নবম-দশম শ্রেণির ব্যবসায় উদ্যোগ সপ্তম অধ্যায় বাংলাদেশের শিল্প সৃজনশীল ও জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর

সপ্তম অধ্যায়
বাংলাদেশের শিল্প

শিল্পের প্রকারভেদ : সাধারণত ব্যাপক মূলধনী সামগ্রী ব্যবহার করে কারখানাতে কাঁচামাল বা প্রাথমিক দ্রব্যকে মাধ্যমিক বা চ‚ড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে শিল্প বলা হয়। আমাদের দেশের অর্থনীতিতে শিল্পের ভ‚মিকা রয়েছে। ব্যাপক অর্থে শিল্প দুই প্রকার। উৎপাদনমুখী শিল্প ও সেবা শিল্প। এসব শিল্পকে কুটির, বৃহৎ মাঝারি ও ক্ষুদ্র এই চার ভাগে ভাগ করা যায়।
 কুটির শিল্প : কুটির শিল্প বলতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য বিশিষ্ট সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫ লক্ষ টাকার নিচে এবং পারিবারিক সদস্য সমন্বয়ে সর্বোচ্চ জনবল ১০-এর অধিক নয়। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় কুটির শিল্প পরিচালিত হয়।
 বাংলাদেশের কুটির শিল্পের উপযুক্ত ক্ষেত্র : নানা রকমের কুটির শিল্প আমাদের দেশকে করেছে সমৃদ্ধ। বিভিন্ন অঞ্চলের কুটির শিল্প এত বেশি সুনাম অর্জন করেছে, যার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল সে অঞ্চলের কুটির শিল্পের নামে পরিচিতি লাভ করেছে। যেমনÑ রাঙামাটি কুটির শিল্প, মণিপুরি কুটির শিল্প, কুমিল্লার খদ্দর ইত্যাদি। পাটজাত শিল্প, বাঁশ ও বেত শিল্প, মৃৎ শিল্প, তাঁত ও বস্ত্র শিল্প, খাদ্য ও সহায়ক শিল্প, হস্ত শিল্প, ঝিনুক শিল্প, ক্ষুদ্র ইস্পাত ও প্রকৌশল শিল্প, কেমিক্যাল শিল্প ইত্যাদি বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কুটির শিল্প।
 ক্ষুদ্র শিল্প : উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে ‘ক্ষুদ্র শিল্প’ বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য, প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ লক্ষ টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ২৫-৯৯ জন শ্রমিক কাজ করে।
সেবামূলক শিল্পের ক্ষেত্রে ‘ক্ষুদ্র শিল্প’ বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য, প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫ লক্ষ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ১০-২৫ জন শ্রমিক কাজ করে।
 মাঝারি শিল্প : উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে ‘মাঝারি শিল্প’ বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য, প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ কোটি টাকা থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১০০-২৫০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
সেবামূলক শিল্পের ক্ষেত্রে ‘মাঝারি শিল্প’ বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য, প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১ কোটি টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত কিংবা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৫০-১০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
 বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অবদান : বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। দেশের ৯৬ ভাগ শিল্পই কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের আওতাভুক্ত। স্বল্প মূলধন, স্থানীয় র্কাঁচামাল, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, সৃজনশীলতা, পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে মহিলাদের কর্মশক্তি ব্যবহার করে এ জাতীয় শিল্পগুলো গড়ে ওঠে। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য লালন ও বিকাশে এবং সারাবিশ্বে তা ছড়িয়ে দিতেও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
 কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে করণীয় : কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে করণীয়গুলো হলোÑ কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ, বাজারের নৈকট্য, শ্রমিকের পর্যাপ্ত যোগান, পরিবহনের সুযোগ-সুবিধা, স্থানীয় ও বৈদেশিক চাহিদার ওপর গুরুত্বারোপ, পুঁজির সহজলভ্যতা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার সহজলভ্যতা।
 বৃহৎ শিল্প : উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে ‘বৃহৎ শিল্প’ বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৩০ কোটি টাকার অধিক কিংবা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ২৫০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
সেবামূলক শিল্পের ক্ষেত্রে ‘বৃহৎ শিল্প’ বলতে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৫ কোটি টাকার অধিক কিংবা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ১০০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
 বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বৃহৎ শিল্প :
ক্স খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ক্স তৈরি পোশাক শিল্প
ক্স জনশক্তি রপ্তানি ক্স ভেষজ ওষুধ শিল্প
ক্স জাহাজ নির্মাণ ও পরিবেশসম্মত জাহাজ ভাঙা শিল্প ক্স চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য
ক্স নবায়নযোগ্য শক্তি (সোলার পাওয়ার, উইন্ড মিল) ক্স হাসপাতাল ও ক্লিনিক
ক্স পর্যটন শিল্প ক্স অটোমোবাইল
ক্স আইসিটি পণ্য ও আইসিটি ভিত্তিক সেবা ক্স বায়ুগ্যাস প্রকল্প

অনুশীলনীর সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রাশিক ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে পাট চাষের জন্য বিখ্যাত ঢাকা বিভাগের ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর গ্রামে একটি পাট ও পাটজাতশিল্প স্থাপন করেন। তার বন্ধু রাফি সমপরিমাণ বিনিয়োগ করে একই ধরনের শিল্প স্থাপন করলেন রাজশাহী অঞ্চলে যেখানে আখ চাষ বেশি হয়। নির্দিষ্ট সময় পরে রাশিকের শিল্প প্রতিষ্ঠানটি রাফির প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি মুনাফা করে।
ক. ব্যাপক অর্থে শিল্পকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
খ. সেবা শিল্প বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
গ. বিনিয়োগের মাপকাঠিতে রাশিকের ব্যবসায়টি কোন ধরনের? বর্ণনা কর।
ঘ. রাশিকের শিল্প প্রতিষ্ঠানটিতে অধিক মুনাফা হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ কর।
 ১নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. ব্যাপক অর্থে শিল্পকে ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
খ. যে শিল্পে যন্ত্রপাতি কিংবা স্থায়ী সম্পদ বা মেধা সম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে সেবামূলক কার্য সম্পাদিত হয় তাকে সেবা শিল্প বলে। মৎস্য আহরণ, নির্মাণ শিল্প ও হাউজিং, অটোমোবাইল সার্ভিসিং, বিনোদন শিল্প, হর্টিকালচার, ফুল চাষ, দুগ্ধ ও পোলট্রি উৎপাদন এবং বিপণন, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, পর্যটন ও সেবা ইত্যাদি সেবা শিল্পের অন্তর্গত। এ ধরনের শিল্পগুলো মূলত বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক কার্য সম্পাদনের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে।
গ. বিনিয়োগের মাপকাঠিতে রাশিকের ব্যবসায়টি একটি মাঝারি শিল্প।
উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে মাঝারি শিল্প বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য, প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ কোটি টাকা থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১০০-২৫০ জন শ্রমিক কাজ করে। উদ্দীপকের জনাব রাশিক ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর গ্রামে একটি পাট ও পাটজাত শিল্প স্থাপন করেছেন। বিধায় বিনিয়োগের মাপকাঠিতে তার ব্যবসায়টি মাঝারি শিল্পের আওতাভুক্ত। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে রাশিকের মতো শিল্পোদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত মাঝারি শিল্পগুলো বেকার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখছে।
ঘ. কাঁচামালের সহজলভ্যতার কারণে রাশিকের শিল্প প্রতিষ্ঠানটিতে অধিক মুনাফা অর্জিত হয়েছে।
যে জাতীয় কাঁচামাল যেখানে বেশি সেখানে ঐ জাতীয় শিল্পগুলো বেশি গড়ে ওঠে। কারণ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সহজেই পাওয়া যায়। ফলে কম খরচে ও সহজে অধিক উৎপাদন সম্ভব হয়। রাশিক পাট চাষের জন্য বিখ্যাত ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর গ্রামে একটি পাট ও পাটজাত শিল্প স্থাপন করেন। ফলে রাশিকের প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্য সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের প্রাপ্তি সহজলভ্য হয়। কিন্তু রাশিক তার বন্ধু রাফি রাজশাহী অঞ্চলে পাট ও পাটজাত শিল্প স্থাপন করেন। সেখানে আখের উৎপাদন বেশি। ফলে রাফিকে তার প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্য সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহে অধিক পরিবহন ব্যয় ও সময় অপচয় করতে হয়। তাছাড়া কাঁচামালের প্রাপ্তিতেও অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। এতে উৎপাদন ও মুনাফা হ্রাস পায়।
উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণের ওপর ঐ প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে। কাঁচামালের সহজলভ্যতার কারণে দক্ষতার সাথে প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়। রাশিক তার শিল্প প্রতিষ্ঠানটি উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করে পরিচালনা করছে বিধায় প্রতিষ্ঠানটি অধিকতর লাভজনক হয়েছে।
সুতরাং বলা যায়, কাঁচামালের সহজলভ্যতার কারণেই রাশিকের শিল্প প্রতিষ্ঠানটিতে অধিক মুনাফা অর্জিত হয়েছে।
প্রশ্ন-২  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
কক্সবাজারের জেরিন তাসনিম বিদ্যুতের ক্রমাগত চাহিদার কথা বিবেচনা করে সরকারি অনুমতি নিয়ে সমুদ্রতীরে একটি বায়ুচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করলেন। সমুদ্রের বাতাসকে কাজে লাগিয়ে উইন্ড মিলের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করেন। তার এ শিল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ কোটি টাকার অধিক।
ক. বিনিয়োগের মাপকাঠিতে শিল্পকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
খ. কুটির শিল্প বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
গ. জনাব জেরিনের শিল্পটি কোন ধরনের? বর্ণনা কর।
ঘ. জনাব জেরিন তাসনিমের স্থাপিত শিল্পের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল হবে-মূল্যায়ন কর।
 ২নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. বিনিয়োগের মাপকাঠিতে শিল্পকে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
খ. কুটির শিল্প বলতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য বিশিষ্ট সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫ লক্ষ টাকার নিচে এবং পরিবারের সদস্য সমন্বয়ে সর্বোচ্চ জনবল ১০-এর অধিক নয়। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় কুটিরশিল্প পরিচালিত হয়। তারা পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সময়ে উৎপাদন বা সেবা কাজে জড়িত থাকে।
গ. জনাব জেরিনের শিল্পটি সেবামূলক শিল্পের আওতায় একটি মাঝারি শিল্প।
সেবামূলক শিল্পের ক্ষেত্রে মাঝারি শিল্প বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানের জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য, প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১ কোটি টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৫০-১০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে। এ জাতীয় শিল্পের উদ্যোক্তাগণ নিজের শ্রম ও মেধা খাটিয়ে এবং স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। উদ্দীপকের জেরিন ৩ কোটি টাকার অধিক ব্যয় করে কক্সবাজারে একটি বায়ুচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছেন। তার এই শিল্পের মাধ্যমে জনগণকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কিছুটা হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে। তার এ সেবামূলক কাজের দ্বারা সে মুনাফা অর্জন করতে পারছেন। বিদ্যুতের জন্য যে বায়ু প্রয়োজন সে তা সহজেই পাচ্ছে। এছাড়া সরকারি সাহায্য-সহযোগিতাও সে পাচ্ছে। এসব থেকে সহজেই বোঝা যায়, জনাব জেরিনের শিল্পটি একটি সেবামূলক মাঝারি ধরনের শিল্প।
ঘ. জনাব জেরিন তাসনিমের স্থাপিত বায়ুচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেশের কলকারখানা সচল রাখার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।
একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করে সে দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের অগ্রসরতার ওপর। আর একটি দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্য ও শিল্প স্থাপন নির্ভর করে ঐ দেশের উদ্যোক্তাদের ওপর। বাংলাদেশে এখনও অর্থনৈতিকভাবে আশানুরূপ উন্নয়ন সাধিত হয়নি। এদেশের বিভিন্ন শিল্প গড়ে ওঠার মতো প্রয়োজনীয় কাঁচামালের যথেষ্ট প্রাচুর্য রয়েছে। শুধু শিল্পের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করলেই সফলতা অর্জন করা সম্ভব। উদ্দীপকের জনাব জেরিন তাসনিমের স্থাপিত বায়ুচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেশের বিভিন্ন কলকারখানায় সরবরাহ করা সম্ভব। ফলে ঐ অঞ্চলে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সম্ভাবনা সৃষ্ট হবে এবং স্থাপিত কারখানাগুলোর উৎপাদন ও মুনাফা উভয়ই বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশের কর্মসংস্থান, জাতীয় আয়, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে। সর্বোপরি দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল হবে।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সম্পদের প্রবল সংকট বিদ্যমান। বিদ্যুতের অভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদনের অন্যান্য উপাদান যেমন : কাঁচামাল, মানবসম্পদ ও যন্ত্রপাতি প্রভৃতির যথাযথ ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চাহিদার সাথে যোগানের সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানি কার্যে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হচ্ছে।
সুতরাং, জনাব জেরিন তাসনিমের স্থাপিত বিদ্যুৎ শিল্পের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল হবে Ñ এই উক্তিটি যথার্থ।

প্রশ্ন -৩ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জনাব সজল তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের শোপিস, ফুলদানি তৈরি করেন এবং নিজের দোকানেই সেগুলো বিক্রি করেন। অন্যদিকে জনাব আবির ১১৫ জন শ্রমিক নিয়ে চামড়ার তৈরি জুতা, ব্যাগ তৈরি করেন। তার তৈরিকৃত পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরেও রপ্তানি করা হয়।
ক. ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধানকে কী বলে? ১
খ. বৃহৎ শিল্প কাকে বলে? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. জনাব সজলের স্থাপিত শিল্পের বর্ণনা দাও। ৩
ঘ. বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে জনাব আবিরের শিল্পের অবদান মূল্যায়ন কর। ৪
 ৩নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধানকে মুনাফা বলে।
খ. উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে বৃহৎ শিল্প বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৩০ কোটি টাকার অধিক কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২৫০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। আর সেবামূলক শিল্পের ক্ষেত্রে বৃহৎশিল্প বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৫ কোটি টাকার অধিক কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১৫০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
গ. জনাব সজলের স্থাপিত শিল্পটি কুটির শিল্প।
কুটির শিল্প বলতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য বিশিষ্ট সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫ লক্ষ টাকার নিচে এবং পারিবারিক সদস্য সমন্বয়ে সর্বোচ্চ জনবল ১০-এর অধিক নয়। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় কুটির শিল্প পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকের জনাব সজল মাটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের শোপিস, ফুলদানি তৈরি করে বিক্রি করেন। তার এ কাজে তাকে তার পরিবারের সদস্যরা সাহায্য করে। সুতরাং জনাব সজল স্বল্প মূলধন, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও সৃজনশীলতা, কারিগরি জ্ঞান এবং এবং পারিবারিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে যে শিল্প প্রতিষ্ঠা করেছেন তা একািট কুটির শিল্প।
ঘ. বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে জনাব আবিরের শিল্প তথা মাঝারি শিল্পের অবদান অনস্বীকার্য।
যে উৎপাদনমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য, প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ কোটি টাকার অধিক এবং ৩০ কোটি টাকার মধ্যে কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১০০-২৫০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে সে শিল্প প্রতিষ্ঠানকে মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান বলে। উদ্দীপকের জনাব আবির ১১৫ জন শ্রমিক নিয়ে চামড়ার জুতা, ব্যাগ তৈরি একটি শিল্প প্রতিষ্ঠা করেন। তাই শ্রমিক সংখ্যা ও ক্ষেত্র বিবেচনায় তার শিল্পটি মাঝারি শিল্পের অন্তর্গত। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে এরূপ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। দারিদ্র্যবিমোচন স্বকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এর অবদান উল্লেখযোগ্য। কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র হচ্ছে এসব শিল্প। দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ এ শিল্পের সাথে জড়িত।
তাই বলা যায়, জাতীয় ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য ভোগপণ্য সরবরাহ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন প্রভৃতি ক্ষেত্রে মাঝারি শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে।

প্রশ্ন -৪ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মি. জামাল একজন প্রবাসী। তিনি বিদেশ থেকে অনেক দিন পর তার গ্রামে গণ্ডামারায় ফিরলেন। তিনি দেখলেন গ্রামে প্রায় প্রতিটি পরিবার নিজস্ব উদ্যোগে পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন উৎপাদন কাজে জড়িত। এতে তিনি অত্যধিক খুশি হন কারণ তিনি জানেন আর্থসামাজিক উন্নয়নে কুটির শিল্পের ভ‚মিকা অনেক বেশি।
ক. বাংলাদেশের সর্বশেষ শিল্পনীতি কত সালের? ১
খ. শিল্পনীতি বলতে কী বোঝায়? ২
গ. মি. জামালের এলাকায় গড়ে ওঠা শিল্পগুলোর ধরন বর্ণনা কর। ৩
ঘ. মি. জামালের অভিমতটি বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৪নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. বাংলাদেশের সর্বশেষ শিল্পনীতি ২০১০ সালের।
খ. নীতি অর্থ বিধিবদ্ধ নিয়ম। শিল্পের জন্য যে আইন প্রণয়ন করা হয় তাকে শিল্পনীতি বলা হয়। শিল্পের গঠনে, পরিচালনা এবং স¤প্রসারণসহ সকল বিষয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শিল্পের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ যে নীতি প্রণয়ন করে তাকে শিল্পনীতি বলা হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে শিল্পনীতি ২০১০ প্রচলিত রয়েছে।
গ. মি. জামালের এলাকায় গড়ে ওঠা শিল্পগুলো হলো কুটির শিল্প।
কুটির শিল্প বলতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য বিশিষ্ট সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যার সম্পদের মূল্য ৫ লক্ষ টাকার নিচে। এ ধরনের শিল্পে সাধারণত পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন উৎপাদন কার্য সম্পন্ন হয়। উদ্দীপকে মি. জামাল বিদেশ থেকে ফিরে দেখলেন তার গ্রামের প্রতিটি পরিবার নিজস্ব মূলধন ও স্থায়ী কাঁচামাল ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করছে। যেহেতু ব্যবসায়গুলো পরিবার কেন্দ্রিক এবং স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করছে এবং পুঁজির পরিমাণ কম তাই সহজেই বোঝা যায় এগুলো কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। কুটির শিল্প দেশের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক। এটি দেশের একটি অন্যতম প্রধান শিল্প।
ঘ. অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে কুটির শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে।
ছোট জায়গা, স্বল্প মূলধন, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও সৃজনশীলতা, কারিগরি জ্ঞান এবং পারিবারিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে কুটির শিল্প। নানা রকমের কুটির শিল্প আমাদের দেশকে করেছে সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে কুটির শিল্প ব্যাপক অবদান রাখছে। দারিদ্র্য বিমোচন স্বকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এর অবদান উল্লেখযোগ্য। কুটির শিল্প দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য লালন করে এবং তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়ে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করছে। উদ্দীপকে গ্রামের প্রতিটি পরিবারে স্থাপিত কুটির শিল্পগুলো আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখছে। বর্তমানে কর্মসংস্থানের অন্যতম ক্ষেত্র হচ্ছে কুটির শিল্প। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং অল্প কিছু শ্রমিক ও মূলধন নিয়ে মি. জামালের মতো যে কেউ এ শিল্প গড়ে তুলতে পারে। এতে ব্যক্তি ও পরিবারের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে তেমনি পরিবারেরও আর্থিক উন্নতি হয়। এভাবে সমাজে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব। কুটির শিল্পে নিয়োজিত ব্যক্তিরা সামাজিকভাবে সম্মানিত হয়ে থাকেন। কারণ তাদের উৎপাদিত পণ্য বা সেবায় সমাজের মানুষজন নানাভাবে উপকৃত হয়ে থাকেন। কুটির শিল্প বিশেষ করে গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
প্রশ্ন -৫ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জনাব সায়মন চট্টগ্রামের একটি ওষুধ তৈরির কারখানায় পরিদর্শনে যান। কারখানার মালিক আব্দুর রহমান বলেন, এখানে কারখানা স্থাপনের উদ্দেশ্য হলো উন্নতমানের ওষুধ কম খরচে উৎপাদন করা এবং বিদেশে রপ্তানি করা। এ জন্য তিনি দক্ষ জনশক্তিও নিয়োগ করেছেন।
ক. বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কোনটির ভ‚মিকা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে? ১
খ. জাতীয় ঐতিহ্য বলতে কী বোঝায়? ২
গ. আব্দুর রহমান কেন চট্টগ্রামে কারখানাটি স্থাপন করলেন? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. আব্দুর রহমানের ব্যবসায়টি কি শুধু চট্টগ্রামের উন্নয়নেই ভ‚মিকা রাখবে? তোমারা মতামত দাও। ৪
 ৫নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের অবদান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
খ. যুগ যুগ ধরে লালিত আচার-আচরণ, পেশা, পোশাক-আশাক ইত্যাদি যা দ্বারা একটি জাতি সম্পর্কে সাধাারণ ধারণা লাভ করা যায় তাকে জাতীয় ঐতিহ্য বলে। জাতীয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় একটি দেশে ও সমাজে একই পেশা ও সংস্কৃতির প্রচলন থাকে। আর কুটির শিল্প অঞ্চলভিত্তিক কাঁচামাল ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠে। ফলে বাংলাদেশের কুটির শিল্প এদেশের জাতীয় ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে পরিগণিত হয়।
গ. আব্দুর রহমান সহজ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দক্ষ জনশক্তি প্রভৃতি বিবেচনায় চট্টগ্রামে ওষুধ কারখানা স্থাপন করলেন।
শিল্পের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় এনে উদ্যোক্তরা কোনো স্থানে শিল্প কারখানা গড়ে তুলেন। বর্তমানে বাংলাদেশে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হলো ওষুধ শিল্প। উদ্দীপকে আব্দুর রহমানের ওষুধ কারখানাটি স্থাপনের উদ্দেশ্য হলো বিদেশে তা রপ্তানি করে অধিক মুনাফা অর্জন করা। ওষুধ রপ্তানি করার জন্য অন্যতম বিবেচ্য বিষয় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা যা চট্টগ্রামে রয়েছে। উন্নতমানের ওষুধ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি যা আব্দুর রহমান তার কারখানায় নিয়োজিত করেছেন। এসব বিষয় ছাড়াও সরকারি সুযোগ-সুবিধা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সুবিধা প্রভৃতি চট্টগ্রামে বিদ্যমান। এসব উপাদনসমূহও আব্দুর রহমানের ওষুধ কারখানা স্থাপনের জন্য গুরত্বপূর্ণ। এসব সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করেই উপযুক্ত এলাকা হিসেবে আব্দুর রহমান চট্টগ্রামে ওষুধ কারখানা স্থাপন করেছেন।
ঘ. আব্দুর রহমানের ব্যবসায়টি চট্টগ্রামের সাথে সাথে সারাদেশের উন্নয়নে ভ‚মিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
দেশের কোনো স্থানের শিল্প সার্বিকভাবে সারাদেশের উন্নয়নেই ভ‚মিকা রাখে। ওষুধ তৈরির কারখানা একটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের শিল্প। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে এই শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে। দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ এ শিল্পের সাথে জড়িত। উদ্দীপকের আলোকে আব্দুর রহমানের ওষুধ শিল্পটি শুধুমাত্র চট্টগ্রামের উন্নয়নেই নয়, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নতিতেও ভ‚মিকা রাখবে। আব্দুর রহমান চট্টগ্রামে ওষুধ কারখানা স্থাপন করেছেন। এ জন্য যে দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে সংগৃহীত হয়েছে। অর্থাৎ দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে আব্দুর রহমানের কারখানা ভ‚মিকা রাখছে। তাছাড়া তার কারখানার ওষুধ বিদেশে রপ্তানি করলে তা থেকে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে। তাছাড়া আব্দুর রহমান তার আয় হতে সরকারকে কর প্রদান করবেন। পরবর্তীতে সরকার তা দেশের জনকল্যাণে ব্যয় করবে। অর্থাৎ সারাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আব্দুর রহমানের ওষুধ কারখানা ভ‚মিকা রাখবে। এছাড়া তার কারখানায় উৎপাদিত উন্নতমানের ওষুধ বিদেশে রপ্তানি হলে দেশের সুনামও বৃদ্ধি পাবে। এতে পরবর্তীতে অন্য যেকোনো পণ্যও সহজে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আব্দুর রহমানের ওষুধ কারখানা চট্টগ্রামসহ সারাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে।

প্রশ্ন -৬ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আবদুস সালাম কঠোর পরিশ্রমী ব্যক্তি। তিনি অটোমোবাইল সার্ভিসিংয়ের ওপর ট্রেনিং নিয়ে নিজ এলাকায় অটোমোবাইল সার্ভিসিংয়ের ব্যবসা চালু করেন। তার ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা ও দক্ষতার কারণে তিনি ব্যবসায়ে ভালো মুনাফা করছেন। তিনি নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এলাকার আরো কিছু বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। তার ওয়ার্কশপ থেকে অনেকে প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন। তার সফল উদ্যোগের কারণে স্থানীয় বণিক কল্যাণ সমিতি এ বছর তাকে সেরা উদ্যোক্তা পুরস্কার প্রদান করেছে।
ক. কোন শিল্পের উদ্যোক্তারা নিজেই কারিগর? ১
খ. শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণটি ব্যাখ্যা কর। ২
গ. আবদুস সালামের সফলতার কারণ ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. আবদুস সালাম কি অন্যদের জন্য মডেল হতে পারেন? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। ৪
 ৬নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. কুটির শিল্পের উদ্যোক্তারা নিজেই কারিগর।
খ. কাঁচামালের সহজলভ্যতার নিশ্চিতকরণের অভাবে শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। সাধারণত যে জাতীয় কাঁচামাল যেখানে বেশি সেখানেই এ জাতীয় শিল্পগুলো বেশি গড়ে ওঠে। তবে অবকাঠামোগত সুবিধা ও পরিবহন ব্যবস্থার সুবিধা থাকলে দূরবর্তী এলাকাতেও শিল্প স্থাপন করা যায়। তবে অনেক সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যোগাযোগ অব্যবস্থাসহ অন্যান্য কারণে কাঁচামাল পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়লে শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
গ. আবদুস সালামের সফলতার কারণ তার দক্ষতা ও দূরদর্শিতা।
ব্যবসায় একটি সৃজনশীল কর্মকাণ্ড। ব্যবসায়ে সফলতা পেতে হলে মূলধনের সাথে সাথে প্রয়োজন অধ্যবসায়, দক্ষতা, দূরদর্শিতা, উদ্ভাবনী শক্তি, নেতৃত্বদানের যোগ্যতা, সঠিক সিদ্ধান্ত। যা একজন উদ্যোক্তাকে সফল হতে সহায়তা করে। উদ্দীপকের আবদুস সালাম কঠোর পরিশ্রমী। তিনি তার এলাকার অবস্থা বিবেচনা করে অটোমোবাইল সার্ভিসিংয়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন যা ছিল তার দূরদর্শিতার প্রমাণ। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি তার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা শুরু করেন এবং ক্রমান্বয়ে উন্নতি লাভ করতে থাকেন। নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করেন। তাছাড়া তিনি তার প্রতিষ্ঠানে বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলছেন। তার উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ বণিক সমিতি থেকে তিনি সেরা উদ্যোক্তা পুরস্কার লাভ করেন। তাই বলা যায়, আবদুস সালামের দূরদর্শিতা ও পরিশ্রম করার ক্ষমতা তাকে উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে।
ঘ. আবদুস সালাম নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে মডেল স্থাপন করেছেন।
মানুষ তখনই অন্যের নিকট মডেল হয় যখন কোনো ব্যক্তি তার শ্রম, মেধা, অর্থ, দক্ষতা, দূরদর্শিতা, উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে জীবনে সফলতা লাভ করে। উদ্দীপকের আবদুস সালাম তার শ্রম, দক্ষতা ও দূরদর্শিতাকে কাজে লাগিয়ে সফলতা লাভের চেষ্টা করেছেন। তিনি নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। অর্থাৎ নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার সাথে সাথে অন্যকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করেছেন। তাছাড়াও তিনি বেকারদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। যা একজন আদর্শ নেতার গুণাবলির আওতাভুক্ত। উদ্দীপকের আবদুস সালাম একজন সফল উদ্যোক্তা। তিনি তার এলাকার বণিক সমিতি থেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে সম্মাননাও লাভ করেন। যা তার পরিশ্রমের স্বীকৃতি। তার জীবনী বা তার পরিশ্রম অন্যের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। বেকার যুবক-যুবতীরা চাকরির চেষ্টা না করে আবদুস সালামের মতো সফল উদ্যোক্তাকে অনুসরণ করে সফলতা লাভ করতে পারেন।
আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, আবদুস সালাম একজন মডেল যাকে অনুসরণ করে নতুন উদ্যোক্তারা সফল হতে পারেন।
প্রশ্ন-৭  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
শাহানা বেগম তার স্বামী ও তিন মেয়ে নিয়ে সমুদ্রবর্তী তীর এলাকায় বাস করেন। স্বামী মাছ ধরে যা পান তা দিয়ে সংসার ভালোভাবে চলে না। তাই তিনি সমুদ্রতীর থেকে ঝিনুক কুড়িয়ে মালা, অলঙ্কার, খেলনা ও বিভিন্ন ধরনের শোপিস তৈরি করে পার্শ্ববর্তী বাজারে বিক্রয় করেন। এজন্য তার দুই মেয়ে তাকে সাহায্য করে। তার পণ্যগুলোর মান ভালো হওয়ায় বিক্রি বেশ ভালো হয় এবং পরিবারেও বেশ সচ্ছলতা এসেছে। এখন তিনি তার ছোট মেয়েকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন।
ক. জাহাজ নির্মাণ কোন ধরনের শিল্প? ১
খ. শিল্প বলতে কী বোঝায়? ২
গ. শাহানা বেগমের ঝিনুক দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরির কাজটি কোন শিল্পের অন্তর্গত? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শাহানা বেগমের শিল্পটির কি কোনো ভ‚মিকা আছে? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও। ৪
 ৭নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. জাহাজ নির্মাণ উৎপাদনমূলক শিল্প।
খ. ব্যাপক মূলধন সামগ্রী ব্যবহার করে কারখানাতে কাঁচামাল বা প্রাথমিক দ্রব্যকে মাধ্যমিক বা চ‚ড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে শিল্প বলে। শিল্পের উৎপাদন মূলত কারখানাভিত্তিক হয় এবং নির্দিষ্ট দ্রব্যের কারখানাসমূহকে একত্রে শিল্প বলা হয়। যেমন : পাট শিল্প, বস্ত্র শিল্প। অর্থনীতিতে শিল্পের ভ‚মিকা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গ. শাহানা বেগমের ঝিনুক দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরির কাজটি কুটির শিল্পের অন্তর্গত।
কুটির শিল্প হচ্ছে সেই শিল্প যে শিল্পে পরিবারের সদস্যসহ ১০ জনের কম সদস্য নিয়ে পারিবারিক পরিবেশে পণ্য তৈরি করা হয়। কুটির শিল্প সাধারণত শ্রম প্রধান শিল্প। এ শিল্প দ্বারা মহিলাদের কর্মসংস্থান সহজতর হয়। উদ্দীপকে শাহানা বেগম ঝিনুক দিয়ে মালা, অলঙ্কার, খেলনা ও বিভিন্ন ধরনের শোপিস তৈরি করেন। এ কাজে তাকে তার দুই মেয়ে সাহায্য করে। অর্থাৎ পারিবারিক পরিবেশে শাহানা বেগমের শিল্পটি পরিচালিত হয়। কুটির শিল্পের বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন বিদ্যমান থাকায় শাহানা বেগমের ঝিনুক দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরির কাজটি কুটির শিল্পের অন্তর্গত।
ঘ. শাহানা বেগমের স্থাপিত কুটির শিল্পটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে।
কুটির শিল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভ‚মিকা রাখে। আমাদের দেশে মহিলারা এর দ্বারা সহজেই বেকারত্ব দূর করতে পারেন। কুটির শিল্প শুধু পরিবারকে সচ্ছলতা দান করে না, স্থানীয় সম্পদের যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করে যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। উদ্দীপকে শাহানা বেগম তার শিল্পটির মাধ্যমে নিজের এবং নিজের পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছেন। সংসারে অভাব দূর করে এক মেয়েকে লেখাপড়ার জন্য স্কুলে পাঠাচ্ছেন। এতে বোঝা যায় শাহানা বেগম তার কুটির শিল্পটি স্থাপন করার মাধ্যমে তাদের আর্থিক সচ্ছলতা আনয়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। অর্থাৎ তাদের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। তার এই সফলতা অন্যদের কুটির শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করবে। আর দেশের বেকার যুবসমাজ যদি নিজেদের বেকারত্ব ঘুচাতে কুটির শিল্প স্থাপন করে তাহলে তাদের নিজেদের যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে তেমনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও তরান্বিত হবে।
সুতরাং বলা যায়, শাহানা বেগমের শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভ‚মিকা রেখে চলেছে।
প্রশ্ন-৮  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মোঃ বরকত উল্লাহ লেখাপড়া জানা বেকার যুবক। তার ইচ্ছা চাকরি না করে এমন কিছু করবেন যাতে তার ব্যক্তিগত উন্নয়নের সাথে সাথে আর্থসামাজিক উন্নয়নও সাধিত হয়। তাই তিনি পিতার সাথে পরামর্শ করে ৩ লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে পরিবারকেন্দ্রিক শিল্প প্রতিষ্ঠা করেন।
ক. কুটির শিল্প পারিবারিক পরিবেশে কাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে? ১
খ. বেকারদের আত্মকর্মসংস্থান কেন প্রয়োজন? ২
গ. মোঃ বরকত উল্লাহর পরিবারকেন্দ্রিক শিল্পটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেকারত্ব হ্রাসে মোঃ বরকত উল্লাহর মতো উদ্যোক্তাদের ভ‚মিকা বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৮নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. কুটির শিল্প পারিবারিক পরিবেশে মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে।
খ. বেকারত্ব দূরীকরণে বেকারদের আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। আত্মকর্মসংস্থান সামাজিক অবক্ষয় রোধ, অপরাধ প্রবণতা হ্রাস, মানব সম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। বাংলাদেশের মতো ছোট ও জনবহুল দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সহজ নয়। এ অবস্থায় বেকার সমস্যা দূরীকরণে আত্মকর্মসংস্থানের বিকল্প কোনো পথ নেই।
গ. মোঃ বরকত উল্লাহর পরিবারকেন্দ্রিক শিল্পটি হলো কুটির শিল্প।
যে শিল্প স্বল্প পুঁজি নিয়ে পরিবারের সদস্য দ্বারা পরিচালিত এবং জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫ লক্ষ টাকার নিচে এবং সর্বোচ্চ জনবল ১০ এর অধিক নয় সে শিল্পকে কুটির শিল্প বলে। সাধারণত এই শিল্পটি পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য বিশিষ্ট হয়ে থাকে। উদ্দীপকের মোঃ বরকত উল্লাহ লেখাপড়া জানা বেকার যুবক। তিনি ব্যক্তিগত উন্নয়নের সাথে সাথে আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধন করার জন্য মাত্র ৩ লক্ষ টাক পুঁজি নিয়ে পরিবারকেন্দ্রিক শিল্প প্রতিষ্ঠা করেন। এক্ষেত্রে তিনি তার পিতার সাথে পরামর্শ করেন। স্বল্প পুঁজির এবং পরিবারকেন্দ্রিক হওয়ায় তার শিল্পটি কুটির শিল্পের অন্তর্গত।
ঘ. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেকারত্ব হ্রাসে মোঃ বরকত উল্লাহর মতো আত্মকর্মসংস্থানকারী উদ্যোক্তাদের ভ‚মিকা অত্যন্ত ব্যাপক।
বেকারত্ব হ্রাসের উপায় হিসেবে সমাজে প্রচুর পরিমাণে আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। আর এজন্য প্রয়োজন যথেষ্ট পরিমাণ দক্ষ ও সাহসী উদ্যোক্তা যারা ব্যবসায় বা শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। উদ্দীপকের মোঃ বরকত উল্লাহ চাকরি না করে এমন কিছু করতে চায় যাতে নিজের কর্মসংস্থানের সাথে সাথে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হয়। তাই তিনি ৩ লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে পবিরারকেন্দ্রিক শিল্প অর্থাৎ কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠা করেন। কুটির শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে তিনি নিজের এবং কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে ভ‚মিকা রেখেছেন। কেননা বেকারত্ব দূরীকরণে বেকারদের আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। আত্মকর্মসংস্থান সামাজিক অবক্ষয়রোধ, অপরাধ প্রবণতা হ্রাস, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। মো: বরকত উল্লাহ একজন সাহসী উদ্যোক্তা যিনি বেকার জীবনে চাকরির সন্ধান না করে আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প অর্থাৎ কুটির শিল্প স্থাপন করে বেকারত্ব দূর করেছেন।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মোঃ বরকত উল্লাহর মতো আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোক্তারা নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব হ্রাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে।
প্রশ্ন-৯  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জনাব ফিরোজ সাহা ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ফিরোজ সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লি. নামে একটি লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করেন। তার জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে অন্যান্য স্থায়ী সম্পদের মূল্য ২ কোটি টাকা। মোট ৫০ জন শ্রমিক তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
ক. ফিনাইল কোন শিল্পের উৎপাদিত পণ্য? ১
খ. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কীভাবে দেশের শিল্প কাঠামো শক্তিশালী করণে সাহায্য করে। ২
গ. জনাব ফিরোজ সাহার ব্যবসায়টি কোন শিল্পের অন্তর্গত? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. শিল্পটি স্থাপনে জনাব ফিরোজ সাহার নারায়ণগঞ্জকে নির্বাচন করার যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর। ৪
 ৯নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. ফিনাইল কেমিক্যাল শিল্পের উৎপাদিত পণ্য।
খ. বৃহদায়তন শিল্পের ক্ষেত্রে যেখানে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেখানে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দেশের শিল্পায়নে মুখ্য ভ‚মিকা পালন করে। স্বল্প পুঁজি ও দক্ষতা দিয়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তোলা যায় বিধায় এদেশের আর্থসামাজিক অবস্থায় একমাত্র এ শিল্পের মাধ্যমেই দ্রæত শিল্পায়ন সম্ভব। তাছাড়া ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বৃহদায়তন শিল্পে কাঁচামাল ও দক্ষ জনশক্তি সরবরাহ করে যা দেশের শিল্প কাঠামো শক্তিশালীকরণে সাহায্য করে।
গ. জনাব ফিরোজ সাহার ব্যবসায়টি ক্ষুদ্র শিল্পের অন্তর্গত।
উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র শিল্প বলতে সেই সব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৫০ লক্ষ টাকা থেকে ১০ কোটি এবং ২৫-৯৯ জন শ্রমিক কাজ করে। উদ্দীপকে জনাব ফিরোজ সাহার জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে অন্যান্য স্থায়ী সম্পদের মূল্য ২ কোটি টাকা এবং তার প্রতিষ্ঠানে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করে। ক্ষুদ্র শিল্পের আওতায় জনাব ফিরোজ সাহার ব্যবসায়টি পরিচালিত হয় পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োজিত শ্রমিক দ্বারা অর্থাৎ তার শিল্পে পরিবারের সদস্যদের ভ‚মিকা মুখ্য থাকে না। তাই শিল্পের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী জনাব ফিরোজ সাহার লবণ প্রক্রিয়াজাত কারখানাটি ক্ষুদ্র শিল্পের আওতাভুক্ত।
ঘ. শিল্প স্থাপনে জনাব ফিরোজ সাহার নারায়ণগঞ্জকে নির্বাচন করা যুক্তিযুক্ত হয়েছে।
উৎপাদন শিল্পের সাফল্য বহুলাংশে নির্ভর করে কারখানার অবস্থানের ওপর। কারণ এ অবস্থানের ওপর কাঁচামাল সংগ্রহের খরচ, প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচ এবং দ্রব্য বাজারজাতকরণ খরচের ওপর প্রতিষ্ঠানের মুনাফা অর্জনের দক্ষতা নির্ভর করে। সামগ্রিকভাবে সব বিষয় বিবেচনা করে কারখানার উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করতে হয়। উদ্দীপকে জনাব ফিরোজ সাহা ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে তার ফিরোজ সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লি. স্থাপন করেছেন। কারণ নদী পথে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সহজেই সংগ্রহ করা যায়। নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার কারণে তিনি সহজে পণ্য সরবরাহ করতে পারেন। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে সল্ট ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনের জন্য অনুক‚ল আবহাওয়া বিরাজমান থাকায় এখানে সহজেই সল্ট ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন করে সফল হওয়া যায়।
সুতরাং, কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা বিবেচনায় রেখে সল্ট ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনের জন্য জনাব ফিরোজের নারায়ণগঞ্জকে নির্বাচন করা অত্যন্ত যৌক্তিক হয়েছে।
প্রশ্ন-১০  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জনাব হীরন একটি বেসরকারি ফার্মে চাকরি করতেন। বিভিন্ন সমস্যার কারণে চাকরি ছেড়ে দেন। পরে নিজ উপজেলা পরিষদের সামনে একটি খাবার হোটেল দিলেন। খাবার হোটেল পরিচালনার জন্য ১০ জন কর্মচারী নিয়োগ করেন। তার হোটেলের খাবারের মান ভালো হওয়ায় প্রায় সব সময় ভিড় লেগেই থাকে। এতে তার দরিদ্রতা বহুলাংশে দূর হয়েছে।
ক. শিল্পের উৎপাদন সাধারণত কী ভিত্তিক হয়? ১
খ. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা প্রতিষ্ঠার কারণ ব্যাখ্যা কর। ২
গ. জনাব হীরনের হোটেলটি শ্রমিক নিয়োগ বিবেচনায় কোন ধরনের শিল্প? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. ‘দরিদ্রতা দূরীকরণে জনাব হীরনের শিল্পটি কার্যকর ভ‚মিকা পালন করে’Ñ উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর। ৪
 ১০নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. শিল্পের উৎপাদন সাধারণত কারখানাভিত্তিক হয়।
খ. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা প্রতিষ্ঠার প্রধান কারণ হলো ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিকাশে সহায়তা দান। এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান শিল্প খাতের উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগের আগে পরামর্শ দিয়ে থাকে। তাছাড়া শিল্পসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ, উদ্যোক্তা শনাক্তকরণ, প্রকল্প নির্বাচন ও মূল্যায়ন, সম্ভাব্যতা যাচাই প্রভৃতি কাজ করে থাকে।
গ. জনাব হীরনের হোটেলটি শ্রমিক নিয়োগ বিবেচনায় ক্ষুদ্র শিল্পের অন্তর্গত।
সেবামূলক শিল্পের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র শিল্প বলতে সেসব প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে পাঁচ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকার প্রয়োজন পড়ে বা ১০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে। উদ্দীপকে জনাব হীরন চাকরি ছেড়ে দিয়ে হোটেল ব্যবসায় শুরু করেন। ব্যবসায় পরিচালনার জন্য তিনি ১০ জন শ্রমিক বা কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন।
সুতরাং, ক্ষুদ্র শিল্পের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকা তার এ শিল্পটি ক্ষুদ্র শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
ঘ. কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার মাধ্যমে জনাব হীরনের শিল্পটি দরিদ্রতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে।
বেকারত্বের সাথে দরিদ্রতা জড়িত। তাই বেকার সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য কর্মসংস্থানের বিকল্প নেই। আর এ কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন যথেষ্ট পরিমাণ দক্ষ ও সাহসী উদ্যোক্তা যারা কোনো ব্যবসায় বা শিল্প স্থাপন করে নিজেদেরকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। উদ্দীপকে জনাব হীরন চাকরি ছেড়ে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে হোটেল ব্যবসায় তথা ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন করেন। সেখানে তিনি ১০ জন কর্মচারীও নিয়োগ দেন। ফলে নিজের দরিদ্রতা দূর করার পাশাপাশি তিনি আরও ১০ জনের দরিদ্রতা দূর করতে সক্ষম হন। বেকারত্ব হ্রাসের উপায় হিসেবে সমাজে জনাব হীরনের প্রতিষ্ঠানের মতো প্রচুর পরিমাণে আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। আত্মকর্মসংস্থান সামাজিক অবক্ষয় রোধ, অপরাধপ্রবণতা হ্রাস, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
অতএব বলা যায়, জনাব হীরনের শিল্পটি দরিদ্রতা দূরীকরণে কার্যকর ভ‚মিকা পালন করে-প্রশ্নের উল্লিখিত এই উক্তিটি যথার্থ।
প্রশ্ন-১১  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মি. কামাল কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে একটি হোসিয়ারি শিল্প স্থাপন করেন যেখানে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতীত খরচ হয় ১২ কোটি টাকা। সেখানে ৩টি শিফট চালু রয়েছে। প্রতিটি শিফটে ৪০ জন শ্রমিক কাজ করে। এখানে শ্রমিকরা কাজ করে নিজেদেরকে স্বাবলম্বী করে তুলছেন। অন্যদিকে মি. কামাল আরও একটি শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছেন।
ক. খণ্ডকালীন উৎপাদন ইউনিট কোনটি? ১
খ. কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়া বলতে কী বোঝায়? ২
গ. মি. কামালের শিল্পটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. মি. কামালের শিল্পটি কীভাবে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে? বিশ্লেষণ কর। ৪
 ১১নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. কুটির শিল্পকে খণ্ডকালীন উৎপাদন ইউনিট বলা হয়।
খ. কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়া বলতে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হওয়াকে বোঝায়। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে কাজ করার উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করে সেখানে নিয়মিত কাজ করে বৈধভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার ফলে একদিকে যেমন বেকার সমস্যা সমাধান হয় অন্যদিকে তেমনি জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়। ফলে দেশের অর্থনীতি মজবুত হয়।
গ. মি. কামালের শিল্পটি উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্প।
যে শিল্প প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ কোটির অধিক কিন্তু ৩০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ কিংবা ১০০ জন থেকে ২৫০ জন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে সে শিল্প প্রতিষ্ঠানকে উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্প বলে। উদ্দীপকে মি. কামাল একটি হোসিয়ারি শিল্প স্থাপন করেন। যেখানে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতীত খরচ হয় ১২ কোটি টাকা। সেখানে তিনটি শিফট চালু রয়েছে যেখানে ৪০ জন করে মোট ১২০ জন শ্রমিক কাজ করে।
সুতরাং মি. কামাল তার শিল্পটি স্থাপনে যেহেতু জমি ও কারখানা ভবন ব্যতীত ১২ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন, এবং তার শিল্পটিতে ১২০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে সেহেতু তার এ শিল্পটি উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্প।
ঘ. মি. কামালের শিল্পটি বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে।
উৎপাদন শিল্পে পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংযোজন এবং পরবর্তীতে উৎপাদিত পণ্যের পুনঃসামঞ্জস্যকরণ ও প্রক্রিয়াকরণ বিষয়ক কার্যাবলি সম্পাদিত হয়। এসব কার্যাবলি সম্পাদন করতে বিপুল সংখ্যক লোকজন প্রয়োজন হয়। উৎপাদনমুখী শিল্পগুলো দেশের বেকার সমস্যা সমাধান করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। উদ্দীপকে মি. কামালের শিল্পটি একটি উৎপাদনমুখী মাঝারি শিল্প। তার প্রতিষ্ঠানে তিনটি শিফট চালু রয়েছে। তার প্রতিষ্ঠানে মোট (৪০  ৩) ১২০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে মি. কামাল শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে এরূপ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। দারিদ্র্য বিমোচন স্বকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এর অবদান উল্লেখযোগ্য। দেশের কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র হচ্ছে এসকল শিল্প। দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ এ ধরনের শিল্পের সাথে জড়িত।
তাই বলা যায়, মি. কামালের এ শিল্পটি বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে।
প্রশ্ন-১২  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
একটি এনজিও চট্টগ্রামের মহাজনঘাটায় জরিপ করে দেখল যে, এখানে বেকারের সংখ্যা খুবই কম। গ্রাফের সাহায্যে এ অবস্থাটি উক্ত প্রতিষ্ঠান তাদের প্রশিক্ষণার্থীদের দেখাল।

ক. সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে কী ব্যবহৃত হয়? ১
খ. কুটির শিল্পকে শ্রম প্রধান শিল্প বলা হয় কেন? ২
গ. উপরের চিত্রে মহাজনঘাটায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কোন খাতটি বেশি কার্যকরী হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চিত্রের তিনটি বিষয়ের গুরুত্বই সমান মতামত দাও। ৪
 ১২নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে পাথর ব্যবহৃত হয়।
খ. কুটির শিল্প একটি ঐতিহ্যগত শিল্প। স্থানীয় কাঁচামালের ওপর নির্ভর করে এটি পরিচালিত হয়। পরিবারের সদস্যরাই মূলত এখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। যন্ত্রের ব্যবহার সীমিত করে মূলত কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে কুটির শিল্প সামগ্রী প্রস্তুত করা হয়। যন্ত্রের ব্যবহার কম থাকায় এবং কায়িক পরিশ্রমের প্রাধান্য থাকায় কুটির শিল্পকে শ্রম প্রধান শিল্প বলা হয়।
গ. চিত্রে মহাজনঘাটায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আত্মকর্মসংস্থান খাতটি বেশি কার্যকর হয়েছে।
নিজেই নিজের কর্মসংস্থান করাকে আত্মকর্মসংস্থান বলা হয়। আরও একটু স্পষ্ট করে বলা যায়, নিজস্ব অথবা ঋণ করা স্বল্প সম্পদ, নিজস্ব চিন্তা, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ন্যূনতম ঝুঁকি নিয়ে আত্মপ্রচেষ্টায় জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থাকে আত্মকর্মসংস্থান বলা হয়। উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যায় মহাজনঘাটায় অধিকাংশ মানুষ তাদের নিজস্ব বা ঋণ করা মূলধন নিয়ে খুচরা দোকান, সেলুনের মতো বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এক্ষেত্রে তারা তাদের নিজস্ব চিন্তা, জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে জীবিকার্জনের কাজ করে যাচ্ছে। চাকরির সুযোগ সীমিত বিধায় জীবিকার্জনের জন্য মানুষ পেশা বেছে নিয়েছে।
ঘ. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চিত্রের তিনটি বিষয়ের গুরুত্বই সমান। কারণ তিনটি বিষয়ের মাধ্যমেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্রের বিষয় তিনটি যথাক্রমে মজুরি ও বেতনভিত্তিক কর্মসংস্থান, আত্মকর্মসংস্থান এবং ব্যবসায়। এ তিনটির মাধ্যমেই জনগণের কর্মসংস্থান হচ্ছে। এর কোনো একটি বাদ দিলে দেশের অর্থনৈতিক কাজ যথাযথভাবে চলবে না। উদ্দীপকে উল্লিখিত মহাজনঘাটায় ২০০০ জন কঊচত-এর গার্মেন্টসে মজুরি ও বেতনভিত্তিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে, ৩০০০ জন ব্যক্তি মাঝারি শিল্পের ব্যবসায় করে এবং ৩০০০ এর ঊর্ধ্বে অর্থাৎ অধিকাংশ লোক খুচরা দোকান, সেলুনের মতো আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করে জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে। এদের কোনো এক ধরনের পেশাজীবীদের বাদ দিয়ে বা শুধু কোনো এক ধরনের পেশাজীবীদের নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত করা অসম্ভব। কেননা একে প্রত্যেকে একে অপরের উপর নির্ভরশীল। এ নির্ভরশীলতা কাটিয়ে ওঠা কখনোই সম্ভব হবে না। এ কারণে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সকলের কাজের মূল্যায়নই প্রয়োজন। তাই বলা যায়, জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোনো বিষয়কে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

প্রশ্ন-১৩  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আবিদা সুলতানার স্বামী গ্রামের বাজারে সবজি বিক্রি করেন। তার যে আয় হয় তা দিয়ে সংসার খরচ চালাতে আবিদা সুলতানাকে হিমশিম খেতে হতো। তাই তিনি এখন ঘরে বসে পাট দিয়ে শিকা, দেয়াল মাদুর, খেলনা, পুতুল প্রভৃতি তৈরি করে বাজারে বিক্রয় করেন। এ কাজে তাকে তার ননদ, মেয়ে ও শাশুড়ি সাহায্য করে। তার পণ্যগুলোর মান ভালো হওয়ায় বিক্রিও হচ্ছে বেশ। এ কাজের মাধ্যমে তার পরিবারে বেশ সচ্ছলতা এসেছে।
ক. উৎপাদনমুখী শিল্পে কী ব্যবহারের মাধ্যমে কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করা হয়? ১
খ. কুটির শিল্পকে খণ্ডকালীন উৎপাদন ইউনিট বলার কারণ ব্যাখ্যা কর। ২
গ. আবিদা সুলতানা কোন ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠা করেছেন? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আবিদা সুলতানার শিল্পটির অবদান মূল্যায়ন কর। ৪
 ১৩নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. উৎপাদনমুখী শিল্পে শ্রম ও যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।
খ. স্বল্প পুঁজি, নিজস্ব কারিগরি জ্ঞান ও পারিবারিক সহযোগিতায় কুটির শিল্প গড়ে ওঠে। এ শিল্প প্রধানত পরিবারভিত্তিক এবং উদ্যোক্তা নিজেই এর কারিগর। পারিবারিক অন্যান্য কাজ সম্পাদন করার অবসর সময়ে শ্রম নৈপুণ্য প্রয়োগ করে তারা কুটির শিল্পের পণ্য উৎপাদন করে। তাই কুটির শিল্পকে খণ্ডকালীন উৎপাদন ইউনিট বলা হয়।
গ. আবিদা সুলতানা কুটির শিল্প স্থাপন করেছেন।
কুটির শিল্প বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫ লক্ষ টাকার নিচে এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্যে অনধিক ১০ জন কাজ করে। এরূপ প্রতিষ্ঠান সাধারণত স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন, পুত্র-কন্যাসহ পরিবারের অন্যদের সহায়তায় গড়ে তোলা হয়। উদ্দীপকে আবিদা সুলতানা তার পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য ঘরে বসে পাট দিয়ে শিকা, দেয়াল মাদুর, খেলনা, পুতুল ইত্যাদি তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেন। তার এ কাজে তাকে তার ননদ, মেয়ে ও শাশুড়ি অর্থাৎ পরিবারের সদস্যরা সাহায্য করে। তাই বলা যায়, আবিদা সুলতানা স্বল্প মূলধন বিনিয়োগ করে পরিবারের সদস্যদের সাহায্যে পারিবারিক পরিবেশে যে শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন তা একটি কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান।
ঘ. আর্থসামাজিক উন্নয়নে আবিদা সুলতানার শিল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেছে বলে আমি মনে করি।
বাংলাদেশের বিশেষ এলাকা বা জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কাঁচামালের ওপর ভিত্তি করে খুব সহজেই কুটির শিল্প গড়ে তোলা যায়। তাই কুটির শিল্প বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বড় ক্ষেত্র। বিশেষ করে গ্রামীণ মহিলাদের জন্য আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকারত্ব দূরীকরণে কুটির শিল্পের ভ‚মিকা অনস্বীকার্য। উদ্দীপকে আবিদা সুলতানার শিল্পটিতে স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে বিভিন্ন জিনিস তৈরি করার মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। ফলে বেকারত্ব হ্রাস পায়, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিবেশ ও সামাজিক প্রেক্ষাপট এরূপ শিল্পের জন্য খুবই উপোযোগী। দারিদ্র্য বিমোচন আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এর অবদান উল্লেখযোগ্য। স্বল্প মূলধন, স্থানীয় কাঁচামাল, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, সৃজনশীলতা, পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে মহিলাদের কর্মশক্তি ব্যবহার করে এ জাতীয় শিল্পগুলো গড়ে ওঠে। ফলে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এই সব কথা বিবেচনা করে বলা যায়, আবিদা সুলতানার শিল্পটি আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে।
প্রশ্ন-১৪  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মি. মাহবুব বেকার অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। তার বন্ধু রেজার পরামর্শে তিনি যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বেতের চেয়ার, ঝুড়ি বানানো শুরু করেন। এ কাজে পরিবারের তিনজন সদস্য তাকে সাহায্য করে এবং সে বেশ সফলতা অর্জন করেছে।
ক. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশে সরকার কোন সংস্থা গড়ে তুলেছে? ১
খ. কুটির শিল্পকে জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতীক বলা হয় কেন? ২
গ. মি. মাহবুব এর কাজটি কোন ধরনের শিল্প? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. মি. মাহবুব এর শিল্পটি কীভাবে তাকে দারিদ্র্য ও বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করছে বিশ্লেষণ কর। ৪
 ১৪নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশে সরকার ‘ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা’ গড়ে তুলেছেন।
খ. কুটির শিল্প সাধারণত অঞ্চলভিত্তিক কাঁচামাল ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।ফলে কুটির শিল্প আমাদের দেশের জাতীয় ঐতিহ্য বহন করে। এক সময় আমাদের দেশের কুটির শিল্পের বিশ্বব্যাপী খ্যাতি ছিল। আমাদের দেশের দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। তাই জাতীয় ঐতিহ্য ও শিল্পকলা সংরক্ষণে কুটির শিল্পের ভ‚মিকা অনস্বীকার্য। এজন্য কুটির শিল্পকে জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতীক বলা হয়।
গ. মি. মাহবুব এর কাজটি কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
যে শিল্প প্রতিষ্ঠা করতে স্বল্প মূলধন, সামান্য প্রশিক্ষণ, পরিবারের সদস্যদের সাহায্য ও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয় তাকে কুটির শিল্প বলে। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তায় কুটির শিল্প পরিচালিত হয়। উদ্দীপকে মি. মাহবুব বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। তারপর তার এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে সামান্য প্রশিক্ষণ নিয়ে বেতের চেয়ার, ঝুড়ি তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার এ কাজে পরিবারের তিনজন সদস্য তাকে সাহায্য করে। এগুলো কুটির শিল্পের বৈশিষ্ট্য। তাই মি. মাহবুবের কাজটিকে সহজেই কুটির শিল্প বলে আখ্যায়িত করা যায়।
ঘ. মি. মাহবুব এর শিল্পটি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মাধ্যমে তাকে দারিদ্র্য ও বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করেছে।
আত্মকর্মসংস্থান হলো এমন এক ধরনের কর্মসংস্থান যা স্বল্প মূলধন ও সামান্য প্রশিক্ষণ দিয়েই একজন ব্যক্তিকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয় এবং তাকে পরনির্ভরশীলতা ও বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দেয়। উদ্দীপকে মি. মাহবুব যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বল্প মূলধনের মাধ্যমে বেতের চেয়ার, ঝুড়ি তৈরি করে বেকারত্ব দূর করেছেন। তার বেতের চেয়ার, ঝুড়ি বানানোর কাজটি কুটির শিল্পের অন্তর্গত। মি. মাহবুব কুটির শিল্প স্থাপন করায় একদিকে যেমন তার নিজের কর্মসংস্থান হয়েছে অন্যদিকে তেমনি পরিবারের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে এরূপ শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। দারিদ্র্য বিমোচন স্বকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এর অবদান উল্লেখযোগ্য। দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ এ শিল্পের সাথে জড়িত। স্বল্প মূলধন, স্থানীয় কাঁচামাল, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, সৃজনশীলতা, পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে মহিলাদের কর্মশক্তি ব্যবহার করে এ শিল্প গঠন করা যায়। ফলে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব দূর করা সম্ভব হয়।
অতএব বলা যায়, মি. মাহাবুব কুটির শিল্প গঠন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে তার দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করেছেন।

 জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ শিল্প কী?
উত্তর : ব্যাপক মূলধন সামগ্রী ব্যবহার করে কারখানাতে কাঁচামাল বা প্রাথমিক দ্রব্যকে মাধ্যমিক বা চ‚ড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াই হলো শিল্প।
প্রশ্ন \ ২ \ নির্দিষ্ট দ্রবের কারখানাসমূহকে একত্রে কী বলে?
উত্তর : নির্দিষ্ট দ্রবের কারখানাসমূহকে একত্রে শিল্প বলে।
প্রশ্ন \ ৩ \ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কোনটির ভ‚মিকা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে?
উত্তর : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্পের ভ‚মিকা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রশ্ন \ ৪ \ শিল্পের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
উত্তর : অর্থনৈতিক উন্নয়ন বৃদ্ধিই শিল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।
প্রশ্ন \ ৫ \ সার শিল্প কোন শিল্পের উদাহরণ?
উত্তর : সার শিল্প উৎপাদনমুখী শিল্পের উদাহরণ।
প্রশ্ন \ ৬ \ হর্টিকালচার কোন শিল্পের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর : হর্টিকালচার সেবামূলক শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন \ ৭ \ পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য দেয়া হয় কোন শিল্পে?
উত্তর : পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য দেয়া হয় কুটির শিল্পে।
প্রশ্ন \ ৮ \ কুটির শিল্পের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জনবল কত?
উত্তর : কুটির শিল্পের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জনবল হলো ১০ জন।
প্রশ্ন \ ৯ \ বাঁশ ও বেত শিল্প কোন শিল্পের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর : বাঁশ ও বেত শিল্প কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন \ ১০ \ উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র শিল্পের মূলধনের পরিমাণ কত?
উত্তর : উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র শিল্পের মূলধন ৫০ লক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা।
প্রশ্ন \ ১১ \ উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র শিল্পে কতজন শ্রমিক কাজ করে?
উত্তর : উৎপাদনমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র শিল্পে ২৫-৯৯ জন শ্রমিক কাজ করে।
প্রশ্ন \ ১২ \ কুটির শিল্পে বিনিয়োগকৃত মূলধনের পরিমাণ সর্বোচ্চ কত?
উত্তর : কুটির শিল্পে বিনিয়োগকৃত মূলধনের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা।
প্রশ্ন \ ১৩ \ পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন উৎপাদনে জড়িত থাকে কোন শিল্প?
উত্তর : পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন উৎপাদনে জড়িত থাকে কুটির শিল্প।
প্রশ্ন \ ১৪ \ সেবামূলক ক্ষুদ্র শিল্পে শ্রমিক সংখ্যা কত জন?
উত্তর : সেবামূলক ক্ষুদ্র শিল্পে শ্রমিক সংখ্যা হলো ১০-২৫ জন।
প্রশ্ন \ ১৫ \ গ্রামীণ মহিলাদের বেকারত্ব দূরীকরণ করেছে কোন শিল্প?
উত্তর : গ্রামীণ মহিলাদের বেকারত্ব দূরীকরণ করেছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প।
প্রশ্ন \ ১৬ \ কুটির শিল্প প্রধানত কী ভিত্তিক?
উত্তর : কুটির শিল্প প্রধানত পরিবারভিত্তিক।
প্রশ্ন \ ১৭ \ দেশের ইতিহাস তুলে ধরে কোন শিল্প?
উত্তর : দেশের ইতিহাস তুলে ধরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প।
প্রশ্ন \ ১৮ \ মৎস্য আহরণ কোন ধরনের শিল্প?
উত্তর : মৎস্য আহরণ সেবামূলক শিল্প।
প্রশ্ন \ ১৯ \ হস্ত শিল্প কোন ধরনের শিল্প?
উত্তর : হস্ত শিল্প হলো কুটির শিল্প।
প্রশ্ন \ ২০ \ উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের জন্য কী প্রয়োজন?
উত্তর : উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের জন্য বাজারের প্রয়োজন।
প্রশ্ন \ ২১ \ কোন শিল্প দেশের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক?
উত্তর : কুটির শিল্প দেশের ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক।
প্রশ্ন \ ২২ \ বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে কোন শিল্প অধিকতর উপযোগী?
উত্তর : বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প অধিকতর উপযোগী।

 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র শিল্পের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। আবার ক্ষুদ্রায়তনের এ দেশটির জনসংখ্যাও বিপুল। এদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে তাল রেখে কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে ক্রমবর্ধমান বেকার জনগোষ্ঠী এদেশের জন্য মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যার দ্রæত সমাধান প্রয়োজন। অন্যথায় এদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ হিসেবে ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
প্রশ্ন \ ২ \ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কীভাবে দেশের সুষম উন্নয়ন ঘটায়?
উত্তর : বৃহদায়তন শিল্প প্রধানত শহরাঞ্চলে এবং বিশেষ বিশেষ কেন্দ্রে গড়ে ওঠে। এর ফলে মুষ্টিমেয় শহরাঞ্চল ও শিল্প এলাকার উন্নতি হয়। কিন্তু ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দেশের সর্বত্রই স্থাপন করা যায়। শ্রম ও স্বল্প পুঁজি নিয়ে যে কোনো স্থানে ক্ষুদ্র শিল্প গঠন করা যায় বলে দেশের সুষম উন্নয়ন ঘটে।
প্রশ্ন \ ৩ \ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কীভাবে মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে?
উত্তর : ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিশেষ করে কুটির শিল্প পারিবারিক পরিবেশে মহিলাদের সুযোগ সৃষ্টি করে। পরিবারের মহিলারা স্থানীয় কাঁচামালের সদ্ব্যবহার করে তাদের কাজের অবসরে কুটির শিল্পে কাজ করে আয় বাড়াতে সক্ষম হয়। এভাবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।
প্রশ্ন \ ৪ \ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপনে বাজার তথ্য বিবেচনা করার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে বাজার তথ্য অপরিহার্য। বাজারে কোন পণ্যের চাহিদা রয়েছে, কোথায় এবং কীভাবে উৎপাদিত পণ্যদ্রব্য বাজারজাতকরণ করা হবে এবং সরকারি নীতিমালা সংক্রান্ত তথ্যাবলি জানা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপনে অত্যন্ত জরুরি। তাই সঠিক বাজার তথ্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপনে অন্যতম বিবেচ্য বিষয়।
প্রশ্ন \ ৫ \ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপনের অন্যতম বিবেচ্য বিষয়টি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : বাজারতথ্যের প্রাপ্যতা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপনের অন্যতম বিবেচ্য বিষয়। পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বাজার তথ্য অপরিহার্য। বাজারে কোন পণ্যের চাহিদা রয়েছে, কোথায় এবং কীভাবে উৎপাদিত পণ্য দ্রব্য বাজারজাত করা হবে এবং সরকারি নীতিমালাসংক্রান্ত তথ্যাবলি জানা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপনে অত্যন্ত জরুরি। তাই সঠিক বাজার তথ্য জানা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপনের অন্যতম বিবেচ্য বিষয়।
প্রশ্ন \ ৬ \ জাতীয় ঐতিহ্য বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : যুগ যুগ ধরে লালিত আচার-আচরণ, পেশা, পোশাক-আশাক ইত্যাদি যা দ্বারা একটি জাতি সম্পর্কে সাধারণ ধারণা লাভ করা যায় তাকে জাতীয় ঐতিহ্য বলে। জাতীয় ঐতিহ্যবলে একটি দেশে ও সমাজে একই পেশা ও সংস্কৃতির প্রচলন থাকে। বাংলাদেশের কুটির শিল্পও এদেশের জাতীয় ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে পরিগণিত হয়।
প্রশ্ন \ ৭ \ শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণটি সম্পর্কে লেখ।
উত্তর : র্কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণের অভাবে শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। সাধারণত যে জাতীয় র্কাঁচামাল যেখানে বেশি সেখানেই এ জাতীয় শিল্পগুলো বেশি গড়ে ওঠে তবে অবকাঠামোগত সুবিধা ও পরিবহন ব্যবস্থার সুবিধা থাকলে দূরবর্তী এলাকাতেও শিল্প স্থাপন করা যায়। তবে অনেক সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যোগাযোগ অব্যবস্থাসহ অন্যান্য কারণে কাঁচামাল পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়লে শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
প্রশ্ন \ ৮ \ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মধ্যে কোনটি সহজেই গড়ে তোলা যায়?
উত্তর : ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের গঠন পদ্ধতি ভিন্ন। ক্ষুদ্র শিল্পের গঠন প্রক্রিয়া একটু জটিল এবং ব্যয়সাপেক্ষ। অপরদিকে কুটির শিল্প স্বল্প মূলধন ও শ্রমশক্তি কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা যায়। সুতরাং, কুটির শিল্পটি খুব সহজেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গড়ে তোলা যায়।
প্রশ্ন \ ৯ \ বাংলাদেশ শিল্পে অনগ্রসর কেন?
উত্তর : বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়নের গতি মন্থর। অনুন্নত আর্থসামাজিক অবকাঠামো, অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, অনুন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষ শ্রমিকের অভাব, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বাংলাদেশ শিল্পে অনগ্রসর আছে।
প্রশ্ন \ ১০ \ শিল্পনীতি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : নীতি অর্থ বিধিবদ্ধ নিয়ম। শিল্পের জন্য যে আইন প্রণয়ন করা হয় তাকে শিল্পনীতি বলা হয়। শিল্পের গঠন, পরিচালনা এবং স¤প্রসারণসহ সকল বিষয় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শিল্পের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ যে নীতি প্রণয়ন করে তাকে শিল্পনীতি বলা হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে শিল্পনীতি ২০১০ প্রচলিত রয়েছে।
প্রশ্ন \ ১১ \ মৃৎ শিল্প বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : মাটি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকার ব্যবহারোপযোগী পণ্য তৈরির শিল্পকে মৃৎ শিল্প বলে। বিভিন্ন ধরনের জীবজন্তু, ফল, ফুল, জিনিসপত্র ফুলদানি, ফুলের টব ইত্যাদি এ শিল্পের উৎপাদিত পণ্য।
প্রশ্ন \ ১২ \ শ্রমঘন শিল্প বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : যে শিল্প মূলত কায়িম শ্রমের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে তাকে শ্রমঘন শিল্প বলে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে অধিক শ্রমিক প্রয়োজন বলে এটিকে শ্রমঘন শিল্প বলা হয়।
প্রশ্ন \ ১৩ \ শিল্পকে উৎপাদনের বাহন বলা হয় কেন?
উত্তর : শিল্পের সাথে উৎপাদনের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বিদ্যমান। শিল্পের সহজ অর্থ হলো পণ্যসামগ্রী উৎপাদন। অন্যদিকে উৎপাদন হলো কোনো উপযোগ সৃষ্টি। অর্থাৎ শিল্পের সাহায্যে প্রকৃতি করা হয়। অর্থাৎ নতুন পণ্য উৎপাদন করা হয়। এ শিল্প ব্যতীত উৎপাদন সম্ভব নয়। এজন্যই শিল্পকে উৎপাদনের বহন বলা হয়।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply