You are currently viewing তৃতীয় শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অধ্যায় ১১ আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি

তৃতীয় শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অধ্যায় ১১ আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি

তৃতীয় শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অধ্যায় ১১ আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি পোস্টে এই অধ্যায়ের সকল পরিচ্ছেদের অনুশীলনীর প্রশ্নউত্তর সহ অতিরিক্ত সংক্ষিপ্ত ও কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নউত্তর দেওয়া হলো।

তৃতীয় শ্রেণির বা ও বি অধ্যায় ১১ আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি

>> অধ্যায়টির মূলভাব জেনে নিই
আমরা বাংলাদেশের অধিবাসী। আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অত্যন্ত গৌরবময়। আমাদের রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস। ২১শে ফেব্রæয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস, ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস। প্রতিবছর আমরা এই দিবসগুলো আমরা গুরুত্বের সাথে পালন করি। আমরা বিভিন্ন সামাজিক উৎসবও পালন করি। পহেলা বৈশাখ, নবান্ন, পৌষ মেলা বাঙালি সংস্কৃতির অংশ। এসব উৎসবে আমরা অনেক আনন্দ করি।

৩য় শ্রেণির বা ও বি অধ্যায় ১১ অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর

অধ্যায় ১১ পরিচ্ছেদ ১ শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

১. ২১শে ফেব্রæয়ারি কী দিবস?
উত্তর : ২১শে ফেব্রæয়ারি আমাদের শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
২. এই দিবসটি কাদের স্মৃতিতে পালন করা হয়?
উত্তর : এই দিবসটি ভাষা শহিদদের স্মৃতিতে পালন করা হয়।
৩. বাংলাভাষার জন্য কখন আন্দোলন হয়েছিল?
উত্তর : বাংলাভাষার জন্য ১৯৫২ সালে আন্দোলন হয়েছিল।
৪. তোমরা কী কয়েকজন ভাষা শহিদের নাম বলতে পার?
উত্তর : কয়েকজন ভাষা শহিদের নাম হলো- সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউরসহ আরও অনেকে।
৫. শহিদদের স্মরণে কোন স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে?
উত্তর : শহিদদের স্মরণে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে।

২১শে ফেব্রæয়ারিতে আমরা একটি বিখ্যাত গান গাই। গানটি হলো, “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রæয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।” গানটি লিখেছেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী ও সুর করেছেন ৭১ এর শহিদ আলতাফ মাহমুদ। এই গানটি তোমরা খাতায় লেখ ও সবাই মিলে গাও।
উত্তর :
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রæয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি
ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রæ গড়ায়ে ফেব্রæয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি
আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্রæয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।।
শিক্ষকের সহায়তায় সহপাঠীদের সাথে সবাই মিলে গাও।

> আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য খুঁজে বের কর।
> আমাদের দেশে বাংলা ছাড়া আরও অনেক ভাষা আছে। সেই ভাষাগুলো কী কী খুঁজে বের কর।
উত্তর :
> আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য উল্লেখ করা হলো-
 ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রæয়ারি পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করেছিল।
 ছাত্র-জনতা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মিছিল করে। সবার মুখে ছিল ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’- এই ¯েøাগান।
 কেন্দ্রীয় শহিদমিনার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে অবস্থিত।
 ২১শে ফেব্রæয়ারি ভোরবেলা খালি পায়ে হেঁটে শহিদমিনারে ফুল দিতে যাওয়াকে বলা হয় প্রভাতফেরি।
 ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেসকোর সাধারণ পরিষদে ২১শে ফেব্রæয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
> আমাদের দেশে বাংলা ছাড়াও অনেক রকম ভাষা আছে। এদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলে। এগুলোর মধ্যে- চাকমা, অবেং, মন-খেমে, মৈতৈ, বিষ্ণুপ্রিয়া, মান্দিখুসিক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

> অল্প কথায় উত্তর দাও।
রাষ্ট্রভাষার দাবিতে বাঙালিরা কেন আন্দোলন করেছেন?
উত্তর : পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী চেয়েছিল উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করতে। কিন্তু পূর্ব বাংলার অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর ভাষা ছিল বাংলা। এই বাঙালিরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন করেন।

অধ্যায় ১১ পরিচ্ছেদ ২ স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস

১. বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস কোন কোন তারিখে পালন করা হয়?
উত্তর : বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চ ও বিজয় দিবস ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে পালন করা হয়।
২. শহিদ দিবস কখন পালন করা হয়?
উত্তর : ২১শে ফেব্রæয়ারি শহিদ দিবস পালন করা হয়।
৩. ১৯৭১ সালে কারা পরাজিত হয়েছে?
উত্তর : পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালে পরাজিত হয়েছে।
৪. জাতীয় স্মৃতিসৌধ কোথায়?
উত্তর : ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ অবস্থিত।
৫. মানুষ স্মৃতিসৌধে কী দিয়ে শ্রদ্ধা জানান?
উত্তর : মানুষ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

নিচের স্মরণীয় সৌধ দুটির নাম আমাদের কী কী মনে করিয়ে দেয়?
শহীদমিনার জাতীয় স্মৃতিসৌধ

উত্তর : নিচের স্মরণীয় সৌধ দুটির নাম আমাদের যে সব বিষয় মনে করিয়ে দেয় তা হলো-
শহীদমিনার জাতীয় স্মৃতিসৌধ
ভাষা আন্দোলনের কথা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা
ভাষা শহিদদের কথা শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের কথা
মাতৃভাষা দিবসের কথা স্বাধীনতা দিবসের কথা

প্রতিবছর তোমার বিদ্যালয় কীভাবে এই তিনটি দিবস পালন করতে পারে তার একটি পরিকল্পনা কর।
উত্তর : প্রতিবছর আমাদের বিদ্যালয় যেভাবে এই তিনটি দিবস পালন করতে পারে তার একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন হলো-
প্রতিবছর ২১শে ফেব্রæয়ারিতে খুব ভোরে আমরা খালি পায়ে ফুল হাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের শহিদমিনারে যাব। শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাব।
২৬শে মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। তাই প্রতিবছরই বিদ্যালয়ে স্বাধীনতার ওপর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার মাধ্যমে এ দিবসটি পালন করতে পারি। এ দিনে আমরা সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে দেশের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখার শপথ নিতে পারি।
১৬ই ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস। এদিন আমাদের জন্য বিরাট অর্জনের প্রতীক। এই দিনে আমাদের পুরো স্কুল প্রাঙ্গণ রং-বেরঙের কাগজ, ফেস্টুন ও বিজয়ের পোস্টারের মাধ্যমে সাজাতে পারি। এদিন স্কুলে বিজয় মেলার আয়োজন করতে পারি।

> উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ কর।
পাকিস্তান বাহিনী পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে ১৯৭১ সালের ——।
উত্তর : ১৬ই ডিসেম্বর।

অধ্যায় ১১ পরিচ্ছেদ ৩ নববর্ষ ও অন্যান্য উৎসব

তিনটি দলে ভাগ হয়ে যাও।
প্রত্যেক দল এক এক করে বল সামাজিক এই উৎসবগুলো কীভাবে উদযাপন করা হয়।
উত্তর : শিক্ষকের সাহায্য নিয়ে নিজেরা কর।

তোমার নিজের এলাকায় উদযাপিত এই সামাজিক উৎসবগুলো সম্পর্কে লেখ।
…………………………………………………………..
…………………………………………………………..
…………………………………………………………..
উত্তর : আমার নিজের এলাকায় উদযাপিত এই সামাজিক উৎসবগুলো সম্পর্কে নিচে লেখা হলো :
বাংলা নববর্ষ বাঙালির প্রধান সামাজিক উৎসব। এদিন আমাদের গ্রামে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। ব্যবসায়ীরা হালখাতার আয়োজন করেন।
নবান্ন উৎসব গ্রামীণ বাংলার চিরায়ত একটি উৎসব। বাংলা অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ধান ঘরে তোলার আনন্দে কৃষকরা নবান্ন উৎসবে মেতে ওঠেন। আমাদের গ্রামের কৃষক পরিবারগুলো নতুন ধানের চাল দিয়ে নানারকম খাবার তৈরি করে পাড়া-পড়শিদের মাঝে বিতরণ করে।
পৌষমেলা গ্রামীণ মানুষের আনন্দঘন সামাজিক উৎসব। পৌষ মাসে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। গ্রামের ঘরে ঘরে বানানো হয় নানা রকম শীতের পিঠা। সেই সাথে আয়োজন করা হয় পৌষ মেলার।

কীভাবে তোমার বিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা যায়?
এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি কর।
উত্তর : আমাদের বিদ্যালয়ে যেভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা যায় সে বিষয়ে নিচে একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হলো-
পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। এ দিনটি সবাই উদযাপন করে। এ উপলক্ষ্যে আমরা আমাদের বিদ্যালয়ে দেশীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান-বাজনা ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করতে পারি। বৈশাখের সকালে পান্তা-ইলিশের ব্যবস্থা করতে পারি। শিশুদের জন্য পুতুল নাচ, ঘুড়ি ওড়ানো, চরকি খেলা ইত্যাদি আয়োজন করা যেতে পারে।

>> সঠিক উত্তরের পাশে টিকচি‎হ্ন (√) দাও।
নবান্ন কিসের উৎসব?
ক) স্বাধীনতার উৎসব খ) পৌষের উৎসব
√ গ) ফসল কাটার উৎসব ঘ) নববর্ষের উৎসব

তৃতীয় শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অধ্যায় ১১ অতিরিক্ত প্রশ্ন ও উত্তর

>> বাম অংশের সাথে ডান অংশ মিলকরণ
ক) পাকিস্তানিরা আত্মসমর্পণ করে
খ) বাংলা নববর্ষে বিভিন্ন স্থানে
গ) ২১শে ফেব্রæয়ারি আমরা ফুল দিতে যাই
ঘ) আমাদের স্বাধীনতা দিবস
ঙ) পৌষমেলা একটি ক) বিজয় দিবস।

খ) জাতীয় স্মৃতিসৌধে।
গ) ২৬শে মার্চ।

ঘ) গ্রামবাংলার উৎসব।
ঙ) বৈশাখী মেলা বসে।
চ) শহিদমিনারে।
ছ) ১৯৭১ সালে।
উত্তর :
ক) পাকিস্তানিরা আত্মসমর্পণ করে ১৯৭১ সালে।
খ) বাংলা নববর্ষে বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলা বসে।
গ) ২১শে ফেব্রæয়ারি আমরা ফুল দিতে যাই শহিদমিনারে।
ঘ) আমাদের স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চ।
ঙ) পৌষমেলা একটি গ্রামবাংলার উৎসব।
>> শুদ্ধ/অশুদ্ধ নির্ণয়
ক) ২৬শে মার্চ মাতৃভাষার দাবিতে অনেকেই শহিদ হন।
খ) পাকিস্তানের বেশির ভাগ মানুষের ভাষা ছিল বাংলা।
গ) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সারা বিশ্বে পালিত হয়।
ঘ) আমাদের স্বাধীনতা দিবস ২৫শে মার্চ।
ঙ) ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় মেলা বসে।
উত্তর : ক) ‘অশুদ্ধ’ খ) ‘শুদ্ধ’ গ) শুদ্ধ’ ঘ) ‘অশুদ্ধ’ ঙ) শুদ্ধ’।

>> শূন্যস্থান পূরণ
ক) শহিদ দিবস এখন আন্তর্জাতিক — দিবস হিসেবে দেশে দেশে পালিত হচ্ছে।
খ) পাকিস্তানি বাহিনী পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে ১৯৭১ সালের —।
গ) পহেলা বৈশাখ বাঙালিদের প্রধান — উৎসব।
ঘ) ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের মহান — দিবস।
ঙ) মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে সাভারে নির্মাণ করা হয়েছে —।
উত্তর : ক) মাতৃভাষা খ) ১৬ই ডিসেম্বর গ) সামাজিক ঘ) বিজয় ঙ) স্মৃতিসৌধ।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

১. ১৯৫২ সালে বাঙালিরা কেন আন্দোলন করেছিল?
উত্তর : পাকিস্তানের বেশির ভাগ লোকের ভাষা ছিল বাংলা। পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল। তাঁরা চেয়েছিল উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করতে। বাঙালিরা তা মেনে নেয়নি। তাই বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালে আন্দোলন শুরু হয়।
২. ১৬ই ডিসেম্বরকে কেন বিজয় দিবস বলা হয়?
উত্তর : ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে। আমরা পাই স্বাধীন সার্বভৌম একটি দেশ। যার নাম বাংলাদেশ। তাই ১৬ই ডিসেম্বরকে বলা হয় বিজয় দিবস।
৩. স্বাধীনতা দিবসে আমরা কী করব?
উত্তর : ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা এই দিনটি পালন করব। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আমরা ফুল দেব। শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় আমরা মোনাজাত ও গরিব দুঃখীদের খাবারের ব্যবস্থা করব। এছাড়াও নানা উৎসব ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রদ্ধার সাথে এই দিনটিকে স্মরণ করব।
৪. আমরা কীভাবে পহেলা বৈশাখ পালন করি?
উত্তর : বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ। এটি বাঙালিদের প্রধান সামাজিক উৎসব। আমরা নানাভাবে এই দিনটি পালন করি। যেমন-
 ছোট-বড়, ধনী-গরিব সবাই পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে অংশ নিই।
 বিভিন্ন জায়গার বৈশাখী মেলায় আমরা অংশগ্রহণ করি।
 ব্যবসায়ীরা হালখাতা আয়োজনের মাধ্যমে এই দিনটি পালন করেন।
৫. নবান্ন কী? এতে কী করা হয়?
উত্তর : নবান্ন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব। এটি হলো ফসল কাটার উৎসব। বাংলা অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কেটে ঘরে তোলা হয়। এ সময় কৃষকেরা নতুন ধানের আনন্দে মেতে ওঠে এবং নবান্ন উৎসব পালন করে। নতুন ধানের চাল দিয়ে নানা ধরনের মিঠা ও খাবার তৈরি করা হয়। আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-পড়শিদের মাঝে তা বিতরণ করা হয়। এছাড়া নানা রকম আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
৬. ভাষা শহিদ কাদের বলা হয়?
উত্তর : মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের বলা হয় ভাষা শহিদ। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউর আরও অনেকেই প্রাণ দিয়েছেন। ভাষা শহিদগণ আমাদের গর্ব।
৭. কেন্দ্রীয় শহিদমিনার কোথায় অবস্থিত?
উত্তর : কেন্দ্রীয় শহিদমিনার ঢাকায় অবস্থিত।
৮. জাতীয় স্মৃতিসৌধ কোথায় অবস্থিত?
উত্তর : জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঢাকার সাভারে অবস্থিত।
৯. বাঙালিদের প্রধান সামাজিক উৎসব কোনটি?
উত্তর : বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ বাঙালিদের প্রধান সামাজিক উৎসব।
১০. পাকিস্তানের শাসকরা কোন ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল?
উত্তর : পাকিস্তানের শাসকরা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল।

কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন ও উত্তর

ন্ধ সাধারণ
১. তারিখসহ বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলোর নাম উল্লেখ কর।
উত্তর : নিচের ছকে তারিখসহ জাতীয় দিবসগুলোর নাম উল্লেখ করা হলো :
দিবস তারিখ
১) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারি
২) স্বাধীনতা দিবস ২৬শে মার্চ
৩) বিজয় দিবস ১৬ই ডিসেম্বর
২. আমাদের বিজয় দিবস কত তারিখে? এদিনে কী ঘটেছিল? আমরা কীভাবে এ দিনটি উদ্যাপন করি, ৩টি বাক্যে লেখ।
উত্তর : আমাদের বিজয় দিবস ১৬ই ডিসেম্বর। নয় মাস যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদাররা পরাজয় মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণ করে। বিজয় দিবস আমরা কীভাবে উদযাপন করি এ সম্পর্কে ৩টি বাক্য নিচে দেওয়া হলো ঃ
১) প্রতিবছর এ দিনটিতে আমরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
২) বিভিন্ন জায়গায় বিজয় মেলায় অংশ নিই।
৩) নানা ধরনের আনন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি।
ন্ধ যোগ্যতাভিত্তিক
৩. বাঙালির প্রধান সামাজিক উৎসব কোনটি? বাঙালিরা এই উৎসব কীভাবে বরণ করে এই সম্বন্ধে ৪টি বাক্য লেখ।
উত্তর : বাঙালির প্রধান সামাজিক উৎসব হলো বাংলা বর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ।
পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন সম্বন্ধে ৪টি বাক্য-
১. এ দিনের অনুষ্ঠানে ছোট বড়, ধনী-গরিব সবাই অংশ নেয়।
২. এ উপলক্ষ্যে গান-বাজনা ও মেলার আয়োজন করা হয়।
৩. কোথাও কোথাও বৈশাখী মেলা বসে।
৪. তাছাড়া এই দিনে নানা রকম খেলাধুলা, নাগরদোলা, নৌকাবাইচ, পুতুল নাচ ইত্যাদির আয়োজন করা হয়।

 

যাচাই করি (নমুনা প্রশ্ন) অধ্যায় ১১ : আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি

 অল্প কথায় উত্তর দাও :
১. ভাষা আন্দোলনের দাবি কী ছিল?
উত্তর : বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা ভাষা আন্দোলনের দাবি ছিল।
২. ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের মধ্যকার সময়ে কী ঘটে?
উত্তর : ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের মধ্যকার সময় মুক্তিযুদ্ধ ঘটে।
৩. ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে কারা আত্মসমর্পণ করে?
উত্তর : ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে পশ্চিম পাকিস্তানিরা আত্মসমর্পণ করে।
৪. গ্রামবাংলার দুটি উৎসবের নাম লেখ?
উত্তর : নবান্ন ও পৌষমেলা গ্রামবাংলার দুটি উৎসব।
>> প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
১. স্বাধীনতা দিবস কীভাবে উদযাপন করা হয় লেখ।
উত্তর : স্বাধীনতা দিবসে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে আমরা শহিদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানাই। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়।
২. বাংলাদেশের যে কোনো একটি সামাজিক উৎসব সম্পর্কে লেখ।
উত্তর : নবান্ন গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব। এটি হলো ফসল কাটার উৎসব। বাংলা অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কেটে ঘরে তোলা হয়। এ সময় কৃষকেরা নতুন ধানের আনন্দে মেতে ওঠে এবং নবান্ন উৎসব পালন করে। নতুন ধানের চাল দিয়ে নানা ধরনের পিঠা ও খাবার তৈরি করা হয়। আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-পড়শিদের মাঝে তা বিতরণ করা হয়। এছাড়া নানা রকম আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply