অষ্টম শ্রেণীর সহপাঠ সোহরাব রোস্তম

সোহরাব রোস্তম
মূল : মহাকবি আবুল কাসেম ফেরদৌসী
রূপান্তর : মমতাজউদদীন আহমেদ

বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

১. ‘সোহরাব ও রোস্তম’ কাহিনীর মূল লেখক কে?
ক মালিক মুহম্মদ জায়সী খ ওমর খৈয়াম
গ ইমরুল কায়েস  আবুল কাসেম ফেরদৌসী
২. নিচে গল্প থেকে কিছু নাম উল্লেখ করা হলো-
র. শাম, জাল, রোস্তম, সোহরাব
রর. জাল, সোহরাব, রোস্তম, শাম
ররর. সোহরাব, রোস্তম, জাল, শাম
বয়ঃক্রমিক অনুসারে কোনটি সঠিক?
 র খ রর গ ররর ঘ রর ও ররর
উদ্ধৃত অংশটি পড় এবং ৩ থেকে ৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও :
সাদা রঙের চুলওয়ালা ছেলে অভিশাপ ডেকে আনতে পারে। এই রকম নানা আশঙ্কার কথা শুনে শাম নিজের হাতে নিজের পুত্রকে ফেলে এলেন আল বুরুজ পর্বতে। কিন্তু দেবতারা ছিলেন শিশু জালের প্রতি দয়াশীল। ঈগল পাখির মতো ঠোঁট এবং সিংহের মতো পা-বিশিষ্ট সি-মোরগ পাখি উড়ে ঠোঁটে ঝুলিয়ে জালকে নিয়ে গেল। জাল পাখির বাসায় বড় হতে লাগল।
৩. উদ্ধৃত অংশটি একটিÑ
 রূপকথার অংশ খ উপকথার অংশ
গ জনশ্রæতিমূলক গল্পাংশ ঘ ঐতিহাসিক গল্পাংশ
৪. উদ্ধৃতাংশে আছে
ক সাধারণ মানুষের কথা খ রাজরাজাদের কথা
গ সৈন্যসামন্তদের কথা  দেবতাদের কথা
৫. উদ্ধৃতাংশে ব্যক্ত হয়েছে সে সময়কারÑ
র. অন্ধ কুসংস্কার রর. ধর্মীয় বিশ্বাস
ররর. সামাজিক প্রথা
নিচের কোনটি সঠিক
 র ও রর খ রর গ ররর ঘ রর ও ররর

৬. ‘মা তহমিনার বুক সেদিন ক্ষণকালের জন্য হলেও কেঁপে উঠেছিল’ Ñউক্তিটিতে কোন বিষয়টির প্রকাশ ঘটেছে?
ক শারীরিক অসুস্থতা ˜ ভয়
গ অজানা আশঙ্কা ঘ মাতৃস্নেহ
৭. মহাকবি আবুল কাসেম ফেরদৌসীর ‘শাহনামা’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
ক কাব্যগ্রন্থ ˜ মহাকাব্য গ উপন্যাস ঘ ভ্রমণকাহিনী
৮. সোহরাব পরাস্ত হয়ে যুদ্ধকে অন্যায় যুদ্ধ বলেছেন কেন?
˜ যুদ্ধ প্রথা না মানার জন্য খ যন্ত্রণাকাতর হওয়ার জন্য
গ ভীত হওয়ার জন্য ঘ পিতৃ-পরিচয় দেয়ার জন্য
৯. ইরানের স্বাধীনতা উদ্ধারকারী বলা হয় কাকে?
˜ মহাবীর রোস্তমকে খ বীর শামকে
গ বীর জালকে ঘ রাজা কায়কাউসকে
১০. ‘শৌর্য’ অর্থ কী?
ক সাহস ˜ বীরত্ব গ ইচ্ছা ঘ শক্তি
১১. দুই পর্বতের মধ্যবর্তী সমতল ভ‚মিকে কী বলে?
ক দ্বীপ ˜ উপত্যকা গ শৃঙ্গ ঘ পাহাড়
১২. সোহরাবের পিতামহের নাম কী?
ক কায়কাউস খ মনুচেহ গ জাল ˜ শাম
১৩. চার হাত-পা বিশিষ্ট সন্তান হওয়ায় মা তাকে কোলে নেন না।
উদ্দীপকের মায়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র হলোÑ
ক ইরিজি খ মনুচেহের ˜ শাম ঘ ফেরিদু
১৪. সোহরাব ও রোস্তমের করুণ পরিণতির জন্য কোনটি দায়ী?
ক তহমিনার মিথ্যাচার  রোস্তমের পরিচয় গোপন
গ সোহরাবের পিতৃ-আকুলতা ঘ ইরান ও তুরানের শত্রæতা
১৫. কোন সংবাদ শুনে রোস্তম বিমর্ষ হলেন?
ক স্ত্রীর অসুস্থতার খ যমজ সন্তান জন্মের
 কন্যা সন্তান জন্মের ঘ ইরানের যুদ্ধের
১৬. ঘোড়ার খুরের দাগ অনুসরণ করে রোস্তম কোন শহরে গিয়েছিলেন?
ক মাজেন্দ্রান  সামেনগান গ জাবুলিস্তান ঘ তুরান
১৭. বীরযোদ্ধা শামের পুত্রের নাম কী?
ক তান খ হাম গ মান  জাল
১৮. রুদাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল কেন?
ক অনেক পরিশ্রম করত বলে
খ স্বামীর জন্য দুশ্চিন্তা করত বলে
গ ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করত না বলে
 মা হতে চলেছে বলে
১৯. রোস্তমের স্ত্রীর নাম কী?
ক তাহমিনা খ রুদাবা
গ রুকাইয়া  তহমিনা

 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২০. ফেরিদুর কোন দেশের রাজা ছিলেন? (জ্ঞান)
 ইরান খ ইরাক গ আফগানিস্তান ঘ পাকিস্তান
২১. শাম কোন রাজার সৈন্যদলের নামকরা যোদ্ধা ছিলেন? (জ্ঞান)
ক ফেরিদুর  মনুচেহে গ ইরিজি ঘ পরীচেহে
২২. বীর শাম দেবতার মন্দিরে মাথা ঠুকেন কেন? (অনুধাবন)
ক যুদ্ধ জয়ের আশায় খ শক্তি লাভের আশায়
 পুত্র লাভের আশায় ঘ রাজ্য লাভের আশায়
২৩. শাম নিজ পুত্র জালকে কোথায় ফেলে আসলেন? (জ্ঞান)
ক নদীতে খ ঘন জঙ্গলে
 আলবুরুজ পর্বতে ঘ যুদ্ধের ময়দানে
২৪. আলবুরুজ পর্বত থেকে জালকে কোন পাখি রক্ষা করল? (জ্ঞান)
 সি-মোরগ খ ঈগল গ সারস ঘ বক
২৫. বাদশা মনুচেহ জালকে কী উপহার দিলেন? (জ্ঞান)
ক তলোয়ার  তেজি ঘোড়া
গ সৈন্য ঘ রাজমুকুট
২৬. বীরযোদ্ধা জালের স্ত্রীর নাম কী? (জ্ঞান)
 রুদাবা খ তহমিনা গ রাবিয়া ঘ দিলরুবা
২৭. বীর জালের পুত্রের নাম কী? (জ্ঞান)
 রোস্তম খ ইরিজি গ মনুচেহ ঘ ফেরিদুর
২৮. মহাবীর রোস্তম কী দিয়ে প্রাতরাশ সম্পন্ন করেন? (জ্ঞান)
ক দশটি রুটি  পাঁচটি ছাগলের মাংসের কাবাব
গ পাঁচ কেজি দুধ ঘ একটি গরুর মাংসের কাবাব
২৯. বীর রোস্তম কোন দুর্গে প্রবেশ করে পিতামহের হত্যার প্রতিশোধ নিয়েছিল? (জ্ঞান)
 অজেয় সোপান্দি খ রোটল
গ লালকেল্লা ঘ শাম
৩০. শৈশবে রোস্তমের মধ্যে কীসের লক্ষণ ফুটে উঠেছিল? (অনুধাবন)
ক সততার  বীরত্বের গ ভালোবাসার ঘ দৃঢ়তার
৩১. রাজা নওদরকে কে হত্যা করেছিলেন? (জ্ঞান)
ক জাল খ শাম  আফরাসিয়াব ঘ রোস্তম
৩২. ঘোড়া রখ্শ কোন বংশের ছিল? (জ্ঞান)
 রাক্ষস খ মহিশুর গ খোক্ষস ঘ থ্রেষা
৩৩. জাবুলিস্তান আক্রমণের জন্য রোস্তম কেমন রঙের পোশাক পরিধান করেছিলেন? (জ্ঞান)
 রংধনু রেশমি পোশাক
খ লৌহ ও চর্মবেষ্টিত পোশাক
গ সাদা রঙের পশমের পোশাক
ঘ গোলাপি রঙের হালকা পাতলা পোশাক
৩৪. রোস্তমের যুদ্ধে যাওয়া দেখে সবাই স্তম্ভিত হয়েছিল কেন? (অনুধাবন)
ক বয়স অল্প বলে
খ লোহা ও বর্মের পোশাক পরিচিত ছিল বলে
 লোহার বর্ম পরিহিত ছিল না বলে
ঘ ক্ষিপ্ত ঘোড়া নির্বাচন করেছিল বলে
৩৫. ইরানের স্বাধীনতা উদ্ধার করেছিলেন কে? (জ্ঞান)
ক সেনাপতি শাম খ জাল
 মহাবীর রোস্তম ঘ সেনাপতি আফরাসিয়াব
৩৬. রোস্তমের জয়গানে ইরানের জনগণ মুখরিত হয়েছিল কেন? (অনুধাবন)
 স্বাধীনতা উদ্ধার করেছিল বলে
খ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিল বলে
গ সুষ্ঠুভাবে দেশ শাসন করেছিল বলে
ঘ গরিব-দুঃখীর দুঃখ দূর করেছিল বলে
৩৭. পাহাড়ি দেশ মাজেন্দ্রান কাদের রাজ্য ছিল? (জ্ঞান)
 দৈত্যদের খ দেবতাদের গ জিনদের ঘ মহামানবদের
৩৮. মাজেন্দ্রানের রাজা কার সহায়তায় রাজা কায়কাউসকে বন্দি করে রেখেছিল? (জ্ঞান)
 মহাবলী সফেদ দৈত্যের খ জ্ঞানবলী রাজ দৈত্যের
গ মহা দৈত্যের ঘ মানিক দৈত্যের
৩৯. তুরানের রাজপ্রাসাদে রোস্তম বিমোহিত হয়েছিলেন কেন? (অনুধাবন)
ক হাতির দাঁতের পালঙ্ক দেখে
 স্নিগ্ধ সরল সুন্দরীর রূপমাধুর্য দেখে
গ নৈশভোজের আয়োজন দেখে
ঘ রাজপ্রাসাদের সৌন্দর্য দেখে
৪০. ইরানের ভরসা ছিলেন কে? (জ্ঞান)
ক সোহরাব  রোস্তম গ শাম ঘ জাল
৪১. সামেনগানের বীর বলে কে পরিচিত হয়েছিল? (জ্ঞান)
 সোহরাব খ রোস্তম গ জাল ঘ শাম
৪২. হামাউনের রূপসী কন্যা কে ছিলেন? (জ্ঞান)
 রুদাবা খ তহমিনা গ জুলেখা ঘ মুহরামা
৪৩. সামেনগান কোন রাজ্যের নগর ছিল? (জ্ঞান)
ক ইরান  তুরান গ কাজাখিস্তান ঘ তুজবেকিস্তান
৪৪. তহমিনা ছেলেকে রক্ষার জন্য কোন দেবতার কাছে প্রার্থনা জানিয়েছিল? (জ্ঞান)
ক সূর্য দেবতা খ বাতাসের দেবতা
 অগ্নি দেবতা ঘ শান্তি দেবতা
৪৫. ইরান-তুরান যুদ্ধে রোস্তম দূতের আহŸানে সাড়া দিয়েছিলেন কেন? (অনুধাবন)
 কৌত‚হল বশে
খ বীরত্ব দেখাতে
গ প্রতিপক্ষ দুর্বল ছিল তাই
ঘ প্রতিপক্ষে কোনো বীর ছিল না তাই
৪৬. রোস্তম-তহমিনার ছেলের নাম কী ছিল? (জ্ঞান)
 সোহরাব খ কায়কোবাদ
গ কায়কাউস ঘ আফরাসিয়াব
৪৭. পিতা ও পুত্রের দেখা হয়েছিল কোথায়? (জ্ঞান)
 নির্জন গিরিপথে খ পাহাড়ে গ মাঠে ঘ জঙ্গলে
৪৮. এ তোমার কোন বীরত্বের রীতি? এখানে কার বীরত্বের প্রতি প্রশ্ন করা হয়েছে? (অনুধাবন)
 সোহরাবের খ রোস্তমের
গ কায়কোবাদের ঘ কায়কাউসের
৪৯. ‘তিনি সামান্য এক বালকের কাছে পরাজয়ের গøানি বহন করতে রাজি নন’Ñ এই তিনি কে? (অনুধাবন)
ক সোহরাব  রোস্তম গ তহমিনা ঘ কায়কাউস
৫০. যুদ্ধের ময়দানে রোস্তম আর্তনাদ করেছিল কেন? (অনুধাবন)
 পুত্রকে হত্যা করার জন্য খ পরাজিত হওয়ার যন্ত্রণায়
গ স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ শুনে ঘ ইরানের দুর্ভাগ্যের আশঙ্কা করে
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৫১. বীরযোদ্ধা শামের পুত্র জাল ছিলÑ (অনুধাবন)
র. বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী রর. ধবধবে সাদা চুলবিশিষ্ট
ররর. ধারালো নখবিশিষ্ট
নিচের কোনটি সঠিক
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫২. মহাবীর রোস্তম ভালোবাসে (অনুধাবন)
র. তেজি ঘোড়ায় চড়ে দুরন্তবেগে ছুটতে রর. গদা নিয়ে যুদ্ধ করতে
ররর. গর্জ নিয়ে যুদ্ধ করতে
নিচের কোনটি সঠিক
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৫৩. বীরযোদ্ধা শাম তার পুত্রকে আলবুরুজ পর্বতে রেখে আসার কারণ
(উচ্চতর দক্ষতা)
র. চুলের রং সাদা হওয়া রর. অভিশাপ আশঙ্কা
ররর. শত্রæর আক্রমণের আশঙ্কা
নিচের কোনটি সঠিক
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৪. যুদ্ধের জন্য রোস্তমের নির্বাচিত ঘোড়া ছিলÑ (অনুধাবন)
র. অবাধ্য রর. দুরন্ত ররর. তেজি
নিচের কোনটি সঠিক
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৫. ইরানের রাজা কায়কাউস ছিলেন (অনুধাবন)
র. খেয়ালি রর. তোষামোদপ্রিয়
ররর. হঠকারী
নিচের কোনটি সঠিক
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৬. মহাবীর রোস্তম ছিলেন (অনুধাবন)
র. অপরিসীম মনোবলের অধিকারী
রর. অসীম সাহসী
ররর. সূ² বুদ্ধি ও তীক্ষè দৃষ্টির অধিকারী
নিচের কোনটি সঠিক
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৭. তুরানের জঙ্গলে মহাবীর রোস্তমের ঘুম ভেঙেছিল (অনুধাবন)
র. সূর্যের স্নিগ্ধ আলোয়
রর. অরণ্যে পাখির ডাকে
ররর. অরণ্য শিশুর কান্নার আওয়াজে
নিচের কোনটি সঠিক
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৮. তুরান অধিপতির মেয়ে তহমিনা রোস্তমকে স্বামীত্বে বরণ করেছিলেন (অনুধাবন)
র. বীরত্ব দেখে রর. রূপ মাধুর্য দেখে ররর. শৌর্যবীর্য দেখে
নিচের কোনটি সঠিক
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৯. ইরানের বীরযোদ্ধা রোস্তম মানুষের কাছে কিংবদন্তির নায়ক হিসেবে পরিচিত (উচ্চতর দক্ষতা)
র. অতুলনীয় শক্তি ও সাহসের জন্য
রর. স্ত্রীর পুত্রের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা
ররর. ক্ষমা প্রদর্শন ও ঔদার্যের জন্য
নিচের কোনটি সঠিক
 র খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর

 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৬০ ও ৬১ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
প্রবল বীরবিক্রমে লড়াই করছেন বাংলার দুই বীর সেনাপতি মোগল মানসিংহ এবং বার ভূঁইয়ার প্রধান ঈশা খাঁ। একপর্যায়ে ঈশা খাঁ’র প্রচÐ আক্রমণে মানসিংহের তরবারি ভেঙে যায়। যুদ্ধরীতির প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে ঈশা খাঁ পুনরায় তাকে আঘাত বা বন্দি না করে নিজের কাছে রাখা একটি তরবারি এগিয়ে দিলেন।
৬০. ঈশা খাঁ সোহরাব রোস্তম গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করেন? (প্রয়োগ)
 সোহরাব খ রোস্তম গ কায়কোবাদ ঘ কায়কাউস
৬১. উক্ত চরিত্রটির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হলো (অনুধাবন)
র. প্রতিহিংসাপরায়ণ রর. যুদ্ধরীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল
ররর. কঠোরতা প্রদর্শনকারী
নিচের কোনটি সঠিক
ক র  রর গ ররর ঘ র, রর ও ররর

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন -১  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সোহরাব যন্ত্রণায় এবং ক্ষোভে ক্রন্দন করে বলল, শোনো ইরানি কাপুরুষ। তুমি অন্যায় যুদ্ধে প্রথম পরাজয়ে আমাকে প্রাণে বধ করলে। কিন্তু এ সংবাদ যখন আমার বাবা জানতে পারবেন তখন তুমি সাগরের অতলেই থাকো, কিংবা আকাশে নক্ষত্রের মধ্যে পলায়ন করো, তিনি তোমাকে ক্ষমা করবেন না।
ক. রোস্তম যুদ্ধনীতির কোন বৈশিষ্ট্য ভঙ্গ করেছেন?
খ. সোহরাব যুদ্ধটিকে অন্যায় যুদ্ধ বলেছে কেন?
গ. উদ্ধৃতাংশে সোহরাবের সংলাপে রোস্তমের প্রতি যে বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে, গল্পে রোস্তম চরিত্রে তার কতটুকু প্রকাশ ঘটেছে?Ñ বর্ণনা কর।
ঘ.উদ্ধৃতাংশের আলোকে রোস্তমের চরিত্র বিশ্লেষণ কর
 ১নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. ইরানের যুদ্ধনীতি অনুযায়ী শত্রæকে পর পর দুই বার পরাজিত না করলে তাকে প্রাণে বধ করা যায় নাÑ রোস্তম যুদ্ধনীতির এই বৈশিষ্ট্যটি ভঙ্গ করেছেন।
খ. রোস্তম যুদ্ধনীতি ভঙ্গ করার কারণে সোহরাব যুদ্ধটিকে অন্যায় যুদ্ধ বলেছে।
ইরানের যুদ্ধের নিয়ম ছিল শত্রæকে পরপর দু’বার পরাজিত করে তারপর তাকে প্রাণে বধ করা। রোস্তম এই যুদ্ধনীতির কথা বলে সোহরাবের হাত থেকে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। কিন্তু রোস্তম নিজেই সেই নীতি ভঙ্গ করে সোহরাবকে হত্যা করেছেন। এই নীতি ভঙ্গের কারণেই সোহরাব যুদ্ধটিকে অন্যায় যুদ্ধ বলেছে।
গ. উদ্ধৃতাংশে সোহরাবের সংলাপে রোস্তমের প্রতি যে বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে, গল্পে রোস্তম চরিত্রে তা পুরোপুরি দেখা যায় না।
সোহরাবের বিশ্বাস ছিল তার মৃত্যু সংবাদে পিতা রোস্তমের বুকে হাহাকার সৃষ্টি হবে। পুত্র হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য হত্যাকারীকে রোস্তম খুঁজে বেড়াবেন সাগরের অতলে আকাশের নক্ষত্রে। কিন্তু রোস্তমের চরিত্রের মধ্যে স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি কিছুটা উদাসীনতা দেখা যায়। তবে পুত্রের মৃত্যুর পর তার বুকের ভেতর হাহাকার শুরু হয়, শুরু হয় কান্না আর বেদনাবিধুর বিলাপ।
তাই উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, রোস্তম চরিত্রে সোহরাবের বিশ্বাসের সামান্যই প্রকাশ ঘটেছে।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে বীর রোস্তমকে যুদ্ধনীতি ভঙ্গকারী প্রতিশোধপরায়ণ এক বীর হিসেবে চি‎িহ্নত করা যায়।
ইরানের মহাবীর রোস্তম যুদ্ধবিদ্যায় অনেক পারদর্শী ছিলেন। তিনি যুদ্ধ করে নিজের দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করেছেন। শত বাধা অতিক্রম করে নিজের দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করেছেন। ইরানে শান্তি ফিরিয়ে আনলেন। শত্রæরা ইরানের স্বাধীনতা হরণ করতে চাইলে তিনি নববধূকে রেখে ফিরে যান নিজের দেশে। তিনি মনে করতেন বীরের প্রকৃত স্থান যুদ্ধের ময়দান।
ইরান-তুরান যুদ্ধে মহাবীর রোস্তম আর তার পুত্র সোহরাব মুখোমুখি হন এবং সোহরাবের কাছে রোস্তম প্রথমবার পরাজিত হন। তবে ইরানের যুদ্ধের নিয়ম ছিল শত্রæকে পরপর দু’বার পরাজিত করে তারপর তাকে প্রাণে বধ করা। রোস্তম এই যুদ্ধনীতির কথা বলে সোহরাবের কাছ থেকে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন কিন্তু রোস্তম নিজেই সেই নীতি ভঙ্গ করে সোহরাবকে প্রথমবার পরাজিত করে অন্যায়ভাবে প্রাণে বধ করেন।
তাই বলা যায়, রোস্তম মহাবীর হলেও যুদ্ধের নীতি ভঙ্গ করে কাপুরুষতার পরিচয় দিয়েছেন এবং শত্রæকে বধ করা যুদ্ধের ক‚টকৌশল হলেও সোহরাবকে বধ করা ছিল তার অন্যায়ভাবে প্রতিশোধ নেয়া।

প্রশ্ন -২  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মহাবীর জুলভান বিভিন্ন যুদ্ধে বীরত্বের সাথে জয়লাভ করেছেন। পুত্রসন্তান না থাকায় তার মনে শান্তি ছিল না। তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন একটি পুত্রসন্তানের জন্য। অবশেষে তার ঘরে একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। জোতিষীরা ছেলের ভবিষ্যৎ গণনা করে বলেন, ছেলের আয়ু মাত্র পাঁচ বছর।
ক. ইতালির মুদ্রার নাম কী?
খ. তহমিনা রোস্তমকে কন্যা হওয়ার মিথ্যা সংবাদ দিল কেন?
গ. উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের যে ঘটনার মিল আছে তা তুলে ধর।
ঘ.‘মহাবীর জুলভান ও সোহরাব রোস্তম গল্পের পরিণতি এক নয়। Ñউক্তিটির সত্যতা নিরূপণ কর।
 ২নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. ইতালির মুদ্রার নাম ড্যাকাট।
খ. রোস্তম যেন পুত্র হওয়ার সংবাদ শুনে পুত্রকে নিজের কাছে নিয়ে না যায়।
রোস্তম বিবাহ সম্পন্ন করার পরবর্তী দিন রূপবতী তহমিনাকে রেখে দেশ রক্ষার তাগিদে চলে যান। তহমিনার একাকিত্বের বেদনা ঘোচাবার কেউ ছিল না। তাই যখন তহমিনা পুত্রসন্তান প্রসব করে তখন তহমিনা নিজ স্বার্থ দেখেন। কারণ পুত্র হওয়ার সংবাদ রোস্তম জানতে পারলে সোহরাবকে কাছে নিয়ে যাবে এবং তহমিনা পুনরায় একাকী হয়ে পড়বেন। তাই একাকীত্ব ঘোচানোর জন্যই তহমিনা রোস্তমকে কন্যা সন্তান হওয়ার মিথ্যা সংবাদ দেন।
গ. উদ্দীপকের জুলভানের ঈশ্বরের আশীর্বাদে পুত্রসন্তান লাভ ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের দেবতার মন্দিরে মাথা ঠুকে তাঁর আশীর্বাদে বীর শামের পুত্রসন্তান লাভের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের ইরানের বীর শামের মনে পুত্রসন্তানের অভাবে অনেক দুঃখ ছিল। তাই তিনি দেবতার মন্দিরে পুত্রসন্তানের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন এবং দেবতার আশীর্বাদে এক বীর পুত্রসন্তান লাভ করেছিলেন। তবে তার চুল ধবধবে সাদা ছিল বলে কুসংস্করাচ্ছন্ন লোকেরা বলাবলি করছিল যে এই সন্তান শামের জন্য অভিশাপ বয়ে আনবে।
উদ্দীপকের মহাবীর জুলভান বিভিন্ন যুদ্ধে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে। কিন্তু পুত্রসন্তান না থাকায় তার মনে কোনো শান্তি ছিল না। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে পুত্রসন্তানের জন্য। অবশেষে তার ঘরে একটি পুত্রসন্তান হলেও জ্যোতিষীরা ঘোষণা করে তার আয়ু মাত্র পাঁচ বছর। এ ঘটনাটি ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের বীর শাম-এর পুত্র সন্তান লাভের ঘটনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. “মহাবীর জুলভান ও ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের পরিণতি এক নয়”Ñ উক্তিটি যথার্থ।
ইরানের সাহসী বীর যোদ্ধা রোস্তম। যৌবনে দেশের প্রয়োজনে প্রাণপণ যুদ্ধ করেছেন। গল্পের শেষ প্রান্তে রোস্তম ক্ষমতা আর বীরত্বের গর্বে অহংকারী হয়ে যুদ্ধের নিয়ম অমান্য করে তার পুত্র বীর সোহরাবকে হত্যা করে।
উদ্দীপকে মহাবীর জুলভানের বীরত্বের জয়গাঁথা থাকলেও পুত্রসন্তান না থাকার হাহাকার লক্ষ করা যায়। পুত্রসন্তান জন্মলাভ করলেও তার আয়ু হয় মাত্র পাঁচ বছর। রোস্তমের নিজ হাতে তার পুত্র হত্যার মাধ্যমে গল্পের পরিনতি হয়েছে ট্রাজেডিপূর্ণ। অন্যদিকে মহাবীর জুলভানের পুত্রসন্তান স্বল্প আয়ু নিয়ে জন্মগ্রহণ করে জুলভানের জীবনকে করেছে বিষাদাত্মক।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, মহাবীর জুলভান ও সোহরাব রোস্তম গল্পের কাহিনী সামান্য সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও পরিণতির দিক দিয়ে এক নয়।
প্রশ্ন -৩  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ছোটবেলা থেকেই মুশফিকের মধ্যে একটু ভিন্নতা চোখে পড়ে। অন্য শিশুদের মতো সে এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকতে পারে না। সারাদিন ছুটে বেড়ায় এদিক ওদিক। নানাভাবে গায়ের শক্তি পরীক্ষা করে। একাই সে কয়েকজনের খাবার খায়। অল্প বয়সেই তাদের বাড়ির বড় ষাঁড়টিকে পোষ মানিয়ে ফেলে।
ক. সোহরাবের মায়ের নাম কী?
খ. শাম তার শিশুপুত্রকে আলবুরুজ পর্বতে ফেলে আসেন কেন?
গ. উদ্দীপকের মুশফিকের মাঝে ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের রোস্তমের যে দিক ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ.উক্ত দিকটি রোস্তম চরিত্রের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নয়Ñ ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের আলোকে বক্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
 ৩নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. সোহরাবের মায়ের নাম তহমিনা।
খ. ৬ নং প্রশ্নের ‘খ’ নং উত্তর দ্রষ্টব্য।
গ. উদ্দীপকের মুশফিকের মধ্যে ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের রোস্তমের দুরন্তপনা ও বীরত্বপূর্ণ স্বভাবের পরিচয় পাওয়া যায়।
রোস্তম যে ভবিষ্যতে মহাবীর হবে তার বীরত্বের পূর্বাভাস বাল্যকালেই চোখে পড়ে। রোস্তম তেজি ঘোড়ায় চড়ে দূরন্ত বেগে ছুটতে ভালোবাসত। সামান্য খাদ্যে তার ক্ষুধা মিটত না। গদা ও গজ নিয়ে তিনি যুদ্ধ করতে ভালোবাসতেন।
উদ্দীপকের মুশফিকের দুরন্তপনাও যেন সহজাত। মুশফিক সারাদিন ছুটে চলার মধ্যেই তার স্বভাবের চিহ্ন নিহিত ছিল। রোস্তম একটু বড় হলেই সে ‘রখশ’ নামের দুরন্ত ঘোড়াকে নিজের বশ্যতা স্বীকার করাতে পেরেছিলেন। গদা ও গজ নিয়ে তিনি যুদ্ধ করতে ভালোবাসতেন। আর মুশফিক তাদের বড় ষাঁড়কে অল্প বয়সেই পোষ মানাতে পেরেছিল। অল্প খাবারে মুশফিকের পেট ভরত না। মুশফিক ও রোস্তমের মধ্যে বাল্যকাল থেকেই বীরত্বের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
ঘ. উক্ত দিকটি তথা দুরন্তপনা ও বীরত্বপূর্ণ স্বভাব রোস্তম চরিত্রের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নয়Ñ বক্তব্যটি যথার্থ।
ইরানের জাতীয় বীর রোস্তম। ইরানের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে তার অবদান অসামান্য। বাল্যকালের স্বভাবের মধ্যেই ফুটে উঠেছিল তার ভবিষ্যতের ছাপ। তেজি ঘোড়াই যার ভালো লাগে, যার গদা হাতে খেলতে ভালো লাগে সে পরিণত বয়সে বীর হবে এটাই স্বাভাবিক।
উদ্দীপকের মুশফিকের মধ্যেও শক্তিশালী হবার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল শিশুকাল থেকেই। রোস্তমের মতো দুরন্তপনা করতে সেও ভালোবাসত। রোস্তমও হাতির সঙ্গে লড়ে জয়লাভ করেছিলেন। গদার আঘাতে পাগলা হাতিকে ধরাশায়ী করে দিয়েছিলেন। মুশফিকও তেমনি বাড়ির ষাঁড়কে সহজেই পোষ মানাতে সক্ষম হয়েছিল।
রোস্তমের সঙ্গে মুশফিকের কৌশলের দুরন্তপনার মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও দেশপ্রেম, বীরত্ব, পুত্রস্নেহের অব্যক্ত ভাব প্রকাশিত হয়নি।
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, মুশফিক ও রোস্তমের বাল্যকালের চরিত্র লক্ষণ সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও মুশফিক রোস্তম চরিত্রের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় বহন করে না।
প্রশ্ন -৪  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
নিজের স্বার্থরক্ষায় হীন কাজ করতে মানুষ পিছপা হয় না। মনির তাদেরই একজন। সে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে তরুণ প্রতিদ্ব›দ্বী রিফাতকে হত্যা করে।
ক. রোস্তমের ঘোড়ার নাম কী? ১
খ. সোহরাব যুদ্ধটিকে অন্যায় যুদ্ধ বলেছিল কেন? ২
গ. উদ্দীপকের মনির ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের কোন চরিত্রের পরিচয় বহন করে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.আত্মমর্যাদার অহমবোধই মানুষকে অন্যায় কাজ করতে উৎসাহিত করেÑ উদ্দীপক এবং গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৪নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. রোস্তমের ঘোড়ার নাম রখশ।
খ. ১ নং অনুশীলনী প্রশ্নের ‘খ’ নং উত্তর দ্রষ্টব্য।
গ. উদ্দীপকের মনির ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের রোস্তম চরিত্রের পরিচয় বহন করে।
ইরানের সাহসী বীরযোদ্ধা মহাবীর রোস্তম। যৌবনে দেশের মঙ্গলের জন্য প্রাণপণে যুদ্ধ করেছেন। শত্রæকে হত্যা করতে রোস্তম ছিলেন সর্বাধিক কৌশলী যোদ্ধা। শেষ পর্যন্ত নিজের সততা ও সাহসিকতা ধরে রাখতে পারেননি। যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার ভয়ে কিশোর যোদ্ধা সোহরাবকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে।
উদ্দীপকের মনির নিজের স্বার্থরক্ষায় হীন কাজ করতেও পিছপা হয় না। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে তরুণ প্রতিদ্ব›দ্বী রিফাতকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে যা কাপুরুষোচিত পরিচয়কেই বহন করে। অনুরূপভাবে গল্পের রোস্তমের কাপুরুষচিত গুণটি ফুটে উঠেছে। যিনি অন্যায় যুদ্ধে সোহরাবকে হত্যা করেছেন। এতএব বলা যায় ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের মনির রোস্তম চরিত্রের পরিচয় বহন করে।
ঘ. “আত্মমর্যাদার অহমবোধই মানুষকে অন্যায় কাজ করতে উৎসাহিত করে”Ñ উক্তিটি যথার্থ।
ইরানের মহাবীর রোস্তম যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি যুদ্ধ করে নিজের দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করেছেন। ইরান-তুরানের লোকজন তাকে মহাবীর হিসেবে জানতেন। এই আত্মমর্যাদাবোধেই রোস্তমকে অন্যায় কাজ করতে উৎসাহিত করে। রোস্তম নিজের পরিচয় গোপন রেখে কিশোর বীর সোহরাবের সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। পরাজিত হওয়ার ভয়ে যুদ্ধনীতি অমান্য করে সোহরাবকে সে হত্যা করে, যা তার বীরত্বপূর্ণ চরিত্রকে কলঙ্কিত করে।
উদ্দীপকের মনির ক্ষমতা লিপ্সু। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যেকোনো হীন কাজ করতেও সে প্রস্তুত। সে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে তার তরুণ প্রতিদ্ব›দ্বী রিফাতকে হত্যা করে। অন্যদিকে গল্পের রোস্তম তার বীরত্বের অহমবোধে অন্ধ হয়ে তরুণ বীরযোদ্ধা সোহরাবকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের মনির আর গল্পে রোস্তম আত্মমর্যাদার অহমবোধে অন্ধ হয়ে অন্যায়ভাবে রিফাত ও সোহবারাকে হত্যা করেছে। অতএব বলা যায় আত্মমর্যাদার অহমবোধই মানুষকে অন্যায় কাজ করতে উৎসাহিত করে।
প্রশ্ন -৫  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
শারমিনের বিয়ের বছর দুয়েক পর স্বামী রহমান চলে যান বিদেশে। স্বামী বিদেশ যাবার কয়েক মাসের মাথায় শারমিন একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। স্বামীকে কন্যা সন্তান জন্মের কথা জানালে বিমর্ষ হন রহমান। তার আশা ছিল পুত্র সন্তানের। বেশ কয়েক বছর বিদেশ থাকার পর দেশে ফিরে আসেন রহমান। স্বচক্ষে নিজ কন্যা সন্তান দেখার পর সব দুঃখ বেদনা ভুলে যান।
ক. কে পাখির বাসায় বড় হতে লাগল? ১
খ. সোহরাব রোস্তমকে ‘কাপুরুষ’ বলল কেন? ২
গ. উদ্দীপকটি ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের কোন দিকটিকে নির্দেশ করে, তা ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.“উদ্দীপকের রহমানের মতো রোস্তমকে সন্তান জন্মের সত্য ঘটনা জানানো হলে ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের পরিণতি ভিন্ন হতো।”Ñ বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৫নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. বীর জাল পাখির বাসায় বড় হতে লাগল।
খ. বীর রোস্তম অন্যায়ভাবে যুদ্ধরীতি ভঙ্গ করে প্রথম পরাজয়েই সোহরাবকে প্রাণে বধ করেছিলেন বলে সোহরাব তাকে কাপুরুষ বলে।
নিজেদের অজান্তেই যুদ্ধে লিপ্ত হয় রোস্তম ও তার পুত্র সোহরাব। ইরানের যুদ্ধের নিয়ম শত্রæকে পরপর দু’বার পরাজিত করে প্রাণে বধ করা। রোস্তম এই যুদ্ধরীতির কথা বলে সোহরাবের হাত থেকে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। কিন্তু রোস্তম নিজেই সেই রীতি ভঙ্গ করে প্রথম পরাজয়েই সোহরাবের বুকে তলোয়ার ঢুকিয়ে দেন। এটা ছিল যুদ্ধরীতি বিরোধী। তাই যন্ত্রণায় এবং ক্ষোভে ক্রন্দন করে সোহরাব রোস্তমকে কাপুরুষ বলে।
গ. উদ্দীপকে কন্যা সন্তান জন্মের পর পিতার বিমর্ষ হওয়ার ঘটনাটি ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের কন্যা সন্তান হওয়ার খবর পেয়ে রোস্তমের বিমর্ষ হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে।
‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পে রোস্তমের স্ত্রী তহমিনা পুত্রসন্তান জন্ম দেয়। কিন্তু সে তার স্বামী রোস্তমের কাছে দূত মারফত কন্যা সন্তানের সংবাদ পাঠায়। কন্যা সন্তানের খবর পেয়ে রোস্তম বিমর্ষ হন। কেননা তিনি পুত্রসন্তানের আশা করেছিলেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শারমিনের বিয়ের বছর দুয়েক পর স্বামী রহমান বিদেশ চলে যায়, কয়েক মাস পর শারমিন কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। কিন্তু কন্যা সন্তানের সংবাদ পেয়ে রহমান আশাহত হয়। তার আশা ছিল পুত্রসন্তানের। অর্থাৎ গল্পের রোস্তম এবং উদ্দীপকের রহমান উভয়ই পুত্র সন্তানের আশা করে কন্যাসন্তান হবার খবর পেয়ে বিমর্ষ হন।
ঘ. উদ্দীপকের রহমানের মতো রোস্তমকে সন্তান জন্মের সত্য ঘটনা জানানো হলে ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের পরিণতি ভিন্ন হতো।
গল্পে দেখা যায়, মহাবীর রোস্তমের পুত্র সোহরাব। কিন্তু তারা কেউ কাউকে চেনে না। ইরান-তুরানের যুদ্ধে তারা উভয়ে মুখোমুখি হয়। যুদ্ধের এক পর্যায়ে রোস্তম যুদ্ধরীতি ভঙ্গ করে সোহরাবকে হত্যা করেন। সোহরাবকে হত্যা করার পর তিনি জানতে পারলেন সোহরাব তার পুত্র। শুরু হয় বুকফাটা হাহাকার। কিন্তু সন্তান জন্মের সঠিক খবর যদি তিনি জানতেন তাহলে হয়তো নিজ সন্তানের সাথে দ্ব›দ্বযুদ্ধে মুখোমুখি হতেন না। আর দেশের স্বার্থে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেও অন্যায়ভাবে আত্মঅহংকারে নিজ সন্তানকে হত্যাও করতেন না। পিতা-পুত্রের পরিণতি হয়তো ইতিহাসে অন্যভাবে লেখা থাকত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, স্বামী রহমান কন্যাসন্তান হওয়ার কথা শুনে বিমর্ষ হন। কারণ তার আশা ছিল পুত্রসন্তানের। তবে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে নিজ চোখে কন্যাকে দেখে সব বেদনা ভুলে যান। কন্যার মুখ পিতার মাঝে জেগে ওঠে পিতৃস্নেহের অপত্য-আবেগ।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রহমানের মতো রোস্তমও যদি নিজ চোখে সন্তানের মুূখ দেখতে পেতেন, সন্তান জন্মের সঠিক খবর পেতেন তাহলে মহাবীরের হৃদয়েও হয়তো বীরের চেয়ে পিতৃস্নেহের পাল্লাটাই বেশি ভারী হতো। নিজ হাতে সন্তান বধ করার মতো নির্মম যন্ত্রণা তাকে সহ্য করতে হতো না।
প্রশ্ন-৬  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
শকুন্তলার বসবাস ছিল গভীর বনে। শিকার করতে এসে শকুন্তলার রূপলাবণ্যে মুগ্ধ হয়ে রাজা দুষ্মন্ত তাকে বিয়ে করেন। রাজা দুষ্মন্ত একদিন রাজকর্মের জরুরি প্রয়োজনে শকুন্তলাকে ফেলে চলে এলেন নিজ রাজ্যে। কাজের চাপে ভুলে গেলেন স্ত্রী ও সন্তানকে। কিছু কাল পরে শকুন্তলা রাজার মুখোমুখি হলে রাজা দুষ্মন্ত তাকে স্ত্রী পরিচয় দিতে অস্বীকার করেন।
ক. রোস্তমের মায়ের নাম কী? ১
খ. শাম কেন শিশুপুত্র জালকে আলবুরুজ পর্বতে রেখে এলেন? ২
গ. উদ্দীপকের রাজা দুষ্মন্তের সাথে ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের যে চরিত্রের সাদৃশ্য আছে তা ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.‘তহমিনা যেন শকুন্তলার যথার্থ প্রতিনিধি’  তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। ৪
 ৬নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. রোস্তমের মায়ের নাম রুদাবা।
খ. সাদা রঙের চুলওয়ালা ছেলে অভিশাপ ডেকে আনতে পারে এইরকম নানা আশঙ্কায় শাম নিজের হাতে নিজের পুত্রকে ফেলেন এলেন আলবুরুজ পর্বতে।
দেবতার আশীর্বাদে বীর শাম এক পুত্র লাভ করলেন। পরম আদরে তিনি পুত্রের নাম রাখলেন জাল। বলিষ্ঠদেহ জাল দেখতে সুন্দর কিন্তু তার মাথার সব চুল ধবধবে সাদা। সাদা রঙের চুলওয়ালা ছেলে অভিশাপ ডেকে আনতে পারে এই রকম নানা আশঙ্কার কথা শুনে শাম নিজের হাতে নিজের পুত্রকে ফেলে এলেন আলবুরুজ পর্বতে। পুত্রকে ফেলে এসে বীর শাম পুত্রশোকে কাতর হয়ে দিনাতিপাত করছিলেন।
গ. উদ্দীপকের রাজা দুষ্মন্তের সাথে ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের রোস্তম চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
সময়ের প্রয়োজন মেটাতে একজন জীবন সচেতন মানুষ সবসময় তৎপর থাকে। আবেগ-আকুলতা, প্রেম-ভালোবাসা তার কর্তব্য পালনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। নিজ কর্ম সম্পাদনে সে থাকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উদ্দীপকের রাজা দুষ্মন্ত এবং ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের রোস্তম এমনই ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পুরুষ।
উদ্দীপকের রাজা দুষ্মন্ত বনে শিকার করতে এসে তপোবনবাসিনী শকুন্তলার রূপলাবণ্যে মুগ্ধ হয়ে র্তাঁকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পরে একদিন তিনি রাজকর্মের জরুরি প্রয়োজনে সদ্যবিবাহিতা স্ত্রী শকুন্তলাকে রেখে নিজের রাজ্যে চলে যান সকল আবেগ-আকুলতাকে পিছনে ফেলে। এক্ষেত্রে রাজা দুষ্মন্তের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের রোস্তম চরিত্রের। মহাবীর রোস্তমও ভালোবেসে বিয়ে করেন সামেনগান অধিপতির কন্যা সুন্দরী তহমিনাকে। কিন্তু নিশাবসানের পূর্বেই মহাবীর রোস্তম প্রিয় স্ত্রীকে রেখে নিজের কর্তব্য পালনের জন্য ইরানের পথে চলে যান। স্ত্রীর ভালোবাসা, অভিমানের চোখের জল তাকে থামাতে পারে না। এখানেই উদ্দীপকের রাজা দুষ্মন্তের সাথে মহাবীর রোস্তম চরিত্রের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ. ‘তহমিনা যেন শকুন্তলার যথার্থ প্রতিনিধি’ হ্যাঁ, প্রশ্নের এই মন্তব্যের সাথে আমি একমত।
নারীরা স্বভাবতই কোমলপ্রাণ হয়। তাদের এই সহজাত প্রবৃত্তির জন্য অনেক সময় পুরুষের অনেক আচার-আচরণ নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও মেনে নেয়। নিজের কষ্ট বুকে জমা রেখেও পুরুষের ইচ্ছার সাথে তালমিলিয়ে চলার চেষ্টা করে। তহমিনা এবং শকুন্তলা এ ধরনের পরিস্থিতিরই শিকার।
‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের অপরূপ সুন্দরী কন্যা তহমিনা মহাবীর রোস্তমের বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ে করেন। তিনি স্বামী রোস্তমকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন ও শ্রদ্ধা করতেন। তিনি চেয়েছিলেন স্বামীকে সবসময় কাছে রাখতে। কিন্তু মহাবীর রোস্তম বিয়ের রাত ভোর হবার পূর্বেই কর্তব্যের খাতিরে স্ত্রীকে রেখে ইরানের পথে চলে যান। উদ্দীপকের শকুন্তলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখি।
শকুন্তলার রূপলাবণ্যে মুগ্ধ হয়ে রাজা দুষ্মন্ত তাকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পরপরই রাজকর্মের জরুরি প্রয়োজনে স্ত্রীকে রেখে তিনি রাজধানীতে ফিরে যান। শকুন্তলার চোখের জল রাজাকে আটকে রাখতে পারে না। শকুন্তলার এই মনঃকষ্টের প্রতিফলন দেখি গল্পের তাহমিনার মাঝেও। তাই বলা যায়, তহমিনা যেন শকুন্তলার যথার্থ প্রতিনিধি।

প্রশ্ন-৭  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ইমনের পিতা হাজের আলী ইমনের জন্মের আগেই তার মাকে ফেলে নিরুদ্দেশ হয়েছে। এদিকে ইমন বড় হয়েছে। মোড়লের পক্ষের লোক হয়ে সে চর দখল করে। এমনি এক লড়াইয়ে ইমনের লাঠির আঘাতে প্রতিপক্ষের হাজের আলী ধরাশয়ী হয়। হাজের আলী বিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করে তুমি কে? কে তোমার পিতা? হাজের আলী সন্তানের পরিচয় পেয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
ক. বীর রোস্তমের পিতামহের নাম কী? ১
খ. রোস্তম দ্ব›দ্বযুদ্ধে আপন পরিচয় গোপন করলেন কেন? ২
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য নির্ণয় কর। ৩
ঘ.উদ্দীপকে পিতা-পুত্রের পরিচয় ও আর্তনাদের মধ্যে ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের বিষয়বস্তু ফুটে উঠেছেÑ বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৭নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. বীর রোস্তমের পিতামহের নাম শাম।
খ. নিজের সম্মানহানি হতে পারে ভেবে দ্ব›দ্বযুদ্ধে রোস্তম আপন পরিচয় গোপন করলেন।
রোস্তম হলেন ইরানের স্বাধীনতা উদ্ধারকারী মহাবীর। তার সঙ্গে যুদ্ধ করতে এসে তুরানের সেনাপতি আফরাসিয়াবও প্রাণ নিয়ে পালিয়েছিলেন। আর তাকেই দ্ব›দ্বযুদ্ধে আহŸান করেছে তুরানের এক সামান্য বালক সোহরাব। ব্যাপারটি রোস্তমের কাছে হাস্যকর ও অপমানজনক মনে হয়েছিল। কিন্তু বালকটি সম্পর্কে নিজ কৌত‚হল দমন করতে না পেরে তিনি দ্ব›দ্বযুদ্ধে অংশ নেন। তবে সামান্য এক বালকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লড়লে তার সম্মানহানি হবে এই অহংকার থেকে সে নিজের পরিচয় গোপন রেখে দ্ব›দ্বযুদ্ধে নিজেকে মহাবীর রোস্তমের ভৃত্য বলে পরিচয় দিলেন।
গ. পরিচয় না থাকায় পিতা-পুত্রের পরস্পরের বিপরীতে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়টিতে উদ্দীপকের সাথে ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের সাদৃশ্য থাকলেও অন্যান্য বিষয়ে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
গল্পের মহাবীর রোস্তম বংশগতভাবেই বীরযোদ্ধা। তিনি যুদ্ধের ময়দানকে তার প্রকৃত স্থান এবং দেশকে শত্রæমুক্ত রাখা তার প্রধান কর্তব্য বলে ভাবতেন। নিজ স্ত্রী বা সন্তানের প্রতি তিনি তার কোনো কর্তব্য পালন করেননি। এমনকি পরিচয় না থাকায় অহংকারের বশবর্তী হয়ে দ্ব›দ্বযুদ্ধে সে যুদ্ধের রীতি ভঙ্গ করে নিজের একমাত্র সন্তান সোহরাবকে হত্যা করে। কিন্তু সে যখন তার সন্তানকে চিনতে পারে তখন তার অনুশোচনার কোনো সীমা থাকে না।
উদ্দীপকে হাজের আলীও তার সাংসারিক কোনো কর্তব্য পালন করেনি। পরিচয় না থাকায় সেও চর দখলের জন্য পুত্র ইমনের বিপরীতে লড়াই করে। লড়াইয়ে ইমনের লাঠির আঘাতে সে ধরাশায়ী হয় এবং মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে সন্তানের পরিচয় পেয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে। সুতরাং পিতা-পুত্রের মধ্যে পরিচয় না থাকা এবং পরস্পরের বিপরীতে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়ে উদ্দীপকের সাথে ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের সাদৃশ্য থাকলেও বংশগত বীরত্ব, যুদ্ধের কারণ, ফলাফল ইত্যাদি নানা বিষয়ে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ. “উদ্দীপকে পিতা-পুত্রের পরিচয় ও আর্তনাদের মধ্য দিয়েই ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের বিষয়বস্তু ফুটে উঠেছে”Ñ উক্তিটি যথার্থ।
গল্পে মহাবীর রোস্তম যুদ্ধক্ষেত্রকে তার প্রকৃত স্থান ভাবতেন বলে বিয়ের পর স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে নিজ দেশে ফিরে আসেন। দেশরক্ষার কর্তব্যের চাপে সে তার স্ত্রী সন্তানের প্রতি কোনো কর্তব্য পালন করতে পারেনি। তাই নিজের একমাত্র পুত্রকে সে কাছে পেয়েও চিনতে পারেনি। উপরন্তু অহংকারের বশবর্তী হয়ে সে যুদ্ধরীতি ভঙ্গ করে তাকে হত্যা করে। সোহরাবের মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে তার পরিচয় পেয়ে অনুশোচনায় রোস্তম হাহাকার ও আর্তনাদ করে ওঠে।
উদ্দীপকে হাজের আলী ইমনের জন্মের পূর্বে নিরুদ্দেশ হয় এবং স্ত্রী-সন্তানের কোনো খোঁজ রাখেনি। পরিচয় না থাকায় চর দখলকে কেন্দ্র করে ইমন ও হাজের আলীর মধ্যে তুমুল লড়াই হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ইমনের লাঠির আঘাতে হাজের আলী ধরাশায়ী হয়। মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে হাজের আলী পুত্র ইমনের পরিচয় জানতে পারলে তার মধ্যে হাহাকার সৃষ্টি হয়। সে আর্তনাদ করে পুত্র ইমনকে বুকে জড়িয়ে ধরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
সুতরাং পিতার সাংসারিক কর্তব্যে অবহেলার দরুন পিতার সাথে পুত্রের পরিচয় না থাকায় তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় এবং পুত্রের লাঠির আঘাতে পিতার মৃত্যু ঘটার পূর্বমুহূর্তে পরিচয় পেয়ে তাদের মধ্যে হাহাকার ও আর্তনাদ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে গল্পের বিষয়বস্তু ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন-৮  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ইরানের বাগদাদ শহরে নিয়াজ আলী নামে এক ব্যবসায়ী বাস করতেন। তার ছিল প্রচুর ধনসম্পদ কিন্তু সন্তান না থাকায় তার মনে অনেক দুঃখ ছিল। তার মৃত্যুর পর কে ভোগ করবে এত বিষয়-সম্পত্তি। তাই তিনি একটি পুত্র-সন্তানের জন্য ব্যাকুল হয়ে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান। দিনরাত আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করেন। অবশেষে আল্লাহর অশেষ করুণায় তার ঘরে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। নিয়াজ আলী তার সব দুঃখ ভুলে গিয়ে সন্তানের নাম রাখেন নিয়ামত আলী।
ক. কোন পাখি শিশু জালকে তার ঠোঁটে ঝুলিয়ে নিয়ে গেল? ১
খ. বীর জালের বুক কেন গর্বে ফুলে উঠল? ২
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের সাদৃশ্যÑ বৈসাদৃশ্য নির্ণয় কর। ৩
ঘ.“উদ্দীপকটি ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের সমগ্র ভাব ধারণ করে না।” মতের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর। ৪
 ৮নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. সি-মোরগ পাখি শিশু জালকে তার ঠোঁটে ঝুলিয়ে নিয়ে গেল।
খ. বীর জালের বুক পুত্র রোস্তমের সোপান্দী দুর্গ জয়ের গৌরবে ফুলে উঠল।
শৈশবেই রোস্তমের মধ্যে বীরত্বের সকল লক্ষণ ফুটে উঠেছিল। সে তেজি ঘোড়ায় চড়ে দুরন্ত বেগে ছুটতে আর গদা ও গর্জ নিয়ে যুদ্ধ করতে ভালোবাসত। সে গদা নিয়ে পাগলা হাতির মুখোমুখি হয়ে এক আঘাতে তাকে ধরাশয়ী করে ফেলত। তার পিতা জঙ্গল সোপান্দি দুর্গ আক্রমণ করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। মহাবীর রোস্তম কৌশলে সেই দুর্গে প্রবেশ করে দুর্গের সরদার ও সিপাহিদের হত্যা করে পিতামহের হত্যার প্রতিশোধ নেন। পুত্রের এই বীরত্বে বীর জালের বুক গর্বে ফুলে উঠল।
গ. দেবতার মন্দিরে মাথা ঠুকে তার আশীর্বাদে বীর শামের পুত্র সন্তান লাভ ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের এই দিকটির সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য থাকলেও অন্যান্য বিষয়ে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের নিয়াজ আলী বাগদাদের একজন ধনী ব্যবসায়ী। নিঃসন্তান হওয়ার কারণে প্রচুর ধনসম্পদ থাকা সত্তে¡ও তার মনে কোনো সুখ ছিল না। তাই তিনি ব্যাকুলভাবে আল্লাহ্র দরবারে কান্নাকাটি করে একটি পুত্রসন্তান লাভ করেন। ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পে ইরানের বীর শামের মনে পুত্র সন্তানের অভাবে অনেক দুঃখ ছিল। তাই তিনি দেবতার মন্দিরে পুত্রসন্তানের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন এবং দেবতার আশীর্বাদে এক বীর পুত্র সন্তান লাভ করেছিলেন।
অতএব, স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করে পুত্রসন্তান লাভের বিষয়টিতে উদ্দীপকের সাথে ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের সাদৃশ্য থাকলেও বীর সন্তান লাভ, সাদা চুলের জন্য পুত্রকে ফেলে আসা, আবার তাকে ফেরত পাওয়া প্রভৃতি বিষয়ের সাথে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের সমগ্র ভাব ধারণ করে না।”-এ উক্তিটি যথার্থ।
‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পে ইরানের বীর শামের মনে পুত্র সন্তানের অভাবে অনেক দুঃখ ছিল। তাই তিনি দেবতার মন্দিরে একটি পুত্র সন্তান লাভের জন্য অনেক প্রার্থনা জানিয়েছিলেন এবং দেবতার আশীর্বাদে এক বীর পুত্র সন্তান লাভ করেছিলেন।
উদ্দীপকের নিয়াজ আলী প্রচুর ধনসম্পদের অধিকারী হওয়া সত্তে¡ও পুত্র সন্তানের অভাবে তার মনে কোনো সুখ ছিল না। তাই তিনি আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে একটি পুত্র সন্তান লাভ করেন।
উদ্দীপকটি ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের শুধু এই বিষয়টিরই ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু গল্পের ঘটনা শুধু এ বিষয়টির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেবতার আশীর্বাদে বীর সন্তান লাভ এবং অভিশাপের ভয়ে পুত্রকে ফেলে আসা, তার জন্য আহাজারি করা, আবার তাকে ফিরে পাওয়া প্রভৃতি ঘটনা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের সমগ্র ভাব ধারণ করে না।
প্রশ্ন-৯  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সুলতান সফিউদ্দীন বিয়ের ষোলো বছর পর এক পুত্রসন্তান লাভ করেন। পুত্রের নাম রাখেন বাহাউদ্দীন। বাল্যকালেই বাহাউদ্দীনের বীরত্বের নানা লক্ষণ ফুটে ওঠে। সে গভীর অরণ্যে তেজি ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়ায়। অরণ্যের পশুপাখি তার খেলার সাথী, সে সহজেই হাতির শুঁড় ধরে নাচতে থাকে। হিংস্র বাঘের মুখে থাবা মারে। নিজ বাহু বলেই উট, হরিণ শিকার করে। উট-হরিণের মাংস ছাড়া তার ক্ষুধা মেটে না। পিপাসা নিবারণ করতে দুই হাঁড়ি উটের দুধ পান করে। পাঁচটি হরিণের মাংসের কাবাব দিয়ে সে সকালের নাস্তা সারে। এসব লক্ষণ দেখে সফিউদ্দীন ভয় পেয়ে অমঙ্গলের আশঙ্কায় পুত্র বাহাউদ্দীনকে পালিত মায়ের আশ্রয়ে রেখে আসে।
ক. রোস্তমের দুরন্ত ঘোড়ার নাম কী ছিল? ১
খ. তহমিনা রোস্তমকে কন্যা সন্তান ভ‚মিষ্ঠ হওয়ার খবর পাঠাল কেন? ২
গ. সুলতান সফিউদ্দীনের সাথে ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের কার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.“উদ্দীপকে বর্ণিত বাহাউদ্দীন যেন ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের রোস্তমেরই অনুরূপ চরিত্র উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর। ৪
 ৯নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. রোস্তমের দুরন্ত ঘোড়ার নাম ছিল রখ্শ।
খ. ছেলেকে নিজের বুকে আগলে রাখার আকাক্সক্ষা থেকেই তহমিনা কন্যা সন্তান ভ‚মিষ্ঠ হওয়ার সংবাদ পাঠায়।
মহাবীর রোস্তমের স্ত্রী তহমিনা তার স্বামী হারানোর বেদনা ভুলে থাকার জন্য পুত্রসন্তান কামনা করেছিল। পুত্র যেন তাকে ছেড়ে চলে না যায় সেজন্য তহমিনা স্বামী রোস্তমকে মিথ্যা সংবাদ দিয়েছিল যে কন্যাসন্তান ভ‚মিষ্ঠ হয়েছে।
গ. সুলতান সফিউদ্দীনের সাথে ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের বীর শামের সাদৃশ্য রয়েছে।
‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের শাম দেবতার আশীর্বাদে একটি পুত্র সন্তান লাভ করলেন। এই পুত্র জালের মাথার সব চুল ধবধবে সাদা হওয়ায় শাম অভিশাপের আশঙ্কা করেন। তাই নিজ হাতে পুত্রকে তিনি আলবুরুজ পর্বতে ফেলে আসে। উদ্দীপকের সুলতান সফিউদ্দীনও বিয়ের অনেক বছর পর একটি পুত্রসন্তান লাভ করেন। কিন্তু এই সন্তানের সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য দেখে তিনি অমঙ্গলের আশঙ্কা করেন। তাই অমঙ্গল এড়ানোর জন্য তিনি পুত্রসন্তানটিকে পালিত মায়ের আশ্রয়ে রেখে আসেন। তাই বলা যায়, পুত্র সন্তানের অমঙ্গল আশঙ্কার দিক দিয়ে উদ্দীপকের সুলতান সফিউদ্দীনের সাথে ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের বীর শামের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. ‘উদ্দীপকে বর্ণিত বাহাউদ্দীন যেন ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের রোস্তমেরই অনুরূপ চরিত্র’Ñ উক্তিটি যথাযথ।
‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পে রোস্তমের চরিত্রে নানা রকম বীরত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য শৈশবকালেই দেখা গিয়েছিল। সে ছোটবেলায় তেজি ঘোড়ায় চড়ে দুরন্ত বেগে ছুটত এবং গদা ও গর্জ নিয়ে যুদ্ধ করতে ভালোবাসত। সামান্য খাবারে তার ক্ষুধা মিটত না। এক দাইমায়ের দুগ্ধ পান করে তার তৃষ্ণা নিবারণ হতো না। পাঁচটি ছাগলের মাংসের কাবাব দিয়ে সে প্রাতরাশ সম্পূর্ণ করত।
উদ্দীপকের বালক বাহাউদ্দীনের মধ্যেও বীরত্বের সব লক্ষণ ফুটে উঠেছে। সেও তেজি ঘোড়ায় চড়ে গভীর অরণ্যে ঘুরে বেড়ায়। বনের পশুপাখির সাথে খেলা করে। সে হাতির শুঁড় ধরে নাচানাচি করে, হিংস্র বাঘের মুখে থাবা মারে, নিজের বাহু বলে বনের পশু শিকার করে। তার তৃষ্ণা ও ক্ষুধা নিবারণের জন্য প্রচুর পানীয় ও খাদ্যের প্রয়োজন হয়।
তাই বীরত্ব ও সাহসিকতার সকল ক্ষেত্র বিবেচনা করে বলা যায়, উদ্দীপকের বাহাউদ্দীন ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের রোস্তমেরই অনুরূপ।

প্রশ্ন-১০  নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মুসলিম বিশ্বের অন্যতম সেনাপতি ইব্রাহিম কার্দি তার ব্যক্তিত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা ও দায়বদ্ধতার কারণে মারাঠাদের পক্ষে মুসলিম শিবিরের বিপক্ষে যুদ্ধ করেন। মুসলিম শিবিরের অন্যতম প্রধান ছিলেন তার স্ত্রী জোহরা। জোহরা তার ভালোবাসা দিয়ে বারবার চেষ্টা করেছে ইব্রাহিম কার্দিকে মুসলমানদের পক্ষে নেয়ার কিন্তু কার্দির দায়িত্বশীলতা জোহরাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ হলে ভালোবাসাকে ছিন্নভিন্ন করে কার্দির মৃত্যুযন্ত্রণা সহ্য করতে হয় জোহরাকে।
ক. রাজা ইরিজির মেয়ের নাম কী? ১
খ. রাজা কায়কাউস মাজেন্দ্রানে বন্দি হলেন কেন? ২
গ. উদ্দীপকের কোন বিষয়টি ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ.‘ভালোবাসা, স্নেহ যুদ্ধ অপেক্ষা অনেক বড়’Ñ উক্তিটি উদ্দীপক ও ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪
 ১০নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. রাজা ইরিজির মেয়ের নাম পরীচেহের।
খ. রণকৌশলে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা না থাকার কারণেই মাজেন্দ্রানে বন্দি হন রাজা কায়কাউস।
কায়কাউস ছিলেন খেয়ালি এবং চাটুকারিতাপ্রিয়। চাটুকারদের প্রশংসায় বিভ্রান্ত হয়ে তিনি সঠিক খোঁজখবর ছাড়াই মাজেন্দ্রান জয় করতে ছুটে যান। কিন্তু মাজেন্দ্রানের রাজা প্রতিবেশী বন্ধু সফেদ দৈত্যের সহায়তায় কায়কাউসের বিশাল সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে রাজা কায়কাউসকে বন্দি করে রাখে।
গ. অতি আপনজনের বিরুদ্ধে দ্ব›েদ্ব লিপ্ত হওয়া এবং আপনজন হারানোর অনুভ‚তি প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপকটি ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
গল্পে ইরানের মহাবীর রোস্তম ও তার পুত্র সোহরাবের যুদ্ধ করার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। দেশপ্রেমিক রোস্তম যুদ্ধ করে নিজের দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করেছেন। তিনি মনে করতেন বীরের প্রকৃত স্থান যুদ্ধের ময়দান। তাই ইরান-তুরান যুদ্ধে নিজেদের অজান্তেই যুদ্ধে লিপ্ত হন রোস্তম ও তার পুত্র সোহরাব। কিন্তু রোস্তমের অন্যায় প্রতিশোধ স্পৃহার কারণে করুণ মৃত্যু ঘটে সোহরাবের। পুত্রের পরিচয় জানলে বীর রোস্তমের আত্মঅহংকারের পতন ঘটে এবং বুকের ভিতর হাহাকার করে ওঠে।
উদ্দীপকেও তেমনি যুদ্ধে লিপ্ত হয় স্বামী ইব্রাহিম কার্দি ও স্ত্রী জোহরা। সচেতনভাবে হলেও যুদ্ধের ময়দানে তারা একে-অপরের শত্রæ। তাই যুদ্ধের ময়দানে ইব্রাহিম কার্দির মৃত্যু হলে ভালোবাসাকে ছিন্নভিন্ন করে স্বামীর মৃত্যুযন্ত্রণা সহ্য করতে হয় জোহরাকে। অর্থাৎ দেশপ্রেমের তাগিদেই পিতা-পুত্র এবং স্বামী-স্ত্রী কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান নেয়। জেনে বা না জেনে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেও রোস্তম ও সোহরাব এবং ইব্রাহিম কার্দি ও জোহরার মধ্যে যুদ্ধের ক‚টকৌশল প্রকাশ পেলেও আপনজন হারানোর বেদনায় তারা একই আবেগে ছিন্নভিন্ন হয়েছে।
ঘ. ভালোবাসা ও স্নেহ যে যুদ্ধ অপেক্ষা অনেক বেশি মূল্যবান তা আলোচ্য উদ্দীপক এবং ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্প থেকে স্পষ্ট।
যুদ্ধ প্রায়শই মানুষের জীবন থেকে কেড়ে নেয় তার অতি স্নেহের ও ভালোবাসার ধন। যুদ্ধ এক সময় থেমে যায়। কিন্তু আপনজন হারানোর ক্ষতি মানুষকে বয়ে বেড়াতে হয় আজীবন।
উদ্দীপক এবং ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পে এই সমধর্মী বিষয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পে যুদ্ধের পটভ‚মি রোস্তমের মনে যে আত্মমর্যাদাবোধের জন্ম দেয় তার ফলেই তার কাছে অজানা রয়ে যায় পুত্রের পরিচয়। সবশেষে যখন সে পুত্রের পরিচয় পায় ততক্ষণে যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে তার প্রাণপ্রিয় পুত্রের জীবন। উদ্দীপকেও জোহরা ও ইব্রাহীম কার্দির ভালোবাসার মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে যুদ্ধ। পরস্পরবিরোধী শিবিরে তাদের অবস্থান হওয়ার কারণে প্রবল ভালোবাসা থাকা সত্তে¡ও তাদের মিলন সম্ভব হয়নি।
উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, উদ্দীপকের জোহরা এবং গল্পের রোস্তমের কাছ থেকে তাদের প্রাণপ্রিয় আপনজনকে কেড়ে নিয়েছে যুদ্ধ। যুদ্ধের চেয়ে স্নেহ-ভালোবাসার মূল্য যে অনেক বেশি সেই সত্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উদ্দীপক ও গল্পের করুণ পরিণতির মাধ্যমে।

সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক

প্রশ্ন-১১ ল্ফ প্রবল বিক্রমে বাংলার দুই বীর সেনানী মোগল সেনাপতি মানসিংহ ও বারভূঁইয়ার প্রধান ঈশা খাঁ লড়াই করছেন। ঈশা খাঁর প্রচÐ আক্রমণে মানসিংহের তরবারি দ্বিখÐিত হয়। যুদ্ধরীতির প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে ঈশা খাঁ তাকে আঘাত বা বন্দি না করে নিজের কাছে থাকা আরেকটি তরবারি মানসিংহকে এগিয়ে দিলেন। মানসিংহ ঈশা খাঁর মহানুভব আচরণে স্তম্ভিত হলেন এবং তরবারি না ধরে পরাজয় মেনে নেয়ার ঘোষণা দিলেন।
ক. রোস্তমের স্ত্রীর নাম কী? ১
খ. রোস্তম তহমিনাকে কাঁদতে নিষেধ করেছিল কেন? ২
গ. ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের কোন ঘটনার সাথে উদ্দীপকের ঘটনার মিল খুঁজে পাওয়া যায় তা ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ‘উদ্দীপকের ঈশা খাঁ গল্পের রোস্তমের তুলনায় শ্রেষ্ঠ বীর ও মহানুভব’ উক্তিটি বিশ্লেষণ কর। ৪
প্রশ্ন-১২ ল্ফ বাংলাদেশের বিশাল অংশ সীমান্ত। এসব সীমান্তে বিএসএফ গুলি চালায়। কখনো কখনো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে গুলি চালানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। পত্রিকায় প্রকাশিত এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, বিএসএফের গুলিতে সীমান্ত এলাকায় গড়ে প্রতি মাসে ৫ জন বাংলাদেশি নিহত হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত এর কোনো প্রতিকার হচ্ছে না বা এই নৃশংস ঘটনা থামছে না। এই প্রেক্ষাপটে বিজিবি মহাপরিচালক স্পষ্টভাবে বলেছেন, আমরা মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করব না। ভারতের একজন অবৈধভাবে প্রবেশ করলে আমরা তাকে গুলি করি না বলেই আমাদের মানবাধিকারের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
ক. তুরানের রাজকুমারের নাম কী? ১
খ. ‘আমি আপনার সঙ্গে যুদ্ধ করব না।’Ñ সোহরাবের এ উক্তির কারণ কী? ২
গ. উদ্ধৃতাংশের বিজিবি মহাপরিচালকের সংলাপের সাথে ‘সোহরাব-রোস্তম’ গল্পের পরিণতি মূল্যায়ন কর। ৩
ঘ. উদ্ধৃতাংশের আলোকে সোহরাব চরিত্রটি বিশ্লেষণ কর। ৪
প্রশ্ন-১৩ ল্ফ জীবিকার তাগিদে কামাল স্ত্রী কন্যাকে দেশে রেখে বিদেশে পাড়ি জমান। দীর্ঘদিন তিনি স্ত্রী কন্যার কোনো খোঁজখবর রাখেননি। বছর দশেক পর দেশে ফিরে ঘটনাক্রমে তিনি হাসপাতালে যান এবং দেখতে পান একটি মেয়ে মৃত্যুশয্যায় কাতরাচ্ছে। তার গলায় একটি চেইন। চেইনটি দেখে তার স্মরণে আসে এটি স্ত্রীকে দেয়া তারই উপহার।
ক. ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পটি বাংলায় রূপান্তর করেন কে? ১
খ. ‘মিথ্যা কথা, আমার কোন পুত্র সন্তান নেই’উক্তিটি মহাবীর রোস্তম কেন করেছিলেন? ২
গ. উদ্দীপকের কামাল ও গল্পের রোস্তম চরিত্রের মধ্যে কোথায় মিল খুঁজে পাওয়া যায় ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ‘স্মরণে আসে, চেইনটি স্ত্রীকে দেয়া তারই উপহার’ ‘সোহরাব রোস্তম’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর। ৪

অনুশীলনের জন্য দক্ষতাস্তরের প্রশ্ন ও উত্তর

  জ্ঞানমূলক  
প্রশ্ন \ ১ \ সি-মোরগ কী?
উত্তর : সি-মোরগ হচ্ছে এক প্রজাতির পাখি।
প্রশ্ন \ ২ \ ফেরিদুর কোন দেশের রাজা ছিলেন?
উত্তর : ফেরিদুর ইরান দেশের রাজা ছিলেন।
প্রশ্ন \ ৩ \ শাম কোন রাজার সৈন্যদলের নামকরা যোদ্ধা ছিলেন?
উত্তর : শাম রাজা মনুচেহের সৈন্যদলের নামকরা যোদ্ধা ছিলেন।
প্রশ্ন \ ৪ \ বীরযোদ্ধা শামের মনে দুঃখ ছিল কেন?
উত্তর : পুত্রসন্তান না থাকার কারণে বীরযোদ্ধা শামের মনে দুঃখ ছিল।
প্রশ্ন \ ৫ \ শাম নিজ পুত্র জালকে কোথায় ফেলে আসলেন?
উত্তর : শাম নিজ পুত্র জালকে আলবুরুজ পর্বতে ফেলে আসলেন।
প্রশ্ন \ ৬ \ বাদশা মনুচেহ জালকে কী উপহার দিলেন?
উত্তর : বাদশা মনুচেহ জালকে তেজি ঘোড়া উপহার দিলেন।
প্রশ্ন \ ৭ \ জাবুলিস্তান আক্রমণের জন্য রোস্তম কেমন পোশাক পরিধান করেছিলেন।
উত্তর : জাবুলিস্তান আক্রমণের জন্য রোস্তম রংধনু রঙের রেশমি পোশাক পরিধান করেছিলেন।
প্রশ্ন \ ৮ \ রাজা কায়কাউস দৈত্যদের রাজ্য জয় করতে গিয়েছিলেন কেন?
উত্তর : চাটুকারদের প্রশংসায় বিভ্রান্ত হয়ে রাজা কায়কাউস দৈত্যদের রাজ্য জয় করতে গিয়েছিলেন।
প্রশ্ন \ ৯ \ তুরানের রাজপ্রাসাদে রোস্তম বিমোহিত হয়েছিলেন কেন?
উত্তর : তুরানের রাজপ্রাসাদে স্নিগ্ধ সরল সুন্দরীর রূপমাধুর্যে রোস্তম বিমোহিত হয়েছিলেন।
প্রশ্ন \ ১০ \ মহাবীর রোস্তম কী দিয়ে প্রাতরাশ সম্পন্ন করতেন?
উত্তর : মহাবীর রোস্তম পাঁচটি ছাগলের মাংসের কাবাব দিয়ে প্রাতরাশ সম্পন্ন করতেন।
  অনুধাবনমূলক  
প্রশ্ন \ ১ \ রোস্তমের বংশ পরিচয় কী?
উত্তর : প্রাচীন ইরানের সৈন্যদলের নামকরা বীরযোদ্ধা ছিলেন শাম।
শামের পুত্রের নাম হলো জাল। যুবরাজ জাল ছিল ইরানের বাদশাহ মনুচেহের খুব প্রিয়পাত্র। যুবরাজ জাল একবার কাবুল রাজ্যে বেড়াতে গেলে কাবুল রাজ মেহেরাবের পরমাসুন্দরী কন্যা রুদাবার সাথে প্রণয় হয়। কিছুদিনের মধ্যে জাল আর রুদাবা এক শক্তিমান ও বলবান পুত্র সন্তান লাভ করলেন। তাদের এই সন্তানই মহাবীর রোস্তম।
প্রশ্ন \ ২ \ রোস্তম সোহরাবকে কীভাবে চিনতে পেরেছিল?
উত্তর : সোহরাবের বাহুতে নিজের নাম স্বাক্ষর করা তাবিজ দেখে রোস্তম সোহরাবকে চিনতে পারল।
রোস্তমের যুদ্ধরীতি বহিভর্‚ত আঘাতে মৃত্যু পথযাত্রী সোহরাব বলল, তুমি অন্যায় যুদ্ধে প্রথম পরাজয়ে আমাকে প্রাণে বধ করলে, কিন্তু এ সংবাদ যখন আমার বাবা জানতে পারবেন তখন, তিনি তোমাকে ক্ষমা করবেন না। মহাবীর রোস্তম তখন বললেন, কে তোমার বাবা? অবসন্ন সোহরাব বললেন, মহাবীর রোস্তম আমার বাবা আর সামেনগান অধিপতির কন্যা তহমিনা আমার মা। রোস্তম আর্তনাদ করে বলল, মিথ্যে কথা, আমার কোনো পুত্র নেই। তহমিনা আমাকে সংবাদ দিয়েছে, আমার কন্যা সন্তান হয়েছে। সোহরাব তার হাত তুলে দেখাল, সেখানে রোস্তমের দেওয়া তাবিজ বাঁধা রয়েছে। এভাবেই নিজের নাম স্বাক্ষর করা তাবিজ দেখে রোস্তম সোহরাবকে চিনতে পেরেছিলেন।
প্রশ্ন \ ৩ \ মহাবীর রোস্তম কেন সামেনগান শহরে গিয়েছিলেন?
উত্তর : মহাবীর রোস্তম তার প্রিয় ঘোড়া রখ্শকে খুঁজতে সামেনগান শহরে গিয়েছিলেন।
ইরানের মহাবীর রোস্তম ছেলেবেলা থেকেই ছিলেন অসীম সাহসী আর বীরত্বের অধিকারী। তার প্রিয় ঘোড়া রখ্শ ছিল যেমনই দুরন্ত তেমনই অবাধ্য। আর এই কারণেই সে ছিল রোস্তমের সবচেয়ে প্রিয়। রোস্তম একদিন রখ্শের পিঠে চড়ে শিকারে বের হয়েছিল। ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে রোস্তম তুরানের কাছে এক জঙ্গলের ভিতর একটা বড় গাছের নিচে ঘুমিয়ে পড়ে। রাতে একদল তুরানি সেই পথ ধরে যাবার সময় রখ্শকে চুরি করে নিয়ে যায়। সকালে রোস্তমের ঘুম ভাঙলে তিনি জঙ্গলের ভিতর কোথাও রখ্শকে খুঁজে পাননি। পরে বনের প্রান্তে ধুলার মধ্যে রখ্শের খুরের দাগ দেখে তিনি বুঝতে পারেন তুরানি ঘোড়া চোরেরা তার রখ্শকে নিয়ে পালিয়েছে। তাই খুরের দাগ অনুসরণ করে ক্রোধে উন্মত্ত মহাবীর রোস্তম রখ্শকে খুঁজতে তুরানের সামেনগান শহরে গিয়েছিলেন।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply