এইচএসসি ব্যবসায় উদ্যোগ পঞ্চম অধ্যায় যৌথ মূলধনী ব্যবসায় সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়-৫

যৌথ মূলধনী ব্যবসায়

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন১ জনাব আরিফ ও তার ছয় বন্ধু একত্রিত হয়ে ৯০ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে আনন্দ ট্রেডার্স নামে একটি ব্যবসায় গঠন করেন। আরিফ ও তার বন্ধু রিপন পরিচালক নিযুক্ত হন। তাদের সঠিক পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়েই সফলতার মুখ দেখে। পরবর্তীতে তারা পরিচালকের সংখ্যা ও মূলধন বৃদ্ধিসহ ব্যবসায়টি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ লক্ষ্যে তারা জনগণের মাঝে উচ্চহার সুদের ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। [ঢা. বো. ১৭]
অ ক. পরিমেল নিয়মাবলি কী? ১
অ খ. কোম্পানির চিরন্তন অস্তিত্ব বলতে কী বোঝ? ২
অ গ. উদ্দীপকে উলি­খিত প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকে ১ম ও ২য় পর্যায়ের ব্যবসায়ের মধ্যে কোনটি অর্থনীতিতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করবে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। ৪
১ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক যে দলিলে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ও দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা সংক্রান্ত নিয়ম-নীতি লিপিবদ্ধ থাকে এবং যা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও সম্পর্কের দিকনির্দেশনা প্রদান করে তাকে পরিমেল নিয়মাবলি (অৎঃরপষবং ড়ভ অংংড়পরধঃরড়হ) বলে।
খ চিরন্তন অস্তিত্ব বলতে সহজে বিলুপ্ত হয় না এমন অস্তিত্বকে বোঝায়।
কোম্পানি সংগঠন অন্যান্য ব্যবসায়ের মতো সহজে বিলুপ্ত হয় না। আইনানুযায়ী এ ব্যবসায় চিরন্তন অস্তিত্বের মর্যাদা লাভ করে। পৃথক ও স্বাধীন সত্তার কারণে শেয়ারহোল্ডারদের মৃত্যু, দেউলিয়াত্ব ও শেয়ার হস্তান্তর এ ব্যবসায়ের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে না। তাই কোম্পানি হলো চিরন্তন অস্তিত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান।
গ উদ্দীপকে উলি­খিত প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি সংগঠন।
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিæ ২ এবং সর্বোচ্চ ৫০ জন হয়ে থাকে। এর পরিচালক সংখ্যা ২ জন। এ কোম্পানির শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য নয়। এছাড়া এটি জনগণের উদ্দেশ্যে শেয়ার ও ঋণপত্র ক্রয়ের আহŸান জানাতে পারে না।
উদ্দীপকে উলি­খিত প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সদস্য সংখ্যা ৭ জন। ব্যবসায়টিতে আরিফ ও তার বন্ধু রিপন এ দু’জন পরিচালক নিযুক্ত হন। তারা কোম্পানি পরিচালনায় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভ‚মিকা রাখেন। এসব বৈশিষ্ট্য প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সাথে মিল রয়েছে। সুতরাং, পরিচালক ও সদস্য সংখ্যার ভিত্তিতে প্রথম পর্যায়ের ব্যবসায়টি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি সংগঠন।
ঘ উদ্দীপকের ২য় পর্যায়ের ব্যবসায় পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিই অর্থনীতিতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করবে।
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির সর্বনিæ সদস্য সংখ্যা ৭ জন এবং সর্বোচ্চ এর শেয়ার সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ। এর ন্যূনতম পরিচালক সংখ্যা ৩ জন। এর শেয়ার জনসাধারণের নিকট অবাধে হস্তান্তরযোগ্য। তাই অর্থসংস্থানের সুযোগ বেশি থাকে।
উদ্দীপকের ১ম পর্যায়ের ব্যবসায়টি ছিল একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। পরবর্তীতে তারা পরিচালকের সংখ্যা ও মূলধন বৃদ্ধিসহ ব্যবসায়টি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেন। এ লক্ষ্যে তারা জনগণের মাঝে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। ফলে ২য় পর্যায়ের ব্যবসায়টি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি সংগঠনে পরিণত হয়েছে।
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির সদস্য সংখ্যা বেশি বলে এখানে অধিক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। তাছাড়া পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি শেয়ার ও ঋণপত্র অবাধে হস্তান্তর করতে পারে । ফলে অর্থনীতিতে মূলধন গঠনে অধিক ভ‚মিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সদস্য সংখ্যা কম থাকায়, বেশি মূলধন গঠনের সুযোগ থাকে না। অতএব, সুযোগ-সুবিধা বেচনায় ২য় পর্যায়ের পাবলিক লি. কোম্পানিটি অর্থনীতিতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করবে।

মমমপ্রশ্ন২ “রাইট কোং লি.” অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজন হওয়ায় তা সংগ্রহ করার জন্য পুরাতন শেয়ারহোল্ডারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ব্যবসায়ে লোকসানের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ৫ কোটি টাকা দেনা হয়ে যায় যা কোম্পানিটি পরিশোধে অক্ষম। এ অবস্থা নিরসনে তারা উপরোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। [দি. বো. ১৭]
অ ক. ন্যূনতম চাঁদা কী? ১
অ খ. শেয়ার ও ঋণপত্রের মধ্যে পার্থক্য কী? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. উদ্দীপকের কোম্পানিটি কোন ধরনের শেয়ার ইস্যু করতে চায়? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. অতিরিক্ত দেনার দায়ে কোম্পানিটি পরিচালনা সম্ভব না হলে সেটি কোন ধরনের অবসানে পড়বে? বিশ্লেষণ করো। ৪
২ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির পরিমেল নিয়মাবলিতে কোম্পানি গঠনের প্রাথমিক খরচ নির্ধারণের জন্য যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের প্রতিশ্র“তি উলে­খ থাকে তাকে ন্যূনতম চাঁদা বলে।
খ নিচে শেয়ার ও ঋণপত্রের মৌলিক পার্থক্যসমূহ উলে­খ করা হলোÑ
শেয়ার ঋণপত্র
১. শেয়ার কোম্পানির মূলধনের অংশ। ১.ঋণপত্র কোম্পানির ঋণ গ্রহণের দলিল।
২. মূলধন সংগ্রহ শেয়ার বিক্রয়ের মুখ্য উদ্দেশ্য। ২. ঋণ সংগ্রহ ঋণপত্র বিক্রয়ের মুখ্য উদ্দেশ্য।
৩. শেয়ার গ্রহীতাগণ কোম্পানির মালিক। ৩.ঋণপত্র গ্রহীতাগণ কোম্পানির পাওনাদার।
৪.শেয়ার বিক্রয়লব্ধ অর্থ কোম্পানির নিজস্ব মূলধন। ৪.ঋণপত্র বিক্রয়লব্ধ অর্থ কোম্পানির ঋণকৃত মূলধন।
৫.শেয়ারমালিকগণ ব্যবসায় হতে লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন। ৫.ঋণপত্রের মালিকগণ ব্যবসায় হতে সুদ পেয়ে থাকেন।
গ উদ্দীপকের কোম্পানিটি রাইট শেয়ার ইস্যু করতে চায়।
কোম্পানি অধিকতর মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নতুন শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। এ সময় তারা পুরাতন শেয়ারহোল্ডারদের অগ্রাধিকার প্রদান করে। এ ধরনের শেয়ার রাইট শেয়ার নামে পরিচিত।
উদ্দীপকের ‘রাইট কোং লি.’ অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজন হওয়ায় তা সংগ্রহ করার জন্য পুরাতন শেয়ারহোল্ডারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কোম্পানিতে অধিক মূলধনের প্রয়োজন হলেই এ ধরনের শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাছাড়া ভালো অবস্থায় থাকলে শেয়ার বাজারে তার শেয়ারের দামও বেশি থাকে। সে অবস্থায় নতুন ইস্যুকৃত শেয়ারে পুরাতন শেয়ার মালিকগণ তাদের স্বার্থ দাবি করতে পারেন। এরূপ দাবি পূরণের জন্যই কার্যত এ ধরনের শেয়ার বণ্টন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের কোম্পানিটি রাইট শেয়ার ইস্যু করতে চায়।
ঘ অতিরিক্ত দেনার দায়ে কোম্পানি পরিচালনা সম্ভব না হলে আদালত কর্তৃক বাধ্যতামূলক অবসান ঘটাতে পারে।
শেয়ার মালিক, পাওনাদার বা কোম্পানির নিবন্ধকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বা অন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে আদালত কোম্পানি বিলোপসাধনের নির্দেশ দিতে পারে। এরূপ ক্ষেত্রে নির্দেশপ্রাপ্ত কোম্পানির আদালত কর্তৃক বাধ্যতামূলক অবসান হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের ‘রাইট কোং লি.’ ব্যবসায়ের লোকসানের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ৫ কোটি টাকা দেনা হয়ে যায় যা কোম্পানিটি পরিশোধে অক্ষম। এ অবস্থা নিরসনে কোম্পানিটি রাইট শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কোম্পানি আইনের ২৪২ ধারার বিধান অনুযায়ী, পাঁচ হাজার টাকা বা এর বেশি পরিমাণ কোনো ঋণ পরিশোধে অক্ষম হলে ঐ কোম্পানির আদালতের নির্দেশানুযায়ী বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন হয়। উদ্দীপকের কোম্পনিটির দেনা হয়েছে ৫ কোটি টাকা এবং তা পরিশোধেও কোম্পানিটি অক্ষম। সুতরাং, এখন আদালতের নির্দেশে কোম্পানিটি বাধ্যতামূলকভাবে অবসান ঘটাতে পারে ।

মমমপ্রশ্ন৩ রতন তার পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে টাঙ্গাইলে ‘বিডি ফার্নিচার’ নামে একটি কারখানা গড়ে তোলেন। তাদের প্রাথমিক মূলধন ১০ কোটি টাকা। সবার প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সফলতার মুখ দেখে। পরবর্তীতে তারা প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তারা ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে জনগণের মাঝে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করতে চান। [কু. বো. ১৭]
অ ক. বাণিজ্য কী? ১
অ খ. বিবরণপত্র বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. উদ্দীপকে উলি­খিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. তুমি কি মনে করো প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে? মতামত দাও। ৪
৩ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী ভোক্তা কিংবা ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানোর জন্য সম্পাদিত যাবতীয় (ক্রয়, বিক্রয়, পরিবহন) কাজকে বাণিজ্য বলে।
খ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে শেয়ার বিক্রয়ের জন্য যে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে তাকে বিবরণপত্র বলে।
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহকালেই বিবরণপত্র নিবন্ধকের নিকট জমা দিতে হয়। বিবরণপত্রে কোম্পানির প্রয়োজনীয় সব তথ্যের উলে­খ করার প্রয়োজন হয়, ফলে কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ে জনসাধারণ উদ্বুদ্ধ হয়।
গ উদ্দীপকে উলি­খিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি সংগঠন।
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিæ ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জন। এটি গঠনে আইনের আনুষ্ঠানিকতা কম পালন করতে হয়। কমপক্ষে দু’জন পরিচালক নিয়েই এ কোম্পানি পরিচালনা করা যায়।
উদ্দীপকের রতন তার পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে টাঙ্গাইলে ‘বিডি ফার্নিচার’ নামে একটি কারখানা গড়ে তোলেন। তাদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সফলতা লাভ করে। প্রতিষ্ঠানটিতে সদস্য সংখ্যা ছিল মোট ৬ জন। তাই উক্ত প্রতিষ্ঠানটিকে সদস্য সংখ্যা বিচারে প্রাইভেট লিমিটেড বলা যায়।
ঘ উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হওয়ায় শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে না।
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি আইনানুযায়ী জনগণের উদ্দেশ্যে শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রয়ের আহŸান জানাতে পারে না। এর শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য নয়।
উদ্দীপকের রতন ও তার পাঁচ বন্ধু মিলে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সফলতা অর্জন করায় তারা এটি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তারা ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে জনগণের মাঝে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করতে চান।
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হওয়ায় জনসাধারণের কাছে শেয়ার ক্রয়ের আহŸান জানাতে পারবে না। শেয়ার বিক্রয় করতে হলে এর সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে কমপক্ষে ৭ জন করতে হবে। যাতে এটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়। এরপর তারা কোম্পানির আইনানুযায়ী অবাধে শেয়ার ও ঋণপত্র জনসাধারণের নিকট বিক্রয় করে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে। সুতরাং, বিডি ফার্নিচার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হওয়ার আগ পর্যন্ত শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে না।

মমমপ্রশ্ন৪ মি. সাত্তার একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। তিনি বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করে মুনাফা অর্জন করেন। তিনি তিস্তা ব্যাংক লিমিটেডের কিছু শেয়ার ক্রয় করলেন। শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাংকটির সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা লাভ করেন। সব সুযোগ-সুবিধা ঠিক থাকলেও তিনি লভ্যাংশ প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তায় ভোগেন। [চ. বো. ১৭]
অ ক. সমবায় সমিতি কী? ১
অ খ. ঋণপত্র বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. মি. সাত্তার কোন ধরনের শেয়ার ক্রয় করেছেন? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি মি. সাত্তারের যেসব সুবিধা নিশ্চিত করবে তা বিশ্লেষণ করো। ৪
৪ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক পারস্পরিক অর্থনৈতিক কল্যাণের লক্ষ্যে সমান শ্রেণিভুক্ত ব্যক্তিবর্গ মিলিত হয়ে যে সংগঠন গড়ে তোলে তাকে সমবায় সমিতি বলে।
খ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি যে দলিলের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে তাকে ঋণপত্র বলে।
কোম্পানির অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজন হলে ঋণপত্র বিক্রির মাধ্যমে তা সংগ্রহ করে। এটি প্রতিষ্ঠানের মূলধন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এজন্য নির্দিষ্ট হারে সুদও দিতে হয়। ঋণপত্রে এ ঋণের পরিমাণ, সুদের হার, ঋণের মেয়াদ ইত্যাদি বিষয় স্পষ্টভাবে উলে­খ থাকে।
গ উদ্দীপকের মি. সাত্তার সাধারণ শেয়ার ক্রয় করেছেন।
আইনানুযায়ী সাধারণ শেয়ারের মালিকগণ অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিভিন্ন দিক বিচারে অধিক সুবিধা ও মর্যাদা লাভ করেন। তবে তারা লভ্যাংশ বণ্টনে ও কোম্পানি অবসানের সময় মূলধন ফেরতে অগ্রাধিকার পান না।
উদ্দীপকের মি. সাত্তার তিস্তা ব্যাংক লিমিটেডের কিছু শেয়ার ক্রয় করলেন। শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাংকটির সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা লাভ করেন। সব সুযোগ-সুবিধা ঠিক থাকলেও তিনি লভ্যাংশ প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তায় ভোগেন। এসব বৈশিষ্ট্য সাধারণ শেয়ারের সাথে মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, মি. সাত্তার সাধারণ শেয়ার ক্রয় করেছেন।
ঘ উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি মি. সাত্তারকে সাধারণ শেয়ারের সব সুবিধা নিশ্চিত করবে।
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক হলেন সাধারণ শেয়ারহোল্ডারগণ । এরূপ শেয়ারহোল্ডারগণ অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিভিন্ন দিক বিচারে অধিক সুবিধা ও মর্যাদা লাভ করেন। এ ধরনের শেয়ার মালিকের দায় বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণ দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে।
উদ্দীপকের মি. সাত্তার তিস্তা ব্যাংকের শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে সাধারণ শেয়ারের মালিক হন। ফলে তিনি ব্যাংকটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মতামত প্রকাশের সুযোগ পান। আবার ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষমতাও লাভ করেন। এ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে কোম্পানির পরিচালক পর্ষদ নির্বাচিত করা হয়।
এছাড়া যত দিন কোম্পানির অস্তিত্ব থাকবে শেয়ার হস্তান্তর না করলে, মি. সাত্তার তত দিন ঐ কোম্পানির মালিক থাকবেন। শেয়ারহোল্ডার হিসেবে তিনি কোম্পানির যাবতীয় কাজ নিয়ন্ত্রণে ভ‚মিকা রাখতে পারবেন। এছাড়া তাকে বিনিয়োগকৃত মূলধনের বেশি দায় বহন করতে হবে না। এসব সুবিধা উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে মি. সাত্তার নিশ্চিতভাবে ভোগ করবেন।

মমমপ্রশ্ন৫ জনাব আরেফিন, ক ও খ নামক দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সাথে জড়িত। ক প্রতিষ্ঠানটি ট্রেড লাইসেন্স এবং খ প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধনপত্র নিয়ে কাজ শুরু করেন। দুটি প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেছিল। মেয়াদ শেষে ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য ক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যাংক জনাব আরেফিনকে নোটিশ প্রদান করে। খ-এর ক্ষেত্রে মালিক আরেফিনের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেয়। দুটি প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে সচ্ছল। [সি. বো. ১৭]
অ ক. শিল্প কী? ১
অ খ. ‘ব্যবসায় বেকার সমস্যা দূর করে’ ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. উদ্দীপকে বর্ণিত খ প্রতিষ্ঠানটি মালিকানাভিত্তিক কোন ধরনের ব্যবসায় সংগঠন? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকে জনাব আরেফিনকে ক প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে ঋণদায় পরিশোধের নোটিশ প্রদানের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো। ৪
৫ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক যে প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক সম্পদ ও কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্যে পরিণত করা হয় তাকে শিল্প বলে।
খ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে বৈধভাবে পরিচালিত যাবতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যবসায় বলে।
ব্যবসায় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। ব্যবসায়িক কাজ বৃদ্ধি পেলে দেশে অধিক শিল্প কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। ব্যবসায় স্বকর্মসংস্থানের অন্যতম উৎস। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। এভাবে ব্যবসায় বেকার সমস্যা দূর করে।
গ উদ্দীপকে বর্ণিত খ প্রতিষ্ঠানটি মালিকানার ভিত্তিতে কোম্পানি সংগঠন।
কোম্পানি সংগঠন হলো কোম্পানি আইনের অধীনে গঠিত ও পরিচালিত সীমিত দায়বিশিষ্ট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। নিবন্ধনপত্র পাওয়ার পর এ সংগঠন ব্যবসায় কার্যক্রম শুরু করতে পারে।
উদ্দীপকের জনাব আরেফিন ক ও খ নামক দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সাথে জড়িত। এ দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে খ প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধনপত্র পাওয়ার পরপরই কাজ শুরু করে দেয়। এটি কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তার অধিকারী হওয়ায় নিজ নামে পরিচালিত হয়। এর সত্তা মালিক থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। এসব বৈশিষ্ট্য কোম্পানি সংগঠনের সাথে মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, খ প্রতিষ্ঠানটি মালিকানার ভিত্তিতে কোম্পানি সংগঠন।
ঘ উদ্দীপকের ক প্রতিষ্ঠানটি একমালিকানা ব্যবসায় হওয়ায় জনাব আরেফিনকে ঋণ পরিশোধের জন্য নোটিশ প্রদান যুক্তিসঙ্গত হয়েছে।
একমালিকানা ব্যবসায় হলো একক মালিকানায় গঠিত ও পরিচালিত ব্যবসায়। যে কেউ ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে এ ব্যবসায় গঠন করতে পারেন। এ ব্যবসায় মালিকের নামেই পরিচালিত হয়। এজন্য ব্যবসায়ের দায় মালিককেই বহন করতে হয়।
উদ্দীপকের জনাব আরেফিন ক নামক প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সাথে সম্পৃক্ত। এটি ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে। মেয়াদ শেষে ব্যাংকটি জনাব আরেফিনকে ঋণ পরিশোধের জন্য নোটিশ প্রদান করে। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানটি একমালিকানা ব্যবসায়।
এ ব্যবসায়ের সদস্যদের দায় অসীম। এজন্য বিনিয়োগকৃত মূলধন দিয়ে দায় পরিশোধ করা সম্ভব না হলে, সদস্যদের ব্যক্তিগত সম্পদ দিয়ে দায় পরিশোধ করতে হয়। তাই উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি একমালিকানা ব্যবসায় হওয়ায় ব্যাংক জনাব আরেফিনকে ঋণ পরিশোধের জন্য নোটিশ প্রদান করেছে তিনি এ ঋণ পরিশোধে বাধ্য থাকবেন। সুতরাং বলা যায়, ব্যাংক কর্তৃক জনাব আরেফিনকে ঋণ পরিশোধের নোটিশ প্রদান করা যৌক্তিক হয়েছে।

মমমপ্রশ্ন৬ মাশরাফি ও তার ৬ বন্ধু মিলে এমন একটি ব্যবসায় সংগঠন গঠন করার জন্য পরিকল্পনা করেন, যাতে জনগণ থেকেও মূলধন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। তাই তারা প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হয়ে তাদেরকে একটি সনদ ইস্যু করেন। কিন্তু ব্যবসায় শুরু করার জন্য আরও দলিলপত্রসহ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করত হবে। [সি. বো. ১৭]
অ ক. যোগ্যতাসূচক শেয়ার কী? ১
অ খ. তফসিল অ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. মাশরাফির ব্যবসায় সংগঠনের মালিকানাভিত্তিক ধরন ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকে উলি­খিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য মাশরাফিদের করণীয় লেখো। ৪
৬ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক যে নির্ধারিত সংখ্যক সাধারণ শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে কোম্পানির পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা যায়, তাকে পরিচালকের যোগ্যতাসূচক শেয়ার বলে।
খ কোম্পানির বিধিমালা বা ধারাসমূহের বর্ণনার তালিকাকে তফসিল অ বলে।
নির্দিষ্ট ধারা বা বিধিমালা অনুযায়ী একটি কোম্পানি গঠিত ও পরিচালিত হয়। তফসিল অ-তে এ ধারাসমূহের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা ও আলোচনা করা হয়। এতে কোম্পানির পরিচালনাসংক্রান্ত যাবতীয় নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ থাকে।
গ মাশরাফিদের ব্যবসায় সংগঠন মালিকানার ভিত্তিতে কোম্পানি সংগঠন।
কোম্পানি সংগঠন হলো কোম্পানি আইনের অধীনে গঠিত, পরিচালিত সীমিত ও দায়বিশিষ্ট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের সংগঠন জনগণের নিকট শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। নিবন্ধনপত্র ও কার্যারম্ভের অনুমিত পত্র গ্রহণের মাধ্যমে এ সংগঠন চালু করা যায়।
উদ্দীপকের মাশরাফি ও তার ৬ বন্ধু মিলে একটি ব্যবসায় সংগঠন গঠন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তারা এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে চায়। এজন্য তারা নিবন্ধনপত্র সংগ্রহ করেন। আবার কার্যারম্ভের জন্য অনুমিতপত্রও গ্রহণ করবেন। এসব কর্মকাণ্ড কোম্পানি সংগঠনের সাথে জড়িত। তাই বলা যায়, মাশরাফিদের ব্যবসায়টি মালিকানার ভিত্তিতে কোম্পানি সংগঠন।
ঘ উদ্দীপকের সংগঠনটির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য মাশরাফিদের কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
নিবন্ধনপত্র সংগ্রহের পর পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে কাজ শুরুর জন্য অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হয়। এজন্য বিবরণপত্র, যোগ্যতাসূচক শেয়ার ক্রয় ও ন্যূনতম চাঁদা সংগ্রহের ঘোষণা পত্র নিবন্ধকের অফিসে জমা দিতে হয়।
উদ্দীপকের মাশরাফি ও তার ৬ বন্ধু মিলে একটি কোম্পানি সংগঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এ লক্ষ্যে তারা প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হয়ে তাদেরকে একটি সনদ (নিবন্ধনপত্র) ইস্যু করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ব্যবসায় শুরু করার জন্য আরও দলিলপত্রসহ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বলেন।
উদ্দীপকের মাশরাফিরা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি গঠন করতে চান। তাই তাদেরকে নিবন্ধনপত্র সংগ্রহের পাশাপাশি কার্যারম্ভের অনুমিতপত্রও গ্রহণ করতে হবে। আর কার্যারম্ভের অনুমিতপত্র সংগ্রহের জন্য তাদেরকে বিবরণপত্র, যোগ্যতাসূচক শেয়ার ক্রয় ও ন্যূনতম চাঁদা সংগ্রহের ঘোষণাপত্র নিবন্ধকের অফিসে জমা দিতে হবে। এসব আনুষ্ঠানিকতা মাশরাফিদের প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পন্ন করতে হবে।

মমমপ্রশ্ন৭ জনাব জাকির তার ১০ (দশ) বন্ধুকে নিয়ে ঢাকা শহরে ‘রনি এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট হতে অনুমতিপত্র গ্রহণের মাধ্যমে তারা ব্যবসায় গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তাদের মূলধনের পরিমাণ ৪৮ কোটি টাকা। দক্ষতা ও সুনামের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সালে ১৭ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করে। সম্প্রতি তারা ব্যবসায় সম্প্রসারণের চিন্তা করেন, যার জন্য অতিরিক্ত ২৩ কোটি টাকা মূলধন প্রয়োজন, যা শেয়ার বিক্রি অথবা ব্যাংক ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পারেন। [য. বো. ১৭]
অ ক. স্মারকলিপি কী? ১
অ খ. ইক্যুইটি শেয়ার বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যবসায় সংগঠনটি কোন প্রকৃতির? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির কোন উৎস হতে মূলধন সংগ্রহ করা শ্রেয় বলে তুমি মনে করো? যুক্তিসহ মতামত দাও। ৪
৭ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক যে মূল দলিলে কোম্পানির মৌলিক বিষয়াবলি (নাম, ঠিকানা, উদ্দেশ্য, দায়, মূলধন) সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ থাকে তাকে স্মারকলিপি বা পরিমেলবন্ধ বলে।
খ যে শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে কোম্পানির মালিক বা অংশীদার হওয়া যায় তাকে ইক্যুইটি শেয়ার বলে।
ইক্যুইটি শেয়ার সাধারণ শেয়ার হিসেবে পরিচিত। এ শেয়ারহোল্ডারদের কোম্পানির পরিচালনার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে। কোম্পানির সমস্ত ঝুঁকি তারাই বহন করে। অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করার পর তারা কোম্পানির লভ্যাংশ পায়।
গ উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যবসায় সংগঠনটি হলো পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিæ ৭ জন ও সর্বোচ্চ শেয়ার সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ। এর শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য। শেয়ার ও ঋণপত্র ক্রয়ের জন্য এ সংগঠন জনগণকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে। ফলে এর মূলধনের পরিমাণও অধিক হয়।
উদ্দীপকের জনাব জাকির তার ১০ বন্ধুকে নিয়ে ‘রনি এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ হতে অনুমতিপত্র গ্রহণের মাধ্যমে তারা ব্যবসায় গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এক্ষেত্রে তারা কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র নিয়ে ব্যবসায় শুরু করেন। শুধু পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রেই এটি গ্রহণ করতে হয়। সুতরাং বলা যায়, বৈশিষ্ট্যানুযায়ী উক্ত ব্যবসায় সংগঠনটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
ঘ উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করা শ্রেয় হবে বলে আমি মনে করি।
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে কোম্পানির মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। এরূপ সংগৃহীত অর্থ ব্যবসায় বিলোপের আগে ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
উদ্দীপকের জনাব জাকির তার বন্ধুদের নিয়ে পাবলিক লিমিটেড কোম্পনি গঠন করেছেন। দক্ষতা ও সুনামের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সালে ১৭ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করে। সম্প্রতি তারা ব্যবসায় সম্প্রসারণের চিন্তা করেন। ফলে তাদের অতিরিক্ত ২৩ কোটি টাকা মূলধন প্রয়োজন, যা শেয়ার বিক্রি বা ব্যাংক ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পারেন।
এক্ষেত্রে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করলে ব্যবসায় অবসানের আগে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি যদি ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় তাহলে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুদসহ ফেরত দিতে হবে। এটি অধিক ব্যয়বহুল ও ঝামেলাপূর্ণ। তাই ব্যাংক ঋণ না নিয়ে শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করাই শ্রেয় হবে।

মমমপ্রশ্ন৮ জনাব সিফাত ও তার ১০ বন্ধু মিলে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন করার উদ্যোগ নেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র যাচাই করে সন্তুষ্ট হয়ে একটি পত্র ইস্যু করেন। পত্রটি পাওয়ার পর তারা ব্যবসায় আরম্ভ করেন। ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য তারা জনগণের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। [য. বো. ১৭]
অ ক. হোল্ডিং কোম্পানি কাকে বলে? ১
অ খ. কোম্পানির কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. উদ্দীপকে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত পত্রটির ধরন ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. মূলধন সংগ্রহের জন্য উদ্দীপকে উলি­খিত সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো। ৪
৮ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক যে কোম্পানি অন্য কোনো কোম্পানির সব শেয়ার অথবা ৫০%-এর বেশি শেয়ার ক্রয় করার মাধ্যমে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের অধিকার লাভ করে তাকে হোল্ডিং কোম্পানি বলে।
খ যে সত্তা বা অস্তিত্ব বলে কোম্পানি নিজ নামে গঠিত ও পরিচালিত হয় তাকে কোম্পানির কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বলে।
কোম্পানিকে তার মালিক বা শেয়ারহোল্ডার থেকে সম্পূর্ণ পৃথক সত্তা হিসেবে দেখা হয়। এটি ব্যক্তি না হয়েও নিজ নামে চুক্তি সম্পাদন, লেনদেন ও প্রয়োজনে মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে। এজন্যই কোম্পানিকে কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তার অধিকারী বলা হয়।
গ উদ্দীপকের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত পত্রটি হলো নিবন্ধনপত্র।
উদ্যোক্তাগণ কোম্পানি আইনের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করে নিবন্ধকের নিকট হতে নিবন্ধনপত্র সংগ্রহ করেন। এরূপ দলিলকে কোম্পানির জš§সনদ বলা হয়।
উদ্দীপকের জনাব সিফাত ও তার ১০ বন্ধু মিলে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন করার উদ্যোগ নেন। প্রয়োজনীয় কাগজসহ তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র যাচাই করে সন্তুষ্ট হয়ে একটি পত্র ইস্যু করেন। পত্রটি পাওয়ার পর তারা ব্যবসায় আরম্ভ করেন। প্রতিষ্ঠানটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হওয়ায় এ পত্র পাওয়ার পরই ব্যবসায় আরম্ভ করতে পেরেছে। বৈশিষ্ট্যানুযায়ী এ পত্রটি নিবন্ধনপত্রের আওতায় পড়ে। সুতরাং বলা যায়, কর্তৃপক্ষ নিবন্ধনপত্র ইস্যু করেছিল।
ঘ উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হওয়ায় জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া অযৌক্তিক।
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি জনসাধারণের নিকট অবাধে শেয়ার ও ঋণপত্রে ক্রয়ের আহŸান জানাতে পারে না। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা নিজেরাই মূলধনের ব্যবস্থা করেন।
উদ্দীপকে উলি­খিত সিফাত ও তার বন্ধুরা নিবন্ধনপত্র পাওয়ার পরপরই ব্যবসায়ের কাজ শুরু করেন। তাদের প্রতিষ্ঠানটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হওয়ায় কাজ শুরু করতে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয়নি। সম্প্রতি ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য তারা জনগণের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। এক্ষেত্রে তারা শেয়ার বা ঋণপত্র বিক্রয় করতে চান।
প্রতিষ্ঠানটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হওয়ায় তারা জনগণের কাছে অবাধে শেয়ার বা ঋণপত্র বিক্রয়ের প্রস্তাব দিতে পারবে না। এজন্য তাদের কোম্পানিকে পাবলিক লিমিটেডে পরিণত করতে হবে। কারণ শুধু পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিই জনগণের কাছে অবাধে শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রয় করতে পারে। সুতরাং উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হওয়ার কারণেই জনগণের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া কোম্পানি আইনানুযায়ী অযৌক্তিক।

মমমপ্রশ্ন৯ আধুনিক বিশ্বে কোনো দেশই নিজে একাই ব্যবসায় কাজ করার জন্য যথেষ্ট নয়। কোনো দেশের আছে দক্ষ জনশক্তি আবার কোনো দেশের আছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। এজন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে জনশক্তি ও আইসিটি সেবা ভাড়া নেয়। [ব. বো. ১৭]
অ ক. শেয়ার কী? ১
অ খ. ন্যূনতম মূলধন বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. উদ্দীপকে কোন ধরনের সাম্প্রতিককালের ব্যবসায়ের বর্ণনা আছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যবসায় বেকার সমস্যা দূরীকরণে সহায়তা করতে পারে তুমি কি একমত? মতামত দাও। ৪
৯ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক কোম্পানির মোট মূলধনকে সমমূল্যের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করা হয়, যার প্রত্যেক একককে শেয়ার বলে।
খ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির পরিমেল নিয়মাবলিতে কোম্পানি গঠনের প্রাথমিক খরচ নির্ধারণের জন্য যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের প্রতিশ্র“তির উলে­খ থাকে তাকে ন্যূনতম মূলধন বলে।
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহ ও শেয়ার বিলির পূর্বে ন্যূনতম মূলধন সংগ্রহের কাজ করে। এ মূলধনের অর্থ দিয়ে কোম্পানির প্রাথমিক ব্যয় ও গঠন সংক্রান্ত ব্যয় নির্বাহ করা হয়। এরূপ মূলধন সংগ্রহ ব্যতীত পাবলিক কোম্পানি কার্যারম্ভের অনুমতি পায় না।
গ উদ্দীপকে সাম্প্রতিককালের আউটসোর্সিং ব্যবসায়ের বর্ণনা আছে।
চুক্তির মাধ্যমে নিজ প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করানো হলো আউটসোর্সিং। বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের কাজ বর্তমানে আউটসোর্সিং- এর মাধ্যমে করা হয়।
উদ্দীপকে উলে­খ্য, আধুনিক বিশ্বে কোনো দেশই নিজে একা ব্যবসায় কাজ করার জন্য যথেষ্ট নয়। কোনো দেশের পর্যাপ্ত দক্ষ জনশক্তি আছে আবার কোনো দেশের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আছে। এজন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে জনশক্তি ও আইসিটি সেবা ভাড়া নেয়। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে এরূপ কাজ করানো হয়। নির্ধারিত সময়ে ও যথানিয়মে কাজ শেষ হলে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এর বিল পরিশোধ করা হয়। বৈশিষ্ট্যানুযায়ী এরূপ কার্যক্রম আউটসোর্সিং ব্যবসায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে সাম্প্রতিককালের আউটসোর্সিং ব্যবসায়ের বর্ণনা করা হয়েছে।
ঘ উদ্দীপকে বর্ণিত ‘আউটসোর্সিং ব্যবসায় দেশের বেকার সমস্যা দূরীকরণে সহায়তা করতে পারে’- আমি এর সাথে একমত।
একটা প্রতিষ্ঠান সব কাজ নিজে না করে বা সব কাজে নিয়মিত কর্মী নিয়োগ না দিয়ে বাইরের প্রতিষ্ঠান থেকে লোক নিয়ে চুক্তির মাধ্যমে কাজ করিয়ে নিতে পারে। এটি আউটসোর্সিং ব্যবসায়ের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে উলে­খ্য বর্তমান সময়ে কোনো দেশই নিজে একা ব্যবসায় কাজ করার জন্য যথেষ্ট নয়। অন্য দেশ থেকে জনবল নিয়ে নিজের দেশের আধুনিক যন্ত্রপাতির সহায়তায় ব্যবসায়ের কাজ করানো হচ্ছে। এতে ঐ দেশ আরও উন্নত হচ্ছে।
এ ধরনের আউটসোর্সিং ব্যবসায় চালু হওয়ার ফলে দক্ষ ও বেকার জনশক্তি এখন ভালো কাজের সুযোগ পাচ্ছে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে ও যথানিয়মে কাজ শেষ হলে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তারা সহজেই বিল পেয়ে যায়। স্বল্প খরচে ও সহজেই আউটসোর্সিং-এর কাজ নিয়ে বেকার সমাজ খুব দ্রুত নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পারে। এদের দেখে অন্য যুবসমাজও ঘরে বসে না থেকে আউটসোর্সিং-এর কাজে নিজেদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে। সব দিক বিবেচনায় এটি বেকার সমস্যা দূর করতে সহায়ক ভ‚মিকা রাখে বলে আমি মনে করি।

মমমপ্রশ্ন১০ মাহী সাত জন উদ্যোক্তা নিয়ে পদ্মা লি. নামে একটি যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠন করে। কোম্পানির স্মারকলিপিতে ২০ কোটি টাকা মূলধনের কথা উলে­খ করা হয়েছে যা ১,০০০ টাকা মূল্যের সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত। কোম্পানি গঠনের পাঁচ বছর পর মেঘনা লি. কোম্পানি পদ্মা লি. কোম্পানির ৫৫% শেয়ার কিনে নেয়। ফলে মেঘনা লি. পদ্মা লি. কোম্পানির অধিকাংশ পরিচালক নিয়োগের ক্ষমতা লাভ করে। [ঢা. বো. ১৬]
অ ক. পাবলিক লি. কোম্পানির ন্যূনতম পরিচালক সংখ্যা কত? ১
অ খ. কোম্পানি সংগঠন কীভাবে মূলধন গঠনে ভ‚মিকা রাখে? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. সূত্রের সাহায্যে পদ্মা লি. কোম্পানির বর্তমান শেয়ার সংখ্যা নির্ণয় করো। ৩
অ ঘ. পদ্মা লি. কোম্পানি ও মেঘনা লি. কোম্পানির মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করো। ৪
১০ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ন্যূনতম পরিচালক সংখ্যা তিনজন।
খ কোম্পানি আইনের অধীনে গঠিত ও পরিচালিত কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তার অধিকারী সীমিত দায়বিশিষ্ট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে কোম্পানি সংগঠন বলে।
কোম্পানি সংগঠনে সদস্য সংখ্যা অধিক থাকে। এতে অধিক মূলধন সংগ্রহ হয়। আবার প্রয়োজনে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বাজারে শেয়ার ছাড়তে পারে। কোম্পানি আইনসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান বলে ব্যাংকও ঋণ দিতে উৎসাহী হয়। এভাবেই কোম্পানি সংগঠন মূলধন গঠনে ভ‚মিকা রাখে।
গ আইন অনুযায়ী কোম্পানি সংগঠনের মোট মূলধনকে নির্দিষ্ট সমমূল্যের ক্ষুদ্র ও সমান এককে ভাগ করা হয়। এর প্রত্যেকটি ক্ষুদ্রতম ভাগই হলো একেকটি শেয়ার।
পদ্মা লি. কোম্পানির স্মারকলিপিতে ২০ কোটি টাকা মূলধনের কথা উলে­খ করা হয়েছে যা ১,০০০ টাকা মূল্যের সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত। অর্থাৎ কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা হলো ২০০০০০০০০১০০০ বা ২,০০,০০০। কোম্পানির ৫৫% শেয়ার মেঘনা লি. কিনে নেয়। পদ্মা লি. কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা ৪৫% বা ২,০০,০০০  ৪৫১০০ বা ৯০,০০০ সংখ্যক শেয়ার। অর্থাৎ, পদ্মা লি.-এর বর্তমান শেয়ার ৯০,০০০।
ঘ পদ্মা লি. সাবসিডিয়ার কোম্পানি এবং মেঘনা লি. কোম্পানি হোল্ডিং কোম্পানি হওয়ায় এদের মধ্যে বহুবিধ পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
যদি কোনো কোম্পানি অন্য কোনো কোম্পানির ৫০ ভাগের বেশি শেয়ারের মালিক হয় তাকে হোল্ডিং কোম্পানি বলে। আর কোম্পানি আইনের ২(২) ধারা অনুযায়ী কোনো কোম্পানির ৫০ ভাগের বেশি শেয়ার অন্য কোম্পানির অধীনে থাকলে তাকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বলে।
মাহী সাতজন উদ্যোক্তা নিয়ে পদ্মা লি. নামে কোম্পানি গঠন করে। কোম্পানি গঠনের ৫ বছর পর মেঘনা লি. পদ্মা লি. কোম্পানির ৫৫% শেয়ার কিনে নেয়। ফলে মেঘনা লি. কোম্পানি পদ্মা লি. কোং-এর অধিকাংশ পরিচালক নিয়োগের ক্ষমতা লাভ করে।
বর্তমান শর্ত অনুযায়ী ৫৫% শেয়ার ক্রয় করায় মেঘনা লি. হলো হোল্ডিং কোম্পানি। আইনানুযায়ী মেঘনা লি. কোম্পানি মোট ভোট দান ক্ষমতা বেশি পাবে। আবার সাবসিডিয়ারি কোম্পানি হওয়ায় পদ্মা লি. প্রতিষ্ঠানটিতে ভোট দান ক্ষমতা হ্রাস পাবে। এতে পরিচালকও নিয়োগ হবে মেঘনা লি.-এর মাধ্যমে। তাই বলা যায়, মেঘনা লি. ও পদ্মা লি.-এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

মমমপ্রশ্ন১১ অইঈ একটি সফটওয়্যার প্রস্তুতকারী কোম্পানি সংগঠন। তারা সম্প্রতি ১০০টি সফটওয়্যার তৈরির অর্ডার পায়। তাদের পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ লোকবল নেই। তাই তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পাদনের জন্য মুন কোম্পানিকে চুক্তির ভিত্তিতে ৩০টি সফটওয়্যার তৈরির দায়িত্ব দেয়। দক্ষ লোকবলের অভাবে পরবর্তীতে অইঈ কোম্পানি নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় অচলাবস্থা দেখা দেয়। তাই তারা বিকল্প সমাধান না পেয়ে কোম্পানি বিলোপসাধনের সিদ্ধান্ত নেয়।
[ঢা. বো. ১৬]
অ ক. কোম্পানির বিলোপসাধন কী? ১
অ খ. ব্যবসায়ের সহায়ক সেবা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. উদ্দীপকে বর্ণিত অইঈ কোম্পানি কর্তৃক মুন কোম্পানি দ্বারা কাজ করিয়ে নেওয়া কোন ধরনের ব্যবসায়? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. অইঈ কোম্পানি বিলোপসাধনের পদ্ধতি বিশ্লেষণ করো। ৪
১১ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক কোম্পানির সব সম্পত্তির আর্থিক মূল্য নির্ধারণ, বিক্রয়, ঋণ, পরিশোধ, শেয়ারহোল্ডারদের দাবি পরিশোধ প্রভৃতি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানির আইনানুগ সত্তার সমাপ্তি করাকে কোম্পানির বিলোপসাধন বলা হয়।
খ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে গঠন ও পরিচালনায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যে সেবার প্রয়োজন পড়ে তাকে ব্যবসায়ের সহায়ক সেবা বলে।
ব্যবসায় স্থাপন ও পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় সফলভাবে টিকিয়ে রাখার জন্য উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। এজন্য শুধু নিজের বুদ্ধিমত্তা বা সামর্থ্য দিয়ে সব কাজ করা সম্ভব না-ও হতে পারে। এক্ষেত্রে অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাহায্য-সহযোগিতা নিতে হয়। আর অন্যের সাহায্য-সহযোগিতাই হলো ব্যবসায়ের সহায়ক সেবা।
গ অইঈ কোম্পানি কর্তৃক মুন কোম্পানি দ্বারা কাজ করিয়ে নেওয়া হলো আউটসোর্সিং ব্যবসায়।
চুক্তির মাধ্যমে কোনো কাজ করে দেওয়া বা করিয়ে নেওয়া কিংবা কাজ করতে সহায়তা নেওয়াকে আউটসোর্সিং ব্যবসায় বলে। এতে একটা প্রতিষ্ঠান সব কাজ নিজেরা না করে অন্য প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেয়। যারা আউটসোর্সিং-এর কাজ করে তাদের ফ্রিল্যান্সার বলে।
অইঈ একটি সফটওয়্যার প্রস্তুতকারী কোম্পানি সংগঠন। তারা সম্প্রতি ১০০টি সফটওয়্যার তৈরির অর্ডার পায় কিন্তু তাদের পর্যাপ্ত জনবল নেই। তাই তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজে করার জন্য মুন কোম্পানিকে চুক্তির ভিত্তিতে ৩০টি সফটওয়্যার তৈরির দায়িত্ব দেয়। অইঈ কোম্পানি থেকে চুক্তি মোতাবেক মুন কোম্পানি এ ৩০টি সফটওয়্যার তৈরির বিনিময়ে অর্থ পাবে। ফলে অইঈ কোম্পানি যেমন সময়মতো কাজ সম্পাদন করতে পারবে, তেমনি প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনে সমর্থ হবে। অর্থাৎ, অইঈ কোম্পানির প্রতিষ্ঠানের বাইরে হতে কাজ করিয়ে নেওয়ার কর্মপ্রক্রিয়া হলো আউটসোর্সিং।
ফ্রিল্যান্সার অর্থ হলো মুক্ত বা স্বাধীন।
ঘ অইঈ কোম্পানির আদালত কর্তৃক বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন হবে।
শেয়ার মালিক বা পাওনাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বা অন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে আদালত কোম্পানির বিলোপসাধনের নির্দেশ দিলে তাকে আদালত কর্তৃক বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন বলে। পরিচালনায় অচলাবস্থা, মূল উদ্দেশ্য অর্জনে অক্ষম। এ কারণে কোম্পানির বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন হয়।
অইঈ কোম্পানি ১০০টি সফটওয়্যার তৈরির অর্ডার পায় যা জনবলের অভাবে আউটসোর্সিং দ্বারা অর্ডার সম্পন্ন করে। দক্ষ লোকবলের অভাবে পরবর্তীতে অইঈ কোম্পানির নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় অচলাবস্থা দেখা দেয়। তাই তারা বিকল্প সমাধান না পেয়ে কোম্পানি বিলোপের সিদ্ধান্ত নেয়।
কোম্পানিটি এ অবস্থায় আদালতের আশ্রয় নিলে আদালত কর্তৃক বিলোপসাধান ঘটবে। আদালত কর্তৃক বাধ্যতামূলক বিলোপ নানান কারণে (কাজের শুরু, ব্যর্থতা, ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা, পরিচালনায় অচলাবস্থা) হয়ে থাকে। অইঈ প্রতিষ্ঠানটির জনবলের অভাবে পরিচালনায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠানটি আদালতের আশ্রয় নিলে আদালত কর্তৃক বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন ঘটবে।

মমমপ্রশ্ন১২ মি. আজাদ ২০ জন বন্ধু নিয়ে ২০১৩ সালে একটি কম্পোজিট টেক্সটাইল ‘জাইটেক্স লি’. স্থাপন করেন। ভোক্তাদের রুচি ও প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করে আসছে। তাদের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সালে ২৫% স্টক ও ১০% নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। ২০১৭ সালে তারা কারখানা সম্প্রসারণের চিন্তা-ভাবনা করছেন। বিভিন্ন কারণে বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদের হার অনেক বেশি। [রা. বো.; চ. বো. ১৬]
অ ক. অবলেখক কী? ১
অ খ. আউটসোর্সিং ব্যবসায়ের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. উদ্দীপকের ব্যবসায় সংগঠনটি কোন প্রকৃতির? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য প্রতিষ্ঠানটির কোন উৎস হতে অর্থসংস্থান করা যুক্তিযুক্ত বলে তুমি মনে করো? ৪
১২ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রয়ের জন্য যারা দায়িত্ব গ্রহণ করেন বা চুক্তিবদ্ধ হন তাদের কাজকে অবলেখক বলে।
খ চুক্তির মাধ্যমে নিজ প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করানোকে আউটসোর্সিং বলে।
কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সব কাজ নিজের ব্যবস্থাপনার আওতায় লোক দিয়ে করানো সম্ভব হয় না। আবার অতিরিক্ত চাহিদা বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত পণ্য উৎপাদনের জন্য স্বল্প সময়ে লোক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। কেননা এতে খরচ ও প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ে। তখন অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজটি করিয়ে নিজ কাজ আদায় অনেক সহজ হয়। তাই স্বল্প খরচে ও সহজে কাজ পেতে আউটসোর্সিং ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ।
মগ উদ্দীপকে ব্যবসায় সংগঠনটি কোম্পানি সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। এ ধরনের কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিæ ৭ জন এবং সর্বোচ্চ সংখ্যা শেয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ। এ কোম্পানি শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। এ কোম্পানির মুনাফা অর্জিত হলে শেয়ারহোল্ডার ও স্টক হোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা করে।
মি. আজাদ ২০ জন বন্ধু নিয়ে ২০১৩ সালে ‘জাইটেক্স লি.’ স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠানটি দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করছে। যার ফলে ভোক্তাদের চাহিদা ও প্রত্যাশা মেটাতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সালে তাদের অর্জিত মুনাফা থেকে ২৫% স্টক ও ১০% নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। তাই বলা যায়, এটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
মঘ ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার বিক্রি করে অর্থসংস্থান করা যুক্তিযুক্ত বলে আমি মনে করি।
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি মূলধন সংগ্রহের জন্য শেয়ার বিক্রয় করতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদে মূলধন সংগ্রহের অন্যতম উৎস। এরূপ সংগৃহীত অর্থ ব্যবসায় বিলোপসাধন না হওয়া পর্যন্ত ফেরত দিতে হয় না।
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সালে দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে মুনাফা অর্জন করে। তাই তারা ২০১৭ সালে তাদের কারখানা সম্প্রসারণের চিন্তা-ভাবনা করে। তারা শেয়ার বিক্রয় ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে। তবে তাদের জন্য শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করা উপযুক্ত হবে।
বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদের হার অনেক বেশি। তারা যদি ব্যাংক ঋণ নিয়ে অর্থসংস্থান করে তাহলে মূলধন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। আর মূলধন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে মুনাফার পরিমাণ কমে যাবে। তারা যদি শেয়ার বিক্রি করে তাহলে মূলধন ব্যয় অপেক্ষকৃত কম হবে। এটি মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এসব দিক বিবেচনায় উক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে ব্যবসায় সম্প্রসারণ করা যৌক্তিক হবে।

মমমপ্রশ্ন১৩ এবিসি ফ্যাশন চিরন্তন অস্তিত্ববিশিষ্ট একটি গার্মেন্টস শিল্প। দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। তাই দেশের স্বনামধন্য পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আনন্দ ফ্যাশন লি. এবিসি ফ্যাশনের ৫০%-এর অধিক শেয়ার ক্রয় করে নেয় এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এবিসি ফ্যাশনসের নীতিনির্ধারণের ক্ষমতা আনন্দ ফ্যাশনসের কাছে চলে আসে। [দি. বো. ১৬]
অ ক. স্মারকলিপি কী? ১
অ খ. কোম্পানির কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. এবিসি ফ্যাশনসের শেয়ার ক্রয় করে আনন্দ ফ্যাশনস্ নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতে যে সংগঠন গঠন করে তার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করো। ৩
অ ঘ. অধিকাংশ শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে এবিসি কোম্পানির বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো। ৪
১৩ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক যে মূল দলিলে কোম্পানির মৌলিক বিষয়াবলি (নাম, ঠিকানা, উদ্দেশ্য, দায়, মূলধন, সম্মতি) সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ থাকে তাকে স্মারকলিপি বা পরিমেলবন্ধ বলে।
খ যে সত্তা বা অস্তিত্ব বলে কোম্পানি নিজ নামে গঠিত ও পরিচালিত হয় তাকে কোম্পানির কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বলে।
কোম্পানিকে তার মালিক বা শেয়ারহোল্ডারদের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক সত্তা হিসেবে দেখা হয়। এটি সংগঠন ব্যক্তি না হয়েও নিজ নামে চুক্তি সম্পাদন, লেনদেন ও প্রয়োজনে মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে। এছাড়া এটি নিজস্ব নামে গঠিত ও পরিচালিত হয় এবং নিজস্ব সীলমোহর ব্যবহার করে।
গ এবিসি ফ্যাশনসের শেয়ার ক্রয় করে আনন্দ ফ্যাশনস নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতে যে সংগঠন গঠন করে তা একটি হোল্ডিং কোম্পানি।
যদি কোনো কোম্পানি অন্য কোনো কোম্পানির ৫০%-এর অধিক শেয়ারের মালিক বা ভোট দানের ক্ষমতা অধিকার করে অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অধিকাংশ পরিচালক নিয়োগ করে, তবে ঐ কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণকারী বা হোল্ডিং কোম্পানি বলে।
এবিসি ফ্যাশন একটি চিরন্তন অস্তিত্ববিশিষ্ট কোম্পানি হওয়া সত্তে¡ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে প্রতিষ্ঠানে টিকে থাকতে পারছে না। তাই দেশের স্বনামধন্য পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আনন্দ ফ্যাশন লি. উক্ত কোম্পানির ৫০%-এর অধিক শেয়ার ক্রয় করে এবং পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নেয়। সুতরাং, আনন্দ ফ্যাশন একটি হোল্ডিং কোম্পানি।
ঘ অধিকাংশ শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে এবিসি কোম্পানি বর্তমানে একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
কোনো কোম্পানির ৫০%-এর বেশি শেয়ার বা ভোট দান ক্ষমতা অন্য কোনো কোম্পানির অধীনে থাকলে তাকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বলে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের পরিচালক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ কোম্পানি নিয়োগ করে।
এবিসি ফ্যাশন চিরন্তন অস্তিত্ববিশিষ্ট একটি গার্মেন্টস শিল্প। দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। তাই আনন্দ ফ্যাশন লি. নামের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের ৫০% অধিক শেয়ার ক্রয় করে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা এবং নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আনন্দ ফ্যাশন লি.-এর কাছে চলে যায়।
এবিসি ফ্যাশনসের ৫০%-এর অধিক শেয়ার আনন্দ ফ্যাশনস ক্রয় করে নেওয়ায় এবিসি ফ্যাশনসের নীতিনির্ধারণ ক্ষমতাও আনন্দ ফ্যাশনসের কাছে চলে গেছে। তাই এবিসি ফ্যাশনস সাংগঠনিকভাবে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মমমপ্রশ্ন১৪ জনাব রায়হান তার আরও ৬ বন্ধুকে নিয়ে ‘বন্ধন’ নামের কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তাবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠালগ্নে প্রতিষ্ঠানটি স্মারকলিপি তৈরি করলেও কোম্পানি আইনে বর্ণিত তফসিল-১-কে পরিমেল নিয়মাবলি হিসেবে গ্রহণ করে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি একটি নতুন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য শেয়ার ছাড়ার কথা চিন্তা করছেন যাতে মালিকানাস্বত্ব অক্ষুণœ থাকে। [কু. বো. ১৬]
অ ক. শেয়ার কী? ১
অ খ. ঋণপত্র বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. উদ্দীপকে উলি­খিত কোম্পানিটির ধরন ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. প্রতিষ্ঠানটির করণীয় বিশ্লেষণ করো। ৪
১৪ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক কোম্পানি সংগঠনের অনুমোদিত মোট শেয়ার মূলধনের সমান ও ক্ষুদ্র অংশের একককেই শেয়ার বলে।
খ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি যে দলিলের মাধ্যমে জনসাধারণের নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করে তাকে ঋণপত্র বলে।
কোম্পানির অতিরিক্ত মূলধনের প্রয়োজন হলে ঋণপত্র বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে। এটি মূলধন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এজন্য নির্দিষ্ট হারে সুদও দিতে হয়। ঋণপত্রে এ ঋণের পরিমাণ, সুদের হার, ঋণের মেয়াদ প্রভৃতি স্পষ্টভাবে উলে­খ থাকে।
গ উদ্দীপকে উলি­খিত কোম্পানিটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিæ ৭ জন ও সর্বোচ্চ শেয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রি করতে পারে তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে। বৃহৎ আকারের মূলধন সংগ্রহের জন্য পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি গঠন করা হয়।
জনাব রায়হান তার আরও ৬ বন্ধুকে নিয়ে ‘বন্ধন’ নামের কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তাবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তারা মোট সাতজন অর্থাৎ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি গঠনের সর্বনিæ সদস্য সংখ্যার যে শর্ত তা পূরণ হয়েছে। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি গঠন করতে নাম ঠিক করে স্মারকলিপি ও পরিমেল নিয়মাবলিসহ নিবন্ধক বরাবর আবেদন করতে হয়। জনাব রায়হান ও তার ৬ বন্ধু কোম্পানির নাম ‘বন্ধন’ ঠিক করে এবং নিবন্ধক সন্তুষ্ট হয়ে আইনগত স্বীকৃতি দিয়েছে। অর্থাৎ কোম্পানিটি কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা লাভ করেছে। এটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ঘ উদ্দীপকের ‘বন্ধন’ নামের প্রতিষ্ঠানটির উদ্ভ‚ত পরিস্থিতিতে করণীয় হলো রাইট শেয়ার ইস্যু করা।
কোনো কোম্পানি অতিরিক্ত মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নতুন শেয়ার বাজারে ছাড়ার সময় পুরাতন শেয়ার মালিকদের অগ্রাধিকার দিয়ে যে নতুন শেয়ার ইস্যু করে তাকে রাইট শেয়ার বা অধিকারযোগ্য শেয়ার বলে। শেয়ারের দাম বেশি হলে নতুন ইস্যুকৃত শেয়ারে পুরাতন মালিকগণ তাদের স্বার্থ দাবি করতে পারে।
উদ্দীপকে ৭ জন সদস্য ‘বন্ধন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। প্রতিষ্ঠানটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য শেয়ার ছাড়ার চিন্তা করছে। কিন্তু শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে মালিকানাস্বত্ব অক্ষুণœ রাখার চিন্তা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য শেয়ার ছাড়ার ক্ষেত্রে পুরাতন শেয়ার মালিকদের অগ্রাধিকার প্রদানের চিন্তা করছে। এ পুরাতন শেয়ারহোল্ডারের মধ্যে নতুন শেয়ার ইস্যু করলে নতুন মালিকানাস্বত্ব সৃষ্টি হবে না। আবার মূলধনও সংগৃহীত হবে। উক্ত পরিস্থিতিতে এ ধরনের শেয়ার ঝামেলামুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি অধিকারযোগ্য শেয়ার ইস্যু করতে পারে।

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply