অষ্টম শ্রেণীর সহপাঠ কিশোর কাজি

কিশোর কাজি
(আরব্য উপন্যাস অবলম্বনে)

বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

১. হারুন-অর-রশিদ কোথাকার শাসক ছিলেন?
 বাগদাদের খ ইরানের গ বাহরাইনের ঘ সৌদি আরবের
২. খলিফা বালকদের খেলা থেকে কী শিখেছিলেন? [য. বো. ’১৫]
ক শাস্তি প্রদানের কৌশল  বিচার করার কৌশল
গ সত্য উদ্ঘাটনের কৌশল ঘ রায় দেওয়ার কৌশল
৩. নাজিম হলো-
র. নিষ্ঠুর ও নিপীড়ক রর. লোভী ও স্বার্থপর
ররর. বিশ্বাসঘাতক
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর  রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৪. আলী মোহরের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারল না। কারণÑ
ক কলসিতে কোনো মোহর ছিল না
˜ মোহর রাখার কোনো সাক্ষী ছিল না
গ আলী সত্য কথা বলছিল না
ঘ নাজিম কোনো সহযোগিতা করছিল না
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৫ ও ৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও :
অমল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি থেকে পাঠকচক্রের বই নিয়ে বন্ধু বিমলকে ধার দেয়। কিছুদিন পরে অমল বইটি ফেরত চাইলে বিমল তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে।
৫. উদ্দীপকের বিমল ‘কিশোর কাজি’ গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিনিধি?
ক আলিকোজাই খ কাজি
˜ নাজিম ঘ নাজিমের স্ত্রী
৬. উক্ত সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রে বিশেষভাবে প্রতীয়মানÑ
ক ক‚টকৌশল খ হীনম্মন্যতা ˜ প্রতারণা ঘ ধূর্ততা
৭. খলিফা যে রাতে বালকদের খেলা দেখছিল সে রাত কেমন ছিল?
ক অমাবস্যার রাত ˜ পূর্ণিমার রাত
গ মেঘাচ্ছন্ন রাত ঘ ধূসর রাত
৮. ‘কিশোর কাজি’ গল্পে বালকেরা কী দিয়ে জলপাইয়ের কলসি ভর্তি করেছিল?
ক ইটের কুচি খ নুড়িপাথর ˜ মাটির ঢেলা ঘ কাগজের টুকরা
৯. ‘কিশোর কাজি’ গল্পে কিশোর কাজির কর্মকাÐে প্রকাশ পেয়েছেÑ
ক কর্মদক্ষতা ˜ বিচক্ষণতা গ অভিজ্ঞতা ঘ দায়িত্বশীলতা
১০. আলী কোজাই পেশায় ছিলেনÑ
˜ ব্যবসায়ী খ কৃষক গ চাকরিজীবী ঘ বিচারক
১১. হারুন-অর-রশিদের উপাধি কী ছিল?
ক বাদশাহ খ সম্রাট গ রাজা ˜ খলিফা
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং ১২ ও ১৩ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
জুবায়ের ও মতিন দুই বন্ধু। মনির বিপদে পড়ায় জুবায়ের তাকে কিছু টাকা ধার দেয়। পরে প্রয়োজন পড়ায় জুবায়ের তার টাকাগুলি ফেরত চাইলে মনির টাকা নেওয়ার ব্যাপারটি অস্বীকার করে।
১২. উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পঠিত কোন রচনার বিষয়বস্তুর মিল রয়েছে?
ক মার্চেন্ট অব ভেনিস
˜ কিশোর কাজি
গ রাজকুমার ও ভিখারীর ছেলে
ঘ সাড়ে তিন হাত জমি
১৩. উল্লিখিত রচনায় প্রকাশ পেয়েছেÑ
ক প্রতিহিংসা ভালো নয়
খ বুদ্ধিমত্তার মূল্য আছে
˜ লোভের পরিণতি হয় ভয়ানক
ঘ অতিরিক্ত কৌত‚হল বিপদ ডেকে আনে
১৪. ‘কিন্তু আমি তা ছুঁইনি।’ Ñউক্তিটি কার?
˜ নাজিমের খ আলী কোজাইয়ের
গ নাজিমের স্ত্রীর ঘ বালক কাজীর
১৫. যতেœ রাখলে জলপাই বড়জোর কয় মাস টাটকা থাকে?
ক চার মাস খ পাঁচ মাস ˜ ছয় মাস ঘ সাত মাস
১৬. সোনার মোহর কীসের ভিতর ছিল?
ক বাক্সের খ গøাসের গ পাতিলের  কলসির
১৭. আলী কোজাই পেশায় ছিলেনÑ
 ব্যবসায়ী খ কৃষক গ চাকরিজীবী ঘ বিচারক
১৮. কতদিন আলী কোজাই-এর খোঁজ পাওয়া যায়নি?
 দু’বছর খ তিনবছর গ পাঁচবছর ঘ সাতবছর
১৯. নিরুপায় হয়ে আলী কোজাই কোথায় নালিশ করল?
ক ফৌজদারি আদালতে খ খলিফার দরবারে
 কাজির দরবারে ঘ দেওয়ানি আদালতে
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ২০ ও ২১নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
সাগরের নিকট থেকে তার বন্ধু সোহাগ কয়েকটি বই পড়তে নিয়ে যায়। সাগরের প্রয়োজনে বইগুলো ফেরত চাইলে সোহাগ বই নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে। এতে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।
২০. উদ্দীপকের সোহাগের সাথে ‘কিশোর কাজি’ গল্পের কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায়?
 নাজিমের খ কিশোর কাজির
গ আলী কোজাই-এর ঘ কাজির
২১. সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রটির মধ্যে নিচের কোন বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়?
ক কুটিলতা  মিথ্যাবাদিতা গ চতুরতা ঘ শঠতা
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২২. বিচারালয়ে বহু মানুষের ভিড় হওয়ার কারণ কী? (জ্ঞান)
ক আলী কোজাইয়ের ঘটনা সবাই জানত বলে
 বালকদের বিচার দেখতে
গ খলিফা সবাইকে দাওয়াত করলেন
ঘ সাক্ষীর জন্য বহু মানুষের প্রয়োজন বলে
২৩. আলীর মোহরগুলো নাজিম কোথায় রেখেছিল? (জ্ঞান)
ক থলেতে  সিন্দুকে গ মাটির নিচে ঘ বড় কলসিতে
২৪. নাজিম কলসি উপুড় করে ঢেলে দিলে ভেতরে কী দেখতে পেল? (জ্ঞান)
ক সোনার গহনা  সোনার মোহর
গ রুপার মোহর ঘ রুপার গহনা
২৫. ‘তুমি ভীষণ মিথ্যাবাদী’Ñ কথাটি কে বলেছিল? (জ্ঞান)
ক আলী  কাজি গ নাজিম ঘ নাজিমের স্ত্রী
২৬. কোন খলিফার শাসনকালে বাগদাদে আলী কোজাই নামের এক বণিক বাস করত? (জ্ঞান)
 হারুন-অর-রশীদ খ আবুল মনসুর
গ মামুন ঘ উমর বিন আব্দুল আজিজ
২৭. বণিক আলী কোজাই কীভাবে টাকা সঞ্চয় করেছিল? (অনুধাবন)
 পরিশ্রম করে খ দান পেয়ে গ পুরস্কার পেয়ে ঘ ভিক্ষাবৃত্তি করে
২৮. আলী কোজাই কলসি কিনেছিল কেন? (অনুধাবন)
ক পানি রাখার জন্য খ কলসি নদীতে ভাসানোর জন্য
 সঞ্চিত অর্থ নিরাপদে রাখার জন্য ঘ দান করার জন্য
২৯. সঞ্চিত অর্থ নিরাপদে রাখার জন্য জনাব মুহিত একটা বাক্সে ভরে বন্ধুর কাছে আমানত রেখে বিদেশে পাড়ি জমালেন। ‘কিশোর কাজি’ গল্পের কোন চরিত্রের সাথে জনাব মুহিতের কাজটি সাদৃশ্যপূর্ণ? (প্রয়োগ)
ক কিশোর কাজি খ নাজিম
 আলী কোজাই ঘ খলিফা হারুন-অর-রশীদ
৩০. ‘কিশোর কাজি’ গল্পে নাজিমের কাজে কোন গুণটি লঙ্ঘিত হয়েছে? (প্রয়োগ)
 সততা খ দয়া গ ভ্রাতৃত্ব ঘ পরমতসহিষ্ণুতা
৩১. নাজিমের স্ত্রী আলী কোজাইয়ের গচ্ছিত রাখা কলসির মুখ খুলতে স্বামীকে বাধা দেওয়ার মধ্য দিয়ে কোন গুণটির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে? (প্রয়োগ)
ক সৎসাহস  আমানতদারিতা গ সততা ঘ বিশ্বস্ততা
৩২. আলী কোজাইয়ের কলসির মুখ কী দিয়ে ঢাকা ছিল? (জ্ঞান)
 জলপাই খ আপেল গ বরই ঘ জামরুল
৩৩. আলী কোজাই সম্পদ গচ্ছিত রেখে কোথায় গিয়েছিলেন? (জ্ঞান)
ক আমেরিকা  মক্কা গ ভারত ঘ ইরান
৩৪. খলিফা ও উজির বিস্মিত হয়েছিলেন কেন? (অনুধাবন)
ক বালকদের খেলা দেখে  বালকদের বিচার ক্ষমতা দেখে
গ আলী কোজাইয়ের বিশ্বস্ততা দেখে ঘ নাজিমের ধূর্ততা দেখে
৩৫. কিশোর কাজির বিচারের মধ্য দিয়ে কোন গুণটির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে? (প্রয়োগ)
ক সততা খ সাহসিকতা গ দৃঢ়তা  বিচক্ষণতা
৩৬. কলসির মধ্যে কীসের মোহর ছিল? (জ্ঞান)
 সোনার খ রুপার গ পিতলের ঘ তামার
৩৭. ‘কিশোর কাজি’ গল্পটির শিক্ষণীয় দিক কী? (উচ্চতর দক্ষতা)
 বিচক্ষণতার সাথে সত্য উদ্ঘাটন করা
খ ছোট ছোট বালক-বালিকাদের প্রতি স্নেহ প্রদর্শন
গ অপরাধীকে ক্ষমা করে দেয়া
ঘ অপরাধের দায় স্বীকার করা
৩৮. নাজিমের কাছে গিয়ে মোহরগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আলী কোজাই কী করলেন?
ক মারামারি খ গালাগালি  অনুরোধ ঘ প্রতিজ্ঞা
৩৯. ‘কিশোর কাজি’ গল্পের বণিক কে?
ক নাজিম খ আজিম গ নিজাম  আলী কোজাই
৪০. নাজিম কলসির মুখ খুলেছিল কেন?
ক সোনার মোহরগুলো নিতে  জলপাই নিতে
গ কৌত‚হলের বশবর্তী হয়ে ঘ লোভের বশবর্তী হয়ে
৪১. বালকেরা আলী-নাজিমের বিচার খেলে কেন?
ক দোষীকে চি‎িহ্নত করার জন্য  মজা করার জন্য
গ পুরস্কার পাওয়ার জন্য ঘ পূর্ণিমা রাতের জন্য
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৪২. আলী কোজাইকে সম্পদ গচ্ছিত রাখার ব্যাপারে প্রতিবেশীরা পরামর্শ দিয়েছিল (অনুধাবন)
র. খলিফার নিকট রাখার জন্য রর. মাটির নিচে পুঁতে রাখার জন্য
ররর. বিশ্বস্ত বন্ধুর নিকট রাখার জন্য
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৪৩. আলী কোজাইয়ের কলসিটি পূর্ণ ছিল (অনুধাবন)
র. মোহর দ্বারা রর. জলপাই দ্বারা
ররর. আঙুর দ্বারা
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৪৪. বালকদের অভিনয়ে জলপাই ব্যবসায়ীকে ডাকার কারণ (অনুধাবন)
র. জলপাই কতদিন ভালো থাকে জানার জন্য
রর. জলপাই কেনার জন্য
ররর. জলপাইগুলো কত দিনের তা জানার জন্য
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৪৫. খলিফা কিশোর কাজীকে পুরস্কৃত করলেন  (অনুধাবন)
র. শিক্ষার দায়িত্ব নিয়ে রর. জলপাই দিয়ে
ররর. বড় হলে কাজির পদ প্রদান করে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৪৬. ‘কিশোর কাজি’ গল্পে নাজিমের আচরণে প্রকাশ পেয়েছে (প্রয়োগ)
র. লোভ রর. অসততা ররর. পরশ্রীকাতরতা
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৪৭. আলী কোজাই প্রথমবার মোহর ফেরত না পাওয়ার কারণ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. বন্ধুর বিশ্বাসঘাতকতা রর. প্রমাণ দেখাতে না পারা
ররর. বিচারে পক্ষপাতিত্ব
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৪৮. কিশোর কাজির বিচারিক কাজে প্রমাণ পাওয়া যায় (প্রয়োগ)
র. বিচক্ষণতার রর. সততার ররর. সাহসিকতার
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৪৯ ও ৫০নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
বন্ধুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করায় বিচারের সম্মুখীন হতে হলো শিহাব মোল্লাকে। বন্ধুর টাকা আত্মসাৎ করে পরে তা অস্বীকার করলে বিচারের দরবারে ছোট ছেলে মেহরাবের বিচারে ধরা পড়েন তিনি।
৪৯. উদ্দীপকের মেহরাব ‘কিশোর কাজি’ গল্পে কার প্রতিনিধিত্ব করে? (জ্ঞান)
ক খলিফার খ আলী কোজাই  কিশোর কাজির ঘ নাজিমের
৫০. উদ্দীপকের সাথে ‘কিশোর কাজি’ গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো (উচ্চতর দক্ষতা)
 বিচক্ষণতার সাথে বিচার পরিচালনা খ বিচারকের ব্যর্থতা
গ বন্ধুর সততার পরিচয় দেওয়া ঘ সততার সাথে বিচার করা

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন -১  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আলী কোজাই নামে বাগদাদে এক লোক বাস করত। সে হজব্রত পালনের জন্য মক্কায় যাবার সময় জীবনের সঞ্চয় কলসিতে লুকিয়ে তার উপরে জলপাই ভরে বন্ধু নাজিমের কাছে রেখে গেল। আলী কোজাই ফিরে এসে বন্ধু নাজিমের কাছ থেকে কলসি নিয়ে গিয়ে দেখল তাতে মোহর নেই, শুধু জলপাই আছে। আলী তখন কাজির দরবারে নালিস করলে কাজি নাজিমকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে নাজিম তার কলসি যথা নিয়মে ফেরত দিয়েছে বলল। আসলে আলীর সেই সঞ্চিত ধন অর্থাৎ মোহরগুলো পেয়ে নাজিম সিন্দুকে ভরে রেখে দিল।
ক. গল্পাংশ কোন দেশের পটভ‚মিতে রচিত?
খ. আলী মূল্যবান মোহরের উপর জলপাই রাখল কেন?
গ. উদ্ধৃতিতে বন্ধুর প্রতি নাজিমের আচরণের যৌক্তিকতা তুলে ধর।
ঘ.উদ্ধৃতির আলোকে আলী ও নাজিম চরিত্রের তুলনামূলক মূল্যায়ন কর।
 ১নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. গল্পাংশটি ইরাক দেশের পটভ‚মিতে রচিত।
খ. নাজিমকে মোহরের কথা না জানতে আলী মোহরের উপর জলপাই রাখল।
আলী কোজাই তার সারাজীবনের সঞ্চিত মোহরগুলো বন্ধু নাজিমের কাছে জমা রেখে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কিন্তু কোজাই চেয়েছিল তার বন্ধু নাজিম যেন কলসির ভেতরের মোহরের কথা জানতে না পারে। অর্থাৎ নাজিমের কাছে মোহরের কথা গোপন রাখতেই কোজাই মূল্যবান মোহরের উপর জলপাই ভরে রাখল।

গ. বন্ধুর প্রতি নাজিমের আচরণ ছিল বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ এবং অযৌক্তিক।
বন্ধুর সাথে সম্পর্ক সবসময়ই বিশ্বাসের। কিন্তু নাজিম সেই বিশ্বাসের মর্যাদাতো রাখতে পারেনি, বরং সে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছিল।
আলী কোজাই হজের উদ্দেশ্যে মক্কা যাওয়ার সময় তার বন্ধু নাজিমের কাছে মূল্যবান মোহর ভরা কলসি রেখে যায়। নাজিম যেন মোহরের কথা জানতে না পারে এজন্য মোহরের ওপর জলপাই দিয়ে ভরে রাখে। কিন্তু নাজিম জলপাইয়ের কলসিতে মোহরের সন্ধান পেয়ে মোহরগুলো নিয়ে নেয় এবং কাজির বিচারে মোহরের কথা অস্বীকার করে। একজন বন্ধুর প্রতি এ আচরণ অন্যায় ও অযৌক্তিক।
ঘ. আলী কোজাই ও নাজিমের চরিত্রের মধ্যে বৈপরীত্য লক্ষ করা যায়।
হজ করতে যাওয়া থেকে আলীর ধর্মীয় ও সৎ মনের পরিচয় পাওয়া যায়। সে বন্ধুর প্রতি আস্থাশীল হলেও মোহরের উপর জলপাই রাখা থেকে প্রমাণ হয়, বন্ধুকে সে পুরোপুরি বিশ্বাস করত না। নাজিমের আচরণেও বিশ্বাসঘাতকতা ও মিথ্যাচারের প্রমাণ পাওয়া যায়।
নাজিমের চরিত্রে মিথ্যাচার, লোভ ও ধূর্ততার যে সংমিশ্রণ পাওয়া যায়, আলী কোজাইয়ের চরিত্রে তা নেই। তার মধ্যে বন্ধুর প্রতি আস্থাশীলতা ও বিশ্বাস করার গুণ দেখতে পাই। যদিও সে বন্ধুকে পুরোপুরি বিশ্বাস করেনি তবু খলিফার কাছে না রেখে বন্ধুর কাছে মোহর গচ্ছিত রেখে আস্থাশীলতার প্রকাশ ঘটিয়েছে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উভয়ের চরিত্র পুরোপুরি বিপরীতমুখী।

প্রশ্ন -২  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
স্কুল থেকে ফেরার সময় আনিকা তার বান্ধবী মরিয়মের কাছ থেকে একটি বই ধার চেয়ে নেয়। বাসায় এসে বইটি খুললে সে এর ভেতর একটি পাঁচশত টাকার নোট পায়। কয়েক দিন পর বইটি ফেরত দিলেও লোভ সামলাতে না পেরে সে টাকাটা নিজের কাছে রেখে দেয়। মাস খানেকের মধ্যেই আনিকার মনে তীব্র অনুশোচনা জাগে। একদিন সে মরিয়মকে টাকাটি ফেরত দেয়।
ক. ‘কিশোর কাজি’ গল্পটি কোন উপন্যাস অবলম্বনে রচিত? ১
খ. খলিফা কেন বালকদের দিয়ে আলী ও নাজিমের বিচারটি করাতে চেয়েছিলেন? ২
গ. আনিকার টাকা ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের যে দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.উদ্দীপকের আনিকা ‘কিশোর কাজি’ গল্পের নাজিমের চেয়ে উন্নত মানসিকতার অধিকারীÑ মন্তব্যটি সঠিক কিনা বিচার কর। ৪
 ২নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. ‘কিশোর কাজী’ গল্পটি আরব্য উপন্যাস অবলম্বনে রচিত।
খ. খলিফা বিচার প্রক্রিয়াটি যথাযথ হওয়ার জন্য বালকদের দিয়ে আলী ও নাজিমের বিচারটি করাতে চেয়েছিলেন।
খলিফা হারুন-অর-রশীদ যখন বালকদের বিচারিক ক্ষমতা দেখে মুগ্ধ হন তখনই সিদ্ধান্ত নেন আলী ও নাজিমের বিচারটি বালকদের দিয়েই করাবেন। তাই বিচার প্রক্রিয়াটি যাতে স্বচ্ছ এবং যথাযথ হয় তাই খলিফা বালকদের দিয়ে আলী নাজিমের বিচার কাজ করাতে চেয়েছিলেন।
গ. আনিকার টাকা ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি ‘কিশোর কাজী’ গল্পের নাজিমের প্রতারণার দিকটির সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
‘কিশোর কাজী’ গল্পের কোজাই হজব্রত পালনের জন্য মক্কায় যাওয়ার সময় তার সারাজীবনের সঞ্চয় বিশ্বস্ত বন্ধু নাজিমকে মোহরভর্তি কলসি জলপাইয়ের কলসি হিসেবে অভিহিত করে আমানত হিসেবে রেখে যায়। কিন্তু এক পর্যায়ে নাজিম আবিষ্কার করে জলপাই ভর্তি কলস প্রকৃতপক্ষে সোনার মোহর ভর্তি কলস তার মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি আসল। সে সব সোনার মোহর নিয়ে সিন্দুকে লুকিয়ে রেখে এবং কলসিতে জলপাই ভর্তি করে রাখে। কয়েক দিন পর আলী কোজাই ফিরে এলে তাকে জলপাই ভর্তি কলস ফেরত দেয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, স্কুল থেকে ফেরার সময় আনিকা তার বান্ধবী মরিয়মের কাছ থেকে একটি বই ধার নেয়। বাসায় এসে বইটি খুলে পাঁচশত টাকার একটা নোট পায়। কয়েক দিন পর বইটি ফেরত দিলেও লোভ সামলাতে না পেরে সে টাকাটা নিজের কাছে রেখে দেয়। অর্থাৎ আনিকার টাকা ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি ‘কিশোর কাজী’ গল্পের নাজিমের প্রতারণার দিকটির সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের আনিকা ‘কিশোর কাজী’ গল্পের নাজিমের চেয়ে উন্নত মানসিকতার অধিকারীÑ এ মন্তব্যটি সঠিক।
‘কিশোর কাজী’ গল্পে আলী কোজাইয়ের বিশ্বস্ত বন্ধু ছিল নাজিম। কোজাইয়ের বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে নাজিম বিশ্বাসঘাতকতা করে। বন্ধুর আমানত সোনার মোহরের খোঁজ পেয়ে আত্মসাৎ করে নাজিম এবং জলপাই ভর্তি কলসি ফেরত দিয়ে বন্ধুকে ধোঁকা দেয়। পরবর্তীতে খলিফার হস্তক্ষেপে এবং এক কিশোরের অসামান্য বিচারিক দক্ষতার মাধ্যমে নিজের অর্থ ফেরত পায় আলী কোজাই।
পক্ষান্তরে উদ্দীপকে দেখা যায়, আনিকা তার বান্ধবী মরিয়মের কাছ থেকে একটি বই ধার নেয়। বাসায় এসে বইটি খুললে এর ভেতর থেকে পাঁচশত টাকার একটি নোট পায়। লোভের বশবর্তী হয়ে আনিকা টাকা রেখে বইটি ফেরত দেয়। কিন্তু মাস খানেকের মধ্যে আনিকার মনে তীব্র অনুশোচনাবোধ জাগ্রত হয় এবং সে মরিয়মকে টাকা ফেরত দেয়। ‘কিশোর কাজী’ গল্পে নাজিমের ভেতর কোনো অনুশোচনাবোধ দেখা যায় না, এবং সে বন্ধুর সাথে আমানতের খেয়ানত করেছিল তার উল্লেখ উদ্দীপকে নেই।
উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকের আনিকা ‘কিশোর কাজী’ গল্পের নাজিমের চেয়ে উন্নত মানসিকতার অধিকারী।
প্রশ্ন -৩  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
চোরের ভয়ে নিজের যৎসামান্য অলংকার শহরে বড় ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে রেখে আসে আমেনা বেগম। প্রতিবেশীর বিয়েতে যাওয়া উপলক্ষে অলংকারগুলো চাইতে গেলে বড় ভাবী অনুরূপ ডিজাইনের ইমিটেশনের নকল গহনা আমেনার হাতে তুলে দেয়।
ক. খলিফা হারুন-অর-রশীদ কোথাকার শাসক ছিলেন? ১
খ. আলীর রেখে যাওয়া কলস থেকে নাজিমের স্ত্রী জলপাই খেতে চায়নি কেন? ২
গ. উদ্দীপকের বড় ভাবী ‘কিশোর কাজি’ গল্পের কোন দিকটিকে তুলে ধরেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.উদ্দীপকের আমেনা বেগম কি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের আলী কোজাইয়ের প্রতিনিধিত্ব করে? যুক্তিপূর্ণ জবাব দাও। ৪

 ৩নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. খলিফা হারুন-অর-রশীদ বাগদাদের শাসক ছিলেন।
খ. অপরের আমানত খেয়ানত হওয়ার ভয়ে আলীর স্ত্রী জলপাই খেতে চায়নি।
স্ত্রীর জলপাই খাবার ইচ্ছে হলে নাজিম তার বন্ধুর রেখে যাওয়া কলসি থেকে জলপাই আনতে চায়। নাজিমের স্ত্রী আমানত নষ্ট হওয়ার ভয়ে প্রথমে রাজি না হলেও পরবর্তীতে স্বামীর প্ররোচনায় রাজি হয়।
গ. উদ্দীপকের বড় ভাবী ‘কিশোর কাজি’ গল্পের নাজিম কর্তৃক আলী কোজাইয়ের সোনার মোহর আত্মসাৎ করার দিকটি তুলে ধরেছে।
‘কিশোর কাজি’ গল্পের আলী কোজাই নামের বণিক হজে যাবার পূর্বে নিজের সকল স্বর্ণমুদ্রা একটি কলসিতে রেখে উপরে জলপাই দিয়ে তার বন্ধু নাজিমের কাছে রেখে যায়। আলী যাওয়ার পর বহুদিন কেটে গেলে নাজিম নিজ প্রয়োজনে ঐ কলসি থেকে জলপাই বের করতে গিয়ে সোনার মোহর পেয়ে যায় এবং সেগুলো আত্মসাৎ করে।
উদ্দীপকে আমেনা বেগম চোরের ভয়ে নিজের সামান্য অলংকার শহরে বড় ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে রেখে আসে নিরাপত্তার জন্য। পরবর্তীতে প্রতিবেশীর বিয়েতে যাবার জন্য অলংকারগুলো ফিরিয়ে আনতে গেলে তার বড় ভাবী অনুরূপ ডিজাইনের ইমিটেশনের নকল গহনা আমেনার হাতে তুলে দেয়। যা গল্পের নাজিমের কৃতকর্মের সাথে সাদৃশ্য বিধান করে। তাই বলা যায় অপরের সম্পদ আত্মসাতের দিকটি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের নাজিমের মতো উদ্দীপকের বড় ভাবীর কর্মকাÐে প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের আমেনা বেগম ‘কিশোর কাজি’ গল্পের আলী কোজাইয়ের প্রতিনিধিত্ব করে।
‘কিশোর কাজি’ গল্পের আলি কোজাই হজব্রত পালনের জন্য রওনা হওয়ার পূর্বে নিজের সোনার মোহরগুলো একটি কলসির তলায় রেখে তার উপরে জলপাই দিয়ে ঢেকে বন্ধু নাজিমের কাছে রেখে যায়। ঘটনাচক্রে নাজিম মোহরের কথা জেনে যায় এবং তা আত্মসাৎ করে। প্রতাণার শিকার হয়ে আলি কোজাই কাজির দরবারে নালিশ জানায় এবং নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত মোহরগুলো ফেরত পায়।
উদ্দীপকের আমেনা বেগমও তার ভাবীর কাছে কিছু অলংকার রেখে আসে। চোরের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অলংকারগুলো বিশ্বাস করে গচ্ছিত রাখলেও আমেনা বেগমের বড় ভাবী তা আত্মসাৎ করে। পরে আমেনা বেগম ফেরত চাইলে তাকে ইমিটেশনে নকল অলংকার দেয়। এই একই ধরনের ঘটনা ঘটে আলীর ক্ষেত্রেও।
উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, জিনিস গচ্ছিত রেখে ফেরত নেয়ার সময় প্রতারণার দিক থেকে উদ্দীপকের আমেনা বেগম ‘কিশোর কাজি’ গল্পের আলি কোজাইয়ের প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রশ্ন -৪  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
একদা দুই জন মহিলা একই শিশুর মাতৃত্ব দাবি করে। হযরত সুলায়মান (আ.) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, একটি শিশু অথচ দাবিদার দুই জন, ছুরি আনো শিশুটিকে কেটে দুই ভাগ করে দুই জনকে দিয়ে দিই। এ বলে তিনি ছুরি হাতে নিয়ে শিশুটিকে মাটিতে শুইয়ে দিয়ে দুই ভাগ করতে যখনই উদ্যত হলেন তখন একজন নারী কেঁদে বললেন, আমার দাবি আমি ত্যাগ করলাম। শিশুটি অন্যজনকে দিয়ে দিন। তিনি বুঝতে পারলেন, ইনিই শিশুটির প্রকৃত মা। অতঃপর সুলায়মান (আ) শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফেরত দিলেন এবং অন্যজনকে শাস্তি দিলেন।
ক. হারুন অর-রশীদ কোথাকার শাসক ছিলেন? ১
খ. খলিফা ও উজির বিস্মিত হলেন কেন? ২
গ. উদ্দীপকটি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.উদ্দীপকটি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের সমগ্র ভাবকে প্রকাশ করে কী? যুক্তিসহ উপস্থাপন কর। ৪
 ৪নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. খলিফা হারুন অর-রশীদ বাগদাদের শাসক ছিলেন।
খ. খলিফা ও উজির বালকদের বিচারক্ষমতা দেখে বিস্মিত হলেন। খলিফা ও উজির রাতে বেড়াতে বের হয়ে কয়েকজন বালককে আলী ও নাজিমের বিচারের খেলা খেলতে দেখেন। বালকরা নিজেরাই আলী ও নাজিমের বিচারের সঠিক এবং সহজ উপায় বের করে ফেলেছে দেখে তারা বিস্মিত হলেন।
গ. উদ্দীপকটি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের প্রকৃত মালিক নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘কিশোর কাজি’ গল্পের সত্যবাদী আলী কোজাইয়ের অর্থ গায়েব করে দিয়ে প্রতারণা করে তার বন্ধু নাজিম। সে সোনার মোহর সিন্দুকে রেখে জলপাই ভর্তি কলস কোজাইকে ফেরত দেয়। উদ্দীপক এবং গল্প উভয় ক্ষেত্রে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হয়। পরবর্তীতে মূল সত্য প্রকাশিত হয় অভিনব বিচারপদ্ধতির মাধ্যমে।
উদ্দীপক ও ‘কিশোর কাজি’ গল্প উভয় ক্ষেত্রেই আমরা একজন সত্যবাদী ও একজন প্রতারক চরিত্র পাই। উদ্দীপকে দুজন মহিলা একই শিশুর মাতৃত্ব দাবি করে, একজন প্রকৃত ও একজন নকল মা। অর্থাৎ এসব দিক থেকে বিবেচনা করে উদ্দীপকটি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের প্রকৃত মালিক নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের সমগ্র ভাবকে প্রকাশ করে।
উদ্দীপক ও ‘কিশোর কাজি’ গল্পটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, উদ্দীপকে ‘কিশোর কাজি’ গল্পের মূলভাবই প্রকাশিত হয়েছে। গল্পের আলী কোজাই তার বন্ধুর কাছ থেকে প্রতারণার শিকার হয়ে কাজির শরণাপন্ন হয়। কিন্তু কাজির কাছে যথেষ্ট যুক্তি প্রমাণ উপস্থাপন না করতে পারায় তাকে হতাশ হতে হয়। শেষ পর্যন্ত কয়েকজন কিশোরের বিচক্ষণতায় সত্য উদ্ঘাটিত হয়।
উদ্দীপকেও একটি শিশুর মাতৃত্ব নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে হযরত সুলায়মান (আ)-এর অসামান্য বিচারক্ষমতায় প্রকৃত ঘটনা প্রকাশিত হয়। ‘কিশোর কাজি’ গল্পে প্রকাশিত হয়েছে অভিনব বিচক্ষণতা ও অসাধারণ বিচারিক ক্ষমতার বিষয়টি এবং সেই সাথে জানা যায়, সত্য কোনোভাবেই গোপন থাকে না। তা যেভাবেই হোক প্রকাশিত হয়ে যায়।
উল্লিখিত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকটি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের কিশোরদের বিচার ব্যবসায় বিষয়টি মুখ্য হয়ে ফুটে উঠেছে উদ্দীপকেও সে একই বিষয় দেখা যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের সমগ্র ভাবকে প্রকাশ করে।
প্রশ্ন -৫  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ফজলু শেখ তার গ্রামের বাড়ি থেকে একটি দুঃসংবাদ পেয়ে প্রতিবেশী ওসমানকে তার দোকানের সমস্ত দায়িত্ব দিয়ে চলে যান। দু’দিন পরে চলে আসবেন বলে গেলেও ফজলু শেখ আর ফিরে আসেননি। প্রায় এক যুগ পর ফিরে এসে ফজলু শেখ তার দোকানের খোঁজ নিতে গিয়ে ওসমানের ব্যবহারে মুগ্ধ হন। ওসমান পরম যতেœ তার দোকানের দেখাশোনা করে ব্যবসা বহুগুণ বাড়িয়েছেন। এখন ওসমান ফজলু শেখকে তার দোকান ফিরিয়ে দিয়ে মুক্ত হতে চায়।
ক. নাজিম সোনার মোহর কোথায় লুকিয়ে রেখেছিল? ১
খ. আলী কলসের মোহরের ওপর জলপাই দিয়েছিল কেন? ২
গ. উদ্দীপকের কোন চরিত্রটি নাজিম চরিত্রের বিপরীত? বর্ণনা কর। ৩
ঘ.“উদ্দীপকটি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের খÐচিত্র মাত্র।” Ñমন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর। ৪
 ৫নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. নাজিম সোনার মোহর সিন্দুকে লুকিয়ে রেখেছিল।
খ. ১ নং অনুশীলনী প্রশ্নের ‘খ’ নং উত্তর দ্রষ্টব্য।
গ. উদ্দীপকের ওসমান চরিত্রটি আমানত রক্ষার দিক থেকে নাজিম চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।
‘কিশোর কাজি’ গল্পের আলী কোজাই হজ পালন ব্রত পালনের জন্য যাবার আগে বন্ধু নাজিমের কাছে এক কলসি জলপাই রেখে যান যার নিচে সোনার মোহর রাখা ছিল। ঘটনাচক্রে নাজিম সোনার মোহরের খোঁজ পেয়ে যায় আর লোভের বশবর্তী হয়ে মোহরগুলো আত্মসাৎ করে। আলী কোজাই নিজের সর্বস্ব, বিশ্বাস করে নাজিমের কাছে গচ্ছিত রেখে যায় যা নাজিম খেয়ানত করে।
উদ্দীপকের ওসমান ফজলু শেখের প্রতিবেশী। ফজলু শেখ কোনো একটি দুঃসংবাদ পেয়ে ওসমানকে দোকানের দায়িত্ব দিয়ে চলে যান। যাবার আগে তিনি বলেন দু দিনের মধ্যে ফিরে আসবেন বলে গেলেও ফিরে আসেন প্রায় এক যুগ পরে। ফজলু শেখ ফিরে এসে দেখেন ওসমান অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেছে এবং ব্যবসা বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। এখন তিনি ফজলু শেখকে তার দোকান ঠিকমতো বুঝিয়ে দিয়ে মুক্ত হতে চান। অথচ গল্পে নাজিম খুব অল্প সময়ের জন্য আলীর রেখে যাওয়া সম্পদের লোভ সামলাতে পারে না। ফলে লোভের বশবর্তী হয়ে তা আত্মসাৎ করে যা উদ্দীপকের ওসমান চরিত্রের বিপরীত। তাই বলা যায় যে, আমানত রক্ষা করার দিক থেকে উদ্দীপকের ওসমান চরিত্রটি নাজিম চরিত্রের বিপরীত।
ঘ. প্রদত্ত প্রশ্নটি যথার্থ নয়। কারণ উদ্দীপক এবং ‘কিাশোর কাজি’ গল্পের কোনো দিকই উদ্দীপকের প্রশ্নের সাথে সাদৃশ্য প্রদর্শন করে না। ফলে উদ্দীপকটি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের খÐচিত্র বলে প্রমাণ করা সম্ভব না হওয়ার কারণে ‘ঘ’ নং প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হলো না।
প্রশ্ন -৬  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
নদীভাঙনের ভয়ে আট মাসের গাভিন গাইটা সৎভাই সাহেদের বাড়ি রেখে যায় বিধবা জামিলা। কিন্তু ঘর সামলে গরু নিতে গেলে সাহেদ বলে, ‘বিক্রি করা গরু ফেরত চাও কেন বুবু’? কথাটা শুনে জামিলার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। তবুও লোকে হাসবে ভেবে কেবল চোখ মুছতে মুছতে ভাইয়ের বাড়ি থেকে বের হয়ে ঘরের দিকে রওনা হলো।
ক. ‘কিশোর কাজি’ গল্প কী অবলম্বনে রচিত? ১
খ. বড় হলে কিশোরকে কাজির পদ দেওয়া হলো কেন? ২
গ. উদ্দীপকের সাহেদের সাথে ‘কিশোর কাজি’ গল্পের নাজিমের সাদৃশ্য দেখাও। ৩
ঘ.উদ্দীপকের জামিলা কি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের আলী কোজাই? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। ৪
 ৬নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. ‘কিশোর কাজি’ গল্প আরব্য উপন্যাস অবলম্বনে রচিত।
খ. বিচক্ষণতার কারণে বড় হলে কিশোরকে কাজির পদ দেওয়া হলো।
আলী কোজাই এবং নাজিমের গল্পটি সারা বাগদাদে ছড়িয়ে পড়েছিল। একদিন কয়েকটি শিশু আলী কোজাইয়ের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের মতো করে বিচায় বিচায় খেলার আসর পেতেছিল। ভ্রমণরত খলিফা মনোযোগ সহকারে বিচারকার্য দেখছিলেন। একটি বালক কাজি সেজে অত্যন্ত সুন্দরভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করে আলীকে তার সোনার মোহর ফেরত দিয়। বালকের এ বিচক্ষণতায় মুগ্ধ হয়ে খলিফা তাকে দিয়ে বাস্তব বিচারকার্য পরিচালনা করেন এবং বড় হলে তাকে কাজির পদ দেন।
গ. উদ্দীপকের সাহেদ এবং গল্পের নাজিম দুজনই অসৎ ও লোভী প্রকৃতির মানুষ।
বাগদাদের আলী কোজাই নামের এক বণিক হজে যাওয়ার সময় একটি কলসির তলায় সোনার মোহর এবং উপরে জলপাই ভর্তি করে তার বন্ধু নাজিমের কাছে রেখে যায়। একদিন নাজিমের স্ত্রী জলপাই খেতে চাইলে নাজিম জলপাই আনতে গিয়ে কলসির মধ্যে সোনার মোহর দেখে লোভ সামলাতে পারে না। নাজিম লোভে পড়ে তখনই বন্ধুর সোনার মোহরগুলো আত্মসাৎ করে।
‘কিশোর কাজি’ গল্পের নাজিমের মতো উদ্দীপকের সাহেদও লোভে পড়ে সৎবোনের রেখে যাওয়া গরুটা আত্মসাৎ করতে চায়। নদীভাঙনের কারণে বিপদে পড়ে বিধবা জামিলার একমাত্র সম্বল গাভিন গরুটাকে সাহেদের কাছে রেখে আসে। একপর্যায়ে জামিলা গরুটা ফেরত আনতে গেলে গরুটা কাজ তার কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে সৎভাই সাহেদ। সাহেদের এ কাজ থেকে তার অসৎ ও লোভাতুর মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়। এই মনোভাবের দিক থেকে উদ্দীপকের সাহেদের সাথে ‘কিশোর কাজি’ গল্পের নাজিমের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের জামিলা ‘কিশোর কাজি’ গল্পের আলী কোজাই নয়।
‘কিশোর কাজি’ গল্পের আলি কোজাই একটি কলসির তলায় সোনার মোহর এবং এবং কলসির উপরে জলপাই ভর্তি করে হজে যাওয়ার সময় জলপাইয়ের কথা বলে তার বন্ধু নাজিমের কাছে রেখে যায়। একপর্যায়ে নাজিম কলসির তলায় মোহর দেখে লোভ সামলাতে না পেরে সেগুলো আত্মসাৎ করে। প্রতারণার শিকার হয়ে আলি কোজাই কাজির দরবারে নালিশ জানায় এবং নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত মোহরগুলো ফেরত পায়।
উদ্দীপকের জামিলাও প্রতারিত হয়েছে গল্পের আলী কোজাইয়ের মতো। নদীভাঙনের কারণে তার গরুটাকে বাঁচানোর জন্য সৎভাইয়ের কাছে রেখে আসে জামিলা। ফেরত নিতে গেলে গরুটা তার কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে সাহেদ। জামিলা মান-সম্মানের ভয়ে মাথা নিচু করে বাড়িতে ফিরে যায়।
তাই বলা যায়, গল্পের আলী কোজাই এবং উদ্দীপকের জামিলা প্রতারণার শিকার হয়েছে। তবে একই পথে একইভাবে নয়। তবে আলী কোজাই তার ন্যায্যবিচার পেলেও জামিলা কোনো বিচার পায়নি। তাই উদ্দীপকের জামিলা ‘কিশোর কাজি’ গল্পের আলী কোজাই নয়।
প্রশ্ন -৭  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
‘ঠাকুরমার ঝুলি’র কাহিনী : এক ব্রাহ্মণ জীবিকার সন্ধানে শহরে গেলে তেঁতুলগাছের এক ভ‚ত সেই ব্রাহ্মণের রূপ ধরে তার বাড়িতে হাজির হয়। ব্রাহ্মণের মা নিজের ছেলে মনে করে ভ‚তটিকে আদরযতœ করতে থাকে। কিছুদিন পর আসল ব্রাহ্মণ এলে একই চেহারার দুই ছেলেকে দেখে মায়ের চোখ ছানাবড়া। কোনোক্রমে মা আসল ব্রাহ্মণ শনাক্ত করতে পারছেন না। রাজার কাছে বিচার দিলে রাজাও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কায়দাকানুন করে আসল ব্রাহ্মণ কেÑ তা বের করতে পারলেন না। এমন সময় রাজার ছোট্ট ছেলে এ সমস্যার সমাধান করতে চাইল। সে ছোট এক কাচের বোতল এনে বললÑ ‘যে এই বোতলের মধ্যে ঢুকতে পারবে, সে-ই আসল ব্রাহ্মণ’ এ কথায় ভ‚ত ব্রাহ্মণ ভীষণ খুশিতে দ্রæত বোতলে ঢুকে গেল। ছেলেটি অমনি বোতলের মুখ বন্ধ করে ভ‚তটাকে আটকে দিল। তখন আসল ব্রাহ্মণকে বুকে টেনে মা লজ্জায় হেঁট হয়ে গেলেন।
ক. যতেœ রাখলে জলপাই বড়জোর কত মাস টাটকা থাকে? ১
খ. আলীকে হতাশ হয়ে ফিরতে হলো কেন? ২
গ. উদ্দীপকের রাজার ছোট ছেলে এবং কিশোর কাজির সাদৃশ্য আলোচনা কর। ৩
ঘ.এই সাদৃশ্যই প্রথাগত বিচার ব্যবস্থার ত্রæটি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় তুমি এমনটা মনে কর কি? যুক্তিসহ বুঝিয়ে লিখ। ৪
 ৭নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. যতেœ রাখলে জলপাই বড়জোর ছয় মাস টাটকা থাকে।
খ. কলসির ভেতর জলপাইয়ের নিচে আলী যে মোহর রেখেছিল তার কোনো প্রমাণ কাজির কাছে দিতে না পারায় তাকে কাজির দরবার থেকে হতাশ হয়ে ফিরতে হলো।
হজ থেকে ফিরে এসে আলী কোজাই নাজিমকে গচ্ছিত মোহরগুলোর কথা বলে ফেরত দিতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু নাজিম মোহরগুলো কথা অস্বীকার করলে সে কাজির দরবারে নালিশ জানায়। বিচারে কাজি আলী কোজাইকে প্রমাণ করতে বলে কলসিতে সে জলপাইয়ের নিচে মোহর রেখেছিল। কিন্তু আলীর কাছে কোনো প্রমাণ ছিল না। তাই তাকে কাজির দরবার থেকে হতাশ হয়ে ফিরতে হলো।
গ. উদ্দীপকের রাজার ছোট ছেলে এবং কিশোর কাজি গল্পের কাজিরূপী কিশোরটির চরিত্রের সাদৃশ্য তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং সত্য উদ্ঘাটনের কৌশলে।
তারা উভয়েই উপস্থিত বুদ্ধি প্রয়োগ করে সত্যকে সকলের সামনে তুলে ধরে এবং এতে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আলী ও নাজিমের বিচার নিয়ে একদিন কিশোর খেলছিল। প্রথাগত বিচারে আলী কলসিতে সোনার মোহর থাকার কথাটি প্রমাণ করতে পারে না, ফলে কাজির দরবারে তাকে হতাশ হতে হয়। কিন্তু কিশোর কাজি তার বুদ্ধিমত্তা ও সত্য উদ্ঘাটনের কৌশলে নাজিমকে অসততা ও মিথ্যা স্বীকার করতে বাধ্য করে।
উদ্দীপকেরও রাজা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও কে সত্যই ব্রাহ্মণ আর কে ভ‚ত তা বিচার করতে অসমর্থ হন। কিন্তু রাজার ছোট ছেলে তার বুদ্ধির সাহায্যে ভ‚তকে বোতলে ভরে এবং ব্রাহ্মণটিকে তার পরিচয় ফিরিয়ে দেয়। তবে দুজনেরই বুদ্ধিমত্তার কারণে মূল সত্য সামনে আসে এবং উভয়ের সত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বয়সের চেয়ে সত্য উদঘাটনের কৌশলই বেশি গুরুত্বপূর্ণতা প্রমাণ করে।
ঘ. সাধারণ ও সহজাত বুদ্ধিমত্তা ও সত্য উদঘাটনের কৌশলের যে সাদৃশ্য রাজার ছোট ছেলে ও কিশোর কাজির, তাই আমাদের দেখিয়ে দেয় প্রথাগত বিচারব্যবস্থার ত্রæটি।
‘কিশোর কাজি’ গল্পে আলী কাজির দরবারে গিয়েও ন্যায় বিচার পায়নি। প্রমাণের অভাবে সে তার জলপাইয়ের নিচে রাখা সোনার মোহরগুলো ফিরে পায় না। কিন্তু কিশোর কাজির বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা তাকে তার সম্পদ ফিরিয়ে দেয়।
উদ্দীপকেও কে প্রকৃত ব্রাহ্মণ আর কে ভ‚ত, তা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা কায়দাকানুনের সাহায্যেও নির্ণয় করতে পারেন না রাজা স্বয়ং। অথচ রাজার ছোট ছেলের বুদ্ধিমত্তা শেষপর্যন্ত ভ‚তকে বোতলবন্দি করে এবং ব্রাহ্মণ ন্যায় বিচার পায়।
উদ্দীপকের রাজার ছোট ছেলে এবং মূল গল্পের কিশোর কাজি উভয়ের বিচারের ক্ষেত্রে যে কৌশল ও বিচক্ষণতা, তা প্রথাগত বিচারব্যবস্থার ত্রæটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। প্রথাগত বিচারে ব্রাহ্মণ কিংবা আলী কেউই ন্যায়বিচার পায়নি। কিন্তু সত্য উদ্ঘাটনের ক্ষেত্রে কিশোরদ্বয়ের কৌশলেই তারা শেষপর্যন্ত ন্যায়বিচার পায়।

প্রশ্ন -৮  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
দিদার সাহেব মৃত্যুর সময় তার বন্ধু রনির কাছে সমস্ত সম্পত্তির দলিল রেখে যায় এবং বলে তার সন্তানরা বড় হলে দলিলগুলো তাদের ফেরত দিতে। কিন্তু দিদার সাহেবের বন্ধু পরে দলিলগুলো এবং সম্পত্তি তার সন্তানদের ফেরত না দিয়ে দখল করে নেয়। তবে এক সময় নদী ভাঙনে তিনি নিঃস্ব হয়ে যান।
ক. ‘গচ্ছিত’ শব্দের অর্থ কী? ১
খ. নাজিম সব স্বীকার করে মোহরগুলো ফিরিয়ে দিল কেন? ২
গ. উদ্দীপকে ‘কিশোর কাজি’ গল্পের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.উদ্দীপকের রনি যেন ‘কিশোর কাজি’ গল্পের নাজিমের প্রতিনিধিত্ব করেছে।Ñ উক্তিটি বিচার কর। ৪
 ৮নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. ‘গচ্ছিত’ শব্দের অর্থ দায়িত্ব নিয়ে রক্ষিত।
খ. বিচারে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় বাধ্য হয়ে নাজিম সব স্বীকার করে সোহরগুলো ফিরিয়ে দেয়।
কাজির বিচারে কলসির ভেতরে মোহর থাকার ব্যাপারটি প্রথম অবস্থায় প্রমাণ করা সম্ভব হয় নি। কিন্তু খেলার ছলে বালকেরা সত্য উদ্ঘাটনের উপায় নির্দেশ করেছিল, যা খলিফার দৃষ্টি এড়ায় নি। ন্যায় বিচারের স্বার্থে শেষ পর্যন্ত খলিফা বালকদের মাধ্যমে বিচারের ব্যবস্থা করেছিলেন, যার রায়ে নাজিম সব স্বীকার করে আলীর মোহরগুলো ফেরত দেয়।
গ. ‘কিশোর কাজি’ গল্পের অন্যায়ের অবধারিত শাস্তির বিষয়টি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
‘কিশোর কাজি’ গল্পে আলী কোজাই হজে যাওয়ার সময় বিশ্বস্ত বন্ধু নাজিমের কাছে মোহর ও জলপাইপূর্ণ কলস রেখে যায়। কিন্তু ফিরে এসে যখন সে শুধু তাজা জলপাইপূর্ণ কলসি পায়, তখন সে নাজিমকে সব খুলে বলে। নাজিম অস্বীকার করায়, কাজির নিকট বিচার গেলেও সাক্ষী-প্রমাণের অভাবে আলী তার মোহর ফেরত পায় না। অতঃপর এক কিশোর কাজির বিচক্ষণতায় নাজিম দোষী সাব্যস্ত হলে আলী মোহর দিতে বাধ্য হয় এবং শাস্তি ভোগ করে।
উদ্দীপকেও দিদার সাহেব তার সম্পত্তির দলিল বিশ্বস্ত বন্ধু রনির কাছে রেখে যায় সন্তানদের দেওয়ার জন্য। কিন্তু বিশ্বাসঘাতক বন্ধু রনি তা নিজেই দখল করে নেয়। পরে প্রকৃতিগত কারণেই তার সবকিছু নদী ভাঙনে বিলীন হলে সে নিঃস্ব হয়। সুতরাং বলা যায়, অন্যায়ের শাস্তি যে সুনিশ্চিত ‘কিশোর কাজি’ গল্পের এই দিকটিই উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের রনি যেন ‘কিশোর কাজি’ গল্পের নাজিমের প্রতিনিধিত্ব করেছেÑ উক্তিটি সম্পূর্ণ সত্য ও যৌক্তিক।
প্রতিবেশীর দেখাদেখি আলী মক্কায় হজ করতে যাওয়ার সময় বিশ্বস্ত বন্ধু নাজিমের কাছে মূল্যবান মোহর ও জলপাইপূর্ণ একটি কলসি রেখে যায়। কিন্তু নাজিম অস্বীকার করায় সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে আলী মোহর ফেরত পায় না। পরে এক কিশোর কাজির বিচক্ষণতায় আলী তার মোহর ফেরত পায়।
উদ্দীপকেও তেমনি দিদার সাহেবের বিশ্বাসের অমর্যাদা করে রনি দিদার সাহেবের সব জমি দখল করে নেয়। কিন্তু প্রাকৃতিক কারণেই নদীভাঙনে রনি নিঃস্ব হয়ে পড়ে। গল্পের নাজিম আলীর বিশ্বাসের অমর্যাদা করে সমস্ত মোহর আত্মসাৎ করলেও বিচক্ষণ কিশোর কাজির বিচারে সে দোষীসাব্যস্ত হয় এবং শাস্তি ভোগ করে। যা উদ্দীপকের রনির ওপর প্রতিফলিত হয়েছে। দিদারের বিশ্বাসের অমর্যাদা করে রনি সমস্ত সম্পত্তি নিজে ভোগদখল করে। কিন্তু প্রকৃতির শাস্তিতে তার সমস্ত জমি বিলীন হলে সে নিঃস্ব হয়ে যায়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রনি যেন ‘কিশোর কাজি’ গল্পের নাজিমের প্রতিনিধিত্ব করেছে।
প্রশ্ন -৯  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আরবে এক ব্যক্তি তার জমিতে চাষ করতে গিয়ে এক ঘড়া মোহর পেল। সে মোহরের ঘড়া জমির সাবেক মালিককে ফেরত দিতে গেলে জমির মালিক বলল, ও জমিতে যা আছে সব তোমার কাছে বিক্রি করেছি। তখন সমাধান না পেয়ে তারা রাজার কাছে গেল। রাজা একজনের ছেলে এবং একজনের মেয়ে আছে শুনে তাদের বিয়ে দিয়ে মোহরের ঘড়াটি বিয়ের যৌতুক দিল।
ক. ‘কিশোর কাজি’ গল্পের খলিফার নাম কী? ১
খ. আলী কেন কাজির দরবারে নালিশ জানালেন? ২
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘কিশোর কাজি’ গল্পের বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.“উদ্দীপক এবং ‘কিশোর কাজি’ গল্পে ন্যায়বিচার পরিলক্ষিত হলেও বিচার প্রক্রিয়া ও ফলাফলের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান” মন্তব্যটি যাচাই কর। ৪
 ৯নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. ‘কিশোর কাজি’ গল্পের খালিফার নাম হারুন-অর-রশীদ।
খ. মোহর ফেরত না পাওয়ার কারণে আলী কাজির দরবারে নালিশ করেছিলেন।
মক্কায় হজ পালন করতে পাওয়ার কারণে আলী কোজাই তার মোহরপূর্ণ কলসিটি জলপাই দিয়ে ঢেকে বন্ধু নাজিমের কাছে রেখে গিয়েছিল। দুই বছর পর ফিরে এসে আলী তার কলসিটি ফেরত চাইলে নাজিম শুধু জলপাইপূর্ণ কলসি ফেরত দেয়। পরে আলী নাজিমকে পূর্ণ ঘটনা খুলে বললেও নাজিম তা অস্বীকার করে। অবশেষে নিরুপায় হয়ে আলী কাজির দরবারে নালিশ করে।
গ. নৈতিকতার মানদÐ উদ্দীপক ও ‘কিশোর কাজি’ গল্পের মধ্যে বৈসাদৃশ্য সূচিত করেছে।
‘কিশোর কাজি’ গল্পে আলী কোজাই বন্ধুকে বিশ্বাস করে তার কাছে মোহর ও জলপাইপূর্ণ কলস রেখে যায়। কিন্তু বন্ধু নাজিম এ বিশ্বাসের অমর্যাদা করে মোহরগুলো আত্মসাৎ করে। পরবর্তীতে বন্ধু এসে মোহর চাইলে মোহর রাখার বিষয়টি নাজিম অস্বীকার করে। এখানে তার অসৎ ও লোভী মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে।
অপরপক্ষে উদ্দীপকে জনৈক ব্যক্তি জমিতে চাষ করার সময় এক ঘড়া মোহর পায়। তা জমির মালিককে ফেরত দিতে গেলে জমির মালিক তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ঘটনায় এই দুই ব্যক্তির মধ্যে সততা এবং নৈতিকতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তাই বলা যায়, একদিকে ‘কিশোর কাজি’ গল্পের নাজিমের চরিত্রের লোভ ও অসততা অন্যদিকে উদ্দীপকের জনৈক ব্যক্তি ও জমির সাবেক মালিকের সততা ও নৈতিকতা এই দুই গল্পের মধ্যে বৈসাদৃশ্য রচনা করেছে।
ঘ. উদ্দীপক ও ‘কিশোর কাজি’ গল্পে ন্যায়বিচার পরিলক্ষিত হলেও বিচার প্রক্রিয়া ও ফলাফলের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।মন্তব্যটি যথার্থ।
‘কিশোর কাজি’ গল্পে আলী কোজাইর সারাজীবনের সঞ্চিত সম্পদ বিশ্বস্ত বন্ধু নাজিম আত্মসাতের চেষ্টা করে। কাজির বিচারে প্রমাণের অভাবে আলী তার সম্পদ ফিরে না পেলেও কিশোর কাজির বিচক্ষণতায় সে সেই সম্পদ ফিরে পায়। এখানে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে বিচারকার্য সম্পাদন করার ফলেই আলী তার মোহরগুলো ফিরে পেয়েছে।
উদ্দীপকে বিচারের বিষয়বস্তুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। জনৈক ব্যক্তি চাষ করতে গিয়ে জমিতে এক ঘড়া মোহর পেয়ে জমির সাবেক মালিককে ফিরিয়ে দিতে চায়। জমির সাবেক মালিক তা নিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা রাজার কাছে যায়। এ বিচারে কেউ অপরাধী নয়। তারা দুজনই সততার পরিচয় দিয়েছে। ফলে রাজা সাক্ষী প্রমাণের বালাই না করে বিচারের মাধ্যমে দুই জনের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে দেয়। এতে দুই বিচারের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোল্লিখিত মন্তব্যটি যথার্থ।

প্রশ্ন-১০  এক তাঁতি তাঁর কাপড়ের দোকান করিম বখ্শ নামের একটি ছেলেকে দেখতে বলে বাইরে গেলেন। নানা দুর্বিপাকে পড়ে তাঁতি দীর্ঘদিন ফিরে আসতে পারলেন না। করিম বখ্শ সততার সাথে দোকানদারি করে তিনটি দোকান স্থাপন করল। সাত বছর পরে তাঁতি ফিরে এলে করিম দোকান তিনটির দায়িত্ব তাঁতিকে ফিরে দিতে আগ্রহী হলো। সে কারো আমানত নষ্ট করতে শেখেনি। সবাই করিমের সততার প্রশংসা করতে লাগল।
ক. কে সারাজীবন পরিশ্রম করে অনেক টাকা সঞ্চয় করেছিল? ১
খ. খলিফা ও উজির বিস্মিত হলেন কেন? ২
গ. উদ্দীপকের মূলবক্তব্য কোন দিক দিয়ে ‘কিশোর কাজি’র গল্পের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ‘করিম বখ্শ ও নাজিম আলী বিপরীত মেরুর মানুষ’  উদ্ধৃতিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর। ৪
প্রশ্ন-১১  জনাব তালেব একজন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সরকারি নির্দেশনায় তিনি দেশের বাইরে যাওয়ার সময় তার সম্পত্তির দলিল ছোট ভাই আবু নাসেরের কাছে গচ্ছিত রেখে যান। আবু নাসের বিশ্বাসঘাতকতা করে ভাইয়ের সমস্ত দলিল নিজ নামে জাল দলিল করে নেয়। জনাব তালেব দেশে ফিরে এসে আইনের আশ্রয় নিয়ে সম্পত্তির দলিল ফেরত পান।
ক. কত দিন পর আলী কোজাই বাগদাদে ফিরে আসেন? ১
খ. আলী কোজাই কীভাবে সোনার মোহর ফেরত পেলেন? ২
গ. উদ্দীপকের আবু নাসের চরিত্রে ‘কিশোর কাজি’ গল্পের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ‘আলী কোজাই ও জনাব তালেব একই চরিত্রের প্রতিচ্ছবি’। উক্তিটি মূল্যায়ন কর। ৪

অনুশীলনের জন্য দক্ষতাস্তরের প্রশ্ন ও উত্তর

  জ্ঞানমূলক  
প্রশ্ন \ ১ \ আলী কোজাই তার সঞ্চিত সোনার মোহর কার কাছে গচ্ছিত রেখেছিল?
উত্তর : বণিক আলী কোজাই তার সঞ্চিত সোনার মোহর বন্ধু নাজিমের কাছে গচ্ছিত রেখেছিল।
প্রশ্ন \ ২ \ নাজিম কী ধরনের লোক ছিল?
উত্তর : নাজিম লোভী ও বিশ্বাসঘাতক ছিল।
প্রশ্ন \ ৩ \ বালকেরা কী খেলা খেলছিল?
উত্তর : বালকেরা বণিক আলী কোজাই ও নাজিমের বিচারের খেলা খেলছিল।
প্রশ্ন \ ৪ \ বালক কাজি কার দরবারে বসে বিচারকার্য পরিচালনা করে?
উত্তর : বালক কাজি খলিফা হারুন-অর-রশীদের দরবারে বসে বিচারকার্য পরিচালনা করে।
প্রশ্ন \ ৫ \ আলী কোজাই কলসিতে মোহর না পেয়ে কী করল?
উত্তর : বণিক আলী কোজাই কলসিতে মোহর না পেয়ে নাজিমের কাছে মোহরগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করল।
প্রশ্ন \ ৬ \ আলী কোজাই মক্কায় যান কেন?
উত্তর : হজ করার জন্য আলী কোজাই মক্কায় যান।
প্রশ্ন \ ৭ \ ‘কিশোর কাজি’ গল্পের খলিফার নাম কী?
উত্তর : ‘কিশোর কাজি’ গল্পের খলিফার নাম হারুন-অর-রশীদ।
প্রশ্ন \ ৮ \ ‘কিশোর কাজি’ গল্পে জলপাই খাওয়ার ইচ্ছা হয়েছিল কার?
উত্তর : ‘কিশোর কাজি’ গল্পে নাজিমের স্ত্রীর জলপাই খাওয়ার ইচ্ছা হয়েছিল।
প্রশ্ন \ ৯ \ নাজিম আলী কোজাইর কলসিটি বাড়ির কোথায় রেখেছিল?
উত্তর : নাজিম আলী কোজাইর কলসিটি ভাঁড়ার ঘরে রেখেছিল।
প্রশ্ন \ ১০ \ বালকেরা কার বিচারের খেলা খেলছিল?
উত্তর : বালকেরা আলী ও নাজিমের বিচারের খেলা খেলছিল।
  অনুধাবনমূলক  
প্রশ্ন \ ১ \ খলিফা কেন বালক কাজির শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছিলেন?
উত্তর : খলিফা বালক কাজির বিচার দক্ষতায় খুশি হয়ে তার শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
বালক কাজি রাজদরবারে এসে আলী ও নাজিমের বিচার করে নাজিমকে দোষী প্রমাণিত করে এবং আলীকে তার মোহর ফিরিয়ে দেয়। তখন খলিফা তার এই সুনিপুণ বিচারকার্যের পুরস্কার হিসেবে তাকে ভবিষ্যতে রাজদরবারে কাজি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই লক্ষ্যে তাকে উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য তার শিক্ষার দায়িত্ব নেন।
প্রশ্ন \ ২ \ খলিফা বিচারের খেলা দেখে কী শিখেছিলেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর : খলিফা বিচারের খেলা দেখে বিচার করার সঠিক পদ্ধতি ও যৌক্তিকতা শিখেছিলেন।
কাজি যখন প্রথমে আলী কোজাই ও নাজিমের বিচার করেছিলেন, তখন সঠিক বিচার হয়নি। কারণ কাজি বিচারের বুদ্ধিবৃত্তিক ও যৌক্তিক পথ অনুসরণ করেননি। পূর্ণিমা রাতে বালকেরা যে বিচারের খেলা খেলছিল, সেখানে বিচার ছিল কৌশলপূর্ণ, অর্থাৎ, বালকদের বিচারের খেলা দেখে তিনি বিচার করার সঠিক পদ্ধতি বুঝতে পেরেছিলেন।
প্রশ্ন \ ৩ \ ‘সে কী বন্ধু! তুমি আমার কাছে জলপাই রেখে গেলে। এখন মোহর চাচ্ছ। ব্যাপার কী’? Ñউক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : বন্ধুর কাছে আলী সোনার মোহর ফেরত চাইলে বন্ধু নিজাম বিস্ময়ের ভান করে আলোচ্য উক্তিটি করে।
আলী তার বন্ধুর কাছে জলপাইয়ের আড়ালে লুকানো সোনার মোহরভর্তি একটি কলসি গচ্ছিত রাখতে দেয়। কিন্তু ঘটনাচক্রে নিজাম সেই মোহরের সন্ধান পেয়ে সেগুলো অন্যায়ভাবে রেখে দেয় এবং আলী ফিরে এলে আলীকে জলপাইপূর্ণ কলস ফেরত দেয়। আলী কোজাই যখন বাড়ি গিয়ে কলসিতে শুধু জলপাই পায়, তারপর সোনার মোহর না পেলে আবার বন্ধু নাজিমের কাছে এসে তার মোহর ফেরত চায়। তখন নাজিম তার বন্ধু আলী জোকাইকে উল্লিখিত কথাগুলো বলে।
প্রশ্ন \ ৪ \ খলিফা বালকটিকে কাজির পদ প্রদান করে পুরস্কৃত করলেন কেন?
উত্তর : বালকটির মাঝে ন্যায়বিচার করার যোগ্যতার প্রমাণ পাওয়ায় খলিফা বালকটিকে কাজির পদ প্রদান করে পæরস্কৃত করলেন।
উল্লিখিত বালকটির বুদ্ধিমত্তার কারণেই আলী কোজাই সুবিচার পায়। বালকটির মেধা ও বুদ্ধিমত্তায় খলিফা মুগ্ধ হন। পরবর্তীতে তিনি বালকটির শিক্ষার ব্যবস্থা করেন এবং বড় হলে তাকে কাজির পদ প্রদান করেন।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply