অষ্টম শ্রেণির ইসলাম আদর্শ জীবনচরিত

পঞ্চম অধ্যায়
আদর্শ জীবনচরিত

বিষয়-সংক্ষেপ

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য মানুষ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য হলো একমাত্র তাঁর ইবাদত করা, অর্থাৎ তাঁর বিধিনিষেধ মেনে চলা। এসব বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য অবশ্যই একটি অনুসরণীয় নীতিমালা প্রয়োজন। যাকে আমরা আদর্শ বলতে পারি। মহান আল্লাহর পক্ষ হতে আগত নবিগণের জীবনচরিতই আমাদের আদর্শ। এর মধ্যে হযরত মুহাম্মদ (স)-এর জীবনচরিত হলো সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। এছাড়া মহানবি (স)-এর সাহাবিগণ ও ওলিগণের চরিত্রও আমাদের জন্য আদর্শ।
পাঠ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি

হযরত সুলায়মান (আ) : হযরত সুলায়মান (আ) আল্লাহর প্রসিদ্ধ নবি ছিলেন। তিনি হযরত দাউদ (আ) এর কনিষ্ঠ পুত্র। তিনি আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৯৭০-৯৭৫ এর মধ্যে জন্মগ্রহণ করেন। যে চারজন বাদশাহ সমস্ত পৃথিবীর শাসক ছিলেন হযরত সুলায়মান (আ) তাদের একজন।
হযরত মুসা (আ) : হযরত মুসা (আ) আল্লাহর প্রসিদ্ধ নবি ছিলেন। তিনি মিশরে জন্মগ্রহণ করেন। তুর পাহাড়ের নিকটে ‘তুয়া’ নামক স্থানে তিনি নবুয়ত লাভ করেন। নবুয়ত লাভের পর তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে দীন প্রচারের জন্য আদিষ্ট হন এবং দীনের দাওয়াত দেন। হযরত মুসা (আ) এর উপর তাওরাত কিতাব অবতীর্ণ হয়।
হযরত ঈসা (আ) : মানুষের মুক্তির পয়গাম নিয়ে মহান আল্লাহর পক্ষ হতে যেসব নবি ও রাসুল আগমন করেছেন হযরত ঈসা (আ) তাদের অন্যতম। ফিলিস্তিনের ‘বাইত লাহম’ (বেথেলহাম) নামক গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার মাতার নাম মারিয়াম বিনতে হান্না বিনতে ফাখুজ। হযরত ঈসা (আ) আল্লাহর হুকুমে পিতা ছাড়াই জন্ম গ্রহণ করেন। তার জন্ম সাল হতেই খ্রিষ্টাব্দ গণনা করা হয়। পবিত্র কুরআনে তাকে ‘মাসিহ ইবনে মারিয়াম’ ‘কালিমাতুল্লাহ’ ও ‘রুহুল্লা’হ’ ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়েছে। তার ওপর আসমানি কিতাব ইঞ্জিল অবতীর্ণ হয়।
হযরত মুহাম্মদ (স) : হযরত মুহাম্মদ (স) ছিলেন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি। তিনি মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সকল গুণের অধিকারী ছিলেন। মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। হযরত মুহাম্মদ (স)-এর উপর পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়।
হযরত আয়িশা (রা) : উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়িশা (রা) ছিলেন মহানবি (স) সর্বকনিষ্ঠা সহধর্মিনী এবং ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর কন্যা। তিনি হিজরতের পূর্বে ৬১৩ মতান্তরে ৬১৪ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধীশক্তির অধিকারিণী।
হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) : হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রা) ৬১ হিজরি সনে উমাইয়া বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুল আজিজ। মাতা হলেন দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর পৌত্রী উম্মু আসিম লায়লা। তিনি একজন উমাইয়া খলিফা ছিলেন। তাকে ‘দ্বিতীয় উমর’ ও ইসলামের ‘পঞ্চম খলিফা’ বলা হয়।
হযরত রাবেয়া বসরি (র) : ইসলামের ইতিহাসে নারীদের মধ্যে যারা মহান; আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে হযরত রাবেয়া বসরি (র.) অন্যতম। এ মহান তাপসী রমণী ৯৯ হিজরি মোতাবেক ৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে ইরাকের বসরা নগরীতে
জন্মগ্রহণ করেন। তাই তাকে বসরি বলা হয়।

বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

১. কত হিজরিতে মক্কা বিজয় হয়?
ক তৃতীয় খ পঞ্চম
গ সপ্তম  অষ্টম
২. হযরত মুসা (আ) কত বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
ক ১১০  ১২০ গ ১৩০ খ ১৪০
৩. ‘ফাতহুম মুবিন’ বলতে বুঝায়
র. সুনির্দিষ্ট বিজয়
রর. সুস্পষ্ট বিজয়
ররর. হুদায়বিয়ার সন্ধি
কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর  রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৪ ও ৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও :
তায়েব নাবিলকে বলল, বিদায় হজের ভাষণের অনুসরণ করলে মানব জাতির মুক্তি নিশ্চিত হবে।
৪. তায়েবের বক্তব্যের মাধ্যমে কোন নবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে?
ক হযরত ঈসা (আ) খ হযরত মুসা (আ)
 হযরত মুহাম্মদ (স) ঘ হযরত দাউদ (আ)
৫. তায়েবের বক্তব্য অনুকরণের মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবেÑ
র. শান্তি রর. নেতৃত্ব ররর. ভ্রাতৃত্ব
কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর

৬. মদিনা সনদের ধারা কয়টি?
ক ২৭ খ ৩৭  ৪৭ ঘ ৫৭
৭. হযরত মুহাম্মদ (স) কোথায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
ক ইরাকে খ ইরানে গ সিরিয়ায়  মদিনায়
৮. এখন ২০১৫ সাল। এ সাল গণনা পদ্ধতির সাথে কোন নবি জড়িত?
ক হযরত মুসা (আ) খ হযরত হারুন (আ)
গ হযরত ইবরাহীম (আ)  হযরত ঈসা (আ)
৯. হযরত সুলায়মান (আ) এর পিতার নাম কী?
ক মুসা (আ)  দাউদ (আ) গ নূহ (আ) ঘ ঈসা (আ)
১০. উমাইয়া সাধু নামে পরিচিতÑ
ক হযরত আবু বকর (রা)
খ হযরত উমর (রা)
গ হযরত উসমান (রা)
 হযরত উমর ইবনে আবদুল আজিজ (র)
১১. হযরত রাবেয়া বসরি (র) এর নামে ‘রাবেয়া’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে কেন?
 পরিবারের চতুর্থ সন্তান ছিলেন বলে
খ পরিবারের পঞ্চম সন্তান ছিলেন বলে
গ পরিবারের ষষ্ঠ সন্তান ছিলেন বলে
ঘ পরিবারের সপ্তম সন্তান ছিলেন বলে
১২. হযরত ঈসা (আ) কে হত্যা করার জন্য কাকে পাঠানো হয়েছিল?
 তাইতালানুস খ তাইতালাজুন
গ তাইতালাসুন ঘ তাইতাহের
১৩. “রাখে আল্লাহ মারে কে” প্রবাদটি প্রতিফলিত হয়েছেÑ
 হযরত মুসা (আ) এর জীবনে
খ হযরত সুলায়মান (আ) এর জীবনে
গ হযরত আয়েশা (রা) এর জীবনে
ঘ হযরত উমর (রা) এর জীবনে
১৪. প্রাচীনকালে মিসরীয় বাদশাহদের কী বলা হতো?
ক প্রেসিডেন্ট খ রামসিস
গ সাইয়েদ  ফিরআউন
১৫. কিয়ামতের দিন হযরত ঈসা (আ) কোথা থেকে উঠবেন?
ক জান্নাতুল বাকি থেকে
খ বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে
 রাসুল (স) -এর রওজার পাশ থেকে
ঘ কাবাঘর থেকে
১৬. মহানবি (স) এর বিদায় হজ কত সালে হয়েছিল?
ক ৫৩২  ৬৩২ গ ৭৩২ ঘ ৮৩২
১৭. মহানবি (স) আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এ কাজের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে মহানবি (স)-এর
 ব্যক্তিগত আদর্শ খ পারিবারিক আদর্শ
গ সামাজিক আদর্শ ঘ রাজনৈতিক আদর্শ
১৮. নাসিমা গ্রামের অশিক্ষিত মেয়েদেরকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য তার অবসর সময় ব্যয় করেন। নাসিমা কার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন?
ক হযরত বিবি আছিয়া (আ)  হযরত আয়িশা (রা)
গ হযরত মরিয়ম (আ) ঘ হযরত ফাতিমা (রা)
১৯. কার প্রচেষ্টায় মুসলিম বিশ্বে হাদিস সংকলিত হয়?
 উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রা) খ হযরত আয়িশা (রা)
গ হযরত আবু হানিফা (রা) ঘ হযরত উমর (রা)
২০. রফিক সাহেব ইউপি চেয়ারম্যান। তিনি এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের চাহিদা পূরণের অনেক নলক‚প স্থাপন করেন। রফিক সাহেবের কাজে কার আদর্শ ফুটে উঠেছে?
 হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)
খ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা)
গ হযরত আয়িশা (রা)
ঘ হযরত হাফসা (রা)
২১. ঈসা (আ) কে আল্লাহর পুত্র বলার যুক্তি নেই। কারণ-
র. পিতা ছাড়া সৃষ্টি করা আল্লাহর জন্য কঠিন নয়
রর. তঁর জন্ম আল্লাহর ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ
ররর. তিনি কিয়ামতের একটি নির্দশন
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ রর ও ররর গ র ও ররর ঘ র, রর ও ররর

পাঠ-১ : হযরত সুলায়মান (আ)
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২২. মহান আল­াহ কাকে বাতাসে ভর করে চলাচল করার ক্ষমতা দান করেছিলেন? (জ্ঞান)
ক হযরত মুসা (আ) খ হযরত দাউদ (আ)
গ হযরত ঈসা (আ)  হযরত সুলায়মান (আ)
২৩. কে বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণ করেন? (জ্ঞান)
ক হযরত মুহাম্মদ (স)
খ হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)
 হযরত সুলায়মান (আ)
ঘ হযরত ঈসা (আ)
২৪. হযরত সুলায়মান (আ)-এর ধীশক্তি কেমন ছিল? (জ্ঞান)
 প্রখর খ মোটামুটি গ উন্নত ঘ অবনত
২৫. পশু-পাখির ভাষা বুঝতেন কে? (জ্ঞান)
ক হযরত মুসা (আ)  হযরত সুলায়মান (আ)
গ হযরত রাবেয়া বসরি (র) ঘ হযরত দাউদ (আ)
২৬. হযরত সুলায়মান (আ)-এর ইন্তিকালের বিস্ময়কর ঘটনা দ্বারা কী বোঝা যায়? (অনুধাবন)
ক জিন জাতিরা খুব শক্তিশালী ছিল
খ জিনেরা গায়েব জানে
˜ জিনেরা গায়েব জানে না
ঘ জিনেরা মানুষের তুলনায় শক্তিশালী
২৭. আল্লাহ তায়ালা হযরত সুলায়মান (আ)-কে বাতাসে ভর করে চলার ক্ষমতা প্রদান করেছিলেন কেন? (অনুধাবন)
ক লোককে ভয় দেখানোর জন্য
খ অনুসারীদের দেখাশোনা করার জন্য
গ চারদিকে রাজত্ব বিস্তৃতির জন্য
 দ্রæত যাতায়াতের জন্য
২৮. জিনরা হযরত সুলায়মান (আ)-এর অনুগত থাকত কেন? (অনুধাবন)
ক হযরত সুলায়মান (আ)-এর ভয়ে
 আল্লাহ জিনদেরকে তাঁর অধীন করে দেন বলে
গ জিনরা তাঁকে সম্মান করতেন বলে
ঘ তিনি জিনদের ভাষা বুঝতেন বলে
২৯. সুলায়মান (আ) মৃত্যুবরণ করেন কীভাবে? (অনুধাবন)
 লাঠির ওপর ভর করা অবস্থায় খ ভ্রমণরত অবস্থায়
গ ইবাদতরত অবস্থায় ঘ ঘুমন্ত অবস্থায়
৩০. হযরত সুলায়মান (আ) পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, জীবজন্তু ও জিনদের ভাষা বুঝতেন কীভাবে? (অনুধাবন)
 আল­াহর অনুগ্রহে খ নিজের ক্ষমতায়
গ বাদশাহী যোগ্যতায় ঘ বিশেষ যোগ্যতায়
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৩১. হযরত সুলায়মান (আ) -এর অধীনে ছিলেন [মতিঝিল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়]
র. একদল জীন রর. কীটপতঙ্গ
ররর. বাতাস
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৩২. হযরত সুলায়মান (আ)-এর বশীভ‚ত শয়তানদের কাজ ছিলÑ (অনুধাবন)
র. তাঁকে বিরক্ত করা
রর. মণিমুক্তা সংগ্রহ করা
ররর. সুউচ্চ প্রাসাদ তৈরি করা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর ˜ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৩৩. হযরত সুলায়মান (আ) ছিলেন (অনুধাবন)
র. আল­াহর প্রসিদ্ধ নবি
রর. মিসরের বাদশা
ররর. হযরত দাউদ (আ)-এর কনিষ্ঠ পুত্র
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৩৪ ও ৩৫ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
দুই মহিলা একটি শিশুর দাবি নিয়ে সমাজপতি সালামত মিয়ার নিকট বিচারপ্রার্থী হয়। সালামত মিয়া বাদী ও বিবাদীকে সঠিক বিচার করে দেন।
৩৪. সালামত মিয়ার বিচারকার্য কোন নবির বিচারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? (প্রয়োগ)
ক হযরত আদম (আ) খ হযরত মুসা (আ)
গ হযরত ঈসা (আ)  হযরত সুলায়মান (আ)
৩৫. উক্ত নবির বিচারকার্যের ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় তিনি ছিলেনÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. বুদ্ধিমান
রর. প্রজ্ঞার অধিকারী
ররর. মিতব্যয়ী
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
পাঠ-২ : হযরত মুসা (আ)
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৩৬. হযরত মুসা (আ) মাদাইনে হযরত শুআইব (আ) এর সান্নিধ্যে কত বছর কাটান? [রংপুর জিলা স্কুল]
ক ৫ খ ৭ গ ৮ ˜ ১০
৩৭. হযরত মুসা (আ) এর স্ত্রীর নাম কী? [ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর]
ক হাযেরা খ মরিয়ম গ সোফিয়া ˜ সফুরা
৩৮. কালিমুল্লাহ কার উপাধি? [খুলনা জিলা স্কুল]
ক হযরত সুলায়মান (আ) খ হযরত ঈসা (আ)
 হযরত মুসা (আ) ঘ হযরত দাউদ (আ)
৩৯. নীলনদ কোথায় অবস্থিত? (জ্ঞান)
ক সিরিয়ায় ˜ মিসরে গ জর্ডানে ঘ আফগানিস্তানে
৪০. হযরত মুসা (আ)-এর উপাধি কী ছিল? (জ্ঞান)
ক খলিলুল্লাহ খ রুহুল্লাহ ˜ কালিমুল্লাহ ঘ সাইফুল্লাহ
৪১. ফিরআউনের স্ত্রীর নাম কী ছিল? (জ্ঞান)
ক হাবিবা খ তাহিরা ˜ আসিয়া ঘ সুমাইয়া
৪২. হযরত মুসা (আ) ফিরআউনের ভয়ে মিসর ছেড়ে কোথায় চলে যান? (জ্ঞান)
˜ মাদইয়ানে খ ইরাকে গ হাবশায় ঘ সিরিয়ায়
৪৩. মাদইয়ান থেকে ফেরার পথে হযরত মুসা (আ) তুর পাহাড়ের পাদদেশে কোথায় নবুয়তপ্রাপ্ত হন? (জ্ঞান)
ক তুযা উপত্যকায় খ তুবা উপত্যকায়
˜ তুয়া উপত্যকায় ঘ তুসি উপত্যকায়
৪৪. ফিরআউন কাদেরকে বলা হতো? (জ্ঞান)
ক মিসরের কাফিরদের খ সিরিয়ার কাফিরদের
 মিসরের বাদশাহদের ঘ হযরত মুসা (আ)-এর শত্রæদের
৪৫. “তখন আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলাম। যাতে তার চক্ষু শীতল হয় এবং সে দুঃখ না পায়।” অনুদিত আয়াতটি কোন সূরার? (জ্ঞান)
ক সূরা আম্বিয়া  সূরা ত্বহা গ সূরা লাইল ঘ সূরা তুর
৪৬. হযরত মুসা (আ) কোথায় ইন্তিকাল করেন? (জ্ঞান)
ক তুর পাহাড়ে খ মাদায়িনে
গ ইরাকে  সিনাই উপত্যকায়
৪৭. হযরত মুসা (আ) কীভাবে নীলনদ পার হলেন? (অনুধাবন)
ক জাহাজে করে খ নৌকায় চড়ে
˜ আল্লাহর কুদরতি রাস্তা দিয়ে ঘ ভেলায় করে
৪৮. পৃথিবীতে ইয়াহুদিরা কেন এত অভিশপ্ত? (অনুধাবন)
ক তারা আল্লাহর নবিদের সঙ্গে বেয়াদবি করেছে
খ তারা নাফরমানির সীমা ছাড়িয়ে গেছে
˜ তারা অনেক নবিকে হত্যা করেছে
ঘ তারা আল্লাহর নবিগণকে কবর দিয়েছে
৪৯. হযরত মুসা (আ)-কে কেন কালিমুল্লাহ উপাধি দেয়া হয়েছিল? (অনুধাবন)
ক তিনি কালো ছিলেন বলে
খ তাঁর কলমের অনেক শক্তি ছিল বলে
˜ তিনি আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেন বলে
ঘ তাঁর কাছে আল্লাহর কলম ছিল বলে
৫০. পথভ্রষ্টদের ইসলামের ছায়াতলে আনার জন্য দাওয়াত দিতে হবে কীভাবে? (অনুধাবন)
ক অত্যন্ত রাগ করে খ মারামারি করে
˜ ধৈর্য সহকারে ঘ অধৈর্য হয়ে
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৫১. হযরত মুসা (আ) নবুয়তপ্রাপ্ত হন (অনুধাবন)
র. মাদইয়ানে
রর. তুর পাহাড়ের নিকটে
ররর. তুয়া উপত্যকায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র, ররর  রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫২. হযরত মুসা (আ) লালিত-পালিত হয়েছিলেন Ñ (অনুধাবন)
র. ফিরআউনের ঘরে
রর. পিতৃগৃহে
ররর. আসিয়ার কোলে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৩. হযরত মুসা (আ) মিসর ছেড়ে মাদইয়ান চলে যানÑ (অনুধাবন)
র. হিজরত করতে
রর. ফিরআউনের ভয়ে
ররর. আল্লাহর নির্দেশে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৫৪-৫৬ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
গণিমিয়ার অত্যাচারে হাকিম মিয়া এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় গণিমিয়া তার পিছু নেয়।
৫৪. হাকিম মিয়ার এলাকা ছেড়ে যাওয়া যে নবির হিজরতের ন্যায় (প্রয়োগ)
 হযরত মুসা (আ)-এর খ হযরত ঈসা (আ)-এর
গ ইদ্রিস (আ)-এর ঘ আদম (আ)-এর
৫৫. এরূপ কর্মকাণ্ডের ফলে গণি মিয়াÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. আল্লাহর অসন্তুষ্টি লাভ করবে
রর. ধ্বংস হয়ে যাবে
ররর. সামনে প্রশংসিত হবে
নিচের কোনটি সঠিক?
র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৬. আল্লাহর অভিশাপে ধ্বংস প্রাপ্ত ব্যক্তি- [মতিঝিল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়]
র. ফিরআউন রর. আবু জাফর
ররর. নমরুদ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ ররর  র ও ররর ঘ র, রর ও ররর
পাঠ-৩ : হযরত ঈসা (আ)
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৫৭. ফিলিস্তিনের কোন গ্রামে হযরত ঈসা (আ) জš§গ্রহণ করেন? [ঢাকা জিলা স্কুল]
ক গাঁজা খ জেরিকো  বাইত লাহাম ঘ মিনা
৫৮. দোলনায় থাকা অবস্থায় হযরত ঈসা (আ) কী লাভ করেন?
[সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়]
˜ বাকশক্তি খ জ্ঞান
গ শত্রæদমন শক্তি ঘ যুক্তি উপস্থাপন শক্তি
৫৯. শেষ যামানায় হযরত ঈসা (আ) পুনরায় পৃথিবীতে এসে কাকে হত্যা করবেন? [সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়]
ক শয়তানকে  দাজ্জালকে গ নমরুদকে ঘ কারুনকে
৬০. ইহুদিরা ঈসা (আ) কে মারার জন্য কাকে পাঠিয়েছিল?
[মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক ইয়ামাকে  তাইতালানুস গ ইয়ানুক ঘ ইয়াদুদকে
৬১. হযরত ঈসা (আ)-এর মাতার নাম কী? (জ্ঞান)
ক হযরত হাওয়া (আ) ˜ হযরত মারিয়াম (আ)
গ হযরত খাদিজা (রা) ঘ হযরত আয়িশা (রা)
৬২. ঈসা (আ)-এর ওপর কোন কিতাব নাজিল হয়? (জ্ঞান)
ক কুরআন খ যাবুর গ তাওরাত ˜ ইনজিল
৬৩. কিয়ামতের দিন কারা একই স্থান থেকে উঠবেন? (জ্ঞান)
ক মহানবি (স) ও আবু বকর (র)
˜ মহানবি (স) ও ঈসা (আ)
গ হযরত আলী (রা) ও ফাতিমা (রা)
ঘ হযরত হুসাইন (রা) ও হাসান (রা)
৬৪. কোন নবি পিতা ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেন? (জ্ঞান)
ক হযরত নুহ (আ) খ হযরত মুহাম্মদ (স)
গ হযরত মুসা (আ)  হযরত ঈসা (আ)
৬৫. কোন নবি কিয়ামতের পূর্বে পৃথিবীতে আগমন করবেন? (জ্ঞান)
ক হযরত দাউদ (আ)  হযরত ঈসা (আ)
গ হযরত মুসা (আ) ঘ হযরত সুলায়মান (আ)
৬৬. কারা হযরত ঈসা (আ)-কে আল­াহর পুত্র মনে করে? (জ্ঞান)
ক ইহুদিরা  খ্রিষ্টানরা গ মুসলমানরা ঘ হিন্দুরা
৬৭. পুনরায় দুনিয়াতে আগমন করে হযরত ঈসা (আ) কত বছর অবস্থান করবেন? (জ্ঞান)
ক ৪০ ˜ ৪৫ গ ৫০ ঘ ৫৫
৬৮. মৃতকে আল্লাহর হুকুমে জীবিত করতে পারতেন কে? (জ্ঞান)
ক হযরত ইদরীস (আ) খ হযরত যাকারিয়া (আ)
গ হযরত ইউসুফ (আ) ˜ হযরত ঈসা (আ)
৬৯. হযরত ঈসা (আ)-এর জন্মস্থান কোথায়? (জ্ঞান)
ক লেবানন খ ফিলিস্তিন গ ইসরাঈল˜ বেথেলহাম
৭০. জীবিত অবস্থায় আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয় কাকে? (জ্ঞান)
ক হযরত দাউদ (আ)-কে ˜ হযরত ঈসা (আ)-কে
গ হযরত সুলায়মান (আ)-কে ঘ হযরত ইয়াকুব (আ)-কে
৭১. হযরত ঈসা (আ)-এর অনুসারীদেরকে কী বলা হয়? (জ্ঞান)
ক ইহুদি ˜ খ্রিষ্টান গ বৌদ্ধ ঘ কাফের
৭২. অবিবাহিত জীবনযাপন করেন আল্লাহর কোন নবি? (জ্ঞান)
ক হযরত মুসা (আ) খ হযরত ইয়াকুব (আ)
˜ হযরত ঈসা (আ) ঘ হযরত হারুন (আ)
৭৩. দাজ্জালকে হত্যা করবেন কে? (জ্ঞান)
 হযরত ঈসা (আ) খ হযরত মুসা (আ)
গ হযরত দানিয়াল (আ) ঘ আদম (আ)
৭৪. কিছু সংখ্যক লোক হযরত ঈসা (আ)-এর প্রতি ইমান এনেছিল। তাদেরকে কুরআনে কী বলা হয়েছে? (জ্ঞান)
ক মাসিহ  হাওয়ারি গ হাওয়াযিন ঘ আনসারি
৭৫. দোলনা থাকা অবস্থায় কে বাকশক্তি লাভ করেন? [খুলনা জিলা স্কুল]
 হযরত ঈসা (আ) খ হযরত মুসা (আ)
গ হযরত মুহাম্মদ (স) ঘ হযরত দাউদ (আ)
৭৬. ইহুদিরা হযরত ঈসা (আ)-এর নিকট ‘তাইতালানুস’ নামক ব্যক্তিকে পাঠায় কেন? (অনুধাবন)
ক তাঁর নিকট উপহার পাঠানোর জন্য
 তাঁকে হত্যা করার জন্য
গ তাঁর সাথে বন্ধুত্ব করার জন্য
ঘ তাঁকে সাহস যোগানোর জন্য
৭৭. ‘হাওয়ারি’ বলতে কী বোঝায়? (অনুধাবন)
ক হাওয়ায় ভর করে চলাচল করার ক্ষমতা
 হযরত ঈসা (আ)-এর প্রতি ইমান আনয়নকারী ও তাকে সাহায্যকারী
গ হযরত ঈসা (আ)-এর হত্যাকারী
ঘ হযরত ঈসা (আ)-এর সাথে ক্ষমতা সাথে পোষণকারী
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৭৮. হযরত ঈসা (আ) কে ক্ষমতা দান করা হয়েছিলÑ (প্রয়োগ)
র. মৃতকে জীবিত করা
রর. জন্মান্ধকে চক্ষুদান করা
ররর. শ্বেত কুষ্ঠ রোগীকে আরোগ্য করা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৭৯. হযরত ঈসা (আ) আল্লাহর আদেশে মাটির তৈরি পাখিকে ফুৎকার দিয়ে জ্যান্ত বানিয়ে ফেলতেন এর মাধ্যমে প্রকাশ পায়Ñ (প্রয়োগ)
র. মু’জিজা রর. পারদর্শিতা
ররর. অলৌকিক ক্ষমতা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৮০ ও ৮১ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
খলিল মুসাকে বলল, রাসুল (স) মানব জাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। [খুলনা জিলা স্কুল]
৮০. হযরত মুহাম্মদ (স) কোন দিক দিয়ে আমাদের আদর্শ?
ক অর্থনৈতিক খ সামাজিক
গ পারিবারিক  অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক
৮১. খলিলের বক্তব্য দ্বারা বুঝা যায়-
র. রাসুল (স) একমাত্র আদর্শ
রর. রাসুল (স) এর চারিত্রিক দিক
ররর. রাসুল (স) এর আদর্শিক দিক।
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর  রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৮২ ও ৮৩ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তারা তাকে হত্যাও করেনি, ক্রুশবিদ্ধও করেনি বরং তারা এরূপ ভ্রান্তিতে পতিত হয়েছিল, যারা তাঁর সম্পর্কে মতভেদ করেছিল, তারা নিশ্চয়ই এ সম্বন্ধে সংশয়যুক্ত ছিল।”
৮২. অনুচ্ছেদে উল্লিখিত আয়াতে ফুটে উঠেছেÑ (প্রয়োগ)
ক হযরত মুসা (আ)-এর ঘটনা
˜ হযরত ঈসা (আ)-এর ঘটনা
গ হযরত ইবরাহিম (আ)-এর ঘটনা
ঘ হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ঘটনা
৮৩. ইহুদিরা হযরত ঈসা (আ)-কে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। কারণ, হযরত ঈসা (আ)Ñ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. ইহুদিদের ক্ষমতাচ্যুত করতে চেয়েছেন
রর. ইহুদিদের দুর্নীতি ও দুশ্চরিত্রের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন
ররর. সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম করতে চেয়েছেন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর ˜ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
পাঠ-৪ : হযরত মুহাম্মদ (স)
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৮৪. মদিনার রাষ্ট্রীয় ভিত্তি মজবুত করার জন্য কোনটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল? [রংপুর জিলা স্কুল]
ক হুদায়বিয়ার সন্ধি খ মক্কা বিজয়
গ বিদায় হজের ভাষণ  মদিনার সনদ
৮৫. ‘মাররুজ জাহরান’ কোথায় অবস্থিত? [মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ]
ক মদিনায় খ মদিনার অদূরে
˜ মক্কার অদূরে ঘ মক্কায়
৮৬. রাসুল (স) কত খ্রিস্টাব্দে ইন্তিকাল করেন? [ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, রংপুর]
ক ৬৩০ খ ৬৩১  ৬৩২ ঘ ৬৩৪
৮৭. মক্কা বিজয় কত হিজরিতে হয়েছিল? (জ্ঞান)
 ৮ম খ ৯ম গ ১০ম ঘ ১১তম
৮৮. উশর কী? (জ্ঞান)
 মুসলিমদের উৎপন্ন ফসলের কর খ ইহুদিদের ভূমিকর
গ আরবদের ভূমিকর ঘ অমুসলিমদের ভূমিকর
৮৯. পৃথিবীর ইতিহাসে কোনটিকে আমরা ক্ষমার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখতে পাই? (জ্ঞান)
ক মদিনা বিজয়ের পর ক্ষমা খ বদরে যুদ্ধ বন্দিদের ক্ষমা
˜ মক্কা বিজয়ের দিনের ক্ষমা ঘ কোনোটিই নয়
৯০. মহানবি (স) বিদায় হজের ভাষণ কোথায় দিয়েছিলেন? (জ্ঞান)
ক মুযদালিফায় খ মিনায়
˜ আরাফাত ময়দানে ঘ হেরার পাদদেশে
৯১. সর্বশেষ নাজিলকৃত আয়াতটি পবিত্র কুরআনের কোন সূরার? (অনুধাবন)
ক সূরা তাওবার খ সূরা নমলের
গ সূরা আনকাবুতের ˜ সূরা মায়িদার
৯২. পবিত্র কুরআনে ‘সুস্পষ্ট বিজয়’ বলা হয়েছে কোনটিকে? (জ্ঞান)
ক আকাবার শপথকে খ মদিনার সনদকে
˜ হুদায়বিয়ার সন্ধিকে ঘ মক্কা বিজয়কে
৯৩. হযরত হামযা (রা) শহীদ হওয়ার পর তাঁর নাক, কান কেটেছিল কে? [সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়]
ক জায়দা খ মাজেদা ˜ হিন্দা ঘ আবেদা
৯৪. মক্কা বিজয়ে মহানবি (স)-এর চরিত্রের কোন দিকটি স্পষ্ট হয়? (অনুধাবন)
ক অপরাধীকে শাস্তি দেয়া খ অপরাধীদের বন্দি করা
গ শত্রæকে ভালোবাসা ˜ অপরাধীকে ক্ষমা করা
৯৫. হিন্দা চরম নিষ্ঠুরতা ও বীভৎসতার পরিচয় দিয়েছিল কীভাবে? (অনুধাবন)
ক মহানবি (স)-এর চাচা হযরত হামযা (রা)-কে হত্যা করে
˜ হামযা (রা)-এর নাক, কান কেটে এবং কলিজা চর্বণ করে
গ ৭০ জন মুসলমান সৈনিককে হত্যা করে
ঘ আবু সুফিয়ানকে নির্মমভাবে হত্যা করে
৯৬. ‘তোমরা মুক্ত স্বাধীন’ এর অন্তর্নিহিত অর্থ মক্কাবাসীদের- (উচ্চতর দক্ষতা)
ক ধর্মের স্বাধীনতা খ চলাফেরার স্বাধীনতা
গ কর্মে পূর্ণ স্বাধীনতা  ক্ষমা ঘোষণা
৯৭. মক্কা বিজয়ের ঘটনা থেকে আমরা কী শিক্ষা লাভ করতে পারি? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক সৈন্যসংখ্যা বেশি থাকলে বিজয় লাভ সহজ হয়
˜ আমরা ক্ষমার আদর্শে উজ্জীবিত হব
গ শত্রæকে কখনো ক্ষমা করব না
ঘ কেউ জুলুম করে থাকলে তার প্রতিশোধ নেব
৯৮. “আপনি তো আমাদের দয়ালু ভাই ও দয়ালু ভাইয়ের পুত্র, আপনার নিকট থেকে দয়াপূর্ণ ব্যবহারই আমরা প্রত্যাশা করছি।” কুরাইশদের এ উক্তি দ্বারা কী প্রমাণিত হয়? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক কুরাইশরা খুব ভদ্র হয়ে গেছে
খ কুরাইশরা বড় অসহায় হয়ে পড়েছে
গ কুরাইশরা খুব নম্র হয়েছে
 কুরাইশরা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেছে
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৯৯. মক্কা বিজয়ের পর রাসুল (স) মক্কাবাসীকেÑ (অনুধাবন)
র. বন্দি করেন রর ক্ষমা করে দেন
ররর মুক্ত-স্বাধীন করে দেন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর  রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১০০. দশম হিজরিতে রাসুল (স)-এর হজকে বলা হয়Ñ (অনুধাবন)
র. বিদায় হজ রর. শেষ হজ
ররর. প্রথম হজ
নিচের কোনটি সঠিক?
 র খ রর গ ররর ঘ র, রর ও ররর
১০১. ফাতহুম মুবিন বলতে বোঝায়Ñ (অনুধাবন)
র. সুনির্দিষ্ট বিজয়
রর. সুস্পষ্ট বিজয়
ররর. হুদাইবিয়ার সন্ধি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর  রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১০২. হযরত মুহাম্মদ (স) সর্বশেষ নবি ও রাসুল। কারণÑ (প্রয়োগ)
র. তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আজও বিদ্যমান
রর. তাঁর শিক্ষা ও দীন পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ
ররর. তিনি বিশেষ স্থান ও ধর্মের নবি
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১০৩ ও ১০৪ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আরিফিন সাহেবের বাসায় হাবিবা কাজ করে। সামান্য ভুলের কারণে হাবিবাকে বাড়ির সবাই অপমান করে, বকাঝকা করে। তাকে নিম্নমানের খাবার খেতে দেয় এবং কমমূল্যের কাপড় পরায়।
১০৩. কাজের মেয়ে হাবিবার সাথে আরিফিন সাহেবের আচরণ কিসের পরিপন্থী? (প্রয়োগ)
ক মদিনা সনদের  বিদায় হজের ভাষণের
গ ইমানের ঘ আখলাকের যামিমার
১০৪. মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণের শিক্ষা অনুযায়ী আরিফিন সাহেবের উচিত (উচ্চতর দক্ষতা)
র. তারা যে খাবার খায় সে খাবার দেয়া
রর. তারা যে মানের পোশাক পরে সে মানের পোশাক পরানো
ররর. অমার্জনীয় অপরাধ করলে মারধর করা
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
পাঠ-৫ : হযরত আয়িশা (রা)
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১০৫. হযরত আয়িশা (রা)-এর মায়ের নাম কী? (জ্ঞান)
 উম্মে রুম্মান খ উম্মে সালমা
গ উম্মে হুমায়রা ঘ উম্মে সিদ্দিকা
১০৬. হযরত আয়িশা (র)-এর উপাধি কী? (জ্ঞান)
 হুমায়রা খ আতিকা গ বাতুল ঘ হুর
১০৭. হযরত আয়িশা (রা) কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন? (জ্ঞান)
ক ৬১০ খ ৬১১ গ ৬১২  ৬১৩
১০৮. হযরত আয়িশা (রা)-এর বিবাহের কাজি কে ছিলেন? (জ্ঞান)
ক হযরত মুহাম্মদ (স)  হযরত আবু বকর (রা)
গ হযরত উমর (রা) ঘ হযরত ওসমান (রা)
১০৯. হযরত আয়িশা (রা)-এর উপনাম কী? (জ্ঞান)
 উম্মু আব্দুল­াহ খ উম্মু ফজল গ উম্মু জান্নাত ঘ উম্মু সালমা
১১০. আয়িশা (রা)-কে সারিদ এর সঙ্গে তুলনা করে কী বুঝানো হয়েছে? (অনুধাবন)
 তিনি শ্রেষ্ঠ খ তিনি মনীষী
গ তিনি চরিত্রবান ঘ তিনি মহীয়ান
১১১. কোন যুদ্ধে হযরত আয়িশা (রা) রাসুল (স)-এর সাথে ছিলেন? (জ্ঞান)
ক উহুদ যুদ্ধে খ খন্দকের যুদ্ধে
গ বদরের যুদ্ধে  বনু মুস্তালিক যুদ্ধে
১১২. শিশুকাল থেকেই হযরত আয়িশা (রা) কেমন ছিলেন? (অনুধাবন)
ক চঞ্চলা খ লজ্জাবতী
 প্রখর মেধার অধিকারিণী ঘ বুদ্ধিমতী
১১৩. কখন হযরত আয়িশা (রা)-এর শিক্ষাজীবন শুরু হয় (অনুধাবন)
ক বয়স হওয়ার পর  শিশুকাল থেকে
গ জন্মের পরেই ঘ জন্মের পূর্বে
১১৪. হযরত আয়িশা (রা) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা কত?
ক ২২০১ খ ১০২২ ˜ ২২১০ ঘ ৭২৭৫
১১৫. হযরত আয়েশা (রা) এর বিয়েতে কত দিরহাম দেন মোহর নির্ধারিত হয়?
ক ৪৫০ খ ৪৬০ গ ৪৭০ ˜ ৪৮০
১১৬. হযরত আয়িশা (রা) বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছিলেন কীভাবে? (অনুধাবন)
 বুদ্ধিমত্তা, কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে
খ শ্রেষ্ঠ বংশে জš§গ্রহণ করার কারণে
গ অধিক ধন-সম্পদের মালিক ছিলেন বলে
ঘ হযরত আবু বকর (রা)-এর কন্যা হওয়ার কারণে
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১১৭. রাসুল (স)-এর স্ত্রীদের মধ্যে আয়িশা (রা) ছিলেন বিশেষ মর্যাদার অধিকারিণী। কারণÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. জিবরাইল (আ) তাঁকে সালাম করেছিলেন
রর. তিনি সর্বাধিক হাদিস বর্ণনা করেন
ররর. তিনি কুরাইশ বংশে জন্মেছিলেন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ র ও রর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১১৮. হযরত আয়িশা (রা) একসাথে দুইশতের অধিক শিক্ষার্থীকে হাদিস শিক্ষা দিতেন-
র. ঘটনার আলোকে রর. প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে
ররর. সামাজিক বাস্তবতার আলোকে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
১১৯. হযরত আয়িশা (রা) সম্বন্ধে পবিত্র কুরআনের আয়াত নাজিল হওয়ায়-
র. মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়
রর. আয়িশা (রা) তাঁর গলার হার ফিরে পান
ররর. রাসুল (স) চিন্তামুক্ত হন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১২০ ও ১২১ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ফারজানা কলেজে ভর্তি হতে চাইলে তার বাবা বললেন, মেয়েদের এত বেশি পড়াশোনার প্রয়োজন নেই। ফারজানা তার বাবাকে হযরত আয়িশা (রা)-এর অসাধারণ জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের কথা বলল। এতে বাবা তাকে কলেজে ভর্তি হওয়ার অনুমতি দেন।
১২০. ফারজানার জ্ঞান অর্জনের ইচ্ছাটিÑ (প্রয়োগ)
ক নিন্দনীয় খ সঠিক নয় গ অপছন্দনীয়  সঠিক
১২১. ফারজানা তার বাবার চিন্তাধারাকে সংশোধন করতে পারে Ñ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. বাবার আদেশ অমান্য করে
রর. নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে
ররর. সবার জন্য জ্ঞান অর্জনের অপরিহার্যতার কথা বলে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর ˜ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
পাঠ-৬ : হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১২২. হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-এর পিতার নাম কী? (জ্ঞান)
 আব্দুল আজিজ খ আবু বকর গ ওমর ঘ আব্দুল­াহ
১২৩. হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-এর মাতার নাম কী? (জ্ঞান)
ক উম্মু আম্বিয়া তাওয়ামা  উম্মু আসিম লায়লা
গ হযরত আসমা ঘ হযরত ফাতেমা
১২৪. দ্বিতীয় উমর কে? (জ্ঞান)
ক উমর বিন খাত্তাব খ আব্দুল­াহ ইবনে উমর
 উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ঘ উমর বিন আব্দুল্লাহ
১২৫. ইসলামের পঞ্চম খলিফা কে? (জ্ঞান)
ক হযরত আলী (রা)
খ হযরত মুয়াবিয়া (রা)
গ হযরত হুসাইন (রা)
 হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রা)
১২৬. হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-এর স্ত্রীর নাম কী? (জ্ঞান)
 ফাতিমা খ আয়িশা গ আসমা ঘ যোবাইদা
১২৭. প্রখ্যাত মনীষী সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব কাকে ‘মাহদি’ উপাধি- দেন? (জ্ঞান)
ক হযরত মুহাম্মদ (স) কে
খ হযরত আবু বকর (রা) কে
 হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) কে
ঘ ইমাম আবু হানিফা (র) কে
১২৮. উমাইয়া সাধু বলা হয় কাকে? (জ্ঞান)
ক হযরত উমর (রা)-কে
খ হযরত উসমান (রা)-কে
 হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-কে
ঘ হযরত মুয়াবিয়াকে (রা)-কে
১২৯. হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজকে (রা) কী হিসেবে গণ্য করা হয়? (জ্ঞান)
ক জ্ঞানী  পঞ্চম খলিফা গ আবিদ ঘ সত্যবাদী
১৩০. হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ কত হিজরি সনে খলিফা নিযুক্ত হন? (জ্ঞান)
ক ৯৮  ৯৯ গ ১০০ ঘ ১০১
১৩১. হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ কত বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন? (জ্ঞান)
ক পয়ত্রিশ  চল্লিশ গ পঞ্চাশ ঘ পঞ্চান্ন
১৩২. হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) সড়ক নির্মাণ করেন কেন? (অনুধাবন)
ক ইসলাম প্রচারের সুব্যবস্থার জন্য খ ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য
গ উদারতা প্রমাণের জন্য  মানবকল্যাণের জন্য
১৩৩. হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-কে ‘উমাইয়া সাধু’ বলা হয় কেন? (অনুধাবন)
ক তিনি উমাইয়া বংশে জš§গ্রহণ করেন বলে
খ তিনি উমাইয়া বংশের শাসক ছিলেন বলে
গ তিনি অত্যন্ত আল্লাহ ভীরু লোক ছিলেন বলে
˜ তিনি রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণতা ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন বলে
১৩৪. হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) কে ইসলামের পঞ্চম খলিফা বলা হয় কেন? (অনুধাবন)
ক তিনি চার খলিফার মতো ন্যায়নিষ্ঠ ছিলেন বলে
˜ তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার খোলাফায়ে রাশেদিনের নীতি অনুসরণ করেছিলেন বলে
গ তিনি চার খলিফার পরে খলিফা নিযুক্ত হন বলে
ঘ তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও নম্র প্রকৃতির মানুষ ছিলেন বলে
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৩৫. হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-কে উমাইয়া সাধু বলার কারণ (অনুধাবন)
র. ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠা করা
রর. মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা
ররর. মানুষের ওপর অত্যাচার করা
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র , র ও ররর
১৩৬. হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-এর সময়ে শিক্ষা বিস্তার ঘটে (প্রয়োগ)
র. আফ্রিকা রর. স্পেন
ররর. সিন্ধু
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১৩৭ ও ১৩৮ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ফারিহা ইসলামের পঞ্চম খলিফা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন। তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় কুরআন-হাদিস ও খোলাফায়ে রাশেদিনের নীতি অনুসরণ করেছিলেন। তাঁকে উমাইয়া সাধু বলা হয়।
১৩৭. ফারিহা ইসলামের পঞ্চম খলিফা বলে কার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন? (প্রয়োগ)
ক হযরত উমর ইবনে আব্দুল্লাহ
খ হযরত উমর ইবনুল আস
˜ হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ
ঘ হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব
১৩৮. উমর ইবনে আব্দুল আজিজকে উমাইয়া সাধু বলা হয়। কারণ, তিনি রাজ্যে প্রতিষ্ঠা করেছিলেনÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. ন্যায়পরায়ণতা
রর. ধর্মপরায়ণতা
ররর. স্বৈরতন্ত্র
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
পাঠ-৭ : হযরত রাবেয়া বসরি (র)
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৩৯. হযরত রাবেয়া বসরি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? (জ্ঞান)
 ইরাকে খ ইরানে গ মক্কায় ঘ জর্দানে
১৪০. হযরত রাবেয়া বসরি (র) কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন? (জ্ঞান)
ক ৬১৭  ৭১৭ গ ৮১৭ ঘ ৯১৭
১৪১. রাবেয়া বসরির (র) পিতা কেমন ছিলেন? (জ্ঞান)
ক মধ্যবিত্ত খ ধনী  খুব দরিদ্র ঘ ফকির
১৪২. রাবেয়া বসরির (র) মুনিব কেমন প্রকৃতির ছিল? (জ্ঞান)
ক চালাক খ বোকা গ ভালো  দুষ্ট
১৪৩. চার বোনের মধ্যে রাবেয়াÑ (জ্ঞান)
 চতুর্থ খ পঞ্চম গ ষষ্ঠ ঘ সপ্তম
১৪৪. রাবেয়া বসরি (র) দিনের বেলায় কী করতেন? (জ্ঞান)
ক ঘুমাতেন খ ইবাদত করতেন
 কঠোর পরিশ্রম করতেন ঘ যিকির করতেন
১৪৫. কোন মহান তাপসী রমনীর শস্য ক্ষেতের উপর একবার পঙ্গপালেরা এসে পড়েছিল? (অনুধাবন)
 হযরত রাবেয়া (র) খ হযরত উম্মে আসিম লায়লা (র)
গ হযরত ফাতেমা (রা) ঘ হযরত সালমা (রা)
১৪৬. রাবেয়া বসরি (র) রাতের বেলায় কী করতেন? (জ্ঞান)
ক ঘুমাতেন খ ঘরের কাজ করতেন
গ কঠোর পরিশ্রম করতেন  আল­াহর ইবাদত করতেন
১৪৭. হযরত রাবেয়া বসরি (র)-এর নাম ‘রাবেয়া’ রাখা হয় কেন? (অনুধাবন)
ক তিনি অত্যন্ত সুন্দর ছিলেন বলে
 চার বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ ছিলেন বলে
গ বাল্য বয়সেই তাঁর পিতামাতা ইন্তিকাল করেন বলে
ঘ তিনি রাতে জš§গ্রহণ করেন বলে
১৪৮. হযরত রাবেয়া বসরি (র)-কে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করতে হয় কেন? (অনুধাবন)
ক তিনি লেখাপড়া জানতেন না বলে
খ তিনি কর্মহীন ছিলেন বলে
 বাল্য বয়সেই তার পিতামাতা ইন্তিকাল করেন বলে
ঘ তিনি জীবনে বিবাহ করেননি বলে
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৪৯. হযরত রাবেয়া বসরি (র) ছিলেন (অনুধাবন)
র. ক্রীতদাসী
রর. আল্লাহর ওলি
ররর. উচ্চাভিলাসী
নিচের কোনটি সঠিক?
 র, রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১৫০ ও ১৫১ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জোহরা বেগম সারা রাত ইবাদত করেন। দিনের বেলায় রোযা রেখে কঠোর পরিশ্রম করেন।
১৫০. জোহরা বেগমের সাথে কোন মহীয়সী নারীর মিল খুঁজে পাওয়া যায়? (প্রয়োগ)
ক হযরত আয়িশা (রা)  হযরত রাবেয়া বসরি (র)
গ হযরত ফাতিমা (রা) ঘ বিবি হাজেরা
১৫১. এরূপ কর্মকাণ্ডের কারণে জোহরা বেগম লাভ করবেনÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. আল্লাহর নৈকট্য
রর. মহাপুরস্কার
ররর. প্রচুর ধন-সম্পদ
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর

১৫২. পশুপাখির ভাষা বুঝতেন Ñ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. হযরত ইলিয়াস (আ) রর. হযরত সুলায়মান (আ)
ররর. হযরত ঈসা (আ)
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ˜ রর গ র ও ররর ঘ রর ও ররর
১৫৩. হযরত খাদিজা (রা) এর ইন্তিকালের পর মহানবি Ñ (অনুধাবন)
র. এর মাদানি জীবন শুরু হয় রর. হযরত আয়িশা (রা) কে বিবাহ করেন
ররর. মক্কা বিজয় হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
১৫৪. যাঁরা তাঁদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও মানবসেবা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন  (অনুধাবন)
র. আবদুল হাকিম রর. উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রা)
ররর. হযরত রাবেয়া বসরি (রা)
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ˜ রর ও ররর গ ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১৫৫ ও ১৫৬ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জামান কয়েকজন সম্মানিত নবি (আ)দের কথা জেনেছে। এর মধ্যে একজন পশু পাখিদের ভাষা বুঝতেন। অন্য একজন নীল নদ পার হয়ে চলে যান। আর অন্য একজনকে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়।
১৫৫. অনুচ্ছেদের কোন নবি জীবিত? (প্রয়োগ)
ক হযরত মুসা (আ) খ হযরত দাউদ (আ)
 হযরত ঈসা (আ) ঘ হযরত আইউব (আ)
১৫৬. অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছেÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. হযরত মুসা (আ) রর. হযরত ঈসা (আ)
ররর. হযরত দাউদ (আ)
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর ও ররর গ ররর  র, রর ও ররর

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন -১ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মুরাদ সাহেব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি এলাকায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও বিশেষ ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করেন। গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তাঁর ছেলে মুবীন শীতকালীন ছুটিতে বাড়িতে এসে বাবার কার্যক্রমে খুশি হয়। একদিন সকালে ড্রয়িংরুমে বসে সে পত্রিকা পড়ছিল। হঠাৎ একই গ্রামের ছেলে তারিক এসে অভিযোগ করল যে, নয়নের গাভী তার ধানের ফসল নষ্ট করেছে। তখন তার বাবার অনুপস্থিতিতে উভয়ের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত দিল যে, শস্যক্ষেত পূর্বাবস্থায় ফিরে আসা পর্যন্ত তারিক নয়নের গাভীর দুধ ভোগ করবে। উভয়পক্ষ এ সিদ্ধান্তে খুশি হলো। তার পিতাও তাকে ধন্যবাদ জানাল।
ক. হযরত সুলায়মান (আ)-এর পিতার নাম কী?
খ. মু’জিজা বলতে কী বুঝায়?
গ. মুরাদ সাহেবের কর্মকাণ্ডে কোন মনীষীর আদর্শ ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ.মুবীনের বিচক্ষণতা হযরত সুলায়মান (আ)-এর জীবনাদর্শের আলোকে বর্ণনা কর।
ল্ফল্প ১নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. হযরত সুলায়মান (আ)-এর পিতার নাম হযরত দাউদ (আ)।
খ. মু’জিজা শব্দের অর্থ অলৌকিক ক্ষমতা বা বিশেষ ক্ষমতা। পরিভাষায় মানুষকে দীনের পথে আনার জন্য নবি-রাসুলগণের নিকট থেকে যে অলৌকিক ঘটনাবলি প্রকাশ পেয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের বোধগম্যের বাইরে তাকে মু’জিজা বলে।
গ. মুরাদ সাহেবের কর্মকাণ্ডে হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-এর আদর্শ ফুটে উঠেছে।
দ্বিতীয় উমর নামে খ্যাত হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) বিশ্বাস করতেন যে, ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’। তিনি গভর্নরদের নিকট প্রেরিত পত্রে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যাপারে বারবার তাগিদ দিতেন। শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে তিনি অনেক প্রশিক্ষক নিয়োগ করেন। শিক্ষকদের জন্য মাথাপিছু ১০০ দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) ভাতার ব্যবস্থা করেন। তাঁর সময়ে সিন্ধু, আফ্রিকা, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশে ইসলাম ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার ঘটে। উদ্দীপকের মুরাদ সাহেব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হলেও তিনি একজন শিক্ষানুরাগী। তিনি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও ভাতা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষাবিস্তারে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের মুরাদ সাহেবের কর্মকাণ্ডে ইসলামের পঞ্চম খলিফা হিসেবে পরিচিত হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজের চরিত্র ফুটে ওঠেছে।
ঘ. মুবিনের বিচক্ষণতা হযরত সুলায়মান (আ)-এর জীবনাদর্শের আলোকে নিচে বর্ণনা করা হলো।
হযরত সুলায়মান (আ)-এর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ধীশক্তি ছিল খুবই প্রখর। আল­াহ তায়ালা তাকে খুব সূ²ভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করার ক্ষমতা দান করেছিলেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি খুব প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন। বালক বয়সে হযরত সুলায়মান (আ)-এর একটি ঘটনা হলো একদা দুজন লোক হযরত দাউদ (আ)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বিচারপ্রার্থী হলো। তাদের একজন ছিল রাখাল, অপরজন কৃষক। কৃষক রাখালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করল যে, রাখালের ছাগল রাতে ছাড়া পেয়ে তার সমস্ত ফসল বিনষ্ট করে ফেলেছে। সত্যতা যাচাই করার পর হযরত দাউদ (আ) রায় দিলেন যে, ছাগলের মালিক তার সব ছাগল শস্যক্ষেতের মালিককে অর্পণ করুক। কিন্তু হযরত সুলায়মান (আ) রায় শোনার পর বাবাকে বললেন, আপনি সব ছাগল শস্যক্ষেতের মালিককে দিয়ে দিন। সে এগুলোর দুধ, পশম দ্বারা উপকৃত হোক। আর শস্যক্ষেত ছাগলের মালিকের নিকট অর্পণ করুন। সে তাতে চাষাবাদ করে শস্য উৎপাদন করবে। যখন শস্যক্ষেত ছাগল বিনষ্ট করার পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে তখন তা তার মালিককে বুঝিয়ে দেবে। এ রায় হযরত দাউদ (আ) পছন্দ করলেন এবং তা কার্যকর করতে বললেন। উদ্দীপকের মুবিনের বিচারকার্যটিও হযরত সুলায়মান (আ)-এর বিচারকার্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, মুবিনের বিচক্ষণতা হযরত সুলায়মান (আ)-এর বিচার ও বিচক্ষণতার কথা মনে করিয়ে দেয়।
প্রশ্ন -২ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সুরাইয়ার পিত্রালয়ে কাজ করতে এসে সালেহার সাথে সুরাইয়ার পরিচয় হয়। সালেহা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। বাবার মৃত্যুর পর কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতে হতো। পাঁচ ওয়াক্ত নামায যথাযথ আদায় করত। সারারাত নফল ইবাদতে কাটাতে গিয়ে মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়লেও ইবাদতে কোনোরূপ বিরক্ত হতো না। সে কখনো পরমুখাপেক্ষী হতো না। আল­াহর সন্তুষ্টি অর্জনই ছিল একমাত্র উদ্দেশ্য। সে জীবনে বিয়েও করেনি। পক্ষান্তরে সুরাইয়া ছোটবেলা থেকে পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকত। বিশেষ করে কুরআন ও হাদিস চর্চাই ছিল তার মূল কাজ। স্বামীগৃহে গিয়ে সংসার ও আত্মীয় স্বজনের অধিকার যথাযথ পালনসহ রাতের অধিকাংশ সময় ইবাদতে মগ্ন থাকত। সে ছিল সংস্কৃতিমনা, তবে পর্দার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আপস করত না।
ক. মহানবি (স) কোথায় বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন?
খ. ‘সত্য মানুষকে মুক্তি দেয়’ বুঝিয়ে লিখ।
গ. সুরাইয়ার কর্মে কোন মনীষীর আদর্শ ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ.সালেহার জীবনে হযরত রাবেয়া বসরি (র)-এর আদর্শ ফুটে উঠেছে উক্তিটির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
ল্ফল্প ২নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. আরাফাতের ময়দান সংলগ্ন জাবালে রহমতের উঁচু টিলায় দাঁড়িয়ে মহানবি (স) বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।
খ. সত্যবাদিতা মানুষকে নৈতিক চরিত্র গঠনে সাহায্য করে। পাপ ও অশালীন কাজ থেকে রক্ষা করে। সত্যবাদী ব্যক্তি কোনোরূপ অন্যায় ও অত্যাচার করতে পারে না। হাদিস থেকে জানা যায়, মহানবি (স)-এর পরামর্শে একজন খারাপ ব্যক্তি মিথ্যা বলা ত্যাগ করায় তার পক্ষে আর কোনো খারাপ কাজ করা সম্ভব হয়নি। সত্যবাদিতা এভাবেই মানুষকে উত্তম চরিত্রের অধিকারী হতে সাহায্য করে। সুতরাং বলা যায়, সত্য মানুষকে মুক্তি দেয়।
গ. সুরাইয়ার কর্মে হযরত আয়িশা (রা)-এর আদর্শ ফুটে উঠেছে।
আমরা জানি, হযরত আয়িশা (রা) ছিলেন অসাধারণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারিণী। তিনি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। বিশেষ করে তাফসির, হাদিস, ফিকহ ও আরবদের ঘটনাবলি সম্পর্কে তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ছিল। হযরত আয়িশা (রা)-এর মতো উদ্দীপকের সুরাইয়াও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকতো। বিশেষ করে কুরআন, হাদিস চর্চাই ছিল তার মূল কাজ।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সুরাইয়ার চরিত্রটি হযরত আয়িশা (রা)-এর চরিত্রের অনুরূপ। কেননা সুরাইয়ার কর্মে হযরত আয়িশা (রা)-এর আদর্শ ফুটে উঠেছে।
ঘ. ‘সালেহার জীবনে হযরত রাবেয়া (র)-এর আদর্শ ফুটে উঠেছে’ Ñউক্তিটি যথার্থ। নিচে উক্তিটির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলোÑ আমরা জানি, হযরত রাবেয়া বসরি (র) পিতামাতার ইন্তিকালের পর ক্রীতদাসী হিসেবে বিক্রীত হন। রাবেয়া বসরি (র) দিনের বেলা কঠোর পরিশ্রম করতেন। রাতের বেলা বিনিদ্র থেকে একমাত্র আল­াহর ইবাদত করতেন। তিনি আল­াহর ওপর অত্যন্ত আস্থাশীল ছিলেন। তিনি কোনো মানুষের সাহায্য গ্রহণ করতেন না। খেয়ে-না খেয়ে সর্বাবস্থায় তিনি আল­াহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতেন। তিনি জীবনে বিয়েও করেননি।
হযরত রাবেয়া বসরি (র)-এর মতো উদ্দীপকের সালেহাও কখনো পরমুখাপেক্ষী হতো না। আল­াহর সন্তুষ্টি অর্জনই ছিল তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য। হযরত রাবেয়া বসরি (র)-এর মতো সালেহাও জীবনে বিয়ে করেনি। তাই বলা যায় যে, সালেহার জীবনে হযরত রাবেয়া বসরি (র)-এর আদর্শ ফুটে উঠেছে।

প্রশ্ন -৩ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ধর্মীয় শিক্ষক শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের সম্মুখে এমন একজন ব্যক্তির আদর্শের কথা তুলে ধরেন, যিনি রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণতা, ধর্মপরায়ণতা, সাম্য-মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ও সকলের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি খোলাফায়ে রাশিদিন না হয়েও তাদের পদাংক অনুসরণ করেছেন।
ক. কাকে পঞ্চম খলিফা বলা হয়? ১
খ. ‘ফাতহুম মুবিন’ বলতে কি বুঝ? লিখ। ২
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যক্তির কর্মকাণ্ড ও চিন্তাধারা কোন খলিফার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তির জীবনীর আলোকে গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় একজন শাসকের নীতি কেমন হওয়া উচিত বলে তুমি মনে কর? ৪
ল্ফল্প ৩নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) কে ইসলামের পঞ্চম খলিফা বলা হয়।
খ. ‘ফাতহুম মুবিন’ শব্দের অর্থ প্রকাশ্য বিজয়। ষষ্ঠ হিজরি সনে মক্কার অদূরে হুদায়বিয়া নামক স্থানে হযরত মুহাম্মদ (স) ও মক্কার কাফিরদের মধ্যে হুদায়বিধার সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। বাহ্যিকভাবে ব্যতিক্রম মনে হলেও এ সন্ধির মাধ্যমে কুরাইশরা মুসলমানদের স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এ কারণে পবিত্র কুরআনে এ সন্ধিকে ‘ফাতহুম মুবিন’ বা প্রকাশ্য বিজয় বলা হয়েছে।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যক্তির কর্মকাণ্ড ও চিন্তাধারা খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ইসলামের পঞ্চম খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক। তিনি ছিলেন আল্লাহর নির্দেশ পালনকারী, বিনয়ী ও নম্র প্রকৃতির মানুষ। খলিফা হয়েও তিনি অত্যন্ত সহজ, সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তিনি মাত্র দু’দিরহাম ভাতা গ্রহণ করতেন। তিনি অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করতেন। তাঁর আমলে খ্রিষ্টান, ইহুদি ও অগ্নি উপাসকগণকে তাদের গির্জা ও উপাসনালয় নিজ নিজ অধিকারে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আমরে সকল ধর্মের লোক স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করত। তিনি সা¤প্রদায়িকতার বিপরীতে উদার চিন্তাধারার মানুষ ছিলেন।
উদ্দীপকে দেখা যায় যে, শিক্ষক শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের এমন একজন ব্যক্তির আদর্শের কথা তুলে ধরেন যিনি রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণতা, ধর্মপরায়ণতা, সাম্য-মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ও সকলের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। আর আলোচনা থেকে স্পষ্ঠ যে এ ব্যক্তির কর্মকাণ্ড ও চিন্তাধারা। উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) এর সাথে সাদৃশ্যপূণ।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তির জীবনীর আলোকে আমি বলতে পারি গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় একজন শাসকের বৈশিষ্ট্য হবে ন্যায়পরায়ণতা, ধর্মপরায়ণতা, সাম্য-মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব এবং সকলের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) গণতান্ত্রিক উপায়ে খলিফা নির্বাচিত হন। উমাইয়া বংশের লোকজন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রভাবে রাষ্ট্র ও জনসাধারণের যে সকল সম্পদ দখল করে রেখেছিল তিনি তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এবং যথাযথ মালিকের কাছ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এমনকি তাঁর স্বীয় স্ত্রীর সম্পত্তি, উপঢৌকনসামগ্রী, গহনাদি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বা বাইতুল মালে জমা দেন। রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষেত্রে খোলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ বাস্তবায়ন করেন। তিনি সর্বজনীন মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিরপেক্ষ শাসননীতি প্রণয়ন করেন। রাষ্ট্রে সুখশান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য পূর্ববর্তী উমাইয়া খলিফাদের সাম্রাজ্যবাদী ও স্বার্থান্বেষী নীতি সম্পূর্ণরূপে বর্জন করেন। রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণতা, ধর্মপরায়ণতা, সাম্যের ধারণা ও সকল জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। এ কারণে তাঁকে ‘উমাইয়া সাধু’ (টসধুুধফ ঝধরহঃ) বলা হয়। কাজেই আমি মনে করি যে, গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় শাসকের নীতি হবে ন্যায়পরায়নতা, ধর্মপরায়নতা, সাম্য-মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব, সর্বোপরি সকলের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
প্রশ্ন -৪ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সায়মা চেয়ারম্যান সাব্বির সাহেবের বাড়ির একজন গৃহপরিচারিকা। সে সারাদিন তার গৃহিণীর নির্দেশ মোতাবেক অমানবিক পরিশ্রম করে। তাই প্রায় রাতেই সায়মা জেগে জেগে ইবাদত বন্দেগী করে ও মোনাজাত করে আল্লাহর কাছে চেয়ারম্যানের গৃহিণীর নির্যাতন থেকে বাঁচার প্রার্থনা করে। জনাব সাব্বির অত্যন্ত বিনয়ী ও নম্র প্রকৃতির মানুষ। প্রায়ই আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করেন এবং সম্পদশালী হয়েও অত্যন্ত সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেন।
ক. কাদেরকে প্রাচীনকালে ‘ফিরআউন’ বলা হতো? ১
খ. মু’জিজা বলতে কী বুঝ? ২
গ. কোন মহিয়সী নারীর জীবনের সাথে সায়মার জীবনের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.জনাব সাব্বিরের উক্ত জীবনাচরণকে হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজের জীবন চরিত্রের আলোকে মূল্যায়ন কর ৪
ল্ফল্প ৪নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. প্রাচীনকালে মিসরীয় বাদশাহদের ফিরআউন বলা হতো।
খ. মু’জিজা হলো অলৌকিক ক্ষমতা। অর্থাৎ নবুয়ত অস্বীকারকারীদের সাথে চ্যালেঞ্জ করার সময় নবুয়তপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি হতে এমন অলৌকিক কাজ সংঘটিত হওয়া যার মোকাবিলা করতে অবিশ্বাসীরা অক্ষম তাকে মু’জিজা বলে।
মহান আল্লাহ তায়ালা নবি-রাসুলদের মু’জিজার ক্ষমতা দান করেছিলেন। তারা মানুষকে আল্লাহর দাওয়াত দেওয়ার জন্য মু’জিজা দেখাতেন।
গ. হযরত রাবেয়া বসরি (র)-এর জীবনের সাথে সায়মার জীবনের মিল রয়েছে।
দরিদ্র পিতার সন্তান রাবেয়া বসরি বাল্যবয়সেই তার পিতামাতাকে হারান। তখন তার বড় বোনেরা জীবন ও জীবিকার অন্বেষণে অন্যত্র চলে যান। এ সময়ে বসরায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে তিনি ক্রীতদাসী হিসেবে বিক্রীত হন। তাঁর মনিব ছিল দুষ্ট প্রকৃতির। তাই তাঁকে দিয়ে অনেক কাজ করাত। রাবেয়া বসরি দিনের বেলায় কঠোর পরিশ্রম করতেন। তারপরও রাতের বেলায় বিনিদ্র থেকে শুধু আল্লাহর ইবাদত করতেন। এ মহীয়সী নারীর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুঠে উঠেছে উদ্দীপকের সায়মার জীবনে।
চেয়ারম্যান সাব্বির সাহেবের কাজের মেয়ে সায়মা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে। তারপরও সায়মা সারারাত ইবাদত বন্দেগী করে এবং চেয়ারম্যানের গৃহিণীর নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য প্রার্থনা করে। উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, হযরত রাবেয়া বসরি (র)-এর জীবনের সাথে সায়মার জীবনের মিল রয়েছে।
ঘ. হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-এর জীবনচরিতের আলোকে উদ্দীপকের জনাব সাব্বিরের জীবনাচরণ মূল্যায়ন করা হলো।
ইসলামের পঞ্চম খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন। তিনি সর্বজনীন মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিরপেক্ষ শাসননীতি প্রণয়ন করেন। তিনি সকল জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন আল্লাহর নির্দেশ পালনকারী, বিনয়ী ও নম্র প্রকৃতির মানুষ। তাঁর অন্তরে এত আল্লাহভীতি ছিল যে, তিনি প্রায়ই আল্লাহর ভয়ে কাঁদতেন। খলিফা হয়েও তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তিনি দৈনিক মাত্র দু’দিরহাম ভাতা গ্রহণ করতেন। এ মহান ব্যক্তির জীবনচরিত্রের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাব্বির সাহেবের জীবনাচরণে। জনাব সাব্বির অত্যন্ত বিনয়ী ও নম্রপ্রকৃতির মানুষ। প্রায়ই তিনি আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করেন এবং সম্পদশালী হয়েও অত্যন্ত সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেন।
উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, জনাব সাব্বির হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-এর মতো একজন আল্লাহভীরু, বিনয়ী ও নম্র প্রকৃতির মানুষ।

প্রশ্ন -৫ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
দনিয়া প্রগতি ক্লিনিকে শায়লা একটি বাচ্চা জন্ম দেন। অন্য একজন মহিলা বাচ্চাটি তার বলে দাবি করলে শায়লা ইউনিয়ন কাউন্সিলে বিচারপ্রার্থী হন। চেয়ারম্যান আলম বাদী-বিবাদী উভয়ের কথা শুনে রায় দেন- “বাচ্চাটিকে দুই টুকরা করে দুইজনকে দিয়ে দাও।” রায় শুনে শায়লা চিৎকার দিয়ে বলে আমি এ বাচ্চার দাবি ত্যাগ করলাম। বাচ্চাটি তাকে দিয়ে দিন। চেয়ারম্যান বাচ্চাটি শায়লার বুঝতে পেরে বাচ্চাটি তাকে দিয়ে বিবাদীকে মিথ্যা বলার দায়ে শাস্তি দেন।
ক. প্রাচীনকালে মিসরীয় বাদশাহদের কী বলা হতো? ১
খ. হযরত রাবেয়া বসরি (রা) কীভাবে জীবনযাপন করতেন? ২
গ. উদ্দীপকের বিচারকার্য কোন নবির ঘটনার প্রতিচ্ছবি? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.উক্ত নবি (আ)-এর সূ² বিচার ক্ষমতা বালক বয়স থেকেই প্রমাণিত? ব্যাখ্যা কর। ৪
ল্ফল্প ৫নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. প্রাচীনকালে মিসরীয় বাদশাহদের ফিরআউন বলা হতো।
খ. হযরত রাবেয়া বসরি (র) সদাসর্বদা সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। তিনি উচ্চাভিলাষী ছিলেন না। তিনি সর্বদা নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে করতেন। বেশি বেশি আল¬াহর নিকট ক্ষমা চাইতেন। সর্বদা আন্তরিকভাবে আল¬াহর নিকট তাওবা (অনুশোচনা) করতেন। তিনি বলতেন, ‘মুখে মিথ্যা তাওবা করে কী লাভ যদি কাজে তা প্রমাণ পাওয়া না যায়। তিনি সর্বদা আল¬াহর একজন শোকরগুজার বান্দা ছিলেন। খেয়ে-না খেয়ে, দুঃখে-কষ্টে সর্বাবস্থায় তিনি আল¬াহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতেন।
গ. উদ্দীপকের ঘটনা হযরত সুলায়মান (আ)-এর সূ² বিচার কার্যের প্রতিচ্ছবি।
দুজন নারী একটি শিশুর মাতৃত্ব দাবি করল। এর মীমাংসা করার জন্য তারা হযরত দাউদ (আ)-এর নিকট এলে সেখানে হযরত সুলায়মান (আ)ও উপস্থিত ছিলেন। হযরত সুলায়মান (আ) বললেন, শিশু হলো একটি অথচ দাবিদার দুজন। তাহলে শিশুটি কেটে দুভাগ করে দুজনকে দিয়ে দেওয়া হোক। একথা বলে হযরত সুলায়মান (আ) একটি ছুরি হাতে নিলেন। শিশুটিকে মাটিতে শুইয়ে দুই ভাগ করার জন্য উদ্যত হলেন। তখনই একজন নারী কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আল¬াহর দোহাই! শিশুটিকে কাটবেন না। আমি আমার দাবি ত্যাগ করলাম। শিশুটিকে জীবিত রাখুন এবং অপরজনকে দিয়ে দিন। হযরত সুলায়মান (আ) বুঝলেন, এ নারীই শিশুটির প্রকৃত মা। তখন তিনি তাকে শিশুটি দিয়ে দিলেন এবং অন্যজনকে মিথ্যা বলার দায়ে শাস্তি দিলেন। উদ্দীপকের বিচারকার্যেও এ ঘটনার অনুসরণ দেখা যায়।
ঘ. উদ্দীপকের নবি সুলায়মান (আ)-এর সূ² বিচার ক্ষমতা বালক বয়স থেকেই প্রমাণিত ছিল।
বালক বয়সে হযরত সুলায়মান (আ)-এর আরও একটি ঘটনা হলো- একদা দুজন লোক হযরত দাউদ (আ)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বিচারপ্রার্থী হলো। তাদের একজন ছিল রাখাল অপরজন কৃষক। কৃষক তথা শস্যক্ষেতের মালিক ছাগল রাখালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করল যে, রাখালের ছাগল রাতে ছাড়া পেয়ে তার সমস্ত ফসল বিনষ্ট করে ফেলেছে। সত্যতা যাচাই করার পর হযরত দাউদ (আ) রায় দিলেন যে, ছাগলের মালিক তার সমস্ত ছাগল শস্যক্ষেতের মালিককে অর্পণ করুক। মামলার বাদী-বিবাদী উভয়ে রায় শুনে দরবার হতে যাওয়ার পথে হযরত সুলায়মান (আ)-এর সাথে দেখা হলে তিনি সব শুনে বললেন- আমি রায় দিলে তা ভিন্ন হতো, উভয় পক্ষের উপকার হতো। হযরত সুলায়মান (আ) তার পিতার নিকট তা ব্যক্ত করার পর তার পিতা বললেন, এর চাইতে উত্তম রায় কী হতে পারে? হযরত সুলায়মান (আ) বললেন, আপনি সমস্ত ছাগল শস্যক্ষেতের মালিককে দিয়ে দিন। সে এগুলোর দুধ, পশম দ্বারা উপকৃত হোক। আর শস্যক্ষেত ছাগলের মালিকের নিকট অর্পণ করুন। সে তাতে চাষাবাদ করে শসন্য উৎপাদন করবে। যখন শস্যক্ষেত ছাগলে বিনষ্ট করার পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে তখন তা তার মালিককে বুঝিয়ে দেবে। হযরত দাউদ (আ) এ রায় পছন্দ করলেন এবং তা কার্যকর করতে বললেন।

প্রশ্ন -৬  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
চেয়ারম্যান ইমান আলী একজন ন্যায়বিচারক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তিনি খুব সূ²ভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। একদিন দুই মহিলা একটি শিশুর মাতৃত্বের দাবি নিয়ে তার নিকট বিচারপ্রার্থী হয়। তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞার সাথে বিষয়টির নিষ্পত্তি করেন। অবশেষে তাঁর বিচারে বাদী বিবাদী উভয়ই খুশি হয়। (পাঠ-১)
ক. কতজন বাদশাহ সমগ্র পৃথিবীর শাসক ছিলেন? ১
খ. হযরত সুলায়মান (আ) বাতাসে ভর করে চলতেন ব্যাখ্যা কর? ২
গ. কোন বাদশাহ বিচারকার্যের সাথে চেয়ারম্যান ইমান আলীর বিচারকার্যের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.‘নবি হিসেবে উক্ত বাদশাহর বিশেষ মর্যাদা ছিল’Ñ বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ৬নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. চারজন বাদশাহ সমগ্র পৃথিবীর শাসক ছিলেন।
খ. খুব দ্রæত যাতায়াত করার জন্য মহান আল্লাহ হযরত সুলায়মান (আ) কে বাতাসে ভর করে চলাচল করার ক্ষমতা দান করেছিলেন। তাঁর যখন যে স্থানে যাওয়ার প্রয়োজন হতো তিনি বাতাসকে আদেশ করলে বাতাস তাঁকে তাঁর বিশাল সিংহাসন ও লোকবলসহ মুহ‚র্তে সে স্থানে পৌঁছে দিত।
গ. বাদশাহ সুলায়মান (আ)-এর বিচারকার্যের সাথে চেয়ারম্যান ইমান আলীর বিচারকার্যের মিল রয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা হযরত সুলায়মান (আ)-কে খুব সূ²ভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। একদা দুজন নারী একটি শিশুর মাতৃত্বের দাবি নিয়ে হযরত দাউদ (আ)-এর নিকট এলে সেখানে উপস্থিত হযরত সুলায়মান (আ) একটি ছুরি হাতে নিলেন। তখন একজন নারী কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আল্লাহর দোহাই! শিশুটিকে কাটবেন না। তাকে অপরজনকে দিয়ে দিন। সুলায়মান (আ) বুঝলেন, এ নারীই শিশুটির প্রকৃত মা। তিনি তাকে শিশুটি দিয়ে দিলেন এবং অন্যজনকে মিথ্যা বলার দায়ে শাস্তি দিলেন। এভাবেই হযরত সুলায়মান (আ) প্রজার সাথে সূ²ভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। উদ্দীপকের চেয়ারম্যান ইমান আলীও একজন ন্যায়বিচারক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। একদিন তার নিকট দুই মহিলা একটি শিশুর মাতৃত্বের দাবি নিয়ে আসলে তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞার সাথে বিষয়টির নিষ্পত্তি করেন।
সুতরাং বলা যায়, বাদশাহ সুলায়মান (আ)-এর বিচার কার্যের সাথে উদ্দীপকের ইমান আলীর বিচারকার্য সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. ‘নবি হিসেবে উক্ত বাদশাহর বিশেষ মর্যাদা ছিল’Ñউক্তিটি যথার্থ।
হযরত সুলায়মান (আ) আল্লাহর প্রসিদ্ধ নবি ছিলেন। যে চারজন বাদশাহ সমগ্র পৃথিবীর শাসক ছিলেন হযরত সুলায়মান (আ) তাঁদের অন্যতম। নবি হিসেবে তাঁর বিশেষ মর্যাদা ছিল। আল্লাহ তাঁকে পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, জীব-জন্তু ও জিন-ইনসানের ভাষা বোঝার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। তাঁর যখন যে স্থানে যাওয়ার প্রয়োজন হতো তিনি বাতাসকে আদেশ করলে বাতাস তাঁকে তাঁর বিশাল সিংহাসন ও লোকবলসহ মুহ‚র্তে সে স্থানে পৌঁছে দিত। তাছাড়া আল্লাহ তায়ালা জিনদের মধ্য হতে একদলকে হযরত সুলায়মান (আ)-এর অধীন করে দিয়েছিলেন। তারা হযরত সুলায়মান (আ)-এর জন্য সমুদ্র হতে মুক্তা সংগ্রহ করে আনত। তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যে গোয়েন্দার কাজ করতে আল্লাহ তাঁকে ‘হুদহুদ’ নামক একটি পাখি দিয়েছিলেন। এসবই তাঁর বিশেষ মর্যাদার নিদর্শন।
প্রশ্ন -৭ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক্লাসে তানিয়া ও মুহসিনা বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করছিল। কথা প্রসঙ্গে তানিয়া বলল, “বর্তমান বিশ্বে অনেক রাজা-বাদশাহ তাদের রাজত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে। যেভাবে অনেক অনেক বছর আগে অসংখ্য ইসরাইলি পুত্রসন্তান মিসরীয় সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হয়।” মুহসিনা বলে, “আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়, সীমালঙ্ঘনকারী অত্যাচারী অনেক ক্ষমতাবান বাদশাহকেও আল­াহ ধ্বংস করেছেন”। (পাঠ-২)
ক. হযরত মুসা (আ) কার দুধপান করেছিলেন? ১
খ. ওয়ালিদ শিশুপুত্রদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল কেন? ২
গ. তানিয়ার বক্তব্যে অনেক অনেক বছর আগের কোন অত্যাচারী বাদশাহর কর্মকাণ্ড ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.অনেক ক্ষমতাবান বাদশাহকেও আল্লাহ ধ্বংস করেছেনÑ উদ্দীপকের আলোকে বক্তব্যটি মূল্যায়ন কর। ৪
ল্ফল্প ৭নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. হযরত মুসা (আ) তাঁর মায়ের দুধই পান করেছিলেন।
খ. মিসরের বাদশাহ ওয়ালিদের স্বপ্নের তাবির সম্পর্কে গণকরা জানালÑ“ইসরাঈল বংশে এমন একটি শিশুসন্তান জন্মগ্রহণ করবে, যে তাঁর রাজত্বের ধ্বংসের কারণ হবে।” গণকদের থেকে নিজ স্বপ্নের এ ব্যাখ্যা শুনে ওয়ালিদ ইসরাঈল বংশে যত শিশুপুত্র জন্মগ্রহণ করবে, তাদের প্রত্যেককে হত্যার নির্দেশ দেন।
গ. তানিয়ার বক্তব্যে প্রাচীন মিসরীয় বাদশাহ ‘ফিরআউন’-এর অত্যাচারী কর্মকাণ্ড ফুটে উঠেছে।
প্রাচীনকালে মিসরীয় বাদশাহদের ‘ফিরআউন’ বলা হতো। হযরত মুসা (আ)-এর সমসাময়িক ফিরআউনের নাম ছিল ওয়ালিদ ইবনে মুসআব। সে স্বপ্নে দেখে যে, ‘বাইতুল মুকাদ্দাস থেকে এক ঝলক আগুন এসে মিসরকে গ্রাস করে ফেলেছে এবং তার অনুসারী ‘কিবতি’ স¤প্রদায়কে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু বনি ইসরাঈলদের কোনো ক্ষতি করছেনা। ফিরআউন তার রাজ্যের সকল স্বপ্নবিশারদ থেকে একসাথে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চায়। তারা বলল, ইসরাইল বংশে এমন এক পুত্র সন্তানের আগমন হবে, যে আপনাকে ও আপনার রাজত্বকে ধ্বংস করে দেবে। স্বপ্নের ব্যাখ্যা শুনে ফিরআউন ভীষণ উত্তেজিত হয়ে সেনাবাহিনীকে আদেশ দিল যে, বনি ইসরাঈল গোত্রে কোনো পুত্রসন্তান জš§গ্রহণ করলে তাকে যেন হত্যা করা হয়। এভাবে অসংখ্য ইসরাঈলি পুত্রসন্তান ফিরআউনের সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হয়। এ ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করেছে উদ্দীপকের তানিয়া।
ঘ. অনেক ক্ষমতাবান বাদশাহকেও আল্লাহ ধ্বংস করেছেন- উদ্দীপকের বক্তব্য থেকে সুস্পষ্ট যে, তারা সকলেই ছিলেন সীমালঙ্ঘনকারী ও অত্যাচারী।
পবিত্র কুরআনের বর্ণনা এবং ঐতিহাসিক বিবরণ থেকে জানা যায়, মিসরের বাদশাহ ওয়ালিদ ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বকালের চরম সীমালঙ্ঘনকারী। কারণ, সেই একমাত্র বাদশাহ যে নিজেকে “মানুষের শ্রেষ্ঠতম প্রভু” বলে দাবি করেছে। মুসা (আ)-এর আবির্ভাবের নিদর্শন পেয়ে সে অগণিত নিষ্পাপ শিশু হত্যা করেছে। উদ্দীপকে তার ইঙ্গিত রয়েছে। অতঃপর মুসা (আ)-কে পরাস্ত করার জন্য সাপের যাদু দেখিয়েছে। কিন্তু মুসা (আ)-এর মুজিজার সামনে ফিরআউন সন্ত্রস্ত্র হয়ে পালিয়ে গেছে। আর তার যাদুকর বাহিনীও আত্মসমর্পণ করেছে।
একপর্যায়ে হযরত মুসা (আ)-এর জাতিকে আক্রমণ করার জন্য যখন নীলনদের দিকে ছুটে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা তখন শুধুমাত্র মুসা ও তার বাহিনীর জন্য নীলনদে প্রশস্ত রাস্তা করে দিয়েছেন। মুসা (আ)-এর অনুসারীরা যখন নীলনদ পার হয়ে তীরে পৌঁছে গেছে, তখন ফিরআউন বাহিনী নীলনদের মাঝখানে এসেছে। এ অবস্থায় আল্লাহর হুকুমে ফিরাউন বাহিনীর সলিল সমাধি হয়। এভাবেই সীমালঙ্ঘনকারী ওয়ালিদ ধ্বংস হয়। প্রাচীন এ বাদশাহের পরিণতির প্রেক্ষিতেই উদ্দীপকে এ বক্তব্য উঠে এসেছে যে, সীমালঙ্ঘনকারী অত্যাচারী অনেক ক্ষমতাবান বাদশাহকে আল্লাহ পাক ধ্বংস করেছেন।
প্রশ্ন -৮ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
খুলনা জিলা স্কুলের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আজিম ও টমাস। আজিম মুসলমান আর টমাস খ্রিষ্টান। তারা প্রায়ই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। টমাস বলল, “ঈসা (আ) আল্লাহর পুত্র, মারিয়াম আল্লাহর স্ত্রী। ঈসা (আ)-কে ইহুদিরা ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করেছে।” একথা শুনে আজিম বলল, “তোমার কথা সঠিক নয়। হযরত ঈসা (আ.) -এর জš§ আল্লাহর ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।” (পাঠ-৩)
ক. পবিত্র কুরআনে কাকে ‘কালিমাতুল্লাহ’ ও ‘রুহুল্লাহ’ নামে অভিহিত করা হয়েছে? ১
খ. ইহুদিরা হযরত ঈসা (আ)-এর নিকট তাইতালানুস’ নামক ব্যক্তিকে পাঠায় কেন? ২
গ. টমাসের বক্তব্য ইসলামের আলোকে ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.হযরত ঈসা (আ)-এর জš§ সম্পর্কে আজিমের মন্তব্য যথার্থ- বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ৮নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. পবিত্র কুরআনে হযরত ঈসা (আ)-কে ‘কালিমাতুল্লাহ’ ও ‘রুহুল্লাহ’ নামে অভিহিত করা হয়েছে।
খ. হযরত ঈসা (আ) ইহুদিদেরকে তাদের অপকর্ম করতে বাধা দিলে তারা তাঁর ওপর খুব ক্ষিপ্ত হয় এবং তাঁকে অনেক কষ্ট দেয়। পাশাপাশি হত্যার ষড়যন্ত্রও করে। এ হীন উদ্দেশ্যে তারা হযরত ঈসা (আ) -কে ঘর অবরোধ করে এবং তাঁকে হত্যা করার জন্য ‘তাইতালানুস’ নামক জনৈক নরাধমকে পাঠায়।
গ. ইসলামের দৃষ্টিতে টমাসের বক্তব্য সঠিক নয়; বরং এটি খ্রিষ্টানদের ভ্রান্ত বিশ্বাস।
হযরত ঈসা (আ) আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসুল। তাঁকে আল্লাহর বিশেষ কুদরতে পিতা ব্যতীত সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি সারা জীবন তাওহিদ তথা আল্লাহর একত্ববাদ প্রচার করেছেন। কিন্তু তাঁর উম্মতেরা তাঁকে আল্লাহর পুত্র বলে প্রকাশ্যে শিরকে লিপ্ত হচ্ছে। যেমনটি প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপকে টমাসের বক্তব্যে। টমাস তার সহপাঠী আজিমের সাথে মত বিনিময়কালে বলেছে, “ঈসা (আ) আল্লাহর পুত্র, মারিয়াম আল্লাহর স্ত্রী। ঈসা (আ)-কে ইহুদিরা ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করেছে।” টমাসের এ বক্তব্য ইসলামের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
সুতরাং আমরা বলতে পারি, ইসলামের আলোকে টমাসের বক্তব্য সঠিক নয়।
ঘ. ‘হযরত ঈসা (আ)-এর জš§ আল্লাহর ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ’- উদ্দীপকে আজিমের এ মন্তব্য যথার্থ।
হযরত ঈসা (আ) আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসুল। তাঁকে আল্লাহর বিশেষ কুদরতে পিতা ব্যতীত সৃষ্টি করা হয়েছে। অথচ খ্রিষ্টানরা তাঁকে আল্লাহর পুত্র এবং তাঁর মাতা মারিয়াম (আ)-কে আল্লাহর স্ত্রী বলে মনে করে। তাদের এ বিশ্বাস ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। সঙ্গত কারণে উদ্দীপকের টমাস ঈসা (আ)-কে ‘আল্লাহর পুত্র’ বলায় তার মুসলমান বন্ধু আজিম উপরিউক্ত মন্তব্য করে। প্রকৃতপক্ষে ঈসা (আ.) কেবলমাত্র আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তাঁর জš§ আল্লাহর ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আ)-কে পিতামাতা ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং তাঁর জন্য হযরত ঈসা (আ)-কে শুধু পিতা ছাড়া সৃষ্টি করা মোটেও কঠিন ব্যাপার নয়। হযরত ঈসা (আ) কেবলমাত্র আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তাঁকে আল্লাহর পুত্র বলা প্রকাশ্য শিরক। সুতরাং আমরা হযরত ঈসা (আ)-কে আল্লাহর রাসুল হিসেবেই বিশ্বাস করব।
প্রশ্ন -৯ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আফসার সাহেব শিশুদের প্রতি সদয় আরচণ করেন। শিশুদের প্রতি তার আদর, স্নেহ, দয়া দেখে জনাব শিহাব এর কারণ জিজ্ঞেস করেন। আফসার সাহেব তখন সুনানে তিরমিজির একটি হাদিস তাকে শোনান। (পাঠ- ৪)
ক. আদর্শ কী? ১
খ. মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ কে? বুঝিয়ে বল। ২
গ. আফসার সাহেবের উল্লিখিত সুনানে তিরমিজির হাদিসটি বর্ণনা কর। ৩
ঘ.উদ্দীপকের আলোকে প্রমাণ কর, ব্যক্তিগত জীবনে আফসার সাহেব হযরত মুহাম্মদ (স) কে অনুসরণ করেন। ৪
ল্ফল্প ৯নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. জীবনের অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় নিয়মনীতিকে আদর্শ বলা হয়।
খ. হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন মাবন জাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

অর্থ : “নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুলের জীবনে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।” (সূরা আল-আহযাব, আয়াত-২১)
ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক সকল দিক দিয়েই হযরত মুহাম্মদ (স.) আমাদের আদর্শ।
গ. আফসার সাহেবের উল্লিখিত সুনামে তিরমিজির হাদিসটি হলো

অর্থ : “যে আমাদের শিশুদের প্রতি দয়া করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়।”
উদ্দীপকে আফসার সাহেব শিশুদের প্রতি সদয় আচরণ করেন। তার আদর, স্নেহ ও দয়া দেখে জনাব শিহাবের জিজ্ঞাসার জবাবে স্বাভাবিকভাবেই তিনি শিশুদের প্রতি দয়া সংক্রান্ত হাদিস উল্লেখ করবেন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে তিনি সুনামে তিরমিজির সংশ্লিষ্ট এ হাদিসই উল্লেখ করবেন যে, হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন : অর্থ : “যে আমাদের শিশুদের প্রতি দয়া করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (সুনানে তিরমিজি)
ঘ. আফসার সাহেব ব্যক্তিগতভাবে শিশুদের প্রতি সদয় আচরণ করেন। উদ্দীপকে তার এ গুণটির কারণ হিসেবে তিনি সুনামে তিরমিজির হাদিসের উল্লেখ করেন যা প্রমাণ করে তিনি ব্যক্তিগত জীবনে হযরত মুহাম্মদ (স) কে অনুসরণ করেন।
হযরত মুহাম্মদ (স.) ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত বিনয়ী, সদালাপী, হাস্যেজ্জ্বল ও দয়ালু ছিলেন। ধনী, দরিদ্র, ইয়াতিম, অসহায়, রাজা-প্রজা সকলের সাথে তার আচরণ ছিল অনুকরণীয়। তাঁর দয়া ও ভালোবাসা সকলের পাশাপাশি শিশুদের প্রতিও ফুটে ওঠে। তিনি শিশুদের প্রতি সদয় আচরণ করতেন। অন্যকেও তা করতে উৎসাহ দিয়েছেন।
উদ্দীপকের আফসার সাহেবের শিশুদের প্রতি আচরণ এবং জনাব শিহাবের সাথে আলাপ-চারিতা এ কথাই স্পষ্ট করে যে জনাব আফসারের ব্যক্তিগত জীবন মূলত হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর অনুসরণ।
প্রশ্ন -১০ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সাবিহা ৮ম শ্রেণিতে পড়ে। সে খুব মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত নামায আদায় করে এবং কুরআন তিলাওয়াত করে। ইসলামি হুকুম-আহকাম মেনে চলে। একদিন ক্লাসে কিছু ছেলেমেয়ে তার প্রতিভায় ঈর্ষাকাতর হয়ে তার বিরুদ্ধে অপবাদ রটিয়ে দেয়। এতে সে ব্যথিত হয় এবং স্যারের কাছে বিষয়টি বলে। স্যার তাকে ইসলামের একজন মহীয়সী নারীর কাহিনী শোনান। যে মহীয়সী নারী মেধা, প্রতিভা ও ধৈর্য দ্বারা সবকিছু জয় করে নিয়েছিলেন। মানব ইতিহাসে তিনি নারীকুলের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। (পাঠ- ৫)
ক. সিদ্দিকা ‘ও’ ‘হুমায়রা’ কার উপাধি ছিল? ১
খ. সূরা নূরের ১১-২১ নম্বর আয়াতগুলো নাজিল হয় কেন? ২
গ. সাবিহার শিক্ষক ইসলামের কোন মহীয়সী নারীর কথা বলেছেন? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.‘মানব ইতিহাসে তিনি নারীকুলের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ” উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ১০নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়িশা (রা)-এর উপাধি ছিল ‘সিদ্দিকা’ ও ‘হুমায়রা’।
খ. ষষ্ঠ হিজরি সনে বনু মুস্তালিক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে হযরত আয়িশা (রা)-এর গলার হার হারিয়ে যায়। হারানো হার খুঁজতে গিয়ে তিনি কাফেলা থেকে পিছনে পড়ে যান। ফলে তাঁর ফিরতে দেরি হয়ে যায়। এ সুযোগে মুনাফিকরা তাঁর বিরুদ্ধে অপবাদ রটনা করল। এতে রাসুল (স) অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়েন। অবশেষে হযরত আয়িশা (রা)-এর পবিত্রতা বর্ণনা করে সূরা নূরের ১১-২১নং আয়াতগুলো নাজিল হয়।
গ. সাবিহার শিক্ষক ইসলামের যে মহীয়সী নারীর কথা বলেছেন তিনি হলেন উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়িশা (রা)।
হযরত আয়িশা (রা) ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (স)-এর সর্বকনিষ্ঠা স্ত্রী। তিনি চারিত্রিক গুণাবলির দ্বারা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছিলেন। তাঁর মধ্যে বহুগুণের সমন্বয় ঘটেছিল। তিনি ছিলেন অনন্য সুন্দরী, তীক্ষè মেধাশক্তি সম্পন্ন, সত্যের সাধক, আদর্শ স্বামী সেবিকা, জ্ঞান তাপস ও সদালাপী। এক কথায় মানবীয় চরিত্রের সকল গুণ তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল। মুনাফিক ও হিংসুকগণ তাঁর ওপর যখন অপবাদ দিয়েছিল তখন তিনি আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। ধৈর্যই তাঁকে স্থির-অবিচল রেখেছিল। উদ্দীপকের মেধাবী ছাত্রী সাবিহার প্রতিভায় ঈর্ষাকাতর হয়ে তার সহপাঠীরা অপবাদ রটালে তার শিক্ষক তাকে ইসলামের এ মহীয়সী নারীর কাহিনী শোনান। প্রকৃতপক্ষে সাবিহার শিক্ষক চেয়েছেন এ কাহিনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সাবিহা ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি মোকাবিলা করুক এবং হযরত আয়িশা (রা)-এর জীবনাদর্শের আলোকে নিজের জীবন গড়ুক।
ঘ. মানব ইতিহাসে হযরত আয়িশা (রা) নারীকুলের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ-এ উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
হযরত আয়িশা (রা)-এর চরিত্র ও আদর্শ অতুলনীয়। তিনি তাঁর চারিত্রিক গুণাবলির দ্বারা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছিলেন। তাঁর মধ্যে বহুগুণের সমন্বয় ঘটেছিল। তিনি ছিলেন অনন্য সুন্দরী, তীক্ষè মেধাশক্তি সম্পন্ন, সত্যের সাধক, আদর্শ স্বামী সেবিকা, জ্ঞানতাপস ও সদালাপী। এককথায় মানবীয় চরিত্রের সকল গুণ তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল। রাতের অধিকাংশ সময় তিনি ইবাদতে মশগুল থাকতেন। গরিব-অসহায়দের দান-সাদাকা করতে তিনি পছন্দ করতেন ও আনন্দ পেতেন। দানশীলতা, মিতব্যয়িতা, দয়া, পরোপকারিতা, ধর্মপরায়ণতাসহ সর্বপ্রকার গুণে তিনি গুণান্বিত ছিলেন। তিনি কঠোরভাবে পর্দা করতেন। মুনাফিক ও হিংসুকগণ তাঁর বিরুদ্ধে অপবাদ রটনা করলেও তিনি ধৈর্য হারাননি, বরং আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে অটল ছিলেন। হযরত আয়িশা (রা)-এর এতসব গুণাবলির কারণে মহানবি (স) বলেনÑ ‘নারী জাতির ওপর আয়িশা (রা)-এর মর্যাদা তেমন, যেমন খাদ্যসামগ্রীর ওপর সারিদের মর্যাদা।’ উদ্দীপকে শিক্ষক এ মহীয়সী নারীর কাহিনী শোনান এবং বলেন, মানব ইতিহাসে হযরত আয়িশা (রা) নারীকুলের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ।
প্রশ্ন -১১ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
দরিদ্র পিতামাতার একমাত্র সন্তান রাবুর জন্মের একবছর পরেই তার পিতা ইন্তিকাল করেন। এতে তার জীবন অতি কষ্টে কাটে। তাকে ধনী লোকের কাছে সাহায্য চাইতে বলা হলে সে বলে, ‘আল্লাহ কী দরিদ্রকে তার দারিদ্রের কারণে ভুলে যাবেন?’ জীবিকার তাগিদে সে এক দুষ্ট লোকের বাসায় কাজ নেয়। লোকটি তাকে দিয়ে অনেক কাজ করায় এবং সীমাহীন অত্যাচার করে। এরপরও রাবু সারারাত আল্লাহর ইবাদত করে কাটিয়ে দেয়। সে আন্তরিকভাবে তাওবা করে এবং আল­াহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। (পাঠ-৭)
ক. জš§গ্রহণের রাতে কার পিতার ঘরে প্রদীপ জ্বালানোর মতো তৈলও ছিল না? ১
খ. পাখি ঠোঁটে করে পেঁয়াজ এনে দিয়েছিল কেন? ২
গ. রাবুর সাথে কোন মহীয়সী নারীর জীবনের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.‘আল্লাহ কি দরিদ্রকে তার দারিদ্রের কারণে ভুলে যাবেন?’Ñউদ্দীপকে রাবুর এ উক্তিটি প্রকৃতপক্ষে কার? প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ১১নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. হযরত রাবেয়া বসরি (র)-এর জš§গ্রহণের রাতে তার পিতার ঘরে প্রদীপ জ্বালানোর মতো তৈলও ছিল না।
খ. হযরত রাবেয়া বসরি (র)-এর অনেক আধ্যাত্মিক ক্ষমতা ছিল। একদা একটি হাঁড়িতে কিছু খাদ্যদ্রব্য রান্না করার সময় তার একটি পেঁয়াজের দরকার পড়ে। কিন্তু তার ঘরে কোনো পেঁয়াজ ছিল না। তখন একটি পাখি তার ঠোঁটে করে একটি পেঁয়াজ এনে তাঁর কাছে ফেলে দেয়।
গ. রাবুর সাথে যে মহীয়সী নারীর জীবনের মিল পাওয়া যায় তিনি হলেন হযরত রাবেয়া বসরি (র)।
হযরত রাবেয়া বসরি (র)-এর পিতা খুব দরিদ্র ছিলেন। বাল্য বয়সেই তার পিতামাতা ইন্তিকাল করেন। ফলে তাঁকে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করতে হয়। তিনি ক্রীতদাসী হিসেবে বিক্রীত হন। তাঁর মনিব ছিল দুষ্ট প্রকৃতির। তাই তাঁকে দিয়ে অনেক কাজ করাত। রাবেয়া বসরি দিনের বেলায় কঠোর পরিশ্রম করতেন। তারপরও রাতে বিনিদ্র থেকে শুধু আল্লাহর ইবাদত করতেন। উদ্দীপকের রাবুও দরিদ্র পিতামাতার একমাত্র সন্তান। জšে§র এক বছর পর তার পিতা ইন্তিকাল করায় অতিকষ্টে তার জীবন কাটে। জীবিকার তাগিদে সে এক দুষ্ট লোকের বাসায় কাজ নেয়। লোকটি তাকে দিয়ে অনেক কাজ করায় এবং সীমাহীন অত্যাচার করে। এরপরও রাবু সারারাত আল্লাহর ইবাদত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
উপরিউক্ত আলোচনায় বোঝা যায় তাপসী রাবেয়া বসরি (র)-এর জীবনের সাথে উদ্দীপকের রাবুর জীবনের মিল রয়েছে।
ঘ. ‘আল্লাহ কি দরিদ্রকে তার দরিদ্রের কারণে ভুলে যাবেন’Ñউদ্দীপকে রাবুর এ উক্তিটি প্রকৃতপক্ষে তাপসী হযরত রাবেয়া বসরি (র)-এর।
ইসলামের ইতিহাসে নারীদের মধ্যে যারা মহান আল্লাহর নৈকট্যও সন্তুষ্টি অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে হযরত রাবেয়া বসরি (র) অন্যতম। দরিদ্র পিতার সন্তান রাবেয়া বসরি (র) বাল্যবয়সেই পিতামাতাকে হারান। মালিক ইবনে দিনার নামে রাবেয়া বসরির পরিচিত এক লোক তাঁর আর্থিক অবস্থা দেখে বললেন, আপনি বললে আমি আমার এক ধনীবন্ধু থেকে আপনার জন্য সাহায্য আনতে পারি। রাবেয়া বললেন, হে মালিক! আমাকে এবং আপনার বন্ধুকে কি আল্লাহই রিযিক দেন না? মালিক বলল, হ্যাঁ। রাবেয়া বললেন, ‘আল্লাহ কি দরিদ্রকে তার দারিদ্রের কারণে ভুলে যাবেন? এবং ধনীদেরকে তাদের ধনসম্পদের কারণে মনে রাখবেন?” মালিক বলল, না। তখন রাবেয়া বললেন, আল্লাহ যেহেতু আমার অবস্থা জানেন, তাই তাঁকে আমার আবার স্মরণ করানোর দরকার কী?
বস্তুত তাপসী রাবেয়া বসরি (র) আল্লাহর ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিলেন। তাঁর আলোচ্য উক্তিটি সে কথাই প্রমাণ করে।
প্রশ্ন -১২ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
কাউয়াদি গ্রামের জনাব আব্দুল হামিদকে গ্রামবাসী ভোট দিয়ে ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি জনকল্যাণমূলক কাজ করতে থাকেন। রাস্তাঘাট নির্মাণ, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি জনকল্যাণমূলক কাজ করে তিনি সুনাম অর্জন করেন। চেয়ারম্যান হয়েও তিনি অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেন। দলমত নির্বিশেষে সব ধর্মের প্রতি তার বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।
[বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক. ইসলামের পঞ্চম খলিফা কে? ১
খ. হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-কে ‘উমাইয়া সাধু’ বলা হয় কেন? ২
গ. জনাব আব্দুল হামিদের কর্মকাণ্ডে কোন মনীষীর আদর্শ ফুটে উঠেছে? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.উক্ত মনীষীর কৃতিত্ব মূল্যায়ন কর। ৪
ল্ফল্প ১২নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. ইসলামের পঞ্চম খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)।
খ. হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণতা, ধর্মপরায়ণতা, সাম্যের ধারণা ও সকল জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। এ কারণে তাঁকে ‘উমাইয়া সাধু’ (টসধুুধফ ঝধরহঃ) বলা হয়।
গ. জনাব আব্দুল হামিদের কর্মকাণ্ডে ইসলামের পঞ্চম খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-এর আদর্শ ফুটে উঠেছে।
খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) ক্ষমতাসীন হয়ে ‘মসজিদে নববি’র সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধিত করেন। তিনি অসংখ্য ঘরবাড়ি, পয়ঃপ্রণালী ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করেন। পিপাসার্ত মানুষের জন্য তিনি অনেক ক‚প খনন করেন। মসজিদে নববির বাগানে একটি ঝর্ণা ও চৌবাচ্চা নির্মাণ করেন। সমগ্র এলাকায় বিশেষ করে মক্কা, মদিনা ও তায়েফের মাঝে চলাচলের জন্য সংযোগ সড়ক তৈরি করেন। এভাবে তিনি অনেক জনকল্যাণমূলক কাজ করেন। হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজের (র) মতো উদ্দীপকের হামিদ চেয়ারম্যানও রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ করে সুনাম অর্জন-করেছেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের আব্দুল হামিদের কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছে ইসলামের পঞ্চম খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজের আদর্শ।
ঘ. উক্ত মনীষী তথা খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-এর কৃতিত্ব বহুমুখী।
দ্বিতীয় উমর নামে খ্যাত হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) রাষ্ট্র পরিচালনায় কুরআন-হাদিস ও খোলাফায়ে রাশেদিনের নীতি অনুসরণ করেছিলেন। তাই তাঁকে চার খলিফার পর ইসলামের পঞ্চম খলিফা বলা হয়।
তাঁর আমলে কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। তিনি মানুষের মাঝে পারস্পরিক বিরোধ দূর করে সাম্য ও স¤প্রীতির সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর সময়ে জনসাধারণের আর্থিক অবস্থার এত বেশি উন্নতি হয়েছিল যে, যাকাত গ্রহণ করার মতো লোকও খুঁজে পাওয়া যেত না। তিনি ছিলেন একাধারে ফকিহ (ইমলামি আইনশাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ), মুজতাহিদ (ইসলাম ধর্মজ্ঞানে সুপণ্ডিত) এবং কুরআন ও হাদিসের হাফিজ।

প্রশ্ন -১৩ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ইসলাম একমাত্র ধর্ম যাতে নারী পুরুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য না করে নারীকে দেওয়া হয়েছে সমমর্যাদা। তাছাড়াও নবি করিম (স.)-এর একটি হাদিসে পিতা অপেক্ষা মায়ের অধিকার বেশি উল্লেখ করা হয়েছে।
ক. খুলুকুন শব্দের বহুবচন কী? ১
খ. যাকাত কাকে বলে? ২
গ. উদ্দীপকে নির্দেশিত সমমর্যাদার বিষয়টি ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. বিদায় হজের প্রদত্ত ভাষণের আলোকে উক্ত বিষয়টি পর্যালোচনা কর। ৪

ল্ফল্প ১৩নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. খুলুকুন শব্দের বহুবচন আখলাক।
খ. যাকাত আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ বৃদ্ধি, পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায় ধনী ব্যক্তিদের নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে নির্দিষ্ট অংশ গরিব অভাবী লোকদের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়াকে যাকাত বলে।
গ. উদ্দীপকে নারীপুরুষের সমমর্যাদার বিষয়টি নির্দেশিত হয়েছে।
ইসলাম একমাত্র ধর্ম যাতে নারী পুরুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য না করে নারীকে পুরুষের সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। প্রাচীন আরব সমাজে কন্যাসন্তান জন্ম নিলে পিতামাতা অসন্তুষ্ট হতো। কোনো কোনো স¤প্রদায় কন্যাসন্তানকে জীবিত কবর দিত। ইসলামের আগমনের পর এ কুপ্রথা সম্পূর্ণ দূরীভূত হয় এবং সর্বক্ষেত্রে নারীর যথাযোগ্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।
উদ্দীপকের মধ্যে এ বিষয়টিই আলোচনা করা হয়েছে যে, ইসলামে নর ও নারী উভয়ের সমমর্যাদা স্বীকৃত। আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে নারী পুরুষ সমান মর্যাদার অধিকারী।
ঘ. মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণে উক্ত বিষয় তথা নারীপুরুষের মর্যাদার প্রেক্ষিতে নারীর অধিকার গুরুত্বের সাথে ফুটে উঠেছে।
মহানবি (স) ৯ই জিলহজ আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে উপদেশমূলক যে ভাষণ দান করেন তাই বিদায় হজের ভাষণ। এ ভাষণে অসংখ্য উপদেশের মধ্যে নারীর অধিকার সম্পর্কে আলোকপাত রয়েছে।
মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণে রয়েছে- ‘হে বিশ্বাসীগণ, স্ত্রীদের সাথে সদয় ব্যবহার করবে। তাদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন- “তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। কেননা তোমরা আল্লাহর সাথে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে তাদের গ্রহণ করেছ।” (মুসলিম)
এছাড়া বিদায় হজের ভাষণের আলোকে বলা যায়, ইসলাম নারীকে পিতা ও স্বামীর উভয়ের সম্পত্তির ওপর অধিকারিণী করেছে। প্রয়োজনীয় বিদ্যার্জন এবং অর্থ উপার্জনে ইসলাম নারীদের অনুমতি দান করেছে। সুতরাং নারীপুরুষের সমমর্যাদার যথার্থ পরিচয় এবং বিধান ইসলাম নিশ্চিত করে। বিদার হজের ভাষণে যা প্রতিফলিত।
প্রশ্ন -১৪ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ইসলামের দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান। আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার পর বিশ্বের সকল মুসলমান পরস্পরের ভাই। ইসলামি ভ্রাতৃত্ব এতই সুদৃঢ় যে, আল্লাহর রাসুল (স) পৃথিবীর সকল ইমানদারগণকে একটি দেহের সাথে তুলনা করেছেন। এমনকি তিনি মক্কা হতে হিজরতকারী সাহাবীদের মদিনায় বসবাসকারী আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন করে দিয়েছিলেন। জন্মসূত্রে আবদ্ধ না হয়েও এমন ভ্রাতৃত্ববন্ধ মানব ইতিহাসে বিরল। [চতুর্থ ও পঞ্চম অধ্যায়]
ক. হযরত মহানবি (স)-এর সর্বকনিষ্ঠা স্ত্রীর নাম কী? ১
খ. ধৈর্য্য কাকে বলে? ২
গ. উদ্দীপকে কোন ধরনের ভ্রাতৃত্বের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. “জন্মসূত্রে আবদ্ধ না হয়েও এমন ভ্রাতৃত্ব মানব ইতিহাসে বিরল।” উদ্দীপকের উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর। ৪

ল্ফল্প ১৪নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. মহানবি হযরত (স)-এর সর্বকনিষ্ঠা স্ত্রীর নাম হযরত আয়িশা (রা)।
খ. ধৈর্য্য এর আরবি প্রতিশব্দ ‘সবর’। যার অর্থ ধৈর্য্য, সহিষ্ণুতা, দৃঢ়তা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, বিরত থাকা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায় জীবনের সবক্ষেত্রে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে সহিষ্ণুতার সাথে আল্লাহর বিধান মোতাবেক সকল কর্তব্য পালন করাকে ধৈর্য্য বলে।
গ. উদ্দীপকে ইসলামি ভ্রাতৃত্বের কথা বলা হয়েছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান। আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার পর বিশ্বের সকল মুসলমান পরস্পরের ভাই। উদ্দীপকের মধ্যেও একথার ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে যে, ইসলামি ভ্রাতৃত্ব এতই সুদৃঢ় যে, আল্লাহর রাসুল (স) পৃথিবীর সকল ইমানদানগণকে একটি দেহের সাথে তুলনা করেছেন। দেহের কোনা একটি অঙ্গে অসুখ হলে যেমন পুরো দেহ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তেমনি পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে একজন মুসলিম বিপদে পতিত হলে সকল মুসলমানের অন্তর ব্যথিত হয়। যদি কখনো পরস্পরের মধ্যে কোনো কলহ সৃষ্টি হয় তখন অপর মুসলমান ভাইয়েরা তা মিটিয়ে দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-
“নিশ্চয়ই মুমিনগণ ভাই ভাই।” (আল-হুজুরাত, আয়াত ১০)। আর এটিই ইসলামি ভ্রাতৃত্ব।
ঘ. “জন্মসূত্রে আবব্ধ না হয়েও এমন ভ্রাতৃত্ব মানব ইতিহাসে বিরল” -উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকে ইসলামি ভ্রাত্বত্বের অপূর্ব নিদর্শন মুহাজির ও আনসারি সাহাবিদের ভ্রাতৃত্ব নিদর্শন সম্পর্কে এ উক্তি করা হয়েছে।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) মক্কা হতে হিজরত করে আসা মুহাজির ও মদিনায় বসবাসকারী আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন তৈরি করেছিলেন। ভ্রাতৃত্ব বন্ধন অটুট রাখার জন্য মহানবি মসজিদে নববিকে মিলনকেন্দ্র বানিয়ে দিলেন। এ ভ্রাতৃত্ব শুধু মুখে মুখে ছিল না বরং মুহাজিরদেরকে আনসারদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিলেন। তিনি হযরত আনাস ইবনে মালিকের ঘরে যেদিন এ ভ্রাতৃত্ববন্ধন তৈরি করেছিলেন ঐ দিন ঐ গৃহে মোট ৯০ জন সাহাবি ছিলেন। তাদের অর্ধেক ছিল মুহাজির আর বাকি অর্ধেক ছিল আনসার। সম্পত্তিতে মুহাজিরদের উত্তরাধিকার বিধানটি বদর যুদ্ধ পর্যন্ত বলবৎ ছিল। জন্মসূত্রে আবদ্ধ না হয়ে এমন ভ্রাতৃত্ববন্ধন মানব ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া কঠিন।

সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক

প্রশ্ন-১৫ ল্ফ ‘ক’ জেলার প্রশাসক দায়িত্ব পাওয়ার পর একের পর এক জনকল্যাণমূলক কাজ করতে থাকেন। রাস্তাঘাট নির্মাণ, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি করে তিনি সুনাম অর্জন করেন। প্রশাসক হয়েও তিনি অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেন। দলমত নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষের প্রতি তার বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।
ক. বনু মুস্তালিক যুদ্ধ কত হিজরিতে সংঘটিত হয়? ১
খ. ইফকের ঘটনা ব্যাখ্যা কর। ২
গ. জনাব আব্দুল হামিদের জীবনের সাথে কোন মনীষীর জীবনযাপন সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উক্ত মনীষীর চরিত্র ও কৃতিত্ব বিশ্লেষণ কর। ৪
প্রশ্ন-১৬ ল্ফ মাসুমা সর্বদা শালীনতা বজায় রেখে চলে। কিছু দুষ্ট লোক তার পরিবারকে হেয় করার জন্য তার চরিত্র নিয়ে অপবাদ দেয়। পরবর্তীতে মাসুমা নির্দোষ প্রমাণিত হয়। পক্ষান্তরে; তানিয়া অশালীন চলাফেরা করে এবং পাড়ার বন্ধুদের সাথে তার সখ্যতার শেষ নেই। তাকে কেউ দোষারোপ করতে সাহস করে না।
ক. কোন মাসে মক্কা বিজয় হয়? ১
খ. উমর ইবনে আব্দুল আজিজকে কেন উমাইয়া সাধু বলা হয়? ২
গ. মাসুমার ঘটনার সাথে কোন মহিয়সী নারীর ঘটনার মিল আছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. তানিয়ার কার্যক্রমের কুফল পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর। ৪

অনুশীলনের জন্য দক্ষতাস্তরের প্রশ্ন ও উত্তর

¤ জ্ঞানমূলক //
প্রশ্ন \ ১ \ হযরত সুলায়মান (আ) কে ছিলেন?
উত্তর : বিখ্যাত নবি হযরত সুলায়মান (আ) ছিলেন হযরত দাউদ (আ)-এর পুত্র।
প্রশ্ন \ ২ \ হযরত সুলায়মান (আ) কীভাবে নবুয়ত পান?
উত্তর : হযরত দাউদ (আ)-এর ইন্তিকালের পর হযরত সুলায়মান (আ)-কে আল­াহ তায়ালা নবুয়ত ও রাজত্ব দান করেন।
প্রশ্ন \ ৩ \ হযরত সুলায়মান (আ)-কে কী জ্ঞান দেয়া হয়েছিল?
উত্তর : আল­াহ তায়ালা সুলায়মান (আ)-কে পশুপাখির কথা বুঝার জ্ঞান দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন \ ৪ \ প্রাচীনকালে মিসরের বাদশাহদের কী বলা হতো?
উত্তর : প্রাচীনকালে মিসরের বাদশাহদের, বলা হতো ফিরআউন।
প্রশ্ন \ ৫ \ হযরত মুসা (আ)-এর আমলের ফিরআউনের নাম কী ছিল?
উত্তর : মুসা (আ)-এর আমলের ফিরআউনের নাম ছিল ওয়ালিদ।
প্রশ্ন \ ৬ \ স্বপ্নের ব্যাখ্যা শুনে ফিরআউন কী নির্দেশ দিল?
উত্তর : স্বপ্নের ব্যাখ্যা শুনে ফিরআউন রাজ্যময় সৈন্যদের পাহারা নিযুক্ত করল এবং জন্মগ্রহণকারী সব ইসরাঈলি শিশুপুত্রকে হত্যা করার নির্দেশ দিল।
প্রশ্ন \ ৭ \ হযরত মুসা (আ)-এর মা সিন্দুকটি কোথায় ভাসিয়ে দিলেন?
উত্তর : মুসা (আ)-এর মা ফিরআউনের ভয়ে শিশু মুসাকে একটি সিন্দুকে ভরে আল­াহর নাম নিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দিলেন।
প্রশ্ন \ ৮ \ সিন্দুকটি ভাসতে ভাসতে কোথায় গিয়ে ভিড়ল?
উত্তর : সিন্দুকটি ভাসতে ভাসতে ঘটনাক্রমে নদীর তীরস্থ ফিরআউনের প্রাসাদের ঘাটে গিয়ে ভিড়ল।
প্রশ্ন \ ৯ \ হযরত মুসা (আ) কার কোলে লালিত পালিত হতে লাগলেন?
উত্তর : হযরত মুসা (আ) ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়ার কোলে লালিত-পালিত হতে লাগলেন।
প্রশ্ন \ ১০ \ হযরত মুসা (আ) কার দুধ পান করেছিলেন?
উত্তর : হযরত মুসা (আ) তাঁর মায়ের দুধই পান করেছিলেন।
প্রশ্ন \ ১১ \ হযরত মুসা (আ) হিজরত করে কোথায় চলে যান?
উত্তর : হযরত মুসা (আ) মিসর থেকে হিজরত করে মাদইয়ান চলে যান।
প্রশ্ন \ ১২ \ হযরত মুসা (আ) কোথায় নবুয়তপ্রাপ্ত হন?
উত্তর : হযরত মুসা (আ) তুর পাহাড়ের পাদদেশে ‘তুয়া’ নামক পবিত্র উপত্যকায় নবুয়তপ্রাপ্ত হন।
প্রশ্ন \ ১৩ \ হযরত ঈসা (আ) কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর : হযরত ঈসা (আ) ফিলিস্তিনের ‘বাইত লাহম’ (বেথেলহাম) নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন \ ১৪ \ হযরত ঈসা (আ) কার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন।
উত্তর : হযরত ঈসা (আ) মারিয়ামের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন \ ১৫ \ হযরত ঈসা (আ)-এর মুজিজা কী ছিল?
উত্তর : হযরত ঈসা (আ)-এর মুজিজা ছিল মৃতকে জীবিত করা, কুষ্ঠ রোগ ভালো করা, জন্মান্ধকে চক্ষুদান করা ইত্যাদি।
প্রশ্ন \ ১৬ \ কত হিজরিতে মক্কা বিজয় হয়েছিল?
উত্তর : অষ্টম হিজরি সনের রমযান মাসে মক্কা বিজয় হয়েছিল।
প্রশ্ন \ ১৭ \ কত হিজরিতে বিদায় হজ অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর : দশম হিজরিতে বিদায় হজ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন \ ১৮ \ হযরত আয়িশা (রা) কে ছিলেন?
উত্তর : উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা) ছিলেন মহানবি (সা) এর সর্বকনিষ্ঠ সহধর্মিণী এবং হযরত আবু বকর (রা)-এর কন্যা।
প্রশ্ন \ ১৯ \ হযরত আয়িশা (রা)-এর জ্ঞান কেমন ছিল?
উত্তর : হযরত আয়িশা (রা) ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ, বুদ্ধিমতি, অসাধারণ জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের অধিকারিণী।
প্রশ্ন \ ২০ \ হযরত আয়িশা (রা)-এর চরিত্র কেমন ছিল?
উত্তর : হযরত আয়িশা (রা) ছিলেন পুতপবিত্র চরিত্রের অধিকারিণী।
প্রশ্ন \ ২১ \ হযরত আয়িশা (রা) কত সনে ইন্তিকাল করেন।
উত্তর : ৫৮ হিজরি সনের ১৭ই রমযান মোতাবেক ৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ই জুলাই হযরত আয়িশা (রা) ইন্তিকাল করেন।
প্রশ্ন \ ২২ \ হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) কত হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর : হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) ৬১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন \ ২৩ \ হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর : হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র) উমাইয়া বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন \ ২৪ \ শিক্ষা সম্পর্কে হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-এর অভিমত কী?
উত্তর : শিক্ষ সম্পর্কে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-এর অভিমত হলো : শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।
প্রশ্ন \ ২৫ \ উমাইয়া সাধু কাকে বলা হয়?
উত্তর : হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-এর কে উমাইয়া সাধু বলা হয়।
প্রশ্ন \ ২৬ \ হযরত রাবেয়া বসরি (র)-এর জন্মস্থান কোথায়?
উত্তর : হযরত রাবেয়া বসরি (র)-এর জন্মস্থান ইরাকের বসরা নগরীতে।
প্রশ্ন \ ২৭ \ চার বোনের মধ্যে রাবেয়া কততম?
উত্তর : চার বোনের মধ্যে হযরত রাবেয়া বসরি (র) চতুর্থ ছিলেন।
প্রশ্ন \ ২৮ \ হযরত রাবেয়া বসরি (র) কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর : হযরত রাবেয়া বসরি (র) ৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
¤ অনুধাবনমূলক //
প্রশ্ন \ ১ \ হযরত সুলায়মান (আ) কীভাবে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর : হযরত সুলায়মান (আ) বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পূর্বে কিছু নির্মাণ কাজ অবশিষ্ট ছিল। কাজটির দায়িত্ব জিনদের ওপর ন্যস্ত ছিল। তারা সুলায়মান (আ)-এর ভয়ে কাজ করত। তারা তাঁর মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারলে তৎক্ষণাৎ কাজ ছেড়ে দিত। ফলে নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত থেকে যেত। সুলায়মান (আ) আল­াহর নির্দেশে এর ব্যবস্থা এভাবে করলেন যে, মৃত্যুর পূর্বক্ষণে তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে তাঁর স্বচ্ছ কাঁচের নির্মিত মেহরাবে প্রবেশ করলেন। তিনি নিয়মানুযায়ী ইবাদতের উদ্দেশ্যে লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। যথাসময়ে তাঁর আত্মা দেহপিঞ্জির হতে বেরিয়ে গেল। কিন্তু লাঠির ওপর ভর করে তাঁর দেহ অনড় থাকায় বাইরে থেকে মনে হতো, তিনি ইবাদতেই মশগুল রয়েছেন। এমতাবস্থায় এক বছর অতিক্রান্ত হয়। এর মধ্যে বায়তুল মুকাদ্দাসের নির্মাণ কাজও সমাপ্ত হয়। অতঃপর আল­াহর ইচ্ছায় লাঠি উঁই পোকায় খেয়ে ফেলে। এতে তাঁর দেহ মাটিতে পড়ে যায়। তখন সবাই বুঝতে পারল, তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
প্রশ্ন \ ২ \ হযরত সুলায়মান (আ)-এর মর্যাদা বর্ণনা কর।
উত্তর : নবি হিসেবে হযরত সুলায়মান (আ)-এর বিশেষ মর্যাদা ছিল। আল­াহ তাঁকে পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, জীবজন্তু ও জিন-ইনসান এর ভাষা বুঝার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সুবিশাল রাজ্যের রাজা। খুব দ্রæত যাতায়াত করার জন্য মহান আল্লাহ তাঁকে বাতাসে ভর করে চলাচল করার ক্ষমতা দান করেছিলেন। তাছাড়া আল্লাহ তায়ালা জিনদের মধ্য হতে একদলকে হযরত সুলায়মান (আ)-এর অধীন করে দেন।
প্রশ্ন \ ৩ \ হযরত মুসা (আ) কীভাবে বিবাহ করেন?
উত্তর : একদা হযরত মুসা (আ) দেখতে পেলেন একজন কিবতি জনৈক ইসরাঈলিকে অত্যাচার করছে। তিনি অত্যাচারিত লোকটিকে বাঁচানোর জন্য অত্যাচারী কিবতি লোকটিকে একটি ঘুষি মারলেন। এতে লোকটি মারা যায়। হযরত মুসা (আ) হতবাক হয়ে যান এবং ফিরআউনের ভয়ে মিসর ত্যাগ করে মাদইয়ানে হিজরত করেন। সেখানে হযরত শুআইব (আ)-এর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। হযরত মুসা (আ) তাঁর সান্নিধ্যে দশ বছর অতিবাহিত করেন। হযরত শুআইব (আ) তাঁর কর্মদক্ষতা, চারিত্রিক মাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা সফুরাকে তাঁর সাথে বিবাহ দেন।
প্রশ্ন \ ৪ \ হযরত মুসা (আ) কীভাবে ফিরআউনের ঘরে লালিত-পালিত হন?
উত্তর : এক সংকটময় মুহূর্তে হযরত মুসা (আ) জন্ম নিলেন। ফিরআউনের লোকেরা এ খবর জানতেও পারল না। মুসা (আ)-এর মা ফিরআউনের ভয়ে শিশু মুসাকে সিন্দুকে ভরে আল­াহর নাম নিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দিলেন। সিন্দুকটি ভাসতে ভাসতে ঘটনাক্রমে নদীর তীরস্থ ফিরআউনের প্রাসাদের ঘাটে গিয়ে ভিড়ল। ফুটফুটে শিশুকে দেখে ফিরআউনের নিঃসন্তান ও পুণ্যবতী স্ত্রী ‘আসিয়া’ (আ) কোলে তুলে নিলেন এবং লালন-পালন করতে লাগলেন। শিশু মুসা অন্য কারও দুধ পান না করায় তাঁর মাকেই ধাত্রী নিয়োগ করা হলো। আল­াহ পাকের অসীম কুদরতে মুসা (আ) এভাবে ফিরআউনের ঘরে লালিত-পালিত হতে লাগলেন।
প্রশ্ন \ ৫ \ হযরত ঈসা (আ) পুনরায় দুনিয়াতে আগমন করবেন কেন?
উত্তর : শেষ যামানায় কিয়ামতের পূর্বে হযরত ঈসা (আ) পুনরায় দুনিয়াতে আগমন করবেন। এ সময় তিনি ৪৫ বছর পৃথিবীতে অবস্থান করবেন। মিথ্যা আল­াহ দাবিদার দাজ্জালকে হত্যা করবেন। জিযিয়া প্রথা তুলে দিবেন, ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর মেরে ফেলবেন। আল­াহর বিধিবিধান অনুসারে রাষ্ট্র পরিচালনা করে দুনিয়াতে ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে তিনি পুনরায় দুনিয়াতে আগমন করবেন। ঈসা (আ) মহানবি (স)-এর দীন প্রচার করবেন। এরপর তিনি স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করবেন।
প্রশ্ন \ ৬ \ মহানবি (স) কীভাবে মক্কায় প্রবেশ করলেন? বর্ণনা কর।
উত্তর : হিজরি অষ্টম বছরের রমযান মাসে দশ হাজার সাহাবি নিয়ে মহানবি (স) মক্কা অভিমুখে যাত্রা করেন। মহানবি (স) মক্কার অদূরে ‘মাররুজ জাহরান’ নামক স্থানে তাঁবু গেড়ে অবস্থান নেন। অপ্রত্যাশিতভাবে উপনীত এ বিশাল বাহিনী দেখে আবু সুফিয়ানসহ মক্কাবাসী হতবাক হয়ে যায়। তারা বাধা দেওয়ার সাহস হারিয়ে ফেলে। বিনা বাধায় মহানবি (স) জš§ভ‚মি মক্কা জয় করেন। বিজয়ী বীর বেশে তিনি জš§ভ‚মি মক্কায় প্রবেশ করেন।
প্রশ্ন \ ৭ \ মহানবি (স) কীভাবে মুহাজির এবং আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববন্ধন তৈরি করেছিলেন? বর্ণনা কর।
উত্তর : মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) মক্কা হতে হিজরত করে আসা মুহাজির ও মদিনায় বসবাসকারী আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন তৈরি করেছিলেন। ভ্রাতৃত্ব বন্ধন অটুট রাখার জন্য মহানবি (স) মসজিদে নববিকে মিলনকেন্দ্র বানিয়ে দিয়েছিলেন। এ ভ্রাতৃত্ব শুধু মুখে মুখে ছিল
না বরং মুহাজিরদেরকে আনসারদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি হযরত আনাস ইবনে মালিকের (রা) ঘরে যে দিন এ ভ্রাতৃত্ব বন্ধন তৈরি করেছিলেন ওই দিন ওই গৃহে মোট ৯০ জন সাহাবি ছিলেন। তাঁদের অর্ধেক ছিল মুহাজির আর বাকি অর্ধেক ছিল আনসার।
প্রশ্ন \ ৮ \ হযরত আয়িশা (রা)-এর পরিচয় দাও।
উত্তর : উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা) ছিলেন মহানবি (স)-
এর সর্বকনিষ্ঠ সহধর্মিণী। তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর কন্যা। তাঁর মাতার নাম ছিল উম্মে রুম্মান। হিজরতের পূর্বে ৬১৩ মতান্তরে ৬১৪ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায় তাঁর জন্ম হয়।
প্রশ্ন \ ৯ \ হযরত আয়িশা (রা)-এর গুণাবলি বর্ণনা কর।
উত্তর : হযরত আয়িশা (রা)-এর চরিত্র ও আদর্শ অতুলনীয়। তিনি তাঁর চারিত্রিক গুণাবলির দ্বারা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছিলেন। তাঁর মধ্যে বহুগুণের সমন্বয় ঘটেছিল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দরী, তীক্ষè মেধাশক্তিসম্পন্ন, সত্যের সাধক, আদর্শ স্বামীসেবিকা, জ্ঞানতাপস, সদালাপী। এককথায় মানবীয় চরিত্রের সকল গুণাগুণ তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল।
প্রশ্ন \ ১০ \ হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র)-এর পরিচয় বর্ণনা কর।
উত্তর : হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ৬১ হিজরি সনে উমাইয়া বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল আজিজ। মাতা হলেন দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা)-এর পৌত্রী উম্মু আসিম লায়লা। তিনি একজন উমাইয়া খলিফা ছিলেন। তাঁকে ‘দ্বিতীয় উমর’ ও ইসলামের ‘পঞ্চম খলিফা’ বলা হয়।
প্রশ্ন \ ১১ \ হযরত রাবেয়া বসরি (র) কীভাবে জীবনযাপন করতেন?
উত্তর : হযরত রাবেয়া বসরি (র) সদাসর্বদা সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। তিনি উচ্চাভিলাষী ছিলেন না। তিনি সর্বদা নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে করতেন। বেশি বেশি আল­াহর নিকট ক্ষমা চাইতেন। সর্বদা আন্তরিকভাবে আল­াহর নিকট তাওবা (অনুশোচনা) করতেন। তিনি বলতেন, ‘মুখে মিথ্যা তাওবা করে কী লাভ যদি কাজে তা প্রমাণ পাওয়া না যায়। তিনি সর্বদা আল­াহর একজন শোকরগুজার বান্দা ছিলেন। খেয়ে-না খেয়ে, দুঃখে-কষ্টে সর্বাবস্থায় তিনি আল­াহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতেন।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply