ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় দশম অধ্যায় বাংলাদেশে শিশু অধিকার

দশম অধ্যায় বাংলাদেশে শিশু অধিকার
বিষয়-সংক্ষেপ
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার দায়িত্ব আজকের শিশুদের উপর বর্তাবে। তাই জাতিসংঘের সাথে বাংলাদেশ সরকারও শিশু অধিকারের উপর গুরুত্বারোপ করেছে।

বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

 বিষয়ক্রম অনুযায়ী বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
ন্ধ পাঠ-১ : শিশু অধিকার
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১. আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কারা? (জ্ঞান)
ক নারীরা খ পুরুষরা গ যুবকরা  শিশুরা
২. ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার দায়িত্ব কাদের ওপর বর্তাবে? (জ্ঞান)
ক পুরুষদের খ নারীদের
 শিশুদের ঘ সরকারের
৩. জাতিসংঘ শিশু অধিকার রক্ষার জন্য কী তৈরি করেছে? (জ্ঞান)
ক শিশু নীতি  শিশু অধিকার সনদ
গ শিশু আইন ঘ শিশু একাডেমি
৪. অধিকার বলতে কী বোঝায়? (অনুধাবন)
ক চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা
খ যোগ্যতা ও নিরাপত্তা
 স্বাধীনতা ও ক্ষমতা
ঘ শিক্ষা ও কর্মসংস্থান
৫. মানুষ জন্ম থেকে কোনটি পাওয়ার অধিকার রাখে? (অনুধাবন)
 সুযোগ-সুবিধা খ যোগ্যতা
গ স্বাস্থ্য ঘ ক্ষমতা
৬. শিশুর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক গুণাবলির বিকাশের জন্য রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাই হলো (জ্ঞান)
ক শিশুসনদ  শিশু অধিকার
গ শিশুনীতি ঘ শিশু আইন
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৭. মানবাধিকার বলতে বোঝায় (অনুধাবন)
র. মৌলিক অধিকারকে রর. স্বাধীনতাকে
ররর. যোগ্যতাকে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৮. শিশু বয়স থেকেই মানুষকে তার যোগ্যতা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া হলো- (অনুধাবন)
র. সমাজের দায়িত্ব রর. রাষ্ট্রের দায়িত্ব
ররর. গোষ্ঠীর দায়িত্ব
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৯. মানুষের মৌলিক চাহিদাÑ (অনুধাবন)
র. খাদ্য ও বস্ত্র রর. স্বাস্থ্য ও শিক্ষা
ররর. বাসস্থান ও মায়া-মমতা
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১০-১২নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
অনুপম বাসে শাহবাগ যানজটে আটকে আছে। এমন সময় ১০ বছরের একটি শিশু এসে তাকে অনুরোধ করে বলল, স্যার আমি সারাদিন না খেয়ে আছি। আমাকে কটি টাকা দিন।
১০. অনুচ্ছেদের শিশুটি কোন অধিকার থেকে বঞ্চিত? (প্রয়োগ)
ক সামাজিক অধিকার খ রাজনৈতিক অধিকার
গ অর্থনৈতিক অধিকার  মৌলিক অধিকার
১১. নাগরিকদের জন্য উক্ত অধিকার নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব কার? (অনুধাবন)
ক সমাজের  রাষ্ট্রের
গ সাংস্কৃতিক সংগঠনের ঘ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
১২. উক্ত শিশুটির আরও যে অন্যান্য অধিকার রয়েছে তা হলো- (উচ্চতর দক্ষতা)
র. বস্ত্র রর. বাকস্বাধীনতা ররর. বাসস্থান
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
ন্ধ পাঠ-২ : জাতিসংঘ স্বীকৃত শিশু অধিকার º বোর্ড বই, পৃষ্ঠা-৮০
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৩. কত বছর বয়সের নিচে সবাই শিশু?
[ভি.জে. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গা; যশোর জিলা স্কুল]
ক ১২ খ ১৪ গ ১৫  ১৮
১৪. শিশু অধিকার সনদ কোন সংস্থা ঘোষণা করে? (জ্ঞান)
ক এডিবি খ ইউনেস্কো
গ ডবিøউবি  জাতিসংঘ
১৫. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে শিশু অধিকার সনদ কখন গৃহীত হয়?
]
 ১৯৮৯ সনের ২০ নভেম্বর
খ ১৯৯০ সনের ২০ নভেম্বর
গ ১৯৯২ সনের ২০ নভেম্বর
ঘ ১৯৯৪ সনের ২০ নভেম্বর
১৬. শিশুর জন্মের পরপরই কোন কাজটি করতে হয়? (জ্ঞান)
 জন্ম নিবন্ধন খ নামকরণ
গ আকিকা ঘ উৎসব
১৭. শিশু কার নির্দেশনায় বেড়ে ওঠে? (জ্ঞান)
ক রাষ্ট্রের  মা-বাবা গ গুরুজনদের ঘ প্রতিবেশীদের
১৮. শিশুর বেঁচে থাকা ও বড় হওয়ার অধিকার রক্ষা করা কার দায়িত্ব?
[শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ, ঢাকা]
 রাষ্ট্রের খ সমাজের গ সভ্যতার ঘ শিক্ষকের
১৯. কার নির্দেশনায় শিশুর স্বাধীন চিন্তাশক্তি প্রকাশ, বিবেক-বুদ্ধির বিকাশ এবং ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করবে? [সরকারি পি.এন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী]
ক রাষ্ট্র  মা-বাবা গ গুরুজন ঘ শিক্ষক
২০. কার নিজের আয় নেই? [বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ]
ক জেলের খ তাঁতির গ কৃষকের  শিশুর
২১. কোনটি থেকে শিশুকে রক্ষা করতে হবে? [বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ]
ক স্বাধীনতা খ সহপাঠী
 অর্থনৈতিক শোষণ ঘ খেলাধুলা
২২. শিশুদের জন্য সুনির্দিষ্ট অধিকার ঘোষণা করে কে? (অনুধাবন)
ক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ
খ জাতিসংঘ শিশু তহবিল
গ জাতিসংঘ সচিবালয়
 জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ
২৩. পারিবারিক পরিবেশ শিশুর জন্য দরকার কেন? (অনুধাবন)
 সুষম বিকাশের জন্য
খ নাম পাওয়ার জন্য
গ প্রেরণা যোগানের জন্য
ঘ জ্ঞান বিকাশের জন্য
২৪. শিশুর অধিকার বাস্তবায়নে প্রধান ভ‚মিকা কে পালন করবে? (অনুধাবন)
ক পরিবার এবং গুরুজন খ শিক্ষক এবং পরিবার
 সরকার এবং বাবা-মা ঘ মুরব্বিরা এবং শিক্ষক
২৫. শিশুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা কোথায় ঘোষিত হয়েছে? (জ্ঞান)
ক সার্ক আইনে খ ই ইউ আইনে
 জাতিসংঘের শিশুসনদে ঘ ইউনিসেফের আইনে
২৬. আমাদের দেশে শিশুশ্রমের প্রধান কারণ কী? (অনুধাবন)
ক অসচেতনতা খ লেখাপড়ার অনীহা
গ শিশুশ্রমের সুযোগ  দারিদ্র্য
২৭. নিজস্ব ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করা প্রত্যেকের কী ধরনের অধিকার? (জ্ঞান)
 জন্মগত খ মৌলিক গ রাষ্ট্রীয় ঘ মানবিক
২৮. শিশুর ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করার দায়িত্ব কার?
[মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা]
ক পিতামাতার খ পরিবারের
গ সমাজের  সরকারের
২৯. রিমার সময়মতো খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করা কার দায়িত্ব? (প্রয়োগ)
ক পরিবারের  রাষ্ট্রের
গ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঘ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
৩০. শিশু রমা পড়ালেখায় একটু অমনোযোগী হলেই মা বকাঝকা করাতে তার কোনটি বিঘিœত হয়? (অনুধাবন)
ক স্বার্থ খ মর্যাদা গ স্বাধীনতা  বিকাশ
৩১. জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে কোনটির উল্লেখ আছে? (প্রয়োগ)
 বেঁচে থাকার খ অংশগ্রহণের
গ বিকাশের ঘ উত্তম ফলাফলের
৩২. শিশুর মানবিক মর্যাদা ক্ষুণœ হওয়ার প্রভাবে সমাজে কী দেখা দেয়? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক অপরাধ খ দুর্নীতি গ বেকার  বিশৃঙ্খলা
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৩৩. জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী- (অনুধাবন)
র. সব শিশুই শিক্ষার সমান সুযোগ পাবে
রর. ১৮ বছরের কম বয়সের শিশু শাস্তিভোগ করবে না
ররর. শিশু স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পাবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ র ও রর গ র ও ররর  র, রর ও ররর
৩৪. জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ পাস করার উদ্দেশ্য- (অনুূধাবন)
র. শিশুদের মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করা
রর. শিশুদের প্রতি অন্যায় অবিচার রোধ করা
ররর. শিশুদের বাঁচার উপযোগী করে গড়ে তোলা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৩৫ ও ৩৬ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
প্রভা ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী। প্রভাদের স্কুলে জননী বলপেন কোম্পানি প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে ১টি করে ফ্রি বলপেন বিতরণ করেছিল। বিতরণকারীরা প্রতি ক্লাসের মধ্যে যারা প্রথম স্থান অধিকারী তাকে ২টি দিতে চেয়েছিল। স্যার বাধা দিলেন।
৩৫. অনুচ্ছেদে প্রথম স্থান অধিকারীদের ২টি কলম দিতে স্যারের বাধা দেবার কারণ কী? (প্রয়োগ)
ক সমাজের নিয়ম মানা
খ পরিবারের নিয়ম মানা
 সব শিশুর সমান অধিকার
ঘ স্কুলের নিয়ম মানা
৩৬. যে বিষয়টির জন্য স্যার নিষেধ করলেন সেটির উৎস কী? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক সার্ক শিশু অধিকার সনদ
খ অপসারণ শিশু অধিকার সনদ
 জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ
ঘ রাষ্ট্রীয় শিশু অধিকার সনদ
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৩৭ ও ৩৮ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
আসমার বাবা-মা খুব ধর্মভীরু। তারা আসমাকে ঘরের বাইরে যেতে দেয় না। এমনকি স্কুলে যেতেও বারণ করে।
৩৭. আসমার শিক্ষার পথ সুগম করার দায়িত্ব কার? (প্রয়োগ)
ক পরিবারের খ সমাজের
 রাষ্ট্রের ঘ স্কুলের
৩৮. আসমার বাবা-মা লঙ্ঘন করে চলেছেন (উচ্চতর দক্ষতা)
র. সামাজিক অধিকার
রর. নৈতিক অধিকার
ররর. মৌলিক অধিকার
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর  ররর ঘ র, রর ও ররর
ন্ধ পাঠ-৩ : বাংলাদেশে শিশু অধিকার পরিস্থিতি
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৩৯. কত সালে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদটি রাষ্ট্রসমূহের স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করা হয়? (জ্ঞান)
ক ১৯৮৯ সালে  ১৯৯০ সালে
গ ১৯৯১ সালে ঘ ১৯৯২ সালে
৪০. কত সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষর করে?(জ্ঞান)
 ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি
খ ১৯৯১ সালের ২৬ জানুয়ারি
গ ১৯৯২ সালের ২৬ জানুয়ারি
ঘ ১৯৯৩ সালের ২৬ জানুয়ারি
৪১. বাংলাদেশ কত সালে জাতিসংঘ অধিকার সনদ বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার করে? (জ্ঞান)
ক ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি
খ ১৯৯০ সালের ৩ মার্চ
গ ১৯৯০ সালের ২৬ জুন  ১৯৯০ সালের ৩ আগস্ট
৪২. শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ সরকার কী প্রণয়ন করেছে? (জ্ঞান)
ক জাতীয় শিশু সনদ খ শিশু আইন
 জাতীয় শিশু নীতি ঘ শ্রমিক নীতি
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৪৩. শিশু অধিকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন (অনুধাবন)
র. গণসচেতনতা রর. ব্যাপক আগ্রহ
ররর. শিক্ষা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৪৪ ও ৪৫ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
কবির সাহেব বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি তার এক প্রবাসী বন্ধুর সাথে বাংলাদেশের শিশু অধিকার নিয়ে কথা বলছিলেন। তিনি বলেন, তার দেশের সরকার ইতোমধ্যে শিশুদের অধিকার রক্ষায় একটি নীতি প্রণয়ন করেছে।
৪৪. কবির সাহেব বাংলাদেশের কোন নীতির কথা বলছিলেন? (প্রয়োগ)
ক জাতীয় শিক্ষা নীতি  জাতীয় শিশু নীতি
গ জাতীয় শ্রম নীতি ঘ মানবাধিকার নীতি
৪৫. উক্ত নীতির লক্ষ্য হচ্ছে (উচ্চতর দক্ষতা)
র. শিশুর অপুষ্টি দূরীকরণ রর. স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ
ররর. বাধ্যতামূলক শিক্ষা গ্রহণ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

 মাস্টার ট্রেইনার প্রণীত সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন- ১ ল্ফল্ফ শিশুর অধিকার

প্রমার বয়স ১৪ বছর। সে একটি বাড়িতে গৃহপরিচারিকা হিসেবে দিন রাত পরিশ্রম করে। সে ছোট বলে গৃহকর্ত্রী তাকে নিয়মিত বেতন দেয় না। বেতনের কথা বললে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করে। ফলে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়।
ক. কোন ধরনের কাজ থেকে শিশুদের বিরত রাখতে হবে? ১
খ. মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়? ২
গ. উদ্দীপকে প্রমার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদের কোন অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. অধিকারবঞ্চিত প্রমার এই দুরবস্থার জন্য রাষ্ট্রের ব্যর্থতাই দায়ী- মন্তব্যটি বিচার কর। ৪

ক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে শিশুকে বিরত রাখতে হবে।
খ বেঁচে থাকার জন্য মানুষের কতগুলো বিশেষ অধিকার পূরণ হওয়া অপরিহার্য। প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাঁচটি অধিকার দাবি করতে পারে। এগুলো হলো-খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা। এগুলোকে মৌলিক অধিকার বলে।
গ উদ্দীপকে প্রমার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদের শিশুর জীবনধারণ, শিক্ষা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অধিকার ক্ষুণœ হয়েছে। উদ্দীপকে ১৪ বছর বয়সী প্রমা একটি শিশু। সে দারিদ্রতার কারণে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করে। সে ছোট বলে গৃহকর্ত্রী নিয়মিত বেতন দেয় না; বরং বেতনের কথা বললে শারীরিক আঘাত করে। এতে তার শারীরিক ও মানসিক অবনতি ঘটে। জীবনের শুরুতেই সে পড়ালেখা অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অথচ জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদে শিশুর খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও শিক্ষা তথা জীবনধারণের কথা বলা আছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে প্রমার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের ঘোষিত শিশু অধিকার সনদে মানবাধিকার ক্ষুণœ হয়েছে।
ঘ প্রমার স্বাভাবিক জীবনের এই দুরবস্থার জন্য রাষ্ট্রের ব্যর্থতাই দায়ী বলে আমি মনে করি। সেই মানুষই যথার্থ স্বাধীন, যার জীবন ভয়ে বা নিরাপত্তাহীনতায় কাটে না, যার জীবন সবদিক দিয়ে নিরাপদ ও বাধাহীন। প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাঁচটি অধিকার দাবি করতে পারে; খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা। এগুলো একজন মানুষের মৌলিক চাহিদা ও অধিকার। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নাগরিকের জন্য এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করা। উদ্দীপকের প্রমা এসব অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং গৃহপরিচারিকার কাজ করে। প্রমার রাষ্ট্রে যদি মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করা হতো তাহলে তাকে এই দুরবস্থার শিকার হতে হতো না। সুতরাং বলা যায়, প্রমার দুরবস্থার জন্য তার রাষ্ট্রের ব্যর্থতাই দায়ী।
প্রশ্ন- ২ ল্ফল্ফ শিশুর অধিকার

ডা. সজলের স্ত্রী ও দুটি অবুঝ শিশু নিয়ে তার সংসার। সে ও তার স্ত্রী সকালবেলা গৃহপরিচারিকার নিকট অবুঝ শিশু দুটিকে রেখে কর্মস্থলে বের হয়ে যান। যাওয়ার সময় বাড়ির গেটে তালা লাগিয়ে দেন। গেট বন্ধ থাকায় শিশু দুটি বাইরে বের হতে না পেরে সারাদিন ঘরে বদ্ধ অবস্থায় দিন কাটায়। ফলে তাদের আচরণও স্বাভাবিক নয়।
ক. মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা কার দায়িত্ব? ১
খ. শিশুর অধিকার হলো মানবাধিকারের অংশ-ব্যাখ্যা কর। ২
গ. ডা. সজল ও তার স্ত্রী শিশুদের কোন অধিকার ক্ষুণœ করেছেন? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ডা. সজল ও তার স্ত্রীর কাজটি তুমি সমর্থন কর কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও। ৪

ক মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
খ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, শিক্ষা, নিরাপত্তা, চিন্তা, বিবেচনা, মতপ্রকাশ ও ধর্ম পালনের অধিকার মূলত মানবাধিকারের মধ্যে পড়ে। শিশুর মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ হলে মানবাধিকার সংরক্ষিত হয়। সুতরাং শিশুর অধিকার হলো মানবাধিকারের অংশ।
গ ডা. সজল ও তার স্ত্রী শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশের অধিকার ক্ষুণœ করেছেন।
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ধারা অনুযায়ী মা-বাবা শিশুর স্বাধীন চিন্তাশক্তির প্রকাশ, বিবেক-বুদ্ধির বিকাশ এবং অবকাশযাপন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা দানের মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করবে। উদ্দীপকের শিশুদের ক্ষেত্রে এ জাতীয় অধিকার ক্ষুণœ হয়েছে। সজল ও তার স্ত্রী গৃহপরিচারিকার কাছে দুটি অবুঝ শিশুর দায়িত্ব দিয়ে বাইরে যান। বাইরে যাওয়ার সময় বাড়ির দরজায় তালা লাগিয়ে দেন। দরজা বন্ধ থাকায় শিশু দুটি সারাদিন বন্দি অবস্থায় দিন কাটায়। এতে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই বলা যায়, সজল ও তার স্ত্রী শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশের অধিকার ক্ষুণœ করেছেন।
ঘ উদ্দীপকের ডা. সজল ও তার স্ত্রীর শিশু অধিকার ক্ষুণœ করার মতো কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়। শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তারাই দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের ধারা যদি রুদ্ধ হয়ে যায়, তাতে শিশুর শারীরিক বিকাশ হলেও মানসিক বিকাশ বিঘিœত হয়। এতে করে শিশুর ভেতর সুপ্ত বাসনা ও কর্মশক্তির অপমৃত্যু ঘটে। ফলে পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্র অভিশাপে পতিত হবে। উদ্দীপকে দেখা যায়, সজল ও তার স্ত্রী তাদের সন্তানদের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছেন। তাদের সন্তানদের মতো কোনো শিশু এভাবে দিনযাপন করলে বাইরের অন্য শিশুদের সাথে তার ভাববিনিময় বাধাগ্রস্ত হয়। সে বাইরের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে অক্ষম থাকে। এতে শারীরিক বিকাশ হলেও অন্য সব ধরনের বিকাশ অসম্পূর্ণ থাকে। যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের উন্নয়নের অন্তরায়। সুতরাং উদ্দীপকে ডা. সজল ও তার স্ত্রীর শিশু অধিকার ক্ষুণœ করার মতো কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়।

প্রশ্ন- ৩ ল্ফল্ফ শিশুর অধিকার

মিজান সাহেবের বাড়িতে ৮-৯ বছরের একটি কাজের ছেলে থাকে। তার নাম আব্দুল্লাহ। আব্দুল্লাহর বাবা-মা তাকে কাজের জন্য এই বাড়িতে রেখেছে। সে লেখাপড়া জানে না। দিনরাত কাজ করে।
[মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা]
ক. জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে কতটি ধারা আছে? ১
খ. জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের মূলকথা কী? ২
গ. আব্দুল্লাহর দিনরাত কাজ করা শিশু অধিকার সনদের কোন ধারার লঙ্ঘন? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. আব্দুল্লাহর নিরাপত্তার জন্য মিজান সাহেবের করণীয় কর্তব্য বিশ্লেষণ কর। ৪

ক জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে ৫৪টি ধারা আছে।
খ ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি জাতিসংঘ শিশুদের অধিকার রক্ষার জন্য শিশু অধিকার সনদ প্রদান করে। এই সনদের মূলকথা হলো শিশুদের মৌলিক অধিকার রক্ষা। শিশুদের জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য এ সনদ প্রদান করা হয়। এ সনদে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
গ উদ্দীপকে আব্দুল্লাহর দিনরাত কাজ করা জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে ‘প্রতিটি শিশুর অবকাশ যাপন, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের অধিকার রয়েছে’ Ñএ ধারার লঙ্ঘন। উদ্দীপকে দেখা যায়, মিজান সাহেবের বাড়িতে ৮-৯ বছরের একটি কাজের ছেলে থাকে। সে কাজ করে। এখানে যে কোনো রকম অবকাশ যাপন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কাজের সুযোগ পায় না। অর্থাৎ আব্দুল্লাহ উল্লিখিত ধারার অধিকারসমূহ থেকে বঞ্চিত হয়। সমাজের প্রতিটি শিশুরই রয়েছে অবকাশযাপন, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের অধিকার রয়েছে। একটি শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে এ সকল অধিকারে গুরুত্ব অপরিসীম।
ঘ আব্দুল্লাহর নিরাপত্তার জন্য মিজান সাহেবের করণীয় কর্তব্য হলো তার লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে শিশুরা যাতে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ পায় রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা মানুষকে জ্ঞানী ও অধিকার সচেতন করে তোলে। অধিকার আসলে স্বাধীনতা ও ক্ষমতা। কথা বলার, চলাচলের, মত প্রকাশের যে অধিকার সেগুলো মানুষকে স্বাধীনতা দেয়। এই স্বাধীনতা মানুষের ক্ষমতাও বাড়ায়। যার ফলে একজন মানুষ নিজেকে নিরাপদ মনে করে। উদ্দীপকে বর্ণিত মিজান সাহেব আব্দুল্লাহর জন্য অবকাশ যাপন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করতে পারেন। কেননা এগুলো শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। আর একজন পরিপূর্ণ মানুষই দেশ ও জাতির কল্যাণে ভ‚মিকা রাখে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে আব্দুল্লাহর নিরাপত্তার জন্য মিজান সাহেবের করণীয় কর্তব্য হলো তার লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতে পারেন।
প্রশ্ন- ৪  জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ

 

চিত্র : শিশুটি ইট ভাঙছে
ক. অধিকারের অর্থ কী?
খ. মৌলিক মানবিক অধিকার বলতে কী বোঝায়?
গ. চিত্রে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের কোন ধারাটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. চিত্রে শিশুদের এই দুরবস্থার জন্য তুমি কি পরিবারকেই দায়ী বলে মনে কর? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

ক অধিকারের অর্থ হচ্ছে জন্ম থেকেই কিছু সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষমতা অর্জন করা।
খ যে অধিকারগুলো মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য সে অধিকারগুলোকে মৌলিক মানবিক অধিকার বলে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নাগরিকদের জন্য এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করা।
গ চিত্রে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের শিশুশ্রম সম্পর্কিত ধারাটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ৫৪টি ধারা আছে। এর মধ্যে শিশুশ্রমের একটি ধারা হলো-“অর্থনৈতিক শোষণ এবং যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে শিশুর বিরত থাকার অধিকার রক্ষা করতে হবে।” বর্তমানে আমাদের দেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের ব্যবহার একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুসংখ্যক লোক নিজেদের অধিক মুনাফার আশায় সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে শিশুদের কাজে নিয়োজিত করছে, যা জাতিসংঘ শিশু অধিকার বিষয়ক সনদের পরিপন্থী। প্রদত্ত চিত্রটিতে দেখা যায়, একটি শিশু হাতুড়ি দিয়ে ইট ভাঙছে এবং তার পাশে আরেকটি শিশু তাকে সে কাজে সহযোগিতা করছে। এ কাজটি নিঃসন্দেহে শিশুদের জন্য কষ্টের ও ঝুঁকিপূর্ণ। সুতরাং, চিত্রে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের শিশুশ্রম ধারাটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ঘ না, চিত্রের শিশুদের এই দুরবস্থার জন্য পরিবারের পাশাপাশি রাষ্ট্রও অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করি। জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সকল শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে। চিত্রের শিশুরা পরিবারের কাছ থেকে মৌলিক অধিকার এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে বাধ্য হয়েছে। এক্ষেত্রে শিশুদের পরিবারকে দায়ী বলে চিহ্নিত করা যায়। কিন্তু জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী শিশুর বেঁচে থাকা ও বড় হওয়ার অধিকার রক্ষা করা, মারধর বা অন্যায় বকাঝকা থেকে শিশুকে রক্ষা করা, সর্বোপরি অর্থনৈতিক শোষণ এবং যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে শিশুকে রক্ষায় রাষ্ট্রের ভ‚মিকা রয়েছে এবং রাষ্ট্র দায়িত্বশীল। সুতরাং, চিত্রের শিশুদের দুরবস্থার জন্য পরিবার ও রাষ্ট্র উভয়ই দায়ী। কেননা, উভয়েই শিশুদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য দায়বদ্ধ।
প্রশ্ন- ৫  শিশু নীতি

অধ্যাপক সাব্বির হোসেন নতুন কুঁড়ি আয়োজিত শিশু কিশোরদের একটি সেমিনারে যোগদান করেন। এ অনুষ্ঠানে তিনি তার বক্তব্যে বলেন, শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। এই শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিক একটি সংস্থা কর্তৃক প্রণীত শিশু বিষয়ক একটি সনদে স্বাক্ষর করে। এই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারও একটি নীতি প্রণয়ন করে। যা ছিল শিশুদের জন্য কল্যাণকর।
ক. বাংলাদেশ সরকার শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কী প্রণয়ন করেছে?
খ. শিশুশ্রমের ফলে শিশুরা কী কী সুবিধা হতে বঞ্চিত হয়?
গ. উদ্দীপকে শিশু বিষয়ক কোন নীতির কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উক্ত নীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

ক বাংলাদেশ সরকার শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ‘জাতীয় শিশু নীতি’ প্রণয়ন করেছে।
খ শিশুশ্রমের ফলে শিশুরা যেসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় তা হলো :
১. শিশুরা লেখাপড়ার সুযোগ পায় না। ২. অনেক ক্ষেত্রে সঠিক মজুরি পায় না। ৩. খাওয়া, দাওয়া, থাকার জায়গা, সুচিকিৎসা ও পোশাক থেকে বঞ্চিত হয়। ৪. শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। ৫. শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মেধার বিকাশ ঘটে না।
গ উদ্দীপকে শিশু বিষয়ক জাতীয় শিশু নীতির কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ একটি দরিদ্র্য দেশ হওয়ায় এদেশের অধিকাংশ শিশু তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বজুড়ে শিশুরা তাদের ন্যায্য অধিকার পাচ্ছে না। তাই শিশুদের অধিকার রক্ষার্থে ১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক শিশু অধিকার সনদ প্রদান করা হয়। ১৯৯০ সালের ২৬ এ জানুয়ারি বাংলাদেশ এতে স্বাক্ষর করে। ১৯৯০ সালের ৩ আগস্ট বাংলাদেশ এই সনদের বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার করে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ একটি জাতীয় শিশু নীতি প্রণয়ন করেছে। উদ্দীপকেও দেখা যায় যে, অধ্যাপক সাব্বির হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ শিশু বিষয়ক একটি সনদে সাক্ষর করে। যে সনদটি শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারও একটি নীতি প্রণয়ন করে। যেটি শিশুদের কল্যাণে সর্বাধিক উপযোগী। অতএব নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, উদ্দীপকে অধ্যাপক সাব্বির হোসেনের বক্তব্যে উপস্থাপিত নীতিটি বাংলাদেশের জাতীয় শিশু নীতিরই অনুরূপ।
ঘ উক্ত নীতি অর্থাৎ জাতীয় শিশু নীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাপক। জাতীয় শিশু নীতি শিশুদের অধিকার ভিত্তিক ব্যাপক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রণীত হয়েছে। এ নীতির মাধ্যমে সরকার মাতৃপিতৃহীন ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা কার্যক্রম, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উদ্দীপকেও দেখা যায় যে, অধ্যাপক সাব্বির হোসেনের বক্তব্যে উপস্থাপিত জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারও একটি নীতি প্রণয়ন করে। যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের জন্য কল্যাণকর। এছাড়াও শিশুর অপুষ্টি দূরীকরণ ও স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ ছিল এ নীতির প্রধান লক্ষ্য। শিশুর অন্ধত্ব নির্মূল করার জন্য বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করে। আবার বাধ্যাতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ, ভারী ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ এবং পথশিশু ও বিপথগামী শিশুদের বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণের নীতিও উল্লেখ রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করে। এছাড়াও পারিবারিক সহিংসতা আইন প্রণয়ন, নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ দমন আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে থাকে। সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি প্রদান করাও জাতীয় শিশু নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। পরিশেষে বলা যায় যে, জাতীয় শিশু নীতি বাংলাদেশের শিশুদের সকল অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ব্যাপক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে চলেছে।
 অনুশীলনের জন্য সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক (উত্তরসংকেতসহ)
প্রশ্ন- ৬  জাতীয় শিশু নীতি

দশ বছরের শিশু মর্জিনাকে তার বাবা একটি বাসায় কাজ করতে দেয়। প্রথম অবস্থায় ঐ বাসার গৃহিণী মর্জিনার সাথে ভালো ব্যবহার করলেও পরে তাকে বিভিন্ন অজুহাতে মারধরসহ নির্যাতন করতে থাকে। একদিন অসাবধানতাবশত একটি গøাস ভাঙার কারণে গৃহিণী মর্জিনাকে গরম লোহার স্যাকা দেয়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে একালাবাসী ঐ গৃহিণীকে থাকায় সোপর্দ করে এবং মর্জিনাকে বাংলাদেশ শিশু নীতি অনুযায়ী তার অধিকার নিশ্চিত করে।
ক. বাংলাদেশ কত সালে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষর করে? ১
খ. অধিকার নিরাপত্তার অবলম্বন বলতে কী বোঝায়? ২
গ. উদ্দীপকে শিশুদের কোন নীতির কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. তুমি কি মনে কর উক্ত নীতিই শিশুর অধিকার আদায়ের একমাত্র উপায়? তোমার মতামত দাও। ৪

ক বাংলাদেশ ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষর করে।
খ অধিকার বলতে বোঝায় স্বাধীনতা ও ক্ষমতা। আর অধিকার নিরাপত্তার অবলম্বন বলতে বোঝায়-সেই মানুষই যথার্থ স্বাধীন, যার জীবন ভয়ে বা নিরাপত্তাহীনতায় কাটে না; যার জীবন সবদিক থেকে নিরাপদ ও বাধাহীন।
ঢ-পষঁংরাব লিংক : প্রয়োগ (গ) ও উচ্চতর দক্ষতার (ঘ) প্রশ্নের উত্তরের জন্য অনুরূপ যে প্রশ্নের উত্তর জানা থাকতে হবে
গ বাংলাদেশ জাতীয় শিশু নীতির ব্যাখ্যা দাও।
ঘ বাংলাদেশ জাতীয় শিশু নীতির মূল্যায়ন কর।
প্রশ্ন- ৭  শিশুর অধিকার

দরিদ্র পরিবারে মা-বাবার কষ্ট দেখে ১০ বছরের সামি পড়ালেখা বাদ দিয়ে ফুল বিক্রি করে। কষ্টের উপার্জনে তাদের সংসার কোনোভাবে চলে। তবুও তারা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত।
ক. শিশুর অধিকার কীসের অংশ? ১
খ. ‘শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার’ ব্যাখ্যা কর। ২
গ. সামি নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে কী পেতে পারে? ৩
ঘ. সামির ক্ষেত্রে শিশু অধিকার কতটুকু প্রযোজ্য? বিশ্লেষণ কর। ৪

ক শিশুর অধিকার মানবাধিকারের অংশ।
খ প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাঁচটি অধিকার দাবি করতে পারে। এগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে শিক্ষা। এটি একজন মানুষের যেমন মৌলিক চাহিদা তেমনি মৌলিক অধিকারও বটে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নাগরিকদের জন্য এই অধিকার পাওয়া নিশ্চিত করা। কেননা শিক্ষা ব্যতীত একজন মানুষের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়।
ঢ-পষঁংরাব লিংক : প্রয়োগ (গ) ও উচ্চতর দক্ষতার (ঘ) প্রশ্নের উত্তরের জন্য অনুরূপ যে প্রশ্নের উত্তর জানা থাকতে হবে
গ নাগরিকের মৌলিক অধিকারসমূহ বর্ণনা কর।
ঘ জাতিসংঘ প্রদত্ত শিশু অধিকারসমূহ আলোচনা কর।

জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

 জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ মানুষের অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় কী?
উত্তর : দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও বেকারত্ব মানুষের অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়।
প্রশ্ন \ ২ \ মানুষ কোন বয়স থেকে অধিকার অর্জন করা শুরু করে?
উত্তর : মানুষ জন্ম থেকেই অধিকার অর্জন করা শুরু করে।
প্রশ্ন \ ৩ \ মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা কার দায়িত্ব?
উত্তর : মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
প্রশ্ন \ ৪ \ প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে কয়টি অধিকার দাবি করতে পারে?
উত্তর : প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে পাঁচটি অধিকার দাবি করতে পারে।
প্রশ্ন \ ৫ \ শিশুর অধিকারগুলো বাস্তবায়নে প্রধান ভ‚মিকা কে পালন করে?
উত্তর : শিশুর অধিকারগুলো বাস্তবায়নে সরকার প্রধান ভ‚মিকা পালন করে।
প্রশ্ন \ ৬ \ শিশু অধিকার কী?
উত্তর : সাধারণভাবে যেসব অধিকার দ্বারা একটি শিশু পূর্ণাঙ্গভাবে নিজেকে বিকশিত করার সুযোগ পায় সেসব অধিকারকে শিশু অধিকার বলে।
প্রশ্ন \ ৭ \ শিশুর কী প্রকাশের অধিকার রয়েছে?
উত্তর : শিশুর স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে।
প্রশ্ন \ ৮ \ জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে মোট কয়টি ধারা রয়েছে?
উত্তর : জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে মোট ৫৪টি ধারা রয়েছে।
প্রশ্ন \ ৯ \ বাংলাদেশ কত সালে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষর করে?
উত্তর : বাংলাদেশ ১৯৯০ সালে ২৬ জানুয়ারি জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষর করে।
 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ শিশু অধিকার বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : শিশুর জীবনধারণে তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, শিক্ষা, নিরাপত্তা, চিন্তা, বিবেচনা, মতপ্রকাশ ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ইত্যাদি অধিকারগুলো পাওয়ার অধিকারই শিশু অধিকার। অর্থাৎ শিশুর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের নিশ্চয়তা লাভের অধিকারকেই শিশু অধিকার বলে।
প্রশ্ন \ ২ \ শিশুশ্রমের ফলে শিশুরা কী কী সুবিধা হতে বঞ্চিত হয়?
উত্তর : শিশুশ্রমের ফলে শিশুরা যেসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় তা হলো :
১. শিশুরা লেখাপড়ার সুযোগ পায় না। ২. অনেক ক্ষেত্রে সঠিক মজুরি পায় না।
৩. খাওয়া, দাওয়া, থাকার জায়গা, সুচিকিৎসা, পোশাক থেকে বঞ্চিত হয়।
৪. শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। ৫. শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মেধার বিকাশ ঘটে না।

 

Share to help others:

Leave a Reply