নবম-দশম শ্রেণির ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং প্রথম অধ্যায় অর্থায়ন ও ব্যবসায় অর্থায়ন সৃজনশীল ও জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর

প্রথম অধ্যায়
অর্থায়ন ও ব্যবসায় অর্থায়ন

অর্থায়নের ধারণা
অর্থায়ন তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে। কোন উৎস থেকে কী পরিমাণ তহবিল সংগ্রহ করে, কোথায়, কীভাবে বিনিয়োগ করা হলে ব্যবসায়ের সর্বোচ্চ মুনাফা হবে, অর্থায়ন সেই সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে। অর্থায়ন প্রক্রিয়া একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি একটি অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ।
 অর্থায়নের শ্রেণিবিভাগ
১. পারিবারিক অর্থায়ন : পারিবারিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে পরিবারের আয়ের উৎস ও পরিমাণ নির্ধারণ করে, সেই পরিবারের আয় কীভাবে ব্যয় করলে পরিবারের সদস্যদের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল হয়, তা নির্ধারণ করা হয়।
২. সরকারি অর্থায়ন : সরকারের প্রেক্ষাপটে তার বার্ষিক ব্যয় কোন কোন খাতে কী পরিমাণ হবে এবং সেই অর্থ কোন কোন উৎস থেকে সংগ্রহ করা যাবে, তা সরকারি অর্থায়নে আলোচনা করা হয়।
৩. আন্তর্জাতিক অর্থায়ন : আন্তর্জাতিক অর্থায়নে আমদানি ও রপ্তানির খাতগুলো নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয় এবং এ সংক্রান্ত ঘাটতি কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায় তা আলোচনা করা হয়।
৪. অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অর্থসংস্থান : সমাজে এমন কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যা মানবকল্যাণ বা দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের সেবায় নিয়োজিত। অমুনাফাভোগী এসব প্রতিষ্ঠানেরও অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন অনুদানের মাধ্যমে এরা অর্থ সংগ্রহ করে থাকে।
৫. ব্যবসায় অর্থায়ন : অর্থায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরন হচ্ছে ব্যবসায় অর্থায়ন। মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য লাভ-ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে গঠিত সংগঠনকে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বলা হয়। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তার তহবিল সংগ্রহ ও বিনিয়োগের জন্য অর্থায়ন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে।
৬. ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান : যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সাধারণত সে দেশের ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন প্রক্রিয়া সাধারণত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান থেকে একটু ভিন্ন প্রকৃতির।
 কারবারি অর্থায়নের গুরুত্ব
বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক মুক্তবাজার ব্যবস্থায় মুনাফা অর্জনের জন্য প্রতিটি সরকারি, বেসরকারি, আন্তর্জাতিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে পূর্ব পরিকল্পনামাফিক অর্থায়ন করতে হয়। সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা ব্যবসায়ীদের পরিকল্পনামাফিক স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থসংস্থান করে তার সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসায় পরিচালনা করে পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জন করতে সাহায্য করে। যেকোনো দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে সফল বিনিয়োগ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। লাভজনক বিনিয়োগ ব্যবসায়ের জন্য যেমন অর্থবহ তেমনি সারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
 কারবারি অর্থায়নের নীতি
কারবারি অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা বলতে কারবারের জন্য প্রয়োজন মাফিক তহবিল সংগ্রহ, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে সেই তহবিল বিনিয়োগ এবং বণ্টনসংক্রান্ত ব্যবস্থাপনাকে বোঝায়।
১. তারল্য বনাম মুনাফানীতি : যেকোনো ব্যবসায়ীকে তারল্য ও বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে আর্থিক ব্যবস্থাপনা করতে হয়। অর্থাৎ একদিকে তাকে দৈনন্দিন কার্যপরিচালনার মতো নগদ অর্থ হাতে রাখতে হয়, অন্যদিকে মুনাফা অর্জনের জন্য সেই অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়।
২. উপযুক্ততার নীতি : স্বল্পমেয়াদি তহবিল দিয়ে চলতি মূলধন ও দীর্ঘমেয়াদি তহবিল দিয়ে স্থায়ী মূলধন সরবরাহ করা অর্থায়নের একটি নীতি। একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান চলমান রাখার জন্য যে নিত্যনৈমিত্তিক অর্থের প্রয়োজন পড়ে, তাকে চলতি মূলধন এবং দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা-ভোগের যে অর্থ ব্যবহার করা হয় তাকে স্থায়ী মূলধন বলা হয়।
৩. কারবারে বৈচিত্র্যায়ণ ও ঝুঁকিবণ্টন : তহবিল বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কারবারি পণ্য বা সেবা বৈচিত্র্যপূর্ণ হলে কারবারের ঝুঁকি বণ্টিত হয় ও হ্রাস পায়।
 আর্থিক ব্যবস্থাপকের কার্যাবলি
১. আয় বা অর্থায়ন সিদ্ধান্ত : আয় সিদ্ধান্ত বলতে মূলত তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে বোঝায়। অর্থায়ন সিদ্ধান্তের আওতায় তহবিল সংগ্রহের ভিন্ন উৎস নির্বাচন এবং এসব উৎসের সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ করে অর্থায়ন সংক্রান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
২. ব্যয় বা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত : ভবিষ্যতের পণ্য বিক্রয়ের পরিমাণ ও পণ্যের মূল্য নির্ধারণ একটি দুরূহ কাজ বলে বিনিয়োগ সিদ্ধান্তটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রত্যাশিত আগমন-নির্গমনের একটি পরিকল্পনা করতে হয়।
 অর্থায়নের ক্রমোন্নয়নের ধারণা
বাজার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে অর্থায়ন সংক্রান্ত ধারণা ও ব্যবহার অত্যাবশ্যক হয়ে যায়। অর্থায়নের ক্রমবিকাশের ধারা অর্থায়নের প্রকৃতি ও আওতা সম্পর্কে আমাদের একটি অর্থবহ ধারণা দেয়।
র. ১৯৩০ এর পূর্ববর্তী শতক : এই সময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর মধ্যে একত্রীকরণের প্রবণতা শুরু হয়। আর্থিক ব্যবস্থাপকরা এই একত্রীকরণে বিশাল অংকের অর্থসংস্থান ও আর্থিক বিবরণী তৈরি করার দায়িত্ব পালন করেন।
রর. ১৯৩০ এর দশক : এই সময়কালে একত্রীকরণের প্রবণতা সফল পায়নি। উপরন্তু এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে চরম মন্দা শুরু হয়। এ সময় থেকেই শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে অর্থায়নের প্রয়োজন দেখা দেয়।
ররর. ১৯৪০ এর দশক : এ সময়ে সুষ্ঠুভাবে কারবার পরিচালনার জন্য তারল্যের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উপলব্ধি করা যায়। নগদ অর্থপ্রবাহের বাজেট করে সুপরিকল্পিত নগদপ্রবাহের মাধ্যমে অর্থায়ন সেই দায়িত্ব পালন করে।
রা. ১৯৫০ এর দশক : সুদূরপ্রসারী প্রাক্কলনের মাধ্যমে উপযুক্ত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করে বিক্রয় বৃদ্ধি ও ব্যয় হ্রাস করে মুনাফা সর্বোচ্চকরণ করাই এই সময়ের অর্থায়নের প্রধান কাজ হিসেবে পরিণত হয়। এই ধারাকে অর্থায়নের সনাতন ধারা হিসেবে গণ্য করা হয়।
া. ১৯৬০ এর দশক : এই সময় থেকেই আধুনিক অর্থায়নের যাত্রা শুরু। অর্থায়ন মূলধন বাজারকে অগ্রাধিকার দিতে শুরু করে। শেয়ারের বাজারদর সর্বাধিকরণই ছিল এই সময়ের অর্থায়নের উদ্দেশ্য।
ার. ১৯৭০ এর দশক : এই দশকে কম্পিউটার অধ্যায়ের শুরু হয়, যা উৎপাদন কৌশল ও কারবারি অর্থায়নকে পাল্টিয়ে দেয়।
ারর. ১৯৮০ এর দশক : এ সময়ে সনাতনী দায়িত্বের পরিবর্তন করে নতুন রূপে আবিভর্‚ত হয় অর্থায়ন পদ্ধতি। মূলধনের সুদক্ষ বণ্টন ও প্রকল্পগুলো হতে অর্জিত আয়ের বিচার-বিশ্লেষণই ছিল অর্থায়নের মূল বিষয়।
াররর. ১৯৯০ এর দশক ও আধুনিক অর্থায়নের সূচনা : এ দশকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডঞঙ) আত্মপ্রকাশ করে। বিশ্বব্যাপী আমদানি-রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।

অনুশীলনীর সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

২০১২ সালের আর্থিক বিবরণীতে দেখা যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
ক. রপ্তানি থেকে আমদানি বেশি হলে কোন ধরনের ঘাটতি দেখা যায়?
খ. সরকার কেন দেশের জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করে?
গ. এ কে এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক জনাব সোহানের সামগ্রিক কার্যক্রমকে কী বলা যায়? বর্ণনা কর।
ঘ. জনাব সোহান কোন নীতিটি ঠিকমতো অনুসরণ করলে ক্ষতির সম্মুখীন হতেন না বলে মনে কর?
 ১নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. রপ্তানি থেকে আমদানি বেশি হলে বাণিজ্য ঘাটতি দেখা যায়।
খ. সরকার নিজ দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সমাজের কল্যাণ সাধনের জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করে। তার ব্যয়ের খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে রাস্তাঘাট, সেতু, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি হাসপাতাল, আইনশৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষা, সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদি। অর্থাৎ সরকারি অর্থায়নের মূল লক্ষ্য হলো সমাজকল্যাণ।
গ. এ কে এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক জনাব সোহানের সামগ্রিক কার্যক্রমকে ব্যবসায় অর্থায়ন বলা যায়। ব্যবসায় অর্থায়ন হচ্ছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ এবং সুষ্ঠুভাবে উক্ত তহবিল লাভজনক খাতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া। অর্থাৎ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তার তহবিল সংগ্রহ ও বিনিয়োগের জন্য এরূপ অর্থায়ন প্রক্রিয়া প্রয়োগ করে থাকে। উদ্দীপকের জনাব সোহান মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ঝুঁকি নিয়ে একটি একমালিকানা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ কে এন্টারপ্রাইজকে গড়ে তুলেছেন। প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার পাশাপাশি তিনি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপক হিসেবে অর্থায়নের কাজও পরিচালনা করেছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি উৎস হিসেবে ব্যাংক ঋণ এবং স্বল্পমেয়াদি উৎস হিসেবে বন্ধুর ঋণ ও মামাতো বোনের ঋণকে ব্যবহার করেছেন। এসব উৎস হতে সংগৃহীত তহবিল তিনি বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতন, ভাড়া, নতুন মেশিন ক্রয় খাতে ব্যয় করেছেন। তার সম্পাদিত এসব কার্যাবলি ব্যবসায় অর্থায়নের আওতাভুক্ত।
ঘ. জনাব সোহান তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কারবারি অর্থায়নের উপযুক্ততার নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করলে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতির সম্মুখীন হতো না। কারণ উপযুক্ততার নীতি স্বল্পমেয়াদি তহবিল দিয়ে চলতি মূলধন এবং দীর্ঘমেয়াদি তহবিল দিয়ে স্থায়ী মূলধন সরবরাহের দিক নির্দেশনা দেয়। একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সচল রাখার জন্য যে নিত্যনৈমিত্তিক অর্থের প্রয়োজন পড়ে সেটাই চলতি মূলধন। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের জন্য মেশিন ক্রয়, দালানকোঠা নির্মাণ ইত্যাদি হলো স্থায়ী মূলধন। উদ্দীপকে জনাব সোহান তার প্রতিষ্ঠানে উপযুক্তার নীতি অনুসরণ না করে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে তার অধিকাংশই বিভিন্ন চলতি মূলধন খাতে ব্যয় করেছেন। এভাবে দীর্ঘমেয়াদি তহবিল দিয়ে চলতি মূলধন সরবরাহ করায় দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদ তার চলতি ব্যয়কে বৃদ্ধি করেছে। ফলে উপার্জিত আয় হতে চলতি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হয়নি। উপরন্তু চলতি ব্যয় নির্বাহের জন্য তাকে আবার দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের উৎসই ব্যবহার করতে হয়েছে। এভাবে ধীরে ধীরে উপার্জন অপেক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলতি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এ কে এন্টারপ্রাইজের ক্ষতির কারণ বিশ্লেষণ করে আমার এটাই মনে হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক জনাব সোহান যদি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে উপযুক্ততার নীতি অনুসরণ করতেন তাহলে প্রতিষ্ঠানটি এরূপ ক্ষতির সম্মুখীন হত না।
প্রশ্ন-২  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক. কিসের পর থেকেই উৎপাদন কৌশল জটিলতর হয়?
খ. একজন ব্যবসায়ীর কোন ধরনের জ্ঞান থাকলে পরিকল্পনামাফিক স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থসংস্থান করতে পারে? ব্যাখ্যা কর।
গ. ‘ক’ প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে অর্থায়ন করতে পারে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উপরিউক্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোন প্রতিষ্ঠানটির ঝুঁকি কম বলে মনে হয়? বিশ্লেষণ কর।
 ২নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. সপ্তদশ শতাব্দীর শিল্পবিপ্লবের পর থেকেই উৎপাদন কৌশল জটিলতর হয়।
খ. একজন ব্যবসায়ীর অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জ্ঞান থাকলে পরিকল্পনামাফিক স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থসংস্থান করতে পারে। কারণ অর্থায়নের কাজই হচ্ছে কোন উৎস থেকে কী পরিমাণ তহবিল সংগ্রহ করে, কোথায় বিনিয়োগ করা হলে কারবারের সর্বোচ্চ মুনাফা হবে সেই সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জ্ঞানের মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ী ন্যূনতম খরচে প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহের আদর্শ মিশ্রণ বের করতে পারে।
গ. ‘ক’ প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব তহবিল, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব থেকে ঋণ ও ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন করতে পারে।
একমালিকানা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন ও পরিচালনায় অপেক্ষাকৃত স্বল্প তহবিল প্রয়োজন হয়। তাই মালিক সহজেই নিজস্ব সঞ্চয় থেকে অর্থায়ন করতে পারে। এরূপ ব্যবসায়ের জন্য বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজন স্বল্পমেয়াদি ঋণের অন্যতম উৎস। তাছাড়া প্রয়োজনের সময় সুদের বিনিময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ থেকে ঋণ নিয়ে এরূপ ব্যবসায় অর্থায়ন করতে পারে। উদ্দীপকে ‘ক’ প্রতিষ্ঠানের মুনাফা মালিক একাই ভোগ করে। মালিকের একক ব্যবস্থাপনা সীমাবদ্ধ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের একমাত্র ব্যবসায়িক পণ্য মিনিপ্যাক শ্যাম্পু অর্থাৎ ‘ক’ প্রতিষ্ঠানটি একটি একমালিকানা ব্যবসায় সংগঠন। তাই প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় তহবিল মালিককে নিজ দায়িত্বে সংগ্রহ করতে হয়। ‘ক’ প্রতিষ্ঠান তহবিলের উৎস হিসেবে মালিকের নিজস্ব তহবিল, মুনাফা, আত্মীয়-স্বজন থেকে গৃহীত ঋণ, ব্যাংক বা গ্রামীণ মহাজন থেকে সুদের ভিত্তিতে ঋণ নিতে পারে। এভাবেই ‘ক’ প্রতিষ্ঠানের মালিক তার ব্যবসায়ের জন্য অর্থায়ন করতে পারে।
ঘ. ‘ক’ ও ‘খ’ এই দুইটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমার কাছে ‘খ’ প্রতিষ্ঠানটির ঝুঁকি কম বলে মনে হয়।
ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য একই ব্যবসায়ে বিভিন্ন প্রকার পণ্য বিক্রয় করার নীতিকে বৈচিত্র্যকরণ নীতি বলা হয়। ব্যবসায়ের বৈচিত্র্যকরণ নিশ্চিত করতে পারলে ঝুঁকি বণ্টনও নিশ্চিত হয়। তাই ঝুঁকি বণ্টনের মাধ্যমে সফলতা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ের বৈচিত্র্যকরণ প্রয়োজন। উদ্দীপকের দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘ক’ প্রতিষ্ঠানটির একমাত্র ব্যবসায়িক পণ্য হচ্ছে মিনিপ্যাক শ্যাম্পু। অন্যদিকে ‘খ’ প্রতিষ্ঠান তিনটি পণ্য নিয়ে ব্যবসায় করে। সেগুলো হলো বোতলজাত শ্যাম্পু, মিনিপ্যাক শ্যাম্পু ও হারবাল শ্যাম্পু। তাই যে কোনো একক পণ্যের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হতে ‘খ’ প্রতিষ্ঠানটি কাক্সিক্ষত মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্রে একটি বাড়তি সুবিধা ভোগ করছে। এক্ষেত্রে সুবিধাটি হলো দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রাকৃতিক ইত্যাদির জন্য সৃষ্ট অনাকাক্সিক্ষত কারণে যে কোনো একটি পণ্যের হ্রাসকৃত বিক্রয়কে অন্য পণ্যের বাড়তি বিক্রয় দ্বারা পুষিয়ে নিতে পারছে। ফলে তার কাক্সিক্ষত মুনাফা ঠিক থাকছে যা একক পণ্যের ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে কখনোই সম্ভব নয়। আবার, ‘খ’ প্রতিষ্ঠানের মালিক একাধিক। এরূপ প্রতিষ্ঠানে লাভ বা ক্ষতি অংশীদারদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। অর্থাৎ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মালিকরা একমালিকানা প্রতিষ্ঠানের মালিকের মতো ব্যবসায়ের সমস্ত ঝুঁকি বহন করে না।
সুতরাং, এক পণ্যের ব্যবসায়িক ক্ষতি অন্য পণ্য দিয়ে পুষিয়ে নেওয়ার এবং ব্যবসায়ের ঝুঁকি একাধিক ব্যক্তির মধ্যে বণ্টন করার সুযোগ থাকায় ‘খ’ প্রতিষ্ঠানটি ঝুঁকি ‘ক’ প্রতিষ্ঠানের তুলনা অনেক কম।

প্রশ্ন-৩  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মিসেস রোদষী একটি পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানির একজন আর্থিক ব্যবস্থাপক। তিনি প্রথমে কোম্পানির তহবিল সংগ্রহের জন্য শেয়ার বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেন। দ্বিতীয়ত কোম্পানির পণ্য উৎপাদনে সহায়তার জন্য একটি কম্পিউটার ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন। [স. বো. ’১৫]
ক. সরকারি অর্থায়নের মূল লক্ষ্য কী? ১
খ. ব্যবসায়ের মূল্য চালিকাশক্তি কী? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. মিসেস রোদষীর প্রথম সিদ্ধান্তটি কোন ধরনের? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. মিসেস রোদষীর কোম্পানির জন্য দ্বিতীয় সিদ্ধান্তটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৩নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. সরকারি অর্থায়নের মূল্য লক্ষ্য হলো দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ করা।
খ. অর্থায়নকে ব্যবসায়ের মূল চালিকাশক্তি বলা হয়।
সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহ করা বা তহবিল সংগ্রহ করাকেই সাধারণভাবে অর্থায়ন বলা হয়ে থাকে। অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা একজন ব্যবসায়ীকে স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে অধিক মুনাফা অর্জনে সহায়তা করে। অর্থ ছাড়া ব্যবসায় যেমন শুরু করা যায় না, তেমনি ব্যবসায় পরিচালনাও অকার্যকর হয়ে পড়ে।
গ. মিসেস রোদষীর প্রথম সিদ্ধান্তটি হলো আর্থিক ব্যবস্থাপকের আয় সিদ্ধান্ত বা অর্থায়ন সিদ্ধান্ত।
আয় সিদ্ধান্ত বলতে মূলত তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে বোঝায়। সাধারণত ব্যবসায়ের তহবিল সংগ্রহে মালিকপক্ষের নিজস্ব পুঁজি ও বিভিন্ন উৎস হতে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায়ের তহবিল সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া বড় কোম্পানিগুলো শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। উদ্দীপকের মিসেস রোদষী পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপক। তিনি আর্থিক ব্যবস্থাপক হিসেবে অর্থায়নের উৎসসমূহ চি‎িহ্নত করেন। এজন্য তিনি সর্বপ্রথম কোম্পানির তহবিল সংগ্রহের জন্য শেয়ার বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেন। এরপর তিনি কারখানা সচল রাখার জন্য সংগৃহীত অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করবেন তা পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যয় করেন। যাতে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠান তারল্য সংকটে না পড়ে।
সুতরাং, মিসেস রোদষী প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
ঘ. মিসেস রোদষীর কোম্পানির জন্য দ্বিতীয় সিদ্ধান্তটি হলো ব্যয় সিদ্ধান্ত বা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত।
বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য মুনাফা অর্জন করা। কোন খাতে বিনিয়োগ করলে কম ঝুঁকিতে অধিক লাভ করা যাবে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাকে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত বলে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রত্যাশিত আগমন নির্গমনের পরিকল্পনা করতে হয়। উদ্দীপকের মিসেস রোদষী পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপক হিসেবে প্রথমে তিনি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রয় করে মূলধন সংগ্রহ করেন। অর্থাৎ তিনি উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে অর্থায়নের ব্যবস্থা করেন। এক্ষেত্রে তিনি কোম্পানির পণ্য উৎপাদনে সহায়তার জন্য একটি কম্পিউটার ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন। আর এ ধরনের ক্রয় সিদ্ধান্ত একটি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য উৎপাদনমুখী মেশিন কম্পিউটার ক্রয়, কারখানা নির্মাণের খরচও এই জাতীয় সিদ্ধান্ত।
পণ্য উৎপাদন করতে না পারলে ক্রেতাদেরকে সরবরাহ করা যায় না। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এজন্য মিসেস রোদষী আর্থিক ব্যবস্থাপক হিসেবে তার পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কারখানায় উৎপাদনের চাকা সচল রাখার জন্য কম্পিউটার ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এর মাধ্যমে তিনি দ্রæততার সাথে উৎপাদন কার্য সম্পাদন করতে পারবেন। কম্পিউটার দিয়ে কাজ করানোর জন্য অন্যান্য বিষয় কাঁচামাল, শ্রমিকের মজুরি, জ্বালানিসহ সকল প্রকার আনুষ্ঠানিক কাজ সম্পাদন করতে হয়। এছাড়া তিনি কম্পিউটার ক্রয়ে বিনিয়োগ সিদ্ধান্তটির জন্য যত বছর কম্পিউটারটি ব্যবহার করা হবে তত বছরের পণ্য বিক্রয় থেকে যে অর্থের আগমন হবে তার সাথে কম্পিউটারের ক্রয়মূল্যের তুলনা করেন। সুতরাং বলা যায়, ভবিষ্যতের পণ্য বিক্রয়ের পরিমাণ ও পণ্যের মূল্য নির্ধারণ একটি দুরূহ কাজ বলে বিনিয়োগ সিদ্ধান্তটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

প্রশ্ন -৪ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সেন্ট্রাল মডেল স্কুলের নবী স্যার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি পরিবারের বিভিন্ন ব্যয়ের চার্ট তৈরি করতে দিলেন। মেহেদি নামের এক শিক্ষার্থী বাজার খরচ, ঘর ভাড়া ও শিক্ষা খরচের কথা উল্লেখ করে। এবং জুলিয়া নামের অন্য এক শিক্ষার্থী আসবাবপত্র, টি.ভি, ও ফ্রিজ ক্রয় বাবদ ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে। [দলীয় কাজ, বোর্ড বই. পৃষ্ঠা-২]
ক. ব্যবসায়িক ঝুঁকি কখন বৃদ্ধি পায়? ১
খ. ব্যাংক প্রতিষ্ঠানসমূহের অর্থায়ন কিরূপ? ২
গ. মেহেদির উল্লিখিত ব্যয়সমূহের প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. জুলিয়ার উল্লিখিত ব্যয়সমূহ মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের উৎসসমূহ আলোচনা কর। ৪
 ৪নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. অধিক মুনাফার প্রত্যাশায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করলে ব্যবসায়িক ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
খ. ব্যাংকের অর্থায়ন প্রক্রিয়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে একটু ভিন্ন প্রকৃতির। ব্যাংক মানুষের ক্ষুদ্র তহবিলকে সংগ্রহ করে বিভিন্ন মেয়াদি আমানত সৃষ্টি করে এবং আমানতকারীকে নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করে। আবার এই তহবিল হতে ব্যাংক বিভিন্ন কারবারে নির্দিষ্ট হারে সুদের বিনিময়ে ঋণ প্রদান করে। এই দুধরনের সুদের হারের পার্থক্যই ব্যাংকের মুনাফা।
গ. মেহেদির উল্লিখিত ব্যয়সমূহ হলো পরিবারের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যয়।
একটি পরিবারের যে সকল ব্যয় সংগঠিত হয় তাকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি যথা : নিত্যনৈমিত্তিক ব্যয় ও বড় অংকের ব্যয় বা স্থায়ী সম্পদ ক্রয়ে ব্যয়। নিত্যনৈমিত্তিক ব্যয়গুলো সাধারণত নিয়মিতভাবে করা হয়। এরূপ ব্যয় করা ব্যতীত পরিবার সঠিকভাবে চলতে পারে না। উদ্দীপকে মেহেদি পরিবারের ব্যয়ের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে বাজার খরচ, ঘর ভাড়া ও শিক্ষা খরচের কথা উল্লেখ করেছে। সাধারণত একটি পরিবারের আয় অনুযায়ী এই ব্যয়গুলোর পরিমাণ নির্ধারিত হয়। পরিবারের আয় কম হলে এসব ব্যয়ের পরিমাণও কম হয়। আর যদি পারিবারিক আয় বেশি হয় তবে এই ব্যয়ের পরিমাণও বেশি হয়ে থাকে।
সুতরাং, মেহেদির উল্লিখিত ব্যয়সমূহ পরিবারের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যয় যা পরিবারের আয়ের উপর নির্ভর করে এবং যা একটি পরিবারকে সচল রাখতে সহায়তা করে।
ঘ. জুলিয়ার উল্লিখিত ব্যয়সমূহ হলো একটি পরিবারের বড় অংকের ব্যয় বা স্থায়ী সম্পদ ক্রয়ের ব্যয়।
পরিবারের অসংখ্য ব্যয়ের মধ্যে এটি একটি অন্যতম ব্যয়। একটি পরিবারের ব্যয়সমূহ সাধারণত পরিবারের আয়ের উপর নির্ভর করে। কিন্তু অনেক সময় পরিবারের ব্যয় মেটাতে বিশেষ করে বড় অংকের ব্যয়ের ক্ষেত্রে পরিবারের আয় যথেষ্ট হয় না। তখন পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর জন্য বিভিন্ন উৎস হতে অর্থ সংগ্রহ করতে হয়। উদ্দীপকে জুলিয়া পারিবারিক ব্যয় হিসেবে আসবাবপত্র, টি.ভি ও ফ্রিজ ক্রয়ের করা উল্লেখ করেছে।
এ সকল স্থায়ী সম্পত্তি ক্রয় করার জন্য প্রয়োজন অধিক অর্থ যা অনেক সময় পারিবারের নিয়মিত আয় থেকে নেওয়া সম্ভব হয় না। তখন পরিবারের সঞ্চিত অর্থ আত্মীয়স্বজন, পরিচিত ব্যক্তি, বন্ধু-বান্ধব থেকে ঋণ নিয়ে এরূপ ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তাছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ পরিবারের এই বড় অংকের ব্যয়ের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে ঋণ দিয়ে থাকে।
জুলিয়ার উল্লিখিত ব্যয়সমূহ বড় অংকের এবং এসব ব্যয় নির্বাহে সাধারণত পরিবারের আয় বহিভর্‚ত কোনো উৎস ব্যবহার করা হয়।
প্রশ্ন -৫ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সালমান মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং তার বাবা ওয়ান ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা। একদিন সে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখে ‘বাঁধন’ কর্তৃক পরিচালিত সেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি চলছে। [দলীয় কাজ, বোর্ড বই. পৃষ্ঠা-৬]
ক. অউই এর পূর্ণরূপটি লিখ। ১
খ. উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন বিষয়ক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন কেন? ২
গ. সালমানের অধ্যয়নরত প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন প্রক্রিয়া কোন ধরনের অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অপর দুটি প্রতিষ্ঠানের তুলনামূলক আলোচনা কর। ৪
 ৫নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. অউই এর পূর্ণরূপটি হলো অংরধহ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ইধহশ.
খ. বাংলাদেশের বেশির ভাগ ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা স্বল্পশিক্ষিত বলে তারা একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় আর্থিক সংকটে পড়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জ্ঞান থাকলে সহজেই পরিকল্পনামাফিক তারা অর্থসংস্থান করে তার সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে পর্যাপ্ত মুনাফা অর্জন করতে পারে।
গ. সালমান যে বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে তার অর্থায়ন প্রক্রিয়া সরকারি অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত।
একটি দেশে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান থাকে। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান অন্যতম। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মত অর্থায়ন প্রয়োজন হয়। আর এই অর্থায়ন সরকারি অর্থায়ন নামে পরিচিত।
সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অনেক খাতসমূহে অর্থ ব্যয় করে থাকে, যেমন : রাস্তাঘাট, সেতু, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি হাসপাতাল, আইন-শৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষা, সামাজিক অবকাঠামো ইত্যাদি। আর এই সকল খাতে অর্থায়নের মূল লক্ষ্য সমাজকল্যাণ। একটি দেশের সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং দেশের জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করে। আর এর অন্যতম হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ। সরকারিভাবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয় যাতে করে দেশের জনগণ অল্প অর্থ ব্যয় করে শিক্ষা পেতে পারে। সালমানের বিদ্যালয়টি যেহেতু একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান সেহেতু এর লক্ষ্য হলো সেবাদান। আর এই প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন করে থাকে সরকার যার প্রধান লক্ষ্য হলো সেবা দেওয়া।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত অপর প্রতিষ্ঠান দুটি হলো ‘ওয়ান ব্যাংক’ এবং ‘বাঁধন’।
এখানে ‘ওয়ান ব্যাংক’ একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং ‘বাঁধন’ হলো অব্যবাসয়ী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান দুইটির উদ্দেশ্য এবং কার্যকলাপ সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। ব্যাংক হলো একটি মুনাফা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান যা আমানত গ্রহণ করে এবং ঋণদান করে। অন্যদিকে ‘বাঁধন’ হলো একটি অমুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান যা জনগণকে বিভিন্ন প্রকার সেবা প্রদান করে থাকে। ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা। অন্যদিকে বাঁধন এর মূল উদ্দেশ্য সেবাদান করা। ব্যাংক বিভিন্ন আর্থিক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে আর ‘বাঁধন’ এর মত অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানসমূহ বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে থাকে। এদের উদ্দেশ্য ও কার্যকলাপের ভিন্নতার কারণে এদের অর্থায়ন প্রকৃতিও ভিন্ন। ওয়ান ব্যাংক আমানত হিসেবে জনগণের নিকট থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সঞ্চয় ও তহবিল সৃষ্টি করে সঞ্চয়ের উপর সুদ প্রদান করে এবং এই সঞ্চয় ও তহবিল বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করে নির্দিষ্ট হারে সুদ আদায় করে। আর অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অনুদানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে এবং এই অর্থ নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করে মানব কল্যাণের জন্য।
প্রশ্ন -৬ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জামাল তার গ্রামের বাড়িতে নিজস্ব তহবিল, আত্মীয়-স্বজন ও ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে একটি লাইব্রেরি স্থাপন করেন। কিন্তু তিনি তার লাইব্রেরিতে সঠিক মানের বই ও স্টেনশনারি সরবারাহ করতে না পারায় ক্ষতির সম্মুখীন হন। তখন তার বড় ভাই নাহিদ সাহেব বলেন অর্থায়ন সিদ্ধান্তের চেয়ে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
[মুক্ত আলোচনা, বোর্ড বই. পৃষ্ঠা-১০]
ক. অর্থায়ন কী? ১
খ. অর্থায়নকে ব্যবসায়ের মূল চালিকাশক্তি বলা হয় কেন? ২
গ. লাইব্রেরি স্থাপনের ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যবস্থাপক হিসেবে জামালের সম্পাদিত কার্যাবলি ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. নাহিদ সাহেবের উক্তির সাথে তুমি কি একমত? তোমার মতামতের পক্ষে যুক্তি দাও। ৪
ল্ফল্প ৬নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. কোনো প্রতিষ্ঠানের তহবিল সংগ্রহ ও এর ব্যবহার সংক্রান্ত কার্যকলাপকে অর্থায়ন বলে।
খ. অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ নির্ণয় করে এই অর্থ সংগ্রহের উৎস নির্ধারণ করে থাকে এবং ব্যবসায়ে স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে অধিক মুনাফা অর্জনে সহায়তা করে থাকে। অর্থ ব্যতীত যেমন কোনো ব্যবসায় স্থাপন করা যায় না অনুরূপভাবে অর্থায়ন ব্যতীত কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সফলভাবে পরিচালনা করা যায় না। তাই অর্থায়নকে ব্যবসায়ের মূল চালিকাশক্তি বলা হয়।
গ. লাইব্রেরি স্থাপনের ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যবস্থাপক হিসেবে জামাল অর্থায়ন সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করেছে।
আয় সিদ্ধান্ত বলতে মূলত তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে বোঝায়। অর্থায়ন সিদ্ধান্তের আওতায় তহবিল সংগ্রহের ভিন্ন উৎস নির্বাচন এবং এসব উৎসের সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ করে অর্থায়ন সংক্রান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সাধারণত চলতি ব্যয় নির্বাহের জন্য স্বল্পমেয়াদি উৎস এবং স্থায়ী ব্যয় নির্বাহের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। ছোট আকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মালিকের নিজস্ব পুঁজি ও বিভিন্ন উৎস হতে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায় তহবিল সংগ্রহ করা হয়। উদ্দীপকে জামাল তার নিজস্ব পুঁজি এবং আত্মীয়-স্বজনের ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে লাইব্রেরি স্থাপন করেছেন। এভাবে বিভিন্ন উৎস হতে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করা ব্যবসায়ের অর্থায়ন সিদ্ধান্তের অন্তর্গত। আর ব্যবসায়ের জন্য অর্থায়ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আর্থিক ব্যবস্থাপকের একটি অন্যতম কার্যাবলি।
সুতরাং, জামাল তার ব্যবসায়টি স্থাপনের জন্য অর্থায়ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আর্থিক ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঘ. নাহিদ সাহেবের উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণভাবে একমত।
একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করার জন্য আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। আর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবসায়ের জন্য দুটি সিদ্ধান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দুটি হলো আয় সিদ্ধান্ত বা অর্থায়ন সিদ্ধান্ত এবং ব্যয় সিদ্ধান্ত বা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত। আয় সিদ্ধান্ত হলো তহবিল সংগ্রহ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত। ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় অর্থ কোন কোন উৎস থেকে সংগ্রহ করা যাবে, কোন উৎস থেকে সংগ্রহ করলে ব্যসায়ের ব্যয় কম হবে এবং ব্যবসায়ের জন্য তা কতটা সহজলভ্য ও সুবিধাজনক হবে তা নির্ধারণ করাই হলো আয় সিদ্ধান্ত। এরূপ সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয় এবং ব্যবসায়ের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অন্যদিকে ব্যয় সিদ্ধান্ত বা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত হলো ব্যবসায়ের সংগৃহীত অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় করলে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা সর্বাধিক হবে এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত। আর এই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে একটি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা অর্জন ক্ষমতা। যেহেতু প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো মুনাফা অর্জন করা তাই ব্যয় সিদ্ধের ওপর প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য নির্ভর করে। আয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্যবসায়ের জন্য যে অর্থ সংগ্রহ করা হয় যদি এই অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগানো না যায় তবে এই অর্থ ব্যবসায়ের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সঠিক ব্যয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠান স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারে। তাই আমি মনে করি অর্থায়ন সিদ্ধান্তের চেয়ে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন-৭  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মিরাজ অর্থায়ন বিষয়ক মাস্টার্সে পড়ার পাশাপাশি তার কলেজের পাশে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে বইয়ের ব্যবসায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু তার নিজস্ব সঞ্চয় ব্যবসায় শুরু করার জন্য খুবই অপ্রতুল। তাই তিনি অর্থায়নের ব্যাপারে পরামর্শ নিতে তার বড় চাচার নিকট যান। বড় চাচা রূপালী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি মিরাজকে রূপালী ব্যাংক থেকে ৫ বছরের জন্য ৫০,০০০ টাকা ঋণ নিয়ে দিলেন। মিরাজ উক্ত টাকা নিজস্ব সঞ্চয়ের সাথে যোগ করে মূলধন গঠন করে ব্যবসায় শুরু করলেন।
ক. অর্থায়ন কী নিয়ে কাজ করে? ১
খ. একমালিকানা কারবার বলতে কী বোঝায়? ২
গ. মিরাজের অর্থায়ন প্রক্রিয়াটি কোন ধরনের অর্থায়ন? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. মিরাজ তার ব্যবসায়ে অর্থায়নের জন্য আর কোনো উৎসের সাহায্য গ্রহণ করতে পারে বলে তুমি মনে কর? ৪
 ৭নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. অর্থায়ন তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে।
খ. একক মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ছোট আকারের ব্যবসায় সংগঠনকে একমালিকানা কারবার বলা হয়। এ ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে তহবিল সংগ্রহের উৎস হলো মালিক নিজস্ব তহবিল, মুনাফা, আত্মীয়-স্বজন থেকে গৃহীত ঋণ, ব্যাংক অথবা গ্রামীণ মহাজন থেকে সুদের ভিত্তিতে গৃহীত ঋণ কারবারে লাভ হলে মালিক একা ভোগ করে এবং লোকসান হলে মালিক একা বহন করে। এ ধরনের কারবারের যাবতীয় দায়দেনার জন্য মালিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি দায়বদ্ধ থাকে।
গ. মিরাজের অর্থায়ন প্রক্রিয়াটি হলো ব্যবসায় অর্থায়ন।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে লাভ-ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে গঠিত সংগঠনকে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বলা হয়। আর ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ ও বিনিয়োগের জন্য যে অর্থায়ন প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয় তাকে ব্যবসায় অর্থায়ন বলে। উদ্দীপকের মিরাজ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে লাভ-ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে নিজস্ব মূলধন ও ব্যাংক ঋণ দ্বারা মূলধন গঠন করে একটি একমালিকানা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন করেছেন। তাই উক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য তহবিল সংগ্রহ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি যে অর্থায়ন প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করেছেন তা ব্যবসায় অর্থায়ন প্রক্রিয়া।
ঘ. মিরাজ আত্মীয়স্বজন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সুদের ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তার ব্যবসায়ে অর্থায়ন করতে পারেন।
উদ্দীপকে মিরাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায় সংগঠনটি একটি একমালিকানা ব্যবসায় সংগঠন। তিনি তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল গঠনে নিজস্ব সঞ্চয় ও ব্যাংক ঋণ ব্যবহার করেছেন। এ ধরনের ব্যবসায় সংগঠনে প্রয়োজনীয় তহবিল সাধারণত মালিক নিজেই সরবরাহ করে থাকে। তবে বিভিন্ন উৎস হতে এই তহবিল সংগ্রহ করা যেতে পারে। মিরাজ তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য কোনো আত্মীয়, পরিচিত ব্যক্তি বা বন্ধুর থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায়ের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেমন ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ গৃহ নির্মাণ অর্থায়ন সংস্থা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদে ঋণ প্রদান করে থাকে। তাই মিরাজ তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের চাহিদা পূরণে এ ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাহায্য নিতে পারেন।
সুতরাং বলা যায়, মিরাজ তার ব্যবসায়ের তহবিল সংগ্রহ ও বিনিয়োগের জন্য বিভিন্ন শ্রেণির অর্থায়ন প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে পারেন।
প্রশ্ন-৮  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জনাব তৌহিদ একজন সরকারি কর্মচারি। পরিবারের আয় বৃদ্ধি করার জন্য তিনি চাকরির পাশাপাশি ব্যবসায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু ব্যবসায় শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন তার নেই। তাই অর্থায়নের বিভিন্ন উৎস সম্পর্কে ধারণা নিতে তিনি বেশ কিছু অর্থায়ন বিষয়ক বই পড়েন। বই পড়ার পর তার মনে হলো তিনি ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসায় শুরু করতে পারেন। কিন্তু ব্যাংক ঋণের জন্য আবেদন করলে ব্যাংক তাকে উপযুক্ত জামানত ছাড়া ঋণ প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়।
ক. আয় সিদ্ধান্ত বলতে কোন প্রক্রিয়াকে বোঝায়? ১
খ. ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কীভাবে অর্থের আগমন ও নির্গমন প্রবাহ সৃষ্টি হয়? ২
গ. অর্থায়ন বিষয়ক জ্ঞান জনাব তৌহিদকে কোন কোন ক্ষেত্রে সাহায্য করবে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ‘ব্যাংক জামানতের অভাবে জনাব তৌহিদ ঋণ প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়’-উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৮নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. আয় সিদ্ধান্ত বলতে মূলত তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
খ. ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন। এই উদ্দেশ্য অর্জনে সকল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তার বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সবচেয়ে কাক্সিক্ষত উৎস থেকে সংগ্রহ করে এবং পণ্য বাজারের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সর্বোত্তম প্রকল্পে তহবিল বিনিয়োগ করে। ফলে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অর্থের আগমন ও নির্গমনের প্রবাহ সৃষ্টি হয়।
গ. অর্থায়ন বিষয়ক জ্ঞান ব্যবসায় সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনাব তৌহিদকে সাহায্য করবে।
অর্থ হলো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি। যে কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের গঠন থেকে শুরু করে বিলুপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে অর্থের প্রয়োজন। উদ্দীপকে জনাব তৌহিদ চাকরির পাশাপাশি ব্যবসায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই অর্থায়ন বিষয়ক জ্ঞান প্রয়োগ করে তিনি তার ব্যবসায়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনার কাজ সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারবেন। ফলে ব্যবসায়ের সামগ্রিক পরিকল্পনা সুচারুরূপে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য তাকে বিভিন্ন স্থায়ী সম্পত্তি ক্রয় করতে হবে। এসব স্থায়ী সম্পত্তি সুলভ মূল্যে ক্রয়ের ক্ষেত্রেও অর্থায়ন বিষয়ক জ্ঞান তাকে সাহায্য করবে। তাছাড়া ব্যবসায় চালু করার পর তা স¤প্রসারণের ক্ষেত্রে তিনি অর্থায়ন বিষয়ক জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারবেন।
ঘ. ব্যাংক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও স¤প্রসারণ কার্যে ব্যবসায়ীদের সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন মেয়াদে ঋণ প্রদান করে থাকে। তবে যে কেউ ঋণের জন্য ব্যাংকে আবেদন করলেই ব্যাংক তাকে ঋণ মঞ্জুর করে না। ব্যাংক ঋণ প্রদানের পূর্বে আবেদনকারী সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে। উক্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যাংক যদি ঋণের অর্থ ফেরত পাবার নিশ্চয়তা পায় তবেই ব্যাংক আবেদনকারীকে ঋণ সরবরাহ করে।
উদ্দীপকে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য জনাব তৌহিদের মধ্যমেয়াদি ঋণের প্রয়োজন। আর মধ্য মেয়াদি ঋণ ব্যাংক উপযুক্ত জামানতের বিপরীতে মঞ্জুর করে থাকে। কোনো কারণে ঋণ গ্রহীতা যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয় তাহলে ব্যাংক জামানতকৃত সম্পত্তি বিক্রি করে ঋণের টাকা আদায় করে নেয়। তাই জনাব তৌহিদকে মধ্যমেয়াদি ঋণ গ্রহণের জন্য উপযুক্ত জামানত জমা রাখতে বলা হয়। কিন্তু তার পক্ষে উপযুক্ত জামানত রাখা সম্ভব ছিল না।
সুতরাং বলা যায়, ব্যাংক জামানতের অভাবে ঋণ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ মনে করায় জনাব তৌহিদকে ঋণ প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
প্রশ্ন-৯  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জনাব ফরিদ একজন উচ্চপদস্থ ব্যাংক কর্মকর্তা। তিনি তার মাসিক উপার্জন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে তার এলাকায় একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর চালু করেছেন। দীর্ঘদিন ব্যাংকিং কার্যাবলিতে নিযুক্ত থাকায় নগদ অর্থ এবং মুনাফার মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কটি তিনি বেশ ভালো বোঝেন। এছাড়া ব্যবসায় পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি চলতি মূলধনের ওপর অধিক জোর দেন এবং অর্থায়নের সকল নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করেন বলে প্রতিবছর তিনি বেশ ভালো পরিমাণ মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হন।
ক. চচচ কী? ১
খ. কীভাবে মুনাফার পরিমাণ সর্বোচ্চকরণ করা যায়? ২
গ. জনাব ফরিদের নগদ অর্থ এবং মুনাফার মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক অর্থায়নের কোন নীতির অন্তর্গত? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. জনাব ফরিদের জন্য ব্যবসায়ের চলতি ব্যয় নির্বাহে চলতি মূলধন অধিক উপযুক্ত-বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৯নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. চচচ হলো চঁনষরপ চৎরাধঃব চধৎঃহবৎংযরঢ়.
খ. ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত তহবিলের সাথে মূলধন ব্যয় জড়িত থাকে, যা ব্যবসায়ের অর্জিত মুনাফা হতে পরিশোধ করা হয়। তাই যদি ন্যূনতম ব্যয়ে তহবিল সংগ্রহ করা সম্ভব হয় সেক্ষেত্রে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মুনাফার পরিমাণ সর্বোচ্চকরণ করা যায়।
গ. জনাব ফরিদের নগদ অর্থ এবং মুনাফার মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক অর্থায়নের তারল্য বনাম মুনাফানীতির অন্তর্গত।
উদ্দীপকের জনাব ফরিদ ইচ্ছে করলে তাদের প্রতিদিনের বিক্রয়লব্ধ অর্থ সম্পূর্ণটাই কাঁচামাল ক্রয় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের কথা চিন্তা করে নিজের কাছে রেখে দিতে পারেন অথবা সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থের কিছুটা কাঁচামাল ক্রয় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ নির্বাহের জন্য রেখে বাকিটা কোনো ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখতে পারেন, যা থেকে পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট হারে মুনাফা পাওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে নগদ অর্থ কী পরিমাণে নিজের কাছে রাখলে তা দ্বারা দৈনন্দিন প্রয়োজন সুষ্ঠুভাবে মিটানো সম্ভব। তিনি যদি নগদ অর্থ বেশি পরিমাণে নিজের কাছে রেখে দেন তাহলে ব্যাংক হতে প্রাপ্য মুনাফার পরিমাণ কমে যাবে। আবার তিনি যদি ব্যাংকে বেশি পরিমাণ অর্থ জমা রাখেন তাহলে ব্যবসায়ের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের ঘাটতি ব্যবসায়ের সুষ্ঠু পরিচালনাকে ব্যাহত করবে। তাই তাকে তারল্য ও বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে আর্থিক ব্যবস্থাপনা করতে হবে।
ঘ. জনাব ফরিদের জন্য ব্যবসায়ের চলতি ব্যয় নির্বাহের জন্য চলতি মূলধন ব্যবহার করাই অধিক যুক্তিযুক্ত।
স্বল্পমেয়াদি তহবিল দিয়ে চলতি মূলধন ও দীর্ঘমেয়াদি তহবিল দিয়ে স্থায়ী মূলধন সরবরাহ করা অর্থায়নের একটি নীতি। একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে চালিয়ে রাখার জন্য যে নিত্যনৈমিত্তিক অর্থের প্রয়োজন পড়ে, সেটিই চলতি মূলধন। যেমন : কাঁচামাল ক্রয়, শ্রমিকের মজুরি প্রদান ইত্যাদি। উদ্দীপকের জনাব ফরিদ নিজের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য চলতি মূলধনের উপর অধিক জোর দিয়েছেন। কারণ চলতি মূলধনের পরিমাণ কম হয় বলে এর প্রাপ্যও কম হয়, ফলে এটি স্বল্পমেয়াদি উৎস থেকে সংগ্রহ করা যায়। তিনি তার ব্যবসায়ের বিক্রয়লব্ধ অর্থ দিয়ে চলতি মূলধন ব্যবস্থাপনা করে থাকেন।
বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিভিন্ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগ ব্যাংক, ডিবেঞ্চার হোল্ডার ইত্যাদি উৎসগুলো দীর্ঘমেয়াদি ঋণ গ্রহণ করে থাকে। দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিক হারে সুদ প্রদান করতে হয়। ব্যবসায়ের চলতি ব্যয় নির্বাহের জন্য যদি দীর্ঘমেয়াদি উৎস হতে অর্থ সংগ্রহ করা হয়, তবে উপার্জিত আয় হতে ঋণের সুদ পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে যায়। সুতরাং বলা যায়, জনাব ফরিদ তার নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে অর্থায়নের নীতি অনুসরণের মাধ্যমে, ব্যবসায়ের প্রাণ চলতি মূলধনসমূহকে সঠিক পর্যায়ে রাখেন। তাই তার ব্যবসায়ের জন্য চলতি মূলধনই যুক্তিযুক্ত।
প্রশ্ন-১০  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আশরাফুল ইসলাম চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি তার সঞ্চয় দিয়ে একটি এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন। উক্ত এতিমখানায় এতিম শিশুদের বিনামূল্যে খাওয়া এবং পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে দিন দিন এতিম শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হন। তাই তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে বিভিন্ন উৎস হতে সাহায্য গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ক. কোন দশকে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর মধ্যে একত্রীকরণ প্রবণতা শুরু হয়? ১
খ. তহবিলের উৎস বলতে কী বোঝ? ২
গ. আশরাফুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত এতিমখানাটি কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান? বর্ণনা কর। ৩
ঘ. আশরাফুল ইসলাম তার প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে অর্থায়নের কোন কোন উৎস হতে সাহায্য গ্রহণ করতে পারেন বলে তুমি মনে কর? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। ৪
 ১০নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. ১৯৩০-এর পূর্ববর্তী দশকে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর মধ্যে একত্রীকরণ প্রবণতা শুরু হয়।
খ. যে সকল উৎস হতে ব্যবসায় স্থাপন, পরিচালনা ও স¤প্রসারণের জন্য মূলধন বা তহবিল প্রয়োজন। যে সকল উৎস থেকে এ মূলধন বা তহবিলের যোগান আসে সেগুলোকে তহবিলের উৎস বলা হয়। যেমন : মালিকের মূলধন, ব্যবসায়ের অবণ্টিত মুনাফা, ব্যাংক ঋণ, ক্রেতা হতে অগ্রিম গ্রহণ, গ্রাম্য মহাজন, মূলধন বাজারের প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।
গ. আশরাফুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত এতিমাখানাটি একটি অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।
অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের সেবায় নিয়োজিত। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য অর্থ বা অর্থের সমতুল্য পণ্য বা সেবার প্রয়োজন এবং সেই অর্থের দক্ষ ব্যবস্থাপনাও প্রয়োজন। এক্ষেত্রে অর্থায়নের ভ‚মিকা হলো অর্থ ও অর্থের সমতুল্য সম্পদ সংগ্রহের উৎস চিহ্নিতকরণ এবং তার সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সেবামূলক উদ্দেশ্যকে সফল করা। উদ্দীপকের আশরাফুল ইসলাম সমাজসেবামূলক কাজ করার জন্য চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর এতিমখানা প্রতিষ্ঠান করেন। তার এই এতিমখানায় শিশুদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে তিনি আর্থিক সংকটে পড়েন। পরবর্তীতে এতিমখানায় বিভিন্ন অনুদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করে তিনি এতিমদের বিভিন্ন উন্নয়নে ব্যয় করে থাকেন।
সুতরাং, এতিমখানার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের উৎস চিহ্নিতকরণ এবং প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনে এর যথাযোগ্য ব্যবহার নিশ্চিত করাই তার এই এতিমখানার অর্থায়নের মূল উদ্দেশ্য।
ঘ. আশরাফুল ইসলাম তার এতিমখানার অর্থায়নে বিভিন্ন বিত্তবান ব্যক্তি এবং দেশি-বিদেশি আর্থিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সাহায্য গ্রহণ করতে পারেন।
সমাজে এমন কিছু প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা থাকে যা মানবকল্যাণে দরিদ্র বঞ্চিত মানুষের সেবায় নিয়োজিত। এসব প্রতিষ্ঠানকে অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বলা হয় যায় মূল লক্ষ্য মুনাফা অর্জন নয় বরং মানবকল্যাণ। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য অনুদান বা চাঁদা সংগ্রহের মাধ্যমে তহবিল গঠন করা হয়। উদ্দীপকের আশরাফুল ইসলাম তার সঞ্চয় দিয়ে অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে একটি এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এরূপ প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে উদ্যোক্তার সরবরাহকৃত তহবিল মুখ্য তহবিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু দিন দিন এতিমখানায় শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তার সরবরাহকৃত তহবিল দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় তিনি অন্যান্য উৎস হতে তহবিল সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের তহবিল উৎস বেশ সংকীর্ণ। তিনি চাইলেই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংক ঋণ বা অন্য কোনো ধরনের ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন না। তাই এতিমখানার অর্থায়নে তিনি তার নিজস্ব তহবিল ছাড়া বিভিন্ন অনুদানের ওপর নির্ভর করতে পারেন।
সুতরাং, এতিমখানাটি পরিচালনার জন্য আশরাফুল ইসলাম বিভিন্ন বিত্তবান ব্যক্তি, সরকারি তহবিল এবং বিদেশি আর্থিক সহায়তাদানকারী প্রতিষ্ঠান হতে অনুদান সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে পারেন।

 জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ কিসের মাধ্যমে অর্থের সদ্ব্যবহার করতে হয়?
উত্তর : সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থের সদ্ব্যবহার করতে হয়।
প্রশ্ন \ ২ \ কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থায়ন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর : ব্যবসায়ী এবং অব্যবসায়ী উভয় প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থায়ন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন \ ৩ \ সরকারি অর্থায়নে প্রথমে কিসের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়?
উত্তর : সরকারি অর্থায়নে প্রথমে ব্যয়ের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়।
প্রশ্ন \ ৪ \ অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের মূল লক্ষ্য কী?
উত্তর : অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিষ্ঠানের অর্থের উৎস চিহ্নিতকরণ এবং উদ্দেশ্য অর্জনে উক্ত অর্থের ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।
প্রশ্ন \ ৫ \ কোন ধরনের কারবার প্রতিষ্ঠায় সরকারের অনুমোদন নিতে হয়?
উত্তর : যৌথমূলধনী কারবার প্রতিষ্ঠায় সরকারের অনুমোদন নিতে হয়।
প্রশ্ন \ ৬ \ কারা নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট হারে সুদ পেয়ে থাকে?
উত্তর : ডিবেঞ্চার হোল্ডাররা নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট হারে সুদ পেয়ে থাকে।
প্রশ্ন \ ৭ \ আইসিবি-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর : আইসিবি-এর পূর্ণরূপ হলো ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ।
প্রশ্ন \ ৮ \ কোন জ্ঞান প্রয়োগ করে ব্যবসায়ী সবচেয়ে লাভজনক প্রকল্পটি বেছে নিতে পারে?
উত্তর : অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জ্ঞান প্রয়োগ করে ব্যবসায়ী সবচেয়ে লাভজনক প্রকল্পটি বেছে নিতে পারে।
প্রশ্ন \ ৯ \ কিসের মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়া উৎকর্ষতা লাভ করে?
উত্তর : বিশেষায়িত ও বিভাজিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়া উৎকর্ষতা লাভ করে।
প্রশ্ন \ ১০ \ অর্থায়নের সাধারণ বৈশিষ্ট্য কোনটি?
উত্তর : অর্থায়নের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো অর্থ সংগ্রহ ও অর্থ ব্যবস্থাপনা।
প্রশ্ন \ ১১ \ অর্থের সদ্ব্যবহার করতে হয় কিসের জন্য?
উত্তর : অর্থের সদ্ব্যবহার করতে হয় মুনাফা অর্জনের জন্য।
প্রশ্ন \ ১২ \ ঝুঁকি কী?
উত্তর : প্রত্যাশিত ফলাফল প্রাপ্তির যে অনিশ্চয়তা তাকে ঝুঁকি বলা হয়।
প্রশ্ন \ ১৩ \ ডিবেঞ্চার হোল্ডারদের কী প্রদান করা হয়?
উত্তর : ডিবেঞ্চার হোল্ডারদের সুদ প্রদান করা হয়।
প্রশ্ন \ ১৪ \ ব্যবসায় অর্থায়ন কী?
উত্তর : ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তার তহবিল সংগ্রহ ও বিনিয়োগের জন্য যে অর্থায়ন ব্যবহার করে তাকে ব্যবসায় অর্থায়ন বলে।
প্রশ্ন \ ১৫ \ শেয়ার কাকে বলে?
উত্তর : কোম্পানির মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশকে শেয়ার বলে।
প্রশ্ন \ ১৬ \ দোকানের আয়তন বৃদ্ধি কোন ধরনের খরচ?
উত্তর : দোকানের আয়তন বৃদ্ধি স্থায়ী খরচ।
প্রশ্ন \ ১৭ \ অর্থায়ন কিসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে?
উত্তর : অর্থায়ন অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রশ্ন \ ১৮ \ প্রাইজবন্ড কার অর্থায়নের উৎস?
উত্তর : প্রাইজবন্ড সরকারের অর্থায়নের উৎস।

 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ ব্যবসায়ীকে কেন অর্থের সদ্ব্যবহার করতে হয়?
উত্তর : সমাজ সভ্যতার ক্রমবিকাশ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে ব্যবসায় বাণিজ্যের কার্যপরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পণ্য বাজারে নানামুখী প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে মুনাফা অর্জন করতে ব্যবসায়ীকে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থের সদ্ব্যবহার করতে হয়।
প্রশ্ন \ ২ \ যৌথমূলধনী কোম্পানি কীভাবে তহবিল সংগ্রহ করে?
উত্তর : যৌথমূলধনী কোম্পানির অর্থায়ন প্রক্রিয়া একমালিকানা ও অংশীদারি কারবার হতে ভিন্ন ধরনের। একটি প্রতিষ্ঠান যৌথমূলধনী হতে হলে সরকারি অনুমোদন নিতে হয়। সরকার অনুমোদন দেয়ার আগে ন্যূনতম মূলধনের পরিমাণ, পরিচালকগণের পরিচয় পত্র, ব্যবসার উদ্দেশ্য ও নানাবিধ দলিলাদি বিচার-বিশ্লেষণ করে। অনুমোদন পেলে কোম্পানি তার বড় অঙ্কের কাক্সিক্ষত মূলধনকে ছোট ছোট অঙ্কে বিভক্ত করে শেয়ার হিসেবে বিক্রি করে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করে।
প্রশ্ন \ ৩ \ আর্থিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা ব্যবসায়ীদের কীভাবে সাহায্য করে?
উত্তর : আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট সুসংগঠিত না হওয়ায় এবং ব্যবসায়ীদের বন্ধক রাখার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ না থাকায় সময়মতো ব্যাংক ঋণ পাওয়া যায় না। তাই ব্যবসায়ীদের অর্থ সংকট হতে উদ্ভূত সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য খুবই পরিকল্পিতভাবে অর্থের সংস্থান করতে হয় এবং সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অর্থের লাভজনক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়। সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা ব্যবসায়ীদের এ ধরনের সমস্যা পূর্বানুমান করতে এবং মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন \ ৪ \ কারবারি অর্থায়নের উপযুক্ততার নীতি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : স্বল্পমেয়াদি তহবিল দিয়ে চলতি মূলধন ও দীর্ঘমেয়াদি তহবিল দিয়ে স্থায়ী মূলধন সরবরাহ করাই কারবারি অর্থায়নের উপযুক্ততার নীতি। একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য যে নিত্যনৈমিত্তিক অর্থের প্রয়োজন পড়ে, সেটাই চলতি মূলধন। চলতি মূলধনের পরিমাণ কম হয় বলে এর প্রাপ্যও কম হয়। তাই এটি স্বল্পমেয়াদি উৎস হতে সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু তা না করে যদি দীর্ঘমেয়াদি উৎস হতে চলতি মূলধন সংগ্রহ করা হয়, তাহলে উপার্জিত আয় হতে ঋণের সুদ পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে যায়।
প্রশ্ন \ ৫ \ বিজনেস ফাইন্যান্সকে অর্থায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরন বলা হয় কেন?
উত্তর : ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তহবিল সংগ্রহ ও বিনিয়োগের জন্য যে অর্থায়ন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সেটিই ব্যবসায় অর্থায়ন বা বিজনেস ফাইন্যান্স। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতিভেদে তহবিল সংগ্রহের উৎস এবং ব্যবহার পদ্ধতি ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই সুষ্ঠু অর্থায়ন পরিকল্পনা ও অর্থের লাভজনক ব্যবহার ছাড়া ব্যবসায়ে সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই বিজনেস ফাইন্যান্সকে অর্থায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরন বলা হয়।
প্রশ্ন \ ৬ \ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পনামাফিক অর্থায়ন করার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক মুক্তবাজার ব্যবস্থায় মুনাফা অর্জনের জন্য প্রতিটি সরকারি, বেসরকারি, আন্তর্জাতিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে পূর্ব পরিকল্পনামাফিক অর্থায়ন করতে হয়। সুচি‎িহ্নত ও সুদক্ষ অর্থায়ন ব্যবস্থাপনার ব্যবহারে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি হ্রাস পায় এবং মুনাফা বৃদ্ধি পায়। মূলত ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জনের জন্যেই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পনামাফিক অর্থায়ন করা হয়।
প্রশ্ন \ ৭ \ তারল্য বনাম মুনাফা নীতি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : নগদ অর্থ ও মুনাফার মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান। ব্যবসায়ে নগদ অর্থ বেশি রাখলে মুনাফা কমে যায়, আবার মুনাফা বৃদ্ধিকল্পে বেশি বিনিয়োগ করা হলে তারল্য ঘাটতি হয়। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের এই দুই পরিস্থিতির কোনটিই কাম্য নয়। তাই তারল্য ও মুনাফার মধ্যে উপযুক্ত ভারসাম্য বজায় রাখা অর্থায়নের একটি অন্যতম নীতি।
প্রশ্ন \ ৮ \ অর্থায়নকে ব্যবসায়ের মূল চালিকাশক্তি বলা হয় কেন?
উত্তর : বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে মুনাফা অর্জন করার জন্য একজন ব্যবসায়ী সবচেয়ে কাক্সিক্ষত উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করে সর্বোত্তম প্রকল্পে বিনিয়োগ করে। ফলে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অর্থের আগমন ও নির্গমন প্রবাহ সৃষ্টি হয়। অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা একজন ব্যবসায়ীকে স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে অধিক মুনাফা অর্জনে সহায়তা করে। এ কারণে অর্থায়নকে ব্যবসায়ের মূল চালিকাশক্তি বলা হয়।
প্রশ্ন \ ৯ \ স্টক এক্সচেঞ্জে কোন ধরনের কাজ সম্পাদিত হয়?
উত্তর : শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের সুসংগঠিত স্থান হচ্ছে স্টক এক্সচেঞ্জ। স্টক এক্সচেঞ্জে সাধারণত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার ও ঋণপত্র কেনাবেচা করা হয়। স্টক এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগকারীগণ নতুন ইস্যুকৃত শেয়ার ও পুরাতন শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে।
প্রশ্ন \ ১০ \ অর্থায়ন বিষয়ক জ্ঞান কীভাবে জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে?
উত্তর : অর্থায়ন বিষয়ক জ্ঞান ব্যবহার করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারী তার প্রকল্পের লাভজনকতা বিশ্লেষণ করে অধিক লাভজনক প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করতে পারে। বিনিয়োগকৃত প্রকল্পে লাভ হলে বিনিয়োগকারী আয়কর প্রদান করে, যা পরবর্তীতে জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
প্রশ্ন \ ১১ \ মুক্তবাজার ব্যবস্থাপনায় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্বের সাথে কীভাবে অর্থায়ন করতে হয়?
উত্তর : মুক্তবাজার ব্যবস্থাপনায় আমদানি-রপ্তানি প্রতিবন্ধকতা ব্যাপকভাবে হ্রাস হয়। বিশ্বের কোথায় কোন পণ্য প্রস্তুত করা ও বিক্রয় করা লাভজনক সেটা মুক্তবাজার ব্যবস্থাপনায় অর্থায়ন বিবেচনা করে। তেমনি বিশ্বের কোন মূলধন বাজার কী প্রকৃতির এবং কোথা থেকে তহবিল সংগ্রহ করা লাভজনক এটিও বিবেচনা করে। এ জন্য মুক্তবাজার ব্যবস্থাপনায় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে অর্থায়ন করতে হয়।
প্রশ্ন \ ১২ \ ব্যবসায় মূলধন সংকট কীভাবে দূর করা যায়?
উত্তর : দরিদ্র দেশগুলোতে আর্থিক সংকট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এই সংকটের জন্য কারবার প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা একটি দুরূহ কাজ। অর্থায়ন সংক্রান্ত ধারণা ব্যবসায়ীকে পরিকল্পনামাফিক যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণে অর্থ সংগ্রহ ও তার যথার্থ ব্যবহারে সহায়তা করে। তাই অর্থায়ন বিষয়ক জ্ঞান অর্জন ও প্রয়োগ করে ব্যবসায় মূলধন সংকট দূর করা যায়।
প্রশ্ন \ ১৩ \ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন কেন অধিক গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর : বাংলাদেশ একটি কৃষি নির্ভরশীল দেশ। কিন্তু প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাব থাকায় এ শিল্পে সঠিকভাবে উন্নয়ন ঘটছে না। ফলে কৃষক এবং কৃষিকাজের সাথে নিয়োজিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের কৃষি শিল্পের উন্নয়ন এবং ব্যবসায় বাণিজ্য স¤প্রসারণের জন্য অর্থায়ন আবশ্যক।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply