নবম-দশম শ্রেণির রসায়ন প্রথম অধ্যায় রসায়নের ধারণা

এসএসসি রসায়ন প্রথম অধ্যায় রসায়নের ধারণা

পাঠ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি

 রসায়ন : প্রকৃতিতে বিদ্যমান বস্তুসমূহের বিভিন্ন ধর্মকে কাজে লাগিয়ে মানবজাতি ও পরিবেশের কল্যাণসাধনে নিয়োজিত যে বিজ্ঞান তার নামই হলো রসায়ন। রসায়ন প্রাচীন ও প্রধান বিজ্ঞানগুলোর মধ্যে অন্যতম।
 আল-কেমি : প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় রসায়ন চর্চা ‘আল-কেমি’ নামে পরিচিত। আল-কেমি শব্দটি আরবি ‘আল-কিমিয়া’ থেকে উদ্ভূত, যা দিয়ে মিশরীয় সভ্যতাকে বোঝানো হতো। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা রসায়ন চর্চার মাধ্যমে মানুষের চাহিদা বহুলাংশে মেটাতে সক্ষম হয়েছিল।
 রসায়নের ক্ষেত্রসমূহ : রসায়নের বিস্তৃতি ব্যাপক। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সকল কর্মকাণ্ডে রয়েছে রসায়ন। আমাদের নিঃশ্বাসে গৃহীত বায়ু, পানি, খাবার, পরিধেয় বস্ত্র, গৃহস্থালি ও শিক্ষা সরঞ্জাম, কৃষি, যোগাযোগ, গাছে ফল পাকা, লোহায় মরিচা ধরা, আগুন জ্বালানো সবকিছুতেই রসায়ন এবং রাসায়নিক প্রক্রিয়া বা জীব রাসায়নিক প্রক্রিয়া জড়িত।
 রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের সম্পর্ক : জীববিজ্ঞানে আলোচিত সালোকসংশ্লেষণ, জীবের জন্ম ও বৃদ্ধি প্রভৃতি জীব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধিত হয়। আবার, জীবের দেহ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য যেমন : প্রোটিন, চর্বি, ক্যালসিয়ামের যৌগ, উঘঅ, জঘঅ প্রভৃতির সাথে রসায়ন জড়িত। সুতরাং, জীববিজ্ঞান ও রসায়ন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
 রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের সম্পর্ক : বিদ্যুৎ, চুম্বক, কম্পিউটার ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্সের তত্ত¡, উৎপাদন ও ব্যবহারের আলোচনা পদার্থ বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের গুণাবলির সমন্বয় ঘটিয়ে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পদার্থবিজ্ঞানের এসব বস্তু ও শক্তির উৎপাদন ও ব্যবহার সম্ভব হয়েছে। রসায়নের বিভিন্ন পরীক্ষণ যন্ত্রনির্ভর। এসব যন্ত্রের মূলনীতি বা পরীক্ষণ পদার্থবিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। তাই, রসায়নচর্চার মাধ্যমেই পদার্থবিজ্ঞানের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব।
 রসায়নের সাথে গণিতের সম্পর্ক : রসায়নে হিসাব-নিকাশ, সূত্র প্রদান ও গাণিতিক সম্পর্ক সবই গণিত। কোয়ান্টাম ম্যাকানিকস, যা মূলত গাণিতিক হিসাব-নিকাশের সাহায্যে পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যা করে।
 রসায়নের সাথে ভ‚গর্ভস্থ ও পরিবেশ বিজ্ঞানের সম্পর্ক : উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ পচনের পর ভ‚গর্ভের তাপ ও চাপের প্রভাবে তাদের রাসায়নিক পরিবর্তন হয়। ফলে এরা পেট্রোলিয়াম, কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি জীবাশ্ম জ্বালানিতে পরিণত হয়। আবার বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তরের ক্ষয়কারী গ্যাসসমূহের শনাক্তকরণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে রাসায়নিক পদ্ধতির বিকল্প নেই।
 রসায়ন পাঠের গুরুত্ব : মানুষের মৌলিক চাহিদার উপকরণ জোগানো থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার জীবনকে করেছে সহজ ও সুন্দর। নিচে রসায়নের অন্তর্গত কতিপয় রাসায়নিক দ্রব্যাদির ব্যবহার দ্বারা রসায়ন পাঠের গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়
রাসায়নিক দ্রব্য →ব্যবহার
কীটনাশক -→পোকামাকড়ে শস্যহানি থেকে প্রতিরোধ করতে।
কয়েল বা অ্যারোসল- →মশা তাড়াবার কাজে।
সাবান, ডিটারজেন্ট, শ্যাম্পু-→ পরিষ্কার করার কাজে।
ঔষধ, অ্যান্টিবায়োটিক, ভিটামিন-→ শরীর ও স্বাস্থ্যরক্ষায়।
কাঁচা হলুদ, মেহেদি, কসমেটিকস, রং -→সৌন্দর্য বর্ধনের কাজে।
ভেষজ ওষুধপত্র- →স্বাস্থ্যরক্ষা ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজে।
 রসায়নের অনুসন্ধান ও গবেষণা প্রক্রিয়া : মানবসভ্যতার বিকাশে রাসায়নিক দ্রব্য ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ার আবিষ্কারের জন্য প্রয়োজন অনুসন্ধান ও গবেষণা। গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন রাসায়নিক দ্রব্যের উৎস, গঠন, ধর্ম ও রাসায়নিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে মানব কল্যাণে প্রয়োগ করা যায়। অনুসন্ধান ও গবেষণা প্রক্রিয়ার ৭টি ধাপ রয়েছে। এগুলো হলোÑ
এসএসসি রসায়ন প্রথম অধ্যায় রসায়নের ধারণা
ছক : অনুসন্ধান ও গবেষণা প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপসমূহ।
 রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা : অনেক রাসায়নিক পদার্থই স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে। অনেক দ্রব্য আছে যারা অতি সহজেই বিস্ফোরিত হতে পারে, বিষাক্ত, দাহ্য, স্বাস্থ্য সংবেদনশীল এবং ক্যান্সার সৃষ্টিকারী। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে একটি সর্বজনীন নিয়ম চালুর বিষয়কে সামনে রেখে ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে পরিবেশ ও উন্নয়ন নামে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। রাসায়নিক দ্রব্য কোথায়, কীভাবে সংরক্ষণ করলে রাসায়নিক দ্রব্যের মান ঠিক থাকে ও অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা এড়ানো যায় তা এ সম্মেলনে আলোচিত হয়।

প্রথম অধ্যায় রসায়নের ধারণা জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন \ ১ \ ভারতবর্ষে রঙের ব্যবহার শুরু হয়েছিল কখন?
উত্তর : ভারতবর্ষে রঙের ব্যবহার শুরু হয়েছিল প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে।
প্রশ্ন \ ২ \ আল-কেমি শব্দটি কোথা থেকে উদ্ভূত?
উত্তর : আল-কেমি শব্দটি আরবি আল-কিমিয়া থেকে উদ্ভূত।
প্রশ্ন \ ৩ \ প্রাচীনকালে রসায়ন চর্চাকারীদের কী বলা হতো?
উত্তর : প্রাচীনকালে রসায়ন চর্চাকারীদের আল-কেমি বলা হতো।
প্রশ্ন \ ৪ \ আল কেমি কী? [আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, রংপুর জিলা স্কুল]
উত্তর : আলকেমি হলো প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় রসায়ন চর্চা।
প্রশ্ন \ ৫ \ বিশুদ্ধ পানি কী দিয়ে গঠিত?
উত্তর : বিশুদ্ধ পানি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পরমাণু দ্বারা গঠিত।
প্রশ্ন \ ৬ \ সার কী করে?
উত্তর : সার মাটিতে উদ্ভিদের পুষ্টি প্রদান করে।
প্রশ্ন \ ৭ \ পেট্রোলিয়ামের দহন কী?
উত্তর : পেট্রোলিয়ামের দহন হলো রাসায়নিক বিক্রিয়া।
প্রশ্ন \ ৮ \ মশা তাড়াবার জন্য কী ব্যবহার করা হয়?
উত্তর : মশা তাড়াবার জন্য কয়েল বা অ্যারোসল ব্যবহার করা হয়।
প্রশ্ন \ ৯ \ যানবাহন থেকে প্রতিনিয়ত কী গ্যাস তৈরি হয়?
উত্তর : যানবাহন থেকে প্রতিনিয়ত কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়।
প্রশ্ন \ ১০ \ মোম কী দ্বারা গঠিত?
উত্তর : মোম কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত।
প্রশ্ন \ ১১ \ কোন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ শর্করা তৈরি করে?
উত্তর : উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা তৈরি করে।
প্রশ্ন \ ১২ \ তন্তু কী?
উত্তর : তন্তু হলো আঁশ জাতীয় পদার্থ যা থেকে সুতা তৈরি হয়।
প্রশ্ন \ ১৩ \ দহন কী?
উত্তর : বায়ুর অক্সিজেনের সাথে কোনো কিছুর বিক্রিয়াকে দহন বলে।
প্রশ্ন \ ১৪ \ কাঠের প্রধান উপাদান কী?
উত্তর : কাঠের প্রধান উপাদান সেলুলোজ।
প্রশ্ন \ ১৫ \ আন্তর্জাতিক রশ্মি চিহ্নটি প্রথম কোথায় ব্যবহার করা হয়েছিল?
উত্তর : আন্তর্জাতিক রশ্মি চিহ্নটি প্রথমে আমেরিকায় ব্যবহার করা হয়েছিল।
প্রশ্ন \ ১৬ \ কত সালে আন্তর্জাতিক রশ্মির ব্যবহার শুরু হয়েছিল?
উত্তর : ১৯৪৬ সালে আন্তর্জাতিক রশ্মির ব্যবহার শুরু হয়েছিল।
প্রশ্ন \ ১৭ \ গবেষণা প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ কী?
উত্তর : গবেষণা প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা।
প্রশ্ন \ ১৮ \ অ্যান্টিবায়োটিক কী?
উত্তর : অ্যান্টিবায়োটিক হলো অণুজীব ধ্বংসকারী ঔষধ।
প্রশ্ন \ ১৯ \ অনুসন্ধান কাজের প্রধান শর্ত কী?
উত্তর : অনুসন্ধান কাজের প্রধান শর্ত হলো বিষয়বস্তু নির্ধারণ বা সমস্যা চিহ্নিত করা।
প্রশ্ন \ ২০ \ বায়ুর তাপমাত্রা বাড়াতে কোন গ্যাস সবচেয়ে বেশি ভ‚মিকা রাখে?
উত্তর : বায়ুর তাপমাত্রা বাড়াতে সবচেয়ে বেশি ভ‚মিকা রাখে ঈঙ২ গ্যাস।
প্রশ্ন \ ২১ \ বৃত্তের ওপর আগুনের শিখা কিসের সংকেত?
উত্তর : বৃত্তের ওপর আগুনের শিখা জারক গ্যাস বা তরল পদার্থের সংকেত।
প্রশ্ন \ ২২ \ নিঃশ্বাসে গেলে শ্বাসকষ্ট হয় এমন একটি গ্যাসের নাম লিখ।
উত্তর : নিঃশ্বাসে গেলে শ্বাসকষ্ট হয় এমন একটি গ্যাস হলো ক্লোরিন গ্যাস।
প্রশ্ন \ ২৩ \ কীটনাশকের কাজ কী?
উত্তর : কীটনাশকের কাজ পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে শস্যহানি প্রতিরোধ করা।
প্রশ্ন \ ২৪ \ দাহ্য পদার্থ কী?
উত্তর : যেসব পদার্থে সহজেই আগুন ধরতে পারে তারা দাহ্য পদার্থ।
প্রশ্ন \ ২৫ \ পোকামাকড় থেকে শস্য রক্ষায় কী ব্যবহার করা হয়?
উত্তর : পোকামাকড় থেকে শস্য রক্ষায় কীটনাশক ব্যবহার করা হয়।
প্রশ্ন \ ২৬ \ রসায়নে কী নিয়ে আলোচনা করা হয়?
উত্তর : রসায়নে নানা ধরনের পরিবর্তন যেমনÑ সৃষ্টি, ধ্বংস, বৃদ্ধি, রূপান্তর, উৎপাদন ইত্যাদির আলোচনা করা হয়।
প্রশ্ন \ ২৭ \ প্রাণিকুলের খাদ্যের যোগদানদাতা কোনটি?
উত্তর : প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমগ্র প্রাণিকুলের খাদ্যের যোগানদাতা উদ্ভিদ।
প্রশ্ন \ ২৮ \ যন্ত্রের মূলনীতি কোন বিজ্ঞানের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়?
উত্তর : যন্ত্রের মূলনীতি পদার্থবিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
প্রশ্ন \ ২৯ \ গবেষণার বিষয়বস্তু নির্ধারণে কী কী বিষয় বিবেচনা করতে হয়?
উত্তর : গবেষণার বিষয়বস্তু নির্ধারণে সময় পরিবেশ, সামাজিক আচার বা ধর্মীয় অনুভ‚তির কথা বিবেচনা করতে হয়।
প্রশ্ন \ ৩০ \ কোনদিক সর্বজনগ্রহণযোগ্য পদ্ধতি মনে করা হয়?
উত্তর : পরীক্ষণ ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ সর্বজনগ্রহণযোগ্য পদ্ধতি মনে করা হয়।
প্রশ্ন \ ৩১ \ বিস্ফোরক দ্রব্য কী?
উত্তর : যেসকল দ্রব্য নিজে নিজেই বিক্রিয়া করতে পারে তাদেরকে বিস্ফোরক দ্রব্য বলে।
প্রশ্ন \ ৩২ \ আলোচনার মাধ্যমে গবেষণা প্রক্রিয়ায় কী করা সম্ভব?
উত্তর : আলোচনার মাধ্যমে অনুসন্ধান ও গবেষণা প্রক্রিয়ায় বিষয়বস্তুর গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।
প্রশ্ন \ ৩৩ \ খনিজ জ্বালানি কোনগুলো?
উত্তর : প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদিকে খনিজ জ্বালানি বলা হয়।
প্রশ্ন \ ৩৪ \ রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারে কী হয়?
উত্তর : রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারে গাছের ক্ষতি হয় বা গাছ মরে যায়।
প্রশ্ন \ ৩৫ \ পেট্রোলিয়ামের দহন কী?
উত্তর : পেট্রোলিয়ামের দহন হলো এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া।
প্রশ্ন \ ৩৬ \ তাপ থেকে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায়?
উত্তর : তেল, গ্যাস, কয়লা পুড়িয়ে অর্থাৎ রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে উৎপাদিত তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায়।
প্রশ্ন \ ৩৭ \ প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান কোনটি?
উত্তর : প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন (ঈঐ৪)।

প্রথম অধ্যায় রসায়নের ধারণা অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন \ ১ \ বৃত্তের উপর আগুনের শিখা দেখলে তুমি কী সাবধানতা অবলম্বন করবে? [আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল]
উত্তর : বৃত্তের উপর আগুনের শিখা দেখলে আমি বস্তুটিকে নিচ্ছিদ্রপাত্রে রাখব এবং ব্যবহার করতে হলে হাতে সুনির্দিষ্ট দস্তানা, চোখে নিরাপদ চশমা ও নাকে মুখে মাস্ক ব্যবহার করব।
বৃত্তের উপর আগুনের শিখা চি‎হ্ন দ্বারা জারক গ্যাস বা তরল পদার্থ বোঝানো হয়। যেমন-ক্লোরিন গ্যাস। এসব পদার্থ নিঃশ্বাসে গেলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে, ত্বকে লাগলে ক্ষত হতে পারে, জারণ বিক্রিয়া করতে পারে এমন পাত্রে রাখলে তীব্র বিক্রিয়া হতে পারে। অতএব, এ ধরনের বস্তু অর্থাৎ বৃত্তের উপর আগুনের শিখা দেখলে আমি সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করব।
প্রশ্ন \ ২ \ আমরা শক্তি পাই কোথা হতে?
উত্তর : খাবার হতে আমরা শক্তি পাই।
জীব (উদ্ভিদ ও প্রাণী) সালোকসংশ্লেষণ ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন ও সঞ্চয় করে। খাবার খেলে আমাদের শরীরে বিপাক প্রক্রিয়া ঘটে এবং আমরা শক্তি পাই।
প্রশ্ন \ ৩ \ মোটর সাইকেলের চলার শক্তি কোথা থেকে আসে?
উত্তর : পেট্রোলিয়াম (জ্বালানি) দহনের মাধ্যমে মোটর সাইকেল চলার শক্তি অর্জন করে।
বিভিন্ন ধাতু, প্লাস্টিক ইত্যাদি দিয়ে তৈরি নানা যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে নির্মিত হয় মোটর সাইকেল। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিভিন্ন আকরিক থেকে ধাতব পদার্থ আহরিত হয়। এই ধাতব পদার্থ ও পেট্রোলিয়াম তথা কেরোসিন বা ডিজেলের সাথে অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়া অর্থাৎ দহন থেকে মোটর সাইকেলের চলার শক্তি আসে।
প্রশ্ন \ ৪ \ দৈনন্দিন জীবনে রসায়নের ব্যবহার লেখ।
উত্তর : মানবজীবনে রসায়নের বিস্তৃতি ব্যাপক, যা মানব সেবায় নিয়োজিত।
মানুষের জীবনের সর্বক্ষেত্রে রসায়ন বিরাজমান। নিঃশ্বাস নিয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠা এবং ব্রাশ করে পানি দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে খাবার টেবিলে খাবার খাওয়া, পেন্সিল ও খাতা কলম নিয়ে পড়তে বসাসহ দৈনন্দিন জীবনের সর্বক্ষেত্রে রসায়নের ব্যবহার রয়েছে।
প্রশ্ন \ ৫ \ রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণের জন্য সর্বজনীন নিয়ম কেন চালু হয়েছে?
উত্তর : সারাবিশ্বে পরীক্ষাগার, শিল্প-কারখানা, কৃষি, চিকিৎসা প্রভৃতি ক্ষেত্রে রাসায়নিক দ্রব্যের সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জরুরি বলেই রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণের জন্য সর্বজনীন নিয়ম চালু হয়েছে।
রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার ব্যতীত রসায়নে পরীক্ষণ সাধারণত করা যায় না। অনেক রাসায়নিক পদার্থই স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে। অনেক দ্রব্য আছে যারা অতি সহজেই বিস্ফোরিত হতে পারে, বিষাক্ত, দাহ্য, স্বাস্থ্য সংবেদনশীল এবং ক্যান্সার সৃষ্টিকারী। সেসব দ্রব্যের সতর্কতা নির্দেশ প্রদান এবং তা যেন পৃথিবীর সব দেশের, সব ভাষার মানুষ সহজেই বুঝতে পারে। সে উদ্দেশ্যেই রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণের জন্য সর্বজনীন নিয়ম চালু হয়েছে।
প্রশ্ন \ ৬ \ রাসায়নিক দ্রব্য সংবলিত পাত্রের গায়ে লেবেলের প্রয়োজনীয়তা কী?
উত্তর : রাসায়নিক দ্রব্য সংবলিত পাত্রের গায়ে লেবেলের প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপ :
১. রাসায়ানিক দ্রব্যের কার্যকারিতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ।
২. দ্রব্যটি স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কিনা সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ।
প্রশ্ন \ ৭ \ মারাত্মক বিষাক্ত পদার্থের গায়ের লেবেলের তাৎপর্য কী?
উত্তর : বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার ও সংরক্ষণের পূর্বে সতর্ক করাই হলো মারাত্মক বিষাক্ত পদার্থের গায়ের লেবেলের তাৎপর্য।
মারাত্মক বিষাক্ত গ্যাসীয়, তরল বা কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে “বিপজ্জনক” সাংকেতিক চিহ্নযুক্ত লেবেল ব্যবহার করা হয়। এ লেবেল দেখলে জানা যায় পদার্থটি প্রশ্বাসের সাথে গেলে, ত্বকে লাগলে অথবা খেলে মৃত্যু হতে পারে। তাই এ ধরনের পদার্থ অবশ্যই তালাবদ্ধ স্থানে সংরক্ষণ করা বাঞ্ছনীয়।
প্রশ্ন \ ৮ \ গবেষণা কার্যক্রমে পরীক্ষণের ভ‚মিকা কী?
উত্তর : রসায়নে অনুসন্ধান ও গবেষণা প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই পরীক্ষণ নির্ভর। পরীক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেই বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করা যায়। পরীক্ষণ কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজন হয় প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও অন্যান্য উপকরণ সংগ্রহ। আর পরীক্ষণের ফলে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণের মাধ্যমেই ব্যাখ্যা প্রদান এবং ফলাফল নিশ্চিতকরণ সম্ভব।
প্রশ্ন \ ৯ \ ট্রিফয়েল বলতে কী বোঝ?
উত্তর : ট্রিফয়েল একটি আন্তর্জাতিক চিহ্ন যা দ্বারা তেজস্ক্রিয়তা বোঝানো হয়।
কোনো বস্তুর গায়ে ট্রিফয়েল চিহ্ন লাগানো থাকলে বুঝতে হবে বস্তুটিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ রয়েছে। এ রশ্মি মানবদেহকে বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে এবং শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। এ আন্তর্জাতিক চিহ্নটি ১৯৪৬ সালে অ্যামেরিকাতে প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল।
প্রশ্ন \ ১০ \ তামা পুনরুদ্ধার করে তার পুনর্ব্যবহার করা জরুরি কেন?
উত্তর : পরিবেশকে আসন্ন ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে তামা পুনরুদ্ধার করে তার পুনর্ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রকৃতিতে যতটুকু অব্যবহৃত কপার (তামা) মজুদ আছে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ইতিমধ্যেই কম্পিউটার ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে তামার ব্যবহার হলে তা একসময় ফুরিয়ে যাবে। তাছাড়াও নষ্ট হয়ে যাওয়া যন্ত্রাংশের পরিমাণ দিনে দিনে বাড়তে থাকবে এবং আমাদের পরিবেশের ক্ষতি করবে।
প্রশ্ন \ ১১ \ বিপদজনক সাংকেতিক চি‎হ্ন দ্বারা কী বুঝানো হয়?
উত্তর : বিপদজনক সাংকেতিক চি‎হ্ন দ্বারা এমন কিছু মারাত্মক বিষাক্ত পদার্থকে বুঝানো হয় যেগুলো নিঃশ্বাসে, ত্বকে লাগলে বা খেলে মৃত্যু হতে পারে।
এসকল পদার্থ অবশ্যই তালাবদ্ধ স্থানে সংরক্ষণ করা বাঞ্ছনীয়। ব্যবহারের সময় হাতে দস্তানা, চোখে নিরাপদ চশমা ও নাকে-মুখে মাস্ক (গ্যাসীয় হলে) ব্যবহার করা উচিৎ। তাছাড়া, পরীক্ষার পর পরীক্ষণ মিশ্রণের যথাযথ পরিশোধন করা উচিৎ।
প্রশ্ন \ ১২ \ গণিত ব্যতীত রসায়ন বিজ্ঞানের তত্ত¡ প্রদান অসম্ভব কেন?
উত্তর : গাণিত ব্যতীত রসায়ন বিজ্ঞানের তত্ত¡ প্রদান বা তত্ত¡ীয় জ্ঞানার্জন অসম্ভব কেননা, রসায়ন হিসাব-নিকাশ, সূত্র প্রদান ও গাণিতিক সম্পর্ক প্রতিপাদন সবই গণিতের সাহায্যে করা হয়। কোয়ান্টাম ম্যাকনিকস (ছঁধহঃঁস সবপযধহরপং), যা মূলত গাণিতিক হিসাব-নিকাশের সাহায্যে পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যা কর।
প্রশ্ন \ ১৩ \ জারক পদার্থসমূহের ব্যবহারে কী ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?
উত্তর : জারক পদার্থ (ক্লোরিন গ্যাস) নিঃশ্বাসে গেলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এজন্য এধরনের পদার্থ ব্যবহারে নিম্নলিখিত সতর্কতাগুলো মেনে চলা উচিত।
র. গ্যাস হলে, (নিñিদ্রভাবে) জারণ বিক্রিয়া করতে পারে এমন পাত্রে না রাখা উচিত।
রর. ব্যবহারের সময় হাতে সুনির্দিষ্ট দস্তানা, চোখে নিরাপদ চশমা ও নাকেমুখে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
প্রশ্ন \ ১৪ \ রাসায়নিক দ্রব্যের কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকা জরুরি কেন?
উত্তর : অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য রাসায়নিক দ্রব্যের কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকা জরুরি।
পরীক্ষণ ছাড়া রসায়নে যেমন অনুসন্ধান ও গবেষণা করা কঠিন, তেমনি রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার ব্যতীত রসায়নে পরীক্ষণ করা সম্ভব হয় না। অধিকাংশ রাসায়নিক পদার্থই স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিকারক। আবার, অনেক রাসায়নিক দ্রব্য আছে যারা অতি সহজেই বিষ্ফোরিত হতে পারে, বিষাক্ত, দাহ্য, স্বাস্থ্য সংবেদনশীল এবং ক্যান্সার সৃষ্টিকারী।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply