নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল অধ্যায় ১২ বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাণিজ্য

দ্বাদশ অধ্যায়
 বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাণিজ্য

ছবি সংক্রান্ত তথ্য শিখনফল
 বাংলাদেশের সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথের বর্ণনা দিতে পারবে।
 যোগাযোগ ও পরিবহনে সড়ক, রেল, নদী ও আকাশপথের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারবে।
 সড়ক, রেল ও নদী চলাচলের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এড়াতে করণীয় ব্যাখ্যা করতে পারবে।
 বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যাখ্যা করতে পারবে।
 বাণিজ্য আমদানি ও রপ্তানি পণ্য সম্পর্কে বর্ণনা দিতে পারবে।
অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে জেনে রাখি
 যাতায়াত ব্যবস্থা : যাতায়াত ব্যবস্থা বলতে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগের মাধ্যম এবং মালপত্র ও লোক চলাচলের মাধ্যমকে বোঝানো হয়। যেমনÑ সড়কপথ, রেলপথ, নৌপথ, সমুদ্রপথ, আকাশপথ।
 সড়কপথ : বাংলাদেশের অধিকাংশ জায়গা সমতল বলে এদেশে সড়ক যোগাযোগ পরিবহনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত। অধিকাংশ সড়ক স্থানীয় যোগাযোগ রক্ষার জন্য রেলপথ ও নদীপথের পরিপূরক হিসেবে নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট সড়কপথের দৈর্ঘ্য ২১,৪৬২ কিলোমিটার।
 রেলপথ : ঢাকার কমলাপুর দেশের বৃহত্তম রেলস্টেশন। বাংলাদেশে সর্বমোট ৪৪৩টি রেলস্টেশন আছে। বাংলাদেশে ব্রডগেজ, মিটার গেজ ও ডুয়েল গেজ এই তিন ধরনের রেল ব্যবস্থা চালু আছে। মোট রেলপথের দৈর্ঘ্য ২৮৭৭ কিলোমিটার।
 নদীপথ : নদীপথ বাংলাদেশের সুলভ পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থা। অসংখ্য নদী ও খালবিলের সমন্বয়ে গঠিত প্রায় ৮,৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ অভ্যন্তরীণ নাব্য জলপথ আছে।
 সমুদ্রপথ : দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জলপথ তথা সমুদ্রপথ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে চলেছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থার চেয়ে সমুদ্রপথের অবদান উল্লেখযোগ্য।
 আকাশপথ : অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সার্ভিসের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে চলেছে। ঢাকার ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এছাড়া আরও দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে, যা হলো- চট্টগ্রাম শাহ আমানত ও সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর।
 বাণিজ্য : মানুষের অভাব ও চাহিদা মেটানোর উদ্দেশে পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় এবং এর আনুষঙ্গিক কার্যাবলি হচ্ছে বাণিজ্য। বাণিজ্য প্রধানত দুই প্রকার। যথা : অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য।
 অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য : অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে সাধারণত গ্রাম বা হাট থেকে কাঁচামাল, খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয় এবং উৎপাদিত শিল্পদ্রব্য জেলা সদর, গঞ্জ, হাটে বণ্টন করা হয়। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে দেশের চাহিদা ও ভোগের সমন্বয় ঘটে।
 বৈদেশিক বাণিজ্য : বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে রপ্তানির প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ আয় হচ্ছে তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার থেকে। বর্তমানে খাদ্যশস্য ও শিল্পজাত দ্রব্য আমদানি করতে হয় এবং দেখা যায় রপ্তানির চেয়ে আমদানি দ্রব্য বেশি।
 বাংলাদেশের রপ্তানি : বাংলাদেশে বর্তমানে শ্রমনির্ভর শিল্পের রপ্তানি উপযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের রপ্তানি পণ্যের সর্ববৃহৎ গন্তব্যস্থল। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশি পণ্যের প্রধান আমদানিকারক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
 বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যসমূহ :
১. প্রাথমিক পণ্য : হিমায়িত খাদ্য, কৃষিজাত পণ্য, কাঁচা পাট, চা ও অন্যান্য প্রাথমিক পণ্য।
২. শিল্পজাত পণ্য : তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, রাসায়নিক দ্রব্য, প্লাস্টিক সামগ্রী, চামড়া, চামড়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, পাদুকা, সিরামিক সামগ্রী, প্রকৌশল দ্রব্যাদি।
 বাংলাদেশের প্রধান আমদানি পণ্যসমূহ :
১. প্রধান প্রাথমিক দ্রব্যসমূহ : চাল, গম, তৈলবীজ, অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম, তুলা ইত্যাদি।
২. প্রধান শিল্পজাত পণ্যসমূহ : ভোজ্যতেল, সার, ক্লিংকার, স্টেপল ফাইবার, সুতা ইত্যাদি।
৩. মূলধনী দ্রব্যসমূহ।
৪. অন্যান্য পণ্য (ইপিজেড-এর সহায়ক পণ্য)।

 বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর 
১. কোন জেলায় রেলপথ নেই?
ক টাঙ্গাইল  মাদারিপুর
গ হবিগঞ্জ ঘ ভৈরববাজার
২. বৈদেশিক বাণিজ্যে রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হলে-
র. উৎপন্ন দ্রব্যের খরচ কমাতে হবে
রর. উৎপন্ন দ্রব্যের শুল্ক বৃদ্ধি করতে হবে
ররর. দ্রব্যসামগ্রীর মানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর
গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
জনাব রাইয়ান একজন কম্পিউটার ব্যবসায়ী। মুম্বাই থেকে প্রতি বছর তিনি কম্পিউটার আমদানি করেন।
৩. জনাব রাইয়ান কোন পথে কম্পিউটার আমদানি করেন?
ক সড়কপথ খ রেলপথ গ আকাশপথ  সমুদ্রপথ
৪. উক্ত পথে পণ্যটি আনার সুবিধা
র. সময়ের সাশ্রয়
রর. পরিবহন খরচ কম
ররর. যন্ত্রাংশের ক্ষতির সম্ভাবনা কম
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
 রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর

 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন- ১  বাংলাদেশের রেলপথ

সায়হান গত শীতের ছুটিতে রাজশাহী থেকে তার ফুফুর বাড়ি সিলেটে বেড়াতে যায়। সে কম খরচে এবং আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য একটি পথ বেছে নিয়েছিল। কয়েকদিন পর সেখান থেকে চট্টগ্রাম হয়ে সে খাগড়াছড়ির আলুটিলা সুড়ঙ্গপথ দেখতে যায়।
ক. স্বল্প খরচের যোগাযোগ পথের নাম কী?
খ. দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে নৌপথ উন্নতি লাভ করার কারণ লেখ।
গ. সায়হানের রাজশাহী থেকে ফুফুর বাড়ি যাওয়ার পথটি মানচিত্রে নির্দেশ কর।
ঘ. সায়হানের ‘সিলেট থেকে চট্টগ্রাম’ এবং ‘চট্টগ্রাম থেকে আলুটিলা’ পর্যন্ত যাতায়াত ব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

ক স্বল্প খরচের যোগাযোগ পথের নাম নৌপথ।
খ বাংলাদেশের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলো দক্ষিণাংশে অবস্থিত। অসংখ্য নদী এসব অঞ্চলে জালের মতো ছড়িয়ে আছে। এ অঞ্চলের ভৌগোলিক গঠন নদীপথের অনুক‚ল। প্রায় সারাবছর ধরেই এ অঞ্চলে নাব্য জলপথ বিদ্যমান থাকে। এ কারণে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে নৌপথ উন্নতি লাভ করেছে।
গ সায়হানের রাজশাহী থেকে সিলেটে ফুফুর বাড়ি যাওয়ার সবচেয়ে কম খরচ ও আরামদায়ক ভ্রমণ হলো ট্রেন ভ্রমণ। রাজশাহী থেকে সিলেটে ট্রেনে যাওয়া বেশ সহজ। এক্ষেত্রে নদীপথ বর্তমানে যাত্রী চলাচলের উপযুক্ত অবস্থায় নেই এবং ট্রেনের ভাড়া বাসের চেয়ে তুলনামূলক কম। আবার ট্রেন ভ্রমণ আরামদায়ক ও অনেকটা নিরাপদ।
নিচে সায়হানের রাজশাহী থেকে সিলেটে ফুফুর বাড়ি যাওয়ার পথটি মানচিত্রে নির্দেশ করা হলো :

চিত্র: সায়হানের ফুফু বাড়ি যাওয়ার পথ
ঘ উদ্দীপকের সায়হানের ‘সিলেট থাকা চট্টগ্রাম’ এবং ‘চট্টগ্রাম থেকে আলুটিলা’ পর্যন্ত যাতায়াত ব্যবস্থা উপস্থাপিত হয়েছে। সিলেটের সাথে চট্টগ্রামের উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে। এছাড়া সিলেট স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের পথে নিয়মিত ট্রেন চলাচল করছে। কাজেই সায়হান সহজে সড়কপথে বা ট্রেনযোগে চট্টগ্রাম যেতে পারে। উপরন্তু সিলেট থেকে চট্টগ্রামে অভ্যন্তরীণ বিমান সার্ভিসও রয়েছে। অপরদিকে চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ির আলুটিলা পর্যন্ত যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত নয়। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পাহাড়ি বিধায় এখানে সড়কপথে যাতায়াত করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়াও উঁচুনিচু ও বন্ধুর ভ‚প্রকৃতির জন্য খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় রেলপথ গড়ে ওঠেনি। আবার এখানকার নদীগুলো বেশ খরস্রোতা। তাই সায়হানের সিলেট থেকে চট্টগ্রাম যাতায়াত যেমন সহজ, ঠিক চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ির আলুটিলা যাওয়া তত সহজ নয়।

প্রশ্ন- ২  বাংলাদেশের রপ্তানি ও আমদানি বাণিজ্য

সাল রপ্তানি আয়
(মিলিয়ন ইউএস ডলার) আমদানি ব্যয়
(মিলিয়ন ইউএস ডলার)
২০১০-১১ ২২,৯২৮.২২ ৩৩,৬৫৮
২০১১-১২ ২৪,২৮৭.৬৬ ৩৫,৫১৬
২০১২-১৩ ১২,৫৯৯.৭৩ ১৬,৪৪২

ক. আমদানি বাণিজ্য কী?
খ. বৈদেশিক বাণিজ্যে হিমায়িত খাদ্য রপ্তানির সুবিধাজনক পথ কোনটি এবং কেন?
গ. উপরের সারণিতে কোন বছর রপ্তানি ও আমদানি বাণিজ্যের ভারসাম্য সবচেয়ে কম? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উল্লিখিত সারণি বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পর্কে তোমার মতামত উপস্থাপন কর।

ক দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য যখন অন্য দেশ থেকে স্বদেশে কোনো পণ্যসামগ্রী আনা হয় তাকে আমদানি বাণিজ্য বলে।
খ বৈদেশিক বাণিজ্যে হিমায়িত খাদ্য রপ্তানির সুবিধাজনক পথ হলো বিমানপথ। যেসব খাদ্য দ্রæত পচনশীল যেমন ইলিশ মাছ, চিংড়ি, দই, মিষ্টি ইত্যাদি পণ্যকে হিমায়িত করে দ্রæত রপ্তানি করতে হয়। হিমায়িত খাদ্য পচনশীল তাই জরুরিভিত্তিতে রপ্তানি করতে হয়। আকাশ পথ এক্ষেত্রে দ্রæত এবং সুবিধাজনক পথ।
গ উপরের সারণিতে ২০১১-১২ বছরে রপ্তানি ও আমদানি বাণিজ্যে ভারসাম্য সবচেয়ে কম। ২০১০-১১ ও ২০১১-১২ সালে রপ্তানি ও আমদানি ভারসাম্য অনেক কম ছিল। তথা ঘাটতি বেশি ছিল। ২০১০-২০১১ সালে রপ্তানি আয় ছিল ২২,৯২৮.২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আমদানি ব্যয় ছিল ৩৩,৬৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১০৭২৯.৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১১-১২ সালে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ১১২২৮.৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ২০১২-১৩ সালে রপ্তানি আয় ছিল ১২,৫৯৯.৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আমদানি ব্যয় ছিল ১৬,৪৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৩,৮৪২.২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। আমদানি ও রপ্তানি ব্যয়ের ব্যবধান থেকে বোঝা যায় যে, ২০১১-১২ অর্থবছরে বাণিজ্য ভারসাম্য সবচেয়ে কম ছিল।
ঘ উল্লিখিত সারণি বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের রপ্তানি আয় ও আমদানি ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান বিদ্যমান। ফলে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য ভারসাম্য পূর্ণ নয়। আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। কারণ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় তা আমদানি ব্যয়ে খরচ হয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশকে টিকে থাকতে হলে বৈদেশিক বাণিজ্যপণ্যের বহুমুখীকরণ আবশ্যক। কেবল এক বা দুটি পণ্য রপ্তানির ওপর গুরুত্ব না দিয়ে রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা ও গুণগত মান বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে। বাংলাদেশে উৎপাদিত কাঁচামালের ওপর ভিত্তি করে আধুনিক শিল্পকারখানা স্থাপন করতে হবে। আমদানিকৃত কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পণ্য অপেক্ষা নিজস্ব কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা গেলে এদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য চাঙ্গা হবে। আর সেই সাথে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।

 বোর্ড ও সেরা স্কুলের বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১. বাংলাদেশের কোন জেলায় রেলপথ নেই? [স. বো.’১৬]
ক টাঙ্গাইল খ হবিগঞ্জ গ কুমিল্লা ঘ বরিশাল
৫. কোন ধরণের দ্রব্য পরিবহণের জন্য আকাশপথ ভালো? [সকল বো. ’১৫]
ক শিল্পজাত খ খাদ্যশস্য
 পচনশীল ঘ কাঁচামাল
৬. মংলা এবং চট্টগ্রামে সড়কপথ গড়ে উঠেছে কেন?
[ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ, ঢাকা]
ক সমতলভ‚মি খ জোয়ার-ভাটা
গ অনুক‚ল জলবায়ু  সমুদ্র বন্দর
৭. চট্টগ্রাম অঞ্চলের রেলপথ স্বল্পতার কারণ বিশ্লেষণ করলে কোনটি পাওয়া যায়? [কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা]
 উঁচুনিচু ভ‚মি খ অধিক বৃষ্টিপাত
গ অধিক তাপমাত্রা ঘ মৌসুমি বায়ুর প্রভাব
৮. বাংলাদেশে মোট কতটি রেলস্টেশন আছে? [জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক ৪০৫  ৪৪৩ গ ৪৫৬ ঘ ৪৮৯
৯. নিচের কোন জেলায় রেলপথ নেই? [অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা]
ক রাজশাহী খ যশোর
 বরিশাল ঘ মৌলভীবাজার
১০. বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর কয়টি? [হলিক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, ঢাকা]
 দুই খ তিন গ চার ঘ পাঁচ
১১. মুম্বাই থেকে রাইয়ান কোন পথে কম্পিউটার আমদানি করেন?
[মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, ঢাকা]
 সমুদ্রপথ খ সড়কপথ
গ আকাশপথ ঘ রেলপথ
১২. বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য রপ্তানি করে কোন দেশে?
[বিএএফ শাহীন কলেজ, ঢাকা]
ক যুক্তরাজ্য খ জার্মানি
গ ইতালি  যুক্তরাষ্ট্র
১৩. বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যসমূহ [নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
র. হিমায়িত খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্য
রর. তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার ও রাসায়নিক দ্রব্যাদি
ররর. হোম টেক্সটাইল, হস্তশিল্প ও সিরামিক সামগ্রী
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর  র, রর ও ররর

 বিষয়ক্রম অনুযায়ী বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
 ভ‚মিকা  বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ০০
১.

সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৪. যোগাযোগ ব্যবস্থা কীসের মাধ্যমে অর্থনীতিতে কার্যকরী অবদান রাখে?
(অনুধাবন)
 যাত্রী-পণ্য পরিবহন করে খ লেনদেন সুসম্পন্ন করে
গ মালামাল পরিবহন করে ঘ চলাচল আরামপ্রদ করে
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৫. যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে – (উচ্চতর দক্ষতা)
র. উৎপাদনের উপকরণসমূহের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে
রর. দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা আনয়ণে
ররর. লোকজনের নিয়মিত চলাচলে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১৬. বাণিজ্য অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা – (অনুধাবন)
র. কৃষির ভারসাম্য আনে
রর. জীবনমানে ভারসাম্য আনে
ররর. শিল্পের ভারসাম্য আনে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর
গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 যাতায়াত ব্যবস্থা  বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ১৬২
¡ বিভিন্নস্থানে যোগাযোগের মাধ্যম এবং লোক চলাচলের মাধ্যমকে বলে- যাতায়াত ব্যবস্থা।
¡ সমতলভ‚মি- সড়কপথ গড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
¡ সড়কপথ নির্মাণ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য – পার্বত্য এলাকায়।
¡ উৎপাদিত কৃষিপণ্য বণ্টন, দ্রæত যোগাযোগ ও বাজার ব্যবস্থার উন্নতির জন্য- অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ।
¡ বাংলাদেশের সড়কপথগুলো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠেছে- বসতি বিন্যাসের উপর নির্ভর করে।
¡ বাংলাদেশে সর্বমোট -৪৪৩টি রেলস্টেশন আছে।
¡ দেশের প্রধান বন্দর, শহর, বাণিজ্য ও শিল্পকেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত সংযোগ সাধন করে- রেলপথ।
¡ বাংলাদেশের ভৌগলিক গঠন- নৌপথের অনুক‚লে।
¡ বাংলাদেশে ২টি সমুদ্রবন্দর আছে যথা- চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর।
¡ বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলো- হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৭. বাংলাদেশে কত প্রকার পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে? (জ্ঞান)
ক দুই  তিন
গ চার ঘ পাঁচ
১৮. সড়ক পথ নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন ধরনের স্থানকে প্রাধান্য দেওয়া হয়? (প্রয়োগ)
 সমতলভ‚মি খ পাহাড়ি ভ‚মি
গ বন্ধুরভ‚মি ঘ ঢালভ‚মি
১৯. ঢাকা ও খুলনা অঞ্চলে সড়কপথ গড়ে ওঠার পেছনে কোন অনুক‚ল অবস্থার প্রভাব বেশি? (অনুধাবন)
 সমতলভ‚মি খ নদীবন্দর
গ জনসংখ্যাধিক্য ঘ শিল্পাঞ্চল
২০. কোথায় সড়কপথ গড়ে তোলা সহজ? (অনুধাবন)
ক নিম্নভ‚মি ও নদীপূর্ণ অঞ্চলে খ ঢালযুক্ত স্থানে
 স্থায়ী ও শক্ত মৃত্তিকা অঞ্চলে ঘ উঁচুনিচু ও বন্ধুর অঞ্চলে
২১. বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে সড়কপথের ঘনত্ব কম? (অনুধাবন)
ক উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খ মধ্যাঞ্চল
 দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঘ পশ্চিমাঞ্চলে
২২. সিলেটের হাওর অঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে সড়কপথ কম কেন? (অনুধাবন)
 নিম্নভ‚মি ও নদীপূর্ণ অঞ্চল বলে খ মৃত্তিকার বুনন অনেক নরম বলে
গ বৃষ্টিবহুল অঞ্চল বলে ঘ ভ‚মির ঢাল বেশি বলে
২৩. কী কারণে আমাদের সড়ক পথগুলো বহু জায়গায় বিচ্ছিন্ন? (অনুধাবন)
ক রেলপথের  নদনদীর
গ বনভ‚মির ঘ সমতল ভ‚মির
২৪. বাংলাদেশের যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে নিচের কোন উক্তিটি সঠিক? (উচ্চতর দক্ষতা)
 নদীর কারণে সড়ক পথ নির্মাণ ব্যয়বহুল
খ বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় রেলপথ আছে
গ নদীপথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের অর্ধেকই স্টিমারে চলাচল করে
ঘ চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একমাত্র বন্দর
২৫. বাংলাদেশে সড়কপথগুলো গড়ে উঠেছে (অনুধাবন)
ক পরিকল্পিতভাবে  অপরিকল্পিতভাবে
গ উত্তর থেকে দক্ষিণে ঘ দক্ষিণ থেকে উত্তরে
২৬. ২০১২ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীন জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার ছিল? (জ্ঞান)
ক ৩,৪৭৮ খ ৩,৪৯২  ৩,৫৭০ ঘ ৩,৬১২
২৭. ২০১২ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীন বাংলাদেশের মোট সড়কপথের দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার ছিল? (জ্ঞান)
ক ২০,৯৪৮  ২১,৪৬২
গ ২১,৮২২ ঘ ২২,৩০৪
২৮. তুমি ঢাকা থেকে দিনাজপুর গেলে বাস ড্রাইভার কোন রুট অনুসরণ করে? (প্রয়োগ)
 ঢাকা  আরিচা নগরবাড়ি খ ঢাকা  দৌলতদিয়া
গ ঢাকা  টাঙ্গাইল ঘ ঢাকা  কুমিল্লা
২৯. তুমি যশোরের ছেলে ঢাকার একটি স্কুলে পড়াশোনা কর। ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় ড্রাইভার কোন রুট অনুসরণ করবে? (প্রয়োগ)
ক ঢাকা  আরিচা নগরবাড়ি  ঢাকা  দৌলতদিয়া
গ ঢাকা  টাঙ্গাইল ঘ ঢাকা  কুমিল্লা
৩০. সড়কপথে ঢাকা  টাঙ্গাইল রুটে গেলে নিচের কোন জেলায় যাওয়া যাবে? (প্রয়োগ)
ক বগুড়া খ কুষ্টিয়া
 নেত্রকোনা ঘ টেকনাফ
৩১. ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গে যেতে তুমি কোন সেতু ব্যবহার করবে? (প্রয়োগ)
ক আরিচা খ হার্ডিঞ্জ
 বঙ্গবন্ধু ঘ মাওয়া
৩২. যমুনা নদীর উপর নির্মিত কোন সেতু বর্তমানে সড়কপথ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে? (জ্ঞান)
 বঙ্গবন্ধু খ যমুনা
গ উত্তরবঙ্গ ঘ চীন মৈত্রী
৩৩. ভারী দ্রব্য পরিবহনে কোন পরিবহন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে? (জ্ঞান)
ক সড়কপথ  রেলপথ
গ নদীপথ ঘ আকাশপথ
৩৪. বাংলাদেশে কত ধরনের রেলপথ আছে? (জ্ঞান)
ক ১ খ ২  ৩ ঘ ৪
৩৫. কোন নদীর পূর্বাংশে মিটারগেজ এবং পশ্চিমাংশে ব্রডগেজ রেলপথ চালু আছে? (জ্ঞান)
ক পদ্মা খ মেঘনা  যমুনা ঘ ব্র‏হ্মপুত্র
৩৬. বাংলাদেশে ব্রডগেজ রেলপথের দৈর্ঘ্য কত? (জ্ঞান)
ক ৬৪৫ কিলোমিটার  ৬৫৯ কিলোমিটার
গ ৬৭৫ কিলোমিটার ঘ ৭২১ কিলোমিটার
৩৭. কোন বিভাগে ব্রডগেজ রেলপথ নেই? (অনুধাবন)
ক রংপুর খ রাজশাহী
 চট্টগ্রাম ঘ খুলনা
৩৮. খুলনা-রাজশাহী বিভাগের রেলপথের ধরন কেমন? (অনুধাবন)
 ব্রডগেজ খ মিটারগেজ
গ ডুয়েলগেজ ঘ ন্যারোগেজ
৩৯. কোনটি ব্রডগেজ রেলপথ? (অনুধাবন)
 ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জ খ শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জ
গ গৌরীপুর-মোহনগঞ্জ ঘ কুমিল্লা-চাঁদপুর
৪০. ডুয়েলগেজ রেলপথের বিস্তৃতি (জ্ঞান)
ক ঢাকা থেকে গাজীপুর খ সিরাজগঞ্জ থেকে নাটোর
গ পাহাড়তলি থেকে চট্টগ্রাম  জামতৈল থেকে জয়দেবপুর
৪১. বাংলাদেশে ডুয়েলগেজ রেলপথের দৈর্ঘ্য কত? (জ্ঞান)
ক ৩১০ কিলোমিটার খ ৩৪০ কিলোমিটার
গ ৩৫০ কিলোমিটার  ৩৭৫ কিলোমিটার
৪২. বাংলাদেশে মিটারগেজ রেলপথের দৈর্ঘ্য কত? (জ্ঞান)
ক ১,৬৫৪ কিলোমিটার খ ১,৭৮৯ কিলোমিটার
 ১,৮৪৩ কিলোমিটার ঘ ১৯০০ কিলোমিটার
৪৩. বাংলাদেশে মিটারগেজ রেলপথ কোন কোন বিভাগে অবস্থিত? (অনুধাবন)
 ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট খ ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা
গ বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম ঘ ঢাকা, সিলেট ও বরিশাল
৪৪. নিচের কোন বিভাগে মিটারগেজ রেলপথ নেই? (অনুধাবন)
ক ঢাকা খ চট্টগ্রাম
 খুলনা ঘ সিলেট
৪৫. কোন নদী দ্বারা বাংলাদেশের রেলপথ দুইভাগে বিভক্ত? (অনুধাবন)
ক পদ্মা খ মেঘনা  যমুনা ঘ ব্র‏হ্মপুত্র
৪৬. কোন ধরনের ভ‚মি রেলপথ গড়ে তোলার জন্য সুবিধাজনক? (অনুধাবন)
ক বন্ধুর খ পাহাড়ি  সমতল ঘ জলা
৪৭. নদীমাতৃক বাংলাদেশে রেলপথ গড়ে তোলার অসুবিধা কী? (অনুধাবন)
ক নৌপথের প্রতি অধিক নির্ভরতা খ রেলপথ নির্মাণ বেশ ব্যয়বহুল
গ বন্যার প্রবণতা বেশি  অধিক সেতু নির্মাণ
৪৮. বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে রেলপথ কম কেন? (অনুধাবন)
ক মৃত্তিকার বুনন যথেষ্ট মজবুত নয় বলে
 নিম্নভ‚মি ও নদীপূর্ণ অঞ্চল বলে
গ সমুদ্রের অনেক নিকটে অবস্থিত বলে
ঘ বসতির বিন্যাস কম বলে
৪৯. ব্রডগেজ রেলপথের বিস্তৃতি কত মিটার? (প্রয়োগ)
ক ১ খ ১.৪১ গ ১.৫৮  ১.৬৮
৫০. কোনটি রেলওয়ে ফেরি সার্ভিস? (অনুধাবন)
ক যশোর-বেনাপোল খ শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জ
গ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া  সিরাজগঞ্জ-জগন্নাথগঞ্জ
৫১. বর্তমানে বাংলাদেশে কয়টি রেলওয়ে ফেরি চালু রয়েছে? (জ্ঞান)
ক ১  ২ গ ৩ ঘ ৪
৫২. দেশের বৃহত্তম রেলস্টেশন কোনটি? (জ্ঞান)
ক চট্টগ্রাম  কমলাপুর
গ কাপ্তাই ঘ আখাউড়া
৫৩. জলপথকে প্রধানত কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? (জ্ঞান)
ক ১  ২ গ ৩ ঘ ৪
৫৪. বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীপথ বেশি ব্যবহৃত হয় কেন? (অনুধাবন)
ক সমতল ভ‚মি বলে খ রেলপথ নেই বলে
 নদীবহুল বলে ঘ সড়কপথ অপ্রতুল বলে
৫৫. বাংলাদেশে কত কিলোমিটার দীর্ঘ অভ্যন্তরীণ নাব্য জলপথ আছে? (জ্ঞান)
ক ৮,০০০ খ ৮,২০০  ৮,৪০০ ঘ ৮,৬০০
৫৬. বাংলাদেশে কত কিলোমিটার নৌপথ বর্ষাকালে নৌচলাচলের উপযোগী থাকে? (জ্ঞান)
ক ২,৯০০ খ ৩,৫০০ গ ৫,৪০০  ৮,৪০০
৫৭. বাংলাদেশে কত কিলোমিটার নৌপথ সারাবছর নৌ-চলাচলের উপযুক্ত থাকে? (জ্ঞান)
ক ৩,০০০  ৫,৪০০ গ ৮,৪০০ ঘ ৯,২০০
৫৮. দেশের কোন অঞ্চলের নদীগুলো নৌচলাচলের জন্য উপযোগী? (জ্ঞান)
ক উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল খ পূর্বাঞ্চল
 দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল ঘ উত্তরাঞ্চল
৫৯. বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০১৩ অনুযায়ী দেশে লঞ্চঘাটের সংখ্যা কত? (জ্ঞান)
ক ১২১ খ ২৫১  ৩৭৬ ঘ ৪০১
৬০. বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০১৩ অনুযায়ী দেশে ফেরিঘাটের সংখ্যা কত? (জ্ঞান)
ক ১৭ খ ২৯  ৩৪ ঘ ৫১
৬১. ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের আয় কত ছিল? (জ্ঞান)
 ১৩১.৭৫ কোটি টাকা খ ২০০.১৩ কোটি টাকা
খ ২১১.৯৮ কোটি টাকা ঘ ২২৫.৯৯ কোটি টাকা
৬২. বাংলাদেশের নদীবন্দরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত স্থান (অনুধাবন)
ক শরীয়তপুর, আশুগঞ্জ, আখাউড়া, কুলাউড়া
 নারায়ণগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ, আরিচা, চাঁদপুর
গ যশোর, ঝিনাইদহ, বাবুগঞ্জ, কাহালু
ঘ ঝিকরগাছা, রায়গঞ্জ, হাজিগঞ্জ, বোয়ালমারি
৬৩. নিচের কোন জেলাগুলো বিখ্যাত নদীবন্দর? (প্রয়োগ)
ক মেহেরপুর, নড়াইল খ টাঙ্গাইল, গাজীপুর
গ কুমিল্লা, নেত্রকোনা  খুলনা, ঝালকাঠি
৬৪. কোনটি বিখ্যাত নদীবন্দর? (অনুধাবন)
ক কুলাউড়া খ গোদাগাড়ি
 মোহনগঞ্জ ঘ হরিণাকুণ্ড
৬৫. বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নদী বন্দর কোনটি? (অনুধাবন)
 চাঁদপুর খ ঈশ্বরদী
গ মীরকাদিম ঘ সিরাজগঞ্জ

৬৬. অ ও ই স্থানের মধ্যে ব্যবসায়িক পণ্য পরিবহনের জন্য কোন ধরনের পথ ব্যবহার কম ব্যয়বহুল? (প্রয়োগ)
ক রেল  নৌ গ সড়ক ঘ বিমান
৬৭. সমুদ্রবন্দরে পোতাশ্রয় থাকা প্রয়োজন কেন? (অনুধাবন)
ক আধুনিক জেটি থাকার জন্য
খ জাহাজ মেরামতের জন্য
 ঢেউ ও ঝড় থেকে জাহাজ রক্ষা পাওয়ার জন্য
ঘ কার্গো রাখার সুবিধার জন্য
৬৮. কোনটি সমুদ্রবন্দর গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাধাস্বরূপ? (অনুধাবন)
ক সুবিস্তৃত সমভ‚মি খ গভীর উপক‚ল
গ পোতাশ্রয়  বরফ ও কুয়াশা
৬৯. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে? (অনুধাবন)
 নদীপথ ও সমুদ্রপথ খ সড়কপথ ও রেলপথ
গ রেলপথ ও আকাশপথ ঘ আকাশপথ ও সড়কপথ
৭০. বাংলাদেশে কোথায় সমুদ্র বন্দর আছে? (অনুধাবন)
ক চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরে  চট্টগ্রাম ও মংলায়
গ মংলা ও বরিশালে ঘ দুমকি ও টরকিতে
৭১. চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের মোট আমদানির কত ভাগ বাণিজ্য সম্পন্ন হয়? (জ্ঞান)
ক ৮০  ৮৫ গ ৯০ ঘ ৯৫
৭২. চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের মোট রপ্তানির কত ভাগ বাণিজ্য সম্পন্ন হয়? (জ্ঞান)
ক ৭৫  ৮০ গ ৮৫ ঘ ৯০
৭৩. মংলা বন্দর দিয়ে দেশের মোট রপ্তানির কত ভাগ বাণিজ্য সম্পন্ন হয়? (জ্ঞান)
ক ৯ খ ১১  ১৩ ঘ ১৫
৭৪. মংলা বন্দর দিয়ে দেশের মোট আমদানির কত ভাগ বাণিজ্য সম্পন্ন হয়? (জ্ঞান)
ক ৬  ৮ গ ১০ ঘ ১৫
৭৫. দ্রæত যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য সবচেয়ে ভালো মাধ্যম কোনটি? (জ্ঞান)
ক সড়কপথ খ রেলপথ  আকাশপথ ঘ নৌপথ
৭৬. দুর্যোগের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে কোন পথ? (অনুধাবন)
ক রেল  আকাশ গ নদী ঘ সড়ক
৭৭. বাংলাদেশের প্রধান বিমানবন্দর কোনটি? (অনুধাবন)
 ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’
খ ‘সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর’
গ ‘চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর’
ঘ ‘রাজশাহী বিমানবন্দর’
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৭৮. একটি দেশের উন্নয়নে সড়কপথ গুরুত্বপূর্ণ কেননা (অনুধাবন)
র. অতি দ্রæত যাতায়াত করা যায়
রর. উৎপাদিত পণ্য সহজে বণ্টন করা যায়
ররর. বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন করা সহজ হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৭৯. সড়কপথ ভ‚মিকা পালন করছে  (অনুধাবন)
র. বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়নে
রর. কৃষির উন্নয়ন ও বণ্টনে
ররর. ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতিতে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৮০. বাংলাদেশে সড়কপথে অনগ্রসরতার কারণ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. নদীর বহুলতা
রর. ভ‚প্রকৃতিগত সমস্যা
ররর. প্লাবিত এলাকা
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৮১. পার্বত্য চট্টগ্রামে সড়কপথ অনেক কম Ñ (অনুধাবন)
র. বন্ধুর প্রকৃতির ভ‚মিরূপের জন্য
রর. পার্বত্য এলাকায় সড়কপথ নির্মাণ ব্যয়বহুল বেলে
ররর. প্রতিক‚ল আবহাওয়ার কারণে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র  র ও রর
গ র ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৮২. আমাদের দেশে সারাবছরই সড়কপথ মেরামত করতে হয় Ñ (অনুধাবন)
র. বৃষ্টি, বর্ষা দ্বারা প্রভাবিত হয় বলে
রর. নির্মাণে দুর্বল উপকরণ ব্যবহৃত হয় বলে
ররর. যানবাহনের চাপ অত্যধিক থাকে বলে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৮৩. সড়কপথ যথেষ্ট ভ‚মিকা পালন করছে (প্রয়োগ)
র. সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নে
রর. কৃষি উন্নয়ন ও বণ্টন ব্যবস্থাপনায়
ররর. ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতিতে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৮৪. বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সড়কপথ অগ্রসর না থাকার কারণÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. সড়ক নির্মাণ ব্যয়বহুল
রর. বর্ষাকালে অধিকাংশ সড়ক নষ্ট হয়ে যায়
ররর. সড়ক নির্মাণে সরকারের সদিচ্ছা নেই
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র  র ও রর
গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৮৫. দেশের পূর্বাংশের সঙ্গে পশ্চিমাংশের যোগাযোগ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ (অনুধাবন)
র. জলপথ
রর. রেলপথ
ররর. সড়কপথ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
 রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৮৬. রেলপথ গড়ে ওঠাকে প্রভাবিত করে (অনুধাবন)
র. সমতলভ‚মি
রর. সমুদ্রবন্দরের অবস্থান
ররর. জলবায়ু
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর
গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৮৭. রেলওয়ে ফেরি চালু রয়েছে (অনুধাবন)
র. তিস্তামুখঘাট ও বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে
রর. জামতৈল ও জয়দেবপুরের মধ্যে
ররর. সিরাজগঞ্জ ও জগন্নাথগঞ্জের মধ্যে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর
গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৮৮. বাংলাদেশে নদীপথ গড়ে ওঠার অনুক‚ল অবস্থা হলো (অনুধাবন)
র. নিম্নভ‚মি
রর. নদীবহুল অঞ্চল
ররর. সমতল ভ‚মি
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৮৯. নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে সমস্যা Ñ (অনুধাবন)
র. নদীর নাব্য হ্রাস
রর. মৌসুমভিত্তিক চলাচল
ররর. দক্ষ চালক ও নাবিকের অভাব
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও রর
গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৯০. একটি স্থানে সমুদ্রবন্দর গড়ে ওঠার ভৌগোলিক কারণ  (উচ্চতর দক্ষতা)
র. বেশ গভীর উপক‚ল
রর. সুবিস্তৃত সমভ‚মি
ররর. পোতাশ্রয় সুবিধা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৯১. অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান সার্ভিস চালু রয়েছে (অনুধাবন)
র. ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার
রর. যশোর ও রাজশাহী থেকে ঢাকা
ররর. ঢাকা থেকে সৈয়দপুর ও বরিশাল
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৯২. আকাশপথের গুরুত্ব অপরিসীম (উচ্চতর দক্ষতা)
র. শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে
রর. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে
ররর. পচনশীল দ্রব্য প্রেরণের ক্ষেত্রে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৯৩. আকাশপথ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে  (অনুধাবন)
র. যুদ্ধবিগ্রহে
রর. দুর্ভিক্ষে
ররর. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের সারণিটি পড়ে ৮৭ ও ৮৮ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
নিচের সারণিতে ২০১১ এবং ২০১২ সালের বাংলাদেশের তিন ধরনের যাতায়াত ব্যবস্থার তথ্য উল্লেখ আছে।
যাতায়াতের ধরন ২০১১ ২০১২
জাতীয় মহাসড়ক (কিলোমিটার) ৩,৪৯২ ৩,৫৭০
রেলপথ (কিলোমিটার) ব্রডগেজ ৬৫৯ ৬৫৯
মিটার গেজ ১,৮০১ ১,৮৪৩
নৌপথ (কিলোমিটার) সারাবছর ৫,৪০০
বর্ষাকাল ৮,৪০০
৯৪. সারণির আলোকে কোন উক্তিটি সঠিক? (প্রয়োগ)
ক নদীপথ থেকে সড়কপথে তিন গুণ বেশি মানুষ চলাচল করে
খ ২০১১ এবং ২০১২ সালে কিছুসংখ্যক মিটারগেজ রেলপথ ব্রডগেজ রেলপথে রূপান্তরিত হয়েছে
 ২০১১ এবং ২০১২ সালের মধ্যে নতুন সড়কপথ তৈরি করা হয়েছে
ঘ ২০১২ সালে বাংলাদেশে চলাচলযোগ্য নদীপথের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৯,৫০০ কিলোমিটার
৯৫. উল্লিখিত সারণির আলোকে বলা যায়Ñ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. ২০১১ এবং ২০১২ সালে বাংলাদেশের প্রধান সড়কপথের দৈর্ঘ্য বেড়েছে
রর. ২০১২ সালে মিটার গেজ রেলপথ থেকে ব্রডগেজ রেলপথের দৈর্ঘ্য বেশি ছিল
ররর. প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চলাচলযোগ্য নদীপথ বছরের শুষ্ক মৌসুমে চলাচলের অনুপযোগী থাকে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর
গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৮৯ ও ৯০নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
জামাল একজন কৃষক। উৎপাদিত পণ্য বরিশাল থেকে ঢাকায় পাইকারি বাজারে বিক্রি করেন। এতে তার পরিবহন খরচ কম হয়।
৯৬. জামাল কোন পথ ব্যবহার করে? (অনুধাবন)
ক সড়ক  নৌ
গ রেল ঘ আকাশ
৯৭. উক্ত পরিবহন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভ‚মিকা রাখে (উচ্চতর দক্ষতা)
র. ব্যবসা-বাণিজ্য স¤প্রসারণে
রর. কৃষিপণ্য বণ্টন ব্যবস্থাপনায়
ররর. কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের মানচিত্রটি দেখে ৯১ ও ৯২নং প্রশ্নের উত্তর দাও :

৯৮. ‘ক’ চি‎িহ্নত স্থানে কী ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে? (প্রয়োগ))
ক সড়কপথ ও রেলপথ
খ সড়কপথ, রেলপথ ও আকাশপথ
 সড়কপথ, রেলপথ, আকাশপথ ও সমুদ্রপথ
ঘ আকাশপথ ও সমুদ্রপথ
৯৯. ‘ক’ চি‎িহ্নত স্থানে পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠার কারণ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. সমুদ্রবন্দরের উপস্থিতি
রর. অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনা
ররর. বন্ধুর প্রকৃতির ভ‚মিরূপ
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৯৩ ও ৯৪নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
রেবেকা প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চার্য নির্বাচনের সময় ইন্টারনেটে সুন্দরবনকে ভোট দেয়। তার দেশের এ বনটি বেশ পছন্দ।
১০০. রেবেকার পছন্দের স্থানে কোন বন্দর গড়ে উঠেছে? (প্রয়োগ)
ক চট্টগ্রাম  মংলা
গ বরিশাল ঘ ঝালকাঠি
১০১. উক্ত বন্দরটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (উচ্চতর দক্ষতা)
র. অধিকাংশ বাণিজ্য এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়
রর. নদীপথ ও সড়কপথের সঙ্গে এটি সংযুক্ত
ররর. পশুর নদীর তীরে এর অবস্থান
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
 রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 বাণিজ্য  বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ১৬৯
¡ পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় এবং এর আনুষঙ্গিক কার্যাবলি হচ্ছে- বাণিজ্য।
¡ বাণিজ্য ২ ধরনের হয়ে থাকে- অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য।
¡ অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে- সড়কপথ, রেলপথ ও নদীপথ।
¡ বর্তমানে রপ্তানির প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ আয় হচ্ছে- তৈরি পোশাক থেকে।
¡ মূলধন ও প্রযুক্তি বিদ্যার অভাবে- প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার হচ্ছে না।
¡ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের সর্ববৃহৎ গন্তব্যস্থল- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র।
¡ তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, কৃষিজাত পণ্য, চামড়া ইত্যাদি- প্রধান রপ্তানি পণ্য।
¡ বাংলাদেশের আমদানির ক্ষেত্রে শীর্ষে – চীন এর অবস্থান।
¡ ২০১২-১৩ সালে রপ্তানি আয় ছিল- ১২,৫৯৯.৭৩ ইউএস ডলার।
¡ বাংলাদেশের প্রধান আমদানি পণ্য- চাল, তুলা, পেট্রোলিয়াম, সুতা উল্লেখযোগ্য।
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১০২. মানুষের অভাব ও চাহিদা মেটানোর উদ্দেশে পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় এবং এর আনুষঙ্গিক কার্যাবলি কী? (জ্ঞান)
 বাণিজ্য খ যোগাযোগ
গ রপ্তানি ঘ আমদানি
১০৩. বাণিজ্য কত প্রকার? (জ্ঞান)
ক এক  দুই
গ তিন ঘ চার
১০৪. বর্তমানে আমাদের রপ্তানি আয়ের শতকরা কত ভাগ তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার থেকে হয়? (জ্ঞান)
ক ৬০% খ ৫৫%
 ৭৫% ঘ ৮৫%
১০৫. বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বর্তমান গতিধারার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কোনটি? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক চামড়া ও হস্তশিল্পজাত দ্রব্যের রপ্তানি বাড়ছে আর তৈরি পোশাক ও হিমায়িত খাদ্যের রপ্তানি কমছে
খ পাটজাত দ্রব্য ও চায়ের রপ্তানি বাড়ছে আর তৈরি পোশাক ও হিমায়িত খাদ্যের রপ্তানি কমছে
 তৈরি পোশাক ও হিমায়িত খাদ্যের রপ্তানি বাড়ছে আর পাটজাত দ্রব্য ও চায়ের রপ্তানি কমছে
ঘ তৈরি পোশাক, হিমায়িত খাদ্য, চা ও চামড়া সকল পণ্যের রপ্তানি ক্রমাগত হারে বাড়ছে
১০৬. আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি করার লক্ষ্যে কী দরকার? (অনুধাবন)
ক আমদানি বৃদ্ধি করা  রপ্তানি বৃদ্ধি করা
গ পণ্যের মান উন্নয়ন করা ঘ পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন
১০৭. বৈদেশিক বাণিজ্যে রপ্তানি বৃদ্ধি করে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি করার প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন। এর জন্য কী করণীয়? (প্রয়োগ)
ক প্রাকৃতিক সম্পদ বৃদ্ধি খ আমদানি বন্ধকরণ
 রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ ঘ কৃষিজমিতে শিল্প স্থাপন
১০৮. বর্তমানে বাংলাদেশে কোন ধরনের শিল্পের রপ্তানি উপযোগিতা বাড়ছে? (অনুধাবন)
ক ক্ষুদ্র ও কুটির  শ্রমনির্ভর
গ ভারী মূলধনী ঘ কৃষিনির্ভর
১০৯. বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহৎ গন্তব্যস্থল কোন দেশ? (জ্ঞান)
 জার্মানি খ জাপান গ যুক্তরাষ্ট্র ঘ ফ্রান্স
১১০. ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশি পণ্যের তৃতীয় আমদানিকারক দেশ ছিল কোনটি? (প্রয়োগ)
ক ফ্রান্স খ নেদারল্যান্ডস
 যুক্তরাজ্য ঘ কানাডা
১১১. বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যে চীনের অবস্থান কত? (অনুধাবন)
 প্রথম খ দ্বিতীয় গ তৃতীয় ঘ চতুর্থ
১১২. বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান কত? (জ্ঞান)
ক প্রথম  দ্বিতীয় গ তৃতীয় ঘ চতুর্থ
১১৩. বাংলাদেশের আমদানি দ্রব্য কোনটি? (অনুধাবন)
ক পাট খ চা গ চামড়া  ভোজ্যতেল
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১১৪. বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য  (উচ্চতর দক্ষতা)
র. মানুষের চাহিদা ও ভোগের সমন্বয় ঘটায়
রর. রপ্তানি বাণিজ্য সহায়তা করে
ররর. যাতায়াত ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর
গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১১৫. বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্য  (উচ্চতর দক্ষতা)
র. আমদানির চেয়ে রপ্তানি কম
রর. অধিকাংশ বাণিজ্য চলে আকাশপথে
ররর. কৃষিপণ্য রপ্তানি কমে আমদানি বাড়ছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর
গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১১৬. বৈদেশিক বাণিজ্য উন্নয়নে প্রয়োজন (অনুধাবন)
র. উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে রপ্তানি শুল্ক বৃদ্ধি করা
রর. উৎপাদন বৃদ্ধি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন
ররর. পণ্যের মান উন্নয়ন ও ব্যাপক প্রচার
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
 রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১১৭. বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের গতিধারা (উচ্চতর দক্ষতা)
র. তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার থেকে সিংহভাগ আয় হচ্ছে
রর. কৃষিপণ্যের রপ্তানির পরিমাণ কমে আমদানি বাড়ছে
ররর. প্রায় সকল বৈদেশিক বাণিজ্য সমুদ্রপথে হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১১৮. আমাদের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা থাকার কারণ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুল ব্যবহার
রর. মূলধন ও প্রযুক্তিবিদ্যার অভাব
ররর. রপ্তানিযোগ্য পণ্যের সীমাবদ্ধতা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১১৯. বাংলাদেশের প্রধান আমদানি পণ্যসমূহ  (অনুধাবন)
র. খাদ্যশস্য, পেট্রোলিয়াম ও সুতা
রর. সার, ক্লিংকার ও স্টেপল ফাইবার
ররর. চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১১৩ ও ১১৪নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
শফিক সাহেব পশুর চামড়া ঢাকায় প্রক্রিয়াজাত করে নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি করেন। অধিকাংশ সময়ই তিনি পণ্যসামগ্রী জাহাজে প্রেরণ করেন।
১২০. শফিক সাহেব কী ধরনের বাণিজ্য পরিচালনা করেন? (প্রয়োগ)
ক আমদানি  রপ্তানি
গ আমদানি- রপ্তানি ঘ আন্তর্জাতিক
১২১. তিনি প্রক্রিয়াজাত চামড়া জাহাজে প্রেরণ করেনÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. ভারি পণ্য বলে
রর. পণ্য পরিবহনে সুবিধাজনক বলে
ররর. শিল্পোন্নয়নে ভ‚মিকা রাখার জন্য
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১১৫ ও ১১৬নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০১৩ অনুযায়ী ২০১২-১৩ সালে বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১৬,৪৪২ ও ১২,৫৯৯.৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
১২২. ২০১২-১৩ সালে বাংলাদেশে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ কত ছিল (মিলিয়ন ডলারে)? (প্রয়োগ)
ক ৩২৫৬.৯৪ খ ৩৫৯৪.২৮
 ৩৮৪২.২৭ ঘ ৪২২১.৩৯
১২৩. উক্ত বাণিজ্য ঘাটতির ভারসাম্য আনয়নে প্রয়োজন (উচ্চতর দক্ষতা)
র. রপ্তানিযোগ্য পণ্যের সংখ্যা বাড়ানো
রর. নতুন বাজারের অনুসন্ধান
ররর. পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর  র, রর ও ররর

 বোর্ড ও সেরা স্কুলের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন- ১  ========

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে বন্দর গড়ে উঠেছে। লিপি প্রতিদিন বিকালে তার বাবার সাথে নদীটির তীরে হাঁটে এবং বন্দরের কাজকর্ম লক্ষ করে। লিপি তার বাবার কাছে সমুদ্রপথ গড়ে ওঠার ভৌগোলিক কারণ জানতে চায়। [স. বো. ’১৬]
ক. বাণিজ্য কাকে বলে? ১
খ. পরিবহন বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত পথ গড়ে উঠার ভৌগোলিক কারণগুলো ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে লিপির দেখা বন্দরটির অবদান বিশ্লেষণ কর। ৪

ক মানুষের অভাব ও চাহিদা মেটানোর উদ্দেশে পণ্যদ্রব্য ক্রয় বিক্রয় এবং এর আনুষঙ্গিক কার্যাবলি হচ্ছে বাণিজ্য।
খ যাত্রী, পণ্য সামগ্রী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আনা-নেওয়ার মাধ্যমকে পরিবহন বলে। পরিবহনের মাধ্যমে পণ্য সামগ্রী স্থানান্তরিত করা হয়ে থাকে। পরিবহন বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন : সড়ক-পরিবহন, নৌ-পরিবহন, রেলপরিবহন ও বিমান পরিবহন।
গ উদ্দীপকে লিপির মুখে স্পষ্টত সমুদ্রপথের কথা উল্লিখিত হয়েছে।
সমুদ্রপথ গড়ে ওঠার জন্য দেশের পার্শ্বে অবশ্যই সমুদ্রের অবস্থান দরকার। শুধু সমুদ্র থাকলেই হবে না, তার ভৌগোলিক কিছু বৈশিষ্ট্যও দরকার যা থাকলে সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলা যাবে। সমুদ্রপথ গড়ে ওঠার ভৌগোলিক কারণ : সমুদ্রপথ গড়ে ওঠার ভৌগোলিক কারণগুলো হচ্ছে
১. পোতাশ্রয় : পোতাশ্রয় থাকলে ঝড়-ঝাপটা, সমুদ্রের ঢেউ প্রভৃতির কবল থেকে জাহাজ রক্ষা পায়।
২. উপক‚লের গভীরতা : বন্দরের উপক‚লস্থ সমুদ্র বেশ গভীর হওয়া বাঞ্ছনীয়। এতে সব ধরনের আধুনিক জাহাজ বন্দরে যাতায়াত করতে পারে।
৩. সুবিস্তৃত সমভ‚মি : বন্দরের জাহাজ মেরামত ও জেটি নির্মাণের জন্য সুবিস্তৃত সমভ‚মি থাকা প্রয়োজন।
৪. জলবায়ু : বরফ, কুয়াশা প্রভৃতি সমুদ্র যোগাযোগের বাধাস্বরূপ। তাই বন্দর নিকটবর্তী উপক‚ল এসব প্রতিবন্ধকতা থেকে নির্বিঘœ হতে হবে। যেমন যা বাংলাদেশের উপক‚ল ভাগ। আর এ কারণে বাংলাদেশে সমুদ্র যোগাযোগ প্রসার লাভ করেছে।
ঘ লিপির দেখা বন্দরটি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর।
উদ্দীপকে আমরা দেখি, লিপি চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর তীরে গড়ে ওঠা বন্দরের কাজকর্ম লক্ষ্য করে। এ প্রেক্ষিতে সে বাবার কাছে সমুদ্রপথ গড়ে ওঠার ভৌগোলিক কারণ জানতে চায়। যা নির্দেশ করে লিপির দেখা বন্দরটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর যা বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রধানতম অবদান রাখে। যেকোনো দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সমুদ্রপথ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। বাংলাদেশের দুটি সমুদ্রবন্দর থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে মূখ্য ভ‚মিকা পালন করে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের মোট আমদানির প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং রপ্তানির ৮০ শতাংশ বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। বস্তুত চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রাণ। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমেই বাংলাদেশ বহির্বিশ্বের সাথে সরাসরি যুক্ত। এ বন্দরের কল্যাণেই বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্যে পরনির্ভরশীলতা মুক্ত। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের বৈদেশিক বাণিজ্যে অবদান তাই বিশেষ গুরুত্বের দাবি করে।

প্রশ্ন- ২  সড়ক পথ

সুনামগঞ্জের হাওড় অঞ্চলের ইমরান ছুটিতে চট্টগ্রাম গিয়ে দেখল সেখানে সড়কপথ বেশ উন্নত। অথচ তাদের এলাকায় তেমন সড়কপথ নেই। বিষয়টি নিয়ে বাবার সাথে আলাপকালে বাবা তাকে বলল সমুদ্রের অবস্থানের কারণে চট্টগ্রামের সড়কপথ উন্নত।[খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়]
ক. পরিবহন কাকে বলে? ১
খ. বেশি ঢাল সড়কপথ তৈরির বাধাস্বরূপ কেন? ২
গ. ইমরানের অঞ্চলে সড়কপথ কম হওয়ার পিছনে কী প্রভাবক কাজ করে নির্ণয় কর। ৩
ঘ. ইমরানের ভ্রমণকৃত অঞ্চলে সড়কপথ উন্নত হওয়ার আলোচ্য অবস্থা ছাড়া অন্যান্য অনুক‚ল অবস্থা বর্ণনা কর। ৪

ক যাত্রী, পণ্য সামগ্রী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরকে পরিবহন বলে।
খ ঢালযুক্ত স্থানে সড়কপথ তৈরি করা কষ্টকর। এতে গাড়ির জ্বালানি খরচ বেশি হয়। তাই বেশি ঢাল সড়কপথ তৈরির বাধাস্বরূপ।
গ ইমরানের অঞ্চল হলো সুনামগঞ্জের হাওড় অঞ্চল। যেহেতু হাওড় অঞ্চল সেহেতু স্থানটি নিম্নভ‚মি ছাড়াও ঢালযুক্ত স্থান। ঢালযুক্ত স্থানে সড়কপথ নির্মাণ করা কষ্টসাধ্য এবং ব্যয়বহুল। এতে গাড়ির জ্বালানি খরচ বেশি হয়। এছাড়াও নিম্নভ‚মি ও নদীপূর্ণ অঞ্চল হওয়ায় বর্ষাকালে পথ ধ্বংসসহ কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণে খরচ বেশি হয়। তাই ইমরানের অঞ্চলে তথা সুনামগঞ্জের হাওড় অঞ্চলে সড়কপথ কম।
ঘ ইমরানের ভ্রমণকৃত অঞ্চলটি হলো চট্টগ্রাম অঞ্চল। চট্টগ্রামে সড়কপথ উন্নত হওয়ার কারণ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর। বন্দরকে কেন্দ্র করে অনেক সড়কপথ গড়ে উঠেছে। সড়কপথ গড়ে ওঠার উক্ত প্রয়োজনীয় অবস্থা ছাড়াও আরও কিছু অনুক‚ল অবস্থা সেখানে রয়েছে যেমন : সমতল ভ‚মি সড়কপথ গড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। এ জন্য ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী অঞ্চলে অনেক সড়কপথ গড়ে উঠেছে। চট্টগ্রামেও পাহাড়কে পাশ কাটিয়ে সমতল ভ‚মিতেই সড়কপথ গড়ে উঠেছে। আবার মৃত্তিকার বুনন যদি স্থায়ী বা মজবুত হয় তবে সড়কপথ বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। ফলে সড়কপথ গড়ে উঠলে তা স্থায়ী হয়।

প্রশ্ন- ৩  আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য

বাংলাদেশের নাঈম ও নাজিম স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। নাঈম প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করেন আর নাজিম অন্য দেশে তৈরি পোশাক, পাটজাতদ্রব্য ও কাঁচামাল রপ্তানি করেন। [ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি গার্লস হাইস্কুল, ঢাকা]
ক. বাণিজ্য কী? ১
খ. বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ব্যাখ্যা দাও। ২
গ. নাঈম অন্য দেশ থেকে যেসব পণ্য আমদানি করেন তার একটি তা উল্লেখ করে ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. নাজিমের বাণিজ্য দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছেনÑ মূল্যায়ন কর। ৪

ক মানুষের অভাব ও চাহিদা মেটানোর উদ্দেশে পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় এবং এর আনুষঙ্গিক কার্যাবলিই হচ্ছে বাণিজ্য।
খ একই দেশের মধ্যে পণ্যদ্রব্য আদান-প্রদানই হলো অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য। আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে সাধারণত গ্রাম বা হাট থেকে কাঁচামাল, খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয় এবং উৎপাদিত শিল্পদ্রব্য জেলা সদর, গঞ্জ, হাটে বণ্টন করা হয়। এ বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশের চাহিদা ও ভোগের সমন্বয় হয়ে থাকে।
গ অন্য দেশ থেকে কোনো দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করাই হলো আমদানি। নাঈম বাংলাদেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। সুতরাং তিনি অন্য দেশ থেকে যেসব পণ্য আমদানি করেন তা বাংলাদেশের আমদানি পণ্য নির্দেশ করে। বাংলাদেশ সাধারণত শিল্পজাত পণ্য, মূলধনী যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য পণ্য আমদানি করে থাকে। পূর্বে আমাদের দেশে খাদ্যদ্রব্যের তেমন ঘাটতি ছিল না। কিন্তু আজকাল খাদ্যদ্রব্য ঘাটতির কারণে চাল, গম, ভোজ্যতেল, চিনি ইত্যাদি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। বাংলাদেশে তেমন শিশুখাদ্য উৎপাদন হয় না। এ কারণে বিদেশ থেকে প্রচুর শিশু খাদ্য আমদানি করতে হয়। এ দেশে তেমন শিল্পজাত দ্রব্য না থাকায় বিদেশ থেকে কৃষি যন্ত্রপাতি, কীটনাশক, উন্নত বীজ, সার, কাচ ইত্যাদি আমদানি করতে হয়। এছাড়া বাংলাদেশে কোনো গাড়ির কারখানা এবং এ সংক্রান্ত কোনো শিল্প না থাকায় বিদেশ থেকে মোটরগাড়ি, রাবারজাত দ্রব্য আমদানি করতে হয়। উপরন্তু বাংলাদেশে প্রচুর পোশাকশিল্প এবং বস্ত্রশিল্প থাকায় এসব শিল্পের কাঁচামাল অর্থাৎ সুতাও বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। জনাব নাঈম এরকম কোনো পণ্য আমদানিতেই জড়িত।
ঘ নাজিম বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানি করেন। অর্থাৎ তিনি রপ্তানি বাণিজ্যের সাথে জড়িত যা দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখে। এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্যসামগ্রী বিক্রি করাকে রপ্তানি বাণিজ্য বলে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে রপ্তানি বাণিজ্যের কোনো বিকল্প নেই। এদেশ প্রচুর পরিমাণ পণ্য বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে প্রতিবছর অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। নাজিম তৈরি পোশাক, পাটজাত দ্রব্য এবং কাঁচামাল বিদেশে রপ্তানি করে থাকে। বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে তৈরি পোশাক বিদেশে রপ্তানি করে থাকে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনেকটা অবদান এ খাত থেকে আসে। এ খাতে দেশের প্রচুর শ্রমিক কর্মরত থাকায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তা বিশেষ ভ‚মিকা রাখছে। অপরদিকে বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য, পাটজাত দ্রব্য, চামড়া ইত্যাদি রপ্তানির মাধ্যমেও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। যা দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে।

 মাস্টার ট্রেইনার প্রণীত সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন- ৪  বাংলাদেশের সড়ক পথের সুবিধা ও অসুবিধা

পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ব্যবসায় করে পদ্মা পাড়ের কাশিয়ানীর আরিফ এখনো প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি। তিনি তার ব্যবসায়িক পণ্য সড়কপথে পরিবহন করেন। অন্যদিকে তার কলেজ জীবনের বন্ধু হান্নান বগুড়ায় তার পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত ব্যবসায় গত ৭ বছরে ব্যাপক সাফল্য লাভ করেছেন। এসবই সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু নির্মাণের পর। বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেললাইন সংযোগ হওয়ায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। কাশিয়ানীবাসী যোগাযোগের জন্য সড়কপথ বা নদীপথ ব্যবহার করেন।
ক. সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে কী কী শ্রেণির সড়কপথ রয়েছে? ১
খ. যাতায়াত পথ বলতে কী বোঝায়? ২
গ. বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পর মি. হান্নান ব্যবসায় সফল হলেন কেন? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. আরিফ, মি. হান্নানের মতো সড়কপথ ব্যবহারের পরও সফল নন, কারণ বিশ্লেষণ কর। ৪

ক সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অধীনে জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ইট বা কাঁচা সড়ক, এই তিন শ্রেণির সড়কপথ রয়েছে।
খ ভৌগোলিক কারণে একটি দেশে যে ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে তাকে যাতায়াত পথ বলে। সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্য যোগাযোগ পথ একটি স্থানের যাত্রী ও পণ্যসামগ্রী স্থানান্তর সহজ করে তোলে। যেমন : বাংলাদেশে সড়কপথ, রেলপথ, নদীপথ, আকাশপথ এ চার ধরনের যোগাযোগ পথ গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সড়কপথ আবার জাতীয়, আঞ্চলিক ও কাঁচা এ তিনভাগে বিভক্ত। মিটারগেজ, ব্রডগেজ ও ডুয়েলগেজ রেলপথ আমাদের দেশে আছে।
গ বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পর সহজ, দ্রæত ও সুলভ পরিবহনের কারণে মি. হান্নান ব্যবসায়ে সফল হন। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। এ সেতু নির্মাণের ফলে নৌ ও সড়ক পথের পাশাপাশি রেলপথ সংযোগ হওয়াতে উত্তরবঙ্গের সাথে অন্যান্য এলাকার যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ফলে কৃষি, শিল্প, ব্যবসায়, বাণিজ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। ব্যবসায়ীগণ সহজেই উৎপাদনকারী স্থান থেকে স্বল্প খরচে এবং স্বল্প সময়ে পণ্য ক্রয় করে আনতে পারে। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটে, ফলে ব্যবসায়ের স¤প্রসারণ ঘটে এবং মুনাফা বৃদ্ধি পায়। মি. হান্নান বগুড়ার একজন ব্যবসায়ী। বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের ফলে ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের সাথে বগুড়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হয়। তাই বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পরে মি. হান্নান তার ব্যবসায় সফলতা অর্জন করেন।
ঘ আরিফ তার বন্ধু মি. হান্নানের মতো সড়ক পথ ব্যবহার করলেও তার পথটি নির্বিঘœ নয়। কেননা তাকে পদ্মা পাড়ি দিতে হয়; যেখানে ফেরি পার হতে গিয়ে তার প্রচুর সময় নষ্ট হয়। অন্যদিকে মি. হান্নান বঙ্গবন্ধু সেতু ব্যবহার করেন। যেখানে রেলপথ ও নৌপথ নেই সেখানে সড়ক পথেই পণ্য আনা নেয়া করা হয়। আরিফের অবস্থা তাই প্রতিক‚ল। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যবসায়িক যোগাযোগ রক্ষার জন্য সড়কপথ ব্যবহার করা হয়। এবং আরিফও এ অবস্থায় রয়েছে। সড়কপথে স্বল্প কিংবা ভারী মালামাল সরবরাহ করা হয়ে থাকে এবং সড়কপথে ব্যবসায়িক লেনদেনের সংখ্যা অনেক হয় কিন্তু সড়কপথে পণ্য আনা নেয়ার খরচ অনেক বেশি পড়ে। ফলে ব্যবসায়িক সুবিধা কম পাওয়া যায়। উপরন্তু তা যদি হয় সময়সাপেক্ষ তবে ব্যবসায়ে সাফল্য লাভ করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। তাই আরিফ সড়ক পথ ব্যবহার করে নদীর বাধার কারণে সফল হতে পারেননি।

প্রশ্ন- ৫  সড়কপথ গড়ে ওঠার অনুক‚ল ও প্রতিক‚ল অবস্থা

আমাদের দেশের উন্নতির জন্য সড়কপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে যে ভৌগোলিক অবস্থা প্রভাব ফেলে তা হলো :

ক. বর্তমানে দেশে জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্য কত কিলোমিটার? ১
খ. আমাদের দেশে সড়কপথ উন্নয়নের বাধা কোথায়? ২
গ. সড়কপথ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে অ এর ভ‚মিকা ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. দেশের পার্বত্য এলাকা এবং দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে সড়কপথের উপর ই এর প্রভাব বিশ্লেষণ কর। ৪

ক বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০১৩ অনুযায়ী দেশে জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ৩,৫৭০ কিলোমিটার।
খ আমাদের দেশের সড়কপথগুলো বৃষ্টি, বর্ষা প্রভৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়, ফলে কাঁচা সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে সারাবছরই সড়ক মেরামত করতে হয়। এছাড়া নদীবিধৌত হওয়ায় কালভার্ট নির্মাণ ও মেরামত করতে হয়, যা সড়কপথের বাধা হিসেবে কাজ করে।
গ অ হলো আমাদের দেশে সড়কপথ গড়ে ওঠার অনুক‚ল অবস্থা। সমতলভ‚মি, মৃত্তিকার গঠন এবং সমুদ্র ও শিল্পক্ষেত্রের অবস্থান এসব অনুক‚ল অবস্থা এক্ষেত্রে সড়কপথ গড়ে উঠতে সহায়ক ভ‚মিকা রাখছে।
সমতলভ‚মি : সমতলভ‚মি সড়কপথ গড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। এজন্য ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে অনেক সড়কপথ গড়ে উঠেছে।
মৃত্তিকার গঠন : মৃত্তিকার বুনন যদি স্থায়ী বা মজবুত হয় তবে বৃষ্টিতে কম ক্ষয় হয়। শক্ত মৃত্তিকার ওপর সড়কপথ গড়ে উঠলে তা স্থায়ী হয়।
সমুদ্রের অবস্থান ও শিল্পক্ষেত্রের অবস্থান : সমুদ্র উপক‚লে বন্দর গড়ে ওঠে। বন্দর ও শিল্পক্ষেত্রকে কেন্দ্র করেও অনেক সড়কপথ গড়ে ওঠে। এ জন্য মংলা এবং চট্টগ্রাম ও অন্যান্য শিল্প অঞ্চলে সড়কপথ গড়ে উঠেছে।
ঘ ই সড়কপথ গড়ে ওঠার প্রতিক‚ল অবস্থা নির্দেশ করছে। দেশের পার্বত্য এলাকা এবং দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে সড়কপথের ঘনত্ব কম থাকার জন্য এই প্রতিক‚ল অবস্থাই দায়ী। দেশের পার্বত্য এলাকায় সড়কপথ আছে, কিন্তু কম। উঁচুনিচু ও বন্ধুর প্রকৃতির ভ‚মিরূপের জন্য পার্বত্য এলাকায় সড়কপথ নির্মাণ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সড়কপথের ঘনত্ব কম। ঢালযুক্ত স্থানে সড়কপথ তৈরি করা কষ্টকর ও ব্যয়বহুল। এতে গাড়ির জ্বালানি খরচও বেশি হয়। অর্থাৎ ঢাল সড়কপথ তৈরির ক্ষেত্রে বাধাস্বরূপ। বাংলাদেশের সিলেটের হাওর অঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে সড়কপথ কম। নিম্নভ‚মি ও নদীপূর্ণ অঞ্চলে বেশি কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণে খরচ বেশি হয়। এ জন্য এসব অঞ্চলে সড়কপথ তেমন গড়ে ওঠেনি।

প্রশ্ন- ৬  বাংলাদেশের রেলপথের অবস্থান ও নৌপথের গুরুত্ব

আরিফ বাংলাদেশের যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন পড়ছিল। এদেশে ২০১২ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অধীনে সড়কপথ ছিল ২১,৪৬২ কিলোমিটার, রেলপথ ছিল ২,৮৭৭ কিলোমিটার। নাব্য জলপথ ছিল ৮,৪০০ কিলোমিটার।
ক. জলপথকে কী কী ভাগে ভাগ করা যায়? ১
খ. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগে ভ‚মিকা রাখে এমন একটি সড়কপথ ও রেলপথ উল্লেখ কর। ২
গ. মানচিত্র অঙ্কন করে দেশের ২,৮৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ নির্দেশ কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকের যাতায়াত পথের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে বলে তুমি মনে কর। যুক্তিসহ ব্যাখ্যা কর। ৪

ক জলপথকে নদীপথ ও সমুদ্রপথ প্রধানত এই দুটি ভাগে ভাগ করা যায়।
খ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে পূর্বাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে উল্লেখযোগ্য ভ‚মিকা পালনকারী পথ হলো যমুনা নদীর উপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু। এই পথটি হলো : ঢাকা (পূর্বাঞ্চল)  বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে পূর্বাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপনে উল্লেখযোগ্য ভ‚মিকা পালনকারী পথ হলো তিস্তামুখঘাট ও বাহাদুরাবাদঘাট এবং সিরাজগঞ্জ ও জগন্নাথগঞ্জের মধ্যে ২টি রেলওয়ে ফেরি সার্ভিস। এই পথটি হলো : ঢাকা (পূর্বাঞ্চল)  রেলওয়ে ফেরি হয়ে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল।
গ উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়েছে, বাংলাদেশে ২,৮৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ রয়েছে। নিচে মানচিত্র এঁকে দেশের প্রধান রেলপথ নির্দেশ করা হলো :

চিত্র : বাংলাদেশের রেলপথ
ঘ উদ্দীপকে বাংলাদেশের সড়কপথ, রেলপথ ও নদীপথের কথা বলা হয়েছে। এসব পথের মধ্যে নৌপথের ভ‚মিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। নৌপথ বাংলাদেশের সুলভ পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থা। বাংলাদেশের ভৌগোলিক গঠন নৌপথের অনুক‚লে। এ সম্পর্কে যুক্তিপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপিত হলো :
১. লাভজনক : অন্যান্য পরিবহন, যেমন : রেল ও সড়কপথের নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণে অনেক খরচ হয়। সেদিক থেকে নৌপথের নির্মাণ খরচ একেবারে নেই, রক্ষণাবেক্ষণে সামান্য খরচ হয়।
২. স্বল্পব্যয়ে পরিবহন : জলপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন খরচ অনেক কম হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ পণ্য জলপথে বাহিত হয়।
৩. শিল্পোন্নয়ন : বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্প গড়ে ওঠার পেছনে নাব্য জলপথের অবদান লক্ষণীয়। শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উৎপাদিত পণ্যের সুষ্ঠু বাজার প্রাপ্তির জন্য নৌপরিবহন গুরুত্বপূর্ণ।
৪. ব্যবসার উন্নতি : ব্যবসার উন্নতির জন্য সুলভে মালামাল পরিবহন বা আনা-নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পণ্য আনা-নেওয়ার সুবিধার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে বন্দরসমূহ গড়ে উঠেছে, যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্রও বটে।
৫. মৎস্য সম্পদ সংগ্রহ : বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদ সংগ্রহে নৌপথ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে থাকে।
সুতরাং দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পোন্নয়নে নদীপথ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে।

প্রশ্ন- ৭  সড়ক ও রেলপথের গুরুত্ব এবং রেলপথ গড়ে ওঠার উপাদান
অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো আধুনিক যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা। সরকার বর্তমানে বাজার অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ঘটাচ্ছে। আবার ভৌগোলিক কিছু উপাদান এদেশে রেলপথ গড়ে ওঠাকে প্রভাবিত করেছে।
ক. বাংলাদেশে কত ধরনের রেলপথ আছে? ১
খ. বাংলাদেশের সড়কপথগুলো কীভাবে গড়ে উঠেছে? ২
গ. উদ্দীপকের যোগাযোগ ব্যবস্থার তুলনামূলক গুরুত্ব তুলে ধর। ৩
ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ভৌগোলিক উপাদানসমূহ আলোচনা কর। ৪

ক বাংলাদেশে তিন ধরনের রেলপথ আছে।
খ বাংলাদেশের সড়কপথগুলো বসতি বিন্যাসের ওপর নির্ভর করে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। অধিকাংশ সড়ক স্থানীয় যোগাযোগ রক্ষার জন্য রেলপথ ও নদীপথের পরিপূরক হিসেবে নির্মিত হয়েছে। এদেশে সাধারণত কাঁচা সড়কগুলোকেই উন্নত করে পাকা সড়ক করা হয়।
গ উদ্দীপকে সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগের কথা বলা হয়েছে। এ উভয় যোগাযোগ ব্যবস্থার তুলনামূলক গুরুত্ব নিচে তুলে ধরা হলো :
১. সড়কপথ বাজার ব্যবস্থার উন্নতি, সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি উন্নয়ন ও বণ্টন, শিল্পোন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি, কর্মসংস্থান প্রভৃতি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে। রেলপথ ভারি পণ্যের স্থানান্তরে মুখ্য ভ‚মিকা পালন করে।
২. ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে দেশের উৎপাদিত পণ্যের বিস্তৃত বাজার সৃষ্টিতে সড়কপথই সর্বোৎকৃষ্ট যোগাযোগ মাধ্যম। রেলপথ সস্তায় ও কম সময়ে পণ্য স্থানান্তর করে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে গতিশীলতা বজায় রাখে।
৩. শিল্পকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী বাজারে বা বন্দরে প্রেরণ করা যায় সড়কপথের মাধ্যমে। ভারী শিল্পজাত পণ্যের ক্ষেত্রে রেলপথের বিকল্প নেই।
৪. আমদানিকৃত পণ্যসামগ্রী বন্দর থেকে দেশের অভ্যন্তরে ভোক্তাদের নিকট পৌঁছতে সড়কপথই সেরা মাধ্যম। অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক যোগাযোগ দ্রæত পণ্য পৌঁছতে আধুনিক দ্রæতগামী রেলপথই ভরসাস্থল।
সুতরাং বাংলাদেশে উভয় ধরনের পথই গুরুত্ববহ।
ঘ উদ্দীপকে রেলপথের গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে ভৌগোলিক উপাদানের কথা বলা হয়েছে। ভৌগোলিক যেসব অনুক‚ল ও প্রতিক‚ল নিয়ামক রেলপথ গড়ে ওঠাকে প্রভাবিত করে তা আলোচনা করা হলো :
অনুক‚ল উপাদান : রেলপথ গড়ে ওঠার অনুক‚ল উপাদান হলো :
সমতলভ‚মি : সমতলভ‚মি রেলপথ নির্মাণের জন্য সুবিধাজনক। এতে খরচ কম হয় ও সহজে নির্মাণ করা যায়। বাংলাদেশের বেশিরভাগ অঞ্চল সমতল। এ জন্য পাহাড়ি, বনাঞ্চল, জলাভ‚মি ছাড়া প্রায় সব স্থানেই রেলপথ গড়ে উঠেছে।
সমুদ্রের অবস্থান : সমুদ্র উপক‚ল অঞ্চলে বন্দর গড়ে ওঠে। এই বন্দরের কাছে রেলপথ গড়ে ওঠে। এ জন্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল বাদ দিয়ে বন্দরকে কেন্দ্র করে সমতল ভ‚মিতে রেলপথ গড়ে উঠেছে।
প্রতিক‚ল উপাদান : রেলপথ গড়ে ওঠার প্রতিক‚ল অবস্থা বা উপাদান হলো:
বন্ধুর ভ‚প্রকৃতি : উঁচুনিচু ও বন্ধুর প্রকৃতির ভ‚মিরূপের জন্য পার্বত্য এলাকায় রেলপথ নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। তাই বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে রেলপথ গড়ে ওঠেনি।
নিম্নভ‚মি ও মৃত্তিকা : মৃত্তিকার বুনন যথেষ্ট মজবুত না হলে রেলপথ গড়ে ওঠে না। নদীবহুল অঞ্চলেও রেলপথ গড়ে ওঠা কঠিন। তাই বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে রেলপথ কম।

প্রশ্ন- ৮  বাংলাদেশের সড়ক ও রেলপথের বর্তমান অবস্থা

যোগাযোগ ব্যবস্থা বৈশিষ্ট্য
‛অ’ প্রায় সব পরিবেশে গড়ে তোলা সম্ভব।
‛ই’ পাহাড়ি অঞ্চলে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
ক. বাংলাদেশের আঞ্চলিক সড়কপথের দৈর্ঘ্য কত? ১
খ. বাংলাদেশে মিটারগেজ রেলপথ সম্পর্কে লিখ। ২
গ. বাংলাদেশে ‛ই’ যোগাযোগ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ‛অ’ ও ‛ই’ যোগাযোগ ব্যবস্থার তুলনামূলক আলোচনা কর। ৪

ক বাংলাদেশের আঞ্চলিক সড়কপথের দৈর্ঘ্য ৪,৩২৩ কিলোমিটার।
খ এক মিটার প্রস্থ রেলপথকে মিটারগেজ বলে। মিটারগেজ রেলপথ যমুনা নদীর পূর্বাংশ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে আছে যার মোট দৈর্ঘ্য ১৮৪৩ কিলোমিটার।
গ উদ্দীপকে ‛ই’ যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে রেলপথকে বোঝানো হয়েছে। বাংলাদেশের রেলপথের পরিমাণ অল্প হলেও ভারী দ্রব্য পরিবহন, শ্রমিক পরিবহন প্রভৃতি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। এটি দেশের প্রধান বন্দর, শহর, বাণিজ্য ও শিল্প কেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগ সাধন করছে। বাংলাদেশে ২,৮৭৭ কিলোমিটার রেলপথ আছে। যমুনা নদীর পূর্বে শুধু মিটারগেজ রেলপথ এবং পশ্চিমাংশে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ রেলপথ আছে। পূর্বাঞ্চলে ১৮৪৩ কিলোমিটার মিটারগেজ, পশ্চিমাঞ্চলে ৬৫৯ কিলোমিটার ব্রডগেজ ও ৩৭৫ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেলপথ আছে। দেশে সর্বমোট ৪৪৩টি রেলস্টেশন রয়েছে। ঢাকার কমলাপুর দেশের বৃহত্তম রেলস্টেশন। ঢাকা থেকে প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ শহরে রেলযোগে যাতায়াত করা যায়।
ঘ ‛অ’ যোগাযোগ ব্যবস্থা মূলত সড়কপথ এবং ‛ই’ যোগাযোগ ব্যবস্থায় রেলপথকে বোঝানো হয়েছে। সড়ক ব্যবস্থা ও রেলব্যবস্থার মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা স্থলপথের বৈশিষ্ট্যের নিরিখে তাৎপর্যবহ। প্রায় সব অবস্থায় সড়কপথ নির্মাণ করা যায়। অন্যদিকে সমতলভ‚মি রেলপথ নির্মাণের জন্য সুবিধাজনক। পার্বত্য এলাকায় সড়কপথ নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। তাই এ অঞ্চলে সড়কপথ আছে খুব সামান্য। অন্যদিকে পার্বত্য এলাকায় রেলপথ নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য। তাই এ অঞ্চলে রেলপথ নেই বললেই চলে। কৃষিপণ্য বণ্টন ও দ্রæত যোগাযোগের জন্য সড়কপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ভারী দ্রব্য পরিবহনে রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। বাংলাদেশের মোট সড়কপথের দৈর্ঘ্য ২১,৪৬২ কিলোমিটার, আর মোট রেলপথের দৈর্ঘ্য ২,৮৭৭ কিলোমিটার। সড়কপথ নির্মাণে মৃত্তিকার গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। তবে রেলপথ নির্মাণে মৃত্তিকার গঠনের তেমন কোনো ভ‚মিকা নেই। সড়কপথ রেলপথের পরিপূরক হিসেবে গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে দেশের প্রধান বন্দর, শহর, বাণিজ্য ও শিল্প কেন্দ্রের সংযোগ সাধনের জন্য রেলপথ গড়ে উঠেছে।

প্রশ্ন- ৯  বাংলাদেশের নৌপথ

আলামিন তার কয়েকজন বন্ধুসহ চাঁদপুর বন্দরে গেল। তার এক বন্ধু বলল এরকম আরও অনেক বন্দর আছে যা অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয় এবং বাংলাদেশে এর অনুক‚ল অবস্থা বিরাজমান।
ক. বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের দৈর্ঘ্য কত? ১
খ. অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেলওয়ের ভ‚মিকা ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বন্দর গড়ে ওঠার পেছনে কী নিয়ামক কাজ করে ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকের যাতায়াত পথের বর্তমান অবস্থা তুলে ধর। ৪

ক বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের দৈর্ঘ্য ৮,৪০০ কিলোমিটার।
খ রেলওয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, কাঁচামাল ও জনসাধারণের নিয়মিত চলাচল, উৎপাদন পণ্যের বাজারজাতকরণ, শ্রমিক স্থানান্তর, কর্মসংস্থান তথা বাংলাদেশের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে রেল গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে।
গ আলামিন তার বন্ধুসহ চাঁদপুরে যে বন্দরে গেল তা ছিল নদীবন্দর। নিচে নদীবন্দর গড়ে ওঠার নিয়ামক ব্যাখ্যা করা হলো :
১. নিম্নভ‚মি : নিম্নভ‚মি সহজেই বন্যাকবলিত হয়, ফলে সড়ক ও রেলপথ গড়ে উঠতে পারে না। এ জন্য সিলেট অঞ্চলের হাওর ও দক্ষিণাঞ্চলের চাঁদপুর, ফরিদপুর, মাদারিপুর, বরিশাল অঞ্চলে নদীপথ প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সেখানে নদীবন্দর গড়ে উঠেছে।
২. নদীবহুল অঞ্চল : স্বাভাবিকভাবেই নদীবহুল অঞ্চলে বেশি ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণে খরচ বেশি হয়। এ জন্য সড়ক ও রেল যোগাযোগ গড়ে ওঠে না। এ অঞ্চলে নদীপথ উন্নতি লাভ করে। যেমন বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল নদীপথ বেশ উন্নত। তাই সেখানে উন্নত নদীবন্দরও রয়েছে।
ঘ উদ্দীপকে নৌপথের কথা তুলে ধরা হয়েছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের সর্বত্র নদীপথ জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক গঠন নদীপথের অনুক‚লে।
নদীপথ বাংলাদেশের সুলভ পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থা। অসংখ্য নদী ও খালবিলের সমন্বয়ে গঠিত এদেশে প্রায় ৮,৪০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নাব্য জলপথ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫,৪০০ কিলোমিটার সারাবছর নৌচলাচলের উপযুক্ত থাকে। অবশিষ্ট ৩,০০০ কিলোমিটার শুধু বর্ষাকালে ব্যবহার করা যায়। জলপথকে দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা : ১. নদীপথ ও ২. সমুদ্রপথ। নদীবন্দরের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোয়ালন্দ, বরিশাল, খুলনা, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, চাঁদপুর, ঝালকাঠি, আজমিরিগঞ্জ, মোহনগঞ্জ, মাদারীপুর উল্লেখযোগ্য। সমুদ্র বন্দর দুইটি হচ্ছে চট্টগ্রাম ও মংলা বাণিজ্য, পণ্য ও যাত্রী পরিবহন করে বাংলাদেশে নৌপথ অর্থনীতিতে যথেষ্ট ভ‚মিকা রাখছে।

প্রশ্ন- ১০  চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর

রেজাউল সাহেব চট্টগ্রাম শহরের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। পণ্য আমদানি ও রপ্তানির জন্য তিনি চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করেন। এ বন্দর দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে।
ক. সমুদ্রপথ গড়ে ওঠার প্রধান শর্ত কী? ১
খ. বাংলাদেশে নদীপথ বিস্তার লাভ করেছে কেন? ২
গ. রেজাউল সাহেব যে বন্দর ব্যবহার করেন তা গড়ে ওঠার পেছনে কী কী ভৌগোলিক নিয়ামক কাজ করে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. রেজাউল সাহেব যে যোগাযোগ পথ ব্যবহার করেন বাংলাদেশ এর অবস্থান বিশ্লেষণ কর। ৪

ক সমুদ্রপথ গড়ে ওঠার প্রধান শর্ত হলো দেশের পাশে সমুদ্রের অবস্থান থাকা।
খ নদীমাতৃক বাংলাদেশের সর্বত্র নদীপথ জালের মতো ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক গঠন নদীপথের অনুক‚লে। এ অঞ্চলের দীর্ঘ নাব্য জলপথ সারাবছর নৌচলাচলের জন্য বেশি উপযোগী। এছাড়া নদীপথ সুলভ পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থা। তাই বাংলাদেশে নদীপথ বিস্তার লাভ করেছে।
গ রেজাউল সাহেব চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করেন। চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর। এ সমুদ্র বন্দর গড়ে ওঠার জন্য নিম্নোক্ত ভৌগোলিক কারণগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেছে :
১. পোতাশ্রয় : পোতাশ্রয় থাকলে ঝড় ঝাপটা, সমুদ্রের ঢেউ প্রভৃতির কবল থেকে জাহাজ রক্ষা পায়। চট্টগ্রামে প্রাকৃতিকভাবেই তা বিদ্যমান।
২. উপক‚লের গভীরতা : বন্দরের উপক‚লস্থ সমুদ্র বেশ গভীর হওয়া বাঞ্ছনীয়। এতে সব ধরনের আধুনিক জাহাজ বন্দরে যাতায়াত করতে পারে। চট্টগ্রামে এ সুবিধা রয়েছে।
৩. সুবিস্তৃত সমভ‚মি : বন্দরের জাহাজ মেরামত ও জেটি নির্মাণের জন্য সুবিস্তৃত সমভ‚মি থাকা প্রয়োজন। চট্টগ্রামে এ সুবিধা রয়েছে।
৪. জলবায়ু : বরফ, কুয়াশা প্রভৃতি সমুদ্র যোগাযোগের বাধারূপে কাজ করে যা বাংলাদেশের উপক‚লে অনুপস্থিত। আর এ কারণ এখানে সমুদ্র যোগাযোগ প্রসার লাভ করেছে।
সুতরাং প্রাকৃতিকভাবে ভৌগোলিক নিয়ামকের অনুক‚লে চট্টগ্রামে সমুদ্র বন্দর গড়ে উঠেছে।
ঘ রেজাউল সাহেব তার ব্যবসায়িক প্রয়োজনে পণ্য আমদানি ও রপ্তানির জন্য চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সমুদ্রপথ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। বাংলাদেশের সমুদ্র পরিবহনের দুটি বন্দর রয়েছে চট্টগ্রাম ও মংলা। দেশের মোট আমদানি বাণিজ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং রপ্তানি বাণিজ্যের ৮০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। মংলা বন্দর দিয়ে মোট রপ্তানির প্রায় ১৩ শতাংশ ও আমদানি বাণিজ্যের প্রায় ৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়। এভাবে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থার চেয়ে সমুদ্র পথের অবদান বেশি।

প্রশ্ন- ১১  আকাশপথ

এবার ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় শিউলি খুব উচ্ছ¡সিত ছিল কারণ সে কখনও এ ধরনের ভ্রমণ করেনি। সে জানতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশের অভ্যন্তর ও আন্তর্জাতিক গন্তব্য সার্ভিস পরিচালনা করে।
ক. বাংলাদেশে কয়টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে? ১
খ. সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার জন্য উপক‚লের গভীরতা প্রয়োজন কেন? ২
গ. আলোচ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠার উপযুক্ত ভৌগোলিক উপাদানসমূহের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ কর। ৪

ক বাংলাদেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে।
খ সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার জন্য বন্দরের উপক‚লস্থ সমুদ্র বেশ গভীর হওয়া বাঞ্ছনীয়। এতে সব ধরনের আধুনিক জাহাজ বন্দরে যাতায়াত করতে পারে।
গ আলোচ্য যোগাযোগের ব্যবস্থাটি হচ্ছে আকাশপথ। কেননা উদ্দীপকে শিউলি ছিল ভ্রমণে উচ্ছসিত এবং সে জানতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তর ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সার্ভিস পরিচালনা করে। যা আকাশপথ নির্দেশ করে। সকল পরিবেশ বা অবস্থা বিমানপথের জন্য উপযুক্ত নয়। বিমান পথ গড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত ভৌগোলিক উপাদান যা গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। বিমানপথ গড়ে ওঠার জন্য যেসব ভৌগোলিক উপাদান ভ‚মিকা রাখে তা নিচে উল্লেখ করা হলো :
১. সমতলভ‚মি : বিমান অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য পর্যাপ্ত সমতলভ‚মি প্রয়োজন হয় যেখানে বিমানবন্দর গড়ে ওঠে।
২. কুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্ঝা মুক্ত : বিমান যোগাযোগের জন্য কুয়াশামুক্ত ও ঝড়ঝঞ্ঝামুক্ত বিমান বন্দর প্রয়োজন হয়।
সুতরাং আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্যও অনুক‚ল নিয়ামক আবশ্যক।
ঘ দ্রæত ডাক চলাচল এবং পচনশীল দ্রব্য প্রেরণে উক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা আকাশপথের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। যুদ্ধবিগ্রহ, দুর্ভিক্ষ জাতীয় দুর্যোগের সময় আকাশপথ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। বর্তমানে আকাশপথকে বাদ দিয়ে সমগ্র বিশ্বের সাথে যোগাযোগ কল্পনাও করা যায় না। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনে বিমানপথের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশেও এ প্রেক্ষাপটে আকাশপথের গুরুত্ব দিন দিন বেড়ে চলেছে। আমাদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এছাড়া আরও দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত ও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বর্তমানে এদেশে বিমানে পণ্য পরিবহন বাড়ছে। বিমানের অভ্যন্তরীণ সার্ভিসে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, রাজশাহী, বরিশাল, সৈয়দপুর প্রভৃতি স্থানে যাতায়াত করা যায়। অভ্যন্তরীণ রুটে বেসরকারি বিমান সার্ভিসও চালু রয়েছে।

প্রশ্ন- ১২  বাংলাদেশের আকাশপথের গুরুত্ব

বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান সার্ভিস রয়েছে। বাংলাদেশে সরকারি বিমান সংস্থার পাশাপাশি এখন বেসরকারি বিমান সংস্থাও অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াত পরিচালনা করছে।
ক. বিমানের অভ্যন্তরীণ সার্ভিসে কোন কোন স্থানে যাতায়াত করা যায়? ১
খ. যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে কী বোঝ? ২
গ. মানচিত্রে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে নির্দেশিত পথ দেখাও। ৩
ঘ. উক্ত পথের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব মূল্যায়ন কর। ৪

ক বিমানের অভ্যন্তরীণ সার্ভিসে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, রাজশাহী, সৈয়দপুর, বরিশাল প্রভৃতি স্থানে যাতায়াত করা যায়।
খ যোগাযোগ ব্যবস্থা যাত্রী পণ্য পরিবহন করে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যমে অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখে। দেশের একস্থান থেকে অন্যস্থানে কাঁচামাল ও লোকজনের নিয়মিত চলাচল, উৎপাদিত দ্রব্যের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ, উৎপাদনের উপকরণসমূহের গতিশীলতা বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা প্রভৃতি ক্ষেত্রে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে থাকে।
গ উদ্দীপকে বাংলাদেশের বিমানপথ নির্দেশিত হয়েছে। নিচে মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিমানপথ দেখানো হলো :

ঘ বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে উক্ত পথ তথা আকাশপথের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব মূল্যায়ন করা হলো :
১. যাত্রী ও পণ্য পরিবহন : আকাশপথের মাধ্যমে খুব দ্রæত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা যায়। পরিবহন ও যোগাযোগ পথের মধ্যে আকাশপথ সবচেয়ে দ্রæততম পথ। এক দেশের সাথে অন্য দেশের যোগাযোগের জন্য এটি প্রধান পথ। বাংলাদেশও এ উদ্দেশ্যে পথটি ব্যবহার করে।
২. ডাক ও যোগাযোগ : ডাক ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বর্তমানে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। আকাশপথে বিভিন্ন দেশের সাথে খুব দ্রæত যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। বাংলাদেশও তা রক্ষা করে।
৩. অর্থনৈতিক উন্নয়ন : অর্থনৈতিক উন্নয়নে আকাশপথের গুরুত্ব অপরিসীম। এক দেশ থেকে অন্য দেশে, দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে দ্রæত যাতায়াত, কাঁচামাল সরবরাহ, শিল্পের যন্ত্রপাতি সহজে পৌঁছানো যায়। বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যেও এ পথ ব্যবহৃত হয়।
৪. দুর্যোগ মোকাবিলা : প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত স্থানে খুব দ্রæত সাহায্য পাঠানো যায়। দেশে যখন দুর্যোগ হয় তখন পর্যবেক্ষণ ও ত্রাণ বিতরণের জন্য আকাশপথ গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দুর্যোগ প্রবণ বাংলাদেশেও দেখা যায় আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের মাধ্যমে নানা সময় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছায়।
সুতরাং, আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আকাশপথের গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রশ্ন- ১৩  সড়কপথ ও নদীপথের গুরুত্ব

কাজল ও কাওসার দুজনেই ভিন্ন ভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক। কাজলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি গাজীপুরে এবং কাওসারেরটি চট্টগ্রামে অবস্থিত। উভয় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ সমাদৃত। তবে বিশেষ কিছু কারণে উভয় প্রতিষ্ঠানের লাভের পরিমাণ ভিন্ন।
ক. জাতীয় দুর্যোগের সময় কোন পথ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে? ১
খ. বান্দরবান ও বরিশালে রেলপথ নেই কেন? ২
গ. উদ্দীপকের কোন প্রতিষ্ঠানটি সুবিধাজনক ভৌগোলিক অবস্থানে নেই ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে কোনটি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বেশি সুবিধা পাবে বিশ্লেষণ কর। ৪

ক জাতীয় দুর্যোগের সময় আকাশপথ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে।
খ উঁচুনিচু ও বন্ধুর প্রকৃতির ভ‚মিরূপের জন্য বান্দরবানে রেলপথ নেই। আবার মৃত্তিকার বুনন যথেষ্ট মজবুত না হলে রেলপথ গড়ে ওঠে না। এছাড়া নদী বেশি থাকলে রেলপথ গড়ে ওঠাও কঠিন। তাই বরিশালে রেলপথ নেই।
গ কাজলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি তেমন ভৌগোলিক সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। কারণ কাজলের প্রতিষ্ঠানটি গাজীপুর জেলায় অবস্থিত। অথচ তার শিল্পজাত পণ্য রপ্তানি করা হয়। ভৌগোলিক দিক দিয়ে বিবেচনা করলে দেখা যায়, এ জেলার সাথে অন্য জেলার সড়কপথের ভালো সংযোগ রয়েছে। তবে বৈদেশিক বাণিজ্যে এ যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্দর থেকে দূরবর্তী অবস্থানের কারণে তেমন সুবিধাজনক হবে না। তার প্রতিষ্ঠানে যে কাঁচামাল দরকার এগুলো আমদানি করা হয় এবং আমদানিকৃত কাঁচামাল প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে এবং সেখান থেকে সড়ক পথে ও নৌপথের মাধ্যমে গাজীপুরে আসে। নদীপথের মাধ্যমে কাঁচামাল সহজে নিয়ে আসা যায় এবং খরচ অনেক কম হয়। তবে কাজলের প্রতিষ্ঠানটি যেহেতু চট্টগ্রাম থেকে অনেক দূরে অবস্থিত, সেহেতু তার প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আনার জন্য অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া দিতে হয়। আবার উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীও রপ্তানি করতে একই পন্থা অবলম্বন করতে হয়। এ কারণে কাজলের প্রতিষ্ঠানটি সুবিধাজনক অবস্থানে নেই বললেই চলে।
ঘ উদ্দীপকে উল্লিখিত কাজলের প্রতিষ্ঠানটি গাজীপুর জেলায় এবং কাওসারের প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত। উক্ত প্রতিষ্ঠান দুটির উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে কাওসারের প্রতিষ্ঠানটি বেশি সুবিধা পাবে। কারণ চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পণ্যদ্রব্য যে মূল্যে উৎপাদন করা যায়, তা গাজীপুর জেলায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠান থেকে সেই মূল্যে উৎপাদন করা যায় না। আবার রপ্তানির ক্ষেত্রে যেহেতু চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে যাওয়া হয় সেহেতু পরিবহন খরচ হিসেবে গাজীপুর জেলার প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত দ্রব্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বেশি মূল্য প্রদান করতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠানটি থেকে উৎপাদিত দ্রব্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত মূল্য দিতে হয় না। সুতরাং রপ্তানির ক্ষেত্রে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠান স্থাপন লাভজনক।

 জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ ২০১৩ সালে জাতীয় মহাসড়কের পরিমাণ কত ছিল?
উত্তর : ২০১৩ সালে জাতীয় মহাসড়কের পরিমাণ ছিল ৩,৫৭০ কিলোমিটার।
প্রশ্ন \ ২ \ ২০১১ সালে আঞ্চলিক মহাসড়কের পরিমাণ কত ছিল?
উত্তর : ২০১১ সালে আঞ্চলিক মহাসড়কের পরিমাণ ছিল ৪২৬৮ কিলোমিটার।
প্রশ্ন \ ৩ \ ২০১৩ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অধীন মোট সড়ক পথের পরিমাণ কত ছিল?
উত্তর : ২০১৩ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অধীন মোট সড়ক পথের পরিমাণ ছিল ২১,৪৬২ কিলোমিটার।
প্রশ্ন \ ৪ \ পরিবহন কী?
উত্তর : যাত্রী ও পণ্যসামগ্রী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরকে পরিবহন বলে।
প্রশ্ন \ ৫ \ বাংলাদেশের কোন দিকে সড়কপথের ঘনত্ব কম?
উত্তর : বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সড়কপথের ঘনত্ব কম।
প্রশ্ন \ ৬ \ সিলেটের কোথায় সড়কপথ কম?
উত্তর : সিলেটের হাওর অঞ্চলে সড়কপথ কম।
প্রশ্ন \ ৭ \ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সড়কপথ কী কেন্দ্রিক?
উত্তর : বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সড়কপথ ঢাকাকেন্দ্রিক।
প্রশ্ন \ ৮ \ বাংলাদেশে ডুয়েলগেজ রেলপথের দৈর্ঘ্য কত?
উত্তর : বাংলাদেশে ডুয়েলগেজ রেলপথের দৈর্ঘ্য ৩৭৫ কিলোমিটার।
প্রশ্ন \ ৯ \ বাংলাদেশে ব্রডগেজ রেলপথের দৈর্ঘ্য কত?
উত্তর : বাংলাদেশে ব্রডগেজ রেলপথের দৈর্ঘ্য ৬৫৯ কিলোমিটার।
প্রশ্ন \ ১০ \ বাংলাদেশে মিটার গেজ রেলপথের দৈর্ঘ্য কত?
উত্তর : বাংলাদেশে মিটারগেজ রেলপথের দৈর্ঘ্য ১,৮৪৩ কিলোমিটার।
প্রশ্ন \ ১১ \ বাংলাদেশে সর্বমোট কতটি রেলস্টেশন আছে?
উত্তর : বাংলাদেশে সর্বমোট ৪৪৩টি রেলস্টেশন আছে।
প্রশ্ন \ ১২ \ কী কারণে রেলের গুরুত্ব অপরিসীম।
উত্তর : যাত্রী পরিবহন, পণ্য পরিবহনে রেলের গুরুত্ব অপরিসীম?
প্রশ্ন \ ১৩ \ মিটারগেজ কাকে বলে?
উত্তর : ১ মিটার প্রস্থ রেলপথকে মিটারগেজ বলে।
প্রশ্ন \ ১৪ \ বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে রেলপথ কম?
উত্তর : বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রেলপথ কম।
প্রশ্ন \ ১৫ \ ব্রডগেজ কী?
উত্তর : ১.৬৮ মিটার প্রস্থ রেলপথ ব্রডগেজ নামে পরিচিত।
প্রশ্ন \ ১৬ \ জামতৈল থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত কত কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেলপথ আছে?
উত্তর : জামতৈল থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলে ৩৭৫ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেলপথ আছে।
প্রশ্ন \ ১৭ \ বাংলাদেশে কত কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নাব্য জলপথ আছে?
উত্তর : বাংলাদেশে ৮,৪০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নাব্য জলপথ আছে।
প্রশ্ন \ ১৮ \ দেশের কোন নদীগুলো নৌচলাচলে উপযোগী।
উত্তর : দেশের দক্ষিণ এবং পূর্বাঞ্চলের নদীগুলো নৌচলাচলে উপযোগী।
প্রশ্ন \ ১৯ \ বাংলাদেশের প্রধান বিমানবন্দর কোনটি?
উত্তর : ঢাকার ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ বাংলাদেশের প্রধান বিমানবন্দর।
প্রশ্ন \ ২০ \ সিলেট বিমানবন্দরের নাম কী?
উত্তর : সিলেট বিমানবন্দরের নাম ‘সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর।’
প্রশ্ন \ ২১ \ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের নাম কী?
উত্তর : চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের নাম ‘চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর।’
প্রশ্ন \ ২২ \ বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির সর্ববৃহৎ গন্তব্যস্থল দেশ?
উত্তর : বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির সর্ববৃহৎ গন্তব্যস্থল দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র।
প্রশ্ন \ ২৩ \ বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহৎ গন্তব্যস্থল কোন দেশ?
উত্তর : বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহৎ গন্তব্যস্থল দেশ জার্মানি।
প্রশ্ন \ ২৪ \ বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির তৃতীয় বৃহৎ গন্তব্যস্থল কোন দেশ?
উত্তর : বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির তৃতীয় বৃহৎ গন্তব্যস্থল দেশ যুক্তরাজ্য।
প্রশ্ন \ ২৫ \ বাংলাদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে কোন দেশের অবস্থান শীর্ষে?
উত্তর : বাংলাদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে চীন দেশের অবস্থান শীর্ষে।

 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ বাংলাদেশের উন্নয়নে সড়কপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর : বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে সড়কপথই সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর মাধ্যম। ফলে অঞ্চলভিত্তিক গ্রাম পর্যায়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে সড়কপথই প্রধান ভরসা। রেল বা নৌবন্দর নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় যোগাযোগে ভ‚মিকা রাখলেও দেশের তৃণমূল পর্যায়ে সড়কপথই গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে থাকে। সুতরাং দেশের সার্বিক উন্নয়নে সড়কপথ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রশ্ন \ ২ \ সড়কপথ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে মৃত্তিকার ভ‚মিকা কী?
উত্তর : দ্রæত যোগাযোগের জন্য সড়কপথ অপরিহার্য। সড়কপথ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কিছু অনুক‚ল নির্ধারক দরকার হয়। তার মধ্যে মৃত্তিকার গঠন অপরিহার্য। মৃত্তিকার বুনন যদি স্থায়ী বা মজবুত হয় তবে বন্যায় নষ্ট হয় না। ফলে সড়কপথ গড়ে উঠলে তা স্থায়ী হয়।
প্রশ্ন \ ৩ \ বাংলাদেশের কোন অঞ্চলগুলোতে রেলপথ নেই?
উত্তর : বাংলাদেশে কিছু কিছু জায়গায় রেলপথ নেই। খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, বরিশাল, পটুয়াখালী, মাদারিপুর, শরীয়তপুর, মেহেরপুর, কক্সবাজার ও ল²ীপুর এই জেলাগুলোতে রেলপথ নেই।
প্রশ্ন \ ৪ \ বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে নৌপরিবহনের গুরুত্ব লেখ।
উত্তর : কাঁচামাল সরবরাহ, শিল্প পণ্য পরিবহন, স্বল্প ব্যয়ে পরিবহন, বাণিজ্য কেন্দ্রের সাথে সংযোগ, ভারী পণ্য পরিবহন, বৈদেশিক বাণিজ্যে সহায়তা ইত্যাদি কারণে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নৌপরিবহনের গুরুত্ব বেশি।
প্রশ্ন \ ৫ \ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সমুদ্র পথের গুরুত্ব লিখ।
উত্তর : দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নদীপথ ও সমুদ্রপথ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। বাংলাদেশে দুটি সমুদ্র বন্দর রয়েছে-

চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর। দেশের মোট আমদানি বাণিজ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং রপ্তানি বাণিজ্যের ৮০ শতাংশ পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর দ্বারা হয়। মংলা বন্দর দিয়ে মোট রপ্তানির প্রায় ১৩ শতাংশ এবং আমদানির প্রায় ৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়। দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নদীপথ ও সমুদ্রপথ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থার চেয়ে এর অবদান বেশি।
প্রশ্ন \ ৬ \ যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিমানপথের গুরুত্ব লিখ।
উত্তর : দ্রুত ডাক চলাচল এবং পচনশীল দ্রব্য প্রেরণে বিমান পরিবহনের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। যুদ্ধবিগ্রহ, দুর্ভিক্ষ প্রভৃতি জাতীয় দুর্যোগের সময় আকাশপথ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। বর্তমানে আকাশপথকে বাদ দিয়ে সমগ্র বিশ্বের সাথে যোগাযোগ কল্পনাও করা যায় না। শিক্ষা, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনে বিমানপথের গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রশ্ন \ ৭ \ আমদানি বাণিজ্য বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য যখন অন্য দেশ থেকে স্বদেশে কোনো পণ্যসামগ্রী আনা হয় তখন তাকে আমদানি বাণিজ্য বলে। বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিশুখাদ্য, কলকব্জা, খাদ্যসামগ্রী, শিল্পের কাঁচামাল, শিল্পজাত দ্রব্য, ওষুধপত্র, রাসায়নিক দ্রব্য প্রভৃতি পণ্য আমদানি করে থাকে।
প্রশ্ন \ ৮ \ আমাদের দেশে রপ্তানি কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়?
উত্তর : বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ সীমিত। বৈদেশিক বাণিজ্যে রপ্তানি বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি, পণ্যের মান উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, রপ্তানি শুল্ক হ্রাস, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, রপ্তানিযোগ্য পণ্যের ব্যাপক প্রচার প্রভৃতির মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধি করা যায়।
প্রশ্ন \ ৯ \ বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর : একসময় বাংলাদেশে বৈদেশিক বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্য ছিল বেশির ভাগ কাঁচামাল রপ্তানি। বর্তমানে আমাদের রপ্তানির প্রায় ৭৫ ভাগ আয় হচ্ছে তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার থেকে এবং দিন দিন কৃষিপণ্য রপ্তানির পরিমাণ কমে আমদানি বাড়ছে। বর্তমানে খাদ্যশস্য ও শিল্পজাত দ্রব্য আমদানি করতে হয় এবং দেখা যায় রপ্তানির চেয়ে আমদানি দ্রব্য বেশি। আর এসব বৈদেশিক বাণিজ্য চলে সমুদ্রপথে। তবে জরুরি ভিত্তিতে পচনশীল দ্রব্যের আকাশপথে বাণিজ্য করা হয়।

 

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply