নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস অধ্যায় ১২ সামরিক শাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন (১৯৫৮-১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দ)

দ্বাদশ অধ্যায়
 সামরিক শাসন ও স্বাধিকার আন্দোলন (১৯৫৮-১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দ)
১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে যে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সূচনা ঘটে তা পরবর্তী সময়ে চ‚ড়ান্ত রূপ লাভ করে। প্রবল ছাত্র আন্দোলনের ফলে সামরিক শাসনের অবসান ঘটে। পূর্ব পাকিস্তান এর পর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত কখনোই স্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করেনি। শিখনফল
 পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপে সৃষ্ট পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে পারবে।
 ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবং এর ফলাফল বর্ণনা করতে পারবে।
 তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার বৈষম্য ব্যাখ্যা করতে পারবে।
 ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারবে।
 বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে ছয় দফার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারবে।
 ১১ দফা সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারবে।
 ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিত ও ফলাফল বর্ণনা করতে পারবে।
 দেশের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ে সচেতন হবে।
অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে জেনে রাখি

১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের সামরিক শাসন ও আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র : ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন। এর কিছুদিনের মধ্যে ২৭ অক্টোবর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে এবং শাসন ও রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেন। তিনি এক অদ্ভূত ও নতুন নির্বাচন কাঠামো প্রবর্তন করেন। তার এই নির্বাচনের মূলভিত্তি ছিল ‘মৌলিক গণতন্ত্র’। মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে এক ধরনের সীমিত গণতন্ত্র। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ জারি করা হয়।
ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ : ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত ও পাকিস্তান জন্ম নিলে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে তাদের মাঝে বৈরিতার সূত্রপাত হয়। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে কাশ্মীরকে নিয়ে প্রথম যুদ্ধ বাধে যা জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে অবসান হয়। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে আইয়ুব খানের হেঁয়ালিপনায় আবার কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ভারত যুদ্ধ বাধে। পাকিস্তানের শোচনীয় অবস্থার মুখে পাশ্চাত্য শক্তি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের হস্তক্ষেপে ১৭ দিনের মাথায় যুদ্ধ বন্ধ হয়।
পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য : ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের লাহোর প্রস্তাব অনুসারে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। কিন্তু লাহোর প্রস্তাবের মূলনীতি অনুযায়ী পূর্ব বাংলা পৃথক রাষ্ট্রের মর্যাদা পায়নি। দীর্ঘ ২৪ বছর পূর্ব বাংলাকে স্বায়ত্তশাসনের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়েছে। এ সময় পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক নীতি অনুসরণ করে। এরই প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলায় স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
ছয় দফা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ : পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্য ছিল, ছয় দফা দাবি আদায়ের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা। মূলত ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ অবসানের পর পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের চরম অবহেলা, পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি সীমাহীন বৈষম্যের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু সোচ্চার হন। ছয় দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের চ‚ড়ান্ত প্রকাশ। এটি ছিল বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক বা মুক্তির সনদ।
ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা ও তার গুরুত্ব : আগলতলা মামলাটি দায়ের করা হয় ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলাতে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক হয়। সেখানে ভারতের সহায়তায় সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করা হয়। এজন্য মামলাটির নাম হয় ‘আগরতলা মামলা’। সরকারি নথিতে মামলার নাম হলো ‘রাষ্ট্র’ বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য।
১১ দফা আন্দোলন : ১৯৬৮-৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুববিরোধী গণ-আন্দোলন চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়। এ ব্যাপক গণ-আন্দোলনে আওয়ামী নেতৃবৃন্দ কারারুদ্ধ হলে আন্দোলনের গতি কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়। এ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি নিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের ডাক দেয়। এ কর্মসূচি অচিরেই শুধু ছাত্রদের নয়, বরং আপামর জনগণের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে।
১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য : ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির পর ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন নতুন রূপ লাভ করে। ২৩ ফেব্রæয়ারির সংবর্ধনা সভায় বঙ্গবন্ধু ১১ দফা দাবির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং ৬ দফা ও ১১ দফা বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ প্রতিশ্রæতি দেন। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে গ্রাম ও শহরের কৃষক ও শ্রমিকদের মাঝে শ্রেণি চেতনার উন্মেষ ঘটে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আকাক্সক্ষা বৃদ্ধি পায়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ পরিপূর্ণতা লাভ করে, যাতে বলীয়ান হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে।

 বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর 
১. কে পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন?
ক মুহম্মদ আলী জিন্নাহ  ইস্কান্দার মির্জা
গ আইয়ুব খান ঘ মালিক ফিরোজ খান
২. আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম কারণ
র. দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সোহরাওয়ার্দীকে গ্রেফতার
রর. ছাত্রদের ওপর পুলিশি নির্যাতন
ররর. আইয়ুব খান কর্তৃক নতুন সংবিধান ঘোষণা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ র ও রর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
উদ্দীপকটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
অগ্রণী ক্লাবের সভাপতির একরোখা মনোভাব ও অসহযোগিতামূলক কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ক্লাবের সাধারণ সদস্যগণ। মারুফ সাহেবের নেতৃত্বে সদস্যগণ তাঁদের দাবি-দাওয়া সভাপতির নিকট পেশ করেন। সভাপতি ও তাঁর পক্ষের লোকজন বিষয়টিকে অযৌক্তিক মনে করে প্রত্যাখ্যান করেন। ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মারুফ সাহেব ও তার অনুসারী সদস্যবৃন্দ সোচ্চার হন।
৩. মারুফ সাহেবের গৃহীত পদক্ষেপ কোন ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়?
 ছয় দফা দাবি উত্থাপন
খ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট গঠন
গ আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন
ঘ ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি গঠন
৪. উক্ত ঐতিহাসিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই-
র. আইয়ুব সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে
রর. বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়
ররর. বাংলাদেশ স্বাধীনতা সংগ্রামের পথে ধাবিত হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ রর ও ররর গ র ও ররর  র, রর ও ররর

 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন- ১  পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য

বিষয় পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ১১৯ জন ৯৫৪ জন
কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা ২৯০০ জন ৪২০০০ জন
গেজেটেড কর্মকর্তা ১৩৩৮ জন ৩৭০৮ জন
নন গেজেটেড কর্মকর্তা ২৬৩১০ জন ৮২৯৪৪ জন

ক. ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে কাকে ঈঙচ-এর পক্ষে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করা হয়?
খ. মৌলিক গণতন্ত্রের কাঠামো কীরূপ ছিল?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে পাকিস্তানি আমলে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি কোন ধরনের বৈষম্য প্রদর্শন করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. তুমি কি মনে কর উক্ত বৈষম্যই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের একমাত্র কারণ? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

ক ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ফাতেমা জিন্নাহকে ঈঙচ-এর পক্ষে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করা হয়।
খ প্রাথমিক অবস্থায় মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি চার স্তর বিশিষ্ট ব্যবস্থা। নিম্ন থেকে উচ্চ পর্যন্ত এ স্তরগুলো ছিল : ১. ইউনিয়ন পরিষদ (গ্রামে) এবং টাউন ও ইউনিয়ন কমিটি (শহরে), ২. থানা পরিষদ (পূর্ব বাংলায়), তহসিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে), ৩. জেলা পরিষদ, ৪. বিভাগীয় পরিষদ, এই পরিষদগুলোতে নির্বাচিত ও মনোনীত উভয় ধরনের সদস্য থাকত। মৌলিক গণতন্ত্রের আওতায় পাকিস্তানের উভয় অংশে ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ মৌলিক গণতন্ত্রী নিয়ে দেশের নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হয়। তারাই প্রেসিডেন্ট, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচন করতেন।
গ উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে পাকিস্তানি আমলে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি প্রশাসনিক বৈষম্য প্রদর্শন করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি ছিল সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাগণ। ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের মন্ত্রণালয়গুলোতে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার ৯৫৪ জনের মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ১১৯ জন। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ৪২,০০০ কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালির সংখ্যা ছিল মাত্র ২৯০০। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে করাচিতে রাজধানী হওয়ায় সকল সরকারি অফিস-আদালতে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ব্যাপক হারে চাকরি লাভ করে। ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে বাঙালির পক্ষে সেখানে গিয়ে চাকরি লাভ করা সম্ভব ছিল না। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা না দেওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাঙালি ছাত্রদের সাফল্য সহজ ছিল না। ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে গেজেটেড কর্মকর্তা ছিল যথাক্রমে ১৩৩৮ ও ৩৭০৮ জন এবং নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ছিল যথাক্রমে ২৬৩১০ ও ৮২৯৪৪ জন। উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকেও এরূপ বৈষম্যই প্রদর্শন করা হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি প্রশাসনিক বৈষম্যের চিত্রটি ফুটে উঠেছে।
ঘ প্রশাসনিক বৈষম্যই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের একমাত্র কারণ বলে আমি মনে করি না। এর পিছনে আরও বহু কারণ রয়েছে। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক নীতি অনুসরণ করে। এ সময় থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে স্বাধিকার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। গণতন্ত্রকে উপেক্ষা করে স্বৈরতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র ও সামরিক তন্ত্রের মাধ্যমে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী দেশ শাসন করতে থাকে। তারা পূর্ব পাকিস্তানের ওপর ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করে সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি-প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শোষণ চালিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের সমৃদ্ধি ঘটায়। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচিত সরকারকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করে ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে সামরিক শাসন জারি করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়। পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানিদের বৈষম্যমূলক শাসনের আরেকটি ক্ষেত্র ছিল সামরিক। সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল নগণ্য। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের শোষণের মাত্রা ছিল ভয়াবহ। রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, অফিস-আদালত, হাসপাতাল ডাকঘর, টেলিফোন, টেলিগ্রাম ইত্যাদি ক্ষেত্রে বেশি সুবিধা তারা নিত। পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকলেও তাদের বাংলা ভাষা ও সুসমৃদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতিকে মুছে ফেলার চক্রান্তে লিপ্ত হয় পাকিস্তানি বাহিনী। এভাবে সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, সামরিক, প্রশাসনিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে তারা পূর্ব পাকিস্তানের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করায় বাঙালিরা স্বাধিকার আন্দোলন করতে বাধ্য হয়।

প্রশ্ন- ২  ছয়দফা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ

রফিক একটি চলচ্চিত্র দেখছিল। ছবিতে একটি অঞ্চলের জনগণের সংগ্রামের ঘটনা দেখাচ্ছিল। ঐ অঞ্চলের জনগণের সাহস, বুদ্ধি ও সম্পদ থাকা সত্তে¡ও সরকারের একপেশে নীতির কারণে সংসদে তাদের কোনো প্রতিনিধি নেই। তারা চাকরি, শিক্ষা ও অর্থনীতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চিত। তাদের বঞ্চনা ও শোষণের হাত থেকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসেন এক আপোষহীন নেতা। তিনি জনগণের স্বার্থরক্ষার লক্ষ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক পরিচালনার ক্ষমতা, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক, সর্বজনীন ভোটের মাধমে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক আইনসভা গঠন, রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা- ইত্যাদি উক্ত অঞ্চলের হাতে দেওয়ার দাবি জানান।
ক. কার মধ্যস্থতায় তাসখন্দ শহরে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ-বিরতি সাক্ষরিত হয়?
খ. মতিউর হত্যার প্রেক্ষাপট কী ছিল?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার দাবিনামায় বঙ্গবন্ধুর কোন কর্মসূচির প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. তুমি কি মনে কর উক্ত দাবিনামা বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল? যুক্তি দাও।

ক সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী কোসিগিনের মধ্যস্থতায় তাসখন্দ শহরে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি সাক্ষরিত হয়।
খ পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ২০ জানুয়ারি হরতাল পালনকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জমান পুলিশের গুলিতে নিহত হন। আসাদের হত্যার প্রতিবাদে ২২, ২৩ ও ২৪ তারিখে ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষিত হয়। ২৪ তারিখে সারাদেশে হরতাল চলাকালে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক ঢল নামে। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন যেন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর নিহত হয়।
গ উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার দাবিনামায় বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা কর্মসূচির প্রতিফলন ঘটেছে। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে মুক্ত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্য ছিল, ছয় দফা দাবি আদায়ের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা। মূলত ভারত- পাকিস্তান যুদ্ধ অবসানের পর পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের চরম অবহেলা, পাশাপাশি

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি সীমাহীন বৈষম্যের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু সোচ্চার হন। অনুরূপভাবে উদ্দীপকের নেতাও শোষিত জনগণের অধিকার আদায়ে এগিয়ে আসেন। চাকরি, শিক্ষা ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে শোষণের বিরুদ্ধে দাবি তুলে ধরেন, উক্ত দাবিসমূহের সাথে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক উত্থাপিত ছয় দফা আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ উক্ত দাবিনামা অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর গৃহীত ছয় দফা কর্মসূচি বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল বলে আমি মনে করি। ১৩ মার্চ, ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে ছয় দফা গৃহীত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু ছয় দফার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন স্থানে বক্তব্য দেন। তিনি ছয় দফাকে ‘আমাদের বাঁচার দাবি’ আখ্যায়িত করেন। ফলে ছয় দফার পক্ষে দ্রæত ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে। আইয়ুব সরকার তাতে আতঙ্কিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু করে। ১০ মে, ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ৩৫০০ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গবন্ধুকে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলায় অভিযুক্ত করে ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু করে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থানের মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে সরকার বাধ্য হয়। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনে ছয় দফা কর্মসূচি ছিল নির্বাচনের মূল ইশতাহার। এ নির্বাচনে ছয় দফার পক্ষে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হয়। তথাপি ছয় দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের পর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ছয় দফা কর্মসূচির অবসান হয়। অতঃপর দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। ছয় দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের চ‚ড়ান্ত প্রকাশ। এটি ছিল বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক। বাঙালির মুক্তির সনদ। ফলে এর প্রতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল জনগণের স্বতঃস্ফ‚র্ত সমর্থন ছিল। ছয় দফা আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের ফলে বাঙালি জাতির মধ্যে ঐক্যের চেতনা দৃঢ়ভাবে জাগ্রত হয়। বাঙালি তার স্বাধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার হয়ে ওঠে। সুতরাং বলা যায় যে, বঙ্গবন্ধু গৃহীত ছয় দফা কর্মসূচি বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল।

 বোর্ড ও সেরা স্কুলের বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১. ঈঙচ এর পূর্ণ নাম কী? [স. বো. ’১৬]
ক ঈড়সনরহব ঙঢ়ঢ়ড়ংরঃব চধৎঃু
 ঈড়সনরহবফ ঙঢ়ঢ়ড়ংরঃরড়হ চধৎঃু
গ ঈড়সনরহবফ ঙঢ়ঢ়ড়ংরঃব চধৎঃু
ঘ ঈড়সনরহব ঙঢ়ঢ়ড়ংরঃরড়হ চধৎঃু
২. ঢাকার কোন স্থানের জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়? [স. বো. ’১৫]
 রেসকোর্স ময়দানে খ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
গ ভিক্টোরিয়া পার্কে ঘ লালবাগ কেল্লায়
৩. ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ মার্চ কে পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন? [নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়]
ক একে ফজলুল হক খ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
গ খাজা নাজিমুদ্দীন  জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা
৪. ইস্কান্দার মির্জার কার্যক্রম আমাদের কোন ধারাকে ব্যাহত করে?
[বিএএফ শাহীন কলেজ, যশোর]
ক সমাজতন্ত্রের বিকাশ  গণতন্ত্রের বিকাশ
গ পুঁজিবাদের বিকাশ ঘ স্বৈরতন্ত্রের বিকাশ
৫. ইস্কান্দার মির্জা কাকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করেন?
[ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাইস্কুল, মোমেনশাহী]
 আইয়ুব খানকে খ ওমরাও খানকে
গ শাহেদ আলীকে ঘ আতহার আলীকে
৬. জেনারেল আইয়ুব খান কাকে অপসারণ করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন? [ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড আন্তঃবিদ্যালয়, ঢাকা]
ক এ কে ফজলুল হককে খ খাজা নাজিমুদ্দীনকে
গ ওমরাও খানকে  ইস্কান্দার মির্জাকে
৭. মৌলিক গণতন্ত্র চালু করেন কে?
[রাজশাহী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হেলেনাবাদ; বিএএফ শাহীন কলেজ, যশোর]
 আইয়ুব খান খ খাজা নাজিমুদ্দীন
গ ইয়াহিয়া খান ঘ লিয়াকত আলী খান
৮. মৌলিক গণতন্ত্র কয় স্তরবিশিষ্টি ছিল?
[বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট; পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যশোর]
ক ১ খ ২ গ ৩  ৪
৯. মৌলিক গণতন্ত্রের স্তরবিন্যাসে কোনটি সঠিক?
[নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
 গ্রাম  থানা  জেলা  বিভাগ
খ গ্রাম  জেলা  থানা  বিভাগ
গ গ্রাম  থানা  পৌরসভা  বিভাগ
ঘ গ্রাম  উপজেলা  বিভাগ  থানা
১০. শিক্ষা আন্দোলন কত খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়?
[নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক ১৯৬০ খ ১৯৬১  ১৯৬২ ঘ ১৯৬৩
১১. শরীফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত করার কারণ কোনটি?
[অগ্রগামী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট]
ক জনসমর্থন না থাকা  ছাত্র আন্দোলন
গ অনুমোদন না পাওয়া ঘ শিক্ষকদের বিরোধিতা
১২. ঈঙচ কত খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়? [বিএএফ শাহীন কলেজ, যশোর]
 ১৯৬৫ খ ১৯৬৬ গ ১৯৬৭ ঘ ১৯৬৮
১৩. ঈঙচ এর পূর্ণরূপ কী? [নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক ঈড়সনরহব ঙঢ়ড়ংরঃরড়হ চধৎঃু
 ঈড়সনরহবফ ঙঢ়ঢ়ড়ংরঃরড়হ চধৎঃু
গ ঈড়সনরহবফ ঙঢ়ড়ংরঃ চধৎঃু
ঘ ঈড়সনরহব ঙঢ়ঢ়ড়ংরঃরড়হ চধৎঃু
১৪. ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের পাক ভারত যুদ্ধের অবসান হয় কীভাবে?
[মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়]
ক জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে  কোসিগিনের মধ্যস্থতায়
গ ইউএনডিপির হস্তক্ষেপে ঘ হিটলারের মধ্যস্থতায়
১৫. আইয়ুব খানের শাসনামলে মোট বাজেটের কয় ভাগ সামরিক বাজেট ছিল?
[পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যশোর; এ.ভি.জে এম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক ৫০%  ৬০% গ ৭০% ঘ ৮০%
১৬. পাকিস্তান শাসনামলে বাংলা কোন বর্ণে লেখার চেষ্টা করা হয়?
[ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড আন্তঃবিদ্যালয়, ঢাকা]
ক উর্দু খ ইংরেজি গ হিন্দি  আরবি
১৭. ছয় দফা কর্মসূচি কে ঘোষণা করেন?
[আজিমপুর গভ. গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা; কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক একে ফজলুল হক  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
গ জামালী ঘ আইয়ুব খান
১৮. ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় কত সালে?
[পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ, কুষ্টিয়া; বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়]
ক ১৯৬৫  ১৯৬৬ গ ১৯৬৭ ঘ ১৯৬৮
১৯. ঐতিহাসিক ছয় দফা প্রস্তাব কোথায় পেশ করা হয়?
[মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট, ঢাকা]
 লাহোরে খ পাঞ্জাবে গ ইসলামাবাদে ঘ অমৃতসরে
২০. বঙ্গবন্ধু ছয় দফাকে কী বলে আখ্যায়িত করেন? [যশোর জিলা স্কুল]
ক আমাদের উন্নয়নের দাবি  আমাদের বাঁচার দাবি
গ আমাদের ভাষার দাবি ঘ আমাদের স্বাধীনতার দাবি
২১. ছয় দফা কেন এত বেশি জনপ্রিয় হয়েছিল?
[মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ]
ক এতে বাঙালির সব চাওয়া পাওয়া ছিল
খ এতে পাকিস্তানিদের হটানোর কৌশল ছিল
 এতে জনগণের আশার প্রতিফলন ছিল
ঘ এতে জনমতের প্রভাব ছিল
২২. ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণ অভ্যুত্থান হয়েছিল কোন শাসকের বিরুদ্ধে?
[দি বাডস রেসিডেনসিয়্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, শ্রীমঙ্গল]
ক ইয়াহিয়া খানের খ নুরুল আমিনের
 আইয়ুব খানের ঘ নাজিমুদ্দীনের
২৩. বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান ঘটে কত খ্রিষ্টাব্দে?
[আজিমপুর গভ. গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা]
ক ১৯৬৮  ১৯৬৯ গ ১৯৭০ ঘ ১৯৭১
২৪. আইয়ুব খান কার নিকট ক্ষমতা হস্তাস্তর করেন?
[পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ, বগুড়া]
ক বঙ্গবন্ধুর নিকট খ ইস্কান্দার মির্জার নিকট
 ইয়াহিয়া খান এর নিকট ঘ ভাসানীর নিকট
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২৫. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলাফল হলো [স. বো. ’১৬]
র. আইয়ুব খানের পদত্যাগ রর. ইয়াহিয়ার ক্ষমতা গ্রহণ
ররর. মোনায়েম খানকে অপসারণ
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
২৬. শেখ মুজিবুর রহমান ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেছিলেন কেন?
[স. বো. ’১৫]
র. ঔপনিবেসিক শাসন থেকে মুক্তির জন্য
রর. বৈষম্যের হাত থেকে মুক্তির জন্য
ররর. পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
২৭. ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণায় যথার্থ কারণ হলো
[বরগুনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
র. পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে যুক্তি
রর. পূর্ব বাংলাকে দেশ হিসেবে স্বীকৃতি
ররর. পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শোষণ থেকে মুক্তি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
২৮. ছয় দফা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল
[ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল ও কলেজ, কুমিল্লা সেনানিবাস]
র. যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা রর. পৃথক মুদ্রা চালু
ররর. মিলিশিয়া বাহিনী
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
২৯. ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের আইয়ুব খানের গোলটেবিল বৈঠকে আমন্ত্রিত ছিলেন
[পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ, কুষ্টিয়া]
র. মওলানা ভাসানী রর. এ কে ফজলুল হক
ররর. শেখ মুজিবুর রহমান
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৩০. ১৯৬৯ সালে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় [ক্যান্টনমেন্ট হাইস্কুল, যশোর]
র. আসাদুজ্জামান
রর. কিশোর মতিউর
ররর. শামসুজ্জোহা
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 বিষয়ক্রম অনুযায়ী বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
 ভ‚মিকা  বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ১৫৯
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৩১. কার সময়কালে সামরিক বাহিনী রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব রাখা শুরু করে? (জ্ঞান)
 জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা খ জেনারেল আইয়ুব খান
গ জুলফিকার আলী ভুট্টো ঘ জেনারেল ইয়াহিয়া খান
৩২. পাকিস্তান আমলে কার ষড়যন্ত্রের স্থলে কয়েকবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার পতন হয়? (জ্ঞান)
ক জেনারেল টিক্কা খান  জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা
গ জেনারেল আইয়ুব খান ঘ জেনারেল ইয়াহিয়া খান
৩৩. পাকিস্তানের কোন প্রেসিডেন্ড এর সময়ে পূর্ব বাংলায় আওয়ামী লীগ ও কৃষক-শ্রমিক পার্টির দ্ব›দ্ব চরমে উঠে? (জ্ঞান)
ক নুরুল আমীন সরকারের  ইস্কান্দার মির্জার
গ খাজা নাজিমুদ্দীনের ঘআইয়ুব খানের
৩৪. ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদে ডেপুটি স্পিকার কে ছিলেন? (জ্ঞান)
ক আলী মির্জা খ শওকত আলী
 শাহেদ আলী ঘ আব্দুল হামিদ
৩৫. পাকিস্তান আমলে ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী কীভাবে নিহত হন? (অনুধাবন)
ক বুকে আঘাত পেয়ে খ হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে
 মাথায় আঘাত পেয়ে ঘ গুলিবিদ্ধ হয়ে
৩৬. কার মৃত্যু ইস্কান্দার মির্জার সেনা শাসন প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ তৈরি করে দেয়? (জ্ঞান)
ক আইয়ুব খান খ আব্দুল হামিদ গ ইয়াহিয়া খান  শাহেদ আলী
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৩৭. পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই শাসনব্যবস্থায় লক্ষ করা যায় (অনুধাবন)
র. গণতান্ত্রিক প্রবণতা রর. আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা
ররর. স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর  রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর

 ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের সামরিক শাসন
 বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ১৫৯
 পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হয় ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে।
 পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন ইস্কান্দার মির্জা।
 প্রথম সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন জেনারেল আইয়ুব খান।
 ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে আইয়ুব খান।
 আইয়ুব প্রদত্ত নির্বাচনের মূল ভিত্তি ছিল ‘মৌলিক গণতন্ত্র’।
 মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি হয় ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে।
 প্রাথমিক অবস্তায় মৌলিক গণতন্ত্র ছিল চারস্তর বিশিষ্ট।
 পূর্ববাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন মেজর জেনারেল ওমরাও।
 ‘মৌলিক গণতন্ত্রের’ ভিত্তিতে পাঁচ বছরের জন্য আস্থা ভোটে নির্বাচিত হন আইয়ুব খান।
 সামরিক শাসন প্রত্যাহার করা হয় ৮ জুন ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে।
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৩৮. ইস্কান্দার মির্জা কত খ্রিষ্টাব্দে সামরিক শাসন জারি করেন? (জ্ঞান)
ক ১৯৫২ খ ১৯৫৪ গ ১৯৫৬  ১৯৫৮
৩৯. কোন সরকারব্যবস্থা উৎখাত করে ইস্কান্দার মির্জা সামরিক শাসন জারি করেন? (জ্ঞান)
ক সমাজতান্ত্রিক  সংসদীয় গ ধনতান্ত্রিক ঘ রাজতান্ত্রিক
৪০. পাকিস্তানের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি ছিল কারা? (জ্ঞান)
ক সেনাবাহিনী  সামরিক কর্মকর্তাগণ
গ পুলিশবাহিনী ঘ সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাগণ
৪১. পাকিস্তানে প্রথম রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন কে? (জ্ঞান)
ক ইয়াহিয়া খান খ আয়ুব খান
 ইস্কান্দার মির্জা ঘ খন্দকার মোশতাক
৪২. ইস্কান্দার মির্জাকে কত তারিখে অপসারণ করা হয়? (জ্ঞান)
ক ২৫ অক্টোবর খ ২৬ অক্টোবর  ২৭ অক্টোবর ঘ ২৮ অক্টোবর
৪৩. ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ কী? (জ্ঞান)
ক রাজনৈতিক কৌশল  এক ধরনের সীমিত গণতন্ত্র
গ রাজনৈতিক সাম্য ঘ শাসনতান্ত্রিক আইন
৪৪. কত খ্রিষ্টাব্দে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করা হয়? (জ্ঞান)
ক ১৯৫৮  ১৯৫৯ গ ১৯৬০ ঘ ১৯৬১
৪৫. মৌলিক গণতন্ত্রের স্তরবিন্যাস কোনটি সঠিক? (অনুধাবন)
ক গ্রাম জেলা  থানা বিভাগ খ জেলা  গ্রাম  বিভাগ  থানা
গ থানা  গ্রাম  বিভাগ  জেলা  গ্রাম  থানা  জেলা  বিভাগ
৪৬. মৌলিক গণতন্ত্রের গ্রামীণ স্তরের নাম কী ছিল? (জ্ঞান)
ক টাউন কমিটি খ ইউনিয়ন কমিটি
গ তহশিল পরিষদ  ইউনিয়ন পরিষদ
৪৭. সালমা একজন ইতিহাসের ছাত্রী। সে ক্লাস থেকে মৌলিক গণতন্ত্রের প্রবর্তনকারী সম্পর্কে জানতে পারল। সালমা কার নাম জানতে পারল? (প্রয়োগ)
ক ইস্কান্দার মির্জার খ ইয়াহিয়া খানের
 আইয়ুব খানের ঘ নাজিমুদ্দীনের
৪৮. মৌলিক গণতন্ত্রের তহশিল পরিষদ স্তরটি কোথায় ছিল? (জ্ঞান)
ক পূর্ব পাকিস্তানে খ পূর্ব বাংলায়
 পশ্চিম পাকিস্তানে ঘ পশ্চিম বাংলায়
৪৯. মৌলিক গণতন্ত্রের আওতায় কতজন মৌলিক গণতন্ত্রী নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হয়? (জ্ঞান)
 ৮০,০০০ খ ৭০,০০০ গ ৫০,০০০ ঘ ৪০,০০০
৫০. মৌলিক গণতন্ত্রের নির্বাচকদের কী বলা হতো? (জ্ঞান)
ক অফিসার বিডি মেম্বার গ এমপি ঘ চেয়ারম্যান
৫১. মৌলিক গণতন্ত্রের ভোটে আইয়ুব খান কত খ্রিস্টাব্দে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন? (জ্ঞান)
 ১৯৬০ খ ১৯৬১ গ ১৯৬২ ঘ ১৯৬৩
৫২. আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্রের ভোটে ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে কত বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন? (জ্ঞান)
ক ২ খ ৩ গ ৪  ৫
৫৩. ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয়? (জ্ঞান)
ক ২ জুন খ ৪ জুন গ ৬ জুন  ৮ জুন
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৫৪. ইস্কান্দার মির্জা দেশে সামরিক শাসন জারি করে (অনুধাবন)
র. মন্ত্রিসভা বরখাস্ত করেন রর. সংবিধান বাতিল করেন
ররর. দেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ ভেঙে দেন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৫৫. আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র চালু করেন (অনুধাবন)
র. রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য
রর. সামাজিক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য
ররর. শাসন কাঠামো পরিবর্তনের জন্য
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৬. মৌলিক গণতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল- (অনুধাবন)
র. ইউনিয়ন পরিষদ রর. থানা পরিষদ
ররর. জেলা পরিষদ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৫৭. মৌলিক গণতন্ত্রের স্তরগুলোতে সদস্য থাকত (অনুধাবন)
র. নির্বাচিত রর. মনোনীত ররর. দলগত
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৮. মৌলিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় (অনুধাবন)
র. পূর্ব-বাংলায় ৪০,০০০ নির্বাচনি ইউনিট নিয়ে
রর. পশ্চিম-পাকিস্তানে ৪০,০০০ নির্বাচনি ইউনিট নিয়ে
ররর. পাকিস্তানের উভয় অংশে ৯০,০০০ নির্বাচনি ইউনিট নিয়ে
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৯. আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্রের ফলে (অনুধাবন)
র. সংবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা লাভ করেন
রর. ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন
ররর. সেনা শাসনের প্রধান নির্বাচিত হন
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৬০ ও ৬১ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
নবম শ্রেণির ছাত্র তানভির ইতিহাস বই পড়ে জানতে পারে, ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পাকিস্তানের একজন জেনারেল পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন। উক্ত জেনারেল প্রচলিত জনগণের শাসন পদ্ধতি পরিত্যাগ করে অদ্ভুত ও নতুন নির্বাচন কাঠামো প্রবর্তন করেন।
৬০. অনুচ্ছেদে কোন জেনারেলের কথা বলা হয়েছে? (প্রয়োগ)
ক জেনারেল ইয়াহিয়া খান খ জেনারেল টিক্কা খান
গ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা  জেনারেল আইয়ুব খান
৬১. উক্ত জেনারেলের প্রবর্তিত পদ্ধতির ফলে (উচ্চতর দক্ষতা)
র. গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়
রর. জেনারেলের ক্ষমতায় থাকা সহজ হয়
ররর. রাজতন্ত্র প্রচলিত হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর

 সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন
 বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ১৬০
 দেশবিরোধি ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় সোহরাওয়ার্দীকে।
 সোহরাওয়ার্দীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ছাত্ররা ধর্মঘট ডাকে ১লা ফেব্রæয়ারি-৫ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত।
 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয় ৭ ফেব্রæয়ারি।
 ছাত্র আন্দোলন নতুন রূপ নেয় বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন নামে।
 ‘ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ এর উদ্দেশ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ১৯৫৬ সংবিধানে ফিরে যাওয়া।
 ভারত-পাকিস্তানের বৈরিতার সূত্রপাত হয় কাশ্মীরকে ঘিরে।
 কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হয় ২ বার।
 ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের অবসান হয় তাসখন্দ চুক্তির মাধ্যমে।
 জীবনবাজি রেখে লাহোর রক্ষা করে বাঙালি সেনারা।
 ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে কাশ্মীরের নেতা ছিলেন শেখ আব্দুল্লাহ।
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৬২. সোহরাওয়ার্দীকে কত খ্রিষ্টাব্দে গ্রেফতার করা হয়? (জ্ঞান)
ক ১৯৬০ খ ১৯৬১  ১৯৬২ ঘ ১৯৬৩
৬৩. সোহরাওয়ার্দীকে গ্রেফতার করা হয় কেন? (অনুধাবন)
ক হত্যার অভিযোগে
˜ দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে
গ অবৈধ হরতাল আহŸানের অভিযোগে
ঘ জনগণকে নৈরাজ্য সৃষ্টিতে উসকানির অভিযোগে
৬৪. ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে ছাত্ররা ধর্মঘট ডাকে? (জ্ঞান)
 ১ ফেব্রæয়ারি খ ২ ফেব্রæয়ারি গ ৩ ফেব্রæয়ারি ঘ ৪ ফেব্রæয়ারি
৬৫. ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ছাত্ররা একটানা কত দিন ধর্মঘট পালন করেন? (জ্ঞান)
ক ২ খ ৩ গ ৪  ৫
৬৬. ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়? (জ্ঞান)
ক ৫ ফেব্রæয়ারি খ ৬ ফেব্রæয়ারি  ৭ ফেব্রæয়ারি ঘ ৮ ফেব্রæয়ারি
৬৭. আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের জন্য সরকার কত তারিখে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়? (জ্ঞান)
ক ৫ ফেব্রæয়ারি খ ৬ ফেব্রæয়ারি  ৭ ফেব্রæয়ারি ঘ ৮ ফেব্রæয়ারি
৬৮. ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে আইয়ুব খান নতুন সংবিধান ঘোষণা করেন? (জ্ঞান)
 ১ মার্চ খ ২ মার্চ গ ৩ মার্চ ঘ ৪ মার্চ
৬৯. ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ব বাংলার গভর্নর কে ছিলেন? (জ্ঞান)
ক আইয়ুব খান  মোনায়েম খান
গ ইয়াহিয়া খান ঘ মির্জা খান
৭০. শরীফ শিক্ষা কমিশনের শিক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পায় কত খ্রিষ্টাব্দে? (জ্ঞান)
ক ১৯৬০ খ ১৯৬১  ১৯৬২ ঘ ১৯৬৪
৭১. ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ছাত্র আন্দোলন কী নামে পরিচিত? (জ্ঞান)
 বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন খ বাষট্টির গণতন্ত্র আন্দোলন
গ বাষট্টির গণআন্দোলন ঘ বাষট্টির সামরিক আন্দোলন
৭২. ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের কত থেকে কত তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়? (জ্ঞান)
 ১৫ আগস্ট-১০ সেপ্টেম্বর খ ১৬ আগস্ট-১১ সেপ্টেম্বর
গ ১৭ আগস্ট-১২ সেপ্টেম্বর ঘ ১৮ আগস্ট-১৩ সেপ্টেম্বর
৭৩. শরীফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত করার কারণ কোনটি? (জ্ঞান)
ক জনসমর্থন না থাকা  ছাত্র আন্দোলন
গ অনুমোদন না পাওয়া ঘ শিক্ষকদের বিরোধিতা
৭৪. কোন আন্দোলনের ফলে ছাত্ররা আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে আরও শক্তি সঞ্চয় করতে পেরেছিলেন? (অনুধাবন)
 বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন খ মৌলিক গণতন্ত্রবিরোধী আন্দোলন
গ সামরিক সরকারবিরোধী আন্দোলন ঘ বাষট্টির গণআন্দোলন
৭৫. মিমের বাবা ষাট-এর দশকের মানুষ। মিম তার বাবার কাছ থেকে কোন আন্দোলনের কথা জানতে পারবে? (প্রয়োগ)
 বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন খ বাষট্টির গণআন্দোলন
গ মৌলিক গণতন্ত্রবিরোধী আন্দোলন ঘ সামরিক সরকারবিরোধী আন্দোলন
৭৬. পাকিস্তানে সামরিক আইন স্থগিত করা হয় ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে? (জ্ঞান)
ক ৫ জুন খ ৬ জুন
গ ৭ জুন  ৮ জুন
৭৭. ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে পাকিস্তানে দলীয় রাজনীতির অধিকার আবার ফিরে আসে? (জ্ঞান)
ক ৬ জুন  ৮ জুন গ ১০ জুন ঘ ১২ জুন
৭৮. আইয়ুব খান নিজেই যে রাজনৈতিক দল গঠন করেন তার নাম কী? (জ্ঞান)
 কনভেনশন মুসলিম লীগ খ নেজাম ইসলাম
গ আওয়ামী লীগ ঘ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি
৭৯. সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে আইয়ুববিরোধী মোর্চা গঠনের আহŸান জানান কে? (জ্ঞান)
ক ফজলুল হক  সোহরাওয়ার্দী
গ মোনায়েম খান ঘ আইয়ুব খান
৮০. এনডিএফ কী? (জ্ঞান)
ক একটি সাহায্য সংস্থা খ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান
গ একটি রাজনৈতিক সংগঠন  একটি রাজনৈতিক মোর্চা
৮১. এনডিএফ (ঘউঋ) এর পূর্ণ রূপ কোনটি? (জ্ঞান)
 ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট খ ন্যাশনাল ডোমিন্যান্ট ফ্রন্ট
গ ন্যাপ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ঘ ন্যাশনাল ডেকোক্রেটিক ফোরাম
৮২. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে এনডিএফ গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল? (জ্ঞান)
 গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার খ পুঁজিবাদের স¤প্রসারণ
গ বাংলার স্বাধীনতা অর্জন ঘ আইয়ুব সরকারের পতন
৮৩. সোহরাওয়ার্দী কত খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন? (জ্ঞান)
ক ১৯৬০ খ ১৯৬১ গ ১৯৬২  ১৯৬৩
৮৪. ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে ঘউঋ থেকে বেরিয়ে আসে কোন দল? (জ্ঞান)
ক নেজামে ইসলাম  আওয়ামী লীগ
গ কাউন্সিল মুসলিম লীগ ঘ ন্যাশনাল আওয়ামী লীগ
৮৫. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হলেন কত খ্রিষ্টাব্দে? (জ্ঞান)
ক ১৯৬২  ১৯৬৪ গ ১৯৬৬ ঘ ১৯৬৮
৮৬. ঘউঋ কত খ্রিষ্টাব্দে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে? (জ্ঞান)
 ১৯৬৪ খ ১৯৬৫ গ ১৯৬৬ ঘ ১৯৬৭
৮৭. ঘউঋ-এর নিষ্ক্রিয়তার কারণ কী? (প্রয়োগ)
ক কনভেনশন মুসলিম লীগের বেরিয়ে যাওয়া
 আওয়ামী লীগ-এর বেরিয়ে যাওয়া
গ নেজামে ইসলাম-এর বেরিয়ে যাওয়া
ঘ কাউন্সিল মুসলিম লীগের বেরিয়ে যাওয়া
৮৮. ‘কপ’ (ঈঙচ) কী? (জ্ঞান)
 নির্বাচনি জোট খ রাজনৈতিক দল
গ সাংস্কৃতিক জোট ঘ উন্নয়ন প্রকল্প
৮৯. ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের মৌলিক গণতন্ত্রের নির্বাচনে ঈঙচ জোটের প্রার্থী কে ছিলেন? (জ্ঞান)
ক আইয়ুব খান খ আজগর খান
 ফাতেমা জিন্নাহ ঘ জুলফিকার আলী ভুট্টো
৯০. ফাতেমা জিন্নাহ কে ছিলেন? (জ্ঞান)
ক আইয়ুব খানের বোন খ ইস্কান্দার মির্জার বোন
গ জুলফিকার আলী ভুট্টোর বোন  মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বোন
৯১. ‘কনভেনশন মুসলিম লীগ’ নামে রাজনৈতিক দলটি গঠন করেন কে? (জ্ঞান)
ক টিক্কা খান খ নুরুল আমিন  আইয়ুব খান ঘ নাজিমুদ্দীন
৯২. ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে কোন দল জয়ী হয়? (জ্ঞান)
ক মুসলিম লীগ খ আওয়ামী লীগ
 কনভেনশন মুসলিম লীগ ঘ কাউন্সিল মুসলিম লীগ
৯৩. কত খ্রিষ্টাব্দে ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হয়? (জ্ঞান)
ক ১৯৪৬  ১৯৪৭ গ ১৯৪৮ ঘ ১৯৫০
৯৪. ভারত ও পাকিস্তানের বৈরী সম্পর্কের সূত্রপাত হয় কোনটিকে ঘিরে? (জ্ঞান)
ক বাংলাদেশ  কাশ্মীর গ বিহার ঘ আসাম
৯৫. ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ‘ক’ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বৈরিতা শুরু হয়। ‘ক’ অঞ্চল নিচের কোনটিকে নির্দেশ করে? (প্রয়োগ)
ক আসাম খ পাঞ্জাব  কাশ্মীর ঘ বেলুচিস্তান
৯৬. কাশ্মীরকে নিয়ে প্রথম যুদ্ধ হয় কত খ্রিষ্টাব্দে? (জ্ঞান)
 ১৯৪৭ খ ১৯৪৮ গ ১৯৪৯ ঘ ১৯৫০
৯৭. কত খ্রিষ্টাব্দে প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হয়? (জ্ঞান)
ক ১৯৬৪  ১৯৪৭ গ ১৯৪৮ ঘ ১৯৪৯
৯৮. কোন নেতার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল ভারত আক্রমণ করে কাশ্মীর দখল করা? (জ্ঞান)
ক ইয়াহিয়া খান খ মোনায়েম খান
 আইয়ুব খান ঘ নাজিমুদ্দীন
৯৯. কাশ্মীর নেতা শেখ আবদুল্লাহকে কত খ্রিষ্টাব্দে গ্রেফতার করা হয়? (জ্ঞান)
 ১৯৬৫ খ ১৯৬৬ গ ১৯৬৭ ঘ ১৯৬৮
১০০. ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের কাশ্মীরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কেন? (অনুধাবন)
ক আবদুল নাসের গ্রেফতার হলে খ ওবায়দুল্লাহ গ্রেফতার হলে
 শেখ আবদুল্লাহ গ্রেফতার হলে ঘ আইয়ুব খান গ্রেফতার হলে
১০১. সাকিবের দাদা পাকিস্তান আমলে ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে পাক-ভারত যুদ্ধে অংশ নেন। সাকিব তার দাদার কাছে কোন রাজ্যের নাম জানতে পারবে? (প্রয়োগ)
ক গুজরাট খ পাঞ্জাব গ লাহোর  কাশ্মীর
১০২. তুহিন ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে ১৯৪৭ ও ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের পাক-ভারত যুদ্ধের মধ্যে মিল খোঁজার চেষ্টা করছে। সে ক্ষেত্রে নিচের কোন সমস্যাটি তার কাজটিকে সহজ করবে বরে তুমি মনে কর? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক তাসখন্দ সমস্যা খ পাঞ্জাব সমস্যা
 কাশ্মীর সমস্যা ঘ লাহোর সমস্যা
১০৩. ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়? (জ্ঞান)
ক ৫ আগস্ট  ৬ আগস্ট গ ৭ আগস্ট ঘ ৮ আগস্ট
১০৪. ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ কত দিন স্থায়ী হয়েছিল? (জ্ঞান)
ক ১৫ খ ১৬  ১৭ ঘ ১৮
১০৫. কত খ্রিষ্টাব্দে তাসখন্দ শহরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়? (জ্ঞান)
ক ১৯৫৯ খ ১৯৬৫ গ ১৯৬৭  ১৯৬৬
১০৬. কোসিগিন কোন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন? (জ্ঞান)
ক ইংল্যান্ডের খ আমেরিকার
 সোভিয়েত ইউনিয়নের ঘ ঘানার
১০৭. কোন দেশের হস্তক্ষেপে ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের পাক-ভারত যুদ্ধ সমাপ্ত হয়? (জ্ঞান)
ক যুক্তরাষ্ট্র  সোভিয়েত ইউনিয়ন
গ যুক্তরাজ্য ঘ কঙ্গো প্রজাতন্ত্র
১০৮. কোন যুদ্ধ পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুববিরোধী চেতনাকে প্রবলভাবে জাগ্রত করে? (জ্ঞান)
 পাক-ভারত যুদ্ধ খ পাক-চৈনিক যুদ্ধ
গ ভারত-চৈনিক যুদ্ধ ঘ পাক-আফগান যুদ্ধ
১০৯. ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুববিরোধী চেতনা জাগ্রত হয় কেন? (অনুধাবন)
ক যুদ্ধে অনেক বাঙালি নিহত হয়েছিল বলে
খ যুদ্ধে আইয়ুব খান বাংলাকে অবৈধভাবে ব্যবহার করেছিল বলে
গ যুদ্ধে বাঙালি সৈন্যদের অবহেলা করা হয়েছিল বলে
˜ যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা ছিল না বলে
১১০. ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রশাসনিক দিক থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কেন? (অনুধাবন)
 পাক-ভারত যুদ্ধের জন্য খ পাক-চৈনিক যুদ্ধের জন্য
গ পাক-আফগান যুদ্ধের জন্য ঘ পাক-শ্রীলঙ্কা যুদ্ধের জন্য
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১১১. এন.ডি.এফ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল (অনুধাবন)
র. নেজামে ইসলাম রর. ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি
ররর. কাউন্সিল মুসলিম লীগ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১১২. বাংলাদেশের ওপর ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের যুদ্ধের প্রভাবে (প্রয়োগ)
র. পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অরক্ষিত হয়ে পড়ে
রর. পূর্ব পাকিস্তানে খাদ্যসংকট দেখা দেয়
ররর. পূর্ব পাকিস্তানে দ্রব্য মূল্য অত্যধিক বেড়ে যায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১১৩. সোহরাওয়ার্দীকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ছাত্ররা (অনুধাবন)
র. ধর্মঘট ডাকে রর. ১৪৪ ধারা জারি করে
ররর. মিছিল বের করে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১১৪. ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ছাত্রদের সংবিধানবিরোধী আন্দোলনে সমর্থন ব্যক্ত করেন (অনুধাবন)
র. বুদ্ধিজীবী রর. শিক্ষক
ররর. রাজনীতিবিদদের অনেকেই
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১১৫. ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের সংবিধানে বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর কঠোর দমন নীতি চালান (অনুধাবন)
র. ইয়াহিয়া খান রর. আইয়ুব খান
ররর. মোনায়েম খান
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর  রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১১৬. এনডিএফ গঠনের উদ্দেশ্য ছিলÑ (অনুধাবন)
র. স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা রর. গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা
ররর. ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে সংবিধানে ফিরে যাওয়া
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর  রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১১৭. ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত ছিলÑ (অনুধাবন)
র. আওয়ামী লীগ রর. নেজামে ইসলাম
ররর. ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১১৮. ঈঙচ-এর অন্তর্ভুক্ত (অনুধাবন)
র. ন্যাপ রর. নেজামে ইসলাম
ররর. আওয়ামী লীগ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১১৯. ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে আইয়ুব খান ও তার দল কনভেনশন মুসলিম লীগ জয়লাভ করেন (অনুধাবন)
র. প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রর. জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে
ররর. প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১২০. ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে কাশ্মীর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে (অনুধাবন)
র. পাকিস্তান রর. আফগানিস্তান
ররর. ভারত
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১২১. ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে যুদ্ধের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে দেখা দেয়Ñ (অনুধাবন)
র. খাদ্য সংকট রর. মুদ্রাস্ফীতি
ররর. জননিরাপত্তাহীনতা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১২২. গণতন্ত্রকে উপেক্ষা করে পশ্চিম পাকিস্তানীরা শাসন করতে থাকে (অনুধাবন)
র. স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রর. একনায়কতান্ত্রিক পদ্ধতিতে
ররর. সামকিরতন্ত্রের পদ্ধতিতে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১২৩. সুমির শিক্ষক বললেন যে, ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের যুদ্ধ বাংলাদেশের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। উক্ত যুদ্ধে (প্রয়োগ)
র. পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অরক্ষিত হয়ে পড়ে
রর. পূর্ব পাকিস্তানে খাদ্যসংকট দেখা দেয়
ররর. পূর্ব পাকিস্তানে দ্রব্যমূল্য অত্যধিক বেড়ে যায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১২৪ ও ১২৫ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
তুহির এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪-৫ জন প্রার্থী মিলে একটি জোট গঠন করে। কিন্তু তারা বিপরীত প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারণার বিপক্ষে পরাজয়বরণ করেন।
১২৪. অনুচ্ছেদটিতে ইতিহাসের কোন নির্বাচনকে বোঝানো হয়েছে? (প্রয়োগ)
ক ১৯৬২ খ ১৯৬৪  ১৯৬৬ ঘ ১৯৭০
১২৫. উক্ত নির্বাচনে জোটের অন্তর্ভুক্ত ছিল (অনুধাবন)
র. নেজামে ইসলাম রর. আওয়ামী লীগ
ররর. কনভেনশন মুসলিম লীগ
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১২৬ ও ১২৭ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
মীরান তার সহপাঠীদের সাথে ভারতের একটি প্রদেশ ভ্রমণে গিয়ে জানতে পারলেন যে, একে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দুটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

 বোর্ড ও সেরা স্কুলের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন- ১  ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণ-অভ্যুত্থান

রহমত উল্লাহ ‘ক’ রাষ্ট্রের শাসক। দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে তিনি দীর্ঘ দশ বছর জনগণকে শাসন ও শোষণ করেন। এক সময় জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ করতে শুরু করে। জনগণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সকল বাঁধা উপেক্ষা করে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রহমত উল্লাহ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যান। অবশেষে গণআন্দোলনের মুখে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। [স. বো. ’১৬]
ক. পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন? ১
খ. মৌলিক গণতন্ত্রের কাঠামো কীরূপ ছিল? ২
গ. ‘উদ্দীপকে উল্লিখিত গণআন্দোলন তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ‘উদ্দীপকের জনগণের মনোভাবই দেশের স্বাধীনতা বয়ে এনেছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ কর। ৪

ক পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন ইস্কান্দার মির্জা।
খ প্রাথমিক অবস্থায় মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি চার স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা। নিম্ন থেকে উচ্চ পর্যন্ত এ স্তরগুলো ছিল : ১. ইউনিয়ন পরিষদ ২. থানা পরিষদ; ৩. জেলা পরিষদ; ৪. মৌলিক গণতন্ত্রের আওতায় পাকিস্তানের উভয় অংশে ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ মৌলিক গণতন্ত্রী নিয়ে দেশের নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হয়। তারাই প্রেসিডেন্ট, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচন করতেন।
গ উদ্দীপকে উল্লিখিত গণআন্দোলন পাঠ্যবইয়ের ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে এক দুর্বার আন্দোলন, যা ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আইয়ুব খানের পতনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের দুই অংশের মানুষ প্রথমবারের মতো একসাথে আন্দোলনে নামে এবং আইয়ুব খানের পতনের মাধ্যমে এ গণঅভ্যুত্থানের সফল সমাপ্তি ঘটে। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, ‘ক’ রাষ্ট্রের শাসকের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ঐ রাষ্ট্রের জনগণ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অনুরূপ পাকিস্তানে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে জোরপূর্বক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর নানা কৌশলে ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রয়াস চালান। সামরিক শক্তি ব্যবহার করে তিনি জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করে রাখেন। কিন্তু ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে বাধ্য হয়ে অবশেষে ২৫ মার্চ আইয়ুব খান সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। সুতরাং উদ্দীপকে উল্লিখিত গণআন্দোলন আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ঘ উদ্দীপকের জনগণের মনোভাবই দেশের স্বাধীনতা বয়ে এনেছে উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকে উলি­খিত ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থানের ফলে জনগণের মধ্যে এক জাতীয় চেতনার সৃষ্টি হয়। এ চেতনাবোধই পরবর্তীতে স্বাধীনতা অর্জনে সহায়ক হয়েছিল। তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট গণঅসন্তোষ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সামরিক বাহিনী নিয়োগ করেও পাকিস্তান সরকার তা বন্ধ করতে পারেনি। এ গণঅভ্যুত্থানের কারণে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ফেব্র“য়ারি আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করতে সরকার বাধ্য হয়। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে একতাবদ্ধ করে স্বাধীনতার আলোয় উদ্ভাসিত করে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী জনতার চাপে ২২ ফেব্র“য়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। গণআন্দোলনের মুখে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুস্তানে গ্রাম ও শহরের কৃষক ও শ্রমিকদের মাঝে শ্রেণি চেতনার উন্মেষ ঘটে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আকাক্সক্ষা বৃদ্ধি পায়। ৬ দফা এবং ১১ দফায় যে মৌলিক অধিকার ও স্বাধিকার অর্জনের লক্ষ্য ছিল তা জনগণ অর্জন করতে সক্ষম হয়। ১৯৬৯-এর গণআন্দোলন জনগণের মধ্যে এক জাতীয় চেতনাবোধ জাগ্রত করে। আর এই মনোভাবে জাতীয়তাবোধের উন্মেষের ফলে জনগণ ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।

প্রশ্ন- ২  ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ

‘ক’ দেশের ‘অ’ ও ‘ই’ দুটি প্রদেশ। দেশটির সাথে প্রতিবেশী একটি দেশের যুদ্ধ বাঁধে। যুদ্ধে প্রতিবেশী সৈন্যরা ‘অ’ অংশের দিকে অগ্রসর হলে ‘ই’ প্রদেশের সৈন্যরা সাহসিকতার সাথে লড়াই করে দেশ রক্ষা করে। কিন্তু ‘ই’ প্রদেশ থেকে যায় সম্পূর্ণ অরক্ষিত। ফলে ‘ই’ অংশের জনগণের মধ্যে সরকারবিরোধী চেতনা জাগ্রত হয়।
[হযরত শাহ আলী মডেল হাই স্কুল, মিরপুর, ঢাকা]
ক. ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী কে ছিলেন? ১
খ. ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে আইয়ুব খান কীভাবে নির্বাচিত হন? ২
গ. উদ্দীপকে পাকিস্তান আমলের কোন যুদ্ধের বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটির দুই অংশের সর্বক্ষেত্রে বৈষম্য ছিল বিশ্লেষণ কর। ৪

ক ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী ছিলেন ফাতেমা জিন্নাহ।
খ ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন আইয়ুব খান ও ফাতেমা জিন্নাহ। নির্বাচনে মৌলিক গণতন্ত্রীদের পূর্ব থেকেই আইয়ুব খান নিজের অনুক‚লে নিয়ে আসেন। জনগণ ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা প্রকাশ করে। কিন্তু নির্বাচনে আইয়ুব খান জয়ী হন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন হয়। সেখানেও আইয়ুব খানের কনভেনশন মুসলিম লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
গ উদ্দীপকে পাকিস্তান আমলের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটেছে। তৎকালীন পাকিস্তানের দুটি প্রদেশ ছিল। যথা : পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের শুরু থেকেই ভারতীয় বাহিনী প্রাধান্য লাভ করে। তারা পাকিস্তানি বাহিনীকে অপসারণ করে লাহোরের দিকে এগিয়ে যায়। পাকিস্তানিদের চরম এ দুর্দিনে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি সেনারা অসীম সাহসের সাথে যুদ্ধ করে লাহোর রক্ষা করে। এ যুদ্ধের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুববিরোধী চেতনা প্রবলভাবে জাগ্রত হয়। কারণ যুদ্ধে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, পূর্ব পাকিস্তানের কোনো প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছিল না। এ অঞ্চলটি ছিল সম্পূর্ণরূপে অরক্ষিত। অনুরূপভাবে উদ্দীপকেও দেখা যায়, ‘ক’ দেশের ‘অ’ ও ‘ই’ দুটি প্রদেশ। দেশটির সাথে প্রতিবেশী একটি দেশের যুদ্ধ বাঁধে। যুদ্ধে প্রতিবেশী সৈন্যরা ‘অ’ অংশের দিকে অগ্রসর হলে ‘ই’ প্রদেশের সৈন্যরা সাহসিকতার সাথে লড়াই করে দেশ রক্ষা করে। কিন্তু ‘ই’ প্রদেশ থেকে যায় সম্পূর্ণ অরক্ষিত। ফলে ‘ই’ অংশের জনগণের মধ্যে সরকার বিরোধী চেতনা জাগ্রত হয়। সুতরাং নিশ্চিতভাবে বলা যায়, উদ্দীপকে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
ঘ উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটি হলো তৎকালীন পাকিস্তান। তৎকালীন পাকিস্তানের দুটি প্রদেশ ছিল এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে পাকিস্তানের যুদ্ধ বেধেছিল, যার ইঙ্গিত উদ্দীপকে রয়েছে। তৎকালীন পাকিস্তানের দুই অংশের সর্বক্ষেত্রে বৈষম্য ছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক নীতি অনুসরণ করে। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের জন্মের পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করে পশ্চিম পাকিস্তানের মুখাপেক্ষী করে রাখা হয়। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচিত সরকারকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করে এবং পরবর্তী মন্ত্রিসভাগুলোকে বারবার ভেঙে দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের শাসনকার্য অচল করে রাখে। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিল পশ্চিম পাকিস্তানি। সামরিক বাহিনীর নিয়োগের ক্ষেত্রে যে কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তাতে ৬০% পাঞ্জাবি, ৩৫% পাঠান এবং ৫% পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য অংশ ও পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারণ করা হয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গৃহীত তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রথমটিতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত ব্যয় ছিল যথাক্রমে ১১৩ কোটি ও ৫০০ কোটি রুপি, দ্বিতীয়টিতে বরাদ্দ ছিল যথাক্রমে ৯৫০ কোটি রুপি ও ১৩৫০ কোটি রুপি। তৃতীয়টিতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ যথাক্রমে ৩৬% ও ৬৩%। ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দের মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ২০৮৪ মিলিয়ন রুপি এবং পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ছিল ৭৯৭ মিলিয়ন রুপি। সামাজিক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সমাজকল্যাণ ও সেবামূলক সুবিধা বেশিরভাগ পশ্চিম পাকিস্তানিরা পেত। ফলে সার্বিকভাবে পশ্চিম পাকিস্তানিদের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত ছিল। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও পশ্চিম পাকিস্তানিরা বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করে। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের বাংলা ভাষা ও সুসমৃদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতিকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রেও লিপ্ত হয়।

প্রশ্ন- ৩  ছয় দফা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ

১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে লাহোরে বিরোধী দলের এক সম্মেলন আয়োজন করা হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি কর্মসূচি পেশ করেন। পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণের বিরুদ্ধে এ কর্মসূচিটি ছিল তীব্র প্রতিবাদ আর বাঙালির অধিকার আদায়ের সনদ। [ক্যানটনমেন্ট বোর্ড আন্তবিদ্যালয়, চট্টগ্রাম]
ক. বাংলাদেশ সরকারের প্রথম অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন? ১
খ. ছয় দফাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চ‚ড়ান্ত প্রকাশ বলা হয় কেন? ২
গ. উদ্দীপকে কোন কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩ ৩
ঘ. উক্ত কর্মসূচিটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর। ৪

ক বাংলাদেশ সরকারের প্রথম অর্থমন্ত্রী ছিলেন এম. মনসুর আলী।
খ ছয় দফা আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের ফলে বাঙালি জাতির মধ্যে ঐক্যের চেতনা দৃঢ়ভাবে জাগ্রত হয়। ছয় দফাকে কেন্দ্র করে সমগ্র বাঙালি জাতি স্বাধিকার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে যা বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মোষ ঘটায়। তাই ছয় দফাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চ‚ড়ান্ত প্রকাশ বলা হয়।
গ উদ্দীপকে ছয় দফা কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে লাহোরে বিরোধী দলের এক সম্মেলন আয়োজন করা হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি কর্মসূচি পেশ করেন। এ কর্মসূচিটি ছিল পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ আর বাঙালির অধিকার আদায়ের সনদ যা ছয় দফা কর্মসূচিকে নির্দেশ করে। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে মুক্ত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্য ছিল ছয় দফা দাবি আদায়ের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা। মূলত ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ অবসানের পর পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের চরম অবহেলা, পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি সীমাহীন বৈষম্যের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু সোচ্চার হন। ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ৫-৬ ফেব্রæয়ারি লাহোরে বিরোধী দলীয় নেতারা একটি সম্মেলন আহŸান করেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু লাহোর পৌঁছান। সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ প্রস্তাব পেশ করে।
ঘ উক্ত কর্মসূচি অর্থাৎ ছয় দফা কর্মসূচির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক। ১৩ মার্চ, ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে ছয় দফা গৃহীত হবার পর বঙ্গবন্ধু ছয় দফার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন স্থানে বক্তব্য দেন। তিনি ছয় দফাকে ‘আমাদের বাঁচার দাবি’ আখ্যায়িত করেন। ফলে ছয় দফার পক্ষে দ্রæত ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে। আইয়ুব সরকার তাতে আতঙ্কিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু করে। ১০ মে, ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ৩৫০০ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গবন্ধুকে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলায় অভিযুক্ত করে ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু করে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থানের মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিতে সরকার বাধ্য হয়। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনে ছয় দফা কর্মসূচি ছিল নির্বাচনের মূল ইশতাহার। এ নির্বাচনে ছয় দফার পক্ষে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হয়। তথাপি ছয় দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭১ খিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের পর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ছয় দফা কর্মসূচির অবসান হয়। অতঃপর দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। ছয় দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের চ‚ড়ান্ত প্রকাশ। এটি ছিল বাঙালির আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক। বাঙালির মুক্তির সনদ। ফলে এর প্রতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল জনগণের স্বতঃস্ফ‚র্ত সমর্থন ছিল। ছয় দফা আন্দোলন কঠোরভাবে দমনের ফলে বাঙালি জাতির মধ্যে ঐক্যের চেতনা দৃঢ়ভাবে জাগ্রত হয়। বাঙালি তার স্বাধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন- ৪  ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা, ১৯৬৮

‘ক’ দেশের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা দেশে কিছু সামরিক কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি বৈঠক করে। পরে তিনি পার্শ্ববর্তী একটি দেশের অঙ্গরাজ্যের রাজধানীতে বসে সে দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন। দেশটির সরকার এ বিষয়ে জানতে পেরে ঐ নেতাকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
[গ্রিন ভিউ উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ]
ক. কখন ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করা হয়? ১
খ. আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন কেন? ২
গ. উদ্দীপকে ‘ক’ দেশের বিরোধী দলের মামলাটিতে পাকিস্তান আমলের কোন ঘটনার প্রতিফলন দেখা যায়? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকার এই মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় কথাটি বিশ্লেষণ কর। ৪

ক ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করা হয়।
খ ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে ছয় দফা গৃহীত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু ছয় দফার পক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন স্থানে বক্তব্য দেন। তিনি ছয় দফাকে ‘আমাদের বাঁচার দাবি’ আখ্যায়িত করেন। ফলে ছয় দফার পক্ষে দ্রæত ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে। আইয়ুব সরকার তাতে আতঙ্কিত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু করে। দিনে দিনে ছয় দফার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে আইয়ুব সরকার বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়।
গ উদ্দীপকে ‘ক’ দেশের বিরোধী দলের মামলাটিতে পাকিস্তান আমলের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রতিফলন দেখা যায়। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই পূর্ব বাংলার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানিদের বৈষম্যমূলক শাসন ক্রমেই বাড়ছিল। ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তান নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন একদল সেনাসদস্য নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করলে তাদের খ্রিষ্টাব্দে তার সশস্ত্র আন্দোলনের বিষয়ে মতবিনিময় হয়। ১৯৬৩ সালে তিনি গোপনে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় তৎকালীন কংগ্রেস নেতা ও পরবর্তীকালের ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিংহের সাথে বৈঠক করেন। তিনি শচীন্দ্রলালের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকে বার্তা পাঠিয়ে সশস্ত্র আন্দোলনে সহযোগিতা কামনা করেন। পাকিস্তান সরকার বিষয়টি জানতে পেরে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আগরতলা মামলা দায়ের করেন। অনুরূপভাবে উদ্দীপকেও দেখা যায়, ‘ক’ দেশের প্রধান বিরোধী দলের নেতা দেশে কিছু সামরিক কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি বৈঠক করেন। পরে তিনি পার্শ্ববর্তী একটি দেশের অঙ্গরাজ্যের রাজধানীতে বসে সে দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন। দেশটির সরকার এ বিষয়ে জানতে পেরে ঐ নেতাকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘ উদ্দীপকে আগরতলা মামলার কথা বলা হয়েছে। মামলার বিচারকাজ চলার সময় পাকিস্তানের উভয় অংশে আইয়ুব খান সরকার বিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি ও আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জোরদার হয়। পূর্ব পাকিস্তানের গণবিক্ষোভ ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে এসে গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরিত হয়। এরই মধ্যে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ ফেব্রæয়ারি আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ হয়ে পড়লে ১৬ ফেব্রæয়ারি ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাবাসী প্রচণ্ড ক্রোধে গর্জে ওঠে। গণঅভ্যুত্থানে যখন সারা পূর্ব পাকিস্তান উত্তাল, তখন পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ১৯ ফেব্রæয়ারি ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রাওয়ালপিন্ডিতে একটি গোলটেবিল বৈঠক আহŸান করেন। সেখানে মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বৈঠকে যোগদানের জন্য আমন্ত্রিত ছিলেন। আইয়ুব সরকার বঙ্গবন্ধুর যোগদানের জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তিদানের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মওলানা ভাসানীসহ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দাবি করে পুরো আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করার। অবশেষে আইয়ুব সরকার পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের কাছে নতিস্বীকার করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নেয়।
 মাস্টার ট্রেইনার প্রণীত সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন- ৫  ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের সামরিক শাসন ও মৌলিক গণতন্ত্র

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রফিক ও তন্ময় পাকিস্তান আমলের সামরিক শাসন সম্পর্কে আলোচনা করছিল। রফিক বলে, ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের একজন প্রেসিডেন্ট সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন। তন্ময় বলে, এর কিছুদিনের মধ্যেই আরেকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা তাকে অপসারণ করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
ক. কত খ্রিষ্টাব্দে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করা হয়? ১
খ. পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত হয় কীভাবে? ২
গ. রফিকের বক্তব্যে কোন সামরিক শাসকের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. তন্ময়ের বক্তব্যে প্রতিফলিত সামরিক শাসকের নির্বাচন কাঠামো আলোচনা কর। ৪

ক ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করা হয়।
খ ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দীকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এ খবর পূর্ব পাকিস্তানে প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ছাত্ররা সরকারবিরোধী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। ১ ফেব্রæয়ারি ছাত্ররা ধর্মঘট ডাকে এবং মিছিল বের করে। একনাগাড়ে ৫ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট চলে। এভাবেই পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
গ রফিকের বক্তব্যে সামরিক শাসক ইস্কান্দার মির্জার ইঙ্গিত রয়েছে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রফিক ও তন্ময় পাকিস্তান আমলের সামরিক শাসন সম্পর্কে আলোচনা করছিল। এ প্রসঙ্গে রফিক বলে, ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের একজন প্রেসিডেন্ট সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন। তার এ বক্তব্য তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইস্কান্দার মির্জাকে নির্দেশ করে। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন। তার সময়কালে সামরিক বাহিনী রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব রাখা শুরু করে। ইস্কান্দার মির্জা নানাভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাঁধা সৃষ্টি করেন। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন। তিনি দেশের সংবিধান বাতিল করেন, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদ ভেঙে দেন এবং মন্ত্রিসভা বরখাস্ত করেন। রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয় সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে। মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
ঘ তন্ময়ের বক্তব্যে প্রতিফলিত সামরিক শাসক হলেন জেনারেল আইয়ুব খান। কারণ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জার সামরিক শাসন জারির কিছুদিনের মধ্যে অর্থাৎ ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ অক্টোবর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল আইয়ুব খান তাকে অপসারণ করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর পাকিস্তানের শাসন ও রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেন। তিনি প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিত্যাগ করে এক অদ্ভুত ও নতুন নির্বাচন কাঠামো প্রবর্তন করেন। তার এই নির্বাচনের মূলভিত্তি ছিল ‘মৌলিক গণতন্ত্র’। মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে একধরনের সীমিত গণতন্ত্র, যাতে কেবল নির্দিষ্টসংখ্যক লোকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার ছিল। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি চার স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা। নিম্ন থেকে উচ্চ পর্যন্ত স্তরগুলো ছিল : ১. ইউনিয়ন পরিষদ (গ্রামে) এবং টাউন ও ইউনিয়ন কমিটি (শহরে), ২. থানা পরিষদ (পূর্ব বাংলায়), তহশিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে), ৩. জেলা পরিষদ, ৪. বিভাগীয় পরিষদ। এই পরিষদগুলোতে নির্বাচিত ও মনোনীত উভয় ধরনের সদস্য থাকত। মৌলিক গণতন্ত্রের আওতায় পাকিস্তানের উভয় অংশে ৪০০০০ করে মোট ৮০,০০০ মৌলিক গণতন্ত্রী নিয়ে দেশের নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হয়। নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যরা মৌলিক গণতন্ত্রী বা বিডি মেম্বার ছিল। জনগণের মৌলিক গণতন্ত্রী নির্বাচন করা ছাড়া কোনো দায়িত্ব ছিল না। বিডি মেম্বার ছিল প্রকৃত নির্বাচক। তারাই প্রেসিডেন্ট, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচন করতেন। এই মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থা ভোটে আইয়ুব খান ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

প্রশ্ন- ৬  পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য

শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে বলেন, তৎকালীন পাকিস্তান শাসনামলে পশ্চিম পাকিস্তানে শিক্ষা বিস্তারের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। পাকিস্তানের সর্বমোট ৩৫টি বৃত্তির ৩০টি পেয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তান এবং মাত্র ৫টি বরাদ্দ ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য। তিনি আরও বলেন, ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচিত সরকারকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করে।
ক. ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ অক্টোবর কে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন? ১
খ. বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন সম্পর্কে ধারণা দাও। ২
গ. উদ্দীপকে পাকিস্তান আমলের কীরূপ বৈষম্যের পরিচয় ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. শিক্ষকের বক্তব্যে যে রাজনৈতিক বৈষম্য প্রতিফলিত হয়েছে তা আলোচনা কর। ৪

ক ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।
খ শরীফ কমিশনের শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে বাষট্টির ছাত্র আন্দোলন আগস্ট মাসে আরেক নতুন রূপ লাভ করে। এ প্রতিবেদনের সুপারিশে ছাত্রদের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। ফলে কঠোর আন্দোলন শুরু হয়। এ আন্দোলন ‘বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন’ নামে পরিচিত।
গ উদ্দীপকে পাকিস্তান আমলের শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের পরিচয় ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে বর্ণিত শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে বলেন, তৎকালীন পাকিস্তান শাসনামলে পশ্চিম পাকিস্তানে শিক্ষা বিস্তারের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল এবং পাকিস্তানের সর্বমোট ৩৫টি বৃত্তির ৩০টি পেয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তান এবং মাত্র ৫টি বরাদ্দ ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য যা শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। শিক্ষা ক্ষেত্রেও বাঙালিরা বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের নিরক্ষর রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। পক্ষান্তরে পশ্চিম পাকিস্তানে শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ফলে পূর্ব পাকিস্তানে শিক্ষার উন্নয়নের কোন চেষ্টা তারা করেনি। এছাড়া বাংলার পরিবর্তে উর্দুকে শিক্ষার মাধ্যম করা বা আরবি ভাষায় বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থায় আঘাত হানতে চেয়েছিল। শিক্ষা খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি চরম বৈষম্য দেখানো হয়। ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দের মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ২০৮৪ মিলিয়ন রুপি এবং পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ছিল ৭৯৭ মিলিয়ন রুপি। পাকিস্তানের সর্বমোট ৩৫টি বৃত্তির ৩০টি পেয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তান এবং মাত্র ৫টি বরাদ্দ ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য।
ঘ শিক্ষকের বক্তব্যে যে রাজনৈতিক বৈষম্য প্রতিফলিত হয়েছে তা পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি রাজনৈতিক বৈষম্যকে নির্দেশ করে। শিক্ষকের বক্তব্য ছিল ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচিত সরকারকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করে। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের জন্মের পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করে পশ্চিম পাকিস্তানের মুখাপেক্ষী করে রাখা হয়। লাহোর প্রস্তাবে পূর্ণ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হলেও পাকিস্তানি শাসকরা প্রথম থেকেই এ বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করে। গণতন্ত্রকে উপেক্ষা করে স্বৈরতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র ও সামরিকতন্ত্রের মাধ্যমে তারা দেশ শাসন করতে থাকে। তারা পূর্ব পাকিস্তানের ওপর উপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করে সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শোষণ চালিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের সমৃদ্ধি ঘটায়। বাঙালি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ওপর দমন, নিপীড়ন চালিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবেশ অচল করে রাখে। বারবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বাংলার জাতীয় নেতাদের অন্যায়ভাবে জেলে বন্দী করে রাখে। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ বাঙালি হওয়া সত্তে¡ও পাকিস্তানের মন্ত্রিসভায় বাঙালি প্রতিনিধির সংখ্যা ছিল খুবই কম। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার জন্য পাকিস্তানি শাসকরা জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন দিতে অনীহা প্রকাশ করে। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচিত সরকারকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করে। পরবর্তী মন্ত্রিসভাগুলোকে বারবার ভেঙে দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের শাসনকার্য অচল করে রাখে। অবশেষে পাকিস্তান সরকার ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে সামরিক শাসন জারি করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়।

প্রশ্ন- ৭  পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য

দক্ষিণ সুদানের প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে অর্জিত আয়ের বৃহৎ অংশ উত্তর সুদানের উন্নয়ন কাজে ব্যয় হতো। শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দক্ষিণ সুদানের কাঁচামাল সস্তা হলেও শিল্পকারখানা বেশির ভাগ গড়ে উঠেছিল উত্তর সুদানে। রাষ্ট্রীয় কাজে দক্ষিণ সুদানের জাতিগোষ্ঠীর লোকজন সহজে নিয়োগ পেত না। এরূপ বৈষম্য উত্তর ও দক্ষিণ সুদানের জাতিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসের জš§ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বাঁধে। পরবর্তীতে সাবেক সুদান ভেঙে দক্ষিণ সুদান নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
ক. ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার প্রধান আসামি কে ছিলেন? ১
খ. পূর্ব বাংলার প্রতি সামাজিক বৈষম্য সম্পর্কে আলোচনা কর। ২
গ. কোন ধরনের বৈষম্য দক্ষিণ সুদানের ন্যায় তৎকালীন পূর্ব বাংলার জনগণকে রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়? ব্যাখ্যা কর। ৩ ৩
ঘ. উক্ত বৈষম্যগুলো ছাড়া তৎকালীন পূর্ব বাংলা আর কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়েছিল কি? মতামত দাও। ৪

ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার প্রধান আসামি।
খ পূর্ব বাংলার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের সামাজিক বৈষম্য ছিল প্রকট। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, হাসপাতাল, ডাকঘর, টেলিফোন, বিদ্যুৎ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাঙালিদের তুলনায় পশ্চিম পাকিস্তানিরা বেশি সুবিধা ভোগ করত। সমাজকল্যাণ ও সেবামূলক সুবিধা বেশিরভাগ পশ্চিম পাকিস্তানিরা পেত। ফলে সার্বিকভাবে পশ্চিম পাকিস্তানিদের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত ছিল।
গ উদ্দীপকে দক্ষিণ সুদানের ন্যায় অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য তৎকালীন পূর্ব বাংলার জনগণকে রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। মূলত পূর্ব বাংলা পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক সর্বোচ্চ বৈষম্যের শিকার হয় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। কেন্দ্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পূর্ব বাংলার সকল আয় পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সকল ব্যাংক, বিমা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সদর দফতর পশ্চিম পাকিস্তানে হওয়ায় সহজেই পাচার হয়ে যেত। এছাড়াও পাকিস্তানের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি ছিল সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাগণ। ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের মন্ত্রণালয়গুলোতে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার ৯৫৪ জনের মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ১১৯ জন। তাছাড়াও সরকারের সব দপ্তরের সদর দফতর ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি যে, এরূপ বৈষম্য উভয় জাতিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসের জš§ দেয় এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বাঁধে। এ বিষয়গুলোর সাথে তৎকালীন পূর্ব বাংলার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্যের মিল রয়েছে।
ঘ উদ্দীপকে দক্ষিণ সুদান অর্থাৎ পূর্ব বাঙালিরা আরো অনেকগুলো বৈষম্যের শিকার হয়। নিচে এ বিষয়ে আমার মতামত আলোচনা করা হলো। উদ্দীপকের সামঞ্জস্যপূর্ণ এ বিষয়গুলো ছাড়াও পূর্ব বাংলার লোকেরা আরো নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের জšে§র পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব বাংলাকে রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করে পশ্চিম পাকিস্তানের মুখাপেক্ষী রাখা হয়। বাঙালি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ওপর দমন, নিপীড়ন চালিয়ে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ অচল করে রাখে। তারা ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচিত সরকারকে উচ্ছেদ করে। এছাড়াও পূর্ব বাংলার ওপর পশ্চিম পাকিস্তানিদের বৈষম্যমূলক শাসনের আরেকটি ক্ষেত্র ছিল সামরিক বৈষম্য। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দের এক হিসাবে দেখা যায়, সামরিক বাহিনীর মোট ২২১১ জন কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ৮২ জন। তাছাড়াও ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দের মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ২০৮৪ মিলিয়ন রুপি এবং পূর্ব বাংলার জন্য ছিল ৭৯৭ মিলিয়ন রুপি। আর সমাজকালীন ও সেবামূলক সুবিধা বেশিরভাগ পশ্চিম পাকিস্তানিরা পেত। তাছাড়াও তারা বাংলা ভাষাকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে। আর বাঙালি সংস্কৃতিতে আঘাত হানার জন্য রবীন্দ্র সাহিত্যকর্ম নিষিদ্ধ করে।
প্রশ্ন- ৮  ছয় দফা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইতে বলেছে বাংলাদেশ। জবাবে পাকিস্তান বলেছে, তারা অতীতকে ভুলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। বাংলাদেশের এক বিশিষ্ট সাংবাদিক, ৭১-এর বীর মুক্তিযোদ্ধা এ প্রসঙ্গে তার অনুভ‚তি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, পাকিস্তার সৃষ্টির পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তান আমাদের যেভাবে শাসন ও শোষণ করেছে এটা ক্ষমারও অযোগ্য। বিশেষ করে ৭১-এর হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন বাঙালিরা আজীবন মনে রাখবে।
ক. আগরতলা মামলার আসামি কতজন ছিল? ১
খ. আগরতলা মামলার গুরুত্ব বর্ণনা কর। ২
গ. সাংবাদিকদের বক্তব্যে ফুটে ওঠা ক্ষমার অযোগ্য বিষয়টি পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. তুমি কি মনে কর বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্য ছিল ছয় দফা দাবি আদায়ের মাধ্যমে পূর্ব বাংলাকে উক্ত বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা? মতামত দাও। ৪

ক আগরতলা মামলার ৩৫ জন আসামি ছিল।
খ বাঙালিদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার স্মরণে আগরতলা মামলা গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেছিল। এর মাধ্যমে বাঙালি স্বার্থের মুখপাত্র ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্বীকৃত হন।
গ সাংবাদিকদের বক্তব্যে ক্ষমার অযোগ্য হিসেবে পূর্ব বাংলার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানিদের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি বৈষম্যমূলক আচরণ ফুটে উঠেছে। মূলত ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের জšে§র পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব বাংলাকে রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করে পশ্চিম পাকিস্তানের মুখাপেক্ষী করে রাখা হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ বাঙালি হওয়া সত্তে¡ও পাকিস্তানের মন্ত্রিসভায় বাঙালি প্রতিনিধির সংখ্যা ছিল খুবই কম। এছাড়াও সরকারের সব দপ্তরের সদর দফতর ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। আর সামরিক বাহিনীতেও বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল অতি নগণ্য। তাছাড়াও পূর্ব বাংলার সকল আয় পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যেত। তারা পূর্ব বাংলার শিক্ষার উন্নয়নে কোনো চেষ্টা করেনি। আর সমাজকল্যাণ ও সেবামূলক সুবিধা বেশি পেতে পশ্চিম পাকিস্তানিরা। তারা বাঙালি সংস্কৃতিকে মুছে ফেলার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছিল। তারা বাঙালি জাতিকে নিশ্চি‎হ্ন করতে চেয়েছিল, যা ক্ষমার অযোগ্য।
ঘ আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্য ছিল ছয় দফা দাবি আদায়ের মাধ্যমে পূর্ব বাংলাকে পশ্চিম পাকিস্তানের সর্বপ্রকার বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, সামরিক, সামাজিকক্ষেত্রে পাকিস্তানিরা আমাদের প্রতি যে বৈষম্য দেখিয়েছে তা সত্যিই ভোলার নয়। আর এসব বৈষম্য এবং নির্যাতনের হাত থেকে বাঙালিদের মুক্ত করার জন্যই বঙ্গবন্ধু ছয় দফা দাবি পেশ করেন।
মূলত পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে মুক্ত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ অবসানের পর পূর্ব বাংলার নিরাপত্তার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের চরম অবহেলা, পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে পূর্ব বাংলার প্রতি সীমাহীন বৈষম্যের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু সোচ্চার হন। ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ৫-৬ ফেব্রæয়ারি লাহোরের বিরোধীদলীয় নেতারা একটি সম্মেলন আহŸান করেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু লাহোরে পৌঁছেন। সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু ‘ছয় দফা’ পেশ করেন। আর এটি ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।

প্রশ্ন- ৯  ১১ দফা আন্দোলন

১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ এপ্রিল চীনের তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রদের আন্দোলন দানা বাধে। এতে ছাত্রদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে বহু ছাত্র প্রাণ হারায়। এদেশেও এরকম একটি আন্দোলন হয়েছিল যা ছাত্রদের অংশগ্রহণে শুরু হলেও পরবর্তীতে সাধারণ মানুষ একে গণআন্দোলনে রূপ দেয়।
ক. ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল কোথায়? ১
খ. মৌলিক গণতন্ত্রের দুইটি বৈশিষ্ট্য লেখ। ২
গ. উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে আমাদের দেশের কোন আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উক্ত আন্দোলন কীভাবে গণআন্দোলনের রূপ নিয়েছিল? বিশ্লেষণ কর। ৪

ক ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে যুদ্ধ বিরতির চুক্তি তাসখন্দে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
খ জেনারেল আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন। নিচে এর দুইটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো :
১. মৌলিক গণতন্ত্রে হচ্ছে এক ধরনের সীমিত গণতন্ত্র।
২. মৌলিক গণতন্ত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক লোকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার থাকে।
গ উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে আমাদের দেশের আইয়ুব খান বিরোধী ছাত্রদের ১১ দফা দাবি আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৫ জানুয়ারি ডাকসু কার্যালয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন এবং ডাকসুর যৌথ উদ্যোগে “সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠন করা হয়। এ ছাত্র সংগ্রাম ১১ দফা দাবি নিয়ে গণআন্দোলনের ডাক দেয়। এ ১১ দফায় বঙ্গবন্ধুর ছয় দফাসহ, বাক স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। অবশেষে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ জানুয়ারি পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্ররা ধর্মঘট পালন করে। এ ধর্মঘট পালনকালে পুলিশের সাথে ছাত্রদের সংঘর্ষ হয় এবং ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ২০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেলের সামনে আসাদসহ বহু ছাত্র নিহত হয়। উদ্দীপকে আমরা দেখি যে, ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ এপ্রিল চীনের তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রদের আন্দোলন দানা বাধে। এতে ছাত্রদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে বহু ছাত্র প্রাণ হারায়। এ বিষয়গুলো আইয়ুব খানবিরোধী ছাত্রদের ১১ দফা দাবি আন্দোলনের মাঝেও আমরা দেখতে পাই।
ঘ উক্ত আন্দোলনটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইয়ুব খান বিরোধী ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলন ক্রমে গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে ১১ দফা দাবি নিয়ে ছাত্ররা আন্দোলনে নামলে ২০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেলের সামনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। আসাদ হত্যার প্রতিবাদে ২৪ তারিখে সারা দেশে হরতাল চলাকালে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক ঢল নামে। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন যেন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ক্ষিপ্ত জনতা সরকারি পত্রিকা দৈনিক পাকিস্তান ও মর্নিং নিউজ অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়। ঢাকা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ২৪ জানুয়ারির পর থেকে লাগাতার আন্দোলন ও হরতালে বহুসংখ্যক মানুষ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এরপর আগরতলা মামলার অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রæয়ারি হত্যা করা হলে আন্দোলন আরও গতিময় হয়। জনতা আগরতলা মামলার বিচারপতির বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর ১৮ ফেব্রæয়ারি সেনাবাহিনী ড. শামসুজ্জোহাকে হত্যা করলে আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ধীরে ধীরে এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

প্রশ্ন- ১০  ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থান

আজ ১০ নভেম্বর। শহিদ নূর হোসেন দিবস। ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য স্বৈরশাসক এইচএম এরশাদের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করতে গিয়ে শহিদ হয়েছিলেন নূর হোসেন। হাজারও প্রতিবাদী যুবকের সঙ্গে জীবন্ত পোস্টার হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন নূর হোসেন। তার বুকে-পিঠে লেখা ছিল ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ নূর হোসেনের সাথে আরও আত্মাহুতি দেন নুরুল হুদা ও কিশোরগঞ্জের ক্ষেতমজুর নেতা আমিনুল হুদা।
ক. কত খ্রিষ্টাব্দে লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়? ১
খ. পূর্ব বাংলার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য সম্পর্কে কী জান? ২
গ. উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের কোন ঘটনার মিল আছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উক্ত ঘটনা পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয়-বক্তব্যের সাথে তুমি কি একমত? মতামত দাও। ৪

ক ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়।
খ শিক্ষাক্ষেত্রেও পূর্ব বাঙালিরা নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের নিরক্ষর রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। তারা বাংলার পরিবর্তে উর্দুকে শিক্ষার মাধ্যম করা বা আরবি ভাষায় বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানতে চেয়েছিল। আর শিক্ষা খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে পূর্ব বাংলার প্রতি চরম বৈষম্য দেখানো হয়।
গ উদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থানে আসাদুজ্জামানের মৃত্যুর ঘটনার মিল আছে। জেনারেল আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের ছাত্র অসন্তোষ এক গণআন্দোলনের রূপ নেয়। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৫ জানুয়ারি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাদের ১১ দফা দাবি পেশ করে। আর ১৮ জানুয়ারি পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে ধর্মঘট পালন করে। ধর্মঘট চলাকালীন পুলিশের সাথে ছাত্রদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ২০ জানুয়ারি তাদের ১১ দফা দাবি পেশ করে। আর ১৮ জানুয়ারি পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্ররা পূর্ব বাংলায় হরতাল পালন করে। হরতাল পালনকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে নিহত হন। আর আসাদ হত্যার প্রতিবাদে ব্যাপক কর্মসূচি পালিত হয়।
ঘ উক্ত ঘটনাটি অর্থাৎ ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থান পরর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলন রূপ নেয় বলে আমি মনে করি। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ২০ জানুয়ারি আইয়ুব খানের পতনের দাবিতে ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্ররা পূর্ব বাংলায় হরতাল পালন করেন। এ সময় পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদ নিহত হন। এ হত্যার প্রতিবাদে ২৪ তারিখে হরতাল চলাকালে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক ঢল নামে। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন যেন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। বিক্ষুব্ধ জনতা দৈনিক পাকিস্তান অফিস ও আগরতলা মামলার বিচারপতির বাসভবন আক্রমণ করে। অবশেষে তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ আইয়ুব খান সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এভাবে পূর্ব বাংলায়, আইয়ুববিরোধী আন্দোলন সফল হয়। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে গ্রাম ও শহরের কৃষক ও শ্রমিকদের মাঝে শ্রেণি চেতনার উšে§ষ ঘটে। পূর্ব বাংলার জনগণের মাঝে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আকাক্সক্ষা বৃদ্ধি পায়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ পরিপূর্ণতা লাভ করে। যাতে বলীয়ান হয়ে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করে বাঙালিরা এদেশ স্বাধীন করে।

প্রশ্ন- ১১  ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণ-অভ্যুত্থান

‘ক’ দেশটি ‘গ’ ও ‘ঘ’ দুটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত। শাসকগোষ্ঠী ‘গ’ অঞ্চলের হওয়ায় এ এলাকার মানুষ সবকিছুতে সুবিধা ভোগ করত। অন্যদিকে ‘ঘ’ অঞ্চলের মানুষ শোষিত হওয়ায় তারা স্বাধিকারের আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন উক্ত অঞ্চলের মহান নেতা ‘অ’। তার দল পরবর্তী নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হলেও শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় যুদ্ধ শুরু হয়। দীর্ঘ ৯ মাস লড়াইয়ের পর ‘ঘ’ অঞ্চলটি স্বাধীনতা লাভ করে।
ক. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনের মূল ইস্তেহার কী ছিল? ১
খ. আগরতলা মামলা কেন প্রত্যাহার করা হয়? ২
গ. উদ্দীপকের ‘ঘ’ অঞ্চলের মানুষের আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের কোন আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকের ‘অ’ নেতার ন্যায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অসামান্য অবদান রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানÑ বিশ্লেষণ কর। ৪

ক ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনের মূল ইস্তেহার ছিল ২য় দফা কর্মসূচি।
খ ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে সরকার রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ‘আগরতলা মামলা’ দায়ের করে। এই মামলা দায়েরের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে সরকারবিরোধী ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও স্বাধিকারের দাবিতে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগার দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। অবশেষে ছাত্র আন্দোলন ও গণআন্দোলনের মুখে সরকার মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়।
গ উদ্দীপকের ‘ঘ’ অঞ্চলের মানুষের আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকের ‘গ’ অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠীর শোষণ হতে রক্ষা পাবার জন্য ‘ঘ’ অঞ্চলের জনগণ মহান নেতা ‘অ’-এর নেতৃত্বে গণআন্দোলন গড়ে তোলে। তারা মূলত বিভিন্ন বৈষম্য থেকে রক্ষা পেতে এ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। একই দেশের নাগরিক হওয়া সত্তে¡ও ‘গ’ অঞ্চলের লোকজন তাদের চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। এ শোষণ-বঞ্চনাই তাদের আন্দোলন করতে বাধ্য করেছে। অনুরূপভাবে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ব-পাকিস্তানের জনগণও পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যায় শাসন শোষণের নাগপাশ থেকে মুক্তির জন্য গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেয়। পাকিস্তান সরকার অবৈধভাবে বঙ্গবন্ধুসহ বাঙালি নেতৃবৃন্দকে আগরতলা মামলার আসামি করে গ্রেফতার করে। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানের শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন করে যা তাদের একাত্মতাবোধকে বৃদ্ধি করে। পরবর্তীতে ’৭০-এর নির্বাচনে তারা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করে। একই চিত্র উদ্দীপকেও লক্ষণীয়। তাই বলা যায়, আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও পরিণতির দিক থেকে উদ্দীপকের আন্দোলন ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মিল আছে।
ঘ উদ্দীপকের মহান নেতা অ যেমন ‘ঘ’ অঞ্চলের স্বাধীনতা অর্জনে অবদান রেখেছেন, তেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসামান্য অবদান রাখেন। যে কোনো দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে হলে প্রয়োজন হয় একজন যোগ্য নেতার। উদ্দীপকের ‘ঘ’ অঞ্চলের স্বাধীনতা আন্দোলনের সেই নেতা হলেন অ। তিনি বীরত্বের সাথে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ‘ঘ’ অঞ্চলের মানুষকে ‘গ’ অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠীর শাসন ও শোষণ হতে মুক্তি দিয়েছেন; তেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার ঘোষিত ছয় দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের রূপরেখা। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকচক্রের অশুভ হাত থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে বাঁচানোর এটিই ছিল মূলমন্ত্র। শেখ মুজিবের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জনপ্রিয়তা দেখে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ভীত হয়ে পড়ে। তারা তার বিরুদ্ধে আগরতলা মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ করে রাখে। কিন্তু এতে তার জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার তাকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। ’৭০ এর জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিপুলভাবে বিজয়ী হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবেন এটা যখন নিশ্চিত ছিল তখন পাকিস্তানি শাসকদের টালবাহানায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হয়ে যায়। ফলে পূর্ব পাকিস্তান বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। এরূপ পরিস্থিতিতে তিনি ’৭১-এর ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দেন এবং প্রকারান্তরে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ২৫ মার্চ রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং শুরু হয় বাঙালিদের ওপর আক্রমণ। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের মহান নেতা ‘অ’ এর মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অসামান্য অবদান রাখেন।

 জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের কত মার্চ সংবিধান ঘোষণা করা হয়?
উত্তর : ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ১ মার্চ সংবিধান ঘোষণা করা হয়।
প্রশ্ন \ ২ \ ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে পাকিস্তানে সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয়?
উত্তর : ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ৮ জুন পাকিস্তানে সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয়।
প্রশ্ন \ ৩ \ ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের কত জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দীকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়?
উত্তর : ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দীকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।
প্রশ্ন \ ৪ \ ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দের কোন মাসে সোহরাওয়ার্দী ইন্তেকাল করেন।
উত্তর : ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে সোহরাওয়ার্দী ইন্তেকাল করেন।
প্রশ্ন \ ৫ \ কত খ্রিষ্টাব্দের শুরুতে আওয়ামী লীগ এনডিএফ থেকে বেরিয়ে আসে?
উত্তর : ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে শুরুতে আওয়ামী লীগ এনডিএফ থেকে বেরিয়ে আসে।
প্রশ্ন \ ৬ \ কখন কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ হয়?
উত্তর : ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ হয়।
প্রশ্ন \ ৭ \ ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে কার মধ্যস্থতায় ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ শেষ হয়?
উত্তর : ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী কোসিগিনের মধ্যস্থতায় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শেষ হয়।
প্রশ্ন \ ৮ \ কারা তৎকালীন পাকিস্তানের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি ছিল?
উত্তর : সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাগণ পাকিস্তানের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি ছিল।
প্রশ্ন \ ৯ \ কত খ্রিষ্টাব্দে করাচি পাকিস্তানের রাজধানী হয়?
উত্তর : ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে করাচি পাকিস্তানের রাজধানী হয়।
প্রশ্ন \ ১০ \ পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক সর্বোচ্চ বৈষম্যের শিকার হয় কোন ক্ষেত্রে?
উত্তর : পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক সর্বোচ্চ বৈষম্যের শিকার হয় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে।
প্রশ্ন \ ১১ \ ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গবন্ধু গোপনে কোথায় গমন করেন?
উত্তর : ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গবন্ধু গোপনে ত্রিপুরায় গমন করেন।
প্রশ্ন \ ১২ \ ছয় দফা ঘোষণা করেন কে?
উত্তর : ছয় দফা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
প্রশ্ন \ ১৩ \ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কত দফা দাবি নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেয়?
উত্তর : ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেয়?
প্রশ্ন \ ১৪ \ কে মৌলিক গণতন্ত্র চালু করেন?
উত্তর : আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র চালু করেন।
প্রশ্ন \ ১৫ \ কার গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর রহমান নিহত হন?
উত্তর : পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর রহমান নিহত হন।
প্রশ্ন \ ১৬ \ ১৯৫৫-১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে শিক্ষাখাতে মোট বরাদ্দের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য কত বরাদ্দ ছিল?
উত্তর : ১৯৫৫-১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে শিক্ষাখাতে মোট বরাদ্দের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ৭৯৭ মিলিয়ন রুপি বরাদ্দ ছিল।
প্রশ্ন \ ১৭ \ পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে মুক্ত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন কর্মসূচি ঘোষণা করেন?
উত্তর : পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে মুক্ত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
প্রশ্ন \ ১৮ \ পূর্ব বাংলার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ কিসের ওপর নির্ভরশীল ছিল?
উত্তর : পূর্ব বাংলার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পশ্চিম পাকিস্তানের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
প্রশ্ন \ ১৯ \ পাকিস্তান রাষ্ট্রের সকল পরিকল্পনা কোথায় প্রণীত হতো?
উত্তর : পাকিস্তান রাষ্ট্রের সকল পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় সরকারের সদর দফতরে প্রণীত হতো ।
প্রশ্ন \ ২০ \ ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের ছাত্র অসন্তোষ কার নেতৃত্বে গণ-আন্দোলনে পরিণত হয়?
উত্তর : ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের চাত্র অসন্তোষ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গণঅন্দোলনে পরিণত হয়।
প্রশ্ন \ ২১ \ ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ ফেব্রæয়ারি কাকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়?
উত্তর : ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ ফেব্রæয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হককে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
প্রশ্ন \ ২২ \ কার মুক্তির পর ঊনসত্তরের গণআন্দোলন নতুন রূপ লাভ করে?
উত্তর : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির পর ঊনসত্তরের গণআন্দোলন নতুন রূপ লাভ করে।
প্রশ্ন \ ২৩ \ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে কে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভ‚ষিত করেন?
উত্তর : ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমদ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভ‚ষিত করেন।
প্রশ্ন \ ২৪ \ ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ফরেন সার্ভিসে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব কত ছিল?
উত্তর : ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ফরেন সার্ভিসে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব ছিল মাত্র ২০.৮%।
প্রশ্ন \ ২৫ \ ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে কাকে গ্রেফতার করা হলে ভারতের কাশ্মীরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে?
উত্তর : ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে কাশ্মীরী নেতা শেখ আবদুল্লাহকে গ্রেফতার করা হলে ভারতের কাশ্মীরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশ্ন \ ২৬ \ ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে কে একদল সেনাসদস্য নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করেন?
উত্তর : ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন একদল সেনাসদস্য নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করেন।
প্রশ্ন \ ২৭ \ ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান কাকে অপসারণ করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন?
উত্তর : ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ পূর্ব পাকিস্তানে কেন মূলধন গড়ে ওঠেনি?
উত্তর : পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে পূর্ব পাকিস্তানে মূলধন গড়ে উঠতে পারেনি। এ সময় প্রাদেশিক সরকারের হাতে মুদ্রাব্যবস্থা ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণের কোনো ক্ষমতা ছিল না। কেন্দ্র সরাসরি এসব নিয়ন্ত্রণ করত বলে পূর্ব পাকিস্তানের সমুদয় অর্থ পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যেত। সকল অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানও ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। ফলে অর্থ পাচার সহজ ছিল এবং উদ্বৃত্ত অর্থ পশ্চিম পাকিস্তানে জমা ছিল, তাই পূর্ব পাকিস্তানে মূলধন গড়ে ওঠেনি।
প্রশ্ন \ ২ \ ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের পর বাঙালিদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় কেন?
উত্তর : যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয়ে স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তান সরকারের প্রতি বাঙালিদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। যুদ্ধকালীন পূর্ব পাকিস্তান অরক্ষিত ছিল। তাছাড়া এ সময় পশ্চিম পাকিস্তানসহ সমগ্র বিশ্বের সাথে পূর্ব পাকিস্তানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে মুদ্রাস্ফীতি ও খাদ্যসংকট দেখা দেয়। মোটকথা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিক নয়-এ বিষয়টি অনুধাবন করে বাঙালিদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
প্রশ্ন \ ৩ \ মৌলিক গণতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : মৌলিক গণতন্ত্র বলতে এক ধরনের সীমিত গণতন্ত্রকে বোঝায়। এ গণতন্ত্রে কেবল নির্দিষ্ট সংখ্যক লোকের প্রেসিডেন্ট, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচনের অধিকার ছিল। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে আইয়ুব খান প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিত্যাগ করে এ অদ্ভুত নির্বাচন কাঠামো চালু করেন। প্রাথমিক অবস্থায় মৌলিক গণতন্ত্র ছিল চার স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা।
প্রশ্ন \ ৪ \ পাকিস্তান আমলে বাঙালিদের চাকরি পাওয়া কঠিন ছিল কেন?
উত্তর : ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে করাচিতে রাজধানী হওয়ায় সকল সরকারি অফিস-আদালতে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ব্যাপক হারে চাকরি লাভ করলেও বাঙালিরা চাকরি পেত না। বলার অপেক্ষা রাখে না, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় সকল উচ্চপদে পশ্চিম পাকিস্তানিদের একচেটিয়া অধিকার ছিল। সরকারের সব দপ্তরের সদর দপ্তর ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে বাঙালির পক্ষে সেখানে গিয়ে চাকরি লাভ করা সম্ভব ছিল না। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা না দেওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাঙালি ছাত্রদের সাফল্য সহজ ছিল না।
প্রশ্ন \ ৫ \ পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে কী রকম বৈষম্য ছিল?
উত্তর : শিক্ষা ক্ষেত্রেও বাঙালিরা বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের নিরক্ষর রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখে। পক্ষান্তরে পশ্চিম পাকিস্তানে শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দের মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ২০৮৪ মিলিয়ন রুপি এবং পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ছিল ৯৭ মিলিয়ন রুপি। পাকিস্তানের সর্বমোট ৩৫টি বৃত্তির ৩০টি পেয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তান এবং মাত্র ৫টি বরাদ্দ ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য।

 

 

Share to help others:

Leave a Reply