সপ্তম শ্রেণির বাংলা কাবুলিওয়ালা

 গদ্য 
কাবুলিওয়ালা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
লেখক ও রচনা সম্পর্কিত তথ্য

নাম প্রকৃত নাম : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ছদ্মনাম : ভানুসিংহ ঠাকুর।
জন্ম পরিচয় জন্ম : ৭ই মে, ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ (২৫শে বৈশাখ, ১২৬৮ বঙ্গাব্দ)। জন্মস্থান : জোড়াসাঁকো, কলকাতা।
পিতৃ ও মাতৃপরিচয় পিতার নাম : মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। মাতার নাম : সারদা দেবী।
শিক্ষাজীবন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটবেলায় ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, বিদ্যাসাগর প্রতিষ্ঠিত নর্মাল স্কুল, বেঙ্গল একাডেমি, সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল প্রভৃতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করলেও স্কুলের পাঠ শেষ করতে পারেননি। ১৭ বছর বয়সে ব্যারিস্টারি পড়তে ইংল্যান্ডে যান। সে পড়াও শেষ না হতেই দেশে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু স্বশিক্ষা ও স্বীয় সাধনায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এনে দিয়েছেন অতুলনীয় সমৃদ্ধি।
পেশা/কর্মজীবন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পিতৃ আদেশে ১৮৮৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বিষয়কর্ম পরিদর্শনে নিযুক্ত হন। তিনি ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জমিদারি দেখাশোনা করেন।
সাহিত্য সাধনা কাব্যগ্রন্থ : বনফুল, মানসী, কড়ি ও কোমল, সোনার তরী, চিত্রা, ক্ষণিকা, বলাকা, পূরবী, পুনশ্চ, গীতাঞ্জলি, শেষ লেখা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। উপন্যাস : গোরা, ঘরে-বাইরে, চতুরঙ্গ, চোখের বালি, যোগাযোগ, নৌকাডুবি, শেষের কবিতা, দুইবোন, মালঞ্চ ইত্যাদি। কাব্যনাট্য : কাহিনী, চিত্রাঙ্গদা, বসন্ত, বিদায় অভিশাপ, মালিনী, রাজা ও রানি ইত্যাদি। নাটক : অচলায়তন, চিরকুমার সভা, মুক্তধারা, ডাকঘর, রক্তকরবী, রাজা, বিসর্জন ইত্যাদি। গল্পগ্রন্থ : গল্পগুচ্ছ, গল্পস্বল্প, তিনসঙ্গী, লিপিকা ইত্যাদি। ভ্রমণকাহিনি : জাপান যাত্রী, পথের সঞ্চয়, পারস্য, রাশিয়ার চিঠি, য়ুরোপ যাত্রীর ডায়েরি, য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র ইত্যাদি। শিশুসাহিত্য : শিশু ভোলানাথ, খাপছাড়া ইত্যাদি।
পুরস্কার ও সম্মাননা নোবেল পুরস্কার (১৯১৩), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মানসূচক ডিলিট (১৯১৩), অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মানসূচক ডিলিট (১৯৪০), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সম্মানসূচক ডিলিট (১৯৩৬) অর্জন।
জীবনাবসান ৭ই আগস্ট, ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ)।

সৃজনশীলপ্রশ্নওউত্তর
 

প্রশ্ন- ১ ল্ফল্ফ
উদ্দীপক-১ : নতুন দারোয়ান সামাদ মিয়ার সাথে ছেলের বেশি ভাব-বন্ধুত্ব কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না আবীরের মা। তিনি স্বামীকে বোঝান- বিভিন্ন ফন্দি করে মানুষ এখন অন্যের বাচ্চা চুরি করে। সামাদ মিয়াও তো একদিন তেমন কিছু করে বসতে পারে।
উদ্দীপক-২ : বারো বছর আগের ছোট্ট আবীর আজ কলেজ থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় হাসপাতালে। রক্তের জন্য বাবা-মা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন। খবর পেয়ে সামাদ মিয়া ছুটে এসে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলে- ‘সাহেব, আবীর বাবার জন্য আমার সব রক্ত নেন, আমার নিজের ছেলেরে হারাইছি, ওরে হারাইলে আমি বাঁচুম না।’
ক. কাবুলিওয়ালার মলিন কাগজটিতে কী ছিল?
খ. রহমতকে কারাবরণ করতে হয়েছিল কেন?
গ. উদ্দীপক-১ অংশে ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘উদ্দীপকের সামাদ মিয়া যেন কাবুলিওয়ালা গল্পের মূল ভাবকেই ধারণ করে আছে’- বিশ্লেষণ কর।

ক কাবুলিওয়ালার মলিন কাগজটিতে ছিল একটি ছোট হাতের ছাপ।
খ ধারের টাকা নিয়ে বচসা হওয়াকালীন সময়ে জেদের বশে কাবুলিওয়ালা লেখকের প্রতিবেশী রামপুরিকে ছুরি বসিয়ে দেয়। আর এ কারণেই তার কারাদণ্ড হয়েছিল।
কাবুলিওয়ালা কলিকাতার রাস্তায় বিভিন্ন জিনিসের সওদা করত। লেখকের এক প্রতিবেশী রামপুরী চাদরের জন্য কাবুলিওয়ালার কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময় সে মিথ্যা কথা বলে ধারের কথা অস্বীকার করে। এ বিষয়ে প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়ারত অবস্থায় কাবুলিওয়ালা তাকে ক্রোধের বশবর্তী হয়ে ছুরি বসিয়ে দেয়। এ কারণে হাকিমের আদালতে কাবুলিওয়ালার কারাদণ্ড হয়েছিল।
গ সন্তানের যেকোনো প্রকারের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা উদ্দীপক-১ ও ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে সমানভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে কাবুলিওয়ালার ভেতরে পিতৃস্নেহ জেগে ওঠায় শিশু মিনির প্রতি এক ধরনের সখ্যতা গড়ে ওঠে। মিনি ও কাবুলিওয়ালার প্রতি কৌত‚হলী হয়ে ওঠে। তাদের কথাবার্তা যোগাযোগ ও বন্ধুত্বকে লেখক প্রশ্রয় দিলেও মিনির মা বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে দেখেননি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত শঙ্কিত স্বভাবের লোক। কাবুলিওয়ালা সম্পর্কে তিনি নিঃসংশয় ছিলেন না। তার প্রতি দৃষ্টি রাখতে লেখককে বার বার অনুরোধ করেছেন।
উদ্দীপক-১ এ দারোয়ান সামাদ মিয়ার সাথে ছেলের বেশি ভাব-বন্ধুত্ব মেনে নিতে পারেন না আবীরের মা। তিনি মনে করেন এভাবেই বিভিন্ন ফন্দি করে মানুষ অপরের বাচ্চা চুরি করে। সামাদ মিয়াও এমন কিছু করে বসতে পারে। সন্তান চিন্তায় ব্যাকুল নারী স্বামীকে একথা বোঝানোর চেষ্টা করেন। উদ্দীপকের সন্তানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কার দিকটি ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের মিনির মায়ের মধ্যে সমানভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। মিনিকে নিয়ে মিনির মায়ের মনে একই দুর্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল। উদ্দীপক ও ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্প উভয় স্থানে সন্তান চিন্তায় উদ্বিগ্ন মা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
ঘ উদ্দীপকের সামাদ মিয়ার কাছে সন্তানবাৎসল্য মুখ্য হয়ে ওঠায় তা ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের মূল ভাবকেই ধারণ করে আছে।
‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে কাবুলিওয়ালা ও মিনির সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই গল্পের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। কাবুলিওয়ালার মিনির বয়সি এক মেয়ে আছে। জীবন জীবিকার সন্ধানে কাবুলিওয়ালাকে তার নিজ দেশ থেকে বিদেশ বিভঁ‚ইয়ে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। কিন্তু মেয়ের স্মৃতি সে ভুলতে পারে না। চঞ্চল মিনিকে দেখে তার মধ্যে পিতৃত্ব আরো বেশি জেগে ওঠে। নিজের সন্তান ভেবে মিনির সাথে দেখা করে। গল্প করে, বাদাম, কিসমিস মেওয়া ইত্যাদি তাকে দেয়। তাদের এই সম্পর্ক অকৃত্রিম। তাই মিনির বিয়ের দিন মিনির সাথে দেখা হবে না জেনে কাবুলিওয়ালা খুব ব্যথিত হয়।
অন্যদিকে উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি সামাদ মিয়ার ছিল আবীরের বয়সি ছেলে। সন্তান হারানোর দুঃখ ভুলতে সে আবীরের প্রতি আগ্রহ দেখায়। সড়ক দুর্ঘটনায় আবীর আহত হলে হাসপাতালে রক্তের প্রয়োজন হয়। আবীরের এই দুর্ঘটনার খবর শুনে সামাদ মিয়া হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। আর বলে সাহেব, আবীর বাবার জন্য আমার সব রক্ত নেন। আমার ছেলেরে হারাইছি, ওরে হারাইলে আমি বাঁচুম না।
‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে মিনির প্রতি কাবুলিওলার ছিল অপরিসীম স্নেহ ও ভালোবাসা। মিনিকে দেখে সে নিজের মেয়েকে না দেখার কষ্ট ভুলে থাকত। মিনির বিয়ের দিন সে প্রথম বারের মতো অনুভব করেছে মিনির মতো তার মেয়েটিও বিবাহযোগ্য হয়ে উঠেছে। তাছাড়া নিজের মেয়ের হাতের ছাপ সে একটি কাগজে তুলে নিয়ে তা বুকে আগলে রেখেছে। সন্তানের প্রতি এই ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না। উদ্দীপকেও সামাদ মিয়া আবীরের জন্য রক্ত দিতে এগিয়ে এসেছে। মৃত সন্তানের স্মৃতি ভুলে থাকার জন্য সে আবীরের মাঝেই সন্তানকে খুঁজেছে। আবীরের যতœ নিয়েই সে নিজের পিতৃত্বকে শান্ত করতে পেরেছে। তাই বলা যায় উদ্দীপকের সামাদ মিয়া যেন ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের মূল ভাবকেই ধারণ করে আছে।
প্রশ্ন- ১ ল্ফল্ফ
একমাত্র ছেলে রায়হানকে উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ পাঠিয়েছেন জালাল মাস্টার। ছেলের দেয়া চিঠিটি যতœ করে পকেটে রাখেন তিনি। ছেলের অবর্তমানে তার বুকটা যেন ফাঁকা হয়ে গেছে। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে তিনি সন্তানের বিষয়ে কথা বলেন। মাঝে মাঝে চিঠিটি বের করে দেখেন। কখনো কখনো কেমন যেন আনমনা হয়ে যান তিনি।
ক. মিনির বয়স কত? ১
খ. কাবুলিওয়ালাকে দেখে মিনি অন্তঃপুরে দৌড় দিল কেন? ২
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের কোন অংশটুকুর মিল রয়েছে ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. প্রিয় সন্তানকে কাছে না পাওয়ার গভীর আকুতি উদ্দীপক ও ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪

ক মিনির বয়স পাঁচ বছর।
খ একটা ভয়মিশ্রিত আশঙ্কা থেকে মিনি কাবুলিওয়ালাকে দেখে অন্তঃপুরে দৌড় দিল।
মিনি মনে করত কাবুলিওয়ালার ঝুলিটার মধ্যে তার মতো দুটো-চারটে জীবিত মানব সন্তান পাওয়া যেতে পারে। কাবুলিওয়ালাছিল মিনির কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন ব্যক্তি। তাই অন্ধ বিশ্বাসজনিত ভয় থেকেই মিনি অন্তঃপুরে দৌড় দিয়েছিল।
গ উদ্দীপকের সাথে ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের কাবুলিওয়ালার সন্তান বাৎসল্যের অংশটুকুর মিল রয়েছে।
জীবন জীবিকার সন্ধানে কাবুলিওয়ালা বিভিন্ন পণ্য ফেরি করে ফিরলেও বাড়িতে রেখে আসা ছোট মেয়েটির কথা ভুলতে পারেনি। মিনির মধ্যে সে তার সন্তানটিকে খুঁজে পেয়েছিল। মিনির জন্য আনা আঙুর ও কিসমিসের দাম পরিশোধ করতে চাইলে কাবুলিওয়ালা লেখকের হাত চেপে ধরে বলেছিল যে, তারো একটি মেয়ে আছে এবং তার কথা মনে করেই মিনির জন্য এসব আনে। সে সওদা করতে আসে না। সে তার জামার ভিতর থেকে এক টুকরা ময়লা কাগজ বের করে মেলে ধরল যে কাগজের ওপর ছিল একটা ছোট হাতের ছাপ। মেয়ের এই স্মৃতিচি‎হ্নটুকু বুকে নিয়েই সে ঘুরে বেড়ায়।
উদ্দীপকের জালাল মাস্টার তার সন্তানকে উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ পাঠিয়ে এখন সন্তানের সান্নিধ্য কামনায় ব্যাকুল। সন্তানকে স্মরণ করতে তার লেখা চিঠি পকেটে করে রাখে এবং মাঝে মাঝে তা বন্ধুদের দেখায়। সন্তানের চিন্তায় তিনি মাঝে মাঝে আনমনা হয়ে পড়ে। উদ্দীপকের এই সন্তানের সান্নিধ্য লাভের আকাক্সক্ষার সাথে কাবুলিওয়ালার সন্তানবাৎসল্যের যথেষ্ট মিল রয়েছে।
ঘ প্রিয় সন্তানকে কাছে না পাওয়ার গভীর আকুতি আলোচ্য উদ্দীপক ও ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে প্রকাশিত হয়েছে।
হৃদয়ের ধন সন্তানকে কে না ভালোবাসে। রক্তের এ টান মানুষ অস্বীকার করতে পারে না। ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের কাবুলিওয়ালা বিদেশ বিঁভ‚ইয়ে থেকে তার কন্যা সন্তানকে স্মরণ করে। সে তার কন্যাকে খুঁজে পেয়েছিল মিনির ভেতর। তাই সে বার বার মিনির সাথে দেখা করেছে গল্প করেছে। এটা ওটা উপঢৌকন হিসেবে দিয়েছে। মিনির সাথে তার গড়ে উঠেছিল দারুণ সখ্যতা।
উদ্দীপকে জালাল মাস্টার প্রিয় সন্তানকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ায় তার ভেতরটা শূন্য হয়ে গেছে। ছেলে সন্তানটির কথা কেবলই মনে হয়। তাই তিনি সন্তানের বিষয় নিয়ে বন্ধুদের সাথে কথা বলেন, তার লেখা চিঠি দেখান। সন্তানের অনুপস্থিতির কষ্টটা ভুলে থাকার চেষ্টা করেন।
উদ্দীপক এবং ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে সন্তান কাছে থাকার বেদনাই প্রকাশিত হয়েছে। জালাল মাস্টার যেমন তার ছেলে রায়হানকে স্মরণ করেন। কাবুলিওয়ালাও তেমনই তার শিশু কন্যাটিকে স্মরণ করেন। সন্তান কাছে না থাকায় উভয়ের মনে একইরূপ হাহাকার। মাঝে মাঝেই তাদের মন গুমড়ে কেঁদে ওঠে। তাই বলা হয়েছে উদ্দীপক ও ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে সন্তান কাছে না থাকার গভীর আকুতি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রশ্ন- ২ ল্ফল্ফ মুসাফিরের কষ্ট ও পিতৃ হৃদয়ের হাহাকার

“চলে মুসাফির গাহি-
এ জীবনে তার ব্যথা আছে শুধু
ব্যথার দোসর নাহি।”
ক. কাবুলিওয়ালার আসল নাম কী? ১
খ. কাবুলিওয়ালা দেখতে কেমন ছিল? ২
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের ভাবের সাদৃশ্য কতটুকু ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.‘মানবহৃদয় বড়ই বৈচিত্র্যময়’- উদ্দীপক ও “কাবুলিওয়ালা” গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪

ক কাবুলিওয়ালার আসল নাম রহমত।
খ কাবুলিওয়ালা লম্বা গড়নের একজন মানুষ, সে ঢিলা ময়লা কাপড় পরিধান করে।
মাথায় পাগড়ি, ঘাড়ে ঝুলি, হাতে গোটা দুই-চার আঙুরের বাক্স। এমনি বেশভ‚ষা নিয়ে কাবুলিওয়ালা শহরের রাস্তায় সওদা করার উদ্দেশ্যে বিচরণ করে।
গ উদ্দীপকের সাথে ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের ভাবের সাথে আংশিক সাদৃশ্য রয়েছে।
‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের কাবুলিওয়ালা রক্ত-মাংসের একজন মানুষ। তারো ভালোলাগা মন্দলাগা আছে। স্নেহ-প্রেম ভালোবাসা ইত্যাদি অনুভ‚তি তার মাঝেও আবেগ সৃষ্টি করে। মিনির ডাকে তাই কাবুলিওয়ালা সাড়া না দিয়ে পারেনি। নিজের কন্যার বয়সি ওই শিশুটির প্রতি তার এক ধরনের মমত্ববোধ সৃষ্টি হয়েছে। মিনির প্রতি এই টানের কারণ সে বলতে পারেনি। সন্তানকে না দেখার কষ্ট সে একা হৃদয়ে লালন করেছে। জেল খাটার পর কাবুলিওয়ালা আবার মিনির সাথে দেখা করতে এসেছে। মিনির সাথে দেখা করা যাবে না শুনে তার মনটা ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে।
উদ্দীপকে একজন ব্যথিত হৃদয়ের মুসাফিরের কথা বলা হয়েছে। সুখ-দুঃখ মিলেই মানুষের জীবন। মানুষ তার হৃদয়ের একান্ত কষ্টের কথা কাউকে বললে কিছুটা হালকা বোধ করে। আবার কোনো কোনো ব্যথা আছে যা কাউকে বলা যায় না। তখন তা নিজের ভেতরেই গুমরে কেঁদে মরে। মুসাফিরের ব্যথাটা তেমনি। সে তার ব্যথার কথা কাউকে বলতে পারছে না, সে ব্যথার কোনো দোসর নেই যাকে বলে সে হালকা হতে পারে। গল্পে কাবুলিওয়ালা মিনির মাঝে নিজের মেয়ের প্রতিচ্ছবিটি দেখতে পেয়েছিল। সেজন্য সে নিত্য মিনির সাথে দেখা করত। আর কন্যা¯েœহে মিনির প্রতি ভালো লাগায় অনুভ‚তির কথাগুলো কাবুলিওয়ালা ব্যক্তিগত দীর্ঘশ্বাসের চাপ থেকে লেখককে বলতে পেরেছিল। উদ্দীপকে মুসাফির কাউকে তার ব্যথার কথা বলতে না পারলেও কাবুলিওয়ালা লেখককে তার কষ্টের কথা কিছুটা বলেছে। লেখক তার কষ্টে কষ্ট পেয়েছেন তাই বলা যায় উদ্দীপকের সাথে ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের ভাবের আংশিক সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ বৈচিত্র্যময় মানবহৃদয়ের কথাই উদ্দীপক ও ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে প্রকাশিত হয়েছে।
‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে সন্তানবাৎসল্যের কারণে মিনির সাথে কাবুলিওয়ালার সখ্যতা তৈরি হয়েছে। কাবুলিওয়ালা তাকে মেয়ের মতো আদর করে এটা ওটা কিনে দিয়েছে। লেখক তাদের এই সখ্যতা ও মেলামেশার মধ্যে খারাপ কিছু খুঁজে পাননি। কিন্তু লেখকের স্ত্রী বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন এবং লেখককে সাবধান করেছেন। লেখকের এক প্রতিবেশীকে ছুরি মারার অপরাধে ‘কাবুলিওয়ালা’ জেল খেটেছে। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই আবার মিনিকে দেখতে ব্যাকুল হয়ে ছুটে এসেছে।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি মুসাফির তার মনের বেদনা নিয়েই বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়। পৃথিবী চলমান। সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। কিন্তু মুসাফির তার ব্যথা একা বয়ে বেড়াচ্ছে। তার ব্যথার দোসর নেই। এই পৃথিবীর কেউ হাসে কেউ কাঁদে। হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ নিয়ে পৃথিবী চলমান আছে। উদ্দীপক আর ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্প বিশ্লেষণ করলে দেখি মানবহৃদয় সত্যিই বৈচিত্র্যময়। একেক মানুষের ভাবনা কল্পনা একেক রকম। শিশু মিনি যেমন সরলতা দিয়ে তার আশপাশের পরিবেশকে দেখেছে। আবার মিনির মা একভাবে তার পরিমণ্ডলকে দেখে, প্রশস্তচিত্তের লেখক সবকিছুকে অনুভব করেছেন তার মতো করে। কাবুলিওয়ালা মাঝে এক ধরনের মানসিকতা ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকের মুসাফিরের বক্তব্যে এক ধরনের ভাব ব্যঞ্চনা ও দুঃখের অনুভ‚তি প্রকাশিত হয়েছে। তাই বলা যায় মানব হৃদয় বড়ই বৈচিত্রময়।
প্রশ্ন- ৩ ল্ফল্ফ
চার বছর বয়সের মেয়ে নিতু। বড় ভাই শিমুলের কাছ থেকে সেদিন ভ‚তের গল্প শুনেছিল। এখন সে রাতের বেলা ঘর থেকে বের হতে ভয় পায়। একাকী ঘরে থাকতে চায় না। তার আশপাশেই যেন ভ‚ত অবস্থান করছে। তাকে অনেক বোঝানো হলো পৃথিবীতে ভ‚ত বলে কিছু নেই। তবুও তার মন থেকে ভ‚তের চিন্তা যায় না।
ক. মিনির মা কেমন স্বভাবের লোক? ১
খ. ‘বাবা ছাড়া এমন ধৈর্যবান শ্রোতা সে কখনো পায় নাই’ – কেন? ২
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের কোন ঘটনা সাদৃশ্যপূর্ণ -ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.‘কুসংস্কার শিশুর মানসিক সংকট তৈরি করে’ উক্তিটি উদ্দীপক ও ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪

ক মিনির মা অত্যন্ত শঙ্কিত স্বভাবের লোক।
খ কাবুলিওয়ালা মিনি কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন দেখে লেখক প্রশ্নোর উক্তিটি করেছেন, কারণ বাবা ছাড়া মিনির বলা কেউ মনোযোগ দিয়ে শুনত না। মিনি সারাক্ষণ কথা বলত। তাই কথা শোনার মতো ধৈর্যশীল শ্রোতা ছিল না। বাবাই কেবল তার কথা মন দিয়ে শুনতেন। কিন্তু কাবুলিওয়ালার সাথে সখ্যতা সৃষ্টি হওয়ার পর কাবুলিওয়ালা তার কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনত। তাই লেখক বলেছেন, বাবা ছাড়া এমন ধৈর্যবান শ্রোতা সে কখনো পায়নি।
গ উদ্দীপকের সাথে ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের কাবুলিওয়ালাকে দেখে মিনুর ভয় পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
কাবুলিওয়ালাকে দেখেই মিনি ডাকাডাকি শুরু করে দেয়। মিনির ডাকে কাবুলিওয়ালা হেসে মুখ ফিরায় এবং তাদের বাড়ির দিকে যেতে থাকে। অমনি সে ঊর্ধ্বশ্বাসে অন্তঃপুরে দৌড় দেয়। তার চি‎হ্ন দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার মনের মধ্যে একটা অন্ধ বিশ্বাস ছিল যে, কাবুলিওয়ালার ঝুড়িতে দুটো-চারটে জীবিত মানবসন্তান পাওয়া যেতে পারে। মিনির এই অমূলক ভয় দূর করার জন্য লেখক তাকে ডেকে আনলেন। মিনি জড়সড় হয়ে লেখকের পা ঘেষিয়া দাঁড়িয়ে রইল। কাবুলিওয়ালা ঝুলির মধ্য থেকে কিসমিস, খোবানি বের করে তাকে দিতে চাইলে দিগুণ সন্দেহে লেখকের হাঁটুর সংলগ্ন হয়ে রইল।
উদ্দীপকের নিতু ভয় পেয়েছিল ভ‚তের গল্প শুনে। ভ‚তের ধারণা তার মনে বদ্ধমূল হয়ে পড়েছে। তাই সে রাতেরবেলা ঘর থেকে বের হয় না। ঘরে একা থাকতে ভয় পায়। তাকে অনেক বোঝানোর পরও তার মন থেকে ভ‚তের ভয় দূর হয় না। ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পেও প্রথম দিকে কাবুলিওয়ালাকে দেখে মিনির এক অজানা ভয় কাজ করত। মনে মনে তার রোলার মধ্যে রহস্য আবিষ্কার করেছে। মিনির মনে হতো কাবুলিওয়ালার ঝুলির মধ্যে দু০চারটি বাচ্চা লোকানো আছে। তাই মিনি আর নিতুর মানসিক কুসংস্কারের বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘ ‘কুসংস্কার শিশুর মানসিক সংকট তৈরি করে’-মন্তব্যটি যথার্থ।
‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে আমরা লক্ষ করি প্রথম দিকে মিনি কাবুলিওয়ালাকে দেখে ভয়ে দৌড়ে পালিয়েছে। গৃহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সে আর বের হতে চায়নি। মিনি ভেবেছে কাবুলিওয়ালার ঝুলির ভেতর দুচারটি মানব শিশু রয়েছে। লেখক মিনিকে কাবুলিওয়ার সামনে এনে সে ভয় ও কুসংস্কার দূর করার চেষ্টা করেছেন।
উদ্দীপকের নিতুকে তার ভাই ভ‚তের গল্প শুনিয়ে ভয় পাইয়ে দিয়েছে। তার কচিমনে ভ‚তের একটা ভয়ঙ্কর স্মৃতি অঙ্কিত হয়ে গেছে। তাই সে একা থাকতে ভয় পায় এবং রাতের বেলা ঘর থেকে বের হতে পারে না। বহু চেষ্টার পরও তার মন থেকে ভ‚তের ভয় দূর হচ্ছে না।
কাবুলিওয়ালা গল্পে মিনিকে হয়ত কেউ ওই ঝুলিতে কী থাকতে পারে এমন গল্প শুনিয়ে থাকবে। যে কারণে তার মনে এমন ভয়ের অনুভ‚তি সৃষ্টি হয়েছে। উদ্দীপকের নিতুকে যেমন ভ‚তের গল্প শুনিয়ে অবাস্তব ধারণা তার মনে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। এই কুসংস্কারমূলক ধারণা দুটি শিশুর মনেই ব্যপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তাদের সহজ স্বাভাবিক হতে সময় লেগেছে। তাদের মধ্যকার অনেক ক্ষেত্রে শিশুর মানসিক সংকট অনেকসময় বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুর মানসিক বৈকল্যও দেখা দিতে পারে।
প্রশ্ন-৪ ল্ফল্ফ
রুমার আজ বিয়ে। সারাবাড়িতে আলোকসজ্জা, আত্মীয়স্বজন ও মেহমানে ভরপুর ওদের বাড়ি। বাবার সাথে রুমার মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়েছে রুমা যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। রুমার মা পাশের গ্রামের মেয়ে। মেয়ের বিয়েতে তিনি যেতে পারেননি। আলোকসজ্জা আর আতশবাজি দেখে দূর থেকে তিনি চোখ মোছেন। ব্যথিত হৃদয়ে তিনি ভাবেন বিয়ের সাজে রুমাকে আজ কেমন দেখাচ্ছে।
ক. কাবুলিওয়ালা হেসে মুখ ফেরাল কেন? ১
খ. লেখকের চোখ ছলছল হয়ে এলো কেন? ২
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের কোন বিষয়টি সঙ্গতিপূর্ণ ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.‘সন্তানের প্রতি ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না’- উক্তিটি উদ্দীপক ও ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪

ক মিনির চিৎকারে কাবুলিওয়ালা হেসে মুখ ফেরাল।
খ কাবুলিওয়ালার কন্যার স্মরণচি‎হ্নটি দেখে লেখকের চোখ ছলছল করে উঠল।
‘কাবুলিওয়ালা’ বহু যতেœ রাখা এক টুকরা ময়লা কাগজ ভাঁজ খুলিয়া লেখককে দেখাল। কাগজের ওপর একটি ছোট হাতের ছাপ। ছাপটি কাবুলিওয়ালার শিশু মেয়ের। তার মেয়ের এই স্মৃতিচিহ্নটুকু দেখে লেখকের চোখ ছলছল করে উঠল।
গ ‘কাবুলিওয়ালা’ বিয়ের সাজে মিনিকে দেখার দৃশ্যের সাথে উদ্দীপকের রুমার বিয়ের সাজের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
কাবুলিওয়ালা গল্পে কাবুলিওয়ালা কয়েক বছর জেল খাটার পর মিনিকে দেখতে আসে। মিনির সেদিন বিয়ের আয়োজন চলছিল। সানাই বাজছিল। লেখক যখন বললেন আজ যাও, তখন কাবুলিওয়ালা বলল খোঁখীকে একবার দেখতে পাইব না? পুনর্বার নিষেধ শুনে কাবুলিওয়ালা কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। চলে গিয়েও আবার ফিরে এসে তার জন্য আনা আঙুর কিসমিস দিল। লেখক তার কন্যার কথা জানতে পেরে পরে মিনির সাথে দেখা করিয়ে দিলেন। মিনি চলে গেলে একটা গভীর দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে কাবুলিওয়ালা মাটিতে বসে পড়ল। কারণ তার কন্যার কথা আরো গভীরভাবে মনে পড়ল।
উদ্দীপকে নিজ কন্যার বিয়ের আয়োজন হলেও রুমার মায়ের সেখানে উপস্থিত থাকার অধিকার ছিল না। তিনি দূরে থেকে সবকিছু উপলব্ধি করে শুধু চোখ মোছেন। দু:খ কষ্টে তার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছিল। অনুরূপভাবে বধূবেশি মিনিকে দেখে ‘কাবুলিওয়ালার’ হৃদয় ভেঙে চৌচির হয়ে যাচ্ছিল কারণ তার মেয়েও মিনির বয়সি।
ঘ ‘সন্তানের প্রতি ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না’ -এটি একটি চিরন্তন সত্য কথা যা উদ্দীপক ও ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে।
‘কাবুলিওয়ালা’ রবীন্দ্রনাথের এক উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। কাবুলিওয়ালা জীবন জীবিকার প্রয়োজনে আফগানিস্তানের কাবুল থেকে ভারতের কলকাতা অঞ্চলে এসেছে। মিনির ডাকাডাকিতে কাবুলিওয়ালা সাড়া দেয় এবং এক পর্যায়ে গভীর সখ্যতা তৈরি হয়। কাবুলিওয়ালা তাকে পিতৃস্নেহে নানারূপ উপঢৌকন বাদাম, কিসমিস, আঙুর ইত্যাদি দেয়। কাবুলিয়ালা বিভিন্ন সময় মিনির সাথে আলাপচারিতায় লিপ্ত হয়। মিনির বয়সি তার কন্যা থাকায় মিনির প্রতি তার এই আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্দীপকে রুমাকে তার মা প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে। বাবার সাথে তাঁর মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ায় তিনি আর তার মেয়ের বিয়েতে যেতে পারছেন না। একজন জন্মদাত্রী মা তার কন্যার বিয়ের সময় পাশে নেই এটি যে কত কষ্টের কত বেদনার তা বলে বোঝানো যাবে না। তাই তিনি দূর থেকে বিয়ের আলোকসজ্জা আর আতশবাজি দেখে চোখের পানি মোছেন এবং কান্না লুকাবার চেষ্টা করেন।
কাবুলিওয়ালা গল্পের মূল বিষয়বস্তু সন্তানের প্রতি ভালোবাসা। কাবুলিওয়ালা সে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন জেল থেকে ফিরে সাথে সাথে মিনিকে দেখতে এসেছ। আবার বধূবেশি মিনিকে দেখে কন্যার কথা মনে করে অপ্রস্তুত হয়ে গেছে কাবুলিওয়ালা। লেখকও নিজ কন্যা মিনিকে ভালোবাসেন। মিনির মনস্তত্ব তিনি পুরোপুরি বোঝার চেষ্টা করেছেন। মিনির সবকথা তিনি শোনেন এবং তার প্রতি যথেষ্ট সংবেদনশীল। আর রুমার প্রতি তার মায়ের ভালোবাসা অকৃত্রিম। তাই সন্তানের কথা মনে করে তার হৃদয় গুমরে কেঁদে উঠেছে। তাই সন্তানের প্রতি ভালোবাসাই সত্য হয়ে উঠেছে।
প্রশ্ন- ৫ ল্ফল্ফ
নয়াবাড়ি বাজারের ব্যবসায়ী রজব আলী। সালামের কাছে তার পাওনা টাকা চাইলে সালাম তা অস্বীকার করে। এতে তুমুল ঝগড়া বেধে যায়। এক পর্যায়ে রজব আলী তার দোকানের ঝাপের লাঠি দিয়ে সালামের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত হয় সালাম। এ ব্যাপারে সালামের ভাই থানায় অভিযোগ করলে রজব আলীকে আটক করে পুলিশ।
ক. ‘দুহিতা’ কথাটির অর্থ কী? ১
খ. কাবুলিওয়ালা আঙুর, কিসমিস ও বাদামের পয়সা নিতে রাজি হয়নি কেন? ২
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের কোন ঘটনাটি সাদৃশ্যপূর্ণ- ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.‘ক্রোধ মানুষের পরম শত্রæ’ উক্তিটি উদ্দীপক ও কাবুলিওয়ালা গল্পের আলোকে প্রমাণ কর। ৪

ক ‘দুহিতা’ কথাটির অর্থ কন্যা।
খ কাবুলিওয়ালা মিনিকে কন্যার মতো ভালোবাসত তাই আঙুর বাদাম, কিসমিসের মূল্য গ্রহণ করতে রাজি হয়নি।
কাবুলিওয়ালা তার স্নেহের নিদর্শন হিসেবে মিনিকে কিছু কিসমিস বাদাম উপটোকন দিয়েছে। পিতা সন্তানকে কিছু দিয়ে যেমন তার মূল্য নিতে পারে না তেমনি কাবুলিওয়ালাও পারেনি।
গ উদ্দীপকের ঘটনার সাথে কাবুলিওয়ালার জেল খাটার ঘটনাটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে লেখকের এক প্রতিবেশী রামপুরী চাদরের জন্য রহমতের কাছে দেনা ছিল। মিথ্যাপূর্বক দেনা অস্বীকার করায় তা নিয়ে ঝগড়া সৃষ্টি হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে রহমত তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর এই আঘাতের জন্য রহমতের কয়েক বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল।
উদ্দীপকের ব্যবসায়ী রজব সালামের কাছে পাওনা টাকা চাইলে সালাম তা অস্বীকার করে। এতে সালাম ও রজব আলীর মধ্যে ঝগড়া ও কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে রজব আলী তার দোকানের ঝপের লাঠি দিয়ে সালামের মাথায় আঘাত করলে সালাম গুরুতর আহত হয়। আহত সালামের ভাই থানায় অভিযোগ করলে রজব আলীকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের কাবুলিওয়ালা কিংবা রহমতের দেনাদারের সাথে সংঘটিত ঘটনার অনুরূপ। রহমত রাগের বশবর্তী হয়ে ছুরি মেরে গুরুতর অপরাধ করে ফেলেছে। তাই তাকে জেল খাটতে হয়েছে। তাই উদ্দীপকের ঘটনা ও কাবুলিওয়ালার ঘটনার সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ ‘ক্রোধ মানুষের পরম শত্রæ’ উক্তিটি উদ্দীপক ও ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে সত্য হয়ে উঠছে।
‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে কাবুলিওয়ালা বা রহমত তার দেনাদারের কাছে পাওনা টাকা চাইলে তা অস্বীকার করায় কাবুলিওয়ালার ভিতর অতিরিক্ত ক্রোধ জেগে উঠেছিল। ক্রোধের বশবর্তী হয়ে সে এক পর্যায়ে তাকে ছুরি বসিয়ে দেয়। ফলে এটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ অপরাধে কাবুলিওয়ালাকে বেশ কয়েকবছর জেল খাটতে হয়।
উদ্দীপকের রজব আলী একজন ব্যবসায়ী। সালামের কাছে পাওয়া টাকা চাইলে সালাম তা অস্বীকার করে। এ নিয়ে তুমুল ঝগড়া বেধে যায়। এক পর্যায়ের রজব আলী তার দোকানের ঝাপের লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করে। সালাম গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ রজব আলীকে আটক করে।
উভয় ঘটনায় আমরা দেখি, সেখানে ক্রোধের ফলেই ঘটনা দুটি ঘটেছে। কাবুলিওয়ালা তার অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে নিজেকে সংবরণ করতে পারেনি ফলে ছুরি বসিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি। তার ক্রোধ তাকে অস্বাভাবিক করে তুলেছে। ফলে সে অমানবিক ও নির্দয় কাজটি করেছে। পাশাপাশি রজব আলীও ক্রোধের বশবর্তী হয়ে বাড়াবাড়ি করেছে। লাঠি দিয়ে মারাত্মক আঘাত করায় সালাম গুরুতর আহত হয়। তাই বলা যায় ক্রোধ মানুষের পরম শত্রæ।
 অনুশীলনের জন্য সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক (উত্তরসংকেতসহ)
প্রশ্ন- ৬ ল্ফল্ফ
মুন্নি তার বাবার সাথে গ্রাম থেকে শহরে আসল। শহর দেখে অবাক হলো সে। যাই দেখে তাই তার ভালো লাগে। হঠাৎ তার বাবাকে হারিয়ে ফেলল সে। হাঁটতে হাঁটতে কোথায় চলে এলো বুঝতে পারল না। ভয়ে কাঁদতে লাগল মুন্নি। রফিক নামে একজন মুন্নিকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তার নিজের মেয়ের সাথে রাখলেন। মুন্নি তার ঠিকানা বলতে পারে না। রফিক সাহেব অনেক চেষ্টা করলেন মুন্নিকে তার বাবা মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে। কিন্তু পারলেন না। শেষে তিনি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলেন। সেই বিজ্ঞাপন দেখে মুন্নির বাবা মুন্নিকে নিতে এলো।
ক. কাবুল কী? ১
খ. ‘তাহাকে দেখিয়া আমার কণ্যারত্মের কীরূপ ভাবোদয় হইল বলা শক্ত’- ব্যাখ্যা কর । ২
গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের কোন বিষয়টির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা নির্ণয় কর। ৩
ঘ. “উদ্দীপকের ঘটনা ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও পুরো গল্পের প্রতিনিধিত্ব করে না”- কথাটি উদ্দীপক ও গল্পের আলোকে বিচার কর। ৪

ক আফগানিস্তানের রাজধানীর নাম কাবুল।
খ কাবুলিওয়ালাকে দেখে মিনি অধিক ভয় পেয়ে গুটিয়ে যাওয়ার কারণে লেখক প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেন।
পাঁচ বছর বয়সি মিনির কাছে কাবুলিওয়ালা সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন লোক। তার উপরে কাবুলিওয়ালা বিশাল লম্বা, গায়ে ঢিলা পোশাক, মাথায় পাগড়ি, ঘাড়ে ঝুলি, হাতে গোটা দুইচার আঙুরের বাক্স- এমন অদ্ভুত দর্শন মানুষকে বাড়ির বাইরে দেখে খুশি হলেও বাড়ির ভিতরে আসলে ভয়ে সেঁধিয়ে যায়। মিনির ভয় ভাঙানোর চেষ্টা করলেও মিনির ভয় ভাঙে না।
ঢপষঁংরাব লিংক : প্রয়োগ (গ) ও উচ্চতর দক্ষতার (ঘ) প্রশ্নের উত্তরের জন্য অনুরূপ যে প্রশ্নের উত্তর জানা থাকতে হবে-
গ মিনি সাথে লেখক কাবুলিয়ালার দেখা করিয়ে দিলেন এবং একজন পিতার হৃদয় দিয়ে কাবুলিওয়ালার কষ্ট অনুভব করেছেন- এ বিষয়গুলো উদ্দীপক ও কাবুলিওয়ালা গল্পের তুলনামূলক আলোচনা কর।
ঘ উদ্দীপকে মিনির বালিকাসুলভ চপলতার অনেক ঘটনা আছে যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত এছাড়া অন্যান্য বিষয়ের আলোচনা করতে হবে যা উদ্দীপকে নেই।
প্রশ্ন- ৭ ল্ফল্ফ
রায়হান কাজের খোঁজে মালয়েশিয়ায় গেল। সেখানে থাকতে মন চায় না তার। সারাদিন বাড়ির কথা মনে পড়ে। নিজের ছেলেটার কথা খুব মনে হয়। তাকে দেখতে ইচ্ছা করে কিন্তু কী আর করার? অর্থ উপার্জন ছাড়া সংসার চলবে না তার। তাই চোখের জলে বুক ভিজিয়ে অপেক্ষা করে। কেটে যায় ১০টি বছর। রায়হান দেশে ফিরে আসে। তার ছেলে রানা তখন ১৬ বছরের তরুণ। নিজের ছেলেকে দেখে চিনতেই পারে না রায়হান।
ক. পঞ্চবর্ষীয় শব্দের অর্থ কী? ১
খ. ‘হামি সসুরকে মারবে’- ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকের রায়হান ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের রহমতেরই প্রতিরূপ- কথাটি ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. “সন্তান যত দূরেই থাক, সে থাকে পিতার অন্তরে।”- কথাটির সার্থকতা ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে ও উদ্দীপকের আলোকে বিচার কর। ৪

ক পঞ্চবর্ষীয় শব্দের অর্থ পাঁচ বছর ।
খ আলোচ্য উক্তিটি কাবুলিওয়ালাকে পঞ্চবর্ষীয় মিনিকে উদ্দেশ্য করে বলেছে।
প্রথম দর্শনে মিনি কাবুলিওয়ালাকে দেখে ভর পেলেও পরবর্তী সময় মিনি ও কাবুলিওয়ালার মধ্যে একটি হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। মিনি ও কাবুলিওয়ালার মধ্যে ধরা বাঁধা কিছু কৌতুক-তামাশা প্রচলিত ছিল। তার একটি হচ্ছে মিনিকে কাল্পনিক কোনো শ্বশুরবাড়ির ভর দেখানো। মিনি ও সে বিষয়ে জবাব দিলে কাবুলিওয়ালা ঠাট্টা ছলে বলত হামি সসুরকে মারবে।
ঢপষঁংরাব লিংক : প্রয়োগ (গ) ও উচ্চতর দক্ষতার (ঘ) প্রশ্নের উত্তরের জন্য অনুরূপ যে প্রশ্নের উত্তর জানা থাকতে হবে-
গ নিজ সন্তানের সান্নিধ্য লাভের ইচ্ছা বেরূপ রহমতের সেরূপ রায়হানেরও- এ বিষয়টি উদ্দীপক ও ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের সাদৃশ্যের বিষয় হিসেবে আলোচনা করতে হবে।
ঘ ‘সন্তান কত দূরেই যাক, সে থাকে পিতার অন্তরে’ উক্তিটি সর্বাংশে সত্য এ বিষয়ে উদ্দীপক এবং ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আলোচনা করতে হবে।

সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

 বিষয়ক্রম অনুযায়ী বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
 লেখক পরিচিতি º বোর্ড বই, পৃষ্ঠা ০৬
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন? (জ্ঞান)
 ১৮৬১ খ ১৮৬২ গ ১৮৬৩ ঘ ১৮৬৪
২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা কত সনে জন্মগ্রহণ করেন? (জ্ঞান)
ক ১২৬৪ খ ১২৬১  ১২৬৮ ঘ ১২৬৩
৩. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার লাভ করেন কোন কাব্যের জন্য? (জ্ঞান)
ক সোনার তরী খ বলাকা  গীতাঞ্জলি ঘ রক্তকরবী
৪. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন? (জ্ঞান)
ক সেন খ ঘোষ  ঠাকুর ঘ পাল
৫. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? (জ্ঞান)
ক কলকাতার সুভাস পল্লিতে
 কলকাতার জোড়াসাঁকোতে
গ পশ্চিম দিনাজপুরে
ঘ কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে
৬. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বছর বয়সে ব্যারিস্টারি পড়তে বিলেত যান? (জ্ঞান)
 ১৭ খ ১৮ গ ১৯ ঘ ২৯
৭. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্যের নাম কী? (জ্ঞান)
ক গীতাঞ্জলি খ সোনার তরী গ চিত্রা  বনফুল
৮. ‘বিশ্বভারতী’ প্রতিষ্ঠা করেন কে? (জ্ঞান)
ক কাজী নজরুল ইসলাম খ রঙ্গলাল সেন
 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঘ অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৯. বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্পের জনক বলা হয় কাকে? (অনুধাবন)
 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে খ সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে
গ রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘ কালিদাস রায়কে
১০. বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা কে? (জ্ঞান)
ক কাজী নজরুল ইসলাম  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
গ ডি. এল রায় ঘ প্রমথ চৌধুরী
১১. ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটির প্রথম কত লাইন জাতীয় সংগীতের মর্যাদা পায়? (জ্ঞান)
ক ৮  ১০ গ ১৫ ঘ ২০
১২. ‘রক্তকরবী’ কোন জাতীয় রচনা? (জ্ঞান)
 নাটক খ উপন্যাস গ ছোটগল্প ঘ প্রবন্ধ
১৩. ‘শেষের কবিতা’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম? (জ্ঞান)
ক কবিতা খ ছোটগল্প  উপন্যাস ঘ নাটক
১৪. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটদের জন্য কোন গ্রন্থটি রচনা করেছেন? (জ্ঞান)
ক গোরা  খাপছাড়া গ বলাকা ঘ ডাকঘর
১৫. ছোটদের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা গ্রন্থ কোনটি? (জ্ঞান)
 শিশু ভোলানাথ
খ সোনার তরী
গ শেষের কবিতা
ঘ রাজা
১৬. রবীন্দ্রনাথ কোন সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন? (জ্ঞান)
ক ১৯১১ খ ১৯১২  ১৯১৩ ঘ ১৯১৪
১৭. ‘সোনার তরী’ একটি? (জ্ঞান)
ক গল্প  কাব্য গ উপন্যাস ঘ নাটক
১৮. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মৃত্যুবরণ করেন কত খ্রিষ্টাব্দে? (জ্ঞান)
 ১৯৪১ খ ১৯৪২ গ ১৯৪৩ ঘ ১৯৪৪
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৯. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন একাধারেÑ (অনুধাবন)
র. সাহিত্যিক রর. শিক্ষাবিদ
ররর. গীতিকার
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
২০. বাংলা সাহিত্যের যে শাখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদানে ঐশ্বর্যমণ্ডিত (অনুধাবন)
র. কবিতা, ছোটগল্প
রর. নাটক, উপন্যাস
ররর. প্রবন্ধ, গান
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
২১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ (অনুধাবন)
র. সোনার তরী রর. নৌকাডুবি
ররর. বলাকা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
২২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক (অনুধাবন)
র. ডাকঘর রর. বিসর্জন
ররর. রাজা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
২৩. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস হচ্ছে- (অনুধাবন)
র. গোরা রর. ঘরে বাইরে
ররর. যোগাযোগ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর গ র ও ররর  র, রর ও ররর

 মূলপাঠ
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২৪. ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের মিনির বয়স কত ছিল?
ক চার  পাঁচ গ ছয় ঘ সাত
২৫. ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের দারোয়ানের নাম কী?
ক রামপাল  রামদয়াল গ রামকুমার ঘ রমেশ গাইন
২৬. সকালবেলা লেখক নভেলের কোন পরিচ্ছেদ হাতে নিয়ে ছিলেন? (জ্ঞান)
ক সপ্তম খ একাদশ গ দ্বাদশ  সপ্তদশ
২৭. লেখার টেবিলের পাশে লেখকের পায়ের কাছে কে বসে ছিল?
ক বিড়াল খ কাবুলিওয়ালা  মিনি ঘ দারোয়ান
২৮. লেখকের ঘর কোথায়? (জ্ঞান)
ক পুকুর ধারে  পথের ধারে
গ কুপের ধারে ঘ নদীর ধারে
২৯. কাবুলিওয়ালা দেখতে কেমন? (জ্ঞান)
ক খাটো  লম্বা গ মাঝারি ঘ ফর্সা
৩০. কাবুলিওয়ালার মাথায় কী ছিল? (জ্ঞান)
ক টুপি  পাগড়ি গ মাফলার ঘ গামছা
৩১. কাবুলিওয়ালার পরনে কেমন কাপড় ছিল? (অনুধাবন)
ক ময়লা ছেঁড়া
খ ময়লা তালিযুক্ত
 ময়লা ঢিলা
ঘ পরিস্কার ঢিলা
৩২. কাবুলিওয়ালাকে দেখিয়া মিনি কেমন ভাবে ডাকাডাকি আরম্ভ করল?
 ঊর্ধ্বশ্বাসে খ মিষ্টি কণ্ঠে
গ শান্ত কণ্ঠে ঘ কর্কশ কণ্ঠে
৩৩. কন্যাকে আদর করে রতেœর সঙ্গে তুলনা করাকে কী বলে? (জ্ঞান)
ক কন্যাদান খ কন্যারত
 কন্যারতœ ঘ কন্যারতœা
৩৪. আফগানিস্থানের রাজধানীর নাম কী? (জ্ঞান)
ক টোকিও খ কাঠমুণ্ডু  কাবুল ঘ রিয়াদ
৩৫. মিনি কাবুলিওয়ালাকে হাসতে হাসতে কী জিজ্ঞাসা করিত? (জ্ঞান)
 তোমার ঝুলির ভিতর কী
খ তোমার বাড়ি কোথায়
গ তোমার নাম কী
ঘ তোমার মেয়ে কোথায়
৩৬. মিনির মা কেমন স্বভাবের লোক ছিল? (জ্ঞান)
 অত্যন্ত শঙ্কিত
খ অত্যন্ত রাগি
গ অত্যন্ত শান্ত
ঘ অত্যন্ত নরম
৩৭. সকালে লেখক ছোট ঘরে বসে কী করছিল? (জ্ঞান)
ক উপন্যাস লিখছিলেন
খ গান শুনছিলেন
 প্রæফশিট সংশোধন করছিলেন
ঘ বই পড়ছিলেন
৩৮. রহমতের কাছে কে কিষ্ণিৎ অর্থ ধার করেছিল? (জ্ঞান)
ক লেখক খ মিনি  রামপুরী ঘ মিনির মা
৩৯. রামপুরীকে সাংঘাতিক আঘাত করার কারণে কাবুলিওয়ালার কী হয়েছিল? (জ্ঞান)
ক মৃত্যুদণ্ড খ যাবৎ জীবন কারাদণ্ড
 কয়েক বছর কারাদণ্ড ঘ তিন মাসের কারাদণ্ড
৪০. “আজকার এই শুভদিনে এ লোকটা এখান হইতে গেলেই ভালো হয়” এ উক্তিটিতে কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে? (উচ্চতর দক্ষতা)
 সামাজিক কুসংস্কার খ সামাজিক অবহেলা
গ সামাজিক রীতিনীতি ঘ সামাজিক প্রেক্ষাপট
৪১. কাবুলিওয়ালা পকেট থেকে কী বের করে মেলে ধরল? (জ্ঞান)
ক ময়লা রোমাল  ময়লা কাগজ গ ছেঁড়া কাপড় ঘ ছেঁড়া টাকা
৪২. কাগজের উপর কী ছিল?
 হাতের ছাপ খ হাতের লেখা গ ফটো গ্রাফ ঘ ছবি আঁকা
৪৩. প্রতিবছর কন্যার স্মরণচিহ্নটুকু নিয়ে কলকাতার রাস্তায় কী বেচতে আসে? (জ্ঞান)
 মেওয়া খ কাপড় গ খেলনা ঘ আচার
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৪৪. কাবুলিওয়ালা ঝুলির মধ্য থেকে বের করল- (অনুধাবন)
র. খোবানি রর. কিসমিস
ররর. আপেল
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৪৫. মিনির ক্ষুদ্র আঁচল পরিপূর্ণ ছিল (অনুধাবন)
র. বাদাম রর. কিসমিস
ররর. খেজুর
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৪৬. মিনি ও কাবুলিওয়ালার মধ্যে প্রচলিত ছিল- (অনুধাবন)
র. গুটিকতক বাঁধা কথা রর. ঠাট্টা
ররর. কৌতুক
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৪৭. “খোঁখীকে একবার দেখিতে পাইব না?”
কাবুলিওয়ালার এ উক্তিটিতে যে ভাব ফুটে উঠেছে- (উচ্চতর দক্ষতা)
র. পিতৃস্নেহের রর. মমত্ববোধের
ররর. কর্তব্যবোধের
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৪৮. “রহমত তুমি দেশে তোমার মেয়ের কাছে ফিরিয়া যাও; তোমার মিলন সুখে আমার মিনির কল্যাণ হউক” লেখকের এ উক্তিতে যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে- (উচ্চতর দক্ষতা)
র. সন্তানের মঙ্গল চিন্তা সব পিতারই সহজাত আকাক্সক্ষা
রর. পিতৃত্বের চিরন্তন সার্বজনীন রূপ
ররর. পিতার ভেতরের স্নেহপ্রবণ মনের ঐক্য
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৪৯ ও ৫০ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
নজির মিয়া চুড়িফিতা বিক্রি করে বেড়ায়। তার মেয়ের বয়সি একটি মেয়ে ¯¦র্ণাকে সে খুব আদর করে। সামান্য একটি অপরাধে তাকে কয়েক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জেল থেকে ফিরে সে প্রথমে স্বর্ণার সাথে দেখা করতে যায়।
৪৯. অনুচ্ছেদটি তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন গল্পের সাথে সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? (প্রয়োগ)
ক মাল্যদান  কাবুলিওয়ালা গ লখার একুশে ঘ বলাই
৫০. অনুচ্ছেদটিতে উক্ত গল্পের যে বিষয় প্রকাশ পেয়েছে- (উচ্চতর দক্ষতা)
র. পিতৃস্নেহের রর. স্নেহপ্রবণতার
ররর. সহজাত আকাক্সক্ষার
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৫১ ও ৫২ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আজগর আলি প্রতি বছর পৌষ মাসে নানা প্রকার পণ্যের সওদা করতে রংপুরে যায়। সে বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় তার কন্যার ছবি বুক পকেটে করে নিয়ে যায়।
৫১. অনুচ্ছেদটি তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন গল্পটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? (প্রয়োগ)
ক বলাই খ ছবির রং
 কাবুলিওয়ালা ঘ লাল ঘোড়া
৫২. উক্ত গল্পের প্রতিফলিত যে দিক অনুচ্ছেদে ফুটে উঠেছেÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. সব মানুষের দুঃখ কষ্ট অনেকাংশে এক
রর. সব মানুষের আনন্দ অনুভ‚তি অভিন্ন
ররর. সব মানুষের ভালোবাসার অনুভ‚তি প্রায় একই
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর

 শব্দার্থ ও টীকা
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৫৩. ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে ‘দণ্ড’ শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? (জ্ঞান)
 মুহ‚র্ত খ জরিমানা গ লাঠি ঘ চাঙ্গারি
৫৪. ‘সপ্তদশ’ শব্দটির অর্থ কী? (জ্ঞান)
 সতেরো খ সাতাশ গ সত্তর ঘ সাতাত্তর
৫৫. ‘পরিচ্ছেদ’ শব্দটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? (অনুধাবন)
ক পোশাক খ পরিষদ  অধ্যায় ঘ পরিবেশ
৫৬. ‘অভিপ্রায়’ শব্দটির অর্থ কী? (জ্ঞান)
ক অভিলাষ  ইচ্ছা গ আসক্তি ঘ অভিনন্দন
৫৭. রেবতী ঊর্ধ্বশ্বাসে অন্তঃপুরে দৌড় দিল। ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে ‘ঊর্ধ্বশ্বাসে’ শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। (প্রয়োগ)
ক দীর্ঘবেগে  অতি দ্রæত বেগে গ ভাবাবেগে ঘ দৌড়বেগে
৫৮. কাবুলিওয়ালা কর্তৃক ‘খুকি’ শব্দের অশুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি? (জ্ঞান)
ক খুকী খ খুঁকি গ খোকী  খোঁখী
৫৯. ‘প্রফুল্ল’ শব্দটির অর্থ কী? (জ্ঞান)
 আনন্দিত খ অনাদৃত গ আলোকিত ঘ প্রভাবিত
৬০. ‘লড়কী’ শব্দটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? (অনুধাবন)
ক খড়ি খ বৈঠা  মেয়ে ঘ ননদ
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৬১. ‘অনর্গল’ শব্দটির অর্থ- (অনুধাবন)
র. অবিরত রর. অনবরত
ররর. অবহেলিত
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৬২. ‘সমীপস্থ’ শব্দটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে- (অনুধাবন)
র. নিকটে রর. কাছে
ররর. সন্নিকটে
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর
গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৬৩. ‘ভাবোদয়’ শব্দটির অর্থ- (অনুধাবন)
র. ভাবের উদয় রর. মনে চিন্তা
ররর. ভাবনা জাগা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
 পাঠ পরিচিতি
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৬৪. ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের লেখকের নাম কী? (জ্ঞান)
ক হাসান আজিজুল হক
খ শিবরাম চক্রবর্তী
গ মোহাম্মদ নাছির আলী
 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৬৫. ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পটি পাঠের উদ্দেশ্য কী? (অনুধাবন)
 বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রীতির সাহিত্যকে অনুপ্রাণিত করা
খ মনুষ্যবোধকে জাগ্রত করা
গ বাংলাদেশের প্রকৃতিপ্রেমের অনুভ‚তি জাগ্রত করা
ঘ মানবতাবোধের দিকে বাঙালিকে অনুপ্রাণিত করা
৬৬. ভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠলেও মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ ভালোবাসার অনুভ‚তি কেমন? (অনুধাবন)
ক সমান নয় খ ব্যক্তি বিশেষ গ পার্থক্য  এক
৬৭. আফগানিস্তানের মরু পর্বতের প্রকৃতি কেমন? (অনুধাবন)
ক উষ্ণ  রুক্ষ গ আদ্র ঘ শীতল
৬৮. নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার একজন বাঙালি পিতার ধারণা কেমন? (অনুধাবন)
ক কর্তব্যপরায়ণ মনের  স্নেহপ্রবণ মনের
গ দায়িত্বপ্রবণ মনের ঘ দায়িত্বহীন মনের
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৬৯. ‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বের সকল পিতার-
(উচ্চতর দক্ষতা)
র. পিতৃত্বের সার্বজনীন রর. পিতৃত্বের চিরন্তন রূপ
ররর. পিতৃত্বের সহজাত প্রবৃতি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৭০. মানুষের যে অনুভ‚তি অনেকাংশেই এক (উচ্চতর দক্ষতা)
র. সুখ-দু:খ রর. আনন্দ ভালোবাসার
ররর. চিন্তা-চেতনার
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর

 মাস্টার ট্রেইনার প্রণীত সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

 জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ কে একদণ্ড কথা না বলে থাকতে পারত না?
উত্তর : মিনি একদণ্ড কথা না বলে থাকতে পারত না।
প্রশ্ন \ ২ \ মিনি ছোট বেলায় কোন খেলাটি অধিক খেলত?
উত্তর : মিনি ছোট বেলায় আগডুম বাগডুম খেলাটি অধিক খেলত।
প্রশ্ন \ ৩ \ অল্প দিনের পরিচয়ে মিনির সাথে কার বন্ধুত্ব গড়ে উঠল?
উত্তর : অল্প দিনের পরিচয়ে মিনির সাথে কাবুলিওয়ালার বন্ধুত্ব গড়ে উঠল।
প্রশ্ন \ ৪ \ কাবুলিওয়ালার ঝুড়ির ভেতর দু-তিনটি মানুষ আছে এরকম কার মনে হতো?
উত্তর : কাবুলিওয়ালার ঝুড়ির ভেতর দু-তিনটি মানুষ আছে এরকম মিনির মনে হতো।
প্রশ্ন \ ৫ \ কাবুলিওয়ালার সাথে মিনির যখন পরিচয় হয় তখন মিনির বয়স কত ছিল?
উত্তর : কাবুলিওয়ালার সাথে মিনির যখন পরিচয় হয় তখন মিনির পাঁচ বছর।
প্রশ্ন \ ৬ \ কে কাবুলিওয়ালা সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিঃসংশয় ছিলেন না?
উত্তর : মিনির মা কাবুলিওয়ালা সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিঃসংশয় ছিলেন না।
প্রশ্ন \ ৭ \ কে শ্বশুর নামক কোনো এক অপরিচিত জীবনের দুরবস্থা কল্পনা করে অত্যন্ত হাসত?
উত্তর : মিনি শ্বশুর নামক কোনো এক অপরিচিত জীবনের দুরবস্থা কল্পনা করে অত্যন্ত হাসত।
প্রশ্ন \ ৮ \ কাবুলিওয়ালা মিনিকে সবসময় কী খেতে দিত?
উত্তর : কাবুলিওয়ালা মিনিকে সবসময় খোরমা, কিসমিস ও বাদাম খেতে দিত।
প্রশ্ন \ ৯ \ কাবুলিওয়ালা কাকে ছুরি বসিয়ে দিয়েছেন?
উত্তর : কাবুলিওয়ালা লেখকের প্রতিবেশী রামপুরীকে ছুরি বসিয়ে দিয়েছিল।
প্রশ্ন \ ১০ \ কাবুলিওয়ালা জেল থেকে খালাস পেয়েছিল কখন?
উত্তর : কাবুলিওয়ালা জেল থেকে খালাস পেয়েছিল সন্ধ্যাবেলা।
প্রশ্ন \ ১১ \ কাবুলিওয়ালা তার নিজের কন্যার কোন চি‎হ্নটি বয়ে বেড়াত?
উত্তর : কাবুলিওয়ালা তার নিজ কন্যার ভুসা মাখানো একটি হাতের ছাপ দেওয়া কাগজ বয়ে বেড়াত।
প্রশ্ন \ ১২ \ ‘কাবুলিওয়ালা’ কোথায় মেওয়া বিক্রি করতে আসে?
উত্তর : ‘কাবুলিওয়ালা’ কলিকাতার রাস্তায় মেওয়া বিক্রি করতে আসে।
প্রশ্ন \ ১৩ \ ‘কাবুলিওয়ালা’ কোন অঞ্চলে বসবাস করে?
উত্তর : কাবুলিওয়ালা আফগানিস্তান অঞ্চলে বসবাস করে।
প্রশ্ন \ ১৪ \ ‘মুষ্টি আস্ফালন’ শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর : ‘মুষ্টি আস্ফালন’ শব্দটি অর্থ হচ্ছে জোরে হাতের উক্তি নাড়ানো।
প্রশ্ন \ ১৫ \ এশীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথম কে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
উত্তর : এশীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
প্রশ্ন \ ১৬ \ ‘শ্রীনিকেতন’ ও বিশ্বভারতী এ প্রতিষ্ঠান দুটি কে গড়ে তোলেন?
উত্তর : ‘শ্রীনিকেতন’ ও ‘বিশ্বভারতী’ এ প্রতিষ্ঠান দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গড়ে তোলেন।
প্রশ্ন \ ১৭ \ ছোটদের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত গল্পসমূহ সংকলিত হয়েছে কোন গ্রন্থে?
উত্তর : ছোটদের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত গল্পসমূহ সংকলিত হয়েছে ‘কৈশোরক’ নামক গ্রন্থে।
প্রশ্ন \ ১৮ \ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বঙ্গাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ মিনির বাবা কোনো কিছুতে কর্ণপাত করলেন না কেন?
উত্তর : মিনির বাবা যখন অনুধাবন করতে পারলেন কাবুলিওয়ালা পিতৃ-হৃদয়ের চিরন্তন ভালোবাসা থেকে মিনিকে স্নেহ করেন তখন উভয়ের সাক্ষাতের জন্য তিনি বাড়ির কারো কথায় কর্ণপাত করলেন না।
কাবুলিওয়ালা মিনিকে কন্যাস্নেহে স্নেহ করতেন। সে কারণে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি সর্বপ্রথম মিনিকে দেখতে আসেন। সেদিন আবার মিনির বিবাহ ছিল। তাই বাড়ির কেউ কাবুলিওয়ালার সাথে মিনির সাক্ষাৎ করতে দিতে রাজি হচ্ছিল না। কিন্তু মিনির বাবা কাবুলিওয়ালার স্নেহের বিষয়টি উপলব্ধি করে সকলের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উভয়ের সাক্ষাৎ করিয়ে দেন।
প্রশ্ন \ ২ \ কাবুলিওয়ালা মিনিকে অধিক স্নেহ করার কারণ কী?
উত্তর : মিনির ন্যায় কাবুলিওয়ালার নিজ বাসভ‚মে একটি কন্যা থাকার কারণে কাবুলিওয়ালা মিনিকে অধিক স্নেহ করে।
কাবুলিওয়ালা আফগানিস্তানে পরিবার পরিজনকে ছেড়ে কলকাতায় রাস্তায় নানা জিনিসপত্রের সওদা করে। দীর্ঘ সময় ব্যবসায়ের প্রয়োজনে বাইরে অবস্থান করলেও কাবুলিওয়ালা তার পরিবারকে দারুণভাবে অনুভব করে। তাই মিনিকে দেখে কাবুলিওয়ালা নিজ কন্যাকে দেখার অভিলাষ পূরণ করে।
প্রশ্ন \ ৩ \ “আপনার বহুৎ দয়া, আমার চিরকাল স্মরণ থাকিবে।”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : কাবুলিওয়ালা রহমত মিনির বাবাকে তার স্নেহের প্রতিদান সম্পর্কে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছে।
কাবুলিওয়ালা জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মিনিকে দেখতে আসে। লেখক কাবুলিওয়ালাকে কিছু টাকা দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু কাবুলিওয়ালা তা গ্রহণ না করে নিজের মেয়ের কথা লেখককে বলে। লেখক তখন মিনির সাথে কাবুলিওয়ালার সাক্ষাতের অনুমতি দিলে উল্লিখিত উক্তিটির উদ্ভব হয়।
প্রশ্ন \ ৪ \ মিনির মা কাবুলিওয়ালা সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিঃসশংয় ছিলেন না কেন?
উত্তর : কাবুলিওয়ালার দৈহিক গড়ন ও বিদেশি হওয়ার কারণে মিনির মা কাবুলিওয়ালা সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিঃসংশয় ছিলেন না।
কাবুলিওয়ালা মিনির প্রতি স্নেহের টানে লেখকের বাসায় প্রায়ই আসতেন। আর সঙ্গে করে আনতেন মিনির জন্য বাদাম, কিসমিস ও মেওয়া। লেখকের বাড়ির সকলে এ বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিলেও মিনির মা কাবুলিওয়ালাকে স্বাভাবিকভাবে নেননি। কারণ তার ধারণা ছিল বিদেশ-বিভ‚ঁই থেকে সওদা করতে আসা এসব লোক যেকোনো ক্ষতির কারণ হতে পারে।
প্রশ্ন \ ৫ \ ‘তোমাদের মিলনসুখে আমার মিনির কল্যাণ হউক।’ – ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : মিনি ও কাবুলিওয়ালার সাথে বহু বৎসর পর সাক্ষাৎ হওয়ার আবেগঘন মুহ‚র্ত অবলোকন করে লেখক প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন।
দেশকালের সীমারেখা পিতৃহৃদয়ের স্বাভাবিক ভালোবাসায় কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। ব্যক্তি যে সমাজ বা দেশের হোক না কেন একজন পিতা সবসময় তার সন্তানকে একইরূপ ভালোবাসেন। বিশ্বের সকল পিতারই সহজাত আকাক্সক্ষা সন্তানের মঙ্গল। তাই কাবুলিওয়ালার মতো একটি পিতৃহৃদয়ের শান্তিÍ আনয়নের মধ্যে দিয়ে লেখক – একজন পিতার স্বভাবজাত প্রবণতা হিসেবে লেখক মিনির কল্যাণ কামনা করেছেন।

Share to help others:

Leave a Reply