এইচএসসি বাংলা আহ্বান সৃজনশীল ও জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর

আহ্বান
বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়

লেখক পরিচিতি
নাম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
জন্ম পরিচয় জন্ম তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দ।
জন্মস্থান : মুরারিপুর (মাতুলালয়), চব্বিশ পরগনা।
পৈতৃক নিবাস : ব্যারাকপুর, চব্বিশ পরগনা।
পিতৃ পরিচয় পিতার নাম : মহানন্দা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মাতার নাম : মৃণালিনী দেবী।
শিক্ষাজীবন মাধ্যমিক : এন্ট্রান্স (১৯১৪), বনগ্রাম স্কুল।
উচ্চ মাধ্যমিক : আর.এ. (১৯১৬), বনগ্রাম স্কুল।
উচ্চতর : বি.এ.(ডিস্টিংশনসহ), ১৯১৮, কলকাতা রিপন কলেজ।
কর্মজীবন শিক্ষকতা : হুগলি জেলার জাঙ্গীপাড়া স্কুল, সোনারপুর হরিনাভি স্কুল, কলকাতা খেলাৎচন্দ্র মেমোরিয়াল স্কুল, ব্যারাকপুরের নিকটবর্তী গোপালনগর স্কুল।
সাহিত্য সাধনা উপন্যাস : পথের পাঁচালী, অপরাজিতা, আরণ্যক, ইছামতি, দৃষ্টি প্রদীপ, আদর্শ হিন্দু হোটেল, দেবযান, অশনিসংকেত ইত্যাদি।
ছোটগল্প : মেঘমল­ার, মৌরিফুল, যাত্রাবদল, কিন্নর দল ইত্যাদি।
আত্মজীবনীমূলক রচনা : তৃণাঙ্কুর।
পুরস্কার ও সম্মাননা ‘ইছামতি’ উপন্যাসের জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ।
মৃত্যু মৃত্যু তারিখ : ১ নভেম্বর, ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ।

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন দিন মজুর কেরামত। হঠাৎ দেখতে পান মৃতপ্রায় একটি শিশু পথের ধারে পড়ে আছে। পরম যতেœ তিনি শিশুটিকে ঘরে তুলে আনেন। নিজের ছেলেমেয়ে নিয়ে অভাবের সংসারে স্ত্রী প্রথমে খানিকটা আপত্তি করলেও শিশুটির অবস্থা দেখে তিনিও বুকে জড়িয়ে ধরেনবড় করতে থাকেন নিজের সন্তান পরিচয়ে।
ক. বুড়িকে মা বলে ডাকত কে?
খ. ‘স্নেহের দান এমন করা ঠিক হয়নি’-কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. কেরামত দম্পতির মধ্য দিয়ে “আহŸান” গল্পের কোন বিশেষ দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘মানুষের স্নেহ-মমতা-প্রীতির যে বাঁধন তা ধন-সম্পদে নয়, নিবিড় আন্তরিকতার স্পর্শেই গড়ে ওঠে।’-উদ্দীপক ও “আহŸান” গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ১



১ নং প্রশ্নের উত্তর

 বুড়িকে মা বলে ডাকত হাজরা ব্যাটার বউ।

 লেখক খাঁটি দুধ খেতে পায় না শুনে বৃদ্ধা তাঁর জন্য দুধ নিয়ে এলে লেখক তাকে রূঢ় স্বরে দুধের দাম জিজ্ঞাসা করে টাকা দিলে বুড়ি বিব্রত হয়ে টাকা নিয়ে চলে যায়। তখন অনুশোচনায় লেখক উক্ত উক্তিটি করেন।
 বুড়ি জানতে পারেন যে, ঘুঁটি গোয়ালিনীর জল মেশানো দুধ লেখক খান। তখন সন্তান স্নেহে লেখকের জন্য বুড়ি এক ঘটি দুধ হাজরা ব্যাটার বৌয়ের কাছ থেকে চেয়ে আনেন। লেখক তার দাম দিয়ে দিলে বুড়ি মনঃক্ষুণœ হয়ে চলে যান। লেখক তখন ভাবেন স্নেহের দানের আর্থিক প্রতিদান দেয়া ঠিক হয়নি। এটা ভেবে লেখক উক্ত উক্তিটি করেন।

 কেরামত দম্পতির মধ্যে ‘আহŸান’ গল্পের সন্তানের প্রতি স্নেহ এবং মানবিক চেতনার দিকটির প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।
 মানুষের মন অত্যন্ত সংবেদনশীল। সন্তানের প্রতি স্নেহ-ভালোবাসা মানুষের একটা সহজাত ধর্ম। কিন্তু সন্তানতুল্য অপরের সন্তানের প্রতি অপরিসীম স্নেহ-ভালোবাসা মানুষের এই সংবেদনশীল মনের পরিচায়ক।
 উদ্দীপকের কেরামত দম্পতির মধ্যে এমনই মনের পরিচয় পাওয়া যায়। যা ‘আহŸান’ গল্পের স্নেহ-ভালোবাসা ও উদার মানবিকতার প্রতি ইঙ্গিত করে। কেরামত দম্পতি একটা পথে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর প্রতি যে স্নেহ-ভালোবাসা প্রকাশ করেন তা সত্যিই বিরল। শিশুটির প্রতি তাঁদের এই মায়া বা স্নেহ-মমতা উদার মানবিকতার পরিচয় দেয়। যা ‘আহŸান’ গল্পেও লক্ষ করা যায়। গল্পে দেখা যায়, লেখক ও দরিদ্র মুসলমান বৃদ্ধার মাঝে স্নেহ-ভালোবাসার উদার মানবিক সম্পর্ক। যেখানে শ্রেণি-বৈষম্য, জাতপাত বা ধর্মভেদ কোনো বাধার সৃষ্টি করতে পারেনি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানবিকতাকে স্থান দেওয়া হয়েছে গল্পটিতে। সংকীর্ণতা ও সংস্কারমুক্ত এই ভাবের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে উদ্দীপকটিতে।

 মানুষের স্নেহ-মমতা-প্রীতির যে বাঁধন তা ধন-সম্পদে নয়, নিবিড় আন্তরিকতার স্পর্শেই গড়ে ওঠে। উদ্দীপক এবং ‘আহŸান’ গল্প অনুসারে মন্তব্যটি যথার্থ। মানুষ মানুষের জন্য সংবেদনশীলতার হাত বাড়িয়ে দেবে এটা খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয়। অথচ এটা এখন শুধুই একটা মানবিক বুলিমাত্র। সর্বত্রই মানুষের মাঝে স্বার্থান্বেষী চিন্তার প্রতিফলন দেখা যায়। সেখানে স্নেহ-মায়া-মমতা একটা বোকামিপূর্ণ আচরণ মনে হয়।
 উদ্দীপকে রহমান দম্পত্তির মাঝে যে মানবিক আচরণ লক্ষ করা যায় তা সত্যিই বিরল। রহমান দিনমজুর হলেও পথের এক মৃত-প্রায় শিশুকে বুকে তুলে নিয়ে আসে। সন্তানদের ভরণ-পোষণ না দিতে পারলেও তার স্ত্রী তাকে সন্তান স্নেহে বুকে জড়িয়ে ধরে। এখানে যে স্নেহ-মমতা-প্রীতির বাঁধন তা কোনো ধন-সম্পদের নয়, নিবিড় আন্তরিকতার স্পর্শেই গড়ে উঠেছে। ‘আহŸান’ গল্পেও এমন ভাবের পরিচয় পাওয়া যায় লেখক এবং বৃদ্ধার স্নেহ-ভালোবাসা আদান-প্রদানের সাথে।
 ‘আহŸান’ গল্পে এক উদার মানবিক সম্পর্কের পরিচয় পাওয়া যায়। লেখক এবং বৃদ্ধার মাঝে যে মা-সন্তানের স্নেহের সম্পর্ক, তাতে কোনো ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য, ধর্মের প্রভেদ কিংবা, জাতিভেদ বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি। লেখকের প্রতি বুড়ির স্নেহের দাবি সকল বাধাকে অতিক্রম করে মানবতার জয় ঘোষণা করেছে। লেখকও তার হৃদয়ে মুসলমান বৃদ্ধার মাঝে মায়ের বা পিসিমার ছায়া দেখতে পেয়েছেন। তাঁকে মাতৃজ্ঞানে ভালোবেসেছেন। তাঁর শেষ আহŸানে মনের অজান্তে তাঁর অন্তিম যাত্রায় উপস্থিত হয়েছেন। এই যে আত্মিক বন্ধন এটা স্নেহ-মায়ামমতা প্রীতির বাঁধন, এটা শুধু নিবিড় আন্তরিকতায় গড়ে ওঠে। তাই বলা যায়, প্রশ্নের মন্তব্য যথার্থ।

 অতিরিক্ত অনুশীলন (সৃজনশীল) অংশ
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
কাঙালির মা ছোটজাত, দুলের মেয়ে বলিয়া কাছে যাইতে সাহস পাইল না, তফাতে একটা উঁচু ঢিপির মধ্যে দাঁড়াইয়া সমস্ত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রথম হইতে শেষ পর্যন্ত উৎসুক আগ্রহে চোখ মেলিয়া দেখিতে লাগিল। প্রশস্ত ও পর্যাপ্ত চিতার পরে যখন শব স্থাপিত করা হইল তখন তাহার রাঙ্গা পা-দুখানি দেখিয়া তাহার দু’চক্ষু জুড়াইয়া গেল, ইচ্ছা হইল ছুটিয়া গিয়া একবিন্দু আলতা মুছাইয়া লইয়া মাথায় দেয়। বহুকণ্ঠের হরিধ্বনির সহিত পুত্রহস্তের মন্ত্রপুত অগ্নি যখন সংযোজিত হইল তখন তাহার চোখ দিয়া ঝরঝর করিয়া জল পড়িতে লাগিল, মনে মনে বারংবার বলিতে লাগিল, ভাগ্যিমানী মা, তুমি সগ্যে যাচ্চোÑআমাকেও আশীর্বাদ করে যাও, আমিও যেন এমনি কাঙালির হাতের আগুনটুকু পাই। ছেলের হাতের আগুন! সে ত সোজা কথা নয়!
[তথ্যসূত্র : অভাগীর স্বর্গ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]
ক. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক নিবাস কোন গ্রামে?
খ. বুড়ি কেন দমে গেলেন?
গ. উদ্দীপকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সাথে ‘আহŸান’ গল্পের বুড়ি অন্তিম শয়নের বিষয়ের বৈসাদৃশ্য আলোচনা কর।
ঘ. “উদ্দীপকের কাঙালির মা এবং ‘আহŸান’ গল্পের বৃদ্ধার প্রত্যাশার ধরন এক।”মন্তব্যটি যাচাই কর। ১



২ নং প্রশ্নের উত্তর

 বিভূতিভূষণের পৈতৃক নিবাস ব্যারাকপুর গ্রামে।

 লেখক রুক্ষ স্বরে দুধের দাম জিজ্ঞাসা করায় বুড়ি প্রথমে খুব দমে গেলেন।
 লেখকের দুধের জোগান দেয় ঘুঁটি গোয়ালিনী। একথা শুনে বুড়ি বলেন ‘এর তো অর্ধেক জল’। এজন্য তিনি তাঁর পাতানো মেয়ের কাছ থেকে খাঁটি দুধ চেয়ে লেখকের জন্য নিয়ে আসেন। তখন লেখক বুড়িকে দাম দিয়ে তাড়াতাড়ি বিদায় করার জন্য বেশ রুক্ষ স্বরে তার দাম জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু স্নেহের দানের আর্থিক প্রতিদান দিতে গেলে বুড়ি অপ্রস্তুত হন এবং লেখকের রুক্ষ স্বরে তিনি দমে যান।

 উদ্দীপকের সাথে ‘আহŸান’ গল্পের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার বা অন্তিম শয়ানের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
 এ পৃথিবী থেকে সকলেরই এক সময় বিদায় নিতে হয় । কারো আগে, কারো পরে। কেউ বা রাজকীয়ভাবে অন্তিম যাত্রা করে, কেউ বা দীনহীনভাবে অন্তিম শয়ানে শায়িত হয়।
 উদ্দীপকে দেখা যায়, কর্তা গিন্নি বা ভাগ্যিমানী মার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। প্রশস্ত ও পর্যাপ্ত চিতার পরে বা তার শব বা মৃতদেহ শায়িত। তার রাঙা দুখানি গায়ে আলতা মাখা। সম্ভ্রান্ত পরিবারের গৃহিণী হওয়ায় তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াও আড়ম্বরের সাথে সম্পন্ন হচ্ছে। কিন্তু ‘আহŸান’ গল্পে বুড়ির শব যাত্রা বা কবর দেওয়ার বিষয়টি নিতান্ত সাদামাটা। প্রাচীন একটা বৃক্ষের নিচে বৃদ্ধাকে কবর দেওয়া হবে। দুজন লোক তার কবর খুঁড়ছে। সেখানেই বৃদ্ধাকে চিরদিনের মতো শোয়ানো হবে। বিষয়ের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

 “উদ্দীপকের কাঙালির মা এবং ‘আহŸান’ গল্পের বৃদ্ধার প্রত্যাশার ধরন এক।”মন্তব্যটি যথার্থ।
 জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষের কিছু অন্তিম ব্যবস্থা থাকে। তারা মনে করে সেটা পেলে মরেও শান্তি পাবে। যেমন কাঙালির মা মৃত্যুর পর তাঁর ছেলের হাতের মুখাগ্নির প্রত্যাশা করে স্বর্গে যাওয়ার জন্য এবং ‘আহŸান’ গল্পে বৃদ্ধা লেখকের কাছে কাফনের কাপড় প্রত্যাশা করে।
 উদ্দীপকে দেখা যায়, ছোট জাতের মেয়ে কাঙালির মা ও বাড়ির কর্তা গিন্নির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া দেখে ভাবে তার মৃত্যুর পর যদি তার ছেলে কাঙালির হাতের আগুন পায় তবে তিনি স্বর্গে যেতে পারেন। কাঙালির মায়ের এই প্রত্যাশার চিত্র দেখা যায় ‘আহŸান’ গল্পের বৃদ্ধার মাঝে। তিনিও লেখকের কাছে কাফনের কাপড় প্রত্যাশা করেছেন।
 ‘আহŸান’ গল্পে দেখা যায় বৃদ্ধ লেখককে সন্তানের মতো ভালোবাসেন। তিনি আম, শসা, দুধ ইত্যাদি দিয়ে তাঁর মাতৃস্নেহের বহিঃপ্রকাশ ঘটান। লেখক প্রথমে সংকোচ বোধ করলেও পরে এটাকে স্বাভাবিকভাবে ও শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করেন। তখন
নিঃসন্তান বৃদ্ধা লেখকের কাছে বলেন, ‘আমার কাফনের কাপড় তুই কিনে দিস বাবা।’ বুড়ির এই প্রত্যাশার মাঝে প্রকাশিত হয়েছে সন্তানের কাছে বৃদ্ধা মায়ের দাবি বা আবদার। যা কাঙালির মায়ের প্রত্যাশায় প্রকাশিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নের মন্তব্যটি যথার্থ।
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
“হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?”
কহিলাম, “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?”
কহিল সে কাছে সরে আসিÑ
“কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী-
গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে
রিক্ত হস্তে! তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোনো মতে।”
ক. বুড়ি কী কেনার জন্য বাজারে যাচ্ছিল?
খ. বুড়ির আগে এ পাড়া ও পাড়া আসা-যাওয়া করতে হতো না কেন?
গ. উদ্দীপকের কবি ‘আহŸান’ গল্পের কোন চরিত্রকে নির্দেশ করে?Ñব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোনো মতে।’ ‘আহŸান’ গল্পের লেখকের চেতনার ক্ষেত্রে চরণটির মর্মার্থ সম্পূর্ণভাবে যথার্থ নয়।মন্তব্যটি বিচার কর। ১



৩ নং প্রশ্নের উত্তর

 বুড়ি নুন কেনার জন্য বাজারে যাচ্ছিল।

 বৃদ্ধার স্বামী বেঁচে থাকতে তাঁদের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ সচ্ছল ছিল তাই ভিক্ষা করার জন্য তাঁর এপাড়া ওপাড়া যাতায়াত করতে হতো না।
 বৃদ্ধার স্বামী জমির করাতির বেশ সচ্ছল অবস্থা ছিল। গোলাভরা ধান। আর গোয়ালভরা গরু নিয়ে ছিল বুড়ির সোনার সংসার। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর সংসারের দায়িত্ব নেয়ার মতো কেউ ছিল না, তাই তিনি এখন পথের ভিখারিনি। এজন্য তাঁকে এপাড়া ওপাড়া করতে হয়, যা স্বামী বেঁচে থাকতে করতে হতো না।

 উদ্দীপকের কবি ‘আহŸান’ গল্পের লেখক চরিত্রকে নির্দেশ করে।
 প্রিয় হারানোর বেদনায় সবাই আহত হয়। কেউ চায় না তার প্রিয় কেউ চিরদিনের মতো পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাক। কিন্তু নিয়তির বিধানে সবাইকেই চলে যেতে হয়। কেউ আগে যায়, কেউ বা পরে। যারা আগে পৃথিবী থেকে বিদায় নেয় তাদের কাছের মানুষের কাছে সে শূন্যতার বেদনা অসহনীয়।
 উদ্দীপকে কবির অন্তরে দেখা যায় প্রিয় জনকে হারানোর বেদনা। প্রিয় মানুষকে হারিয়ে কবি শোকে মুহ্যমান। তার প্রিয় যে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে হারিয়ে গেছে এ কথা তিনি কোনোমতেই ভুলতে পারছেন না। বার বার তাকে মনে পড়ছে। এমনই প্রিয় হারানোর বেদনা অনুভব করেছেন ‘আহŸান’ গল্পের লেখক মাতৃস্থানীয়া বৃদ্ধার মৃত্যুতে। বৃদ্ধা তাঁকে মায়ের মতোই স্নেহ করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর লেখক সেখানে উপস্থিত হন অজানা আহŸানে সাড়া দিয়ে। লেখকের হৃদয়ও শোকে মুহ্যমান। এক্ষেত্রে উভয় চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।

 ‘তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোনো মতে।’ এ চরণটির ভাব ‘আহŸান’ গল্পের লেখকের চেতনার ক্ষেত্রে পুরোপুরি যথার্থ নয়।
 বিচ্ছেদ ব্যথায় সকলেই কাতর হন। উদ্দীপকের কবিও বিচ্ছেদ ব্যথায় কাতর। প্রিয়জন তাঁকে ছেড়ে চলে গেছে বহুদূরে। সেই শোকে তিনি মুহ্যমান। তাইতো তিনি ঋতুরাজকেও উপেক্ষা করেন। কিন্তু সকলের বিচ্ছেদ-ব্যথা এই রকম গভীর নাও হতে পারে।
 উদ্দীপকের কবি প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর। পৃথিবীর কোনোকিছুই তার ভালো লাগে না। তাইতো এ পৃথিবীতে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন তিনি টের পান না। যে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে চলে গেছে শূন্য হাতে, তাকে তিনি কোনোভাবেই ভুলতে পারেন না। উদ্দীপকের এই চরণটির মর্মার্থ ‘আহŸান’ গল্পের লেখকের চেতনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে যথার্থ নয়।
 ‘আহŸান’ গল্পের লেখকের বিচ্ছেদ-ব্যথা বা প্রিয় হারানোর ব্যথা সম্পূর্ণ ভিন্ন। গল্পে দেখি মাতৃস্থানীয়া এক বৃদ্ধা লেখককে
সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। স্নেহ করতেন। লেখককে তিনি নানারকম খাদ্যদ্রব্য খাইয়ে শান্তি পেতেন। তাঁর আপত্য øেহে লেখক সিক্ত হয়েছিলেন এবং বৃদ্ধাকে মায়ের মতো ভালোও বেসেছিলেন। সেই বৃদ্ধার মৃত্যুতে তিনিও মর্মাহত। কিন্তু উদ্দীপকের কবির মতো তীব্র নয় তাঁর বেদনার রং। তাকে যে কোনো মতে ভুলতে পারেন না, এমনটি নয়। তাই বলা যায়, প্রশ্নের মন্তব্য যথার্থ।
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
মানুষের লোভ ও ধর্মান্ধতার যূপকাষ্ঠে সৌদামিনীর মাতৃহৃদয় বলিপ্রাপ্ত হলেও তার মাতৃহৃদয়ের হাহাকারের মধ্যেও ধ্বনিত হতে থাকে মানবতার জয়গান; তার মাতৃত্বের কাছে ধর্ম, অর্থ ও অপর সকলের পরাভব ঘটে।
ক. লেখকের বাবার বন্ধু কে?
খ. লেখক বুড়িকে কেন পয়সা দিলেন?
গ. উদ্দীপকে সৌদামিনী ‘আহŸান’ গল্পের বুড়ির কোন বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করেছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উদ্দীপক এবং ‘আহŸান’ গল্পে গাওয়া হয়েছে মানবতার জয়গান।”ব্যাখ্যা কর। ১



৪ নং প্রশ্নের উত্তর

 লেখকের বাবার বন্ধু হলেন চক্কোত্তি মশায়।

 বৃদ্ধার কষ্ট ও অসহায়ত্ব দেখে লেখকের মায়া হওয়ায় তিনি পয়সা দিলেন।
 গ্রামে ফিরে একদিন লেখকের সাথে এক বৃদ্ধার দেখা হয়। তিনি তখন বাজারে চলছিলেন তিন পয়সার লবণ কিনতে। তখন বৃদ্ধার মুখে তার অসহায়ত্ব ও দারিদ্র্যের কথা শুনে লেখকের মায়া হয়। তখন তিনি পকেট থেকে কিছু পয়সা বের করে বৃদ্ধাকে দেন।

 উদ্দীপকের সৌদামিনী ‘আহŸান’ গল্পের বুড়ির মাতৃস্নেহের বা মাতৃত্বের বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করেছে।
 প্রতিটি মায়ের কাছে øেহের ধন হলো তার সন্তান। নিজের চেয়েও তিনি সন্তানকে বেশি ভালোবাসেন। সন্তানের প্রতি ভালোবাসা একেবারে অকৃত্রিম। সেখানে কোনো ব্যক্তিস্বার্থ থাকতে পারে না।
 উদ্দীপকে সৌদামিনীর মাতৃহৃদয়ের কথা বলা হয়েছে। সন্তানের জন্য তাঁর মাতৃহৃদয়ের হাহাকার ধ্বনিত হয়েছে। তবু তার ভিতরে লক্ষ করা যায় মানবিকতার জয়গান। তার মাতৃত্বের কাছে ধর্ম, অর্থ স্থান পায়নি। ‘আহŸান’ গল্পেও এ ভাবটি লক্ষ করা যায় বৃদ্ধার মাঝে। তিনি মুসলমান হয়েও হিন্দুর ছেলে লেখকের প্রতি মাতৃøেহে বিগলিত হন। মায়ের মতো স্নেহের সম্বোধন, বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য খাইয়ে প্রশান্তি অনুভব-এ সবই মানবিকতার জয়গান ঘোষণা করে। উভয় চরিত্রে এখানেই সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।

 “উদ্দীপক এবং ‘আহŸান’ গল্পের গাওয়া হয়েছে মানবতার জয়গান।”মন্তব্যটি যথার্থ।
 মানবিকতার কাছে সবকিছু হার মানে। শত বাধা-বিপত্তি প্রতিক‚লতা ধুয়ে-মুছে যায় এর মহাশক্তির কাছে। ধর্ম-জাতি-শ্রেণি সকল ভেদ এখানে এসে একাকার হয়ে যায়।
 উদ্দীপকে দেখা যায়, মানবিকতার জয়গান গাওয়া হয়েছে। মানুষের লোভ ও ধর্মান্ধতার যূপকাষ্ঠে সৌদামিনীর মাতৃহৃদয় বলি প্রাপ্ত হয়েছে। তবু তা অকৃত্রিম অম্লান রয়েছে। তার মাতৃহৃদয়ের হাহাকারের মধ্যেও ধ্বনিত হয়েছে মানবতার জয়গান। তার মাতৃত্বের কাছে ধর্ম, অর্থ সকল কিছুর পরাভব ঘটেছে। এমনই মানবতার জয়গান গাওয়া হয়েছে ‘আহŸান’ গল্পে।
 ‘আহŸান’ গল্পটি একটি উদার মানবিক সম্পর্কের গল্প। মানুষের স্নেহ-মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যা পাওয়া যায় তা ধন-সম্পদের মাধ্যমে পাওয়া যায় না। হৃদয়ের নিবিড় আন্তরিকতার মাধ্যমে সে বাঁধন পোক্ত হয়। ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-জাতি সবকিছুর ব্যবধান ঘুচে যায় উদার হৃদয়ের আন্তরিকতা ও মানবীয় দৃষ্টিভঙ্গির ফলে। এ গল্পে লেখক দুটি ভিন্ন ধর্ম ও আর্থিক অবস্থানে থাকা চরিত্রের মধ্যে সংকীর্ণতা ও সংস্কারমুক্ত মনোভঙ্গির প্রকাশ ঘটিয়েছেন। যা মানবিক, তাই বলা যায়, প্রশ্নের মন্তব্য যথার্থ।
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
জরিনা যৌবনে বিধবা হয়। তার স্বামী আফজাল মিয়া মারা যায় এক দুর্ঘটনায়। তার সম্বল একমাত্র ছেলে রহিমকে অনেক কষ্ট করে লালন পালন করে সৌদি আরবে পাঠায় টাকা কামাইয়ের জন্য। ছয় মাসের মাথায় সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। মরার সময় সে তার একমাত্র ছেলেকে দেখার আকুলতা প্রকাশ করে। মৃত্যুশয্যায় শায়িত হয়ে সে বলে আমার রহিমকে বলিও আমার কবরে পাশে যেন একটি মসজিদ বানায়।
ক. জরিনার স্বামীর নাম কী?
খ. ‘দুধ খেতি পাচ্ছ না ভালো সে বুঝেচি’-কে, কেন কথাটি বলেছেন?
গ. উদ্দীপকটি ‘আহŸান’ গল্পের কোন বিষয়টি তুলে ধরেছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উদ্দীপকের শেষের দুই বাক্যে ‘আহŸান’ গল্পের মর্মার্থ লুকিয়ে আছে।” মন্তব্যটি যাচাই কর। ১



৫ নং প্রশ্নের উত্তর

 জরিনার স্বামীর নাম আফজাল মিয়া।

 ঘুঁটি গোয়ালিনী লেখককে দুধের জোগান দেয় শুনতে পেয়ে বুড়ি কথাটি বলেছেন।
 বুড়ি লেখককে জিজ্ঞাসা করেন কোথায় তার খাওয়া-দাওয়া হয়। লেখক বলেন, তার জ্ঞাতি খুড়োর বাড়ি। তখন বুড়ি জিজ্ঞাসা করে জানতে পারেন যে, ঘুঁটি গোয়ালিনীর কাছ থেকে দুধ রাখা হয়। তখন বুড়ি বলেন, ওর দুধ! অর্ধেক জল। তাই বুড়ি উক্ত কথাটি বলেন।

 উদ্দীপকটি ‘আহŸান’ গল্পের বৃদ্ধার মৃত্যুর বিষয়টি তুলে ধরেছে।
 দীর্ঘদিন রোগে ভোগার পর বৃদ্ধার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর আগে তিনি অনেকবার গোপালের কথা অর্থাৎ লেখকের কথা বলেছিলেন গোপালকে দেখতে চেয়েছিলেন মাতৃহৃদয়ের দাবি থেকে। অবশেষে বাসনাকে অপূর্ণ রেখে পরপারে পাড়ি জমালেন।
 উদ্দীপকে সেই খবরই লেখককে দেয় পরশু সরদারের স্ত্রী দিগম্বরী। সে লেখককে জানায় যে, বুড়ি কাল রাতে মারা গিয়েছে। মৃত্যুর আগে তার নাম করেছেন কিন্তু আল­াহ বা ঈশ্বর তার ডাক শোনেনি। গোপালকে দেখার বাসনা নিয়েই তাঁর পৃথিবী থেকে চলে যেতে হয়েছে। এটি ‘আহŸান’ গল্পের শেষ দিকের চিত্র। সেখানে লেখক তার নাত-জামাইয়ের হাতে বুড়ির শেষ অনুরোধ অনুযায়ী কাফনের কাপড় কেনার জন্য টাকা তুলে দেন। উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি গল্পের বৃদ্ধার মৃত্যু ও তার পরবর্তী দৃশ্যগুলো আমাদের চোখের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়।

 “উদ্দীপকের শেষ দুই বাক্যে ‘আহŸান’ গল্পের মর্মার্থ লুকিয়ে আছে”-মন্তব্যটি যথার্থ।
 ‘আহŸান’ গল্পটি একটি উদার মানবিক সম্পর্কের গল্প। মানুষের স্নেহ-মমতা-প্রীতির যে বাঁধন তা ধন-সম্পদে নয়, হৃদয়ের নিবিড় আন্তরিকতার স্পর্শেই গড়ে ওঠে। এ কথাটিই গল্পের মাঝে বিশেষভাবে প্রতিধ্বনিত হয়।
 উদ্দীপকের শেষ দুই বাক্যে গল্পের মর্মার্থ লুকিয়ে আছে। এখানে বলা হয়েছে, “ওর স্নেহাতুর আত্মা বহুদূর থেকে আমায় আহŸান করে এনেছে। আমার মন হয়তো ওর ডাক এবার তাচ্ছিল্য করতে পারেনি” উক্ত বাক্য দুটিতে ‘আহŸান’ গল্পের মর্মার্থ পরিলক্ষিত হয়।
 ‘আহŸান’ গল্পটি একটি উদার মানবিক সম্পর্কের গল্প। ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ঘুচিয়ে কুসংস্কার আর ধর্মীয় গোঁড়ামি দূর করে উদার হৃদয়ের আন্তরিকতা ও মানবীয় গুণাবলির বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। গল্পের লেখক হিন্দু জেনেও মুসলমান বৃদ্ধার মাতৃøেহের প্রকাশ গল্পটিকে আরও মানবিক করে তুলেছে। লেখকও তাকে মায়ের আসনে বসিয়েছেন। শ্রদ্ধার সাথে তার সকল দান গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর ‘অ-মোর গোপাল আমার, কাফনের কাপড় তুই কিনে দিসি বাবা’ অনুরোধকে অনিবার্য আহŸান হিসেবে উপলব্ধি করেছেন, যা সংকীর্ণতা ও সংস্কারমুক্ত উদার হৃদয়ের পরিচায়ক। তাই বলা যায়, প্রশ্নের মন্তব্য যথার্থ।
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
আজিজ সৌদি আরব থেকে ফিরে এসে দেখে তার পৈতৃক ভিটা জঙ্গলে ভরে গেছে। শেয়াল বাসা বেঁধেছে। সে অনেকক্ষণ উজাড় বাড়িটির দিকে চেয়ে রইল। মনের আয়নায় ভেসে উঠল মা-বাবার স্মৃতিÑ তার ছেলেবেলার অনেক কথা, অনেক ব্যথা। দুচোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ল কয়েক ফোঁটা তপ্ত অশ্র“। আজিজ সিদ্ধান্ত নেয়, সে এখন থেকে পিতার ভিটায় বাস করবে।
ক. লেখক কার কাছ থেকে দুধ রাখতেন?
খ. ‘অ-গোপাল আমার’ সম্বোধনটি লেখকের কেন ভালো লাগল?
গ. উদ্দীপকের আজিজের সাথে ‘আহŸান’ গল্পে কার সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়?ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘আহŸান’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাবকে ধারণ করেনি”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। ১



৬ নং প্রশ্নের উত্তর

 লেখক ঘুঁটি গোয়ালিনীর কাছ থেকে দুধ রাখতেন।

 উক্ত সম্বোধনের মধ্যে মা-পিসিমার স্নেহের সম্বোধন প্রকাশ পাওয়ায় লেখকের ভালো লাগল।
 গ্রীষ্মের ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে লেখক গ্রামের এক বুড়ির সাথে পরিচিত হওয়ার পর লেখক তাকে কিছু টাকা দেন। পরদিন সকালে বুড়ি লেখকের খোঁজে আসেন। তখন বুড়ি লেখককে ‘গোপাল’ বলে সম্বোধন করে। লেখক প্রথমে অবাক হলেও পরে তাঁর ভালো লাগে। কারণ উক্ত সম্বোধনের মধ্যে তিনি অনুভব করেছিলেন মা-পিসিমার øেহের পরশ।

 উদ্দীপকের আজিজের সাথে ‘আহŸান’ গল্পের লেখকের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।
 প্রত্যেকেই তাঁর জন্মভূমির মাটির প্রতি টান অনুভব করে। জন্মভূমির শীতলতায় এসে সবারই তৃপ্ত আত্মা শীতল হয়। উদ্দীপকের আজিজ এবং ‘আহŸান’ গল্পের লেখকের মাঝে এমন প্রশান্তি লক্ষ করা যায়।
 উদ্দীপকে দেখা যায়, আজিজ অনেকদিন পর গ্রামে ফিরে আসে। এসে দেখে তার পৈতৃক বাড়িটা জঙ্গলে পরিপূর্ণ। তার বাবা-মা মারা যাওয়ার পর অনেকদিন গ্রামে না আসার জন্য এই অবস্থা। অনেকদিন পর গ্রামে এসে তার খুব ভালো লাগে। ফেলে আসা অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়। সে সিদ্ধান্ত নেয় গ্রামে ঘর তুলে এখন থেকে মাঝে মাঝে এসে থাকবে। আজিজের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে ‘আহŸান’ গল্পের লেখকের সাথে। লেখকও অনেকদিন পর গ্রামে এসে দেখেন তার বাড়ি জঙ্গলে পরিপূর্ণ। কিন্তু তিনিও সিদ্ধান্ত নেন গ্রামে ঘর তুলে মাঝে মাঝে এসে থাকবেন। উভয় চরিত্রে জন্মভূমির প্রতি মমতা ও ভালোবাসার সাদৃশ্য রয়েছে।

 “উদ্দীপকটি ‘আহŸান’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাবকে ধারণ করেনি।”মন্তব্যটি যথার্থ।
 যে দেশের মাটিকে ভালোবাসে না, অবহেলা করে সে নরাধম। দেশকে ভালোবাসা প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। উদ্দীপকের আজিজ এবং ‘আহŸান’ গল্পের লেখক দেশের মাটিকে ভালোবেসে সেখানে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে।
 উদ্দীপকের চিত্রে জন্মভূমির মাটিকে ভালোবাসা ও তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধের পরিচয় পাই। কিন্তু এ বিষয়টি ‘আহŸান’ গল্পের অনেক বিষয়ের মধ্যে একটি মাত্র বিষয়। তারেকের নিজ গ্রামে প্রত্যাবর্তন এবং সেখানে বসবাসের সিদ্ধান্ত ‘আহŸান’ গল্পের লেখকের জন্মভূমির মাটিতে ফিরে আশার বিষয়টি তুলে ধরেছে। কিন্তু ‘আহŸান’ গল্পে এর সাথে আরও বিভিন্ন ভাবের অবতারণা ঘটেছে।
 ‘আহŸান’ গল্পটি একটি উদার মানবিক সম্পর্কের গল্প। গ্রামে ফিরে এসে বসবাস করাটি এখানে একটি অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করেছে। গল্পে প্রকাশিত দিকগুলোতে বলা হয়েছে, মানুষের স্নেহ-মমতা-প্রীতির যে বাঁধন তা ধন-সম্পদে নয়, হৃদয়ের নিবিড় আন্তরিকতার স্পর্শেই গড়ে ওঠে। শ্রেণি-বৈষম্য, জাতিভেদ, ধর্মীয় গোঁড়ামি একসময় ঘুচে যেতে পারে নিবিড় স্নেহ ও উদার হৃদয়ের মানবীয় দৃষ্টির ফলে। লেখক যে সংকীর্ণতা ও সংস্কারমুক্ত মনোভঙ্গির প্রকাশ ঘটিয়েছেন তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নের মন্তব্যটি যথার্থই হয়েছে।
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
বললামÑএসো বুধের মা, কি মনে করে? অনেকদিন পরে দেখলাম।
Ñআর বাবা! গাঁয়ে ঘরে থাক না, তা কি করে দেখবা? বাত হয়েছে বাবা। এখন একটু সামলেছি। তাই উঠে হেঁটে বেড়াচ্ছি।
Ñহাতে কি?
Ñগোটাকতক কাগজি লেবু। বলি, দিয়ে আসি যাই। তুমি আর আমার পঞ্চা দুমাসের ছোটবড়। তুমি হলে ভাদ্র মাসে, পঞ্চা হয়েছে আষাঢ় মাসে। তা আমায় ফেলে চলে গেল।
[তথ্যসূত্র : বুধোর মায়ের মৃত্যু-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]
ক. কে লেখককে ঘর তোলার জন্য অনুরোধ করলেন?
খ. ‘নারী রূপের অপূর্ব পরিণতি’ বলতে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. উদ্দীপকটির সাথে আহŸান গল্পের কোন বিষয়ের সাদৃশ্য রয়েছে?
ঘ. “উদ্দীপকের বুধোর মা ‘আহŸান’ গল্পের বুড়ি চরিত্রের প্রতিরূপ।”মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর। ১



৭ নং প্রশ্নের উত্তর

 চক্কোত্তি মশায় লেখককে ঘর তোলার জন্য অনুরোধ করলেন।

 উক্ত বাক্যটি দ্বারা লেখক শ্রদ্ধার সাথে নারীর মাতৃরূপের প্রশস্তি গেয়েছেন।
 কালের পরিক্রমায় মানুষের সবকিছু একটি পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। এ রকম নারী রূপেরও ক্রমশ পরিণতি পায়। মা, বোন, স্ত্রী, সবাইকে এক সময় সময়ের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়। সেখানে তারা পূর্ণতার স্বাদ অনুভব করে। তাদের সেই পরিণতি অবস্থায় দেখলে আবহমান মাতৃরূপ বারবার মনে পড়ে। এমন ভাবেই প্রকাশ ঘটেছে উক্ত বাক্যে।

 উদ্দীপকটি ‘আহŸান’ গল্পের মাতৃøেহের বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
 প্রতিটি নারীর মাঝেই লুকিয়ে থাকে মাতৃহৃদয়। উপযুক্ত পরিবেশে তার এই হৃদয়ের আকুতি প্রকাশিত হয়। যার সন্তান নেই সেও অন্যের সন্তানের প্রতি মায়ের স্নেহ প্রকাশ করতে চায়। ‘আহŸান’ গল্পে এবং উদ্দীপকে এই বিষয়টি লক্ষ করা যায়।
 উদ্দীপকে দেখা যায় বুধোর মার হৃদয়ে মাতৃøেহ জেগে উঠেছে। তাই তিনি বাতের ব্যথা নিয়েও লেখককে দেখতে এসেছেন। লেখকের জন্য তিনি গোটাকতক কাগজিলেবু এনেছেন। কারণ লেখকের মধ্যে তিনি তার মৃত ছেলে পঞ্চার ছায়া দেখতে পেয়েছেন। এ বিষয়টি লক্ষ করা যায় ‘আহŸান’ গল্পে। এখানে দেখা যায় বুড়ির নিজের কোনো সন্তান নেই। লেখককে তিনি সন্তানের মতো স্নেহ করেন। তাইতো তিনি লেখকের জন্য আম, শসা, দুধ নিয়ে আসেন। বসতে দেয়ার জন্য খেজুরের চাটাই বুনে রাখেন। গল্পের এই ভাবটিই উদ্দীপকে প্রকাশিত হয়েছে।

 “উদ্দীপকের বুধোর মা ‘আহŸান’ গল্পের বৃদ্ধা চরিত্রের প্রতিরূপ।”মন্তব্যটি যথার্থ।
 মানুষের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা সেটি চিরন্তন ও স্বাভাবিক। আর এই ভালোবাসা আছে বলেই সমাজ এখনো টিকে আছে। আপনজনহীন মানুষও ভালোবাসার ছোঁয়া পেলে হাত বাড়িয়ে দিতে চায়।
 উদ্দীপকে বুধোর মা লেখকের প্রতি যে-ভালোবাসা ও মাতৃøেহের পরিচয় দিয়েছেন তাতে ঐ বিষয়টিই প্রমাণিত হয়। তিনি বাতের ব্যথাকে তুচ্ছ করে লেখকের জন্য গোটাকতক লেবু নিয়ে চলে আসেন। তার মনে হারানো ছেলের স্মৃতি জেগে ওঠে। মাতৃত্বের চরম নিদর্শন লক্ষ করা যায় এখানে। এই বুধোর মা যেন ‘আহŸান’ গল্পের বৃদ্ধা চরিত্রের প্রতিরূপ।
 ‘আহŸান’ গল্পে বুড়ি মাতৃøেহের বাস্তব নিদর্শন। সন্তানহীনা বৃদ্ধা লেখককে সন্তানের øেহে ভালোবেসেছেন। তার জন্য কখনো আম, কখনো গাছের দুটি কচি শসা, কখনো বা এক ঘটি দুধ এনে হাজির করে। যাতে মাতৃøেহের চরম নিদর্শন প্রকাশিত হয়। বৃদ্ধাকে বারণ করা সত্তে¡ও কোনো না কোনো সময় কিছু নিয়ে হাজির হবেই। লেখককে তিনি ‘গোপাল’ নামে সম্বোধন করে মাতৃস্নেহের চরম প্রকাশ ঘটান। এই বৃদ্ধা চরিত্রের প্রতিরূপই উদ্দীপকের বুধোর মা। তাই বলা যায়, প্রশ্নের মন্তব্য যথার্থ।
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
নদীর চরে গর্ত খুঁড়িয়া অভাগীকে শোয়ান হইল। রাখালের মা কাঙালির হাতে একটা খড়ের আঁটি দিয়া তাহারই হাত ধরিয়া মায়ের মুখে স্পর্শ করাইয়া ফেলিয়া দিল। তারপরে সকলে মিলিয়া মাটি চাপা দিয়া কাঙালির মায়ের শেষ চিহ্ন বিলুপ্ত করিয়া দিল।
সবাই সকল কাজে ব্যস্ত, শুধু সেই পোড়া খড়ের আঁটি হইতে যে স্বল্প ধুঁয়াটুকু ঘুরিয়া ঘুরিয়া আকাশে উঠিতেছিল, তাহারই প্রতি পলকহীন চক্ষু পাতিয়া কাঙালি ঊর্ধ্বদৃষ্টে স্তব্ধ হইয়া চাহিয়া রহিল।
[তথ্যসূত্র : অভাগীর স্বর্গ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]
ক. কতজন লোক বুড়ির জন্য কবর খুঁড়ছিল?
খ. ‘দ্যাও বাবা-তুমি দ্যাও’-কে, কেন এ কথা বলেছে?
গ. উদ্দীপকটি ‘আহŸান’ গল্পের কোন বিষয়টি তুলে ধরেছে?-ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “ঘটনার সাথে সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের কাঙালি আর ‘আহŸান’ গল্পের লেখকের অনুভূতির ভিন্নতা রয়েছে।” মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর। ১



৮ নং প্রশ্নের উত্তর

 দুজন লোক বুড়ির জন্য কবর খুঁড়ছিল।

 শুকুর মিঞা বৃদ্ধার কবরে মাটি দেয়ার প্রসঙ্গে কথাটি বলেছে।
 প্রাচীন একটা গাছের নিচে বৃদ্ধাকে কবর দেওয়া হচ্ছে। সেখানে উপস্থিত হয়েছেন লেখক বৃদ্ধার অনিবার্য আহŸানে। সেখানে শুকুর মিঞাসহ আরও অনেকে উপস্থিত। একে একে সবার মাটি দেওয়া হলে শুকুর মিঞা বললেন, এই যে বাবা, এসো। তোমায় যে বড্ড ভালোবাসত বুড়ি। দ্যাও বাবা-তুমি দ্যাও। লেখক দিলেন এক কোদাল মাটি। এতে তিনি অনুভব করলেন, বৃদ্ধা বেঁচে থাকলে বলে উতোÑঅ-মোর গোপাল।

 উদ্দীপকটি ‘আহŸান’ গল্পের বৃদ্ধার মৃত্যু ও কবর দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে।
 সন্তানের প্রতি প্রতিটি মায়েরই অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকে। তাই মৃত্যুর মুহূর্তেও একজন মা তার সন্তানের স্পর্শ পেতে চায়। ‘আহŸান’ গল্প ও উদ্দীপকে এ বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
 উদ্দীপকে দেখা যায়, নদীর চরে গর্ত খুঁড়ে অভাগীকে শোয়ান হলো। কাঙালির মা ছেলের হাতে একটা খড়ের আঁটি জ্বেলে মায়ের মুখাগ্নি করে। যা তার মা প্রত্যাশা করেছিল। তারপর কাঙালির মাকে শেষ সয্যায় শোয়ানো হলো। এমন একটি চিত্র দেখা যায় ‘আহŸান’ গল্পে। সেখানে বৃদ্ধার মৃত্যুর পর তাঁকে কবর দেওয়ার জন্য প্রাচীন গাছের নিচে কবর দেওয়ার আয়োজন করা হয়। এ বিষয়ে উভয় জায়গায় সাদৃশ্য রয়েছে।

 “ঘটনার সাথে সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের কাঙালি আর ‘আহŸান’ গল্পের লেখকের অনুভূতির ভিন্নতা রয়েছে।”মন্তব্যটি যথার্থ।
 সভ্যতা একদিকে যেমন ক্ষয়িষ্ণু। মরণশীল ব্যক্তিমানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, কিন্তু প্রকৃতিতে থাকে চিরকালের ব্যস্ততা।
 উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই এক মায়ের মৃত্যুর পর তাকে অন্তিম শয়ানে শোয়ানোর জন্য কবর খোঁড়া হয়। তাকে শোয়ানো হয়। মায়ের শেষ ইচ্ছা ছেলে কাঙালি সাধ্যানুযায়ী সম্পন্ন করে। তার ভাবজগতের কোনো তল সে খুঁজে পায় না। কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়ার সাথে তার শোকস্তব্ধ চিন্তাজগৎ ঘুরতে থাকে। তার এই চেতনার সাথে, অনুভূতির সাথে ‘আহŸান’ গল্পের লেখকের অনুভূতির ভিন্নতা রয়েছে, যদিও উভয় ক্ষেত্রে মৃত্যুর কথা আলোচিত হয়েছে।
 ‘আহŸান’ গল্পের লেখকের অনুভূতি শুধু বৃদ্ধার শেষ দাবিটুকু এবং তার মাতৃøেহের স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ। তার শোকের সাথে কাঙালীর শোকের তুলনা চলে না। মাকে হারিয়ে কাঙালি দিশেহারা। জগৎ মাঝে একমাত্র øেহের ভরসার আশ্রয় আজ অনন্তে হারিয়ে গেছে। অন্যদিকে লেখককে কিছুদিনের স্নেহের বাঁধনে বেঁধেছিলেন বৃদ্ধা। তাঁর মৃত্যুতে তিনিও শোকাহত কিন্তু কাঙালির মতো তিনি অসহায়ত্ব বোধ করেননি। তাই বলা যায় প্রশ্নের মন্তব্য যথার্থ।
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
জাতের নামে বজ্জাতি সব
জাত জালিয়াত খেলছে জুয়া,
ছুঁলেই তোদের জাত যাবে
জাত ছেলের হাতের নয়তো মোয়া।
ক. ‘পথের পাঁচালী’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
খ. বুড়ি কেন আহ্লাদে আটখানা হলেন?
গ. উদ্দীপকে ‘আহŸান’ গল্পের কোন ভাবটি উঠে এসেছে?Ñব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘আহŸান’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।”মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। ১



৯ নং প্রশ্নের উত্তর

 ‘পথের পাঁচালী’ বিভূতিভূষণের কালজয়ী উপন্যাস।

 বুড়ির অনুরোধে লেখক অসুস্থ বুড়িকে তার বাড়িতে দেখতে গেলে বুড়ি আহ্লাদে আটখানা হয়ে গেলেন।
 বুড়ির পাতানো মেয়ের কাছে লেখক শুনলেন বুড়ি অসুস্থ। তখন লেখক একদিন বিকেলে গেলেন বুড়িকে দেখতে। গিয়ে দেখেন বুড়ি শুয়ে আছে মাদুরের উপর। তিনি কাছে দাঁড়াতেই বুড়ি চোখ মেলে চাইলেন। পরে লেখককে চিনে ধড়ফড় করে বিছানা ছেড়ে উটে আহ্লাদে আটখানা হয়ে বলল, ‘ভালো আছ অ মোর গোপাল?’

 উদ্দীপকে ‘আহŸান’ গল্পের জাতি-ধর্মের বিভেদের অসারতার বিষয়টি উঠে এসেছে।
 এ পৃথিবীতে সকল মানুষই সমান। এ ধরণীর স্নেহ ছায়াতেই সকলে বেঁচে থাকে, বেড়ে ওঠে। অথচ মানুষ মিথ্যা জাতপাতের বড়াই করে একে-অন্যের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে। এমনই জাতপাতের অসারতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে উদ্দীপকে ও ‘আহŸান’ গল্পে।
 উদ্দীপকে দেখা যায়, সমাজের কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ জাতের নামে জুয়া খেলতে বসেছে। তাদের কাছে জাত ধর্মই যেন সব। অন্য জাতের কেউ যদি ছুঁয়ে দেয় তখন যেন তাদের জাতি-ধর্ম সব ধুয়ে-মুছে যায়। এ যেন ছেলের হাতের মোয়া। কিন্তু কবি এ সবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। এমন ভাব পরিলক্ষিত হয় ‘আহŸান’ গল্পে। এখানে লেখক কোনো জাতিভেদ মানেন না। এজন্য বৃদ্ধাকে তিনি মায়ের মতো ভালোবাসতেন। তার অপাত্য øেহের দান অকুণ্ঠচিত্তে গ্রহণ করেছেন। বৃদ্ধার শেষ চাওয়াটুকুও তিনি মিটিয়েছেন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ ইত্যাদির পার্থক্যকে ধুলায় মিশিয়ে মানব ধর্মের জয়গানে মুখর করে তুলেছেন।

 “উদ্দীপকটি ‘আহŸান’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।”মন্তব্যটি যথার্থ।
 মানুষ আজ জাতিভেদ, গোত্রভেদ, বর্ণভেদের কৃত্রিম পরিচয়ে নিজের পরিচয়কে সংকীর্ণ করেছে। কিন্তু এ মহাবিশ্বের সকল কিছু একই সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। তাই মানুষের আসল পরিচয় মানুষ হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
 উদ্দীপকে বলা হয়েছে, এ সমাজ জাতের নামে বজ্জাতিই করে চলেছে। জাত ছেলের হাতের মোয়া নয় যে, কারো ছোঁয়ায় জাত যাবে। সকল মানুষের একটাই পরিচয় হওয়া উচিত, সেটা হলো মানুষ জাতি। এ বিষয়টি ‘আহŸান’ গল্পের অন্যতম মুখ্য বিষয় হলেও একমাত্র বিষয় নয়।
 ‘আহŸান’ গল্পটি একটি উদার মানবিক সম্পর্কের গল্প। এখানে জাতপাতের বৈষম্যের অসারতার বিষয়টির সাথে সাথে আরও অনেক বিষয় উঠে এসেছে। মানুষের মধ্যে জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা গল্পের অন্যতম একটি বিষয়। আরও রয়েছে মানুষের স্নেহ-মায়া-মমতার যে বাঁধন সেটাকে কিছুতেই অস্বীকার করা যায় না। লেখক মুসলমান বৃদ্ধাকে মাতৃজ্ঞানে ভালোবেসে তাঁর মাতৃøেহকে অকপটে গ্রহণ করেছেন। মাতৃহৃদয়ের অতৃপ্ত অনুভূতি গল্পের অন্যতম প্রধান দিক, যা বৃদ্ধার মৃত্যুর মাঝে আরও মহিমাময় হয়ে উঠেছে। এসব বিষয় উদ্দীপকে আলোচিত হয়নি। তাই বলা যায় প্রশ্নের মন্তব্যটি যথার্থ।
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
দেশ ছেড়ে চলে গেলাম ম্যাট্রিক পাস করে। পড়াশোনা শেষ করে বিদেশে চাকরি করে বোমার তাড়ায় সেবার আবার এসে গ্রামে ঘর-বাড়ি সারিয়ে বাস করতে শুরু করলাম।
কাকে জিজ্ঞেস করলামÑবলি, সেই বুধোর মা বেঁচে আছে।
Ñখুব। কাল ঘাটে দেখলে না?
Ñনা।
Ñআজ দেখো এখন। তার মাথায় চুল পেকে গিয়েছে বলে চিনতে পারনি।
দু-একদিনের মধ্যে বুধোর মাকে দেখলাম। চেহারা ঠিক তেমনই আছে, যেমন দেখেছিলা বাল্যে। মুখশ্রী বিশেষ বদলায়নি। শুধু মাথার চুলগুলো সাদা হয়ে গিয়েছে মাত্র। অনেকে হয়তো ভাববেন, সত্তর-বাহাত্তর বছর বয়সে মুখের চেহারা বদলায়নি তাঁরা বুধোর মাকে দেখেননি। নিজের চোখে না দেখলে আমিও বিশ্বাস করতাম না।
[তথ্যসূত্র : বুধোর মায়ের মৃত্যুÑবিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়]
ক. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম কত সালে?
খ. ‘আজ্ঞে সামান্য মাইনে পাই’Ñলেখকের এই বক্তব্যে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের বুধোর মায়ের সাথে ‘আহŸান’ গল্পের বুড়ির অমিল কোথায়?ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উদ্দীপকের লেখকের এবং ‘আহŸান’ গল্পের লেখকের গ্রামে ফেরার উদ্দেশ্য এক নয়।”মন্তব্যটি আলোচনা কর। ১



১০ নং প্রশ্নের উত্তর

 বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৪ সালে।

 প্রশ্নোক্ত বক্তব্যে লেখকের আর্থিক দীনতা প্রকাশিত হয়েছে।
 অনেকদিন পরে লেখক গ্রামে এসেছেন পৈতৃক ভিটায়। এসে দেখেন ঘরবাড়ি যা ছিল ভেঙেচুড়ে ভিটিতে জঙ্গল গজিয়েছে। তাঁর সাথে দেখা হয় বাবার পুরাতন বন্ধু চক্কোত্তি মশায়ের। তিনি লেখককে দেখে খুশি হলেন এবং বললেন কতদিন পর গ্রামে আসলে এখন বাড়িঘর কর। জবাবে লেখক উক্ত উক্তিটি করেন। যাতে তাঁর আর্থিক দৈন্যকে প্রকাশ করে।

 উদ্দীপকের বুধোর মায়ের সাথে ‘আহŸান’ গল্পের বৃদ্ধার বয়সের ভারসাম্য এবং আর্থিক সচ্ছলতার সাথে অমিল রয়েছে।
 দারিদ্র্য সমাজের একটি অভিশাপ। এর কশাঘাতে অনেক সম্ভাবনাময় জীবন তিলে তিলে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়। এর তীব্র ছোবলে মানুষ মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি নৈতিক ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতির মুখে পড়ে।
 উদ্দীপকের বুধোর মায়ের সাথে ‘আহŸান’ গল্পের বুড়ির বয়সের সাথে স্বার্থগত ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক সচ্ছলতার অমিল রয়েছে। বুধোর মায়ের বয়স ৭০ বছর হলেও তার মুখের চেহারা বদলায়নি। কিন্তু ‘আহŸান’ গল্পের বৃদ্ধার শরীর-মন সবই বিধ্বস্ত হয়েছে অভাব নামক দানবের ছোবলে। বৃদ্ধা চোখেও ঠিকমতো দেখতে পায় না। গল্পের বৃদ্ধার মতো বুধোর মায়ের স্বাস্থ্যগত ভাঙন অতটা ধরেনি । দুজনের মধ্যে অস্তিত্বের বিষয়ের মিল থাকলেও আলোকিত বিষয়ের অমিল রয়েছে।

 “উদ্দীপকের লেখকের এবং ‘আহŸান’ গল্পের লেখকের গ্রামে ফেরার উদ্দেশ্য এক নয়।”মন্তব্যটি যথার্থ।
 প্রতিটি মানুষই তার জন্মভূমিকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে, জন্মভূমি প্রতি হৃদয়ের টান অনুভব করে। এজন্য যত দীনহীন পরিবেশই জন্মভূমি থাক না কেন তাকে কেউ ভালো না বেসে পারে না। এর প্রতি কেমন যেন নাড়ির টান অনুভূত হয়।
 উদ্দীপকের লেখককে ভূমিতে মাটিতে ফিরে আসতে দেখা যায়। কিন্তু তিনি যতটা না গ্রামকে ভালোবেসে ফিরে এসেছেন তার চেয়ে বাধ্য হয়েছেন বেশি। উদ্দীপকে লেখক বলেছেন, পড়াশোনা শেষ করে বিদেশে চাকরি করতে গিয়েছিলেন। অবশেষে বোমার তাড়া খেয়ে তিনি গ্রামে এসে ঘরবাড়ি সারিয়ে বাস করতে শুরু করলেন। কিন্তু এই একই উদ্দেশ্যে ‘আহŸান’ গল্পের লেখক গ্রামে প্রত্যাবর্তন করেননি।
 ‘আহŸান’ গল্পে দেখা যায়Ñলেখক একদিন একটা ছুটিতে গ্রামে প্রত্যাবর্তন করেন। গ্রামে এসে তাঁর বাবার পুরাতন বন্ধু চক্কোত্তি মশায়ের সাথে দেখা হলে তিনি অনুরোধ করেন বাবার ভিটায় বাড়িঘর তোলার জন্য। এক পর্যায়ে লেখক গ্রামে বাড়িঘর তুলে ছুটিতে এসে বসবাস শুরু করেন। গ্রামের লোকজনের সাথে হৃদ্যতা গড়ে তোলেন। পুরাতন বন্ধুদের খোঁজখবর নেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের লেখক যে, উদ্দেশ্যে গ্রামে প্রত্যাবর্তন করেন ‘আহŸান’ গল্পের লেখকের গ্রামে প্রত্যাবর্তনের কারণ বা উদ্দেশ্য এক নয়। তাই বলা যায় প্রশ্নের মন্তব্যটি যথার্থ।

 জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর
১. বিভ‚তিভ‚ষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ম্যাট্রিক পাস করেন কত সালে?
উত্তর : বিভ‚তিভ‚ষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯১৪ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন।
২. বিভ‚তিভ‚ষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ম্যাট্রিক পরীক্ষায় কোন বিভাগে উত্তীর্ণ হন?
উত্তর : বিভ‚তিভ‚ষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ম্যাট্রিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।
৩. বিভ‚তিভ‚ষণ বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন কোন জেলায়?
উত্তর : বিভ‚তিভ‚ষণ বন্দ্যোপাধ্যায় চব্বিশ পরগনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
৪. বিভ‚তিভ‚ষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেশা কী ছিল?
উত্তর : বিভ‚তিভ‚ষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেশা ছিল শিক্ষকতা।
৫. ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের লেখক কে?
উত্তর : ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের লেখক বিভ‚তিভ‚ষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
৬. “আহŸান” গল্পের গল্পকথকের পৈতৃক বাড়ির ভিটিতে কী গজিয়েছে?
উত্তর : “আহŸান” গল্পের গল্পকথকের পৈতৃক বাড়ির ভিটিতে জঙ্গল গজিয়েছে।
৭. ‘আহŸান’ গল্পটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত?
উত্তর : ‘আহŸান’ গল্পটি ‘বিভ‚তিভ‚ষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের’ রচনাবলি থেকে।
৮. বিভ‚তিভ‚ষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর : বিভ‚তিভ‚ষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৫০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
৯. ঘর করবার জন্য গল্পকথকের বাবার বন্ধু কোন জিনিস দিয়েছিল?
উত্তর : ঘর করবার জন্য গল্পকথকের বাবার বন্ধু খড়, বাঁশ দিয়েছিল।
১০. গল্পলেখকের বাবার বন্ধু গল্পকথককে কেমন ঘর তুলতে বললেন?
উত্তর : গল্পলেখকের বাবার বন্ধু গল্পকথককে চালাঘর তুলতে বললেন।
১১. “আহŸান” গল্পের গল্পকথক চক্কোত্তি মশাইকে দেখে কী করলেন?
উত্তর : “আহŸান” গল্পের গল্পকথক চক্কোত্তি মশাইকে দেখে প্রণাম করলেন।
১২. চক্কোত্তি মশাই গল্পকথককে গ্রামে কোন জিনিস করার কথা বললেন?
উত্তর : চক্কোত্তি মশাই গল্পকথককে গ্রামে বাড়িঘর করার কথা বললেন।
১৩. গল্পলেখক কীসের বাগানের মধ্য দিয়ে বাজারে গেল?
উত্তর : গল্পলেখক আম বাগানের মধ্য দিয়ে বাজারে গেল।
১৪. বাজারে যাবার সময় গল্পকথক বৃদ্ধাকে কোথায় দেখতে পেলেন?
উত্তর : বাজারে যাবার সময় গল্পকথক বৃদ্ধাকে আমগাছের ছায়ায় দেখতে পেলেন।
১৫. কে থাকতে বুড়ির গোলাভরা ধান ও গোয়াল ভরা গরু ছিল?
উত্তর : স্বামী থাকতে বুড়ির গোলাভরা ধান ও গোয়াল ভরা গরু ছিল।
১৬. বৃদ্ধা নড়ি ঠকঠক করতে করতে কোথায় যাচ্ছিল?
উত্তর: বৃদ্ধা নড়ি ঠকঠক করতে করতে বাজারে যাচ্ছিল।
১৭. বৃদ্ধা বুড়িকে দেখা মাত্রই গল্পলেখক কী করলেন?
উত্তর: বৃদ্ধা বুড়িকে দেখামাত্রই গল্পলেখক দাঁড়িয়ে গেলেন।
১৮. ‘তিনি থাকতে অভাব ছিল না কোন জিনিসের’Ñ“আহŸান” গল্পে এ উক্তিটির ‘তিনি’ কে?
উত্তর: “আহŸান” গল্পে এই ‘তিনি’ হলেন বুড়ির স্বামী।
১৯. “আহŸান” গল্পের বুড়ির স্বামী পেশায় কী ছিলেন?
উত্তর: “আহŸান” গল্পের বুড়ির স্বামী পেশায় করাতি ছিলেন।
২০. স্বামী মারা যাবার পর আপন বলতে জগতে বুড়ির কে বর্তমান আছে?
উত্তর: স্বামী মারা যাবার পর আপন বলতে জগতে বুড়ির বর্তমান আছে এক নাতজামাই।
২১. বুড়ি কাকে উঠোনের কাঁঠালতলায় আপন মনে বকে গেল?
উত্তর: বুড়ি গল্পকথককে উঠোনের কাঁঠালতলায় আপন মনে বকে গেল।
২২. বুড়ি গল্পকথকের জন্য ময়লা ছেঁড়া কাপড়ের প্রান্তে বেঁধে কী নিয়ে এসেছিল?
উত্তর: বুড়ি গল্পকথকের জন্য ময়লা ছেঁড়া কাপড়ের প্রান্তে বেঁধে আম নিয়ে এসেছিল।
২৩. “আহŸান” গল্পের গল্পকথকের সামনে কে দন্তহীন মুখে হাসবার চেষ্টা করল?
উত্তর: “আহŸান” গল্পের গল্পকথকের সামনে বুড়ি দন্তহীন মুখে হাসবার চেষ্টা করল।
২৪. গল্পকথক গ্রামে কার বাড়িতে থাকেন?
উত্তর: গল্পকথক গ্রামে এক জ্ঞাতি খুড়োর বাড়িতে থাকেন।
২৫. “আহŸান” গল্পের বুড়ির স্বামীর নাম কী?
উত্তর: “আহŸান” গল্পের বুড়ির স্বামীর নাম জমির।
২৬. কে গল্পকথককে বুড়ির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন?
উত্তর: গল্পকথকের খুড়ো মশায় গল্পকথককে বুড়ির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন।
২৭. বুড়ির আনা আমগুলোকে কী রকম বলে উলে­খ করেছেন?
উত্তর: বুড়ির আনা আমগুলোকে কড়া মিষ্টি বলে উলে­খ করেছেন।
২৮. “আহŸান” গল্পের বুড়িকে কে দুধ দিয়েছিল?
উত্তর: “আহŸান” গল্পের বুড়িকে হাজরার বউ দুধ দিয়েছিল।
২৯. “আহŸান” গল্পের হাজরার বউ বুড়িকে কী বলে ডাকে?
উত্তর: “আহŸান” গল্পের হাজরার বউ বুড়িকে মা বলে ডাকে।
৩০. কে বুড়িকে খাবার না দিয়ে খায় না?
উত্তর: হাজরার বউ বুড়িকে খাবার না দিয়ে খায় না।
৩১. হাজরার বউয়ের পেশা কী ছিল?
উত্তর: হাজরার বউয়ের পেশা ছিল ধান ভানা।
৩২. বুড়ি কথিত গোপালকে কী দেখতে যেতে বলে?
উত্তর: বুড়ি কথিত গোপালকে ঘরখানা দেখতে যেতে বলে।
৩৩. বুড়ি গল্পকথকের বসবার জন্য ঘরে কী তৈরি করেছিল?
উত্তর: বুড়ি গল্পকথকের বসবার জন্য ঘরে খেজুর পাতার চাটাই তৈরি করেছিল।
৩৪. গল্পকথক গ্রামে থাকা অবস্থায় কে রোজ সকালে আসতে ভোলে না?
উত্তর: গল্পকথক গ্রামে থাকা অবস্থায় বুড়ি রোজ সকালে আসতে ভোলে না।
৩৫. গল্পকথকের খাবার দুধ কোথা থেকে আসে?
উত্তর: গল্পকথকের খাবার দুধ ঘুঁটি গোয়ালিনীর কাছ থেকে আসে।
৩৬. বুড়ির দৃষ্টিতে ঘুঁটি গোয়ালিনীর দুধে অর্ধেক কী?
উত্তর: বুড়ির দৃষ্টিতে ঘুঁটি গোয়ালিনীর দুধে অর্ধেক জল থাকে।
৩৭. “আহŸান” গল্পের বুড়ি গল্পকথককে কী নামে ডাকে?
উত্তর: “আহŸান” গল্পের বুড়ি গল্পকথককে ‘গোপাল’ নামে ডাকে।
৩৮. অসুস্থ বুড়িকে গল্পকথক কখন দেখতে গেলেন?
উত্তর: অসুস্থ বুড়িকে গল্পকথক বিকেলে দেখতে গেলেন।
৩৯. “আহŸান” গল্পের বুড়ি কীসের উপর শুয়েছিল?
উত্তর: “আহŸান” গল্পের বুড়ি মাদুরের উপর শুয়েছিল।
৪০. বুড়ি কাকে দেখে আহ্লাদে আটখানা হয়ে গেল?
উত্তর: বুড়ি গোপালকে দেখে আহ্লাদে আটখানা হয়ে গেল।
৪১. “আহŸান” গল্পে কার দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে?
উত্তর: “আহŸান” গল্পে বুড়ির দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।
৪২. শেষবারে গ্রামে ঢুকতেই গল্পলেখকের কার সাথে দেখা হয়?
উত্তর: শেষবারে গ্রামে ঢুকতেই গল্পলেখকের দিগম্বরীর সাথে দেখা হয়।
৪৩. দিগম্বরী কে?
উত্তর: দিগম্বরী পরশু সর্দারের বৌ।
৪৪. গল্পকথক কার কাছ থেকে প্রথমে বুড়ির মৃত্যুর সংবাদ শুনতে পায়?
উত্তর: গল্পকথক দিগম্বরীর কাছে থেকে প্রথমে বুড়ির মৃত্যুর সংবাদ শুনতে পায়।
৪৫. ‘ওর স্নেহাতুর আÍা বহু দূর থেকে আমায় আহŸান করে এনেছে।’“আহŸান” গল্পে কার আÍার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: “আহŸান” গল্পে বুড়ির কথা বলা হয়েছে।
৪৬. “আহŸান” গল্পে আবদুল, শুকুর, নসরÑএরা লেখকের কী হতেন?
উত্তর: “আহŸান” গল্পে আবদুল, শুকুর, নসরÑএরা লেখকের স্কুল জীবনের বন্ধু হতেন।
৪৭. কারা বুড়ির কবর খুঁড়েছে?
উত্তর: দুজন জোয়ান ছেলে বুড়ির কবর খুঁড়েছে।
৪৮. বুড়ি কার জন্য খেজুর পাতার চাটাই বুনে রেখেছিল?
উত্তর: বুড়ি গল্পকথকের জন্য খেজুর পাতার চাটাই বুনে রেখেছিল।
৪৯. বুড়ি কথিত গোপালের জন্য ঘটিতে কী এনেছিল?
উত্তর: বুড়ি কথিত গোপালের জন্য ঘটিতে দুধ এনেছিল।
৫০. “আহŸান” গল্পের কার মন বুড়ির ডাক তাচ্ছিল্য করতে পারেনি?
উত্তর: “আহŸান” গল্পের গল্পলেখকের মন বুড়ির ডাক তাচ্ছিল্য করতে পারেনি।
৫১. গল্পকথক কাপড় কিনতে কার কাছে টাকা দিল?
উত্তর: গল্পকথক কাপড় কিনতে বুড়ির নাতজামাইয়ের কাছে টাকা দিল।
৫২. বুড়িকে আনুমানিক কয়টায় দাফন করা হয়েছিল?
উত্তর: বুড়িকে আনুমানিক বেলা বারোটায় দাফন করা হয়েছিল।
৫৩. বুড়িকে কোথায় কবর দেওয়া হয়েছিল?
উত্তর: বুড়িকে একটা প্রাচীন গাছের তলায় কবর দেয়া হয়েছিল।
৫৪. গল্পকথক পকেট থেকে বুড়িকে কী বের করে দিয়েছিল?
উত্তর: গল্পকথক পকেট থেকে বুড়িকে পয়সা বের করে দিয়েছিল।
৫৫. বাল্যকালে কার মা-পিসি মারা গিয়েছে?
উত্তর: বাল্যকালে গল্পকথকের মা-পিসি মারা গিয়েছে।

অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর
১. চক্রবর্তী মহাশয় গল্পলেখককে কেন চালাঘর তুলতে বললেন?
উত্তর : গ্রামের ছেলে গ্রামে বাস করবেÑচক্রবর্তী মহাশয় এই অভিপ্রায়ে গল্পলেখককে চালাঘর তুলতে বললেন।
গল্পলেখক ছিলেন চক্রবর্তী মহাশয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর একমাত্র ছেলে। বন্ধুটি মারা যাবার অনেকদিন পর তার একমাত্র ছেলেকে দেখে সে অত্যন্ত খুশি হয় এবং বন্ধুর ছেলেটিকে গ্রামে মাঝে-মধ্যে আসার জন্য বাবার ভিটায় অন্তত একটি চালাঘর তোলার পরামর্শ দেয়।
২. ‘সেও তো গরিব লোক।’Ñব্যাখ্যা কর।
উত্তর: “আহŸান” গল্পে গল্পকথক দারিদ্র্যপীড়িত এক অসহায় বৃদ্ধাকে আলোচ্য উক্তিটি করে।
বুড়ি ভালোবেসে তার কথিত গোপালের জন্য তার পাতানো মেয়ের কাছ থেকে খাঁটি দুধ নিয়ে যায়। গোপাল দারিদ্র্যের কারণে বুড়িকে দুধের মূল্য দিতে গেলে বুড়ি ইতস্তত করে। গোপাল বোঝে বুড়ি অর্থের জন্য নয়, হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার জন্যই তার জন্য দুধ নিয়ে আসে। তাই গোপাল বুড়িকে টাকা দিয়ে বলে সেও তো গরিব লোক। বুড়িকে বোঝাতেই গোপাল প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
৩. বুড়ি গোপালের জন্য কেন দুধ নিয়ে এসেছিল?
উত্তর: গোপাল যে দুধ খেত তার মধ্যে ভেজাল থাকার কারণে বুড়ি গোপালের জন্য এক ঘটি দুধ নিয়ে এসেছিল।
বুড়ি লেখক তথা গোপালকে বড় বেশি ভালোবাসতো। তাই সে গোপালের খোঁজ খবর নিতে আসতো। গোপাল ঘুঁটি গোয়ালিনীর ভেজাল দুধ খাচ্ছে শুনে বুড়ি ব্যথিত হয়েছিল। তাই পাতানো মেয়ের কাছ থেকে চেয়ে দুধ নিয়ে এসেছিল গোপালের জন্য।
৪. বুড়ি ডানহাত উঁচিয়ে তালু আড়ভাবে চোখে ধরলেন কেন?
উত্তর: বুড়ি গল্পকথককে ভালোভাবে দেখতে ডানহাত উঁচিয়ে তালু আড়ভাবে চোখে ধরলেন।
গল্পকথক বাজারে থাকার সময় আম গাছের ছায়ায় এক বৃদ্ধাকে দেখতে পায়। গল্পকথক বৃদ্ধার গ্রামেরই ছেলে। কিন্তু বৃদ্ধা তাকে ভালোভাবে চেনে না। কথোপকথনের এক পর্যায়ে বুড়ি নিজের ডানহাত উঁচিয়ে তালু আড়ভাবে চোখের ওপর ধরে গল্পকথককে চেনার চেষ্টা করে।
৫. গল্পকথককে বুড়ি চিনতে না পারার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বয়সের কারণে চোখের দৃষ্টি কমে আসায় বুড়ি গল্পকথককে চিনতে পারে না।
অনেকদিন পর হঠাৎ গ্রামে এসে গল্পলেখক গ্রামের বাজারে যেতে আম গাছের ছায়ায় তারই গ্রামের এক বুড়ির সাথে
উত্তর: বিভ‚তিভ‚ষণের “আহŸান” গল্পের বুড়ি দুধের বিশুদ্ধতা নিয়ে গল্পলেখককে এ কথাটি বলেছে।
গ্রামে থাকাবস্থায় গল্পলেখককে ঘুঁটি গোয়ালিনী দুধ দেয়। কিন্তু গোয়ালিনী সম্পর্কে গল্পকথক ভালোভাবে জানে না যে, তার দুধে পানি মেশানো থাকে। গ্রামের বুড়ির সাথে গল্পকথকের বেশ ভাব হয়েছে। তাই বুড়ি দুধের ভেজালের কথা আলোচ্য বাক্যটির মাধ্যমে লেখককে বুঝিয়েছেন।
৭. হাজরার বউ বুড়িকে খেতে দেয় কেন?
উত্তর: হাজরার বউ আন্তরিকতার জন্য বুড়িকে খেতে দেয়।
হাজরার বই ছা-পোষা একজন নারী। সে বুড়িকে ভালোবেসে মা ডেকেছে। তাই উদার মানবিকতার জন্যই সে তার সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের দুমুঠো চাল বুড়ির সাথে একসঙ্গে রান্না করে খায়। এতে হাজরার উদার দৃষ্টিভঙ্গিরই পরিচয় মেলে।
৮. ‘ওই যারে মেয়ে বলি, ও বড় ভাল’ কথাটি বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: হাজরার বৌ-এর প্রতি বুড়ির কৃতজ্ঞতাবোধের পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে এখানে।
বুড়ির আপনজন বলতে এই পৃথিবীতে তার এক নাতজামাই ছাড়া কেউ নেই। কিন্তু সেই নাতজামাই বুড়িকে দেখে না। পাতানো এক মেয়ে কষ্ট হলেও তাকে ভরণপোষণ দেয়। তাই গল্পকথক যখন বলে খাওয়া-দাওয়া কোথায় হয়, তখন বুড়ি হাজরার বৌ-এর কথা বলে তার কৃতজ্ঞতাবোধ স্বীকার করে।
৯. বুড়ির দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: অনেক প্রতীক্ষার পর গোপাল অসুস্থ বুড়িকে দেখতে আসে বলে বুড়ির দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।
বুড়ি গোপালকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে। তাই তার বিশ্বাস তার এই দুর্দিনে তার øেহের গোপাল হৃদয়ে টানে তার কাছে আসবেই। বুড়ির টানেই শেষ পর্যন্ত গল্পকথক বুড়িকে দেখতে যায়। তাইতো আনন্দে বুড়ির চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।
১০. গল্পকথকের গ্রাম ছাড়ার পর বুড়িকে স্মরণ না থাকার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: গ্রাম থেকে ফিরে গল্পকথক আবারও কলকাতায় গিয়ে নিজ কাজে ব্যস্ত থাকায় বুড়িকে ভুলে যান।
গল্পকথক গ্রামে আসার পর বুড়ি যেভাবে তাকে ভালোবেসে আপন করে কাছে টেনেছে, সেভাবে গল্পকথক বুড়িকে আপন ভাবতে পারেনি। তবে বুড়ির প্রতি তার যে মায়ামমতা ছিল না তা কিন্তু নয়। কর্মব্যস্ততার কারণেই বুড়িকে তার স্মরণে আসেনি।
১১. গল্পকথক বুড়িকে পকেট থেকে পয়সা বের করে দিলেন কেন?
উত্তর: বুড়ির অভাব-অভিযোগ আর কষ্টের কথা শুনে গল্পকথক বুড়িকে পকেট থেকে পয়সা বের করে দিলেন।
স্বামী বেঁচে থাকতে বুড়ির কোনো অভাব না থাকলেও বর্তমানে বুড়ির এক নাতজামাই থাকা সত্তে¡ও তার খাবারের কষ্ট। বয়সের ভারে কাজ করার সামর্থ্য নেই। বুড়ির এই কষ্টের কথা শুনে গল্পলেখক নিজ পকেট থেকে মানবতার খাতিরে পয়সা বের করে দিলেন।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply