নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস অধ্যায় ২ বিশ্বসভ্যতা

দ্বিতীয় অধ্যায়
 বিশ্বসভ্যতা

আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্ব অংশে বর্তমানে যে দেশটির নাম ইজিপ্ট, সেই দেশেরই প্রাচীন নাম মিশর। খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে মিশরে প্রথম সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে। যার একটি ছিল উত্তর মিশর (নিম্ন মিশর) অপরটি ছিল দক্ষিণ মিশর (উচ্চ মিশর)। খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৩২০০ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত নীল নদের অববাহিকায় একটি রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়। শিখনফল
 প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার ক্রমবিকাশের ধারা বর্ণনা করতে পারবে।
 সিন্ধু সভ্যতার আবিষ্কারের কাহিনী ও ভৌগোলিক অবস্থান বর্ণনা করতে পারবে।
 সিন্ধু সভ্যতার রাজনৈতিক, আর্থসামাজিক ও ধর্মীয় অবস্থা বর্ণনা করতে পারবে।
 সভ্যতার বিকাশে সিন্ধু সভ্যতার নগর পরিকল্পনা, শিল্পকলা ও ভাস্কর্যের বর্ণনা করতে পারবে।
 ভৌগোলিক অবস্থান ও সময়কালের বর্ণনাপূর্বক গ্রিক সভ্যতার উদ্ভবের পটভ‚মি বর্ণনা করতে পারবে।
 সামরিক নগররাষ্ট্রের ধারণা প্রদানপূর্বক গণতান্ত্রিক নগররাষ্ট্র সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারবে।
 ভৌগোলিক অবস্থান ও সময়কাল উল্লেখপূর্বক প্রাচীন রোমান সভ্যতা বর্ণনা করতে পারবে।
 শিক্ষা, সাহিত্য ও লিখন পদ্ধতির বিকাশে প্রাচীন রোমান সভ্যতার অবদান বিশ্লেষণ করতে পারবে।
 বিশ্ব সভ্যতায় প্রাচীন রোমান সভ্যতার ধর্ম, দর্শন ও আইনের প্রভাব আলোচনা করতে পারবে।

অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে জেনে রাখি

সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান : প্রাচীন সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। তাদের ধর্মীয় চিন্তা, শিল্প, ভাস্কর্য, লিখন পদ্ধতি কাগজের আবিষ্কার, জ্ঞান বিজ্ঞানচর্চা-সবকিছুই তাদের অবদানে সমৃদ্ধ। মিশরীয়দের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে তাদের জীবনে এমন কোনো দিক নেই যা ধর্মীয় চিন্তা ও বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত হয়নি।
সিন্ধু সভ্যতা : উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতার নাম সিন্ধুসভ্যতা। সিন্ধু নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা এ সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময় হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়। বাঙালি প্রতœতত্ত¡বিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পুরাতত্ত¡ বিভাগের লোকেরা মহেঞ্জোদারো নামক স্থানে বৌদ্ধ স্তুপের ধ্বংসাবশেষ আছে ভেবে মাটি খুঁড়তে থাকে। অপ্রত্যাশিতভাবে বেরিয়ে আসে তাম্র-ব্রোঞ্জ যুগের নিদর্শন। একই সময়ে ১৯২২-২৩ খ্রিষ্টাব্দে দয়ারাম সাহানীর প্রচেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পা নামক স্থানেও প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়। জন মার্শালের নেতৃত্বে পুরাতত্ত¡ বিভাগ অনুসন্ধান চালিয়ে আরো বহু নিদর্শন আবিষ্কার করেন। মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা উভয় অঞ্চল একই সভ্যতার উন্মেষস্থল এবং এটিই সিন্ধু সভ্যতা যা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।
সভ্যতায় সিন্ধু অধিবাসীদের অবদান : সিন্ধু সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে তাদের নগর পরিকল্পনা। মূলত সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা উন্নত ধরনের নাগরিক সভ্যতায় অভ্যস্ত ছিল। এছাড়া তারা দ্রব্যের ওজন পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবক ছিল যা সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে বিবেচিত। মৃৎশিল্প, বয়নশিল্প, অলংকার নির্মাণ শিল্পেও তারা পারদর্শী ছিল। তাদের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য শিল্পে অবদানও গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রিক সভ্যতা : ক্রিট দ্বীপ, গ্রিস উপদ্বীপের মূল ভ‚খণ্ড, এশিয়া মাইনরের পশ্চিম উপক‚ল এবং ঈজিয়ান সাগরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপ নিয়ে গড়ে উঠেছিল গ্রিক সভ্যতা। এই সভ্যতার অধিবাসীরা ছিল সমৃদ্ধশালী এক সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের অধিকারী। এই সভ্যতাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা :
১. মিনিয়ন সভ্যতা : ক্রিট দ্বীপে এ সভ্যতার উদ্ভব। এর স্থায়ীকাল ধরা হয়েছে খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১৪০০ অব্দ পর্যন্ত।
২. মাইসিনিয় বা এচিয়ান সভ্যতা : গ্রিসের মূল ভ‚খণ্ডে দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থিত মাইসিনি নগরের নাম অনুসারে এর নামকরণ হয়। এই সভ্যতার স্থায়িত্ব ছিল খ্রিষ্টপূর্ব ১৬০০ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১১০০ অব্দ পর্যন্ত। ধারণা করা হয় বন্যা অথবা বিদেশি আক্রমণের ফলে এই সভ্যতার অবসান ঘটে।
সভ্যতায় গ্রিসের অবদান : ভৌগোলিক কারণে গ্রিক নগর রাষ্ট্রগুলো একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকলেও তাদের সংস্কৃতি ছিল অভিন্ন। রাজনৈতিক অনৈক্য থাকা সত্তে¡ও তারা একই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী বলে মনে করত। তাদের ভাষা, ধর্ম, সাহিত্য, খেলাধুলা-সবকিছু তাদের এক সংস্কৃতির বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছিল। এই সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে মূল অবদান ছিল এথেন্সের। আর এই সংস্কৃতির নাম হচ্ছে হেলেনীয় সংস্কৃতি। বিশ্ব সভ্যতায় এ সংস্কৃতির প্রভাব আজও বিদ্যমান।
রোমান সভ্যতা : গ্রিসের সভ্যতার অবসানের আগেই ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সাম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে উঠে। রোমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এই সভ্যতা রোমীয় সভ্যতা নামে পরিচিত। প্রথম দিকে রোম একজন রাজার শাসনাধীন ছিল। এ সময় একটি সভা ও সিনেটও ছিল। রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে খ্রিস্টপূর্ব ৫১০ অব্দে রোমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। রোমান সভ্যতা প্রায় ছয়শত বছর স্থায়ী হয়েছিল।
সভ্যতায় রোমের অবদান : রোম শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সর্বক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল। তারা এসব বিষয়ে গ্রিকদের অনুসরণ ও অনুকরণ করেছে। তবে সামরিক সংগঠন, শাসন পরিচালনা, আইন ও প্রকৌশল বিদ্যায় তারা গ্রিক ও অন্যান্য জাতির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে আধুনিক বিশ্ব রোমানদের কাছে বিপুলভাবে ঋণী।

 বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর 
১. মিশরীয়রা সর্বপ্রথম কয়টি ব্যঞ্জনবর্ণ আবিষ্কার করে?
ক ২৩টি  ২৪টি গ ২৫টি ঘ ২৬টি
২. মিশরীয়দের কাছে ধর্ম এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল কেন?
 মিশরীয়রা সর্বক্ষেত্রে ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত ছিল
খ অভিজাত স¤প্রদায় ধর্মের গুরুত্ব দিত
গ পুরোহিতরা দেশ শাসন করত
ঘ মিশরীয়রা ধর্মে বিশ্বাসী ছিল
নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
অলিম্পিক ক্রীড়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের পরিবেশনা দেখে সীমা ও তার পরিবার অভিভ‚ত হয়। অনুষ্ঠান দেখে সীমার একটি সভ্যতার কথা মনে পড়ল এবং সে তার স্কুলে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে বলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে ধারণা নেয়।
৩. সীমার কোন সভ্যতার কথা মনে পড়ে?
ক রোমান  গ্রিক গ চৈনিক ঘ সিন্ধু
৪. এ ধরনের আয়োজনে বিভিন্ন দেশের মধ্যে গড়ে উঠতে পারে
র. অর্থনৈতিক ঐক্য রর. সাংস্কৃতিক ভাব বিনিময়
ররর. রাজনৈতিক সমঝোতা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র  রর গ র ও রর ঘ র, রর ও ররর

 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন- ১  মিশরীয় সভ্যতা
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এখানে প্রায় প্রতি বছরই বন্যায় নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যার পানি নেমে গেলে তীরবর্তী এলাকায় পলি জমে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। ফলে ঐ অঞ্চলে চাষাবাদ করে কৃষকরা প্রচুর ফসল উৎপাদন করে এবং সমৃদ্ধি লাভ করে।
ক. কোন রাজা রোম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন?
খ. রোমে তিনজনের শাসন টিকেনি কেন? বর্ণনা কর।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থার সাথে কোন সভ্যতার কোন অববাহিকার মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. সভ্যতার বিকাশে উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থার তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

ক লাতিন রাজা রোমিউলাস রোম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন।
খ প্রাচীন রোমান সভ্যতায় ক্ষমতার দ্ব›েদ্বর একপর্যায়ে অক্টোভিয়াস সিজার, মার্ক এন্টনি ও লেপিডাস-এ তিনজন নেতা বিশাল রোম সাম্রাজ্যকে তিন ভাগ করে শাসনের দায়িত্ব নেন। যা ইতিহাসে

ত্রয়ীশাসন নামে পরিচিত। কিন্তু তিনজনের শাসন বেশি দিন টিকেনি। কারণ, প্রত্যেকেরই আকাক্সক্ষা ছিল রোমের সম্রাট হওয়া। ফলে খুব শিগগির আবার ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়ে যায়। এতে ত্রয়ীশাসন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
গ উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থার সাথে মিশরীয় সভ্যতার নীলনদ অববাহিকার মিল রয়েছে। মিশরের নীলনদের উৎপত্তি আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে। সেখান থেকে নদটি নানা দেশ হয়ে মিশরের মধ্য দিয়ে ভ‚মধ্যসাগরে এসে পড়েছে। ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস যথার্থই বলেছেন ‘মিশর নীলনদের দান’। উদ্দীপকেও দেখা যায় বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয়েছে। নীলনদ না থাকলে মিশর মরুভ‚মিতে পরিণত হতো। প্রাচীনকালে প্রতিবছর নীলনদে বন্যা হতো। বন্যার পর পানি সরে গেলে দুই তীরে পলিমাটি পড়ে জমি উর্বর হয়ে যেত। জমে থাকা পলিমাটিতে জন্মাতো নানা ধরনের ফসল। উদ্দীপকের দেশটিতেও প্রায় প্রতি বছরই বন্যায় নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যার পানি নেমে গেলে তীরবর্তী এলাকায় পলি জমে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। ফলে ঐ অঞ্চলে চাষাবাদ করে কৃষকরা প্রচুর ফসল উৎপাদন করে এবং সমৃদ্ধি লাভ করে। সুতরাং উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলাদেশের অবস্থার সাথে মিশরীয় সভ্যতার নীলনদ অববাহিকার মিল পাওয়া যায়।
ঘ সভ্যতার বিকাশে উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থা অর্থাৎ নদীতে বন্যার ফলে তার তীরবর্তী এলাকার উর্বরতাপ্রাপ্তি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অত্যন্ত তাৎপর্যময়। আদিম যুগের মানুষ কৃষিকাজ জানত না। বনে বনে ঘুরে ঘুরে ফলমূল সংগ্রহ করত। এই ছিল তাদের খাদ্য। এরপর মানুষ পাথর ভেঙে ঘসে ঘসে ধারালো অস্ত্র তৈরি করতে শেখে। পাথর যুগে মানুষ পাথরের অস্ত্র দিয়ে দলবদ্ধভাবে পশু শিকার করত। এরা আগুনের ব্যবহারও জানত। কিন্তু এ যুগেও সভ্যতার উন্মেষ ঘটেনি। পুরনো পাথরের যুগ শেষ হয়ে মানুষ যখন কৃষিকাজ শেখে, একই সঙ্গে শেষ হয় তাদের যাযাবর জীবন। এ যুগকে বলা হয় নতুন পাথরের যুগ বা নবোপলীয় যুগ। কৃষির প্রয়োজনে এযুগে মানুষ নদীর তীরে বসবাস শুরু করে। ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে শেখে। এভাবেই মানবসভ্যতার শুরু।
উদ্দীপকেও এরূপ একটি অবস্থা বর্ণিত হয়েছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের জন্য। যেখানে নদীর তীরবর্তী এলাকার কৃষকেরা প্রচুর ফসল উৎপাদন করে এবং সমৃদ্ধি লাভ করে। আর এদেশে যেমন প্রতিবছরের বন্যায় স্বাভাবিক প্লাবনে ভ‚মিতে পলিমাটি পড়ে জমি উর্বর হয়, প্রাচীন সভ্যতার উন্মেষেও সেরূপ অবস্থা দেখা যায়। যেমন মিশরীয় সভ্যতার বিকাশ ঘটে নীলনদের অববাহিকায়। সুতরাং, উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থা তথা নদীর অবদান সভ্যতার বিকাশে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

 বোর্ড ও সেরা স্কুলের বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১. বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক কে? [স. বো. ’১৬]
ক হেরোডোটাস  থুকিডাইডেস
গ ইউরিপিদিস ঘ এরিস্টোফেনেস
২. পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কন করেন কারা? [স. বো. ’১৫]
ক মিশরীয়রা  গ্রিকরা
গ রোমানরা ঘ সিন্ধুর অধিবাসীরা
৩. মিশরের প্রথম ফারাও কে? [মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদপুর]
 মেনেস (নারমার) খ ফারাও খুফু
গ ফারাও ইখনাটন ঘ হাম্বুরাবি
৪. মিশরের পূর্ব দিকে কোন সাগর অবস্থিত? [চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
 লোহিত সাগর খ ভ‚মধ্যসাগর
গ আরব সাগর ঘ চীন সাগর
৫. মিশরীয় সভ্যতা কত বছর স্থায়ী ছিল?
[মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক ২০০০  ২৫০০ গ ৩০০০ ঘ ৩৫০০
৬. ফারাও পদটি কেমন ছিল? [খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়]
ক আরামের খ আয়েশের
গ মর্যাদার  বংশানুক্রমিক
৭. নীলনদ কোথায় পতিত হয়েছে? [মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক আরব সাগরে খ লোহিত সাগরে
 ভ‚মধ্যসাগরে ঘ আটলান্টিক মহাসাগরে
৮. মিশরকে নীলনদের দান বলেছেন [বরগুনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক ইখনাটন খ ফারাও খুফু  হেরোডোটাস ঘ এরিস্টটল
৯. মিশরীয়দের কাছে ধর্ম এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল কেন?
[খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক সকল মিশরীয়রা ধর্মে বিশ্বাসী ছিল বলে
খ পুরোহিতরা দেশ শাসন করত বলে
গ অভিজাতরা ধর্মের গুরুত্ব দিত বলে
 মিশরীয়রা সর্বক্ষেত্রে ধর্মদ্বারা প্রভাবিত ছিল বলে
১০. মিশরীয়দের সূর্য দেবতার নাম কী? [মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
 ‘রে’ বা ‘আমন রে’ খ ওসিরিস
গ ইখনাটন ঘ ঈশ্বর
১১. নীলদের দেবতার নাম [দি বাডস্ রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ]
 ওসিরিস খ ফারাও গ রে ঘ এটম
১২. মিশরীয়দের প্রিয় রং কী ছিল? [মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক লাল ও সবুজ খ লাল ও কালো
 সাদা ও কালো ঘ লাল ও নীল
১৩. মিশরীয়দের বর্ণমালায় কতটি ব্যঞ্জন বর্ণ ছিল? [রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়]
ক ২২ খ ২৩  ২৪ ঘ ২৫
১৪. মিশরীয়দের লিখন পদ্ধতিকে কী বলা হতো?
[অগ্রগামী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট]
 হায়ারোগিøফিক খ কিউনিফর্ম
গ মেসোপটেমীয় লিপি ঘ মিশরীয় লিপি
১৫. পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে কারা?
[চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক গ্রিকরা খ পারসিকরা  মিশরীয়রা ঘ অ্যাসেরীয়রা
১৬. সিন্ধু সভ্যতা কোন অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল?
[বরগুনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক নীলনদের  সিন্ধু নদের গ যমুনার ঘ ব্র‏হ্মপুত্র নদের
১৭. কত খ্রিষ্টাব্দে (হরপ্পায়) প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়?
[দি বাডস রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ]
ক ১৯১৯-১৯২০ খ ১৯২১-১৯২২
 ১৯২২-১৯২৩ ঘ ১৯২৩-১৯২৪
১৮. উপমহাদেশের প্রাচীন সভ্যতা কোনটি? [সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গা]
 সিন্ধু সভ্যতা খ বৌদ্ধ সভ্যতা
গ চৈনিক সভ্যতা ঘ ইনকা সভ্যতা
১৯. সিন্ধু উপত্যকার নগরগুলো কেমন ছিল? [অগ্রগামী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট]
ক রাজতান্ত্রিক  প্রজাতান্ত্রিক
গ একনায়কতান্ত্রিক ঘ আমলাতান্ত্রিক
২০. সিন্ধু সভ্যতার পথের ধারে কী ছিল? [অগ্রগামী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট]
ক গাছপালা খ ঘরবাড়ি
গ দোকানপাট  সারিবদ্ধ ল্যাম্পপোস্ট
২১. হরপ্পার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইমারত ছিল কোনটি?
[বরগুনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক বৃহদাকার প্রাসাদ খ বৃহদাকার স্নানাগার
 বৃহদাকার শস্যাগার ঘ বৃহদাকার অট্টালিকা
২২. প্লেটো কার শিষ্য ছিলেন? [বরগুনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
 সক্রেটিসের খ এরিস্টলের
গ তালেসের ঘ আলেকজান্ডারের
২৩. পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কন করেন কারা?
[দি বাডস্ রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, বরগুনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
 গ্রিক বিজ্ঞানীরা খ মিশরীয় বিজ্ঞানীরা
গ মেসোপটেমীয় বিজ্ঞানীরা ঘ চৈনিক বিজ্ঞানীরা
২৪. অলিম্পিক খেলার সূচনা হয় কোথায়?
[দি বাডস্ রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, শ্রীমঙ্গল]
ক রোমে  গ্রিসে গ মিশরে ঘ তুরস্কে
২৫. রোমানদের প্রধান দেবতার নাম ছিল কী? [বরগুনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক গঙ্গ খ বিষ্ণু গ গণেশ  জুপিটার
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২৬. পেরিক্লিস যে বিভাগে নাগরিকদের অবাধ অংশগ্রহণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন [স. বো. ’১৫]
র. প্রশাসন রর. আইন
ররর. বিচার বিভাগ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
২৭. পিরামিড একটি [দি বাডস রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ]
র. স্থাপত্য শিল্প
রর. ভাস্কর্য শিল্প
ররর. কারুশিল্প
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ২৮ ও ২৯ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
শরিফ স্যার গণিতের ক্লাসে ত্রিভুজের বিভিন্ন প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। দশম শ্রেণির ছাত্র সিয়ামের মনে পড়ে যায় এক বিশেষ সভ্যতার কথা। যাদের তৈরিকৃত এক স্থাপত্য শিল্পের আকৃতিও ত্রিভুজের মতো।
[স. বো. ’১৫]
২৮. সিয়ামের কোন সভ্যতার কথা মনে পড়ে?
 মিশরীয় খ গ্রিক গ সিন্ধু ঘ রোমান
২৯. উক্ত সভ্যতার লোকেরা ছিল-
র. ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত
রর. একেশ্বরবাদের ধারক
ররর. প্রথম পঞ্জিকার আবিষ্কারক
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 বিষয়ক্রম অনুযায়ী বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
 ভ‚মিকা  বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ০৮
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৩০. আদিম যুগে মানুষ কোনটি জানত? (জ্ঞান)
 ফলমূল সংগ্রহ করতে খ ফসল উৎপাদন করতে
গ পশু পালন করতে ঘ ব্যবসা করতে
৩১. আদিম মানুষেরা অস্ত্র তৈরি করতে কী ব্যবহার করত? (অনুধাবন)
ক বন্দুক খ লোহা গ বল­ম  পাথর
৩২. আদিম যুগে একমাত্র হাতিয়ার কী ছিল? (জ্ঞান)
ক ধনুক খ বর্শা  পাথর ঘ লোহা
৩৩. পাথরের যুগের প্রথম পর্যায়কে কী বলা হতো? (জ্ঞান)
ক নতুন পাথরের যুগ  পুরাতন পাথরের যুগ
গ মধ্য যুগ ঘ নবোপলীয় যুগ
৩৪. পুরোপলীয় যুগ কী? (জ্ঞান)
 পুরনো পাথরের যুগ খ আদি পাথরের যুগ
গ নব্য পাথরের যুগ ঘ বর্তমান পাথরের যুগ
৩৫. কোন অস্ত্র দিয়ে প্রাচীন মানুষ পশু শিকার করত? (অনুধাবন)
ক লোহার অস্ত্র  পাথরের অস্ত্র
গ আধুনিক অস্ত্র ঘ কাঠের অস্ত্র
৩৬. পুরনো পাথরের যুগ শেষ হলে মানুষ কোনটি শেখে? (জ্ঞান)
ক পশুপালন  কৃষি কাজ
গ ব্যবসায় ঘ পশু শিকার
৩৭. কোন যুগের শেষে প্রাচীন মানুষের যাযাবর জীবন শেষ হয়? (জ্ঞান)
ক নতুন পাথরের যুগ  পুরনো পাথরের যুগ
গ মধ্য যুগ ঘ ব্রোঞ্জ যুগে
৩৮. নবোপলীয় যুগের অপর নাম কী? (জ্ঞান)
ক আদিম যুগ খ মধ্য যুগ
 নতুন পাথরের যুগ ঘ আধুনিক যুগ
৩৯. পুরনো পাথরের যুগ শেষ হলে কোন যুগ শুরু হয়? (জ্ঞান)
ক মধ্য যুগ খ আদিম যুগ
 নবোপলীয় যুগ ঘ ব্রোঞ্জ যুগ
৪০. কৃষির আবিষ্কার হয় কোন যুগে? (জ্ঞান)
ক পুরোপলীয় যুগে  নবোপলীয় যুগে
গ লৌহ যুগে ঘ আদিম যুগে
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৪১. আদিম যুগে মানুষÑ (অনুধাবন)
র. ফলমূল সংগ্রহ করত
রর. পাথরের অস্ত্র দিয়ে পশু শিকার করত
ররর. যাযাবর জীবনযাপন করত
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৪২. নবোপলীয় যুগের বিশেষ অবদান হচ্ছে (অনুধাবন)
র. মানুষের শিকারি জীবনের অবসান
রর. কৃষির আবিষ্কার
ররর. ঘরবাড়ি নির্মাণ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর

 বিশ্বসভ্যতা : মিশরীয় সভ্যতা  বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ৯
 আফ্রিকা মহাদেশের যে দেশটির নাম বর্তমানে ইজিপ্ট, তার প্রাচীন নাম মিশর।
 মিশরে প্রথম সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে।
 মিশরের প্রথম নরপতি ও পুরোহিত হলেন নারমার বা মেনেস।
 মিশরের অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষি নির্ভর।
 ‘মিশর নীল নদের দান’ বলেছেন হেরোডোটাস।
 মিশরের সবচেয়ে বড় পিরামিড হলো ফারাও খুফুর পিরামিড।
 গণিত শাস্ত্রের দুটি শাখা জ্যামিতি এবং পাটিগণীতের প্রচলন করে মিশরীয়রা।
 মিশরীয়দের জীবনের সবকিছু প্রভাবিত হয় ধর্মীয় চিন্তা ও বিশ্বাস দ্বারা।
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৪৩. মিশরের অবস্থান (জ্ঞান)
 আফ্রিকার উত্তর-পূর্ব অংশে খ আফ্রিকার দক্ষিণাংশে
গ ইউরোপের পূর্বাংশে ঘ এশিয়ার উত্তরাংশে
৪৪. মিশরের বর্তমান নাম কী? (জ্ঞান)
ক পারস্য খ মেসোপটেমিয়া
 ইজিপ্ট ঘ স্পার্টা
৪৫. ইজিপ্ট এর পূর্ব নাম কী? (জ্ঞান)
ক গিনি খ সেনেগাল  মিশর ঘ সাইপ্রাস
৪৬. মিশরে খ্রিষ্টাপূর্ব কত অব্দে প্রথম সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে? (জ্ঞান)
ক ৩০০০ অব্দে খ ২০০০ অব্দে  ৪০০০ অব্দে ঘ ৪৫০০ অব্দে
৪৭. উত্তর মিশরকে কী বলা হয়? (জ্ঞান)
 নিম্ন মিশর খ উচ্চ মিশর
গ সমতল মিশর ঘ পাহাড়ী মিশর
৪৮. খ্রিষ্টপূর্ব কত অব্দে নীলনদের অববাহিকায় একটি রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়? (জ্ঞান)
ক ৪০০০ Ñ ৩০০০ অব্দে খ ৩০০০ Ñ ২০০০ অব্দে
গ ৫০০০ – ৪০০০ অব্দে  ৫০০০ Ñ ৩২০০ অব্দে
৪৯. কত খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মিশরীয় সভ্যতায় প্রথম রাজবংশের শাসন আমল শুরু হয়? (জ্ঞান)
ক ৩০০০ খ ২০০০  ৩২০০ ঘ ৩৪০০
৫০. প্রথম ফারাও-এর মর্যাদা লাভ করেন কে? (জ্ঞান)
 মেনেস খ ইখনাটন গ এটন ঘ মানিস প্যান্ডে
৫১. মিশরের দক্ষিণে কোন রাষ্ট্রটি অবস্থিত? (জ্ঞান)
ক কাতার খ সিরিয়া গ লেবানন  সুদান
৫২. মিশরের পশ্চিম দিকে অবস্থিত (জ্ঞান)
ক লোহিত সাগর  সাহারা মরুভ‚মি
গ গোবি মরুভ‚মি ঘ আরব সাগর
৫৩. মিশরের আয়তন কত বর্গমাইল? (জ্ঞান)
 প্রায় চার লক্ষ খ প্রায় দুই লক্ষ
গ প্রায় তিন লক্ষ ঘ প্রায় পাঁচ লক্ষ
৫৪. কার নেতৃত্বে মিশরীয় সভ্যতার গোড়াপত্তন হয়? (জ্ঞান)
 মেনেস খ পেরিক্লিস গ থেলিস ঘ হেরোডোটাস
৫৫. মেনেস যে সভ্যতার গোড়াপত্তন করে তা কত বছর স্বমহিমায় উজ্জ্বল ছিল? (জ্ঞান)
ক প্রায় ২ হাজার বছর  প্রায় ৩ হাজার বছর
গ প্রায় ৪ হাজার বছর ঘ প্রায় ৫ হাজার বছর
৫৬. কোন দেশের এক বর্বর জাতি ফারাওদের সিংহাসন দখল করে নেয়? (জ্ঞান)
ক জর্দান খ ইসরাইল গ গিনি  লিবিয়া
৫৭. খ্রিষ্টপূর্ব কত শতকে লিবিয়ার এক বর্বর জাতি ফারাওদের সিংহাসন দখল করে নেয়? (জ্ঞান)
ক নবম খ অষ্টম  দশম ঘ সপ্তম
৫৮. কোন দেশের এক বর্বর জাতি ফারাওদের সিংহাসন দখল করে নেয়? (জ্ঞান)
ক জর্দান খ ইসরাইল গ গিনি  লিবিয়া
৫৯. কোন সময়ে অ্যাসিরীয়রা মিশরে আধিপত্য বিস্তার করে? (জ্ঞান)
ক ৬৭০ Ñ ৬৬০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে খ ৬০০ Ñ ৭০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
 ৬৭০ Ñ ৬৬২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ঘ ৬৭০ Ñ ৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
৬০. পারস্য কোন সময়ে মিশর দখল করেছিল? (জ্ঞান)
ক ৫২০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে  ৫২৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
গ ৫৩০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ঘ ৫৩৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
৬১. কোন দেশ মিশর দখল করে নিলে মিশরের প্রাচীন সভ্যতার সূর্য অস্তমিত হয়? (জ্ঞান)
ক মেসোপটেমিয়া  পারস্য
গ আরবরা ঘ ইংরেজরা
৬২. প্রাচীন মিশরের রাজাদের কী বলা হতো? (জ্ঞান)
 ফারাও খ প্রভু গ বাদশাহ ঘ সম্রাট
৬৩. প্রাক রাজবংশীয় যুগে মিশরের ছোট ছোট নগর রাষ্ট্রগুলোকে কী বলা হতো? (জ্ঞান)
ক এটন খ ফারাও গ পিরামিড  নোম
৬৪. মিশরের প্রথম রাজার নাম কী? (জ্ঞান)
 মেনেস খ জুপিটার
গ থেলিস ঘ লিওপোল্ড ফন র‌্যাংকে
৬৫. কোন রাজা সমগ্র মিশরকে একত্রিত করে একটি একক রাষ্ট্র গড়ে তোলেন? (জ্ঞান)
 মেনেস খ হাম্মুরাবি
গ জুলিয়াস সীজার ঘ কনফুসিয়াস
৬৬. প্রাচীন মিশরের রাজধানী কোনটি? (জ্ঞান)
ক রোম খ গ্রিস  মেম্ফিস ঘ এথেন্স
৬৭. ফারাও শব্দের উৎপত্তি কোন শব্দ থেকে? (জ্ঞান)
ক ‘পোরাও’  ‘পের-ও’ গ ‘পেরিও’ ঘ ‘পরাও’
৬৮. ফারাওরা ছিল অত্যন্ত (জ্ঞান)
 ক্ষমতাশালী খ ন্যায় নীতিবান
গ কঠোর ঘ দয়ালু
৬৯. নিজেদেরকে সূর্যদেবতার বংশধর মনে করতেন কোন দেশের রাজারা? (জ্ঞান)
ক লিবিয়া  মিশর গ ইরান ঘ ইরাক
৭০. ফারাওরা নিজেদের কার বংশধর মনে করত? (জ্ঞান)
ক অগ্নিদেবতা  সূর্য দেবতা
গ শক্তি দেবতা ঘ পাথর দেবতা
৭১. ফারাওদের উত্তরাধিকার সূত্রে কারা ফারাও হতো? (জ্ঞান)
ক তাদের পিতা  তাদের ছেলে
গ তাদের ভাই ঘ সাধারণ প্রজা
৭২. পেশার বিচারে প্রাচীন মিশরবাসীদের কয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছিল? (জ্ঞান)
ক ছয়  আট গ দশ ঘ বারো
৭৩. নীলনদের উৎপত্তি কোন লেক থেকে হয়েছে? (অনুধাবন)
ক কাপাসিয়া  ভিক্টোরিয়া গ নায়াগ্রা ঘ চরং
৭৪. মিশরের অর্থনীতি মূলত কীসের উপর নির্ভরশীল? (অনুধাবন)
ক ব্যবসা  কৃষি
গ পশুপালন ঘ খনিজ সম্পদ
৭৫. কোনটি না থাকলে মিশর মরুভ‚মিতে পরিণত হতো? (জ্ঞান)
ক বৃষ্টির পানি  নীলনদ গ আরব সাগর ঘ ভ‚মধ্যসাগর
৭৬. প্রাচীনকালে নীলনদে বন্যা হতো- (জ্ঞান)
 প্রতি বছর খ এক বছর পর
গ ৩ বছর পর ঘ ২ বছর পর
৭৭. মানবসভ্যতার অনেক ধ্যান ধারণা ও রীতি-নীতি কোথায় জন্ম হয়? (জ্ঞান)
ক ইরাকে খ ভারতে  প্রাচীন মিশরে ঘ ইংল্যান্ডে
৭৮. মিশরে জমি উর্বর হতো কীভাবে? (অনুধাবন)
ক সার ব্যবহার দ্বারা খ সেচের পানি দ্বারা
গ বৃষ্টির পানি দ্বারা  বন্যার পানি দ্বারা
৭৯. কাদের জীবনে সূর্যদেবতা ‘রে’ এর গুরুত্ব বেশি ছিল? (জ্ঞান)
ক লিবীয়দের খ ইরানিদের  মিশরীয়দের ঘ আরবদের
৮০. মৃত ব্যক্তি আবার একদিন বেঁচে উঠবে- এমন ধারণা দেন কারা? (জ্ঞান)
ক আরবরা  মিশরীয়রা গ গ্রিকরা ঘ ইংরেজরা
৮১. কী রক্ষার জন্য পিরামিড তৈরি করা হয়েছিল? (অনুধাবন)
ক ফারাও  মমি গ রাজা ঘ প্রজা
৮২. মিশরীয়রা মৃতদেহকে মমি করত কেন? (অনুধাবন)
ক সম্মান জানাতে খ পূজা করতে
গ জীবিত করতে  রক্ষা করতে
৮৩. প্রাচীন মিশরে ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে শাসন করতেন কে? (জ্ঞান)
ক এটন  ফারাও
গ জুপিটার ঘ আমন রে
৮৪. মিশরে চিত্র শিল্প গড়ে উঠেছিল কীসের প্রভাবে? (অনুধাবন)
 ধর্মীয় বিশ্বাস দ্বারা খ ফারওদের দ্বারা
গ মনিদের দ্বারা ঘ প্রজাদের দ্বারা
৮৫. মিশরে কীভাবে চিত্রশিল্পের সূচনা হয়? (অনুধাবন)
ক রং আবিষ্কার হওয়ায়
খ চিত্রশিল্পীদের মর্যাদা বৃদ্ধি হওয়ায়
 মন্দির সাজাতে গিয়ে
ঘ রোমীয় সভ্যতার সংস্পর্শে
৮৬. মিশরের রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের কাহিনী কীসের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে? (অনুধাবন)
 চিত্রশিল্পের খ পিরামিডের গ মন্দিরের ঘ বর্ণলিপির
৮৭. স্থাপত্য শিল্পের মতো মিশরীয়রা দক্ষ ছিল- (অনুধাবন)
ক ছবি আঁকায়  বিভিন্ন ধরনের অলংকার তৈরিতে
গ অস্ত্রশস্ত্র তৈরিতে ঘ অংক শাস্ত্রে
৮৮. প্রাচীন বিশ্বসভ্যতায় মিশরীয়দের শ্রেষ্ঠত্বের বাহন কী? (অনুধাবন)
 ভাস্কর্য খ পিরামিড গ জাদুঘর ঘ কৃষি কাজ
৮৯. স্ফিংকস ভাস্কর্যটি কাদের? (জ্ঞান)
ক সিরিয়ানদের  মিশরীয়দের গ ইরানিদের ঘ ইরাকিদের
৯০. স্ফিংকসের দেহটা কিসের মতো? (জ্ঞান)
ক বাঘ খ হরিণ  সিংহ ঘ গরু
৯১. মিশরের সবচেয়ে বড় পিরামিডÑ (জ্ঞান)
 ফারাও খুফুর পিরামিড খ কার্ক পিরামিড
গ লাকজোর পিরামিড ঘ নেবুচাদনেজাদের পিরামিড
৯২. মিশরীয়রা কত হাজার বছর পূর্বে ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণ আবিষ্কার করেন? (জ্ঞান)
 পাঁচ খ ছয় গ তিন ঘ বিশ
৯৩. মিশরীয়রা প্রথম দিকে কীভাবে মনের ভাব প্রকাশ করত? (অনুধাবন)
ক লিখে খ সংখ্যা গুণে
 ছবি এঁকে ঘ ইশারায়
৯৪. ছবি আঁকার মাধ্যমে লিখন পদ্ধতিকে কী বলা হতো? (অনুধাবন)
ক খরিপ লিপি খ গৌড়লিপি
 চিত্রলিপি ঘ মিশরীয় লিপি
৯৫. ‘হায়ারেগিফিক’ অর্থ কী? (জ্ঞান)
 পবিত্র অক্ষর খ সুন্দর অক্ষর গ চিত্রলিপি ঘ বর্ণলিপি
৯৬. কোন শব্দ থেকে ইংরেজি পেপার নামের উৎপত্তি হয়েছে? (জ্ঞান)
 প্যাপিরাস খ হ্যাপিরাস গ পরাস ঘ মিরাস
৯৭. নেপোলিয়ান বোনাপার্টের মিশর জয়ের সময় আবিস্কৃত পাথরটি কী নামে পরিচিত ছিল? (জ্ঞান)
 রসেটা খ করেটা গ মরিট ঘ ফিউরিক
৯৮. মিশরীয়দের সভ্যতা কেমন ছিল? (জ্ঞান)
ক ব্যবসা নির্ভর  কৃষিনির্ভর
গ পশুপালন নির্ভর ঘ মৎস্যনির্ভর
৯৯. জ্যামিতির প্রচলন করেন কারা? (জ্ঞান)
ক ইরানিরা খ সিরিয়রা  মিশরীয়রা ঘ ইংরেজরা
১০০. পাটিগণিতের প্রচলন করেন কারা? (জ্ঞান)
 মিশরীয়রা খ আরবরা গ ইংরেজরা ঘ ফরাসিরা
১০১. ৩৬৫ দিনে বছর গণনা শুরু করে কারা? (জ্ঞান)
ক মেসোপটেমীয়রা খ গ্রিকরা
 মিশরীয়রা ঘ ফিনিশীয়রা
১০২. মিশরীয়রা বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ছিল কেন? (জ্ঞান)
ক শিল্পের কারণে খ যুদ্ধের কারণে
 ধর্মের কারণে ঘ কৃষির কারণে
১০৩. কারা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মৃতদেহ পচন থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়? (জ্ঞান)
 মিশরীয়রা খ গ্রিকরা গ রোমানরা ঘ পারসিকরা
১০৪. কারা চোখ, দাঁত পেটের রোগ নির্ণয় করতে জানত? (অনুধাবন)
ক রোমীয়রা খ ফিনিশীয়রা
গ গ্রিকরা  মিশরীয়রা
১০৫. মিশরীয়দের লেখার সময় মনোভাব কেমন থাকত? (জ্ঞান)
 আনন্দপূর্ণ খ বেদনাপূর্ণ
গ দুঃখপূর্ণ ঘ গাম্ভীর্যপূর্ণ
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১০৬. মিশরের ভৌগোলিক অবস্থান হলো- (অনুধাবন)
র. পশ্চিমে সাহারা মরুভূমি
রর. দক্ষিণে লেবানন
ররর. পূর্বে লোহিত সাগর
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১০৭. পেশার ওপর ভিত্তি করে মিশরের সমাজের মানুষকে যে শ্রেণিতে ভাগ করা হয়Ñ (অনুধাবন)
র. রাজ পরিবার
রর. পুরোহিত
ররর. অভিজাত
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১০৮. মিশরের উৎপাদিত ফসলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল (প্রয়োগ)
র. গম
রর. যব
ররর. ধান
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১০৯. মিশরের গম ও লিলেন কাপড় রপ্তানী করা হতো (প্রয়োগ)
র. ফিলিস্তিনে
রর. সিরিয়ায়
ররর. ইরাকে
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১১০. মিশরীয়রা বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করত (প্রয়োগ)
র. স্বর্ণ
রর. রৌপ্য
ররর. হাতির দাঁত
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১১১. প্রাচীন সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান (প্রয়োগ)
র. ধর্মীয় চিন্তায়
রর. শিল্পে
ররর. লিখন পদ্ধতিতে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১১২. মিশরীয় চিত্র শিল্পীরা অসাধারণ ছবি এঁকেছেন (অনুধাবন)
র. সমাধিতে
রর. পিরামিডে
ররর. মন্দিরে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর

 বোর্ড ও সেরা স্কুলের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন- ১  মিশরীয় সভ্যতা

তারান্নুম প্রাচীন বিশ্বসভ্যতা সম্পর্কীয় ম্যাগাজিন পড়তে দিয়ে তালতলা অঞ্চলের জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়। আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে তালতলা অঞ্চল কৃষিতেই শুধু উন্নত ছিল না। তারা বর্ণমালা আবিষ্কার করেন এবং লেখার জন্য বিশেষ গাছ থেকে কাগজ তৈরি করেন। ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রেও তারা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।
[স. বো. ’১৬]
ক. গণতন্ত্রের সূচনা হয় কোথায়? ১
খ. নবোপলীয় যুগ বলতে কী বোঝ? ২
গ. তারান্নুমের ম্যাগাজিনে পড়া তালতলা অঞ্চলের সভ্যতার সাথে প্রাচীন কোন সভ্যতার মিল পাওয়া যায় ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাচীন সভ্যতাটি “ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছিল।”উক্তিটি বিশ্লেষণ কর। ৪

ক প্রাচীন গ্রিসে প্রথম এথেন্সে গণতন্ত্রের সূচনা হয়।
খ সভ্যতার উন্মেষে প্রাচীন মানুষ একসময় পাথরকে হাতিয়ারূপে ব্যবহার করতে শেখে। এযুগকে বলা হতো পাথরের যুগ। পাথর যুগের প্রথম পর্যায়কে বলা হতো পুরনো পাথরের যুগ বা পুরোপলীয় যুগ। এ যুগ শেষ হয়ে মানুষ যখন কৃষিকাজ শেখে, শেষ হয় তাদের যাযাবর জীবন। এ যুগকে বলা হয় নতুন পাথরের যুগ বা নবোপলীয় যুগ। কৃষির প্রয়োজনে এ যুগে মানুষ নদীর তীরে বসবাস শুরু করে। ঘর-বাড়ি নির্মাণ করতে শেখে। এভাবেই মানবসভ্যতার শুরু।
গ তারান্নুমের ম্যাগাজিনে পড়া তালতলা অঞ্চলের সভ্যতার সাথে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার মিল পাওয়া যায়। তালতলা অঞ্চল কয়েক হাজার বছর আগেই কৃষিতে উন্নত ছিল। তদ্রƒপ প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে সূচিত মিশরীয় সভ্যতার অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর। উৎপাদিত ফসলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল গম, যব, তুলা, পেয়াঁজ, পিচ ইত্যাদি। আবার তালতলা অঞ্চলের অধিবাসীরা বর্ণমালা আবিষ্কার করেন এবং লেখার জন্য বিশেষ গাছ থেকে কাগজ তৈরি করেন। এদিক দিয়েও আমরা দেখি মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার। নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটে। পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে। প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি। এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর। মিশরীয়রা নল খাগড়া জাতীয় গাছের খণ্ড থেকে কাগজ বানাতে শেখে। সেই কাগজের উপর তারা লিখত। গ্রিকরা এই কাগজের নাম দেয় ‘প্যাপিরাস’। আবার তালতলা অঞ্চলের মতো মিশরীয় সভ্যতা ভাষ্কর্য ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রেও উল্লেখাযেগ্যা অবদান রাখে। সুতরাং, তালতলা অঞ্চলের সভ্যতার সাথে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার সুষ্পষ্ট মিল পাওয়া যায়।
ঘ উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা ভাষ্কর্য ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছিল। প্রাচীন বিশ্বসভ্যতায় মিশরীয়দের মতো ভাস্কর্য শিল্পে অসাধারণ প্রতিভার ছাপ আর কেউ রাখতে সক্ষম হয়নি। ব্যাপকতা, বৈচিত্র্য এবং ধর্মীয় ভাবধারায় প্রভাবিত বিশাল আকারের পাথরের মূতিগুলো ভাস্কর্য শিল্পে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। প্রতিটি ভাস্কর্য মানুষ অথবা জীবজন্তুর; সবই ধর্মীয় ভাবধারা, আচার অনুষ্ঠান, মতদার্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিল। প্রতিটি শিল্পই ছিল আসলে ধর্মীয় শিল্পকলা। সর্বশ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য হচ্ছে গিজার অতুলনীয় স্ফিংক্স। এটি হচ্ছে এমন একটি মূর্তি, যার দেহটা সিংহের মতো, কিন্তু মুখ মানুষের। মিশরের সবচেয় বড় পিরামিডটি হচ্ছে ফারাও খুফুর পিরামিড। এছাড়া মন্দিরগুলোতে মিশরীয় ভাস্কর্য স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রশ্ন- ২  রোমান সভ্যতা

রাজু খান দীর্ঘদিন ‘ক’ দেশে চাকরি করেন। স¤প্রতি দেশে আসলে ছেলে দিপু জিজ্ঞেস করল বাবা ‘ক’ দেশের জীবনযাপন প্রণালি কেমন ছিল? বাবা বলল, সেখানকার আইনের ব্যবহার খুবই চমৎকার। সে আইনে সকল মানুষ সমান। আইনে মানুষের নিরাপত্তা, জানমাল রক্ষার ও মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে। তাদের আইনগুলো জানার জন্য তা সাইনবোর্ডে লিখে মহল্লায় ঝুলিয়ে দেওয়া হতো। আইন মান্য করা প্রত্যেকের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। [স. বো. ’১৫]
ক. ‘ইলিয়ড’ ও ‘ওডিসি’ মহাকাব্যের রচয়িতা কে? ১
খ. সামরিক রাষ্ট্র স্পার্টার বর্ণনা দাও। ২
গ. ‘ক’ দেশের আইন প্রাচীন কোন সভ্যতার আইনে পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. তুমি কি মনে কর ‘ক’ দেশের আইনের মতো প্রাচীন সভ্যতার সেই আইনের উপর আধুনিক বিশ্ব নির্ভরশীল? মতামত দাও। ৪

ক ‘ইলিয়ড’ ও ‘ওডিসি’ মহাকাব্যের রচয়িতা গ্রিসের মহাকবি হোমার।
খ প্রাচীন গ্রিসে যে অসংখ্য নগররাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল তার একটি ছিল স্পার্টা। এ নগর রাষ্ট্রের অবস্থান ছিল দক্ষিণ গ্রিসের পেলোপনেসাস নামক অঞ্চলে। অন্যান্য নগর রাষ্ট্র থেকে স্পার্টা ছিল আলাদা। স্পার্টানদের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সমরতন্ত্র দ্বারা তারা প্রভাবান্বিত ছিল। মানুষের মানবিক উন্নতির দিকে নজর না দিয়ে সামরিক শক্তি সঞ্চয়ের দিকে তাদের দৃষ্টি ছিল বেশি।
গ ‘ক’ দেশের আইন প্রাচীন রোমান সভ্যতার আইনে পরিলক্ষিত হয়। ‘ক’ দেশের আইনে সকল মানুষ সমান। তদ্রæপ খ্রিস্টপূর্ব ৫৪০ অব্দে যে রোমান আইন সংকলিত হয় সেখানে দেখা যায় রোমীয় আইনের দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান। আবার ‘ক’ দেশের আইনে মানুষের নিরাপত্তা, জানমাল রক্ষার ও মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে। রোমান আইনের দ্বিতীয় শাখায় তদ্রæপ ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষার বিষয়টি ছিল। আবার সেখানে প্রাকৃতিক আইনের শাখায় মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে। আবার ‘ক’ দেশের আইনগুলো জনগণের জানার জন্য সাইনবোর্ডে লিখে মহল্লায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ৫৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ১২টি ব্রোঞ্জ পাতে রোমান আইনগুলো খোদাই করে লিখে জনগণকে দেখাবার জন্য প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। সুতরাং আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, উদ্দীপকের ‘ক’ দেশের আইন প্রাচীন রোমান সভ্যতার আইনের প্রতিফলন।
ঘ আমি মনে করি ‘ক’ দেশের আইনের মতো প্রাচীন রোমান সভ্যতার আইনের উপর আধুনিক বিশ্ব নির্ভরশীল। বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে রোমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদান হচ্ছে আইন। খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ শতকের মাঝামাঝি সময়ে রোমানরা ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনগুলো সুষ্ঠুভাবে একসঙ্গে সাজাতে সক্ষম হন। খ্রিস্টীয় ছয় শতকে সম্রাট জাসটিনিয়ন প্রথম সমস্ত রোমান আইনের এক সংগ্রহ ও সংকলন প্রকাশ করেন। জাস্টিনিয়ান খ্রিস্টপূর্ব ৫৪০ অব্দে ১২টি ব্রোঞ্জ পাতে সর্বপ্রথম আইনগুলো খোদাই করে লিখিত হয় এবং জনগণের দেখাবার জন্য প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়। রোমীয় আইনের দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান। রোমান আইনকে তিনটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে। যেমন : ১. বেসামরিক আইন : এই আইন পালন করা রোমান নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। এই আইন লিখিত অলিখিত দুই রকম ছিল।২. জনগণের আইন : এ আইন সকল নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য ছিল। তাছাড়া ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষা বিষয়টি এই আইনে ছিল। তবে এর মাধ্যমে দাসপ্রথাও স্বীকৃতি লাভ করে। সিসেরো এ আইনের প্রণেতা। ৩. প্রাকৃতিক আইন : এ আইনে মূলত নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে। বস্তুত আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে রোমানদের অবদান চিরস্মরণীয়। আধুনিক বিশ্বও সম্পূর্ণভাবে রোমান আইনের উপর নির্ভরশীল।

প্রশ্ন- ৩  মিশরীয় সভ্যতার প্রেক্ষাপট

তামিম টিভিতে একটি প্রামাণ্য চিত্র দেখছে। এতে দেখাচ্ছে যে, একটি নদীর দুই পাড়ে জনবসতি গড়ে ওঠে। প্রতিবছর পলি পড়ে তার জমি উর্বর হয়। এই উর্বর জমিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে সভ্যতা। বার্ষিক বন্যার পর বছরে একবার ফসল হতো। [রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়]
ক. মিশরের প্রথম রাজা কে? ১
খ. ‘ফারাও’ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকে তামিমের দেখা প্রামাণ্য চিত্রের মতো প্রাচীন মিশরে কীভাবে সভ্যতার উন্মেষ ঘটে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উক্ত সভ্যতায় মানুষের ধর্ম বিশ্বাস কেমন ছিল? ব্যাখ্যা কর। ৪

ক মিশরের প্রথম রাজা বা ফারাও হচ্ছে মেনেস বা নারমার।
খ মিশরীয় ‘পের-ও’ শব্দ থেকে ফারাও শব্দের জন্ম। ফারাওরা ছিল অত্যন্ত ক্ষমতাশালী। তারা নিজেদেরকে সূর্য দেবতার বংশধর মনে করতেন। ফারাও পদটি ছিল বংশানুক্রমিক। অর্থাৎ ফারাওয়ের ছেলে হতো উত্তরাধিকার সূত্রে ফারাও।
গ উদ্দীপকে তামিম প্রামাণ্য চিত্রে দেখতে পায় নদীর দুই পাড়ে জনবসতি গড়ে উঠেছে। প্রাচীন মিশরেও নীলনদের তীরে বসতি গড়ে ওঠে, সভ্যতার উন্মেষ ঘটে। মিশরের নীল নদের উৎপত্তি আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে। সেখান থেকে নদীটি নানা দেশ হয়ে মিশরের মধ্য দিয়ে ভ‚মধ্যসাগরে এসে পড়েছে। ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস যথার্থই বলেছেন ‘মিশর নীলনদের দান’। নীলনদ না থাকলে মিশর মরুভ‚মিতে পরিণত হতো। প্রাচীনকালে প্রতিবছর নীলনদে বন্যা হতো। বন্যার পর পানি সরে গেলে দুই তীরে পলিমাটি পড়ে জমি উর্বর হয়ে যেত। তামিমও প্রামাণ্য চিত্রে এরূপ উর্বর জমিতে সভ্যতা গড়ে উঠতে দেখে। বার্ষিক বন্যার পর বছরে একবার ফসল হতো। মিশরেও জমে থাকা পলিমাটিতে জন্মাতো নানা ধরনের ফসল।
সুতরাং, তামিমের দেখা প্রামাণ্য চিত্রের মতোই প্রাচীন মিশরে সভ্যতার উন্মেষ ঘটে।
ঘ মিশরীয় ধর্মবিশ্বাস তাদের জীবন ও সভ্যতার প্রতিটি ক্ষেত্রে জড়িয়ে ছিল। সম্ভবত প্রাচীন মিশরীয়দের মতো অন্য কোনো জাতি জীবনের সকল ক্ষেত্রে এতটা ধর্মীয় নিয়ম-কানুন অনুশাসন দ্বারা প্রভাবিত ছিল না। সে কারণে মানবসভ্যতার অনেক ধ্যানধারণা, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠানের জন্ম প্রাচীন মিশরে। তারা জড়বস্তুর পূজা করত, মূূর্তি পূজা করত, আবার জীবজন্তুর পূজাও করত। বিভিন্ন সময়ে তাদের ধর্র্মবিশ্বাসের পরিবর্তন ঘটেছে। মিশরীয়দের ধারণা ছিল, সূর্যদেবতা ‘রে’ বা ‘আমন রে’ এবং প্রাকৃতিক শক্তি, শস্য ও নীলনদের দেবতা ‘ওসিরিস’ মিলিতভাবে সমগ্র পৃথিবী পরিচালিত করেন। তবে, তাদের জীবনে সূর্যদেবতা ‘রে’-এর গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। মিশরীয়রা মনে করত মৃত ব্যক্তি আবার একদিন বেঁচে উঠবে। সে কারণে দেহকে তাজা রাখার জন্য তারা মমি করে রাখত। এই চিন্তা থেকে মমিকে রক্ষার জন্য তারা পিরামিড তৈরি করেছিল। ফারাওরা ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে দেশ শাসন করতেন। তাঁরা ছিলেন প্রধান পুরোহিত এবং অন্যান্য পুরোহিতদেরও তাঁরা নিয়োগ করতেন।

প্রশ্ন- ৪  সিন্ধু সভ্যতা

মনির স¤প্রতি তার মামার সাথে ঢাকায় বেড়াতে যায়। শহরের বড় বড় রাস্তা, দালানকোঠা, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা দেখে সে মুগ্ধ হয়। রাতের বেলায় রাস্তার দুই ধারে সোডিয়াম লাইট দেখে সে আনন্দিত হয়। মামার সাথে বাজারে গিয়ে সে দেখল, শহরের মানুষ দ্রব্যের ওজন ও পরিমাপে উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এ পরিকল্পিত নগরীর স্মৃতি আজও তার স্মৃতিতে উজ্জ্বল। [ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল ও কলেজ কুমিল্লা সেনানিবাস]
ক. স্যার জন মার্শাল কে? ১
খ. মিশরে কীভাবে লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার হয়? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকে যে সভ্যতার পরিচয় পাওযা যায়, পরিমাপ পদ্ধতি উদ্ভাবনে তাদের ভ‚মিকা ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. পরিকল্পিত নগরী প্রতিষ্ঠায় উক্ত সভ্যতার অবদান বিশ্লেষণ কর। ৪

ক স্যার জন মার্শাল ছিলেন মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পায় পুরাতত্ব বিভাগের অনুসন্ধান কাজের নেতৃত্বে, যার মাধ্যমে সেখানে বহু নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়।
খ মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার। নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটে। পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে। প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি। এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারেগিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর।
গ উদ্দীপকে সিন্ধু সভ্যতার পরিচয় পাওয়া যায়। সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা দ্রব্যের ওজন পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবক ছিল। তাদের এই পরিমাপ পদ্ধতির আবিষ্কার সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে বিবেচিত। তারা বিভিন্ন দ্রব্য ওজনের জন্য নানা মাপের ভিন্ন আকৃতির বাটখারা ব্যবহার করত। উদ্দীপকে মনির শহরের মানুষের দ্রব্যের ওজন ও পরিমাপে যে উন্নত পদ্ধতি দেখে তা সিন্ধু সভ্যতার পরিমাপ পদ্ধতিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
ঘ পরিকল্পিত নগর প্রতিষ্ঠা উক্ত সভ্যতা তথা সিন্ধু সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান। সিন্ধু সভ্যতার এলাকায় যেসব শহর আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সবচেয়ে বড় শহর। ঘরবাড়ি সবই পোড়া মাটির বা রোদে পোড়ানো ইট দিয়ে তৈরি। শহরগুলোর বাড়িঘরের নকশা থেকে সহজেই বোঝা যায় যে সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা উন্নত ধরনের নাগরিক সভ্যতায় অভ্যস্ত ছিল। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর নগর পরিকল্পনা একই রকম ছিল। নগরীর ভেতর দিয়ে চলে গেছে পাকা রাস্তা। রাস্তাগুলো ছিল সোজা। প্রত্যেকটি বাড়িতে খোলা জায়গা, ক‚প ও স্নানাগার ছিল। জল নিষ্কাশনের জন্য ছোট ছোট নর্দমাগুলো মূল নর্দমার সাথে সংযুক্ত করা হতো। রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হতো। পথের ধারে ছিল সারিবদ্ধ ল্যাম্পপোস্ট। সিন্ধু সভ্যতার উন্নত নগর পরিকল্পনা তাই আজও বিস্ময়।
 মাস্টার ট্রেইনার প্রণীত সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন- ৫  মিশরীয় সভ্যতার বৈশিষ্ট্য

কৃষক রহিম সিলেটে টিলার ঢালের আগাছা ও জঙ্গল পরিষ্কার করে সেখানে চাষাবাদ শুরু করেন। প্রথম দিকে সফলতা না পেলেও তিনি আরও উদ্যমের সাথে অন্য কৃষকদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। কয়েক বছরের মধ্যেই কৃষক রহিম ভালো ফসল পান এবং তাঁর অবস্থার বেশ উন্নতি হয়। কৃষক রহিমসহ অন্যান্য কৃষকেরা টিলা কেটে সমতল করে চাষাবাদ শুরু করেন। সেখানে পাকাবাড়ি, কারখানা, মসজিদ, বিদ্যালয় ইত্যাদি স্থাপন করেন।
ক. সিন্ধু সভ্যতায় কয়টি নগরী রয়েছে? ১
খ. মিশরকে ‘নীলনদের দান’ বলা হয় কেন? ২
গ. কৃষক রহিম ও তার সহযোগীদের মধ্যে মিশরীয়দের কোন বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. কৃষক রহিমের এলাকার স্থাপত্যসমূহ কি প্রাচীন মিশরীয় স্থাপত্যের অনুরূপ? মতামত দাও। ৪

ক সিন্ধু সভ্যতায় দুইটি নগরী রয়েছে।
খ প্রাচীনকালে মিশরের নীলনদে প্রায়ই বন্যা হতো। এ বন্যার পর পানি সরে গেলে দুই তীরে পলিমাটি পড়ে জমি উর্বর হয়ে যেত। জমে থাকা পলিমাটিতে জন্মাতো নানা ধরনের ফসল। নীল নল না থাকলে মিশর মরুভ‚মিতে পরিণত হতো। এসব কারণেই ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস মিশরকে ‘নীলনদের দান’ বলেছেন।
গ কৃষক রহিম ও তার সহযোগীদের মধ্যে মিশরীয়দের কৃষি খাতের বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটেছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো :
মিশরের অর্থনীতি মূলত ছিল কৃষিনির্ভর। উৎপাদিত ফসলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল গম, যব, তুলা, পেঁয়াজ, পিচ ইত্যাদি। ব্যবসায়-বাণিজ্যেও মিশর ছিল অগ্রগামী। মিশরে উৎপাদিত গম, লিলেন কাপড় ও মাটির পাত্র ক্রিট দ্বীপ, ফিনিশিয়া, ফিলিস্তিন ও সিরিয়ায় রপ্তানি হতো। বিভিন্ন দেশ থেকে মিশরীয়রা স্বর্ণ, রৌপ্য, হাতির দাঁত, কাঠ ইত্যাদি আমদানি করত। কৃষক রহিম মিশরের কৃষি ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের প্রভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে টিলার ঢালের আগাছা ও জঙ্গল পরিষ্কার করে সেখানে চাষাবাদ শুরু করেন। কয়েক বছরের মধ্যেই কৃষক রহিম ভালো ফসল পান এবং তার অবস্থান বেশ উন্নতি হয়। সুতরাং বলা যায় যে, কৃষক রহিম ও তার সহযোগীদের মধ্যে মিশরীয়দের কৃষিখাতের বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ কৃষক রহিমের এলাকার স্থাপত্যসমূহ প্রাচীন মিশরীয় স্থাপত্যের অনুরূপ কিনা, সে সম্পর্কে মতামত দেয়ার জন্য প্রয়োজন প্রাচীন মিশরীয়দের স্থাপত্য সম্পর্কে জানা। মিশরীয়দের চিত্রকলা বিশেষভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য দেশের মতো চিত্রশিল্পও গড়ে উঠেছিল ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে। তারা সমাধি আর মন্দিরের দেয়াল সাজাতে গিয়ে চিত্রশিল্পের সূচনা করে। তাদের প্রিয় রং ছিল সাদা-কালো। আর রহিমের এলাকার স্থাপত্য পাকাবাড়ি, কারখানা, মসজিদ বিদ্যালয় নিছক প্রয়োজনে গড়ে ওঠে। সমাধি, পিরামিড, মন্দির, প্রাসাদ, প্রমোদ কানন, সাধারণ ঘরবাড়ির দেয়ালে মিশরীয় চিত্রশিল্পীরা অসাধারণ ছবি এঁকেছেন। এসব ছবির মধ্যে মিশরে রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের কাহিনী ফুটে উঠেছে। কারুশিল্পেও প্রাচীন মিশরীয় শিল্পীরা অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। আসবাবপত্র, মৃৎপাত্র, সোনা, রুপা, মূল্যবান পাথরে খচিত তৈজসপত্র, অলঙ্কার, মমির মুখোশ, দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র, হাতির দাঁত ও ধাতুর দ্রব্যাদি মিশরীয় কারুকার্য শিল্পের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ বহন করে। সুতরাং রহিমের এলাকার স্থাপত্যসমূহ প্রয়োজনের দিক দিয়ে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও নির্মাণশৈলী ও উপকরণের দিক থেকে প্রাচীন মিশরীয় স্থাপত্যের অনুরূপ নয়।

প্রশ্ন- ৬  মিশরীয় সভ্যতা

জামান ভ্রমণপিয়াসু ছেলে। একটি দেশে বেড়াতে গিয়ে সে এক ধরনের স্থাপত্য দেখতে পায় যা পৃথিবীর সপ্তাচর্যের একটি। এটি ত্রিভুজ আকৃতির এবং পাথরের উপর পাথর চাপিয়ে এটি নির্মিত।
ক. হরপ্পা নগরী কোথায় অবস্থিত? ১
খ. নীলনদের তীরে কীভাবে বসতি গড়ে উঠেছে? ২
গ. উদ্দীপকে কোন সভ্যতার কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. জামানের ভ্রমণকৃত দেশটির ভাস্কর্যের সাথে ধর্মীয় চেতনার কোনো প্রভাব আছে কি? তোমার মতামত দাও। ৪

ক হরপ্পা নগরীটি বর্তমান পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে অবস্থিত।
খ খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে নীলনদের তীরে গড়ে ওঠে মিশরীয় সভ্যতা। প্রাচীনকালে মিশরে নীলনদের প্রভাবে প্রায়ই বন্যা হতো। এ বন্যা ঠেকানোর জন্য মিশরবাসীরা নীলনদে বাঁধ দেয়ার পদ্ধতি উদ্ভাবন করে এবং গড়ে তোলে এক বিশেষ ধরনের সেচ ব্যবস্থার। পরবর্তীতে দলে দলে মানুষ জড়ো হতে থাকে নীলনদের তীরে। এভাবে নীলনদের তীরে বসতি গড়ে উঠেছে।
গ উদ্দীপকে মিশরীয় সভ্যতার কথা বলা হয়েছে। নীলনদের তীরে অবস্থান হওয়ায় মিশর বিশেষ কিছু সুবিধা পেয়েছিল যা মিশরকে উন্নতির স্বর্ণ শিখরে আরোহণ করাতে সক্ষম হয়েছিল।
মিশর শিল্পকলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখেছে। মিশরীয়দের বলা হয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। পাথর কেটে চমৎকার সৌধ ও ভাস্কর্য বানাতে মিশরীয়রা দক্ষ ছিল। মিশর স্থাপত্য শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখেছিল। মিশরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শনাদি হচ্ছে পিরামিড, ধর্মমন্দির। উদ্দীপকে জামান ভ্রমণে এই পিরামিডই দেখেছিল, যা ছিল ত্রিভুজ আকৃতির এবং পাথরের উপর পাথর চাপিয়ে নির্মিত। পিরামিড মিশরীয় সভ্যতার অনন্য এবং অতুলনীয় নিদর্শন। সুতরাং উদ্দীপকে মিশরীয় সভ্যতার কথাই বলা হয়েছে।
ঘ জামানের ভ্রমণকৃত প্রথম দেশটির ভাস্কর্যের সাথে অর্থাৎ প্রাচীন মিশরীয় ভাস্কর্যের উপর ধর্মচেতনার প্রভাব রয়েছে। সভ্যতার ইতিহাসে মিশরীয়দের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্ময়কর। প্রাচীন মিশরের সভ্যতা বিকাশে ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা ছিল। ধর্মীয়চেতনা মিশরীয়দের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়েছে। মিশরীয় স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও চিত্রকলায় ধর্মের প্রভাব স্পষ্ট। উদ্দীপকে জামান পিরামিড দেখেছিল যা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের নিদর্শন ছিল। প্রাচীন বিশ্বসভ্যতায় মিশরীয়দের মতো ভাস্কর্য শিল্পে অসাধারণ প্রতিভার ছাপ আর কেউ রাখতে সক্ষম হয়নি। ব্যাপকতা, বৈচিত্র্য এবং ধর্মীয় ভাবধারায় প্রভাবিত বিশাল আকারের পাথরের মূর্তিগুলো ভাস্কর্য শিল্পে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। প্রতিটি ভাস্কর্য মানুষ অথবা জীবজন্তুর; সবই ধর্মীয় ভাবধারা, আচার-অনুষ্ঠান, মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিল। প্রতিটি শিল্পই ছিল আসলে ধর্মীয় শিল্পকলা। সর্বশ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য হচ্ছে গিজার অতুলনীয় স্ফিংক্স। স্ফিংক্স হচ্ছে এমন একটি মূর্তি, যার দেহটা সিংহের মতো, কিন্তু মুখ মানুষের। মিশরের সবচেয়ে বড় পিরামিডটি হচ্ছে ফারাও খুফুর পিরামিড। মন্দিরগুলোতে মিশরীয় ভাস্কর্য স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন প্রতিফলিত হয়েছে। আলোচনার প্রেক্ষিতে আমারও মত যে, প্রাচীন মিশরীয় ভাস্কর্যে ধর্মীয় চেতনার প্রভাব ছিল।

প্রশ্ন- ৭  গ্রিক সভ্যতা

শাহনাজ পারভিন একটি গ্রন্থে, একটি সভ্যতা সম্পর্কে আলোচনায় জানতে পারে মহাকবি হোমারের ইলিয়ড ও ওডিসি মহাকাব্যে বর্ণিত চমকপ্রদ কাহিনীর মধ্যে লুকিয়ে থাকা সত্যকে খুঁজে বের করার অদম্য ইচ্ছা উৎসাহিত করে তোলে প্রতœতাত্তি¡কবিদদের। আর তারা সন্ধান পায় মহাকাব্যের ট্রয় নগরীসহ একশত নগরীর ধ্বংস স্তূপের।
ক. মিশরীয় সভ্যতার উদ্ভাবিত কাগজের নাম কী? ১
খ. চিকিৎসাশাস্ত্রে মিশরীয় সভ্যতায় অবদান ব্যাখ্যা কর? ২
গ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সভ্যতার ভৌগোলিক অবস্থান ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উক্ত সভ্যতার যে স্পার্টানদের ধারণা পাওয়া যায় তাদের প্রকৃতি বিশ্লেষণ কর। ৪

ক মিশরীয় সভ্যতার উদ্ভাবিত কাগজের নাম প্যাপিরাস।
খ মিশরীয় সভ্যতার লোকেরা চোখ, দাঁত, পেটের রোগ নির্ণয় করতে জানত। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করার বিদ্যাও তাদের জানা ছিল। তারা হাড় জোড়া লাগানো, হৃদপিণ্ডের গতি ও নাড়ির স্পন্দন নির্ণয় করতে পারত। এভাবে সুপ্রাচীনকালে মিশরীয় সভ্যতা চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নে ভ‚মিকা রেখেছিল।
গ উদ্দীপকে গ্রিক সভ্যতার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। নিচে এ সভ্যতার ভৌগোলিক অবস্থান ও সময়কাল ব্যাখ্যা করা হলো। গ্রিক দেশটি আড্রিয়াটিক সাগর, ভ‚মধ্যসাগর ও ঈজিয়ান সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত। গ্রিক সভ্যতার সঙ্গে দুইটি সংস্কৃতির নাম জড়িত। একটি ‘হেলেনিক’ অপরটি ‘হেলেনিস্টিক’। গ্রিক উপদ্বীপের প্রধান শহর এথেন্সকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ‘হেলেনিক সংস্কৃতি’। অপরদিকে গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের নেতৃত্বে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়াকে কেন্দ্র করে গ্রিক ও অগ্রিক সংস্কৃতির মিশ্রণে জন্ম হয় নতুন এক সংস্কৃতির। ইতিহাসে এ সংস্কৃতি ‘হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি’ নামে পরিচিত। আধুনিক নগর সভ্যতার সূচনা করেছিল গ্রিকরা।
ঘ উদ্দীপকের গল্প গ্রিক সভ্যতার ইঙ্গিতবাহী। এই সভ্যতায় নাগরিকশ্রেণি স্পার্টাদের ধারণা পাওয়া যায়। প্রাচীন গ্রিসে যে অসংখ্য নগররাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল তার একটি ছিল স্পার্টা। স্পার্টানদের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সমরতন্ত্র দ্বারা তারা প্রভাবান্বিত ছিল। মানুষের মানবিক উন্নতির দিকে নজর না দিয়ে সামরিক শক্তি সঞ্চয়ের দিকে তাদের দৃষ্টি ছিল বেশি। খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ অব্দে দীর্ঘ যুদ্ধের পর ডোরীয় যোদ্ধারা স্পার্টা দখল করতে সক্ষম হয়েছিল। এই পরাজিত অধিবাসীদেরকে ভ‚মিদাস বা হেলট বলা হতো। এরা সুযোগ পেলেই বিদ্রোহ করত। ফলে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা আর বিদ্রোহ দমন ছাড়া স্পার্টার রাজাদের মাথায় আর কোনো চিন্তা ছিল না। স্পার্টানদের জীবন স্পার্টা রক্ষার জন্যই নিয়োজিত ছিল। স্পার্টার সমাজ তৈরি হয়েছিল যুদ্ধের প্রয়োজনকে ঘিরে। সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত করা ও যুদ্ধ পরিচালনা করা। সামরিক দিকে অত্যধিক মনোযোগ দেওয়ার কারণে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তারা ছিল অনগ্রসর। স্পার্টা ছাড়াও গ্রিকদের আরেকটি নগররাষ্ট্র ছিল এথেন্স।

প্রশ্ন- ৮  সিন্ধু সভ্যতার প্রেক্ষাপট

 

ক. মিশরের আয়তন কত? ১
খ. গ্রিকরা কীভাবে ধর্ম পালন করত? বর্ণনা কর। ২
গ. মানচিত্রে প্রদর্শিত সভ্যতার ভৌগোলিক অবস্থান নির্ণয় কর। ৩
ঘ. উক্ত সভ্যতা কীভাবে আবিষ্কৃত হয়? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪

ক মিশরের আয়তন প্রায় চার লাখ বর্গমাইল।
খ গ্রিকদের বারটি দেব-দেবী ছিল। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির পূজা ছাড়াও তারা বীর যোদ্ধাদের পূজা করত। জিউস ছিল দেবতাদের রাজা। অ্যাপোলো ছিলেন সূর্য দেবতা, পোসিডন ছিলেন সাগরের দেবতা। এথেনা ছিলেন জ্ঞানের দেবী। বারোজনের মধ্যে এই চারজন ছিলেন শ্রেষ্ঠ। রাষ্ট্রের নির্দেশে পুরোহিতরা ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতেন। ডেলোস দ্বীপে অবস্থিত ডেলফির মন্দিরে বিভিন্ন নগর রাষ্ট্রের মানুষ সমবেত হয়ে এক সঙ্গে অ্যাপোলো দেবতার পূজা করত।
গ মানচিত্রে সিন্ধু সভ্যতার ভৌগোলিক অবস্থান বিস্তৃতরূপে প্রদর্শিত হয়েছে। উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা হলেও এর বি¯ৃÍতি ছিল বিশাল এলাকাজুড়ে। মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পাতে এই সভ্যতার নিদর্শন সবচেয়ে বেশি আবিষ্কৃত হয়েছে। তা সত্তে¡ও ঐ সভ্যতা শুধু সিন্ধু নদীর অববাহিকা বা ঐ দুটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে। ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে পাঞ্জাব থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক এলাকাজুড়ে সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
ঘ সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কারের ঘটনা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করলে প্রথমেই বলতে হয় সিন্ধুনদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম রাখা হয় সিন্ধু সভ্যতা। যদিও সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে। এই সভ্যতার আবিষ্কার কাহিনী চমকপ্রদ। বর্তমানে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারো শহরে উঁচু উঁচু মাটির ঢিবি ছিল। স্থানীয় লোকেরা বলত মড়া মানুষের ঢিবি (মহেঞ্জোদারো কথাটির মানেও তাই)। বাঙালি প্রতœতত্ত¡বিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পুরাতত্ত¡ বিভাগের লোকেরা ঐ স্থানে বৌদ্ধ স্তূপের ধ্বংসাবশেষ আছে ভেবে মাটি খুঁড়তে থাকে। অপ্রত্যাশিতভাবে বেরিয়ে আসে তাম্র-ব্রোঞ্জ যুগের নিদর্শন। একই সময়ে ১৯২২-২৩ খ্রিষ্টাব্দে দয়ারাম সাহানীর প্রচেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পা নামক স্থানেও প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়। জন মার্শালের নেতৃত্বে পুরাতত্ত¡ বিভাগ অনুসন্ধান চালিয়ে আরো বহু নিদর্শন আবিষ্কার করেন। মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পায় উভয় অঞ্চল একই সভ্যতার উন্মেষস্থল এবং সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।

প্রশ্ন- ৯  সিন্ধু সভ্যতা

দশম শ্রেণির ছাত্র সাজিদ ঢাকা শহরে ধনী ও দরিদ্রদের আলাদা জীবন ও বসবাসের স্থানে বৈষম্য দেখে ব্যথিত হয়। তার উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতার কথা মনে পড়ে যায়। সে ভাবে, সর্বযুগেই কি এ উপমহাদেশে বৈষম্য ছিল?
ক. বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক কে? ১
খ. গ্রিকদের ধর্ম সম্পর্কে ধারণা দাও। ২
গ. সাজিদের মনে পড়ে যাওয়া সভ্যতার শিল্প সম্পর্কে বর্ণনা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকের সাজিদের অভিজ্ঞতার সূত্রে উক্ত সভ্যতার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ কর। ৪

ক বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক হচ্ছেন থুকিডাইডেস।
খ গ্রিকদের বারটি দেবদেবী ছিল। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির পূজা ছাড়াও তারা বীর যোদ্ধাদের পূজা করত। জিউস ছিল দেবতাদের রাজা। অ্যাপোলো ছিলেন সূর্য দেবতা, পোসিডন ছিলেন সাগরের দেবতা এবং এথেনা ছিলেন জ্ঞানের দেবী। বারোজনের মধ্যে এই চারজন ছিলেন শ্রেষ্ঠ। রাষ্ট্রের নির্দেশে পুরোহিতরা ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতেন।
গ সাজিদের উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা তথা সিন্ধু সভ্যতার কথা মনে পড়ে যায়। সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীদের শিল্প সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই মৃৎশিল্পের কথা বলতে হয়। তারা কুমারের চাকার ব্যবহার জানত এবং তার সাহায্যে সুন্দর মাটির পাত্র বানাতে পারত। পাত্রগুলোর গায়ে অনেক সময় সুন্দর সুন্দর নকশা আঁকা থাকত। তাঁতিরা বয়নশিল্পে পারদর্শী ছিলেন। ধাতুর সাহায্যে আসবাবপত্র, অস্ত্র এবং অলংকার তৈরির করা হতো। তারা তামা ও টিনের মিশ্রণে ব্রোঞ্জ তৈরি করতে শিখেছিল। কারিগররা রুপা, তামা, ব্রোঞ্জ প্রভৃতির তৈজসপত্র তৈরি করত। তাছাড়া সোনা, রুপা, তামা ইলক্ট্রাম ও ব্রোঞ্জ ইত্যাদি ধাতুর অলংকার তৈরিতে তারা পারদর্শী ছিল। অলংকারের মধ্যে আংটি, বালা, নাকফুল, গলার হার, কানের দুল, বাজুবন্দ ইত্যাদি ছিল উল্লেখযোগ্য। সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা লোহার ব্যবহার জানত না। ধাতু ছাড়া দামি পাথরের সাহায্যে অলংকার নির্মাণ শিল্পেরও বিকাশ ঘটে। হাতির দাঁতসহ অন্যান্য হস্তশিল্পেরও দক্ষ কারিগর ছিল।
ঘ সাজিদের ঢাকা শহরে ধনী দরিদ্রের বৈষম্য দেখে উপমহাদেশের প্রাচীনতম সিন্ধু সভ্যতার কথা মনে পড়ে যায়। সিন্ধু সভ্যতার যুগে মানুষ সমাজবদ্ধ পরিবেশে বসবাস করত। সেখানে একক পরিবার পদ্ধতি চালু ছিল। সিন্ধু সভ্যতার যুগে সমাজে শ্রেণিবিভাগ ছিল। সব লোক সমান সুযোগ-সুবিধা পেত না। সমাজ ধনী ও দরিদ্র দুই শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। কৃষকরা গ্রামে বসবাস করত। শহরে ধনী এবং শ্রমিকদের জন্য আলাদা-আলাদা বাসস্থানের নিদর্শন পাওয়া গেছে। উদ্দীপকে সাজিদের অভিজ্ঞতাও তদ্রæপ। সিন্ধু সভ্যতার জনগণের রাজনৈতিক জীবন ও শাসনপ্রণালি সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। মহেঞ্জোদারো হরপ্পার নগর বিন্যাস প্রায় একই রকম ছিল। এগুলোর ধ্বংসাবশেষ দেখে নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় যে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী উঁচু ভিত্তির উপর শহরগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। শহরগুলোর এক পাশে উঁচু ভিত্তির উপর একটি করে নগরদুর্গ নির্মাণ করা হতো। চারদিক থাকত প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত। নগরের শাসনকর্তারা নগর দুর্গে বসবাস করতেন। প্রশাসনিক বাড়িঘরও দুর্গের মধ্যে ছিল। নগরের ছিল প্রবেশদ্বার। দুর্গ বা বিরাট অট্টালিকা দেখে মনে হয় একই ধরনের কেন্দ্রীভ‚ত শাসনব্যবস্থা যুগ যুগ ধরে নগর দুটিতে প্রচলিত ছিল। এই প্রশাসন জনগণের জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ করত। সিন্ধু সভ্যতার সমাজব্যবস্থা ছিল মাতৃতান্ত্রিক। পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য তারা মূলত সুতা ও পশম ব্যবহার করত। মহিলারা খুবই শৌখিন ছিল। তাদের প্রিয় অলংকারের মধ্যে ছিল হার, আংটি, দুল, বিছা, বাজুবন্দ চুড়ি, বালা, পায়ের মল ইত্যাদি। তারা নকশা করা দীর্ঘ পোশাক পরত। সমাজের পুরুষরাও অলংকার ব্যবহার করত।

প্রশ্ন- ১০  গ্রিক সভ্যতার সাহিত্য কীর্তি

অরূপ মধুসূদন দত্তের মহাকাব্য ‘মেঘনাদ বধ’ সম্পর্কে জানতে গিয়ে ‘ইলিয়াড’ ও ‘ওডিসি’ সম্পর্কে জানতে পারে। এ দুই কাব্য সম্পর্কে সে আগ্রহী হলে জ্ঞানের বিশাল এক দুয়ার তার নিকট উন্মেচিত হয়। সে প্রাচীন বিশ্বসভ্যতায় দর্শনের উন্নতিতে অভিভ‚ত হয়।
ক. গ্রিকদের কয়টি দেব-দেবী ছিল? ১
খ. এচিয়ান সভ্যতা বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. অরূপ কোন সভ্যতার সাহিত্যকীর্তি জেনেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. অরূপ যে উন্নত দর্শনের পরিচয় পায় তার স্বরূপ বিশ্লেষণ কর। ৪

ক গ্রিকদের ১২টি দেব-দেবী ছিল।
খ গ্রিক সভ্যতার অধিবাসীরা ছিল সমৃদ্ধশালী এক সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের অধিকারী। এই সভ্যতাকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয়টি হচ্ছে মাইসিনিয় বা এচিয়ান সভ্যতা; গ্রিসের মূল ভ‚খণ্ডে দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থিত মাইসিনি নগরের নাম অনুসারে এর নামকরণ হয়। এই সভ্যতার স্থায়িত্ব ছিল খ্রিষ্টপূর্ব ১৬০০ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১১০০ অব্দ পর্যন্ত। ধারণা করা হয় বন্যা অথবা বিদেশি আক্রমণের ফলে এই সভ্যতার অবসান ঘটে।
গ অরূপ গ্রিক সভ্যতার সাহিত্যকীর্তি জেনেছে। সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানবসমাজে মূল্যবান সম্পদ। হোমারের মহাকাব্য ‘ইলিয়াড’ ও ‘ওডিসি’ মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন। উদ্দীপকের অরূপ এ দুই মহাকাব্য সম্পর্কেই জানতে আগ্রহী হয়। পরবর্তীতে সে গ্রিক সভ্যতার সাহিত্য কীর্তি জানতে পারে। সাহিত্য ক্ষেত্রে চ‚ড়ান্ত বিকাশ ঘটেছিল নাটক রচনায়। বিয়োগান্তক নাটক রচনায় গ্রিকরা বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। এসকাইলাসকে এই ধরনের নাটকের জনক বলা হয়। তাঁর রচিত নাটকের নাম ‘প্রমিথিউস বাউন্ড’ গ্রিসের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ছিলেন সোফোক্লিস। তিনি একশটিরও বেশি নাটক রচনা করেন। তাঁর বিখ্যাত নাটকের মধ্যে রাজা অয়দিপাউস, আন্তিগোনে ও ইলেকট্রা অন্যতম। আর একজন বিখ্যাত নাট্যকারের নাম ইউরিপিদিস। এরিস্টোফেনেসের মিলনাত্বক ও ব্যঙ্গ রচনায় বিশেষ খ্যাতি ছিল। ইতিহাস রচনায়ও গ্রিকরা কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। ইতিহাস রচনা এ সময় থেকে শুরু। হেরোডোটাস ইতিহাসের জনক নামে পরিচিত ছিলেন। হেরোডোটাস রচিত ইতিহাস-সংক্রান্ত প্রথম বইটি ছিল গ্রিস ও পারস্যের মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে। থুকিডাইডেস ছিলেন বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক। তাঁর বইটির শিরোনাম ছিল ‘দ্য পেলোপনেসিয়ান ওয়র’।
ঘ অরূপ গ্রিস সভ্যতার উন্নত দর্শনের পরিচয় পায়। উদ্দীপকে অরূপ গ্রিক সভ্যতা সম্পর্কে জানতে পারে। দার্শনিক চিন্তার ক্ষেত্রে গ্রিসে অভ‚তপূর্ব উন্নতি হয়েছিল। পৃথিবী কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, প্রতিদিন কীভাবে এর পরিবর্তন ঘটছে-এসব ভাবতে গিয়ে গ্রিসে দর্শনচর্চার সূত্রপাত। থালেস ছিলেন প্রথম দিকের দার্শনিক। তিনিই প্রথম সূর্যগ্রহণের প্রাকৃতিক কারণ ব্যাখ্যা করেন। এরপর গ্রিসের যুক্তিবাদী দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটে। এদের বলা হতো সফিস্ট। এরা বিশ্বাস করতেন যে চ‚ড়ান্ত সত্য বলে কিছু নেই। পেরিক্লিস এদের অনুসারী ছিলেন। সক্রেটিস ছিলেন এ দার্শনিকদের মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান। তার শিক্ষার মূল দিক ছিল আদর্শ রাষ্ট্র ও সৎ নাগরিক গড়ে তোলা। অন্যান্য শাসনের প্রতিবাদ করার শিক্ষাও তিনি দেন। সক্রেটিসের শিষ্য প্লেটো গ্রিক দর্শনকে চরম উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। প্লেটোর শিষ্য এরিস্টটলও একজন বড় দার্শনিক ছিলেন। সুতরাং গ্রিক সভ্যতা সম্পর্কে জানার কারণে অরূপের গ্রিক সভ্যতার উন্নত দর্শনের সাথে পরিচয় ঘটবে।

 জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ আদিম যুগের মানুষ কোনটি জানত না?
উত্তর : আদিম যুগের মানুষ কৃষি কাজ জানত না।
প্রশ্ন \ ২ \ মিশরের অবস্থান কতটি মহাদেশে পড়েছে?
উত্তর : মিশরের অবস্থান ৩টি মহাদেশে পড়েছে।
প্রশ্ন \ ৩ \ মিশরের পূর্বে কোন রাষ্ট্রটি অবস্থিত?
উত্তর : মিশরের পূর্বে ইসরায়েল রাষ্ট্রটি অবস্থিত।
প্রশ্ন \ ৪ \ প্রাচীন মিশরে সূর্য দেবতার নাম কী ছিল?
উত্তর : প্রাচীন মিশরে সূর্য দেবতার নাম ছিল আমনরে।
প্রশ্ন \ ৫ \ মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান আবিষ্কার কী ছিল?
উত্তর : হায়ারেগিফিক লিপি আবিষ্কার ছিল মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান আবিষ্কার।
প্রশ্ন \ ৬ \ ইতিহাসের জনক কে?
উত্তর : ইতিহাসের জনক হচ্ছেন হেরোডোটাস।
প্রশ্ন \ ৭ \ বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের জনক কে?
উত্তর : বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের জনক হলেন থুকিডাইডেস।
প্রশ্ন \ ৮ \ কারা ৩৬৫ দিনে বছর গণনার আবিষ্কারক?
উত্তর : মিশরীয়রা ৩৬৫ দিনে বছর গণনার আবিষ্কারক।
প্রশ্ন \ ৯ \ প্রথম পর্যায়ে লিপি ছিল কেমন?
উত্তর : প্রথম পর্যায়ে লিপি ছিল চিত্রভিত্তিক।
প্রশ্ন \ ১০ \ সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা কী পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবক ছিল?
উত্তর : সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা দ্রব্যের ওজন পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবক ছিল।
প্রশ্ন \ ১১ \ সিন্ধু সভ্যতায় কতটি সিল আবিষ্কৃত হয়েছে?
উত্তর : সিন্ধু সভ্যতায় বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২৫০০ সিল আবিষ্কৃত হয়েছে।
প্রশ্ন \ ১২ \ মিনিয়ন সভ্যতার স্থায়িত্বকাল কত?
উত্তর : মিনিয়ন সভ্যতার স্থায়িত্বকাল ছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১৪০০ অব্দ পর্যন্ত।
প্রশ্ন \ ১৩ \ হেলেনেস্টিক সংস্কৃতির জন্ম কোথায় হয়?
উত্তর : হেলেনেস্টিক সংস্কৃতির জন্ম হয় মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায়।
প্রশ্ন \ ১৪ \ স্পার্টা নগরীর অবস্থান কোথায়?
উত্তর : স্পার্টা নগরীর অবস্থান ছিল দক্ষিণ গ্রিসের পেলোপনেসাস নামক অঞ্চলে।
প্রশ্ন \ ১৫ \ প্রাচীন পৃথিবীতে প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় কোথায়?
উত্তর : প্রাচীন পৃথিবীতে প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় এথেন্সে।
প্রশ্ন \ ১৬ \ গ্রিক সভ্যতার স্বর্ণযুগ বলা হয়ে থাকে কার সময়কালকে?
উত্তর : গ্রিক সভ্যতার স্বর্ণযুগ বলা হয়ে থাকে পেরিক্লিসের সময়কালকে।
প্রশ্ন \ ১৭ \ গ্রিসের চ‚ড়ান্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় কার সময়ে?
উত্তর : গ্রিসের চ‚ড়ান্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় পেরিক্লিসের সময়ে।
প্রশ্ন \ ১৮ \ পেরিক্লিস কত বছর রাজত্ব করেন?
উত্তর : পেরিক্লিস ৩০ বছর রাজত্ব করেন।
প্রশ্ন \ ১৯ \ এথেন্সের মিত্র রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত জোটের নাম কী ছিল?
উত্তর : এথেন্সের মিত্র রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত জোটের নাম ছিল ‘ডেলিয়ান লীগ’।
প্রশ্ন \ ২০ \ এথেন্স স্পার্টানদের অধীনে চলে যায় কত খ্রিষ্টাব্দে?
উত্তর : এথেন্স স্পার্টানদের অধীনে চলে যায় খ্রিষ্টপূর্ব ৩৬৯ অব্দে।
প্রশ্ন \ ২১ \ গ্রিস সভ্যতায় কাদের সন্তানদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল?
উত্তর : গ্রিস সভ্যতায় দাসদের সন্তানদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল।
প্রশ্ন \ ২২ \ ‘ইলেকট্রা’ নাটকটির রচয়িতা কে?
উত্তর : ‘ইলেকট্রা’ নাটকটির রচয়িতা ‘সোফোক্লিস’।
প্রশ্ন \ ২৩ \ বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক কে ছিলেন?
উত্তর : বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক ছিলেন ‘থুকিডাইডেস’।
প্রশ্ন \ ২৪ \ ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস কোন দেশের নাগরিক?
উত্তর : ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস গ্রিক দেশের নাগরিক?
প্রশ্ন \ ২৫ \ গ্রিকদের কতটি দেব-দেবী ছিল?
উত্তর : গ্রিকদের বারটি দেব-দেবী ছিল।
প্রশ্ন \ ২৬ \ গ্রিক দেবতাদের রাজার নাম কী?
উত্তর : গ্রিক দেবতাদের রাজার নাম জিউস।
প্রশ্ন \ ২৭ \ ‘দ্য পেলোপনেসিয়ান ওয়র’ বইটির লেখক কে?
উত্তর : ‘দ্য পেলোপনেসিয়ান ওয়র’ বইটির লেখক হলেন থুকিডাইডেস।
প্রশ্ন \ ২৮ \ বিয়োগান্তক নাটকের জনক বলা হয় কাকে?
উত্তর : বিয়োগান্তক নাটকের জনক বলা হয় এসকাইলাসকে।
প্রশ্ন \ ২৯ \ গ্রিকদের সাগর দেবতার নাম কী?
উত্তর : গ্রিকদের সাগর দেবতার নাম পোসিডন।

 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ মিশরের ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে লেখ।
উত্তর : তিনটি মহাদেশ দ্বারা ঘিরে থাকা মিশরের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত ভ‚মধ্যসাগরের উপক‚লে অবস্থিত। এর উত্তরে ভ‚মধ্যসাগর, পূর্বে লোহিত সাগর, পশ্চিমে সাহারা মরুভ‚মি, দক্ষিণে সুদান ও অন্যান্য আফ্রিকার দেশ। এর মোট আয়তন প্রায় চার লক্ষ বর্গমাইল।
প্রশ্ন \ ২ \ নীলনদের উৎপত্তি কোথা থেকে? আলোচনা কর।
উত্তর : মিশরের নীলনদের উৎপত্তি আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে। সেখান থেকে নদটি নানা দেশ হয়ে মিশরের মধ্য দিয়ে ভ‚মধ্যসাগরে এসে পড়েছে।
প্রশ্ন \ ৩ \ সিন্ধু সভ্যতার ধর্মীয় অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।
উত্তর : সিন্ধু সভ্যতায় কোনো মন্দির বা মঠের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হয়, তারা এ ধরনের দেবীমূর্তির পূজা করত। সিন্ধুবাসীদের মধ্যে মাতৃপূজা খুব জনপ্রিয় ছিল। তাছাড়া তারা দেব-দেবী মনে করে বৃক্ষ, পাথর, সাপ এবং পশুপাখির উপাসনাও করত। সিন্ধুবাসীরা পরলোকে বিশ্বাস করত। যে কারণে মৃতের কবরে তার ব্যবহার করা জিনিসপত্র ও অলংকার রেখে দিত।
প্রশ্ন \ ৪ \ সিন্ধু সভ্যতার নগর পরিকল্পনা কেমন ছিল? বর্ণনা কর।
উত্তর : সিন্ধু সভ্যতার শহরগুলোর বাড়িঘরের নকশা থেকে সহজেই বোঝা যায় যে এ সভ্যতার অধিবাসীরা উন্নত ধরনের নাগরিক সভ্যতায়

অভ্যস্ত ছিল। হরপ্পা ও মহোঞ্জাদারোর নগর পরিকল্পনা একই রকম ছিল। নগরীর ভেতর দিয়ে চলে গেছে পাকা রাস্তা। রাস্তাগুলো ছিল সোজা। প্রত্যেকটি বাড়িতে খোলা জায়গা, ক‚প ও স্নানাগার ছিল। জল নিষ্কাশনের জন্য ছোট ছোট নর্দমা সংযুক্ত করা হতো মূল নর্দমা বা পয়ঃপ্রণালির সাথে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা হতো। পথের ধারে ছিল সারিবদ্ধ ল্যাম্পপোস্ট।
প্রশ্ন \ ৫ \ গ্রিক সংস্কৃতিতে এথেন্সের অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর : ভৌগোলিক কারণে গ্রিক নগর রাষ্ট্রগুলো একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকলেও তাদের সংস্কৃতি ছিল অভিন্ন। রাজনৈতিক অনৈক্য থাকা সত্তে¡ও তারা একই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী বলে মনে করত। তাদের ভাষা, ধর্ম, সাহিত্য, খেলাধুলা সবকিছু তাদের এক সংস্কৃতির বন্ধনে করে রেখেছিল। এই সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে মূল অবদান ছিল এথেন্সের। আর এই সংস্কৃতির নাম হচ্ছে হেলেনীয় সংস্কৃতি।
প্রশ্ন \ ৬ \ গ্রিকদের ধর্ম সম্পর্কে যা জান লেখ?
উত্তর : গ্রিকদের বারটি দেব-দেবী ছিল। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি পূজা ছাড়াও তারা বীর যোদ্ধাদের পূজা করত। জিউস ছিল দেবতাদের রাজা। অ্যাপোলো ছিলেন সূর্য দেবতা, পোসিডন ছিলেন সাগরের দেবতা। এথেনা ছিলেন জ্ঞানের দেবী। বারজনের মধ্যে এই চারজন ছিলেন শ্রেষ্ঠ। রাষ্ট্রের নির্দেশে পুরোহিতরা ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতেন। ডেলোস দ্বীপে অবস্থিত লেফির মন্দিরে বিভিন্ন নগর রাষ্ট্রের মানুষ সমবেত হয়ে এক সঙ্গে অ্যাপোলো দেবতার পূজা করত।
প্রশ্ন \ ৭ \ বিজ্ঞানে গ্রিকের কী অবদান আছে ব্যাখ্যা কর?
উত্তর : গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞানচর্চার সূত্রপাত করে খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দে। পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কন করেন গ্রিক বিজ্ঞানীরা। তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়। গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন। চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারণ নয়, প্রাকৃতিক কারণে ঘটে। এই সত্য তারাই প্রথম আবিষ্কার করেন। জ্যামিতির পণ্ডিত ইউক্লিড পদার্থবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। বিখ্যাত গণিতবিদ পিথাগোরাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিপোক্রেটসের যথেষ্ট খ্যাতি ছিল।
প্রশ্ন \ ৮ \ সভ্যতায় রোমানদের অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর : রোম শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সর্বক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল। তারা এসব বিষয়ে গ্রিকদের অনুসরণ ও অনুকরণ করেছে। তবে সামরিক সংগঠন, শাসন পরিচালনা, আইন ও প্রকৌশল বিদ্যায় তারা গ্রিক ও অন্যান্য জাতির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। এক্ষেত্রে আধুনিক বিশ্ব রোমানদের কাছে বিপুলভাবে ঋণী।

 

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply