নবম-দশম শ্রেণির ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং সপ্তম অধ্যায় শেয়ার, বন্ড ও ডিবেঞ্চার সৃজনশীল ও জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর

সপ্তম অধ্যায়
শেয়ার, বন্ড ও ডিবেঞ্চার

 শেয়ারের শ্রেণিবিভাগ
পাবলিক লি. কোম্পানির তহবিল বা মূলধন সংগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হচ্ছে শেয়ার বিক্রয়। শেয়ার হচ্ছে বড় অংকের মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ। শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীগণ বিনিয়োগে আগ্রহী হয়। বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য কোম্পানি সংগঠনগুলো বিভিন্ন প্রকার শেয়ারের প্রচলন করে থাকে।
 সাধারণ শেয়ার
আইনানুযায়ী যে শেয়ারের মালিকগণ অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিভিন্ন দিক বিচারে অধিক সুবিধা ও মর্যাদা ভোগ করলেও লভ্যাংশ বণ্টন ও কোম্পানি বিলোপের সময় মূলধন প্রত্যাবর্তনে অগ্রাধিকার পায় না তাকে সাধারণ শেয়ার বলে। শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরতযোগ্য নয়। শেয়ারহোল্ডাররাই কোম্পানির মালিক।
 সাধারণ শেয়ারের সুবিধা
 অধিক আয় : কোম্পানি অধিক আয় করলে সাধারণ শেয়ার থেকে বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্ত আয়ও বৃদ্ধি পায়।
 সীমাবদ্ধ দায় : কোনো অবস্থাতেই একজন সাধারণ শেয়ার মালিকের ঝুঁকি তার বিনিয়োগকৃত অর্থের অধিক হয় না।
 তারল্য : সাধারণ শেয়ার মালিকরা যেকোনো সময় ইচ্ছে করলে তার ধারণকৃত শেয়ার বিক্রি করে নগদ টাকা সংগ্রহ করতে পারে।
 সাধারণ শেয়ারের অসুবিধা
 ঝুঁকি : শেয়ারবাজারে অনেক ফটকা বিনিয়োগকারী থাকে। ফলে বুঝে-শুনে বিনিয়োগ না করলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
 মুনাফা ও সম্পত্তি বণ্টনে অধিকার : কোম্পানি মুনাফা বণ্টনে সবার দায় তথা অগ্রাধিকার শেয়ার, বন্ড ও ঋণপত্র মালিকদের প্রাপ্ত আয় পরিশোধের পর অবশিষ্ট মুনাফার ওপর সাধারণ শেয়ার মালিকদের অধিকার থাকে। অনুরূপভাবে, কোম্পানির অবসায়নকালে সম্পত্তি বিক্রির প্রাপ্ত অর্থ থেকে সব দায় পরিশোধ করার পর অবশিষ্ট অর্থ শেয়ার মালিকরা ভাগাভাগি করে নেয়।
 অগ্রাধিকার শেয়ার
যেসব বিনিয়োগকারী শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে নির্দিষ্ট হারে আয় প্রত্যাশা করে তাদের জন্য অগ্রাধিকার শেয়ার একটি ভালো বিনিয়োগ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়। সাধারণ শেয়ারের ন্যায় অগ্রাধিকার শেয়ারের নিজস্ব কিছু স্বকীয়তা ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
 মালিকানা : অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের কোম্পানির পুরোপুরি মালিক বলা হয় না। তাদেরকে সাধারণ শেয়ার মালিক এবং বন্ড ও ঋণপত্র মালিকদের মাঝামাঝি অবস্থানে বিবেচনা করা হয়।
 রূপান্তরযোগ্যতা : অনেক অগ্রাধিকার শেয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় পর সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করার বিকল্প সুযোগ থাকে। ফলে বিনিয়োগকারী ইচ্ছে করলে এই সুযোগ ব্যবহার করে সাধারণ শেয়ার মালিক হতে পারে।
 অগ্রাধিকার শেয়ারের সুবিধা
 নির্দিষ্ট হারে আয় : অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকরা নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পায়। ফলে শেয়ার মালিকদের আয়ের অনিশ্চয়তা কম থাকে।
 মুনাফা আয়ের ওপর অগ্রাধিকার : লভ্যাংশ প্রদানে অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকরা সাধারণ শেয়ার মালিকদের লভ্যাংশ প্রদানের আগে অগ্রাধিকার পায়।
 সম্পদের ওপর দাবি : কোম্পানির অবসায়ন বা বিলুপ্তির সময় সম্পদের ওপর অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের দাবি সাধারণ শেয়ার মালিকদের দাবির পূর্বে বিবেচনা করা হয়।
 অগ্রাধিকার শেয়ারের অসুবিধা
 নিয়ন্ত্রণ : ভোটাধিকার না থাকায় অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের কোম্পানির ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
 সীমিত আয় : কোম্পানি অতিরিক্ত মুনাফা করলেও অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকরা পূর্ব নির্ধারিত হারেই মুনাফা পায়।
 বিলম্বিত শেয়ার
যে শেয়ার ক্রয় করলে শেয়ার মালিকগণ অন্যান্য সকল প্রকার শেয়ার মালিকদের লভ্যাংশ কর্তনের পর আনুপাতিক হারে লভ্যাংশ পায় অর্থাৎ বিলম্বে লভ্যাংশ পেয়ে থাকে তাকে বিলম্বিত শেয়ার বলে। কোম্পানি অবসায়নের ক্ষেত্রে এই শেয়ারহোল্ডারদের দাবি সকলের পরে মিটানো হয়।
 রাইট শেয়ার
কোম্পানি গঠনের পরবর্তী সময়ে শেয়ার বিক্রয় করার ক্ষেত্রে যখন পুরাতন শেয়ার মালিকগণ ঐ শেয়ার ক্রয়ে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে তাকে রাইট শেয়ার বলে। অর্থাৎ পরবর্তী সময়ে কোম্পানির মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজনে শেয়ার বিক্রয় করা হলে পুরাতন শেয়ার মালিকগণ যখন ঐ শেয়ার ক্রয়ের অধিকার সংরক্ষণ করেন তখন ঐ বিক্রয়যোগ্য শেয়ারকে রাইট শেয়ার বলা হয়ে থাকে।
 বোনাস শেয়ার
কোনো কোম্পানির অবণ্টিত মুনাফা যখন শেয়ার মালিকদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন না করে অবণ্টিত মুনাফা শেয়ারে রূপান্তর করে পুরাতন শেয়ার মালিকদের মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয় তখন এ ধরনের শেয়ারকে বোনাস শেয়ার বলে।
 বন্ড

যে দলিল বা চুক্তিপত্রের মাধ্যমে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের থেকে ঋণ মূলধন সংস্থান করে সেটিকে বন্ড বলা হয়। বিনিয়োগকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে বন্ডের কিছু আলাদা স্বকীয়তা বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
 জামানত : বন্ডের বিপরীতে কোম্পানি সাধারণত স্থায়ী সম্পত্তি বা দলিলপত্রাদি জামানত হিসেবে রাখে।
 পরিপক্বতার তারিখ : কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত বন্ডের একটি নির্দিষ্ট পরিপক্বতার তারিখ থাকে। উক্ত পরিপক্বতার তারিখে বিনিয়োগকারী বন্ডে উল্লিখিত লিখিত মূল্য ফেরত পায়।
 ঋণদাতা : বন্ড মালিকরা কোম্পানির ঋণদাতা হিসেবে গণ্য হয়। ফলে তাদের কোনো ভোটাধিকার থাকে না।
 রূপান্তরযোগ্যতা : কোম্পানি অনেক সময় বিনিয়োগকারীদের কাছে রূপান্তরযোগ্য বন্ড বিক্রি করে থাকে।
 বন্ডের সুবিধা
 সুদের হার : সুদের হার নির্দিষ্ট থাকে বিধায় বন্ডে বিনিয়োগকারীদের আয় নির্দিষ্ট থাকে।
 ঝুঁকি কম : বন্ডের বিপরীতে স্থায়ী বা অন্যান্য সম্পত্তি জামানত হিসেবে রাখা হয় বিধায় বন্ড বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
 মুনাফা ও সম্পদের ওপর অধিকার : কোম্পানি কর্তৃক অর্জিত আয় থেকে সর্বপ্রথম বন্ড মালিকদের সুদ প্রদান করা হয়। অন্যদিকে কোম্পানি বিলুপ্তি বা অবসায়নকালে সম্পদ বিক্রির প্রাপ্ত অর্থ থেকে সর্বপ্রথম বন্ড মালিকদের পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়।
 বন্ডের অসুবিধা
 কম আয় হার : সাধারণ শেয়ার এবং অগ্রাধিকার শেয়ারের তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় বন্ড মালিকদের আয় হার কম হয়।
 নিয়ন্ত্রণ : বন্ড মালিকদের ভোটাধিকার থাকে না বিধায় বন্ড মালিকরা কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে অংশগ্রহণ করতে পারে না।
 ডিবেঞ্চার
ডিবেঞ্চার হচ্ছে একটি জামানতবিহীন বন্ড। ফলে বন্ডের অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য ডিবেঞ্চারে বিদ্যমান। তবে এক্ষেত্রে কোনো জামানত থাকে না।
 ডিবেঞ্চারের সুবিধা
 নিয়মিত আয় : বন্ডের ন্যায় বিনিয়োগকারীরা ডিবেঞ্চার থেকে নির্দিষ্ট হারে নিয়মিত আয় পায়।
 নির্দিষ্ট সময় : ডিবেঞ্চারের নির্দিষ্ট মেয়াদের কারণে অনেক বিনিয়োগকারীর কাছে এটি জনপ্রিয়।
 ডিবেঞ্চারের অসুবিধা
 জামানতহীনতা : ডিবেঞ্চারের বিপরীতে কোনো জামানত থাকে না বিধায় এটি ঝুঁকিপূর্ণ।
 নিয়ন্ত্রণ : ডিবেঞ্চার মালিকদের ভোটাধিকার থাকে না বিধায় কোম্পানির পরিচালনায় তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
 মুনাফা ও সম্পদের অধিকার : কোম্পানির অর্জিত আয় থেকে ডিবেঞ্চার মালিকদের সুদ দেওয়ার আগে বন্ড মালিকদের সুদ পরিশোধ করা হয়। অনুরূপভাবে কোম্পানির বিলুপ্তির সময় বন্ড মালিকদের পর ডিবেঞ্চার মালিকদের পাওনা পরিশোধ করা হয়।
 বাংলাদেশের শেয়ারবাজার
মূলধন সংগ্রহের জন্য শেয়ারবাজার একটি জনপ্রিয় উৎস। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্তে¡ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ একটি জনপ্রিয় বিনিয়োগ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তবে সঠিক ধারণা ছাড়া শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। বাংলাদেশে শেয়ারবাজার পরিচালনা করে স্টক এক্সচেঞ্জ অথরিটি। বাংলাদেশে দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ রয়েছে। যথা :
র. ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (উঝঊ) ও রর. চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ঈঝঊ)।
 শেয়ারে বিনিয়োগ পদ্ধতি
দুই পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা যায়। যথা :
র. প্রাথমিক বাজার : যখন কোনো কোম্পানি প্রথমবারের মতো শেয়ার বিক্রি করে তখন তাকে শেয়ার বিক্রির প্রথম প্রস্তাব বলে এবং যে বাজারে এই প্রথম প্রস্তাব করা হয় তাকে প্রাথমিক বাজার বলে।
রর. সেকেন্ডারি বাজার : যে বাজারে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের মধ্যে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করে তাকে সেকেন্ডারি বাজার বলে।
 লভ্যাংশ
লাভ বা মুনাফার যে অংশ শেয়ার মালিকদের মধ্যে বণ্টন করা হয় সে অংশকে লভ্যাংশ বলা হয়। কোম্পানি সাধারণত দুইভাবে লভ্যাংশ দিতে পারে। যথা :
 নগদ লভ্যাংশ : যে লভ্যাংশ নগদ টাকায় পরিশোধ করা হয়, সে লভ্যাংশকে নগদ লভ্যাংশ বলা হয়।
 স্টক লভ্যাংশ : কোম্পানি সাধারণত বর্তমানে ইস্যুকৃত শেয়ারের ওপর আনুপাতিক হারে স্টক লভ্যাংশ দিয়ে থাকে।
 লভ্যাংশ নীতি
কোম্পানির প্রাপ্ত লাভ বণ্টনকরণ বা পুনঃবিনিয়োগের জন্য লাভ সংরক্ষণের সিদ্ধান্তই হলো লভ্যাংশ নীতি।
 স্থিতিশীল টাকা লভ্যাংশ নীতি : এ নীতি অনুযায়ী প্রতিবছর অর্জিত লাভ থেকে সমপরিমাণ টাকা লভ্যাংশ দেয়া হয়।
 লভ্যাংশ প্রদান অনুপাত নীতি : এ নীতি অনুযায়ী কোম্পানি প্রতিবছর আয়ের কত অংশ লভ্যাংশ প্রদান করবে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোম্পানি প্রতিবছর আনুপাতিক হারে লভ্যাংশ প্রদান করে।
 স্থির লভ্যাংশ সাথে অতিরিক্ত লভ্যাংশ নীতি : এ নীতি অনুযায়ী কোম্পানি প্রতিবছর ন্যূনতম স্থিতিশীল লভ্যাংশের সাথে অতিরিক্ত লভ্যাংশ প্রদান করে। অন্যান্য লভ্যাংশ নীতির তুলনায় এটি অনেক নমনীয় বিধায় অনেক কোম্পানি এই লভ্যাংশ নীতি অনুসরণ করে।

অনুশীলনীর সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
শাহীনুর সরকারি চাকরি থেকে অবসরগ্রহণের পর কয়েক লক্ষ টাকা হাতে পান। তিনি এ অর্থ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছেন। তিনি এমন বিনিয়োগকারী হতে চান যেন তাকে সুদ পেতে না হয় এবং কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ করতে পারেন। তাই তিনি ‘সূর্যোদয়’ ও ‘সৈকত’ কোম্পানির বিভিন্ন কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করছেন।
ক. ডিবেঞ্চার মালিকরা কাদের সমান মর্যাদা ভোগ করে?
খ. কোন ধরনের লভ্যাংশ প্রদান করলে কোম্পানির শেয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে? ব্যাখ্যা কর।
গ. শাহীনুর ‘সূর্যোদয়’ ও ‘সৈকত’ কোম্পানির কোন তথ্য বিশ্লেষণ করছেন? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. কোন ধরনের বিনিয়োগকারী হওয়া শাহীনুরের জন্য যুক্তিযুক্ত হবে বলে তুমি মনে কর? বিশ্লেষণ কর।
 ১নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. ডিবেঞ্চার মালিকরা সাধারণ পাওনাদারদের সমান মর্যাদা ভোগ করে।
খ. স্টক লভ্যাংশ প্রদান করলে কোম্পানির শেয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। কারণ এক্ষেত্রে কোনো নগদ টাকা লভ্যাংশ আকারে প্রদান করা হয় না। বরং লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ার মালিকদের শেয়ার প্রদান করা হয়। যেমন : একটি কোম্পানির বর্তমানে ১ কোটি শেয়ার আছে। কোম্পানি ২ ঃ ১ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করলে যদি কোনো বিনিয়োগকারীর ৫০০টি শেয়ার থাকে সেক্ষেত্রে এ লভ্যাংশ পাওয়ার পর তার শেয়ার সংখ্যা ৭৫০টি হবে
গ. শাহীনুর ‘সূর্যোদয়’ ও ‘সৈকত’-এর আর্থিক বিবরণী সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করছেন।
শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ। তাই যে কোনো বিনিয়োগকারীকে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। উদ্দীপকে শাহীনুর একজন সরকারি চাকরিজীবী। অবসরগ্রহণের পর তিনি কয়েক লক্ষ টাকা পেয়েছেন। বিনিয়োগ করার আগে তাকে ‘সূর্যোদয়’ ও ‘সৈকত’ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয়, ব্যবসায়ের ধরন, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা, নিট সম্পদ মূল্যসহ অন্যান্য আর্থিক তথ্যাদি বিশ্লেষণ করতে হয়েছে। এসব তথ্য আর্থিক বিবরণীতে পাওয়া যায় বলে শাহীনুর আর্থিক বিবরণীর তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন।
সুতরাং বিনিয়োগে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্যে জনাব শাহীনুর কোম্পানির সকল আর্থিক তথ্যাদি বিশ্লেষণ করছেন।
ঘ. শাহীনুরের জন্য সাধারণ শেয়ারের বিনিয়োগকারী হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত হবে বলে আমি মনে করি।
আইনানুযায়ী যে শেয়ারের মালিকগণ অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিভিন্ন দিক বিচারে সুবিধা ও মর্যাদা ভোগ করলেও লভ্যাংশ বণ্টন ও কোম্পানি বিলোপের সময় মূলধন প্রত্যাবর্তনে অগ্রাধিকার পায় না তাকে সাধারণ শেয়ার বলে। একমাত্র এরূপ শেয়ারের মালিকরাই কোম্পানির প্রকৃত মালিক হিসেবে ভোটাধিকার পায় এবং সেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করে কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারেন। উদ্দীপকের শাহীনুর একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তাই তিনি যদি বুঝে-শুনে লাভজনক কোম্পানির সাধারণ শেয়ার ক্রয় করতে পারেন তাহলে তিনি প্রতি বছর নিয়মিতভাবে লভ্যাংশ পাবেন। তাছাড়া শাহীনুর সুদ পেতে চান না। তাই তিনি যদি তার বিনিয়োগ থেকে মুনাফা পেতে চান সেক্ষেত্রে তাকে সাধারণ শেয়ার অথবা অগ্রাধিকার শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু অগ্রাধিকার শেয়ারের বিনিয়োগকারী হিসেবে তিনি কোম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণমূলক কোনো কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
সুতরাং, তিনি যদি তার বিনিয়োগ থেকে সুদের পরিবর্তে মুনাফা অর্জন করতে চান এবং পাশাপাশি কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে চান তাহলে তাকে অবশ্যই কোম্পানির সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে।
প্রশ্ন-২  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
অ ্ ত কোম্পানি তাদের জমি জনাব খবির হোসেনের কাছে জামানত হিসেবে রেখে ২ কোটি টাকা ঋণ মূলধন সংগ্রহ করে। খবির হোসেনের সাথে কোম্পানির যে চুক্তি হয়েছে তাতে অর্থ ফেরত পাওয়ার তারিখ ২০১২ সালে ১ জানুয়ারি উল্লেখ আছে। হঠাৎ কোম্পানিটি ২০১০ সালের জুন মাসে বিলুপ্ত হবে বলে ঘোষণা আসে। তাতে তিনি বিচলিত হননি।
ক. শেয়ার মালিকদের প্রাপ্য আয় কী?
খ. যেসব কোম্পানির আয় স্থিতিশীল, তারা কেন স্থির লভ্যাংশের সাথে অতিরিক্ত নীতি অনুসরণ করে? ব্যাখ্যা কর।
গ. অ ্ ত কোম্পানি অর্থায়নের জন্য কোন কৌশলটি বেছে নিয়েছে? বর্ণনা কর।
ঘ. অ ্ ত কোম্পানি বিলুপ্ত হওয়া বা না হওয়া উভয় ক্ষেত্রে খবির হোসেনের বিনিয়োগের নিরাপত্তাটি মূল্যায়ন কর।
 ২নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. শেয়ার মালিকদের প্রাপ্য আয় হলো কোম্পানির অর্জিত মুনাফা।
খ. যেসব কোম্পানির আয় স্থিতিশীল বা নিয়মিত নয়, সেসব কোম্পানি স্থির লভ্যাংশের সাথে অতিরিক্ত নীতি অনুসরণ করে। এই নীতিতে একটি নির্দিষ্ট লভ্যাংশের পাশাপাশি আয় স্তর বাড়লে অতিরিক্ত লভ্যাংশ প্রদানের সুযোগ থাকে। তাই লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে নমনীয়তা এনে কোম্পানিকে শেয়ার মালিকদের নিকট আকর্ষণীয় করার জন্য স্থিতিশীল আয়ের কোম্পানিগুলো স্থির লভ্যাংশের পাশাপাশি অতিরিক্ত লভ্যাংশ নীতি অনুসরণ করে।
গ. অ ্ ত কোম্পানি অর্থায়নের জন্য বন্ড কৌশলটি বেছে নিয়েছে।
বন্ড হলো এমন একটি দলিল বা চুক্তিপত্র যার মাধ্যমে জামানতের বিনিময়ে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের নিকট হতে ঋণমূলধন সংস্থান করে। কোনো কারণে কোম্পানি যদি বন্ডের অর্থ বিনিয়োগকারীকে ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে বিনিয়োগকারী জামানতকৃত সম্পত্তি বিক্রি করে তার পাওনা আদায় করে নিতে পারে। উদ্দীপকের অ ্ ত কোম্পানি তাদের জমি জনাব খবির হোসেনের নিকট জামানত রেখে ২ কোটি টাকার ঋণ মূলধন সংগ্রহ করেছে। এছাড়া খবির হোসেনের সাথে অ ্ ত কোম্পানির যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে সেটা অনুযায়ী খবির হোসেন ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি তার অর্থ ফেরত পাবেন। অর্থাৎ ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি হলে তার বন্ড পরিপক্কতার মেয়াদ। ঐ তারিখে অ ্ ত কোম্পানি যদি খবির হোসেনকে বন্ডে উল্লিখিত ২ কোটি টাকা ফেরত দিতে না পারে তাহলে খবির হোসেন অ ্ ত কোম্পানির জমি বিক্রি করে তার পাওনা আদায় করতে পারবে।
ঘ. অ ্ ত কোম্পানির বিলুপ্তি হওয়া বা না হওয়া উভয় ক্ষেত্রেই খবির হোসেন বন্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করায় তার বিনিয়োগটি নিরাপদ।
বন্ড বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ অন্য যে কোনো বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগের তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ বন্ডের মাধ্যমে ঋণ মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোম্পানি বিনিয়োগকারীর নিকট স্থায়ী সম্পত্তি জামানত হিসেবে জমা রাখে। তাই কোনো কারণে কোম্পানি যদি বন্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিনিয়োগকারীকে বন্ডের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে বিনিয়োগকারী জামানতকৃত সম্পত্তিটি বিক্রি করে তার পাওনা আদায় করতে পারেন। তাছাড়া কোম্পানির বিলুপ্তির সময় ও কোম্পানিকে তার চলতি দায় পরিশোধের পর সর্বপ্রথম বন্ড বিনিয়োগকারীদের পাওনা সর্বপ্রথম পরিশোধ করতে হয়। উদ্দীপকের অ ্ ত কোম্পানি বন্ডের মাধ্যমে জনাব খবির হোসেনের কাছ থেকে ঋণ মূলধন সংগ্রহ করেছে। তাই অ ্ ত কোম্পানি বিলুপ্তি কালে সম্পদ বিক্রির প্রাপ্ত অর্থ থেকে সর্বপ্রথম জনাব খবিরের পাওনা টাকা পরিশোধ করবে। আবার কোনো কারণে অ ্ ত কোম্পানি পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পারলে জামানত হিসেবে রাখা জমি বিক্রি করেও জনাব খবির তার অর্থ আদায় করতে পারবেন।
সুতরাং, অ ্ ত কোম্পানির বিলুপ্ত হওয়া বা না হওয়া জনাব খবিরের পাওনা আদায়ে প্রভাব না ফেলায় সে কোম্পানি বিলুপ্তির ঘোষণায় বিচলিত হননি।

প্রশ্ন-৩  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মি. বরকত ও মি. সোহেল ওঈখ ব্যাংকে চাকরি করেন। একটি কোম্পানি থেকে দুজন দু ধরনের শেয়ার ক্রয় করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী মি. বরকত কোম্পানির পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। অপরদিকে মি. সোহেল ঐ কোম্পানির লভ্যাংশ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান।
ক. প্রাথমিক বাজার কী? ১
খ. স্থির লভ্যাংশের সাথে অতিরিক্ত লভ্যাংশ নীতি ব্যাখ্যা কর। ২
গ. মি. বরকত কোন ধরনের শেয়ার ক্রয় করেছেন? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. মি. বরকত ও মি. সোহেলের বিনিয়োগের মধ্যে কোন শেয়ারে বিনিয়োগটি উত্তম? তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৩নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. কোম্পানি যে বাজারে শেয়ার বিক্রির প্রথম প্রস্তাব করে সে বাজারকে প্রাথমিক বাজার বলে।
খ. যেসব কোম্পানির আয় স্থিতিশীল বা নিয়মিত নয়, সেসব কোম্পানির জন্য স্থির লভ্যাংশ সাথে অতিরিক্ত লভ্যাংশ নীতি একটি আদর্শ লভ্যাংশ নীতি। এ নীতি অনুযায়ী কোম্পানি প্রতি বছর ন্যূনতম স্থিতিশীল লভ্যাংশের সাথে অতিরিক্ত লভ্যাংশ প্রদান করে। অন্যান্য লভ্যাংশ নীতির তুলনায় এটি অনেক নমনীয় বিধায় অনেক কোম্পানি এই লভ্যাংশ নীতি অনুসরণ করে।
গ. মি. বরকত কোম্পানির সাধারণ শেয়ার ক্রয় করেছেন।
যে সকল শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে একজন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় অংশগ্রহণ ও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং লভ্যাংশ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায় না তাকে সাধারণ শেয়ার বলে। উদ্দীপকে মি. বরকত একটি কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করেছেন। এ শেয়ার ক্রয় করার মাধ্যমে তিনি লভ্যাংশ প্রাপ্তির পাশাপাশি উক্ত কোম্পানির পরিচালনায় অংশ নিতে পারেন। এছাড়া যে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ফলে কোম্পানি নিয়ন্ত্রণে পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। সুতরাং উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যের আলোকে বলা যায়, মি. বরকত কোম্পানির সাধারণ শেয়ার ক্রয় করেছেন।
ঘ. মি. বরকত ও মি. সোহেলের বিনিয়োগের মধ্যে মি. বরকতের ক্রয়কৃত সাধারণ শেয়ারের মাধ্যমে বিনিয়োগ করাই উত্তম।
বিনিয়োগকারীরা নিজস্ব দৃষ্টিকোণ ও প্রত্যাশা অনুযায়ী মূলত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ অগ্রাধিকার শেয়ার অপেক্ষায় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বুঝে-শুনে বিনিয়োগ করতে পারলে সাধারণ শেয়ার একজন বিনিয়োগকারীর জন্য ভালো আয়ের উৎস হতে পারে। উদ্দীপকে মি. বরকত একটি কোম্পানির সাধারণ শেয়ার ক্রয় করেছেন। এ শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে এবং কোম্পানির পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। কোম্পানির মুনাফা হলে মি. বরকত মুনাফা অর্জন করতে পারবেন তেমনি ক্ষতি হলে দায় বহন করতে হবে। ঝুঁকি বেশি থাকায় তার মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। অপরদিকে মি. সোহেল অগ্রাধিকার শেয়ার ক্রয় করেছেন, যেখানে তিনি ভোটাধিকার এবং পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। কোম্পানির অধিক মুনাফা হলেও তিনি নির্দিষ্ট হারে মুনাফা পাবেন। অর্থাৎ ঝুঁকি কম থাকায় মুনাফা অর্জনের পরিমাণও কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুতরাং উভয় ধরনের শেয়ারের মধ্যে মি. বরকতের ক্রয়কৃত সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ করাই উত্তম।

প্রশ্ন-৪  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জনাব রহমান সংবাদপত্রে সানরাইজ কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার সংবাদ পেয়ে আবেদন করেছিলেন। সানরাইজ কোম্পানি লটারির মাধ্যমে শেয়ার বণ্টন করায় জনাব রহমান প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের ২,০০০ শেয়ার পেয়েছেন। তিনি বর্তমানে কোম্পানির বিভিন্ন বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণ করেন এবং নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভ‚মিকা রাখেন। কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালো থাকায় তিনি আশা করছেন কোম্পানি এ বছর ৫০% পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে।
ক. বিনিয়োগকারীরা কোথায় নিজেদের মধ্যে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করে? ১
খ. ‘সাধারণ শেয়ার মালিকদের দায় সীমাবদ্ধ।’ ব্যাখ্যা কর। ২
গ. জনাব রহমান সানরাইজ কোম্পানির কোন ধরনের শেয়ারের মালিক? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. ‘সানরাইজ কোম্পানিতে জনাব রহমানের বিনিয়োগটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আয়ের সম্ভাবনা বেশি।’ উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর। ৪
 ৪নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. বিনিয়োগকারীরা সেকেন্ডারি বাজারে নিজেদের মধ্যে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করে।
খ. সাধারণ শেয়ার মালিকরা যৌথভাবে কোম্পানির ঝুঁকি বহন করে। শেয়ার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই একজন বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি তার বিনিয়োগকৃত অর্থ অপেক্ষা অধিক হবে না। যেমন : কেউ যদি কোনো কোম্পানির ১০০ টাকা মূল্যের ৫০০ শেয়ার ক্রয় করেন তাহলে তার দায় ৫০,০০০ টাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে।
গ. জনাব রহমান সানরাইজ কোম্পানির সাধারণ শেয়ারের মালিক।
কোম্পানি তার সাধারণ শেয়ারের মালিকদের কোম্পানির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা দেয়। অর্থাৎ সাধারণ শেয়ার বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির পরিচালনার অংশগ্রহণ করে এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকে। উদ্দীপকে সানরাইজ কোম্পানি যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সভা আহŸান করেন জনাব রহমান তখন সেখানে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারেন। এছাড়াও কোম্পানির পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। কোম্পানির মালিক হিসেবে তার অর্জিত লাভ এবং সম্পত্তির ওপর আইনগত অধিকার দাবি করতে পারেন। অর্থাৎ তিনি কোম্পানি বিনিয়োগকারী হিসেবে কোম্পানির প্রকৃত মালিকের মর্যাদা ভোগ করে। সুতরাং উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যের কারণে বলা যায়, জনাব রহমান সানরাইজ কোম্পানি সাধারণ শেয়ার মালিক।
ঘ. সাধারণ শেয়ার মালিক হিসেবে সানরাইজ কোম্পানিতে জনাব রহমানের বিনিয়োগটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এখানে তার বিনিয়োগ হতে পর্যাপ্ত আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিনিয়োগের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাত হলো সাধারণ শেয়ার। এ খাতে অধিক আয় সম্ভব হলেও বুঝে শুনে বিনিয়োগ না করলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। মুনাফা বণ্টনে সাধারণ শেয়ার মালিকদের পূর্বে অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের কথা বিবেচনা করা হয়। সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রেও এ নীতি অবলম্বন করা হয়। উদ্দীপকে জনাব রহমান প্রাথমিক বাজার থেকে সানরাইজ কোম্পানির সাধারণ শেয়ার ক্রয় করেছেন। কোম্পানি তাকে সবসময় লভ্যাংশ প্রদানে বাধ্য নয়। তাছাড়া সেকেন্ডারি বাজারে সাধারণ শেয়ারের দাম খুব দ্রæত ওঠানামা করে। তাই জনাব রহমানের সম্ভাব্য আয় ঝুঁকির সম্মুখীন। তবে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালো। তাই তিনি ধারণা করছেন কোম্পানি এ বছর ৫০% পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করবে। কোম্পানি যদি সত্যি সত্যি ৫০% লভ্যাংশের ঘোষণা দেয় তাহলে জনাব রহমান তার বিনিয়োগ থেকে পর্যাপ্ত আয় করতে পারবেন। সুতরাং, সানরাইজ কোম্পানিতে জনাব রহমানের বিনিয়োগটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আয়ের সম্ভাবনা বেশি’-উক্তিটি যথার্থ।
প্রশ্ন-৫  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
পরাগ ও শিমুল দুই বন্ধু। তারা উভয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি তারা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে অর্থ উপার্জনে আগ্রহী। পরাগ কম ঝুঁকিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় করতে চান। তবে শিমুল অধিক আয়ের ক্ষেত্রে অধিক ঝুঁকি গ্রহণ করতে রাজি আছেন।
ক. কোন নীতিতে প্রতি বছর সমপরিমাণ টাকার লভ্যাংশ দেয়া হয়? ১
খ. শেয়ারবাজারের সূচক কীভাবে ওঠানামা করে? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. কোন ধরনের শেয়ার ক্রয় করলে পরাগের বিনিয়োগ প্রত্যাশা পূরণ হবে? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. পরাগ এবং শিমুলের কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ উৎস দুইটির মধ্যে কোনটি অধিক লাভজনক? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। ৪
 ৫নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. স্থিতিশীল টাকা লভ্যাংশ নীতিতে প্রতিবছর সমপরিমাণ টাকার লভ্যাংশ দেয়া হয়।
খ. শেয়ারবাজারের সূচক ওঠানামা তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারমূল্য ওঠানামার ওপর নির্ভর করে। অধিকাংশ শেয়ারের দাম বাড়লে সূচক বাড়ে, আবার অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমলে সূচক কমে। বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার সূচকের এই ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।
গ. যে কোনো লাভজনক কোম্পানির অগ্রাধিকার শেয়ার ক্রয় করলে পরাগের বিনিয়োগ প্রত্যাশা পূরণ হবে।
অগ্রাধিকার শেয়ারের লভ্যাংশের হার নির্দিষ্ট থাকে। কোম্পানি মুনাফা অর্জনে সক্ষম হলে অগ্রাধিকার শেয়ারের মালিকদের নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ প্রদান করে থাকে। তাছাড়া অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকরা লভ্যাংশ গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ শেয়ার মালিকদের অপেক্ষা অগ্রাধিকার পায় এবং তাদের দায় তাদের ক্রয়কৃত শেয়ারের লিখিত মূল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। উদ্দীপকের দুই বন্ধুর মধ্যে পরাগ কম ঝুঁকিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় করতে চাচ্ছে। এক্ষেত্রে পরাগ যদি বুঝে শুনে কোনো লাভজনক কোম্পানির অগ্রাধিকার শেয়ার ক্রয় করতে পারেন তাহলে তিনি তার বিনিয়োগ থেকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে আয় প্রাপ্ত হবেন। আর তার দায় ও তার ক্রয়কৃত শেয়ারের মোট লিখিত মূল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ তার বিনিয়োগ ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম হবে।
ঘ. পরাগের বিনিয়োগ উৎস অগ্রাধিকার শেয়ারের তুলনায় শিমুলের বিনিয়োগ উৎস সাধারণ শেয়ার অধিক লাভজনক।
বুঝে-শুনে বিনিয়োগ করলে সাধারণ শেয়ার একজন বিনিয়োগকারীর জন্য ভালো আয়ের উৎস হতে পারে। বিনিয়োগের অন্য সকল উৎস অর্থাৎ অগ্রাধিকার শেয়ার, বন্ড, ডিবেঞ্চার ইত্যাদি হতে আয়ের পরিমাণ কম বা নির্দিষ্ট থাকে। কিন্তু সাধারণ শেয়ারের আয় নির্দিষ্ট নয়। ফলে কোম্পানি অধিক আয় করলে বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্ত আয়ও বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকে পরাগ ও শিমুলের কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ উৎস দুইটির মধ্যে সাধারণ শেয়ার ক্রয় অধিক লাভজনক। কারণ অগ্রাধিকার শেয়ারে লভ্যাংশের হার নির্দিষ্ট থাকে। তাই কোম্পানির মুনাফা যাই হোক পরাগের আয় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু শিমুল যদি দেখে শুনে কোনো লাভজনক কোম্পানির সাধারণ শেয়ার ক্রয় করতে পারেন তাহলে কোম্পানির অর্জিত মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে তার বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া প্রয়োজনের সময় শিমুল সেকেন্ডারি বাজারে তার শেয়ারগুলো দ্রæত বিক্রি করে নগদ টাকা সংগ্রহ করতে পারবেন।
সুতরাং, শিমুলের কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ উৎসটি অর্থাৎ সাধারণ শেয়ার ক্রয় অগ্রাধিকার শেয়ার ক্রয় অপেক্ষা অধিক লাভজনক।
প্রশ্ন-৬  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জনাব মতিউর রহমান একজন চাকরিজীবী। গত মাসে তার একটি ডিপিএস অ্যাকাউন্টের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। উক্ত অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি এ মাসে ১০ লক্ষ টাকা পাবেন। এই টাকা তিনি এরূপ কোনো বিনিয়োগ উৎসে বিনিয়োগ করতে চান যেখান থেকে তিনি প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ লভ্যাংশ পাবেন এবং লভ্যাংশ গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্যদের অপেক্ষা অগ্রাধিকার পাবেন।
ক. কোনটি বিনিয়োগকারীদের কাছে তরল সম্পদ? ১
খ. বোনাস শেয়ার বলতে কী বোঝ? ২
গ. জনাব মতিউর রহমান তার কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ উৎসটি থেকে কী কী সুবিধা ভোগ করতে পারবেন? ৩
ঘ. ‘জনাব মতিউর রহমান তার কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ উৎসটিতে বিনিয়োগ করলে কোনো নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা পাবেন না।’ বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৬নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. সাধারণ শেয়ার বিনিয়োগকারীদের কাছে তরল সম্পদ।
খ. কোনো কোম্পানির অবণ্টিত মুনাফা যখন শেয়ার মালিকদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন না করে শেয়ারে রূপান্তর করে পুরাতন শেয়ার মালিকদের মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয় তখন এ ধরনের শেয়ারকে বোনাস শেয়ার বলে। কোম্পানি তার অর্জিত মুনাফার পুরো অংশ শেয়ার মালিকদের মধ্যে বণ্টন না করে এর অংশ বিশেষ ভবিষ্যতে ব্যবসায়ের কাজে লাগাতে অবণ্টিত মুনাফা শেয়ারে রূপান্তর করে বোনাস শেয়ার হিসেবে শেয়ার মালিকদের মধ্যে বণ্টন করে ।
গ. জনাব মতিউর রহমান তার কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ উৎস অগ্রাধিকার শেয়ার থেকে নির্দিষ্ট হারে আয়, মুনাফা আয়ের ওপর অগ্রাধিকার এবং সম্পদের ওপর দাবি সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
অগ্রাধিকার শেয়ার খাতে বিনিয়োগ ঝুঁকি কম এবং আয়ও নির্দিষ্ট। প্রয়োজনে এ ধরনের শেয়ারকে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করা যায়। মুনাফা বণ্টনের সময় সাধারণ শেয়ার মালিকদের আগে অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের মুনাফা দেয়া হয়। কোম্পানির বিলুপ্তির সময়ও এ ধরনের শেয়ার মালিকদের আগে বিবেচনা করা হয়।
উদ্দীপকে জনাব মতিউর রহমান যদি তার অর্থ কোনো অগ্রাধিকার শেয়ার ক্রয়ে বিনিয়োগ করেন তাহলে তিনি প্রতিবছর নির্দিষ্ট পরিমাণ মুনাফা সাধারণ শেয়ার মালিকদের পূর্বে গ্রহণ করতে পারবেন। কেননা কোম্পানির লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার শেয়ারমালিকদের সাধারণ শেয়ারমালিকদের থেকে অগ্রাধিকার পায়। তাছাড়া কোম্পানির বিলুপ্তির সময় কোম্পানি তার সম্পদ বণ্টনে জনাব মতিউর রহমানের দাবিকে সাধারণ শেয়ারমালিকদের পূর্বে বিবেচনা করবে।
ঘ. অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের ভোটাধিকার থাকে না বিধায় জনাব মতিউর রহমান তার কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ উৎসটিতে বিনিয়োগ করলে কোনো নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা পাবেন না।
অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকরা কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ পায় না। কারণ কোম্পানি কেবলমাত্র তার সাধারণ শেয়ার মালিকদের কোম্পানির প্রকৃত মালিক হিসেবে গণ্য করে এবং ভোটাধিকার ক্ষমতা দান করে। এই ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তারা কোম্পানির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অংশ নিতে পারেন। উদ্দীপকে অগ্রাধিকার শেয়ার ক্রয় করলে জনাব মতিউর রহমান কোম্পানির পুরোপুরি মালিক হিসেবে গণ্য হবেন না এবং ভোটাধিকারও পাবেন না। কোম্পানি মুনাফা অর্জনে সফল হলে তিনি কেবল অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ প্রাপ্ত হবেন এবং কোম্পানির অবসায়ন কালেও তিনি কোম্পানির বণ্টনযোগ্য সম্পদ সাধারণ শেয়ার মালিকদের পূর্বে গ্রহণ করবেন। কিন্তু ভোটাধিকার না থাকায় তিনি কোম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনোরূপ ভ‚মিকা রাখতে পারবেন না।
সুতরাং, অগ্রাধিকার শেয়ারের মালিক হওয়ায় ভোটাধিকারের অভাবে কোম্পানির ওপর জনাব মতিউর রহমানের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।
প্রশ্ন-৭  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
গৌতম বাবু একজন সদ্য অবসর প্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তিনি পেনশন বাবদ ২০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। তিনি এর অর্ধেক অর্থ কোনো লাভজনক কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে চান। তিনি এমন একজন বিনিয়োগকারী হতে চান যার আয় কম হলেও নিয়মিত হবে এবং ঝুঁকি কম থাকবে। এমনকি কোম্পানির বিলুপ্তির সময়ও তিনি তার পাওনা সবার আগে পেতে চান।
ক. কোন শেয়ার সহজে হস্তান্তরযোগ্য? ১
খ. ডিবেঞ্চারের প্রধান অসুবিধাটি ব্যাখ্যা কর। ২
গ. গৌতম বাবু কোন ধরনের বিনিয়োগ উৎসে বিনিয়োগ করবেন? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. গৌতম বাবুর বিনিয়োগের নিরাপত্তা মূল্যায়ন কর। ৪
 ৭নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. সাধারণ শেয়ার সহজে হস্তান্তরযোগ্য।
খ. জামানতহীনতা ডিবেঞ্চারের প্রধান অসুবিধা। ডিবেঞ্চারের বিপরীতে জামানত থাকে না বিধায় সব কোম্পানির ডিবেঞ্চার বিনিয়োগকারীরা ক্রয় করে না। ডিবেঞ্চারের জামানতহীনতা বিনিয়োগকারীকে অর্থ বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করে। জামানতহীনতার কারণে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
গ. গৌতম বাবু যে কোনো কোম্পানির বন্ড ক্রয়ে বিনিয়োগ করবেন।
যে দলিল বা চুক্তিপত্রের মাধ্যমে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের থেকে ঋণ মূলধন সংগ্রহ করে তাই বন্ড। কোম্পানির মুনাফা হোক বা না হোক কোম্পানি প্রতি বছর তার বন্ড বিনিয়োগকারীদের নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করে থাকে।
তাই উদ্দীপকের গৌতম বাবু বন্ডে বিনিয়োগ করলে প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রাপ্ত হবেন। আর বন্ড জামানতযুক্ত ঋণ বলে তার নিকট জামানত হিসেবে কোম্পানির যে কোনো স্থায়ী সম্পত্তি জমা থাকবে। এর ফলে তার বিনিয়োগটি অন্য যে কোনো বিনিয়োগ থেকে নিরাপদ থাকবে। তাছাড়া তিনি কোম্পানির বিলুপ্তির সময় তার পাওনা সবার আগে পেতে আগ্রহী। আর যে কোনো কোম্পানি তার বিলুপ্তিকালে সবার আগে বন্ড বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধ করেন। তাই বন্ড ক্রয় করে বিনিয়োগ করলেই কেবল তিনি তার পাওনা কোম্পানির সকল পাওনাদারদের পূর্বে আদায় করতে পারবেন।
ঘ. গৌতম বাবু যদি তার বিনিয়োগ প্রত্যাশা পূরণে কোম্পানির বন্ডে বিনিয়োগ করেন তাহলে তিনি তার বিনিয়োগের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা অর্জন করতে পারবেন।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি উল্লেখযোগ্য খাত হলো বন্ড। এ দলিলের সহায়তায় কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের নিকট থেকে ঋণ মূলধন সংস্থান করে। বন্ডের বিপরীতে স্থায়ী বা অন্যান্য সম্পত্তি জামানত হিসেবে রাখা হয় বিধায় বন্ডে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি হ্রাস পায়। তাছাড়া বন্ডের আয় নির্দিষ্ট থাকে বলে আয়ের ঝুঁকিও কম। উদ্দীপকে গৌতম বাবু কোম্পানির বন্ডে বিনিয়োগ করলে তার নিকট জামানত হিসেবে কোম্পানির কোনো স্থায়ী সম্পত্তি জমা থাকবে। তাই বন্ডের মেয়াদ পূর্তিতে কোম্পানি যদি কোনো কারণবশত বন্ডের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে তিনি উক্ত জমানতকৃত সম্পত্তি বিক্রি করে তার পাওনা আদায় করতে পারবেন। জমানতকৃত সম্পত্তি বিক্রি করার পরও যদি তার পাওনা টাকা পুরোপুরিভাবে আদায় করা সম্ভব না হয় তাহলে বাকি টাকা আদায়ের জন্য তিনি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। তাছাড়া কোম্পানির বিলুপ্তির সময় ও পাওনাদারদের দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে কোম্পানি তার দাবি সবার আগে পরিশোধ করবে।
সুতরাং, কোম্পানি মুনাফা করুক আর না করুক, কোম্পানি বর্তমান থাকুক অথবা বিলুপ্ত হয়ে যাক বন্ডের বিনিয়োগকারী হিসেবে গৌতম বাবুর বিনিয়োগটি সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রশ্ন-৮  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আপন এবং স্বপন দু’জনেই শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারী। তারা দু’জন প্রায় একই সময়ে কোম্পানিতে সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। তারা দু’জনেই প্রতি বছর কোম্পানি থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সুদ পেয়ে থাকেন। তবে আপনের বিনিয়োগকৃত কোম্পানি তার গৃহীত ঋণের বিপরীতে আমানত হিসেবে কোম্পানির স্থায়ী সম্পত্তি আপনের নিকট জমা রাখলেও স্বপনের কোম্পানি তা করেনি।
ক. বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ উৎস কোনটি? ১
খ. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শেয়ার বাজারের ভ‚মিকা ব্যাখ্যা কর। ২
গ. আপন এবং স্বপন কোন ধরনের বিনিয়োগ উৎসে বিনিয়োগ করেছেন? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. আপন এবং স্বপনের বিনিয়োগ উৎস দুইটির মধ্যে কোনটি তোমার কাছে অধিক নিরাপদ মনে হয়? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। ৪
 ৮নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ উৎস হলো সাধারণ শেয়ার ক্রয়।
খ. কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শেয়ার বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। কারণ শেয়ার বাজারে শেয়ার, ঋণপত্র, লগ্নিপত্র ইত্যাদি লেনদেনের দ্বারা পুঁজি সংগ্রহ ও বিনিয়োগ করা হয়। এতে শিল্প ও বাণিজ্য স¤প্রসারিত হয় এবং সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয়। তাছাড়া শেয়ার বাজারের মাধ্যমে রাষ্ট্র বিনিয়োগকারীদের নিকট হতে প্রচুর রাজস্ব ও কর পেয়ে থাকে, যা দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় হয়।
গ. আপন বন্ড উৎসে ও স্বপন ডিবেঞ্চার উৎসে বিনিয়োগ করেছেন।
যে দলিল বা চুক্তিপত্রের মাধ্যমে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের থেকে ঋণ মূলধন সংগ্রহ করে তাই বন্ড। বন্ডের বিপরীতে স্থায়ী বা অন্যান্য সম্পত্তি জামানত হিসেবে রাখা হয় বিধায় বন্ড বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি হ্রাস পায়। শেয়ার না ছেড়ে বাজার থেকে ঋণ সংগ্রহের জন্য যে দলিল ব্যবহার করা হয় তাকে ডিবেঞ্চার বলা হয়। অর্থাৎ ডিবেঞ্চার হচ্ছে একটি জামানতবিহীন বন্ড। উদ্দীপকে আপন ও স্বপন একই সাথে বিনিয়োগ করলেও তাদের দুজনের বিনিয়োগ খাতের ভিন্নতা রয়েছে। আপনের বিনিয়োগকৃত কোম্পানি জামানত হিসেবে স্থায়ী সম্পত্তি জমা রেখেছে। অর্থাৎ কোম্পানি আপনের পাওনা পরিশোধ করতে না পারলে এসব সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি তার পাওনা আদায় করতে পারবেন। তাই বলা যায়, আপন বন্ডে বিনিয়োগ করেছেন। অন্যদিকে স্বপনের কোম্পানি কোনো স্থায়ী সম্পত্তি জামানত হিসেবে গ্রহণ করেনি বলে স্বপনের বিনিয়োগ খাতকে ডিবেঞ্চার বলা হয়।
ঘ. আপন এবং স্বপনের বিনিয়োগ উৎস দুইটির মধ্যে আপনের বিনিয়োগ উৎসটি আমি অধিক নিরাপদ মনে করি।
বন্ড ও ডিবেঞ্চারের মাধ্যমে কোম্পানি ঋণ মূলধন সংগ্রহ করে। কিন্তু বন্ড জামানতযুক্ত ও ডিবেঞ্চার জামানতবিহীন বিনিয়োগ। তাই এদের মধ্যে নিজস্ব স্বকীয়তা রয়েছে। উদ্দীপকে আপন ও স্বপনের বিনিয়োগকৃত খাত দুটি হলো বন্ড ও ডিবেঞ্চার। বন্ড ও ডিবেঞ্চার বিনিয়োগ খাত দুটি একই। তবে পার্থক্য হচ্ছে বন্ডে স্থায়ী সম্পত্তি জামানত থাকলেও ডিবেঞ্চারে কোনো জামানত থাকে না। এক্ষেত্রে বন্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে কোম্পানি যদি কোনো কারণবশত আপনের বন্ডে উল্লিখিত অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে আপন জামানতকৃত সম্পত্তিটি বিক্রি করে তার পাওনা আদায় করতে পারবে। কিন্তু ডিবেঞ্চার জামানতবিহীন ঋণ। এক্ষেত্রে কোম্পানি স্বপনের নিকট কোনো স্থায়ী সম্পত্তি জমা রাখেনি। তাই ডিবেঞ্চারের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে কোম্পানি যদি কোনো কারণবশত স্বপনকে অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে তিনি কোনোভাবে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবেন না। কোম্পানির অবসায়ন কালেও কোম্পানি প্রথম আপনের মত বন্ডের বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধ করে পরে স্বপনের মত ডিবেঞ্চার বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধ করবে। সুতরাং, আপন এবং স্বপনের বিনিয়োগ উৎস দুইটির মধ্যে আপনের বিনিয়োগ উৎসটি অধিক নিরাপদ।
প্রশ্ন-৯  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জামান এন্ড কোং জনগণের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন উপায়ে আহŸান জানায়। এ সমস্ত বিনিয়োগে সাড়া দিয়ে আশিক, মিজান ও রফিক যে ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে তার একটি পরিসংখ্যান নিম্নের সারণিতে দেয়া হলো :
জামান এন্ড কোং মূলধন গঠনের যে উপায়ে আহŸান জানিয়েছে-
বিনিয়োগকারী বিনিয়োগের পরিমাণ টাকা (লাখ) সুদ/ লভ্যাংশ প্রাপ্তি আয়ের নিশ্চয়তা ঝুঁকির মাত্রা আয়ের পরিমাণ
আশিক ২০ লভ্যাংশ নিশ্চিত কম নির্দিষ্ট
মিজান ১৫ সুদ নিশ্চিত কম নির্দিষ্ট
রফিক ১৮ লভ্যাংশ অনিশ্চিত বেশি অনির্দিষ্ট

ক. বড় অংকের মোট মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশকে কী বলে? ১
খ. ডিবেঞ্চার ও বন্ডের অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য এক হওয়া সত্তে¡ও ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ কেন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ? ২
গ. উদ্দীপকের সারণিতে উল্লিখিত মিজান কোন খাতে বিনিয়োগ করেছে? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকের প্রদত্ত সারণিতে উল্লিখিত বিনিয়োগগুলোর মধ্যে কার বিনিয়োগ সবচেয়ে উত্তম বলে তুমি মনে কর। ৪
 ৯নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. বড় অংকের মোট মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশকে শেয়ার বলে।
খ. ডিবেঞ্চারের বিপরীতে কোনো জামানত থাকে না তাছাড়া বন্ডের মালিকদের সুদ আগে পরিশোধিত হওয়ার পর ডিবেঞ্চারের সুদ দেয়া হয়। কোম্পানির অবসায়নকালেও বন্ড মালিকদের দাবি আগে পরিশোধিত হওয়ার পর ডিবেঞ্চার হোল্ডারদের দাবি পরিশোধিত হয়। এসব কারণে অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য এক হওয়া সত্তে¡ও বন্ড ও ডিবেঞ্চারের মধ্যে ডিবেঞ্চারের বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ।
গ. মিজান জামান এন্ড কোং এর বন্ডে বিনিয়োগ করেছে।
যে দলিল বা চুক্তিপত্রের মাধ্যমে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের থেকে ঋণ মূলধন সংগ্রহ করে তাই বন্ড। বন্ডের বিপরীতে স্থায়ী ও অন্যান্য সম্পত্তি জামানত হিসেবে রাখা হয় বিধায় বন্ড বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি হ্রাস পায়। উদ্দীপকে অন্য সকল কোম্পানির মতো জামান এন্ড কোং তার বন্ড বিনিয়োগকারীদের প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করে থাকে। কোম্পানি তার ডিবেঞ্চারের মালিকদেরও প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে সুদ দিয়ে থাকে কিন্তু ডিবেঞ্চারে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের নিকট কোনো জামানত জমা রাখে না বলে এরূপ উৎসের বিনিয়োগে ঝুঁকি বেশি থাকে। কিন্তু মিজান জামান এন্ড কোং-এর যে বিনিয়োগ উৎসে বিনিয়োগ করেছে তার ঝুঁকি কম। তাই তার বিনিয়োগ উৎসটি অবশ্যই বন্ড। বন্ড বিনিয়োগকারী হিসেবে তিনি জামান এন্ড কোং এর নিকট থেকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে সুদ পান এবং তার নিকট কোম্পানির স্থায়ী সম্পত্তি জমা থাকায় তার বিনিয়োগের ঝুঁকিও কম।
ঘ. সকল দিক বিবেচনায় জামান এন্ড কোং এর তিনজন বিনিয়োগকারীর মধ্যে রফিকের বিনিয়োগ আমি সর্বোত্তম মনে করি।
বুঝে শুনে বিনিয়োগ করলে সাধারণ শেয়ার আয়ের ভালো উৎস হতে পারে। বিনিয়োগের অন্য সকল উৎস হতে আয়ের পরিমাণ কম বা নির্দিষ্ট থাকে। কিন্তু সাধারণ শেয়ারের আয় নির্দিষ্ট নয়। ফলে কোম্পানি অধিক আয় করলে বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্ত আয়ও বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকে আশিক জামান এন্ড কোং এর অগ্রাধিকার শেয়ারে, মিজান বন্ডে এবং রফিক সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ করেছে। অগ্রাধিকার শেয়ারের মালিক হিসেবে আশিক কোনো ভোটাধিকার পায়নি। তাই কোম্পানির ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণও নেই। কিন্তু কোম্পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে মুনাফা অর্জন করতে পারলে তিনি নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পান। মিজান কোম্পানির বন্ডে বিনিয়োগ করায় তিনি নির্দিষ্ট হারে সুদ পান। তার কোনো ভোটাধিকার বা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নেই। তবে বন্ডের শর্তানুসারে তিনি তার বন্ডকে নির্দিষ্ট সংখ্যক সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করে সাধারণ শেয়ার মালিকদের সমান মর্যাদা ও সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। রফিক সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ করায় তার আয় নির্দিষ্ট না হলেও কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধির সাথে সাথে তার আয় বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া সাধারণ শেয়ার মালিক হিসেবে তার ভোটাধিকার থাকায় তিনি কোম্পানির যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখতে পারেন।
সুতরাং বলা যায়, আশিক, মিজান, রফিক তিন জনেই জামান এন্ড কোং এ বিনিয়োগ করে থাকলেও কোম্পানির মালিক হিসেবে রফিক মর্যাদা পাবেন এবং সকল বিনিয়োগের মধ্যে তার বিনিয়োগটি উত্তম বিনিয়োগ।
প্রশ্ন-১০  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আরমান ফাহাদ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লি. ঢাকা-এর শেয়ার বিক্রয়ের জন্য পেপারে প্রকাশিত তাদের একটি বিবরণপত্র দেখে শেয়ার ক্রয়ে সাড়া দেয়। কোম্পানিটি এ প্রথম শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব জনগণকে দিল। ২ মাসের মধ্যে এ শেয়ারের প্রতিটির দাম ১০০ টাকা হতে ২৭০ টাকায় উন্নীত হয়। মেহেদী তার ১০,০০০ হাজার শেয়ার থেকে ৭,০০০ শেয়ার বিক্রয় করে অর্থ ফেরত আনতে চায়।
ক. কারা কোম্পানির ঋণদাতা হিসেবে গণ্য হয়? ১
খ. ইপিএস সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর। ২
গ. আরমান কোন বাজার থেকে শেয়ার ক্রয় করেছে? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. শেয়ারের দাম বাড়ায় ৭,০০০ শেয়ার বিক্রি করে অর্থ ফেরত আনতে মেহেদীর করণীয় বিশ্লেষণ কর। ৪
 ১০নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. বন্ড এবং ডিবেঞ্চারের মালিকরা কোম্পানির ঋণদাতা হিসেবে গণ্য হয়।
খ. ইপিএস হলো ঊধৎহরহম চবৎ ঝযধৎব অর্থাৎ শেয়ার প্রতি আয়। কোম্পানির নিট আয়কে মোট শেয়ার সংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে যে মূল্য পাওয়া যায় তাই ইপিএস। কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের বিপরীত কত টাকা আয় বা মুনাফা হলো ইপিএস তাই নির্দেশ করে।
গ. আরমান প্রাথমিক বাজার থেকে শেয়ার ক্রয় করেছে।
প্রাথমিক বাজার বলতে কোম্পানি যে বাজারে শেয়ার বিক্রির প্রথম প্রস্তাব করে, সে বাজারকে বোঝায়। কোনো কোম্পানি প্রথমবারের মতো বাজারে শেয়ার বিক্রি করলে সেটিকে শেয়ার বিক্রির প্রথম প্রস্তাব বলা হয়। উদ্দীপকে ফাহাদ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড নিবন্ধিত হওয়ার পর মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে জনগণকে কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রচারপত্র বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। অর্থাৎ প্রাথমিক বাজারের মাধ্যমে কোম্পানিটি জনগণকে শেয়ার ক্রয়ে আহŸান বা প্রস্তাব দিয়ে এরূপ বিবরণপত্র প্রকাশ করে। এর বিপরীতে কোম্পানিটি আরমানের মতো জনসাধারণের নিকট থেকে শেয়ার ক্রয়ের আবেদনপত্র গ্রহণ করে। তারপর লটারির মাধ্যমে আবেদনকারীদের মধ্যে শেয়ার বণ্টন করে। লটারিতে আরমানের নাম ওঠায় তিনি কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করতে পারেন।
সুতরাং, ফাহাদ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির প্রথম প্রস্তাবে অংশগ্রহণ করে আরমান প্রাথমিক বাজার থেকে শেয়ার ক্রয় করেছেন।
ঘ. বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত আনার জন্য মেহেদীকে সেকেন্ডারি বাজারে তার শেয়ারগুলো বিক্রয় করতে হবে।
যে বাজারে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের মধ্যে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে সে বাজারকে সেকেন্ডারি বাজার বলা হয়। এরূপ বাজারে বিনিয়োগকারীরা তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার নিজেদের মধ্যে ক্রয় বিক্রয়ের সুযোগ পান। উদ্দীপকে মেহেদীর শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত আনার জন্য তাকে তার শেয়ারগুলো সেকেন্ডারি বাজারে বিক্রয় করতে হবে। কারণ সেকেন্ডারি বাজার ছাড়া অন্য কোনো স্থানে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের মধ্যে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন না। তবে মেহেদী ফাহাদ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লি. এর সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ করায় তিনি তার শেয়ার সহজেই বিক্রি করে নগদে রূপান্তর করতে পারবেন। কারণ মাধ্যমিক বাজারে প্রচুর শেয়ার ক্রেতা পাওয়া যায়। সুতরাং বলা যায়, মেহেদী প্রাথমিক বাজার থেকে শেয়ার কিনলেও অধিক দামে বিক্রির জন্য শেয়ারগুলো সেকেন্ডারি বাজারে বিক্রি করবেন।
প্রশ্ন-১১  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জনাব প্রতাব চন্দ্র একজন শেয়ার ব্যবসায়ী। তিনি শেয়ার বাজারের প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েব সাইট খুলে অষষ ঝযধৎবং চৎরপব ওহফবী বক্সে ডাবল ক্লিক করলে তার কম্পিউটারের পর্দায় নিম্নোক্ত চিত্রটি দেখতে পান-
সকল শেয়ারমূল্য সূচক (মার্চ মাসের ১৫ দিনের)

ক. শেয়ারবাজারের সূচক কী নির্দেশ করে? ১
খ. রাইট শেয়ার বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. জনাব প্রতাব চন্দ্রের দেখা চিত্রটি কোন উপায়ের লেনদেন থেকে সৃষ্ট? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকের চিত্রটিতে প্রদর্শিত রেখার উঠানামার যথাযথ কারণ বিশ্লেষণ কর। ৪
 ১১নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. শেয়ারবাজারের সূচক শেয়ার বাজারের গতি বা সার্বিক অবস্থা নির্দেশ করে।
খ. কোম্পানি গঠনের পরবর্তী সময়ে শেয়ার বিক্রয় করার ক্ষেত্রে যখন পুরাতন শেয়ার মালিকগণ ঐ শেয়ার ক্রয়ে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে তাকে রাইট শেয়ার বলে। অর্থাৎ পরবর্তী সময়ে কোম্পানির মূলধন সংগ্রহের প্রয়োজনে শেয়ার বিক্রয় করা হলে পুরাতন শেয়ার মালিকগণ যখন ঐ শেয়ার ক্রয়ের অধিকার সংরক্ষণ করেন তখন ঐ বিক্রয়যোগ্য শেয়ারকে রাইট শেয়ার বলা হয়ে থাকে।
গ. জনাব প্রতাব চন্দ্রের দেখা চিত্রটি সেকেন্ডারি বাজারে সংঘটিত লেনদেন থেকে সৃষ্ট হয়েছে।
শেয়ারবাজারের সার্বিক অবস্থা বোঝার জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে বিভিন্ন রকম সূচক ব্যবহার করা হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এমনই একটি সূচক হলো সকল শেয়ার মূল্য সূচক। উদ্দীপকে জনাব প্রতাব চন্দ্রের কম্পিউটারের পর্দায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৫ দিনের সকল শেয়ারমূল্য সূচকের চিত্র ফুটে উঠেছে। বিনিয়োগকারীরা সেকেন্ডারি বাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার নিজেদের মধ্যে ক্রয় বিক্রয়ের সুযোগ পান। প্রতিদিনের সংঘটিত লেনদেনের সূচক থেকে এ ধরনের চিত্র ডিএসই থেকে প্রকাশ করা হয়, যাতে বিনিয়োগকারীরা সহজেই বাজারের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন।
ঘ. উদ্দীপকের চিত্রটিতে প্রদর্শিত রেখার উঠানামার মূল কারণ হলো শেয়ার সূচকের হ্রাস-বৃদ্ধি।
বাজারের প্রতিদিনকার অবস্থান জানার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জের সূচকগুলো সহায়তা করে। কারণ অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লে সূচক বাড়ে আবার অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমলে সূচক কমে।
লাভজনক কোম্পানির ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডাররা নিয়মিতভাবে লভ্যাংশ পেয়ে থাকে। তবে লভ্যাংশ প্রদানের কোনো নির্দিষ্ট হার পূর্ব নির্ধারিত থাকে না। এক্ষেত্রে কোম্পানি লভ্যাংশ প্রদান না করে তবে সেকেন্ডারি মার্কেটে কোম্পানির সুনাম কমে যায়। ফলে শেয়ারের দাম হ্রাস পায় আর শেয়ারের সূচক হ্রাস পায়।
উদ্দীপকের চিত্রটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের জানুয়ারি মাসের ১৫ দিনের সকল শেয়ারমূল্য সূচকের। এ সূচক প্রতিদিন প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে। এসব ওঠানামা বাজারের গতি বা দিক সম্পর্কে তথ্য দেয়। চিত্রে দেখা যাচ্ছে, নভেম্বর মাসের ১৩ ও ১৫ তারিখে সূচক কমলেও ১৮ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত ক্রমাগত সূচক বেড়েছে। অর্থাৎ প্রথম সপ্তাহের তুলনায় পরবর্তী সপ্তাহে বাজারের অবস্থা ভালো ছিল।
সুতরাং, জনাব প্রতাব চন্দ্রের দেখা চিত্রের রেখাটি হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে একমাত্র শেয়ারের সূচক উঠানামা করলে।
প্রশ্ন-১২  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
তানজিল কোম্পানি লি. শেয়ারবাজারের একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি। অর্থের ঘাটতি থাকায় তারা এ বছর শেয়ার মালিকদের নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে আনুপাতিক হারে শেয়ার দিয়েছে। আর্থিক সংকট নিরসন না হওয়ায় কোম্পানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
ক. বিনিয়োগকারীদের কাছে কে প্রথমবার শেয়ার বিক্রি করে? ১
খ. বিলম্বিত শেয়ার বলতে কী বোঝ? ২
গ. অর্থের ঘাটতি থাকায় তানজিল কোম্পানি কোন ধরনের শেয়ার ইস্যু করেছে? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. ‘আর্থিক সংকট নিরসনে তানজিল কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিতে পারে’। বিশ্লেষণ কর। ৪
 ১২নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানি প্রথমবার শেয়ার বিক্রি করে।
খ. যে শেয়ার ক্রয় করলে শেয়ার মালিকগণ অন্যান্য সকল শেয়ার মালিকদের লভ্যাংশ কর্তনের পর আনুপাতিক হারে লভ্যাংশ পায় তাকে বিলম্বিত শেয়ার বলে। কোম্পানি অবসায়নের ক্ষেত্রে এ শেয়ারহোল্ডারদের দাবি সকলের পরে মিটানো হয়। সাধারণত কোম্পানির প্রবর্তকগণ এ ধরনের শেয়ার ক্রয় করে থাকে। তাই এ ধরনের শেয়ারকে প্রবর্তকের শেয়ার বলেও অভিহিত করা হয়।
গ. তানজিল কোম্পানি লি. তাদের অর্থের ঘাটতির কারণে বোনাস শেয়ার ইস্যু করেছে।
কোনো কোম্পানির অবণ্টিত মুনাফা যখন শেয়ার মালিকদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন না করে অবণ্টিত মুনাফা শেয়ারে রূপান্তর করে পুরাতন শেয়ার মালিকদের মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয় তখন এ ধরনের শেয়ারকে বোনাস শেয়ার বলে। অনেক সময় কোম্পানির লভ্যাংশ দেয়ার মতো অর্থের পরিমাণ কম থাকলে বোনাস শেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। উদ্দীপকে তানজিল কোম্পানি লি. তার বর্তমান শেয়ার মালিকদের জন্য আনুপাতিক হারে শেয়ার ইস্যু করেছে। এ প্রকার শেয়ারের অন্যতম সুবিধা হলো কোম্পানির নগদ অর্থের পরিমাণে তারতম্য হয় না, কোম্পানির প্রতি সাধারণ শেয়ার মালিকদের আস্থাও বৃদ্ধি পায়।
ঘ. তানজিল কোম্পানি লি. নতুন করে অতিরিক্ত মূলধন সংগ্রহের কথা ভাবছে।
দীর্ঘমেয়াদি অর্থসংস্থানের অন্যতম উপায় হলো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ব্যবস্থা। সাধারণত বিভিন্ন জামানত প্রদানের মাধ্যমে ব্যাংকের কাছ হতে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি অর্থের প্রয়োজন মেটায়। তাছাড়া বিমা কোম্পানি, ইজারা কোম্পানি, বিনিয়োগ ব্যাংক ইত্যাদি উৎস হতে এ ধরনের ঋণ পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে তানজিল কোম্পানি লি. অতিরিক্ত মূলধন সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিতে পারে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট পরিমাণ সুদের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তাদের প্রয়োজনীয় মূলধন সরবরাহ করে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে তানজিল কোম্পানি লি. কে আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত শর্তসমূহ পূরণ করতে হবে।
সাধারণ কঠিন শর্তে আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ঋণ সরবরাহ করে থাকে। তবে সরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান আছে যাদের ঋণ প্রদানের শর্তসমূহ অনেক সহজ। তানজিল কোম্পানি লি. তাদের প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, বাংলাদেশ বিনিয়োগ সংস্থা, ইঝঈওঈ, ইউইখ সহ নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ নিতে পারে। কোম্পানির প্রয়োজনে এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রয়োজনীয় মূলধন সরবরাহ করে কোম্পানি পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। সুতরাং বলা যায়, তানজিল কোম্পানি লি. আর্থিক সংকট নিরসনের জন্য বিনিয়োগ ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে।

প্রশ্ন-১৩  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রিমা ইন্টারন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানি। কোম্পানিটি ব্যবসায় স¤প্রসারণের লক্ষ্যে বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং সরকারের অনুমতিও পায়।
[মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা; ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক. বন্ড কী? ১
খ. সাধারণ শেয়ারের প্রধান সুবিধাটি ব্যাখ্যা কর। ২
গ. রিমা ইন্টারন্যাশনাল কোন প্রকৃতির কোম্পানি? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. বোনাস শেয়ার ইস্যু রিমা ইন্টারন্যাশনালের কোন শ্রেণির অর্থসংস্থানের উৎস? বিশ্লেষণ কর। ৪
 ১৩নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. যে দলিল বা চুক্তিপত্রের মাধ্যমে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের থেকে ঋণ মূলধন সংগ্রহ করে তাই বন্ড।
খ. অধিক আয় সাধারণ শেয়ারের প্রধান সুবিধা। কারণ বিনিয়োগের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাত হলেও সাধারণ শেয়ারে বুঝে শুনে বিনিয়োগ করে অধিক আয় করা সম্ভব। বিনিয়োগের অন্য সকল উৎসের আয়ের পরিমাণ নির্দিষ্ট থাকে। কিন্তু সাধারণ শেয়ারের আয় নির্দিষ্ট নয়। ফলে কোম্পানি অধিক আয় করলে বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্ত আয়ও বৃদ্ধি পায়।
গ. রিমা ইন্টারন্যাশনাল একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ৭ জন ও সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা কোম্পানির স্মারকলিপিতে উল্লিখিত শেয়ার সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে। এই কোম্পানিকে নিবন্ধনপত্র পাওয়ার পর কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হয়। উদ্দীপকের রিমা ইন্টারন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানি। আর স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত হওয়ার অর্থ হচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য এবং কোম্পানিটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। এরূপ কোম্পানি জনগণের নিকট মূলধনের জন্য শেয়ার ইস্যু করে থাকে। অর্থাৎ যেকোনো প্রয়োজনের সময়ে কোম্পানিটি শেয়ার ইস্যু করে ব্যবসায়ে মূলধন সংগ্রহ করতে সক্ষম। তাছাড়া কোম্পানির চিরন্তন অস্তিত্ব ও কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা রয়েছে। এমনকি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের দায়ও তাদের ক্রয়কৃত শেয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
ঘ. বোনাস শেয়ার ইস্যু রিমা ইন্টারন্যাশনালের দীর্ঘমেয়াদি অর্থসংস্থানের উৎস।
কোনো কোম্পানির অবণ্টিত মুনাফা যখন শেয়ার মালিকদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন না করে অবন্টিত মুনাফা শেয়ারে রূপান্তর করে পুরাতন শেয়ার মালিকদের মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয় তখন এ ধরনের শেয়ারকে বোনাস শেয়ার বলে। বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে কোম্পানি তার দীর্ঘমেয়াদি অর্থসংস্থান নিশ্চিত করে এবং এর জন্য শেয়ারহোল্ডারদের নগদ অর্থ প্রদান করতে হয় না। এটি কোম্পানির মূলধন বাড়ানোর সহজ একটি উৎস। উদ্দীপকে রিমা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির সংরক্ষিত তহবিলে প্রভ‚ত অর্থ সঞ্চয় হলে অনেক ক্ষেত্রে সঞ্চিত তহবিলের সম্পূর্ণ অথবা আংশিক অর্থ মূলধনে পরিণত করা হয়। সংরক্ষিত তহবিলের যে অংশ মূলধনে পরিণত করা হয় সে অর্থ পরিমিত মূল্যের শেয়ার পুরাতন ইক্যুইটি শেয়ারহোল্ডারগণের মধ্যে বিলি করে থাকে। সুতরাং, রিমা ইন্টারন্যাশনাল বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে সহজেই দীর্ঘমেয়াদি অর্থসংস্থানের যোগান নিশ্চিত করতে পারে।

 জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ কোম্পানি বিনিয়োগ সুযোগ সৃষ্টি করতে কী ইস্যু করে?
উত্তর : কোম্পানি বিনিয়োগ সুযোগ সৃষ্টি করতে শেয়ার, বন্ড ও ডিবেঞ্চার ইস্যু করে।
প্রশ্ন \ ২ \ অনেক আবেদন পড়লে কোম্পানি কিসের মাধ্যম শেয়ার বণ্টন করে?
উত্তর : অনেক আবেদন পড়লে কোম্পানি লটারির মাধ্যমে শেয়ার বণ্টন করে।
প্রশ্ন \ ৩ \ কোম্পানি লভ্যাংশ প্রদান না করলে কোথায় শেয়ার মূল্য হ্রাস পায়?
উত্তর : কোম্পানি লভ্যাংশ প্রদান না করলে সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ার মূল্য হ্রাস পায়।
প্রশ্ন \ ৪ \ কোম্পানির অর্জিত আয় এবং সম্পত্তির ওপর কাদের আইনগত অধিকার থাকে?
উত্তর : কোম্পানির অর্জিত আয় এবং সম্পত্তির ওপর সাধারণ শেয়ার মালিকদের আইনগত অধিকার থাকে।
প্রশ্ন \ ৫ \ কারা কোম্পানির ঝুঁকি বহন করে?
উত্তর : সাধারণ শেয়ার মালিকরা যৌথভাবে কোম্পানির ঝুঁকি বহন করে।
প্রশ্ন \ ৬ \ কোন ধরনের শেয়ার মালিকদের ভোটাধিকার থাকে না?
উত্তর : অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের ভোটাধিকার থাকে না।
প্রশ্ন \ ৭ \ কোনটি জামানতযুক্ত ঋণ দলিল?
উত্তর : বন্ড একটি জামানতযুক্ত ঋণ দলিল।
প্রশ্ন \ ৮ \ বন্ডের বিপরীতে জামানত হিসেবে কী রাখা হয়?
উত্তর : বন্ডের বিপরীতে জামানত হিসেবে স্থায়ী বা অন্যান্য সম্পত্তি জমা রাখা হয়।
প্রশ্ন \ ৯ \ ডিবেঞ্চার কী?
উত্তর : ডিবেঞ্চার হচ্ছে একটি জামানতবিহীন বন্ড।
প্রশ্ন \ ১০ \ ডিএসই ২০ সূচক কী?
উত্তর : ডিএসই ২০ সূচক হলো শেয়ার বাজারের গতি বা সার্বিক অবস্থা বোঝানোর জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যবহৃত একটি সূচক।
প্রশ্ন \ ১১ \ শেয়ারবাজারের সূচকের ওঠানামা কিসের ওপর নির্ভরশীল?
উত্তর : শেয়ারবাজারের সূচকের ওঠানামা তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার মূল্য ওঠানামার ওপর নির্ভরশীল।
প্রশ্ন \ ১২ \ লভ্যাংশ কী?
উত্তর : লভ্যাংশ হলো কোম্পানির লাভ বা মুনাফার সে অংশ যা শেয়ার মালিকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
প্রশ্ন \ ১৩ \ স্টক লভ্যাংশ প্রদান করলে কোম্পানির কী বৃদ্ধি পায়?
উত্তর : স্টক লভ্যাংশ প্রদান করলে কোম্পানির ইস্যুকৃত শেয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
প্রশ্ন \ ১৪ \ কাকে প্রতিবছর লভ্যাংশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়?
উত্তর : কোম্পানিকে প্রতিবছর লভ্যাংশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
প্রশ্ন \ ১৫ \ লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে অধিক নমনীয় নীতি কোনটি?
উত্তর : লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে অধিক নমনীয় নীতি হলো স্থির লভ্যাংশ সাথে অতিরিক্ত লভ্যাংশ নীতি।
প্রশ্ন \ ১৬ \ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে কোন শেয়ার মালিকরা?
উত্তর : ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সাধারণ শেয়ার মালিকরা।
প্রশ্ন \ ১৭ \ আয় নির্দিষ্ট থাকে না কোন শেয়ার মালিকদের?
উত্তর : সাধারণ শেয়ার মালিকদের আয় নির্দিষ্ট থাকে না।
প্রশ্ন \ ১৮ \ কোন ধরনের শেয়ার মালিকদের কোম্পানির পুরোপুরি মালিক বলা হয় না?
উত্তর : অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের কোম্পানির পুরোপুরি মালিক বলা হয় না।
প্রশ্ন \ ১৯ \ লভ্যাংশ প্রদানে কারা অগ্রাধিকার পায়?
উত্তর : লভ্যাংশ প্রদানে অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকরা অগ্রাধিকার পায়।
প্রশ্ন \ ২০ \ বিলম্বিত শেয়ার কী?
উত্তর : যে শেয়ার ক্রয় করলে শেয়ার মালিকগণ অন্যান্য সকল প্রকার শেয়ার মালিকদের লভ্যাংশ কর্তনের পর আনুপাতিক হারে লভ্যাংশ পেয়ে থাকে তাকে বিলম্বিত শেয়ার বলে।
প্রশ্ন \ ২১ \ নগদ লভ্যাংশ কী?
উত্তর : যে লভ্যাংশ নগদ টাকায় পরিশোধ করা হয়, সে লভ্যাংশকে নগদ লভ্যাংশ বলে।
প্রশ্ন \ ২২ \ রাইট শেয়ার কী?
উত্তর : কোম্পানি গঠনের পরবর্তী সময়ে শেয়ার বিক্রয় করার ক্ষেত্রে যখন পুরাতন শেয়ার মালিকগণ ওই শেয়ার ক্রয়ে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে তাকে রাইট শেয়ার বলে।
প্রশ্ন \ ২৩ \ পাবলিক লিঃ কোম্পানির তহবিল সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস কোনটি?
উত্তর : পাবলিক লিঃ কোম্পানির তহবিল সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হচ্ছে শেয়ার বিক্রয়।
প্রশ্ন \ ২৪ \ কী ক্রয়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীগণ বিনিয়োগে আগ্রহী হয়?
উত্তর : শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীগণ বিনিয়োগে আগ্রহী হয়।
প্রশ্ন \ ২৫ \ কোন শেয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় পর সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করতে পারে?
উত্তর : অগ্রাধিকার শেয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় পর সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করতে পারে।
প্রশ্ন \ ২৬ \ বিলম্বিত শেয়ার সাধারণত কারা ক্রয় করে থাকে?
উত্তর : বিলম্বিত শেয়ার সাধারণত কোম্পানির প্রবর্তকগণ ক্রয় করে থাকে।
প্রশ্ন \ ২৭ \ কোন ধরনের শেয়ারকে প্রবর্তক শেয়ার বলা হয়?
উত্তর : বিলম্বিত শেয়ারকে প্রবর্তক শেয়ার বলা হয়।

 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ অগ্রাধিকার শেয়ার বলতে কী বোঝ?
উত্তর : যে শেয়ার বিনিয়োগকারীকে লভ্যাংশ প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার প্রদান করে তাকে অগ্রাধিকার শেয়ার বলে। যেসব বিনিয়োগকারী শেয়ার বিনিয়োগ থেকে নির্দিষ্ট হারে আয় প্রত্যাশা করে তাদের জন্য অগ্রাধিকার শেয়ার উপযুক্ত। তবে অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকরা কোম্পানির পুরোপুরি মালিক না হওয়ায় তাদের ভোটাধিকার থাকে না। তাই তারা কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে অংশগ্রহণ করতে পারে না।
প্রশ্ন \ ২ \ সাধারণ শেয়ারের যে কোনো একটি অসুবিধা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : মুনাফা ও সম্পত্তি বণ্টনে অধিকার সাধারণ শেয়ারের একটি অসুবিধা, কারণ কোম্পানির অর্জিত মুনাফা সবার দায় তথা অগ্রাধিকার শেয়ার বন্ড ও ডিবেঞ্চার মালিকদের প্রাপ্য আয় পরিশোধের পর অবশিষ্ট মুনাফার ওপর সাধারণ শেয়ার মালিকদের অধিকার থাকে। অনুরূপভাবে কোম্পানির অবসায়নকালে সম্পত্তি বিক্রির প্রাপ্ত অর্থ থেকে কোম্পানির সকল দায় পরিশোধ করার পর অবশিষ্ট অর্থ শেয়ার মালিকরা ভাগাভাগি করে নেয়।
প্রশ্ন \ ৩ \ অগ্রাধিকার শেয়ারের অসুবিধা লেখ।
উত্তর : সাধারণ শেয়ারের মতো অগ্রাধিকার শেয়ারের কিছু অসুবিধা রয়েছে। অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের সাধারণ শেয়ার মালিকদের মতো ভোটাধিকার থাকে না। ফলে অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের কোম্পানির ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের আয়ের হার নির্দিষ্ট হওয়ায় কোম্পানি অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করলে অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকরা এর কোনো অংশ পায় না।
প্রশ্ন \ ৪ \ সাধারণ শেয়ারের তারল্যতা বলতে কী বোঝ?
উত্তর : বিনিয়োগকারীর কাছে সাধারণত শেয়ার তরল সম্পদ হিসেবে সমাদৃত। বিনিয়োগকারী যে কোনো সময় ইচ্ছে করলে তার ক্রয়কৃত শেয়ার বিক্রি করে নগদ টাকা সংগ্রহ করতে পারে। তবে সব কোম্পানির শেয়ারের তারল্যতা সমান হয় না। সাধারণ বড় এবং ভালো কোম্পানির শেয়ারের তারল্য অন্য কোম্পানিগুলোর চেয়ে বেশি হয়।
প্রশ্ন \ ৫ \ শেয়ারের রূপান্তরযোগ্যতা বলতে কী বোঝ?
উত্তর : নির্দিষ্ট সময় পর একটি শেয়ারকে অন্য শেয়ারে পরিবর্তন করাকে শেয়ারের রূপান্তরযোগ্যতা বলা হয়। সাধারণত অগ্রাধিকার শেয়ারকে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করার সুযোগ পাওয়া যায়।
প্রশ্ন \ ৬ \ স্থিতিশীল লভ্যাংশ নীতি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : এ নীতি অনুযায়ী প্রতিবছর অর্জিত লাভ থেকে সমপরিমাণ টাকা লভ্যাংশ দেয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ একটি কোম্পানি প্রতিবছর শেয়ার প্রতি ১০ টাকা লভ্যাংশ দিলে এটিকে স্থিতিশীল লভ্যাংশ নীতি বলা হবে। শেয়ার প্রতি আয় যত বেশি হোক না কেন, কোম্পানি গত বছরগুলোতে প্রদত্ত লভ্যাংশের সমপরিমাণ লভ্যাংশ প্রদান করে। তবে এ পদ্ধতিতে সাধারণত লভ্যাংশের পরিমাণ কমে না।
প্রশ্ন \ ৭ \ ডিবেঞ্চারের সুবিধাসমূহ লেখ।
উত্তর : ডিবেঞ্চার হলো একটি জামানতবিহীন বন্ড। ডিবেঞ্চার থেকে বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট হারে নিয়মিত আয় পায়। ডিবেঞ্চারে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে।
প্রশ্ন \ ৮ \ লভ্যাংশ নীতি কোম্পানিকে কীভাবে সহায়তা করে?
উত্তর : একটি কোম্পানির অর্জিত লাভ বা মুনাফাই হচ্ছে শেয়ার মালিকদের প্রাপ্য আয়। অর্জিত লাভ বা মুনাফা শেয়ার মালিকদের মধ্যে বণ্টন করার জন্য কোম্পানি যে নীতি গ্রহণ করে তাই লভ্যাংশ নীতি। লভ্যাংশ নীতি লাভ বণ্টন ও সংরক্ষণে সহায়তা করে।
প্রশ্ন \ ৯ \ ডিবেঞ্চার সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ডিবেঞ্চার হচ্ছে একটি জামানতবিহীন বন্ড। শেয়ার না ছেড়ে বাজার থেকে ঋণ সংগ্রহের জন্য যে দলিল ব্যবহার করা হয় তাকে ডিবেঞ্চার বলা হয়। ডিবেঞ্চারে নির্দিষ্ট সুদ প্রদান করতে হয়। এটি এক প্রকার ঋণপত্র।
প্রশ্ন \ ১০ \ বন্ড মালিকদের দাবি সাধারণ ও অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের দাবি থেকে অগ্রগণ্য কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : কোম্পানি কর্তৃক অর্জিত আয় থেকে সর্বপ্রথম বন্ড মালিকদের সুদ প্রদান করা হয়। কোম্পানি বিলুপ্তি বা অবসায়ন কালে সম্পদ বিক্রির প্রাপ্ত অর্থ থেকে সর্বপ্রথম বন্ড মালিকদের পাওনা টাকা পরিশোধ করে অন্যদের দাবি পূরণ করা হয়। তাই বলা হয়, বন্ড মালিকদের দাবি সাধারণ ও অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের দাবি থেকে অগ্রগণ্য।
প্রশ্ন \ ১১ \ ন্যূনতম মূলধন সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি গঠনের প্রাথমিক খরচ, চলতি মূলধন ও অন্যান্য প্রয়োজনাদি পূরণের উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট পরিমাণ মূলধন সংগ্রহের কথা উল্লেখ থাকে। একে ন্যূনতম মূলধন বলে। সাধারণত বিবরণপত্র প্রচারের ১০০ দিনের মধ্যে ন্যূনতম মূলধন সংগ্রহ করা আবশ্যক।
প্রশ্ন \ ১২ \ বিবরণপত্র বলতে কী বোঝ?
উত্তর : পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে শেয়ার বিক্রয়ের জন্য সকল শ্রেণির ক্রেতার উদ্দেশ্যে কোম্পানির সম্পদ ও মূলধনসমহ প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সম্বলিত যে বিজ্ঞাপন প্রচার করে সে বিজ্ঞাপনকে বিবরণপত্র বলে। বিবরণপত্রে প্রকাশিত তথ্যের জন্য সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব কোম্পানির পরিচালকদের বহন করতে হয়।
প্রশ্ন \ ১৩ \ ওচঙ বলতে কী বোঝ?
উত্তর : ওচঙ-এর পূর্ণরূপ হলো ওহরঃঃরধষ চঁনষরপ ঙভভবৎরহম। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি জনগণের কাছে সরাসরি যে বাজারের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে তাকে প্রাথমিক বাজার বলে। কোনো কোম্পানি প্রথমবারের মতো বাজারে শেয়ার বিক্রি করলে সেটিকে শেয়ার বিক্রির প্রথম প্রস্তাব বলে। বিনিয়োগকারী ওচঙ-তে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শেয়ার ক্রয় করলে সে প্রাথমিক বাজারে শেয়ার ক্রয় করেছে বলে মনে করা হয়।
প্রশ্ন \ ১৪ \ পরিপক্বতার তারিখ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : কোনো নির্দিষ্ট দিনে যখন কোনো কোম্পানি তার ইস্যুকৃত বন্ডের লিখিত মূল্য ফেরত দান করে সেই নির্দিষ্ট দিনকে পরিপক্বতার তারিখ বলে। পরিপক্বতার তারিখে বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পায় এবং কোম্পানি সকল দায় হতে মুক্তি পায়।
প্রশ্ন \ ১৫ \ সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ারমূল্য হ্রাস পায় কেন?
উত্তর : সাধারণত লাভজনক কোম্পানির ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডাররা নিয়মিতভাবে লভ্যাংশ পেয়ে থাকে। তবে লভ্যাংশ প্রদানের কোনো নির্দিষ্ট হার পূর্ব নির্ধারিত থাকে না। কোম্পানি ইচ্ছা করলে যে কোনো হারে লভ্যাংশ প্রদান করতে পারে। আবার লভ্যাংশ নাও প্রদান করতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে সেকেন্ডারি মার্কেটে কোম্পানির সুনাম কমে যায়। পরবর্তীতে শেয়ার মূল্য হ্রাস পায়।
প্রশ্ন \ ১৬ \ ডিএসই সাধারণ সূচক বলতে কী বোঝ?
উত্তর : কোনো নির্দিষ্ট দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়্যাল ফান্ডের মূল্য, মূল্য বৃদ্ধি বা মূল্য হ্রাসজনিত সকল লেনদেনের পরিমাপক হিসেবে একটি সূচক ব্যবহার করা হয়। একে ডিএসই সাধারণ সূচক বলে।
প্রশ্ন \ ১৭ \ ডিএসই ২০ সূচক সম্পর্কে লেখ।
উত্তর : কোনো এক কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনকৃত সকল প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়্যাল ফান্ডের মধ্যে লেনদেনের শীর্ষে থাকা ২০ প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের আলোকে যে সূচক হিসাব করা হয় তাকে ডিএসই ২০ সূচক বলে।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply