহীদ শফিউরের পিতা খ আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
গ আলাউদ্দিন আল আজাদ ঘ শহীদ বরকতের পিতা
৩০. কত সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়?
ক ১৯৫৪  ১৯৫৬ গ ১৯৫৮ ঘ ১৯৬০
৩১. পূর্ববাংলার মুক্তিসনদ কোনটি?
ক ভাষা আন্দোলন খ ১৯৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান
 ৬ দফা ঘ ২১ দফা
৩২. কাকে দিয়ে প্রথম শহীদ মিনার উদ্বোধন করা হয়?
 শফিউরের পিতা খ আব্দুর রউফের পিতা
গ সালামের পিতা ঘ আবুল বরকতের পিতা
৩৩. ১৫ মার্চ সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে ৮ দফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন কে?
ক নুরুল আমীন খ জুলফিকার আলী ভুট্টো
 খাজা নাজিমুদ্দীন ঘ রাও ফরমান আলী
৩৪. উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা কে বলেছেন?
ক খাজা নাজিমুউদ্দিন খ এ.কে. ফজলুল হক
 মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘ নুরুল আমিন
৩৫. ‘কবর’ নাটকের পটভূমি কোনটি?
ক গণঅভ্যুত্থান খ মুক্তিযুদ্ধ
গ ৬ দফা আন্দোলন  ভাষা আন্দোলন
৩৬. যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার অন্তর্ভুক্ত দফা কোনটি?
ক ক্ষতিপূরণসহ জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ
 বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ
গ মুসলিমদের মধ্যে জমিদারি প্রথা বণ্টন
ঘ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাতিল
৩৭. ছাত্ররা ১১ দফার দাবিতে কত সালে আন্দোলন করেছিল?
ক ১৯৬১ খ ১৯৬২  ১৯৬৮ ঘ ১৯৬৯
৩৮. ঐতিহাসিক ‘আগরতলা’ মামলা কতজনের বিরুদ্ধে রুজু করা হয়?
ক ৩২ খ ৩৩ গ ৩৪  ৩৫
৩৯. ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের দ্বারা কয়টি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়?
ক ১  ২ গ ৩ ঘ ৪
৪০. ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলে পূর্ববাংলা কোন রাষ্ট্রের প্রদেশে পরিণত হয়?
ক ভারত খ নেপাল  পাকিস্তান ঘ মিয়ানমার
৪১. ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট রাতে কোনটি ঘটে?
ক ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা
 ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান
গ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিলুপ্তি
ঘ ভাইসরয়ের পদত্যাগ
৪২. ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ পুস্তিকাটির যৌক্তিক বৈশিষ্ট্য কোনটি?
ক উর্দু ভাষার সমর্থন  বাংলা ভাষার সমর্থন
গ আরবি ভাষার সমর্থন ঘ ইংরেজি ভাষার সমর্থন
৪৩. শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে বলেন, ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পল্টনে পাকিস্তানের একজন প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন এবং তিনি ঘোষণা দেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। শিক্ষকের কথায় কোন প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিত পাওয়া যায়?
ক লিয়াকত আলী খান  খাজা নাজিমুদ্দীন
গ জুলফিকার আলী ভুট্টো ঘ ইয়াহিয়া খান
৪৪. কত সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করেন?
ক ১৯৩২ খ ১৯৩৫
 ১৯৩৭ ঘ ১৯৩৯
৪৫. ভাষা আন্দোলনের সাথে কোন নামটি সম্পর্কযুক্ত?
 আবুল বরকত খ আবুল হাসান
গ আসাদুজ্জামান ঘ হাফিজ
৪৬. ১৯৭০ সালের নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে কীসের চরিত্রদানে বিশাল ভ‚মিকা রাখে?
ক বিজয়ের খ প্রতিবাদের
˜ মুক্তিযুদ্ধের ঘ স্বাধীনতার
৪৭. আইয়ুব খান ইস্কান্দার মীর্জাকে উৎখাত ও দেশ ত্যাগে বাধ্য করেন কেন?
 ক্ষমতা দখল করার জন্য খ নির্বাচন পরিচালনার জন্য
গ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ঘ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য
৪৮. পূর্ব পাকিস্তানের তুলনায় পশ্চিম পাকিস্তান সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল কেন?
ক জনসংখ্যানীতির কারণে  বৈষম্যনীতির কারণে
গ সংখ্যাসাম্যনীতির কারণে ঘ পরিকল্পনানীতির কারণে
৪৯. পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ববাংলার কোন শ্রেণির বিকাশ মন্থর হয়ে পড়ে?
ক উচ্চবিত্ত  মধ্যবিত্ত
গ নিম্নবিত্ত ঘ উচ্চমধ্যবিত্ত
৫০. ৬ দফা কোন বিষয়টি তুলে ধরে?
ক স্বাধীন বাংলার রূপরেখা  বাঙালির অধিকার
গ জাতীয় পরিচয় ঘ বাঙালির চেতনা
৫১. লাহোরে ৬ দফা পেশকালীন সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের কোন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন?
 সভাপতি খ আহŸায়ক
গ সাধারণ সম্পাদক ঘ যুগ্ম সম্পাদক
৫২. ৬ দফার শেষ দফাটিতে কোন বিষয়টি স্থান পেয়েছিল?
ক মুদ্রা বিনিময়  আধাসামরিক বাহিনী গঠন
গ বৈদেশিক মুদ্রার মালিকানা ঘ ক্ষমতা বণ্টন
৫৩. গণঅভ্যুত্থানের ফলে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে কীসের বিকাশ ঘটে?
ক যুদ্ধ করার মানসিকতা  জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চেতনা
গ বাঙালির সাহসিকতা ঘ নতুন দেশ গঠনের চেতনা
৫৪. ‘তমদ্দুন মজলিশ’ কত তারিখে গঠিত হয়?
ক ২ জানুয়ারি খ ১৯ ফেব্র“য়ারি
 ২ সেপ্টেম্বর ঘ ১৯ জুলাই
৫৫. ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস কোনটি?
ক শঙ্খনীল কারাগার খ আগুনের পরশমনি
গ তালপাতার সেপাই  আরেক ফাল্গুন
৫৬. ‘তমদ্দুন মজলিশ’ নামক সংগঠনটি কার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে?
 আবুল কাশেম খ কামরুদ্দিন আহম্মেদ
গ আতাউর রহমান খান ঘ অলি আহাদ
৫৭. কে গণপরিষদে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি জানায়?
ক ড. মুহম্মদ শহীদুল­াহ খ এ. কে. ফজলুল হক
গ শেখ মুজিবুর রহমান  ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
৫৮. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কখন উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন?
ক ২১ মার্চ, ১৯৪৮  ২৪ মার্চ, ১৯৪৮
গ ২৪ মার্চ, ১৯৫২ ঘ ২১ মার্চ, ১৯৫২
৫৯. ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন কে?
ক খাজা নাজিমুদ্দীন  এ. কে. ফজলুল হক
গ লিয়াকত আলী ঘ চৌধুরী খালীকুজ্জামান
৬০. ১৯৪৭ সালে কোন দল মাতৃভাষায় ‘শিক্ষাদান’ এর দাবি জানায়?
ক মুসলিম লীগ  গণ আজাদী লীগ
গ ছাত্রদল ঘ যুক্তফ্রন্ট
৬১. রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম কী?
 সোহরাওয়ার্দী উদ্যান খ রমনা পার্ক
গ বোটানিক্যাল গার্ডেন ঘ জিয়া উদ্যান
৬২. ‘স্মৃতির মিনার’ কবিতাটি কে রচনা করেন?
 আলাউদ্দিন আল আজাদ খ মাহবুব-উল-আলম
গ কাজী নজরুল ইসলাম ঘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৬৩. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কত তারিখে পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ব্যবহারের দাবি করেন?
 ২৩ ফেব্র“য়ারি, ১৯৪৮ খ ২৪ ফেব্র“য়ারি, ১৯৪৮
গ ২৩ মার্চ, ১৯৪৮ ঘ ২৩ এপ্রিল, ১৯৪৮
৬৪. কার নেতৃত্বে ‘গণ আজাদী লীগ’ গঠিত হয়?
 কামরুদ্দিন আহমদ খ আজাদ রহমান
গ বদরুদ্দিন আহমেদ ঘ সৈয়দ কামরুজ্জামান
৬৫. ‘তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি’-গানটি কোনটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?
ক গণঅভ্যুত্থান খ স্বাধীনতা আন্দোলন
 ভাষা আন্দোলন ঘ ছয় দফা আন্দোলন
৬৬. এদেশের মানুষের জাতীয়তাবাদের উন্মেষের কারণ কী?
ক লাহোর প্রস্তাব  ভাষা আন্দোলন
গ যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন ঘ ৬ দফা দাবি
৬৭. ২১ ফেব্র“য়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় কবে?
ক ১১ অক্টোবর, ১৯৯৪  ১৭ নভেম্বর, ১৯৯৯
গ ২১ ফেব্র“য়ারি, ১৯৯৭ ঘ ১ মে, ১৯৯৩
৬৮. ১৯৪৭ সালে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কে ছিলেন?
ক এ. কে. ফজলুল হক খ ড. মুহম্মদ শহীদুল­াহ
গ কামরুদ্দিন আহমদ  ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
৬৯. ‘গণ আজাদী লীগ’ কত সালে গঠিত হয়েছিল?
 ১৯৪৭ খ ১৯৪৮ গ ১৯৪৯ ঘ ১৯৫০
৭০. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠিত হয় কত তারিখে?
ক ১মার্চ  ২ মার্চ গ ৩ মার্চ ঘ ৪ মার্চ
৭১. পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দিন খান ১৯৪৮ সালের কত তারিখে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে ৮ দফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন?
ক ৫ মার্চ খ ১০ মার্চ  ১৫ মার্চ ঘ ২০ মার্চ
৭২. ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’-এ ঘোষণাটি সর্বপ্রথম কোথায় দেওয়া হয়?
ক গণপরিষদে  রেসকোর্স ময়দানে
গ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘ পল্টন ময়দানে
৭৩. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের কী ছিলেন?
ক রাষ্ট্রপতি খ প্রধানমন্ত্রী
গ মুখ্যমন্ত্রী  গভর্নর জেনারেল
৭৪. ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারির পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহŸায়ক কে ছিলেন?
ক অলি আহাদ খ শামসুল হক
 আব্দুল মতিন ঘ কাজী গোলাম মাহবুব
৭৫. ১৯৫২ সালের কত তারিখে রাষ্ট্র ভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়?
 ২১ ফেব্র“য়ারি খ ২২ ফেব্র“য়ারি
গ২৩ ফেব্র“য়ারি ঘ ২৪ ফেব্র“য়ারি
৭৬. ২২ ফেব্র“য়ারির শোক র‌্যালিতে পুলিশের হামলায় কোন ভাষা সৈনিক শহিদ হন?
ক আব্দুস সালাম  শফিউর
গ আবুল বরকত ঘ আবদুল জব্বার
৭৭. ভাষা শহিদদের স্মরণে নির্মিত প্রথম শহিদ মিনার কে উদ্বোধন করেছিলেন?
 শহিদ শফিউরের পিতা খ শহিদ আবুল বরকতের পিতা
গ শহিদ আবদুল জব্বারের পিতা ঘ শহিদ রফিকউদ্দিনের পিতা
৭৮. ‘আমি কাঁদতে আসিনি, আমি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটি কোন কবি লিখেছিলেন?
ক গাজীউল হক খ আব্দুল গাফফার চৌধুরী
গ আলতাফ মাহমুদ  মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
৭৯. ২১ ফেব্র“য়ারি ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে রচিত ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ গানটির রচয়িতা কে?
 আব্দুল লতিফ খ আব্দুল গাফফার চৌধুরী
গ মাহবুব-উল-আলম ঘ আলাউদ্দিন আল আজাদ
৮০. ১৯৪৭ সালে কোন বিষয়টি প্রথমে ঘটেছিল?
 পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হওয়া খ গণ আজাদী লীগ প্রতিষ্ঠা
গ তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠা ঘ করাচির শিক্ষা সম্মেলন
৮১. উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণের প্রস্তাবকারী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন?
ক কলকাতা খ পাঞ্জাব
গ লাহোর  আলিগড়
৮২. করাচিতে শিক্ষা সম্মেলন কখন অনুষ্ঠিত হয়?
ক ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে খ ১৯৪৭ সালের অক্টোবরে
গ ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে  ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে
৮৩. ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
ক নাজিমুদ্দীন খান খ লিয়াকত আলী খান
 মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘ আইয়ুব খান
৮৪. ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’-ঘোষণাটি কে দেন?
 মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ খ লিয়াকত আলী খান
গ খাজা নাজিমুদ্দীন ঘ আইয়ুব খান
৮৫. বাংলাদেশের ২১ ফেব্র“য়ারির শহিদ দিবসকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে কোন সংস্থা?
ক জাতিসংঘ খ ইউনিসেফ
 ইউনেস্কো ঘ ইউএনডিপি
৮৬. ইউনেস্কো জাতিসংঘের কোন বিষয়ক অঙ্গ প্রতিষ্ঠান?
ক রাজনৈতিক  শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি
গ অর্থনৈতিক ঘ আঞ্চলিক
৮৭. পৃথিবীতে কতটি ভাষা রয়েছে?
ক ৫০০০-এর বেশি  ৬০০০-এর বেশি
গ ৭০০০-এর বেশি ঘ ৮০০০-এর বেশি
৮৮. ‘কবর’ নাটকটি মুনীর চৌধুরী কোথায় বসে রচনা করেন?
ক নিজ গৃহে  জেলখানায়
গ পাবলিক লাইব্রেরিতে ঘ হাসপাতালে
৮৯. ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক ‘কবর’ এর রচয়িতা কে?
ক জহির রায়হান খ শহীদুল­াহ কায়সার
 মুনীর চৌধুরী ঘ আলাউদ্দিন আল আজাদ
৯০. পাকিস্তানি শাসন পর্বে কোন আন্দোলনটি বাঙালির জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন?
 ভাষা আন্দোলন খ গণঅভ্যুত্থান
গ সিপাহি আন্দোলন ঘ ছয় দফা
৯১. ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য কোনটি?
ক বাঙালির রক্তদান  জাতীয়তাবাদের উন্মেষ
গ শহিদ মিনার নির্মাণ ঘ দেশপ্রেম
৯২. যুক্তফ্রন্ট কত দিন ক্ষমতায় ছিল?
ক ৪৫  ৫৬ গ ৬৫ ঘ ৭১
৯৩. ২১ দফা জনগণের কাছে কী হিসেবে গৃহীত হয়?
ক সংবিধান খ রায়
 স্বার্থ রক্ষার সনদ ঘ দলিল
৯৪. প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
ক ১৯৫২  ১৯৫৪ গ১৯৫৩ ঘ ১৯৫৫
৯৫. পাকিস্তানের কোন গভর্নর জেনারেল যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করেছিল?
ক মুহম্মদ আলী জিন্নাহ  গোলাম মোহাম্মদ
গ খাজা নাজিমুদ্দীন ঘ ইস্কান্দার মীর্জা
৯৬. যুক্তফ্রন্টের বিজয় কী প্রমাণ করে?
ক যুক্তফ্রন্টের প্রয়োজন আছে খ বাঙালিও নেতৃত্ব দিতে পারে
গ বাংলাদেশের একমাত্র দল  জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস
৯৭. পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের আসন ছিল কতটি?
ক ২৩৬  ২৩৭ গ ২৩৮ ঘ ২৩৯
৯৮. যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল কয়টি দল নিয়ে?
ক ২ খ ৩  ৪ ঘ ৬
৯৯. কত সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করা হয়?
ক ১৯৫৬ খ ১৯৫৭  ১৯৫৮ ঘ ১৯৫৯
১০০. ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্টের সচিবালয়ে বাঙালিদের অবস্থান ছিল কত?
 ১৯% খ ২০% গ ৩০% ঘ ৩২%
১০১. পাকিস্তান নৌবাহিনীর উচ্চ পদে বাঙালি ছিল কত শতাংশ?
ক ১১ খ ১৪ গ ১৬  ১৯
১০২. কত সালে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীকে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়?

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন- ১  ৬ দফা : পূর্ব বাংলার মুক্তির সনদ

একটি দেশের ‘ক’ নামক প্রদেশের সাথে কেন্দ্রীয় সরকার ব্যাপক বৈষম্যমূলক আচরণ করে। প্রতিবাদে ঐ প্রদেশের একজন জনপ্রিয় নেতা এক সাংবাদিক সম্মেলনে সরকার ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, মুদ্রা, বৈদেশিক মুদ্রার হিস্যা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাহিনীসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে স্বায়ত্তশাসনের দাবি পেশ করেন। শুরু হয় আন্দোলন। ফলে উক্ত নেতার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ মামলা দিয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু করে।
ক. যুক্তফ্রন্ট সরকার কতদিন ক্ষমতায় ছিলেন? ১
খ. ভাষা আন্দোলন কীভাবে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটায়? ২
গ. উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের যে ঐতিহাসিক ঘটনার মিল রয়েছে তা ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা এবং উক্ত ঘটনার পরিণতি কি একই ছিল? মূল্যায়ন কর। ৪

ক যুক্তফ্রন্ট সরকার ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিলো।
খ বাঙালির জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে। পাকিস্তানের প্রতি ভাষা আন্দোলন পূর্ব যে মোহ ছিল তা দ্রæত কেটে যেতে থাকে। নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তারা বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে। ভাষাকেন্দ্রিক এই ঐক্যই জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে।
গ উদ্দীপকে উল্লিখিত আন্দোলনের সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের যে ঐতিহাসিক ঘটনার মিল রয়েছে তা হলো ছয় দফা। ঐতিহাসিক ছয় দফা ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের চ‚ড়ান্ত প্রকাশ। এটি ছিল বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক। বাঙালির মুক্তির সনদ। ফলে এ কর্মসূচির প্রতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের স্বতঃস্ফ‚র্ত সমর্থন ছিল। উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই, ‘ক’ প্রদেশের নেতা কেন্দ্রীয় সরকারের সকল প্রকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে কতগুলো দাবি পেশ করেন এবং এ সকল দাবি আদায়ে আন্দোলন শুরু হয়। তদ্রƒপভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে উদ্দীপকের ন্যায় ঘটনার পুনরাবৃত্তি লক্ষ করা যায়। পূর্ব বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পশ্চিম পাকিস্তানের সকল বৈষম্যের হাত থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে রক্ষার জন্য ১৯৬৬ সালে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। ছয় দফা দাবি পাক শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক প্রত্যাখ্যান করা হলে এ দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলন শুরু হয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত নেতার দাবিতে প্রদেশের যেসকল বিষয় উঠে এসেছে তেমনি ছয় দফা দাবিতে ঐসকল বিষয়ই তুলে ধরেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তাই একবাক্যে বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ঐতিহাসিক ছয় দফার ঘটনাটির সাদৃশ্যই বিদ্যমান।
ঘ উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার পরিণতিতে আন্দোলন শুরু হলে ‘ক’ নামক এদেশের জনপ্রিয় নেতার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ মামলা দিয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়। আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবিনামার ঘটনার পরিণতিও একই রূপ ছিল। ৬ দফা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরে। আইয়ুব সরকার একে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। এ কর্মসূচি বাঙালির চেতনা-মূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির চ‚ড়ান্ত লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং তাঁর বিশ্বাস ছিল শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র সংগ্রাম ব্যতীত বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব হবে না। তাই তিনি সশস্ত্র পন্থায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সে সময়ে গোপনে গঠিত বিপ্লবী পরিষদের সদস্যদের তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সম্মতি দিয়েছিলেন। এদিকে ৬ দফা আন্দোলনও তখন তুঙ্গে। এ অবস্থায় বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এক নম্বর আসামি করে রাজনীতিবিদ, বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক ও প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা এবং অন্যান্য বেসামরিক ব্যক্তিবর্গসহ মোট ৩৫ জনকে আসামি করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি দণ্ডবিধির ১২১-এ ও ১৩১ ধারায় তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানকে সশস্ত্র পন্থায় স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করার অভিযোগ আনা হয়। বিচারের উদ্দেশ্যে গঠিত এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে প্রতিষ্ঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন তারিখে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা দাবিনামার পরিণতিতে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার ঘটনা পর্যন্ত ইতিহাসের গতিধারার সাথে উদ্দীপকে ‘ক’ নামক প্রদেশের ঘটনার পরিণতির মিল রয়েছে।
প্রশ্ন- ২  ভাষা আন্দোলনের পটভ‚মি

সুমনের নানা শামসুদ্দিন সাহেব দেশের গল্প শোনাতে গিয়ে সুমনকে একটি আন্দোলনের কথা বললেন যা ৪০ এর দশকে শুরু হয়ে ৫০ এর দশকে শেষ হয়। তিনি পূর্বাপর সকল ঘটনা বর্ণনা করে বললেন, “এতে অনেকে শহিদ হলেও এটি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত রচনা করে।”
ক. কাকে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়? ১
খ. ৬ দফাকে পূর্ব বাংলার ‘মুক্তির সনদ’ বলা হয় কেন? ২
গ. উদ্দীপকে সুমনের নানা সুমনকে যে আন্দোলনের কথা শুনালেন তার প্রেক্ষাপট বর্ণনা কর। ৩
ঘ. উক্ত আন্দোলন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত রচনা করে তুমি কি এ উক্তিটির সাথে একমত? বিশ্লেষণ কর। ৪

ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়।
খ ৬ দফা পূর্ববাংলার জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরে। এ কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। তাই ৬ দফা আন্দোলনকে পূর্ববাংলা বা বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
গ উদ্দীপকে সুমনের নানা সুমনকে ভাষা আন্দোলনের কথা শোনান।
উদ্দীপকে সুমনের নানা শামসুদ্দিন সাহেব ৪০ এর দশক থেকে ৫০ এর দশকে শেষ হওয়া যে আন্দোলনের কথা বলেন তা ’৪৭ থেকে শুরু হয়ে ’৫২ তে পরিণতি লাভ করা ভাষা আন্দোলনকেই নির্দেশ করে। এ আন্দোলনে অনেকে শহিদ হন। তথ্যটিও ভাষা আন্দোলনের ইঙ্গিতবাহী। ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান এ দুটি অংশ নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। তবে শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের শাষক গোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করতে থাকে। আর সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা হওয়া সত্তে¡ও বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা না করার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মাতৃভাষা রক্ষা করার জন্য ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার নতুন ঘোষণা প্রদান করেন। প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে। ৪ ফেব্রæয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। ২১ ফেব্রæয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট এবং রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু ২০ ফেব্রæয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রæয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ মিছিলে গুলি করে। এতে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন, আহত হন। বস্তুত ১৯৪৭ সালে সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপ নেয়।
ঘ উক্ত আন্দোলন অর্থাৎ বাঙালির মাতৃভাষা আন্দোলনই স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত রচনা করে। আমি এ বিষয়ে একমত। পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তানের শাসনভার পশ্চিম পাকিস্তানের ধনিক গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভ‚ত হওয়ায় পূর্ব বাংলার সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজ ব্যবস্থাকে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের করায়ত্ত করতে শুরু করে। এর বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণ প্রতিবাদ ও আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলে। মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপলাভ করে। ফলে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ভাষা আন্দোলন এ দেশের মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। অর্থাৎ বাঙালির জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে। পাকিস্তানের প্রতি আগে যে মোহ ছিল তা দ্রæত কেটে যেতে থাকে। নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে। ভাষাকেন্দ্রিক জাতীয় ঐক্যই বাঙালি জাতীয়তাবাদ। এ বাঙালি জাতীয়তাবাদই অসা¤প্রদায়িক বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনে জনগণকে অনুপ্রাণিত করে। এরই ধারাবাহিকতায় নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ। সর্বোপরি আমি মনে করি, ভাষা আন্দোলনই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত রচনা করে।
প্রশ্ন- ৩  ভাষা আন্দোলন

বিরল সম্মান আর শ্রদ্ধার আসনে ২১শে ফেব্রæয়ারি আজ সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। কিন্তু এ অর্জন সহজ পথে আসেনি। নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলার জন্য, নিজের ভাষায় শিক্ষা অর্জনের অধিকার রক্ষার জন্য এদেশের ছাত্রজনতা রাজপথে নিজেদের বুকের তাজা রক্ত উৎসর্গ করেছিল। এ আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালিরা বিভিন্ন আন্দোলনের সংগ্রামী চেতনা গ্রহণ করেছিল। যার ফল আজকের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
ক. কত সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ঘটেছিল? ১
খ. ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম কারণ কী ছিল? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালিরা কীভাবে জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ‘আন্দোলনের পথ ধরেই আজকের এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ’ পাঠ্যপুস্তকের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা নির্ণয় কর। ৪

ক ১৯৪৭ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ঘটেছিল।
খ ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম কারণ ছিল বন্দিদের মুক্তি ও আগরতলা মামলা প্রত্যাহার। পাক শাসকগোষ্ঠীর চরম অত্যাচার ও নির্যাতনে পূর্ববাংলার জনগণ যখন মনে মনে তুষের আগুনের ন্যায় জ্বলছিল ঠিক সে সময় ছয় দফা দাবি প্রত্যাখ্যান ও শেখ মুজিবসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করায় বাঙালি প্রকাশ্যে প্রতিবাদী ভ‚মিকায় অবতীর্ণ হয়। যা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। মূলত এ কারণেই ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল।
গ উদ্দীপকে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রæয়ারির স্মৃতিবিজড়িত ভাষা আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে। ১৯৪৭ সালে সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপ লাভ করে। ফলে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে অন্তর্ভুক্তও করা হয়। নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে পূর্ব বাংলার বাঙালি এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠী মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস ও আত্মপ্রত্যয় খুঁজে পায়। বাঙালিরা জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়। ফলে দেখা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর পঞ্চাশের দশক ব্যাপী ছিল বাঙালিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতিকাল। ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। এ আন্দোলন এ দেশের মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। এ আন্দোলন বাঙালিদের মধ্যে ঐক্য ও স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তোলে। পাকিস্তানি শাসনপর্বে এটি তাদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন। আর এভাবে বাঙালিরা ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়।
ঘ ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই আজকের এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট রাতে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়। জন্ম নেয় ভারত এবং পাকিস্তান নামে দু’টি স্বাধীন রাষ্ট্র। পাকিস্তানের ছিল দু’টি অংশ। পূর্ববাংলা পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ অংশের নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান অপর অংশটি পশ্চিম পাকিস্তান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তবে শুরু থেকেই পাকিস্তানের শাসনভার পশ্চিম পাকিস্তানের ধনিক গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রিভ‚ত হওয়ায় পূর্ব বাংলার সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজ ব্যবস্থাকে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের করায়ত্ত করতে শুরু করে। এর বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণ প্রতিবাদ ও আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলে। মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। এর মাধ্যমে পূর্ব বাংলার বাংলা ভাষাভাষী বাঙালি জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হয়। মাতৃভাষা রক্ষার চেতনা থেকে পূর্ব বাংলার জনগণ ক্রমান্বয়ে পাকিস্তানের সা¤প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও গণঅভ্যুত্থান গড়ে তোলে। ভাষা আন্দোলন ও ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান স্বাধীনতা অর্জনের পথে দুটি মাইলফলক। অতঃপর ঐতিহাসিক ছয় দফার ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পক্ষে ভোট প্রদানের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার জনগণ অসা¤প্রদায়িক বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করে। বাংলা ভাষা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতিগত পরিচয়ে জাতীয় ঐক্য গঠিত হয়। এই জাতীয় ঐক্যই বাঙালি জাতীয়তাবাদ। এ বাঙালি জাতীয়তাবাদই অসা¤প্রদায়িক বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনে জনগণকে অনুপ্রাণিত করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে নয়মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।
প্রশ্ন- ৪  পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যসমূহ

ঐশীর বাবা একজন সচিব। তার চাচা সামরিক বাহিনীর একজন পদস্থ অফিসার। দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত তাদের অনেক আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং তাদের এলাকার অনেকেই আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। পক্ষান্তরে ঐশীর দাদা মি. রাকিব যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শেষ করেছেন। ১৯৫২ ও ১৯৬৯ এর আন্দোলনের ফলে ঐশীরা আজ বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক।
ক. যুক্তফ্রন্ট কতটি দল নিয়ে গঠিত হয়? ১
খ. মৌলিক গণতন্ত্র নামে একটি ব্যবস্থা চালু করা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. মি. রাকিবের এই পরিণতির জন্য দায়ী কারণসমূহ সনাক্ত করে ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ১৯৫২ ও ১৯৬৯ এর আন্দোলনের ফলে ঐশীরা আজ বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক উক্তিটির যথার্থতা প্রমাণ কর। ৪

ক যুক্তফ্রন্ট ৪টি দল নিয়ে গঠিত হয়।
খ সামরিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র নামে একটি ব্যবস্থা চালু করেন। এই ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে মোট ৮০ হাজার নির্বাচিত ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠন হবে। তাদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিধান রাখা হয়। ফলে এই পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে আইয়ুব খান খুব সহজেই নিজের সামরিক শাসন পাকাপোক্ত করতে পারেন। এ কারণেই মৌলিক গণতন্ত্র নামে তিনি একটি ব্যবস্থা চালু করেন।
গ মি. রাকিবের এই পরিণতি অর্থাৎ যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও নিম্নবেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শেষ করার পিছনে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশাসনিক বৈষম্যই দায়ী। উদ্দীপকে মি. রাকিব তার কর্মজীবন পাকিস্তান আমলে শেষ করেন। উদ্দীপকে ১৯৫২ ও ১৯৬৯ সালের আন্দোলনের উল্লেখ তা নির্দেশ করে। মূলত ১৯৪৭ সালে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসন-শোষণ প্রতিষ্ঠার ফলে পূর্ব পাকিস্তান সর্বক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়। মূলত প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বৈষম্য ছিল ব্যাপক। পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের ভ‚মিকা ছিল অতি নগণ্য। ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান প্রশাসনের চিত্র ছিল নিম্নরূপ :
১৯৬৬ সালে পাকিস্তান প্রশাসনের চিত্র
নং খাত বাঙালি পশ্চিম পাকিস্তানি
১. প্রেসিডেন্টের সচিবালয় ১৯% ৮১%
২. দেশরক্ষা ৮.১% ৯১.৯%
৩. শিল্প ২৫.৭% ৭৪.৩%
৪. স্বরাষ্ট্র ২২.৭% ৭৭.৩%
৫. তথ্য ২০.১% ৭৯.৯%
৬. শিক্ষা ২৭.৩% ৭২.৭%
৭. স্বাস্থ্য ১৯% ৮১%
৮. আইন ৩৫% ৬৫%
৯. কৃষি ২১% ৭৯%
উপরিউক্ত পদোন্নতির ক্ষেত্রেও পশ্চিম পাকিস্তানিদের প্রাধান্য দেওয়া হতো। তাই যোগ্যতা থাকা স্বত্তে¡ও বাঙালি হিসেবে মি. রাকিব সারাজীবন নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারী হয়ে থাকেন।
ঘ ১৯৫২ ও ১৯৬৯-এর আন্দোলনের ফলে ঐশীরা আজ বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক। বস্তুত বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থান দুইটি মাইলফলক। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির সাংস্কৃতিক ও স্বাধিকার আন্দোলন। পরবর্তীকালে এই আন্দোলন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্ম দেয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের প্রথম পদক্ষেপ ছিল এই আন্দোলন। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে এই আন্দোলন ব্যাপক রূপ লাভ করে। সারা দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে ওঠে। পৃথিবীতে ভাষার জন্য প্রথম শহিদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরো অনেকে। এভাবে ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষা দেয়। অতঃপর আন্দোলনের নানা পর্যায় পেরিয়ে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থানে বাঙালির শক্তি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির পর ঊনসত্তর গণআন্দোলন নতুন রূপ লাভ করে। ২৩ ফেব্রæয়ারির সংবর্ধনা সভায় বঙ্গবন্ধুর ১১ দফা দাবির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং ৬ দফা ও ১১ দফা বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ প্রতিশ্রæতি দেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে গ্রাম ও শহরের কৃষক ও শ্রমিকদের মাঝে শ্রেণি চেতনার উন্মেষ ঘটে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আকাক্সক্ষা বৃদ্ধি পায়। বাঙালি জাতীয়তাবাদী পরিপূর্ণতা লাভ করে, যাতে বলীয়ান হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবশেষে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চ‚ড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, ১৯৫২ ও ১৯৬৯-এর আন্দোলনের ফলে ঐশীরা আজ বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক-প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
প্রশ্ন- ৫  ছয়দফা কর্মসূচি

জনাব রহমান একজন জনপ্রিয় আঞ্চলিক নেতা। তিনি জনগণের অধিকার আদায়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি শাসকগোষ্ঠীর নিকট তার অঞ্চলের জন্য দাবি করেন ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক পরিচালনার ক্ষমতা, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক, সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও আইনসভা গঠন, রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা।
ক. ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কত শতাংশ ছিল? ১
খ. বঙ্গবন্ধুর ‘দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচি’ বলতে কী বোঝায়? ২
গ. জনাব রহমান-এর দাবিনামায় বঙ্গবন্ধুর কোন কর্মসূচির প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. “উক্ত দাবিনামা বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল।”Ñ উক্তিটির মূল্যায়ন কর। ৪

ক ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০ শতাংশ।
খ বঙ্গবন্ধু শোষণহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ‘দ্বিতীয় বিপ্লবের’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ যখন ব্যস্ত তখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি, খাদ্য সংকট, ১৯৭৩-৭৪ সালে বন্যায় দেশে খাদ্যোৎপাদন দারুণভাবে ব্যাহত হয়। ফলে খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়। দেশের অভ্যন্তরে মজুদদার, দুর্নীতিবাজ এবং ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী তৎপর হতে থাকে। বঙ্গবন্ধুর সরকার জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং শোষণহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন দল নিয়ে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠন করেন। দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি নতুন একটি ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। এটিকে তিনি ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ বলে অভিহিত করেন।
গ জনাব রহমান-এর দাবিনামায় বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা কর্মসূচির প্রতিফলন ঘটেছে। ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রæয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে যোগদান করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানে তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য ৬ দফা তুলে ধরেন। দফাগুলো হচ্ছে
১. যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাধীনে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার হবে। সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠান।
২. কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে মাত্র দুটি বিষয় থাকবে, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যান্য সকল বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।
৩. সারা দেশে হয় অবাধে বিনিয়োগযোগ্য দু’ধরনের মুদ্রা, না হয় বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে একই ধরনের মুদ্রা প্রচলন করা।
৪. সকল প্রকার কর ধার্য করার ক্ষমতা থাকবে আঞ্চলিক সরকারের হাতে। আঞ্চলিক সরকারের আদায়কৃত রাজস্বের একটা নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
৫. অঙ্গরাজ্যগুলো নিজেদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার মালিক হবে, এর নির্ধারিত অংশ তারা কেন্দ্রকে দেবে।
৬. অঙ্গ রাজ্যগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আধাসামরিক বাহিনী গঠন করার ক্ষমতা দেওয়া।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে জনাব রহমান এর দাবিনামা মূলত বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা কর্মসূচির প্রতিফলন।
ঘ উক্ত দাবিনামা তথা বঙ্গবন্ধুর ‘৬ দফা দাবি’ বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলার বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে ৬ দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবিনামায়। ৬ দফা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরে। আইয়ুব সরকার একে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। এ কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনা-মূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬-দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। এটি ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। পাকিস্তান সরকার এটি গ্রহণ না করে দমন-পীড়ন শুরু করলে আন্দোলন অনিবার্য হয়ে ওঠে। এ আন্দোলন ছিল মূলত স্বাধিকারের আন্দোলন। পরবর্তীতে এ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ও ধারাবাহিকতায় স্বাধীন বাংলাদেশের উদ্ভবও নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে ‘৬ দফা দাবি’-ই বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল।
প্রশ্ন- ৬  যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন

নবাবপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে রহমত আলী চেয়ারম্যান হিসাবে আছেন। কোনোভাবেই নির্বাচন হতে দেন না। এবার সব বাধা পার করে এলাকার লোকজন নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। নির্বাচনে উক্ত চেয়ারম্যানকে পরাজিত করতে কয়েকটি দল একত্রিত হয়ে একজনকে মনোনয়ন দেয় এবং জনগণের সামনে তারা নির্বাচন-পূর্ব বেশ কয়েকটি দফা উপস্থাপন করেন। নির্বাচনে তাদের মনোনীত ব্যক্তি জিতলেও কিছুদিন পর কর্তৃপক্ষ উক্ত নির্বাচন বাতিল করে।
ক. কার নেতৃত্বে গণআজাদী লীগ গঠিত হয়? ১
খ. পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে যে বৈষম্য ছিল তার বিবরণ দাও। ২
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচন তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নির্বাচনের ইঙ্গিত বহন করছে? তা ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. “উল্লিখিত রহমত আলীর মতো শাসকগোষ্ঠী বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না”উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর। ৪

ক ১৯৪৭ সালে কামরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে গণআজাদী লীগ গঠিত হয়।
খ পাকিস্তান সৃষ্টির আগে পূর্ব বাংলা পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় এগিয়ে ছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পর শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দে পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের দ্বিগুণের বেশি লাভ করতে থাকে। ফলে পশ্চিম পাকিস্তানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার জন্য নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
গ উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচন আমার পাঠ্যবইয়ের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ইঙ্গিত বহন করছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর শাসক দল মুসলিম লীগ দীর্ঘদিন নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার গঠনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এছাড়া প্রাদেশিক সরকার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের টালবাহানা পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগ যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২১ দফা প্রণয়ন শেষে ৪টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জনগণ যুক্তফ্রন্টের ২১-দফাকে তাদের স্বার্থ রক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে। এই নির্বাচনে পূর্ববাংলার জনগণ পাকিস্তানের রাষ্ট্র ক্ষমতায় পশ্চিম পাকিস্তানের কর্তৃত্ব ও প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার রায় প্রদান করে। কিন্তু যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল। পাকিস্তান সরকার পূর্ব বাংলার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারেনি। তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। আদমজি পাটকল ষড়যন্ত্রের একপর্যায়ে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের নির্বাচন যেন যুদ্ধফ্রন্ট নির্বাচনেরই পুনরাবৃত্তি।
ঘ উল্লিখিত রহমত আলীর মতো শাসকগোষ্ঠী বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। বস্তুত গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরে যারা ক্ষমতায় থাকতে চায়, তারা টিকতে পারে না। বরং কখনো কখনো দেখা যায় এ ধরনের সরকার অগণতান্ত্রিক উপায়েই ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত হয়। যেমন উদ্দীপকে রহমত আলীর মতো পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত নির্বাচনে যায় নি। অতঃপর ’৫৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলও নষ্ট করে। নির্বাচিত যুক্তফ্রন্টকে বরখাস্ত করে। অথচ এরা ১৯৫৮ সালে সামরিক জান্তার রোষানলে পড়ে। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে নস্যাৎ করার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানভিত্তিক সামরিক-বেসামরিক শাসক গোষ্ঠী তৎপরতা চালিয়ে যেতে থাকে। ফলে সংসদ ও সরকার কার্যকর ভ‚মিকা রাখতে পারেনি। কেন্দ্রে এবং প্রদেশে ঘন ঘন সরকারের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী ক্ষমতা দখলের সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের পরস্পর বিরোধী এমএলএদের মধ্যে মারামারির মতো এক অপ্রীতিকর ঘটনায় ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীকালে হাসপাতালে মারা যান। এরই সুযোগ নিয়ে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জা সারা দেশে সামরিক আইন জারি করেন। পরিশেষে আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি জনসমর্থনহীন অগণতান্ত্রিক সরকার কোনোভাবেই বেশিদিন ক্ষমতায় টিকতে পারে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে তাদের অপসারণ হয় মর্মন্তুদ।
প্রশ্ন- ৭  ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ

অমি তার দাদুর সাথে বসে এমন একটি যুদ্ধের তথ্যচিত্র দেখছিল যার ব্যাপ্তিকাল ছিল ১৭ দিন। এটি ছিল ‘ক’ রাষ্ট্র ও ‘খ’ রাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ। ‘ক’ রাষ্ট্রের একটি অংশ যুদ্ধে লিপ্ত হলেও অপর অংশটি ছিল ভীষণ বিপদের মুখে। এই বিপদের সময় তারা নিজেদের মধ্যে এক ধরনের জাগরণ অনুভব করে এবং অধিকার রক্ষায় সচেতন হয়ে ওঠে।
ক. ‘ভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নতুনভাবে কী নামে গঠিত হয়? ১
খ. “পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের ভ‚মিকা ছিল নগণ্য।”Ñ উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের সাথে পাঠ্যপুস্তকের কোন যুদ্ধের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. তুমি কি মনে কর উক্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই ছয়-দফার উৎপত্তি?Ñযুক্তিসহ তোমার মতামত উপস্থাপন কর। ৪

ক ‘ভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নতুনভাবে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নামে গঠিত হয়।
খ পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের ভ‚মিকা ছিল অতি নগণ্য। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বৈষম্য ছিল ব্যাপক। ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট সচিবালয়ে ৮১% পশ্চিম পাকিস্তানি নিয়োজিত ছিল। পূর্ব পাকিস্তানের ছিল মাত্র ১৯%। তদ্রƒপ দেশরক্ষায় ছিল মাত্র ৮.১%, শিল্পখাতে ২৫.৭%, স্বরাষ্ট্র খাতে ২২.৭%, তথ্য খাতে ২০.১%, শিক্ষা খাতে ২৭.৩%, স্বাস্থ্য খাতে ১৯%, আইনে ৩৫% এবং কৃষিতে পূর্ব পাকিস্তানি ছিল মাত্র ২১%। প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের অংশগ্রহণের এ শতকরা হিসাবই প্রমাণ করে পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ছিল নগণ্য।
গ উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের সাথে পাঠ্যপুস্তকের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের মিল রয়েছে। ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধ ১৭ দিন ধরে অব্যাহত ছিল। উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধেরও ব্যাপ্তিকাল ছিল ১৭ দিন। এটি ছিল ‘ক’ রাষ্ট্র ও ‘খ’ রাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ। ‘ক’ রাষ্ট্রের একটি অংশ যুদ্ধে লিপ্ত হলেও অপর অংশটি ছিল ভীষণ বিপদের মুখে। এই বিপদের সময় তারা নিজেদের মধ্যে এক ধরনের জাগরণ অনুভব করে এবং অধিকার রক্ষায় সচেতন হয়ে ওঠে। অনুরূপভাবে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধেও পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণরূপে অরক্ষিত ছিল। বিষয়টি পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বৈষম্যমূলক মনে হয়েছিল।
ঘ আমি মনে করি উক্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি তথা ’৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষিতেই ছয় দফার উৎপত্তি। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পূর্ব পাকিস্তান কেবল নিজেদের অরক্ষিতই পায় নি, বরং এ সময় ‘ইসলাম বিপন্ন হওয়া’, রবীন্দ্র সঙ্গীতকে ‘হিন্দু সংস্কৃতি’, নজরুল ইসলামের গানে ‘হিন্দুয়ানি’র অভিযোগ তুলে এসবের চর্চা বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ নিজেদের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করে। বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হতে থাকে। অতঃপর পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলার বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে ৬ দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবিনামায়। এ প্রেক্ষিতে আমি মনে করি, ’৬৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই ছয় দফার উৎপত্তি।
প্রশ্ন- ৮  ভাষা আন্দোলনের প্রভাব

আঁখি তার বন্ধু লুসির জন্মদিনের শুভেচ্ছায় বাংলায় ‘শুভ জন্মদিন’ লিখে পাঠিয়ে গর্ববোধ করে। পাশ্চাত্য ভাবধারায় বেড়ে ওঠা লুসি তার কাজটি সমর্থন করতে পারে নি। সে ইংরেজিতে প্রচলিত শব্দ ‘ঐঅচচণ ইওজঞঐ উঅণ’ আশা করেছিল।
ক. কত সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়? ১
খ. জাতীয়তাবোধ বলতে কী বোঝায়? ২
গ. আঁখির মানসিকতায় ঐতিহাসিক কোন ঘটনার ইংগিত পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. তুমি কি মনে কর লুসির চিন্তাচেতনা বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশের অন্তরায়? যুক্তিসহ লেখ। ৪

ক ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়।
খ ‘জাতীয়তাবোধ’ এক ঐক্যের অনুভ‚তি। নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে যখন ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক সকলের মধ্যে অনুভ‚ত হয়, যখন নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব তারা উপলব্ধি করে তখন যে ঐক্য চেতনা অনুভ‚ত হয় তাই জাতীয়তাবোধ ।
গ আঁখির মানসিকতায় ভাষা আন্দোলনের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। কারণ ভাষা আন্দোলনের মূল লক্ষ্যই ছিল বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করা, বাঙালির মুখের ও লেখার ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। মূলত ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানিদের ওপর নানা ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করে। পুরো পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬ শতাংশ জনগোষ্ঠীর মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্তে¡ও পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে এই আন্দোলন ব্যাপক রূপলাভ করে। এই আন্দোলনে সালাম, বরকত, রফিকসহ আরও অনেকে শহিদ হন। অবশেষে শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের দাবি মেনে নেয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, আঁখি তার বন্ধু লুসির জন্মদিনের শুভেচ্ছায় বাংলায় ‘শুভ জন্মদিন’ লিখে পাঠায়। এ বিষয়ের মাধ্যমে আঁখির মানসিকতায় ভাষা আন্দোলনের প্রভাব ফুটে ওঠে।
ঘ আমি মনে করি লুসির চিন্তা চেতনা বাংলা ভাষা বিকাশের অন্তরায়। ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বাধিকার আন্দোলন। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের প্রথম পদক্ষেপ ছিল এই ভাষা আন্দোলন। ভাষার জন্য শহিদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার এবং আরও অনেকে। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করা এবং পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা। বহু ত্যাগ তিতিক্ষার পর আমরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে পেয়েছি। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়। বিশ্বের ইতিহাসে অনন্যসাধারণ ঘটনা হিসেবে আমাদের ভাষা ও শহিদ দিবস আজ আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের স্বীকৃতি লাভ করেছে। ভাষা আন্দোলনের এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আঁখি তার বন্ধু লুসিকে জন্মদিনে বাংলায় ‘শুভ জন্মদিন’ লিখে পাঠায়। পাশ্চাত্য ভাবধারায় বেড়ে ওঠা তার বন্ধু লুসি ইংরেজিতে প্রচলিত শব্দ ‘ঐঅচচণ ইওজঞঐ উঅণ’ আশা করেছিল। বাংলা ভাষা চর্চা না করে বিদেশি ভাষা চর্চা করলে নিজস্ব সংস্কৃতিকে বিসর্জন দেওয়া হয়। বাংলা ভাষার বিকশিত হওয়ার সুযোগ থাকে না। এতে বাংলা ভাষার সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যকে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়। এতে বাঙালি চেতনাবোধ নষ্ট হয়ে যায়। অথচ লুসির চিন্তা চেতনা তেমনই। সুতরাং লুসির চিন্তাচেতনা বাংলা ভাষা বিকাশের অন্তরায়।
প্রশ্ন- ৯  ভাষা আন্দোলন

প্রভাত ফেরি, প্রভাত ফেরি আমায় নিবে সঙ্গে
বাংলা আমার বচন আমি জন্মেছি এই বঙ্গে।
আগামীকাল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে রাতুল আবৃত্তি করবে। তার মা কবিতাটি শেখাচ্ছেন। রাতুলের আবৃত্তি শুনে বৃদ্ধ দাদু মোশারফ সাহেবের তার ছাত্রজীবনের একটি আন্দোলনের কথা মনে পড়ে গেল। ফেব্রæয়ারি মাসের সেই দিনে ঢাকা শহরে ছাত্রজনতা বিশাল মিছিল নিয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। শুরু হয় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ। সেই গোলাগুলিতে অনেকে শহিদ হন।
ক. ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় কবে? ১
খ. ‘তমদ্দুন মজলিস’ সংগঠনটির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকের মোশারফ সাহেবের মনে পড়া আন্দোলনটির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে উক্ত আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করেছে’ তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর। ৪

ক ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট রাতে।
খ সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে গড়ে ওঠা তমদ্দুন মজলিসের উদ্দেশ্য ছিল মূলত বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিস নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। ৬-৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত উক্ত সংগঠনের যুবকর্মী সম্মেলনে ‘বাংলাকে শিক্ষা ও আইন আদালতের বাহন’ করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর এই সংগঠন ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে। এ সময়ে তমদ্দুন মজলিস ‘ভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে। অর্থাৎ তমদ্দুন মজলিসের উদ্দেশ্য ছিল মূলত ভাষার দাবি আদায় করা।
গ উদ্দীপকে মোশারফ সাহেবের মনে পড়া আন্দোলনটি হলো বাঙালির মাতৃভাষা আন্দোলন। বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা না করার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) তৎকালীন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।’ ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও তিনি অনুরূপ ঘোষণা দিলে ছাত্রসমাজ ‘না, না’ বলে এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার নতুন ঘোষণা প্রদান করেন। প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে। ৪ ফেব্র“য়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। ২১ ফেব্র“য়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট এবং রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু ২০ ফেব্র“য়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১ ফেব্র“য়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ মিছিলে গুলি করে। এতে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন, আহত হন। উদ্দীপকে মোশারফ সাহেবের এ ঘটনাই মনে পড়ে যায়। বস্তুত ১৯৪৭ সালে সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপ নেয়। ফলে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।
ঘ উক্ত আন্দোলন অর্থাৎ বাঙালির মাতৃভাষা আন্দোলনই বাঙালির মধ্যে জাতীয়তাবাদের চেতনা জাগ্রত করে। ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান এ দুটি অংশ নিয়ে গড়ে ওঠে পাকিস্তান রাষ্ট্র। তবে শুরু থেকেই পাকিস্তানের শাসনভার পশ্চিম পাকিস্তানের ধনিক গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভ‚ত হওয়ায় পূর্ব বাংলার সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজ ব্যবস্থাকে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের করায়ত্ত করতে শুরু করে। এর বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণ প্রতিবাদ ও আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলে। মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপলাভ করে। ফলে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ভাষা আন্দোলন এ দেশে মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। অর্থাৎ বাঙালির জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে। পাকিস্তানের প্রতি আগে যে মোহ ছিল তা দ্রুত কেটে যেতে থাকে। নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে। ভাষাকেন্দ্রিক এই ঐক্যই জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে।
প্রশ্ন- ১০  ভাষা আন্দোলন

ক. ঐতিহাসিক আগরতলা মামলায় মোট আসামির সংখ্যা কত ছিল? ১
খ. ভিশন-২০২১ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের এগিয়ে যাওয়ার একটি কারণ বর্ণনা কর। ২
গ. উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্রটি আমাদের কোন ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়? আলোচনা কর। ৩
ঘ. উক্ত ঘটনাটি বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে অসামান্য অবদান রাখে বিশ্লেষণ কর। ৪

ক ঐতিহাসিক আগরতলা মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ছিল ৩৫ ।
খ ভিশন-২০২১ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার এগিয়ে যাওয়ার একটি কারণ হচ্ছে, উন্নয়নের জন্য নীতিগত ভিত্তি প্রস্তুত করা। যেকোনো জাতীয় উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য একটি নীতিগত ভিত্তি প্রয়োজন হয়। সরকার অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের জন্য জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন বা সংশোধন করে একটি উন্নয়ন কাঠামো প্রস্তুতের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা ও প্রকল্প প্রয়োজন হয়। এ আলোকে সরকার “বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২০২১” শীর্ষক পরিকল্পনা দলিল প্রস্তুত করেছে। ফলে সরকার ভিশন ২০২১ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এগিয়ে গিয়েছে।
গ উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্র ‘শহিদ মিনার’ আমাদের ভাষা আন্দোলনের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সরকারি এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রæয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা সমাবেশ, মিছিল এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা না করা নিয়ে অনেক আলোচনা শেষে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ২১ ফেব্রæয়ারি সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিক থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল এগিয়ে চলে। পুলিশ প্রথমে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে, মিছিলে লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি বর্ষণ করলে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন, অনেকে আহত হন। ঢাকায় ছাত্রহত্যার খবর দ্রæত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ২২ ফেব্রæয়ারি ঢাকায় বিশাল শোক র‌্যালি বের হয়। এখানে পুলিশের হামলায় শফিউর নামে একজনের মৃত্যু হয়। শহিদদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ঢাকায় ২২ ফেব্রæয়ারি ছাত্রজনতা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি শহিদ মিনার নির্মাণ করে। ২৩ ফেব্রুয়ারি শফিউরের পিতাকে দিয়ে প্রথম শহিদ মিনার উদ্বোধন করা হয়। ২৪ তারিখ পুলিশ উক্ত শহিদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে। পরবর্তীতে সেখানেই চিত্রে প্রদত্ত শহিদ মিনারটি নির্মিত হয়। যা চিরকাল আমাদের মনে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।
ঘ ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে অসামান্য অবদান রাখে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর পঞ্চাশের দশক ব্যাপী ছিল বাঙালিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতিকাল। ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। এ আন্দোলন এ দেশের মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। এ আন্দোলন বাঙালিদের মধ্যে ঐক্য ও স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তোলে। পাকিস্তানি শাসনপর্বে এটি তাদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন। বাঙালির জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে। পাকিস্তানের প্রতি আগে যে মোহ ছিল তা দ্রæত কেটে যেতে থাকে। নিজস্ব জাতিসত্তা সৃষ্টিতে ভাষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক এবং গুরুত্ব পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঙালি হিসেবে নিজেদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে। ভাষাকেন্দ্রিক এই ঐক্যই জাতীয়বাদের মূল ভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply