নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশের ইতিহাস অধ্যায় ৪ প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬-১২০৮ খ্রিস্টাব্দ)

চতুর্থ অধ্যায়
 প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬-১২০৮ খ্রিস্টাব্দ)

৩২১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ভারতের এক বিশাল অঞ্চলের ওপর মৌর্য বংশের প্রভুত্ব স্থাপন করেন। উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (২৬৯-২৩২ খ্রিষ্টপূর্ব)। অঞ্চলটি মৌর্যদের একটি প্রদেশে পরিণত হয়েছিল। প্রাচীন পুন্ড্রনগর ছিল এ প্রদেশের রাজধানী। শিখনফল
 প্রাচীন বাংলার গুরুত্বপূর্ণ রাজবংশ ও তাঁদের শাসনকাল সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারবে।
 প্রাক-পালযুগের বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে পারবে।
 প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক চর্চায় তৎকালীন গুরুত্বপূর্ণ রাজবংশসমূহের অবদান সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করতে সক্ষম হবে।
 গুরুত্বপূর্ণ রাজ বংশগুলো সম্পর্কে ধারণা লাভ করে প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে জানতে সমর্থ হবে।
 দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার রাজ্যসমূহ সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারবে।
 প্রাচীন বাংলার শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত হবে।
অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে জেনে রাখি

গুপ্ত যুগে বাংলা : ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে। তখন বাংলায় বেশ কিছু স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে। এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সমতট রাজ্য ও পশ্চিম বাংলার পুষ্করণ রাজ্য উল্লেখযোগ্য। গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই উত্তর বঙ্গের কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে। সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা জয় করা হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল। সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল হতে ষষ্ঠ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্থ একটি ‘প্রদেশ’ বা ‘ভুক্তি’ হিসেবে পরিগণিত হতো। মৌর্যদের মতো এদেশে গুপ্তদের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়ের পুন্ড্রনগর।
গুপ্ত পরবর্তী বাংলা : পাঁচ শতকে দুর্ধর্ষ পাহাড়ি জাতি হুন ও ষষ্ঠ শতকে মালবের যশোবর্মণের আক্রমণের ফলে ষষ্ঠ শতকের প্রথমার্ধেই গুপ্ত শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে। বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর সারা উত্তর ভারতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন রাজবংশের উদ্ভব হয়। এভাবে গুপ্তদের পর সমগ্র উত্তর ভারতে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। সে সুযোগে বাংলাদেশে দুটি স্বাধীন রাজ্যের সৃষ্টি হয়। এর একটি হলো বঙ্গ। এর অবস্থান দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম-বাংলার দক্ষিণাঞ্চলে। দ্বিতীয় রাজ্যের নাম গৌড়। এর অবস্থান ছিল বাংলার পশ্চিম ও উত্তর বাংলা নিয়ে।
স্বাধীন বঙ্গ রাজ্য : গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে বঙ্গ জনপদে একটি স্বাধীন রাজ্যের উদ্ভব ঘটে। তাম্র শাসন (তামার পাতে খোদাই করা রাজার বিভিন্ন ঘোষণা বা নির্দেশ) থেকে জানা যায় যে, গোচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদের নামে তিনজন রাজা স্বাধীন বঙ্গরাজ্য শাসন করতেন। এঁরা সবাই ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের রাজত্বকাল ছিল ৫২৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৬০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
স্বাধীন গৌড় রাজ্য : গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর ছয় শতকে ‘পরবর্তী গুপ্ত বংশ’ বলে পরিচিত গুপ্ত উপাধিধারী রাজাগণ উত্তর বাংলা, পশ্চিম বাংলার উত্তরাংশ ও মগধে ক্ষমতা বিস্তার করেছিলেন। ছয় শতকের মাঝামাঝি সময়ে এ অঞ্চলই গৌড় জনপদ নামে পরিচিতি লাভ করে। মৌখরী ও পরবর্তী গুপ্তবংশীয় রাজাদের মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ বছর পুরুষানুক্রমিক সংঘর্ষ এবং উত্তর থেকে তিব্বতীয় ও দাক্ষিণাত্য থেকে চালুক্যরাজগণের ক্রমাগত আক্রমণের ফলে বাংলায় গুপ্তবংশীয় রাজাগণ দুর্বল হয়ে পড়েন। এ অবস্থার পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করে শশাংক নামে জনৈক সামন্ত সাত শতকের গোড়ার দিকে গৌড় অঞ্চলে ক্ষমতা দখল করেন এবং স্বাধীন গৌড় রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন।
মাৎসান্যায় : শশাংকের মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে এক দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকারময় যুগের সূচনা হয়। দীর্ঘদিন বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিলেন না। ফলে, রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। একদিকে হর্ষবর্ধন ও ভাস্করবর্মণের হাতে গৌড় রাজ্য ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়, অন্যদিকে ভ‚স্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে ওঠে। কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো তখন কেউ ছিলেন না। এ অরাজকতার সময়কালকে পাল তাম্রশাসনে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে। পুকুরে বড় মাছ ছোট মাছকে ধরে গিলে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে বলে ‘মাৎস্যন্যায়’।
পাল বংশ : শশাংকের মৃত্যুর পর পাল শাসক গোপালের মাধ্যমে পাল রাজবংশের শাসনের সূচনা ঘটে। ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে গোপাল এ রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করলেও তিনি এখানে একটি স্থায়ী শাসনব্যবস্থার মজবুত ভিত্তি দিয়ে যেতে পারেননি। ৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে রাজা গোপালের মৃত্যুর পর তার পুত্র ধর্মপাল (৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দ) বাংলার শাসনক্ষমতায় বসেন।
পিতা ধর্মপালের মৃত্যুর পর দেবপাল শাসন ক্ষমতায় (৮২১-৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ) বসেন। বুদ্ধি ও ক্ষমতায় তিনি পিতার যোগ্য ছিলেন।
দেবপালের মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যের সংহতি বিনষ্ট হতে থাকলে দ্বিতীয় বিগ্রহপালের পুত্র প্রথম মহীপাল বাংলার শাসন ক্ষমতায় (৯৯৫-১০৪৩ খ্রিষ্টাব্দ) আসেন। তিনি বিদেশি শক্তির হাত থেকে উত্তর ও পশ্চিমবাংলা মুক্ত করে পতনোন্মুখ পাল সাম্রাজ্যের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু মহীপাল কোনো যোগ্য উত্তরসূরি রেখে যেতে পারেন নি। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সাম্রাজ্য ভেঙে যেতে শুরু করে। তার পৌত্র দ্বিতীয় বিগ্রহপালের সময় সাম্রাজ্য বহু স্বাধীন খণ্ডে বিভক্ত হয়ে পড়ে। অতঃপর কৈবর্ত বিদ্রোহ এবং পরবর্তীতে রামপাল সে বিদ্রোহ দমন করে পাল সাম্রাজ্য উদ্ধার করলেও পুরোনো সে গৌরব আর ফিরে আসেনি। অবশেষে বারো শতকের দ্বিতীয় ভাগে পাল সাম্রাজ্যের চ‚ড়ান্ত পতন ঘটে।
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার স্বাধীন রাজ্য : পাল যুগের বেশির ভাগ সময়েই দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা স্বাধীন ছিল। তখন এ অঞ্চলটি ছিল বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত। অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে বেশ কিছু রাজবংশের রাজারা কখনো পাল রাজাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীনভাবে তাদের এলাকা শাসন করতেন, আবার কখনো পাল রাজাদের অধীনতা স্বীকার করে চলতেন। এ সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার উল্লেখযোগ্য স্বাধীন রাজবংশগুলো হলো খড়গ বংশ, দেববংশ, কান্তিদেবের রাজ্য, চন্দ্রবংশ, বর্ম রাজবংশ।
সেন বংশ : সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেন ছিলেন সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা। হেমন্ত সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র বিজয় সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন। তার (১০৯৮-১১৬০ খ্রিষ্টাব্দ) সুদীর্ঘ রাজত্বকালেই সেন বংশের শাসন শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
বিজয় সেনের পর সিংহাসনে আরোহণ করেন তার পুত্র বল্লাল সেন (১১৬০-১১৭৮ খ্রিষ্টাব্দ)। বল্লাল সেন নিজের নামের সাথে ‘অরিরাজ নিঃশঙ্ক শঙ্কর’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। বল্লাল সেনের পর তার পুত্র ল²ণ সেন (১১৭৮-১২০৫ খ্রিষ্টাব্দ) প্রায় ৬০ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তেরো শতকের প্রথম দিকে মুসলিম সেনাপতি বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের মধ্য দিয়ে সেন রাজত্বের অবসান ঘটে।

 বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর 
১. কোন সময়ে ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়?
 ৩২০ খ্রিষ্টাব্দ খ ৩২১ খ্রিষ্টাব্দ গ ৩২২ খ্রিষ্টাব্দ ঘ ৩২৩ খ্রিষ্টাব্দ
২. শশাংক মালবরাজ দেবগুপ্তের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করেনÑ
র. পুষ্যভ‚তিদের দমন করতে
রর. মৌখরীদের দমন করতে
ররর. রাজ্যশ্রীকে বন্দি করতে
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
উদ্দীপকটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
রায়গঞ্জ ইউনিয়নে সুদীর্ঘকাল ধরে শান্তিপূর্ণভাবে শাসনকাজ পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু, অদক্ষ ও দুর্বল চেয়ারম্যান সুমনের শাসনামলে বিভিন্ন কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে দুর্জয়ের নেতৃত্বে জনগণ বিদ্রোহ করে সুমনকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়।
৩. রূপগঞ্জের বিদ্রোহী নেতা দুর্জয়ের মধ্যে ইতিহাসের কোন বিদ্রোহী নেতার আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে?
ক ভীম  দিব্য
গ দ্বিতীয় মহীপাল ঘ বিগ্রহ পাল
৪. চেয়ারম্যান সুমনের মতো উক্ত নেতার ক্ষমতাচ্যুতির কারণÑ
র. বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থতা
রর. শাসক হিসেবে অদক্ষতা
ররর. জনগণের সমস্যা সমাধানে অপারগতা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র  রর ও ররর গ র ও ররর ঘ র, রর ও ররর

 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন- ১  রাজা হেমন্ত সেন

অজয় তার পরিবারের সাথে পুরাতন নিবাস ত্যাগ করে নবীনগরে নতুনভাবে বসবাস শুরু করেন। কালক্রমে তিনি নবীনগরের শাসন ক্ষমতার অধিকারী হন। এলাকার উন্নয়নের জন্য তিনি বহুবিধ কার্যসম্পাদন করেন। এছাড়া তার পরবর্তী বংশধরেরাও শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখেন। তাঁর এলাকায় বসবাসরত বিভিন্ন ধর্মের লোকজন বৈষম্যের শিকার হতেন।
ক. খড়গ বংশের রাজধানী কোথায় ছিল?
খ. সেনদের ‘ব্রহ্মক্ষত্রিয়’ বলা হয় কেন?
গ. নবীনগরের শাসক অজয়ের কর্মকাণ্ডে কোন সেন শাসকের কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. তুমি কি মনে কর উক্ত শাসকের বংশধরেরা শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

ক খড়গ বংশের রাজধানী ছিল কর্মান্ত বাসক।
খ যে বংশের লোকেরা প্রথমে ব্রাহ্মণ থাকে এবং পরে পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় হয় তাদের বলা হয় ব্রহ্মক্ষত্রিয়। বারো শতকের দ্বিতীয় ভাগে বাংলাদেশে সেন রাজবংশের সূচনাকারী সামন্ত সেনের পূর্বপুরুষদের আদি বাসস্থান ছিল সুদূর দাক্ষিণাত্যের কর্ণাট। এ বংশের লোকেরা ব্র‏হ্মক্ষত্রিয় ছিল। তাই সেনদের ‘ব্রহ্মক্ষত্রিয়’ বলা হয়।
গ উদ্দীপকে নবীনগরের শাসক অজয়ের কর্মকাণ্ডে সেন বংশের প্রথম রাজা হেমন্ত সেনের কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। পাল বংশের পতনের পর বারো শতকের দ্বিতীয় ভাগে বাংলাদেশে সেন রাজবংশের সূচনা হয়। এরা ছিল বহিরাগত। তাদের আদি বাসস্থান ছিল দক্ষিণাত্যের কর্ণাটে। তারা ছিল ব্রহ্মক্ষত্রিয়। বাংলায় সেনবংশের প্রতিষ্ঠাতা সামন্ত সেন যৌবনে কর্ণাটে বীরত্ব প্রদর্শন করেন। তিনি বাংলায় এসে বসতি স্থাপন করেন রায় অঞ্চলে গঙ্গা নদীর তীরে। হেমন্ত সেনও পরিবারের সাথে বাংলায় আসেন। উদ্দীপকে যেমন দেখা যায় অজয় পরিবারের সাথে নবীনগরে নতুনভাবে বসবাস শুরু করে। অজয়ের মতোই কালক্রমে হেমন্ত সেন বাংলায় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি সেন বংশের প্রথম রাজা। রাজা হিসেবে তিনি এলাকার অনেক উন্নয়ন সাধন করেন।
ঘ উক্ত শাসক তথা হেমন্ত সেনের বংশধরেরা শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। হেমন্ত সেনের পুত্র বিজয় সেন শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে যথেষ্ট অবদান রাখতে পারেননি। তবে তার পুত্র বল্লাল সেন অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন। বিদ্যা ও বিদ্বানের প্রতি তার যথেষ্ট অনুরাগ ছিল। তিনি বেদ, স্মৃতি, পুরাণ প্রভৃতি শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছিলেন। তার একটি বিরাট গ্রন্থালয় ছিল। কবি বা লেখক হিসেবে সংস্কৃত সাহিত্যে তার দান অপরিসীম। তার পূর্বে বাংলার কোনো প্রাচীন রাজা এরূপ লেখনি প্রতিভার পরিচয় দিতে পারেননি। তিনি ‘দানসাগর’ ও ‘অদ্ভুতসাগর’ নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য ‘অদ্ভুতসাগর’ গ্রন্থের অসমাপ্ত অংশ তার পুত্র ল²ণ সেন সম্পূর্ণ করেছিলেন। ল²ণ সেন নিজে সুপণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। ল²ণ সেন রচিত কয়েকটি শ্লোকও পাওয়া গেছে। তার রাজসভায় বহু পণ্ডিত ও জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গের সমাবেশ ঘটেছিল। ধোয়ী, শরণ, জয়দেব, গোবর্ধন, উমাপতিধর প্রভৃতি প্রসিদ্ধ কবিগণ তার সভা অলঙ্কৃত করতেন। ভারত প্রসিদ্ধ পণ্ডিত হলায়ূধ তার প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মীয় প্রধান ছিলেন। তার সমসাময়িক অন্যান্য পণ্ডিতদের মধ্যে শ্রীধর দাস, পুরুষোত্তম, পশুপতি ও ঈশান বিখ্যাত। কবিদের মধ্যে গোবর্ধন ‘আর্যসপ্তদশী’, জয়দেব ‘গীতগোবিন্দ’ ও ধোয়ী ‘পবনদূত’ কাব্য রচনা করে। সুতরাং হেমন্ত সেন না হলেও তার বংশধরেরা শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন, নিঃসঙ্কোচে বলা যায়।
প্রশ্ন- ২  রাজা ধর্মপালের আদর্শ ও কৃতিত্ব

রামনগর পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন বড়–য়া তার এলাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশ-বিদেশের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। তার এলাকার বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিজ নিজ ধর্ম পালনের সুবিধার বিষয়ে তিনি মনোযোগী হন। ফলে তিনি তার পৌরসভায় শান্তিশৃঙ্খলা স্থাপনেও সমর্থ হন। ফলে তিনি দীর্ঘদিন পৌরশাসন করার সুযোগ লাভ করেন।
ক. পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
খ. ‘মাৎস্যন্যায়’ বলতে কী বুঝায়?
গ. আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রামনগর পৌরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে ধর্মপালের কোন কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘সৌমেন বড়–য়ার দীর্ঘদিন পৌরশাসন করার পিছনে কাজ করেছে ধর্মপালের আদর্শ ও অনুপ্রেরণা’Ñ উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

ক পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন গোপাল।
খ অরাজকতার সময়কালকে বলা হয় মাৎস্যন্যায়। পুকুরে বড় মাছগুলো শক্তির দাপটে ছোট মাছ ধরে ধরে খেয়ে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে বলা হয় মাৎস্যন্যায়। সাত শতকের মধ্যভাগে শশাংকের মৃত্যুর পর বাংলায় দীর্ঘকাল যোগ্য শাসনকর্তা না থাকার কারণে কেন্দ্রীয় শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। বাংলার সবল অধিপতিরা ছোট ছোট অঞ্চলগুলোকে গ্রাস করতে থাকে। তাই এ অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়েছে।
গ উদ্দীপকে বর্ণিত আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রামনগর পৌরসভার চেয়্যারম্যানের সাথে ধর্মপালের অনেক মিল রয়েছে। কারণ, ধর্মপাল একইরকম কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। শিক্ষাবিস্তারের জন্য তিনি বিভিন্ন বিহার নির্মাণ করেন। যেমন : বিক্রমশীল বিহার। এটি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নবম থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত এটি সমগ্র ভারতবর্ষের একটি প্রসিদ্ধ বৌদ্ধ শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। তিব্বতের বহু বৌদ্ধ ভিক্ষু এখানে অধ্যয়নের জন্য আসতেন। এছাড়া শিক্ষাবিস্তারের জন্য বাংলাদেশের নাটোর জেলার পাহাড়পুর নামক স্থানেও ধর্মপাল এক বিশাল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এটি সোমপুর বিহার নামে পরিচিত। ওদন্তপুরেও (বিহারে) তিনি সম্ভবত একটি বিহার নির্মাণ করেন। তারনাথের মতে, বৌদ্ধধর্ম শিক্ষার জন্য ৫০টি শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুতরাং, ধর্মপাল ছিলেন নিজ সময়ে আধুনিক এবং শিক্ষাবিস্তারে প্রয়াসী। তাই বলা যায়, ধর্মপালের বৌদ্ধধর্ম শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সাথে রামনগর পৌরসভার চেয়ারম্যানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
ঘ উদ্দীপকে উলি­খিত সৌমেন বড়–য়ার দীর্ঘদিন পৌরসভা শাসন করার পেছনে কাজ করেছে ধর্মপালের আদর্শ ও অনুপ্রেরণা একথা বলা যায়। কারণ, শিক্ষা ও ধর্ম বিষয়ে ধর্মপাল যেসব আদর্শ স্থাপন করেছেন তা অনুসরণীয়। শিক্ষাবিস্তারে তিনি অনেক বিহার নির্মাণ করেন। তারনাথের মতে, তিনি বৌদ্ধধর্ম শিক্ষার জন্য ৫০টি শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রাজা হিসেবে সকল ধর্মের প্রতি সমান পৃষ্ঠপোষকতা পাল যুগের একটি বৈশিষ্ট্য। তাই নিজে বৌদ্ধ হয়েও অন্যান্য ধর্মের প্রতি ধর্মপালের কোনো বিদ্বেষ ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন, রাজার ব্যক্তিগত ধর্মের সাথে রাজ্য শাসনের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই তিনি শাস্ত্রের নিয়ম মেনে চলতেন এবং প্রতি ধর্মের লোক যাতে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে তার প্রতি খেয়াল রাখতেন। নারায়ণের একটি মন্দিরের জন্য তিনি করমুক্ত ভ‚মি দান করেছিলেন। তিনি যাদের ভ‚মি দান করেছিলেন তাদের অধিকাংশই ছিল ব্রাহ্মণ। ধর্মপালের প্রধানমন্ত্রী গর্গ ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ। তাঁর বংশধররা বহুদিন ধরে পাল রাজাদের প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে খ্যাতিমান সর্বশ্রেষ্ঠ শাসকদের মধ্যে ধর্মপাল অন্যতম। অর্ধশতাব্দী আগে যে দেশ অরাজকতা ও অত্যাচারের লীলাভ‚মি ছিল, তাঁর নেতৃত্বে সে দেশ সহসা প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়ে উত্তর ভারতে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল। সুতরাং উদ্দীপকে বর্ণিত সৌমেন বড়–য়া যে শিক্ষাবিস্তারের কাজ করেছেন তা ধর্মপালের আদর্শ ও অনুপ্রেরণাও বটে। উপরন্তু সব ধর্মের লোকদের নিজ নিজ ধর্মপালনের সুবিধা প্রদানও ধর্মপালের আদর্শ। সুতরাং বলা যেতেই পারে, সৌমেন বড়–য়ার দীর্ঘদিন পৌরশাসনের পিছনে কাজ করেছে ধর্মপালের আদর্শ ও অনুপ্রেরণা।

 বোর্ড ও সেরা স্কুলের বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১. পালবংশের পতন ঘটে কার হাতে? [স. বো. ’১৬]
ক অজয় সেন  বিজয় সেন গ লক্ষণ সেন ঘ বল্লাল সেন
২. গুপ্ত যুগের প্রশাসনিক বিভাগ সম্পর্কে কোনটি সঠিক? [স. বো. ’১৬]
ক গ্রাম  বীথি  মণ্ডল  বিষয়  ভুক্তি
 ভুক্তি  বিষয়  মণ্ডল  বীথি  গ্রাম
গ গ্রাম  বীথি  বিষয়  ভুক্তি  মণ্ডল
ঘ ভুক্তি  মণ্ডল  বীথি  বিষয়  গ্রাম
৩. গৌড়রাজ শশাংকের রাজধানী ছিল কোনটি? [স. বো. ’১৫]
 কর্ণসুবর্ণ খ বিক্রমপুর গ পুন্ড্রনগর ঘ চন্দ্রদ্বীপ
৪. ‘দান সাগর’ বইটির লেখক কে? [স. বো. ’১৫]
 বল্লাল সেন খ সন্ধ্যাকর নদী
গ ইন্দ্রগুপ্ত ঘ উমাপতি ধর
৫. গ্রিক বীর আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করেন কখন?
[মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৫ Ñ ২৪ অব্দে খ খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৬ Ñ ২৫ অব্দে
 খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৭ Ñ ২৬ অব্দে ঘ খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৮ Ñ ২৭ অব্দে
৬. বাংলাদেশে ‘গঙ্গারিডই’ নামে এক শক্তিশালী রাজ্য ছিল এটি কোন লেখকের বিবরণীতে জানা যায়? [মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক পারসিক  গ্রিক গ আফগান ঘ ভারতীয়
৭. ‘প্রাসিঅয়’ জাতির রাজধানী কোথায় ছিল?
[মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
 প্যালিবোথরা খ পাঞ্জাব গ কাশ্মির ঘ কুচবিহার
৮. নিচের (?) চি‎িহ্নত স্থানে কোনটি বসবে?
[মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]

ক পাল শাসন খ সেন শাসন গ গুপ্ত শাসন  মৌর্য শাসন
৯. ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
[ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল ও কলেজ, কুমিল্লা সেনানিবাস]
ক ৩১৮ খ ৩১৯  ৩২০ ঘ ৩২১
১০. শশাংক প্রথম কোথায় রাজ্য স্থাপন করেন?
[মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক বঙ্গে খ পুণ্ড্রে  গৌড়ে ঘ সমতটে
১১. শশাংকের রাজধানীর নাম কী?
[আল হেরা একাডেমি, পাবনা; খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়]
ক পুণ্ড্রনগর  কর্ণসুবর্ণ গ পুণ্ড্রবর্ধন ঘ তাম্রলিপ্ত
১২. হিউয়েন সাং শশাংককে কী বলে আখ্যায়িত করেছেন?
[ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল ও কলেজ, কুমিল্লা সেনানিবাস]
ক জৈনধর্ম বিদ্বেষী খ শৈবধর্ম বিদ্বেষী
গ হিন্দুধর্ম বিদ্বেষী  বৌদ্ধধর্ম বিদ্বেষী
১৩. পুকুরে বড় মাছ শক্তির দাপটে ছোট মাছকে ধরে গিলে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে বলে [রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক রাক্ষস মাছ খ ভয়ঙ্কর মাছ
গ অন্ধকারময় অবস্থা  মাৎস্যন্যায়
১৪. ‘মাৎস্যন্যায়’-এর অবসান ঘটে কীভাবে?
[ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল ও কলেজ, কুমিল্লা সেনানিবাস]
ক মৌর্যদের আগমনে খ গুপ্তদের আগমনে
গ সেনদের আগমনে  পালদের আগমনে
১৫. পাল বংশের প্রতিষ্ঠা করেন কে?
[কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়; রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক শশাংক  গোপাল গ মহীপাল ঘ সৌমিত্র
১৬. লামা তারনাথ কোন দেশের ঐতিহাসিক? [আল হেরা একাডেমি, পাবনা]
 তিব্বত খ চীন গ গ্রিস ঘ পারস্য
১৭. দীর্ঘকাল বাংলা শাসন করেন কোন রাজবংশ?
[রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক মৌর্য রাজবংশ খ গুপ্ত রাজবংশ
 পাল রাজবংশ ঘ সেন রাজবংশ
১৮. পাল আমলে শাসন বিভাগের সর্বোচ্চ স্থানে কে ছিলেন?
[চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
 রাজা খ রাজপুত্র গ সেনাপতি ঘ উজির
১৯. পালবংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক কে ছিলেন?
[খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়; বরগুনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক গোপাল  ধর্মপাল গ দেবপাল ঘ মহীপাল
২০. ধর্মপাল কত বছর রাজত্ব করেন? [আল হেরা একাডেমি, পাবনা]
ক ৩৮ খ ৩৯  ৪০ ঘ ৪১
২১. ধর্মপাল কোথায় একটি বৌদ্ধবিহার বা মঠ নির্মাণ করেন?
[মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদপুর]
 ভাগলপুরের ২৪ মাইল পূর্বে খ জয়পুরের শ্রীনগরে
গ বিহারে ঘ গয়াকাশীর নিকট
২২. ধর্মপালের পুত্রের নাম কী? [মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদপুর]
 দেবপাল খ সৌমিত্র পাল গ কম্ভপাল ঘ ইন্দ্রপাল
২৩. পালবংশের সর্বশেষ সফল শাসক কে ছিলেন? [বিএএফ শাহীন কলেজ, ঢাকা]
ক মহীপাল খ দেবপাল গ বিগ্রহপাল  রামপাল
২৪. পাল বংশের পতন ঘটে কত শতকে? [মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক দশ খ এগারো  বার ঘ তের
২৫. দেববংশের কতজন রাজার নাম পাওয়া যায়?
[দি বাডস রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, শ্রীমঙ্গল]
ক ৩  ৪ গ ৫ ঘ ৬
২৬. দেবদের রাজত্ব বিস্তৃত ছিল কোথায়? [অগ্রগামী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট]
ক গৌড়ে খ বঙ্গে গ পুন্ড্রে  সমতটে
২৭. কান্তিদেবের রাজ্যভুক্ত ছিল বর্তমানের কোনটি?
[ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল ও কলেজ, কুমিল্লা সেনানিবাস]
ক বগুড়া খ কুমিল্লা
গ নওগাঁ  সিলেট
২৮. ত্রৈলোক্যচন্দ্রের উপাধি কী ছিল?
[মনিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যশোর]
 মহারাজাধিরাজ খ পরমেশ্বর
গ পরমভট্টারক ঘ পরম সৌগত
২৯. রোহিতগিরি নামটি কোনটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?
[অগ্রগামী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট]
ক কুটিলামুড়া খ বড়কামতা
গ ময়নামতি  লালমাই পাহাড়
৩০. হরিবর্মা ক্ষমতায় ছিলেন কত বছর? [পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক ৪৫  ৪৬ গ ৪৭ ঘ ৪৮
৩১. কত শতকে বাংলায় সেন বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
[রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক নবম খ দশম
গ একাদশ  দ্বাদশ
৩২. বাংলায় সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন? [রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়]
 সামন্ত সেন খ বিজয় সেন
গ ল²ণ সেন ঘ অজয় সেন
৩৩. বিজয় সেনের শাসনকাল কোনটি? [রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
 ১০৯৮-১১৬০ খ্রিষ্টাব্দ খ ১০৯৯-১১৬১ খ্রিষ্টাব্দ
গ ১১০০-১১৬২ খ্রিষ্টাব্দ ঘ ১১০১-১১৬৩ খ্রিষ্টাব্দ
৩৪. কাদের প্রতি বল্লাল সেনের যথেষ্ট অনুরাগ ছিল?
[অগ্রগামী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট]
ক শিক্ষিতদের খ ধার্মিকদের
গ আত্মীয়দের  বিদ্যা ও বিদ্বানের
৩৫. ‘দানসাগর’ ও ‘অদ্ভুতসাগর’ গ্রন্থের লেখক কে?
[রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক টেকচাঁদ ঠাকুর  বল্লাল সেন
গ সন্ধ্যাকর নন্দি ঘ ল²ণ সেন
৩৬. বাংলায় সেন বংশের শাসন কত কাল স্থায়ী ছিল?
[খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়]
ক প্রায় ৫০ বছর খ প্রায় ১০০ বছর
 প্রায় ১৫০ বছর ঘ প্রায় ২০০ বছর
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৩৭. খড়গ রাজবংশের অধিকৃত অঞ্চল হলো [মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়]
র. ত্রিপুরা
রর. নোয়াখালী
ররর. দিনাজপুর
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৩৮. দেববংশের রাজাগণ হলেন
[ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল ও কলেজ, কুমিল্লা সেনানিবাস]
র. শ্রীশান্তিদেব
রর. শ্রীবীরদেব
ররর. শ্রীভবদেব
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৩৯ ও ৪০ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
নূরু মিয়া অনেক জমির মালিক। সে জমিতে চাষাবাদ করে না। ফলে জমিগুলো অনাবাদি রূপ ধারণ করে। হাসু অন্য গ্রাম থেকে এসে বর্গা নিয়ে জমি চাষাবাদ করে। পরবর্তী সময়ে হাসু নূরু মিয়ার সকল জমিই নিজের নামে লিখে নেয়। [স. বো. ’১৬]
৩৯. অনুচ্ছেদে নূরু মিয়ার চরিত্রে কোন ভারত বিজেতার চরিত্র ফুটে উঠেছে?
ক লর্ড হার্ডিঞ্জ খ লর্ড ডালহৌসি
 আলেকজান্ডার ঘ মহাত্মা গান্ধী
৪০. উক্ত ব্যক্তির বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারের মূল কারণ
র. সুচতুর সেনাবাহিনী রর. অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা
ররর. বীরত্ব
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৪১ ও ৪২ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
বহিরাগত ‘ক’ বংশের লোকেরা শিবগঞ্জে তাদের বসতি স্থাপন করেন। প্রথম জীবনে ‘ক’ বংশের লোকেরা ধর্মগুরু হিসাবে কাজ করলেও পরবর্তীতে তারা পেশা পরিবর্তন করেন এবং শিবগঞ্জে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেন।
[স. বো. ’১৫]
৪১. অনুচ্ছেদে ‘ক’ বংশের সাথে নিচের কোন রাজবংশের সাদৃশ্য রয়েছে?
ক বর্মবংশ খ চন্দ্রবংশ গ পালবংশ  সেনবংশ
৪২. উক্ত রাজবংশের সর্বশেষ শাসকের কর্মকাণ্ডের ফলে-
র. সাহিত্য চর্চা গতি পায় রর. তাদের রাজত্ব হারায়
ররর. অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসে
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৪৩ ও ৪৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
বহিরাগত ‘ক’ বংশের লোকেরা শিবগঞ্জে তাদের বসতি স্থাপন করেন। প্রথম জীবনে ‘ক’ বংশের লোকেরা ধর্মগুরু হিসাবে কাজ করলেও পরবর্তীতে তারা পেশা পরিবর্তন করেন এবং শিবগঞ্জে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেন।
[স. বো. ’১৫]
৪৩. অনুচ্ছেদে ‘ক’ বংশের সাথে নিচের কোন রাজ বংশের সাদৃশ্য রয়েছে?
ক বর্ম বংশ খ চন্দ্র বংশ গ পাল বংশ  সেন বংশ
৪৪. উক্ত রাজবংশের সর্বশেষ শাসকের কর্মকাণ্ডের ফলে-
র. সাহিত্য চর্চা গতি পায় রর. তাদের রাজত্ব হারায়
ররর. অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসে
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৪৫ ও ৪৬ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
অনিক ইতিহাস গবেষণা করে দেখতে পেল যে প্রকৃতিগত কারণেই বাংলায় সেই প্রাচীনকাল হতে বিভিন্ন বিদেশি শক্তির আবির্ভাব হয়। যাদের আক্রমণের ফলে অনেক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। তেমনি বিদেশি শক্তির আক্রমণে গুপ্ত সাম্রাজ্য ভেঙে বাংলায় গড়ে ওঠে বঙ্গ ও গৌড় নামে স্বাধীন রাজ্য।
[মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
৪৫. অনুচ্ছেদে কাদের আক্রমণের কথা বলা হয়েছে?
 হুনদের খ শকদের গ কৃষাণদের ঘ গ্রিকদের
৪৬. উক্ত ‘রাজ্যে’ মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন
র. গোচন্দ্র রর. ধর্মাদিত্য
ররর. সমাচারদেব
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৪৭ ও ৪৮ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
নবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র শপথ গ্রহণ করে জনকল্যাণকর কাজের দিকে মনোযোগ দেয়। শহরে তিনি বেশ কয়েকটি দীঘি খনন করে পৌরবাসীর পানির অভাব দূর করেন। [মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
৪৭. কোন পাল রাজার জ্ঞানের সাথে পৌর মেয়রের জনকল্যাণকর জ্ঞান তুলনা করা যায়?
ক গোপাল খ দেবপাল  প্রথম মহীপাল ঘ ন্যায়পাল
৪৮. উক্ত রাজার শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো
 পাল সাম্রাজ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা খ জনহিতকর কার্য
গ বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ ঘ রাজ্যবিস্তার
 বিষয়ক্রম অনুযায়ী বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
 ভ‚মিকা  বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ২৯
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৪৯. কোন সময়ের ইতিহাস খুঁজে পাওয়া সহজ নয়? (অনুধাবন)
 পালপূর্ব যুগের খ সেনপূর্ব যুগের
গ মৌর্যপূর্ব যুগের ঘ গুপ্তপূর্ব যুগের
৫০. প্রাচীনতম বাংলায় রাজনৈতিক জীবনের বিকাশ ঘটেছে কীভাবে? (প্রয়োগ)
ক নিরবচ্ছিন্নভাবে  বিচ্ছিন্নভাবে
গ ধীরগতিতে ঘ দ্রæতগতিতে
৫১. স্বাধীন রাজ্য উত্থানের যুগে কোন রাজা সবচেয়ে শক্তিমান ছিলেন?
(অনুধাবন)
ক গোপাল খ হর্ষবর্ধন  শশাংক ঘ ধর্ম সেন
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৫২. এক অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি হয় (অনুধাবন)
র. পাল শাসনের অবসানের পর
রর. মৌর্য শাসনের অবসানের পর
ররর. গুপ্ত শাসনের অবসানের পর
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর  রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৩. প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে প্রযোজ্য তথ্য (উচ্চতর দক্ষতা)
র. বারো শতকের মাঝামাঝি পাল বংশের পতন ঘটে
রর. তেরো শতকের প্রথম দশকে সেন বংশের পতন ঘটে
ররর. প্রাচীন যুগের অবসানে মধ্যযুগের সূচনা ঘটে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর

 মৌর্য ও গুপ্ত যুগে বাংলা  বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ২৯
 পাল বংশের গোড়াপত্তন করেন গোপাল।
 স্বাধীন রাজ্য উত্থানের যুগে উত্তর বাংলার শক্তিমান রাজা ছিলেন শশাংক।
 মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে।
 মৌর্য ও গুপ্তদের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর।
 ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে।
 সমগ্র বাংলা জয় করেছেন গুপ্ত সম্রাট সমুদ্র গুপ্ত।
 সেন শাসন অব্যাহত ছিল প্রায় দুইশ বছর।
 সম্রাট শশাংকের মৃত্যুর পর রাজ্যজুড়ে অরাজক ও বিশৃঙ্খলা থাকে প্রায় ১০০ বছর।
 গ্রিক লেখকদের কথায় বাংলাদেশে এক শক্তিশালী রাজ্য ছিল যার নাম গঙ্গারিডই।
 মুসলিম শক্তির হাতে সেনবংশের অবসান ঘটে তেরো শতকের প্রথম দশকে।
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৫৪. কোন যুগের পূর্বে প্রাচীন বাংলার ধারাবাহিক ইতিহাস রচনা করার তেমন কোনো উপাদান পাওয়া যায় না? (জ্ঞান)
ক পাল খ সেন  গুপ্ত ঘ মুসলমান
৫৫. প্রাচীন বাংলার ইতিহাস রচনার উপাদান পাওয়া যায় না কেন? (অনুধাবন)
 মানুষ লেখায় অভ্যস্ত ছিল না খ প্রাচীন লেখাগুলো হারিয়ে গেছে
গ প্রাচীন সময় লেখার উপকরণ ছিল না ঘ মানুষ লেখার নিয়ম জানত না
৫৬. আলেকজান্ডার কোন দেশের নাগরিক? (জ্ঞান)
ক আলবেনিয়া  গ্রিস
গ ইতালি ঘ আজারবাইজান
৫৭. কে খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৭Ñ২৬ অব্দে ভারত আক্রমণ করেন? (জ্ঞান)
ক গোপাল  আলেকজান্ডার
গ ল²ণ সেন ঘ বিজয় সেন
৫৮. খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৭Ñ২৬ অব্দে আলেকজান্ডার কোন দেশ আক্রমণ করেছিলেন? (জ্ঞান)
ক গ্রিস খ চীন  ভারত ঘ থাইল্যান্ড
৫৯. গঙ্গা নদীর স্রোত কয়টি? (জ্ঞান)
ক ১  ২ গ ৩ ঘ ৫
৬০. ‘প্রাসিঅয়’ কী? (জ্ঞান)
ক একটি নদীর নাম খ একটি পাহাড়ের নাম
গ একটি রাজ্যের নাম  একটি জাতির নাম
৬১. ‘গঙ্গারিডই’ বলতে কী বোঝ? (অনুধাবন)
 একটি শক্তিশালী রাজ্য খ একটি নগর
গ একটি নদী ঘ একটি পর্বত
৬২. পাটলিপুত্রের আগের নাম কী ছিল? (জ্ঞান)
ক থোবরা  পালিবোথরা গ গঙ্গা ঘ হরিকেল
৬৩. বাংলার রাজা মগধাদি দেশ জয় করে কোন রাজ্য পর্যন্ত স্বীয় রাজ্য বিস্তার করেছিলেন? (জ্ঞান)
ক আসাম খ গোয়া গ বোম্বে  পাঞ্জাব
৬৪. আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের সময় বাংলার রাজা কোন বংশীয় ছিলেন? (জ্ঞান)
ক চন্দ্র  নন্দ গ পান ঘ মৌর্য
৬৫. আলেকজান্ডার ভারত ত্যাগের কত বছর পর সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য বংশের ওপর প্রভুত্ব স্থাপন করেন? (জ্ঞান)
ক ১  ২ গ ৩ ঘ ৪
৬৬. সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ভারতের এক বিশাল অঞ্চলের ওপর মৌর্য বংশের প্রভুত্ব স্থাপন করেন কখন? (জ্ঞান)
ক ৩২০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে  ৩২১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
গ ৩২২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ঘ ৩২৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে
৬৭. সম্রাট অশোকের সময় কোন অঞ্চলে মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়? (জ্ঞান)
ক দক্ষিণ বাংলায়  উত্তর বাংলায়
গ পশ্চিম বাংলায় ঘ পূর্ব বাংলায়
৬৮. সম্রাট অশোকের রাজত্বকাল কোনটি? (জ্ঞান)
ক খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৩-২৩২ অব্দ  খ্রিষ্টপূর্ব ২৬৯-২৩২ অব্দ
গ খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৫-২৩৪ অব্দ ঘ খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৬-২৩৫ অব্দ
৬৯. মৌর্য শাসন কর্ণসুবর্ণ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কর্ণসুবর্ণ বলতে কোনটিকে বোঝানো হয়েছে? (প্রয়োগ)
ক হুগলি খ সমতট  মুর্শিদাবাদ ঘ রাঢ়
৭০. শুঙ্গ ও কন^ বংশের আবির্ভাব ঘটে কোন সাম্রাজ্যের পতনের পর? (জ্ঞান)
ক গুপ্ত  মৌর্য গ হুগলি ঘ পাল
৭১. মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের পর কোন বংশের আবির্ভাব ঘটে? (জ্ঞান)
 কন্ব ও শুঙ্গ খ খড়গ ও বর্ম গ শূর ও দেব ঘ চন্দ্র ও পাল
৭২. পুষ্করণ রাজ্য কোনটির অন্তর্গত ছিল? (জ্ঞান)
ক পূর্ব বাংলা  পশ্চিম বাংলা গ দক্ষিণ বাংলা ঘ উত্তর বাংলা
৭৩. কোন গুপ্ত সম্রাটের রাজত্বকালে উত্তরবঙ্গের কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে নিয়ে আসে? (জ্ঞান)
 প্রথম চন্দ্রগুপ্ত খ দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত গ তৃতীয় চন্দ্রগুপ্ত ঘ চতুর্থ চন্দ্রগুপ্ত
৭৪. ‘ভুক্তি’ হলো- (অনুধাবন)
 প্রদেশের নাম খ দেশের নাম গ জাতির নাম ঘ পাখির নাম
৭৫. এদেশে গুপ্তদের রাজধানী কোথায় ছিল? (জ্ঞান)
ক ময়নামতি  পুণ্ড্রনগর গ পাহাড়পুর ঘ শিয়ালকোট
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৭৬. গঙ্গা নদীর যেসব স্রোতধারা ছিলÑ (অনুধাবন)
র. ভাগীরথী রর. পদ্মা ররর. ব্রহ্মপুত্র
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৭৭. মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের পর যেসব বংশের আবির্ভাব ঘটেÑ (অনুধাবন)
র. শুঙ্গ রর. কন্ব ররর. খড়গ
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৭৮. সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে বাংলা সম্পর্কিত তথ্য হলো (অনুধাবন)
র. সমতট বাংলার করদরাজ্য ছিল
রর. রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়ের পুণ্ড্রনগর
ররর. উত্তরবঙ্গ একটি প্রদেশ বা ভুক্তি ছিল
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৭৯, ৮০ ও ৮১ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
স¤প্রতি দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক নিবন্ধ পাঠে জানা যায় যে, ইতিহাসবিদগণ গুপ্ত যুগ সম্পর্কে জানার মতো বেশ কিছু উপাদান পেয়েছেন। ফলে তখনকার সময়ের ইতিহাস রচনার কাজ কিছুটা হলেও সহজ হয়েছে।
৭৯. উলি­খিত যুগে কোন জনপদটি তাদের অধিকারের বাইরে ছিল? (প্রয়োগ)
ক হরিকেল খ বরেন্দ্র  সমতট ঘ গৌড়
৮০. ঐ যুগে প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছিল (প্রয়োগ)
র. ষষ্ঠ শতকের প্রথমার্ধে রর. পালরাজাদের আক্রমণে
ররর. দুর্ধর্ষ জাতি হুনদের আক্রমণে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৮১. ঐ যুগের অধিবাসীরা ভারতে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত করেছিল কত খ্রিষ্টাব্দে? (অনুধাবন)
ক ২৯৪ খ ৩০৫  ৩২০ ঘ ৩২৪

 গুপ্ত পরবর্তী বাংলা  বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ৩০
 উত্তর ভারতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন রাজবংশের উদ্ভব হয় গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর।
 তাম্রশাসনের তিন রাজা গ্রহণ করেছিলেন মহারাজাধিরাজ উপাধি।
 তাম্রশাসকদের রাজত্বকাল ছিল ৫২৫ খ্রিষ্টাব্দ হতে ৬০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
 বঙ্গরাজ্য গৌড় জনপদ নামে পরিচিতি লাভ করে ছয় শতকের মাঝামাঝি।
 স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন রাজা শশাংক।
 রাজা শশাংক ছিলেন শৈব ধর্মের উপাসক।
 সাত শতকে বাংলার ইতিহাসে একটি বিশিষ্ট নাম শশাংক।
 শশাংক ছিলেন স্বাধীন বাংলার প্রথম সার্বভৌম শাসক।
 গুপ্ত রাজাদের অধীনে বড় কোনো অঞ্চলের শাসককে বলা হতো মহাসামন্ত।
 স্বাধীন গৌড় রাজ্যের উত্থান ঘটলেবঙ্গ রাজ্যের পতন ঘটে।
 শশাংকের রাজধানীর নাম ছিল কর্ণসুবর্ণ।
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৮২. হুন জাতি কোন শতকে গুপ্ত সাম্রাজ্য আক্রমণ করে? (জ্ঞান)
ক দ্বিতীয় খ তৃতীয় গ চতুর্থ  পঞ্চম
৮৩. হুন কী? (জ্ঞান)
ক নদী খ পাহাড়  জাতি ঘ পাখি
৮৪. মালবের যশোবর্মণ কোন শতকে গুপ্ত সাম্রাজ্য আক্রমণ করেন? (জ্ঞান)
ক ৫ম  ৬ষ্ঠ গ ৭ম ঘ ৮ম
৮৫. তাম্রশাসন বলতে কী বোঝায়? (অনুধাবন)
ক লোহার পাতে খোদাই করা রাজার নির্দেশ
খ সিসার পাতে খোদাই করা রাজার ঘোষণা
 তামার পাতে খোদাই করা রাজার নির্দেশ
ঘ রাজ্যে তাম্রমুদ্রার ব্যবহার
৮৬. গোচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব এই তিন রাজার শাসনকাল কখন ছিল? (জ্ঞান)
ক ৫০০Ñ৬০০ খ্রিষ্টাব্দ খ ৫২৫Ñ৬০০ খ্রিষ্টাব্দ
 ৫২৫Ñ৬০০ খ্রিষ্টাব্দ ঘ ৫৫০Ñ৬০০ খ্রিষ্টাব্দ
৮৭. চালুক্য বংশের রাজা কে ছিলেন? (জ্ঞান)
ক শশাংক খ গোপাল  কীর্তিবর্মণ ঘ মহীপাল
৮৮. কোন শতকের পূর্বে দক্ষিণ বাংলার সমতট রাজ্যে ভদ্র, খড়গ, রাঢ় প্রভৃতি বংশের স্বাধীন ও সামন্ত রাজাদের উত্থান ঘটেছিল? (জ্ঞান)
ক ষষ্ঠ খ অষ্টম  সপ্তম ঘ দশম
৮৯. কোন সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে বঙ্গ জনপদে একটি স্বাধীন রাজ্যের উদ্ভব ঘটে? (জ্ঞান)
ক মৌর্য  গুপ্ত গ পাল ঘ সেন
৯০. শশাংকের জীবন-কাহিনী পণ্ডিতদের নিকট পরিষ্কার নয় কেন? (অনুধাবন)
 বিপরীতমুখী বর্ণনার জন্য খ ইতিহাসের উপাদান সঠিক বলে
গ মহাসামন্ত শাসক ছিল বলে ঘ যুদ্ধে ব্যস্ত থাকার কারণে
৯১. শশাংক কত খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে রাজ সিংহাসনে আরোহণ করেন? (জ্ঞান)
ক ৬০০ খ ৬০২ গ ৬০৩  ৬০৬
৯২. সপ্তম শতাব্দীতে গৌড়ের রাজধানী ছিল কোনটি? (জ্ঞান)
 কর্ণসুবর্ণে খ লখনৌতে গ পাণ্ডুয়ায় ঘ বর্ধমানে
৯৩. শশাংক কার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করেছিলেন? (জ্ঞান)
ক মহীপাল  মালবরাজ দেবগুপ্ত
গ চন্দ্রগুপ্ত ঘ সমুদ্রগুপ্ত
৯৪. রাজা শশাংক সিংহাসনে আরোহণ করে দণ্ডভুক্তি, উড়িষ্যার উৎকল, কঙ্গোদ এবং বিহারের মগ্ধ জয় করেন। তার কর্মকাণ্ডের দ্বারা কোনটি ফুটে উঠেছে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক ক্ষমতার দম্ভ খ মহাসামন্ত বিস্তার
 রাজ্যবিস্তার ঘ ক্ষমতার অপব্যবহার
৯৫. পশ্চিম দিক থেকে একটি শক্তি বাংলা অধিকারের জন্য বার বার চেষ্টা করছিল। এ শক্তিটির নাম কী? (প্রয়োগ)
ক পুষ্যভ‚তি  মৌখরী গ গুপ্ত ঘ রায়
৯৬. শশাঙ্ক মালবরাজ দেবগুপ্তের সাথে কী ধরনের সম্পর্ক স্থাপন করেন? (অনুধাবন)
ক শত্রæতাপূর্ণ  বন্ধুত্বপূর্ণ গ রাজনৈতিক ঘ বৈবাহিক
৯৭. থানেশ্বররাজ প্রভাকরবর্ধনের অকস্মাৎ মৃত্যু হলে কে সিংহাসনে বসেন? (জ্ঞান)
 রাজ্যবর্ধন খ দেবগুপ্ত গ রামপাল ঘ মৌর্যসম্রাট
৯৮. মৌখরিরাজ গ্রহবর্মণকে পরাজিত করেন কে? (জ্ঞান)
ক দেবপাল খ সমুদ্রগুপ্ত গ সেনগুপ্ত  দেবগুপ্ত
৯৯. দেবগুপ্তকে কে হত্যা করেন? (জ্ঞান)
ক সমুদ্রগুপ্ত  রাজ্যবর্ধন গ সেনগুপ্ত ঘ মহীপাল
১০০. রাজ্যবর্ধনের মৃত্যুর পর কে কনৌজ ও থানেশ্বরের সিংহাসনে আরোহণ করেন? (জ্ঞান)
 হর্ষবর্ধন খ দেবগুপ্ত গ শশাংক ঘ দেবপাল
১০১. ভাস্করবর্মা কোথাকার শাসক ছিলেন? (জ্ঞান)
 কামরূপ খ কনৌজ গ থানেশ্বর ঘ উড়িষ্যা
১০২. ভাস্করবর্মা কার সাথে বন্ধুত্ব করেন? (জ্ঞান)
ক দেবগুপ্ত  হর্ষবর্ধন গ কীর্তিবর্মণ ঘ গ্রহবর্মণ
১০৩. কত খ্রিষ্টাব্দে শশাংকের মৃত্যু হয়? (জ্ঞান)
ক ৬৩৪ খ ৬৩৫ গ ৬৩৬  ৬৩৭
১০৪. শশাংক কোন ধর্মের উপাসক ছিলেন? (জ্ঞান)
ক হিন্দু খ মুসলিম  শৈব ঘ বৌদ্ধ
১০৫. শশাংক কোন শতকের বাংলার ইতিহাসে একটি বিশিষ্ট নাম? (জ্ঞান)
ক ৬ষ্ঠ  ৭ম গ ৮ম ঘ ৯ম
১০৬. প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে প্রথম সার্বভৌম শাসকের নাম কী? (জ্ঞান)
ক দেবগুপ্ত খ রামপাল  শশাংক ঘ মহীপাল
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১০৭. পঞ্চম শতকে ও ষষ্ঠ শতকের প্রথমার্ধের গুপ্ত সাম্রাজ্যকে আক্রমণ করে যে জাতিÑ (অনুধাবন)
র. হুন রর. কন্ব ররর. যশোবর্মণ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১০৮. গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার কারণে যে রাজারা স্বাধীন বঙ্গরাজ্য গড়ে তোলেনÑ (অনুধাবন)
র. গোচন্দ্র রর. ধর্মাদিত্য ররর. সমাচারদেব
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১০৯. সাত শতকের পূর্বেই দক্ষিণ বাংলার সমতটে যেসব বংশের স্বাধীন ও সামন্ত রাজাদের উত্থান ঘটেÑ (অনুধাবন)
র. ভদ্র রর. খড়গ ররর. রাঢ়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১১০. স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন (অনুূধাবন)
র. শশাংক রর. একজন মহাসামন্ত
ররর. প্রভাকরবর্ধন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র  র ও রর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১১১. চালুক্যরাজগণের ক্রমাগত আক্রমণের ফলে বাংলায় (উচ্চতর দক্ষতা)
র. গুপ্তবংশীয় রাজাগণ দুর্বল হয়ে পড়েন
রর. স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা লাভ করে
ররর. রাজা শশাংককে ক্ষমতা দখলের সুযোগ করে দেয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১১২. রাজা শশাংক ছিলেন (অনুধাবন)
র. পণ্ডিতদের শিরোমণি রর. মহাসেন গুপ্তের মহাসামন্ত
ররর. মহাসেন গুপ্তের পুত্র অথবা ভ্রাতুষ্পুত্র
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর  রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১১৩. রাজা শশাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (উচ্চতর দক্ষতা)
র. রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণে
রর. ৬৩৭ খ্র্রিষ্টাব্দে মারা যান
ররর. মহাসেনগুপ্তের মহাসামন্ত
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১১৪. শশাংক জয় করেন (অনুধাবন)
র. দণ্ডভুক্তি রাজ্য রর. উড়িষ্যার উৎকল
ররর. বিহারের মগধ রাজ্য
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১১৫. গুপ্ত শাসনের অবসানের পর এদেশে (অনুধাবন)
র. বিশৃঙ্খলা ও অরাজতা দেখা দেয়
রর. কেন্দ্রীয় শাসন শক্তিশালী হয়
ররর. কিছু স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর

 মাৎস্যন্যায় ও পাল বংশ  বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ৩২
 পুকুরের বড় মাছ ছোট মাছকে ধরে গিলে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে বলে মাৎস্যন্যায়।
 মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটে পালবংশের উত্থানের ফলে।
 চুণ্ডাদেবীর মহিমাযুক্ত লাঠির আঘাতে গোপাল মেরে ফেলে নাগরাক্ষুসীকে।
 পাল বংশের রাজাগণ এ দেশ শাসন করেন একটানা চারশত বছর।
 পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা হলেন রাজা ধর্মপাল।
 পাহাড়পুরের সোমপুর বিহার প্রতিষ্ঠা করে রাজা ধর্মপাল।
 জনহিতকর কাজের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা লাভ করে মহীপাল।
 বাংলায় সেন বংশের গোড়াপত্তন করেন বিজয় সেন।
 ‘সর্ববিদ্যা বিশুদ্ধ’ ছিলেন দয়িতবিষ্ণু।
 পাল বংশ ছিল বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক।
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১১৬. কার মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকারময় যুগের সূচনা হয়? (জ্ঞান)
ক হর্ষবর্ধন খ থানেশ্বর  শশাংক ঘ সমুদ্রগুপ্ত
১১৭. শশাংকের মৃত্যুর পর বাংলায় কোন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়? (জ্ঞান)
ক সেন রাজাদের উদ্ভব হয় খ পাল যুগের অবসান ঘটে
গ শান্তিশৃঙ্খলা ফিরে আসে  বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়
১১৮. হর্ষবর্ধন ও ভাস্করবর্মণের হাতে কোন রাজ্য ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়? (অনুধাবন)
ক মেদিনীপুর খ উৎকল গ কঙ্গোদ  গৌড়
১১৯. শশাংশের মৃত্যুর পর কারা বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে ওঠে? (অনুধাবন)
 ভ‚স্বামীরা খ পালেরা গ মৌর্যরা ঘ শুঙ্গরা
১২০. মাৎস্যন্যায় কত বছর চলেছিল? (জ্ঞান)
ক পঞ্চাশ  একশ গ দুইশ ঘ চারশ
১২১. প্রাচীন বাংলায় একজনকে রাজপদে নির্বাচিত করা হয় কেন? (অনুধাবন)
ক তার অধিক যোগ্যতার জন্য
 দুঃখ-দুর্দশা হতে মুক্তি লাভের জন্য
গ তিনি যুদ্ধে জয়ী হয়েছিলেন বলে
ঘ শিক্ষিত ও দক্ষ শাসক ছিলেন বলে
১২২. কোন বংশের পরিচয় ও আদি বাসস্থান সম্পর্কে জানা যায় না? (জ্ঞান)
ক দেব খ খড়গ  পাল ঘ চন্দ্র
১২৩. বপ্যট কে ছিলেন? (জ্ঞান)
ক ধর্মপালের পিতা  গোপালের পিতা
গ দেবপালের পিতা ঘ চন্দ্র বংশের রাজা
১২৪. গোপালের পিতার নাম কী ছিল? (জ্ঞান)
 বপ্যট খ দয়িতবিষ্ণু গ বীর্যবিক্রম ঘ ল্যাপট
১২৫. বপ্যট কেমন লোক ছিলেন? (জ্ঞান)
 শত্র“ ধ্বংসকারী খ সহজ-সরল
গ কট্টরপন্থি ঘ অতিথিবৎসল
১২৬. গোপালের পিতামহের নাম কী ছিল? (জ্ঞান)
ক বপ্যট খ হর্ষবর্ধন  দয়িতবিষ্ণু ঘ দেবাং
১২৭. দয়িতবিষ্ণু কেমন ছিলেন? (জ্ঞান)
ক কট্টরপন্থি  সর্ববিদ্যা বিশুদ্ধ
গ যুদ্ধবাজ ঘ সরলমনা
১২৮. পাল বংশের রাজাগণ কত বছর এদেশ শাসন করেন? (জ্ঞান)
ক তিনশত  চারশত গ পাঁচশত ঘ ছয়শত
১২৯. অনেকের মতে গোপাল কত বছর শাসন ক্ষমতায় ছিলেন? (জ্ঞান)
ক ২৫ খ ২৬  ২৭ ঘ ২৮
১৩০. গোপালের রাজত্বকাল কত? (জ্ঞান)
ক ৭৫০Ñ৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ  ৭৫৬Ñ৭৮১ খ্রিষ্টাব্দ
গ ৭৫৫Ñ৭৮২ খ্রিষ্টাব্দ ঘ ৭৫০Ñ৭৯০ খ্রিষ্টাব্দ
১৩১. গোপালের মৃত্যুর পর কে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন? (জ্ঞান)
ক দেবপাল খ মহীপাল  ধর্মপাল ঘ বিক্রমপাল
১৩২. ধর্মপালের রাজত্বকাল কত? (জ্ঞান)
ক ৭৮১Ñ৮২০ খ্রিষ্টাব্দ খ ৭৮০Ñ৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
গ ৭৮৩Ñ৮২৩ খ্রিষ্টাব্দ  ৭৮১Ñ৮২১ খ্রিষ্টাব্দ
১৩৩. উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কয়টি রাজবংশের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলেছিল? (জ্ঞান)
ক ২ খ ৪  ৩ ঘ ৫
১৩৪. কত শতকে ‘ত্রিশক্তির সংঘর্ষ’ হয়েছিল? (জ্ঞান)
ক পঞ্চম খ ষষ্ঠ গ সপ্তম  অষ্টম
১৩৫. রহমতপুর, শিবগঞ্জ, উজীরপুর গ্রামের মধ্যে বিলের দখল নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সংঘর্ষের সাথে কোন সংঘর্ষের মিল আছে? (প্রয়োগ)
ক পাল খ গুর্জর  ত্রিপক্ষীয় ঘ রাষ্ট্রক‚ট
১৩৬. ধর্মপাল প্রথম কার সাথে যুদ্ধ করেন? (জ্ঞান)
ক হর্ষবর্ধন  বৎস রাজা গ মহীপাল ঘ থানেশ্বর
১৩৭. ত্রি-শক্তির যুদ্ধে কে পরাজিত হয়? (জ্ঞান)
ক গোপাল খ প্রতিহাররাজ  ধর্মপাল ঘ রাষ্ট্রক‚ট
১৩৮. কনৌজ দখল করার সময় ধর্মপালের সাথে কার যুদ্ধ বাঁধে? (জ্ঞান)
ক গোপাল খ দেবপাল গ বিগ্রহপাল  নাগভট্ট
১৩৯. নাগভট্টকে পরাজিত করেন কে? (জ্ঞান)
 তৃতীয় গোবিন্দ খ চতুর্থ গোবিন্দ
গ পঞ্চম গোবিন্দ ঘ ষষ্ঠ গোবিন্দ
১৪০. ধর্মপাল তৃতীয় গোবিন্দের নিকট আত্মসমর্পণ করলে তৃতীয় গোবিন্দ তার দেশে ফিরে যান। এতে ধর্মপালের কী লাভ হয়? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক স্থায়ী রাজত্ব লাভ  আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ লাভ
গ সম্পদের প্রাচুর্যতা লাভ ঘ মহাখ্যাতি লাভ
১৪১. ধর্মপাল কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন? (জ্ঞান)
ক হিন্দু খ খ্রিষ্ট গ শিখ  বৌদ্ধ
১৪২. বিক্রমশীল কার দ্বিতীয় উপাধি ছিল? (জ্ঞান)
ক মহীপাল খ দেবপাল গ শশাংক  ধর্মপাল
১৪৩. ‘বিক্রমশীল বিহার’ নির্মাণ করেন কে? (জ্ঞান)
ক গোপাল খ মহীপাল গ দেবপাল  ধর্মপাল
১৪৪. ‘বিক্রমশীল বিহার’ কী ধরনের প্রতিষ্ঠান ছিল? (অনুধাবন)
 বৌদ্ধ শিক্ষা কেন্দ্র খ হিন্দুদের তীর্থ কেন্দ্র
গ বৌদ্ধদের মন্দির ঘ হিন্দুদের স্কুল
১৪৫. ধর্মপাল কোন শিক্ষায় অবদান রাখেন? (জ্ঞান)
ক ইসলাম খ হিন্দু  বৌদ্ধ ঘ শিখ
১৪৬. নাটোরের কোন স্থানে ধর্মপাল একটি বিহার নির্মাণ করেন? (জ্ঞান)
ক সিংড়া খ বাগতিপাড়া গ বড়াই গ্রাম  পাহাড়পুর
১৪৭. ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ কোনটি? (জ্ঞান)
ক উয়ারী বটেশ্বর  সোমপুর বিহার
গ শালবন বিহার ঘ জগদুল বিহার
১৪৮. কোন স্থাপত্যটিকে জাতিসংঘের ইউনেস্কো বিশ্বসভ্যতার নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে? (জ্ঞান)
ক সোনামসজিদ  সোমপুর বিহার
গ গৌবিন্দভিটা ঘ রামসাগর দিঘি
১৪৯. ধর্মপাল বৌদ্ধধর্ম শিক্ষার জন্য কতটি শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন? (জ্ঞান)
ক ৪০  ৫০ গ ৬০ ঘ ৭০
১৫০. পাল যুগের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য কী? (অনুধাবন)
ক বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা খ যুদ্ধবিগ্রহে পরিপূর্ণ
 সকল ধর্মাবলম্বীর সমান পৃষ্ঠপোষকতা ঘ শিল্প ও বাণিজ্যের অনুন্নতি

 বোর্ড ও সেরা স্কুলের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন- ১  ত্রি-শক্তির সংঘর্ষ

মধুপুর অঞ্চলটি বহু প্রাচীনকাল থেকেই সমৃদ্ধ। এটি নিজ রাজ্যভুক্ত করতে পার্শ্ববর্তী অনেক রাজাই তৎপর। অঞ্চলটি দখল করতে প্রথমে যুদ্ধ বাঁধে সোনাপুর ও রূপনগর রাজ্যের রাজাদের মধ্যে। এতে সোনাপুরের রাজা পরাজিত হন। কিছুদিনের মধ্যেই রূপনগরের রাজাকে পরাজিত করে মধুপুর করায়ত্ব করেন নূরগঞ্জের রাজা। কিন্তু তিনি বিজিত অঞ্চলে দীর্ঘদিন অবস্থান করতে পারেননি। তিনি নিজ রাজ্যে ফিরে গেলে প্রায় বিনা বাধায় সোনাপুরের রাজা মধুপুর দখল করে নেন। [স. বো. ’১৫]
ক. শশাংক কোন ধর্মের উপাসক ছিলেন? ১
খ. সেন শাসকদের ‘ব্র‏হ্মক্ষত্রিয়’ বলে মনে করা হয় কেন? ২
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা প্রাচীন বাংলার কোন ঘটনার প্রতিচ্ছবি? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত সোনাপুরের রাজার ন্যায় বাংলার শাসক পরাজিত হয়েও বিশেষ কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হননিÑ উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর। ৪

ক শশাংক শৈব ধর্মের উপাসক ছিলেন।
খ যে বংশের লোকেরা প্রথমে ব্রাহ্মণ থাকে এবং পরে পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় হয় তাদের বলা হয় ব্রহ্মক্ষত্রিয়। বারো শতকের দ্বিতীয় ভাগে বাংলাদেশে সেন রাজবংশের সূচনাকারী সামন্ত সেনের পূর্বপুরুষদের আদি বাসস্থান ছিল সুদূর দাক্ষিণাত্যের কর্ণাট। তথাকার লোকেরা ব্র‏হ্মক্ষত্রিয় ছিল। তাই সেনদের ‘ব্রহ্মক্ষত্রিয়’ বলে মনে করা হয়।
গ উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা প্রাচীন বাংলার ‘ত্রি-শক্তির সংঘর্ষ’ ঘটনার প্রতিচ্ছবি। উদ্দীপকের মধুপুর অঞ্চলটি বহু প্রাচীনকাল থেকেই সমৃদ্ধ এবং তা নিজ রাজ্যভুক্ত করতে পার্শ্ববর্তী অনেক রাজাই তৎপর। মধুপুর দখল করতে প্রথমে যুদ্ধ বাঁধে সোনাপুর ও রূপনগর রাজাদের মধ্যে। অনুরূপভাবে পাল বংশীয় রাজত্বকালে সমৃদ্ধ বাংলার পাল রাজা ধর্মপাল ও প্রতিহার বংশের রাজা বৎসরাজ উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আট শতকের শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু করেন। এতে ধর্মপাল পরাজিত হন কিন্তু অল্পকাল পরেই রাষ্ট্রক‚ট রাজা তৃতীয় গোবিন্দ প্রতিহার রাজকে পরাজিত করেন। যদিও তখন সেখানে বৎসরাজ নয় দ্বিতীয় নাগভট্ট রাজা ছিলেন। কিন্তু তৃতীয় গোবিন্দ এসব যুদ্ধ জয় করে উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তার করলেও সেখানে অবস্থান না করে দাক্ষিণাত্যে ফিরে যান। ফলে ধর্মপাল উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ পান। ইতিহাসে বাংলার পাল, রাজপুতনার গুর্জরপ্রতিহার ও দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রক‚টের এ সংঘর্ষ ‘ত্রি-শক্তির সংঘর্ষ’ নামে পরিচিত। উদ্দীপকে সোনাপুরের রাজাকেও দেখা যায় রূপনগর রাজ্যের নিকট পরাজিত হতে কিন্তু নূরগঞ্জের রাজা মধুপুর দখল করে সেখানে দীর্ঘদিন অবস্থান না করায় সোনাপুরের রাজা পরবর্তীতে বিনা বাধায় মধুপুর দখল করেন। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকে সোনাপুর, রূপনগর ও নূরগঞ্জের রাজার মধ্যে যে যুদ্ধ তা প্রাচীন বাংলার ত্রি-শক্তির সংঘর্ষ ঘটনার প্রতিচ্ছবি।
ঘ উদ্দীপকে বর্ণিত সোনাপুরের রাজার ন্যায় প্রাচীন বাংলার শাসক ধর্মপাল ‘ত্রি-শক্তির সংঘর্ষে’ পরাজিত হয়েও বিশেষ কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হননি। গোপালের মৃত্যুর পর ধর্মপাল (৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দে) বাংলার সিংহাসনে বসেন। পাল রাজাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। বাংলা ও বিহারব্যাপী তার শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ সময়ে তিনটি রাজবংশের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। একটি বাংলার পাল, অন্যটি রাজপুতনার গুর্জরপ্রতিহার ও তৃতীয়টি দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রক‚ট। ইতিহাসে এ যুদ্ধ ‘ত্রি-শক্তির সংঘর্ষ’ বলে পরিচিত। আট শতকের শেষ দিকে এ যুদ্ধ শুরু হয়। প্রথম যুদ্ধ হয় ধর্মপাল ও প্রতিহার বংশের রাজা বৎসরাজার মধ্যে। এ যুদ্ধে ধর্মপাল পরাজিত হন। তবুও ধর্মপাল এ সময় বাংলার বাইরে বেশকিছু অঞ্চল জয় করেছিলেন। তিনি বারাণসী ও প্রয়াগ জয় করে গঙ্গা-যমুনার মধ্যবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করেন। ত্রি-শক্তির সংঘর্ষের প্রথম দিকে ধর্মপাল পরাজিত হলেও তার বিশেষ কোন ক্ষতি হয়নি। কারণ, বিজয়ের পর রাষ্ট্রক‚টরাজ দাক্ষিণাত্যে ফিরে যান। এ সুযোগে ধর্মপাল কনৌজ অধিকার করেন। কিন্তু, অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিহাররাজ দ্বিতীয় নাগভট্ট কনৌজ দখল করেন। ফলে, ধর্মপালের সাথে তার যুদ্ধ বাঁধে। এ যুদ্ধে ধর্মপাল পরাজিত হন। এ পরাজয়েও ধর্মপালের কোনো ক্ষতি হয়নি। কারণ, পূর্বের মতো রাষ্ট্রক‚টরাজ তৃতীয় গোবিন্দ উত্তর ভারতে আসেন এবং দ্বিতীয় নাগভট্টকে পরাজিত করেন। প্রতিহার রাজের পরাজয়ের পর ধর্মপালও তৃতীয় গোবিন্দের নিকট আত্মসমর্পণ করেন। অতঃপর রাষ্ট্রক‚টরাজ তার দেশে ফিরে গেলে ধর্মপাল পুনরায় উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ লাভ করেন। সুতরাং, পরাজিত হয়েও সোনাপুরের রাজা যেরূপ মধুপুর দখল করেন, তদ্রæপ বলা যায় প্রাচীন বাংলায় পাল রাজা ধর্মপাল পরাজিত হয়েও উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হন।
প্রশ্ন- ২  গৌড়রাজ শশাংক

আকাশ প্রাচীন বাংলার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সার্বভৌম শাসককে নিয়ে একটি নাটক তৈরি করতে আগ্রহী হলেন। যিনি শৈবধর্মের উপাসক ছিলেন। তবে হিউয়েন সাং নামক এক ব্যক্তি তাকে বৌদ্ধধর্ম বিদ্বেষী বলে আখ্যায়িত করেছেন। ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দের কিছু আগে তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তার পরিচয়, উত্থান ও জীবন কাহিনী আজও পণ্ডিতদের নিকট পরিষ্কার নয়। [মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক. ধর্মপাল কত খ্রিষ্টাব্দে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন? ১
খ. দেববংশের বর্ণনা দাও। ২
গ. আকাশ যাকে নিয়ে নাটক বানাতে চায় তার পরিচয় ও সিংহাসনে আরোহণের ইতিহাস ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ‘এ ধরনের এক শাসকের টিকে থাকার জন্য অনেক যুদ্ধবিগ্রহ করতে হয়েছে’ বিশ্লেষণ কর। ৪

ক ধর্মপাল ৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
খ খড়গ বংশের শাসনের পর একই অঞ্চলে আট শতকের শুরুতে দেববংশের উত্থান ঘটে। এ বংশের চারজন রাজার নাম পাওয়া যায়। এরা হলেন শ্রীশান্তিদেব, শ্রীবীরদেব, শ্রীআনন্দদেব ও শ্রীভবদেব। তাদের রাজধানী ছিল দেবপর্বতে। কুমিল্লার নিকট ময়নামতির কাছে ছিল এ দেবপর্বত। আনুমানিক ৭৪০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দেব রাজারা শাসন করেন।
গ আকাশ প্রাচীন বাংলার প্রথম সার্বভৌম শাসক অর্থাৎ গৌড় রাজ শশাংককে নিয়ে নাটক বানাতে চায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়েছে, শশাংকের পরিচয়, তার উত্থান ও জীবন-কাহিনী আজও পণ্ডিতদের নিকট পরিষ্কার নয়। কেননা তার আমলের ইতিহাসের যে সমস্ত উপাদান পাওয়া গেছে তাতে বহু বিপরীতমুখী বর্ণনা রয়েছে। গুপ্ত রাজাদের অধীনে বড় কোনো অঞ্চলের শাসককে বলা হতো, ‘মহাসামন্ত’। ধারণা করা হয় শশাংক ছিলেন গুপ্ত রাজা মহাসেনগুপ্তের একজন ‘মহাসামন্ত’ এবং তার পুত্র অথবা ভ্রাতুষ্পুত্র। ছয় শতকের মাঝামাঝি সময়ে এ অঞ্চলই গৌড় জনপদ নামে পরিচিতি লাভ করে। মৌখরী ও পরবর্তী গুপ্ত বংশীয় রাজাদের মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ বছর পুরুষানুক্রমিক সংঘর্ষ এবং উত্তর থেকে তিব্বতীয় ও দাক্ষিণাত্য থেকে চালুক্যরাজগণের ক্রমাগত আক্রমণের ফলে বাংলায় গুপ্তবংশীয় রাজাগণ দুর্বল হয়ে পড়ে। এ অবস্থার পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করে শশাংক নামে জনৈক সামন্ত সাত শতকের গোড়ার দিকে গৌড় অঞ্চলে ক্ষমতা দখল করেন এবং স্বাধীন গৌড় রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন।
ঘ এ ধরনের এক শাসকের তথা শশাংকের টিকে থাকার জন্য বহু যুদ্ধবিগ্রহ করতে হয়েছে। প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে শশাংকের শামনামল এর সত্যতাকেই তুলে ধরে। শশাংক ৬০৬ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বেই রাজসিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। তিনি গৌড়ে তার অধিকার স্থাপন করে প্রতিবেশী অঞ্চলে রাজ্য বিস্তার শুরু করেন। কামরূপের (আসাম) রাজাও শশাংকের হাতে পরাজিত হন। এরপর তিনি পশ্চিম সীমান্তের দিকে মনোযোগ দেন। পশ্চিম দিক থেকে কনৌজের মৌখরী শক্তি বাংলা অধিকারের জন্য বারবার চেষ্টা করছিল। তদুপরি সমসাময়িক সময়ে থানেশ্বরের রাজা প্রভাকরবর্ধনের কন্যা রাজ্যশ্রীর সঙ্গে কনৌজের মৌখরী রাজা গ্রহবর্মণের বিয়ে হলে কনৌজ-থানেশ্বর জোট গড়ে ওঠে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে শশাংকও ক‚টনৈতিক সূত্রে মালবরাজ দেবগুপ্তের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে স্বীয় শক্তি বৃদ্ধি করেন। পরবর্তীতে প্রভাকরবর্ধনের মৃত্যুর পর তার পুত্র রাজ্যবর্ধনের সাথে তাকে যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয়েছে। তার হাতে রাজ্যবর্ধনের মৃত্যু হলে হর্ষবর্ধন কনৌজ ও থানেশ্বরের সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি কাল বিলম্ব না করে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য শশাংকের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন। এ সময় কামরূপের ভাস্করবর্মা তার সঙ্গে মিত্রতাবদ্ধ হন। ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দের কিছু আগে শশাংক মৃত্যুবরণ করেন।

প্রশ্ন- ৩  গুপ্ত শাসনব্যবস্থা

মিসেস জেরিন নবম শ্রেণিতে তার ছাত্রদের ইতিহাস পড়াচ্ছেন। তিনি বলেন যে, প্রাচীন যুগে বাংলায় রাজতন্ত্র ছিল। সে যুগে একটি রাজবংশের রাজাদের উপাধি ছিল ‘মহামাত্র’, ‘মহারাজা’ ইত্যাদি।
[রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক. প্রাচীন বাংলায় সর্বপ্রথম কোন শাসনব্যবস্থা ছিল? ১
খ. কৌমদের শাসন পদ্ধতি কেমন ছিল? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. মিসেস জেরিনের কথায় প্রাচীন বাংলার কোন শাসন ব্যবস্থার ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. বর্তমান যুগের সাথে প্রাচীন বাংলার উক্ত শাসনব্যবস্থার প্রশাসনিক স্তরের কতটা মিল রয়েছে? মতামত দাও। ৪

ক প্রাচীন বাংলায় সর্বপ্রথম কৌম শাসনব্যবস্থা ছিল।
খ প্রাচীন বাংলার শাসনব্যবস্থার বিবরণ দিতে গেলে সবার আগে কৌম সমাজের কথা মনে পড়ে। এদেশে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বে এই কৌম সমাজই ছিল সর্বেসর্বা। কৌমদের মধ্যে পঞ্চায়েতি প্রথায় পঞ্চায়েত দ্বারা নির্বাচিত দলনেতা স্থানীয় কৌম শাসনব্যবস্থায় নেতৃত্ব দিতেন। বাংলার এ কৌম ব্যবস্থা চিরস্থায়ী হয়নি। খ্রিষ্টপূর্ব চার শতকের পূর্বেই বাংলায় কৌমতন্ত্র ভেঙে গিয়ে রাজতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ ঘটেছিল।
গ মিসেস জেরিনের কথায় প্রাচীন বাংলায় গুপ্তদের শাসনব্যবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এ সময় রাজতন্ত্র ছিল সামন্তনির্ভর। আনুমানিক দ্বিতীয়-তৃতীয় শতকে উত্তরবঙ্গ মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। বাংলায় মৌর্য শাসনের কেন্দ্র ছিল পুণ্ড্রনগর-বর্তমান বগুড়ার পাঁচ মাইল দূরে মহাস্থানগড়ে। মনে হয় ‘মহামাত্র’ নামক একজন রাজ প্রতিনিধির মাধ্যমে তখন বাংলায় মৌর্য শাসনকার্য পরিচালিত হতো। জেরিন উদ্দীপকে ‘মহামাত্র’ উপাধির কথা বলেন। বাংলা গুপ্ত সাম্রাজ্যভুক্ত হলেও সমগ্র বাংলা গুপ্ত সম্রাটদের সরাসরি শাসনে ছিল না। বাংলার যে অংশ গুপ্ত সম্রাটদের সরাসরি শাসনে ছিল না তা ‘মহারাজা’ উপাধিধারী মহাসামন্তগণ প্রায় স্বাধীন ও আলাদাভাবে শাসন করতেন। জেরিন এই ‘মহারাজা’ উপাধির কথাও উদ্দীপকে বলেন। এসব সামন্ত রাজা সবসময় গুপ্ত সম্রাটের কর্তৃত্বকে মেনে চলতেন। ধীরে ধীরে বাংলার সর্বত্র গুপ্ত সম্রাটদের শাসন চালু হয়। এ মহাসামন্তদের অধীনে বহু কর্মচারী নিযুক্ত থাকতেন। সুতরাং মিসেস জেরিন গুপ্তবংশীয় রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
ঘ বর্তমান যুগের সাথে প্রাচীন বাংলার উক্ত শাসনব্যবস্থা তথা গুপ্তবংশীয় শাসনব্যবস্থার প্রশাসনিক স্তরের বেশ মিল রয়েছে। বাংলাদেশের যে অংশ সরাসরি গুপ্ত সম্রাটদের অধীনে ছিল তা কয়েকটি প্রশাসনিক বিভাগে বিভক্ত ছিল। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিভাগের নাম ছিল ‘ভুক্তি’। প্রত্যেক ‘ভুক্তি’ আবার কয়েকটি বিষয়ে, প্রত্যেক বিষয় কয়েকটি মণ্ডলে, প্রত্যেক মণ্ডল কয়েকটি বীথিতে এবং প্রত্যেকটি বীথি কয়েকটি গ্রামে বিভক্ত ছিল। গ্রামই ছিল সবচেয়ে ছোট শাসন বিভাগ। গুপ্ত সম্রাট নিজে ভুক্তির শাসনকর্তা নিযুক্ত করতেন। কোনো কোনো সময় রাজকুমার বা রাজপরিবার থেকেও ভুক্তির শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হতো। ভুক্তিপতিকে বলা হতো ‘উপরিক’। পরবর্তী সময়ে শাসকগণ ‘উপরিক মহারাজ’ উপাধি গ্রহণ করতেন। সাধারণ ‘উপরিক মহারাজ’-ই তার বিষয়গুলোর শাসনকর্তা নিযুক্ত করতেন। কিন্তু, কোনো কোনো সময়ে সম্রাট নিজে তাদের নিয়োগ করতেন। গুপ্ত যুগের ভুক্তি ও বিষয়গুলোকে বর্তমান সময়ের ন্যায় বিভাগ ও জেলার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, প্রাচীন বাংলার গুপ্তবংশের শাসনব্যবস্থা বর্তমান যুগের শাসনব্যবস্থার প্রশাসনিক স্তরের সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ।
 মাস্টার ট্রেইনার প্রণীত সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন- ৪  পাল ও সেন রাজবংশ

ক. সেন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে? ১
খ. পাল রাজত্বের পতনের একটি কারণ বর্ণনা কর। ২
গ. উপরের ছকের দুটি রাজবংশের ক্রমধারার মধ্যে যে বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায় তা কীভাবে সংশোধন করা যায়? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ছকে উল্লিখিত পাল রাজাদের মধ্যে ধর্মপালই শ্রেষ্ঠ অন্য শাসকদের সাথে তুলনা করে মন্তব্যটি প্রতিষ্ঠা কর। ৪

ক বাংলায় সেন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেন সামন্ত সেন।
খ পাল রাজত্বের শেষের দিকে অর্থাৎ দেবপালের মৃত্যুর পর দুর্বল পাল রাজাদের অকর্মণ্যতার দরুন বহিঃশত্র“র আক্রমণ ও অভ্যন্তরীণ গোলযোগের কারণে সাম্রাজ্যের ব্যাপক অবনতি ঘটতে থাকে। দ্বিতীয় বিগ্রহপালের রাজত্বকালে এ অবনতি চরম আকার ধারণ করে। নারায়ণ পাল দীর্ঘদিন রাজত্ব করলেও তার সময়ে রাজ্যসীমা ছোট হয়ে যায়। নারায়ণ পালের পর ক্ষমতায় বসেন রাজ্যপাল এবং তারপর দ্বিতীয় গোপাল। এসব দুর্বল রাজাদের অকর্মণ্যতা ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে পাল রাজত্বের পতন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। এক কথায়, দুর্বল উত্তরাধিকারীদের মধ্যে উদ্যম ও নেতৃত্বের অভাবে পাল রাজত্বের পতন ঘটে।
গ মাৎস্যন্যায় পরবর্তী সময়ে বাংলায় প্রথম যে রাজবংশটি ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছিল; সেটি হলো পাল রাজবংশ। এরপর আসে সেনরা। পাল ও সেন রাজাদের প্রদত্ত তালিকায় যে বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায় তা হলো এ সারণিদ্বয়ে শাসনকাল অনুযায়ী শাসকদের নাম ভুলভাবে সাজানো হয়েছে। কেননা, আমরা জানি যে, প্রাচীন বাংলার অন্যতম রাজবংশ (৭৫৬Ñ৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে) পাল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা শাসক গোপাল। তেমনি বাংলার সেন শাসকদের শাসনকালের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামন্ত সেন। কিন্তু এ বংশের প্রথম রাজার মর্যাদা দেওয়া হয় সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেনকে। এভাবে দুটি রাজবংশের ক্রমধারার মধ্যে যে সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়; তা নিচে প্রদত্ত ছকের মাধ্যমে সংশোধন করা যায় :
পাল বংশ
গোপাল

ধর্মপাল

দেবপাল

প্রথম মহীপাল সেন বংশ
সামন্ত সেন

হেমন্ত সেন

বিজয় সেন

বল­াল সেন
ঘ শশাংকের মৃত্যুর পর পাল শাসক গোপালের মাধ্যমে পাল রাজবংশের শাসনের সূচনা ঘটে । ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত পাল রাজবংশের যে ছকটি উদ্দীপকে দেয়া আছে তাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠাতা গোপালের সাথে পুত্র ধর্মপাল, প্রপৌত্র দেবপাল এবং পরবর্তীকালের শক্তিশালী শাসক প্রথম মহীপালের নাম দেওয়া আছে। পাল রাজত্বের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন রাজা গোপাল। গোপাল এ রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করলেও তিনি এখানে একটি স্থায়ী শাসন ব্যবস্থার মজবুত ভিত্তি দিয়ে যেতে পারেননি। ৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে রাজা গোপালের মৃত্যুর পর তার পুত্র ধর্মপাল (৭৮১Ñ৮২১ খ্রিষ্টাব্দে) বাংলার শাসনক্ষমতায় বসেন। তিনি একজন যোগ্য শাসক হিসেবে ত্রিপক্ষীয় সংঘর্ষে নিজেকে শক্তিশালী হিসেবে প্রমাণ করেন এবং বাংলা ও বিহারব্যাপী তার শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময় তিনি বৈদেশিক সম্পর্ক স্থাপনে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন বলে জানা যায়। তার শাসন প্রায় ৪০ বছর স্থায়ী হয়েছিল। এছাড়া তিনি শিক্ষাবিস্তার ও শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখেন এবং সব ধর্মের লোকদের প্রতি উদার থেকে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হন। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ধর্মপালই বিদেশি শক্তির মোকাবিলা করে সাম্রাজ্যের সীমানা বৃদ্ধির সাথে সাথে সাম্রাজ্যকে সুসংহত করার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এসব পর্যালোচনা করে আমরা ধর্মপালকে পাল রাজাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি।

প্রশ্ন- ৫  পাল ও সেন রাজবংশ

অষ্টম শতকের মাঝামাঝি প্রতিষ্ঠিত ঢ বংশ বেশ কিছুদিন বাংলা শাসন করে। একসময় তাদের বিদায় নিতে হয় ইতিহাসের রঙ্গমঞ্চ হতে। এ যুগের অবসানের পর বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয় ণ বংশের শাসন। এ দুটি বংশের প্রশাসনিক কাঠামো ও নীতিতে কিছু মিল থাকলেও অমিলও লক্ষ করা যায়।
ক. পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন? ১
খ. পাল সাম্রাজ্যের দ্রুত অবনতির কারণ কী ছিল? ২
গ. কোন কোন বৈশিষ্ট্য ঢ বংশকে ণ বংশ হতে পৃথক করে রেখেছে? আলোচনা কর। ৩
ঘ. “একজন ছিলেন ‘ণ’ বংশের প্রথম রাজা, আরেকজন ছিলেন প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা”Ñ বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করে যথার্থতা নিরূপণ কর। ৪

ক পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন গোপাল।
খ দেব পালের মৃত্যুর পর পাল সাম্রাজ্যের দ্রæত অবনতি ঘটতে থাকে। তার দুর্বল উত্তরাধিকারীদের মধ্যে উদ্যম ও নেতৃত্বের অভাব দেখা দেয়। বহিঃশত্র“র আক্রমণ ও অভ্যন্তরীণ গোলযোগে পাল সাম্রাজ্যের ব্যাপক অবনতি ঘটে। এ সময় কয়েকজন অকর্মণ্য শাসক ক্ষমতায় আরোহণ করেন। তাদের শাসনামলে বার বার বহিঃশত্র“র আক্রমণে সাম্রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় বাংলার বিভিন্ন অংশে ছোট ছোট রাজ্যের উদ্ভব ঘটে এবং ধীরে ধীরে পাল সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে। এভাবেই দুর্বল শাসকদের সময় অভ্যন্তরীণ গোলযোগ ও বহিঃশত্র“র আক্রমণে পতন ঘটে পাল রাজত্বের।
গ উদ্দীপকে ‘ঢ’ বলতে পাল বংশ এবং ‘ণ’ বলতে সেন বংশকে বোঝানো হয়েছে। দুটি বংশই দীর্ঘ সময় বাংলা শাসন করে। কিছু বৈশিষ্ট্য একটি বংশকে অন্যটি থেকে আলাদা করেছে। পাল শাসকদের উদারনীতির ফলে বাংলার মানুষ সহজে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করে। তাদের উদার শাসনে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মিলন ঘটে। কিন্তু সেনরা অনুদার হওয়ায় বর্ণপ্রথা ও জাতিভেদ প্রথা প্রকটভাবে দেখা দেয়। এ সময় সাধারণ মানুষজন মারাত্মকভাবে নিগৃহীত হতে থাকে। এ সময় সমাজে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে থাকলে বাংলায় মুসলিম সমাজের ভিত্তি গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সুতরাং এ বিবেচনায় বলা যায়, ঢ ও ণ বংশ তথা পাল ও সেন শাসনামল ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক বৈশিষ্ট্যে পৃথক।
ঘ একাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি বাংলায় ‘ণ’ বংশ তথা সেন বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলায় সেন বংশের ভিত্তি স্থাপন করেন সামন্ত সেন। তিনি কর্ণাট থেকে বৃদ্ধ বয়সে বাংলায় আসেন। তিনি প্রথমে বসতি স্থাপন করেন রায় অঞ্চলে গঙ্গা নদীর তীরে। তিনি রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় সেন বংশের প্রথম রাজার মর্যাদা দেওয়া হয় সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেনকে। ধারণা করা হয়, পাল সম্রাট রামপালের অধীনে তিনি একজন সামন্ত রাজা ছিলেন। হেমন্ত সেনের পুত্র বিজয় সেন শাসন ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি সমগ্র বাংলায় সেনশাসন প্রতিষ্ঠিত করেন। সেন বংশের আগে কখনো সমগ্র বাংলায় দীর্ঘকাল ধরে এভাবে একাধিপত্য থাকেনি। আর এ কৃতিত্বের দাবিদার ছিলেন বিজয় সেন। সাধারণ একজন সামন্ত রাজার পদ থেকে নিজের বুদ্ধি ও বাহুবলে বিজয় সেন বাংলার সার্বভৌম রাজার স্থান অধিকার করেছিলেন তা কম কৃতিত্বের নয়। সুতরাং দেখা যায়, হেমন্ত সেন সেন বংশের প্রথম রাজা হলেও তিনি রাজ্য প্রতিষ্ঠায় যথেষ্ট কৃতিত্ব দেখাতে সমর্থ হননি। আর এক্ষেত্রে সাম্রাজ্যকে নিষ্কণ্টক করে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার গৌরব অর্জন করেন বিজয় সেন। তাই বিজয় সেনকে সেন বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা যুক্তিসংগত।

প্রশ্ন- ৬  ইখতিয়ার উদ্দীন বখতিয়ার খলজি ও বল্লাল সেন

‘অ’ রাজ্যে ব্যবসায়ীর বেশে এসে জনৈক সৈনিক ‘ক’ শাসনক্ষমতা দখল করে নেয়। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এ রাজবংশের বিদ্যোৎসাহী শাসক ছিলেন ‘চ’।
ক. কার শাসনামলে সেন বংশের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছিল? ১
খ. বিজয় সেনকে সেন বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় কেন? ২
গ. ‘ক’ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বঙ্গ জয়ের সৈনিকের ঘটনা ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ‘চ’ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ প্রাচীন বাংলার শাসকের কৃতিত্ব মূল্যায়ন কর। ৪

ক হেমন্ত সেনের পুত্র বিজয় সেনের শাসনামলে সেন বংশের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
খ হেমন্ত সেন সেন বংশ প্রতিষ্ঠা করলেও তার পুত্র বিজয় সেনকেই প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কারণ বিজয় সেন ১০৯৮Ñ১১৬০ খ্রিষ্টাব্দ অর্থাৎ দীর্ঘ ৬২ বছর সেন বংশের শাসন পরিচালনা করেন। দীর্ঘ সময়ের শাসনে বিজয় সেন পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলার রাঢ়, কামরূপ, কলিঙ্গ, মিথিলা প্রভৃতি অঞ্চল জয় করেন। এভাবে বাংলায় সেনদের বিশাল রাজত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হয় বলে বিজয় সেনকে সেন বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
গ উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ‘ক’ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হচ্ছেন বঙ্গ বিজয়ী বীর মুসলিম সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি। তিনি মূলত আফগানিস্তানের গরমশির বা আধুনিক দশত-ই-মার্গের অধিবাসী ছিলেন। তিনি ১২০৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার কাছাকাছি বিহার এবং ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা জয় করেন।
বখতিয়ার খলজি ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে নদীয়ার তেলিয়াগর্হির ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল পথে বাংলায় প্রবেশ করেন। তিনি বিশাল সৈন্যবাহিনী ছোট ছোট দলে ভাগ করে দেন। প্রথম দলের ১৭ বা ১৮ জন সৈন্যের সাথে তিনি নদীয়াতে প্রবেশ করেন। নদীয়ার মানুষ তার উদ্দেশ্য বুঝতে না পেরে ঘোড়া ব্যবসায়ী মনে করে ল²ণ সেনের প্রাসাদের দরজা খুলে দেয়। উদ্দীপকের ‘ক’ও ছিল ব্যবসায়ীর বেশে। ভরদুপুর ছিল বলে প্রাসাদরক্ষীরা ক্লান্ত ছিল। বখতিয়ার খলজি ক্লান্ত রক্ষীদের ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। ল²ণ সেনের প্রাসাদ বখতিয়ার খলজির দখলে এল। ল²ণ সেন পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান পূর্ববঙ্গে। এভাবে সেনবংশের পতন ঘটে এবং বাংলায় মুসলমানদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবে অতি তীক্ষè বুদ্ধির বিকাশ ঘটিয়ে বখতিয়ার খলজি ল²ণ সেনকে পরাজিত করে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
ঘ উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘অ’ রাজ্যটি প্রাচীন বাংলার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যখন এদেশ শাসন করছিল শক্তিশালী সেন বংশ। প্রাচীন বাংলায় মুসলিম বিজয়ে সেন বংশের পতন ঘটে। উদ্দীপকের ‘চ’ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সেন বংশের সর্বাপেক্ষা বিদ্যোৎসাহী শাসক হলেন বল্লাল সেন। তিনি সংস্কৃতি সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১১৬০ খ্রিষ্টাব্দে বল­াল সেন শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তার আমলে (১১৬০Ñ১১৭৮ খ্রিষ্টাব্দ) সেন বংশের শাসন সুদৃঢ় হয়। তিনি পূর্বের অধিকৃত এলাকার সাথে মগধ ও মিথিলাও সেন রাজ্যভুক্ত করেন। বিদ্যা ও বিদ্বানের প্রতি তার যথেষ্ট অনুরাগ ছিল। তিনি বেদ, স্মৃতি, পুরান প্রভৃতি শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তার একটি বড় গ্রন্থালয় ছিল। সংস্কৃত সাহিত্যে তার দান অপরিসীম। তিনি ‘দানসাগর’ ও ‘অদ্ভুতসাগর’ নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। বিভিন্ন উপাধির সাথে তিনি ‘অরিরাজ, নিঃশঙ্ক, শঙ্কর’ উপাধি গ্রহণ করেন। বল্লাল সেন অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন। তিনি তন্দ্র হিন্দুধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। এছাড়াও তিনি হিন্দু সমাজকে নতুন করে গঠন করার উদ্দেশ্যে “কৌলীন্য প্রথা” প্রবর্তন করেছিলেন।

প্রশ্ন- ৭  সেন শাসনামল

রতন সাহা তার পুত্র বিজয় সাহাকে বললেন, রাজ্য শাসনকারী একটি বংশ দাক্ষিণাত্য থেকে বাংলায় এসেছিলেন। এ বংশের একজন ক‚টকৌশলী প্রশাসক বাংলায় বিশাল রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলার ইতিহাসে এ বংশের শাসন ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ক. শ্রীচন্দ্রের রাজধানী কোথায় ছিল? ১
খ. দেববংশের রাজারা তাদের নামের সাথে বড় বড় উপাধি যুক্ত করতেন কেন? ২
গ. উদ্দীপকে রতন সাহা কাকে ক‚টকৌশলী বলেছেন? তার বাংলায় রাজত্ব প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে আলোচনা কর। ৩
ঘ. রতন সাহা বাংলার ইতিহাসে কোন বংশের শাসনকে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪

ক শ্রীচন্দ্রের রাজধানী ছিল মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে।
খ খড়গ বংশের শাসনের অবসানের পর একই অঞ্চলে অষ্টম শতকে দেববংশের উত্থান ঘটে। দেববংশের রাজারা নিজেদের খুবই শক্তিশালী মনে করতেন। তাই তারা নিজেদের নামের সাথে পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ প্রভৃতি উপাধি যুক্ত করতেন।
গ উদ্দীপকে রতন সাহা ক‚টকৌশলী শাসক হিসেবে সেন রাজবংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেনের কথা বলেছেন। হেমন্ত সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র বিজয় সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন। তার সুদীর্ঘ রাজত্বকালেই সেন বংশের শাসন শক্তিশালী ভিত্তির ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। একাদশ শতকে দক্ষিণ রাঢ় শূর বংশের অধিকারে ছিল। এ বংশের রাজকন্যা বিলাসদেবীকে তিনি বিয়ে করেন। বৈবাহিক আত্মীয়তার সূত্র ধরে রাঢ় বিজয় সেনের অধিকারে আসে। এরপর বিজয় সেন বর্মরাজাকে পরাজিত করে পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলা সেন অধিকারে নিয়ে আসেন। এভাবে তিনি বিশাল রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন, যা রতন সাহা তার পুত্রকে বলেছিলেন। বিশাল রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে বিজয় সেন কামরূপ, কলিঙ্গ ও মিথিলা আক্রমণ করেন। হুগলি জেলার ত্রিবেনীতে অবস্থিত বিজয়পুর ছিল বিজয় সেনের প্রথম রাজধানী। দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপন করা হয় বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে। বিজয় সেন পরমমাহেশ্বর, পরমেশ্বর, পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ, অরিরাজ-বৃষভ-শঙ্কর প্রভৃতি উপাধি গ্রহণ করেন। তাই সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করেই রতন সাহা তার ছেলের কাছে বিজয় সেনকে ক‚টকৌশলী বলেছেন।
ঘ রতন সাহা দাক্ষিণাত্য থেকে এসে বাংলায় শাসন প্রতিষ্ঠাকারী সেন বংশের শাসনকে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন। সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেন ছিলেন এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা। হেমন্ত সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র বিজয় সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন। তার (১০৯৮Ñ১১৬০ খ্রিষ্টাব্দ) সুদীর্ঘ রাজত্বকালেই সেন বংশের শাসন শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিজয় সেনের পর সিংহাসনে আরোহণ করেন তার পুত্র বল­াল সেন (১১৬০Ñ১১৭৮ খ্রিষ্টাব্দে)। তার রাজত্বকালে তিনি শুধু পিতৃরাজ্য রক্ষাই করেননি, মগ্ধ ও মিথিলাও সেন রাজ্যভুক্ত করে সেন শাসন শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। উপাধির সাথে বল­াল সেন নিজের নামের সাথে ‘অরিরাজ নিঃশঙ্ক শঙ্কর’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।
বল­াল সেনের পর তার পুত্র ল²ণ সেন (১১৭৮Ñ১২০৫ খ্রিষ্টাব্দ) প্রায় ৬০ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি প্রাগ-জ্যোতিষ, গৌড়, কলিঙ্গ, কাশী, মগধ প্রভৃতি অঞ্চল সেন সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। মুসলিম ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ ল²ণ সেনের দানশীলতা ও ঔদার্যের ভ‚য়সী প্রশংসা করেছেন। শিল্প ক্ষেত্রেও এ সময় বাংলা উন্নতি লাভ করে। বস্তুত, বাংলা এ সময় উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করেছিল। আর তাই রতন সাহা সেন বংশের শাসনকে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন।

প্রশ্ন- ৮  সেনরাজ লালমোহন

রাজা লালমোহন রায় ছিলেন পিতার মতো সুপণ্ডিত। অধিক বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেই তিনি পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ ‘রামাবতি’ সমাপ্ত করেন। তিনি পণ্ডিত ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের রাজসভায় আমন্ত্রণ জানাতেন। তার সময় অনেক কবির কাব্য প্রকাশিত হয়।
ক. শশাংকের রাজধানীর নাম কী ছিল? ১
খ. স্বাধীন গৌড় রাজ্যের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল কীভাবে? ২
গ. রাজা লালমোহনের শিক্ষাবিষয়ক মানসিকতার সঙ্গে প্রাচীন যুগের কোন সেন রাজার মানসিকতার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উক্ত রাজার সাহিত্যবিষয়ক কর্মকাণ্ড ছাড়া আরও অনেক কর্মকাণ্ড রয়েছে মতামত দাও। ৪

ক শশাংকের রাজধানীর নাম ছিল কর্ণসুবর্ণ।
খ মৌখরী ও পরবর্তী গুপ্তবংশীয় রাজাদের মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ বছর সংঘর্ষ এবং তিব্বত ও দাক্ষিণাত্য হতে ক্রমাগত আক্রমণের ফলে গুপ্ত সাম্রাজ্য যখন দুর্বল হয়ে পড়েছিল তখন এ অবস্থার পূর্ণ সুযোগ নিয়ে শশাংক নামক জনৈক সামন্ত সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে গৌড় অঞ্চলে ক্ষমতা দখল করেন এবং স্বাধীন গৌড়রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন।
গ উদ্দীপকে রাজা লালমোহনের শিক্ষাবিষয়ক মানসিকতার সাথে প্রাচীন যুগের সেন বংশের রাজা ল²ণ সেনের মানসিকতার মিল রয়েছে। রাজা বল্লাল সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র ল²ণ সেন ১১৭৮ খ্রিষ্টাব্দে ৬০ বছর বয়সে সিংহাসন আরোহণ করেন। তিনি পিতার ন্যায় সুপণ্ডিত ছিলেন। পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ ‘অদ্ভুতসাগর’ তিনিই সমাপ্ত করেন। তার রাজসভায় ধোয়ী, শরণ, জয়দেব, গোবর্ধন প্রভৃতি পণ্ডিত ব্যক্তির সমাবেশ ঘটেছিল। এছাড়াও তার রাজত্বকালে জয়দেব ‘গীতগোবিন্দ’, ‘ধোয়ী’, ‘পবনদূত’, ‘গোবর্ধন’, ‘আর্যসপ্তদর্শী’ প্রভৃতি গ্রন্থ রচনা করেন। উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি যে, রাজা লালমোহন রায় ছিলেন পিতার ন্যায় সুপণ্ডিত। তিনি পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ ‘রামবতি’ সমাপ্ত করেন। এ বিষয়গুলোর মধ্যে রাজা ল²ণ সেনের সাহিত্যিক মানসিকতার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
ঘ উদ্দীপকে রাজা লালমোহন রায়ের কর্মকাণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শাসক রাজা ল²ণ সেনের সাহিত্যবিষয়ক কর্মকাণ্ড ছাড়া আরও অনেক কর্মকাণ্ড রয়েছে। রাজা ল²ণ সেন পিতা ও পিতামহের মতো সুদক্ষ যোদ্ধা ছিলেন। তিনি প্রাগ-জ্যোতিষ, গৌড়, কলিঙ্গ, কাশী, মগধ প্রভৃতি অঞ্চল সেন সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। তিনি গঙ্গাতীরে নবদ্বীপে তার দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপন করেন। তিনি পিতা ও পিতামহের শৈবধর্মের প্রতি অনুরাগ ত্যাগ করে বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করেছিলেন বলে মনে হয়। তিনি পিতা ও পিতামহের ‘পরম মাহেশ্বর’ উপাধির পরিবর্তে ‘পরম বৈষ্ণব’ উপাধি গ্রহণ করেন। তিনি শাস্ত্র ও ধর্মচর্চায় পিতার উপযুক্ত পুত্র ছিলেন। রাজা ল²ণ সেন প্রজাদের কল্যাণের কথা সবসময় ভাবতেন। মুসলিম ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ তার দানশীলতা ও ঔদার্যের ভ‚য়সী প্রশংসা করেছেন। তাই আমি মনে করি সেন বংশের অন্যতম শাসক হিসেবে রাজা ল²ণ সেনের কৃতিত্ব অপরিসীম।

প্রশ্ন- ৯  রাজা দেবপাল ও রামপাল

রবিউল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সফরে কুমিল­ার ময়নামতিতে গিয়েছিল। এখানকার বিহারগুলো পাল আমলে নির্মিত। পাল রাজাদের ইতিহাস অনেক গৌরবের। শিক্ষক বিকাশ রায় সবাইকে বললেন, পাল রাজা দেবপালের সময়ে সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত হয়। তার মৃত্যুর পর পাল রাজত্বে দুর্যোগ নেমে আসে। ওই সময়ে রামপাল ছিলেন সবচেয়ে যোগ্য শাসক।
ক. পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে? ১
খ. ‘ত্রি-শক্তির সংঘর্ষ’ কী? বর্ণনা কর। ২
গ. দেবপালের বিষয়ে বিকাশ রায়ের বক্তব্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. রামপাল সম্পর্কে বিকাশ রায়ের মন্তব্যটি কি সঠিক? মূল্যায়ন কর। ৪

ক পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন গোপাল।
খ গোপালের মৃত্যুর পর ধর্মপাল (৭৮১Ñ৮২১ খ্রিষ্টাব্দে) বাংলার সিংহাসনে বসেন। পাল রাজাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। বাংলা ও বিহারব্যাপী তার শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ সময়ে তিনটি রাজবংশের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। একটি বাংলার পাল, অন্যটি রাজপুতনার গুর্জরপ্রতিহার ও তৃতীয়টি দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রক‚ট। ইতিহাসে এ যুদ্ধ ‘ত্রি-শক্তির সংঘর্ষ’ বলে পরিচিত। আট শতকের শেষ দিকে এ যুদ্ধ শুরু হয়।
গ উদ্দীপকের বিকাশ রায় দেবপাল সম্পর্কে বলেন, ‘পাল সাম্রাজ্যের তৃতীয় শাসক দেবপালের শাসনামলে পাল সাম্রাজ্যের সীমানা অধিকতর বিস্তৃত হয়েছিল’। ধর্মপালের মৃত্যুর পর তার পুত্র দেবপাল (৮২১Ñ৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ) সিংহাসনে বসেন। তিনি পিতার যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন। পিতার ন্যায় তিনিও বাংলার রাজ্যসীমা বিস্তারে সফল হন। দেবপাল উত্তর ভারতে প্রতিহার ও রাষ্ট্রক‚ট রাজাদের বিরুদ্ধে সফল অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। উত্তর ভারতের বিশাল অঞ্চল তার অধিকারে এসেছিল। উড়িষ্যা ও কামরূপের ওপরও তিনি আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হয়েছিলেন। মোটকথা, তার সময়েই পাল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করেছিল।
ঘ রামপাল সম্পর্কে বিকাশ রায় মন্তব্য করেন ‘শেষ যুগে রামপাল ছিলেন সবচেয়ে সফল শাসক’ তার এ মন্তব্যটি সঠিক। প্রকৃতপক্ষে রামপাল ছিলেন পাল বংশের সর্বশেষ সফল শাসক। প্রাচীন বাংলার কবি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত ‘রামচরিত’ হতে রামপালের জীবন কথা জানা যায়। রামপাল রাজ্যভার গ্রহণ করেই বরেন্দ্র উদ্ধার করতে সচেষ্ট হন। এ বিষয়ে রামপালকে সৈন্য, অস্ত্র আর অর্থ দিয়ে সাহায্যে এগিয়ে আসেন রাষ্ট্রক‚ট, মগধ, রাঢ় দেশসহ চৌদ্দটি অঞ্চলের রাজা। যুদ্ধে কৈবর্তরাজ ভীম পরাজিত ও নিহত হন। এরপর তিনি বর্তমান মালদহের কাছাকাছি ‘রামাবতি’ নামে নতুন রাজধানী স্থাপন করেন। পরবর্তী পাল রাজাদের শাসনামলে রামাবতিই সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। পিতৃভ‚মি বরেন্দ্র কর্তৃক প্রতিষ্ঠার পর সাম্রাজ্যের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি মগধ, উড়িষ্যা ও কামরূপের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। রামপাল নিজ যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতায় পতনোন্মুখ পাল সাম্রাজ্যকে আবারও শক্তিশালী অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। ফলে তাকে নিঃসন্দেহে পালযুগের সর্বশেষ সফল শাসক হিসেবে উলে­খ করা যায়।

প্রশ্ন- ১০  দেবপালের রাজ্যজয় ও সংস্কার কাজ

 

ক. শশাঙ্ক কোন ধর্মের উপাসক ছিলেন? ১
খ. কৈবর্ত বিদ্রোহের বর্ণনা দাও। ২
গ. উদ্দীপকে মানচিত্রটি কোন রাজার রাজ্য জয়ের নিদর্শন নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ‘রাজ্য জয়ের সাথে সাথে উক্ত রাজা সংস্কারে মনোযোগী ছিলেন’ মন্তব্যটি কি সঠিক? যুক্তি দাও। ৪

ক শশাংক শৈবধর্মের উপাসক ছিলেন।
খ তৃতীয় বিগ্রহপালের পর সিংহাসনে বসেন তার পুত্র দ্বিতীয় মহীপাল। তার সময় পাল রাজত্বের দুর্যোগ আরও ঘনীভ‚ত হয়। এ সময় উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলের সামন্তবর্গ প্রকাশ্যে কৈবর্ত বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
গ উদ্দীপকে মানচিত্রটি দেবপালের রাজ্যজয়ের নিদর্শন প্রকাশ করে। ধর্মপালের মৃত্যুর পর তার পুত্র দেবপাল (৮২১ খ্রিষ্টাব্দ – ৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ) সিংহাসনে বসেন। তিনি পিতার যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন। পিতার মতো তিনিও বাংলার রাজ্যসীমা বিস্তারে সফল হন। দেবপাল উত্তর ভারতে প্রতিহার ও রাষ্ট্রক‚ট রাজাদের বিরুদ্ধে সফল অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। উত্তর ভারতের বিশাল অঞ্চল তার অধিকারে এসেছিল। উড়িষ্যা ও কামরূপের ওপরও তিনি আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হয়েছিলেন। মোটকথা, তার সময়েই পাল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করেছিল। মানচিত্রে এই বিস্তৃত পাল সাম্রাজ্যই প্রদর্শিত হয়েছে।
ঘ রাজ্য জয়ের সাথে সাথে উক্ত রাজা তথা দেবপাল সংস্কারে মনোযোগী ছিলেন মন্তব্যটি সঠিক। ধর্মপালের মৃত্যুর পর তার পুত্র দেবপাল (৮২১ খ্রিষ্টাব্দ – ৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ) সিংহাসনে বসেন। তিনি পিতার যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন। রাজ্য জয়ে ব্যস্ত থাকার মাঝেই তার সময়েই পাল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করেছিল। দেবপাল বৌদ্ধধর্মের একজন বড় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। মগধের বৌদ্ধ মঠগুলোর তিনিই সংস্কার সাধন করেন। দেবপাল বিদ্যা ও বিদ্বানের প্রতি অতিশয় শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধ পণ্ডিতগণ তার রাজসভা অলংকৃত করতেন। দেবপালের পৃষ্ঠপোষকতায় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় তখন সমগ্র এশিয়ায় বৌদ্ধ সংস্কৃতির প্রধান প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। ইন্দ্রগুপ্ত নামক জনৈক বৌদ্ধশাস্ত্রে পারদর্শী ব্রাহ্মণকে তিনি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বা অধ্যক্ষ নিযুক্ত করেছিলেন। এ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই তার শাসন আমলে উত্তর-ভারতে প্রায় হারিয়ে যাওয়া বৌদ্ধধর্ম পুনরায় সজীব হয়ে ওঠে। তার সময়ই ধর্ম, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্কার সাধিত হয়। সুতরাং এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, রাজ্য জয়ের সাথে সাথে দেবপাল সংস্কারে মনোযোগী ছিলেন।

 জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
উত্তর : পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন গোপাল।
প্রশ্ন \ ২ \ গৌড়রাজ কাকে বলা হতো?
উত্তর : শশাংককে গৌড়রাজ বলা হতো।
প্রশ্ন \ ৩ \ শশাংকের রাজধানী কোথায় ছিল?
উত্তর : শশাংকের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণে।
প্রশ্ন \ ৪ \ সমতট অঞ্চলে হিউয়েন সাং কত শতকে ভ্রমণ করেন?
উত্তর : সমতট অঞ্চলে হিউয়েন সাং সাত শতকে ভ্রমণ করেন।
প্রশ্ন \ ৫ \ কত খ্রিষ্টপূর্বাব্দে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করেন?
উত্তর : ৩২৭ খ্র্রিষ্টপূর্বাব্দে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করেন।
প্রশ্ন \ ৬ \ মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতার নাম কী?
উত্তর : মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতার নাম চন্দ্রগুপ্ত।
প্রশ্ন \ ৭ \ কত খ্রিষ্টাব্দে ভারতে মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠা হয়?
উত্তর : ৩২১ খ্রিষ্টাব্দে ভারতে মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠা হয়।
প্রশ্ন \ ৮ \ শশাংক কার মহাসামন্ত ছিলেন?
উত্তর : শশাংক গুপ্ত রাজা মহাসেন গুপ্তের মহাসামন্ত ছিলেন।
প্রশ্ন \ ৯ \ মাৎস্যন্যায় কী?
উত্তর : অরাজকতাপূর্ণ অবস্থাকে মাৎস্যন্যায় বলে।
প্রশ্ন \ ১০ \ পাল বংশের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন?
উত্তর : পাল বংশের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন ধর্মপাল।
প্রশ্ন \ ১১ \ কোন পাল রাজার মৃত্যুর পর পাল সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়?
উত্তর : দেবপালের মৃত্যুর পর পাল সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়।
প্রশ্ন \ ১২ \ প্রথম মহীপালের পিতার নাম কী?
উত্তর : প্রথম মহীপালের পিতার নাম দ্বিতীয় বিগ্রহপাল।
প্রশ্ন \ ১৩ \ প্রথম মহীপাল কত খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে বসেন?
উত্তর : প্রথম মহীপাল ৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে বসেন।
প্রশ্ন \ ১৪ \ পাল সাম্রাজ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব কার?
উত্তর : পাল সাম্রাজ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব প্রথম মহীপালের।
প্রশ্ন \ ১৫ \ রংপুর জেলার মাহীগঞ্জ শহরটির প্রতিষ্ঠাতা কে?
উত্তর : রংপুর জেলার মাহীগঞ্জ শহরটির প্রতিষ্ঠাতা পাল রাজা প্রথম মহীপাল।
প্রশ্ন \ ১৬ \ মহীপাল দিঘি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর : মহীপাল দিঘি দিনাজপুরে অবস্থিত।
প্রশ্ন \ ১৭ \ মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি খনন করেন কে?
উত্তর : মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি খনন করেন প্রথম মহীপাল।
প্রশ্ন \ ১৮ \ ‘কৈবর্ত বিদ্রোহ’ কোন অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তর : ‘কৈবর্ত বিদ্রোহ’ বরেন্দ্র অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল।
প্রশ্ন \ ১৯ \ দ্বিতীয় মহীপালকে হত্যা করেন কে?
উত্তর : দ্বিতীয় মহীপালকে হত্যা করেন দিব্যেক বা দিব্য।
প্রশ্ন \ ২০ \ কোন গ্রন্থ হতে রামপালের জীবনী জানা যায়?
উত্তর : ‘রামচরিত’ নামক গ্রন্থ হতে রামপালের জীবনী জানা যায়।
প্রশ্ন \ ২১ \ রামপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজধানীর নাম কী ছিল?
উত্তর : রামপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজধানীর নাম ছিল ‘রামাবতি’।
প্রশ্ন \ ২২ \ রামপালের পর পাল বংশের শাসক কে হন?
উত্তর : রামপালের পর পাল বংশের শাসক হন কুমার পাল।
প্রশ্ন \ ২৩ \ ধর্মপাল কত বছর রাজত্ব করেন?
উত্তর : ধর্মপাল প্রায় ৪০ বছর রাজত্ব করেন।
প্রশ্ন \ ২৪ \ খড়গদের রাজধানীর নাম কী?
উত্তর : খড়গদের রাজধানীর নাম কর্মান্ত বাসক।
প্রশ্ন \ ২৫ \ দেব রাজাদের রাজধানী কোথায় ছিল?
উত্তর : দেব রাজাদের রাজধানী ছিল দেবপর্বতে।
প্রশ্ন \ ২৬ \ লালমাই পাহাড় কোথায় অবস্থিত?
উত্তর : লালমাই পাহাড় কুমিল­ায় অবস্থিত।
প্রশ্ন \ ২৭ \ প্রাচীনকালে লালমাই পাহাড় কী নামে পরিচিত ছিল?
উত্তর : প্রাচীনকালে লালমাই পাহাড় রোহিতগিরি নামে পরিচিত ছিল।
প্রশ্ন \ ২৮ \ বিজয় সেনের পুত্রের নাম কী ছিল?
উত্তর : বিজয় সেনের পুত্রের নাম ছিল বল­াল সেন।
প্রশ্ন \ ২৯ \ প্রাচীন বাংলার রাজারা কেন উপাধি ধারণ করতেন?
উত্তর : প্রাচীন বাংলার রাজারা নিজেদের শক্তিধর মনে করে উপাধি ধারণ করতেন।
প্রশ্ন \ ৩০ \ বৌদ্ধধর্ম বিকাশে দেবপালের ভ‚মিকা নিরূপণ কর।
উত্তর : দেবপাল বৌদ্ধধর্মের একজন বড় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। মগধের বৌদ্ধ মঠগুলোর তিনিই সংস্কার সাধন করেন। তিনি নালন্দায় কয়েকটি মঠ এবং বুদ্ধগয়ায় এক বিরাট মন্দির নির্মাণ করেন। এগুলো বৌদ্ধধর্ম বিকাশে ভ‚মিকা রাখে।

 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ তাম্রশাসন বলতে কী বোঝ?
উত্তর : প্রাচীনকালের রাজারা তামার পাতে খোদাই করে বিভিন্ন ঘোষণা বা নির্দেশ দিতেন। এগুলোই তাম্রশাসন। স্বাধীন বঙ্গরাজ্য আমলের এ রকম সাতটি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন \ ২ \ কান্তিদেবের রাজ্য সম্পর্কে কী জান?
উত্তর : দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার হরিকেল জনপদে নবম শতকে একটি স্বাধীন রাজ্যের উদ্ভব ঘটে। এ রাজ্যের রাজা ছিলেন কান্তিদেব। দেব রাজবংশের সঙ্গে কান্তিদেবের কোনো সম্পর্ক ছিল কি-না তা জানা যায় না। তার পিতা ছিলেন ধনদত্ত ও পিতামহ ভদ্রদত্ত। বর্তমান সিলেট কান্তিদেবের রাজ্যভুক্ত ছিল। তার রাজধানীর নাম ছিল বর্ধমানপুর। বর্তমানে এ নামে কোনো অঞ্চলের অস্তিত্ব নেই। এ সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় চন্দ্রবংশ বলে পরিচিত নতুন এক শক্তির উদয় হয়। কান্তিদেবের গড়া রাজ্যের পতন হয় এ চন্দ্রবংশের হাতে।
প্রশ্ন \ ৩ \ খড়গ বংশ সম্পর্কে আলোচনা কর।
উত্তর : সপ্তম শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মগধ ও গৌড়ে পরবর্তী গুপ্তবংশীয় রাজাগণ প্রভুত্ব স্থাপন করেন। এ সময় খড়গ বংশের রাজারা দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় একটি স্বাধীন রাজ্যের সৃষ্টি করেন। তাদের রাজধানীর নাম ছিল কর্মান্ত বাসক। কুমিল­া জেলার বড় কামতার প্রাচীন নামই সম্ভবত এ কর্মান্ত বাসক। খড়গদের অধিকার ত্রিপুরা ও নোয়াখালী অঞ্চলের ওপর বিস্তৃত ছিল।
প্রশ্ন \ ৪ \ ত্রি-শক্তির সংঘর্ষ বলতে কী বোঝ?
উত্তর : ধর্মপালের সময়ে বাংলায় তিনটি রাজবংশ উত্তর ভারতের আধিপত্য বিস্তার করতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। এ তিনটি রাজবংশ হলো- পাল বংশ, রাজপুতনার গুর্জরপ্রতিহার বংশ ও দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রক‚ট বংশ। ইতিহাসে এ তিনটি বংশের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধকে ত্রি-শক্তির সংঘর্ষ বলা হয়।
প্রশ্ন \ ৫ \ মহিপাল কী কী জনকল্যাণমূলক কাজ করেছিলেন তা বর্ণনা কর।
উত্তর : মহিপাল বাংলার অনেক দিঘি ও নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। নগরীগুলো হলো রংপুর জেলার মাহীগঞ্জ, বগুড়া জেলার মহীপুর, দিনাজপুরের মাহীসন্তোষ ও মুর্শিদাবাদের মহীপাল নগরী। আর দিঘিগুলো হলো দিনাজপুরের মহীপাল দিঘি ও মুর্শিদাবাদের মহীপালের সাগর দিঘি।
প্রশ্ন \ ৬ \ প্রাচীনকালে গৌড় ছিল একটি স্বাধীন রাজ্য-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : প্রাচীনকালে গৌড় একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল বলে জানা যায়। যার অবস্থান ষষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে ছিল। সপ্তম শতকে শশাংককে গৌড়রাজ বলা হতো। বাংলায় মুসলিম বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।
প্রশ্ন \ ৭ \ মহিপালের জনহিতকর কাজের বর্ণনা দাও।
উত্তর : মহিপাল জনকল্যাণকর কার্যে মনোযোগী ছিলেন। বাংলার অনেক দিঘি ও নগরী এখনও তার নামের সাথে জড়িত হয়ে আছে। তিনি অসংখ্য শহর প্রতিষ্ঠা ও দিঘি খনন করেন। শহরগুলো হলো রংপুর জেলার মাহীগঞ্জ, বগুড়া জেলার মহীপুর, দিনাজপুর জেলার মাহীসন্তোষ ও মুর্শিদাবাদ জেলার মহীপাল নগরী। আর দিঘিগুলোর মধ্যে দিনাজপুরের মহীপাল দিঘি ও মুর্শিদাবাদের মহীপালের সাগর দিঘি বিখ্যাত। সম্ভবত জনহিতকর কাজের মাধ্যমেই মহীপাল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।
প্রশ্ন \ ৮ \ মাৎস্যন্যায় বলতে কী বোঝ?
উত্তর : মাৎস্যন্যায় হলো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। পুকুরে বড় মাছ শক্তির দাপটে ছোট মাছকে ধরে গিলে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে বলা হয় মাৎস্যন্যায়। শশাংকের মৃত্যুর পর এ অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাংলার সবল অধিপতিরা এমনি করে ছোট ছোট অঞ্চলগুলোকে গ্রাস করছিল। এই সময়কালটিকেই বলা হয় মাৎস্যন্যায়।
প্রশ্ন \ ৯ \ দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বর্ম রাজবংশ প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল কীভাবে?
উত্তর : কলচুরিরাজ কর্ণের সাথে বর্মরা এদেশে এসেছিল। বজ্রবর্মার মতো জাতবর্মাও প্রথমদিকে কলচুরিরাজ গাঙ্গেয়দেব ও কর্ণের সামন্তরাজ ছিলেন। কৈবর্ত বিদ্রোহের সময় তিনি শ্বশুর কলচুরিরাজ কর্ণের সহায়তা ও সমর্থনে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরকে কেন্দ্র করে স্বাধীন বর্ম রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রশ্ন \ ১০ \ দেববংশ সম্পর্কে কী জান?
উত্তর : খড়গ বংশের শাসনের পর একই অঞ্চলে অষ্টম শতকের শুরুতে
দেববংশের উত্থান ঘটে। এ বংশের চারজন রাজার নাম পাওয়া যায়। এরা হলেন শ্রীশান্তিদেব, শ্রীবীরদেব, শ্রীআনন্দদেব ও শ্রীভবদেব। দেব রাজারা নিজেদের খুব শক্তিধর মনে করতেন। তাই তারা তাদের নামের সাথে যুক্ত করতেন বড় বড় উপাধি। যেমন : পরম সৌগত, পরমভট্টারক, পরমেশ্বর মহারাজাধিরাজ ইত্যাদি। তাদের রাজধানী ছিল দেবপর্বতে। কুমিল্লার নিকট ময়নামতির কাছে ছিল এ দেবপর্বত। দেবদের রাজত্বের বিস্তৃতি ছিল সমগ্র সমতট অঞ্চলে। আনুমানিক ৭৪০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দেব রাজারা শাসন করেন।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply