নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস অধ্যায় ১৩ সত্তরের নির্বাচন এবং মুক্তিযুদ্ধ

ত্রয়োদশ অধ্যায়
 সত্তরের নির্বাচন এবং মুক্তিযুদ্ধ
বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পেছনে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের গুরুত্ব অনেক। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের পর এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে বাঙালি জাতি ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি সর্বক্ষেত্রে যে স্বাতন্ত্র্য দাবি করে আসছিল, ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে বাঙালির সে স্বাতন্ত্র্যবাদের বিজয় ঘটে। শিখনফল
 ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারবে।
 মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় অস্থায়ী সরকারের ভ‚মিকা বর্ণনা করতে পারবে।
 মুক্তিযোদ্ধাদের ভ‚মিকা মূল্যায়ন করতে পারবে।
 স্বাধীনতা ও বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ- বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে পারবে।
 জাতীয় পতাকা তৈরি এবং এর ব্যবহার কৌশল বর্ণনা করতে পারবে।
 বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত নির্ধারণের ইতিহাস বর্ণনা করতে পারবে।
 মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারবে।
 মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব অনুধাবন করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।
 জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় সচেতন হবে।
 মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ সংরক্ষণে আগ্রহী হবে।
 বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের ঘটনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পোস্টার অঙ্কন করতে পারবে।
 স্বাধীনতা দিবসে ছবি অঙ্কন করে প্রদর্শন করতে পারবে।
অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে জেনে রাখি

আইনগত কাঠামো আদেশ : ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে নির্বাচন-সংক্রান্ত আইনগত কাঠামো আদেশ কাঠামোর মূল ধারাগুলো ঘোষণা করেন। সেখানে তিনি মূলত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যসংখ্যা কত হবে, ভোটদানের প্রক্রিয়া কী হবে, কত দিনের মধ্য নির্বাচিত পরিষদ সংবিধান রচনা করবে এবং পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য বিশেষ কিছু দিক তুলে ধরেন। এর ভিত্তিতেই পাকিস্তানে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে ৭ ডিসেম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বর যথাক্রমে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ১২ নভেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ¡াস হওয়ায় ঐ সব অঞ্চলে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে পাকিস্তানের সামরিক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করায়, পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। সারা দেশেব্যাপী নানারকম উদ্বেগ, উত্তেজনার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল জাতির জন্য সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা। মূলত এটি ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।
২৫ মার্চের গণহত্যা : ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়। সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ, স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনগণের ওপর হামলা করে এবং নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাকিস্তান তাদের এ অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতা দিবস : গ্রেফতার হওয়ার পূর্বমুহ‚র্তে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে (২৫ মার্চ রাত ১২টার পর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এজন্যই ২৬ মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস।
১৯৭১ এ বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) : ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী গণহত্যা শুরু হলে প্রাথমিকভাবে পূর্ব প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক তৎপরতা ছাড়াই পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০ এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার। এ সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলায়। ১৯৭০-৭১ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য দ্বারা মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা ছিল এ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।
পোড়ামাটি নীতি : পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘পোড়ামাটি নীতি’ অনুযায়ী বাংলাদেশের সব সম্পদ-প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিতে চেয়েছে। যে কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকান-পাট, ঘর-বাড়ি, হাসপাতাল, মসজিদ, মন্দির কোনো কিছুই তাদের হাত থেকে রেহাই পায় নি। তাদের লক্ষ্য ছিল এই ভ‚খণ্ডের মানুষদের হত্যা করে কেবল ভ‚মির দখল নেওয়া। পাক বাহিনীকে এ সমস্ত মানবতাবিরোধী অপকর্মে সহায়তা করেছে এদেশীয় কিছু দালাল চক্র।
মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি পেশাজীবী মানুষের ভ‚মিকা : দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল মহান মুক্তিযুদ্ধ। তাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিপক্ষে কিছু মতদ্বৈধতা বা বিরোধ থাকলেও ২৬শে মার্চ থেকেই পাকবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা এদেশের জনগণকে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ করেছে। স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, নারী, শিক্ষক, কবি, সাংবাদিক, চিকিৎসক, শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ মুক্তির সংগ্রামে শামিল হয়েছে।
স্বাধীনতা অর্জনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অবদান : বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অবদান অপরিসীম। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবর্গ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। নানা অত্যাচার-নিপীড়ন সহ্য করেছেন। রাজনীতিবিদগণ স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জীবনবাজি রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে গেছেন। আর বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার সারা জীবনের কর্মকাণ্ড, আন্দোলন-সংগ্রাম নির্দেশিত হয়েছে বাঙালির জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে।
মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বজনমত ও বিভিন্ন দেশের ভ‚মিকা : ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নারকীয় তাণ্ডব বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয়। পাকিস্তানবাহিনী ও স্বাধীনতাবিরোধী এদেশীয় দোসরদের দ্বারা সংঘটিত লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে বিশ্ব বিবেক জাগ্রত হয়। বিভিন্ন দেশ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে। ২৫ মার্চের কালরাত এবং পরবর্তী সময়ের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে বিশ্বজনমত সোচ্চার হয়ে ওঠে। গোটা বিশ্বের জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে সমর্থন জানায়।
জাতিসংঘের ভ‚মিকা : বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা না দিয়ে সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান যখন বাঙালি নিধনে তৎপর, তখন জাতিসংঘ বলতে গেলে নীরব দর্শকের ভ‚মিকা পালন করে। নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে ‘ভেটো’ ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচটি বৃহৎ শক্তিধর রাষ্ট্রের বাইরে জাতিসংঘের নিজস্ব উদ্যোগে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষমতাও ছিল সীমিত।
স্বাধীন বাংলাদেশের স্বতন্ত্র পরিচয় : ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ স্বাধীনতার পূর্ণতার স্বাদে-আস্বাদিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী আমাদের এ ভ‚খণ্ডের নাম হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ; অনেক রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা। আমরা আজ গাইতে পারি ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’।
জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ : মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ প্রাণ বিসর্জনকারীর অমর স্মৃতির উদ্দেশ্যে স্বাধীন বাংলাদেশে শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেশ কিছু স্মৃতিস্তম্ভ। ঢাকার অদূরে সাভারে রয়েছে ‘জাতীয় স্মৃতিসৌধ’; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবন চত্বরে রয়েছে ‘অপরাজেয় বাংলা’; কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ’; ঢাকার মিরপুরে ‘বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ’ নির্মিত হয়েছে; সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থাপিত হয়েছে ‘শিখা চিরন্তন’; ‘রায়ের বাজার বধ্যভ‚মি’ সৌধটি দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতিবাহী।

 বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর 
১. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কতটি আসন পেয়েছিল?
ক ১৬৭ খ ১৯৮ গ ২৬৭  ২৯৮
২. ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়েছিলÑ
র. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করায়
রর. জাতীয় পরিষদের আহ‚ত অধিবেশন স্থগিত করায়
ররর. বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের ভর্তি ফি বৃদ্ধি করায়
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
উদ্দীপকটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
‘ক’ রাষ্ট্রের শাসকশ্রেণির বিরুদ্ধে জনগণের যৌক্তিক মুক্তিসংগ্রামে ‘খ’ রাষ্ট্র
‘ক’ রাষ্ট্রের অত্যাচারিত ও আশ্রয়হীন মানুষকে আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসা দিয়ে সাহায্য করে এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথাও বিশ্বের কাছে তুলে ধরে।
৩. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন রাষ্ট্রের ভ‚মিকা উদ্দীপকের ‘খ’ রাষ্ট্রের ভ‚মিকার মতো ছিল?
ক চীন  ভারত গ নেপাল ঘ মায়ানমার
৪. উক্ত রাষ্ট্রের গৃহীত কর্মকাণ্ডের ফলেÑ
র. স্বাধীনতা লাভ ত্বরান্বিত হয়
রর. মানবাধিকার রক্ষিত হয়
ররর. বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের নির্যাতনের চিত্র প্রকাশিত হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ রর ও ররর গ র ও ররর  র, রর ও ররর

 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন- ১  বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ

আধুনিক গণতান্ত্রিক বিশ্বের পথিকৃৎ আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় নাম। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, উপস্থিত বুদ্ধি, বাগ্মিতা তাঁকে বিশ্বের আদর্শ চরিত্রে প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন। এভাবে, একজন মেহনতি মানুষ নিজের প্রতিভায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদলাভে সমর্থ হয়েছিলেন। তিনি স্বার্থান্ধ মানুষের পাশবিকতার হাত থেকে মানুষকে মুক্তি দিয়েছিলেন। পৃথিবীর গণতন্ত্র ও মুক্তিকামী মানুষের জন্য তিনি তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে বলেন, ‘এড়াবৎহসবহঃ ড়ভ ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব, নু ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব, ভড়ৎ ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব’ আজও এ উক্তি তাঁকে অমর করে রেখেছে।
ক. মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নাম কী ছিল?
খ. ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত আব্রাহাম লিঙ্কনের চরিত্র ও কর্মকাণ্ডে তোমার পঠিত বিষয়বস্তুতে কার প্রতিচ্ছবি লক্ষ্য করা যায়Ñব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘গ’ এর উত্তরের ‘উক্ত নেতার বলিষ্ঠ ও আপোষহীন নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি’Ñমূল্যায়ন কর।

ক মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নাম ছিল তাজউদ্দিন আহমদ।
খ ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানিরা পূর্ববাংলার নিরস্ত্র, নিরীহ, স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করে এবং নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাকিস্তানি বাহিনী তাদের এ অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন সার্চ লাইট’। ২৫ মার্চ এ অভিযান পরিচালনা করলেও মূলত মার্চের প্রথম থেকেই তারা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করে। এ হত্যাকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ এদেশের ছাত্রসমাজ, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি যারা অসা¤প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী আর সংখ্যালঘু হিন্দু স¤প্রদায়।
গ উদ্দীপকে আব্রাহাম লিঙ্কনের চরিত্র ও কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আমার পঠিত বিষয়বস্তুতে বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি লক্ষ করা যায়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার সারা জীবনের কর্মকাণ্ড, আন্দোলন-সংগ্রাম নির্দেশিত হয়েছে বাঙালি জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে। ’৪৮ ও ৫২-র ভাষা আন্দোলনে তিনি বলিষ্ঠ ভ‚মিকা পালন করেন। কী সংসদ, কী রাজপথ, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পক্ষে তাঁর কণ্ঠ ছিল সর্বদা সোচ্চার। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান, ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ‘আমাদের বাঁচার দাবি ‘ছয় দফা’ কর্মসূচি পেশ ও ছয় দফাভিত্তিক আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন বিজয়, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের অসহযোগ আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও স্বাধীনতা অর্জনে একচ্ছত্র ভ‚মিকা পালন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উদ্দীপকেও আব্রাহাম লিঙ্কনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, উপস্থিত বুদ্ধি, বাগ্মিতা তাকে আধুনিক গণতান্ত্রিক বিশ্বের পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একজন মেহনতি মানুষ হয়েও নিজের প্রতিভায় স্বার্থান্ধ মানুষদের পাশবিকতার হাত থেকে দেশের মুক্তিকামী মানুষদের গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন, দেশে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গণতন্ত্র। ব্যক্তিস্বার্থকে উপেক্ষা করে চারিত্রিক দৃঢ়তা ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্যই বঙ্গবন্ধু তার জীবন বাজি রেখে দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে কথা বলেছিলেন, যেমন বলেছিলেন মানবতাবাদী ও আপসহীন গুণাবলির অধিকারী নেতা আব্রাহাম লিঙ্কন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত আব্রাহাম লিঙ্কনের চরিত্র এবং কর্মকাণ্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠেছে।
ঘ ‘গ’ এর উত্তরের উক্ত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার সারা জীবনের কর্মকাণ্ড, আন্দোলন সংগ্রাম নির্দেশিত হয়েছে বাঙালি জাতির মুক্তির লক্ষ্যে। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ শুরু থেকেই শোষিত ও বঞ্চিত ছিল। বঞ্চিত পূর্ব পাকিস্তানের নেতারা ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে জয়লাভ করেও ক্ষমতায় বসতে পারেননি। এরপর বঙ্গবন্ধুর প্রচেষ্টায় ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে জয়লাভ করেও তারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারেনি। উপরন্তু বাঙালিদের ওপর নানা অত্যাচার, নির্যাতন ও গুলিবর্ষণ করা হয়। এরই প্রতিবাদে বঞ্চিত বাঙালি জাতির মুক্তির আহŸান হিসেবে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দেন, বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আস্থাবান হয়ে এবং তার জ্বালাময়ী বক্তৃতার অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত হয়েই বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্ন বুনতে শুরু করে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে, শত্রæপক্ষকে পরাজিত করতে এবং স্বাধীন জাতি হিসেবে বাঙালির মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। বঙ্গবন্ধুর মুখনিঃসৃত এ বাণী তৎকালীন সময়ে বাঙালির ঘরে ঘরে জ্বালিয়ে দিয়েছিল প্রতিবাদের মশাল। বাঙালিকে দাবি আদায়ের সংগ্রামে এবং স্বাধীনতা লাভে তার এ উক্তি গভীর প্রভাব রেখেছিল। তাই বলা যায়, বঙ্গবন্ধু বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্বেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।

 বোর্ড ও সেরা স্কুলের বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১. বাংলাদেশের পতাকা কত তারিখে প্রথম উত্তোলন করা হয়? [স. বো. ’১৬]
 ২ মার্চ ১৯৭১ খ ৩ মার্চ ১৯৭১
গ ৪ মার্চ ১৯৭১ ঘ ৫ মার্চ ১৯৭১
২. সম্রাট আকবরের সময় বাংলার পরিচয় বহন করে কোনটি? [স. বো. ’১৬]
ক বাঙ্গালাহ্ খ সমতট গ ত্রিপুরা  সুবাহ বাংলা
৩. মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে গঠিত হয়?
[স. বো. ’১৫]
ক ৪ এপ্রিল খ ৮ এপ্রিল  ১০ এপ্রিল ঘ ১৭ এপ্রিল
৪. মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কোলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয় কেন? [স. বো. ’১৫]
ক ভারত সরকারের আমন্ত্রণে
 পাক বাহিনীর হামলা থেকে রক্ষা পেতে
গ সোভিয়েত ইউনিয়নের পরামর্শে
ঘ শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে
৫. আইনগত কাঠামো আদেশ জারি করেন কে?
[মীরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরী ইনষ্টিটিউট, ঢাকা]
 ইয়াহিয়া খান খ আইয়ুব খান
গ মোনায়েম খান ঘ নুরুল আমিন
৬. নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতীক কী ছিল?
[শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট]
ক কুলা খ শাপলা
 নৌকা ঘ লাঙ্গল
৭. কোন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে?
[আল আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজ, চাঁদপুর]
ক ১৯৫৬ খ ১৯৬০ গ ১৯৬৯  ১৯৭০
৮. জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ দলের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হওয়া ন্যায়সংগত ছিল কেন? [রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজ]
 নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায়
খ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করায়
গ অর্থনৈতিক ও অন্যান্য বৈষম্য দূর করায়
ঘ সার্বভৌম ও পার্লামেন্ট পরিবর্তন হওয়ায়
৯. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের পর থেকে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অস্থিরতা সৃষ্টি হয় কেন?
[বি. কে. জি. সি. সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হবিগঞ্জ]
ক নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ওঠে বলে
 ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে টালবাহানা হয় বলে
গ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে রাজনৈতিক দল ব্যর্থ হলে
ঘ সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে
১০. স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
[পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ]
 ১ মার্চ, ১৯৭০ খ ২ মার্চ, ১৯৭০
গ ৩ মার্চ, ১৯৭০ ঘ ১ ফেব্র“য়ারি, ১৯৭১
১১. জাতির জন্য সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা হিসেবে নিচের কোনটি অধিক যুক্তিযুক্ত? [ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড আন্তঃবিদ্যালয়, ঢাকা]
 ৭ মার্চের ভাষণ খ ভাষা আন্দোলন
গ ৭০ এর নির্বাচন ঘ স্বাধীনতা ঘোষণা
১২. ৭ মার্চের ভাষণ দেওয়া হয় কোথায়?
[আজিমপুর গভ. গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা]
ক ভিক্টোরিয়া পার্কে খ শিশু পার্কে
 রেসকোর্স ময়দানে ঘ রমনা পার্কে
১৩. ঢাকায় গণহত্যা শুরু হয় কী নামে? [পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ, কুষ্টিয়া]
 অপারেশন সার্চলাইট খ অপারেশন রেবল হান্ট
গ অপারেশন ক্লিনহার্ট ঘ অপারেশন ডেজার্ট স্ট্রম
১৪. ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বলতে কী বোঝায়?
[রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজ]
ক বর্বরতম গণহত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন
 বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা
গ অপারেশন পুলিশ ক্যাম্প
ঘ পিলখানার বিডিআর ক্যাম্প
১৫. ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে অস্থায়ী সরকার কেন গঠিত হয়েছিল?
[মোহাম্মদপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা]
 মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য
খ রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা দূর করার জন্য
গ অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য
ঘ প্রশাসনিক বৈষম্য দূর করার জন্য
১৬. বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় কখন?
[সেন্ট জোসেফস উচ্চ বিদ্যালয়, খুলনা]
ক ৯ এপ্রিল, ১৯৭১  ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
গ ১৫ এপ্রিল, ১৯৭১ ঘ ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
১৭. মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিল?
[বিএএফ শাহীন কলেজ, তেজগাঁও,ঢাকা]
 মনসুর আলী খ আবদুর রব
গ এম কামরুজ্জামান ঘ তাজউদ্দিন
১৮. মুজিবনগর সরকার গঠনের কত ঘণ্টা পর সেখানে পাক বাহিনী বোমা বর্ষণ করে? [ভিকারুন নিসা নূন স্কুল ও কলেজ, ঢাকা]
ক ১  ২ গ ৩ ঘ ৪
১৯. মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
[আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নেত্রকোনা]
ক এম মনসুর আলী খ এ. কে খোন্দকার
গ সৈয়দ নজরুল ইসলাম  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
২০. মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নাম কী?
[এমএম মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ]
ক এ. কে খোন্দকার খ সৈয়দ নজরুল ইসলাম
 তাজউদ্দিন আহমদ ঘ মনসুর আলী
২১. মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিল?
[বিএএফ শাহীন কলেজ, তেজগাঁও,ঢাকা]
 মনসুর আলী খ আবদুর রব
গ এম কামরুজ্জামান ঘ তাজউদ্দিন
২২. ছাত্ররা মুক্তিযুদ্ধের সময় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে গিয়েছিল কেন?
[বি.কে. জি.সি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, হবিগঞ্জ]
 যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য খ যুুদ্ধের ভয়ে
গ পাকিস্তানি বাহিনীর চাপে ঘ সুষ্ঠুভাবে পড়াশোনার জন্য
২৩. মুক্তিযুদ্ধে কৃষকদের অবদান ছিল কেমন?
[পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ, বগুড়া]
ক হতাশাজনক খ প্রশ্নবিন্ধ
গ ভ‚মিকা ছিল না  অত্যন্ত গৌরবময়
২৪. কৃষকরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত ছিলেন কেন?
[মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় ময়মনসিংহ]
ক ভ‚মিস্বত্ব প্রথা লোপের জন্য খ পাকিস্তান সরকার গঠনের জন্য
 স্বাধীনতা লাভের জন্য ঘ সূর্য আইন বন্ধ করার জন্য
২৫. মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ কতজন নারী বীরপ্রতীক খেতাব অর্জন করেন? [আন্তঃক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাইস্কুল, বগুড়া]
 ২ খ ৩ গ ৪ ঘ ৫
২৬. বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় কোন দেশ?
[সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স হাই স্কুল, ঢাকা]
ক নেপাল  ভারত গ ভুটান ঘ মালদ্বীপ
২৭. জর্জ হ্যারিসন কীভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করে?
[আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নেত্রকোনা]
 মুক্তিবাহিনীর পক্ষে গান গেয়ে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করে
খ সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে
গ বাংলাদেশে অস্ত্র পাচার করে
ঘ বাঙালিদের যুদ্ধে অনুপ্রাণিত করে
২৮. বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার ডিজাইনার কে?
[ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়]
ক মঈনুল হোসেন  শিবনারায়ণ দাস
গ কামরুল হাসান ঘ হামিদুর রহমান
২৯. জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি কে?
[আলী আমজাদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মৌলভীবাজার]
 মঈনুল হোসেন খ আজিজুল পাশা
গ তানভির করিম ঘ নিতুন কুন্ডু
৩০. জাতীয় স্মৃতিসৌধের উচ্চতা কত ফুট?
[পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ, কুষ্টিয়া]
 ১৫০ ফুট খ ১৫২ ফুট গ ১৫৩ ফুট ঘ ১৫৪ ফুট
৩১. জাতীয় স্মৃতিসৌধের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
[আহম্মদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল ও কলেজ, গাইবান্ধা]
ক ১৯৮০ খ ১৯৮১  ১৯৮২ ঘ ১৯৮৩
৩২. অপরাজেয় বাংলা কত ফুট উঁচু? [সেন্ট জোসেফস উচ্চ বিদ্যালয়, খুলনা]
ক ৫ খ ৭  ৬ ঘ ১০
৩৩. অপরাজেয় বাংলার স্থপতি কে? [সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স হাই স্কুল, ঢাকা]
 সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ খ নিতুন কুন্ডু
গ কামরুল হাসান ঘ অন্তু করিম
৩৪. মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ কোথায় অবস্থিত?
[এস.ভি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ]
ক কুষ্টিয়া  মেহেরপুর গ যশোর ঘ খুলনা
৩৫. মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে কয়টি দেয়াল আছে?
[মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় ময়মনসিংহ]
ক ২০  ২৪ গ ৩০ ঘ ৩৫
৩৬. অসংখ্য বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয় কত তারিখে?
[মুকুল নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ]
ক ১৩ ডিসেম্বর  ১৪ ডিসেম্বর
গ ১৫ ডিসেম্বর ঘ ১৬ ডিসেম্বর
৩৭. শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ কোথায় অবস্থিত?
[দি বাডস রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, শ্রীমঙ্গল]
 ঢাকার মিরপুরে খ ঢাকার সাভারে
গ ময়মনসিংহ এর ভালুকায় ঘ গোপালগঞ্জে
৩৮. শিখা চিরন্তন কোথায় স্থাপিত হয়?
[এসএম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ]
ক জিয়া উদ্যানে  সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
গ কলাবাগানে ঘ ধানমন্ডিতে
৩৯. শিখা চিরন্তন কত তারিখে স্থাপিত হয় [পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ, কুষ্টিয়া]
ক ২৫ মার্চ ১৯৯৭  ২৬ মার্চ ১৯৯৭
গ ২৭ মার্চ ১৯৯৭ ঘ ২৮ মার্চ ১৯৯৭
৪০. কত তারিখে রায়েরবাজার বদ্ধভ‚মির পরিচয় পাওয়া যায়?
[আল-আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজ, চাঁদপুর]
 ১৮ ডিসেম্বর খ ১৬ সেপ্টেম্বর গ ১৪ জুন ঘ ১২ মে
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৪১. অপরাজেয় বাংলার ক্ষেত্রে মিল রয়েছে [স. বো. ’১৬]
র. উচ্চতা ১২ ফুট রর. প্রস্থ ৬ ফুট
ররর. ব্যাস ৬ ফুট
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ রর ও ররর গ র ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৪২. ‘অপারেশন সার্চলাইট’ এর লক্ষ্য ছিল
[মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরী ইনস্টিটিউট, ঢাকা]
র. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রর. ছাত্র সমাজ
ররর. শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৪৩. মুজিবনগর সরকার মিশন স্থাপন করে
[ভিকারুন নিসা নূল স্কুল ও কলেজ, ঢাকা]
র. কলকাতায় রর. ওয়াশিংটনে ররর. স্টকহোম
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
৪৪. মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন- [বি. এএফ শাহীন কলেজ, চট্টগ্রাম]
র. বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রর. স্কুলের ছাত্ররা
ররর. কলেজের ছাত্ররা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৪৫. জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাঙালির [ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড আন্তঃবিদ্যালয়, ঢাকা]
র. অহংকার রর. গৌরব ররর. মর্যাদার প্রতীক
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৪৬, ৪৭ ও ৪৮ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
উদয়ন সঞ্চয়ী সমিতির নির্বাচনের সময় হলেও বর্তমান কমিটির লোকেরা নির্বাচন না দিয়ে নানা বাহানা করে। সমিতির সদস্যদের চাপে নির্বাচন দিলে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা না ছাড়ার জন্য নানা ধরনের চক্রান্ত করে।
[সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বি-বাড়িয়া]
৪৬. আলোচ্য ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নির্বাচনটি কোন ঘটনার কারণে অনুষ্ঠিত হয়?
ক ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন খ এরশাদ বিরোধী আন্দোলন
গ ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান  ইয়াহিয়া বিরোধী আন্দোলন
৪৭. অনুচ্ছেদের সাথে ঐতিহাসিক কত সালের নির্বাচনের মিল রয়েছে?
ক ১৯৫৪  ১৯৭০ গ ১৯৭৪ ঘ ১৯৯০
৪৮. উক্ত নির্বাচনের চেতনার ফলশ্রæতিতে বাঙালি পায়
র. স্বাধীনতা রর. সার্বভৌমত্ব ররর. স্বৈরতন্ত্র
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৪৯ ও ৫০ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
তাহমিনার দাদা কালুঘাট বেতারকেন্দ্রের একজন প্রাক্তন কর্মচারী। তিনি বলেন, বাংলার এক শ্রেষ্ঠ সন্তান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে গেলে এ বেতারকেন্দ্র থেকে এম এ হান্নান তা প্রচার করেন। [এইচ এমপি উচ্চ বিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ]
৪৯. তাহমিনা কোন শ্রেষ্ঠ সন্তানের নাম জানতে পারেন?
ক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী খ মওলানা ভাসানী
 শেখ মুজিবুর রহমান ঘ এ কে ফজলুল হক
৫০. অনুচ্ছেদে উল্লিখিত ঘোষণাটির প্রতি সমর্থন ও অংশগ্রহণ ছিল বাঙালি-
র. সামরিক বাহিনীর রর. আধাসামরিক বাহিনীর
ররর. বেসামরিক বাহিনীর
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
 বিষয়ক্রম অনুযায়ী বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
 ভ‚মিকা  বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ১৭২
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৫১. পাকিস্তানে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন কে? (জ্ঞান)
ক আইয়ুব খান  ইয়াহিয়া খান
গ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘ টিক্কাখান
৫২. কারা ক্ষমতা ধরে রাখতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে? (জ্ঞান)
ক ভারত সরকার  পাকিস্তান সরকার
গ ব্রিটিশ সরকার ঘ পূর্ব পাকিস্তান সরকার
৫৩. কখন বাংলাদেশ শত্রæর দখলমুক্ত হয়? (জ্ঞান)
ক ২৫ মার্চ খ ২৬ মার্চ গ ১৪ ডিসেম্বর  ১৬ ডিসেম্বর
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৫৪. ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণঅভ্যুত্থানের কারণ (প্রয়োগ)
র. পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বৈষম্যমূলক আচরণ
রর. পুর্ব পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দের ওপর নিপীড়ন
ররর. ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচন ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ; এবং আইনগত কাঠামো আদেশ
 বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ১৭২
 নির্বাচন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রæতি দেন ইয়াহিয়া খান।
 সকল রাজনৈতিক তৎপরতার অনুমতি দেয়া হয় ১লা জানুয়ারি ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে।
 নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয় বিচারপতি আবদুস সাত্তারের নেতৃত্বে।
 ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬২টি আসনের মধ্যে পায় ১৬০টি আসন।
 ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ছাত্রলীগ নেতারা।
 বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় ২ মার্চ।
 ৩ মার্চ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
 ৫ দফা দাবিকে বলা হয় স্বাধীনতার ইশতিহার।
 স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুত্থানে গুরুত্ব অনেক ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে।
 ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের পর অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন ছিল ১৯৭০-এর নির্বাচন।
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৫৫. ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে ক্ষমতা ছাড়ার প্রতিশ্রæতি দেন? (জ্ঞান)
ক ২৫ মার্চ  ২৬ মার্চ গ ২৭ মার্চ ঘ ২৮ মার্চ
৫৬. ইয়াহিয়া খান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন কত খ্রিষ্টাব্দে? (জ্ঞান)
ক ১৯৬৮ খ ১৯৬৯  ১৯৭০ ঘ ১৯৭১
৫৭. পাকিস্তান আমলে সকল প্রকার বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয় কত খ্রিষ্টব্দে? (জ্ঞান)
ক ১৯৬৭ খ ১৯৬৮  ১৯৭০ ঘ ১৯৭১
৫৮. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়? (জ্ঞান)
ক ২ নভেম্বর খ ৭ নভেম্বরর  ৭ ডিসেম্বর ঘ ১৭ ডিসেম্বর
৫৯. পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন হয় কত তারিখে? (জ্ঞান)
 ১৭ ডিসেম্বর খ ১৮ ডিসেম্বর গ ১৯ ডিসেম্বর ঘ ২০ ডিসেম্বর
৬০. পশ্চিম পাকিস্তানের ইউনিট ভেঙ্গে সাবেক প্রদেশগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয় কত তারিখে? (অনুধাবন)
 ১ জুলাই খ ৩ জুলাই গ ১ জুন ঘ ৩ জুন
৬১. ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ জানুয়ারি কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়? (জ্ঞান)
 প্রাদেশিক নির্বাচন খ সামরিক নির্বাচন
গ সংসদ নির্বাচন ঘ ইউনিয়ন নির্বাচন
৬২. পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা কত ছিল? (জ্ঞান)
ক ৩০০ খ ৩১২  ৩১৩ ঘ ৩২০
৬৩. আইনগত কাঠামো আদেশে ৫টি প্রাদেশিক পরিষদের জন্য কতজন সদস্যদের কথা বলা হয়? (জ্ঞান)
ক ৬১৬ খ ৬২০  ৬২১ ঘ ৬২২
৬৪. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের মহিলা আসন ছিল কতটি? (জ্ঞান)
 ৭ খ ৮ গ ৯ ঘ ১০
৬৫. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের মোট আসন সংখ্যা ছিল কত? (জ্ঞান)
ক ১৬২  ১৬৯ গ ৩০০ ঘ ৩১৩
৬৬. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ আসন ছিল কত? (জ্ঞান)
ক ১৬২ খ ১৬৯  ৩০০ ঘ ৩১৩
৬৭. পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের মহিলা আসন ছিল কতটি? (জ্ঞান)
ক ৫০ খ ৩০ গ ২০  ১০
৬৮. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পাঞ্জাবের মোট আসন ছিল কতটি? (জ্ঞান)
ক ১৮৫  ১৮৬ গ ১৮৭ ঘ ১৮৮
৬৯. পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে মহিলা আসন সংখ্যা কতটি ছিল? (জ্ঞান)
ক ১০ খ ১২  ১৩ ঘ ১৪
৭০. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে ভোটের কোন নীতি গ্রহণ করা হয়? (জ্ঞান)
ক এক ব্যক্তি দুই ভোট  এক ব্যক্তি এক ভোট
গ এক ব্যক্তি তিন ভোট ঘ এক ব্যক্তি একাধিক ভোট
৭১. ইয়াহিয়া খানের ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের কোন মাসে ভোটার তালিকা তৈরি হবে বলে বলা হয়? (জ্ঞান)
ক মে  জুন গ জুলাই ঘ আগস্ট
৭২. জাতীয় পরিষদের অধিবেশন কতদিন ধার্য করা হয়? (অনূধাবন)
ক ১১০  ১২০ গ ১২২ ঘ ১৩০
৭৩. আইনগত কাঠামো আদেশের কত নং ধারায় সংবিধানের মূল ছয়টি নীতি বেঁধে দেয়ার কথা বলা হয়? (জ্ঞান)
ক ১৫  ২০ গ ২৫ ঘ ৩০
৭৪. আইনগত কাঠামো আদেশ জারি করেন কে? (জ্ঞান)
ক আইয়ুব খান খ মোনায়েম খান
গ নাজিমুদ্দিন  ইয়াহিয়া খান
৭৫. ইয়াহিয়া খানের ঘোষণা অনুযায়ী কত খ্রিষ্টাব্দে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়? (জ্ঞান)
 ১৯৬৯ খ ১৯৭০ গ ১৯৭২ ঘ ১৯৭৩
৭৬. বিচারপতি আব্দুস সাত্তার কোথাকার বিচারপতি ছিলেন? (জ্ঞান)
 সুপ্রিম কোর্ট খ হাইকোর্ট গ জজকোর্ট ঘ সাধারণ কোর্ট
৭৭. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের জন্য কার নেতৃত্বে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়? (জ্ঞান)
ক বিচারপতি সাহাবুদ্দিন  আব্দুস সাত্তার
গ হাবিবুর রহমান ঘ বিচারপতি সায়েস
৭৮. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের জন্য সর্বজনীন ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয় কার নেতৃত্বে? (জ্ঞান)
ক আব্দুল জলিল খ হাবিবুর রহমান
গ এম.এ সায়েম  আবদুস সাত্তার
৭৯. ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ভোটার সংখ্যা কত ছিল? (জ্ঞান)
ক ৩, ১২, ১৪, ৯২৮ খ ৩, ১২, ১৪, ৯৩০
গ ৩, ১২, ১৪, ৯৩৩  ৩, ১২, ১৪, ৯৩৫
৮০. ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে পশ্চিম পাকিস্তানের ভোটার সংখ্যা কত ছিল? (জ্ঞান)
 ২, ৫২, ০৬, ২৬৩ খ ২, ৫২, ০৬, ২৬৪
গ ২, ৫২, ০৬, ২৬৫ ঘ ২, ৫২, ০৬, ২৬৭
৮১. কে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন? (জ্ঞান)
 শেখ মুজিবুর রহমান খ এম এ সাত্তার
গ ইয়াহিয়া খান ঘ টিক্কা খান
৮২. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো পৃথকভাবে প্রার্থী মনোনীত করে কেন? (অনুধাবন)
ক মুসলিম লীগ এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায়
 আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায়
গ জোটগত নির্বাচন করতে সরকারি বিধিনিষেধ থাকায়
ঘ কোনো দল উদ্দেশ্য নিয়ে ঐকমত্যে আসতে না পারায়
৮৩. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে মোট কতজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন? (জ্ঞান)
ক ৭০০  ৭৮১ গ ৭৮২ ঘ ৭৮৩
৮৪. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংখ্যা কত ছিল? (জ্ঞান)
ক ১৬০  ১৬২ গ ১৬৪ ঘ ১৬৫
৮৫. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের কতজন প্রার্থী ছিল? (জ্ঞান)
ক ৬৭ খ ৬৮  ৬৯ ঘ ৭০
৮৬. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ আসন পেয়েছিল কতটি? (জ্ঞান)
ক ১৫০ খ ১৫৫  ১৬০ ঘ ১৮০
৮৭. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে মহিলা আসন পেয়েছিল কতটি? (জ্ঞান)
 ৭ খ ৮ গ ৯ ঘ ১০
৮৮. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের জাতীয় পরিষদের সদস্যদের কী নামে অভিহিত করা হতো? (জ্ঞান)
 এমএনএ খ এমপি গ এমএন ঘ এসও
৮৯. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের কী বলা হতো? (জ্ঞান)
ক এমএনএ  এমপিএ
গ এম এন ঘ এমও
৯০. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ভোটের ফলাফলে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে শতকরা কত ভাগ ভোট পায়? (জ্ঞান)
ক ৭০.৭১% খ ৭৪.১০%
 ৭৫.১০% ঘ ৮০.১%
৯১. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক পরিষদে কত ভাগ ভোট পায়? (জ্ঞান)
 ৭০.৪৮% খ ৭০.৫০% গ ৭০.৬০% ঘ ৭০.৭০%
৯২. কে আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে গড়িমসি করেন? (জ্ঞান)
ক এম এ সাত্তার খ টিক্কা খান
 ইয়াহিয়া খান ঘ ইসকান্দার মির্জা
৯৩. জাতীয় পরিষদের অধিবেশন কে স্থগিত ঘোষণা করেন? (জ্ঞান)
ক জুলফিকার আলী ভুট্টো খ টিক্কা খান
গ ফজলুল হক  ইয়াহিয়া খান
৯৪. কত তারিখে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করা হয়? (জ্ঞান)
 ১ মার্চ, ১৯৭১ খ ১ মে, ১৯৭০
গ ১ জুলাই, ১৯৭১ ঘ ১ আগষ্ট, ১৯৭০
৯৫. স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে? (অনুধাবন)
 ১ মার্চ ১৯৭০ খ ২ মার্চ ১৯৭০
গ ৩ মার্চ ১৯৭০ ঘ ৪ মার্চ ১৯৭০
৯৬. ২ মার্চ ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে দেশব্যাপী ধর্মঘট আহŸান করেন কারা? (জ্ঞান)
ক গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ খ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
 স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঘ সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
৯৭. কত তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়? (জ্ঞান)
ক ১ মার্চ  ২ মার্চ গ ৩ মার্চ ঘ ৪ মার্চ
৯৮. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মার্চ ছাত্রলীগ কোথায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে? (জ্ঞান)
 পল্টন ময়দানে খ চন্দ্রিমা উদ্যানে
গ জিয়া উদ্যানে ঘ মুজিবনগরে
৯৯. ছাত্রলীগের ৫ দফা কী নামে পরিচিত ছিল? (জ্ঞান)
ক মুক্তি সংগ্রাম  স্বাধীনতার ইশতেহার
গ মুক্তির সনদ ঘ বাংলা প্যাক্ট
১০০. কে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন? (জ্ঞান)
ক মওলানা ভাসানী খ আতাউল উসমানী
গ শেরে বাংলা ফজলুল হক  শেখ মুজিবুর রহমান
১০১. ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের পর সবচেয়ে বেশি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ছিল কোনটি? (জ্ঞান)
ক ৫৮’র নির্বাচন খ ৬২’র নির্বাচন
গ ৬৮’র নির্বাচন  ৭০’র নির্বাচন
১০২. জারিফের পিতা জারিফকে বলল, বাংলাদেশ সৃষ্টির পূর্বে একটি নির্বাচন হয়েছিল, যেটি ছিল সবচেয়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। এখানে কত সালের নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে? (প্রয়োগ)
ক ১৯৫৪ খ ১৯৬৬ গ ১৯৬৯  ১৯৭০
১০৩. বাঙালি স্বাতন্ত্র্যবাদের বিজয় ঘটে কত খ্রিষ্টাব্দে? (জ্ঞান)
ক ১৯৬৭ খ ১৯৬৮ গ ১৯৬৯  ১৯৭০
১০৪. কত খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে? (জ্ঞান)
 ১৯৭০ খ ১৯৭১ গ ১৯৭৩ ঘ ১৯৭৪
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১০৫. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের আইনগত কাঠামো আদেশের অন্তর্ভুক্ত ছিলÑ (অনুধাবন)
র. জুন মাসের মধ্যে ভোটার তালিকা তৈরি
রর. জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধি হবে মোট ৩১৩ জন
ররর. প্রাদেশিক পরিষদের মোট সদস্য হবে ৬২১ জন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
১০৬. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল হচ্ছেÑ (অনুধাবন)
র. জামায়াত-ই-ইসলামী পাকিস্তান রর. নেজামে ইসলাম
ররর. পাকিস্তান মুসলিম লীগ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১০৭. ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে বাঙালি জাতির স্বাতন্ত্র্যের দাবি ছিল (অনুধাবন)
র. ভাষায় রর. সংস্কৃতিতে ররর. সাহিত্যে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর

 বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ  বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ১৭৫
 বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল জাতির জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা।
 ৭ মার্চের ভাষণ অনুষ্ঠিত হয় তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে।
 ৭ মার্চের ভাষণ শুনতে পাই ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।
 বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রাণীত করে ৭ মার্চের ভাষণ।
 এদেশে ঘরে ঘরে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয় ২৩ মার্চ।
 ৭ মার্চের ভাষণের মূল বিষয় ছিল ৪টি।
 বাঙালির উপর চরম আঘাত নেমে আসে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে।
 ২৫ মার্চের অভিযানের নাম দেয়া হয় অপারেশন সার্চ লাইট।
 ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দেন স্বাধীনতার।
 বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন মেজর জিয়াউর রহমান।
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১০৮. বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মূল বিষয় ছিল কয়টি? (জ্ঞান)
ক ৩  ৪ গ ৫ ঘ ৬
১০৯. নিচে একটি জনসভার চিত্র রয়েছে। এটি আমাদের কোন ঘটনা মনে করিয়ে দেয়? (প্রয়োগ)

ক ভাষা আন্দোলন খ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
গ ছয় দফা আন্দোলন ˜ ৭ মার্চের ভাষণ
১১০. সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে এখনও অনেক বক্তৃতা শোনা যায়। কিন্তু সেই নেতার কণ্ঠ আর শোনা যায় না। এখানে কোন নেতার কণ্ঠের কথা বলা হয়েছে? (প্রয়োগ)
ক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী খ এ. কে ফজলুল হক
গ মওলানা ভাসানী ˜ শেখ মুজিবুর রহমান
১১১. “মনে রাখবেন, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।”উক্তিটি কার? (জ্ঞান)
 শেখ মুজিবুর রহমানের খ এ. কে. ফজলুল হকের
গ আইয়ুব খানের ঘ ইয়াহিয়া খানের
১১২. ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে কী নামে প্রচারিত হয়? (জ্ঞান)
ক জনকণ্ঠ  বজ্রকণ্ঠ গ জনতার কণ্ঠ ঘ মুক্তকণ্ঠ
১১৩. ৭ মার্চের পরবর্তী সময়ে ইয়াহিয়া খান কাকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিয়োগ করেন? (জ্ঞান)
ক নুরুল আমিনকে খ আইয়ুব খানকে
 টিক্কা খানকে ঘ মীর্জা খানকে
১১৪. সত্তরের নির্বাচন পরবর্তীতে কত তারিখে সরকার সামরিক আদেশ জারি করে কর্মকর্তা কর্মচারীকে কর্মস্থলে যোগ দেয়ার নির্দেশ দেন? (জ্ঞান)
ক ৮ মার্চ খ ৯ মার্চ  ১০ মার্চ ঘ ১২ মার্চ
১১৫. ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে সামরিক আইন জারি করা হয়? (জ্ঞান)
 ১৩ মার্চ খ ১৪ মার্চ গ ১৫ মার্চ ঘ ১৬ মার্চ
১১৬. ৩৫ দফাভিত্তিক দাবিনামা জারি করেন কে? (জ্ঞান)
ক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী খ মওলানা ভাসানী
 শেখ মুজিবুর রহমান ঘ এ কে ফজুলল হক
১১৭. কত তারিখে ইয়াহিয়া খান রাজনৈতিক সমস্যা আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে ঢাকায় আসেন? (জ্ঞান)
ক ১২ মার্চ খ ১৩ মার্চ  ১৫ মার্চ ঘ ১৬ মার্চ
১১৮. ইয়াহিয়া-মুজিব আলোচনা শুরু হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে? (জ্ঞান)
ক ১৪ মাচ খ ১৫ মার্চ  ১৬ মার্চ ঘ ১৭ মার্চ
১১৯. ইয়াহিয়া-মুজিব আলোচনায় অংশ নিতে জুলফিকার আলী ভুট্টো কত তারিখে ঢাকায় আসেন? (জ্ঞান)
ক ২০ মার্চ  ২২ মার্চ গ ২৪ মার্চ ঘ ২৫ মার্চ
১২০. কত তারিখে পাকিস্তান সৈন্যরা জয়দেবপুরে নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালায়? (জ্ঞান)
ক ১৭ মার্চ খ ১৮ মার্চ  ১৯ মার্চ ঘ ২০ মার্চ
১২১. ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২২ মার্চ হঠাৎ জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকা আসেন কেন? (অনুধাবন)
ক শিক্ষা সম্মেলনে অংশ নিতে
 আলোচনায় অংশ নিতে
গ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে
ঘ পূর্ব পাকিস্তানের অভাব-অভিযোগ জানতে
১২২. পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবস কত তারিখে? (জ্ঞান)
ক ২০ মার্চ খ ২১ মার্চ গ ২২ মার্চ  ২৩ মার্চ
১২৩. ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে ইয়াহিয়া খান গোপনে ঢাকা ছাড়েন কত তারিখে? (জ্ঞান)
ক ১৫ মার্চ  ২৫ মার্চ গ ২৬ মার্চ ঘ ২৭ মার্চ
১২৪. পাকিস্তান সামরিক বাহিনীকে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ চালানোর জন্য নির্দেশ দেন কে? (জ্ঞান)
ক আইয়ুব খান  ইয়াহিয়া খান
গ টিক্কা খান ঘ নুরুল আমিন
১২৫. অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনা করা হয় কত খ্রিষ্টাব্দে? (জ্ঞান)
ক ১৯৬৯ খ ১৯৭০  ১৯৭১ ঘ ১৯৭২
১২৬. বাঙালিদের ওপর হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা তৈরি করা হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের কত তারিখে? (জ্ঞান)
ক ১৫ মার্চ  ১৭ মার্চ গ ১৮ মার্চ ঘ ১৯ মার্চ
১২৭. অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন কে? (জ্ঞান)
ক টিক্কা খান ও ইয়াহিয়া খান  টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলী
গ ভুট্টো ও মেজর ডালিম ঘ টিক্কা খান ও মেজর ডালিম
১২৮. পূর্ববাংলায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি নিরস্ত্রীকরণ শুরু হয় কত তারিখ থেকে? (জ্ঞান)
ক ১৮ মার্চ  ১৯ মার্চ গ ২১ মার্চ ঘ ২৩ মার্চ
১২৯. জয়দেবপুরে সংঘর্ষ বাধে কেন? (অনুধাবন)
 বাঙালি সৈন্যদের নিরস্ত্রীকরণের জন্য
খ গণহত্যা ও নির্যাতনের জন্য
গ অপারেশন সার্চলাইটের জন্য
ঘ অপারেশন পুলিশ ক্যাম্পের জন্য
১৩০. ‘পি.আই.এ ফ্লাইট বোয়িং’ কোন দেশের বিমানের নাম? (অনুধাবন)
 পশ্চিম পাকিস্তানের খ ভারতের
গ চীনের ঘ ইরাকের
১৩১. ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মার্চ কোন জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করা শুরু হয়? (জ্ঞান)
ক এম.ভি হাজারী  এম.ভি সোয়াত
গ এম.ভি সৈকত ঘ এম.ভি নৌ-গ্রাউন্ড
১৩২. ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চে কাকে ঢাকা শহরের দায়িত্ব দেয়া হয়? (জ্ঞান)
ক জেনারেল পীরজাদা খ জেনারেল ওমর
গ জেনারেল টিক্কা খান  জেনারেল রাও ফরমান আলী
১৩৩. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয় কত তারিখে? (জ্ঞান)
ক ২৪ মার্চ খ ২৫ মার্চ  ২৬ মার্চ ঘ ২৭ মার্চ
১৩৪. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন কত তারিখে? (জ্ঞান)
ক ২৪ মার্চ খ ২৫ মার্চ  ২৬ মার্চ ঘ ২৭ মে
১৩৫. আমরা স্বাধীনতা দিবস কত তারিখে পালন করি? (জ্ঞান)
 ২৬ মার্চ খ ২৫ মার্চ গ ১৬ মার্চ ঘ ২৫ এপ্রিল
১৩৬. বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য কী ছিল? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক বাংলাদেশের প্রধান হওয়া খ ভারতের প্রতি আনুগত্য
গ পাকিস্তানের প্রতি বিদ্বেষী ˜ বাঙালি জাতির মুক্তি
১৩৭. স্বাধীনতা ঘোষণাটি বঙ্গবন্ধু ইংরেজিতে দেন কেন? (অনুধাবন)
ক দেশের শিক্ষিত সমাজ যেন বুঝতে পারে
খ পশ্চিম পাকিস্তানিরা যেন বুঝতে পারে
 বিশ্ববাসী যেন বুঝতে পারে
ঘ সাধারণ মানুষ যেন বুঝতে না পারে
১৩৮. বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয় কোন বেতার কেন্দ্র থেকে? (জ্ঞান)
ক ঢাকা বেতার কেন্দ্র খ খুলনা বেতার কেন্দ্র
 চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ঘ রাজশাহী বেতার কেন্দ্র
১৩৯. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কে? (জ্ঞান)
ক সৈয়দ নজরুল ইসলাম  মেজর জিয়াউর রহমান
গ খন্দকার মোশতাক আহমদ ঘ তাজউদ্দিন আহমদ

 বোর্ড ও সেরা স্কুলের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন- ১  মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন সংগঠন

ছকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

[স. বো. ’১৬]
ক. মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নাম কী ছিল? ১
খ. অপারেশন ‘সার্চ লাইট’ বলতে কী বোঝ? ২
গ. ‘ই’-এর ভ‚মিকা মহান মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল অবদান রেখেছিল” ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ‘ঈ’-এর ভ‚মিকা ছিল বাঙালির জন্য ঘৃণ্য তৎপরতা”এর সপক্ষে তোমার মতামত দাও। ৪

ক মুজিব নগর সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নাম তাজউদ্দিন আহমদ।
খ ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানিরা পূর্ববাংলার নিরস্ত্র, নিরীহ, স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করে এবং নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাকিস্তানি বাহিনী তাদের এ অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন সার্চ লাইট’। ২৫ মার্চ এ অভিযান পরিচালনা করলেও মূলত মার্চের প্রথম থেকেই তারা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করে। এ হত্যাকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ এদেশের ছাত্রসমাজ, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি যারা অসা¤প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী আর সংখ্যালঘু হিন্দু স¤প্রদায়।
গ ছকটিতে ‘ই’ তথা নারীদের ভ‚মিকা মহান মুক্তিযুদ্ধে গৌরব উজ্জ্বল অবদান রেখেছিল। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তাতে নারীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফ‚র্ত। নারীরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মিছিল, মিটিং ও গণসমাবেশ করে পাকিস্তানিদের অত্যাচার আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে, খাবার দিয়ে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্র লুকিয়ে রেখে, সেবা দিয়ে নানাভাবে সহায়তা করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। যুদ্ধের নয় মাসে কয়ক লক্ষ মা-বোন পাকবাহিনীর অত্যাচারের শিকার হয়। প্রত্যক্ষ যুদ্ধেও নারীর অংশগ্রহণ কম নয়। যার কারণে তাদেরকে ‘বীরাঙ্গনা’ উপাধি দেওয়া হয়েছে।
ঘ ছকটিতে “ঈ” তথা স্বাধীনতা বিরোধীদের তৎপরতা ছিল বাঙালির জন্য ঘৃণ্য তৎপরতা। এই বিষয়েটি আমি সমর্থন করি। স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে রাজাকার বাহিনী গড়ে তুলেছিল পাকিস্তান সরকার। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে লে. জেনারেল টিক্কা খান ‘পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স’ জারি করেন। শুরুতে আনসার, মুজাহিদদের দিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়। পরে পাকিস্তানপন্থি অনেকে এই বাহিনীতে যোগ দেয়। রাজাকার বাহিনী ছাড়াও আলবদর নামে আরও একটি ভয়ঙ্কর বাহিনী ছিল। জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসঙ্ঘের সদস্যদের নিয়ে আল-বদর বাহিনী গড়ে তোলা হয়। অন্যান্য ইসলামী ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আল-শামস বাহিনী গঠিত হয়। বাঙালি বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান দায়িত্ব ছিল আল-বদর বাহিনীর ওপর। তাই এই বাহিনী ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও হিংস্র প্রকৃতির। স্বাধীনতা বিরোধীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকান-পাট, ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, মসজিদ, মন্দির ইত্যাদিতে হামলা চালায়। শুধু তাই নয় তারা এই ভ‚খণ্ডের অসংখ্য মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করতে সাহায্য করে। তাই আম মনে করি “প” তথা স্বাধীনতা বিরোধীদের তৎপরতা ছিল বাঙালির জন্য ঘৃণ্য তৎপরতা।

প্রশ্ন- ২  ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গুরুত্ব

কয়েক শত মাইল দূরে অবস্থিত রূপপুর থেকে শাসকগোষ্ঠী রসুলপুরকে শাসন ও শোষণ করত। এ বিষয়টি রসুলপুরের সচেতন নাগরিকরা মেনে নিতে পারে না। ফলে শাসকগোষ্ঠী নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। নির্বাচনে রসুলপুরের জনপ্রিয় দল ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। আইন অনুযায়ী অধিক আসনে জয় লাভ করায় রসুলপুরের পরিচালনার ভার জনপ্রিয় দলের হাতে ন্যস্ত করা উচিত। কিন্তু রূপপুরের শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা ছেড়ে দিতে টালবাহানা করলে এক সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে রসুলপুর আলাদা হয়ে যায়। [স. বো. ’১৫]
ক. বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা কে? ১
খ. মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিদের ভ‚মিকা ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকে স্বাধীনতাপূর্ব কোন নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উক্ত নির্বাচনের গুরত্ব বিশ্লেষণ কর। ৪

ক বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
খ প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। বিভিন্ন দেশে তারা মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ে পার্লামেন্ট সদস্যদের নিকট ছুটে গিয়েছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রতিনিধিদল প্রেরণ করেছেন, পাকিস্তানকে অস্ত্র গোলাবারুদ সরবরাহ না করতে সরকারের নিকট আবেদন করেছেন। এক্ষেত্রে, ব্রিটেনের প্রবাসী বাঙালিদের ভ‚মিকা বিশেষভাবে উল্লেখ্য। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে তারা কাজ করেছেন।
গ উদ্দীপকে স্বাধীনতাপূর্ব সত্তরের নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাজার মাইল ব্যবধানের পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক শাসক যখন পূর্ব পাকিস্তানের ওপর একের পর এক নিপীড়নমূলক আচরণ করে তখনই এদেশের জনগণ তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে। যার পরিণতি ছিল ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের গণ-অভ্যুত্থান। এ অভ্যুত্থানে ২৫ মার্চ আইয়ুব খান পদত্যাগ করলে তার উত্তরসূরী জেনারেল ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেন। তিনি ঘোষণা করেন জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে সামরিক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্দীপকেও দেখা যায় কয়েক শত মাইল দূরে অবস্থিত রূপপুর থেকে শাসকগোষ্ঠী রসুলপুরকে শাসন ও শোষণ করত। এ বিষয়টি রসুলপুরের সচেতন নাগরিকরা মেনে নিতে পারে না। ফলে শাসকগোষ্ঠী নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করলেও পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে গড়িমসি করে। একপর্যায়ে তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এবং শেষ পর্যায়ে এদেশের নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমণ করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলশ্রæতিতে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ শত্রæর দখলমুক্ত হয়। অতএব, নিশ্চিতভাবে বলা যায়, উদ্দীপকে স্বাধীনতাপূর্ণ সত্তরের নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে উক্ত নির্বাচন তথা সত্তরের নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। বস্তুত বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতা সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পেছনে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের পর এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে বাঙালি জাতি, ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি সর্বক্ষেত্রে যে স্বাতন্ত্র্য দাবি করে আসছিল, ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে বাঙালির সে স্বাতন্ত্র্যবাদের বিজয় ঘটে। এছাড়া পূর্বাঞ্চলের জনগণ স্বায়ত্তশাসনের যে দাবি করে আসছিল তা পশ্চিমাঞ্চলের সরকার অবৈধ বলে ঘোষণা করে। এ নির্বাচনের ফলাফলে ছয় দফাভিত্তিক স্বায়ত্তশাসনের দাবির বৈধতা প্রমাণিত হয়। সর্বোপরি ইয়াহিয়া খানের ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় আসলে তিনি তা না করে নিরীহ বাঙালির ওপর সেনাবাহিনীকে লেলিয়ে দেন। শুরু হয় বাংলার মানুষের মুক্তির সশস্ত্র সংগ্রাম, যার পরিণতিতে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্ম নেয়।

প্রশ্ন- ৩  মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের ভ‚মিকা

তারামন বিবি ও সেতারা বেগম তারা দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ব্যাপক ভ‚মিকা পালন করেছিলেন। তারা দেশের মানুষের জন্য বিভিন্নভাবে শত্রæর মোকাবিলা করেছিলেন। নিজেদের জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষের লোকজনকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছিলেন। জাতি আজও তাদের এ অবদান ভোলেনি। [মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক. মুজিবনগর সরকারের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন? ১
খ. মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীদের অপতৎপরতার ব্যাখ্যা দাও। ২
গ. তারামন বিবি ও সেতারা বেগমের কর্মকাণ্ড মহান মুক্তিযুদ্ধের কাদের অবদান স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, উক্ত নারীরা ছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদান কম নয়-মূল্যায়ন কর। ৪

ক মুজিবনগর সরকারের প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল এমএজি ওসমানী।
খ মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীদের অপতৎপরতা ছিল জঘন্যতম। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নির্যাতন, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ইত্যাদি অপরাধকর্মে পাকবাহিনীকে সহযোগিতা করেছে রাজাকার, আলবদর, আল শামস ও শান্তি কমিটি। পাক বাহিনীর ‘পোড়ামাটি নীতি’ অনুযায়ী বাংলাদেশের সব সম্পদ অর্থাৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, মসজিদ, মন্দির প্রভৃতি মানবতাবিরোধী, বাঙালি বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়িত্ব ছিল আলবদর বাহিনীর ওপর। অত্যাচার, নির্যাতন ও গণহত্যার বিশ্বস্ত সহচর ছিল শান্তি কমিটি।
গ তারামন বিবি ও সেতারা বেগমের কর্মকাণ্ড মুক্তিযুদ্ধে নারীদের গৌরবোজ্জ্বল অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মুক্তিযুদ্ধে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত তারামন বিবি ও সেতারা বেগমের মতো জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষের লোকজনকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তাতে নারীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফ‚র্ত। নারীরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মিছিল, মিটিং ও গণসমাবেশ করে পাকিস্তানিদের অত্যাচার আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে, খাবার দিয়ে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্র লুকিয়ে রেখে, সেবা দিয়ে নানাভাবে সহায়তা করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। যুদ্ধের নয় মাসে কয়েক লক্ষ মা-বোন পাকবাহিনীর অত্যাচারের শিকার হয়। প্রত্যক্ষ যুদ্ধেও নারীর অংশগ্রহণ কম নয়। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ তারামন বিবি ও ডা. সিতারা বেগম বীরপ্রতীক খেতাব অর্জন করেছেন। সারা দেশে আরও অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন রণাঙ্গনে পাকিস্তান বাহিনীর মোকাবিলা করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত দুজন নারী মুক্তিযোদ্ধার কর্মকাণ্ড মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল নারীর অবদানকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
ঘ উদ্দীপকে উল্লিখিত নারীরা ছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষের লোকজনকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। তবে নারীরা ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ নানাভাবে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তোলায় অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করে ছাত্ররা। স্বাধীনতা লাভের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত ছিলেন কৃষকেরা, মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। বেতার কেন্দ্রের সাথে যুক্ত লেখক, সাংবাদিক, শিল্পী, সুরকার, মন্ত্রী, কর্মকর্তা ও কলাকুশলী প্রত্যেকে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। প্রবাসী-বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। সুরকার আলতাফ মাহমুদ, সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, খেলোয়াড় সেলিনা পারভীন, ডা. ফজলে রাব্বি, শিক্ষক গিয়াসউদ্দিন আহমদসহ অগণিত গুণীজনের জীবনের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা। সাধারণ জনগণের সাহায্য-সহযোগিতা ও স্বাধীনতার প্রতি ঐকান্তিক আকাক্সক্ষার ফলেই মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে বাঙালির স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, নারীরা ছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরা তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

প্রশ্ন- ৪  মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন সংগঠন

জয় টেলিভিশনে মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি সিনেমা দেখছিল। সিনেমার কাহিনীতে দেখা যায়, একটি দেশের যুদ্ধের সময় সেই দেশের কবি সাহিত্যিকগণ, কবিতা, নাটক, গান ইত্যাদি রচনা করে নিজ যোদ্ধাদের সাহস যোগাচ্ছেন। [সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়]
ক. মুজিবনগর সরকারের উপরাষ্ট্রপতি কে ছিলেন? ১
খ. আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিদের ভ‚মিকা ব্যাখ্যা কর। ২
গ. জয়ের দেখা সিনেমার ঘটনাগুলো আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের ক্ষেত্রে কতটুকু সত্য? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. তুমি কি মনে কর আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ এরূপ আরও অনেক শ্রেণির মানুষের ভ‚মিকার সম্মিলিত ফসল? বিশ্লেষণ কর। ৪

ক মুজিবনগর সরকারের উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
খ প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। বিভিন্ন দেশে তারা মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ে পার্লামেন্ট সদস্যদের নিকট ছুটে গিয়েছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেছেন, পাকিস্তানকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ না করতে সরকারের নিকট আবেদন করেছেন। এক্ষেত্রে ব্রিটেনের প্রবাসী বাঙালিদের ভ‚মিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে তারা কাজ করেছেন।
গ উদ্দীপকে উল্লিখিত জয়ের দেখা সিনেমার ঘটনাটি আমাদের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে পুরোপুরি সত্য। মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক ছিল জনগণ। তথাপি যুদ্ধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মীর অবদান ছিল খুবই প্রশংসনীয়। এমনকি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও নানাভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। পত্র-পত্রিকায় লেখা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে খবর পাঠ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান, কবিতা পাঠ, নাটক, কথিকা, এম আর আখতার মুকুলের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠান এবং ‘জল্লাদের দরবার’ ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। এসব অনুষ্ঠান রণক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের মানসিক শক্তি যুগিয়েছে ও সাধারণ জনগণকে শত্রæর বিরুদ্ধে দুর্দমনীয় করেছে। তাদের ত্যাগের বিনিময়ে এদেশ শত্রæমুক্ত হয়েছে। উদ্দীপকেও দেখা যায়, জয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি সিনেমা দেখছিল। সিনেমার কাহিনীতে বাংলাদেশের একটি দেশের যুদ্ধের সময় সেই দেশের কবি, সাহিত্যিকগণ কবিতা, নাটক, গান ইত্যাদি রচনা করে যোদ্ধাদের সাহস যুগিয়েছেন। আলোচনা হতে বলা যায়, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে কবি-সাহিত্যিকগণ অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করেন।
ঘ আমি মনে করি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুধু কবি, সাহিত্যিকগণ নন এরূপ আরও অনেক শ্রেণি-পেশার মানুষের ভ‚মিকার সম্মিলিত ফসল। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিল ছাত্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তোলায় অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করে ছাত্ররা। মুক্তিযুদ্ধে কৃষকদের অবদান ছিল অত্যন্ত গৌরবময়। স্বাধীনতা লাভের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে তারা প্রস্তুত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে নারীদেরও ভ‚মিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। সারাদেশে অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন রণাঙ্গনে পাকবাহিনীর মোকাবিলা করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভ‚মিকা ছিল অপরিসীম। সংবাদপত্র ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এ ব্যাপারে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করে। প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন। বিভিন্ন দেশে তারা মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। সাধারণ জনগণের সাহায্য ও সহযোগিতা এবং স্বাধীনতার প্রতি ঐকান্তিক আকাক্সক্ষার ফলেই মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে বাঙালির স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয়, উদ্দীপকে উল্লিখিত নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মতো আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধ ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, শিল্পীসহ আরও অনেক শ্রেণির মানুষের ভ‚মিকার সম্মিলিত ফসল।

প্রশ্ন- ৫  মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বজনমত ও বিভিন্ন দেশের ভ‚মিকা

আজকাল টিভি ও পত্রিকাতে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশিদের নিহত হবার ঘটনা প্রায়ই দেখি। আসিফের দাদা বললেন যে, এদেশটিই আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে নানাভাবে সাহায্য করে আমাদের বিজয় ত্বরান্বিত করেছে। [সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়]
ক. বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা কে তৈরি করেন? ১
খ. জর্জ হ্যারিসন কে ছিলেন? ২
গ. উদ্দীপকে আসিফের দাদা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে কোন দেশের সাহায্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় এরূপ আরও অনেক দেশ সহায়তা করেছে বিশ্লেষণ কর। ৪

ক আমাদের জাতীয় পতাকা প্রথম তৈরি করেন শিবনারায়ণ দাস।
খ জর্জ হ্যারিসন ছিলেন লন্ডনে জš§গ্রহণকারী বিখ্যাত সংগীত শিল্পী। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও দান সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে ৪০,০০০ লোকের সমাগমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডভিত্তিক গান পরিবেশন করেন। তার এ গান জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল, নাড়া দিয়েছিল বিশ্ববিবেককে।
গ উদ্দীপকে উল্লিখিত আসিফের দাদা আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতের ভ‚মিকার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের সময় নানাভাবে সাহায্য করে আমাদের বিজয় ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের অবদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সরাসরি সমর্থন জানায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চের কালরাত্রির বীভৎস হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী ৯ মাস ধরে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী যে নারকীয় গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, ভারত তা বিশ্ববাসীর নিকট সার্থকভাবে তুলে ধরে। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে অনন্যসাধারণ ভ‚মিকা পালন করেন। ভারতের জনগণ ও সরকার প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রশস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতে বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তানের আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এবং ভারত সরকার মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে। ভারত ৬ ডিসেম্বর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করে। ৬-১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়। ভারতের বহু সৈন্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারায়। উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয়, আসিফের দাদা আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ভারতের ভ‚মিকার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
ঘ আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের মতো এরূপ আরও অনেক দেশ সহায়তা করেছে। উদ্দীপকে যেমন আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের নানাভাবে সাহায্য করার ইঙ্গিত রয়েছে, ঠিক তেমনি ভারতের মতো আরও অনেক দেশও সাহায্য করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতের পর সর্বাধিক অবদান রাখে অধুনা বিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)। পাকবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আহŸান জানান। তিনি ইয়াহিয়াকে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যও বলেন। সোভিয়েত পত্রপত্রিকা প্রচারমাধ্যমগুলো বাংলাদেশে পাকিস্তান বাহিনীর নির্যাতনের কাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি প্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে সহায়তা করে। কিউবা, যুগো¯েøাভিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকো¯েøাভাকিয়া, পূর্ব-জার্মানি প্রভৃতি তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন জানায়। লন্ডন ছিল বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র। বিবিসি এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত পত্রপত্রিকা বাঙালিদের ওপর পাক বাহিনীর নির্মম নির্যাতন প্রতিরোধ, বাঙালিদের সংগ্রাম, ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের করুণ অবস্থা, পাক বাহিনীর গণহত্যা এবং মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি সম্পর্কে বিশ্ব জনমতকে জাগ্রত করে তোলে। অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও কানাডার প্রচার মাধ্যমগুলো পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত সৃষ্টিতে সাহায্য করে। ইরাক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন জানায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, প্রচারমাধ্যম, কংগ্রেসের অনেক সদস্য এদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোচ্চার ছিল। উপরিউক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ে ভারতের মতো এরূপ আরও অনেক দেশ সহায়তা করেছে।

প্রশ্ন- ৬  জাতীয় সংগীতের ইতিহাস

অথৈই প্রতিদিন বিকালে ঠাকুরমার কাছে গল্প শুনে। তিনি বলেন প্রতিটি ঘটনা, অভিনয়ের পিছনে অন্তর্নিহীত কারণ থাকে। তেমনি একটি বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষাপটে জাতীয় সঙ্গীত গানটি রচিত হয়।
[কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক. বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের মূল বিষয় কয়টি? ১
খ. পতাকার লাল বৃত্তে কেন বাংলাদেশের মানচিত্র অংকিত ছিল? ২
গ. অথৈয়ের ঠাকুরমার গল্প তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকে জাতীয় সংগীতের মতো তোমার পাঠ্যবইয়ের আরও কিছু জাতীয় প্রতীক রয়েছে তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর। ৪

ক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের মূল বিষয় চারটি।
খ পতাকার লালবৃত্ত অংকনের মাধ্যমে সারাবিশ্বকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল এই ভ‚খণ্ডে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। মানচিত্র খচিত এই পতাকা আমাদের সংগঠিত, একত্রিত ও ঐক্যবদ্ধ করেছে। অনেক রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে লাল-সবুজের এই পতাকা এদেশের জনগণ অর্জন করেছে। জাতীয় পতাকার সবুজ আয়তক্ষেত্র বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতির প্রতীক আর বৃত্তের লাল রং মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের রক্তের প্রতীক। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত পতাকায় লাল বৃত্তে বাংলাদেশের মানচিত্র অঙ্কিত ছিল।
গ অথৈয়ের ঠাকুরমার গল্প আমার পাঠ্যবইয়ের ‘জাতীয় সংগীত রচনা’র ঘটনার ইতিহাসের প্রতি ইঙ্গিত করেছে। উদ্দীপকে যেমন অথৈয়ের ঠাকুরমা কোনো ঘটনা, অভিনয়ের পেছনে অন্তর্নিহিত কারণ থাকার কথা বলেছেন ঠিক তেমনি ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার বাংলাকে বিভক্ত করে পূর্ব বঙ্গ ও আসাম নামে একটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি করলে এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে রবীন্দ্র্রনাথ ঠাকুর আমাদের জাতীয় সংগীত রচনা করেন। বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে স্বদেশি আন্দোলনের সময় এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মুক্তিযুদ্ধের সময় গানটির পুনরুজ্জীবন ঘটে। মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার এই গানটিকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত পরিবেশিত হয়। স্বাধীনতার পর সাংবিধানিকভাবে ‘আমার সোনার বাংলা’ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতরূপে ঘোষিত হয়। গানের প্রথম ১০ লাইন কণ্ঠসংগীত এবং প্রথম ৪ লাইন যন্ত্রসংগীত হিসেবে পরিবেশনের বিধান রাখা হয়। উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয়, উদ্দীপকের অথৈয়ের ঠাকুরমার গল্প ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাংলাকে বিভক্ত করার প্রেক্ষাপটে ‘জাতীয় সংগীত রচনা’ ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করেছে।
ঘ উদ্দীপকের জাতীয় সংগীতের মতো আমাদের আরও কিছু জাতীয় প্রতীক রয়েছে। আমাদের জাতীয় সংগীত যেমন একটি বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে, ঠিক তেমনি স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের বিশেষ বিশেষ ঘটনার নিমিত্তে নির্মিত হয়েছে আরও অনেক জাতীয় প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ নাম না জানা শহিদদের অমর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ। মঈনুল হোসেনের নকশা অনুযায়ী জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। মূল স্মৃতিসৌধে সাত জোড়া দেয়াল, মূলত বাঙালির গৌরবময় সংগ্রামের প্রতীক। বাঙালির প্রতিবাদী মনোভাব ও মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াকু চেতনার মূর্ত প্রতীক অপরাজেয় বাংলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন চত্বরে ৬ ফুট উঁচু বেদির ওপর নির্মিত। অপরাজেয় বাংলা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী মুজিবনগর সরকারের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরে এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহিদদের অমর স্মৃতি চিরজাগরূক রাখার জন্য ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘শিখা চিরন্তন’ স্থাপিত হয়। বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের অগণিত বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়। তাদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ঢাকার মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে পাক বাহিনী। সারা দেশেই ছড়িয়ে আছে অগণিত বধ্যভ‚মি ও গণকবর। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, জাতীয় সংগীতের মতো আমাদের আরও কিছু জাতীয় প্রতীক রয়েছে।

প্রশ্ন- ৭  জাতীয় স্মৃতিসৌধ

ঢাকা শহরের উত্তর-পশ্চিমে স্থপতি মঈনুল হোসেন একটি স্থাপনা নির্মাণ করেন। যা ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
[গাইবান্ধা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়]
ক. জাতীয় সংগীতের রচয়িতা কে? ১
খ. বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্ণনা দাও। ২
গ. মঈনুল হোসেনের স্থাপনাটির ব্যাখ্যা দাও। ৩
ঘ. ‘স্থাপনার সাতটি জোড়া মূলত বাঙালির গৌরবময় সংগ্রামের প্রতীক’- তোমার মতামত ব্যক্ত কর। ৪

ক জাতীয় সংগীতের রচয়িতা হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
খ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আমাদের অহংকার আর গৌরবের প্রতীক। অনেক রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে লাল-সবুজের এই পতাকা এদেশের জনগণ অর্জন করেছে। জাতীয় পতাকার সবুজ আয়তক্ষেত্র বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতির প্রতীক আর বৃত্তের লাল রং মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের রক্তের প্রতীক। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত পতাকায় লাল বৃত্তে বাংলাদেশের মানচিত্র অঙ্কিত ছিল। মানচিত্র খচিত এই পতাকা আমাদের সংগঠিত, একত্রিত ও ঐক্যবদ্ধ করেছে। জাতীয় পতাকা প্রথম ডিজাইন করেছেন শিবনারায়ণ দাস এবং পটুয়া কামরুল হাসানের হাতে জাতীয় পতাকা বর্তমান রূপ লাভ করেছে।
গ মঈনুল হোসেনের স্থাপনাটি হলো জাতীয় স্মৃতিসৌধ। উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী ঢাকা শহরের উত্তর-পশ্চিমে স্থাপিত স্থাপনা যা আমাদের ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় তা হলো- স্থপতি মঈনুল হোসেনের নকশা অনুযায়ী নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ। বাঙালির অহংকার, গৌরব আর মর্যাদার প্রতীক এই স্মৃতিসৌধ। স্মৃতিসৌধটি সাভারে অবস্থিত। সাতটি জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়ালের মাধ্যমে ছোট থেকে বড় হয়ে ধাপে ধাপে সৌধটি ১৫০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছেছে। মূল স্মৃতিসৌধে সাত জোড়া দেয়াল মূলত বাঙালির গৌরবময় সংগ্রামের প্রতীক। এই রাজনৈতিক ঘটনাগুলো হলো ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং ১৯৭১। স্মৃতিস্তম্ভের মূল বেদিতে যেতে হলে বেশ দীর্ঘ উঁচু-নিচু পথ, পেভমেন্ট ও একটি কৃত্রিম লেকের ওপর নির্মিত সেতু পার হতে হয়। এসবকিছুই আসলে আমাদের দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতীক। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয় স্মৃতিসৌধের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে তিনটি পর্যায়ে তা সম্পন্ন হয়।
ঘ জাতীয় স্মৃতিসৌধের সাতটি জোড়া মূলত বাঙালির গৌরবময় সংগ্রামের প্রতীক। উদ্দীপকে উল্লিখিত ঢাকা শহরের উত্তর-পশ্চিমে স্থপতি মঈনুল হোসেনের একটি স্থাপনা হলো জাতীয় স্মৃতিসৌধ। সৌধটি সাভারে অবস্থিত। সাতটি জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়ালের মাধ্যমে ছোট থেকে বড় হয়ে ধাপে ধাপে সৌধটি ১৫০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছেছে। স্মৃতিসৌধে সাত জোড়া দেয়াল মূলত বাঙালির গৌরবময় সংগ্রামের প্রতীক। এই রাজনৈতিক ঘটনাগুলো হলো ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং ১৯৭১। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির প্রথম প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ, বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রেরণা। এরই হাত ধরে সম্ভব হয় ষাটের দশকের স্বাধিকার আদায়ের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আন্দোলন। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের অন্যায়, বৈষম্যমূলক, ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। ১৯৫৬-এর সংবিধান প্রণয়ন, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-তে বাঙালির মুক্তির দাবি ছয় দফা, ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বোপরি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ঘটনার ফলেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয়। অর্থাৎ স্বায়ত্তশাসনের দাবি থেকে স্বাধীনতার দাবি এবং তারই ফলে বীর বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটায়। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, স্মৃতিসৌধের সাতটি জোড়া মূলত বাঙালির গৌরবময় সংগ্রামের প্রতীক।
 মাস্টার ট্রেইনার প্রণীত সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন- ৮  বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ

ড. মালেক চৌধুরী তার একটি প্রবন্ধে লিখেছেন “৬ মার্চ সন্ধ্যা এলেই ৭ মার্চের ভাবনাগুলো আমার মনে, চিন্তা-চেতনায় আনাগোনা করতে থাকে। চুয়াল্লিশ বছর আগের সে দিনটি ধোঁয়াশা-আচ্ছন্নতা থেকে ক্রমশ স্পষ্টতর হতে থাকে। তখন দিনটিকে যেন স্পষ্ট দেখতে পাই। কানে যেন স্পষ্ট ধ্বনিত হতে থাকে সেই সম্মোহনকারী অত্যাশ্চর্য কবিতার বাণী ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’। আমার পরম সৌভাগ্য যে জাতির ঐ ঐতিহাসিক মুহ‚র্তটিতে লক্ষ জনতার সঙ্গে আমিও দ্রবীভ‚ত হয়ে ঐ কবিতা শুনেছিলাম। কি মর্মস্পর্শী সেই কবিতার বাণী।”
ক. ‘অপারেশন সার্চলাইট’ কখন পরিচালিত হয়? ১
খ. ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে কেন? ২
গ. উদ্দীপকের ড. মালেক চৌধুরীর প্রবন্ধে কোন ঘটনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. কি মর্মস্পর্শী সেই কবিতার বাণী উদ্দীপকের এ উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর। ৪

ক ‘অপারেশন সার্চলাইট’ ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ পরিচালিত হয়
খ ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি আরম্ভ করে। তার উদ্দেশ্য সাধনে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করলে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র, শ্রমিক, সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী তথা সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
গ উদ্দীপকে ড. মালেক চৌধুরীর প্রবন্ধে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মার্চের ভাষণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মার্চে রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। এ ভাষণে তিনি চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার ও সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। এছাড়াও তিনি এ ভাষণে গণহত্যার তদন্ত এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেন। এ ভাষণে তিনি পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি এ ভাষণে বলেছিলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।” উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি যে, ড. মালেক চৌধুরী তার একটি প্রবন্ধে লিখেছেন যে, “৬ মার্চ সন্ধ্যা এলেই ৭ মার্চের ভাবনাগুলো আমার মনে পড়ে। চুয়াল্লিশ বছর আগের সেদিনের সম্মোহনকারী কবিতার বাণী এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম আমার কানে স্পষ্ট আসে।” এ বিষয়গুলোর সাথে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মার্চের ভাষণের মিল বিদ্যমান।
ঘ উদ্দীপকে ড. মালেক চৌধুরীর প্রবন্ধে লেখা ‘কি মর্মস্পর্শী সেই কবিতার বাণী’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য ও মহত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। এ ভাষণের পরদিন সারাদেশে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দেশের অফিস-আদালত, কলকারখানা, স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যায়। খাজনা ও ট্যাক্স বন্ধ হয়ে যায়। টিক্কা খান পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ১০ মার্চ সামরিক শাসন জারি করে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে এর পরও আন্দোলন চলতে থাকলে ১৩ মার্চ পুনরায় সামরিক শাসন জারি করেন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ মার্চ জুলফিকার আলী ভুট্টোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার এক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বঙ্গবন্ধু ৩৫ দফা দাবিনামা জারি করেন এবং জনগণকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সমস্যা সমাধানের আলোচনা করতে এসে আলোচনা অসমাপ্ত রেখে গোপনে ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ ঢাকা ত্যাগ করেন। ইয়াহিয়া খানের দিয়ে যাওয়া এক আদেশ অনুসারে পাক বাহিনী সেদিন রাতে বহু বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করে। আর এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিদান হিসেবে শুরু হয় আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। আর তারপর আসে আমাদের স্বাধীনতা। পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মার্চের ভাষণের মাঝেই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের নির্দেশনা নিহিত ছিল।

প্রশ্ন- ৯  মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ঘোষণা

ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহŸান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছ, যাহার যা কিছু আছে তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও ……
Ñবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
ক. বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার কখন শপথ গ্রহণ করে? ১
খ. মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভ‚মিকা উল্লেখ কর? ২
গ. উদ্দীপকের ঘোষণা পূর্ব পাকিস্তানে কিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকের ঘোষণার প্রেক্ষাপটে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনার তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর। ৪

ক ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে।
খ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ ভারত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে মানুষ হত্যা শুরু করলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে সম্পৃক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ছাত্র-যুবসমাজ এবং বিভিন্ন পেশাজীবীসহ প্রায় এক কোটি নারী-পুরুষ ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরানি¦ত করে। এক কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দান এবং মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সরাসরি সহযোগিতা করে ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে।
গ উদ্দীপকের ঘোষণা পূর্ব পাকিস্তানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। ২৫ মার্চ কালরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে ২৫ মার্চ রাতের শেষ প্রহরে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন যার অংশ বিশেষ উদ্দীপকে তুলে ধরা হয়েছে। এরূপ অবস্থায় ২৭ তারিখ বিকালবেলায় চট্টগ্রামে অবস্থিত কালুরঘাট অস্থায়ী বেতার কেন্দ্র’ থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর নামে দ্বিতীয়বার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। স্বাধীনতার ঘোষণা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে দারুণ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। বিদ্যুৎ বেগে এই ঘোষণা সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। প্রবল আত্মবিশ্বাসে ও দিকনির্দেশনা পেয়ে বাংলার মানুষ প্রবল শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্র“নিধন করে দেশকে মুক্ত করার আশায়। অর্থাৎ উদ্দীপকের ঘোষণায় অভ‚তপূর্ব উদ্দীপনায় ফেটে পড়ে বাংলার মানুষ। কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-জনতা সবাই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশকে মুক্ত করার প্রত্যাশায়। স্বাধীনতার ঘোষণা পেয়ে বাংলার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা ঝাঁপিয়ে পড়ে পাক হানাদার বাহিনীর ওপর।
ঘ উদ্দীপকের ঘোষণার প্রেক্ষাপটে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনা তথা মহান মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য অপরিসীম। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। এ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রাচীন যুগ থেকে এ জনপদে বাঙালির একটি স্থায়ী আবাসভ‚মি গড়ে তোলার লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। এর জন্য আমাদের পূর্বপুরুষদের অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছিল। সবশেষে পাকিস্তানের ২৪ বছরের শাসন, শোষণের ফলে জাতীয়তাবাদের ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমগ্র জাতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, যুবক, নারী, পুরুষ, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী, শিল্পীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার কোটি কোটি মানুষ এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। স্বাধীনতার জন্য বাঙালি জাতি শৌর্যবীর্যের সর্বোচ্চ প্রমাণ রেখেছিল। পাকিস্তানি সৈন্যদের সকল অত্যাচার নিপীড়ন সহ্য করে আমাদের জনসাধারণ দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একটি সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এদেশের ত্রিশ লাখ মানুষ আত্মাহুতি দিয়েছেন। কোটি কোটি মানুষ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদেরকে পৃথিবীর বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল স্বাধীন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।

প্রশ্ন- ১০  বঙ্গবন্ধুর মার্চের ভাষণ

 

ক. কখন পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠিত হয়? ১
খ. মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভ‚মিকা উল্লেখ কর। ২
গ. প্রদর্শিত ছবিটি বাংলাদেশের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. প্রদর্শিত ছবিটির ঘটনার মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা নিহিত রয়েছে মতামত দাও। ৪

ক পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠিত হয় ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে।
খ মুক্তিযুদ্ধে জাতিসংঘের ভ‚মিকা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা না দিয়ে সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান যখন বাঙালি নিধনে তৎপর, তখন জাতিসংঘ বলতে গেলে নীরব দর্শকের ভ‚মিকা পালন করে। নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে ‘ভেটো’ ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচটি বৃহৎ শক্তিধর রাষ্ট্রের বাইরে জাতিসংঘের নিজস্ব উদ্যোগ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষমতাও ছিল সীমিত।
গ প্রদর্শিত ছবিটি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঘটনা ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সাক্ষ্য বহন করে। কারণ ছবিতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের খণ্ড চিত্রই প্রদর্শিত হয়েছে। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে পাকিস্তানের সামরিক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর না করায়, পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। সারা দেশব্যাপী নানারকম উদ্বেগ, উত্তেজনার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল জাতির জন্য সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে লক্ষ লক্ষ জনতার ঢল নামে। বঙ্গবন্ধু এ সমাবেশে যে ভাষণ দেন তা বিশ্বের ইতিহাসে খ্যাত হয়ে আছে। তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ৪টি। যথা : ১. চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার; ২. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া; ৩. গণহত্যার তদন্ত করা এবং; ৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। এ ভাষণের পরদিন থেকে সারাদেশে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। তার নির্দেশে দেশের স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, কলকারখানা সব বন্ধ হয়ে যায়।
ঘ প্রদর্শিত ছবিটির ঐতিহাসিক ঘটনা হলো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। এ ভাষণে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা নিহিত রয়েছে।
৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু কৌশলগত কারণে প্রত্যক্ষভাবে ঘোষণা না দিয়ে পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি মুক্তি সংগ্রামের জন্য সকলকে প্রস্তুত হওয়ার আদেশ দেন এবং দেশকে শত্রমুক্ত করতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের আহŸান জানান। প্রদর্শিত ছবিটিও বঙ্গবন্ধুর ভাষণের এ ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে। তার এ ভাষণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ‘বজ্রকণ্ঠ’ নামে প্রচারিত হয়, যা বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করে। তার নির্দেশ অনুসারে দেশের স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, কল-কারখানা সব বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা পাকবাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ করতে থাকে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে, শত্রæপক্ষকে পরাজিত করতে এবং স্বাধীন জাতি হিসেবে বাঙালির মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ মূল প্রেরণাদাতা হিসেবে কাজ করেছে। স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে তার এ ভাষণ একটি মাইলফলক। বাঙালিকে দাবি আদায়ের সংগ্রামে সোচ্চার করে তুলতে তার এ ভাষণ গভীর প্রভাব রেখেছিল। তাই বলা যায় প্রদর্শিত ৭ মার্চের ভাষণের ছবিটির ঘটনার মধ্যেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা নিহিত ছিল।
প্রশ্ন- ১১  মুক্তিযুদ্ধ ও সংগঠন

পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই সাধারণভাবে পৃথিবী থেকে প্রকৃতির নিয়মেই চলে যায়। এর মাঝে কেউ আসে অসাধারণ, যারা আশপাশের মানুষের কাছে রাজকীয় ভঙ্গিতে কিংবদন্তি হয়ে আমাদের সামনে হাজির হন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের একজন মহানায়কের কথা স্মরণ করা যেতে পারে যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্বে ছিলেন। তার নামেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। ৪৮ ও ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভ‚মিকা পালন করেন। কী সংসদ, কী রাজপথ, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পক্ষে তার কণ্ঠ ছিল সর্বদা সোচ্চার।
ক. পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ নামে প্রদেশ গঠন করা হয় কত খ্রিষ্টাব্দে? ১
খ. বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা কীভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল? ২
গ. উদ্দীপকে কোন মহান নেতার ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে? ৩
ঘ. তুমি কি মনে কর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ মহান নেতা ছাড়া অন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কোনো অবদান ছিল? মতামত দাও। ৪

ক ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ নামে প্রদেশ গঠন করা হয় ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে।
খ ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকায় লালবৃত্তে বাংলাদেশের মানচিত্র অঙ্কিত ছিল। মানচিত্র খচিত এ পতাকা আমাদের সংঘটিত, ও ঐক্যবদ্ধ করে। কুমিল্লা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি শিবনারায়ণ দাস এ পতাকার ডিজাইন করেন। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ৬ জুন গভীর রাতে অত্যন্ত গোপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহরুল হক হলের ১১৮ নম্বর কক্ষে এ পতাকার ডিজাইন করা হয়েছিল।
গ উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার সারা জীবনের কর্মকাণ্ড, আন্দোলন, সংগ্রাম নির্দেশিত হয়েছে বাঙালির জাতির মুক্তির লক্ষ্যে। এই লক্ষ্যে তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে আওয়ামী লীগ গঠন করেন। ৪৮ ও ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে তিনি ভ‚মিকা পালন করেন। এরপর ১৯৫৪-এর যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন, ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতিদান, ১৯৫৮-এর আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা অগ্রগণ্য ভ‚মিকা পালন করেন। তিনি ২৫ মার্চের গণহত্যার পর ২৬ মার্চ ’৭১ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ ধরে তিনি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে ৭ মার্চের ভাষণে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। উদ্দীপকে বাংলাদেশের স্থপতির কথা বলা হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
ঘ উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা বলা হয়েছে। তিনি ছাড়াও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অন্য নেতাদেরও ভ‚মিকা ছিল বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্যতম একজন নেতা ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ। যিনি ঐ সময়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত মুজিবনগর সরকারে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এই মহান নেতা। এছাড়াও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্যতম আরেকজন নেতা হলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিব নগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন। এএইচএম কামরুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী ছিলেন। স্বাধীনতা অর্জনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ভ‚মিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে অবস্থান করে তিনি বিভিন্ন দেশের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন দান ও পাশে দাঁড়ানোর আহŸান জানান। এছাড়া অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ, কমরেড মনি সিংহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক ভ‚মিকা রাখেন। উল্লিখিত নেতারাও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিরাট ভ‚মিকা পালন করেছিলেন।

প্রশ্ন- ১২  ২৫ মার্চের গণহত্যা

 

ক. বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন? ১
খ. স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হিন্দু স¤প্রদায় আক্রমণের শিকার হয় কেন? ২
গ. প্রদর্শিত চিত্রটি বাংলাদেশের কোন ঐতিহাসিক ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উক্ত ঘটনার প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেনÑ বিশ্লেষণ কর। ৪

ক বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী।
খ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দৃষ্টিতে হিন্দু মাত্রই ছিল আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং পবিত্র পাকিস্তানের অখণ্ডতার প্রতি হুমকিস্বরূপ। আর এদের পেছনে রয়েছে ভারতের আনুক‚ল্য ও সমর্থন। এমনি অন্ধবিশ্বাস থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হিন্দু স¤প্রদায় আক্রমণের শিকার হয়।
গ প্রদর্শিত চিত্রটি বাংলাদেশের ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চের গণহত্যার ঘটনাকে নির্দেশ করে। ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত কর্মসূচি এবং আহŸানের প্রতি সকল স্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়। পূর্ববাংলার সকল অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়। ইয়াহিয়া খান পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা বেগতিক দেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলোচনা করতে ঢাকায় আসেন। এ সময় ভুট্টোও ঢাকায় আসেন। অপরদিকে, ইয়াহিয়া গোপনে আলোচনার নামে কালক্ষেপণ, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য, গোলাবারুদ এনে পূর্ব বাংলায় সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ১৭ মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করে। ২৫ মার্চ রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটে বর্বরতম গণহত্যা। এ রাতে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের পুলিশ ক্যাম্প, পিলখানা, বিডিআর ক্যাম্প, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আক্রমণ চালায় এবং নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত করে, যা ইতিহাসে ২৫ মার্চের কালরাত নামে পরিচিত। এই রাতে একইভাবে গণহত্যা চলেছিল পুরনো ঢাকায়, কচুক্ষেত, তেজগাঁও, ইন্দিরা রোড, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে, রায়ের বাজার, ধানমন্ডি প্রভৃতি স্থানে। সুতরাং বলা যায় যে, প্রদর্শিত চিত্রে ২৫ মার্চের গণহত্যার গণহত্যার কয়েকটি ছবিই দেখা যাচ্ছে।
ঘ উক্ত ঘটনাটি ২৫ মার্চ গণহত্যার। ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যা শুরু হলে এ ঘটনার প্রেক্ষাপটেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা বহু বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করে। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাঙালির তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়। পাকবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ, স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনগণের ওপর হামলা করে এবং নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। প্রদর্শিত চিত্রেও ২৫ মার্চের গণহত্যার চারটি ভয়াবহ দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লোকজন রাতের অন্ধকারে ছোটাছুটি করছে। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা শ্রেণি-বর্ণ পেশায় মানুষের লাশ। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তা ওয়্যারলেসযোগে পাঠিয়ে দেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাবাণী শোনামাত্রই চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। শুরু হয় পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে বাঙালি পুলিশ, আনসার ও সাধারণ মানুষের এক অসম লড়াই যা বাংলাদেশের ইতিহাসে মহান মুক্তিযুদ্ধ নামে পরিচিত।

প্রশ্ন- ১৩  ২৫ মার্চের গণহত্যা

আমার এক বন্ধুর আজ জন্মদিন। কিন্তু এ শুভ জন্মদিনটিতে সে বিষণœ থাকে। কেননা আজ মার্চের কালরাত। আমাদের বাঙালির ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য একটি অধ্যায়। মার্চের এই রাতেই তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের গণহত্যার লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। হলে পুরো রাত পাকিস্তানি সৈন্যরা তাদের গণহত্যা এবং ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল। প্রতিবছর এ রাত এলে সে জগন্নাথ হলে যায়। হাজার মানুষের মোমবাতির মিছিলে সেও গুটি গুটি পায়ে হাজির হয় জগন্নাথ হলের গণকবরে।
(তথ্যসূত্র : ১৯৭১ : ভয়াবহ সহিংসতা রশিদ হায়দার সম্পাদিত)
ক. বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের প্রধান কে ছিলেন? ১
খ. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বলা হয় কেন? ২
গ. উদ্দীপকে কোন ঘটনার ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্ত ঘটনাটির প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উক্ত ঘটনায় পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষের ওপর পাকিস্তান সেন বাহিনী হামলা চালায় এবং নির্বিচারে হত্যা করেÑ এ বক্তব্যের যথার্থতা মূল্যায়ন কর। ৪

ক বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
খ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত পাকবিরোধী বাঙালি স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিটি আন্দোলনে তার ভ‚মিকা ছিল অনন্য। ৭ মার্চে তিনিই মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন। তার নামেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। তিনি ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি।
গ ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনা অসমাপ্ত রেখেই গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। তার আগে তিনি সামরিক বাহিনীকে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ চালানোর নির্দেশ দেন। উদ্দীপকে ২৫ মার্চ ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার কথা বলা হয়েছে।
২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা বহু বাঙালিকে হত্যা করে। এই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল, জনগন্নাথ হলে চালানো হয় হত্যাকাণ্ড। একইভাবে ঢাকার কচুক্ষেত, রায়েরবাজার, কলাবাগান, মিরপুর, মোহাম্মদপুর প্রভৃতি স্থানে চালানো হয় হত্যাকাণ্ড। উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি যে, আজ আমার বন্ধুর জন্মদিন। কিন্তু তার এই শুভ জন্মদিনে সে বিষণœ থাকে। কেননা আজ মার্চের কালরাত। বাঙালির ইতিহাসে এক বর্বর রাত। এই তথ্যাগুলোর সাথে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চের গণহত্যার সঙ্গে মিল বিদ্যমান।
ঘ উদ্দীপকে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চের গণহত্যার কথা বলা হয়েছে। এই ঘটনায় পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ সাধারণ মানুষের ওপর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী হামলা এবং নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালায়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাঙালি তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়। এ রাতে পাক বাহিনী নিরস্ত্র নিরীহ বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালায়। পাকিস্তান তাদের এ অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন সার্চলাইট।’ ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের জহুরুল হক হল, সলিমুল্লাহ হল, রোকেয়া হলের ঘুমন্ত ছাত্রছাত্রীর ওপর চালায় হত্যাকাণ্ড এবং নির্যাতন। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ রাতে ঘুমন্ত পুরনো ঢাকার নবাবপুর, তাঁতিবাজার, শাখারিবাজার এলাকায় বসবাসকারী হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর নিষ্ঠুর গণহত্যা চালায়। এছাড়াও ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র ঘুমন্ত ঢাকার ইন্দিরা রোড, ঢাকা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে গণকটুলী, ধানমন্ডি, কাঁঠালবাগান প্রভৃতি স্থানে হত্যাকাণ্ড চালায়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চের হত্যাকাণ্ডে বাঙালি তথা পৃথিবীর ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় সূচনা করেছিল।

 জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ বাংলাদেশ কখন স্বাধীন হয়?
উত্তর : বাংলাদেশ ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীন হয়।
প্রশ্ন \ ২ \ আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রতীক কী ছিল?
উত্তর : আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রতীক ছিল নৌকা।
প্রশ্ন \ ৩ \ জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ কয়টি আসন লাভ করে?
উত্তর : জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ ১৬০টি আসন লাভ করে।
প্রশ্ন \ ৪ \ প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ কয়টি আসনে জয়লাভ করে?
উত্তর : প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ ২৯৮টি আসনে জয়লাভ করে।
প্রশ্ন \ ৫ \ বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণ দেন কোথায়?
উত্তর : বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণ দেন রেসকোর্স ময়দানে।
প্রশ্ন \ ৬ \ ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের পর ইয়াহিয়া খান কত তারিখে ঢাকা সফরে আসেন?
উত্তর : ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের পর ১৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান ঢাকা সফরে আসেন।
প্রশ্ন \ ৭ \ বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৫ মার্চ কী নামে পরিচিত?
উত্তর : বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৫ মার্চ কালরাত্রি নামে পরিচিতি।
প্রশ্ন \ ৮ \ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস কবে?
উত্তর : বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ।
প্রশ্ন \ ৯ \ অস্থায়ী সরকার গঠন হয় কখন?
উত্তর : ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে অস্থায়ী সরকার গঠন হয়।
প্রশ্ন \ ১০ \ কত খ্রিষ্টাব্দে শিখা চিরন্তন স্থাপিত হয়?
উত্তর : ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে শিখা চিরন্তন স্থাপিত হয়।
প্রশ্ন \ ১১ \ মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
উত্তর : মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
প্রশ্ন \ ১২ \ কোথায় মুজিবনগর সরকারের সদরদপ্তর ছিল?
উত্তর : মুজিবনগর সরকারের সদরদপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে।
প্রশ্ন \ ১৩ \ বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রণালয় কয়টি ছিল?
উত্তর : বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রণালয় ছিল বারোটি।
প্রশ্ন \ ১৪ \ অপারেশন সার্চলাইট কী?
উত্তর : অপারেশন সার্চলাইট হলো পাক সেনাবাহিনী কর্তৃক ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ মার্চ ঢাকায় পরিচালিত অভিযানের নাম।
প্রশ্ন \ ১৫ \ ‘পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স’ জারি করে কে?
উত্তর : পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স জারি করে লে. জেনারেল টিক্কা খান।
প্রশ্ন \ ১৬ \ মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতার প্রথম সংগঠনের নাম কী?
উত্তর : মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতার প্রথম সংগঠনের নাম শান্তি কমিটি।
প্রশ্ন \ ১৭ \ ঢাকা নাগরিক শান্তি কমিটির আহŸায়ক কে ছিলেন?
উত্তর : ঢাকা নাগরিক শান্তি কমিটির আহŸায়ক ছিলেন খাজা খয়েরুদ্দিন।
প্রশ্ন \ ১৮ \ ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশ কী নামে পরিচিত ছিল?
উত্তর : ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত বাংলাদেশ ‘পূর্ববঙ্গ’ নামে পরিচিত ছিল।
প্রশ্ন \ ১৯ \ বর্তমান জাতীয় পতাকার ডিজাইনার কে?
উত্তর : বর্তমান জাতীয় পতাকার ডিজাইনার কামরুল হাসান।
প্রশ্ন \ ২০ \ জাতীয় স্মৃতিসৌধ কোথায় অবস্থিত?
উত্তর : জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঢাকার সাভারে অবস্থিত।
প্রশ্ন \ ২১ \ জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি কে?
উত্তর : জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি মঈনুল হোসেন।
প্রশ্ন \ ২২ \ বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম কী?
উত্তর : বাংলাদেশের সাংাবিধানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।
প্রশ্ন \ ২৩ \ ভারতের জনগণ ও সরকার এক কোটি শরণার্থীকে কী দিয়ে সাহায্য করে?
উত্তর : ভারতের জনগণ ও সরকার এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রশস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করে।
প্রশ্ন \ ২৪ \ জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর : জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা
প্রশ্ন \ ২৫ \ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালির কী পূরণ হয়?
উত্তর : মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্ন পূরণ হয়।
প্রশ্ন \ ২৬ \ ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে কাদের নিয়ে আওয়ামী লীগ একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে?
উত্তর : ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে আওয়ামী লীগ সমমনা বাম রাজনৈতিক দলসমূহ নিয়ে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে।
প্রশ্ন \ ২৭ \ মুক্তিযুদ্ধে কাদের অবদান অত্যন্ত গৌরবময় ছিল?
উত্তর : মুক্তিযুদ্ধে কৃষকদের অবদান ছিল অত্যন্ত গৌরবময়।
প্রশ্ন \ ২৮ \ দেশকে স্বাধীন করতে পুরুষের পাশাপাশি কাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল?
উত্তর : দেশকে স্বাধীন করতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
প্রশ্ন \ ২৯ \ বঙ্গবন্ধু কাদের কন্যার ন্যায় মমতায় বীরাঙ্গনা বলে সম্বোধন করেছেন?
উত্তর : যুদ্ধের নয় মাসে পাক বাহিনীর অত্যাচারের শিকার নারীদের বঙ্গবন্ধু কন্যার ন্যায় ‘বীরাঙ্গনা’ বলে মমতায় সম্বোধন করেছেন।
প্রশ্ন \ ৩০ \ পাকিস্তান সেনাবাহিনী পোড়ামাটি নীতি অনুযায়ী কী করতে চেয়েছে?
উত্তর : পাকিস্তান সেনাবাহিনী পোড়ামাটি নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের সব সম্পদ-প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিতে চেয়েছে।
প্রশ্ন \ ৩১ \ স্বাধীনতার মহানায়ক ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি কে?
উত্তর : স্বাধীনতার মহানায়ক ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
প্রশ্ন \ ৩২ \ অপরাজেয় বাংলা কিসের প্রতীক?
উত্তর : অপরাজেয় বাংলা হলো বাঙালির প্রতিবাদী মনোভাব ও মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াকু চেতার মূর্তপ্রতীক।
প্রশ্ন \ ৩৩ \ মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের ২৪টি ত্রিভুজাকৃতির দেয়াল কিসের প্রতীক?
উত্তর : মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের ২৪টি ত্রিভুজাকৃতির দেয়াল ২৪ বছরের পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শোষণের প্রতীক।
প্রশ্ন \ ৩৪ \ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল?
উত্তর : মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছাত্রদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল।
প্রশ্ন \ ৩৫ \ কে ভাষা আন্দোলনের প্রথম কারাবন্দি ছিলেন?
উত্তর : ভাষা আন্দোলনের প্রথম কারাবন্দি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ শিখা চিরন্তন সম্পর্কে কী জান? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহিদদের অমর স্মৃতি চির জাগরূক রাখার জন্য ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ মার্চ শিখা চিরন্তন স্থাপিত হয়।
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণে এই স্থান থেকেই ‘মুক্তির সংগ্রাম ও স্বাধীনতা সংগ্রামের’ ডাক দিয়েছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান দখলদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তন স্থাপন করা হয়।
প্রশ্ন \ ২ \ বুদ্ধিজীবীদেরকে কেন হত্যা করা হয়?
উত্তর : বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সময় অগণিত বুদ্ধিজীবীদেরকে হত্যা করা হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে মানবতাবিরোধী এই বর্বর কাজে সহায়তা করেছে রাজাকার ও আলবদর বাহিনী। পাকবাহিনী চ‚ড়ান্ত পরাজয়ের দু’দিন পূর্বে ১৪ ডিসেম্বর অসংখ্য বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। তাদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ঢাকার মিরপুরে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।
প্রশ্ন \ ৩ \ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্পর্কে কী জান?
উত্তর : সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষ নেতা। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর সরকারের উপ রাষ্ট্রপতি ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মুক্তিযুদ্ধকে বেগবান ও সফল করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহŸান জানান। সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সংগঠক ও পরিচালক ছিলেন।
প্রশ্ন \ ৪ \ মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভ‚মিকা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভ‚মিকা অপরিসীম। সংবাদপত্র ও স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র এ ব্যাপারে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করে। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বেতারের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করেন। স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা রণাঙ্গনের নানা ঘটনা ইত্যাদি দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত করে; মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস যুগিয়ে বিজয়ের পথ সুগম করে। এছাড়া মুজিবনগর সরকারের প্রচার সেলের তত্ত¡াবধানে প্রকাশিত পত্রিকা মুক্তিযুদ্ধে বিশিষ্ট ভ‚মিকা পালন করে।
প্রশ্ন \ ৫ \ মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রদের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সংখ্যায় বেশি ছিল ছাত্র। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তোলায় অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করে ছাত্ররা। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পাশাপাশি স্কুলপড়–য়া কিশোরও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তারা যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যায়। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী বাংলাদেশ সরকার ছাত্র-যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রের সংস্থান করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাত্র তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণ আর হালকা অস্ত্র নিয়ে অসীম সাহস, মনোবল আর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে শত্রæদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে ছাত্ররা।
প্রশ্ন \ ৬ \ মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতায় স্থানান্তর করা হয় কেন?
উত্তর : পাকিস্তানি সৈন্যরা মেহেরপুর দখল করে নেওয়ার কারণে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার। এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়। ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।
প্রশ্ন \ ৭ \ মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ জনগণ কীভাবে সহায়তা করেছে?
উত্তর : মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ জনগণ মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, খাবার ও ওষুধ সরবরাহ, তথ্য ও সেবাপ্রদান করার মাধ্যমে সহায়তা করেছে। সাধারণ জনগণ মুক্তিযোদ্ধাদের শত্র“র অবস্থান ও চলাচলের তথ্য দিয়েছে। ক্ষুধার্ত ও যুদ্ধে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার, ওষুধ ও সেবা প্রদান করেছে। সাধারণ জনগণের সাহায্য-সহযোগিতা ও স্বাধীনতার জন্য প্রচণ্ড ত্যাগের ফলেই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
প্রশ্ন \ ৮ \ ১৬ ডিসেম্বরে বিজয় দিবস পালন করা হয় কেন?
উত্তর : ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির বিজয় সম্পূর্ণ হয়েছে বলে ১৬ ডিসেম্বরে বিজয় দিবস পালন করা হয়। ২৫ মার্চের অতর্কিত হামলার পেক্ষাপটে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা হলে দেশের মানুষ দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে বিজয় অর্জন করে। তাই প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয়দিবস পালন করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর বাঙালির জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।
প্রশ্ন \ ৯ \ পাকবাহিনী বাংলাদেশের সব সম্পদ, প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিতে চেয়েছে কেন?
উত্তর : পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘পোড়ামাটি নীতি’ অনুযায়ী বাংলাদেশের সব সম্পদ, প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিতে চেয়েছে। যে কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, মসজিদ, মন্দির কোনো কিছুই তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তাদের লক্ষ্য ছিল এই ভ‚খণ্ডের মানুষদের হত্যা করে কেবল ভ‚মির দখল নেয়া। পাক বাহিনীকে এসব মানবতাবিরোধী অপকর্মে সহায়তা করেছে এদেশীয় কিছু দালালচক্র।
প্রশ্ন \ ১০ \ নারীরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে কীভাবে?
উত্তর : মুক্তিযুদ্ধে নারীদেরও ভ‚মিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চের প্রথম থেকেই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যে সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, তাতে নারীদের বিশেষ করে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফ‚র্ত। দেশকে স্বাধীন করতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে, খাবার দিয়ে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্র লুকিয়ে রেখে, সেবা দিয়ে, নানাভাবে সহায়তা করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
প্রশ্ন \ ১১ \ স্বাধীনতা অর্জনে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা কীভাবে অবদান রেখেছেন?
উত্তর : বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অবদান অপরিসীম। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবর্গ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। নানা অত্যাচার-নিপীড়ন সহ্য করেছেন। রাজনীতিবিদগণ স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জীবন বাজি রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে গেছেন।
প্রশ্ন \ ১২ \ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
উত্তর : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নানা রকম প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়। ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া)সহ বিশ্বের বহু দেশের সরকার ও জনগণ মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন ও গণহত্যার বিবরণ পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হলে সে সব দেশের জনগণ নানাভাবে আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। তারপরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মুসলিম বিশ্বের কিছু দেশের সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল না।
প্রশ্ন \ ১৩ \ বঙ্গবন্ধু গণভোটের মাধ্যমে মানুষের মতামত গ্রহণ করতে বলেন কেন?
উত্তর : ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজ শাসনের অবসান হলে পশ্চিমবঙ্গ ভারতে আর পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। পাকিস্তান আমলেও ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দ অবধি আজকের বাংলাদেশ ‘পূর্ববঙ্গ’ নামেই পরিচিত
ছিল। পাকিস্তান সরকার পূর্ববঙ্গ পরিবর্তন করে পূর্ব পাকিস্তান নামকরণ করলে বঙ্গবন্ধু এর বিরোধিত করেন। বঙ্গবন্ধু বলেন, বাংলা নামের দীর্ঘ ইতিহাস-ঐতিহ্য আছে। তাই তিনি বাংলার নাম পরিবর্তনের পূর্বে গণভোটের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের মতামত গ্রহণ করতে বলেন।
প্রশ্ন \ ১৪ \ পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে কেন?
উত্তর : ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় এ দলের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হওয়া ছিল ন্যায়সংগত। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি আরম্ভ করে। তিনি ৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন জুলফিকার আলী ভুট্টোর প্ররোচনায় ১ মার্চ স্থগিত ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র, শ্রমিক, সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী তথা সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
প্রশ্ন \ ১৫ \ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন স্বাধীনতার মহানায়ক ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সংগ্রামের পথ ধরে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মার্চ তার ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছেন। তার নামেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। তার বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন স্বাধীনতার মহানায়ক ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি।
প্রশ্ন \ ১৬ \ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে তাজউদ্দিন আহমদের নাম অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত কেন?
উত্তর : মুক্তিযুদ্ধের সময় তাজউদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহচর। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এই মহান নেতা। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় তিনি সফলভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেন। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে তার নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত।
প্রশ্ন \ ১৭ \ অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের মাধ্যমে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : বাঙালির প্রতিবাদী মনোভাব ও মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াকু চেতনার মূর্তপ্রতীক অপরাজেয় বাংলা। এই ভাস্কর্যে অসম সাহসী তিনজন তরুণ মুক্তিযোদ্ধার অবয়ব অপূর্ব দক্ষতায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দুইজন তরুণ রাইফেল হাতে শত্রæর মোকাবিলায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আর ওষুধের ব্যাগ কাঁধে তরুণী মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ। অপরাজেয় বাংলা বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

 

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply