চতুর্থ শ্রেণির বাওবি অধ্যায় ২ সমাজে পরস্পরের সহযোগিতা

অধ্যায় ২ সমাজে পরস্পরের সহযোগিতা

 অধ্যায়টি পড়ে জানতে পারব
 নারী-পুরুষের সমমর্যাদা সম্পর্কে
 পরিবারে মিলেমিশে বসবাস করার উপকারিতা
 পরিবারের উন্নয়নে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা
 বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সহায়তার কথা
 সমাজে সকলের সহাবস্থান সম্পর্কে
 অধ্যায়টির মূলভাব জেনে নিই
পরিবার ও সমাজে নারী-পুরুষ মিলেমিশে বসবাস করে। দেশের উন্নয়নে নারী ও পুরুষের সমান অবদান রয়েছে। পরিবার ও সমাজের মতো আমাদের বিদ্যালয়েও নানা শ্রেণি, বর্ণ ও গোষ্ঠীর শিশুরা পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ের শিশুরা কেউ কেউ বিশেষভাবে অসুবিধাগ্রস্ত। আমরা সব শ্রেণির মানুষ ও শিশুদের সব ধরনের সহযোগিতা করব। সহাবস্থান ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব আমাদের পরিবার, সমাজ ও বিদ্যালয়ের পরিবেশকে আরও সুন্দর করবে।

অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর

 অল্প কথায় উত্তর দাও :
১. জনসংখ্যায় নারী ও পুরুষের সংখ্যা কীভাবে তুলনা করা হয়?
উত্তর : জনসংখ্যায় নারী ও পুরুষের সংখ্যা আনুপাতিক হারে তুলনা করা হয়।
২. ‘বৈষম্য’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : যার যা প্রাপ্য তাকে তা না দেওয়াই হলো বৈষম্য।
৩. শ্রেণিকক্ষে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি শিশুর পরিচয় দাও।
উত্তর : আমাদের শ্রেণিকক্ষে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি শিশু রয়েছে। সে চোখে কম দেখতে পায়। যার কারণে বোর্ডের লেখা সে ভালোভাবে বুঝতে পারে না। কখনও কখনও পথ চলতেও তার সমস্যা হয়।
৪. ‘বৈচিত্র্য’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : ভিন্ন ভিন্ন বা নানা রকম বৈশিষ্ট্যকেই বলা হয় বৈচিত্র্য।
 প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
১. পরিবারে ছেলে ও মেয়েদের সমানভাবে মূল্যায়নের একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর : পরিবারে ছেলে ও মেয়েদের সমানভাবে মূল্যায়নের একটি উদাহরণ হলো আমাদের দুই ভাই-বোনকেই মা-বাবা বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিয়েছেন।
২. তোমার কোনো বন্ধুর উপর রেগে গেলে তুমি কী কর?
উত্তর : আমার কোনো বন্ধুর উপর রেগে গেলে আমি চুপ থাকার চেষ্টা করি।

 

অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর

 বাম অংশের সাথে ডান অংশ মিলকরণ
ক) পরিবারে সবাই মিলেমিশে সমান চোখে দেখা উচিত।
খ) আমরা আমাদের মা-বাবাকে শান্তিতে বসবাস করি।
গ) নারী ও পুরুষকে যতœ করি।
ঘ) অনেকের মা-বাবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হতে পারে।
ঙ) শ্রেণির কেউ মানসিকভাবে পেশা ভিন্ন
সমস্যা থাকতে পারে
উত্তর :
ক) পরিবারে সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করি।
খ) আমরা, আমাদের মা-বাবাকে শ্রদ্ধা করি।
গ) নারী ও পুরুষকে সমান চেখে দেখা উচিত।
ঘ) অনেকের মা-বাবার পেশা ভিন্ন।
ঙ) শ্রেণির কেউ মানসিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হতে পারে।
 শুদ্ধ/অশুদ্ধ নির্ণয়
ক) নারী ও পুরুষের মাঝে কোনো বৈষম্য করা উচিত নয়।
খ) বিভিন্ন কাজে ছেলেমেয়ের অংশগ্রহণ করার প্রয়োজন নেই।
গ) পরিবারে ছেলে ও মেয়ে শিশু সবারই বিনোদনে অংশগ্রহণ করার অধিকার আছে।
ঘ) আমাদের সবার মা-বাবার পেশা এক।
ঙ) অসুবিধাগ্রস্তদের মনে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়।
উত্তর : ক) ‘শুদ্ধ’ খ) ‘অশুদ্ধ’ গ) ‘শুদ্ধ’ ঘ) ‘অশুদ্ধ’ ঙ) ‘শুদ্ধ’।
 শূন্যস্থান পূরণ
ক) মা-বাবা ও ভাইবোন নিয়ে আমাদের ।
খ) আমাদের মা-বাবারাও তাদের পিতা-মাতাকে  করেন।
গ) নারী ও পুরুষের সমান কাজ করার  আছে।
ঘ) নারী-পুরুষ সবাই দেশের  জন্য কাজ করে।
ঙ) সমাজে বিভিন্ন মানুষের মধ্যে  রয়েছে।
উত্তর : ক) পরিবার খ) শ্রদ্ধা গ) যোগ্যতা ঘ) উন্নয়নের ঙ) বিভিন্নতা।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

নারী ও পুরুষ
 সাধারণ
১ সমাজে বিভিন্ন ধরনের মানুষ কীভাবে বাস করে? জ
ক বিচ্ছিন্নভাবে খ একাকী
গ মিলেমিশে ঘ ভাগ হয়ে
২. দেশের উন্নয়নে নারী ও পুরুষের কীরূপ অবদান রয়েছে? জ
ক পুরুষের বেশি খ নারীর বেশি
গ নারী ও পুরুষের সমান ঘ কোনো অবদান নেই
৩. বাংলাদেশে নারী ও পুরুষের সংখ্যা কীরূপ? ছ
ক একদম সমান খ প্রায় সমান
গ নারী বেশি ঘ পুরুষ কম
৪. আমরা যেমন আমাদের মা-বাবাকে শ্রদ্ধ করি, তেমনি তাঁরাও কাদের শ্রদ্ধা করেন? ছ
ক তাঁদের দাদা-দাদিকে খ তাঁদের মা-বাবাকে
গ তাঁদের চাচা-চাচিকে ঘ তাঁদের মামা-মামিকে
৫. পরিবারে সবারই কোন অধিকারটি আছে? জ
ক বেড়াতে যাওয়ার খ টেলিভিশন দেখার
গ শিক্ষা গ্রহণ করার ঘ খেলনা কেনার
৬. কোথায় নারী-পুরুষকে সমান চোখে দেখা উচিত? ঝ
ক ঘরে খ অফিসে
গ বিদ্যালয়ে ঘ সবখানে
৭. পরিবারে কোন শিশুকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়? চ
ক ছেলে শিশুকে খ মেয়ে শিশুকে
গ অসুবিধাগ্রস্ত শিশুকে ঘ অটিস্টিক শিশুকে
 যোগ্যতাভিত্তিক
শিখনফল : নারীর মর্যাদা বৃদ্ধির উপায় জানতে পারব।
৮. আমাদের সমাজে নারীর মর্যাদা বাড়বে কীভাবে? জ
ক নারীদের ঘরে বন্দি করলে
খ নারীদের কাজ করতে না দিলে
গ নারী-পুরুষ ভেদাভেদ দূর হলে
ঘ নারীদের বাইরে বের হতে দিলে
শিখনফল : সমাজকে সুন্দর করার উপায় জানতে পারব।
৯. আমাদের সমাজে নারী, পুরুষ, ধনী, দরিদ্র এবং বিভিন্ন জাত ও ধর্মের মানুষ রয়েছে। এই সমাজকে সুন্দর করা যায় কীভাবে? জ
ক নারী-পুরুষ ভেদাভেদ তৈরি করে
খ পরস্পরে ঝগড়া করে
গ সবাই মিলেমিশে থেকে
ঘ সবার জন্য চাকরির ব্যবস্থা করে
শিখনফল : পরিবারের কাজে অংশগ্রহণ করব।
১০. ফরহাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা তিনজন। তাদের পরিবারের মঙ্গলের জন্য কাকে কাজ করতে হবে? ঝ
ক ফরহাদের বাবাকে খ ফরহাদের মাকে
গ ফরহাদকে ঘ সবাইকে
শিখনফল : একসাথে কাজ করার সুফল বুঝতে পারব।
১১. রানার বাবার অফিসে নারী-পুরুষ সবাই একসাথে কাজ করে। এর ফলে কোনটি ঘটবে? চ
ক দেশের উন্নয়ন হবে
খ নারীর মর্যাদা কমবে
গ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে
ঘ সমাজের অবনতি হবে
সামাজিক বিভিন্নতা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু
 সাধারণ
১২. সমাজে ও বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক মানুষ ছাড়া আর কারা বাস করে? চ
ক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ
খ চাকরিজীবী
গ নারী ঘ পুরুষ
১৩. আমাদের সবার মা-বাবার পেশা কী রকম? ছ
ক কৃষিকাজ করেন খ ভিন্ন ভিন্ন কাজ করেন
গ চাকরি করেন ঘ ব্যবসা করেন
 যোগ্যতাভিত্তিক
শিখনফল : সহপাঠীদের সহযোগিতা করব।
১৪. ঝুমুর ক্ষুদ্র জাতিসত্তার শিক্ষার্থী। সে বাংলা কম বোঝে। তুমি তার জন্য কী করবে? ছ
ক তার সাথে মিশবে না
খ ক্লাস শেষে তাকে পড়া বুঝিয়ে দেবে
গ তাকে ক্লাস থেকে বের করে দেবে
ঘ শিক্ষকের কাছে নালিশ করবে
শিখনফল : বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর পরিচয় পাব।
১৫. রবিন শব্দ, আলো ও স্পর্শের ব্যাপারে অত্যন্ত সংবেদনশীল। সে কোন ধরনের শিশু? চ
ক অটিস্টিক শিশু খ ক্ষুদ্র জাতিসত্তার শিশু
গ স্বাভাবিক শিশু ঘ লাজুক শিশু
শিখনফল : ছেলেমেয়ের বিদ্যালয়ে না আসার কারণ জানতে পারব।
১৬. অনেক ছেলেমেয়ে বিদ্যালয়ে আসতে পারে না কেন? জ
ক বেশি ঘুমানোর জন্য
খ ভালো পোশাক না থাকার জন্য
গ মা-বাবার সাথে কাজ করার জন্য
ঘ ঘরে খাবার না থাকার জন্য
শিখনফল : বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সহপাঠীকে সাহায্য করতে পারব।
১৭. তোমার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক সহপাঠী বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। তার প্রতি তোমার করণীয়- চ
ক তাকে উৎসাহ প্রদান
খ তাকে টাকা-পয়সা দেওয়া
গ তাকে বাড়িতে পড়ানো
ঘ পড়াশোনা বন্ধে পরামর্শ দান

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

১. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু কারা?
উত্তর : যে সকল শিশু সমাজের সাধারণ শিশুদের থেকে আলাদা, যাদের বিশেষ যতœ, পরিচর্যা ও সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তারাই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু।
২. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আমরা কী করতে পারি?
উত্তর : বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ভিন্নতা মেনে নিয়ে আমরা তাদের জন্য পরিবারে, বিদ্যালয়ে বিশেষ ব্যবস্থা করতে পারি। সব ব্যাপারে তাদের বন্ধুর মতো সহযোগিতা করতে পারি।
৩. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সহযোগিতা না করলে এর ফলাফল কী হবে?
উত্তর : বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সহযোগিতা না করলে তারা পিছিয়ে পড়বে, স্কুলে ঠিকমতো আসতে চাইবে না। তখন সমাজেও তারা কোনো অবদান রাখতে পারবে না।
৪. পরিবারের বিভিন্ন কাজে কাদের অংশগ্রহণ প্রয়োজন?
উত্তর : পরিবারে বিভিন্ন কাজে ছেলেমেয়ে উভয়েরই অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন।
৫. আমাদের মোট জনসংখ্যার কত অংশ নারী?
উত্তর : আমাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক অংশ নারী।
৬. নারী ও পুরুষের মধ্যে আমাদের কী করা উচিত নয়?
উত্তর : নারী ও পুরুষের মধ্যে আমাদের বৈষম্য করা উচিত নয়।

কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন ও উত্তর

ন্ধ সাধারণ
১. সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা কী করতে পারি?
উত্তর : সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আমরা নিচের উল্লিখিত কাজগুলো করতে পারিÑ
 সমাজের সবাই মিলেমিশে থাকব;
 একে অন্যকে সহযোগিতা করব;
 নারী, পুরুষ ভেদাভেদ করব না;
 পুরুষের মতো নারীদেরকেও কাজে সমান সুযোগ দেব;
 নারীদেরকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান করব;
 সমাজের সকল পেশার মানুষকে সমান চোখে দেখব;
 সমাজের বিশেষ অসুবিধাগ্রস্তদের সহযোগিতা করব।
২. আমাদের পরিবারে কারা কারা রয়েছেন? পরিবারের মঙ্গলে কাদের অবদান বেশি? আমাদের পরিবারে ছেলে ও মেয়ে শিশুর অবস্থা কেমন?
উত্তর : আমাদের পরিবারে মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি, নানা-নানিসহ অন্যান্য আত্মীয়-পরিজন রয়েছেন। পরিবারের মঙ্গলে নারী-পুরুষের সমান অবদান রয়েছে। আমাদের পরিবারে ছেলে ও মেয়ে শিশুদের সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় না। মেয়েরা পরিবারের কোনো উপকারে আসবে না বলে ভাবা হয়। মেয়েরা শুধুই ঘরের কাজ করবে আর ছেলেরা উপার্জন করে সংসার চালাবে এমনটাই ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে ছেলে ও মেয়ে শিশুর প্রতি বৈষম্যের এই ধারণা ধীরে ধীরে পাল্টে যাচ্ছে।
ন্ধ যোগ্যতাভিত্তিক
৩. তোমাদের বিদ্যালয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিছু শিশু রয়েছে। তাদের প্রতি তোমার ৫টি দায়িত্ব লেখ।
উত্তর : বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আমার ৫টি দায়িত্ব নিচে উল্লেখ করা হলো :
র. আমার শ্রেণির যারা চোখে কম দেখে বা কানে কম শোনে তাদেরকে ক্লাসে সামনের দিকে বসতে দেব।
রর. যাদের হাঁটতে সমস্যা হয়, তাদের আমি সহায়তা করব।
ররর. যাদের পড়তে সমস্যা হয়, তাদের আমি সহায়তা করব যাতে তারা তাদের কাজগুলো ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারে।
রা. কারো ভাষা বুঝতে সমস্যা হলে ক্লাস শেষে তাকে পড়াটি বুঝিয়ে দেব।
া. খেলতে গেলে তাদেরকেও সাথে নেব।
৪. নারী উন্নয়নে তোমার ৫টি পরামর্শ দাও।
উত্তর : নারী উন্নয়নে আমার ৫টি পরামর্শ হলো :
র. পরিবারে ছেলে ও মেয়ে শিশুকে সমান চোখে দেখতে হবে।
রর. পরিবারে ছেলেমেয়ে উভয়েরই শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ররর. নারীদেরকেও পুরুষের মতো বাইরে কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে।
রা. পুরুষের মতো নারীর যোগ্যতাকেও মূল্যায়ন করতে হবে।
া. নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো রকমের বৈষম্য করা যাবে না।

 



প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply