নবম-দশম শ্রেণির ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং নবম অধ্যায় ব্যাংকিং ব্যবসা ও তার ধরন সৃজনশীল ও জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর

নবম অধ্যায়
ব্যাংকিং ব্যবসা ও তার ধরন

 ব্যাংকের উদ্দেশ্যাবলি
ক. ব্যাংকের মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রেক্ষাপটে ব্যাংকের উদ্দেশ্যাবলি :
র. তহবিলের বিনিয়োগ ও মুনাফা অর্জন : ব্যাংকের মালিক, অংশীদার ও শেয়ারহোল্ডারদের সঞ্চিত অর্থের সঠিক বিনিয়োগ করা ব্যাংকের একটি লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্য যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের কাক্সিক্ষত হারে মুনাফা অর্জন করা প্রয়োজন।
রর. সুনাম অর্জন : ব্যাংকিং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সাথে সুনাম শব্দটি জড়িত। প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি পেলে মালিকের সুনামও বৃদ্ধি পায়।
ররর. সামাজিক অবদান : ব্যাংকের অর্জিত মুনাফার একটি অংশ সামাজিক উন্নয়নে ও সমাজ গঠনমূলক কাজে ব্যয় করা তাদের একটি উদ্দেশ্য।
খ. সরকার ও রাষ্ট্রীয় পক্ষের প্রেক্ষাপটে ব্যাংকের উদ্দেশ্যাবলি
র. নোট ও মুদ্রার প্রচলন : কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা প্রচলন করে থাকে। সরাসরি মুদ্রা প্রচলন করা বাণিজ্যিক ব্যাংকের পক্ষে সম্ভব নয়। বাংলাদেশে নোট ও মুদ্রা প্রচলনের একমাত্র অধিকারী হলো বাংলাদেশ ব্যাংক।
রর. মূলধন গঠন : ব্যাংক বিভিন্নভাবে মূলধন গঠনে সরকারকে সহায়তা করে থাকে। এটা ব্যাংকের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ররর. বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন : দেশে ভারসাম্যপূর্ণ বিনিয়োগ ও শিল্পায়নে ব্যাংকের ভ‚মিকা অনস্বীকার্য।
রা. মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ : কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের পক্ষে দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সর্বদা মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ করে।
া. কর্মসংস্থান : ব্যাংক বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়নের সময় জাতীয় স্বার্থে কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনার পাশাপাশি নিজ প্রতিষ্ঠানে অনেক লোকের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করে।
গ. ব্যাংক গ্রাহকদের প্রক্ষাপটে ব্যাংকের উদ্দেশ্যাবলি
র. আমানত : গ্রাহকদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় সংগ্রহ করে ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের আমানত সৃষ্টি করে।
রর. নিরাপত্তা : গ্রাহকের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর নিরাপত্তা প্রদান করা ব্যাংকের একটি উদ্দেশ্য।
ররর. প্রতিনিধি ও অছি : সেবার মূল্য গ্রহণের বিনিময়ে মক্কেলের পক্ষে প্রতিনিধি/ অছি হিসাবে কাজ করা ব্যাংকের একটি উদ্দেশ্য।
রা. উপদেষ্টা ও পরামর্শদাতা : ব্যাংক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে থাকে। গ্রাহককে অর্থসংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে থাকে।
া. জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন : গ্রাহকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকল্পে ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন সেবা ও পণ্য সৃষ্টি করে।
 ব্যাংকের গঠন
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইন অনুযায়ী বর্তমানে সর্বনি¤œ ২ জন ও সর্বোচ্চ ১৩ জন পরিচালকের সমন্বয়ে প্রাইভেট ব্যাংক স্থাপন করা যায়। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মালিকানায় ব্যাংকের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৭ জন এবং সর্বোচ্চ সীমাহীন পরিচালকের সমন্বয়ে ব্যাংক প্রতিষ্ঠান করা যায়। বাংলাদেশে যে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনহীন ব্যাংকগুলো সমবায় বা অন্য যে কোনো নামে পরিচালিত হলেও তা বেআইনি ব্যাংকিং ব্যবস্থা হিসাবে চি‎ি‎হ্নত হবে।
 ব্যাংকিং ব্যবসার মূলনীতি
১. নিরাপত্তার নীতি ৫. দক্ষতার নীতি ৯. সুনামের নীতি ১৩. মিতব্যয়িতার নীতি
২. মুনাফার নীতি ৬. সেবার নীতি ১০. বিনিয়োগ নীতি ১৪. সততা ও বিশ্বস্ততার নীতি
৩. তারল্য নীতি ৭. প্রচার নীতি ১১. উন্নয়নের নীতি ১৫. সাবধানতার নীতি
৪. প্রাচুর্য বা সচ্ছলতার নীতি ৮. গোপনীয়তার নীতি ১২. উদ্দেশ্যের নীতি ১৬. বিশেষায়নের নীতি
 ব্যাংকের শ্রেণিবিন্যাস
ক. কাঠামোভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ : ১. একক ব্যাংক, ২. শাখা ব্যাংক, ৩. চেইন ব্যাংক ও ৪. গ্রæপ ব্যাংক।
খ. কার্যভিত্তিক শ্রেণিকরণ : ১. কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ২. বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৩. কৃষি ব্যাংক, ৪. শিল্প ব্যাংক, ৫. সমবায় ব্যাংক, ৬. বিনিয়োগ ব্যাংক, ৭. সঞ্চয়ী ব্যাংক, ৮. বন্ধকি ব্যাংক, ৯. পরিবহন ব্যাংক, ১০. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ব্যাংক, ১১. আমদানি-রপ্তানি ব্যাংক।
গ. ব্যবসায় সংগঠনভিত্তিক শ্রেণিকরণ : ১. একমালিকানা ব্যাংক, ২. অংশীদারি ব্যাংক, ৩. যৌথ মালিকানা ব্যাংক, ৪. সমবায় ব্যাংক ও ৫. রাষ্ট্রীয় ব্যাংক।
ঘ. মালিকানাভিত্তিক শ্রেণিকরণ : ১. সরকারি ব্যাংক, ২. বেসরকারি ব্যাংক, ৩. এনজিও ব্যাংক, ৪. স্বায়ত্তশায়িত ব্যাংক, ৫. আংশিক ব্যাংক, ৬. বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংক।
ঙ. অঞ্চলভিত্তিক শ্রেণিকরণ : ১. আঞ্চলিক ব্যাংক, ২. জাতীয় ব্যাংক, ৩. আন্তর্জাতিক ব্যাংক।
চ. নিবন্ধনভিত্তিক শ্রেণিকরণ : ১. দেশি ব্যাংক, ২. বিদেশি ব্যাংক।
ছ. বিশেষ মক্কেলভিত্তিক শ্রেণিকরণ : ১. শ্রমিক ব্যাংক, ২. মহিলা ব্যাংক, ৩. স্কুল ব্যাংক ও ৪. ভোক্তাদের ব্যাংক।
জ. নিয়ন্ত্রণভিত্তিক শ্রেণিকরণ : ১. পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক, ২. আংশিক নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক, ৩. বাজার নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক।
ঝ. ধর্মীয় দৃষ্টিকোণভিত্তিক ব্যাংক।

অনুশীলনীর সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
নবাবপুর হাটে নতুন করে ব্যাংকের শাখা দেখে রমিজ তার বড় ভাইকে প্রশ্ন করল যে এই গ্রাম্য হাটে ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা কি খুব বেশি? তখন রমিজের ভাই বলল যে আমরা যে পাট ব্যবসায়ীরা এই গ্রামে আছি এই ব্যাংক আমাদের বিভিন্ন আর্থিক সমস্যা সমাধানকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে এবং কাজকে অনেক সহজতর করবে এবং অল্প কিছুদিন পরই দেখা গেল যে তাদের গ্রামের অনেকেই বিভিন্ন কলকারখানা স্থাপনসহ বিভিন্ন শিল্পোদ্যোগ গ্রহণ করল এই ব্যাংকের বিভিন্ন সহযোগিতার মাধ্যমে।
ক. পাবলিক লি. ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন পরিচালক সংখ্যা কতজন থাকে?
খ. ব্যাংকের তারল্যনীতিটি ব্যাখ্যা কর।
গ. রমিজের ভাইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে ব্যাংকের ভ‚মিকা পর্যালোচনা কর।
ঘ. ব্যাংকিং সেবা চালু করায় নবাবপুর হাটে স্থানীয় লোকেরা শিল্প-কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হলো-বিষয়টির সাথে তুমি একমত কি না তা বর্ণনা কর।
 ১নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. পাবলিক লি. ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন পরিচালক সংখ্যা ৭ জন।
খ. তারল্যনীতি হলো যেখানে অতিরিক্ত তারল্যও থাকবে না আবার তারল্য সংকটও হবে না। আমানতকারীরা যে কোনো মুহ‚র্তে তাদের অর্থ ফেরত নিতে পারে বা প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা উত্তোলন করতে পারে। তাই প্রতিটি ব্যাংক মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ তার কাছে নগদ জমা রেখে বাকি অর্থ স্বল্প মেয়াদে বিনিয়োগ করে থাকে। ঐ নগদ অংশের পরিমাণকে ব্যাংকের ভাষায় তারল্যনীতি বলা হয়।
গ. রমিজের ভাইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে ব্যাংকের অবদান অপরিসীম।
যে কোনো উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নের পেছনে ব্যাংকের অসামান্য ভ‚মিকা রয়েছে। কারণ ব্যাংকই দেশে ব্যবসায় বাণিজ্য গড়ে তোলার পেছনে সকল আর্থিক সমস্যার সমাধানে কাজ করে থাকে। উদ্দীপকের রমিজের ভাইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী ব্যাংক তাদের গ্রামের পাট ব্যবসায়ীদের ঋণসহ অন্যান্য আর্থিক সমস্যা সমাধান করতে পারবে। ব্যবসায়িক বিভিন্ন কাজে পরামর্শ দিয়ে তাদের কাজ সহজতর করবে। ব্যাংক ঐ গ্রামের জনগণের সঞ্চিত অর্থ থেকে মূলধন গঠন করবে। সংগৃহীত মূলধন বিভিন্ন লাভজনক খাতে যেমন : শিল্পকারখানা, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করবে। এতে ব্যবসায় বাণিজ্যের উন্নতির সাথে সাথে অধিকতর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। ফলে ঐ গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। এভাবেই ধীরে ধীরে এই গ্রামের উন্নতি ঘটবে এবং এই গ্রামের মতো করে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও যথেষ্ট অবদান রাখবে।
ঘ. ব্যাংকিং সেবা চালু করায় নবাবপুর হাটে স্থানীয় লোকেরা শিল্প-কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হলো-বিষয়টির সাথে আমি সম্পূর্ণভাবে একমত।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যাংক ব্যবসায়ের যাত্রা শুরু হলেও এটি গ্রাহকদের জন্য এবং সমাজের জন্য নানামুখী সেবামূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে যা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক। উদ্দীপকে নবাবপুর গ্রামের হাটের ব্যাংকটি শাখা স্থাপনের অল্প কিছুদিন পরেই গ্রামের অনেকেই কলকারখানা স্থাপনসহ বিভিন্ন শিল্পোদ্যাগ গ্রহণ করেছে। কারণ মূলধনের অভাবে এতো দিন নবাবপুর গ্রামের স্থানীয় লোকেরা শিল্প-কারখানার কথা চিন্তা করতে পারেননি। তাই গ্রামের স্থাপিত ব্যাংকের সহযোগিতা পাওয়া মাত্রই তারা শিল্পোদ্যোগ গ্রহণ করল। তাছাড়া যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে হাত দেওয়ার আগে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হয়, যা ব্যাংক খুব সহজেই সমাধান করতে পারে। তাছাড়া নবাবপুর হাটের ঐ ব্যাংক গ্রামের লোকজনের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
সুতরাং, ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সহযোগিতা পেয়েছে বলেই গ্রামের লোকরা শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহী হয়েছে।
প্রশ্ন-২  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
অরুণিমা ব্যাংক বৈধ অনুমোদন নিয়ে ২০০৮ সালে গঠিত হয়। বর্তমানে একজন ব্যক্তি ১.৫০ লক্ষ টাকা ঋণের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের নিকট আবেদন করেন। তিনি ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম, জমি বন্ধক রাখতে আগ্রহী। কিন্তু তার সরবরাহকৃত তথ্য ও দলিল পত্রাদির মধ্যে যথেষ্ট অমিল রয়েছে।
ক. চেইন ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য কী?
খ. ব্যাংকিং কার্যক্রমে আর্থিক সচ্ছলতা কেন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা কর।
গ. অরুণিমা ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় কোন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দরকার হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ব্যাক্তিটিকে বন্ধকি ঋণ দেয়া অরুণিমা ব্যাংকের পক্ষে যুক্তিসঙ্গত হবে কিনা তা মূল্যায়ন কর।
 ২নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. চেইন ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক উন্নতি সাধন।
খ. ব্যাংকিং কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আর্থিক সচ্ছলতা প্রয়োজন। কারণ ব্যাংকিং ব্যবসায় একটি ঝুঁকিবহুল ব্যবসায়। অন্যের অর্থ নিয়ে ব্যবসায় করার কারণে ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকি এড়ানোর জন্য বেশ কিছু মৌলিক নীতি মেনে চলতে হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো সচ্ছলতার নীতি। এই আর্থিক সচ্ছলতার অভাবে ব্যাংক দেউলিয়া হতে পারে। তাছাড়াও গ্রাহকের আস্থার জন্য ব্যাংকের আর্থিক সচ্ছলতা থাকা একান্ত প্রয়োজন।
গ. অরুণিমা ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন দরকার হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব ব্যাংকের মুরব্বি, পরিচালক ও নিয়ন্ত্রক। যেকোনো স্বাধীন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঐ দেশের পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে। সকল ব্যাংককে তাদের নিয়মনীতি অনুসারে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। উদ্দীপকের অরুণিমা ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অনুমোদন নিয়েই ২০০৮ সালে গঠিত হয়েছিল। কারণ নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, শাখা খোলা, ব্যাংকের স¤প্রসারণ প্রভৃতি কাজ বাংলাদেশ ব্যাংক তথা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়। এমনকি অরুণিমা ব্যাংকটির কার্যক্রমও পরিচালিত হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইন অনুযায়ী। কিন্তু ব্যাংকটি যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ব্যতীত প্রতিষ্ঠিত হতো তাহলে তা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বেআইনি ব্যাংক হিসেবে চি‎িহ্নত হতো। তাই বলা যায়, অরুণিমা ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠাকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
ঘ. উদ্দীপকে অরুণিমা ব্যাংকের জন্য ব্যক্তিটিকে ঋণ দেয়া যুক্তসংগত হবে না।
ব্যাংকের অন্যতম মূলনীতি হলো নিরাপত্তার নীতি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংককে ঋণদানের সময় ঋণগ্রহীতার আর্থিক সচ্ছলতা ও সততা বিচার করা এবং পর্যাপ্ত আমানত গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যের অর্থ নিয়ে ব্যবসায় করার কারণে ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে সর্বদা সতর্কতা মেনে চলতে হয়। অন্যথায় ব্যাংকের জন্য ঝুঁকি এড়ানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
অরুণিমা ব্যাংকের নিকট ব্যক্তিটি ১.৫০ লাখ টাকা ঋণের জন্য আবেদন করেন। সে জমি বন্ধক রেখে ঋণ নিবেন। ঋণ পরিশোধ করার ক্ষমতাও তার আছে। সবকিছু অনুক‚লে থাকলেও তার সরবরাহকৃত তথ্য ও দলিলপত্রাদির মধ্যে অমিল রয়েছে। তাই ব্যাংকটির উচিত হবে এ রকম অনিশ্চিত খাতে ঋণ না দেয়া।
ব্যাংক বন্ধক রেখে ঋণ প্রদান করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বন্ধকি সম্পত্তি এবং দলিলে কোনো গড়মিল থাকলে তা রেখে ঋণ দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কেননা কোনো কারণে ব্যক্তিটি ঋণ পরিশোধে অক্ষম হলে ঐ বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রয় করে অর্থ আদায় করা যাবে না। যেহেতু উদ্দীপকের ব্যক্তির সরবরাহকৃত তথ্য ও দলিলপত্রাদির মধ্যে যথেষ্ট অমিল রয়েছে সেহেতু গ্রাহক ও ব্যাংকের মধ্যে যে বিশ্বস্ততার সম্পর্ক বিদ্যমান তা এখানে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
সুতরাং বলা যায়, ব্যক্তিটির মধ্যে সততার অভাব থাকায় অরুণিমা ব্যাংকের পক্ষে যুক্তিসংগত হবে তার ঋণ আবেদন প্রত্যাখ্যান করা।

প্রশ্ন-৩  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ইতালি থেকে বেড়াতে আসা জেমস এটা দেখে বিস্মিত যে মতিঝিল এলাকায় বড় বড় অট্টালিকার অধিকাংশই ব্যাংকের অফিস। বড় অট্টালিকার একটু দূরে ছোট বিল্ডিংয়েও একই ব্যাংকের নামে সাইনবোর্ড। অদ্ভূত ব্যাপার মনে হয় তার। অথচ তাদের দেশে একই নামে এতো ব্যাংক নেই। তিনি এ ব্যাংকগুলোর অধিকতর সামর্থ্য জেনেও অভিভ‚ত।
ক. কোন ব্যাংক গোটা ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র? ১
খ. বেআইনি ব্যাংক ব্যবস্থা ব্যাখ্যা কর। ২
গ. জেমস যে ব্যাংক দেখে বিস্মিত হয়েছেন গঠন প্রণালীর ভিত্তিতে তা কোন ধরনের ব্যাংক? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. জেমসের কাছে তার দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার তুলনায় মতিঝিল এলাকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা কেন উত্তম বলে মনে হয়েছে? বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৩নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. কেন্দ্রীয় ব্যাংক গোটা ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র।
খ. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনহীন ও ব্যাংকিং আইন অমান্য করে ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী ব্যাংকই বেআইনি ব্যাংক। যে কোনো দেশে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয় এবং ব্যাংকিং আইন মেনে চলতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনহীন ব্যাংকগুলো সমবায় বা অন্য যেকোনো নামে পরিচালিত হলেও তা বেআইনি ব্যাংকিং ব্যবস্থা হিসাবে চি‎িহ্নত হবে।
গ. জেমস যে ব্যাংক দেখে বিস্মিত হয়েছেন গঠন প্রণালীর ভিত্তিতে তা শাখা ব্যাংক।
যে ব্যাংক এক বা একাধিক শাখার মাধ্যমে একটি প্রধান কার্যালয়ের অধীনে, দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরে শাখা স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যাবলি সম্পাদন করে তাকে শাখা ব্যাংক বলে। এ ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের শাখার মাধ্যমে তাদের ব্যাংকিং কাজ চালিয়ে থাকে। উদ্দীপকের জেমস দেখেছেন এদেশে একই ব্যাংকের নাম সম্বলিত সাইনবোর্ড বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত। এগুলোই হলো শাখা ব্যাংক। জেমসের দেখা ব্যাংকটির একটি প্রধান কার্যালয় থাকে, যা সকল শাখাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ প্রকার ব্যাংকের কার্যক্ষেত্রে সারা দেশে এমনকি প্রয়োজনে বিদেশেও শাখা অফিস থাকে বলে কার্যক্ষেত্রের সীমাও ব্যাপক। তাছাড়া জেমসের দেখা ব্যাংকটির সংগৃহীত আমানতের পরিমাণ অধিক হয়ে থাকে এবং অর্থ স্থানান্তর ও আর্থিক সামর্থ্যও সর্বাধিক, যা শুনে জেমস বিস্মিত।
ঘ. অধিক সুযোগ-সুবিধার কারণে জেমসের কাছে তার দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার তুলনায় মতিঝিল এলাকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা উত্তম বলে মনে হয়েছে।
একক ব্যাংক মূলত একটি অফিসের মাধ্যমে তাদের যাবতীয় কাজ সম্পাদন করে থাকে। এ প্রকার ব্যাংকের মূলধন এবং কর্মক্ষেত্র সীমিত। অপরদিকে শাখা ব্যাংকসমূহ অনেক শাখার মাধ্যমে তাদের ব্যাংকিং কাজ চালিয়ে থাকে বলে এতে সংগৃহীত আমানতের পরিমাণও অধিক হয়। জেমস-এর দেশে মূলত একক ব্যাংক ব্যবস্থা প্রচলিত। একক ব্যাংক একটি মাত্র অফিসের মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পন্ন করে থাকে। যার জন্য অর্থ স্থানান্তরের অসুবিধা দেখা দেয় এবং প্রতিষ্ঠানের তারল্য সংকট দেখা যায়। কিন্তু মতিঝিল এলাকায় যে সকল ব্যাংকে সাইনবোর্ড দেখেছিলেন সেগুলো হলো শাখা ব্যাংকের অফিস। ব্যাংকগুলো একাধিক শাখা অফিসের মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যসম্পাদন করে থাকে। যার ফলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় খুব দ্রæত অর্থ স্থানান্তর করা যায়। এছাড়া এ সকল ব্যাংকের সহজেই তারল্য সংকট দেখা দেয় না। তাই এসব ব্যাংকের গ্রাহকরা সর্বাধিক ব্যাংকিং সেবা পেয়ে থাকে। যা একক ব্যাংকের ক্ষেত্রে সম্ভব পর নয়।
সুতরাং, ইতালির একক ব্যাংকের তুলনায় মতিঝিল এলাকার শাখা ব্যাংকসমূহ অধিক সুবিধা প্রদান করাই জেমসের কাছে এসব ব্যাংক উত্তম মনে হয়েছে।
প্রশ্ন-৪  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
‘ঢ’ বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই ব্যাংকটি বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় উদ্দেশ্য অর্জনে সচেষ্ট আছে। তার ব্যাংকিং কার্যক্রমে গ্রাহক ও সরকার সন্তুষ্ট। হঠাৎ বাজারে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ঢ’ ব্যাংকের সহায়তা চাইল। ‘ঢ’ ব্যাংক মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কার্যকর সহায়তা প্রদান করল।
ক. কোনটি ব্যাংকিং ব্যবসায়ে আধুনিকতা এনে দিয়েছে? ১
খ. মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়ার কারণ? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. ‘ঢ’ ব্যাংক মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে যে উদ্দেশ্য অর্জন করছে তা বর্ণনা কর। ৩
ঘ. ‘ঢ’ ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়ক।-বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৪নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং ব্যাংকিং ব্যবসায়ে আধুনিকতা এনে দিয়েছে।
খ. বাজারে যখন চাহিদার তুলনায় মুদ্রার সরবরাহ বেশি হয় এবং সে তুলনায় পণ্যের সরবরাহ কম থাকে, তখন যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়। মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই মুদ্রাস্ফীতি অর্থনীতির জন্য অশুভ।
গ. ‘ঢ’ ব্যাংক মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে সরকার ও রাষ্ট্রীয় পক্ষের প্রেক্ষাপটের উদ্দেশ্য অর্জন করছে।
সরকার তথা কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের দ্রব্যমূল্য বা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সর্বদা মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ করে। এই কাজটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিচ্ছিন্নভাবে একা একা সাফল্যের সাথে সম্পাদন করতে পারে না। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক এক্ষেত্রে মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাহায্যে করে। উদ্দীপকের ‘ঢ’ ব্যাংক তিনটি গোত্রের উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সরকার ও রাষ্ট্র। এজন্য সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা এ ব্যাংকের দায়িত্ব। সরকারের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা মেনে চলে এবং তা বাস্তবায়নে সহায়তা করে ‘ঢ’ ব্যাংক সরকার ও রাষ্ট্রীয় পক্ষের প্রেক্ষাপটের উদ্দেশ্য অর্জন করে। রাষ্ট্রের কল্যাণার্থে ‘ঢ’ ব্যাংক বিনিয়োগ ও শিল্পায়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ‘ঢ’ ব্যাংক রাষ্ট্রের প্রতি তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। এ কাজে ‘ঢ’ ব্যাংক সহায়তা করে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে।
ঘ. ‘ঢ’ ব্যাংক তথা বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রা বাজারের মুরব্বি, পরিচালক ও নিয়ন্ত্রক। তারপরও একা একা কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পারে না। এক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সহায়তার প্রয়োজন হয়। উদ্দীপকের ‘ঢ’ ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন বলে প্রতিষ্ঠিত একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মুরব্বি, নিয়ন্ত্রক হিসেবে যেমন সব কাজে সহযোগিতা প্রদান করে তেমনি ‘ঢ’ ব্যাংকের মত দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সহায়তা করে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল গ্রহণ করে কিন্তু এসব কৌশল বাস্তবায়নের জন্য ‘ঢ’ ব্যাংকের সাহায্যের প্রয়োজন হয়। কারণ ‘ঢ’ ব্যাংক সরাসরি গ্রাহকদের ঋণ প্রদান করে থাকে। ‘ঢ’ ব্যাংক ঋণের সরবরাহ কমিয়ে বা বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণের কৌশল বাস্তবায়নের পথ সহজ করে দেয়। তাছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমাজ উন্নয়নমূলক কাজের অংশ হিসেবে ‘ঢ’ ব্যাংক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে। সুতরাং বলা যায়, ‘ঢ’ ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়ক।
প্রশ্ন-৫  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
বাংলা ব্যাংক অন্যান্য বছরের ন্যায় এ বছরও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির অসচ্ছল পরিবারের ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়েছে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন ধরনের নতুন সেবা ও পণ্য সৃষ্টির মাধ্যমেও তারা ব্যাংকিং সেবা সহজ করেছে।
ক. আন্তর্জাতিক ব্যাংক কাকে বলে? ১
খ. সঞ্চয়ী ব্যাংক বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে বাংলা ব্যাংক মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রেক্ষাপটে কোন উদ্দেশ্য পালন করেছে? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. গ্রাহকদের জন্য বাংলা ব্যাংক কীভাবে ব্যাংকিং সেবা সহজ করে দিয়েছে বলে তুমি মনে কর? ৪
 ৫নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. একটি দেশের জাতীয় সীমানার গণ্ডি ভেদ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাংকিং ব্যবসায় পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে যে ব্যাংকের শাখা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত তাকে আন্তর্জাতিক ব্যাংক বলে।
খ. জনগণের অতিরিক্ত অর্থ সঞ্চয় হিসাবে গ্রহণ ও মুনাফা বা সুদ প্রদানের মাধ্যমে জনগণকে অধিক সঞ্চয়ে উৎসাহিত করে তোলার জন্য যে ব্যাংক পরিচালনা করা হয় তাকে সঞ্চয়ী ব্যাংক বলে। এ ধরনের ব্যাংকে যে কোনো সময় টাকা জমা দেয়া যায় এবং কেবলমাত্র সপ্তাহে ২ বার গ্রাহক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাওয়া যায়।
গ. বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে বাংলা ব্যাংক মালিক ও ব্যবস্থাপনা প্রেক্ষাপটে সামাজিক অবদানের উদ্দেশ্য পালন করেছে।
বিভিন্ন রকম সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এবং অর্জিত মুনাফার একটি অংশ সামাজিক উন্নয়নে ও সমাজ গঠনমূলক কাজে ব্যয় করা ব্যাংকের মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একটি উদ্দেশ্য। তাই জনগণের অর্থের লেনদেনের পাশাপাশি ব্যাংক বিভিন্ন সামাজিক কার্যাবলিতে অংশগ্রহণ করে। উদ্দীপকে বাংলা ব্যাংক তার সাধারণ ব্যাংকিং কার্যাবলি ছাড়াও প্রতি বছর উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির অসচ্ছল পরিবারের ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান করে থাকে। উক্ত বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে উক্ত ব্যাংক তার অর্জিত মুনাফার একটি অংশ সামাজিক উন্নয়নে ও সমাজ গঠনমূলক কাজে ব্যয় করে। সুতরাং বলা যায়, মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নিকট ব্যাংক তার সামাজিক উদ্দেশ্য পালনের মাধ্যমে গ্রাহকের নিকট তার গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে সক্ষম।
ঘ. গ্রাহকদের জন্য বাংলা ব্যাংক বিভিন্ন পণ্য ও সেবা প্রদানের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা সহজ করে দিয়েছে বলে আমি মনে করি।
গ্রাহকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকল্পে ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন সেবা ও পণ্য সৃষ্টি করে। ক্রেডিট কার্ড দিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গ্রাহক নগদ টাকা ছাড়াই পণ্য ক্রয় করতে পারে। এটিএম মেশিন থেকে নগদ টাকা তোলা যায়। তাছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা সহজ করা হয়েছে। উদ্দীপকে গ্রাহকের জন্য বাংলা ব্যাংক বিভিন্ন পণ্য ও সেবা প্রদান করে। এ সকল পণ্য প্রবর্তনের মাধ্যমে ব্যাংক তার গ্রাহকের জীবনযাত্রার মান বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্রাহকের পরিবর্তনশীল চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে বাংলা ব্যাংক এ ধরনের সেবা পণ্য সৃষ্টি করে। বাংলা ব্যাংকের একটি নতুন সৃষ্টি হলো ক্রেডিট কার্ড। ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ব্যাংকটি তার গ্রাহককে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নগদ টাকা ছাড়াই পণ্য ক্রয়ের সুযোগ দেয়। আবার বর্তমানে বাংলা ব্যাংকের এটিএম মেশিনের ব্যপ্তি সারাদেশব্যাপী। এটিএম মেশিনের মাধ্যমে গ্রাহক দিনের ২৪ ঘণ্টাই নগদ টাকা তোলার সুযোগ পায়। এছাড়াও বাংলা ব্যাংক বর্তমান মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
সুতরাং, বাংলা ব্যাংক ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা সহজ করে দিয়েছে।
প্রশ্ন-৬  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
শাপলা ব্যাংক তাদের মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ জমা রেখে বাকিটা ঋণ দেয়। ঋণ বেশি পরিমাণে দিতে পারলে তাদের মুনাফা আরও বেশি হতো। কিন্তু ইচ্ছা করলেই অনুমতি ব্যতীত তারা বেশি ঋণ দিতে পারে না। অবশ্য এতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজে সহায়তা হয়।
ক. জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নাম কী? ১
খ. মুসারাকা বলতে কী বোঝ? ২
গ. অধিক ঋণ প্রদানে শাপলা ব্যাংককে কার অনুমতি নিতে হবে? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. শাপলা ব্যাংক কম ঋণদানের মাধ্যমে সরকারকে সহায়তা প্রদান করেÑ বাক্যটির যৌক্তিকতা তুলে ধর। ৪
 ৬নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নাম ব্যাংক অব জাপান।
খ. মুসারাকা এক ধরনের ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা। ইসলামী ব্যাংক এবং গ্রাহকের যৌথ উদ্যোগে ব্যবসায় পরিচালনার মাধ্যমে লাভ ও লোকসান সমবণ্টনের মাধ্যমে যে ব্যাংকিং ঋণ প্রদত্ত হয় তাই মুসারাকা।
গ. অধিক ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে শাপলা ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার অভিভাবক। অভিভাবক হিসেবে আমানত সংগ্রহ থেকে শুরু করে ঋণ প্রদান পর্যন্ত সকল কাজেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার প্রভাব বিস্তার করে। উদ্দীপকের শাপলা ব্যাংক তাদের মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকট জমা রাখে। তারল্যের জন্য শাপলা ব্যাংক এরূপ অর্থ জমা রাখে। আমানতের বাকি অংশ শাপলা ব্যাংক তার গ্রাহকদের ঋণ হিসেবে প্রদান করে। শাপলা ব্যাংক উক্ত নির্ধারিত অংশের অতিরিক্ত অর্থ ঋণ হিসেবে প্রদান করতে চাইলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিতে হয়। কারণ, বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া ব্যাংক প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ব্যাংক প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ব্যাংক ব্যবসায়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।
ঘ. শাপলা ব্যাংক কম ঋণদানের মাধ্যমে সরকারকে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা প্রদান করে।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে জনগণের সঞ্চিত অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ এবং সে আমানত হতে ঋণ প্রদান কাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলা হয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ প্রদানের কার্যক্রম বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। উদ্দীপকে শাপলা ব্যাংক তার আমানতকৃত অর্থের একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকট জমা রাখে। বাকি অংশ হতে শাপলা ব্যাংক ঋণ প্রদান করে থাকে। ব্যাংক চাইলেই এর বেশি অর্থ ঋণ হিসেবে প্রদান করতে পারে না। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের ব্যাংক হিসেবে দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্যতার সংরক্ষণের নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তাই
তারল্যনীতি অনুসরণ করে শাপলা ব্যাংককে আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ তারল্য হিসাবে জমা রেখে মুদ্রাস্ফীতি রোধে সরকারকে সাহায্য করে থাকে।
সুতরাং, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের ফলে শাপলা ব্যাংক কম ঋণ প্রদান করে দেশের মুদ্রাবাজার ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারে সহায়তা প্রদান করে।
প্রশ্ন-৭  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জাবের ও তার চার বন্ধু মিলে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। যথাযথ মূলধন সংগৃহীত হলেও তারা কার্যক্রম শুরু করতে পারলেন না। তাদের ব্যবসায় পরিকল্পনাটি অনেক সুন্দর ও সৃজনশীল হলেও তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব হলো। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিকট থেকে অনুমোদন নিয়ে তারা ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করতে পারলেন। তারা বুঝতে পারলেন যে, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও সহযোগিতা ছাড়া কোনো ব্যাংকিং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করা যায় না।
ক. এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড কোন ধরনের ব্যাংক? ১
খ. বিদেশি ব্যাংক সম্পর্কে লেখ। ২
গ. জাবের ও তার চার বন্ধুর প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকটির ধরন ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. জাবের ও তার চার বন্ধুর ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন কতটা জরুরি তা বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৭নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড একটি ইসলামি ব্যাংক।
খ. এক দেশের ব্যাংক যখন অন্য দেশে এসে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে, ঐ দেশের জন্য তারা বিদেশি হিসাবে আখ্যায়িত হয়। অর্থাৎ বিদেশি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ব্যাংককে বিদেশি ব্যাংক বলে। যেমন স্ট্যাণ্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক।
গ. জাবের ও তার চার বন্ধুর প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকটি একটি প্রাইভেট ব্যাংক।
বাংলাদেশে প্রচলিত ব্যাংকগুলো সাধারণত দুই ধরনের। প্রাইভেট লিমিটেড এবং পাবলিক লিমিটেড। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইন অনুযায়ী বর্তমানে সর্বনিম্ন ২ জন এবং সর্বোচ্চ ১৩ জন পরিচালকের সমন্বয়ে প্রাইভেট ব্যাংক স্থাপন করা যায়। অপরদিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মালিকানায় ব্যাংকের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৭ জন এবং সর্বোচ্চ সীমাহীন পরিচালকের সমন্বয়ে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা যায়। উদ্দীপকে জাবের ও তার বন্ধুদের প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকের সদস্যসংখ্যা ৫ জন। সদস্যসংখ্যা থেকে বোঝা যায়, এটি একটি প্রাইভেট ব্যাংক কেননা পাবলিক লিমিটেড ব্যাংক হতে হলে সর্বনিম্ন ৭ জন পরিচালক দরকার। জাবের ও তার চার বন্ধু ২ থেকে ১৩ জন পরিচালকের শর্ত মেনে প্রাইভেট ব্যাংক গড়ে তুলেছেন। সুতরাং তাদের প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকটি একটি প্রাইভেট ব্যাংক।
ঘ. জাবের ও তার চার বন্ধুর ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন আবশ্যক। ব্যাংক একটি আইনসিদ্ধ আর্থিক প্রতিষ্ঠান। যথাযথ আইন মেনেই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে হয়। ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা যায় না। উদ্দীপকে জাবের ও তার চার বন্ধু একটি প্রাইভেট ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেন। ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে হলে তাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এই অনুমোদন না পেলে তারা কোনো ব্যাংকিং সেবা প্রদান করতে পারবেন না। যথাযথ কাঠামো অনুসরণ করে ব্যাংক গঠন হলো কি না তা যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাংকে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করার অনুমতি দিয়ে থাকে। কোনো ব্যাংক যদি অনুমোদন না নিয়েই ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে তাহলে সেটি অবৈধ ব্যাংকিং হিসেবে গণ্য হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনহীন ব্যাংকগুলো সমবায় বা অন্য যেকোনো নামে পরিচালিত হলেও এগুলো ব্যাংকের মর্যাদা পাবে না।
সুতরাং, জাবের ও তার চার বন্ধুর ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন অত্যান্ত জরুরি।
প্রশ্ন-৮  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ওয়েস্টার্ন ব্যাংক একটি স্বনামধন্য বাণিজ্যিক ব্যাংক। সফলতার সাথে ব্যাংকিং ব্যবসায় টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন নীতি অনুসরণ করে। ব্যাংকটি ঋণ প্রদানের সময় ঋণগ্রহীতার আর্থিক সচ্ছলতা ও সততা বিচার করে এবং পর্যাপ্ত জামানত গ্রহণ করে। ব্যাংকটি তার সবকটি শাখায় যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কোনোভাবেই গ্রাহকের অর্থসম্পদ যেন নষ্ট না হয় সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকটি সদা তৎপর। দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সেবার কারণে মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি গ্রাহকদের নিকট ব্যাংকের সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক. অংশীদারি ব্যাংক কী? ১
খ. গ্রæপ ব্যাংকিং বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. ওয়েস্টার্ন ব্যাংককে ঋণদান ও আমানতের ক্ষেত্রে যে নীতি মেনে চলতে হয় তা বর্ণনা কর। ৩
ঘ. ‘ওয়েস্টার্ন ব্যাংক’-এর সফলতায় ব্যাংকিং নীতির ভ‚মিকা বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৮নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. অংশীদারি আইনের ভিত্তিতে যে ব্যাংক গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে অংশীদারি ব্যাংক বলে।
খ. যখন দুই বা ততোধিক ব্যাংক একটি হোল্ডিং কোম্পানির অধীনে একত্রিত হয়ে উক্ত কোম্পানি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়ে ব্যাংকিং কার্যাবলি সম্পাদন করে, তখন তাকে গ্রæপ ব্যাংকিং বলে। এক্ষেত্রে একটি বৃহৎ ব্যাংক অন্য একটি বা কয়েকটি দুর্বল ব্যাংকের অধিকাংশ শেয়ার ক্রয় করে। ফলে দুর্বল ব্যাংকটি বৃহৎ ব্যাংকের অধীনস্থ বা সাবসিডিয়ারি ব্যাংক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
গ. ওয়েস্টার্ন ব্যাংককে ঋণদান ও আমানতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নীতি মনে চলতে হয়।
ব্যাংক ব্যবসায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি গ্রাহকের অর্থ ও ঋণ হিসাবে প্রদত্ত অর্থের নিরাপত্তা বিধান। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি ব্যাংকের উচিত ঋণ প্রদানের সময় ঋণগ্রহীতার আর্থিক সচ্ছলতা ও সততা বিচার করা এবং পর্যাপ্ত জামানত গ্রহণ করা। উদ্দীপকের ওয়েস্টার্ন ব্যাংক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ঋণদানের সময় ঋণ গ্রহীতার আর্থিক সচ্ছলতা ও সততা বিচার করে পর্যাপ্ত জামানত বন্ধক রাখে। ব্যাংকটি জনগণের নিকট থেকে আমানত গ্রহণ করে তার নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা প্রদান করলে তাদের আস্থা পাওয়া যায় এবং অধিক হারে মুনাফা অর্জন করা যায়।
ঘ. ওয়েস্টার্ন ব্যাংকের সফলতায় মৌলিক নীতির অবদান অপরিহার্য।
ব্যাংকিং ব্যবসায় সফলতার জন্য ব্যাংককে বেশ কিছু নীতি মেনে চলতে হয় যাদেরকে বলে মৌলিক নীতি। ব্যাংকিং ব্যবসায় একটি লাভজনক ও আকর্ষণীয় ব্যবসায়। প্রচুর লাভ জেনে অনেকেই ব্যাংকিং ব্যবসায় ঝুঁকে পড়েছে। কিন্তু এতে যেমন লাভ আছে তেমনি ঝুঁকিও রয়েছে। তাই ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য শক্তিশালী নির্ভরযোগ্য ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা না গড়ে তুললে ঝুঁকি এড়ানো উদ্দীপকের ওয়েস্টার্ন ব্যাংকের জন্য কঠিন হবে। কেননা ওয়েস্টার্ন ব্যাংকও অন্যান্য ব্যাংকের মতো গ্রাহকের অর্থ নিয়ে ব্যবসায় করে। তাই গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংকটি নিরাপত্তা নীতি গ্রহণ করেছে। সেবার নীতির অনুসরণ করে গ্রাহকদের মানসম্মত সেবা প্রদান করে ব্যাংকটি গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে। তাছাড়া সুনাম অর্জনেও ব্যাংকটি মৌলিক নীতি অনুসরণ করেছে। ব্যাংকটি মিতব্যয়িতার নীতির মাধ্যমে কম খরচে অধিক সেবা দিতে পারছে। এতে করে ব্যাংকটির মুনাফা অর্জন নীতি সমুন্নত হয়েছে।
সুতরাং বলা যায়, ওয়েস্টার্ন ব্যাংকটি মৌলিক নীতি অনুসরণ করার কারণেই দক্ষতার সাথে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করতে পেরেছে।
প্রশ্ন-৯  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ওয়ান ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত একটি ব্যাংক। ব্যাংকটির প্রবৃদ্ধির হার সন্তোষজনক। ব্যাংকটি মক্কেলদের বিশ্বস্ততা খুব অল্প দিনেই অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ওয়ান ব্যাংক শাখা স¤প্রসারণের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ ও ঋণ প্রদান করে মক্কেলদের আমানতের নিরাপত্তা ও আস্থা অর্জনের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে।
ক. বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক কোনটি? ১
খ. একক ব্যাংক শাখা ব্যাংক থেকে আলাদা কেন? ২
গ. ওয়ান ব্যাংক কী কী উদ্দেশ্য নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে? বর্ণনা করে। ৩
ঘ. মক্কেলদের আমানতের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ওয়ান ব্যাংক কোন নীতিটি পালন করছে? আলোচনা কর। ৪
 ৯নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো সোনালী ব্যাংক লিমিটেড।
খ. একক ব্যাংক এবং শাখা একটি অপরটি থেকে আলাদা হওয়ার কারণ একক ব্যাংকের একটিমাত্র শাখা বা অফিসের মাধ্যমে তাদের যাবতীয় ব্যাংকিং কাজ সম্পাদন করে। অপরদিকে শাখা ব্যাংক সারা দেশ বা দেশের বাইরে শাখার মাধ্যমে তাদের কাজ সম্পদান করে। একক ব্যাংকের একটি মাত্র অফিস থাকে বলে ব্যাংকিং কাজ বা সেবার ক্ষেত্র সীমিত হয়। অপরদিকে অনেকগুলো শাখা থাকে বলে শাখা ব্যাংকের কাজ এবং সেবার ক্ষেত্রের পরিধি অনেক বড় হয়।
গ. ওয়ান ব্যাংক মালিক, সরকার এবং গ্রাহকদের উদ্দেশ্য নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।
ব্যাংকের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোত্রের প্রেক্ষাপটে ব্যাংকের উদ্দেশ্য ভিন্ন ভিন্ন। গ্রাহক, ব্যাংকের মালিক ও সরকারের প্রতি ব্যাংক বিভিন্ন উদ্দেশ্য পালন করে।
উদ্দীপকে ওয়ান ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত একটি ব্যাংক। ব্যাংকটির প্রবৃদ্ধি হার সন্তোষজনক। এর মাধ্যমে মালিকের উদ্দেশ্য অর্থাৎ পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জন উদ্দেশ্যটি সম্পন্ন করছে। ব্যাংকটি খুব অল্প দিনেই মক্কেলদের বিশ্বস্ততা অর্জন ছাড়াও মালিক পক্ষের সুনাম বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। শাখা স¤প্রসারণের মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ স্থানান্তর সহজ এবং দ্রæত করতে সহায়তা করছে। এর ফলে গ্রাহকদের নিকট হতে আমানত সংগ্রহ এবং ঋণদান কাজও সহজেই সম্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে। আমানতের নিরাপত্তা ও আস্থা অর্জনের দ্বারাও ওয়ান ব্যাংক গ্রাহকদের প্রতি উদ্দেশ্য অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া ঋণদান কার্যক্রম সরকারের হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মূলধন গঠনে সহায়ক।
ঘ. মক্কেলদের আমানতের নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে ওয়ান ব্যাংক নিরাপত্তার নীতি পালন করছে।
ঝুঁকি এড়ানোর জন্য ব্যাংক কতগুলো মূলনীতি মেনে চলে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো নিরাপত্তার নীতি। নিরাপত্তা নীতির মূল বিষয় হলো গ্রাহকদের অর্থ। উদ্দীপকে ওয়ান ব্যাংক মক্কেলদের বিশ্বস্ততা খুব অল্প দিনেই অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ব্যাংকটি শাখা স¤প্রসারণের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ ও ঋণ প্রদান করে মক্কেলদের আমানতের নিরাপত্তা ও আস্থা অর্জনে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ এ ব্যাংকটি ঋণগ্রহীতাদের ঋণদানের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার আর্থিক সচ্ছলতা ও সততা বিচার করে এবং পর্যাপ্ত জামানত গ্রহণ করে। এর ফলে ঋণ ফেরতের নিশ্চয়তা থাকে। অপরদিকে, ব্যাংক জমাকৃত পর্যাপ্ত অর্থ থাকায় আমানতকারীরাও তাদের আমানত ফেরত প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বা নিরাপত্তা পায়।
পরিশেষে বলা যায়, মক্কেলদের আমানতের নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে ওয়ান ব্যাংক নিরাপত্তার নীতিটি পালন করছে।
প্রশ্ন-১০  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
যশোর বাংলাদেশের একটি জেলা শহর। এখানে প্রায় সকল ব্যাংকের শাখা অফিস আছে। কিন্তু শুধু যশোরের উন্নয়নের জন্য কোনো ব্যাংক নেই। কর্তৃপক্ষের নজরে এলে যশোরের খেজুরের গুড় ও তুলা চাষের উন্নয়নের জন্য সূচনা ব্যাংক নামে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হলো। ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার পর যশোরের গুড় ও তুলা চাষিরা ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নের পাশাপাশি যশোরের উন্নয়নে ভ‚মিকা রাখলেন।
ক. ব্যবসায় সংগঠনের ভিত্তিতে ব্যাংক কয় প্রকার? ১
খ. শ্রমিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. সূচনা ব্যাংকটি কোন ধরনের ব্যাংক? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. যশোরের সামগ্রিক উন্নয়নে সূচনা ব্যাংকের অবদান মূল্যায়ন কর। ৪
 ১০নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. ব্যবসায় সংগঠনের ভিত্তিতে ব্যাংক পাঁচ প্রকার।
খ. শ্রমিকদের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা সৃষ্টি করে জীবনধারনের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে শ্রমিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই ব্যাংক শ্রমিকদের ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করা, সঞ্চয়ের প্রবণতা সৃষ্টি করা, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে নানা কাজ সম্পাদন করে। আমাদের দেশে স্বতন্ত্রভাবে শ্রমিক ব্যাংক নেই, তবে শিল্প-কারখানা এলাকায় শাখা খুলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ উদ্দেশ্য সাধন করে।
গ. সূচনা ব্যাংকটি একটি আঞ্চলিক ব্যাংক।
যে ব্যাংক কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বা কোনো নির্দিষ্ট স¤প্রদায়ের বা গোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে আঞ্চলিক ব্যাংক বলে। কোনো বিশেষ অঞ্চলের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত। উদ্দীপকের যশোর বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। এ অঞ্চলের খেজুর ও তুলা চাষের উন্নয়নের জন্য সূচনা ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্যাংকটির কার্যক্রম একটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ব্যাংকটি যশোর ছাড়া অন্য কোথাও কাজ করতে পারবে না। ব্যাংকটি একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে। সেটি হলো যশোরের কৃষির উন্নয়ন। একটি বিশেষ উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ অঞ্চলে সূচনা ব্যাংকের কার্যক্রম ব্যাপ্ত থাকায় এটি একটি আঞ্চলিক ব্যাংক।
ঘ. যশোরের সামগ্রিক উন্নয়নে সূচনা ব্যাংকের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একটি অঞ্চলের বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আঞ্চলিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন, কিন্তু আঞ্চলিক ও জাতীয় উন্নয়নে বিশেষ বিশেষ ব্যাংক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যকে পেছনে ফেলে মানবিক কল্যাণে কাজ করে থাকে। উদ্দীপকে সূচনা ব্যাংক যশোরের তুলা চাষিদেরকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে এবং যথাযথ পরামর্শ প্রদান করে। ফলে কৃষকরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তুলা চাষ করতে পারে। সার, বীজ ও তেলের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা ব্যাংক ঋণ দিয়ে পূরণ করায় কৃষকরা তুলা চাষের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারলেন। এছাড়াও গুড় চাষিদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য সূচনা ব্যাংক ঋণ প্রদান করায় গুড়চাষিরা ঋণ পেয়ে অধিকহারে গুড় উৎপাদন শুরু করলেন। গুড়ের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় যশোরের চাষিদের ভাগ্যোন্নয়ন যেমন ঘটল তেমনি আনুষঙ্গিক ব্যবসায় বাণিজ্যের সমৃদ্ধি ঘটল। এতে করে যশোরের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলো।
সুতরাং, আঞ্চলিক ব্যাংক হিসেবে সূচনা ব্যাংক কৃষকদের ঋণ প্রদানের মাধ্যমে যশোরের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখেছে।
প্রশ্ন-১১  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
‘সকলের বিশ্বস্ত সঙ্গী’এ সেøাগান সংযুক্ত করে সূর্য ব্যাংকের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন টেলিভিশনে প্রচারিত হচ্ছে গত চার-পাঁচ দিন ধরে। এ বিজ্ঞাপন দেখে আকৃষ্ট হয় নিলুফার ইয়াসমিন। তিনি তার সকল গহনা ব্যাংকে জমা রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
ক. এক্সিম ব্যাংক কোন নীতি অনুযায়ী পরিচালিত হয়? ১
খ. ব্যাংকের প্রতিনিধিত্বমূলক কাজ বলতে কী বোঝায়? ২
গ. টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে সূর্য ব্যাংকের কোন নীতি প্রতিফলিত হয়েছে? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. নিলুফার ইয়াসমিনের ব্যাংকে গহনা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়ার যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর। ৪
 ১১নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. এক্সিম ব্যাংক ইসলামি শরিয়াত অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
খ. ব্যাংক গ্রাহকের হয়ে দেশে বিদেশে তার যাবতীয় ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত যেসব কাজ সম্পাদন করে, সে সব কাজকে
প্রতিনিধিত্বমূলক কাজ বলে। সেবার মূল্য গ্রহণের বিনিময়ে মক্কেলের পক্ষে প্রতিনিধি। অছি হিসাবে কাজ করা ব্যাংকের একটি উদ্দেশ্য। ব্যাংক গ্রাহকের পক্ষে ব্যবসায়িক চুক্তিতে অংশগ্রহণ করে, বিনিময় বিলে সই করে, বাসা ভাড়া সংগ্রহ করে।
গ. টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে সূর্য ব্যাংকের প্রচারের নীতি প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রচারেই প্রসার। এ নীতির আলোকে ব্যাংক তার প্রদত্ত সেবা ও পণ্যের প্রচারের মাধ্যমে গ্রাহকের নিকট আস্থা ও বিশ্বস্ততা অর্জন করে। উদ্দীপকে সূর্য ব্যাংক ‘সকলের বিশ্বস্ত সঙ্গী’ এ সেøাগান সংযুক্ত করে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন টেলিভিশন প্রচার করেছে। অর্থাৎ উপযুক্ত, বোধগম্য ও আকর্ষণীয় প্রচারের মাধ্যমে ব্যাংক তার প্রসার নিশ্চিত করেছে। ব্যাংকটি উক্ত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার কর্মদক্ষতা, বিশ্বস্ততা ও সেবামূলক কার্যাদি সঠিকভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। কারণ ব্যাংকিং ব্যবসায়ের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের আস্থা অর্জন। ফলে বিজ্ঞাপনটির যথার্থতা, উপযুক্ততা ও পর্যাপ্ত বোধগম্যতার শক্তিতেই সূর্য ব্যাংক গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়। তাই বলা যায়, সূর্য ব্যাংক প্রচার নীতি অনুসরণ করে টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দেয়।
ঘ. সূর্য ব্যাংকের ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের বলেই নিলুফার ইয়াসমিন তার গহনা ব্যাংকের লকারে জমা রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
দক্ষ ব্যাংক ব্যবসায়ের পূর্বশর্ত হলো ব্যাংকের ওপর গ্রাহকদের আস্থা। এই আস্থা অর্জনের জন্য বিভিন্ন প্রকার সততা ও বিশ্বস্ততার নীতি অবলম্বন করে থাকে। আর তাই এই আস্থার বলেই গ্রাহক তাদের অর্থ ও মূল্যবান সম্পদ ব্যাংকের লকারে জমা রাখে। ব্যাংক নির্দিষ্ট চার্জের বিনিময়ে তার গ্রাহককে তাদের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ, উন্নয়ন এবং নিরাপদে রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে।
উদ্দীপকের সূর্য ব্যাংক তার সেবা প্রদানের মাধ্যমে এবং আমানতকারীর অর্থের নিরাপত্তা বিধানের মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছে। ব্যাংকের ওপর গ্রাহকের আস্থা ও বিশ্বাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই একটি ব্যাংক তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ সঠিকভাবে অধিক পরিমাণে মুনাফা অর্জন করতে পারে। এ আস্থার বলেই নিলুফার ইয়াসমিন তার সকল গহনা সূর্য ব্যাংকের কাছে জমা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সুতরাং, সূর্য ব্যাংক আমানতকারীদের মধ্যে আস্থা অর্জন করতে পেরেছে বলেই নিলুফার ইয়াসমিন তার সকল গহনা ব্যাংকের নিকট রাখার সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক হয়েছে।

প্রশ্ন-১২  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
শেখর ঋণের জন্য চন্দ্র ব্যাংকের নিকট আবেদন করে। ব্যাংকটি তাকে ঋণদানের পূর্বে তার ব্যবসায়ের উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতা যাচাই করে সন্তুষ্ট হয়ে পরে ঋণ মঞ্জুর করে। এভাবেই চন্দ্র ব্যাংক আমানতকারীদের কম সুদ দিয়ে এবং ঋণগ্রহীতার নিকট থেকে অধিক সুদ নিয়ে আয় করে থাকে। [জামালপুর জিলা স্কুল]
ক. জনতা ব্যাংক লিমিটেড কোন ধরনের ব্যাংক? ১
খ. ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কী? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. চন্দ্র ব্যাংক শেখরকে ঋণদানের ক্ষেত্রে কোন নীতি অনুসরণ করেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. চন্দ্র ব্যাংকের অধিক আয়ের পেছনে কোন নীতির প্রতিফলন ঘটেছে তা বিশ্লেষণ কর। ৪
 ১২নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. জনতা ব্যাংক লিমিটেড একটি শাখা ব্যাংক।
খ. ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী দেশের প্রায় ৯০ ভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সেবাদান করাই ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাথে সেবা প্রধানের সামঞ্জস্য থাকলেও ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানত গ্রহণ ও ঋণ প্রদানের কাজে অনেক পার্থক্য আছে। ইসলামী ব্যাংকগুলো দেশের ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী গড়ে ওঠে ইসলামী নিয়মকানুন অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
গ. চন্দ্র ব্যাংক শেখরকে ঋণদানের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যর নীতি অনুসরণ করেছে।
ব্যাংকিং হলো একটি ঝুঁকিবহুল ব্যবসায়। ঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্য ব্যাংক একটি দক্ষ ও শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলে। এ ব্যবস্থাপনা কতগুলো নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। উদ্দেশ্য নীতি তার মধ্যে অন্যতম। উদ্দীপকে চন্দ্র ব্যাংক ঋণ প্রদানের পূর্বে শেখরের ব্যবসায়ের উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতা যাচাই করে। কারণ ঋণ প্রদানের পূর্বে প্রস্তাবিত প্রকল্পের উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতা বিবেচনা করা ব্যাংকের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। উক্ত যাচাইয়ের পর সন্তুষ্ট হলে ব্যাংক ঋণ মঞ্জুর করে। অন্যথায় অনুৎপাদনশীল এবং অনিশ্চয়তায় ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ আবেদন প্রত্যাখ্যাত করে থাকে। তাই শেখরের ঋণ গ্রহণের মূল উদ্দেশ্যের যথার্থতা ও লাভজনকতা নিশ্চতকরণের লক্ষ্যে চন্দ্র ব্যাংক এ ধরনের উদ্দেশ্য নীতি অনুসরণ করেছে।
ঘ. চন্দ্র ব্যাংকের অধিক আয়ের পেছনে মুনাফার নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।
সুষ্ঠু মুনাফা অর্জন করা ব্যাংকের একটি অপরিহার্য নীতি। মুনাফা নীতি অনুযায়ী ব্যাংক স্বল্পসুদে আমানতকারীর কাছ থেকে অর্থ আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে অধিক সুদে ঋণ প্রদান করে থাকে এবং প্রাপ্ত ও প্রদত্ত সুদের পার্থক্যই ব্যাংকের মুনাফার প্রধান অংশ। উদ্দীপকে চন্দ্র ব্যাংক মুনাফার নীতি অনুযায়ী আমানতকারীদের নিকট হতে কম সুদে আমানত গ্রহণ করে। উক্ত আমানতকৃত অর্থ হতে চন্দ্র ব্যাংক শেখরের মতো ব্যবসায়ীদের তুলনামূলকভাবে অধিক হারে ঋণপ্রদান করে থাকে। আমানতকারীগণকে প্রদত্ত সুদ ও ঋণগ্রহীতার নিকট হতে প্রাপ্ত সুদের পার্থক্যই চন্দ্র ব্যাংকের মুনাফার প্রধান অংশ। এই অংশের পরিমাণ সর্বোচ্চ করাই চন্দ্র ব্যাংকের মত সকল ব্যাংকের মুখ্য উদ্দেশ্য। কারণ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যেই ব্যাংকের যাবতীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সুষ্ঠুভাবে মুনাফা অর্জন নিশ্চিতের লক্ষ্যে ব্যাংক মুনাফার নীতি মেনে চলে।
সুতরাং, চন্দ্র ব্যাংক প্রাপ্ত ও প্রদত্ত সুদের পার্থক্য বৃদ্ধি করার মাধ্যমে অধিক আয় নিশ্চিত করেছে।
প্রশ্ন-১৩  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মি. মাহমুদ ‘গ’ ব্যাংকের এম.ডি। তার ব্যাংকের মূল সেøাগান হলো ‘গ্রাহক সন্তুষ্টির মাধ্যমে সমৃদ্ধি’। গ্রাহকবান্ধব হিসেবে ব্যাংকটি যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছে। ইতোমধ্যে সামাজিক কর্মকাণ্ডেও কার্যকর ভ‚মিকা রাখায় ব্যাংকটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছে।
[সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা।]
ক. বন্ধকি ব্যাংক কী? ১
খ. শিল্প ব্যাংক বলতে কী বোঝ? ২
গ. মি. মাহমুদের ব্যাংকটি ভালো করার পেছনে কোন নীতি সহায়ক হয়েছে? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. মি. মাহমুদের ব্যাংকটির মূলধন গঠনে কোন নীতিটি অধিক ভ‚মিকা রেখেছে তা মূল্যায়ন কর। ৪
 ১৩নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. ভ‚মি বন্ধক রেখে কৃষি বা শিল্পের প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদে যে ব্যাংক ঋণ প্রদান করে তাকে বন্ধকি ব্যাংক বলে।
খ. দেশের শিল্প খাতে উন্নয়নের লক্ষ্যে যে ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়, তাকে শিল্প ব্যাংক বলে। শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা ও স¤প্রসারণের জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, ভ‚মি ক্রয়, কারখানা নির্মাণ ইত্যাদির জন্য শিল্প ব্যাংক ঋণ প্রদান করে থাকে। বিডিবিএল বাংলাদেশে এই ধরনের একটি ব্যাংক।
গ. মি. মাহমুদের ব্যাংকটি ভালো করার পেছনে সেবার নীতি সহায়ক হয়েছে।
প্রতিটি ব্যাংকের জন্যই গ্রাহক সেবার নীতিটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যাংকের গ্রাহকদের বহুবিধ সেবা প্রদান করা ব্যাংকের একটি অন্যতম দায়িত্ব। গ্রাহকদের পর্যাপ্ত বহুমুখী সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে ব্যাংকের উন্নতি সম্ভব। উদ্দীপকে মি. মাহমুদের ব্যাংকটি গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের মাধ্যমে ব্যাংকিং কাজ সম্পন্ন করে। তাছাড়া তার ব্যাংকের সেøাগানও হলো ‘গ্রাহক সন্তুষ্টির মাধ্যমে সমৃদ্ধি’। আর এর ওপর ভিত্তি করে মি. মাহমুদ তার ব্যাংককে একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছেন। অর্থাৎ প্রকৃত অর্থে মি. মাহমুদের ব্যাংকটি জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান নিশ্চিত করেছে। ফলে প্রচুর সংখ্যক গ্রাহক তার ব্যাংকে লেনদেনের জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এতে করে মি. মাহমুদের ব্যাংকটির ব্যাংকিং গতিশীলতা বাড়ছে। ফলে আজ তার ব্যাংকটি একটি ভালো অবস্থানে রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে মি. মাহমুদের ব্যাংকটির মূলধন গঠনে সুনামের নীতিটি অধিক ভ‚মিকা রেখেছে।
উন্নত ব্যবস্থাপনা, দক্ষ পরিচালনা, গোপনীয়তা রক্ষা এবং সেবামূলক কাজের মাধ্যমে বাজারে সুনাম সৃষ্টি করা ব্যাংকের অন্যতম মূলনীতি। ব্যাংক জগতে সফলতার জন্য সুনাম নীতিটি সর্বাধিক ভ‚মিকা রাখতে সক্ষম। উদ্দীপকে মি. মাহমুদের ব্যাংকটি বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে সুপরিচিত হয়ে উঠেছে। ব্যাংকটি মূলত বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় এবং একটি দক্ষ ব্যাংক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ফলে মি. মাহমুদের ব্যাংকটি সহজেই তার ব্যাংকিং কাজ স¤প্রসারিত করতে পারছে। ব্যাংকের এই সফলতার পেছনে রয়েছে মি. মাহমুদ সাহেবের ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দক্ষ পরিচালনা এবং সর্বাধিক সেবা। প্রকৃত অর্থে মি. মাহমুদের ব্যাংকটি জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ তার ব্যাংকটি সেবা প্রদানের মাধ্যমে এবং আমানতকারীর অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বিধানের মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছে, বিধায় ব্যাংকটি সুনাম সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রচুর সংখ্যক গ্রাহক তার ব্যাংকে লেনদেনের জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
সুতরাং, সুনামের নীতি মি. মাহমুদের ব্যাংকটি অধিক মূলধন গঠনে ভ‚মিকা রেখেছে।
প্রশ্ন-১৪  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক আজ বিশ্বের কাছে এক নামে পরিচিত। দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাংকটি ব্যাংক কোম্পানি আইনের বাইরে একটি বিশেষ অধ্যাদেশে গঠিত হয়েছিল। প্রচলিত ঋণ পদ্ধতির বাইরে এরা জামানতমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণের প্রচলন ঘটায়, যা মাইক্রো ক্রেডিট হিসেবে পরিচিত। [বি এ এফ শাহীন কলেজ, চট্টগ্রাম]
ক. ভারত অঞ্চলে প্রথম আধুনিক ব্যাংক কোনটি? ১
খ. কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলতে কী বোঝ? ২
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাংকটি কোন ধরনের? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাংকটি গঠনের যথার্থতা মূল্যায়ন কর। ৪
 ১৪নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. ভারত অঞ্চলে প্রথম আধুনিক ব্যাংক হলো দি হিন্দুস্তান ব্যাংক।
খ. যে ব্যাংককে কেন্দ্র করে দেশের মুদ্রাবাজার ও ব্যাংক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং পরিচালিত হয় তাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলে। এরূপ ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কল্যাণসাধন। সাধারণত মুদ্রা প্রচলন, অর্থ সরবরাহ তথা ঋণ নিয়ন্ত্রণের বিশেষ ক্ষমতা ও দায়িত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়োজিত। এছাড়া সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ ও সামগ্রিক ব্যাংকিং কাঠামোর নেতৃত্ব প্রদানসহ বিভিন্ন দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংক পালন করে থাকে।
গ. উদ্দীপকে উল্লেখ্য নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকটি হলো বিশেষায়িত ব্যাংক।
গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংকিং ব্যবসায়ের প্রয়োজনে কয়েক ধরনের ব্যাংক ব্যবসায়ের উদ্ভব হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম একটি হলো বিশেষায়িত ব্যাংক।
উদ্দীপকে ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকটি অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো গতানুগতিক ধারায় জনগণের আমানত গ্রহণ, ঋণদান প্রভৃতি ব্যাংকিং কাজ সম্পাদন করতে পারে না। সরকারের অনুমোদিত বিশেষ অধ্যাদেশ বলে এ ধরনের ব্যাংক গঠিত হয়। তাই বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংক বিশেষ উদ্দেশ্য বা গোষ্ঠীর উন্নয়নে যেমন প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র জনগণকে জামানতবিহীন ঋণদান করে থাকে। তবে বিশেষায়িত ব্যাংক শুধু দরিদ্রদের ঋণদানের উদ্দেশ্যই গঠিত হয় না বরং এটি কৃষি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ক্ষেত্র প্রভৃতি বিবেচনায়ও গড়ে উঠতে পারে।
ঘ. কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের আলোকে উদ্দীপকের প্রস্তাবিত বিশেষায়িত ব্যাংক অর্থাৎ গ্রামীণ ব্যাংক গঠনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
বিশেষায়িত ব্যাংক হলো বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য বা গোষ্ঠীর উন্নয়নে গঠিত ব্যাংক। এ ব্যাংক ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট গ্রাহদের ব্যাংকিং সেবা দিতে তার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। উদ্দীপকের গ্রামীণ ব্যাংক গঠিত হয়েছে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন সাধন করার উদ্দেশ্যে। এই ব্যাংক জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করে থাকে। যার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজ করে নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পারে। এছাড়া কৃষককেও এরূপ ঋণ প্রদান করা হয়। যাতে তারা তাদের নিজেদের জমি চাষ করতে পারে এবং অধিক পরিমাণে ফসল উৎপাদন করতে পারে।
কৃষি প্রধান বাংলাদেশে কৃষি খাতের উন্নয়নে যদি এ ধরনের বিশেষায়িত ব্যাংক অর্থাৎ গ্রামীণ ব্যাংক গঠন করা হয় তবে কৃষি ও কৃষিজ শিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন হবে। কারণ আমাদের দেশে অনেক কৃষক অর্থের অভাবে ফসলি জমি চাষ করতে পারেন না। এক্ষেত্রে এরূপ ব্যাংক গঠন করা হলে কৃষকরা সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা পাবে। ফলে তারা তাদের প্রয়োজনমতো অর্থ ঋণ নিয়ে অধিক ফসল উৎপাদন করতে পারবে। এতে কৃষিক্ষেত্রে দ্রæত উন্নয়ন সম্ভব হবে।
সুতরাং, কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংক গঠন করা একান্ত আবশ্যক।
প্রশ্ন-১৫  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মুসলিম ব্যাংক ধর্মীয় অনুশাসন অনুসারে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ব্যাংক। অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাথে সেবা প্রদানের সামঞ্জস্য থাকলেও এ ব্যাংকের গ্রাহকেরা কিছু বিশেষ পণ্য বা সেবা পাওয়ার সুযোগ পায়।
[ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক. বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক কোন মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত? ১
খ. কৃষি ব্যাংক বলতে কী বোঝ? ২
গ. মুসলিম ব্যাংক কোন ধরনের ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. কিছু বিশেষ পণ্য বা সেবা বলতে মুসলিম ব্যাংকের কোন কোন সেবার প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে? বিশ্লেষণ কর। ৪
 ১৫নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক যৌথ মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক।
খ. কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষকদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে ঋণ প্রদানসহ উপদেশমূলক অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে যে ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালনা করে মুনাফা অর্জন করা হয় তাকে কৃষি ব্যাংক বলে। এটি একটি বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক স্থাপিত হয়েছে।
গ. মুসলিম ব্যাংক ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্মীয় অনুশাসন প্রয়োগকল্পে যে ব্যাংকগুলো প্রতিষ্ঠিত হয় তাদের ধর্মীয় ব্যাংক বলে। মুসলিম ব্যাংক একটি ধর্মীয় ব্যাংক। এ ব্যাংক ইসলামিক শরিয়াভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। মুসলিম ব্যাংক ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাথে সেবা প্রদানে সামঞ্জস্য থাকলেও এ ব্যাংকের আমানত গ্রহণ ও ঋণ প্রদানে কিছু পার্থক্য আছে। এ ব্যাংক জনগণ হতে আমানত গ্রহণ করে এবং উক্ত আমানতের অর্থ হতে ঋণ প্রদান করে। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকটি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ঋণ প্রদান করে। এক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহকের ব্যবসায়ে শরিক হিসেবে মূলধন যোগান ও ব্যবস্থাপনা করে অথবা ঋণ গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো কিছু ক্রয়ের জন্য অর্থসংস্থান করে। এক্ষেত্রে ব্যাংক সুদের পরিবর্তে লাভসহ ঋণের অর্থ ফেরত পেয়ে থাকে।
ঘ. দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ইসলামি শরিয়তভিত্তিতে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়। এ ধরনের ব্যাংক গ্রাহকদের কিছু বিশেষায়িত পণ্য ও সেবা প্রদান করে থাকে।
মুসলিম ব্যাংক ইসলামি শরিয়তভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যাংক। ইসলামিক ব্যাংকিং সুবিধার অংশ হিসেবে এ ব্যাংক তার গ্রাহকদের কিছু বিশেষ পণ্য ও সেবা দিয়ে থাকে। মুসলিম ব্যাংক গ্রাহককে ব্যবসায় মূলধন যোগান দেয় এবং ব্যবসায়ের শরিক হিসেবে তার মূলধন ব্যবস্থাপনা করে। এছাড়া মুসলিম ব্যাংকটি তার গ্রাহকের সাথে যৌথ উদ্যোগে ব্যবসায় পরিচালনা করে ও ব্যবসায়ের লাভ-লোকসান সমবণ্টনের মাধ্যমে গ্রাহকের ব্যবসায় পরিচালনা করে। মুসলিম ব্যাংক ঋণগ্রহীতাকে সম্পত্তি ক্রয়ের জন্য অর্থ প্রদান করে। এক্ষেত্রে ব্যাংকটি লাভসহ ঋণের অর্থ ফেরত পায়। তাছাড়া ব্যাংকটি গ্রাহকের পক্ষে বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করে এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ক্রেতার ব্যবহারের জন্য তার কাছে হস্তান্তর করে। নির্দিষ্ট সময় শেষে গ্রাহক মুসলিম ব্যাংককে পণ্যটি ফেরত দেয় এবং ব্যবহারের সময়টুকুর জন্য মুসলিম ব্যাংককে নির্দিষ্ট ভাড়া প্রদান করে। এভাবে গ্রাহকদের সেবা প্রদান করে থাকে।
সুতরাং বলা যায়, মুসলিম ব্যাংক ইসলামি শরিয়তভিত্তিক পণ্য গ্রাহকদের সেবা প্রদান করে থাকে।

 জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে ব্যাংক ব্যবসায়ের কিরূপ পরিবর্তন সাধিত হয়েছে?
উত্তর : যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে ব্যাংক ব্যবসায়ের আকার, আকৃতি, উদ্দেশ্য ও গঠনে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
প্রশ্ন \ ২ \ বাংলাদেশে নোট ও মুদ্রা প্রচলন করে কোন ব্যাংক?
উত্তর : বাংলাদেশে নোট ও মুদ্রা প্রচলন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রশ্ন \ ৩ \ বাংলাদেশের মুদ্রা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে কোন ব্যাংক?
উত্তর : বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশের মুদ্রা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রশ্ন \ ৪ \ দক্ষ ব্যাংক ব্যবসায়ের পূর্বশর্ত কী?
উত্তর : দক্ষ ব্যাংক ব্যবসায়ের পূর্বশর্ত হলো ব্যাংকের ওপর গ্রাহকদের আস্থা।
প্রশ্ন \ ৫ \ অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি এড়ানোর জন্য ব্যাংকের কোন নীতি মেনে চলা উচিত?
উত্তর : অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি এড়ানোর জন্য ব্যাংকের সাবধানতার নীতি মেনে চলা উচিত।
প্রশ্ন \ ৬ \ বন্ধকি ব্যাংক কী?
উত্তর : ভ‚মি বন্ধক রেখে কৃষি বা শিল্পের প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদে যে ব্যাংক ঋণ প্রদান করে তাকে বন্ধকি ব্যাংক বলে।
প্রশ্ন \ ৭ \ আমদানি-রপ্তানি ব্যাংক কাকে বলে?
উত্তর : আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে যে ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়, তাকে আমদানি-রপ্তানি ব্যাংক বলা হয়।
প্রশ্ন \ ৮ \ সমবায় ব্যাংক কী?
উত্তর : সমবায়ের নীতি ও আইন অনুযায়ী গঠিত ও পরিচালিত ব্যাংককে সমবায় ব্যাংক বলে।
প্রশ্ন \ ৯ \ জাতীয় ব্যাংক কী?
উত্তর : একটি দেশের সীমানায় থেকে ব্যাংকিং ব্যবসায় পরিচালনা করলে তাকে জাতীয় ব্যাংক বলে।
প্রশ্ন \ ১০ \ গ্রামীণ ব্যাংক কোন ধরনের ব্যাংক?
উত্তর : গ্রামীণ ব্যাংক একটি বিশেষায়িত ব্যাংক।
প্রশ্ন \ ১১ \ স্বশাসিত ব্যাংক কাকে বলে?
উত্তর : যে ব্যাংক সরকারি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হলেও স্বশাসিত ও স্বনিয়ন্ত্রিত তাকে স্বশাসিত ব্যাংক বলে।
প্রশ্ন \ ১২ \ ধর্মীয় ব্যাংক কী?
উত্তর : ধর্মীয় অনুশাসন প্রয়োগকল্পে যে ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় তাই ধর্মীয় ব্যাংক।
প্রশ্ন \ ১৩ \ কত সালে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়?
উত্তর : ১৯৮৩ সালে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়।
প্রশ্ন \ ১৪ \ মুরাবাহা সেবা কী?
উত্তর : ঋণগ্রহীতাকে কোনো কিছু ক্রয়ের জন্য যখন অর্থায়ন করা হয় তখন তাকে মুরাবাহা সেবা বলা হয়।
প্রশ্ন \ ১৫ \ বাংলাদেশে কর্মরত ইসলামি ব্যাংকের সংখ্যা কত?
উত্তর : বাংলাদেশে কর্মরত ইসলামি ব্যাংকের সংখ্যা ৭টি।
প্রশ্ন \ ১৬ \ নিবন্ধনভিত্তিক ব্যাংক কত প্রকার?
উত্তর : নিবন্ধনভিত্তিক ব্যাংক দুই প্রকার।
প্রশ্ন \ ১৭ \ ইউইখ-এর পূর্ণ নাম কী?
উত্তর : ইউইখ-এর পূর্ণ নাম হলো ইধহমষধফবংয উবাবষড়ঢ়সবহঃ ইধহশ খরসরঃবফ.
প্রশ্ন \ ১৮ \ রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক কোন ধরনের ব্যাংক?
উত্তর : রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক একটি আঞ্চলিক ব্যাংক।
প্রশ্ন \ ১৯ \ ইসলামিক ব্যাংক ব্যবস্থায় যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য অর্থায়নকে কী বলে?
উত্তর : ইসলামি ব্যাংক ব্যবস্থায় যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য অর্থায়নকে মুরাবাহা বলে।
প্রশ্ন \ ২০ \ ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নাম কী?
উত্তর : ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নাম হলো ব্যাংক অব ইংল্যান্ড।
প্রশ্ন \ ২১ \ অংশীদারি ব্যাংক কী?
উত্তর : অংশীদারি ব্যাংক হলো অংশীদারি আইনের ভিত্তিতে গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যাংক।
প্রশ্ন \ ২২ \ মেয়াদি আমানতের সুদের হার কত?
উত্তর : মেয়াদি আমানতের সুদের হার প্রায় ১৩%।
প্রশ্ন \ ২৩ \ মুরাবাহা কোন ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি সেবা?
উত্তর : মুরাবাহা ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি সেবা।
প্রশ্ন \ ২৪ \ পরিবহন ব্যাংক কী?
উত্তর : পরিবহন শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে যে বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে পরিবহন ব্যাংক বলে।
প্রশ্ন \ ২৫ \ সঞ্চয়ী হিসাবে কত বার অর্থ উত্তোলন করা যায়?
উত্তর : সঞ্চয়ী হিসাবে সপ্তাহে ২ বার অর্থ উত্তোলন করা যায়।
প্রশ্ন \ ২৬ \ ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড কোন ধরনের ব্যাংক?
উত্তর : ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
প্রশ্ন \ ২৭ \ আংশিক নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক কী?
উত্তর : যে ব্যাংকের কার্যক্রম আংশিকভাবে সরকার নিয়ন্ত্রিত ও আংশিক ব্যাংকের নিজস্ব রীতির অধীনে থাকে তাকে আংশিক নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক বলে।
প্রশ্ন \ ২৮ \ শাহজালাল ব্যাংক কোন ধরনের ব্যাংক?
উত্তর : শাহাজালাল ব্যাংক একটি ইসলামি ব্যাংক।
প্রশ্ন \ ২৯ \ বাংলাদেশে কত সালে স্কুল ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর : বাংলাদেশে ১৯৬০ সালে স্কুল ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়।

 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ ব্যাংক কীভাবে মূলধন গঠন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারকে সাহায্য করে?
উত্তর : সমাজের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়কে ব্যাংক আমানতের মাধ্যমে সংগ্রহ করে তা লাভজনক কারবারি প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগের জন্য ঋণ দেয়। দেশে মূলধন গঠনে সাহায্য করা এবং সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করা ব্যাংকের একটি প্রধান উদ্দেশ্য। দেশে বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য সরকারকে সাহায্য করা ব্যাংক ব্যবস্থার একটি কাজ। মূলধন নির্ভর প্রযুক্তির বদলে শ্রমনির্ভর প্রযুক্তিতে অর্থায়ন করে ব্যাংক অধিকতর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে সরকারকে সাহায্য করে।
প্রশ্ন \ ২ \ সার্থক ব্যাংক ব্যবসায় মানে সঠিক তারল্যনীতি-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : তারল্যনীতি ব্যাংক ব্যবসার একটি মৌলিক নীতি। আমানতকারী যখন টাকা তুলতে চায়, তখন তাদের নগদ টাকা দিতে হবে। আবার এটা বিবেচনায় রেখে যদি আমানতের সব টাকা ব্যাংক তরল অবস্থায় রেখে দেয়, তবে ব্যাংকের কোনো বিনিয়োগ হবে না এবং ব্যাংকটির কোনো মুনাফাও হবে না। তাই সার্থক ব্যাংক ব্যবসায় মানে হলো সঠিক তারল্যনীতি যেখানে অতিরিক্ত তারল্যও থাকবে না আবার তারল্য সংকটও হবে না।
প্রশ্ন \ ৩ \ কৃষি ব্যাংক সম্পর্কে লেখ।
উত্তর : কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষকগণকে বিভিন্ন মেয়াদের ঋণ প্রদানসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে যে ব্যাংক কাজ করে তাকে কৃষি ব্যাংক বলে। এটি একটি বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। আমাদের কৃষি উন্নয়ন অনেকখানি নির্ভর করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের দক্ষতার ওপর।
প্রশ্ন \ ৪ \ শ্রমিক ব্যাংক সম্পর্কে লেখ।
উত্তর : শ্রমিকদের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা সৃষ্টি করে জীবন ধারণের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে শ্রমিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। আমাদের দেশে স্বতন্ত্রভাবে শ্রমিক ব্যাংক নেই, তবে শিল্প-কারখানা এলাকার শাখা খুলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ উদ্দেশ্য সাধন করে।
প্রশ্ন \ ৫ \ ভোক্তাদের ব্যাংক সম্পর্কে লেখ।
উত্তর : ভোক্তাদেরকে বাকিতে পণ্য ক্রয়ের সুবিধা প্রদানের জন্যই এ ব্যাংক গঠিত ও পরিচালিত হয়। ব্যাংক তার মক্কেলকে একটি কার্ড সরবরাহ করে, যার নাম ঈৎবফরঃ ঈধৎফ এবং এর দ্বারা ভোক্তা বাকিতে বাজার থেকে পণ্য কিনতে পারে।
প্রশ্ন \ ৬ \ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ব্যাংক বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নের জন্য যে ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় তাই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ব্যাংক। ক্ষুদ্র শিল্পের উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার জন্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ব্যাংক আর্থিক সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করে থাকে।
প্রশ্ন \ ৭ \ একক ব্যাংক বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : শুধু একটি নির্দিষ্ট স্থানে যখন একটি ব্যাংকের কার্যাবলি সম্পাদিত হয়, তাকে একক ব্যাংক বলে। একক ব্যাংকের কোনো শাখা অফিস থাকে না এবং এ ব্যাংকের কার্যাবলি শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকে। বাংলাদেশে একক ব্যাংক ব্যবস্থার প্রচলন নেই।
প্রশ্ন \ ৮ \ আমদানি রপ্তানি ব্যাংক কাকে বলে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : বৈদেশিক বাণিজ্য সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করার মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যে ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে আমদানি রপ্তানি ব্যাংক বলে। মূলত আমদানির জন্য ঋণ সরবরাহ, প্রত্যয়নপত্র (খ/ঈ) সুবিধা, আমদানি তদারকিসহ বিভিন্ন উপদেশমূলক কাজ করে থাকে।
প্রশ্ন \ ৯ \ স্কুল ব্যাংকিং কাকে বলে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমানত সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করার জন্য যে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রচলন করা হয় তাকে স্কুল ব্যাংকিং বলে। উন্নত দেশগুলোতে স্কুল ব্যাংক ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। স্কুল থেকে সঞ্চয়ে উৎসাহ দেওয়া এ ব্যাংকিং ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিভিন্ন নামে স্কুল ব্যাংকিং পরিচালনা করে।
প্রশ্ন \ ১০ \ মালিকপক্ষের বিনিয়োগ সার্থক হয় কীভাবে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ব্যাংক বিভিন্ন খাতে অর্থ বিনিয়োগ করে দেশে উৎপাদন ও জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে সচেষ্ট হলে মালিকপক্ষের বিনিয়োগ সার্থক হয়। তাই ব্যাংক আমানত অর্থ বিনিয়োগের খাতের লাভজনকতা মূল্যায়ন করে থাকে।
প্রশ্ন \ ১১ \ গ্রæপ ব্যাংকিং বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : যখন দুই বা ততোধিক ব্যাংক একটি হোন্ডিং কোম্পানির অধীনে একত্রিত হয়ে উক্ত কোম্পানি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়ে ব্যাংকিং কার্যাবলি সম্পাদন করে, তখন তাকে গ্রæপ ব্যাংকিং বলে। একটি বৃহৎ ব্যাংক অন্য একটি বা কয়েকটি দুর্বল ব্যাংকের অধিকাংশ শেয়ার ক্রয় করে। ফলে দুর্বল ব্যাংকটি বৃহৎ ব্যাংকের অধীনস্থ ব্যাংক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।
প্রশ্ন \ ১২ \ বিনিময় ব্যাংক বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : বৈদেশিক লেনদেন নিষ্পত্তি ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের জন্য যে ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে বিনিময় ব্যাংক বলে। বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়, রপ্তানি ইত্যাদি এ ব্যাংকের কাজ।
প্রশ্ন \ ১৩ \ বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বলতে কী বোঝ?
উত্তর : বিশেষ কোনো খাতের বা গোষ্ঠীর উন্নয়নে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয় সেগুলোকে বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বলে। অন্যভাবে বলা যায়, যে সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক গ্রাহকদের প্রয়োজন ও অর্থনীতির বিশেষ কোনো দিক নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে তাদেরকে বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক বলে। যেমন : বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বাংলাদেশ উন্নয়ন ব্যাংক লি. ইত্যাদি।
প্রশ্ন \ ১৪ \ ব্যাংক ঋণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : ব্যাংক মুনাফা প্রদানের শর্তে গ্রাহককে যে অর্থ, সুনাম ও বিশ্বাস ধার দেয় তাকে ব্যাংক ঋণ বলে। ব্যাংক ঋণ প্রধানত নগদ অর্থে না দিয়ে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দেয়া হয়। অর্থাৎ নগদ অর্থ বা দলিলপত্রের মাধ্যমে ব্যাংক গ্রাহককে সহায়তা দিয়ে প্রতিদানস্বরূপ মুনাফা পাবার প্রক্রিয়াকেই ব্যাংক ঋণ বলা হয়।
প্রশ্ন \ ১৫ \ ব্রিজ ফিন্যান্স কী? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : বিনিয়োগকারীরা কোনো নতুন কোম্পানির শেয়ার বা বন্ড ক্রয় করতে আগ্রহী হয় না। এ কারণে তাদের প্রাথমিক অর্থসংস্থানের সংকট কাটানোর লক্ষ্যে অর্থসংস্থানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে কোম্পানির অর্থায়নে দায়িত্ব গ্রহণ করে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ সংস্থা ও কনসোর্টিয়ামের অন্যান্য সদস্যগণ লিমিডেট কোম্পানিসমূহের শেয়ার অবলেখন করে থাকে। ইক্যুইটি মূলধন অর্থায়নের এ প্রক্রিয়াকে ব্রিজ ফিন্যান্স বলে।
প্রশ্ন \ ১৬ \ বিনিময় বিল সম্পর্কে ধারণা দাও।
উত্তর : ধারে ক্রয়-বিক্রয় অথবা আমদানি-রপ্তানি হতে উদ্ভূত পারস্পরিক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রস্তুতকারক কর্তৃক স্বাক্ষরিত যে দলিল ব্যবহার করা হয় তাকে বিনিময় বিল বলে। বিনিময় বিল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের অন্যতম একটি উৎস। এটি একটি হস্তান্তরযোগ্য ঋণের দলিল।

 

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply