অষ্টম শ্রেণীর সহপাঠ রামায়ণ-কাহিনী

রামায়ণ-কাহিনী
(আদি কাণ্ড)
উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী

বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

১. সুবাহুকে মারার জন্য রাম ছুড়েছিলেনÑ
ক মানবাস্ত্র  আগ্নেয়াস্ত্র
গ ব্রহ্মাস্ত্র ঘ শতঘœী অস্ত্র
২. অহল্যাকে অন্য কেউ দেখতে পায়নি, কারণÑ
র. গৌতম তাকে শাপ দিয়েছিলেন
রর. তিনি তপস্যার মাধ্যমে নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলেন
ররর. তিনি রামের জন্য অপেক্ষা করছিলেন
নিচের কোনটি সঠিক?
 র খ রর গ র ও রর ঘ রর ও ররর

৩. কৈকেয়ীর পুত্রের নাম কী?
˜ ভরত খ ল²ণ গ শত্রæর ঘ রাম
৪. দশরথকে পুত্রেষ্টি যজ্ঞ করার পরামর্শ কে দিয়েছিল?
ক বশিষ্ঠমুনি ˜ ঋষ্যসৃঙ্গ মুনি
গ গৌতম মুনি ঘ বিশ্বমিত্র মুনি
৫. অহল্যার সাথে কার বিয়ে হয়েছিল?
ক ল²ণের খ ভরতের গ রামের ঘ শত্রæঘেœর
[বি.দ্রÑ সঠিক উত্তর নেই] সঠিক উত্তরÑগৌতম
৬. সীতাকে পাওয়ার জন্য রামকে প্রমাণ করতে হয়েছে তাঁরÑ
˜ শক্তিমত্তা খ যুদ্ধনৈপুণ্য গ উদারতা ঘ ধৈর্যশীলতা
৭. দশরথের ছোট স্ত্রীর নাম কী?
˜ সুমিত্রা খ কৌশল্যা গ কৈকেয়ী ঘ শকুন্তলা
৮. একবারে একশত লোক মারা পড়ত কোন অস্ত্রের আঘাতে?
ক বায়বৎ ˜ শতাগ্নী গ বানপ্রস্থ ঘ ক্ষেপণাস্ত্র
৯. রাজা দশরথের মোট ছেলে কয়টি?
ক ২ খ ৩ ˜ ৪ ঘ ৫
১০. কৈকেয়ীর পুত্রের নাম কী?
ক রাম খ ল²ণ ˜ ভরত ঘ শত্রæঘœ
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১১ ও ১২ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
মাস্টার দা সূর্যসেন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। তাঁরই নির্দেশে চট্টগ্রামের ইউরোপিয়ান ক্লাবে সফল অভিযান সম্পন্ন হয়।
১১. উদ্দীপকে উল্লিখিত নেতৃত্বের দিকটি ফুটে উঠেছেÑ
ক লক্ষণ ˜ রাম গ বিশ্বামিত্র ঘ অহল্যা
১২. চরিত্রদ্বয়ের ক্ষেত্রে যে কথাটি প্রযোজ্যÑ
র. দেবতাদের প্রিয়পাত্র রর. অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামী
ররর. বীর সাহসী যোদ্ধা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর ˜ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১৩. রাজা দশরথের স্ত্রী কতজন?
ক ২ ˜ ৩ গ. ৪ ঘ ৫
১৪. রানি কৌশল্যার পুত্রের নাম কী?
 রাম খ ল²ণ গ ভরত ঘ শুক্রম
১৫. অহল্যার দুঃখ দূর হয় কার কারণে?
 রামের খ ল²ণের গ গৌতম মুনির ঘ বিশ্বামিত্র মুনির
১৬. কোন মুনি দশরথের ছেলেদের নামকরণ করেছিলেন?
 বশিষ্ঠ খ ঋষ্যশৃঙ্গ গ বিশ্বামিত্র ঘ শতানন্দ
১৭. রামের ধনুকে গুণ টানার উদ্দেশ্য কী ছিল?
 বীরত্ব প্রকাশ খ বিশ্বামিত্রকে মুক্ত করা
গ দৈত্যকে ধ্বংস করা ঘ সীতাকে পাওয়া
১৮. সেকালের অযোধ্যা নগর কয় ক্রোশ লম্বা ছিল?
ক ৪০ খ ৩০ গ ৩৫  ৪৮
১৯. দশরথের ছোট স্ত্রীর নাম কী?
 সুমিত্রা খ কৌশল্যা গ কৈকেয়ী ঘ শকুন্তলা

 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২০. দশরথ কোন স্থানের রাজা ছিলেন? (জ্ঞান)
 ভারতবর্ষ খ পারস্য গ বাংলাদেশ ঘ নেপাল
২১. অযোধ্যার দেয়ালে সজ্জিত অস্ত্রের নাম কী ছিল? (জ্ঞান)
 শতঘœী খ সায়গ্নী গ পঞ্চাশী ঘ তীঘœী
২২. রাজা দশরথ দুঃখ করতেন কেন? (অনুধাবন)
 পুত্র সন্তান ছিল না বলে খ রাজ্যে অশান্তি ছিল বলে
গ মন্ত্রীরা অধার্মিক ছিলেন বলে ঘ স্ত্রী ছিল না বলে
২৩. পুত্র সন্তানের প্রত্যাশায় রাজা কী করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন? (জ্ঞান)
 যজ্ঞ খ দান
গ পূজা ঘ শ্রাদ্ধ
২৪. রাজা কাকে দিয়ে যজ্ঞ করালেন? (জ্ঞান)
 ঋষ্যশৃঙ্গ মুনি খ মুনিপুত্র নিমি
গ পুরোহিত পীতাম্বর ঘ বশিষ্ঠ মুনি
২৫. সর্বপ্রথম কোন যজ্ঞ শুরু হয়েছিল? (জ্ঞান)
 অশ্বমেধ যজ্ঞ খ শৃঙ্খযজ্ঞ
গ দেবযজ্ঞ ঘ পুত্রেষ্টি যজ্ঞ
২৬. রাজা দশরথের প্রথম স্ত্রী কে ছিলেন? (জ্ঞান)
ক কৈকেয়ী খ সুমিত্রা  কৌশল্যা ঘ শীতলা
২৭. রানি সুমিত্রার কয়টি সন্তান হয়েছিল? (জ্ঞান)
ক একটি  দুটি গ তিনটি ঘ চারটি
২৮. ‘কোনো কাজেই তাদের মতো কেউ ছিল না’এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে? (অনুধাবন)
ক রাজার স্ত্রীগণ খ রাজার মন্ত্রীগণ
গ রাজার চাকরবাকর  রাজার পুত্রগণ
২৯. বিশ্বামিত্র মুনি রাজা দশরথের কাছে কোন ছেলেকে চেয়েছিলেন? (অনুধাবন)
 রামকে খ লক্ষণকে গ শত্রæঘœকে ঘ ভরতকে
৩০. বিশ্বামিত্র রাজা দশরথের কাছে রামকে চেয়েছিলেন কেন? (অনুধাবন)
 যজ্ঞ নির্বিঘœ করার জন্য
খ রাজ্য জয় করার জন্য
গ সীতাকে বিয়ে দেয়ার জন্য
ঘ বনবাসে পাঠানোর জন্য
৩১. বিশ্বামিত্র মুনি রেগে গিয়েছিলেন কেন? (অনুধাবন)
 রামকে দিতে রাজি না হওয়ায়
খ রাম যেতে রাজি না হওয়ায়
গ তার উপযুক্ত পাওনা না দেয়ায়
ঘ তাকে চলে যেতে বলায়
৩২. তাড়কা রাক্ষসীর পুত্রের নাম কী? (জ্ঞান)
ক সুবাহু  মারীচ গ রাবণ ঘ শতানন্দ
৩৩. বিশ্বামিত্র মুনি কত দিনের জন্য রামকে সঙ্গে নিতে চেয়েছিলেন? (জ্ঞান)
ক আট  দশ গ বারো ঘ পনেরো
৩৪. একের পর এক আঘাত করে শত্রæপক্ষের সাথে মারমুখী যুদ্ধে জয়ী হয়ে এলাকাবাসীর সন্তুষ্টি অর্জন করলেন শ্রী নারায়ণ চন্দ্র। রামের কোন বৈশিষ্ট্যটি তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? (প্রয়োগ)
ক সততা খ পিতৃভক্ত গ ক্ষমা  কৌশল অবলম্বন
৩৫. কশ্যপ মুনি কোথায় থাকতেন? (জ্ঞান)
ক বৃদ্ধাশ্রমে  সিদ্ধাশ্রমে
গ রামাশ্রমে ঘ শীতলাশ্রমে
৩৬. কশ্যপ মুনির স্ত্রীর নাম কী? (জ্ঞান)
 অদিতি দেবী খ শীতলা দেবী
গ সুমিত্রা দেবী ঘ মায়া দেবী
৩৭. কোন দেবতা অদিতি এবং কশ্যপ মুনির পুত্র হয়ে জন্মগ্রহণ করেন? (জ্ঞান)
 বিষ্ণু খ শিব গ কার্তিক ঘ গণেশ
৩৮. অদিতি এবং কশ্যপ মুনির ছেলের নাম কী ছিল? (জ্ঞান)
ক রামণ  বামন গ চন্দ্রন ঘ শীমন
৩৯. সিধু এবং বিধু সৎ ভাই হলেও তাদের পরস্পরের প্রতি ছিল গভীর ভালোবাসা। সিধু এবং বিধুর সাথে মিল রয়েছে কাদের? (প্রয়োগ)
 রাম-ল²ণ খ বিশ্বামিত্র-কশ্যপ
গ দশরথ-বিশ্বামিত্র ঘ সুমিত্রা-কৈকেয়ী
৪০. মৌনে বসলে বিশ্বামিত্রকে কত রাত চুপ করে থাকতে হয়? (জ্ঞান)
ক তিন খ পাঁচ  ছয় ঘ আট
৪১. রাম মারীচের প্রতি কোন অস্ত্র ছুড়েছিলেন? (জ্ঞান)
 মানবাস্ত্র খ বায়ব্য গ আগ্নেয়াস্ত্র ঘ শতস্নী
৪২. রাজা জনক কোথায় যজ্ঞ করছিল? (জ্ঞান)
ক অযোধ্যায় খ সরযুর তীরে  মিথিলায় ঘ আরাকানে
৪৩. মিথিলার তপোবনটি কার ছিল? (জ্ঞান)
ক বিশ্বামিত্রের খ কশ্যপ মুনির
 গৌতম মুনির ঘ শতানন্দ মুনির
৪৪. গৌতমের স্ত্রীর নাম কী ছিল? (জ্ঞান)
ক মিথিলা  অহল্যা গ শীতলা ঘ প্রীতিলতা
৪৫. অহল্যার শরীরের দিকে দেবতারা তাকাতে পারেন না কেন? (অনুধাবন)
 তেজ খ রূপ মাধুর্যে তপস্যার
গ কদাকার বলে ঘ মুনিপতœী বলে
৪৬. জনক রাজার কাছে রাখা ধনুকটি কোন দেবতার ছিল? (জ্ঞান)
ক বিষ্ণুর  শিবের গ গণেশের ঘ কার্তিকের
৪৭. শিবের ধনুক টেনে আনতে কত জন জোয়ান লেগেছিল? (জ্ঞান)
ক দুই হাজার খ তিন হাজার  পাঁচ হাজার ঘ ছয় হাজার
৪৮. জনক রাজার মেয়ের নাম কী ছিল? (জ্ঞান)
ক মিতা  সীতা গ ললিতা ঘ গীতা
৪৯. জনক রাজা কেন সীতাকে রামের কাছে তুলে দিয়েছিলেন? (অনুধাবন)
ক রাজার ছেলে ছিল বলে  রামের বীরত্ব দেখে
গ দেখতে সুন্দর ছিল বলে ঘ সীতাকে পছন্দ করেছিল বলে
৫০. এক ক্রোশ সমান কত হাত? (জ্ঞান)
ক ৫,০০০  ৮,০০০ গ ৯,০০০ ঘ ১০,০০০
৫১. আশ্রম বলতে কী বোঝায়? (অনুধাবন)
 তপস্যাস্থল খ পূজার জায়গা
গ এতিমদের বাসস্থান ঘ রাজাদের বাসস্থান
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৫২. রাজা দশরথ রাজত্ব করতেন (অনুধাবন)
র. সরযু নদীর ধারে রর. অযোধ্যা নগরে
ররর. বিহার রাজ্যে
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৩. সেকালে অযোধ্যা নগর ছিল (অনুধাবন)
র. লোহার কাটায় আচ্ছাদিত রর. বারো ক্রোশ চওড়া
ররর. সৈন্য-সামন্ত দ্বারা রক্ষিত
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৪. অযোধ্যা নগর দেখতে খুব সুন্দর ছিল, কারণ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. ফুলে ভরা বাগান ছিল রর. দামি পাথরের বাড়ি ছিল
ররর. হীরের মেঝে ছিল
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৫. রাজা দশরথের মন্ত্রীরা ছিলেন (অনুধাবন)
র. বুদ্ধিমান রর. ধার্মিক ররর. পরোপকারী
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৫৬. রাজা দশরথের ছেলেরা ছিল (অনুধাবন)
র. বুদ্ধিমান রর. সুন্দর
ররর. মিষ্ট স্বভাবের
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৭. রাজপুত্রেরা পারদর্শী ছিল (অনুধাবন)
র. লেখাপড়ায় রর. শিকারে ররর. যুদ্ধে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৫৮. রাম ছিলেন (অনুধাবন)
র. বীর যোদ্ধা রর. পিতৃভক্ত ররর. ভীরু প্রকৃতির
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৫৯ ও ৬০নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
পুত্র সন্তান না থাকায় শ্রী উপলচন্দ্রের মনে কষ্টের সীমা নেই। তাই তিনি প্রভুর আরাধনায় একাগ্রমনে নিবিষ্ট হলেন। প্রভু তার আহŸানে সাড়া দিয়ে তাকে পুত্র সন্তান দান করলেন।
৫৯. উদ্দীপকের ঘটনাটি কোন রাজার জীবনের ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? (প্রয়োগ)
ক রাজা জনক  রাজা দশরথ
গ রাজা রামচরণ ঘ রাজা দুষ্মন্ত
৬০. উক্ত রাজা বিখ্যাত হয়ে আছেন (উচ্চতর দক্ষতা)
র. পুত্রদের বীরত্বের জন্য
রর. পুত্রদের পিতৃভক্তির জন্য
ররর. মন্ত্রীদের মহত্তে¡র জন্য
নিচের কোনটি সঠিক
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন -১  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
তখনই পুত্রেষ্টি যজ্ঞ আরম্ভ হইল। সেই যজ্ঞের আগুনের ভিতর হইতে একজন পুরুষ বাহির হইয়া আসিলেন। তিনি দেখিতে অতি ভয়ঙ্কর। তাঁহার শরীর পাহাড়ের মতো উঁচু, রঙ কালো, চোখ লাল, দাড়িগোঁফ সিংহের কেশরের মতো, পরনে লাল কাপড়। তাঁহার হাতে রুপার ঢাকা দেয়া সোনার থালা, তাতে চমৎকার পায়েস। সেই ভয়ঙ্কর পুরুষ দশরথকে বলিলেন, ‘মহারাজ, ব্রহ্মা নিজে এই পায়েস রাঁধিয়া পাঠাইয়াছেন। ইহা রানিদিগকে খাইতে দাও’।
ক. দশরথের একজন পুত্রের নাম লেখ।
খ. পুত্রেষ্টি যজ্ঞ বলতে কী বুঝ?
গ. উপরের যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল কেন?Ñ ব্যাখ্যা কর।
ঘ.‘দশরথের পুত্রদের মধ্যে একজন সাহসিকতার পুরস্কার হিসেবে সীতাকে পেয়েছিল’Ñ কথাটি বিশ্লেষণ কর।
 ১নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. দশরথের একজন পুত্রের নাম ‘রাম’।
খ. পুত্র লাভ করার জন্য দেবতাদের উদ্দেশ্যে করা যজ্ঞই পুত্রেষ্টি যজ্ঞ।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে, দেবতাদের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ যজ্ঞ করলে তাদের আশীর্বাদে যজ্ঞকারী পুত্র সন্তান লাভ করে। পুত্র কামনায় করা এই যজ্ঞই পুত্রেষ্টি যজ্ঞ।
গ. রাজা দশরথ পুত্র লাভের জন্য যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন।
রাজা দশরথ ছিলেন স্নেহশীল ও উদার। তাঁর মন্ত্রীরা তাঁর রাজ্যে কোনো অন্যায় কাজ করতে দিতেন না। রাজ্যে সবাই সুখে বসবাস করত। কিন্তু স্নেহশীল রাজার শুধু একটাই কষ্ট ছিল, তাঁর কোনো পুত্র ছিল না। তিন স্ত্রী থাকা সত্তে¡ও পুত্রসন্তান না হওয়ায় রাজা চিন্তিত ছিলেন।
পুত্র সন্তানহীন রাজা তার মন্ত্রীদের কাছে প্রায়ই দুঃখ প্রকাশ করতেন। পুত্র লাভের আশায় মন্ত্রীদের সহায়তায় ঋষ্যশৃঙ্গ মুনিকে দিয়ে তিনি প্রথমে অশ্বমেধ যজ্ঞ পরে পুত্রেষ্টি যজ্ঞের আয়োজন করেন।
ঘ. দশরথের পুত্র রাম সাহসিকতার পুরস্কার হিসেবে সীতাকে পেয়েছিলেন।
সাহসীরা সব সময় বিজয়ী হন। নানা অসাধ্য সাধন করে তারা বিজয়মাল্য ঠিকই ছিনিয়ে আনেন। দশরথের পুত্র রাম তেমনি সাহসী বীরপুরুষ। বিশ্বামিত্র রাজ দরবার হতে রাম এবং ল²ণকে নিয়ে তাঁর আশ্রমে গেলেন। যাত্রা পথে এবং বিশ্বামিত্রের যজ্ঞ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে রাম অনেক সাহসিকতার পরিচয় দিলেন। শেষ পর্যন্ত জনক রাজার রাজ দরবারে অতিথি হয়ে গিয়ে সেখানেও নিজের বীরত্ব, শক্তি এবং সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে রাজাকে মুগ্ধ করে রাম।
জনক রাজার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শিবের ধনুকে যে গুণ পরাতে পারবে তার কাছেই তিনি তার মেয়েকে বিয়ে দেবেন বলে ঠিক করেছিলেন। এই ধনুক হাজারো জোয়ান বহন করতে গিয়ে কাহিল হয়ে যায়। কিন্তু রাম সহজেই এ ধনুকটিতে গুণ চড়ান। তারপর এক টান দিয়েই তিনি সেটা দু টুকরো করে ফেলে। রামের এ সাহসিকতা দেখে জনক রাজা খুশি হয়ে তাঁর মেয়ে সীতাকে রামের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, দশরথের পুত্র রাম সহাসিকতার পুরস্কার হিসেবে সীতাকে পেয়েছিল।
প্রশ্ন-২  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
‘সৃষ্টিকর্তার কৃপাদৃষ্টি’ লাভ করতে হলে তার নির্দেশনা মেনে তাঁকে তুষ্ট করতে হয়। এই সত্যের প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী রচিত ‘রামায়ণ-কাহিনীতে’ বর্ণিত দশরথের ক্ষেত্রে, দশরথ দেবতাদের খুশি করে চারজন পুত্রসন্তান লাভ করেন। তাঁদের মধ্যে রাম হচ্ছেন অশুভ শক্তির বিপক্ষে বিজয়ী একজন বীরের প্রতীক।
ক. রামের পিতার মনে কী দুঃখ ছিল?
খ. রামের পিতার দেশে চোর-ডাকাত ছিল না কেন?
গ. ‘এই সত্যের প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী রচিত রামায়ণ-কাহিনীতে বর্ণিত দশরথের ক্ষেত্রে’- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ.তুমি কী মনে কর রাম হচ্ছেন অশুভ শক্তির বিপক্ষে বিজয়ী একজন বীরের প্রতীক? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
 ২নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. রামের পিতা দশরথের মনে পুত্র না থাকার দুঃখ ছিল।
খ. রামের পিতা ভালোভাবে দেশ শাসন করায় সেখানে চোর-ডাকাত ছিল না।
রামের পিতা অযোধ্যার রাজা দশরথ তাঁর রাজ্য খুবই ভালোভাবে পরিচালনা করতেন। তাঁর মন্ত্রীরা দেশে একটিও অন্যায় কাজ হতে দিতেন না। তাঁরা সবাই ছিলেন বিদ্বান, বুদ্ধিমান এবং ধার্মিক। তাই সকলেই ভালো খেয়ে, ভালো পরে, ভালো বাড়িতে থেকে সুখেই দিনযাপন করত। অভাব-অনটন বলতে কিছুই ছিল না। এজন্যই দশরথের রাজ্যে কোনো চোর-ডাকাত ছিল না।
গ. উদ্ধৃত উক্তিটিতে উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী রচিত ‘রামায়ণ-কাহিনী’ অবলম্বনে রাজা দশরথের পুত্রলাভের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ভারতবর্ষের রাজা দশরথ তাঁর রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং যথাযোগ্য মন্ত্রীদের নিয়ে রাজ্য পরিচালনা করতেন। কিন্তু পুত্র সন্তান না থাকায় তার মনে দুঃখ ছিল। তাই পুত্র লাভের আশায় তিনি যজ্ঞ করার সিদ্ধান্ত নেন।
মন্ত্রীদের সহায়তায় ঋষ্যশৃঙ্গ মুনিকে দিয়ে তিনি পুত্রেষ্টি যজ্ঞের আয়োজন করেন। নানা সাধনার পর পুত্রেষ্টি যজ্ঞের মাধ্যমে রাজা দশরথের চার জন পুত্রলাভ হয়। অর্থাৎ সঠিকভাবে সাধনা করে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জন করে যেকোনো অপ্রাপ্তি মেটানো যায়। আলোচ্য গল্পে এ সত্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ. রাম বিভিন্ন সময়ে অনেক রাক্ষস বধ করে বিশ্বামিত্রের আশ্রম তথা সমাজে শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলেন। তাই রাম হচ্ছেন অশুভ শক্তির বিপক্ষে বিজয়ী একজন বীরের প্রতীক এ কথাটির সাথে আমি একমত।
তাড়কা নামে এক রাক্ষসী ছিল। সে ও তার পুত্র মিলে এক দেশের সব লোকজনকে খেয়ে দেশটি নষ্ট করে ফেলে। রাম সেই রাক্ষসীকে বধ করেন শৈশবেই। এরপর বিশ্বমিত্রের আশ্রমে পৌঁছে বধ করেন সুবাহু ও আরও অনেক রাক্ষস। পরাজিত করেন মারীচকে। এরা যজ্ঞ নষ্ট করে বেড়াতো। এদের বধের মাধ্যমে রাম তার ছেলেবেলাতেই অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে ধর্মরক্ষা করেন।
এছাড়াও তার বীরত্ব আমরা দেখতে পাই রাজা জনকের সভায় শিবের ধনুক ভাঙার ঘটনায়। সে ধনুক আনতে প্রয়োজন পড়ে আট চাকার গাড়ি, তা টেনে আনতে প্রয়োজন পড়ে পাঁচ হাজার জোয়ানের। যাতে গুণ দেয়া তো দূরের কথা, তা তুলতেই পারে না কেউ, সেই ধনুক রাম অনায়াসে তোলে, গুণ চড়ান এরপর একটান দিয়েই রাম ধনুককে দুই খান করে ফেলে। এতে প্রমাণিত হয় রামের বীরত্ব।

এসব ঘটনা থেকে একথা বলাই যায় যে, রাম অশুভ শক্তির বিপক্ষে বিজয়ী এক বীরের প্রতীক।

প্রশ্ন -৩  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রাজা দেব বর্মণের কাছে প্রজারা অনুরোধ করে, রাজা যেন তাদেরকে দস্যুদলের আক্রমণ থেকে উদ্ধার করেন। রাজা তখন অনেক অসুস্থ ছিলেন, তাই প্রজারা তাকে বলে তিনি না যেতে পারলেও রাজপুত্র মেঘবর্মণকে রাজা যেন এই দায়িত্ব দেন। একমাত্র পুত্র সন্তানকে রাজা এই বিপদের মুখে ঠেলে দিতে চাচ্ছিলেন না, কিন্তু প্রজাদের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত রাজা পুত্রকে শত্রæদমনে পাঠান। মেঘবর্মণ বীরত্ব ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে দস্যুদের দমন করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনে। প্রজারা মেঘবর্মণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
ক. দশরথের মেজ রানির নাম কী ছিল? ১
খ. দশরথকে প্রজারা ভালোবাসত কেন? ২
গ. উদ্দীপকের মেঘবর্মণ তোমাদের পাঠ্যবইয়ের ‘রামায়ণ-কাহিনী (আদি কাÐ)’-এর কোন চরিত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? বর্ণনা কর। ৩
ঘ.“প্রত্যেক পিতার হৃদয়ে পুত্রের জন্য অনাবিল স্নেহ বর্তমান” Ñ‘রামায়ণ-কাহিনী (আদি কাÐ)’ ও উদ্দীপক অনুসারে মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৩নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. দশরথের মেজ রানির নাম কৈকেয়ী।
খ. দশরথের রাজ্যে সব সময় শান্তি বিরাজিত থাকায় প্রজারা দশরথকে ভালোবাসত।
রাজা দশরথের রাজ্যে চোর-ডাকাত ছিল না, কোনো মন্দ কাজ চলত না। প্রজারা সবাই খেয়ে পরে সুখে থাকত। দশরথের মন্ত্রীরা রাজ্যে কোনো প্রকার অন্যায় কাজ হতে দিত না। তাই প্রজারা রাজা দশরথকে খুব ভালোবাসতেন।
গ. উদ্দীপকের মেঘবর্মণ আমার পাঠ্য বইয়ের ‘রামায়ণ কাহিনী (আদি কাÐ)’-এর রামচন্দ্রের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
‘রামায়ণ কাহিনী’ গল্পের রামের যুদ্ধ হয়েছিল রাক্ষসদের বিরুদ্ধে। এ যুদ্ধে তাড়কা রাক্ষসীর মৃত্যু হয় রামের ধনুকের আঘাতে। মারীচ, সুবাহু ও অন্যান্য রাক্ষস দলবেঁধে যজ্ঞ নষ্ট করতে চাইলে রাম মারীচের বুকে মানবাস্ত্র ও সুবাহুর দিকে আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যান্য রাক্ষসের দিকে বায়ব্য অস্ত্র ছুড়ে মারেন। শেষ পর্যন্ত অসামান্য বীর রাম রাক্ষসদের হত্যা করে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে। প্রজারা রামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, মেঘবর্মনের বীরত্ব ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে দস্যুদের দমন করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনে। প্রজারা মেঘবর্মণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠা করার দুজনেই যোদ্ধা, সেই দিক থেকে উদ্দীপকের মেঘবর্মণের সাথে রাক্ষসদের বিরুদ্ধে রামের যুদ্ধের বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। অর্থাৎ উদ্দীপকের মেঘবর্মণ আমার পাঠ্য বইয়ের ‘রামায়ন কাহিনীর (আদি খÐ)’ রামচন্দ্রের কথা স্মরণ করে দেয়।
ঘ. “প্রত্যেক পিতার হৃদয়ে পুত্রের জন্য অনাবিল স্নেহ বর্তমান”Ñএ মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকের রাজা মেঘবর্মণ ও ‘রামায়ণ কাহিনীর’ রাজা দশরথের সন্তান স্নেহের ক্ষেত্রে মিল লক্ষ করা যায়। রাক্ষস মারার জন্য বিশ্বমিত্র মুনি দশরথের বড় ছেলে রামকে চাইলেন। সন্তানের বিপদের কথা ভেবে রাজা দশরথ অস্থির হয়ে পড়েন। ঠিক একইভাবে রাজা দেববর্মণ অসুস্থ হয়ে পড়েন, যখন প্রজারা মেঘবর্মণকে শত্রæ দমন করার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অনুরোধ করেন।
উদ্দীপকের মেঘবর্মণও রাক্ষসদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গেলে পিতা দেববর্মণ পুত্রের অমঙ্গল আশঙ্কায় ভীত হয়ে পড়েন। একমাত্র পুত্রকে রাজা এ মহাবিপদে দিতে চান না। কিন্তু প্রজাদের মঙ্গলের কথা ভেবে দেববর্মণকে দেশরক্ষার জন্য পুত্র মেঘবর্মণকে শত্রæনিধন যজ্ঞে পাঠাতেই হয়।
অতএব, উল্লিখিত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, “প্রত্যেক পিতার হৃদয়ে পুত্রের জন্য অনাবিল স্নেহ বর্তমান।”
প্রশ্ন -৪  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রাজা শমসের খান ঘোষণা করলেন, যে রুপার গাছে সোনার ফল ধরাতে পারবে সেই তার কন্যাকে বিয়ে করবে। যদি তা না পারে তবে সে বন্দি হবে। অনেক রাজপুত্র এলেও কেউই সফল হতে পারল না। অবশেষে বাহাদুরপুরের রাজপুত্র খলিল এসে মন্ত্রবলে রুপার গাছে সোনার ফল ধরাতে সক্ষম হলেন। প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী রাজা খলিলের সাথে মেয়ের বিয়ে দেন।
ক. তাড়কা রাক্ষসীর পুত্রের নাম কী? ১
খ. অশ্বমেধ যজ্ঞ কী? বুঝিয়ে লেখ। ২
গ. উদ্দীপকটির সাথে “রামায়ণ কাহিনীর” কোন দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে তা ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.“উদ্দীপকটি ‘রামায়ণ কাহিনী’ গল্পটির সামগ্রিক দিক নয়।”Ñমন্তব্যটির যৌক্তিকতা বিচার কর। ৪
 ৪নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. তাড়কা রাক্ষসীর পুত্রের নাম মারীচ।
খ. অশ্বমেধ যজ্ঞ হচ্ছে দিগ্বিজয় জয়ের জন্য ঘোড়া বলিদান যজ্ঞ।
অশ্বমেধ যজ্ঞ করতে হয় ঘোড়ার মাংস দিয়ে। প্রথমে একটা ঘোড়া ছেড়ে দেওয়া হয়। সাথে থাকে অনেক অস্ত্রশস্ত্র ও লোকজন। উদ্দেশ্য কেউ যেন এই ঘোড়াকে আটকাতে না পারে। ক্রমাগত এক বছর নানা দেশ ঘুরে ঘোড়াটি দেশে ফেরত আনা হয়। তখন ঐ ঘোড়াকে বলি দিয়ে শুরু হয় অশ্বমেধ যজ্ঞ।
গ. উদ্দীপকটি ‘রামায়ণ কাহিনীর’ সীতার বিবাহ স্বয়ম্বরা অনুষ্ঠানে হরধনু ভাঙার সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
ঋষি গৌতমের আশ্রম থেকে বিশ্বামিত্র জনক রাজার কাছে উপস্থিত হলে রাজা তাঁর সাথে রাম-ল²ণের পরিচয় জিজ্ঞেস করেন। বিশ্বামিত্র রাম-ল²ণের শিবের ধনুক দেখার ইচ্ছার কথা বললে জনক জানান, যিনি ধনুকে গুণ দিতে পারবেন তাঁর সাথেই তিনি সীতার বিয়ে দিবেন। তখন রাম ধনুক তুলে তাতে গুণ চড়িয়ে টান দিতেই ধনুক ভেঙে যায়। এতে জনক রাজা খুশি হয়ে সীতার সঙ্গে রামের বিয়ে দেয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, রাজা শমসের খান ঘোষণা করলেন, যে রুপার গাছে সোনার ফল ধরাতে পারবে সেই তার কন্যাকে বিয়ে করবে। অনেক রাজপুত্র চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেনি। অবশেষে বাহাদুরপুরের রাজপুত্র খলিল এসে মন্ত্রবলে রুপার গাছে সোনার ফল ধরাতে সক্ষম হয়। প্রতিশ্রæতি অনুয়ায়ী রাজা খলিলের সাথে মেয়ের বিয়ে দেন। শর্ত পূরণের মাধ্যমে পতি নির্বাচনের দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে ‘রামায়ণ কাহিনীর’ গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘রামায়ণ কাহিনী’ গল্পটি সামগ্রিক দিক নয়।”Ñ এ মন্তব্যটি যৌক্তিক।
বিশ্বামিত্র রাক্ষস দমন শেষ করে জনক রাজার রাজ্যে রাম-ল²ণকে নিয়ে শিবের ধনুক দেখতে উপস্থিত হন। তখন জনক রাজা জানান, যিনি ধনুকে গুণ দিতে পারবেন তাঁর সাথেই তিনি সীতার বিয়ে দিবেন। তখন রাম ধনুক তুলে তাতে গুণ পড়িয়ে টান দিতেই ধুনক ভেঙে যায়। এতে জনক রাজা খুশি হয়ে সীতার সঙ্গে রামের বিয়ে দেন।
উদ্দীপকের রাজা শমসের খান ঘোষণা করেন, যে রুপার গাছে সোনার ফল ধরাতে পারবে সেই তার কন্যাকে বিয়ে করবে। অনেক রাজপুত্র চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। অবশেষে বাহাদুরপুত্রের রাজপুত্র খলিল এসে মন্ত্রবলে রূপার গাছে সোনার ফল ধরাতে সক্ষম হয়। প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী রাজা খলিলের সাথে মেয়ে বিয়ে দেন।
উদ্দীপকের ‘রামায়ণ-কাহিনীর’ সামগ্রিক কাহিনী অনুপস্থিত, ‘রামায়ণ-কাহিনীর’ রাজা দশরথ পুত্র সন্তান লাভের আশায় ব্যাকুল ছিলেন, তাই তিনি পুত্রেষ্টি যজ্ঞের আয়োজন করেন এবং পুত্র সন্তান লাভ করেন। এসব কাহিনী উদ্দীপকে দেখা যায় না। শুধুমাত্র শর্ত মোতাবেক পতি নির্বাচনের দিকটি উদ্দীপকে পরিলক্ষিত হয়। উপরিউক্ত আলোচনার মাধ্যমে বলা যায় “উদ্দীপকটি ‘রামায়ণ কাহিনী’ গল্পটির সামগ্রিক দিক নয়।”
প্রশ্ন -৫  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রাজার মনে বড়ই দুঃখ। কারণ তার কোনো সন্তান নেই। সেই শোকে রাজা দেশান্তরী হলেন। দেশান্তরী রাজা বনে ঘুরতে ঘুরতে এক ঋষির ধ্যান ভঙ্গের কারণ হন। রাগান্বিত ঋষি রাজার দুঃখের কথা শুনে পুত্রসন্তান লাভের বর দেন। তবে ঋষি এই বলে অভিশাপও দেন যে, রাজা তার পুত্রের ১২ দিন বয়সে যদি ১২ বছরের কন্যার সাথে বিয়ে না দেন তাহলে তার পুত্র মারা যাবে।
ক. কার গায়ে হাজার হাতির জোর? ১
খ. রাজা জনক কন্যার নাম ‘সীতা’ রেখেছিলেন কেন? ২
গ. উদ্দীপকের রাজার সাথে ‘রাজা দশরথের’ সাদৃশ্য কোন দিক থেকে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.উদ্দীপকের রাজার সাথে রাজা দশরথের সাদৃশ্য থাকলেও ‘রামায়ণ কাহিনী’ গল্পের বিষয়বস্তু ভিন্নখাতে প্রবাহিতÑ মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৫নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. তাড়কা রাক্ষসীর গায়ে হাজার হাতির জোর।
খ. সীতা যজ্ঞভ‚মি থেকে উঠে আসার দরুন রাজা দশরথ কন্যার নাম সীতা রেখেছিলেন।
রাজা জনক লাঙ্গল দিয়ে যজ্ঞের স্থান চাষ করার সময় পৃথিবী থেকে একটি পরমা কন্যাশিশু উঠে আসে। আর যেহেতু লাঙলের মুখে আঁচড়ে মাটিতে যে দাগ পড়ে তাকে সীতা বলে, তাই জনক রাজা কন্যার নাম রাখলেন সীতা।
গ. উদ্দীপকের রাজার সাথে ‘রাজা দশরথের’ সন্তান লাভের আকাক্সক্ষার দিক দিয়ে সাদৃশ্য রয়েছে।
রামায়ণের কাহিনীতে অযোধ্যার রাজা দশরথ। সফল রাজা হিসেবে তাঁর খুব সুখ্যাতি ছিল। রাজা দশরথের মনে একটি দুঃখ তাঁর কোনো পুত্রসন্তান নেই। তাই তিনি পুত্রসন্তান লাভের জন্য ঋষ্যশৃঙ্গ মুনিকে দিয়ে পুত্রেষ্টি যজ্ঞের আয়োজন করেন এবং পুত্রসন্তান লাভ করেন। অযোধ্যার রাজা দশরথের মতো উদ্দীপকের রাজারও সন্তান লাভের আশায় ব্যাকুল।
উদ্দীপকের রাজার মনেও কোনো শান্তি নেই। তার মনে বড়ই দুঃখ। কারণ তার কোনো সন্তান নেই। এই শোকে রাজা দেশান্তরী হয়। রাজা দেশান্তরী হয়ে বনে ঘুরতে লাগলেন। রাজার দুঃখ দেখে এক ঋষি পুত্রসন্তান লাভের বরপ্রাপ্ত হন। অর্থাৎ অযোধ্যার রাজা দশরথ ও উদ্দীপকের রাজার আকাক্সক্ষা একই সন্তান লাভের আকাক্সক্ষার দিক দিয়ে উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
ঘ. উদ্দীপকের রাজার সাথে দশরথের সাদৃশ্য থাকলেও ‘রামায়ণ কাহিনী’ গল্পের বিষয়বস্তু ভিন্ন খাতে প্রবাহিতÑ মন্তব্যটি যৌক্তিক।
‘রামায়ণ কাহিনী’ রাজা দশরথ পুত্রসন্তান লাভের আশায় ব্যাকুল ছিলেন। তাই তিনি ঋষ্যশৃঙ্গ মুনিকে দিয়ে পুত্রেষ্টি যজ্ঞের আয়োজন করেন এবং পুত্রসন্তান লাভ করেন। কিন্তু উদ্দীপকের রাজার উদ্দেশ্য এক হলেও বিষয়বস্তু ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়েছে।
উদ্দীপকে রাজার মনে বড় দুঃখ, তার মনে কোনো শান্তি নেই। কারণ তার কোনো সন্তান নেই। সেই শোকে রাজা দেশান্তরী হয়ে বনে বনে ঘুরতে ঘুরতে এক ঋষির ধ্যানভঙ্গের কারণ হন, রাগান্বিত ঋষি রাজার দুঃখের কথা শুনে পুত্রসন্তান লাভের বর দেন। তবে ঋষি এই বলে অভিশাপও দেন যে, রাজা তার পুত্রের ১২ দিন বয়সে যদি ১২ বছরের কন্যার সাথে বিয়ে না দেন তাহলে পুত্র মারা যাবে।
রাজা দশরথ ও উদ্দীপকের রাজার পুত্র আকাক্সক্ষা একই, কিন্তু রাজা দশরথ যজ্ঞ করে চারপুত্রের বাবা হয়েছেন, সেখানে উদ্দীপকের রাজা ঋষির বরে শর্তসাপেক্ষ পুত্রের বাবা হয়েছেন। উদ্দীপকের রাজার সাথে সাদৃশ্য থাকলেও ‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পের বিষয়বস্তু ভিন্ন খাতে প্রবাহিত।
প্রশ্ন-৬  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
পিতার আদেশে দ্রৌপদীকে বিয়ে করতে আসেন দেশ-বিদেশের অনেক রাজপুত্র। শর্ত হলো, জলের পাত্রে লক্ষ্য করে ওপরে ঝোলানো মাছ তীর দিয়ে যে বিদ্ধ করতে পারবে, সেই দ্রৌপদীকে বিয়ে করতে পারবে। অর্জুন উপরে ঝোলানো মাছ তীরবিদ্ধ করেন, শর্তমতে দ্রৌপদীর সাথে অর্জুনের বিবাহ হয়।
ক. কৌশল্যার নাম কী? ১
খ. রাজা দশরথ কীভাবে পুত্র সন্তান লাভ করেন? ২
গ. উদ্দীপকের দ্রৌপদীর সাথে ‘রামায়ণ-কাহিনী’ রচনার কোন চরিত্রের সাদৃশ্য আছেÑ ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. অর্জুনের দ্রৌপদী লাভের বিষয়টি কীভাবে ‘রামায়ণ কাহিনী’ রচনায় প্রতিফলিত হয়েছে? বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৬নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. বি. দ্র. প্রশ্নটি গল্পসংশ্লিষ্ট নয়।
খ. অযোধ্যার রাজা দশরথ পুত্রেষ্টি যজ্ঞ করে পুত্রসন্তান লাভ করেন।
রাজা দশরথ প্রজাবৎসল ও সুশাসক রাজা ছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন পুত্রহীন। আর সে কারণে তিনি যজ্ঞ করতে চেয়েছিলেন, যাতে দেবতারা খুশি হয়ে পুত্র দেন। রাজা দশরথের এ যজ্ঞে খুশি হয়ে স্বয়ং ব্রহ্ম পায়েস পাঠান। এ পায়েস খেয়ে কিছুদিনের মধ্যে দেবতাদের কৃপায় কৌশল্যা একটি, কৈকেয়ী একটি এবং সুমিত্রা দুটি পুত্রসন্তান লাভ করেন।
গ. উদ্দীপকের দ্রৌপদীর সাথে ‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পের সীতা চরিত্রের সাদৃশ্য আছে।
‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পে রাজা জনকের কন্যা সীতা। রাজা তার কন্যাকে যোগ্য পাত্রের হাতে স¤প্রদান করতে চান। তাই তিনি ঘোষণা দেন, যে শিবের ধনুক ভাঙতে পারবে তার সাথেই সীতার বিয়ে দিবেন। অনেক দেশের অনেক রাজা এসেও একই ধনুক ওঠাতে ব্যর্থ হন। শেষে রাম তা ভেঙে দেখান এবং সীতার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
উদ্দীপকের দ্রৌপদীর পিতা দ্রৌপদীকে যোগ্য বরের হাতে তুলে দিতে চান। তাই তিনি ঘোষণা করেন জলের পাত্র লক্ষ্য করে যে মাছ তীরবিদ্ধ করতে পারবে তার সঙ্গে দ্রৌপদীর বিয়ে হবে। অনেক রাজপুত্র লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হলো। শেষে অর্জুন তা করতে সমর্থ হলে শর্তস্বরূপ দ্রৌপদীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের দ্রৌপদীর সাথে ‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পের সীতা চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. উদ্দীপকে অর্জুনের দ্রৌপদীকে লাভের বিষয়টি ‘রামায়ণ-কাহিনী’ রচনার রামের সীতাকে পাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।
সীতার পিতা রাজা জনক তার কন্যাকে যোগ্য পাত্রের হাতে তুলে দিতে চান। তাই তিনি প্রথমেই পাত্রের শক্তি-সাহস পরীক্ষা করতে চান। এজন্য ঘোষণা দেন, যে শিবের ধনুকে গুণ দিতে পারবে। তার সাথে সীতার বিয়ে হবে। কিন্তু এতে প্রায় সকল বীরই ব্যর্থ হয়। শেষে রাম সেই ধনুকে গুণ চড়ান। শুধু তাই নয়, গুণে এক টান দিয়ে সেই ধনুকও দুইখান করে ফেলেন। এতে খুশি হয়ে রাজা জনক তার মেয়েকে রামের হাতে অর্পণ করেন।
উদ্দীপকেও একই ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে। এখানে রাজকন্যা দ্রৌপদীর পিতা ঘোষণা করেন, যে জলের পাত্র লক্ষ্য করে উপরে ঝোলানো মাছ তীরবিদ্ধ করতে পারবে তার সঙ্গে দ্রৌপদীর বিয়ে দিবেন। তার শর্তপূরণ করতে প্রায় সকল রাজপুত্রই ব্যর্থ হয়। কিন্তু অর্জুন তা করে দেখায়। এতে রাজা দ্রৌপদীকে অর্জুনের হাতে তুলে দেন ।
উদ্দীপকে রাজার শর্ত পূরণ করেই অর্জুন দ্রৌপদীকে পেয়েছে। আর গল্পে রাম রাজা জনকের শর্ত পূরণ করার শর্তস্বরূপ পেয়েছেন সীতাকে।

প্রশ্ন-৭  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সমীরণ বাবু ধনী পরিবারের ছেলে। চার কন্যা সন্তান জন্মের পরে পুত্র সন্তান কামনায় তিনি এক সাধুর নিকট যান। পুত্র সন্তান লাভের জন্য সাধু তার বাড়িতে পূজা-অর্চনার আয়োজন করতে বলেন। সমীরণ বাবু ঐ সাধুর পরামর্শে সব রীতিনীতি মেনে পূজা দেন। একাদিক্রমে সাতদিন পূজা করার পর সাধু দৈবজ্ঞানে জানতে পারলেন সমীরণ বাবু অনৈতিকভাবে অগাধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ কারণে তার পুত্রলাভের মনোবাসনা পূর্ণ হচ্ছে না।
ক. সুমিত্রার কয়টি সন্তান ছিল? ১
খ. বিশ্বামিত্রের রাগের কারণ কী ছিল? ২
গ. উদ্দীপকের সমীরণ বাবুর কর্মকাÐ ‘রামায়ণ কাহিনী’ রচনার কোন চরিত্রর কথা বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেয় তা ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.‘আকাক্সক্ষা এক থাকলেও সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রের পরিণতি হয়েছে ভিন্নতর’Ñ মন্তব্যটির যথার্থতা নির্ণয় কর। ৪
 ৭নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. সুমিত্রার দুইটি সন্তান ছিল।
খ. দশরথের রাজাকে রাক্ষসদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠাতে না চাওয়াই ছিল বিশ্বমিত্রের রাগের কারণ।
বিশ্বামিত্র মুনি রাক্ষসের উপদ্রব থেকে তাঁর যজ্ঞকে রক্ষা করতে রাজা দশরথের কাছে রামকে চান। মুনির কথা শুনে রাজা দশরথ কাঁপতে কাঁপতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পুত্র স্নেহকাতর পিতা রামের পরিবর্তে বহু সৈন্য সামন্ত ও লোকজন নিয়ে নিজে যজ্ঞ পাহারা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে বিশ্বামিত্র অনেক রেগে যান।
গ. উদ্দীপকের সমীরণ বাবুর কর্মকাÐ ‘রামায়ণ-কাহিনী’ রচনার রাজা দশরথ চরিত্রের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।
মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপাদৃষ্টি লাভ করতে হলে তাঁর নির্দেশনা মেনে তাঁকে তুষ্ট করতে হয়। এ সত্যের প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই ‘রামায়ণ-কাহিনীর’ রাজা দশরথ চরিত্রে। রাজা দশরথ শাস্ত্র নিয়ম মেনে যজ্ঞ কর্মাদিসম্পন্ন করে দেবতাদের খুশি করে আকাক্সিক্ষত, প্রার্থিত পুত্র সন্তান লাভ করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সমীরণ বাবু ধনী পরিবারের ছেলে। চার কন্যা সন্তান জন্মের পরে পুত্র সন্তান কামনায় তিনি সাধুর নিকট যান। পুত্র সন্তান লাভের জন্য সাধু তার বাড়িতে পূজা-অর্চনার আয়োজন করতে বলেন। সমীরণ বাবু ঐ সাধুর পরামর্শে সব রীতিনীতি মেনে পূজা করেন। উদ্দীপকের সমীরন বাবুর অনুরূপ রাজা দশরথের রাজ্যে সুখ ও শান্তি বিরাজ করলেও পুত্রসন্তান না থাকায় রাজা ভারি দুঃখবোধ করতেন। তাই পুত্র সন্তান লাভের জন্য তিনি পুত্রেষ্টি যজ্ঞ সম্পন্ন করেন। অর্থাৎ উদ্দীপকের সমীরণ বাবুর কর্মকাÐ ‘রামায়ণ-কাহিনী’র রাজা দশরথকেই বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।
ঘ. ‘আকাক্সক্ষা এক থাকলেও সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রের পরিণতি হয়েছে ভিন্নতর’শীর্ষক প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
‘রামায়ণ-কাহিনী’র রাজা দশরথের ক্ষেত্রে দেখতে পাই। রাজা দশরথ পুত্র সন্তান লাভের জন্য ঋষ্যশৃঙ্খ মুনির সাহায্যে প্রথমে অশ্বমেধ যজ্ঞ এবং পরে পুত্রেষ্টি যজ্ঞ সম্পন্ন করেন। এতে তিনি দেবতাদের বরে চার জন পুত্র সন্তান লাভ করেন।
উদ্দীপকের সমীরণ বাবু ও ‘রামায়ণ-কাহিনী’র রাজা দশরথ পুত্র সন্তান কামনায় এবং সে সন্তান লাভে শাস্ত্রাদির নিয়ম-নীতি মেনে পূজা-অর্চনা করা ও যজ্ঞ সমাপনের দিক দিয়ে পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র। কিন্তু তাদের জাগতিক কর্মের শুদ্ধতা, পবিত্রতা সমপর্যায়ের নয়। সে কারণেই পুত্র সন্তান লাভে সাদৃশ্যপূর্ণ আচরণ সম্পন্ন করলেও উভয়ের পরিণতি হয়েছে ভিন্নতর। অর্থাৎ উদ্দীপকের সমীরণ বাবু তার অনৈতিক কর্মের ফলে পুত্র লাভে ব্যর্থ হয়েছেন আর ‘রামায়ণ কাহিনী’র রাজা দশরথ তাঁর পুণ্য কর্মের ফলে চার সুপুত্র লাভ করে ধন্য হয়েছেন। উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আকাক্সক্ষা এক থাকলেও চরিত্রের পরিণতি হয়েছে ভিন্ন।

প্রশ্ন-৮  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজারে হরিশচন্দ্রের বিশাল ব্যবসা। তিনি যেমন পরোপকারী তেমনই ক্ষমতাবান। তাই তার বন্ধু ও প্রতিবেশীরা তাকে খুব ভালোবাসে। তার ভয়ে সন্ত্রাসীরা কখনো শাখারিবাজারে ঢুকতে সাহস পায় না। কিন্তু সন্তান না থাকায় তার মনে অনেক দুঃখ। তিনি ঠিক করলেন দেবতাদের সন্তুষ্টির জন্য যজ্ঞ করবেন। বিশাল আয়োজন করে একনিষ্ঠ মনে তিনি যজ্ঞ সম্পন্ন করলেন। বছর খানেক পরে তিনি একটি পুত্র সন্তান লাভ করনে। কিন্তু বড় হয়ে ছেলেটি বংশের কুলাঙ্গারে পরিণত হয়।
ক. কশ্যপ মুনির স্ত্রীর নাম কী? ১
খ. অহল্যা দেবী কীভাবে অভিশাপমুক্ত হয়েছিলেন? ২
গ. উদ্দীপকের হরিশচন্দ্রের সাথে ‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পের প্রেক্ষিতে উদ্দীপকের অংশটুকুর যৌক্তিকতা নির্ণয় কর। ৪

 ৮নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. কশ্যপ মুনির স্ত্রীর নাম অদিতি দেবী।
খ. রাজা দশরথের জ্যেষ্ঠ পুত্র রামকে পূজা করে অহল্যা দেবী অভিশাপ মুক্ত হয়েছিলেন।
অহল্যা দেবী নিতান্ত একটা অপরাধ করলে গৌতম মুনি তাকে অভিশাপ দিয়ে নিজে তপস্যা করার জন্য হিমালয়ের কৈলাস পর্বতে চলে যান। মিথিলা রাজা জনকের যজ্ঞ এবং তার কাছে থাকা ভয়ঙ্কর ধনুক দেখতে বিশ্বামিত্র মুনির সঙ্গে মিথিলা রাজ্যে যাওয়ার পথে রাম ও ল²ণ গৌতম মুনির আশ্রমে উপস্থিত হয়। রাম আসায় অহল্যা দেবী দৃশ্যমান হন। তখন তিনি স্বামীর বলে যাওয়া কথা অনুযায়ী রামকে পূজা করে অভিশাপ মুক্ত হন।
গ. উদ্দীপকের হরিশচন্দ্রের সাথে ‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পের রাজা দশরথের সাদৃশ্য রয়েছে।
‘রামায়ণ-কাহিনী’র রাজা দশরথ ছিলেন অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান, পরোপকারী এবং ক্ষমতাবান ব্যক্তি। তিনি তার রাজ্য পরিচালনার জন্য বিদ্বান, বুদ্ধিমান আর ধার্মিক লোকদের মন্ত্রী পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাই তার রাজ্যে কেউ কোনো অন্যায় কাজ করতে সাহস পেত না। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ প্রজারা রাজাকে খুব ভালোবাসত। কিন্তু পুত্রসন্তান না থাকায় রাজার মনে কষ্ট ছিল। অবশেষে যজ্ঞ করে তিনি চারটি পুত্র সন্তান লাভ করেছিলেন যারা তাদের জ্ঞান, বুদ্ধি ও শক্তি দিয়ে তার বংশমর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
উদ্দীপকের হরিশচন্দ্রও ক্ষমতাবান এবং পরোপকারী লোক। তার পরোপকারী মনোভাবের জন্য সবাই তাকে ভালোবাসে। কিন্তু সন্তান না থাকায় তার মনে অনেক কষ্ট। পুত্রসন্তান লাভের আশায় সে যজ্ঞ করে এবং একটি পুত্রসন্তান লাভ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের হরিশচন্দ্রের সঙ্গে গল্পের রাজা দশরথের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. ‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পের প্রেক্ষিতে উদ্দীপকের অংশটুকুর যৌক্তিকতা রয়েছে।
গল্পের রাজা দশরথের জীবনেও এমনটি ঘটেছিল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক, নিষ্ঠাবান ও প্রজাবৎসল। তিনি যেমন করে প্রজাদের সুখ-শান্তির কথা ভাবতেন তেমনটি আর কেউ ভাবত না। তাই প্রজারা তাকে খুব ভালোবাসত। কিন্তু কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় সে মনে মনে খুব দুঃখী ছিল। অবশেষে যজ্ঞ করে দেবতাদের আশীর্বাদে তার চারটি অতুলনীয় পুত্র সন্তান জন্মে।
উদ্দীপকে হরিশচন্দ্র একজন বিত্তবান ও ক্ষমতাবান লোক। তার পরোপকারিতার জন্য সবাই তাকে ভালোবাসলেও সন্তানের অভাবে সে সুখী হতে পারেনি। তাই পুত্র সন্তান লাভের আশায় সে যজ্ঞ করে দেবতাদের তুষ্ট করার চেষ্টা করে। তার একনিষ্ঠ যজ্ঞ সাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবতারা তাকে একটি পুত্র সন্তান দান করেন।
সুতরাং বিপুল সম্পদ ও ক্ষমতার অধিকারী হয়েও পুত্র সন্তানের অভাবে পিতার দুঃখী ভাব এবং যজ্ঞের মাধ্যমে দেবতাদের তুষ্ট করে পুত্রসন্তান লাভের বিষয়টি উদ্দীপকের মতো গল্পেও বিদ্যমান।

প্রশ্ন-৯  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ফল্লু নদীর তীর ঘেঁষে এক বিরাট বন। সেই বনে বাস করত এক ভয়ানক বক রাক্ষস। সে ছিল যেমন অত্যাচারী তেমনই নিষ্ঠুর। গ্রামের মানুষদের পালাক্রমে সেই রাক্ষসের আহারের ব্যবস্থা করতে হতো। রাক্ষসের খাদ্য হিসেবে গ্রামবাসী প্রতিদিন একটি গরু অথবা মহিষ পাঠাত। যেদিন গ্রামবাসী রাক্ষসের আহারের ব্যবস্থা করতে না পারত রাক্ষস নিজে এসে গ্রাম থেকে মানুষ ধরে নিয়ে যেত। তাই ধীরে ধীরে গ্রামটি শূন্য হয়ে যাচ্ছিল। কুন্তীপুত্র ভীম বক রাক্ষসকে হত্যা করে গ্রামবাসীকে বাঁচাল।
ক. অযোধ্যা নগর কোন নদীর তীরে অবস্থিত? ১
খ. তাড়কা রাক্ষসীর সঙ্গে রামের কেন সংঘর্ষ বাঁধে? ২
গ. উদ্দীপকে ‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.উদ্দীপকটি রামায়ণ-কাহিনীর’ মূলভাব ধারণ করে মন্তব্যটি বিচার কর। ৪
 ৯নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. অযোধ্যা নগর সরযু নদীর তীরে অবস্থিত।
খ. বিশ্বামিত্র মুনির নির্দেশে রাম তাড়কা রাক্ষসীকে মারতে গেলে রাক্ষসীর সাথে তার সংঘর্ষ বাঁধে।
তাড়কা রাক্ষসী গঙ্গার পাশে এক ভয়ানক বনে বাস করে। এ ভয়ানক বনটি আগে সুন্দর একটা দেশ ছিল। সেখানে অনেক লোক বাস করত। তাড়কা রাক্ষসী আর তার পুত্র মারীচ রাক্ষস সেসব লোকজন খেয়ে দেশটিকে এমন ভয়ানক বনে পরিণত করেছে। রাম ও ল²ণকে নিয়ে মারীচ ও সুবাহু রাক্ষসকে মারার জন্য নিজ আশ্রমে বা বিশ্বামিত্র বনে উপস্থিত হলে রামকে নির্দেশ দেন সেই ভয়ানক রাক্ষসীকে মারার জন্য। ফলে তার সঙ্গে রামের সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
গ. উদ্দীপকটিতে ‘রামায়ণ কাহিনী’তে বর্ণিত রাম ও ল²ণ কর্তৃক রাক্ষস-রাক্ষসীদের ধ্বংস করে শান্তি ফিরিয়ে আনার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
‘রামায়ণ কাহিনী’ গল্পে তাড়কা রাক্ষসী আর তার পুত্র মারীচ রাক্ষস সুন্দর একটি দেশের সব মানুষজন খেয়ে দেশটিকে ভয়ানক বনে পরিণত করেছিল। তাছাড়া মারীচ রাক্ষস সুবাহু রাক্ষসকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বামিত্র মুনির যজ্ঞে মাংস ঢেলে সব নষ্ট করে দিয়েছিল। তাদের নানা অত্যাচারমূলক কর্মকাÐে আশ্রমের শান্তি বিনষ্ট হয়েছিল। বিশ্বামিত্রের নির্দেশে রাজা দশরথের দুই পুত্র রাম ও ল²ণ এসব ভয়ানক রাক্ষস-রাক্ষসীদের হত্যা করে শান্তি ফিরিয়ে এনেছিল।
উদ্দীপকে বক রাক্ষস গ্রামের জীব জন্তু ও মানুষ খেয়ে গ্রামটি প্রায় শূন্য করে ফেলেছিল। রাক্ষসের ভয়ে গ্রামবাসীর মনে কোনো শান্তি ছিল না। কুন্তীপুত্র ভীম এসে বক রাক্ষসকে হত্যা করে গ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনে। তাই উদ্দীপকের ভীম কর্তৃক বক রাক্ষসকে মেরে গ্রামের শান্তি ফিরিয়ে আনার ঘটনাটি রাম ও ল²ণ কর্তৃক ভয়ানক সব রাক্ষসদের মেরে আশ্রমের শান্তি ফিরিয়ে আনার দিকটি মনে করিয়ে দেয়।
ঘ. অন্যায় দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে উদ্দীপকটি ‘রামায়ণ-কাহিনী’ রচনাটির মূলভাব প্রকাশ করে।
‘রামায়ণ-কাহিনীর’ রাম শৈশবেই ভয়ানক তাড়কা রক্ষসীকে ও তার পুত্র মারীচকে বধ করেন। তাড়কা রাক্ষসী আর তার পুত্র মারীচ একটি সুন্দর দেশের লোকজনকে হত্যা করে দেশটিকে ভয়ানক বনে পরিণত করেছিল। অন্যদিকে বিশ্বমিত্রের আশ্রমের যজ্ঞ নষ্ট করে রাক্ষসেরা আশ্রমের শান্তি বিঘিœত করছিল। তাই এদের পরাজিত করে ও হত্যা করে রাম শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলেন। রামের কৃতিত্বও এখানে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, অত্যাচারী বক রাক্ষসকে হত্যা করে ভীম গ্রামের শান্তি ফিরিয়ে আনেন।
তাই বলা যায়, ‘রামায়ণ-কাহিনীর’ মূলভাব যে শান্তি প্রতিষ্ঠা, সমাজ থেকে অন্যায় ও অশান্তি দূর করা তার সাথে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রশ্ন-১০  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
বখাটে আর সন্ত্রাসীদের দাপটে শান্তিনগর এলাকা রীতিমতো অশান্ত হয়ে উঠেছে। যে কাউকে অপহরণ করে মুক্তিপণ নেয়া, না পেলে খুন করা নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ রকম অনাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াল সাহসী যুবক মিহির। তার সাহসী ও প্রতিবাদে ভীত হয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বখাটে আর সন্ত্রাসীরা।
ক. দশরথ কোথাকার রাজা ছিলেন? ১
খ. সিদ্ধাশ্রম সম্পর্কে যা জান লিখ। ২
গ. উদ্দীপকের বখাটে ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পে কাদের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.“উদ্দীপকের সাহসী যুবক মিহির যেন ‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পের মহাবীর রামের প্রতিমূর্তি।”Ñ তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও। ৪
 ১০নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. দশরথ ভারতবর্ষের অযোধ্যা নগরের রাজা ছিলেন।
খ. বিশ্বমিত্রের আশ্রমই সিদ্ধাশ্রম।
অনেক আগে কশ্যপে মুনি ও তার স্ত্রী অদিতি সেই আশ্রমে এক হাজার বছর বাস করেছিলেন। সেখানে তারা তপস্যা করেন। সেই তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে স্বয়ং বিষ্ণু তাদের পুত্র রূপে জন্ম নেন। বিষ্ণুর এই অবতারের নাম ছিল বামন। সেই আশ্রমেই তপস্যা করতেন মুনি বিশ্বামিত্র। আর কিছু রাক্ষস সেই তপোবনের শান্তি বিঘিœত করছিল, যজ্ঞ নষ্ট করছিল রামের শৈশবে। রাম সেই রাক্ষসদের বধ করে তপোবনে শান্তি ফিরিয়ে আনেন।
গ. উদ্দীপকের বখাটে ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পের রাক্ষস-রাক্ষসীদের সাদৃশ্য রয়েছে।
গল্পে দেখা যায়, ভয়ানক রাক্ষস মারীচ ও সুবাহু বিশ্বামিত্র মুনির যজ্ঞে মাংস ঢেলে সব নষ্ট করে দিয়েছিল। তাড়কা নামে আরেকটা ভয়ংকর রাক্ষসী একটা সুন্দর দেশের সব লোকজন খেয়ে দেশটিকে একটি ভয়ানক বনে পরিণত করেছিল। তারপর শুভ শক্তির অধিকারী রাম ও ল²ণের হাতে তাদের পতন ঘটে।
উদ্দীপকে বখাটে ও সন্ত্রাসীদের অত্যাচারমূলক কর্মকাÐের কারণে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলায় বিঘœ ঘটে। এলাকাবাসীর জানমালের নিরাপত্তায় অবনতি ঘটে। তারপর মিহির নামে এক সাহসী যুবক এসব বখাটে ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাহসী প্রতিবাদ করায় তারা এলাকা ছেড়ে পালায়। অর্থাৎ উদ্দীপকের বখাটে ও সন্ত্রাসীদের সাথে গল্পের রাক্ষস-রাক্ষসীদের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের সাহসী যুবক মিহির যেন ‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পের মহাবীর রামের প্রতিমূর্তিÑ উক্তিটি আংশিক সত্য।
‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পের রাম ছিল বুদ্ধি ও শক্তিতে অতুলনীয়। সে তার ক্ষমতায় হাজার হাতির শক্তিসম্পন্ন তাড়কা রাক্ষসীকে হত্যা করেছে। বিশ্বামিত্র মুনির যজ্ঞ নষ্টকারী মারীচ রাক্ষসের মৃত্যু ঘটেছিল রামের হাতেই। এছাড়া রামের কারণেই অহল্যাদেবী অভিশাপ মুক্ত হয়ে দৃশ্যমান হয়েছিলেন। রাম তার গায়ের জোরে ভয়ঙ্কর ধনুকে গুণ ছড়িয়ে জনক রাজার কন্যা সীতাকে জয় করেছিলেন।
উদ্দীপকের মিহিরও সাহসী যুবক। সে তার সাহসী চিত্ত নিয়ে এলাকার বখাটে ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। তার দুরন্তপনায় মার হজম করতে না পেরে বখাটে ও সন্ত্রাসীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে এলাকায় শান্তি ফিরে এসেছে। তাই সাহসিকতার সাথে অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়ে তাকে দমন করে শান্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়টিতে মিহির ও রামের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।
গল্পের রাম এবং উদ্দীপকের মিহির উভয়ী সাহসী। তারা অশুভ শক্তি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে, যুদ্ধ করে, অপশক্তিকে দমন করে শান্তি ফিরিয়ে এনেছে। এক্ষেত্রে দুজনেই একই চরিত্রের অধিকারী। কিন্তু উভয়ের বংশ পরিচয়, ক্ষমতার পরিমাণ, বিপক্ষ শক্তির ধরন, যুদ্ধক্ষেত্র ইত্যাদি সবকিছু ভিন্ন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সাহসী যুবক মিহির পুরোপুরি না হলেও আংশিকভাবে রামেরই প্রতিমূর্তি।

সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক

প্রশ্ন-১১ ল্ফ রংপুরের মাহিগঞ্জ গ্রামে একসময় হঠাৎ করে অস্থিরতা দেখা দেয়। সেখানে কিছু সন্ত্রাসী মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে এলাকার বাসিন্দারা হতবিহŸল হয়ে পড়ে। এরা যখন তখন যেকোনো মানুষকে অপহরণ করে এবং মুক্তিপণ পেলে ছেড়ে দেয়। দাবিকৃত টাকা না পেলে খুন করে। এ সময়ে একজন সমাজসেবীর হস্তক্ষেপে সন্ত্রাসীরা সেখান থেকে চলে যায়। গ্রামবাসীর মাঝে শান্তি ফিরে আসে।
ক. যজ্ঞ কী? ১
খ. রাম ল²ণ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাহারা দিতে শুরু করলেন কেন? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকের পরিস্থিতি ‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পের কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করে ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকটি ‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পের মূলভাব ধারণ করে কি? মতের পক্ষে যুক্তি দাও। ৪
প্রশ্ন-১২ ল্ফ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশে নারকীয় তাÐব চালায়। অসংখ্য মানুষকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করে। শহর, বন্দর, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়। কিন্তু এদেশের সংগ্রামী দামাল ছেলেরা সেই অত্যাচার মেনে নেয়নি। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে তারা এ দেশকে শত্রæমুক্ত করে।
ক. রাজা দশরথের বড় রানির নাম কী? ১
খ. বিশ্বামিত্র মুনি রামকে সাথে নিতে চাইলেন কেন? ২
গ. উদ্দীপকের পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে ‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পের কাদের সাদৃশ্য লক্ষণীয়? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকের দামাল ছেলেদেরকে ‘রামায়ণ-কাহিনী’ গল্পের রামের প্রতিরূপ বলা যায় কি? মতের পক্ষে যুক্তি দাও। ৪

অনুশীলনের জন্য দক্ষতাস্তরের প্রশ্ন ও উত্তর

  জ্ঞানমূলক  
প্রশ্ন \ ১ \ অযোধ্যা নগরের আয়তন কত ছিল?
উত্তর : অযোধ্যা নগর আটচল্লিশ ক্রোশ লম্বা আর বারো ক্রোশ চওড়া ছিল।
প্রশ্ন \ ২ \ মহারাজ দশরথ কোথায় বসে রাজ্যের কাজ দেখতেন?
উত্তর : মহারাজ দশরথ সুন্দর অযোধ্যা নগরে সাদা পাথরের বিশাল রাজপুরীতে সাদা ছাতার নিচে বসে তাঁর রাজ্যের কাজ দেখতেন।
প্রশ্ন \ ৩ \ কে রাজা দশরথের ছেলেদের নাম রেখেছিলেন?
উত্তর : রাজা দশরথের চার ছেলের নাম রেখেছিলেন পুরোহিত বশিষ্ঠ মুনি।
প্রশ্ন \ ৪ \ মিথিলার রাজপুরীর নিকটে কার আশ্রম ছিল?
উত্তর : মিথিলার রাজপুরীর নিকটে গৌতম মুনির আশ্রম ছিল।
প্রশ্ন \ ৫ \ রাজা জনকের উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করা ধনুকটি আগে কার ছিল?
উত্তর : রাজা জনকের উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করা ধনুকটি আগে শিবের ছিল।
প্রশ্ন \ ৬ \ রানী কৌশল্যার ছেলের নাম কী?
উত্তর : রানী কৌশল্যার ছেলের নাম রাম।
প্রশ্ন \ ৭ \ বিশ্বামিত্র মুনি কত দিনের জন্য রামকে সঙ্গে নিতে চাইলেন?
উত্তর : বিশ্বামিত্র মুনি দশ দিনের জন্য রামকে সঙ্গে নিতে চাইলেন।
প্রশ্ন \ ৮ \ গৌতম মুনির স্ত্রীর নাম কী?
উত্তর : গৌতম মুনির স্ত্রীর নাম অহল্যা।
প্রশ্ন \ ৯ \ ল²ণের মায়ের নাম কী?
উত্তর : ল²ণের মায়ের নাম সুমিত্রা।
প্রশ্ন \ ১০ \ কৈকেয়ীর পুত্রের নাম কী?
উত্তর : কৈকেয়ীর পুত্রের নাম ভরত।
প্রশ্ন \ ১১ \ মারীচ ও সুবাহু কার যজ্ঞ নষ্ট করেছিল?
উত্তর : মারীচ ও সুবাহু বিশ্বামিত্র মুনির যজ্ঞ নষ্ট করেছিল।
প্রশ্ন \ ১২ \ টঙ্কার বলতে কী বোঝ?
উত্তর : ধনুকের গুণ জোরে টেনে হঠাৎ ছেড়ে দিলে টং করে যে শব্দ হয় তাকে টঙ্কার বলে।
প্রশ্ন \ ১৩ \ সীতাকে পাওয়ার জন্য রামকে কী প্রমাণ করতে হয়েছে?
উত্তর : সীতাকে পাওয়ার জন্য রামকে তার শক্তিমত্তা প্রমাণ করতে হয়েছে।
  অনুধাবনমূলক  
প্রশ্ন \ ১ \ শিবের ধনুককে ভয়ঙ্কর ধনুক বলা হয়েছে কেন?
উত্তর : শিবের ধনুকটিতে কেউ গুণ চড়াতে পারত না বলে তাকে ভয়ঙ্কর ধনুক বলা হয়েছে।
তাই উত্তরাধিকার সূত্রে রাজা জনক শিবের ধনুকটি লাভ করেছিলেন। এই ধনুকটি ছিল যেমনই বড় তেমনই ভারি। আর ধনুকটিতে এত জোর ছিল যে দেবতা, গন্ধর্ব, রাক্ষস, মানুষ কেউ তাতে গুণ চড়ানো তো দূরের কথা, তা তুলতেই পারেন নি। এই কারণেই ধুনকটিকে ভয়ঙ্কর ধনুক বলা হয়েছে।
প্রশ্ন \ ২ \ দেবতারা কেন অহল্যা দেবীর দিকে তাকাতে পারেন না?
উত্তর : অহল্যা দেবীর শরীরের তেজের কারণে দেবতারা তাঁর দিকে তাকাতে পারেন না।
অহল্যা দেবী একটা নিতান্ত অপরাধের কাজ করলে গৌতম মুনি তাঁকে অভিশাপ দিয়ে কৈলাস পর্বতে চলে যান। শাপমুক্ত হওয়ার জন্য তাঁকে দীর্ঘদিন এই তপোবনে ছাইয়ের উপর পড়ে থাকতে হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময় তিনি কেবল তপস্যা করেছেন। দীর্ঘদিনের কঠোর তপস্যার কারণে তাঁর শরীরে আশ্চর্য তেজ হয়েছে। তাঁর শরীরের এই তেজের কারণেই দেবতারা তাঁর দিকে তাকাতে পারেননি।
প্রশ্ন \ ৩ \ রাজা দশরথ কেন অজ্ঞান হয়ে গেলেন?
উত্তর : বিশ্বামিত্র মুনির কথা শুনে রাজা দশরথ অজ্ঞান হয়ে গেলেন।
বিশ্বামিত্র মুনি এসে তাঁর যজ্ঞ নষ্টকারী রাক্ষসদের মারার জন্য রাজার বড় ছেলে রামকে তাঁর সাথে আশ্রমে পাঠাতে অনুরোধ জানান। বিশ্বামিত্র মুনির কথা শুনে রাক্ষসদের সাথে লড়াই করতে গিয়ে রামের কী ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারে সে কথা ভেবে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে রাজা দশরথ অজ্ঞান হয়ে গেলেন।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply