অষ্টম শ্রেণির ইসলাম আখলাক

চতুর্থ অধ্যায়
আখলাক
বিষয়-সংক্ষেপ

মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মধ্য দিয়ে যে আচার-আচরণ ও স্বভাব-চরিত্র প্রকাশ পায় তাকে আখলাক বলে। আখলাক (اَخْلَاقّ) আরবি শব্দ, ‘খুলুকুন” (خُلُقٌ)-এর বহুবচন। যার অর্থ চরিত্র বা স্বভাব। মানবজীবনের ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং আন্তর্জাতিক সকল দিকই আখলাকের অন্তর্ভুক্ত। মানবজীবনে যেমন সৎ চরিত্র রয়েছে, তেমনি রয়েছে অসৎ চরিত্র। সৎ চরিত্রের প্রতিদান পরকালীন মুক্তি। আর অসৎ চরিত্রের প্রতিদান পরকালীন শাস্তি। এজন্য আমাদেরকে নিন্দনীয় স্বভাব পরিহার করে উত্তম চরিত্র অর্জন করতে হবে।
পাঠ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি

আখলাকে হামিদাহ : মানবজীবনের উত্তম গুণাবলিকে আখলাকে হামিদাহ বা প্রশংসনীয় চরিত্র বলে। যেমন- ধৈর্য্য, সততা, দেশপ্রেম, সমাজসেবা প্রভৃতি। এ সকল চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি সমাজে নন্দিত ও সম্মানিত।
আখলাকে যামিমাহ : মানবজীবনের নিকৃষ্ট চরিত্রকে আখলাকে যামিমাহ বা নিন্দনীয় চরিত্র বলে। যেমন- অহংকার, ঘৃণা, মিথ্যাচার, সুদ, ঘুষ, অশ্লীলতা প্রভৃতি। এ সকল চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি সমাজে ঘৃণিত ও নিন্দিত।
ধৈর্য : ধৈর্য এর আরবি প্রতিশব্দ ‘সবর’। ইসলামি পরিভাষায় জীবনের সকল ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে সহিষ্ণুতার সাথে আল্লাহর বিধান মোতাবেক সকল কর্তব্য পালন করাকে ধৈর্য বলে।
ভ্রাতৃত্ব : উখ্ওয়াত শব্দের আভিধানিক অর্থ ভ্রাতৃত্ব। পরস্পরের মধ্যে হ্রদ্যতা ও আন্তরিকতার সম্পর্ককে ভ্রাতৃত্ব বলে। মানুষের মাঝে হৃদ্যতা ও আন্তরিকতা বিভিন্নভাবে গড়ে ওঠে।
ইসলামি ভ্রাতৃত্ব : আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম, ইসলামের মূলবাণী, “আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই হযরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল।” যারা এই কালিমায় বিশ্বাসী তারা যেকোনো বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও অঞ্চলের অধিকারী হোক না কেন ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। আর এটিই ইসলামি ভ্রাতৃত্ব।
নারীর মর্যাদা : ইসলাম একমাত্র ধর্ম যাতে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য না করে নারীকে পুরুষের সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
সমাজসেবা : সমাজের জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সেচ্ছায় গৃহীত কাজকে সমাজসেবা বলে। ব্যাপক অর্থে মানবকল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য গৃহীত সকল কর্মসূচিই সমাজসেবা।
দেশপ্রেম : জন্মভ‚মির প্রতি মানুষের অন্তরে একটি স্বাভাবিক আকর্ষণ সৃষ্টি হয় এবং ভালোবাসা জন্মায়। ক্রমান্বয়ে এ আকর্ষণ বা ভালোবাসা বিস্তৃতি লাভ করে সমগ্র দেশ, দেশের মাটি ও দেশের জনগণের প্রতি। মাতৃভ‚মি তথা দেশের প্রতি এ প্রীতি ও দরদের আকর্ষণকেই দেশপ্রেম বলে।
পরতসহিষ্ণুতা : পরমত বলতে বুঝায় অপরের মত, পথ বা আদর্শ, সেটা ধর্মীয় হতে পারে এবং আদর্শিকও হতে পারে। আবার রাজনৈতিকও হতে পারে। অন্যের মতামতকে অবজ্ঞা না করে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া বা অন্যের মত বা আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাকে পরমতসহিষ্ণুতা বলে।
অহংকার : অহংকার শব্দের অর্থ অহমিকা, আমিত্ব, গর্ব, দর্প, দম্ভ, বড়াই, নিজেকে বড় ভাবা ইত্যাদি। নিজেকে অন্যের তুলনায় বড় গণ্য করা এবং অন্যকে তুচ্ছ ও নিকৃষ্ট মনে করাকে অহংকার বলা হয়।
অশ্লীলতা : অশ্লীলতা অর্থ জঘন্যতা, কপর্যতা, নির্লজ্জতা, অভদ্রতা ও যৌন বিষয়ক কুৎসিত আচরণ। অশ্লীলতার দ্বারা নির্লজ্জ ও কুরুচিপূর্ণ কথা ও কাজকে বোঝানো হয়।
পরশ্রীকাতরতা : পরশ্রীকাতরতা অর্থ অন্যের উন্নতি ও সৌভাগ্য দেখে ঈর্ষা প্রকাশ করা। অর্থাৎ কারো ধন-দৌলত, সম্মান, ভালো ফল বা উচ্চ মর্যাদা দেখে ঈর্ষান্বিত হওয়া এবং তার ধ্বংস কামনা করাকে পরশ্রীকাতরতা বলা হয়।
ঘৃণা : ঘৃণা অর্থ অবজ্ঞা, অপছন্দ, উপেক্ষা, তাচ্ছিল্য, তুচ্ছ জ্ঞান করা। কাউকে তুচ্ছ মনে করে তাকে সহ্য করতে না পারা এবং তার থেকে দূরে সরে থাকাকেই পরিভাষায় ঘৃণা বলে।
চৌর্যবৃত্তি : চৌর্য অর্থ চুরি। চৌর্যবৃত্তি চোরের পেশা বা চোরের কাজ। কারো মালিকানাভুক্ত সম্পদ সংরক্ষিত স্থান থেকে গোপনে হাতিয়ে নেয়ার নাম চুরি বা চৌর্য।
ঘুষ : ঘুষ অর্থ উৎকোচ। এর আরবি প্রতিশব্দ ‘রেশওয়াত’। অবৈধ সহায়তার জন্য প্রদত্ত গোপন পারিতোষিকই ঘুষ।
সন্ত্রাস : সন্ত্রাস হলো ফিতনা-ফাসাদের আধুনিক রূপ। সন্ত্রাস শব্দের অর্থ অতিশয় ত্রাস বা ভয়ের পরিবেশ। ভয় দেখিয়ে বা জোর খাটিয়ে মানুষের কাছ থেকে কিছু আদায় করা বা আদায়ের পরিবেশ সৃষ্টির নীতিকে সন্ত্রাস বলে।

১. ভ্রাতৃত্বকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
ক দুই  তিন
গ পাঁচ ঘ সাত
২. সমাজসেবার অন্তর্ভুক্ত হলো
র. সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষা
রর. পরস্পরের দ্ব›দ্ব মেটানো
ররর. সন্তানকে শিক্ষা দান।
কোনটি সঠিক?
ক র খ রর গ ররর  র ও রর

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও :
শাহরিয়ার সাহেব একজন বড় কর্মকর্তা। তিনি সহকর্মীদের ছোট ছোট ভুলের কারণে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন।
৩. শাহরিয়ার সাহেবের কাজটি কিসের প্রতীক?
 ঘৃণার খ অহংকারের গ অন্যায়ের ঘ অসভ্যতার
৪. শাহরিয়ার সাহেবের কাজের ফলেÑ
র. জান্নাত হারাম হবে রর. পারলৌকিক জীবন দুঃসহ হবে
ররর. সকলের নিকট ঘৃণিত হবে
কোনটি সঠিক?
ক র খ রর ও ররর গ ররর  র, রর ও ররর

বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

৫. মহানবি (স) কে প্রেরণ করা হয়েছে কেন?
ক হাদিস বলার জন্য খ বিশ্ব জয় করার জন্য
গ আরবদেরকে সংগঠিত করার জন্য  উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্য
৬. একই মায়ের গর্ভ থেকে জন্মালে কোন ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয়?
ক বৈমাত্রেয় ভ্রাতৃত্ব খ ইসলামিক ভ্রাতৃত্ব
 ঔরসজাত ভ্রাতৃত্ব ঘ বিশ্বভ্রাতৃত্ব
৭. নিচের কোনটি নৈতিকতার অন্তর্ভুক্ত?
ক প্রতিহিংসা খ অহংকার
 পরমতসহিষ্ণুতা ঘ পরস্ত্রীকাতরতা
৮. নিচের কোনটি আখলাকে হামিদাহ?
ক পরশ্রীকাতরতা খ অরাজকতা
˜ পরমতসহিষ্ণুতা ঘ চৌর্যবৃত্তি
৯. কোনটি মানব জীবনের সফলতার চাবিকাঠি?
˜ ধৈর্য খ দেশপ্রেম গ ন্যায়পরায়ণতা ঘ পরমত সহিষ্ণুতা
১০. ‘পাঠ করুন আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন’Ñএ বাণীটি শিক্ষা দেয় সমাজকে মুক্ত করতে-
ক দারিদ্র্য থেকে খ কুসংস্কার থেকে
গ অশ্লীলতা থেকে ˜ নিরক্ষরতা থেকে
১১. ‘অহংকার আমার ভ‚ষণ’এই হাদিস অনুসারে অহংকার কার ভ‚ষণ?
গ রাসূল (স)-এর খ ফেরেশতাদের  আল্লাহর ঘ ইবলিসের
১২. ঘুষ একটি সামাজিক অপরাধ। কারণ এতে 
 অন্যের অধিকার ক্ষুণœ হয় খ বড় পাপ হয়
গ জীবিকা অপবিত্র হয় ঘ চরিত্র নষ্ট হয়
১৩. সন্ত্রাস দমনে ইসলামে কয় প্রকার ব্যবস্থা রয়েছে?
ক ২  ৩ গ ৪ ঘ ৫
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১৪ ও ১৫নং পশ্নের উত্তর দাও :
শাকিল চৌধুরী মেধাবী ছাত্র কিন্তু সে সহপাঠীদেরকে ঘৃণা করে।
১৪. তার কাজটি কার কর্মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?
ক ধনীদের খ দাম্ভিকের
 শয়তানের ঘ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের
১৫. শাকিল চৌধুরীর আচরণটিকে মহানবি (স) বলেছেনÑ
 রোগ খ প্রতিহিংসা গ অসদাচরণ ঘ বদমেজাজ
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১৬ ও ১৭নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
সবুর সাহেবের আচার-ব্যবহারে সবাই মুগ্ধ। তাকে সবাই একজন চরিত্রবান ব্যক্তি হিসেবেই গণ্য করেন। কিন্তু তার ইবাদত বন্দেগির মধ্যে দুর্বলতা আছে।
১৬. সবুর সাহেবের মধ্যে কিসের পূর্ণতা বিদ্যমান?
 ঈমানের খ আমলের গ আদলের ঘ ইসলামের
১৭. এজন্য সবুর সাহেব আখিরাতে লাভ করবেনÑ
ক নবির শাফাআত  বিশেষ মর্যাদা
গ আকাশের ছায়া ঘ বিশেষ নিরাপত্তা
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১৮ ও ১৯নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
জনাব আবদুল হাদির সর্বদা অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে থাকেন।
১৮. জনাব আবদুল হাদির চরিত্রে আখলাকে হামিদার কোন বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান?
ক ধৈর্য খ দেশপ্রেম গ ভ্রাতৃত্ব  পরমতসহিষ্ণুতা
১৯. জনাব আবদুল হাদির এ মনোভাব সকলের মধ্যে বিদ্যমান থাকলে প্রতিষ্ঠা হবেÑ
 সামাজিক শান্তি খ অর্থনৈতিক মুক্তি
গ নারীর মর্যাদা ঘ বঞ্চিতদের অধিকার
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ২০ ও ২১ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
যুবক ছেলে রায়হান জামাতে সালাত আদায় করে। এমনকি ফজরের সালাতও সে জামাতে আদায় করে।
২০. রায়হানের কর্মকাণ্ডে ধৈর্যের কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে?
ক প্রবৃত্তি দমনে ধৈর্য খ বিপদে আপদে ধৈর্য
গ হারাম থেকে বাঁচতে ধৈর্য ˜ আল্লাহর আনুগত্যে ধৈর্য
২১. ধৈর্য বিষয়ে আল্লাহর বাণী অনুসারে রায়হান উক্ত কাজের বিনিময়ে লাভ করবে-
ক জীবনে সফলতা খ সামাজিক মর্যাদা গ অফুরন্ত প্রতিদান ˜ কল্যাণময় জীবন

পাঠ-১ : আখলাকের প্রকার
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২২. আখলাক শব্দের অর্থ কী? [পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর]
ক উত্তম ˜ চরিত্র গ ব্যবহার ঘ আচার-আচরণ
২৩. আখলাক কয়ভাগে বিভক্ত? (জ্ঞান)
˜ দুই খ তিন গ চার ঘ পাঁচ
২৪. আখলাকে হামিদাহ অর্থ কী? (জ্ঞান)
ক মন্দ স্বভাব খ উন্নত জীবন
˜ প্রশংসনীয় চরিত্র ঘ সত্যবাদিতা
২৫. আখলাকে যামিমাহ অর্থ কী? (জ্ঞান)
ক পছন্দনীয় চরিত্র ˜ নিন্দনীয় চরিত্র গ প্রশংসনীয় চরিত্র ঘ উত্তম আচরণ
২৬. আখলাক শব্দের একবচন কী? (জ্ঞান)
 খুলুকুন খ খুলকুন গ খালিকুন ঘ খালিদুন
২৭. হামিদাহ শব্দের অর্থ কী? (জ্ঞান)
ক সততা ˜ প্রশংসনীয় গ প্রশংসা ঘ তাকওয়া
২৮. যামিমাহ শব্দের অর্থ কী? (জ্ঞান)
ক প্রশংসনীয় খ নিন্দা ˜ নিন্দনীয় ঘ সততা
২৯. মানবজীবনের নিকৃষ্ট চরিত্রকে কী বলে? (জ্ঞান)
ক আখলাকে যামিদাহ ˜ আখলাকে যামিমাহ
গ আখলাকে হাসানাহ ঘ আখলাকে হামিদাহ
৩০. মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মে ও ব্যবহারে প্রকাশ পায় কোনটি? (জ্ঞান)
ক আকাক্সক্ষা খ ইচ্ছা ˜ আখলাক ঘ অভ্যাস
৩১. জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ কোনটি? (জ্ঞান)
˜ আখলাক খ টাকা -পয়সা
গ স্ত্রী, পুত্র, পরিজন ঘ সুনাম সুখ্যাতি
৩২. আখলাকের প্রকার দুটি কী কী? (জ্ঞান)
˜ আখলাকে হামিদাহ ও যামিমাহ খ আখলাকে হামিদাহ ও যামিদাহ
গ আখলাকে হামিমাহ ও হাসানাহ ঘ আখলাকে আহসান ও আহযাব
৩৩. উন্নত জাতির জীবনীশক্তি কী? (জ্ঞান)
˜ আখলাকে হামিদাহ খ প্রভাব প্রতিপত্তি
গ অহংকার ঘ অর্থ-সম্পদ
৩৪. কোনটি ব্যক্তিকে সুন্দর ও উন্নত করে? (জ্ঞান)
ক অর্থ খ সম্পদ গ পোশাক ˜ উত্তম চরিত্র
৩৫. সকল নেক কাজের মূলকথা কী? (জ্ঞান)
ক নামায খ কালিমা গ দাওয়াত ˜ উত্তম চরিত্র
৩৬. কিয়ামতের দিন পরিমাপদণ্ডে উত্তম চরিত্রের ওজন কেমন হবে?
ক খুব হালকা খ আমলের সমান ˜ অত্যন্ত ভারী ঘ সালাতের সমান
৩৭. কোনটি মানুষের পাপকে খণ্ডন করে দেয়? (জ্ঞান)
ক হজ খ যাকাত ˜ উত্তম চরিত্র ঘ দান-সদকা
৩৮. শেষ নবি হযরত মুহাম্মদ (স)-কে আল্লাহ তায়ালা পাঠিয়েছেন কেন? (অনুধাবন)
ক যুদ্ধের কৌশল শেখানোর জন্য ˜ উন্নত চরিত্রকে পূর্ণতা দানের জন্য
গ আল্লাহর দাসত্ব করার জন্য ঘ মানুষকে সালাত শেখানোর জন্য
৩৯. আখলাক বলতে কী বুঝায়? (অনুধাবন)
ক ব্যক্তির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যবলি খ ব্যক্তির বাহ্যিক নীতি
গ ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণগত দিক ˜ ব্যক্তির আচার-আচরণ ও স্বভাব-চরিত্র
৪০. জয়নাল তার জীবনকে সুন্দর ও উন্নত করতে চায়। এজন্য তাকে কী করতে হবে? (প্রয়োগ)
ক নিয়মিত সালাত আদায় করতে হবে খ বেশি বেশি দান করতে হবে
˜ উত্তম চরিত্র অর্জন করতে হবে ঘ সঠিকভাবে জ্ঞানার্জন করতে হবে
৪১. মুহসিন মিয়া একজন উত্তম চরিত্রবান ব্যক্তি। এর বিনিময়ে তিনি কী লাভ করবেন? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক দুনিয়ায় ধন-সম্পদ খ দুনিয়ায় সম্মান-মর্যাদা
˜ আখিরাতে অত্যধিক মর্যাদা ঘ পারিবারিক সুখ-শান্তি
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৪২. উত্তম চরিত্র ব্যক্তির জীবনকেÑ [জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট হাই স্কুল, সিলেট]
র. সুন্দর করে রর. উন্নত করে
ররর. নিন্দনীয় করে
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৪৩. সমাজের সকল মানুষ চরিত্রবান ব্যক্তিকেÑ (অনুধাবন)
র. ভালোবাসে রর. শ্রদ্ধা করে
ররর. ঘৃণা করে
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৪৪. মানুষ সর্বত্র সমাদৃত হয়Ñ (অনুধাবন)
র. চরিত্র বলে রর. অর্থ বলে
ররর. সৌন্দর্য বলে
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র খ রর গ ররর ঘ র, রর ও ররর
৪৫. হারুন সমাজের সকল মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পেতে চায়। এজন্য তার করণীয় হলোÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. চরিত্রবান হওয়া রর. ধন-সম্পদ অর্জন করা
ররর. আখলাকে হামিদাহ-এর অধিকারী হওয়া
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৪৬. রাহেলা বেগম একজন উত্তম চরিত্রের মানুষ। তিনি সৎভাবে জীবনযাপন করেন। এর ফলে তিনি লাভ করবেনÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রর. আখিরাতে অত্যধিক মর্যাদা
ররর. দুনিয়ার প্রচুর ধন-সম্পদ
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৪৭ ও ৪৮ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আজিমদের ক্লাসে শিক্ষক এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন, যার বিনিময়ে মানুষ আখিরাতে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মানিত স্থানে উন্নীত হবে, যদিও সে ইবাদতের দিক থেকে দুর্বল থাকে।
৪৭. শিক্ষক কোন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেন? (প্রয়োগ)
ক সালাত ˜ উত্তম চরিত্র গ বিনয় ঘ ধৈর্য
৪৮. উক্ত বিষয়ের অধিকারী হলে আজিম দুনিয়ায় লাভ করবেÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা
রর. সামাজিক সম্মান ও মর্যাদা
ররর. প্রচুর অর্থ ও সম্পদ
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
পাঠ-২ : ধৈর্য
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৪৯. কে ধৈর্যের মূর্তপ্রতীক? [মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা]
 হযরত ইবরাহিম (আ) খ হযরত মুসা (আ)
গ হযরত আদম (আ) ঘ হযরত ঈসা (আ)
৫০. ধৈর্যের আরবি প্রতিশব্দ কী? (জ্ঞান)
ক সালাত  সবর গ ইহসান ঘ ইকরাম
৫১. মানবজীবনের মহৎ গুণ কোনটি? (জ্ঞান
ক ঘৃণা খ ঘুষ  ধৈর্য ঘ অহংকার
৫২. কার দেহে পচন ধরেছিল? (জ্ঞান)
ক হযরত ইব্রাহিম (আ) -এর খ হযরত নূহ (আ)-এর
 হযরত আইয়ুব (আ)-এর ঘ হযরত ইউনুছ (আ) – এর
৫৩. নিচের কোনটি ধৈর্য শব্দের অর্থ নয়? (জ্ঞান)
ক সহিষ্ণুতা খ দৃঢ়তা গআত্মনিয়ন্ত্রণ ˜ আনন্দিত
৫৪. ধৈর্যের স্তর কয়টি? (জ্ঞান)
˜ তিন খ চার গ পাঁচ ঘ সাত
৫৫. মানুষকে বিপদে কী করতে হবে? (জ্ঞান)
ক কাঁদতে হবে খ সংগ্রাম করতে হবে
গ দোয়া করতে হবে ˜ ধৈর্যধারণ করতে হবে
৫৬. ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে গিয়ে কোন নবি অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন? (জ্ঞান)
˜ হযরত ইবরাহিম (আ) খ হযরত ইউনুস (আ)
গ হযরত আইয়ূব (আ) ঘ হযরত ইসমাইল (আ)
৫৭. শরিয়তের বিধান পালন করতে কোনটির প্রয়োজন? (জ্ঞান)
˜ ধৈর্য খ লোভ গ হিংসা ঘ অহংকার
৫৮. ধৈর্যের অনুশীলন ছাড়া মানুষ ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবনে কী করতে পারে না? (জ্ঞান)
˜ সফলতা অর্জন খ সদাচার
গ উন্নয়ন ঘ সম্পদ অর্জন
৫৯. সুদিনের সময় আত্মহারা না হয়ে কী করতে হবে? (জ্ঞান)
ক অহংকার খ আনন্দ উল­াস
˜ ধৈর্যধারণ ঘ নীরবতা অবলম্বন
৬০. জীবনে যারা বড় হয়েছেন তারা সবাই কেমন ছিলেন? (জ্ঞান)
ক সামাজিক খ দরিদ্র গ সংস্কৃতিমনা ˜ ধৈর্যশীল
৬১. “অবশ্যই ধৈর্যশীলগণকে তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে দেওয়া হবে” এটি কোন সূরায় বর্ণিত হয়েছে? (জ্ঞান)
ক সূরা নাস ˜ সূরা যুমার গ সূরা নিসা ঘ সূরা আলে ইমরান
৬২. জীবনে চলার পথে মানুষকে ধৈর্যশীল হতে হবে কেন? (অনুধাবন)
ক ধৈর্যশীলগণ ধনী হতে পারে বলে
˜ অধৈর্য মানুষকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেয় বলে
গ ধৈর্যহারা মানুষকে কেউ পছন্দ করে না বলে
ঘ ইমাম আবু হানিফা (র) ধৈর্যশীল ছিলেন বলে
৬৩. হযরত ইবরাহিম (আ) অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন কেন? (অনুধাবন)
˜ নমরুদের মূতিপূজার বিরোধিতা করায়
খ তাঁর দেহে পচন ধরেছিল বলে
গ নমরুদকে হত্যা করার অপরাধে
ঘ নমরুদের সাথে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে
৬৪. তারিক কঠিন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। এমতাবস্থায় তাকে কী করতে হবে? (প্রয়োগ)
ক ধৈর্যহারা হতে হবে খ বিশ্রাম নিতে হবে
˜ ধৈর্যধারণ করতে হবে ঘ সাহসী হতে হবে
৬৫. জাহাঙ্গীর সাহেব ধৈর্যসহকারে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করে থাকেন। এর ফলে তিনি কী লাভ করবেন? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক প্রচুর ধন-সম্পদ খ রাজনৈতিক নেতৃত্ব
˜ অফুরন্ত প্রতিদান ঘ পারিবারিক শান্তি
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৬৬. ধৈর্য হলো- [সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা]
র. আত্মনিয়ন্ত্রণ রর. সহিষ্ণুতা
ররর. আত্মনির্ভরশীলতা
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৬৭. ধৈর্যের মূর্তপ্রতীক ছিলেনÑ (অনুধাবন)
র. হযরত ইবরাহিম (আ) রর. হযরত ঈসা (আ)
ররর. সুলায়মান (আ)
নিচের কোনটি সঠিক?
 র খ রর গ ররর ঘ র, রর ও ররর
৬৮. মানুষের জীবনে আসে সুখ-দুঃখ, বিপদ-আপদ, সফলতা, বিফলতা, জয়-পরাজয়। সবক্ষেত্রেই প্রয়োজন  (উচ্চতর দক্ষতা)
র. অর্থের রর. ধৈর্যের ররর. চেষ্টার
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ˜ রর গ ররর ঘ র, রর ও ররর
৬৯. ধৈর্য মানবজীবনেরÑ (অনুধাবন)
র. একটি মহৎগুণ রর. সফলতার চাবিকাঠি
ররর. নিন্দনীয় স্বভাব
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৭০ ও ৭১ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
তালেব অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। তার এক সহপাঠী তাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে। কিন্তু সে তার প্রতিবাদ করে না। সে সবকিছু সহ্য করে।
৭০. তালেবের মধ্যে কোন গুণটির প্রকাশ ঘটেছে? (প্রয়োগ)
ক তাকওয়া খ ভ্রাতৃত্ব ˜ ধৈর্য ঘ সততা
৭১. এরূপ আচরণের ফলে তালেব ভবিষ্যতে  (উচ্চতর দক্ষতা)
র. সফল হবে রর. বিফল হবে
ররর. শান্তি পাবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
পাঠ-৩ : ভ্রাতৃত্ব
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৭২. বিশ্বের সকল মানুষ ভাই ভাই কেন? [সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক সবাই আল্লাহর সৃষ্টি বলে খ সবাই পৃথিবীতে বাস করে বলে
গ সবাই একই রকম সৃষিট বলে ˜ সবাই এক আদম (আ) হতে সৃষ্টি বলে
৭৩. ‘উখ্ওয়াত’ শব্দের অর্থ কী? (জ্ঞান)
ক হৃদ্যতা খ ভালোবাসা ˜ ভ্রাতৃত্ব ঘ আন্তরিকতা
৭৪. হাদিসের আলোকে এক মুসলমান অপর মুসলমানের কী? (জ্ঞান)
ক বন্ধু ˜ ভাই গ আত্মীয় ঘ অভিভাবক
৭৫. ভ্রাতৃত্ব কত প্রকার? (জ্ঞান)
ক দুই ˜ তিন গ পাঁচ ঘ সাত
৭৬. হযরত আদম (আ) কী হতে সৃষ্টি? (জ্ঞান)
ক আগুন খ পানি ˜ মাটি ঘ নূর
৭৭. আল্লাহর রাসুল (স) পৃথিবীর সকল ইমানদারগণকে কিসের সাথে তুলনা করেছেন? (জ্ঞান)
ক একটি জাতির খ একটি ধর্মের ˜ একটি দেহের ঘ একটি মনের
৭৮. মানুষের আকার-আকৃতি, স্বভাব-প্রকৃতি এবং বর্ণ ও ভাষার মধ্যে ভিন্নতা দেখা দেয় কেন? (অনুধাবন)
ক জš§ ও বংশগত ভিন্নতার কারণে
খ ধর্ম ও মতাদর্শগত ভিন্নতার কারণে
 আবহাওয়া এবং ভৌগলিক পরিবেশের কারণে
ঘ ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্যের কারণে
৭৯. মানুষকে বিভিন্ন জাতি, গোত্র, বর্ণ ও ভাষায় বিভক্ত করার উদ্দেশ্য কী? (অনুধাবন)
ক বৈষম্য সৃষ্টি করে রাখা  একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়া
গ পরস্পর শত্র“তা বৃদ্ধি করা ঘ অনৈক্য সৃষ্টি করা
৮০. “নিশ্চয়ই মুমিনগণ ভাই ভাই”Ñ এর দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে? (প্রয়োগ)
˜ ইসলামি ভ্রাতৃত্ব খ বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব গ ঔরসজাত ভ্রাতৃত্ব ঘ বংশীয় ভ্রাতৃত্ব
৮১. রফিক ও সফিক উভয়ে মুসলমান প্রতিবেশী। ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক কী? (প্রয়োগ)
˜ ভাই ভাই খ প্রতিবেশী গ শত্র“ ঘ আত্মীয়
৮২. মোস্তাফিজ পত্রিকা পড়ে ফিলিস্তিনী মুসলমানদের উপর নির্যাতনের খবর জানতে পারল। এর ফলে একজন মুসলমান হিসেবে তার অনুভ‚তি কী হবে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক খুশি হবে খ আনন্দিত হবে ˜ ব্যথিত হবে ঘ দিশেহারা হবে
৮৩. “নিশ্চয়ই মুমিনগণ ভাই ভাই” Ñএটি কোন সূরায় বর্ণিত হয়েছে? (প্রয়োগ)
˜ সূরা আল-হুজুরাত খ সূরা আল-বাকারা
গ সূরা আল-মাইদা ঘ সূরা আন-নিসা
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৮৪. মানুষের আকার-আকৃতি, স্বভাব-প্রকৃতি এবং বর্ণ ও ভাষার মধ্যে ভিন্নতা দেখা দেয়Ñ (অনুধাবন)
র. আবহাওয়ার কারণে
রর. বংশগত ভিন্নতার কারণে
ররর. ভৌগোলিক পরিবেশের কারণে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৮৫. ইসলামে কোনো ভেদাভেদ নেইÑ (অনুধাবন)
র. উঁচু-নিচুর মধ্যে রর. সাদা-কালোর মধ্যে
ররর. ধনী-দরিদ্রের মধ্যে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
৮৬. পৃথিবীর সকল মানুষেরÑ (অনুধাবন)
র. আদি পিতা হযরত আদম (আ) রর. আদি মাতা হযরত মরিয়ম (আ)
ররর. আদি মাতা হযরত হাওয়া (আ)
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৮৭ ও ৮৮ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মালিয়া ও মালালার মাঝে কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই। মালিয়ার বাড়ি আমেরিকায় আর মালালার বাড়ি পাকিস্তানে। তারা একে অপরকে চিনে। তাদের মাঝে খুব সুন্দর সম্পর্ক। উভয়ে মুসলিম।
৮৭. উভয়ে মুসলিম হওয়ার কারণে মালিয়া ও মালালার মাঝে কী তৈরি হয়েছে? (প্রয়োগ)
ক বন্ধুত্ব খ হৃদ্যতা গ যোগাযোগ ˜ ভ্রাতৃত্ব
৮৮. মহানবি (স) হাদিস অনুসারে মালিয়া ও মালালাÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. একে অপরের সাথে অভিমান করবে
রর. এর সম্পর্ক একটি ইমারতের মতো
ররর. একে অপরের সাথে মজবুত সম্পর্ক গড়ে তুলবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর ˜ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
পাঠ-৪ : নারীর মর্যাদা
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৮৯. কোন ধর্ম নারীকে সম্পত্তির অধিকার দিয়েছে? (জ্ঞান)
 ইসলাম খ খ্রিষ্টান গ হিন্দ ঘ বৌদ্ধ
৯০. নারীর সঠিক মর্যাদা দিয়েছে কোন ধর্ম? (জ্ঞান)
ক ইহুদি খ খ্রিষ্ট গ হিন্দু ˜ ইসলাম
৯১. প্রাচীন আরব সমাজে কাদের অবস্থা শোচনীয় ছিল? (জ্ঞান)
ক পুরুষদের ˜ নারীদের গ শিশুদের ঘ বার্ধক্যদের
৯২. সম্পত্তি লাভের বেলায় ইসলাম নারীদের কাদের সম্পত্তির অধিকারিণী করেছে? (জ্ঞান)
ক মামা-খালুর ˜ পিতা ও স্বামীর গ ভগ্নিপতির ঘ মাতার
৯৩. প্রাচীন আরব সমাজে কন্যাসন্তানকে জীবিত কবর দেওয়া হতো। এ থেকে কী বোঝা যায়? (প্রয়োগ)
ক নারীর অবস্থা ছিল মর্যাদাপূর্ণ খ নারীর অবস্থা ছিল ভালো
গ নারীর অবস্থা ছিল ভীতিকর ˜ নারীর অবস্থা ছিল করুণ
৯৪. প্রাচীন আরবসমাজে নারীর অবস্থা কেমন ছিল? (জ্ঞান)
˜ করুণ খ সুন্দর গ স্বাভাবিক ঘ ভালো
৯৫. কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিত কোন দেশে? (জ্ঞান)
ক ইরানে ˜ আরবে গ ইউরোপে ঘ ইরাকে
৯৬. ফাতেমা আইয়ামে জাহিলিয়া যুগের নারী। তার সামাজিক অবস্থা কোনটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? (প্রয়োগ)
˜ করুণ খ খুবই ভালো গ আত্মসম্মানপূর্ণ ঘ গৌরবময়
৯৭. সজীব সদ্য বিয়ে করেছে। সে কার সাথে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে স্ত্রীকে গ্রহণ করেছে? (প্রয়োগ)
ক রাসুলের সাথে ˜ আল­াহর সাথে গ পিতার সাথে ঘ সাহাবিদের সাথে
৯৮. “মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত” এটি কার বাণী? (জ্ঞান)
˜ মহানবি (স)-এর খ আল্লাহর
গ আবু বকর (রা)-এর ঘ ইমাম আবু হানিফার
৯৯. সালমার শ্বশুর বাড়ির সবাই তাকে মূল্যায়ন করে এবং যথাযোগ্য সম্মান দেয়। এতে কী প্রকাশ পেয়েছে? (প্রয়োগ)
˜ নারীর মর্যাদা খ সংসারের সুখ
গ বিবাহের উপকারিতা ঘ নারীর অহংকার
১০০. রানা তার পিতা-মাতার ইনতিকালের পর তার তিন বোনের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জায়গা-জমি একাই দখন করে নেয়। তার পরকালীন পরিণতি কী হবে? (উচ্চতর দক্ষতা)
˜ কঠিন শাস্তি খ জান্নাত গ আরাফ ঘ নাজাত
১০১. “মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত” হাদিসটি কোন হাদিসগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে? (প্রয়োগ)
˜ নাসায়ি খ বুখারি গ মুসলিম ঘ ইবনে মাজাহ
১০২. “মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত”এ কথার দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? (প্রয়োগ)
ক স্ত্রী মর্যাদা খ কন্যা সন্তানের অধিকার
˜ নারীর মর্যাদা ঘ পিতামাতার অধিকার
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১০৩. প্রাচীন আরব সমাজে (অনুধাবন)
র. নারীর অবস্থা ছিল করুণ রর. কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিত
ররর. কন্যাসন্তান জন্ম নিলে পিতামাতা সন্তুষ্ট হতো
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১০৪. ইসলাম নারীদেরকে দিয়েছেÑ (অনুধাবন)
র. পিতা ও স্বামীর সম্পত্তিতে অধিকার
রর. বিদ্যার্জনের অধিকার
ররর. অবাধ চলাফেরার অধিকার
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১০৫. সম্পত্তি লাভের ক্ষেত্রে ইসলাম নারীকে অধিকারিণী করেছেÑ (অনুধাবন)
র. পিতার সম্পত্তির রর. ভাইয়ের সম্পত্তির
ররর. স্বামীর সম্পত্তির
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১০৬ ও ১০৭ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আবুল বাশার তার পিতার ইনতিকালের পর উত্তরাধিকারসূত্রে দু’বোনের প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে নিজেই আত্মসাৎ করে।
১০৬. আবুল বাশারের কাজটি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে কেমন? (প্রয়োগ)
ক হালাল ˜ হারাম গ মুবাহ ঘ মাকরুহ
১০৭. আবুল বাশারের এরূপ কাজের ফলেÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. পরকালীন জীবন দুঃসহ হবে রর. দুনিয়ায় সম্মানিত হবে
ররর. কঠিন শাস্তি ভোগ করবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
পাঠ-৫ : সমাজসেবা
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১০৮. জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর কী?
[বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
˜ ফরজ খ ওয়াজিব গ সুন্নাত ঘ নফল
১০৯. সমাজের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে স্বেচ্ছায় গৃহীত যাবতীয় কাজকে কী বলে? (জ্ঞান)
ক তকদির খ দেশপ্রেম ˜ সমাজসেবা ঘ সহানুভূতি
১১০. গরিবরা কোথায় তাদের আর্থিক সমস্যার সূরাহা করবে? (জ্ঞান)
ক পরিবারে খ সরকারের কাছে
˜ অর্থশালী ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানে ঘ সমাজে
১১১. সম্পদশালীদের প্রতিষ্ঠানে গরিবরা কাজ করবে কেন? (অনুধাবন)
ক ধনী হওয়ার জন্য ˜ আর্থিক সমস্যার সুরাহার জন্য
গ সম্পদশালী হওয়ার জন্য ঘ সময়ের সদ্ব্যবহারে জন্য
১১২. নিচের কোনটি সমাজসেবার অন্তর্ভুক্ত? (জ্ঞান)
ক নারীর অধিকার আদায় করা খ পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা
˜ সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষা করা ঘ সন্তানদের শিক্ষিত করা
১১৩. সমাজ সংশোধনমূলক প্রত্যেক কার্যক্রম কোনটির অন্তর্ভুক্ত? (জ্ঞান)
˜ সমাজসেবার খ বিশৃঙ্খলার গ ভ্রাতৃত্বের ঘ ঐক্যের
১১৪. আল­াহ তায়ালা বান্দাকে কতক্ষণ সাহায্য করেন? (জ্ঞান)
ক যতক্ষণ সে অন্যের মুখাপেক্ষী হয়
খ যতক্ষণ সে অসহায় অবস্থায় থাকে
˜ যতক্ষণ সে তার ভাইকে সাহায্য করতে থাকে
ঘ যতক্ষণ সে সে পিতামাতার সেবা করে
১১৫. সর্বস্তরের জনগণের উপকারে আসে এমন সব কাজের অভ্যাস কখন থেকে করা দরকার? (জ্ঞান)
ক বৃদ্ধ বয়সে ˜ ছোটবেলা থেকে
গ জন্মের পর থেকে ঘ যৌবনকাল থেকে
১১৬. ‘জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ।’Ñ বাণীটি কার? (জ্ঞান)
ক মহান আল­াহর ˜ রাসুল (স)-এর
গ দাউদ (আ)-এর ঘ ঈসা (আ)-এর
১১৭. “জাতির নেতা তিনিই যিনি তাদের সেবক।”Ñ এটি কী? (জ্ঞান)
ক কুরআনের বাণী খ হাদিসের বাণী
˜ আরবি প্রবাদ বাক্য ঘ খনার বচন
১১৮. সমাজে কোনো বিশৃঙ্খলা বা গোলযোগ সৃষ্টি হলে তা দূর করতে হবে কেন? (অনুধাবন)
˜ বিশৃঙ্খলা সমাজের পরিবেশকে নষ্ট করে বলে
খ বিশৃঙ্খলা সমাজের লোকদের সৃষ্টি বলে
গ বিশৃঙ্খলাকারীরাও সমাজের সদস্য বলে
ঘ বিশৃঙ্খলাকারীরা অনেক শক্তিশালী বলে
১১৯. আমরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে সমাজসেবা করব কেন? (অনুধাবন)
ক সমাজের মানুষের উপকারের জন্য খ সমাজে সম্মান লাভ করার জন্য
গ সমাজের নেতা হওয়ার জন্য ˜ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে
১২০. আবুল হোসাইন আজাদ এর এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। তার এরূপ কাজ কিসের অন্তর্ভুক্ত? (প্রয়োগ)
ক কর্তব্যপরায়ণতা খ দেশপ্রেম গ মহানুভবতা ˜ সমাজসেবা
১২১. জনাব আবুল কাশেম সমাজের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করে থাকেন। এর ফলে তিনি কী লাভ করবেন? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক প্রচুর ধন-সম্পদ খ সম্মান-মর্যাদা গ সামাজিক নেতৃত্ব ˜ আল্লাহর সাহায্য
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১২২. সর্বস্তরের জনগণের উপকারে আসে এমন সমাজসেবামূলক কাজ হচ্ছেÑ (অনুধাবন)
র. নতুন রাস্তা নির্মাণে সাহায্য করা রর. রাস্তার পাশে ছায়াদার বৃক্ষরোপণ
ররর. আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
১২৩. সমাজ থেকে নিরক্ষরতা দূর করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে
[রংপুর জিলা স্কুল]
র. সরকারি উদ্যোগে রর. বেসরকারি উদ্যোগে
ররর. সামাজিক উদ্যোগে
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১২৪. সমাজসেবার অন্তর্ভুক্ত হলোÑ
র. সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষা করা রর. সন্তানকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো
ররর. পরস্পরের কলহ ও দ্ব›দ্ব মেটানো
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১২৫ ও ১২৬ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সামির সাহেব ধনী লোক। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করবেন।
১২৫. সামির সাহেবের কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী? (প্রয়োগ)
ক সুনাম অর্জন খ নির্বাচন করা ˜ সমাজসেবা ঘ সম্মান অর্জন
১২৬. সামির সাহেবের এরূপ উদ্যোগের ফলে সমাজ থেকে দূর হবেÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
ক দারিদ্র্য খ হানাহানি ˜ নিরক্ষরতা ঘ চাঁদাবাজি
পাঠ-৬ : দেশপ্রেম
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১২৭. দেশপ্রেমের মূলকথা কী? (জ্ঞান)
˜ ভালোবাসা খ বিসর্জন গ আকর্ষণ ঘ সম্মান
১২৮. দেশপ্রেমের আরবি প্রতিশব্দ কী? (জ্ঞান)
ক খেদমতে খালক খ হুব্বুদ দুনইয়া
গ খেদমাতুল ওয়ালেদাইন ˜ হুব্বুল ওতান
১২৯. দেশপ্রেম মানুষকে কিসে উৎসাহিত করে? (জ্ঞান)
˜ দেশরক্ষায় খ আন্তরিকতায় গ যুদ্ধে ঘ সততায়
১৩০. আল-ওয়াতানু শব্দের অর্থ কী? (জ্ঞান)
˜ মাতৃভূমি খ দেশবাসী গ বিদেশবাসী ঘ প্রবাসী
১৩১. মানবজীবনের মহৎগুণ কোনটি? (অনুধাবন)
˜ দেশপ্রেম খ রীতিনীতি গ ভালোবাসা ঘ ঐতিহ্য
১৩২. দেশপ্রেম মানুষকে কী করে তোলে? (জ্ঞান)
˜ দায়িত্ব সচেতন খ আদর্শবান গ বিবেকবান ঘ নিষ্ঠাবান
১৩৩. দেশের সম্পদ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করবে কোনটি? (জ্ঞান)
˜ দেশপ্রেম খ স্বাধীনতা গ ভালোবাসা ঘ সার্বভৌমত্ব
১৩৪. “দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ”Ñ বক্তব্যটি কার? (জ্ঞান)
˜ মনীষীদের খ আবু বকরের (রা)
গ রাসুল (স)-এর ঘ ওসমান (রা)-এর
১৩৫. মহানবি (স) মদিনায় হিজরত করেন কেন? (অনুধাবন)
ক ইসলাম প্রচারের সুবিধার্থে খ কাফিরদের ষড়যন্ত্রের কারণে
˜ মদিনাবাসীদের অত্যাচারের কারণে ঘ মক্কাবাসীদের প্রতি রাগ করে
১৩৬. মদিনায় হিজরতকালে মহানবি (স) মক্কার দিকে বার বার ফিরে তাকান কেন?
ক মক্কাকে ঘৃণা করতেন বলে
˜ মক্কাকে খুব ভালোবাসতেন বলে
গ মক্কার সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি দেখার জন্য
ঘ মক্কা তাঁর জš§ভ‚মি ছিল বলে
১৩৭. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অংশগ্রহণ কিসের বহিঃপ্রকাশ? (প্রয়োগ)
ক স্বাধীনতার খ সার্বভৌমত্বের ˜ দেশপ্রেমের ঘ ষড়যন্ত্রের
১৩৮. আজহার দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করে থাকেন। এরূপ কাজের ফলে তিনি কী হবেন? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন
খ অন্যের প্রতি রাগান্বিত হবেন
গ নিজের উন্নতি করতে পারবেন
˜ নিজে দায়িত্ব সচেতন হবেন
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৩৯. দেশপ্রেমের মূল শিক্ষা হচ্ছেÑ (অনুধাবন)
র. মানুষকে দায়িত্ব সচেতন করে তোলা
রর. দেশের উন্নতির প্রতি সজাগ করানো
ররর. দেশের সম্পদ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করানো
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ রর ও ররর গ র ও ররর ˜ র, রর ও ররর
১৪০. “দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ”Ñ এ কথা দ্বারা বোঝা যায়Ñ (প্রয়োগ)
র. দেশকে ভালোবাসতে হবে রর. দেশপ্রেমিক ইমানদার হয়
ররর. প্রকৃত মুমিন দেশপ্রেমিক হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ র ও রর ˜ র ও ররর ঘ রর ও ররর
১৪১. “দেশপ্রেমের মূলে থাকেÑ [ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম]
র. দেশের ভূখণ্ডকে ভালোবাসা রর. দেশের জনগণকে ভালোবাসা
ররর. দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর গ ররর ˜ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১৪২ ও ১৪৩ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মহানবি (স) মদিনায় হিজরতকালে মক্কার দিকে বার বার ফিরে তাকান, আর কাতর কণ্ঠে বলেনÑ হে আমার স্বদেশ! তুমি কত সুন্দর! আমি তোমাকে ভালোবাসি। আপন গোত্রীয় লোকেরা যদি ষড়যন্ত্র না করত, আমি কখনো তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।
১৪২. রাসুলের (স)-এর উক্তি দ্বারা কিসের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে? (প্রয়োগ)
˜ দেশপ্রেমের খ ভালোবাসার গ কর্তব্য পরায়ণতার ঘ আন্তরিকতার
১৪৩. রাসুল (স) মদিনায় হিজরত করেন। এর মূল কারণ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. বেড়াতে যাওয়ার জন্য রর. কাফিরদের কঠিন ষড়যন্ত্র
ররর. আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর ˜ রর ও ররর ঘ রর ও ররর
পাঠ-৭ : পরমতসহিষ্ণুতা
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৪৪. অন্যের ধর্মীয় মতামত ও রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি সম্মানজনক মনোভাব পোষণ করাকে কী বলে? (জ্ঞান)
˜ পরমতসহিষ্ণুত াখ দেশপ্রেম গ ন্যায়পরায়ণতা ঘ আন্তরিকতা
১৪৫. পরমতসহিষ্ণুতা মানবচরিত্রের কেমন গুণ? (জ্ঞান)
˜ প্রশংসনীয় খ নিন্দনীয় গ রাজনৈতিক ঘ ঘৃণিত
১৪৬. পারিবারিক সুখশান্তি নির্ভর করে কিসের ওপর? (জ্ঞান)
ক আনন্দ-উল­াসের ওপর  পরমতসহিষ্ণুতার ওপর
গ সুনাম-সুখ্যাতির ওপর ঘ অর্থ-সম্পদের ওপর
১৪৭. আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক গড়ে ওঠে কার ভিত্তিতে? (জ্ঞান)
ক পারস্পরিক সম্পর্ক খ ক‚টনৈতিক সম্পর্ক
˜ পরমতসহিষ্ণুতা ঘ রাজনৈতিক ঐক্য
১৪৮. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সদ্ভাব বজায় থাকে কীভাবে? (অনুধাবন)
ক কর্তব্যপরায়ণতার কারণে খ বন্ধুত্বের কারণে
˜ পরমতসহিষ্ণুতার কারণে ঘ শত্রæতার কারণে
১৪৯. মানুষ তার নিজস্ব পরিবেশে সুখ-শান্তিতে বসবাস করতে পারে কীভাবে? (অনুধাবন)
˜ পরমতসহিষ্ণুতার কারণে খ কর্তব্য পরায়ণতার কারণে
গ টাকা-পয়সার কারণে ঘ অর্থ-বিত্তের কারণে
১৫০. রহিম পারিবারিক সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়Ñ এ লক্ষ্যে পারিবারিক সদস্যদের মতামতকে সে কী করবে? (প্রয়োগ)
ক এড়িয়ে যাবে ˜ শ্রদ্ধা জানাবে গ অবমূল্যায়ন করবে ঘ অবজ্ঞা করবে
১৫১. সজল সর্বদা অন্যের মতামতকে অবজ্ঞা করে না, মূল্যায়ন করে। তার এ মনোভাবকে কী বলে? (প্রয়োগ)
˜ পরমতসহিষ্ণুতা খ দৃষ্টতা গ উদারতা ঘ সরলতা
১৫২. আত্মঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক লাভের পূর্বশর্ত কী? (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
˜ পরমতসহিষ্ণুতা খ সরলতা গ উদারতা ঘ আমানতদারিতা
১৫৩. জনাব সানোয়ারের চরিত্রে পরমতসহিষ্ণুতার গুণ বিদ্যামান। এর ফলে তিনি কী লাভ করবেন? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক প্রচুর ধন-সম্পদ খ ব্যবসায়িক সাফল্য
গ অগাধ সম্পত্তি ˜ পারিবারিক সুখ-শান্তি
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৫৪. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপন ও পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা সম্ভব হয় (অনুধাবন)
র. রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান থাকলে
রর. আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান থাকলে
ররর. দেশীয় রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১৫৫. একটি দেশের বসবাসরত নানাধর্ম, বর্ণ ও মতের লোকদের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা অপরিহার্যÑ (অনুধাবন)
র. পারস্পরিক স¤প্রীতির জন্য রর. পারস্পরিক সমঝোতার জন্য
ররর. পারস্পরিক সহাবস্থানের জন্য
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১৫৬ ও ১৫৭ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। দুদেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে ক‚টনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
১৫৬. উক্ত দেশ দু’টির মধ্যে কোনটির অভাব পরিলক্ষিত হয়? (প্রয়োগ)
˜ পরমতসহিষ্ণুতা খ রাজনৈতিক হাঙ্গামা
গ সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ঘ অর্থনৈতিক সম্পর্ক
১৫৭. রাষ্ট্র দুটির পারস্পরিক সুসম্পর্ক স্থাপনের জন্য প্রয়োজনÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. স¤প্রীতি রর. সৌহার্দ্য
ররর. অর্থনৈতিক সম্পর্ক
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর গ ররর ˜ র ও রর
পাঠ-৮ : আখলাকে যামিমাহ
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৫৮. আখলাকে যামিমাহ অর্থ কী? (জ্ঞান)
˜ নিন্দনীয় আচরণ খ প্রশংসনীয় আচরণ
গ সৌহার্দ্যমূলক আচরণ ঘ সদাচরণ
১৫৯. যে খারাপ কাজ বা আচরণ মানুষকে নিন্দনীয় করে তাকে কী বলে? (জ্ঞান)
˜ আখলাকে যামিমাহ খ আখলাকে হাসানা
গ আখলাকে হামিদাহ ঘ আখলাকে যায়িদা
১৬০. অহংকার, ঘুষ, অশ্লীলতা, ঘৃণা এসব কিসের অন্তর্ভুক্ত? (প্রয়োগ)
˜ আখলাকে যামিমাহর খ আখলাকে হামিদাহর
গ আখলাকে হাসিনার ঘ আখলাকে হাসানাহ
১৬১. আখলাকে যামিমাহর ফলে সমাজে কী সৃষ্টি হয়? (উচ্চতর দক্ষতা)
˜ অশান্তি খ সুসম্পর্ক গ স¤প্রীতি ঘ ভ্রাতৃত্ববোধ
১৬২. আশিক সুযোগ পেলেই চুরি করে। তার এ কাজটি সমাজে কী হিসেবে পরিচিত? (প্রয়োগ)
˜ নিন্দনীয় খ প্রশংসনীয় গ অনুস্মরণীয় ঘ গ্রহণীয়
১৬৩. খালেকের কাজগুলো আখলাকে যামিমাহর অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে সে কী থেকে বঞ্চিত হবে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক মানুষের শত্র“তা ˜ মানুষের ভালোবাসা
গ মানুষের ক্ষোভ ঘ মানুষের ঘৃণা
১৬৪. মানুষের সামাজিক জীবন নিন্দনীয় হয় কেন? (উচ্চতর দক্ষতা)
˜ আখলাকে যামিমাহর কারণে খ আখলাকে হামিদাহর কারণে
গ আখলাকে হাসিনার কারণে ঘ আখলাকে যায়িদার কারণে
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৬৫. আখলাকে যামিমাহর অন্তর্ভুক্ত হলোÑ (অনুধাবন)
র. চুরি, ডাকাতি রর. অহংকার
ররর. ঘুষ, সুদ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর গ ররর ˜ র, রর ও ররর
১৬৬. আখলাকে যামিমাহর অন্তর্ভুক্ত নয়Ñ (অনুধাবন)
র. অহংকার রর. সততা ররর. দেশপ্রেম
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর ˜ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১৬৭. এরশাদের চরিত্রে অশ্লীলতা, অহংকার, পরশ্রীকাতর ইত্যাদি নিন্দনীয় আচরণের প্রকাশ ঘটেছে। তার এরূপ আচরণ সমাজে (প্রয়োগ)
র. ঘৃণিত রর. নিন্দনীয় ররর. অপমানিত
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ রর ও ররর গ র ও ররর ˜ র, রর ও ররর
১৬৮. শামীম আখলাকে যামিমাহর অধিকারী। এর ফলে (উচ্চতর দক্ষতা)
র. জীবন সুন্দর হয়
রর. মানুষের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়
ররর. জীবন অশান্তময় হয়ে ওঠে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর ˜ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১৬৯ ও ১৭০ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জনাব মনির একটি সরকারি অফিসের কর্মকর্তা। তিনি বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ করেন।
১৬৯. মনির সাহেবের কাজে কোনটি ফুটে উঠেছে? (প্রয়োগ)
ক আখলাকে মাহিদাহ ˜ আখলাকে যামিমাহ
গ আখলাকে যায়িদাহ ঘ আখলাকে হাসানাহ
১৭০. এরূপ কাজের ফলে তার স্থান কোথায় হবে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক জান্নাত ˜ জাহান্নাম গ আরাফ ঘ বারযাখ
পাঠ-৯ : অহংকার
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৭১. অহংকার অর্থ কী? (জ্ঞান)
ক আত্মচেতনা খ ঘৃণা ˜ অহমিকা ঘ নিষ্ঠা
১৭২. নিজেকে অন্যের তুলনায় বড় গণ্য করা এবং অন্যকে তুচ্ছ ও নিকৃষ্ট মনে করাকে কী বলে? (প্রয়োগ)
ক অশ্লীলতা খ গিবত  অহংকার ঘ ঘৃণা
১৭৩. অহংকারের ধরন কয়টি? (জ্ঞান)
ক দুই ˜ তিন গ চার ঘ পাঁচ
১৭৪. কাউকে ছোট বংশের লোক মনে করা কী? (জ্ঞান)
ক বিনয় খ ঘৃণা ˜ অহংকার ঘ অশ্লীলতা
১৭৫. স্ত্রী লোকদের মধ্যে কারা সৌন্দর্যের বড়াই করে থাকে? (জ্ঞান)
˜ অহংকারীরা খ ছলনাময়ীরা
গ মিথ্যুকরা খ কৃতজ্ঞরা
১৭৬. দুনিয়া ও আখিরাতে ঘৃণিত কারা? (জ্ঞান)
˜ অহংকারীরা খ সত্যবাদীরা গ মুমিনগণ ঘ পরহেজগারগণ
১৭৭. মানুষের পতন হয় কেন? (অনুধাবন)
˜ অহংকারের কারণে খ ভালোবাসার কারণে
গ অর্থ-সম্পদের কারণে ঘ প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে
১৭৮. আব্দুর রহিম ধনীর ছেলে হওয়ার কারণে খুবই অহংকারী-এ অহংকার কোন আখলাকের অন্তর্ভুক্ত? (প্রয়োগ)
ক আখলাকে হামিদাহ ˜ আখলাকে যামিমাহ
গ আখলাকে হাসানাহ ঘ আখলাকে যায়িদাহ
১৭৯. “যার অন্তরে সামান্য পরিমাণ অহংকার আছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” এটি কোন হাদিস গ্রন্থের অন্তর্গত? (প্রয়োগ)
ক বুখারি ˜ মুসলিম গ নাসায়ি ঘ তিরমিযি
১৮০. লতিফ তার বংশমর্যাদা, সৌন্দর্য ও সম্পদের জন্য অহংকার করে। এর ফলে তার পরিণতি কী হবে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক দুনিয়ায় প্রশংসিত হবে খ আখিরাতে পুরস্কৃত হবে
 দুনিয়া ও আখিরাতে ঘৃণিত হবে ঘ সকলের ভালোবাসা লাভ করবে
১৮১. “নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো উদ্ধত অহংকারীকে পছন্দ করেন না”- কোন সূরার কততম আয়াত? (জ্ঞান)
˜ সূরা লুকমান-১৮ খ সূরা নিসা-২৩
গ সূরা মায়িদা-২৩ ঘ সূরা বাকারা-২৩
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৮২. শয়তান অভিশপ্ত হয়েছেÑ (অনুধাবন)
র. ঘৃণার কারণে রর. অহংকারের কারণে
ররর. অহমিকার কারণে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর  রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১৮৩. মানুষ অহংকার প্রকাশ করেÑ (অনুধাবন)
র. বংশ গৌরব করে রর. সম্পদ ও সৌন্দর্যের মাধ্যমে
ররর. শক্তির মাধ্যমে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
১৮৪. অহংকারের সবচেয়ে মারাত্মক কুফলÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. জান্নাতে প্রবেশাধিকার নিষেধ রর. বন্ধুবান্ধবের চোখে সম্মানিত
ররর. আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১৮৫ ও ১৮৬ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সানজিদার বাবা খুব ধনী লোক। সে ক্লাসের গরিব ছাত্রী তাহমিনাকে ঘৃণা করে এবং নিজেকে তার তুলনায় উত্তম মনে করে।
১৮৫. সানজিদার এরূপ আচরণে কী প্রকাশ পেয়েছে? (প্রয়োগ)
র. অশ্লীলতা রর. অহমিকা ররর. অহংকার
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর ˜ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১৮৬. এরূপ আচরণের ফলে সানজিদাÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. জান্নাতে প্রবেশ করবে না রর. দুনিয়ার প্রশংসিত হবে
ররর. আখিরাতে ঘৃণিত হবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
পাঠ-১০ : অশ্লীলতা
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৮৭. অশ্লীলতা অর্থ কী? (জ্ঞান)
ক ভদ্রতা খ আচার আচরণ গ অপরাধ ˜ জঘন্যতা
১৮৮. আল­াহ তায়ালা অশ্লীলতাকে কী ঘোষণা করেছেন? (জ্ঞান)
˜ হারাম খ হালাল গ মুবাহ ঘ জায়েজ
১৮৯. কোনটি মানুষের পরলৌকিক জীবনকে দুঃসহ করে তোলে? (জ্ঞান)
ক সত্যবাদিতা ˜ অশ্লীলতা গ পর্দাশীলতা ঘ ন্যায়পরায়ণতা
১৯০. কোনটি সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে? (জ্ঞান)
ক বেকারত্ব ˜ অশ্লীলতা গ লেখাপড়া ঘ মারামারি
১৯১. কোনটি মানবচরিত্রকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে? (জ্ঞান)
˜ লজ্জাশীলতা খ অর্থগৌরব গ বংশগৌরব ঘ রাজনৈতিক প্রভাব
১৯২. অশ্লীলতা ত্যাগ করা কার অন্যতম বৈশিষ্ট্য? (জ্ঞান)
ক মানুষের ˜ মুমিন বান্দার
গ নাফরমানদের ঘ বড় লোকদের
১৯৩. মস্ত বড় পাপের কাজ কোনটি? (জ্ঞান)
ক অত্যাচার খ মারামারি ˜ অশ্লীলতা ঘ ভালোবাসা
১৯৪. মুরাদ অশ্লীল কাজে লিপ্ত থাকে। আখিরাতে তার পরিণাম কী হবে? (উচ্চতর দক্ষতা)
˜ জাহান্নাম খ জান্নাত গ সুখ-শান্তি ঘ পুরস্কার
১৯৫. যুবক-যুবতীদের কুকর্মের প্রতি প্রলুব্ধ করে কোনটি? (জ্ঞান)
ক রাজনীতি খ পড়াশোনা ˜ অশ্লীলতা ঘ ধুমপান
১৯৬. “তারাই (মুমিন) যারা গুরুতর পাপ ও অশ্লীলকার্য থেকে বেঁচে থাকে”। Ñআয়াতটি কোন সূরা থেকে নেওয়া হয়েছে? (জ্ঞান)
˜ সূরা আশ-শুরা খ সূরা নিসা গ সূরা লাহাব ঘ সূরা নাহল
১৯৭. “প্রকাশ্য কিংবা গোপন অশ্লীল আচরণের নিকটেও যাবে না”-এ বাণীটি কার? (জ্ঞান)
ক রাসুল (স)-এর ˜ আল­াহ তায়ালার
গ ইমাম গাজ্জালির ঘ হযরত আবু বকর (রা)-এর
১৯৮. “যার মধ্যে লজ্জাশীলতা আছে, তা তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে”। -এটি কোন হাদিসের বাণী? (জ্ঞান)
˜ তিরমিজি খ বুখারি গ মুসলিম ঘ আবু দাউদ
১৯৯. “প্রত্যেক অশ্লীল আচরণকারীর জন্য জান্নাতে প্রবেশ হারাম”।-এ উক্তিটি কে করেছেন? (জ্ঞান)
˜ রাসুল (স) খ আল­াহ তায়ালা গ আবু বকর (রা) ঘ ইবরাহিম (আ)
২০০. অশ্লীলতা দ্বারা কী বোঝানো হয়? (অনুধাবন)
ক ব্যক্তির সৌজন্যমূলক কথাও আচরণ
খ গোপনে করা হয় এমন কাজ
˜ নির্লজ্জ ও কুরুচিপূর্ণ কথা ও কাজ
ঘ প্রকাশ্যে কাউকে অসম্মান করা
২০১. শিল্পপতি শাহজাহান সাহেব তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীদের সাথে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে। তার এরূপ আচরণে কোনটি ফুটে উঠেছে? (প্রয়োগ)
ক লজ্জাশীলতা খ ভদ্রতা ˜ অশ্লীলতা ঘ সাহসিকতা
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২০২. অশ্লীলতা একটি মস্তবড় পাপের কাজ। কেননা এটা (অনুধাবন)
র. সমাজের শান্তি নষ্ট করে
রর. মানুষের পারলৌকিক জীবনকে দুঃসহ করে
ররর. মানুষকে কুকর্মের প্রতি প্রলুব্ধ করে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর গ ররর ˜ র, রর ও ররর
২০৩. অশ্লীল আচরণকারী সকলের নিকট ঘৃণিত। অশ্লীলতাÑ
র. সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করে
রর. একটি মস্তবড় পাপের কাজ
ররর. একটি প্রশংসনীয় গুণ
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
২০৪. পলির এরূপ আচরণের ফলেÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. জান্নাত হারাম হবে রর. কুকর্মের প্রতি প্রলুব্ধ হবে
ররর. শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ২০৫ ও ২০৬ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
পলি কুরুচিপূর্ণ পোশাক পরে বাইরে যাচ্ছিল। এ অবস্থা দেখে আসমা তাকে ডেকে এর কুফল খুব সুন্দরভাবে বুঝাল। পলি বিষয়টি বুঝতে পেরে নিজে সংশোধন হতে সচেষ্ট হলো।
২০৫. পলির আচরণে কোনটি ফুটে উঠেছে? (প্রয়োগ)
ক ভদ্রতা খ শালীনতা গ সৌজন্যতা ˜ অশ্লীলতা
২০৬. নিষ্পাপ ও কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের চরিত্র হনন করে কোনটি?
[সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক ভালোবাসা ˜ অশ্লীলতা গ বংশগৌরব ঘ অহংকার
পাঠ-১১ : পরশ্রীকাতরতা
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২০৭. পরশ্রীকাতরতা কী ধরনের ব্যাধি? (জ্ঞান)
ক সামাজিক ব্যাধি ˜ মানসিক ব্যাধি গ রাজনৈতিক ব্যাধি ঘ পারিবারিক ব্যাধি
২০৮. ইসলাম পরশ্রীকাতরতাকে কী ঘোষণা করেছে? (জ্ঞান)
ক ওয়াজিব খ মাকরুহ ˜ হারাম ঘ মোবাহ
২০৯. কার পদমর্যাদা দেখে ইবলিস ঈর্ষান্বিত হয়? (জ্ঞান)
˜ আদম (আ)-এর খ ইবরাহিম (আ)-এর
গ রাসুল (স)-এর ঘ আবু বকর (রা)-এর
২১০. অন্যের উন্নতি ও সৌভাগ্য দেখে ঈর্ষা প্রকাশ করাকে কী বলে? [বিএফ শাহিন কলেজ, ঢাকা]
˜ পরশ্রীকাতরতা খ ন্যায়পরায়ণতা গ উদারতা ঘ সত্যবাদিতা
২১১. সর্বপ্রথম পাপ সংঘটিত হয় কেন? (অনুধাবন)
ক অর্থনৈতিক কারণে ˜ ঈর্ষার কারণে
গ পারিবারিক কারণে ঘ সামাজিক কারণে
২১২. কাবিল হাবিলকে হত্য করে কেন? (অনুধাবন)
˜ পরশ্রীকাতরতার জন্য খ টাকার জন্য
গ নামাযের জন্য ঘ অপরাধের জন্য
২১৩. পরশ্রীকাতরতা মানুষের কী ধ্বংস করে? (জ্ঞান)
ক নিন্দনীয় কাজ ˜ পুণ্য গ আখিরাত ঘ বংশ গৌরব
২১৪. ফাতিমা তার সহপাঠী রেবেকার ভালো ফলাফলে হিংসা করে। এতে ফাতিমার মধ্যে কী প্রকাশ পেয়েছে? (প্রয়োগ)
ক ভালোবাসা খ আন্তরিকতা ˜ পরশ্রীকাতরতা ঘ শত্রæতা
২১৫. রোমান অন্যের ভালো গুণে খুবই পরশ্রীকাতর। তার এ আচরণ আল­াহর কাছে কেমন? (প্রয়োগ)
˜ ঘৃণিত খ গ্রহণযোগ্য গ প্রশংসনীয় ঘ বর্জনীয়
২১৬. “আর হিংসুকের (পরশ্রীকাতরতার) অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই যখন সে হিংসা করে” -এটি কোন সূরা থেকে নেয়া হয়েছে? (জ্ঞান)
˜ সূরা আল-ফালাক খ সূরা আল-ইমরান
গ সূরা আল-গাশিয়া ঘ সূরা আল-হুজুরাত
২১৭. সোমা তার সহপাঠী সালমার ভালো ফলাফলে ঈর্ষান্বিত হয় এবং তার ধ্বংস কামনা করে। এরূপ আচরণের ফলে সোমার কী হবে? (উচ্চতর দক্ষতা)
˜ পুণ্য ধ্বংস হবে খ সমাজে প্রশংসিত হবে
গ পরীক্ষার ফল ভালো হবে ঘ অশেষ পুণ্যের অধিকারী হবে
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২১৮. পরশ্রীকাতরতা সৃষ্টি হয় (অনুধাবন)
র. শত্র“তার কারণে
রর. অহংকারের কারণে
ররর. নেতৃত্বের লোভে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর গ ররর ˜ র, রর ও ররর
২১৯. পরশ্রীকাতরতার ফলে সমাজে সৃষ্টি হয়Ñ (অনুধাবন)
র. ঝগড়া-বিবাদ
রর. মারামারি
ররর. অশান্তি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর গ ররর ˜ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ২২০ ও ২২১ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
হাবিবা ও জামিলা উভয়ই অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। গত সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলে জামিলা প্রথম হওয়ায় হাবিবা ঈর্ষান্বিত হয়ে তার ধ্বংস কামনা করে।
২২০. হাবিবার আচরণে কী প্রকাশ পেয়েছে? (প্রয়োগ)
ক কর্তব্যপরায়ণতা খ সাহসিকতা গ সত্যবাদিতা ˜ পরশ্রীকাতরতা
২২১. হাবিবার এরূপ আচরণের ফলেÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. তার পুণ্য ধ্বংস হবে
রর. মানুষের কাছে প্রশংসিত হবে
ররর. আল্লাহর নিকট ঘৃণিত হবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
পাঠ-১২ : ঘৃণা
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২২২. ‘ঘৃণা’ অর্থ কী? (জ্ঞান)
ক শত্র“তা খ কৃপণতা ˜ অবজ্ঞা ঘ অহংকার
২২৩. অহংকার, শত্র“তা, পদমর্যাদার লিপ্সা প্রভৃতির কারণে কী ঘটে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক ভালোবাসার জন্ম হয় ˜ ঘৃণার উদ্রেক ঘটে
গ জীবন উন্নত হয় ঘ সম্পদ বৃদ্ধি পায়
২২৪. কোনটি মহাগুরুতর ব্যাধি? (জ্ঞান)
˜ ঘৃণা খ দয়া গ বিনয় ঘ সত্যবাদিতা
২২৫. ঘৃণা সমাজে কী সৃষ্টি করে? (জ্ঞান)
˜ অশান্তি খ আন্তরিকতা গ সৌহার্দ্য ঘ ভালোবাসা
২২৬. মনে শান্তি লাভ করতে পারে না কে? (জ্ঞান)
˜ ঘৃণাকারী খ শয়তান গ জান্নাতবাসী ঘ ভদ্রলোক
২২৭. পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্যে কোন দুটি রোগ সংক্রমিত হয়েছে? (জ্ঞান)
˜ হিংসা ও ঘৃণা খ হিংসা ও বিদ্বেষ
গ মারামারি ও হানাহানি ঘ লোভ ও ক্ষোভ
২২৮. মিনা তার বান্ধবী সিমাকে তুচ্ছ মনে করে দূরে থাকে। তার কাজের মাধ্যমে কী প্রকাশ পেয়েছে? (প্রয়োগ)
˜ ঘৃণা খ ভালোবাসা গ সহানুভূতি ঘ স্নেহ
২২৯. ঘৃণা বা তাচ্ছিল্য কার বৈশিষ্ট্য? (জ্ঞান)
ক মানুষের ˜ শয়তানের গ বন্ধুদের ঘ প্রতিবেশীর
২৩০. “পূর্ববর্তী উম্মতের দুটি রোগ তোমাদের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে”Ñ এটি কোন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে? (প্রয়োগ)
˜ বায়হাকি খ বুখারি গ মুসলিম ঘ নাসাঈ
২৩১. “তোমরা একে অপরকে ঘৃণা করো না, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইও না, হিংসা করো না, ছিদ্রান্বেষণ করো না। তোমরা আল­াহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও।” এ উক্তিটি কে করেছেন? (প্রয়োগ)
ক আল­াহ তায়ালা খ হযরত সালমান ফারিসী (রা)
গ হযরত হুসাইন (রা) ˜ হযরত মুহাম্মদ (স)
২৩২. ঘৃণা বলতে কী বোঝায়? (অনুধাবন)
ক অন্যের ধ্বংস করা
খ অন্যের উন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হওয়া
˜ কাউকে তুচ্ছ মনে করে দূরে সরে থাকা
ঘ অন্যের অধিকার ক্ষুন্ন করা
২৩৩. ঘৃণার উদ্রেক ঘটে কেন? (অনুধাবন)
 অহংকার, শত্রæতা, পদমর্যদার লোভে
খ সমাজে চুরি, ডাকাতি-বেড়ে গেলে
গ সুদ, ঘুষ, মদ, জুয়া বৃদ্ধি পেলে
ঘ কোনো নোংরা মানুষ পাশে দাঁড়ালে
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২৩৪. ঘৃণা হচ্ছেÑ (অনুধাবন)
র. একটি মহাগুরুতর ব্যাধি
রর. শয়তানের বৈশিষ্ট্য
ররর. একটি প্রশংসনীয় গুণ
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
২৩৫. ঘৃণার উদ্রেক হওয়ার কারণ- (উচ্চতর দক্ষতা)
র. শত্র“তা
রর. পদমর্যাদার লিপ্সা
ররর. কৃপণতা
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ২৩৬ ও ২৩৭ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জমির সাহেব কেতুপুর এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। অঢেল অর্থসম্পদ থাকা সত্তে¡ও সে গ্রামে গরিব-দুঃখীদের সাহায্য-সহযোগিতা করে না। সে তাদের ঘৃণার চোখে দেখে।
২৩৬. ইসলামের দৃষ্টিতে জমির সাহেবের কাজটি কেমন? (প্রয়োগ)
˜ নিন্দনীয় খ প্রশংসনীয় গ গৌরবময় ঘ অনুকরণীয়
২৩৭. জমির সাহেবের কাজের ফলেÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হয়
রর. পারলৌকিক ক্ষতি সাধিত হয়
ররর. সামাজিক মর্যাদা বাড়ে
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র ও রর, ররর
পাঠ-১৩ : চৌর্যবৃত্তি
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২৩৮. ‘চৌর্য’ অর্থ কী? (জ্ঞান)
˜ চুরি খ মিথ্যা গ ক্ষোভ ঘ ঘৃণা
২৩৯. কারো মালিকানাভুক্ত সম্পদ সংরক্ষিত স্থান থেকে হাতিয়ে নেওয়াকে কী বলে? (জ্ঞান)
ক ডাকাতি ˜ চুরি গ মিথ্যা ঘ রাহাজানি
২৪০. চুরির জন্য জীবন ও সম্পদ কিসের শিকার হয়? (জ্ঞান)
˜ নিরাপত্তাহীনতার খ ক্ষতির গ আশংকার ঘ ঝুঁকির
২৪১. চুরি দ্বারা সমাজে নতুন করে কী সৃষ্টি হয়? (জ্ঞান)
ক সুখ্যাতি খ সুনাম ˜ অপরাধ ঘ সচেতনতা
২৪২. সমাজে চোরকে কোন চোখে দেখা হয়? (অনুধাবন)
ক মর্যাদার ˜ ঘৃণার গ স্নেহের ঘ সম্মানের
২৪৩. চোরকে আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিতে মানুষ কী করে? (উচ্চতর দক্ষতা)
˜ লজ্জাবোধ খ সম্মানবোধ গ মর্যাদাবোধ ঘ গৌরববোধ
২৪৪. সজীব সুযোগ পেলেই চুরি করে। এর ফলে সে কী হতে পারবে না? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক প্রকৃত বন্ধু খ দেশের নাগরিক
˜ প্রকৃত মুমিন ঘ রাজনীতিবিদ
২৪৫. আকলিমাকে অনেক মারধর করেও চুরি করার অভ্যাস ছাড়ানো গেল না। আখিরাতে তার কী ধরনের পরিণতি হবে? (উচ্চতর দক্ষতা)
˜ ভয়াবহ খ পুরস্কার গ শান্তিময় ঘ জান্নাত
২৪৬. মানুষের সম্পদ ও জীবন নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয় কেন? (অনুধাবন)
ক ডাকাতির জন্য খ রাহাজানির জন্য
˜ চুরির জন্য ঘ চাঁদাবাজির জন্য
২৪৭. সম্পদ পাহারা দিতে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় কেন? (অনুধাবন)
˜ চৌর্যবৃত্তির কারণে খ সন্ত্রাসের কারণে
গ ঘৃণার কারণে ঘ পরশ্রীকাতরতার কারণে
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২৪৮. চৌর্যবৃত্তির কারণে মানুষÑ (অনুধাবন)
র. ঘুমোতে পারে না
রর. নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে
ররর. নিরাপদে থাকে
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
২৪৯. চোরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়Ñ (অনুধাবন)
র. ছিনতাই রর. অপহরণ ররর. খুন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর গ ররর ˜ র, ররর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ২৫০ ও ২৫১ প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সেলিমের অভাব না থাকা সত্তে¡ও সে সুযোগ পেলেই চুরি করে। তার কারণে এলাকার মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে নির্ঘুম রাত কাটায়।
২৫০. তার এ কাজটি ইসলামের দৃষ্টিতে কিরূপ? (প্রয়োগ)
ক জায়েয খ বৈধ  হারাম ঘ সম্মানজনক
২৫১. সেলিমের এ কাজটি প্রতিকারের উপায় Ñ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. মৌলিক প্রয়োজন মেটানো
রর. নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করা
ররর. সামাজিকভাবে বয়কট করা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর গ ররর ˜ র, রর ও ররর
পাঠ-১৪ : ঘুষ
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২৫২. ঘুষ অর্থ কী (জ্ঞান)
ক পারিশ্রমিক খ পুরস্কার গ উপঢৌকন ˜ উৎকোচ
২৫৩. ঘুষ-এর আরবি প্রতিশব্দ কী? (জ্ঞান)
ক রিবা ˜ রেশওয়াত গ হাসাদ ঘ ইখওয়াত
২৫৪. নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অন্যের অধিকার ক্ষুণœ করার লক্ষ্যে কাউকে কোনোকিছু দেওয়ার নাম কী? (জ্ঞান)
ক বোনাস ˜ ঘুষ গ পুরস্কার ঘ উপঢৌকন
২৫৫. ঘুষ বলতে কী বোঝায়? (অনুধাবন)
 অবৈধভাবে কিছু লাভ করতে কাউকে কিছু দেওয়া
খ বাম হাতের দ্বারা কিছু দেওয়া
গ পর্দার আড়ালে কিছু দেওয়া
ঘ জরিমানার টাকা দেওয়া
২৫৬. অবৈধভাবে কিছু লাভের উদ্দেশ্যে কাউকে কিছু দেওয়ার নাম কী? (জ্ঞান)
ক পুরস্কার খ উপঢৌকন ˜ ঘুষ ঘ উপহার
২৫৭. কোনো ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করে উপঢৌকন গ্রহণ করার নাম কী? (জ্ঞান)
ক হাদিয়া খ সেলামি গ বোনাস ˜ ঘুষ
২৫৮. ঘুষ প্রদান কোন ধরনের অপরাধ? (জ্ঞান)
ক অর্থনৈতিক খ মানবিক ˜ সামাজিক ঘ রাজনৈতিক
২৫৯. ঘুষ প্রদানকারী ও গ্রহণকারীর ওপর অভিসম্পাত করেছেন কে? (জ্ঞান)
˜ মহানবি (স) খ হযরত আবু বকর (রা)
গ হযরত উসমান (রা) ঘ হযরত উমর (রা)
২৬০. আল­াহর লা’নত বর্ষিত হয় কাদের ওপর? (জ্ঞান)
ক ঘুষ গ্রহণকারীর ওপর খ ঘুষ প্রদানকারীর ওপর
গ ঘুষের সাক্ষীদের ওপর ˜ ঘুষ গ্রহণ ও প্রদানকারীর ওপর
২৬১. মালেক একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সে টাকা ছাড়া অফিসের কোনো কাজ করে না। ইসলামের দৃষ্টিতে তার কাজটি কিরূপ? (প্রয়োগ)
˜ হারাম খ বৈধ গ মাকরুহ ঘ মুস্তাহাব
২৬২. জহির সাহেব ভ‚মি অফিসের একজন কর্মকর্তা। তিনি কাজের বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ করে থাকেন। এর ফলে আখিরাতে তিনি কী হবেন? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক জান্নাতি ˜ জাহান্নামি গ সৌভাগ্যবান ঘ বেহেশতবাসী
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২৬৩. ঘুষ আদান-প্রদানের ফলেÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. অন্যের অধিকার ক্ষুণœ হয়
রর. সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়
ররর. আল­াহর অভিশাপ বর্ষিত হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
২৬৪. কিয়ামত দিবসে ঘুষ গ্রহীতার পরিণাম হবেÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. লজ্জাজনক
রর. ভয়াবহ
ররর. সম্মানজনক
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ২৬৫-২৬৭ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
অফিস সহকারি শহিদুল ইসলাম নির্দিষ্ট বেতনে চাকরি করেন। জনগণের কাজ দ্রæত করে দেয়ার নামে তিনি তাদের কাছ থেকে ফাইল বাবদ টাকা আদায় করেন। শহিদুল ইসলামের বন্ধু সাজিদুল ইসলাম তার এই কাজকে পছন্দ করেন না।
২৬৫. শহিদুল ইসলামের কাজটি কিসের প্রতীক? (প্রয়োগ)
ক সুদের  ঘুষের গ পারিশ্রমিকের ঘ উপঢৌকনের
২৬৬. শরিয়তের দৃষ্টিতে শহিদুলের কাজটি কী? (প্রয়োগ)
ক মাকরুহ খ বৈধ  হারাম ঘ মাকরুহে তানযিহি
২৬৭. শহিদুলের কাজের ফলেÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. সে জাহান্নামি হবে রর. তার মর্যাদা বাড়বে
ররর. আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
পাঠ-১৫ : সন্ত্রাস
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২৬৮. ফিতনা-ফাসাদের আধুনিক রূপ কী? (জ্ঞান)
ক চুরি খ ঘৃণা ˜ সন্ত্রাস ঘ অহংকার
২৬৯. সন্ত্রাস শব্দের অর্থ কী? (জ্ঞান)
˜ ত্রাস খ ক্ষোভ গ রাগ ঘ অনুভূতি
২৭০. জোর খাটিয়ে মানুষের কাছ থেকে কোনোকিছু আদায় করাকে কী বলে? (জ্ঞান)
ক চুরি খ ঘৃণা গ অহংকার ˜ সন্ত্রাস
২৭১. সন্ত্রাসের ফলে সমাজে কী সৃষ্টি হয়? (জ্ঞান)
ক শান্তি খ শৃঙ্খলা ˜ বিশৃঙ্খলা ঘ আন্তরিকতা
২৭২. সন্ত্রাস করা কোন ধরনের গুনাহ? (জ্ঞান)
ক সগিরা খ বাতেনী ˜ কবিরা ঘ অপ্রকাশ্য
২৭৩. সন্ত্রাসকবলিত এলাকায় মানুষের কী থাকে না? (জ্ঞান)
ক মর্যাদা ˜ নিরাপত্তা গ মমতা ঘ দায়িত্ববোধ
২৭৪. সন্ত্রাস বলতে কী বোঝায়? (অনুধাবন)
ক অবৈধভাবে কাউকে কিছু দেওয়া
খ কারো সম্পদ গোপনে হাতিয়ে নেওয়া
গ সম্পদ অর্জনের জন্য নির্ঘুম রাত কাটানো
˜ ভয় দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে কিছু আদায় করা
২৭৫. সেন্টু মানুষকে ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা কেড়ে নেয়। সেন্টুর কাজটি কিসের প্রতীক? (প্রয়োগ)
˜ সন্ত্রাস খ আঘাত গ বদনাম ঘ অত্যাচার
২৭৬. রিপন এলাকায় সন্ত্রাসী করে বেড়ায়। এর ফলে সমাজে কী সৃষ্টি হয়? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক নিরাপত্তা খ সুসম্পর্ক গ শান্তি ˜ বিশৃঙ্খলা
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২৭৭. সন্ত্রাস শব্দের অর্থÑ (অনুধাবন)
র. অতিশয় ত্রাস রর. ভয়ের পরিবেশ
ররর. উৎকোচ গ্রহণ
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
২৭৮. সন্ত্রাস দমনে প্রয়োজনÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রর. কারণ উদঘাটন
ররর. নৈতিকতাবোধ জাগ্রতকরণ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর গ ররর ˜ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ২৭৯ ও ২৮০ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মাজিদ খুবই ডানপিটে। স¤প্রতি তার বাবার কাছে তার নামে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আসে।
২৭৯. ইসলামের দৃষ্টিতে মাজিদের কর্মকাণ্ড (প্রয়োগ)
র. কবিরা গুনাহ রর. সগিরা গুনাহ
ররর. অমানবিক ও ঘৃণিত কাজ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর গ ররর  র ও ররর
২৮০. মাজিদের কর্মকাণ্ডের ফলেÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. সমাজের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় রর. শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন ব্যাহত হয়
ররর. জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
পাঠ-১৬ : এইচআইভি এবং এইডস
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২৮১. বর্তমান শতাব্দীর এক মহা আতঙ্কের নাম কী? (জ্ঞান)
ক জন্ডিস খ ক্যানসার ˜ এইডস ঘ য²া
২৮২. কত সালে এইডস ধরা পড়ে? (জ্ঞান)
ক ১৯৭০ সালে খ ১৯৭২ সালে গ ১৯৮০ সালে ˜ ১৯৮১ সালে
২৮৩. সর্বপ্রথম কোথায় এইডস ধরা পড়ে? (জ্ঞান)
˜ আমেরিকায় খ পাকিস্তানে গ বাংলাদেশে ঘ ভারতে
২৮৪. কোন ভাইরাস থেকে এইডস রোগ ছড়ায়? (জ্ঞান)
˜ এইচআইভি খ পিনা গ নিপা ঘ এনথ্রাক্স
২৮৫. এইচআইভিতে আক্রান্ত হতে পারে কারা? (জ্ঞান)
ক ছেলে খ মেয়ে গ যুবক ˜ সবাই
২৮৬. অবৈধ যৌনাচারণের জন্য কী রোগ হয়? (জ্ঞান)
˜ এইডস খ জন্ডিস গ য²া ঘ ক্যানসার
২৮৭. মুনির এইডস রোগে আক্রান্ত। এইডস রোগের ভাইরাস তার শরীরে প্রবেশ করে কীভাবে? (প্রয়োগ)
˜ তরল পদার্থের মাধ্যমে খ নিঃশ্বাসের মাধ্যমে
গ প্রসাবের মাধ্যমে ঘ ঘুমের মাধ্যমে
২৮৮. এইচআইভি ছড়ানোর কারণ কী? (অনুধাবন)
ক বৈধ যৌনাচরণ করলে
˜ সিরিঞ্জের মাধ্যমে নেশাজাতীয় দ্রব্য শরীরে প্রবেশ করালে
গ পরিশোধিত রক্ত শরীরে প্রবেশ করালে
ঘ একই পুকুরে গোসল করলে
২৮৯. মায়েজের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস পাওয়া গেছে। এর ফলে তার কী হবে? (উচ্চতর দক্ষতা)
˜ তার শরীরের ঞ৪ কোষগুলো ধ্বংস হবে
খ তার শরীরের কোষগুলো সজীব হবে
গ তার শরীর দ্রæত মোটা হয়ে যাবে
ঘ তার শরীরের শক্তি কমে যাবে
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২৯০. এইডস আক্রান্ত লোকÑ (অনুধাবন)
র. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারায় রর. মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে
ররর. মানসিক তৃপ্তি পায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ˜ র ও রর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
২৯১. এইডস প্রতিরোধের উপায় হলোÑ (অনুধাবন)
র. সুস্থ বৈবাহিক জীবন রর. বৈধ মেলামেশা
ররর. সামাজিক নিরাপত্তা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর ˜ র ও রর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ২৯২ ও ২৯৩ নং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আলিমের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস পাওয়া গেছে। দিন দিন তার শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বাবা-মা তাকে নিয়ে খুবই চিন্তিত।
২৯২. আলিমের শরীরে পাওয়া এইচআইভি কোন রোগের ভাইরাস? (প্রয়োগ)
ক য²া খ লিভার সিরোসিস
গ জন্ডিস ˜ এইডস
২৯৩. এ ভাইরাস আক্রান্তের ফলে সেÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. সুস্থ থাকবে
রর. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হরাবে
ররর. মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর ˜ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর

২৯৪. শরিফকে তার সহপাঠী আঘাত দেওয়ার পরও তার প্রতিশোধ নেয়নি। কারণ Ñ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. সে ধৈর্য্যরে পরাকাষ্ঠা রর. আখলাকে হামিদাহর গুণে গুণান্বিত
ররর. সহপাঠী খুব শক্তিশালী
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ˜ র ও রর গ র ও ররর ঘ রর ও ররর
২৯৫. সব মানুষ হযরত আদম (আ)-এর সন্তান হওয়ায় মামুন তার প্রতিবেশী ছালমার বিপদের দিনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। মামুনের কর্মকাণ্ডে প্রকাশ পেয়েছে Ñ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. ভ্রাতৃত্ববোধ রর. নারীর মর্যাদা ররর. সমাজসেবা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
২৯৬. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হলে তিনি সব ধর্মের মানুষের কথা শোনেন। তার কর্মকাণ্ডে প্রকাশ পেয়েছে Ñ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. দেশপ্রেম রর. পরমতসহিষ্ণুতা
ররর. ভ্রাতৃত্ববোধ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
২৯৭. ঐশি কদর্য পোশাক-আশাকে অতি দম্ভভরে চলাফেরা করে। মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করে এবং ঈর্ষান্বিত হয়। তার কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছে Ñ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. আখলাকে যামিমাহ
রর. অহংকার ও অশ্লীলতা
ররর. পরশ্রীকাতরতা ও ঘৃণাবোধ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
২৯৮. আখলাকে যামিমাহর উদাহরণ হলো Ñ (অনুধাবন)
র. চৌর্যবৃত্তি ও ঘুষ
রর. পরমতসহিষ্ণুতা ও এইডস
ররর. সন্ত্রাস
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর ˜ র ও ররর ঘ র, রর ও ররর

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন -১ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রায়হান সাহেব কক্সবাজারের একজন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে রায়হান সাহেবের বন্ধু আব্বাস সাহেবের স্ত্রী প্রভাষক পদে আবেদন করেন। পরে রায়হান সাহেবের অনুরোধক্রমে আব্বাস সাহেবের স্ত্রী উক্ত পদে নিয়োগ লাভ করলে আব্বাস সাহেব সস্ত্রীক রায়হান সাহেবের বাসায় হাজির হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং একটি স্বর্ণের চিংড়ি মাছসদৃশ শো-পিস উপহার হিসেবে প্রদান করেন। একদা রায়হান সাহেবের ছোট মেয়ের বান্ধবী আবিদা বেড়াতে এসে না বলে উক্ত শো-পিসটি নিয়ে যায়।
ক. হযরত আদম (আ)-এর পদমর্যাদা দেখে কে ঈর্ষান্বিত হয়েছিল?
খ. হিংসার একটি সামাজিক কুফল ব্যাখ্যা কর।
গ. রায়হান সাহেবের দ্বিতীয় কাজটি আখলাকে যামিমার কোন কাজের অন্তর্ভুক্ত? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
ঘ.আবিদার কাজটির পরিণাম বিশ্লেষণ কর।
 ১নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. হযরত আদম (আ)-এর পদমর্যাদা দেখে ইবলিস ঈর্ষান্বিত হয়েছিল।
খ. হিংসা মানুষের শান্তি বিনষ্ট করে। হিংসুককে কেউ ভালোবাসে না। সমাজের লোকেরা তাকে এড়িয়ে চলে। হিংসা সমাজে ঝগড়া-ফাসাদ, মারামারি ও অশান্তি সৃষ্টি করে।
গ. রায়হান সাহেবের দ্বিতীয় কাজটি আখলাকে যামিমার ঘুষের অন্তর্ভুক্ত। রায়হান সাহেব যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক সে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে আবেদন করে রায়হান সাহেবের বন্ধু আব্বাস সাহেবের স্ত্রী। পরিচালক হিসেবে রায়হান সাহেবের অনুরোধে তার বন্ধুর স্ত্রীর চাকরি হলে তাকে একটি স্বর্ণের চিংড়ি মাছসদৃশ শো-পিস উপহার হিসেবে দেয়া হয়। যা ইসলামে ঘুষ হিসেবে বিবেচিত। কাজেই এ উপহার গ্রহণ করে রায়হান সাহেব মূলত ঘুষই গ্রহণ করেছেন। ইসলামে ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া হারাম। ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া উভয়ই অমার্জনীয় অপরাধ। কেননা ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে অন্যের অধিকার ক্ষুন্ন হয়। রাসুল (স) বলেন, ‘ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়ই জাহান্নামি।’
ঘ. আবিদার কাজটি চৌর্যবৃত্তি। কারণ সে গোপনে স্বর্ণের চিংড়িমাছসদৃশ শো-পিসটি হাতিয়ে নিয়েছে। আবিদা রায়হান সাহেবের ছোট মেয়ের বান্ধবী। সে রায়হান সাহেবের বাড়িতে বেড়াতে এসে কাউকে কিছু না বলে স্বর্ণের চিংড়ি মাছসদৃশ একটি শো-পিস নিয়ে যায়। আবিদার এ কাজটি চুরি। এ কাজের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। চুরি করার কারণে উদ্দীপকের আবিদা প্রকৃত মুমিন থাকতে পারবে না। কেননা চুরি করা কবিরা গুনাহ। আর স্বভাবগত কারণে আবিদা এ কাজ করে থাকলে ইসলামে তার জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। আল্লাহ বলেন,
وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِنَ اللَّهِ
অর্থ : “পুরুষ চোর আর মহিলা চোর তাদের হাত কেটে দাও। তারা যা করেছে এ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি”।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের আবিদার কাজটি অত্যন্ত জঘণ্য ধরনের নিষিদ্ধ কাজ। এর ফলে সে প্রকৃত মুমিন থাকতে পারে না। আল্লাহ তার জন্য পরকালেও ভয়াবহ শাস্তির অঙ্গীকার করেছেন।
প্রশ্ন -২ ল্ফ নিচের চিত্রটি দেখে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

চিত্র নং ১ : রাস্তা সংস্কার হলো গ্রামবাসীর শ্রমে। ১ জুলাই, ২০১২ প্রথম আলো। চিত্র নং-২ : রোগীর অনুভ‚তি-এখানে বড় ডাক্তার বসেন, রোগী দেখে কোনো টাকা নেন না। ওষুধও ফ্রি পাই। (সংক্ষেপিত)
ক. ‘উত্তম চরিত্রই হলো সকল নেক কাজের মূল কথা’Ñ বাণীটি কার?
খ. ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধ বলতে কী বোঝায়?
গ. ১নং ছবিতে গ্রামের বাসিন্দাদের কাজটিতে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ.২নং ছবিটি যে বিষয়বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করে তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
ল্ফল্প ২নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. ‘উত্তম চরিত্রই হলো সকল নেক কাজের মূলকথা’Ñ বাণীটি নবি করিম (স)-এর।
খ. “আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, মুহাম্মদ (স) আল্লাহর রাসুল”Ñএ কালিমা বিশ্বাসী পৃথিবীর সকল বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও অঞ্চলের মানুষ যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ, তাকে ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধ বলে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনগণ ভাই ভাই।’ আর রাসুল (স) বলেছেন, “মুসলমান মুসলমানের ভাই।”
গ. ১নং ছবিতে গ্রামের বাসিন্দাদের কাজটিতে প্রকাশ পেয়েছে সমাজসেবা।
সমাজের বঞ্চিতজনগোষ্ঠীর কল্যাণে স্বেচ্ছায় গৃহীত কাজকে সমাজসেবা বলে। ব্যাপক অর্থে মানবকল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য গৃহীত সকল কর্মসূচিই সমাজসেবা নামে পরিচিত। ভাঙা রাস্তা মেরামত করা, নতুন রাস্তা নির্মাণে সাহায্য করা, পুল-সাঁকো নির্মাণ করা, রুগ্ন ব্যক্তির সেবা করা, আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া, রাস্তার পাশে ছায়াদার বৃক্ষ রোপন করা, বৃক্ষ সংরক্ষণ করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ড সমাজসেবার অন্তর্ভুক্ত। এ হিসেবে ১নং ছবিতে গ্রামের বাসিন্দাদের কাজটি সমাজ সেবামূলক কাজ। ২০১২ সালের ১ জুলাই দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে ভাঙা রাস্তা সংস্কার করছে। এ ধরনের কাজ সর্বস্তরের জনগণের উপকারে আসে। আর এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালার সাহায্যও লাভ করা যায়। মহানবি (স) বলেছেন, “আল্লাহ বান্দাকে ততক্ষণ সাহায্য করেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইকে সাহায্য করতে থাকে।”
উপরিউক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, ১নং ছবিতে গ্রামের বাসিন্দাদের কাজটিতে সমাজসেবা প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. ২নং ছবিটি যে বিষয়বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করে তা হলো সমাজসেবা। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তা বিশ্লেষণ করা হলো।
আমাদের সমাজে নানা শ্রেণি ও পেশার লোক বাস করে। তারা সকলে সমান নয়। তাদের সুযোগ-সুবিধাও সমান নয়। কেউ বিপুল সম্পদের অধিকারী আবার কেউ কপর্দকহীন। সম্পদশালী ব্যক্তিগণ অভাবী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে তাঁদের সম্পদ ব্যয় করবে। সমাজের অবহেলিত মানুষের কল্যাণে প্রতিষ্ঠান গড়বে। এটাই ইসলামের নির্দেশ। মহান আল্লাহ বলেনÑ “এবং তাদের (ধনীদের) ধন-সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের হক।” আল্লাহর এ নির্দেশ মান্য করে সমাজের অর্থশালী ব্যক্তিগণ অবহেলিত মানুষের কল্যাণে কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে তা হবে সমাজসেবামূলক কাজ। এ হিসেবে গরিব ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নির্মাণ নিঃসন্দেহে সমাজসেবামূলক কাজের অংশ। ২নং ছবিটিতে একটি হাসপাতাল দেখা যাচ্ছে। যেখানে বড় ডাক্তার বসেন, রোগী দেখে তারা কোনো টাকা নেন না। সেখানে ওষুধও ফ্রি পাওয়া যায়। অর্থাৎ এটি একটি দাতব্য চিকিৎসালয় যা মানবসেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, ২নং ছবিটি সমাজসেবামূলক কাজের প্রতি ইঙ্গিত করে, যা মানবিক দায়িত্ব। এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালার সাহায্য লাভ করা যায়। সুতরাং মানবসেবার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে সমাজসেবা করব।

প্রশ্ন -৩ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সোলেমান সাহেব একজন বয়স্ক লোক। ঠিকমত হাঁটতে পারেন না। তাঁর সাথে যখনই দেশ ও জাতির নিয়ে আলোচনা হয়, তখনই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে থাকেন। কারণ তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তি সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তিনি গর্ববোধ করেন। তাঁর এক প্রতিবেশি তাকে হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “যারা দেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে সীমান্ত পাহারায় বিনিদ্র রজনী কাটায় তাঁদের জন্য রয়েছে জান্নাত।”
ক. ‘খুলুকুন’ শব্দের অর্থ কী? ১
খ. ‘দেশপ্রেম’ বলতে কী বুঝায়? ২
গ. সোলেমান সাহেবের চেতনায় কিসের আদর্শ পরিলক্ষিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.উদ্দীপকে বর্ণিত হাদিসটির আলোকে দেশপ্রেমের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ৩নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. খুলুকুন শব্দের অর্থ চরিত্র বা স্বভাবসমূহ।
খ. জন্মভ‚মির প্রতি মানুষের অন্তরে একটি স্বাভাবিক আকর্ষণ সৃষ্টি হয় এবং ভালোবাসা জন্মায়। ক্রমান্বয়ে এ আকর্ষণ বা ভালোবাসা বিস্তার লাভ করে সমগ্র দেশ, দেশের মাটি ও দেশের জনগণের প্রতি। মাতৃভ‚মি তথা দেশের প্রতি এ প্রীতি ও দরদের আকর্ষণকেই দেশপ্রেম বলে।
গ. উদ্দীপকের সোলেমান সাহেবের চেতনায় দেশপ্রেমের আদর্শ পরিলক্ষিত হয়েছে।
দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি, মায়া, মমতা, ভালোবাসাকেই দেশপ্রেম বলে। যার মাঝে দেশপ্রেম আছে তাকে দেশপ্রেমিক বলা হয়। একজন দেশপ্রেমিক কখনই দেশের অকল্যাণ করেন না। তিনি সর্বদা দেশের কল্যাণ সাধন করেন। দেশের মানুষের অকল্যাণ হয় এবং দেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ দেশপ্রেমিক করে না।
উদ্দীপকে সোলেমান সাহেবের মাঝে দেশপ্রেমের এই গুণাবলি প্রকাশিত হয়েছে। যার কারণে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং এ জন্য তিনি গর্ববোধ করেন। তাই বলা যায় সোলেমান সাহেব একজন দেশপ্রেমিক।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত হাদিসটির তাৎপর্য অপরিসীম। হাদিসটিতে বলা হয়েছে যারা দেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে সীমান্ত পাহারায় বিনিদ্র রজনী কাটায়, তাঁদের জন্য রয়েছে জান্নাত।
দেশপ্রেমের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম দেশপ্রেমের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। মহানবি (স) তাঁর জন্মভ‚মি মক্কাকে অন্তর দিয়ে ভালোবাসতেন, মক্কার অধিবাসীদের ভালোবাসাতেন। পরবর্তীতে কাফিরদের কঠিন ষড়যন্ত্রের কারণে এবং আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে তিনি যখন মদিনায় হিজরত করেন, তখন মক্কার দিকে বার বার ফিরে তাকান, আর কাতর কণ্ঠে বলেনÑ “হে আমার স্বদেশ! তুমি কত সুন্দর! আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমার আপন গোত্রীয় লোকেরা যদি ষড়যন্ত্র না করত, আমি কখনো তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।”
রাসুলুল্লাহ (স) বলেন, “দেশরক্ষায় একদিন এক রাতের প্রহরা ক্রমাগত এক মাসের রোযা এবং সারারাত ইবাদতে কাটিয়ে দেওয়া অপেক্ষাও উত্তম।” (মুসলিম)। উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা বলা যায় যে, আলোচ্য হাদীসটি দেশপ্রেমের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছে। দেশপ্রেমের গুরুত্বের প্রেক্ষাপটেও তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত হাদিসটি তাৎপর্যবহ।
প্রশ্ন -৪ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আবুল ও বাবুল ভাল বন্ধু। তারা দুজনই ব্যবসায়ী। ব্যবসায় তেমন লাভ হচ্ছেনা দেখে আবুল নিরাশ হয়ে বাবুলকে বলে, আমার পক্ষে আর ব্যবসা করা সম্ভব নয়। তখন বাবুল তাকে ধৈর্যধারণ করতে বলে। আরো বলে যে, সফলতার জন্য ধৈর্য অপরিহার্য। পবিত্র কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে সে আরও বলে, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।”
ক. ধৈর্যের আরবি প্রতিশব্দ কী? ১
খ. পরমত সহিষ্ণুতা বলতে কী বুঝ? ২
গ. উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আবুলের কী করা উচিত? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.উদ্দীপকে বর্ণিত পবিত্র কুরআনের উদ্ধৃতিটির মর্মার্থ মূল্যায়ন কর। ৪
ল্ফল্প ৪নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. ধৈর্যের আরবি প্রতিশব্দ ‘সবর’ ( )
খ. পরমত বলতে বুঝায় অপরের মত, পথ বা আদর্শ, সেটা ধর্মীয় হতে পারে এবং আদর্শিকও হতে পারে। আবার রাজনৈতিকও হতে পারে। অন্যের মতামতকে অবজ্ঞা না করে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া বা অন্যের মত বা আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাকে পরমতসহিষ্ণুতা বলে।
গ. উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আবুলের ধৈর্য ধারণ করা উচিত।
বিপদ আসলে মহান আল্লাহ তাআলার ওপর বিশ্বাস রেখে দিশেহারা হয়ে না পড়াই সবার বা ধৈর্য। যাদের মাঝে ধৈর্যের গুণ থাকে তারা ধৈর্যশীল। যা কিছু হয়, হোক তা আনন্দ কিংবা বেদনায় সবকিছুই আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকেই হয়। এজন্য আনন্দে থাকলে খুব আত্মহারা হওয়া যাবে না। আবার দুঃখ কষ্ট কিংবা বিপদ আপদে অর্ধের্যও হওয়া যাবে না। সব সময় এমন অবস্থায় থাকাই হলো ধৈর্য।
উদ্দীপকে আবুল ও বাবুল ভাল বন্ধু। তারা দুজনই ব্যবসায়ী। ব্যবসায় তেমন লাভ হচ্ছেনা দেখে আবুল নিরাশ হয়ে বাবুলকে বলে, আমার পক্ষে আর ব্যবসা করা সম্ভব নয়। তখন বাবুল তাকে ধৈর্য্যধারণ করতে বলে। আরো বলে যে, সফলতার জন্য ধৈর্য অপরিহার্য। প্রকৃতপক্ষে এ পরিস্থিতিতে আবুলের ধৈর্য ধারণ করাই উচিত।
ঘ. “নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন”। উদ্দীপকে বর্ণিত পবিত্র কুরআনের উদ্ধৃতিট যথার্থ এবং এর মর্ম অত্যন্ত তাৎপর্যবহ।
ধৈর্য মানবজীবনের একটি মহৎ গুণ। এটি মানবজীবনের সফলতার চাবিকাঠি। ধৈর্যের অনুশীলন ছাড়া ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবনে সাফল্য অর্জন করা যায় না। ধৈর্যধারণ করা খুবই কঠিন কাজ তথাপি সমাজের মানুষের সফলতা ও কল্যাণের জন্য তা করা অপরিহার্য। উদ্দীপকে এমনই এক অবস্থায় উল্লিখিত হয়েছে যে আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।সমাজ জীবনে শান্তি শৃঙ্খলা ও কল্যাণময় জীবনযাপনের জন্য ধৈর্যের (সবরের) গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ধৈর্যশীলদেরকে অফুরন্ত প্রতিদান দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন,

অর্থ : “অবশ্যই ধৈর্যশীলগণকে তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে দেওয়া হবে”। ধৈর্যের বিপরীত হচ্ছে অধৈর্য। অধৈর্য মানুষকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেয়। এ কারণে সকল বিপদ-আপদে,সুখ-দুঃখে, জীবনে চলার পথে মানুষকে অবশ্যই ধৈর্যশীল হতে হবে।
প্রশ্ন -৫ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মারুফ ছোটবেলা থেকেই সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশ রক্ষার কাজে নিজেকে ন্যস্ত করবে বলে সংকল্প করেছিল। তাই সে জীবনের ঝুঁকি জেনেও দেশ রক্ষার মহান দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় এবং সেনাবাহিনীতে যোগদান করে।
ক. সূরা কুরাইশে কয়টি আয়াত রয়েছে? ১
খ. উত্তম চরিত্রই হলো সকল নেক কাজের মূলকথা।” বুঝিয়ে লেখ। ২
গ. উদ্দীপকে মারুফের কোন বিশেষ গুণ পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.পাঠ্যবইয়ের আলোকে মারুফের সংকল্প মূল্যায়ন কর। ৪
ল্ফল্প ৫নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. সূরা কুরাইশে চারটি আয়াত রয়েছে।
খ. উত্তম চরিত্রের মাধ্যমেই মানুষ নেককার হয়ে থাকে। মানুষ যদি উত্তম চরিত্রের অধিকারী হয়, তবে কিয়ামতের দিন সেটিই হবে তার নাজাতের বড় ওসিলা। রাসুল (স) বলেছেন, “চরিত্রের বিচারে যে লোক উত্তম মুমিনদের মধ্যে সেই পূর্ণতম ঈমানের অধিকারী।”
গ. উদ্দীপকে মারুফের মধ্যে দেশপ্রেমের বিশেষ গুণ পরিলক্ষিত হয়। মাতৃভ‚মি তথা দেশের প্রতি প্রীতি ও দরদের আকর্ষণকেই দেশপ্রেম বলে। দেশপ্রেম মানুষকে দেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশপ্রেমিক নিজের জানমাল উৎসর্গ করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, “দেশরক্ষায় একদিন এক রাতের প্রহরা (রিবাত) ক্রমাগত এক মাসের রোযা এবং সারারাত ইবাদতে কাটিয়ে দেওয়া অপেক্ষাও উত্তম।”
দেশের জনগণকে ভালোবাসা, দেশের স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা রক্ষা এবং দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রথা, রীতি-নীতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান করা কর্তব্য।
উদ্দীপকে আমরা দেখি মারুফ জীবনের ঝুঁকি জেনেও দেশ রক্ষার জন্য সেনাবাহিনীতে যোগদান করে। এভাবে তার মধ্যে দেশপ্রেম গুণটি বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়।
ঘ. মারুফ দেশ রক্ষার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করার সংকল্প করে। তার সংকল্প দেশের ও সমাজের উন্নতি ও অগ্রগতিতে তাৎপর্যময় ভ‚মিকা রাখে।
যে কেউ যদি দৃঢ় সংকল্প করে তাহলে সে ব্যক্তি সে কাজে সফলতা লাভ করবে। অনুরূপভাবে উদ্দীপকে মারুফের দৃঢ় সংকল্প অবশ্যই দেশ রক্ষায় ব্যাপক ভ‚মিকা রাখবে।
দেশপ্রেমের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম দেশপ্রেমের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। মহানবি (স) তাঁর জন্মভ‚মি মক্কাকে অন্তর দিয়ে ভালোবাসতেন। পরবর্তীতে কাফিরদের কঠিন ষড়ষন্ত্রের কারণে এবং আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে তিনি যখন মদিনায় হিজরত করেন, তখন মক্কার দিকে বার বার ফিরে তাকান, আর কাতর কণ্ঠে বলেনÑ
“হে আমার স্বদেশ! তুমি কত সুন্দর! আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমার আপন গোত্রীয় লোকেরা যদি ষড়যন্ত্র না করত, আমি কখনো তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।”
সুতরাং পাঠ্যবইয়ের আলোকে আমরা বলতে পারি মারুফের দেশপ্রেমের যে সংকল্প তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন -৬ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আকিল ও শাকিল মা হারা দুটি সহোদর। পিতা বিদেশে অবস্থানের কারণে তারা বিপথগামী হয়। আকিল অসৎ বন্ধুদের সাথে মিলে ছিনতাই কাজ শুরু করেছে। আর অন্যদিকে শাকিল অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েছে।
ক. ‘আখলাকে যামিমা’ অর্থ কী? ১
খ. অশ্লীলতা বলতে কী বুঝ? ২
গ. আকিলের কাজটি কোন ধরনের অপরাধ? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.শাকিলের কাজের পরিণতি শরিয়তের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ৬নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. আখলাকে যামিমা অর্থ নিন্দনীয় চরিত্র,খারাপ চরিত্র ইত্যাদি।
খ. অশ্লীলতা অর্থ জঘন্যতা, কদর্যতা, নিলর্জ্জতা, অভদ্রতা ও যৌন বিষয়ক কুৎসতি আচরণ। অশ্লীলতার দ্বারা নির্লজ্জ ও কুরুচিপূর্ণ কথা ও কাজকে বোঝানো হয়। এছাড়া যেসব কুকর্ম ধৃষ্টতাসহকারে প্রকাশ্যে করা হয় সেগুলোকেও অশ্লীল বলা হয়।
গ. উদ্দীপকের আকিলের কাজটি সন্ত্রাসমূলক অপরাধ। ভয় দেখিয়ে বা জোর খাটিয়ে মানুষের কাছ থেকে কিছু আদায় করা বা আদায়ের পরিবেশ সৃষ্টির নীতিকে সন্ত্রাস বলে।
উদ্দীপকে পিতার বিদেশে অবস্থানের কারণে আকিল বিপথগামী হয়। সে অসৎ বন্ধুদের সাথে মিলে ছিনতাই কাজ শুরু করেছে। যা আখলাকে যামিমার অন্তর্ভুক্ত। ছিনতাইয়ের ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মানুষের স্বাভাবিক শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন ব্যাহত হয়।
সমাজে আমরা দেখি সন্ত্রাসের কারণে মানুষের সম্পদের এবং সম্ভ্রমের নিরাপত্তা থাকে না। পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট হয়। হিংসা বিদ্বেষ বেড়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসন স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে জাতীয় উন্নতি ও অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ছিনতাইয়ের কাজটিও অনুরূপ। অর্থাৎ আকিলের কাজটি সন্ত্রাসমূলক অপরাধ।
ঘ. উদ্দীপকে শাকিলের কাজের পরিণতি শরিয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ভয়াবহ।
অশ্লীলতা একটি বড় অপরাধ। এটা সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে।সমাজকে কলুষিত করে। নিষ্পাপ ও কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের চরিত্র হনন করে যুবক-যুবতীদের কুকর্মের প্রতি প্রলুব্ধ করে। অথচ শাকিল অশ্লীল কাজে লিপ্ত।
আল্লাহ তায়ালা অশ্লীলতাকে হারাম ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ বলেন, “বলুন, আমার প্রতিপালক নিষিদ্ধ করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা।” (সূরা আল্ আরাফ, আয়াত ৩৩)
অশ্লীলতা মানুষের পারলৌকিক জীবনকে দুঃসহ করে তোলে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেনÑ
অর্থ : “প্রত্যেক অশ্লীল আচরণকারীর জন্য জান্নাতে প্রবেশ হারাম।” (কানযুল উম্মাল)
উদ্দীপকের শাকিল পিতার অবর্তমানে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ইসলামি শরিয়তে সকল প্রকার অশ্লীলতা হারাম করেছে। আর এর কারণে শাকিল পরিণতি খুব ভয়াবহ হবে।
প্রশ্ন -৭ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মারুফা বেগম খুবই ধর্মপরায়ণ নারী। ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত তার ছেলেটি হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেল। তিনি চিৎকার করে ক্রন্দন করা থেকে বিরত থাকলেন। অশ্রæসিক্ত নয়নে ইন্না লিল্লাহ……. পড়লেন। আল্লাহ তায়ালার প্রতি অভিযোগমূলক কোনো বাক্য উচ্চারণ করলেন না। তার প্রতিবেশী লায়লা বানু ধনাঢ্য মহিলা। তিনি প্রায়ই পাশের বাড়ির একটি গরিব মেয়েকে ধমক দিয়ে থাকেন এবং বলেন, এই ছোট লোকের বাচ্চা, আমার বাড়ির সীমানায় কখনো ঢুকবি না।
ক. আখলাক কয়ভাগে বিভক্ত? ১
খ. ‘পৃথিবীর সকল ইমানদারগণ একটি দেহের মত।’ বুঝিয়ে লেখ। ২
গ. লায়লা বানুর আচরণে কোন আখলাকে যামীমাহ প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.মারুফা বেগমের উক্ত সদগুণটির সুফল সংশ্লিষ্ট আয়াতের আলোকে মূল্যায়ন কর। ৪
ল্ফল্প ৭নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. আখলাক দুই ভাগে বিভক্ত।
খ. একই দীনসূত্রে আবদ্ধ হওয়ায় পৃথিবীর সকল ইমানদারগণ একটি দেহের মতো।
কেননা আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার পর বিশ্বের সকল মুসলমান পরস্পরের ভাই। একই দীনসূত্রে আবদ্ধ। ইসলামি ভ্রাতৃত্ব এতই সুদৃঢ় যে, আল্লাহর রাসুল (স) পৃথিবীর সকল ইমানদারগণকে একটি দেহের সাথে তুলনা করেছেন। দেহের কোনো একটি অঙ্গে অসুখ হলে যেমন পুরো দেহ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তেমনি পৃথিবীর কোনো একপ্রান্তে একজন মুসলিম বিপদে পতিত হলে সকল মুসলমানের অন্তর ব্যথিত হয়। একারণে পৃথিবীর সকল ইমানদারগণ একটি দেহের মতো।
গ. লায়লা বানুর আচরণে আখলাকে যামিমাহর দুটি মারাত্মক দিক ঘৃণা ও অহংকার প্রকাশ পেয়েছে।
কাউকে তুচ্ছ মনে করে তাকে সহ্য করতে না পারা এবং তার থেকে দূরে সরে থাকাকে পরিভাষায় ঘৃণা বলে। অন্যদিকে নিজেকে অন্যের তুলনায় বড় গণ্য করা এবং অন্যকে তুচ্ছ ও নিকৃষ্ট মনে করা হলো অহংকার। অহংকারী ব্যক্তি বিভিন্ন দিক থেকে নিজেকে অন্যের ওপর প্রাধান্য দেয় এবং নিজেকে অন্যদের তুলনায় উত্তম মনে করে। মানুষ বংশ, সম্পদ, সৌন্দর্য, শক্তি, সামর্থ্য ইত্যাদি বিষয়ে অহংকার করে থাকে। যেমন ধনী ও সম্পদশালীর মধ্যে অর্থের অহংকার, স্ত্রীলোকদের মধ্যে সৌন্দর্যের বড়াই এবং ক্ষমতাবানদের মধ্যে ক্ষমতার দম্ভ, বিদ্বান লোকদের মধ্যে বিদ্যার গর্ব ইত্যাদি। আর এগুলোর কারণে ঘৃণার উদ্রেক ঘটে।
উদ্দীপকের লায়লা বানুর চরিত্রটিও সেরকমই। সে ধনাঢ্য হওয়ার কারণে প্রায় প্রতিদিন পাশের বাড়ির একটি গরিব মেয়েকে ধমক দিয়ে ছোট লোকের বাচ্চা বলে গালি দেয়। তার এহেন কাজ মূলত গরিবের প্রতি ঘৃণারই বহিঃপ্রকাশ এবং গরিব মেয়েটিকে বাড়ির সীমানায় প্রবেশ করতে নিষেধ করা অহংকারেরই প্রকাশ।
ঘ. মারুফা বেগমের ধৈর্য গুণটির সুফল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। জীবনের সকল ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে সহিষ্ণুতার সাথে আল্লাহর বিধান মোতাবেক সকল কর্তব্য পালন করাই হলো ধৈর্য।
উদ্দীপকের মারুফা বেগম একজন ধৈর্যশীল নারী। যিনি তার কর্মকাণ্ডের দ্বারা ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেলে অধ্যয়নরত একমাত্র ছেলে হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে চিৎকার করে কান্না করা থেকে বিরত থাকেন। অশ্রæসিক্ত নয়নে ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়লেন। এমনকি আল্লাহর প্রতি কোনো প্রকার অভিযোগমূলক বাক্যও উচ্চারণ করলেন না। এ যেন ধৈর্যের মূর্তপ্রতীক।
ধৈর্য মানবজীবনের একটি মহৎ গুণ। এর সুফলও অনেক। এটি মানবজীবনের সফলতার চাবিকাঠি। ধৈর্যের অনুশীলন ছাড়া ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবনে সাফল্য অর্জন করা যায় না। ধৈর্যধারণ করা খুবই কঠিন কাজ তথাপি সমাজের মানুষের কল্যাণের জন্য তা করা অপরিহার্য। সমাজ জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা ও কল্যাণময় জীবনযাপনের জন্য ধৈর্যের (সবরের) গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ধৈর্যশীলদেরকে অফুরন্ত প্রতিদান দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন,

অর্থ : “অবশ্যই ধৈর্যশীলগণকে তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে দেওয়া হবে।” (সূরা আয্-যুমার, আয়াত-১০)। সুতরাং ধৈর্য গুণটি পার্থিব ও পরকালীন জীবনকে সার্থক করতে খুবই ফলপ্রসূ।
প্রশ্ন -৮ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
কাসেম সাহেবের ধারণা, কন্যা সন্তানকে অপছন্দ করা ইসলামে খুবই নিন্দনীয় কাজ। তিনি আরো মনে করেন, পিতার চেয়ে মায়ের অধিকারই বেশি এবং কুরআন মাজিদে স্বামী-স্ত্রী উভয়কে পরস্পরের ভ‚ষণ বলা হয়েছে। অথচ তার ভাই ওয়াসিম সাহেবের মনমানসিকতা ভালো নয়। তার মহল্লার বুয়েট পড়–য়া একটি ছেলের কথা মনে পড়লেই তিনি অন্তরে দারুণ কষ্ট অনুভব করেন এবং কামনা করেন, ছেলেটি যেন বখাটে ছেলেদের সাথে মিশে নষ্ট হয়ে যায়।
ক. আখলাকে যামীমাহ অর্থ কী? ১
খ. ‘অশ্লীলতা একটি বড় অপরাধ।’Ñবুঝিয়ে লেখ। ২
গ. কাসেম সাহেবের চিন্তায় আখলাকে হামিদাহর কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.‘ওয়াসিম সাহেব একজন পরশ্রীকাতর ব্যক্তি।’ Ñমন্তব্যটি যথার্থতা নিরূপণ কর। ৪
ল্ফল্প ৮নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. আখলাকে যামিমাহ অর্থ নিন্দনীয় চরিত্র।
খ. অশ্লীলতা সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে। সমাজকে কলুষিত করে। নিষ্পাপ ও কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের চরিত্র হনন করে যুবক-যুবতীদের কুকর্মের প্রতি প্রলুব্ধ করে। অশ্লীলতা মানুষের পারলৌকিক জীবনকে দুঃসহ করে তোলে। আল্লাহ তায়ালা অশ্লীলতাকে হারাম ঘোষণা করেছেন। তাই বলা যায়, অশ্লীলতা একটি বড় অপরাধ।
গ. কাসেম সাহেবের চিন্তায় আখলাকে হামিদাহর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নারীর মর্যাদা ফুটে উঠেছে।
আমরা জানি, ইসলাম একমাত্র ধর্ম যাতে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য না করে নারীকে পুরুষের সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। প্রাচীন আরব সমাজে নারীর অবস্থা ছিল করুণ। সেখানে কন্যাসন্তান জš§ নিলে পিতা-মাতা অসন্তুষ্ট হতো। কোনো কোনো স¤প্রদায় কন্যাসন্তানকে জীবিত করব দিত।
উদ্দীপকের কাসেম সাহেবের ধারণা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ তিনি নারীকে মায়ের জাতি মনে করে যথাযোগ্য মর্যাদা দেন। তিনি মনে করেন পিতার চেয়ে মাতার অধিকার ইসলামে সবচেয়ে বেশি। যেখানে কুরআন মজিদে স্বামী-স্ত্রী উভয়কে পরস্পরের ভ‚ষণ বলা হয়েছে সেখানে কন্যা সন্তানকে অপছন্দ করা খুবই নিন্দনীয় কাজ। তাই বলা যায যে, কাসেম সাহেবের চিন্তায় আখলাকে হামিদাহর গুরুত্বপূর্ণ দিক নারীর মর্যাদা ফুটে উঠেছে।
ঘ. ‘ওয়াসিম সাহেব একজন পরশ্রীকাতর ব্যক্তি’ মন্তব্যটি সঠিক ও যথার্থ। কারণ আমরা জানি, কারো ধন-দৌলত, সম্মান, ভালো ফল বা উচ্চ মর্যাদা দেখে ঈর্ষান্বিত হওয়া এবং তার ধ্বংস কামনা করাকে পরশ্রীকাতরতা বলা হয়। পরশ্রীকাতরতা একটি মারাত্মক মানসিক ব্যাধি। এ ব্যাধি বহু কারণে সৃষ্টি হয়। যেমন শত্রæতা, অহংকার, নিজের অসদুদ্দেশ্য নষ্ট হওয়ার আশংকা, নেতৃত্বের লোভ ইত্যাদি। এসব কারণে এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির প্রতি হিংসা বিদ্বেষ করে থাকে।
উদ্দীপকের ওয়াসিম সাহেবও এরকমই একজন পরশ্রীকাতর ব্যক্তি, যিনি পরের ধন-দৌলত, সম্মান, ভালো ফলাফল বা উচ্চ মর্যাদা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার ধ্বংস কামনা করেন। তার কামনা এলাকার বুয়েট পড়–য়া অত্যন্ত ভালো ছেলেটি যেন কোনোভাবে উন্নতি করতে না পারে। বরং ছেলেটি যেন বাজে ছেলেদের সাথে মিশে নষ্ট হয়ে যায়। তার এ কামনা অত্যন্ত নিকৃষ্ট। অথচ তার উচিত ছিল এসব খারাপ কামনা বর্জন করে মানুষের মঙ্গল কামনা করা।
উপরিউক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, ওয়াসিম সাহেব একজন পরশ্রীকাতর ব্যক্তি।

প্রশ্ন -৯ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
অষ্টম শ্রেণির ধর্মের শিক্ষক তায়েবা খানম তার শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে আখলাকে হামিদাহর সুফলগুলোর একটি তালিকা তৈরি করতে বললেন। শিক্ষার্থীরা এভাবে তৈরি করল :

র. আখলাকে হামিদাহ উন্নত করে;
রর. কিয়ামতের দিন ওজন হবে ভারী;
ররর. উত্তম চরিত্র মানুষকে খণ্ডন করে। (পাঠ-১)
তায়েবা খানম শিক্ষার্থীদের তৈরিকৃত তালিকা দেখে বললেন, তোমাদের তালিকাটি কিছুই হয়নি।
ক. পরশ্রীকাতরতা অর্থ কী? ১
খ. ইসলামি ভ্রাতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকে শিক্ষার্থীদের তালিকাটি কীভাবে করা উচিত ছিল? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.শিক্ষক তায়েবা খানমের নির্দেশনায় শিক্ষার্থীরা যে সঠিক তালিকাটি করবে তার তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ৯নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. পরশ্রীকাতরতা অর্থ অন্যের উন্নতি ও সৌভাগ্য দেখে ঈর্ষা প্রকাশ করা।
খ. তাওহিদ ও রিসালাতে বিশ্বাস স্থাপন করার পর বিশ্বের সব মুসলমান পরস্পরের ভাই। ইসলামি ভ্রাতৃত্ব এতই সুদৃঢ় যে, আল­াহর রাসুল (স) পৃথিবীর সব ইমানদারগণকে একটি দেহের সঙ্গে তুলনা করেছেন। দেহের কোনো একটি অঙ্গে অসুখ হলে যেমন পুরো দেহ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তেমনি পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে একজন মুসলিম বিপদে পতিত হলে সব মুসলমানের অন্তর ব্যথিত হয়। একজন মুসলমান কোনো বিপদে পতিত হলে তাকে সাহায্য করা অপর মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব। নবি (স) বলেন, “মুমিনগণ পরস্পর মিলে একটি ইমারত স্বরূপ, এর এক অংশ অপর অংশকে মজবুত করে রাখে।” সুতরাং ইসলামি ভ্রাতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
গ. উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের আখলাকে হামিদাহর সুফলগুলোর তালিকাটি এভাবে করা উচিত ছিলÑ
১. আখলাকে হামিদাহ বা উত্তম চরিত্র ব্যক্তিকে সুন্দর ও উন্নত করে।
২. চরিত্রবান ব্যক্তিকে সমাজের সকল মানুষ ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে।
৩. উত্তম চরিত্রই হলো সকল নেক কাজের মূলকথা।
৪. উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি অধিকতর ইমানদার হয়।
৫. কিয়ামতের দিন পরিমাপদণ্ডে উত্তম চরিত্রের ওজন হবে অত্যন্ত ভারী।
৬. উত্তম চরিত্র মানুষের পাপকে খণ্ডন করে দেয়।
৭. উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি আখিরাতে অত্যধিক মর্যাদা লাভ করবে।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা তাদের তালিকাটি ভুল করায় শিক্ষক তায়েবা খানম তাদের বলেন তোমাদের তালিকাটি কিছুই হয়নি। তিনি তাদের সঠিক তালিকা করার নির্দেশ দেন। যা উপরে আলোচিত হয়েছে।
ঘ. শিক্ষক তায়েবা খানমের নির্দেশনায় শিক্ষার্থীরা যে সঠিক তালিকাটি করবে তার তাৎপর্য মানবজীবনের জন্য অপরিসীম।
কারণ আখলাকে হামিদাহ ব্যক্তিকে সুন্দর ও উন্নত করে। যার আখলাকে হামিদাহর সুমহান গুণ থাকে তার আচার ব্যবহার সুন্দর হয়। পরিণতিতে তার জীবন উন্নতির চরম শিখরে অবস্থান করতে পারে। তার চারিত্রিকতার কারণে সমাজের সবাই তাকে ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে। উন্নত চরিত্রবান ব্যক্তির মান মর্যাদা বেড়ে যায়। তাকে অনুসরণ করার ফলে সমাজ উন্নত হয়। উত্তম চরিত্রবান ব্যক্তির সব কাজে নেকি অর্জিত হয়। তিনি হন ইমানদার ব্যক্তি। তার পাপকে আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেন। পারলৌকিক জীবনেও তিনি প্রভ‚ত কল্যাণ লাভ করেন। পরিমাপদণ্ডে তার উত্তম চরিত্র অত্যন্ত ওজন হবে।
অতএব উদ্দীপকের শিক্ষক তায়েবা তার শিক্ষার্থীদের উপরিউক্ত এ নির্দেশনাই দিয়েছেন যে, মানবজীবনের জন্য আখলাকে হামিদাহর সুফলের তাৎপর্য অপরিসীম।
প্রশ্ন -১০ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সাবিহা ও মালিকা সহপাঠী। সাবিহার বাবা মালিকার বাবার অফিস সহকারী। সাবিহা মালিকার সাথে কথা বলতে চাইলে মালিকা তাকে ছোটলোকের বাচ্চা বলে গালি দেয়। সাবিহা বিষয়টি ধর্মীয় শিক্ষককে জানালে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দলে ভাগ করে মালিকার আচরণের কুফল তালিকা আকারে লিখতে বললেন।
ক. কিসে সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে? ১
খ. আমরা অহংকার ত্যাগ করব কেন? ২
গ. উদ্দীপকে মালিকার আচরণে কোনটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.মালিকার আচরণের কুফল তালিকা করে লিখে বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ১০নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. অশ্লীলতা সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে।
খ. অহংকারের অপকারিতা বর্ণনাতীত। অহংকারের কারণেই ফেরেশতাদের শিক্ষক ইবলিস অভিশপ্ত হয়ে জান্নাত থেকে বিতাড়িত হয়েছিল। অহংকারী ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতে ঘৃণিত এবং বন্ধু-বান্ধবের চোখে অসম্মানিত হয়। সুতরাং আমরা অহংকার পরিহার করব।
গ. উদ্দীপকে মালিকার আচরণে ঘৃণা ফুটে উঠেছে।
কাউকে তুচ্ছ মনে করে তাকে সহ্য করতে না পারা এবং তার থেকে দূরে সরে থাকাকেই ঘৃণা বলে। অহংকার, শত্রæতা, পদমর্যাদার লিপ্সা প্রভৃতি কারণে ঘৃণার উদ্রেক ঘটে।
উদ্দীপকের মালিকা সহপাঠী সাবিহাকে ছোটলোকের বাচ্চা বলে গালি দেয়ার দ্বারা তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছে।
ঘ. মালিকার আচরণ তথা ঘৃণার কুফল খুব ভয়াবহ।
ঘৃণার কুফলসমূহ তালিকা করে বিশ্লেষণ করা হলো :
ঘৃণার কুফলসমূহ : ১. মহা গুরুতর ব্যাধি। ২. বন্ধুত্ব নষ্ট। ৩. সমাজে অশান্তি সৃষ্টি। ৪. মানুষের কাছে ঘৃণিত। ৫. অভিশপ্ত হওয়া।
উদ্দীপকের মালিকার ঘৃণার দ্বারা দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তার এই আত্মিক ব্যাধির কারণে কেউ তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে না। সে ঘৃণা বা তাচ্ছিল্যের কারণে অভিশপ্ত হবে। মানুষের কাছে ঘৃণিত হবে। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হবে।। সে যদি এ অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে চায় তাহলে তাকে ঘৃণা পরিত্যাগ করে সবার সাথে মিলেমিশে থাকতে হবে। আর অতীত কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।

প্রশ্ন -১১  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জনাব আজহার উদ্দিন একটি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক। একজন সৎ ও দক্ষ শিক্ষক হিসেবে তার অনেক খ্যাতি রয়েছে। অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নোমান ক্লাসে একটি মেয়েকে উত্ত্যক্ত করলে বিষয়টি আজহার সাহেব জানতে পারেন। পরের দিন আজহার সাহেব ক্লাসে ছাত্রদের বললেন, তোমরা কি জানো না, উত্তম চরিত্র ব্যক্তির জীবনকে সুন্দর ও উন্নত করে? তাই তোমরা তোমাদের চরিত্রকে সুন্দর কর। কেননা “উত্তম চরিত্রই হলো সব নেক কাজের মূলকথা।” (পাঠ-১)
ক. আখলাক শব্দের অর্থ কী?
খ. চরিত্রকে সুন্দর করতে হবে কেন?
গ. নোমান কীভাবে তার চরিত্রকে সুন্দর করতে পারে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ.আজহার সাহেবের দৃষ্টিতে নেক কাজের মূল কথা নিজ ভাষায় ব্যাখ্যা কর।
ল্ফল্প ১১নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. আখলাক শব্দের অর্থ চরিত্র বা স্বভাব।
খ. এ কথা সর্বজনবিদিত যে, চরিত্র মানবজীবনের মুকুটস্বরূপ।
যার চরিত্র যত উন্নত, সে তত বেশি সম্মানিত। মহানবি (স.) বলেন, “উত্তম চরিত্রই হলো সব নেককাজের মূলকথা।” উত্তম চরিত্র ব্যক্তিকে সুন্দর ও উন্নত করে। তাই আমাদের চরিত্রকে সুন্দর করতে হবে।
গ. চরিত্রকে সুন্দর করতে হলে নোমানকে ব্যক্তিগত জীবনে ‘আখলাকে হামিদাহ’র অনুসারী হতে হবে।
আখলাকে হামিদাহ হচ্ছে মানব চরিত্রের উত্তম গুণাবলি, যা সবার নিকট প্রশংসনীয় চরিত্র বলে বিবেচিত। ইসলামের দৃষ্টিতে উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব সর্বাধিক। উত্তম চরিত্র ব্যক্তিকে সুন্দর ও উন্নত করে।
উদ্দীপকের নোমান একজন চরিত্রহীন ব্যক্তি। সে ক্লাসে একটি মেয়েকে উত্যক্ত করে; যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাই নোমানকে তার চরিত্রের সংশোধন করতে হবে। এজন্য নিন্দনীয় স্বভাব পরিহার করে উত্তম গুণাবলি অনুশীলন করতে হবে। মূলত ধৈর্য, সততা, দেশপ্রেম, পরোপকার বা সমাজসেবা প্রভৃতি গুণাবলি উত্তম চরিত্রের পরিমাপক। নোমান যেহেতু মাত্র অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। তাই এ বয়স থেকেই তাকে আদর্শ চরিত্রে চরিত্রবান হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। সৎ গুণাবলি অর্জনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে। পূর্ব থেকেই সাধনা চালাতে থাকলে পরিণত বয়সে নোমান অবশ্যই উত্তম চরিত্রের অধিকারী হবে।
ঘ. আজহার সাহেবের দৃষ্টিতে “উত্তম চরিত্রই হলো সব নেককাজের মূলকথা।” মূলত এটি হাদিসের উদ্ধৃতি।
মানুষ যদি উত্তম চরিত্রের অধিকারী হয়, তবে কিয়ামতের দিন সেটিই হবে তার নাজাতের বড় উসিলা। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, “মুমিনের পরিমাপকদণ্ডে কিয়ামতের দিন উত্তম চরিত্র অপেক্ষা ভারী জিনিস আর কিছুই নেই।”
মূলত পৃথিবীর বর্বরতম সময়ে প্রিয় নবিজি (স) আবিভর্‚ত হয়েছিলেন উত্তম চরিত্রের শিক্ষক হিসেবে। তিনি বলেন, “উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্য আমি প্রেরিত হয়েছি।”
মানুষের চরিত্রকে উত্তম করার জন্য ইসলামে সালাত, সিয়াম, হজ ও যাকাতের মতো প্রশিক্ষণমূলক ইবাদতকে স্তম্ভ করা হয়েছে। প্রিয়নবি (স) বলেন, “তোমরা আল্লাহর চরিত্র ধারণ কর।” আর আল্লাহর চরিত্র ধারণ করার চেয়ে উত্তম কী আর আছে? তাইতো আয়না দেখে আমরা আল্লাহর সমীপে মিনতি জানাই, ‘প্রভু! তুমি আমার চেহারা যতটা সুন্দর করেছ, তেমনি সুন্দর কর আমার চরিত্র।”
সুতরাং বোঝা, গেল, ইসলামে উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। সঙ্গত কারণেই উদ্দীপকের শিক্ষক আজহার উদ্দিন তার চরিত্রহীন ছাত্র নোমানকে উত্তম চরিত্র অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করতে মহানবি (স)-এর এ হাদিসটি তুলে ধরেন। বস্তুত উত্তম চরিত্র ব্যক্তিকে সুন্দর ও উন্নত করে।
প্রশ্ন -১২ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
এবারের রমযান মে মাসের দু’সপ্তাহ পর শুরু হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সোহেল বড় দিন ও প্রচণ্ড দাবদাহ সত্তে¡ও রোযা রাখছে। পিপাসায় গলা শুকিয়ে যায়; তবুও সে রোযা ভাঙে না। সোহেলের দাদাজান সোহেলের প্রশংসা করলেন এবং বললেন, এর ফলে তুমি আল্লাহর নিকট অনেক পুরস্কার পাবে ইনশাআল্লাহ। (পাঠ-২)
ক. ধৈর্যের আরবি প্রতিশব্দ কী? ১
খ. ‘ধৈর্য মানবজীবনের সফলতার চাবিকাঠি।’Ñ বুঝিয়ে দাও। ২
গ. সোহেলের উক্ত কাজটিতে ধৈর্যের কোন বিশেষ দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.সোহেলের দাদাজানের উক্তিটি সংশ্লিষ্ট আয়াত ও হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ১২নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. ধৈর্যের আরবি প্রতিশব্দ ‘সবর’।
খ. ধৈর্যের অনুশীলন ছাড়া ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবনে সাফল্য অর্জন করা যায় না। জীবনের যে-কোনো ক্ষেত্রে সফল হতে হলে যে নিষ্ঠাপূর্ণ চেষ্টা করা দরকার ধৈর্য ছাড়া তা সম্ভব নয়। তাই ধৈর্য মানুষের জীবনের সফলতার চাবিকাঠি।
গ. উদ্দীপকে সোহেলের কাজটির ধৈর্যের দ্বিতীয় বিশেষ দিকটি ফুটে উঠেছে।
ধৈর্যের তিনটি স্তরের মধ্যে দ্বিতীয় স্তর হলো আল্লাহ তায়ালার ইবাদত ও আনুগত্যে ধৈর্যধারণ করা। ধৈর্যধারণ ছাড়া আল্লাহর কোনো ইবাদতই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। নামায, রোযা, হজ, যাকাতসহ অন্য সকল আত্মিক বা দৈহিক ইবাদতে ধৈর্যই প্রধান নিয়ামক। কেবল ধৈর্য ধরে ইবাদতগুলোর প্রতিটি হুকুম সঠিকভাবে পালন করলেই ইবাদতগুলো কবুলযোগ্য হবে। তাই দেখা যায়, বড় দিন ও গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ সত্তে¡ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র উদ্দীপকের সোহেল রোযা রাখে। এতে তাকে অত্যন্ত ধৈর্যধারণ করতে হয়। পিপাসায় কণ্ঠ শুকিয়ে যায়। ক্ষুধায় ভীষণ কষ্ট হয়। সোহেল তবুও ধৈর্য ধরে রোযা পালন করে। আল্লাহর ইবাদত পালনে সোহেল যে সীমাহীন ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে সেজন্য সে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পাশাপাশি অফুরন্ত প্রতিদান লাভ করবে।
ঘ. সোহেলের দাদাজানের উক্তিটি সংশ্লিষ্ট আয়াত ও হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো।
বড় দিন ও গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ সত্তে¡ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সোহেল রোযা রাখে। তার এ ধৈর্যশীলতা দেখে দাদাজান তার প্রশংসা করেন এবং বলেন, তুমি আল্লাহর কাছে অনেক পুরস্কার পাবে ইনশাআল্লাহ।’ কুরআন মজিদ ও হাদিসে দাদাজানের এ বক্তব্যেরই সমর্থন পাওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই ধৈর্যশীলগণকে তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে দেওয়া হবে।’ তিনি অন্যত্র বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের জন্য সুসংবাদ, যারা বিপদাপন্ন হলে বলে নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমাদের প্রত্যাবর্তন তারই কাছে।’
হাদিসেও মহানবি (স) রমযানে ধৈর্যশীলতার উত্তম পুরস্কার সম্পর্কে বিভিন্ন বক্তব্য পেশ করেছেন। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘রোযা আমার জন্য আর আমিই এর প্রতিদান দেবো।’
সুতরাং বলা যায়, সোহেলের দাদাজানের উক্তিটি পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে সঠিক ও যথার্থ।
প্রশ্ন -১৩ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
বাংলাদেশের আলী আহমদ, ভারতের ইরফান হোসেন ও স্বপন কুমার মালয়েশিয়ায় তিন বছর ধরে চাকরি করে আসছেন। দীর্ঘদিন একই কোম্পানিতে চাকরি এবং একই সঙ্গে মেসে বসবাস করার ফলে তাদের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। তারা অবসর সময়ে কোম্পানিতে চাকরিরত বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের কথা ভাবে। পারস্পরিক যোগাযোগ না থাকায় অনেকে অনেককে চেনে না এবং বিপদে-আপদে সাহায্য করতে পারে না। প্রসঙ্গক্রমে আলী আহমদ ইসলামি ভ্রাতৃত্বের তাৎপর্য তুলে ধরেন। (পাঠ-৩)
ক. ‘উখ্ওয়াত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ কী? ১
খ. বিশ্বভ্রাতৃত্ব বলতে কী বোঝ? ২
গ. বিশ্বভ্রাতৃত্বের ধারণা অনুযায়ী আলী আহমদ কীভাবে প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সুসংহত করতে পারে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. আলী আহমদ ও তার সহকর্মীদের জীবনে ইসলামি ভ্রাতৃত্বের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ১৩নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. উখ্ওয়াত শব্দের আভিধানিক অর্থ ভ্রাতৃত্ব।
খ. বিশ্বভ্রাতৃত্ব মানে বিশ্বের সব মানুষ ভাই ভাই। কারণ প্রত্যেকেই আদম সন্তান। যদিও আবহাওয়া ও ভৌগোলিক পরিবেশের কারণে আকৃতি-প্রকৃতি, ভাষা ও বর্ণের দিক দিয়ে প্রতিটি দেশের মানুষই কিছু না কিছু ভিন্ন; তবুও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের দাবিতে সবাই ভাই ভাই।
গ. বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের ধারণা অনুযায়ী আলী আহমদ প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সুসংহত করতে পারে। নিচে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো। আমরা জানি, পৃথিবীর সকল মানুষের আদিপিতা হযরত আদম (আ) ও আদি মাতা হযরত হাওয়া (আ)। এ কারণে বিশ্বের সকল মানুষই ভাই ভাই। অর্থাৎ হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান যিনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, বাংলাদেশি, ইন্ডিয়ান, সৌদিয়ান বা আমেরিকান যে দেশেরই হোন না কেন; এক আদমের সন্তান হিসেবে সবাই ভাই ভাই। বিশ্বভ্রাতৃত্বের এ মহামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে প্রবাসীরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিতি বিনিময় করতে পারে। বাংলাদেশি প্রবাসী আলী আহমদের বক্তব্যও তাই।
জনাব আহমদ তার প্রবাসী বন্ধু ভারতের ইরফান ও স্বপনের নিকট কুরআনের আলোকেই বিশ্বভ্রাতৃত্বের দাবি তুলেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদেরকে গোত্রে-বংশে ভিন্ন করে সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা পরিচিত হও।”
সুতরাং বলা যায়, বিশ্বভ্রাতৃত্বের ধারণা অনুযায়ী উদ্দীপকের আলী আহমদ প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সুসংহত করতে পারে।
ঘ. আলী আহমদ ও তার সহকর্মীরা মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবনযাপন করেন। সুতরাং তাদের জীবনে তথা সাম্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ক্ষেত্রে ইসলামি ভ্রাতৃত্বের তাৎপর্য ব্যাপক।
ইসলামের দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান। ইসলামে উঁচু-নিচু, সাদা-কালো, ধনী-দরিদ্রের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার পর বিশ্বের সকল মুসলমান পরস্পরের ভাই। একই দীনসূত্রে আবদ্ধ। মহানবি (স) বলেন, “অনারবগণের ওপর যেমন আরবগণের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, তেমনি আরবগণের ওপরও অনারবগণের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।” ইসলামি ভ্রাতৃত্ব এতই সুদৃঢ় যে, আল্লাহর রাসুল (স) পৃথিবীর সকল ইমানদারগণকে একটি দেহের সাথে তুলনা করেছেন। দেহের কোনো একটি অঙ্গে অসুখ হলে যেমন পুরো দেহ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তেমনি পৃথিবীর কোনো একপ্রান্তে একজন মুসলিম বিপদে পতিত হলে সকল মুসলমানের অন্তর ব্যথিত হয়। কোনো মুসলমান ভাইকে কষ্ট দেওয়া যাবে না। এমনকি যদি কখনো পরস্পরের মধ্যে কোনো কলহ সৃষ্টি হয় তখন অপর মুসলমান ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করবে অন্যথায় সে প্রকৃত মুসলমান হতে পারবে না। প্রিয় নবি (স) বলেন, “মুমিনগণ পরস্পর মিলে একটি ইমারতস্বরূপ, এর এক অংশ অপর অংশকে মজবুত করে রাকে।” (বুখারি ও মুসলিম)
সুতরাং আলী আহমদ প্রবাসে যেসব মুসলমান ভাইদের সাথে থাকে তারা পরস্পর ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ থাকবে এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতিও সহানুভূতিশীল থাকবে। আর এখানেই ইসলামি ভ্রাতৃত্বের তাৎপর্য।
প্রশ্ন -১৪ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া যুবক মাহদী গ্রীষ্মের ছুটিতে বাড়ি এসে দেখে তারই প্রতিবেশী হাসেম ও কামালের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদ চরম আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি তার কাছে খুব পীড়াদায়ক মনে হওয়ায় তিনি উভয়কে আলাদা আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে এরূপ বিবাদের পরিণতি সম্বন্ধে ভালোভাবে বুঝান। কিন্তু তারা উভয়ে মাহদীকে ভুল বুঝে নানা কটু কথা বললেও সে তাতে কান না দিয়ে চেষ্টা অব্যাহত রাখে। ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই তারা আপোষে বিবাদ নিস্পত্তি করে। হাসেম ও কামাল পরিশেষে তাকে সমাজসেবী আখ্যা দেয়।
[বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
ক. আখলাকে হামিদাহ অর্থ কী? ১
খ. বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব বলতে কী বোঝায়? ২
গ. মাহদীর কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর কোন গুণটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.হাসেম ও কামালের মন্তব্যটি ইসলামের আলোকে মূল্যায়ন কর। ৪
ল্ফল্প ১৪নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. আখলাকে হামিদাহ অর্থ প্রশংসনীয় চরিত্র।
খ. বিশ্বভ্রাতৃত্ব মানে বিশ্বের সব মানুষ ভাই ভাই। কারণ প্রত্যেকেই আদম সন্তান। যদিও আবহাওয়া ও ভৌগোলিক পরিবেশের কারণে আকৃতি-প্রকৃতি, ভাষা ও বর্ণের দিক দিয়ে প্রতিটি দেশের মানুষই কিছু না কিছু ভিন্ন; তবুও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের দাবিতে সবাই ভাই ভাই।
গ. মাহদীর কর্মকাণ্ডে আখলাকে হামিদাহর যে গুণটি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো সমাজসেবা।
মানবকল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য গৃহীত সকল কর্মসূচি সমাজসেবা নামে পরিচিত। সমাজ সংশোধনমূলক পতিটি কার্যক্রমই সমাজসেবার অন্তর্ভুক্ত। সমাজে কোনো বিশৃঙ্খলা বা গোলযোগ সৃষ্টি হলে তা দূর করতে হবে। কারণ বিশৃঙ্খলা সমাজের পরিবেশকে নষ্ট করে। এ উপলব্ধি থেকে উদ্দীপকের মাহদী তার প্রতিবেশী হাসেম ও কামালের মধ্যকার জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদ মীমাংসায় এগিয়ে আসে। বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া এ যুবক গ্রীষ্মের ছুটিতে বাড়ি এসে দেখেন তারই প্রতিবেশী হাসেম ও কামালের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদ চরম আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি তার কাছে খুব পীড়াদায়ক মনে হওয়ায় তিনি উভয়কে আলাদা আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে এরূপ বিবাদের পরিণতি বুঝান। ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই আপোষে তাদের বিবাদের নিষ্পত্তি হয়। সুতরাং মাহদীর এরূপ কর্মকাণ্ডে সমাজসেবা প্রকাশ পেয়েছে। কেননা পরস্পরের কলহ ও দ্ব›দ্ব মেটানো সমাজসেবার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুমিনদের দুই দল দ্ব›েদ্ব লিপ্ত হলে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও।’
ঘ. হাসেম ও কামালের মন্তব্যটি সঠিক ও যুক্তিযুক্ত।
সমাজ সংশোধনমূলক প্রতিটি কার্যক্রমই সমাজসেবা। এ হিসেবে পরস্পরের কলহ ও দ্ব›দ্ব মেটানো সমাজসেবার অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের সূরা আল-হুজরাতের ৯নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুমিনদের দুই দল দ্ব›েদ্ব লিপ্ত হলে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও।’ মহান আল্লাহর এ নির্দেশ মোতাবেক উদ্দীপকের মাহদী তার প্রতিবেশী হাসেন ও কামালের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসায় এগিয়ে আসেন। মাহদী তাদের উভয়কে আলাদা আলাদাভাবে ডেকে এরূপ বিবাদের পরিণতি সম্পর্কে ভালোভাবে বোঝান। ফলে কয়েকদিনের মধ্যেই তারা আপোষে বিবাদ নিষ্পত্তি করেন। মাহদীর এরূপ কর্মকাণ্ড সমাজসেবার অন্তর্ভুক্ত। এ প্রেক্ষিতে উদ্দীপকের হাসেম ও কামাল তাকে সমাজসেবী আখ্যা দেয়।
সুতরাং বলা যায়, মাহদী সম্পর্কে হাসেম ও কামালের মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ মাহদী একজন সমাজসেবক। হাসেম ও কামালের মধ্যকার দ্ব›দ্ব ও কলহ মীমাংসা করে তিনি তা প্রমাণ করেছেন।
প্রশ্ন -১৫ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আশরাফ সাহেব দেবীপুর ইউনিয়নের একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তিনি তাঁর এলাকার সকল মানুষের অধিকার আদায়ে যথেষ্ট সচেতন। তিনি সমাজে বসবাসরত নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মতামত ও আদর্শের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন করেন। এ কারণে তাঁর ইউনিয়নে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স¤প্রীতি বজায় থাকে। এলাকার মানুষ তার ভ‚য়সী প্রশংসায় পঞ্চমুখ। (পাঠ- ৭)
ক. অন্যের মত বা আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাকে কী বলে? ১
খ. পরমতসহিষ্ণুতা বলতে কী বোঝায়? ২
গ. আশরাফ সাহেবের চরিত্রে আখলাকে হামিদাহর কোন গুণটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় উক্ত গুণটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ১৫নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. অন্যে মত বা আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাকে পরমতসহিষ্ণুতা বলে।
খ. পরমতসহিষ্ণুতা বলতে বুঝায় অপরের মত, পথ বা আদর্শ। সেটা ধর্মীয় হতে পারে, আদর্শিক হতে পারে, আবার রাজনৈতিকও হতে পারে। অন্যের মহামতকে অবজ্ঞা না করে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া বা অন্যের মত বা আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাকে পরমতসহিষ্ণুতা বলে।
গ. আশরাফ সাহেবের চরিত্রে আখলাকে হামিদাহর যে গুণটি ফুটে উঠেছে তাহলো পরমতসহিষ্ণুতা।
আমরা জানি, অন্যের মতামতকে অবজ্ঞা না করে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া বা অন্যের মত বা আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাকে পরমতসহিষ্ণুতা বলে। পরমতসহিষ্ণুতা মানবচরিত্রের প্রশংসনীয় গুণ। এটি আখলাকে হামিদাহর অন্তর্ভুক্ত। এ গুণটির কারণেই সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স¤প্রীতি বজায় থাকে। এ গুণটির কারণেই মানুষ তার নিজস্ব পরিবেশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে। এ গুণটির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে উদ্দীপকের আশরাফ সাহেবের চরিত্রে। তিনি দেবীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তাঁর এলাকার সকল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মতামত ও আদর্শের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন করেন। এ কারণে তাঁর ইউনিয়নে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স¤প্রীতি বজায় থাকে।
উপরিউক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, আশরাফ সাহেবের চরিত্রে পরমতসহিষ্ণুতার গুণটি ফুটে উঠেছে, যা আখলাকে হামিদাহর অন্তর্ভুক্ত।
ঘ. আশরাফ সাহেবের চরিত্রে পরমতসহিষ্ণুতার গুণটি ফুটে উঠেছে। পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পরমতসহিঞ্চুতার গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যবহ।
একটি সুস্থ ও সুন্দর পারিবারিক জীবনের জন্য পরমতসহিষ্ণুতার গুরুত্ব অপরিসীম। পারিবারিক জীবনের সুখ শান্তি এর উপর নির্ভরশীল। পরিবারের অন্য সদস্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন বা সহানুভ‚তির মনোভাব পোষণ করার মাধ্যমে পারিবারিক শান্তি লাভ করা যায়।
পারিবারিক সুখ-শান্তির মতো সামাজিক সুখ-শান্তিও পরমতসহিষ্ণুতার ওপর নির্ভরশীল। সমাজে বিভিন্ন মতাদর্শের লোক থাকতে পারে, তাদের সাথে সমঝোতা ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করতে হবে। তাদের মতের প্রতি সহিষ্ণুতার মনোভাব পোষণ করলে শান্তি বজায় থাকবে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মতামত ও আদর্শের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন করতে হবে। তাহলেই সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
সুতরাং বলা যায়, পরমতসহিষ্ণুতা মানবচরিত্রের এমন একটি গুণ যা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ সব ক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে।
প্রশ্ন -১৬ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রেহেনা মা-বাবার একমাত্র সন্তান। সমাজে তার বাবার যথেষ্ট প্রভাব আছে। বাবার সম্মানে সে নিজেকে খুব বড় মনে করে। গ্রামের দরিদ্র, লোকদের সাথে সে মেশে না। তাদের তুচ্ছ ও নিকৃষ্ট মনে করে তাদের থেকে নিজেকে দূরে রাখে। অথচ এর কুফল ও অপকারিতা বর্ণনাতীত। (পাঠ- ৮ ও ৯)
ক. আখলাকে যামিমাহ অর্থ কী? ১
খ. অহংকারী বলতে কী বোঝ? ২
গ. রেহেনার কাজে কী প্রকাশ পেয়েছে ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.উক্ত আচরণের কুফল বিশ্লেষণ কর ও মতামত দাও। ৪
ল্ফল্প ১৬নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. আখলাকে যামিমাহ অর্থ নিন্দনীয় চরিত্র।
খ. যে ব্যক্তি নিজেকে অন্যের তুলনায় বড় গণ্য করে এবং অন্যকে তুচ্ছ ও নিকৃষ্ট মনে করে তাকে অহংকারী বলা হয়। অহংকারী ব্যক্তি বিভিন্ন দিক থেকে নিজেকে অন্যদের উপর প্রাধান্য দেয় এবং অন্যদের তুলনায় উত্তম মনে করে।
গ. রেহেনার কাজে অহংকার প্রকাশ পেয়েছে।
নিজেকে অন্যের তুলনায় বড় গণ্য করা এবং অন্যকে তুচ্ছ ও নিকৃষ্ট মনে করাকে অহংকার বলে। যে অহংকার করে তাকে অহংকারী বলে। উদ্দীপকের রেহেনা একজন অহংকারী ব্যক্তি। সে গ্রামের হতদরিদ্র, লোকদের অবহেলা করে এড়িয়ে চলে এবং নিজেকে বড় ভাবে। রেহেনার এরূপ কাজ অহংকার প্রকাশ পায়।
মানুষ বংশ, সম্পদ, সৌন্দর্য, শক্তি, সামথ্য ইত্যাদি বিষয়ে অহংকার করে থাকে। যেমন ধনী ও সম্পদশালীর মধ্যে অর্থের গৌরব, স্ত্রীলোকদের মধ্যে সৌন্দর্যের বড়াই এবং ক্ষমতাবানদের মধ্যে ক্ষমতার দম্ভ, বিদ্বান লোকদের মধ্যে বিদ্যার গর্ব ইত্যাদি। রেহেনা সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তির সন্তান হওয়ায় অহংকার করে। সে গ্রামের দরিদ্র লোকদের সাথে মেশে না। অহংকারের কারণে সে তাদেরকে তুচ্ছ ও নিকৃষ্ট মনে করে এবং নিজেকে উত্তম ভাবে। আর এরূপ আচরণের ফলে সে দুনিয়া ও আখিরাতে ঘৃণিত হবে।
ঘ. উক্ত আচরণ তথা অহংকারের কুফল বিশ্লেষণ করা হলো।
অহংকারের কুফল অনেক এবং এর অপকারিতা বর্ণনাতীত। অহংকারের কারণেই ইবলিস অভিশপ্ত হয়ে জান্নাত থেকে বিতাড়িত হয়েছে। অহংকারী ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতে ঘৃণিত। আল্লাহর কাছেও অপছন্দনীয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
اِنَّ اللهَ لاَ يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ
অর্থ : “নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো উদ্ধত অহংকারীকে পছন্দ করেন না।”
মহানবি (স) বলেন,
لَايَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِىْ قَلْبِهِ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ مِنْ كِبَرٍ
অর্থ : “যার অন্তরে সামান্য পরিমাণ অহংকার আছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”
প্রতিটি মানুষের কোনো না কোনো অভাব আছে। সুতরাং অহংকার করা তার জন্য শোভা পায় না। অহংকার শুধু তারই শোভা পায়, যার কোনো অভাব নেই। আর তিনি হলেন মহান আল্লাহ। রাসুলুল্লাহ (স) বলেন, “আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, অহংকার আমার ভ‚ষণ।”
সুতরাং আমরা অহংকার বর্জন করব।
প্রশ্ন -১৭ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আলফাজ সাহেব ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য। সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও অন্যান্য কাজে তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এজন্য সৎ ও সমাজসেবক হিসেবে তার অনেক সুনাম রয়েছে। কিন্তু তাঁর ছেলে ফাহাদ খুবই অভদ্র। সে প্রায়ই স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে। এমনকি তার বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগও পাওয়া যায়। ছেলের এসব কুকর্মের জন্য আলফাজ সাহেব বড়ই লজ্জিত। কিন্তু পিতা হিসেবে ছেলের বিরুদ্ধে কঠোর হতে পারেননি। (পাঠ-১০)
ক. নির্লজ্জ ও কুরুচিপূর্ণ কথা ও কাজকে কী বলে? ১
খ. অশ্লীলতা বলতে কী বোঝায়? ২
গ. ফাহাদের চরিত্রে আখলাকে যামিমাহর কোন গুণের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.পিতা হিসেবে আলফাজ সাহেবের ভ‚মিকা মূল্যায়ন কর। ৪
ল্ফল্প ১৭নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. নির্লজ্জ ও কুরুচিপূর্ণ কথা ও কাজকে অশ্লীলতা বলে।
খ. অশ্লীলতা অর্থ জঘন্যতা, কদর্যতা, নির্লজ্জতা, অভদ্রতা ও যৌন বিষয়ক কুৎসিত আচরণ। অশ্লীলতার দ্বারা নির্লজ্জ ও কুরুচিপূর্ণ কথা ও কাজকে বোঝানো হয়। এছাড়া যেসব কুকর্ম ধৃষ্টতাসহকারে প্রকাশ্যে করা হয় সেগুলোকেও অশ্লীলতা বলা হয়।
গ. ফাহাদের চরিত্রে আখলাকে যামিমাহর যে গুণের প্রতিফলন ঘটেছে তা হলো অশ্লীলতা।
অশ্লীলতা অর্থ জঘন্যতা, কদর্যতা, নির্লজ্জতা, অভদ্রতা ও যৌন বিষয়ক কুৎসিত আচরণ। অশ্লীলতার দ্বারা নির্জজ্জ ও কুরুচিপূর্ণ কথা ও কাজকে বোঝানো হয়। অশ্লীলতা একটি বড় অপরাধ। এটা সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে। যুবক-যুবতীদের কুকর্মের প্রতি প্রলুব্ধ করে। যেমনটি আমরা দেখি উদ্দীপকের আলফাজ সাহেবের ছেলে ফাহাদের চরিত্রে। সে অত্যন্ত অভদ্র। স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের সে উত্ত্যক্ত করে। এমনকি তার বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগও রয়েছে। ফাহাদের এ ধরনের নির্লজ্জ, কদর্য এবং যৌনবিষয়ক কুৎসিত আচরণ অশ্লীলতার নামান্তর। আল্লাহ তায়ালা অশ্লীলতাকে হারাম ঘোষণা করে বলেছেন, ‘বলুন, আমার প্রতিপালক নিষিদ্ধ করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা।’ সুতরাং বলা যায়, ফাহাদের চরিত্রে অশ্লীলতার প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ. সন্তানের প্রতি পিতার বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে আলফাজ সাহেব সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলফাজ সাহেব ক্ষমতাবান হয়েও সৎ ও নিষ্ঠাবান সমাজসেবক। কিন্তু পিতার ক্ষমতা ব্যবহার করে তার পুত্র ফাহাদ হয়েছে অভদ্র ও ব্যভিচারী। আলফাজ সাহেবের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীলতার অভাবে তার ছেলে ফাহাদ এ ধরনের অন্যায় কাজে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি সন্তানের প্রতি কঠোর হতে পারেন নি। আলফাজ সাহেবের করণীয় ছিলÑ
১. শিশুকাল থেকেই ছেলেকে আদব শিক্ষা দেয়া। কিন্তু আলফাজ সাহেব ছেলেকে সোহাগই করেছেন মাত্র, শাসন করতে পারেননি। অথচ সন্তানকে চরিত্রবান করে গড়ে তোলা পিতার একান্ত কর্তব্য।
২. সালাত অশ্লীলতা থেকে ফিরিয়ে রাখে। ফাহাদ সম্ভবত সালাত কায়েম করে না। মহানবি (স) বলেন, ‘দশ বছর বয়সেও যদি সালাত আদায়ে অভ্যস্ত না হয়, তাহলে প্রহার কর।’ সম্ভবত আলফাজ সাহেব তাও করেননি।
৩. ফাহাদকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আলফাজ সাহেব প্রশাসনের সাহায্যও নিতে পারতেন, যেহেতু তিনি ক্ষমতাবান ছিলেন।
সুতরাং বলা যায়, আলফাজ সাহেব সৎ ও নিষ্ঠাবান হওয়া সত্তে¡ও তার পুত্রকে সৎপথের দিশা দিতে পারেননি। এটা তার চরম ব্যর্থতা।
প্রশ্ন -১৮ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জামাল ও কামাল দুই ভাই। জামাল ব্যবসা-বাণিজ্য করে অল্প দিনেই অনেক ধনসম্পত্তির মালিক হয়েছে। তার এ সম্পত্তিতে চোখ পড়ে কামালের। কামাল তার ভাইয়ের উন্নতি দেখে ঈর্ষান্বিত হয় এবং তার ধ্বংস কামনা করে। (পাঠ-১১)
ক. কারো প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে তার ধ্বংস কামনা করাকে কী বলে? ১
খ. পরশ্রীকাতরতা বলতে কী বোঝ? ২
গ. কামালের আচরণে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উক্ত আচরণের কুফল পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ১৮নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. কারো প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে তার ধ্বংস কামনা করাকে পরশ্রীকাতরতা বলে।
খ. পরশ্রীকাতরতা অর্থ অন্যের উন্নতি ও সৌভাগ্য দেখে ঈর্ষা প্রকাশ করা। অর্থাৎ কারো ধন-দৌলত সম্মান, ভালো ফল বা উচ্চ মর্যাদা দেখে ঈর্ষান্বিত হওয়া এবং তার ধ্বংস কামনা করাকে পরশ্রীকাতরতা বলা হয়। পরশ্রীকাতরতা একটি মারাত্মক মানসিক ব্যাধি।
গ. কামালের আচরণে প্রকাশ পেয়েছে পরশ্রীকাতরতা।
পরশ্রীকাতরতা অর্থ অন্যের উন্নতি ও সৌভাগ্য দেখে ঈর্ষা প্রকাশ করা। অর্থাৎ কারো ধন-দৌলত, সম্মান, ভালো ফল বা উচ্চ মর্যাদা দেখে ঈর্ষান্বিত হওয়া এবং তার ধ্বংস কামনা করাকে পরশ্রীকাতরতা বলা হয়। এটি একটি মারাত্মক মানসিক ব্যাধি। এ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে উদ্দীপকের কামাল। তার ভাই জামাল ব্যবসা-বাণিজ্য করে অনেক সম্পদের মালিক হয়। ভাইয়ের উন্নতি দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে কামাল। সে তার ভাইয়ের ধ্বংস কামনা করে। কামালের এ ধরনের আচরণে প্রকাশ পেয়েছে পরশ্রীকাতরতা, যা আখলাকে যামিমাহর অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন কারণে মানুষের মধ্যে পরশ্রীকাতরতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন শত্রæতা, অহংকার, নিজের অসদুদ্দেশ্য নষ্ট হওয়ার আশংকা, নেতৃত্বের লোভ ইত্যাদি। উদ্দীপকের কামাল মূলত লোভের কারণেই তার ভাইয়ের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে।
ঘ. কামালের আচরণে পরশ্রীকাতরতা প্রকাশ পেয়েছে, যার কুফল পাঠ্যপুস্তকের আলোকে অত্যন্ত ভয়ানক বলে প্রতীয়মান হয়।
পরশ্রীকাতরতার অপকারিতা সীমাহীন। হযরত আদম (আ)-এর পদমর্যাদা দেখে ইবলিস তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়। ফলে সে অভিশপ্ত হয় এবং আল্লাহ তায়ালার দয়া থেকে বঞ্চিত হয়।
মানব সৃষ্টির পর ঈর্ষার কারণেই সর্বপ্রথম পাপ সংঘটিত হয়। আদম (আ)-এর পুত্র কাবিল পরশ্রীকাতরতার বশবর্তী হয়ে তারই আপন ভাই হাবিলকে হত্যা করে। পরশ্রীকাতরতা মানুষের পুণ্য কাজগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। এ সম্পর্কে মহানবি (স) বলেছেনÑ “আগুন যেমন শুকনা কাঠকে জ্বালিয়ে ছাই করে দেয় পরশ্রীকাতরতা তেমনই পুণ্যকে ধ্বংস করে দেয়।”
পরশ্রীকাতরতা মানুষের শান্তি বিনষ্ট করে। মনে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে রাখে। পরশ্রীকাতর ব্যক্তি আল্লাহ এবং মানুষের কাছে ঘৃণিত। কেউ তাকে ভালোবাসে না। কেউ তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে না। সমাজের লোকেরা তাকে এড়িয়ে চলে। পরশ্রীকাতরতা সমাজে ঝগড়া-ফাসাদ, মারামারি ও অশান্তি সৃষ্টি করে। মানুষের মনে অহংকার সৃষ্টি হয়। অহংকার মানুষের পতন ঘটায়।
উপরিউক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, পরশ্রীকাতরতার কুফল অত্যন্ত ভয়াবহ। সুতরাং আমরা পরশ্রীকাতর হব না।
প্রশ্ন -১৯ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান অত্যন্ত গরিব পরিবারের সন্তান হলেও মেধাবী। শ্রেণির অন্য শিক্ষার্থী হামিদুর রহমান তাকে তুচ্ছ মনে করে তার থেকে সর্বদা দূরে সরে থাকে। এতে হাফিজুর মনে খুব কষ্ট পায়। বিষয়টি ধর্মীয় শিক্ষক আসগর সাহেব জেনে হামিদুরকে বললেন, তোমার এ ধরনের আচরণ করা ঠিক নয়। (পাঠ-১২)
ক. কাউকে তুচ্ছ মনে করে তাকে সহ্য করতে না পারাকে কী বলে? ১
খ. ঘৃণা নিন্দনীয় কাজ কেন? ২
গ. হামিদুর রহমানের আচরণ ইসলামি শরিয়তের আলোকে ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.হামিদুর রহমানের আচরণের কুফল পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ১৯নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. কাউকে তুচ্ছ মনে করে তাকে সহ্য করতে না পারাকে ঘৃণা বলে।
খ. ঘৃণা শয়তানের বৈশিষ্ট্য। শয়তান হযরত আদম (আ)-এর প্রতি ঘৃণা করার কারণে চরম অভিশপ্ত হয়েছিল। ঘৃণাকারী কখনো মনে শান্তি লাভ করতে পারে না। এতে তার ইহলৌকিক ও পারলৌকিক ক্ষতি সাধিত হয়। এ কারণেই ঘৃণা নিন্দনীয় কাজ।
গ. হামিদুর রহমানের আচরণে ঘৃণা প্রকাশ পেয়েছে। ইসলামি শরিয়তের আলোকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো।
কাউকে তুচ্ছ মনে করে তাকে সহ্য করতে না পারা এবং তার থেকে দূরে সরে থাকাকে ঘৃণা বলে। উদ্দীপকে দেখা যায়, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান গরিব পরিবারের সন্তান হওয়ায় তার সহপাঠী হামিদুর তাকে তুচ্ছ মনে করে তার থেকে দূরে সরে থাকে। এতে হাফিজুর মনে করে খুব কষ্ট পায়। তার এ আচরণ ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ। আর ইসলামি শরিয়তে এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এতে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক ক্ষতি সাধিত হয়। মহানবি (স) বলেছেন, ‘পূর্ববর্তী উম্মতের দুটি রোগ তোমাদের মধ্যে সংক্রামিত হয়েছে, হিংসা এবং ঘৃণা।’ বস্তুত অহংকার, শত্রæতা, পদমর্যাদার লিপ্সা প্রভৃতি কারণে ঘৃণার উদ্রেক ঘটে।
সুতরাং বলা যায়, হামিদুর রহমানের আচরণে ঘৃণা প্রকাশ পেয়েছে, যা ইসলামে নিষিদ্ধ।
ঘ. হামিদুর রহমানের আচরণে প্রকাশ পেয়েছে ঘৃণা। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ঘৃণার কুফল বিশ্লেষণ করা হলো।
ঘৃণা একটি মহা আত্মিক ব্যাধি। এতে বন্ধুত্বের মধ্যে ফাটল ধরে। সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হয়। ঘৃণাকারী কখনো মনে শান্তি লাভ করতে পারে না। এতে তার ইহলৌকিক ও পারলৌকিক ক্ষতি সাধিত হয়।
রাসুলুল্লাহ (স) বলেন, “তোমরা একে অপরকে হিংসা করো না, একে অপরকে ঘৃণা করো না, এক অন্যের ক্ষতি করার জন্য কৌশল করো না বরং তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও।” (বুখারি ও মুসলিম)
ঘৃণা বা তাচ্ছিল্য শয়তানের বৈশিষ্ট্য। শয়তান হযরত আদম (আ)-এর প্রতি তাচ্ছিল্য করার কারণেই অভিশপ্ত হয়েছে। আমরা কাউকে ঘৃণা করব না। তবে মন্দ কাজকে ঘৃণা করব। মন্দ কাজকে ঘৃণা না করলে সমাজে তা ধীরে ধীরে বৈধ বলে পরিগণিত হয়।
উপরিউক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, ঘৃণার কুফল অত্যন্ত মারাত্মক।
প্রশ্ন -২০ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রফিকের বদঅভ্যাস অনেক দিনের। সে অন্যের বই-খাতাসহ সামনে যা পায় তাই না বলে নিয়ে যায়। কেউ দেখে ফেললে সে বলে, দুষ্টমি করেছি। আর না দেখলে তা আর ফেরত দেয় না। এ নিয়ে তার পিতামাতা উদ্বিগ্ন। (পাঠ-১৩)
ক. কারো মালিকানাভুক্ত সম্পদ সংরক্ষিত স্থান থেকে গোপনে হাতিয়ে নেওয়াকে কী বলে? ১
খ. চৌর্যবৃত্তি বলতে কী বোঝায়? ২
গ. রফিকের কাজে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.উক্ত কাজের কুফল পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ২০নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. কারো মালিকানাভুক্ত সম্পদ সংরক্ষিত স্থান থেকে গোপনে হাতিয়ে নেওয়াকে বলে চুরি।
খ. চৌর্য অর্থ চুরি। চৌর্যবৃত্তি অর্থ চোরের পেশা অথবা চোরের কাজ। কারো মালিকানাভুক্ত সম্পদ সংরক্ষিত স্থান থেকে গোপনে হাতিয়ে নেয়ার নাম চুরি বা চৌর্য।
গ. রফিকের কাজে প্রকাশ পেয়েছে চৌর্যবৃত্তি।
কারো মালিকানাভুক্ত সম্পদ সংরক্ষিত স্থান থেকে গোপনে হাতিয়ে নেয়ার নাম চুরি বা চৌর্য। সমাজের নিন্দনীয় কাজগুলোর অন্যতম এ চৌর্যবৃত্তি। সমাজে চোরকে মানুষ ঘৃণার চোখে দেখে। চোরকে মানুষ আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করে। পরিবার ও সমাজের লোকেরা তাকে ঘৃণার চোখে দেখে। উদ্দীপকের রফিকের চরিত্রে এ বদঅভ্যাসের প্রতিফলন ঘটেছে। সে অন্যের বই-খাতাসহ সামনে যা পায় তা-ই না বলে নিয়ে যায়। কেউ দেখে ফেললে বলে, দুষ্টমি করেছি। আর না দেখলে তার আর ফেরত দেয় না। আর এ নিয়ে তার পিতামাতা খুবই উদ্বিগ্ন। কারণ তার এ কাজটি চুরি হিসেবে গণ্য। ধর্মীয় বিবেচনায় এটি একটি হারাম কাজ। এ গর্হিত কাজে দুনিয়ার ঘৃণাও শাস্তি ছাড়াও আখিলাতে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
ঘ. রফিকের কাজটি চুরি হিসেবে গণ্য। উক্ত কাজের কুফল পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো।
চুরি অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এর বহুবিধ কুফল রয়েছে। যেমনÑ
১. চুরির জন্য সম্পদ ও জীবন নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়। কারণ কখনো কখনো চোর ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মালিককে খুনও করে।
২. চুরির দ্বারা সমাজে আরও নতুন নতুন অপরাধ সৃষ্টি হয়। চোর শুধু তার কাজ চুরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে না বরং সে চুরি, ছিনতাই, অপহরণ, খুন এবং মাঝে মাঝে সম্ভ্রমহানির ঘটনাও ঘটায়।
৩. সমাজের নিন্দনীয় কাজগুলোর অন্যতম চৌর্যবৃত্তি। সমাজে চোরকে মানুষ ঘৃণার চোখে দেখে। চোরকে মানুষ আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করে। পরিবার ও সমাজের লোকেরা তাকে ঘৃণার চোখে দেখে।
৪. চুরি একটি অত্যন্ত জঘন্য ধরনের নিষিদ্ধ কাজ। এর ফলে ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন থাকতে পারে না। আল্লাহ তার জন্য পরকালেও ভয়াবহ শাস্তির অঙ্গীকার করেছেন।
প্রশ্ন -২১ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
হারুন সাহেব একজন ভালো মানুষ। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে আদায় করেন। এক রাতে তার বাড়িতে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা বাড়ির সবাইকে মারধর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা দেখে তিনি বললেন, ‘দেশটা মগের মুল­ুকে পরিণত হয়েছে। মানুষের জানমাল, সম্ভ্রম সবকিছুই ডাকাতদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।’ [যশোর জিলা স্কুল]
ক. ফিতনা-ফাসাদের আধুনিক রূপ কী? ১
খ. সন্ত্রাস বলতে কী বোঝায়? ২
গ. উদ্দীপকে পাঠ্যপুস্তকের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় হারুন সাহেবের করা উক্তির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ২১নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. ফিতনা-ফাসাদের আধুনিক রূপ হলো সন্ত্রাস।
খ. সন্ত্রাস হলো ফিতনা-ফাসাদের আধুনিক রূপ। সন্ত্রাস শব্দের অর্থ অতিশয় ত্রাস বা ভয়ের পরিবেশ। অর্থাৎ ভয় দেখিয়ে বা জোর খাটিয়ে মানুষের কাছ থেকে কিছু আদায় করা বা আদায়ের পরিবেশ সৃষ্টির নীতিকে সন্ত্রাস বলে।
গ. উদ্দীপকে পাঠ্যপুস্তকের যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে তাহলো সন্ত্রাস।
সন্ত্রাস হলো ফিতনা-ফাসাদের আধুনিক রূপ। ভয় দেখিয়ে বা জোর খাটিয়ে মানুষের কাছ থেকে কিছু আদায় করা বা আদায়ের পরিবেশ সৃষ্টির নীতিকে সন্ত্রাস বলে। ছিনতাই, ডাকাতি, রাহাজানি, গুম, খুন, অপহরণ, জঙ্গিবাদ ইতাদি সন্ত্রাসের অন্তর্ভুক্ত। উদ্দীপকে দেখা যায়, হারুন সাহেবের বাড়িতে ডাকাত প্রবেশ করে সবাইকে মারধর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতদের এ ধরনের তৎপরতা সন্ত্রাসের নামান্তর। এতে সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত হয়। মানুষের স্বাভাবিক শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন ব্যাহত হয়। এ কারণে ইসলামে সন্ত্রাস নিষিদ্ধ। আল্লাহ তায়ালা সন্ত্রাসকে হত্যার চেয়ে জঘন্য আখ্যা দিয়েছেন।
সুতরাং বলা যায়, হারুন সাহেবের বাড়িতে যে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে, তা এক ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ।
ঘ. “মানুষের জান, মাল, সম্ভ্রম সবকিছুই ডাকাতদের হাতে জিম্মি” উদ্দীপকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার করা হারুন সাহেবের এ উক্তিটি যথার্থ।
ডাকাতি সন্ত্রাসের একটি রূপ। এর কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত হয়। মানুষের স্বাভাবিক শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন ব্যাহত হয়। সন্ত্রাসকবলিত জনপদে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা থাকে না। যখন তখন যেকোনো ব্যক্তি অপমৃত্যুর শিকার হতে পারে। সন্ত্রাসের কারণে মানুষের সম্পদ ও সম্ভ্রমের নিরাপত্তা থাকে না। মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ বৃদ্ধি পায়। আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসন স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে জাতীয় উন্নতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। উদ্দীপকের হারুন সাহেবের বাড়িতে ডাকাতি কালে ডাকাতরা বাড়ির সবাইকে মারধর করে। মালামাল লুট করে নিলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিষ্ক্রিয় থাকায় তিনি উক্ত মন্তব্য করেন। সুতরাং বলা য়ায়, ঘটনার বাস্তবতায় হারুন সাহবের উক্তিটি যথার্থ।
প্রশ্ন -২২ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মিনা তার এক প্রতিবেশীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। একদিন বাংলাদেশ টেলিভিশনে চিকিৎসা বিষয়ক একটি বিজ্ঞাপন দেখে সে কিছুই বুঝতে পারছিলনা। একদিন সে পাশের বাড়ির ভাবীকে টেলিভিশনে দেখা বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি মিনাকে বলেন, অবৈধ মেলামেশার মাধ্যমে এ মারাত্মক রোগটি মানব দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এ বিষয়ে সকলকে সচেতন হওয়া উচিত। অতঃপর মিনা তার ভুল বুঝতে পেরে এ কুকর্ম থেকে ফিরে আসে। (পাঠ-১৬)
ক. ১৯৮১ সালে সর্বপ্রথম আমেরিকায় সমকামীদের মধ্যে ধরা পড়ে কোন রোগটি? ১
খ. ঐওঠ দ্বারা কী বোঝানো হয়? ২
গ. মিনাকে তার পাশের বাড়ির ভাবী কোন বিষয়ে সতর্ক করেন? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকে যে রোগটির কথা বলা হয়েছে তার বিস্তার প্রক্রিয়া পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ২২নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. ১৯৮১ সালে সর্বপ্রথম আমেরিকায় সমকামীদের মধ্যে ধরা পড়ে এইডস রোগ।
খ. এইডস রোগের ভাইরাসের নাম ঐঁসধহ ওসসঁহব উবভরপরবহপু ঠরৎঁং. এর সংক্ষিপ্ত নাম ঐওঠ. এইডস একটি ঘাতক ব্যাধি। ঐওঠ দ্বারা কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত হলে তাকে এইচআইভি বহনকারী’ হিসেবে চি‎িহ্নত ণ করা হয়। এ ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে রক্তের রোগ প্রতিরোধকারী ঞ৪ কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়।
গ. মিনাকে তার পাশের বাড়ির ভাবী এইডস রোগ সম্পর্কে সতর্ক করে।
এইডস বর্তমান শতাব্দীর এক মহাআতঙ্কের নাম। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগেও এইডস বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এইডস রোগের ভাইরাস ঐওঠ কোনো ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করলে তার রক্তের রোগ প্রতিরোধকারী ঞ৪ কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। এক পর্যায়ে আক্রান্ত ব্যক্তি রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং ক্রমান্বয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। অবৈধ মেলামেশার মাধ্যমে এ রোগ দ্রæত মানবদেহ ছড়িয়ে পড়তে পারে। মিনাকে তার পাশের বাড়ির ভাবী এ কথাই বলেছিল। সুতরাং তিনি মিনাকে এইডসের বিস্তার সম্পর্কেই সতর্ক করে এ বিষয়ে সচেতন করেন।
ঘ. উদ্দীপকে এইডস রোগের কথা বলা হয়েছে।
বয়স, জাতি, লিঙ্গ, সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সবাই এইচআইভি দ্বারা সমানভাবে আক্রান্ত হতে পারে। এইচআইভি মানুষের শরীরে বিভিন্ন ধরনের তরল পদার্থের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। তরল পদার্থগুলো হলো রক্ত, বীর্য, মাতৃদুগ্ধ ইত্যাদি। যদি এইচআইভি আক্রান্ত পুরুষ বা মহিলার শরীরের তরল পদার্থ কোনো সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করে, তবে তিনি এইচআইভি দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন।
এইচআইভি এবং এইডস যেসব কারণে ছড়ায় তার মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলোÑ
ক. অবৈধ মেলামেশা।
খ. মাদক ও নেশা জাতীয় দ্রব্য সিরিঞ্জের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো।
গ. অপরিশোধিত রক্ত শরীরে প্রবেশ করানো।
সুতরাং আমরা সকলে ইসলামি বিধিবিধান মেনে চলব। এইডস প্রতিরোধ করব।

প্রশ্ন -২৩ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জসিম সাহেবের ছেলে আরাফাত কথায় কথায় মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং আমানতের খিয়ানত করে। ইদানিং সে অশ্লীলতায়ও জড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি জসিম সাহেবের নজরে এলে তিনি ছেলে আরাফাতকে বলেন নিফাক জঘন্যতম পাপ। নিফাকের ফলে মানুষ অন্যায় ও অশ্লীল কাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। নিফাকের দ্বারা মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। অশ্লীলতাও একটি মারাত্মক পাপ কাজ। এটি সমাজের বড় সমস্যা। এটা সমাজের শাস্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করে। এটা নিষ্পাপ ও কোমলমাতি ছাত্র-ছাত্রীদের চরিত্র হনন করে। যুবক যুবতীদের কুকর্মের প্রতি প্রলুব্ধ করে।

ক. জান্নাত শব্দের অর্থ কী? ১
খ. সন্ত্রাস কাকে বলে? ২
গ. আরাফাতের চরিত্রে কী প্রকাশ পায়? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.জসিম সাহেবের কথার প্রেক্ষিতে আমাদের সমাজের বড় সমস্যাটি ব্যাখ্যা কর। ৪
ল্ফল্প ২৩নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. জান্নাত শব্দের অর্থ বাগান, উদ্যান, আবৃত স্থান।
খ. সন্ত্রাস হলো ফিতনা-ফাসাদের আধুনিক রূপ। সন্ত্রাস শব্দের অর্থ অতিশয় ত্রাস বা ভয়ের পরিবেশ। অর্থাৎ ভয় দেখিয়ে বা জোর খাটিয়ে মানুষের কাছ থেকে কিছু আদায় করা বা আদায়ের পরিবেশ সৃষ্টির নীতিকে সন্ত্রাস বলে।
গ. আরাফাতের চরিত্রে নিফাক প্রকাশ পায়।
নিফাক হলো নৈতিকতা ও মানবিকতার আদর্শের বিপরীত কাজ। মুনাফিকদের চরিত্র দেখলে আমরা এ সত্য জানতে পাই। যেমনটি উদ্দীপকের জসিম সাহেবের ছেলে আরাফাতের চরিত্রে দেখা যায়। যে কথায় কথায় মিথ্যা বলা, ওয়াদা ভঙ্গ করা এবং আমানতের খিয়ানত করে। অতএব সে একজন মুনাফিক। তার মতো মুনাফিকরা সব ধরনের অন্যায় ও মন্দ কাজ করে থাকে। উত্তম আচরণ ও উত্তম চরিত্র তারা কখনোই অনুশীলন করে না। বরং মিথ্যা ও প্রতারণাই তাদের কাজ যা মানবজীবনের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ।
ঘ. উদ্দীপকে জসীম সাহেবের কথায় ধরা পড়ে, “অশ্লীলতা আমাদের সমাজে বড় সমস্যা”Ñউক্তিটি যথার্থ।
অশ্লীলতা অর্থ জঘন্যতা, কদর্যতা, নির্লজ্জতা, অভদ্রতা ও যৌন বিষয়ক কুৎসিত আচরণ। অশ্লীলতার দ্বারা নির্লজ্জ ও কুরুচিপূর্ণ কথা ও কাজকে বোঝানো হয়। এছাড়া যেসব কুকর্ম ধৃষ্টতাসহকারে প্রকাশ্যে করা হয় সেগুলোই অশ্লীলতা। যেমনটি জসিম সাহেবের ছেলে আরাফাতের চরিত্রে পরিলক্ষিত হয়। অশ্লীলতা সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করে এবং সমাজকে কলুষিত করে। এটা নিষ্পাপ ও কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের চরিত্র হনন করে যুবক যুবতীদের কুকর্মের প্রতি প্রলুব্ধ করে। ফলে তারা পথ ভ্রষ্ট হয়। এতে দেশের ও জাতির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় এবং দেশে ভালো চরিত্রবান মানুষের অভাব দেখা দেয়। আর সুন্দর চরিত্রবান মানুষ ছাড়া দেশকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই বলা হয় অশ্লীলতা আমাদের সমাজের বড় সমস্যা।
প্রশ্ন -২৪ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
হাসান ও কামাল একই ক্লাসে পড়ে। হাসান পরীক্ষায় ভালো ফল করায় কামাল ঈর্ষান্বিত হয় এবং তার অনিষ্ট কামনা করে। হাসান কামালকে বলে আমাদের প্রিয়নবি (স) ছিলেন উন্নত ও মহান চরিত্রের অধিকারী। নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের জন্য তিনি সবার নিকট প্রশংসনীয় ছিলেন। তার এসব নৈতিকতা ও আদর্শের বিবরণ হাদিসে আছে।
ক. জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল উৎস কী? ১
খ. আখলাকে হামিদা কাকে বলে? ২
গ. কামালের কাজের অপকারিতা বর্ণনা কর। ৩
ঘ.মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে হাসানের বক্তব্যের যথার্থতা বিশ্লেষণ কর। ৪
ল্ফল্প ২৪নং প্রশ্নের উত্তর ল্ফল্প
ক. জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল উৎস আল-কুরআন।
খ. মানবজীবনের উত্তম গুণাবলিকে আখলাকে হামিদাহ বলে। যেমন : ধৈর্য্য, সততা, দেশপ্রেম, মানবসেবা প্রভৃতি। এসব চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি সমাজে নন্দিত ও সম্মানিত।
গ. কামালের কাজটি পরশ্রীকাতরতা। সে সহপাঠী হাসানের ভালো ফলাফলে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার অনিষ্ট কামনা করে। এর অপকারিতা মারাত্মক।
পরশ্রীকাতরতা একটি মারাত্মক মানসিক ব্যাধি। পরশ্রীকাতরতার ফলে একে অন্যের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ করে থাকে। হযরত আদম (আ) এর পদমর্যাদা দেখে ইবলিস তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়। ফলে সে অভিশপ্ত হয় এবং আল্লাহ তায়ালার দয়া থেকে বঞ্চিত হয়। পরশ্রীকাতরতা মানুষের শান্তি বিনষ্ট করে। মনে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে রাখে। এরূপ ব্যক্তি আল্লাহ এবং মানুষের কাছে ঘৃণিত। কেউ তাকে ভালোবাসে না এবং বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে না। সমাজের লোকেরা তাকে এড়িয়ে চলে। মহানবি (স) বলেন-
“আগুন যেমন শুকনা কাঠকে জ্বালিয়ে ছাই করে দেয় পরশ্রীকাতরতা তেমনই পুণ্যকে ধ্বংস করে দেয়।” (মুসনাদি শিহাব)। সুতরাং স্পষ্ট যে, কামালের পরশ্রীকাতরতার অপকারিতা মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে।
ঘ. মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে উদ্দীপকের হাসানের বক্তব্য যথার্থ। মূলত সে তার কথায় এ প্রসঙ্গে হাদিসের গুরুত্ব তুলে ধরে।
হযরত মুহাম্মদ (স) ছিলেন উন্নত ও মহান চরিত্রের অধিকারী নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের জন্য তিনি সবার নিকট প্রশংসনীয় ছিলেন। তার এসব বিবরণ হাদিসে আছে। উদ্দীপকের মধ্যেও তার উল্লেখ রয়েছে।
হাদিসের মাধ্যমেই জানা যায় মহানবি (স)-এর ক্ষমাশীলতা, উদারতা, সততা ও সত্যবাদিতা, সংযম, ন্যায়পরায়ণতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, পরমত সহিষ্ণুতা, মানবিকতা, অস¤প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি, দানশীলতা, পরোপকারিতা, দেশপ্রেম ও ওয়াদা পালন প্রভৃতি বিষয়াবলি। এসবই মানবিক মূল্যবোধ।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে হাদিসের গুরুত্ব অপরিসীম। আর হাসান উদ্দীপকে তার বক্তব্যে এ বিষয়টিই প্রকাশ করেছে। সুতরাং তার বক্তব্যটি যথার্থ হয়েছে।

সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক

প্রশ্ন-২৫ ল্ফ ফাহিমা ও ফাহমিদা একই শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। তারা দুইজনেই একই এলাকার বাসিন্দা। প্রায় প্রতিদিনই তারা একই সাথে এবং একই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে। কিন্তু ফাহিমা ফাহমিদার সাথে খুব একটা কথা বলে না কিংবা মিশতে চায় না। ফাহমিদার সাদাসিধে পোশাক পরিচ্ছদ ফাহিমার পছন্দ নয়। একদিন ফাহিমা ফাহমিদাকে ছোটলোক বলে গালি দেয় এবং তার সাথে মিশতে বারণ করে।
ক. আখলাকে যামিমা কী? ১
খ. অহংকার বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. ফাহিমার আচরণের মধ্য দিয়ে কীসের প্রকাশ ঘটেছে, ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ফাহিমার আচরণের পরিণতি কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪
প্রশ্ন-২৬ ল্ফ জহির উদ্দিন একজন দরিদ্র কৃষক। বসতবাড়ির জমিটুকু ছাড়া তার আর কোনো সম্বল নেই। তার প্রতিবেশীর দায়ের করা মিথ্যা অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে তাকে থানায় উৎকোচ দিতে হবে। তিনি কোনো উপায় না দেখে মহাজনের কাছে টাকা ধার চাইতে গেলেন। মহাজন বিনা লাভে টাকা দিতে রাজি হলেন না। বিষয়টি ইমাম সাহেবের গোচরীভূত হলে তিনি তার কাজকে হারাম বলে জানালেন।
ক. ঘুষ কী? ১
খ. ইসলামে সুদ হারাম করা হয়েছে কেন? ২
গ. মহাজনের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করলে জহিরউদ্দিনের কী ক্ষতি হত? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. কুরআন ও হাদিসের আলোকে মহাজনের কাজের কুফল বিশ্লেষণ কর। ৪
প্রশ্ন-২৭ ল্ফ জনৈক ব্যক্তি নিজ গ্রামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। শ্রমজীবী মানুষেরজন্য নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন করেছেন। স্থানীয় লোকদের পানীয় জলের কষ্ট দূর করার জন্য গভীর বসিয়েছেন। গ্রামের ভাঙ্গা রাস্তা ও পুল মেরামত করে দিয়েছেন। সবাই তাঁর প্রশংসা করলেও শিকদার মিয়া তাকে মোটেও সহ্য করতে পারে না। তার সুনামে ঈর্ষাম্বিত হয়ে সে তাঁর কুৎসা রটনা করে এবং ক্ষতি করার চেষ্টা করে।
ক. হত্যা অপেক্ষাও জঘন্য কী? ১
খ. পরমত সহিষ্ণুতা বলতে কী বোঝায়? ২
গ. জনৈক ব্যক্তির মধ্যে আখলাকে হামিদার কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. শিকদার মিয়ার কর্মকাণ্ড ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ কর। ৪

অনুশীলনের জন্য দক্ষতাস্তরের প্রশ্ন ও উত্তর

 জ্ঞানমূলক //
প্রশ্ন \ ১ \ আখলাক কাকে বলে?
উত্তর : মানুষের আচার-আচরণ ও দৈনন্দিন কাজকর্মের মধ্য দিয়ে যে স্বভাব প্রকাশ পায় তাকে আখলাক বলে।
প্রশ্ন \ ২ \ মানুষের কোন দিকটি আখলাকের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর : মানুষের জীবনের সবদিকই আখলাকের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন \ ৩ \ আখলাক কয় প্রকার?
উত্তর : আখলাক দুই প্রকার। (ক) আখলাকে হামিদাহ (খ) আখলাকে যামিমাহ।
প্রশ্ন \ ৪ \ আখলাকে হামিদাহ কাকে বলে?
উত্তর : মানবজীবনের উত্তম গুণাবলিকে আখলাকে হামিদাহ বা প্রশংসনীয় চরিত্র বলে।
প্রশ্ন \ ৫ \ আখলাকে যামিমাহ কাকে বলে?
উত্তর : মানবজীবনের নিকৃষ্ট চরিত্রকে আখলাকে যামিমাহ বলে।
প্রশ্ন \ ৬ \ ধৈর্য কী?
উত্তর : জীবনের সবক্ষেত্রে সহিষ্ণুতার সঙ্গে আল­াহর বিধান মোতাবেক সব কর্তব্য পালন করাকে ধৈর্য বলে।
প্রশ্ন \ ৭ \ ধৈর্য শব্দের অর্থ কী?
উত্তর : ধৈর্য শব্দের অর্থ সহিষ্ণুতা, দৃঢ়তা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।
প্রশ্ন \ ৮ \ ধৈর্যের স্তর কয়টি?
উত্তর : ধৈর্যের স্তর ৩টি।
প্রশ্ন \ ৯ \ কোন ক্ষেত্রে আমাদের বেশি ধৈর্যধারণ প্রয়োজন?
উত্তর : বিপদাপদে আমাদের বেশি ধৈর্যধারণ প্রয়োজন।
প্রশ্ন \ ১০ \ কে হযরত ইবরাহিম (আ)-কে আগুনে নিক্ষেপ করে?
উত্তর : নমরুদ হযরত ইবরাহিম (আ)-কে আগুনে নিক্ষেপ করে।
প্রশ্ন \ ১১ \ শরিয়তের বিধান পালনে কী দরকার?
উত্তর : শরিয়তের বিধান পালনে ধৈর্য দরকার ।
প্রশ্ন \ ১২ \ ভ্রাতৃত্ব কত প্রকার?
উত্তর : ভ্রাতৃত্বকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যথা : (ক) ঔরসজাত ভ্রাতৃত্ব (খ) বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও (গ) ইসলামি ভ্রাতৃত্ব।
প্রশ্ন \ ১৩ \ ঔরসজাত ভ্রাতৃত্ব কী?
উত্তর : একই পিতার ঔরসে বা একই মায়ের গর্ভে জন্মগ্রহণ করার কারণে যে ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি হয় তাকে ঔরসজাত ভ্রাতৃত্ব বলে।
প্রশ্ন \ ১৪ \ বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব কাকে বলে?
উত্তর : বিশ্বের সব মানুষ আদি পিতা হযরত আদম (আ) ও আদি মাতা হযরত হাওয়া (আ)-এর বংশধর। এদিক থেকে বিশ্বের সব মানুষ ভাই ভাই।
প্রশ্ন \ ১৫ \ উখওয়াতুন শব্দের অর্থ কী?
উত্তর : উখওয়াতুন শব্দের অর্থ ভ্রাতৃত্ব।
প্রশ্ন \ ১৬ \ আমরা সবাই কোন ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি হয়েছি?
উত্তর : আমরা সবাই আদম (আ) থেকে সৃষ্টি হয়েছি।
প্রশ্ন \ ১৭ \ হযরত আদম (আ) কী হতে সৃষ্টি হয়েছেন?
উত্তর : হযরত আদম (আ) মাটি হতে সৃষ্টি হয়েছেন।
প্রশ্ন \ ১৮ \ কোন ধর্মে নারীদেরকে পুরুষের সমান মর্যাদা দেয়া হয়েছে?
উত্তর : ইসলামধর্মে নারীদেরকে পুরুষের সমান মর্যাদা দেয়া হয়েছে।
প্রশ্ন \ ১৯ \ প্রাচীন আরবে নারীদের অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর : প্রাচীন আরবে নারীদের অবস্থা ছিল খুবই করুণ।
প্রশ্ন \ ২০ \ কোন নবির সময় নারীরা পুরুষের সমমর্যাদা পায়?
উত্তর : হযরত মুহাম্মদ (স)-এর সময় নারীরা পুরুষের সমমর্যাদা পায়।
প্রশ্ন \ ২১ \ কার পদতলে সন্তানের বেহেশত?
উত্তর : মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।
প্রশ্ন \ ২২ \ ‘তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের ভ‚ষণ আর তোমরা (স্বামীর) তাদের ভ‚ষণ’ বাণীটি কার?
উত্তর : বাণীটি মহান আল­াহর।
প্রশ্ন \ ২৩ \ সমাজসেবা কাকে বলে?
উত্তর : সমাজের বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে স্বেচ্ছায় গৃহীত কাজকে সমাজসেবা বলে।
প্রশ্ন \ ২৪ \ ধনীদের সম্পদে কাদের অধিকার রয়েছে?
উত্তর : ধনীদের সম্পদে গরিবদের অধিকার রয়েছে।
প্রশ্ন \ ২৫ \ “তাদের (ধনীদের) ধন-সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্থ ও বঞ্চিতদের হক”। বাণীটি কার?
উত্তর : বাণীটি আল­াহ তায়ালার।
প্রশ্ন \ ২৬ \ জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কী?
উত্তর : জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ।
প্রশ্ন \ ২৭ \ সমাজ সংশোধনমূলক প্রতিটি কার্যক্রমই কিসের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর : সমাজ সংশোধনমূলক প্রতিটি কার্যক্রমই সমাজসেবার অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন \ ২৮ \ দেশপ্রেম মানবজীবনে কেমন গুণ?
উত্তর : দেশপ্রেম মানবজীবনে একটি মহৎ গুণ।
প্রশ্ন \ ২৯ \ দেশপ্রেম মানুষকে কিসে উদ্বুদ্ধ করে?
উত্তর : দেশপ্রেম মানুষকে দেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে।
প্রশ্ন \ ৩০ \ দেশপ্রেম কিসের অঙ্গ?
উত্তর : দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ।
প্রশ্ন \ ৩১ \ দেশপ্রেমের মূল কথা কী?
উত্তর : দেশপ্রেমের মূল কথা দেশকে ভালোবাসা।
প্রশ্ন \ ৩২ \ মদিনায় হিজরতের পর কারা কঠিন জ্বরে আক্রান্ত হন?
উত্তর : মদিনায় হিজরতের পর হযরত আবু বকর (রা) ও হযরত বেলাল (রা) কঠিন জ্বরে আক্রান্ত হন।
প্রশ্ন \ ৩৩ \ “দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ”Ñ বাণীটি কার?
উত্তর : “দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ” বাণীটি মনীষীদের।
প্রশ্ন \ ৩৪ \ পরমতসহিষ্ণুতা কাকে বলে?
উত্তর : অন্যের মতামতকে অবজ্ঞা না করে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া বা অন্যের মত বা আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাকে পরমতসহিষ্ণুতা বলে।
প্রশ্ন \ ৩৫ \ পরমতসহিষ্ণুতার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীর মধ্যে কী সৃষ্টি হয়?
উত্তর : পরমতসহিষ্ণুতার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীর মধ্যে সৌহার্দ ও স¤প্রীতি সৃষ্টি হয়।
প্রশ্ন \ ৩৬ \ পারস্পরিক সুখশান্তি নির্ভর করে কিসের উপর?
উত্তর : পারস্পরিক সুখশান্তি নির্ভর করে পরমতসহিষ্ণুতার উপর।
প্রশ্ন \ ৩৭ \ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের আদর্শের প্রতি কী করা উচিত?
উত্তর : জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকল মানুষের আদর্শের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।
প্রশ্ন \ ৩৮ \ অহংকার শব্দের অর্থ কী?
উত্তর : অহংকার শব্দের অর্থ অহমিকা, গর্ব, বড়াই ইত্যাদি।
প্রশ্ন \ ৩৯ \ অহংকারী কাকে বলে?
উত্তর : যে অহংকারী করে তাকে অহংকারী বলে।
প্রশ্ন \ ৪০ \ অহংকারীরা অন্যদেরকে কী করে?
উত্তর : অহংকারীরা অন্যদেরকে ছোট করে দেখে।
প্রশ্ন \ ৪১ \ কাউকে ছোট বংশের মনে করা কী?
উত্তর : কাউকে ছোট বংশের মনে করা অহংকার।
প্রশ্ন \ ৪২ \ অহংকারের ফলে কে অভিশপ্ত হয়েছিল?
উত্তর : অহংকারের ফলে ইবলিস অভিশপ্ত হয়েছিল।
প্রশ্ন \ ৪৩ \ অশ্লীলতা অর্থ কী?
উত্তর : অশ্লীলতা অর্থ জঘন্যতা, অভদ্রতা, যৌন বিষয়ক কুৎসিত আচরণ ইত্যাদি।
প্রশ্ন \ ৪৪ \ যেসব কুকর্ম ধৃষ্টতাসহকারে প্রকাশ্যে করা হয়, সেগুলোকে কী বলা হয়?
উত্তর : যেসব কুকর্ম ধৃষ্টতাসহকারে প্রকাশ্যে করা হয় সেগুলোকে ও অশ্লীলতা বলা হয়।
প্রশ্ন \ ৪৫ \ অশ্লীলতা সমাজে কী নষ্ট করে?
উত্তর : অশ্লীলতা সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করে।
প্রশ্ন \ ৪৬ \ অশ্লীলতাকে আল­াহ তায়ালা কী বলে ঘোষণা করেছেন?
উত্তর : অশ্লীলতাকে আল­াহ পাক হারাম বলে ঘোষণা করেছেন।
প্রশ্ন \ ৪৭ \ “প্রকাশ্য কিংবা গোপনে অশ্লীল আচরণের নিকটেও যাবে না।” বাণীটি কার?
উত্তর : “প্রকাশ্য কিংবা গোপনে অশ্লীল আচরণের নিকটেও যাবে না।” বাণীটি আল­াহর।
প্রশ্ন \ ৪৮ \ পরশ্রীকাতরতা অর্থ কী?
উত্তর : পরশ্রীকাতরতা অর্থ অন্যের উন্নতি ও সৌভাগ্য দেখে ঈর্ষা প্রকাশ করা।
প্রশ্ন \ ৪৯ \ পরশ্রীকাতরতা কী ধরনের ব্যাধি?
উত্তর : পরশ্রীকাতরতা মারাত্মক মানসিক ব্যাধি।
প্রশ্ন \ ৫০ \ প্রথম পাপ সংঘটিত হয় কিসের কারণে?
উত্তর : প্রথম পাপ সংঘটিত হয় ঈর্ষার কারণে।
প্রশ্ন \ ৫১ \ “আগুন যেমন শুকনা কাঠকে জ্বালিয়ে ছাই করে দেয়, পরশ্রীকাতরতা তেমনই পুণ্যকে ধ্বংস করে দেয়”Ñ বাণীটি কার?
উত্তর : বাণীটি মহানবি (স)-এর।
প্রশ্ন \ ৫২ \ ঘৃণা অর্থ কী?
উত্তর : ঘৃণা অর্থ অবজ্ঞা, অপছন্দ, তুচ্ছ ইত্যাদি।
প্রশ্ন \ ৫৩ \ ঘৃণার উদ্রেক হয় কীভাবে?
উত্তর : ঘৃণার উদ্রেক হয় অহংকার, শত্র“তা ইত্যাদির কারণে।
প্রশ্ন \ ৫৪ \ কে কখনো মনে শান্তি লাভ করতে পারে না?
উত্তর : ঘৃণাকারী কখনো মনে শান্তি লাভ করতে পারে না।
প্রশ্ন \ ৫৫ \ ঘৃণা কার বৈশিষ্ট্য?
উত্তর : ঘৃণা শয়তানের বৈশিষ্ট্য।
প্রশ্ন \ ৫৬ \ কার প্রতি ঘৃণা করার কারণে শয়তান অভিশপ্ত হয়েছে?
উত্তর : হযরত আদম (আ)-এর প্রতি ঘৃণা করার কারণে শয়তান অভিশপ্ত হয়েছে।
প্রশ্ন \ ৫৭ \ চৌর্য অর্থ কী?
উত্তর : চৌর্য অর্থ অপহরণ, চুরি।
প্রশ্ন \ ৫৮ \ চৌর্যবৃত্তি অর্থ কী?
উত্তর : চৌর্যবৃত্তি অর্থ চোরের পেশা বা চোরের কাজ।
প্রশ্ন \ ৫৯ \ কারো মালিকানাভুক্ত সম্পদ সংরক্ষিত স্থান থেকে গোপনে হাতিয়ে নেয়াকে কী বলে?
উত্তর : কারো মালিকানাভুক্ত সম্পদ সংরক্ষিত স্থান থেকে গোপনে হাতিয়ে নেয়াকে চুরি বা চৌর্য বলে।
প্রশ্ন \ ৬০ \ জীবন ও সম্পদ নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয় কী কারণে?
উত্তর : জীবন ও সম্পদ নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয় চুরির কারণে।
প্রশ্ন \ ৬১ \ সামাজিক শান্তি বিনষ্ট হয় কী কারণে?
উত্তর : সামাজিক শান্তি বিনষ্ট হয় চৌর্যবৃত্তির কারণে।
প্রশ্ন \ ৬২ \ সমাজে মানুষ চোরকে কোন চোখে দেখে?
উত্তর : সমাজের মানুষ চোরকে ঘৃণার চোখে দেখে।
প্রশ্ন \ ৬৩ \ কাকে আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিতে মানুষ লজ্জাবোধ করে?
উত্তর : চোরদেরকে আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিতে মানুষ লজ্জাবোধ করে।
প্রশ্ন \ ৬৪ \ মানুষ প্রকৃত মুমিন থাকতে পারে না কী কারণে?
উত্তর : মানুষ প্রকৃত মুমিন থাকতে পারে না চৌর্যবৃত্তির কারণে।
প্রশ্ন \ ৬৫ \ “পুরুষ চোর আর মহিলা চোর তাদের হাত কেটে দাও। তারা যা করেছে এ হলো আল­াহর পক্ষ থেকে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।”Ñ এটি কার বাণী?
উত্তর : এটি আল­াহর বাণী।
প্রশ্ন \ ৬৬ \ ঘুষ অর্থ কী?
উত্তর : ঘুষ অর্থ উৎকোচ।
প্রশ্ন \ ৬৭ \ ঘুষ-এর আরবি প্রতিশব্দ কী?
উত্তর : ঘুষ এর আরবি প্রতিশব্দ হলো রেশওয়াত।
প্রশ্ন \ ৬৮ \ অবৈধভাবে সহায়তার জন্য প্রদত্ত গোপন পারিতোষিক কী?
উত্তর : অবৈধভাবে সহায়তার জন্য প্রদত্ত গোপন পারিতোষিক ঘুষ।
প্রশ্ন \ ৬৯ \ ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যমে অন্যের কী হয়?
উত্তর : ঘুষ আদান-প্রদানের মাধ্যমে অন্যের অধিকার ক্ষুণœ হয়।
প্রশ্ন \ ৭০ \ ঘুষদাতা এবং গ্রহীতা উভয়েই কী?
উত্তর : ঘুষদাতা এবং গ্রহীতা উভয়েই সমান অপরাধী।
প্রশ্ন \ ৭১ \ ঘুষ গ্রহণকারী ও প্রদানকারীর উপর আল­াহর কী বর্ষিত হয়?
উত্তর : ঘুষ গ্রহণকারী ও প্রদানকারীর উপর আল­াহর অভিশাপ বর্ষিত হয়।
প্রশ্ন \ ৭২ \ ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়ের শাস্তি কী?
উত্তর : ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়ের শাস্তি জাহান্নাম।
প্রশ্ন \ ৭৩ \ ইসলাম ঘুষকে কী করেছে?
উত্তর : ইসলাম ঘুষকে হারাম করেছে।
প্রশ্ন \ ৭৪ \ ঘুষের সম্পদকে হারাম ও অপবিত্র ঘোষণা করেছেন কে?
উত্তর : ঘুষের সম্পদকে হারাম ও অপবিত্র ঘোষণা করেছেন আল­াহ।
প্রশ্ন \ ৭৫ \ কিয়ামত দিবসে কার পরিণতি হবে খুবই লজ্জাজনক?
উত্তর : কিয়ামত দিবসে ঘুষ গ্রহীতার পরিণতি হবে খুবই লজ্জাজনক।
প্রশ্ন \ ৭৬ \ ফিৎনা-ফাসাদের আধুনিক রূপ কী?
উত্তর : ফিৎনা-ফাসাদের আধুনিক রূপ হলো সন্ত্রাস।
প্রশ্ন \ ৭৭ \ সন্ত্রাস শব্দের অর্থ কী?
উত্তর : সন্ত্রাস শব্দের অর্থ অতিশয় ত্রাস বা ভয়ের পরিবেশ।
প্রশ্ন \ ৭৮ \ সন্ত্রাস কাকে বলে?
উত্তর : ভয় দেখিয়ে বা জোর খাটিয়ে মানুষের কাছ থেকে কিছু আদায় করাকে সন্ত্রাস বলে।
প্রশ্ন \ ৭৯ \ সন্ত্রাসের ফলে সমাজে কী সৃষ্টি হয়?
উত্তর : সন্ত্রাসের ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
প্রশ্ন \ ৮০ \ সন্ত্রাসের ফলে জীবনে কী থাকে না?
উত্তর : সন্ত্রাসের ফলে জীবনে নিরাপত্তা থাকে না।
প্রশ্ন \ ৮১ \ কত সালে সর্বপ্রথম এইডস রোগ ধরা পড়ে?
উত্তর : ১৯৮১ সালে সর্বপ্রথম এইডস রোগ ধরা পড়ে।
প্রশ্ন \ ৮২ \ সর্বপ্রথম কোথায় এইডস রোগ ধরা পড়ে?
উত্তর : সর্বপ্রথম আমেরিকায় এইডস রোগ ধরা পড়ে।
প্রশ্ন \ ৮৩ \ এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে কী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়?
উত্তর : এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে এইচআইভি বহনকারী হিসেবে ণ চিহ্নিত করা হয়।
প্রশ্ন \ ৮৪ \ এইচআইভি মানুষের শরীর কিসের মাধ্যমে ছড়ায়?
উত্তর : এইচআইভি মানুষের শরীরে তরল পদার্থের মাধ্যমে ছড়ায়।
 অনুধাবনমূলক //
প্রশ্ন \ ১ \ আখলাকের গুরুত্ব কী?
উত্তর : ইসলামের দৃষ্টিতে আখলাকের গুরুত্ব অপরিসীম। আখলাকই উন্নত জাতির জীবনীশক্তি। যে জাতির চরিত্র দৃঢ় থাকে, সে জাতি ততো শক্তিশালী। যে জাতির চরিত্র ঠিক নেই, সে জাতি পৃথিবীতে টিকে থাকতে পারে না। সব নবিই নিজ নিজ জাতিকে উত্তম চরিত্র শিক্ষা দিয়েছেন। আর শেষ নবি মুহাম্মদ (স)-কে আল­াহ তায়ালা পাঠিয়েছেন উন্নত চরিত্রকে পূর্ণতা দানের জন্য। রাসুল (স) বলেন, উত্তম চরিত্রকে পূর্ণতা দানের জন্যই আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে।” উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি আখিরাতে তার উত্তম চরিত্রের বিনিময়ে বিরাট মর্যাদা লাভ করবে।
প্রশ্ন \ ২ \ আখলাকে যামিমাহ থেকে দূরে থাকতে হবে কেন?
উত্তর : মানবজীবনের নিকৃষ্ট চরিত্রকে আখলাকে যামিমাহ বা নিন্দনীয় চরিত্র বলে। যেমন : অহংকার, ঘৃণা, মিথ্যাচার, সুদ, ঘুষ, অশ্লীলতা প্রভৃতি। এসকল চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি সমাজে অত্যন্ত ঘৃণিত ও নিন্দিত। আখলাকে যামিমাহ আমাদেরকে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করে। কাজেই এসব বিবেচনায় আখলাকে যামিমাহ থেকে আমাদেরকে দূরে থাকতে হবে।
প্রশ্ন \ ৩ \ ধৈর্যের স্তরগুলো লেখ।
উত্তর : ধৈর্যের স্তর তিনটি। যথা : ক. অবৈধ ও হারাম বস্তু
থেকে নিজের নাফস বা প্রবৃত্তিকে বিরত রাখতে ধৈর্যধারণ করা। খ. আল­াহ তায়ালার ইবাদত ও আনুগত্যে ধৈর্যধারণ করা, এবং গ. যেকোনো বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ করা।
প্রশ্ন \ ৪ \ ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ধৈর্য মানবজীবনের একটি মহৎগুণ। এটি মানবজীবনের সফলতার চাবিকাঠি। ধৈর্যের অনুশীলন ছাড়া ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবনে সাফল্য অর্জন করা যায় না। অধৈর্য মানুষকে ঠেলে দেয় ব্যর্থতার দিকে। এ কারণে জীবনে চলার পথে মানুষকে অবশ্যই ধৈর্যশীল হতে হবে। জীবনে যাঁরা বড় হয়েছেন তাঁরা সবাই ছিলেন ধৈর্যশীল। শরিয়তের প্রতিটি বিধান পালন করতে হলেও ধৈর্যের প্রয়োজন। আল­াহ তায়ালা বলেন, “অবশ্যই ধৈর্যশীলগণকে তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে দেয়া হবে।”
প্রশ্ন \ ৫ \ ইসলামি ভ্রাতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : তাওহিদ ও রিসালাতে বিশ্বাস স্থাপন করার পর বিশ্বের সব মুসলমান পরস্পরের ভাই। ইসলামি ভ্রাতৃত্ব এতই সুদৃঢ় যে, আল­াহর রাসুল (স) পৃথিবীর সব ইমানদারগণকে একটি দেহের সঙ্গে তুলনা করেছেন। দেহের কোনো একটি অঙ্গে অসুখ হলে যেমন পুরো দেহ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তেমনি পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে একজন মুসলিম বিপদে পতিত হলে সব মুসলমানের অন্তর ব্যথিত হয়। একজন মুসলমান কোনো বিপদে পতিত হলে তাকে সাহায্য করা অপর মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব। নবি (স) বলেন, “মুমিনগণ পরস্পর মিলে একটি ইমারত স্বরূপ, এর এক অংশ অপর অংশকে মজবুত করে রাখে।”
প্রশ্ন \ ৬ \ বিশ্বভ্রাতৃত্ব বলতে কী বোঝ?
উত্তর : ভ্রাতৃত্ব বলতে আমরা পরস্পর ভাইয়ের সম্পর্ক বুঝে থাকি। বিশ্বের সকল মানুষ আদি পিতা হযরত আদম (আ) এবং আদি মাতা বিবি হাওয়া (আ)-এর বংশধর। এদিক থেকে আমরা বিশ্বভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ।
প্রশ্ন \ ৭ \ নারীর মর্যাদা দান বলতে কী বোঝ?
উত্তর : ইসলামে নর-নারী উভয়ের মর্যাদা স্বীকৃত। মাতা, কন্যা, ভগ্নী, স্ত্রী প্রভৃতি হিসেবে নারীদের যে বিশেষ অধিকার ও সম্মান রয়েছে তা যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত করাকেই নারীর মর্যাদা দান বলে।
প্রশ্ন \ ৮ \ ইসলামে নারীর মর্যাদা কতটুকু? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ইসলাম একমাত্র ধর্ম যাতে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য না করে নারীকে পুরুষের সমমর্যাদা দেয়া হয়েছে। কোনো কোনো ধর্মে নারীকে পুরুষের প্রতারক বলে অভিহিত করা হয়েছে। আর কোনো কোনো ধর্মাবলম্বী নারীকে শয়তানের প্রবেশস্থল বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের মতে, নারী কেবল দেহসর্বস্ব। ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে নারীকে সর্বাধিক মর্যাদা দিয়েছে। মহানবি (স)-এর আবির্ভাবের পর নারী ফিরে পায় পুরুষের সমমর্যাদা। বলা হয়েছেÑ মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত। নবি করিম (স) বলেন, পিতা অপেক্ষা মায়ের অধিকার বেশি। আল­াহ বলেনÑ “তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের ভূষণ আর তোমরা (স্বামীরা) তাদের ভূষণ।”
প্রশ্ন \ ৯ \ সমাজসেবা করা প্রয়োজন কেন?
উত্তর : সমাজের উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতেই সমাজসেবা প্রয়োজন। সমাজে বিভিন্ন শ্রেণির লোক থাকে। কেউ ধনী, কেউ মধ্যবিত্ত আবার কেউ গরিব। যারা গরিব তারা সমাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবন চালাতে পারে না। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে পশ্চাৎপদ বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত হয়। এদের যথাযথ উন্নয়ন ছাড়া সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই এদের উন্নয়নে সমাজসেবা কর্মসূচি প্রয়োজন। তাছাড়া ইসলামে সমতার বিধান রয়েছে। কেউ সম্পদের পাহাড় গড়বে আবার কেউ না খেয়ে থাকবে এটি ইসলামে সমর্থনযোগ্য নয়। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী একজন মুসলমানের জন্য সমাজসেবা করা প্রয়োজন।
প্রশ্ন \ ১০ \ সমাজসেবা বলতে কী বোঝ?
উত্তর : সমাজের বঞ্চিত লোকদের কল্যাণে স্বেচ্ছায় গৃহীত যাবতীয় কাজকে সমাজসেবা বলে। ব্যাপক অর্থে মানবকল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য গৃহীত সকল কর্মসূচিই সমাজসেবা নামে পরিচিত।
প্রশ্ন \ ১১ \ দেশপ্রেম বলতে কী বোঝ?
উত্তর : আপন জন্মভূমির প্রতি স্বাভাবিকভাবে মানুষের অন্তরে একটি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়; ভালোবাসা জন্মে। ধীরে ধীরে এ ভালোবাসা বিস্তৃতি লাভ করে সমগ্র দেশ, দেশের মাটি ও দেশের জনগণের প্রতি। মাতৃভ‚মি তথা দেশের প্রতি এ প্রীতি ও দরদের আকর্ষণকেই দেশপ্রেম বলে।
প্রশ্ন \ ১২ \ পরমতসহিষ্ণুতা বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : পরমত বলতে বুঝায় অপরের মত, পথ বা আদর্শ। সেটা ধর্মীয় হতে পারে এবং আদর্শিকও হতে পারে। আবার রাজনৈতিকও হতে পারে। অন্যের মতামতকে অবজ্ঞা না করে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া বা অন্যের মত বা আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাকে পরমতসহিষ্ণুুতা বলে। অন্যের ধর্মীয় মতামত বা রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি সহনশীল ও সম্মানজনক মনোভাব পোষণ করাকে পরমতসহিষ্ণুুতা বলে।
প্রশ্ন \ ১৩ \ সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় পরমতসহিষ্ণুতার গুরুত্ব বর্ণনা কর।
উত্তর : সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় পরমতসহিষ্ণুতার গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজের বিভিন্ন মতাদর্শের লোক থাকতে পারে। তাদের সাথে সমঝোতা ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করতে হবে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের আদর্শের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। তাহলেই সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
প্রশ্ন \ ১৪ \ আখলাকে যামিমার অপকারিতা লেখ।
উত্তর : আখলাকে যামিমাহর কারণে মানুষ সমাজজীবনে নিন্দনীয় হয়। মানুষের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়। সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা বিঘিœত হয়। অন্যায় ও অসৎ কাজের প্রসার ঘটে। আল্লাহ ও রাসুলের অপ্রিয় হয়। পরকালে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হয়।
তাই আমাদের সকলকে আখলাকে যামিমাহ বা নিন্দনীয় চরিত্র থেকে দূরে থাকতে হবে। এর ফলে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকবে, পরিবেশ হবে সুন্দর, মানুষের সম্মান ও ভালোবাসা লাভ করা সম্ভব হবে।
প্রশ্ন \ ১৫ \ আমরা অহংকার ত্যাগ করব কেন?
উত্তর : অহংকারের অপকারিতা বর্ণনাতীত। অহংকারের কারণেই
ফেরেশতাদের শিক্ষক ইবলিস অভিশপ্ত হয়ে জান্নাত থেকে বিতাড়িত হয়েছিল। অহংকারী ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতে ঘৃণিত এবং বন্ধু-বান্ধবের চোখে অসম্মানিত হয়। সুতরাং আমরা অহংকার পরিহার করব।
প্রশ্ন \ ১৬ \ অহংকারের পরিচয় দাও।
উত্তর : অহংকার শব্দের অর্থ অহমিকা, আমিত্ব, দম্ভ, বড়াই ইত্যাদি। অহংকার এমন একটি চরিত্র যা মানুষের অন্তরে লুকায়িত থাকে এবং তার নিজস্ব ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে এর প্রকাশ ঘটে। অহংকারী ব্যক্তি বিভিন্ন দিক থেকে নিজেকে অন্যদের ওপর প্রাধান্য দেয়।
প্রশ্ন \ ১৭ \ অহংকারের স্তর কয়টি ও কী কী?
উত্তর : অহংকারের স্তর তিনটি যথা :
১. অন্তরে অহংকার পোষণ করা।
২. চালচলন ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অহংকার প্রকাশ করা।
৩. কথাবার্তায় অহংকার প্রকাশ করা।
প্রশ্ন \ ১৮ \ অশ্লীলতার কুফল বর্ণনা কর।
উত্তর : অশ্লীলতা একটি মস্তবড় পাপের কাজ। এটা সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করে। নিষ্পাপ ও কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের চরিত্র হনন করে, যুবক-যুবতীদের কুকর্মের প্রতি প্রলুব্ধ করে। আল­াহ তায়ালা অশ্লীলতাকে হারাম ঘোষণা করেছেন। আল­াহ বলেন “বলুন, আমার প্রতিপালক নিষিদ্ধ করেছেন প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা’’
প্রশ্ন \ ১৯ \ অশ্লীলতা প্রতিকারের উপায় লেখ।
উত্তর :
১. ইসলামের নীতি ও আদর্শের অনুশীলন।
২. পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা।
৩. সচেতনতার পাশাপাশি আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
প্রশ্ন \ ২০ \ পরশ্রীকাতরতার কুফল বর্ণনা কর।
উত্তর : পরশ্রীকাতরতা একটি মারাত্মক মানসিক ব্যাধি। এ ব্যাধি বহু কারণে সৃষ্টি হয়। যেমন শত্রুতা, অহংকার, নিজের অসদুদ্দেশ্য নষ্ট হওয়ার আশংকা, নেতৃত্বের লোভ ইত্যাদি। এসব কারণে এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ করে থাকে। ইসলাম এ কাজগুলো হারাম ঘোষণা করেছে। পরশ্রীকাতরতার কুফল ও অপকারিতা সীমাহীন। হযরত আদম (আ)-এর পদমর্যাদা দেখে ইবলিস তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়। ফলে সে অভিশপ্ত হয় এবং আল্লাহ তায়ালার দয়া থেকে বঞ্চিত হয়।
প্রশ্ন \ ২১ \ ঘৃণা কাকে বলে?
উত্তর : ঘৃণা অর্থ অবজ্ঞা, উপেক্ষা, তাচ্ছিল্য ও অপছন্দ করা। কারো প্রতি অন্তরে বিদ্বেষ ও শত্র“তা পোষণ করে তাকে সহ্য করতে না পারা এবং তার থেকে দূরে সরে থাকাকেই ঘৃণা বলে। অহংকার, শত্র“তা, পদমর্যাদার লিপ্সা প্রভৃতি কারণে ঘৃণার উদ্রেক ঘটে।
প্রশ্ন \ ২২ \ ঘৃণার কুফল বর্ণনা কর।
উত্তর : ঘৃণা একটি মহা গুরুতর ব্যাধি। এতে বন্ধুত্বের মধ্যে ফাটল ধরে। সমাজে অশান্তি সৃষ্টি হয়। ঘৃণাকারী কখনো মনে শান্তি লাভ করতে পারে না। এতে তার ইহলৌকিক ও পারলৌকিক ক্ষতি সাধিত হয়।
প্রশ্ন \ ২৩ \ চুরির কুফলসমূহ আলোচনা কর।
উত্তর : চুরি একটি জঘন্যতম নিষিদ্ধ অমানবিক কাজ। চুরির জন্য সম্পদ ও জীবন নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়। এর জন্য সামাজিক শান্তি বিনষ্ট হয়, সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পায়। চৌর্যবৃত্তি একটি ঘৃণিত কাজ। চোরকে মানুষ আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করে। চৌর্যবৃত্তির ফলে কেউ প্রকৃত মুমিন থাকতে পারে না। পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি।
প্রশ্ন \ ২৪ \ চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে ইসলামের ভূমিকা আলোচনা কর।
উত্তর : কেউ যেন মৌলিক চাহিদার অভাবে চুরি না করে তার জন্য সেসবের ব্যবস্থা করতে হবে। তার জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করে দিতে হবে। অভাব না থাকা সত্তে¡ও যদি কেউ চুরি করে তাহলে তার জন্য ইসলামে কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। আল­াহ পাক বলেন,

‘চোর পুরুষ হোক আর মহিলা হোক তাদের হাত কেটে দাও। তারা যা করেছে এ হলো আল­াহর পক্ষ থেকে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’।
প্রশ্ন \ ২৫ \ ঘুষের কুফল বর্ণনা কর।
উত্তর : ঘুষ একটি সামাজিক অপরাধ। ঘুষগ্রহণ ও প্রদান দুটিই পাপকাজ। ঘুষ গ্রহণকারী ও প্রদানকারীর ওপর আল­াহ তায়ালার অভিশাপ বর্ষিত হয়। রাসুল (স) বলেন, ঘুষ প্রদানকারী ও গ্রহণকারীর ওপর আল­াহর অভিশাপ বর্ষিত হয়। রাসুল (স) আরও বলেন ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা উভয়ই জাহান্নামী।
প্রশ্ন \ ২৬ \ ঘুষ প্রতিরোধে ইসলামি বিধান আলোচনা কর।
উত্তর : ইসলাম ঘুষকে হারাম ঘোষণা করেছে। মুমিনদেরকে ঘুষ আদান-প্রদান না করার বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। মহান আল্লাহ ঘুষের সম্পদকে হারাম ও অপবিত্র ঘোষণা করেছেন। মুমিনদের দায়িত্ব হলো এ নিষিদ্ধ অপবিত্র কাজে অংশগ্রহণ না করা।
মহানবি (স) বলেছেনÑ “যার হাতে আমার জীবন তাঁর কসম! ব্যক্তি যা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করবে কিয়ামতের দিন সে তা নিয়েই উপস্থিত হবে।”
সর্বোপরি মহানবি (স) ঘুষদাতা ও গ্রহীতার জন্য জাহান্নামের সংবাদ দিয়েছেন।
প্রশ্ন \ ২৭ \ সন্ত্রাসের কুফল বর্ণনা কর।
উত্তর : সন্ত্রাসের কুফল সুদূরপ্রসারী। এতে সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়। জনগণ ভীতসন্ত্রস্ত থাকে। মানুষ রাস্তায় চলাফেরা করতে নিরাপদ বোধ করে না। ফলে মানুষের নিরাপত্তা বিঘিœত হয়। অনেক সময় রক্তপাত ঘটে। জানমালের ক্ষতি হয়। সন্ত্রাসের কারণে মানুষের সম্পদ ও সম্ভ্রমের নিরাপত্তা থাকে না। পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট হয়। বিদ্বেষ বেড়ে যায়। আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসন স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে জাতীয় উন্নতি ও অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
প্রশ্ন \ ২৮ \ এইডস ছড়ানোর কারণসমূহ লিখ।
উত্তর : এইডস একটি মারাত্মক ঘাতকব্যাধি। এইচআইভি / এইডস যেসব কারণে ছড়ায় তার মধ্যে প্রধান কারণগুলো নিম্নরূপ:
ক. অবৈধ যৌনাচরণ।
খ. মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য সিরিঞ্জের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো।
গ. অপরিশোধিত রক্ত শরীরে প্রবেশ করানো।
প্রশ্ন \ ২৯ \ এইডস প্রতিরোধের উপায়সমূহ লিখ।
উত্তর : এইডস প্রতিরোধের উপায়সমূহ নিম্নরূপ :
১. সুস্থ বৈবাহিক জীবনযাপন করা।
২. নারী-পুরুষের অবৈধ মেলামেশা এড়িয়ে চলা।
৩. মাদক ও নেশাজাতীয় সকল জিনিস বর্জন করা।
৪. অপরিশোধিত রক্ত শরীরে প্রবেশ না করানো।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply