এইচএসসি ব্যবসায় উদ্যোগ চতুর্থ অধ্যায় সংগঠিতকরণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়-৪: সংগঠিতকরণ

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন১ মি. জামান তার প্রতিষ্ঠানে নির্বাহীদেরকে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষজ্ঞ ব্যবহার করেন। আবার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যবস্থাপক প্রত্যক্ষভাবে কতজন অধস্তনের কাজ দেখাশোনা করবেন তাও ঠিক করে দেন। এতে নির্বাহীদের কার্যভার লাঘব হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জন সহজ হয়। [ঢা. বো., কু. বো. ১৭]
অ ক. কার্যভিত্তিক সংগঠনের প্রবক্তা কে? ১
অ খ. দ্বৈত অধীনতা সংগঠনে পরিহার করতে হয় কেন? ২
অ গ. উদ্দীপকে কোন ধরনের সংগঠন বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. কার্য পরিচালনায় সংগঠনের যে নীতির সুষ্ঠু ব্যবহার উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে সফলতা এনেছে তা বিশ্লেষণ করো। ৪
১ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক কার্যভিত্তিক সংগঠনের প্রবক্তা হলেন ফ্রেডেরিক উইন্সলো টেলর (ঋৎবফবৎরপশ ডরহংষড়ি ঞধুষড়ৎ)
মখ একজন কর্মী একই সাথে একাধিক ঊর্ধ্বতনের অধীনে থাকলে তাকে দ্বৈত অধীনতা বলে।
সংগঠন প্রক্রিয়ায় কে কার অধীন, তা উলে­খ করা হয়। এক্ষেত্রে যদি কোনো ব্যক্তি বা বিভাগকে একাধিক ঊর্ধ্বতনের কর্তৃত্বাধীন করা হয়, তবে ঐ অধস্তনের পক্ষে একাধিক ঊর্ধ্বতনের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন সম্ভব হয় না। এতে কার্যক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তাই সংগঠনে দ্বৈত অধীনতা পরিহার করা উচিত।
মগ উদ্দীপকে সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠন বিদ্যমান।
এ সংগঠন কাঠামোতে সরলরৈখিক নির্বাহীকে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষজ্ঞ কর্মী নিয়োগ করা হয়। এ ধরনের সংগঠন কাঠামোতে সরলরৈখিক কর্মকর্তাগণ নির্বাহীর ক্ষমতা ভোগ করলেও উপদেষ্টাগণ শুধু পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন।
উদ্দীপকে মি. জামান তার প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের কার্যভার লাঘব করার জন্য বিশেষজ্ঞ কর্মী নিয়োগ দান করেন। এ বিশেষজ্ঞ কর্মী নির্বাহীকে শুধু পরামর্শ দেন কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কোনো সিদ্ধান্ত তিনি দিতে পারেন না। তাছাড়া নির্বাহী কর্মকর্তাদের ওপর কোনোরূপ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারেন না। উক্ত সংগঠন কাঠামোর সাথে সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠনের মিল পাওয়া যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠন বিদ্যমান।
মঘ কার্য পরিচালনায় উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে সংগঠনের কাম্য পরিসর নির্ধারণের নীতি ব্যবহৃত হয়েছে।
এ নীতি অনুযায়ী একজন নির্বাহীর সরাসরি তত্ত¡াবধানে কতজন অধস্তন থাকবে তা নির্ধারণ করা হয়। একজন নির্বাহীর প্রত্যক্ষ তত্ত¡াবধানে কাম্য সংখ্যক অধস্তনের কাজ সঠিকভাবে তত্ত¡াবধান করার জন্য এ নীতি ব্যবহার করা হয়।
উদ্দীপকে মি. জামান তার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যবস্থাপক প্রত্যক্ষভাবে কতজন অধস্তনের কাজ দেখাশোনা করবেন তা নির্ধারণ করে দেন। এতে নির্বাহীদের কার্যভার লাঘব হয়। তারা তাদের অধীনস্থ কর্মীদের কাজ সরাসরি তদারক করতে পারেন, ভুল-ত্র“টি হলে শুধরে দিতে পারেন।
একটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে নিযুক্ত প্রত্যেক নির্বাহী প্রত্যক্ষভাবে কতজন অধস্তনের কাজ তত্ত¡াবধান করবেন তা সংগঠন কাঠামোতে নির্দিষ্ট করা হয়। এতে নির্বাহী সঠিকভাবে তার অধস্তনদের কাজ তত্ত¡াবধান করতে পারেন। উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটিতেও একজন নির্বাহী কতজন অধস্তনের কাজ দেখাশোনা করবেন তা নির্ধারণ করে দেন। এতে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জন সহজ হয়। তাই বলা যায়, কার্য পরিচালনায় সংগঠনের কাম্য পরিসরের নীতির সুষ্ঠু ব্যবহার উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে সফলতা এনেছে।
মমমপ্রশ্ন২ দীর্ঘদিন বিদেশে চাকরি শেষে দেশে ফিরে মোবারক সাহেব গ্রামে একটি ডেইরি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ফার্মটিতে ৫০ জন লোক নিয়োজিত। বি.কম ডিগ্রিধারী একজন ব্যবস্থাপক হিসাবরক্ষণসহ সার্বিক বিষয় দেখাশোনা করেন। পশুপালন বিষয়ে দক্ষ কেউ না থাকায় প্রায়শই জটিল সমস্যা দেখা দেয়। এমতাবস্থায় মোবারক সাহেব গ্রামের একজন অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা পশুপালন কর্মকর্তাকে বিশেষজ্ঞ হিসেবে খণ্ডকালীন নিয়োগ দান করেন। [রা. বো. ১৭]
অ ক. কমিটি কী? ১
অ খ. সংগঠন চার্ট পুরো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কীভাবে ধারণা দেয়? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. উদ্দীপকে উলি­খিত মোবারকের ফার্মে প্রথম পর্যায়ে কোন ধরনের সংগঠন কাঠামো বিদ্যমান ছিল? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. পরিবর্তিত নতুন সংগঠন কাঠামোটি চিহ্নিত করো এবং পরিবর্তনের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো। ৪
২ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো সমস্যার সমাধান বা বিশেষ কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বভার একাধিক ব্যক্তির ওপর অর্পণ করা হলে ঐ ব্যক্তিবর্গের সমষ্টিকে কমিটি বলে।
মখ একটা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিভিন্ন ব্যক্তি, বিভাগ ও উপবিভাগের মধ্যকার সম্পর্ককে একটা চিত্রে উপস্থাপন করা হলে তাকে সংগঠন চার্ট বলে।
সংগঠন চার্টে প্রতিষ্ঠানের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত কর্মীর অবস্থান, পদ, বিভাগ ও উপবিভাগ সম্পর্কে জানা যায়। এতে কে কার সরাসরি অধীন, সে বিষয়েও ধারণা পাওয়া যায়। তাছাড়া কর্তৃত্ব প্রবাহ, কর্তৃত্ব রেখা ইত্যাদি বিষয়েও জানা যায়। তাই বলা যায়, সংগঠন চার্ট পুরো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেই একটা ধারণা প্রদানে সক্ষম।
মগ মোবারক সাহেবের ফার্মে প্রথম পর্যায়ে সরলরৈখিক সংগঠন কাঠামো বিদ্যমান ছিল।
সরলরৈখিক সংগঠন কাঠামোতে কর্তৃত্ব রেখা প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায় থেকে ক্রমান্বয়ে সরল রেখার মতো নিচের দিকে প্রবাহিত হয়। তবে এরূপ সংগঠনের জবাবদিহিতা নিæ হতে উচ্চ পর্যায়ে প্রবাহিত হয়। এটি সবচেয়ে সহজ প্রকৃতির সংগঠন।
উদ্দীপকের মোবারক সাহেব বিদেশ থেকে দেশে ফিরে একটি ডেইরি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ফার্মটিতে ৫০ জন লোক নিয়োজিত। বি.কম ডিগ্রিধারী একজন ব্যবস্থাপক হিসাবরক্ষণসহ সার্বিক বিষয় দেখাশোনা করেন। এছাড়াও তিনি কর্মীদের কাজের তদারকি করেন। ফলে তিনি তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রতি কর্তৃত্বশীল হন এবং প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব উপর থেকে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়। তাই মোবারক সাহেবের ফার্মের সংগঠন কাঠামোটি হলো সরলরৈখিক সংগঠন।
মঘ পরিবর্তিত নতুন সংগঠন কাঠামোটি হলো সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠন, যা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে গঠন করা যৌক্তিক হয়েছে।
সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠন কাঠামোতে সরলরৈখিক নির্বাহীকে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষজ্ঞ কর্মী নিয়োগ করা হয়। এ ধরনের সংগঠন কাঠামোতে সরলরৈখিক কর্মকর্তাগণ নির্বাহীর ক্ষমতা ভোগ করলেও উপদেষ্টাগণ নির্বাহীর ক্ষমতা ভোগ করেন না।
উদ্দীপকে মোবারক সাহেব গ্রামে একটি ডেইরি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ফার্মটির ৫০ জন লোক দেখাশোনার জন্য বি. কম ডিগ্রিধারী একজন ব্যবস্থাপক রয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক বিষয় দেখাশোনা করেন বিধায় প্রতিষ্ঠানে প্রায়ই জটিল সমস্যা দেখা দেয়। এমতাবস্থায় মোবারক সাহেব তার কাজে সহযোগিতার জন্য অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা পশুপালন কর্মকর্তাকে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ দেন। প্রতিষ্ঠানের নতুন সংগঠন কাঠামোটি হলো সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠন।
ডেইরি ফার্মের সার্বিক বিষয় একজন ব্যবস্থাপক দেখাশোনা করায় তার কার্যভার বেড়ে যায় এবং সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হয়। তাই তার কাজে সহযোগিতার জন্য মোবারক সাহেব যখন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেন তখন উভয়ের মিলিত চেষ্টায় সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের যেকোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়। তাই বলা যায়, সাংগঠনিক কাঠামোর ধরন পরিবর্তনের ফলে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হচ্ছে।

মমমপ্রশ্ন৩ নাভানা টেক্স লি. একটি বৃহদায়তন তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কার্যাবলিকে কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করা হয়। তারপর প্রত্যেক বিভাগের দায়িত্ব একেক জন বিশেষজ্ঞ কর্মীর ওপর ন্যস্ত করা হয়। বিশেষজ্ঞগণ মূলত নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ফলে প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়। [দি. বো. ১৭]
অ ক. বাজেটীয় নিয়ন্ত্রণ কী? ১
অ খ. ‘ব্যবস্থাপনার সর্বজনীনতা’ ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. উদ্দীপকে বর্ণিত নাভানা টেক্স লি.-এর সংগঠন কাঠামো কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. নাভানা টেক্স লি.-এর এ ধরনের সংগঠন কাঠামো ব্যবহারের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো। ৪
৩ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক বাজেটের সাথে অর্জিত ফলাফলের তুলনা করে ত্র“টি-বিচ্যুতি নির্ণয় এবং সংশোধনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ কার্যসম্পাদন প্রক্রিয়াকে বাজেটীয় নিয়ন্ত্রণ বলা হয়।
মখ ‘ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন’ উক্তিটি গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের (ঝড়পৎধঃবং)। ব্যবস্থাপনার সর্বজনীনতা বলতে সর্বত্র, সব ক্ষেত্রে, সকলের দ্বারা স্বীকৃত ব্যবস্থাপনা জ্ঞানের আবশ্যকতা ও প্রয়োগ যোগ্যতাকে বোঝায়।
পরিবার, রাষ্ট্র এবং ব্যবসায় সংগঠনের সব ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার কার্যাবলি (পরিকল্পনা প্রণয়ন, সংগঠিতকরণ, নির্দেশনা, প্রেষণা ও নিয়ন্ত্রণ) প্রয়োগ করা হয়। স্থানীয় পরিবেশ-পরিস্থিতি, সামাজিক রীতি-নীতি প্রভৃতি কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে। তবে ব্যবস্থাপনার কার্যাবলি প্রয়োগের ক্ষেত্রে তেমন কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। তাই ব্যবস্থাপনাকে সর্বজনীন বলা হয়।
মগ নাভানা ট্রেক্স লি.-এর সংগঠন কাঠামোটি হলো কার্যভিত্তিক সংগঠন।
কার্যভিত্তিক সংগঠন বলতে এমন এক ধরনের সংগঠনকে বোঝায়, যেখানে ব্যবস্থাপনার কার্যাবলিকে কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে এদের একেকটিকে একেকজন বিশেষজ্ঞের ওপর ন্যস্ত করা হয়। এ সংগঠনের বিশেষজ্ঞগণ নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
উদ্দীপকে নাভানা টেক্স লি. একটি বৃহদায়তন তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কার্যাবলিকে কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ক্রয়-বিক্রয় ও উৎপাদন বিভাগে ভাগ করা হয়। এরপর প্রত্যেক বিভাগের দায়িত্ব একজন বিশেষজ্ঞ কর্মীর ওপর ন্যস্ত করা হয়। উক্ত বিশেষজ্ঞগণ প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসব বৈশিষ্ট্য কার্যভিত্তিক সংগঠনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, নাভানা টেক্স লি.-এ কার্যভিত্তিক সংগঠনের মাধ্যমে কাজ সম্পাদন করা হয়।
মঘ নাভানা টেক্স লি.-এর সংগঠন কাঠামোটি হলো কার্যভিত্তিক সংগঠন। কাজে গতিশীলতা আনার জন্য এ ধরনের সংগঠন খুবই উপযোগী।
কার্যভিত্তিক সংগঠন হলো এমন এক ধরনের সংগঠন, যেখানে প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন অনুযায়ী কাজকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। বৃহদায়তন ও উৎপাদনধর্মী প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রধানত কার্যভিত্তিক সংগঠন ব্যবহৃত হয়। এতে সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পাদন করা সহজ হয়।
উদ্দীপকে নাভানা টেক্স লি. একটি বৃহদায়তন তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবস্থাপনা কার্যাবলিকে কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করে। এরপর প্রত্যেক বিভাগের দায়িত্ব একেকজন বিশেষজ্ঞ কর্মীর ওপর ন্যস্ত করে। বিশেষজ্ঞগণ প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এক্ষেত্রে তারা কার্যভিত্তিক সংগঠন কাঠামো ব্যবহার করেন।
বৃহদায়তন ও উৎপাদনধর্মী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন বিভাগ থাকে এবং বিভাগীয় কাজগুলোও আলাদা থাকে। সেক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে কার্যভিত্তিক সংগঠন উপযোগী। কার্যভিত্তিক সংগঠনে বিশেষজ্ঞ কর্মীদের তত্ত¡াবধানে প্রত্যেকটি বিভাগ ছেড়ে দেওয়ায় বিশেষায়নের সুবিধা পাওয়া যায়। এতে করে উৎপাদন ও মানে বিশেষায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলি সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়। তাই বলা যায়, নাভানা টেক্স লি.-এর কার্যভিত্তিক সংগঠন ব্যবহার করা যৌক্তিক।

মমমপ্রশ্ন৪ জনাব সুমন কর্মকার তার প্রতিষ্ঠানে পাঁচ ধরনের পণ্য উৎপাদন করেন। উৎপাদন ব্যবস্থাপক জনাব সুজিত সাহা দক্ষতার সাথেই পণ্য উৎপাদনের যাবতীয় কাজ করছিলেন। বর্তমানে সুমন কর্মকার উৎপাদন ব্যবস্থাপকের কাজের চাপ কমানোর পাশাপাশি পণ্যের গুণগত মানে পরিবর্তন আনার জন্য প্রতিটি পণ্যের জন্য একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। তারা সকলেই উৎপাদন ব্যবস্থাপক সুজিত সাহার নিকট তাদের কাজের জবাবদিহি করেন।
[চ. বো. ১৭]
অ ক. সংগঠন কী? ১
অ খ. সরলরৈখিক ও পদস্থ সংগঠন বলতে কী বোঝায়? ২
অ গ. জনাব সুমন কর্মকারের প্রতিষ্ঠানে প্রথমে কোন ধরনের সংগঠন কাঠামো বিদ্যমান ছিল? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে পরবর্তীতে গৃহীত সংগঠন কাঠামোর যথার্থতা বিশ্লেষণ করো। ৪
৪ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি বিভাজন, কর্মীদের দায়িত্ব, কর্তৃত্ব ও জবাবদিহিতা নির্ধারণ এবং প্রত্যেক কাজ বা বিভাগের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ করার কাজকে সংগঠন বলে।
মখ সরলরৈখিক নির্বাহীর সহযোগী হিসেবে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ বা উপদেষ্টা কর্মীর সমন্বয়ে যে বিশেষ ধরনের সংগঠন কাঠামো সৃষ্টি হয়, তাকে সরলরৈখিক ও পদস্থ সংগঠন বলে।
এরূপ সংগঠনে সরলরৈখিক নির্বাহী সব কর্তৃত্ব ভোগ করলেও সহযোগী উপদেষ্টা সরলরৈখিক নির্বাহীকে সহযোগিতা করেন। উভয়ের সহযোগে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হওয়ায় এরূপ সংগঠনে দু’ধরনের কর্তৃত্ব বিদ্যমান থাকে।
মগ জনাব সুমন কর্মকারে প্রতিষ্ঠানে প্রথমে সরলরৈখিক সংগঠন কাঠামো বিদ্যমান ছিল।
সরলরৈখিক সংগঠন কাঠামোতে কর্তৃত্ব রেখা প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায় থেকে ক্রমান্বয়ে সরলরেখার মতো নিচের দিকে প্রবাহিত হয়। তবে এরূপ সংগঠনে জবাবদিহিতা নিæ পর্যায় হতে উচ্চ পর্যায়ে প্রবাহিত হয়। এটি সবচেয়ে সহজ প্রকৃতির সংগঠন।
উদ্দীপকে জনাব সুমন কর্মকার তার প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের জন্য পাঁচ ধরনের পণ্য উৎপাদন করেন। তার দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী উৎপাদক ব্যবস্থাপক জনাব সুজিত সাহা দক্ষতার সাথেই পণ্য উৎপাদনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেন। এখানে জনাব সুমন কর্মকার উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপক এবং জনাব সুজিত সাহা মধ্য পর্যায়ের ব্যবস্থাপক। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব উপর থেকে নিচের দিকে ধাবিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে প্রথমে সরলরৈখিক সংগঠন কাঠামো বিদ্যমান ছিল।
মঘ উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে পরবর্তীতে গৃহীত সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠন কাঠামোটি প্রণয়ন করা যথার্থ হয়েছে।
সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠন কাঠামোতে সরলরৈখিক নির্বাহীকে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষজ্ঞ কর্মী নিয়োগ করা হয়। এ ধরনের সংগঠন কাঠামোতে সরলরৈখিক কর্মকর্তাগণ নির্বাহীর ক্ষমতা ভোগ করলেও উপদেষ্টাগণ নির্বাহীর ক্ষমতা ভোগ করে না।
উদ্দীপকে জনাব সুমন কর্মকার তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত উৎপাদক ব্যবস্থাপক জনাব সুজিত সাহার কাজের চাপ কমানোর পাশাপাশি পণ্যের গুণগত মানে পরিবর্তন আনার জন্য প্রতিটি পণ্যের জন্য একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। তবে তারা সকলেই তাদের কাজের জন্য উৎপাদক ব্যবস্থাপকের নিকট জবাবদিহি করেন, যা সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠনের স্বরূপ।
সরলরৈখিক নির্বাহীর পক্ষে যখন একা সব কাজ সম্পাদন করা সম্ভব হয় না তখন তার কাজে সহযোগিতা করার জন্য একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি সরলরৈখিক নির্বাহীকে সহযোগিতা বা পরামর্শ দিতে পারেন। তবে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। এতে উভয়ের কর্মদক্ষতার দ্বারা প্রতিষ্ঠানের কাজ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে পরবর্তীতে গৃহীত সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠন কাঠামোটি যথার্থ হয়েছে।

মমমপ্রশ্ন৫ জনাব রায়হান কবির নতুন একটি বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তার প্রতিষ্ঠানে ঔষধ, প্রসাধন ও খাদ্যসামগ্রী উৎপাদিত হবে। তিনি প্রতিটি দ্রব্যের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপক এবং প্রতিটি কাজের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপক নিয়োগের চিন্তা করছেন। তিনি সংগঠন কাঠামো তৈরিতে আরও বিশেষভাবে চিন্তা করছেন যে, প্রতিজন নির্বাহীর অধীনে অধস্তনদের সংখ্যা যেন যথাযথ হয়। এর ফলে তিনি সাফল্য লাভের আশা করছেন। [চ. বো. ১৭]
অ ক. দায়িত্ব কী? ১
অ খ. দ্বৈত অধীনতা বলতে কী বোঝায়? ২
অ গ. উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে সংগঠন কাঠামো তৈরিতে সংগঠনের কোন মূলনীতিকে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকে জনাব রায়হান কবিরের পরিকল্পিত সংগঠন কাঠামোর যথার্থতা বিশ্লেষণ করো। ৪
৫ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক সন্তোষজনকভাবে কোনো কাজ সম্পাদন করার বাধ্যবাধকতা বা দায়বদ্ধতাকে দায়িত্ব বলে।
মখ একজন কর্মী একই সাথে একাধিক ঊর্ধ্বতনের অধীনে থাকলে তাকে দ্বৈত অধীনতা বলে।
সংগঠন প্রক্রিয়ায় কে কার অধীন, তা উলে­খ করা হয়। এক্ষেত্রে যদি কোনো ব্যক্তি বা বিভাগকে একাধিক ঊর্ধ্বতনের কর্তৃত্বাধীন করা হয়, তবে ঐ অধস্তনের পক্ষে একাধিক ঊর্ধ্বতনের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন সম্ভব হয় না। এতে কার্যক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তাই সংগঠনে দ্বৈত অধীনতা পরিহার করা উচিত।
মগ উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে সংগঠন কাঠামো তৈরিতে সংগঠনের কাম্য পরিসর নির্ণয়ের নীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এ নীতি অনুযায়ী একজন নির্বাহীর সরাসরি তত্ত¡াবধানে কতজন অধস্তন কর্মী কাজ করবে তা নির্ধারণ করা হয়। কাম্য সংখ্যক অধস্তন ন্যস্ত করা হয়। একজন নির্বাহীর প্রত্যক্ষ তত্ত¡াবধানে কাম্য সংখ্যক অধস্তনদের কাজ সঠিকভাবে তত্ত¡াবধান করার জন্য এ নীতি ব্যবহার করা হয়।
উদ্দীপকে জনাব রায়হান কবির নতুন একটি বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছেন। তিনি তার প্রতিষ্ঠানের সংগঠন কাঠামোকে এমনভাবে তৈরির চিন্তা করছেন, যেন প্রত্যেক নির্বাহীর অধীনে কাম্য সংখ্যক অধস্তন থাকে। এতে নির্বাহী সরাসরি অধস্তনদের কাজ তদারক করতে পারবেন। তাই বলা যায়, জনাব রায়হান কবির তার প্রতিষ্ঠানের সংগঠন কাঠামাতে সংগঠনের কাম্য পরিসর নির্ণয়ের নীতি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে সাফল্য লাভের আশা করছেন।
মঘ উদ্দীপকের জনাব রায়হান কবিরের পরিকল্পিত মেট্রিক্স সংগঠন কাঠামোটি প্রতিষ্ঠানের জন্য যথার্থ হবে।
মেট্রিক্স সংগঠন হলো দ্রব্য ও কার্যভিত্তিক বিভাগীয়করণের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন কাঠামো। এটি হলো এক ধরনের মিশ্র সংগঠন। এরূপ সংগঠন জটিল বা বৃহদায়তন প্রকৃতির প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উপযোগী।
উদ্দীপকে জনাব রায়হান কবির নতুন একটি বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি তার প্রতিষ্ঠানে ঔষধ, প্রসাধন ও খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন করতে চান। এ লক্ষ্যে তিনি তার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দ্রব্যের জন্য দ্রব্য ব্যবস্থাপক এবং বিভিন্ন কাজের জন্য কার্য ব্যবস্থাপক নিয়োগের চিন্তা করছেন, যা মেট্রিক্স সংগঠনের সাথে মিল পাওয়া যায়।
মেট্রিক্স সংগঠনে দ্রব্য ও কার্যভিত্তিক ব্যবস্থাপক একসাথে কাজ করেন। উভয় ব্যবস্থাপকের পারস্পরিক চেষ্টা, সমন্বয় ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে আপনা-আপনি কাজের মধ্যে এক ধরনের গতির সঞ্চার হয়। তাই জনাব রায়হান কবিরও তার প্রতিষ্ঠানে মেট্রিক্স সংগঠন ব্যবহার করতে চান। সুতরাং, জনাব রায়হান কবিরের পরিকল্পিত মেট্রিক্স সংগঠন কাঠামোটি প্রতিষ্ঠানের জন্য যথার্থ হয়েছে।

মমমপ্রশ্ন৬ জনাব মুগ্ধ ও জনাব øিগ্ধ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম. বি. এ সম্পন্ন করে প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানিতে যথাক্রমে হিসাব ও অর্থ বিভাগের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজে যোগ দেন। তারা প্রথমেই আগামী ৬ মাসে তাদের করণীয় কার্যক্রম নির্ধারণ করেন। অধীনস্থ কর্মীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ বণ্টন করেন এবং কে, কোন কাজ, কখন সম্পন্ন করবে সে সম্পর্কে উপদেশ দেন। সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে কর্মীরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তা তাৎক্ষণিক সমাধানের ব্যবস্থা করেন। ৬ মাস পর দেখা যায় তাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। তাই তারা কর্মীদের কাজের প্রশংসা করেন।
[সি. বো. ১৭]
অ ক. লক্ষ্য কী? ১
অ খ. পদোন্নতি কেন দেওয়া হয়? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির সাংগঠনিক কাঠামোর ধরন ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকে জনাব মুগ্ধ ও জনাব øিগ্ধ ব্যবস্থাপনার যাবতীয় কার্যাবলি সঠিকভাবে সম্পাদন করেছেনÑ তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? যুক্তি দাও। ৪
৬ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক কোনো কাজের প্রত্যাশিত ফলাফলই হলো লক্ষ্য।
খ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীর বর্তমান পদ থেকে মর্যাদা, ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং বেতন ও সুযোগ-সুবিধাদি বৃদ্ধি করে উচ্চতর পদে পদায়ন করার প্রক্রিয়াকে পদোন্নতি বলে।
পদোন্নতি কর্মীদের কার্য সন্তুষ্টি বৃদ্ধি করে। ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের আস্থা ও আনুগত্য বৃদ্ধি পায়। এতে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এজন্যই প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের পদোন্নতি দেওয়া হয়।
গ উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির সাংগঠনিক কাঠামোর ধরন হলো কার্যভিত্তিক সংগঠন।
কার্যভিত্তিক সংগঠন হলো প্রতিষ্ঠানের কাজগুলোকে প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করে প্রত্যেক বিভাগের দায়িত্ব একেকজন বিশেষজ্ঞ কর্মীর ওপর ন্যস্ত করা।
উদ্দীপকে জনাব মুগ্ধ ও জনাব øিগ্ধ প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানিতে হিসাব ও অর্থবিভাগের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তারা তাদের অধীনস্থ কর্মীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ বণ্টন করেছেন। এভাবে তারা বিভাগ অনুযায়ী কাজ ভাগ করেন। যা বিভাগ অনুযায়ী কর্মীদের কার্য সম্পাদনে আগ্রহ বাড়িয়ে দেয় এবং কাজ সহজ করে তোলে। বিভাগ অনুযায়ী কাজ ভাগ করা কার্যভিত্তিক সংগঠন কাঠামোর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠন কাঠামোটি একটি কার্যভিত্তিক সংগঠন কাঠামো।
ঘ উদ্দীপকে জনাব মুগ্ধ ও জনাব øিগ্ধ ব্যবস্থাপনার যাবতীয় কার্যাবলি সঠিকভাবে সম্পাদন করেছেন আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।
ব্যবস্থাপনা হলো প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা তৈরি, কার্যাবলি বণ্টন, নির্দেশনা প্রদান, সমন্বয়সাধন ও নিয়ন্ত্রণের সামগ্রিক প্রক্রিয়া। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জন সহজ করে।
উদ্দীপকে জনাব মুগ্ধ ও জনাব øিগ্ধ প্রথমেই আগামী ৬ মাসে তাদের প্রতিষ্ঠানের করণীয় কার্যক্রম নির্ধারণ করেন, যা ব্যবস্থাপনার প্রথম কাজ পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কাজ কর্মীদের মাঝে ভাগ করে দেওয়া ব্যবস্থাপনার সাংগঠনিক কাজ।
এছাড়া কর্মীদের সঠিক নির্দেশনা প্রদান এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যাবলির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের যথাযথ লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। এভাবে ব্যবস্থাপনার প্রতিটি কাজ তারা সুনির্দিষ্টভাবে সম্পন্ন করেছেন। এ থেকে বোঝা যায়, উক্ত প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা, সংগঠন, নির্দেশনা, সমন্বয় এবং নিয়ন্ত্রণের প্রয়োগ লক্ষণীয়, যা প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ভ‚মিকা পালন করেছে।

মমমপ্রশ্ন৭ আশা লিমিটেডের নতুন বিক্রয়কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন। এজন্য কর্তৃপক্ষ ৩ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করলেন। উক্ত বোর্ড তাদের কাজ সম্পাদনের জন্য পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলেন।
[য. বো. ১৭]
অ ক. কমিটি কী? ১
অ খ. শিল্প প্রতিষ্ঠানে কার্যভিত্তিক সংগঠন উপযোগী কেন? ২
অ গ. নিয়োগের ক্ষেত্রে আশা লিমিটেড কোন ধরনের সংগঠন কাঠামো অনুসরণ করেছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. বোর্ড গঠনের মাধ্যমে আশা লিমিটেডের ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে কোনো প্রভাব পড়বে কি? মতামত দাও। ৪
৭ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো সমস্যার সমাধান বা বিশেষ কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বভার একাধিক ব্যক্তির ওপর অর্পণ করা হলে ঐ ব্যক্তিবর্গের সমষ্টিকে কমিটি বলে।
খ একটি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রকৃতির (উৎপাদন, ক্রয়, বিক্রয়) কাজ চালু থাকলে, তখন কার্যভিত্তিক সংগঠন ব্যবহার করা হয়।
শিল্প প্রতিষ্ঠান কিংবা বৃহদাকার উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের কাজ সাধারণত প্রক্রিয়াভিত্তিক হয়ে থাকে। এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে অধিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও বিশেষজ্ঞ কর্মীর প্রয়োজন হয়। এজন্য কাজের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগ তৈরি করে বিশেষজ্ঞ কর্মী নিয়োগ করা হয়। এতে বিশেষায়নের অধিক সুবিধা অর্জিত হয়। তাই শিল্প প্রতিষ্ঠান তথা যেখানে কাজের ব্যাপকতা বেশি সেখানে কার্যভিত্তিক সংগঠন বেশি কার্যকর।
গ নিয়োগের ক্ষেত্রে আশা লিমিটেড কমিটি সংগঠন কাঠামো অনুসরণ করেছে।
প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বিশেষ কাজ সম্পাদনের জন্য বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সমষ্টিই হলো কমিটি সংগঠন। এ ধরনের সংগঠনে সদস্যগণ পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন।
উদ্দীপকে আশা লিমিটেডে নতুন বিক্রয়কর্মী প্রয়োজন। এজন্য কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করেছেন। এ বোর্ড শুধু বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করবে। অর্থাৎ, একটি বিশেষ কার্যসম্পাদনের উদ্দেশ্য নিয়ে এ বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের সদস্যগণ এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, যা কমিটি সংগঠনের বৈশিষ্ট্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, নিয়োগের ক্ষেত্রে আশা লিমিটেড কমিটি সংগঠন কাঠামোই অনুসরণ করেছে।
ঘ উদ্দীপকে বোর্ড গঠনের মাধ্যমে আশা লিমিটেডের ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আমি মনে করি।
কোনো বিশেষ কাজের জন্য কমিটি সংগঠন গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন দায়িত্বে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়েই এরূপ সংগঠন কাঠামো তৈরি করা হয়। নির্দিষ্ট সময় বা কাজ শেষে কমিটির সদস্যদের বিশেষ ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব থাকে না।
উদ্দীপকের আশা লিমিটেডের বিক্রয় বিভাগের জন্য নতুন কর্মী প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তারা এই কাজ সম্পাদনের জন্য কর্তৃপক্ষ ও সদস্যদের একটি বোর্ড গঠন করলেন। উক্ত বোর্ড তাদের কাজ সম্পাদনের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপ্তি দিলেন। তাদের গঠিত এ সংগঠনটি হলো কমিটি সংগঠন।
উদ্দীপকে কর্তৃপক্ষ বিক্রয়কর্মী নিয়োগের জন্য কমিটি সংগঠন তৈরি করেছে। কমিটির সদস্যদের বিশেষ কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা দেয়া হয়। তবে তাদের নির্দিষ্ট কাজ শেষ হলে বিশেষ ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব থাকে না। এক্ষেত্রে বিক্রয়কর্মী নিয়োগ হয়ে গেলে কমিটির সদস্যদের আর কোনো বিশেষ ক্ষমতা থাকবে না। এরূপ সংগঠন হলো সহযোগী সংগঠন। তাই প্রতিষ্ঠানের মূল সংগঠন কাঠামোতে এটি কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। তাই বলা যায়, কমিটি সংগঠনের কারণে আশা লিমিটেডের ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে কোনো প্রভাব পড়বে না।

মমমপ্রশ্ন৮ সায়মা লি. একটি বৃহদায়তন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি তাদের প্রতিষ্ঠানের কাজগুলেকে প্রকৃতি অনুযায়ী ভাগ করে এক একজন বিশেষজ্ঞ কর্মীকে তত্ত¡াবধানের দায়িত্ব প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানের কাজের মান বাড়াতে কোম্পানি উপদেষ্টা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। [ব. বো. ১৭]
অ ক. সংগঠন কী? ১
অ খ. কমিটিকে প্রতিষ্ঠানের সহযোগী সংগঠন বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সায়মা লি. কোন ধরনের সংগঠন কাঠামো অনুসরণ করে থাকে? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. সায়মা লি. কোম্পানির উপদেষ্টা নিয়োগের সিদ্ধান্তের যথার্থতা মূল্যায়ন করো। ৪
৮ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি বিভাজন, কর্মীদের দায়িত্ব, কর্তৃত্ব ও জবাবদিহি নির্ধারণ এবং প্রত্যেক কাজ বা বিভাগের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ করার কাজকে সংগঠন বলে।
খ কমিটি হলো একাধিক ব্যক্তি নিয়ে গঠিত একটি সংগঠন যাদের ওপর কোনো সমস্যা সমাধান বা বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব বা কোনো বিশেষ কার্যভার অর্পণ করা হয়।
সাধারণত কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। এটি সমষ্টিগতভাবে কাজ করে এবং কার্যসম্পাদনের জন্য সদস্যগণ নিজেদের মধ্যে মতামত বিনিময় করেন। শুধু কমিটির দায়িত্ব পালনই এর কোনো সদস্যের মুখ্য কাজ নয়। বরং প্রত্যেক সদস্যই নিজ নিজ প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিশেষ কার্যসম্পাদনে কমিটিকে সহায়তা করেন। এজন্যই কমিটিকে সহযোগী সংগঠন বলা হয়।
গ উদ্দীপকে বর্ণিত সায়মা লি. কার্যভিত্তিক সংগঠন কাঠামো অনুসরণ করে থাকে।
কার্যভিত্তিক সংগঠন হলো ব্যবস্থাপনার কার্যাবলিকে কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে একেক বিভাগের জন্য একেক জন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা। এর ফলে প্রতিষ্ঠানে দক্ষতার সাথে কার্যাবলি সম্পাদন করা যায়।
উদ্দীপকে সায়মা লি. একটি বৃহদায়তন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজকে কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে। অতঃপর প্রত্যেকটি বিভাগের দায়িত্ব একেক জন বিশেষজ্ঞের ওপর অর্পণ করে। বিশেষজ্ঞ কর্মীর ওপর দায়িত্ব থাকায় প্রাতিষ্ঠানিক কাজ অধিকতর দক্ষতার সাথে সম্পাদিত হয়। ফলে কর্মী উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ঘটে। বিভাগ অনুযায়ী কাজ ভাগ করা কার্যভিত্তিক সংগঠনের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের সায়মা লি. কার্যভিত্তিক সংগঠন কাঠামো অনুসরণ করে।
ঘ সায়মা লি. কোম্পানির উপদেষ্টা নিয়োগের সিদ্ধান্ত যথার্থ বলে আমি মনে করি।
কোম্পানির নির্বাহীদের সহযোগিতা করার জন্য তাদের অধীনস্থ যে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে উপদেষ্টা বলে। উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানের কাজগুলো দক্ষতার সাথে সম্পাদন করতে সহযোগিতা করে থাকেন।
উদ্দীপকের সায়মা লি. একটি বৃহদায়তন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। উক্ত প্রতিষ্ঠানে কার্যভিত্তিক সংগঠন কাঠামো বিদ্যমান ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কাজের মান বাড়াতে কোম্পানি উপদেষ্টা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কোম্পানিতে উপদেষ্টা নিয়োগের পরেও কর্তৃত্ব নির্বাহীর হাতে ন্যস্ত থাকবে। উপদেষ্টা শুধু নির্বাহীকে সহায়তা করবেন, তার কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহেণর ক্ষমতা নেই। তবে উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়ায় কোম্পানির কার্যভার যেমন লাঘব হবে তেমনি সমস্যার দ্রুত সমাধানও সম্ভব হবে। তাই বলা যায়, প্রতিষ্ঠানের কাজের মান বাড়াতে কোম্পানিতে উপদেষ্টা নিয়োগের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা অবশ্যই যৌক্তিক।

মমমপ্রশ্ন৯ জনাব শামিমা একটি উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি শুরুতে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয়, অর্থসংস্থান ইত্যাদি কার্যাবলি একাই দেখতেন। অধস্তনরা বিনা দ্বিধায় তার আদেশ নিষেধ মেনে নিতেন। এতে অল্প সময়ের ব্যবধানে তার প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সফলতা আসে। তাই তিনি তার প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ করেন এবং বিভিন্ন কাজে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। [ঢা. বো. ১৬]
অ ক. সংগঠন কাঠামো কী? ১
অ খ. সরলরৈখিক সংগঠন কাঠামো বলতে কী বোঝ? ২
অ গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানের প্রথম পর্যায়ের সংগঠন কাঠামোর ধরন ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. জনাব শামিমা কর্তৃক সংগঠন কাঠামো পরিবর্তনের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো। ৪
৯ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ, উপবিভাগ ও কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের ধরন বা প্যাটার্নকে সংগঠন কাঠামো বলে।
খ যে সংগঠনে কর্তৃত্ব রেখা নির্বাহী থেকে অধীনস্থ কর্মীদের নিকট সরাসরি সরলরেখার আকারে নেমে আসে তাকে সরলরৈখিক সংগঠন বলে।
এটি সবচেয়ে প্রাচীন এবং সরল প্রকৃতির সংগঠন কাঠামো। এখানে প্রত্যেক কর্মীর দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব সুস্পষ্ট থাকে। সরলরৈখিক সংগঠন হলো সবচেয়ে সহজ ও প্রত্যক্ষ ধরনের সংগঠন। এতে প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য উচ্চপদের ব্যক্তিবর্গ অপেক্ষাকৃত নিæপদের ব্যক্তিবর্গের ওপর সাধারণ কর্তৃত্বের অধিকারী হয়ে থাকে।
গ জনাব শামিমার প্রতিষ্ঠানের প্রথম পর্যায়ের সংগঠন কাঠামোটি হলো সরলরৈখিক সংগঠন কাঠামো।
যে সংগঠনে কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ স্তর থেকে ধীরে ধীরে নিচের স্তরে নামতে থাকে তা হলো সরলরৈখিক সংগঠন।
জনাব শামিমা একটি উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি শুরুতে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয়, অর্থসংস্থান প্রভৃতি কার্যাবলি একাই দেখতেন। এক্ষেত্রে তিনি একক কর্তৃত্ব বজায় রাখতেন। তিনি ছিলেন একক আদেশদাতা এবং সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। অধস্তনরা বিনা দ্বিধায় তার আদেশ মানতে বাধ্য থাকত। শামিমার প্রতিষ্ঠানে কর্তৃত্ব সরলরেখার মতো উপর থেকে অর্থাৎ তার কাছ থেকে নিচের দিকে কর্মীদের দিকে প্রবাহিত হয়েছে। সুতরাং এক্ষেত্রে প্রথমে শামিমার প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান ছিল সরলরৈখিক সংগঠন।
ঘ জনাব শামিমা কর্তৃক সরলরৈখিক সংগঠনটিকে কার্যভিত্তিক সংগঠনে পরিবর্তন করা অত্যন্ত যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত করে প্রতিটি বিভাগের দায়িত্ব একেকজন বিশেষজ্ঞের ওপর অর্পণ করা হলো কার্যভিত্তিক সংগঠন। এরূপ সংগঠনে বিশেষজ্ঞদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ না করে নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
শামিমা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে পূর্বে সরলরৈখিক নেতৃত্ব প্রদান করতেন। এতে তাকে প্রতিটি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হতো। তাই প্রচুর কাজের চাপ থাকত। কিন্তু বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ফলে সংগঠনটি কার্যভিত্তিক সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে।
শামিমা সংগঠন কাঠামো পরিবর্তন করে শ্রমবিভাজন নিশ্চিত করে সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে পারবেন। তিনি সুষ্ঠু সমন্বয় নিশ্চিত করে কার্যসন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবেন। প্রতিটি বিভাগে বিশেষজ্ঞ কর্মী নিয়োগ দেয়ায় নিজের এবং অন্য নির্বাহীদের কাজের চাপ কমবে। সুতরাং সার্বিক দিক বিবেচনায় শামিমার সংগঠন কাঠামো পরিবর্তন যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।

মমমপ্রশ্ন১০ রাকিব ও শফিক দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। রাকিবের প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নির্বাহীর প্রত্যক্ষ তত্ত¡াবধান ও নিয়ন্ত্রণাধীন থেকে কার্য সম্পাদন করে। অন্যদিকে তার বন্ধু শফিকের প্রতিষ্ঠানে নির্বাহীকে সহায়তা করার জন্য কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি কাজ করেন। তুলনামূলক ব্যাখ্যা করে দেখা যায় শফিকের প্রতিষ্ঠানটির সফলতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। [রা. বো. ১৬]
অ ক. সংগঠন কী? ১
অ খ. সংগঠন চার্ট বলতে কী বোঝায়? ২
অ গ. উদ্দীপকে উলি­খিত মি. রাকিবের প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামো কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. শফিকের প্রতিষ্ঠানের সফলতার উত্তরোত্তর বৃদ্ধির কারণ উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো। ৪
১০ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক সংগঠন বলতে লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে দলবদ্ধ লোকদের একসাথে কাঠামোগত ও সমন্বিত উপায়ে কাজ করাকে বোঝায়।
খ যে চিত্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সংগঠন কাঠামো প্রকাশ করা হয় তাকে সংগঠন চার্ট বা তালিকা বলা হয়।
সংগঠন চার্টে প্রতিষ্ঠানের কর্মরত বিভিন্ন ব্যক্তি, বিভাগ ও উপবিভাগের মধ্যকার সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের উপকরণের যথাযথ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করা সম্ভব হয়। প্রতিষ্ঠানের কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং সবার মধ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাতেও সংগঠন চার্ট সহায়তা করে।
গ মি. রাকিবের প্রতিষ্ঠানটি সরলরৈখিক সংগঠন কাঠামো অনুসরণ করেছে।
যে সংগঠন কাঠামোতে কর্তৃত্ব রেখা সরলরেখা আকারে উপর থেকে নিচের দিকে নেমে আসে তাকে সরলরৈখিক সংগঠন বলে। এর মাধ্যমে আন্তঃবিভাগীয় যোগাযোগ রক্ষা হয়। আবার পরস্পর জড়িত থাকায় অতি সহজ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে কাজ সম্পন্ন হয়।
জনাব রাকিবের প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নির্বাহীর প্রত্যক্ষ তত্ত¡াবধানে থেকে কাজ করে। কর্মীরা যেকোনো কাজের জন্য নির্বাহীর আদেশ আশা করে। ফলে জনাব রাকিবের প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব রেখা নির্বাহী থেকে আস্তে আস্তে নিচের দিকে নামতে থাকে, যা সরলরৈখিক সংগঠনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ঘ শফিকের প্রতিষ্ঠানের সফলতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধির কারণ তিনি সরলরৈখিক ও পদস্থ সংগঠন কাঠামো অনুসরণ করেন।
যে সংগঠন কাঠামোতে সরলরৈখিক নির্বাহীকে সহযোগিতা করার জন্য উপদেষ্টা বা বিশেষজ্ঞ কর্মী ব্যবহার করা হয় তাকে সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠন বলে। এক্ষেত্রে কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা নির্বাহীর হাতে থাকে। আর উপদেষ্টা কর্মী নির্বাহীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেন।
শফিকের প্রতিষ্ঠানটি নির্বাহীকে সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন প্রকৃতি অনুযায়ী কয়েকজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেন। ফলে যেকোনো ভুল-ত্র“টি হলে সহজে বিশেষজ্ঞরা সমাধান করেন।
শফিকের প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী অতিরিক্ত কাজগুলো বিশেষজ্ঞরা সমাধান করেন। ফলে অতি দ্রুত নির্ভুলভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যসম্পাদন করা সম্ভব হয়। আবার বিশেষ কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে নির্বাহীর পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ প্রদান করে। যার ফলশ্র“তিতে জনাব শফিকের প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সফলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মমমপ্রশ্ন১১

 

 

 

[দি. বো. ১৬]
অ ক. ব্যবস্থাপনার স্তর কী? ১
অ খ. কাম্য তত্ত¡াবধান পরিসর বলতে কী বোঝায়? ২
অ গ. চিত্রে কোন ধরনের সংগঠনের কথা উলে­খ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উলি­খিত সংগঠনের কর্মীদের মাঝে দ্বৈত অধীনতার সৃষ্টি হতে পারেÑ তুমি কি এর সাথে একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। ৪
১১ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োজিত ব্যবস্থাপকগণের মধ্যে পর্যায়ক্রমিক কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের যে সুশৃঙ্খল ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে ব্যবস্থাপনার স্তর বলে।
খ একজন নির্বাহীর প্রত্যক্ষ তত্ত¡াবধানে যতজন কর্মী নিয়োজিত থাকে তাকে কাম্য তত্ত¡াবধান পরিসর বলে।
কাম্য তত্ত¡াবধানের ওপর প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে। নির্বাহীর তত্ত¡াবধান পরিসর কাম্যমাত্রায় হলে অধীনস্থদের কাজ সহজেই তদারকি করতে পারেন। অন্যথায় নির্বাহীরা কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। কাম্য তত্ত¡াবধানের ফলে কাজে যেমন গতি আসে তেমনি প্রতিষ্ঠানে সাফল্য অর্জিত হয়।
গ চিত্রে কার্যভিত্তিক সংগঠনের কথা বলা হয়েছে।
কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিভাগ সৃষ্টি করে প্রতিটি বিভাগের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব একেকজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির ওপর অর্পণ করা হলে তা হলো কার্যভিত্তিক সংগঠন।
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটিতে মহাব্যবস্থাপকের অধীনে ২ জন উপব্যবস্থাপক আছে। যারা প্রত্যেকে ২টি করে বিভাগের দায়িত্বে আছেন। তাদের বিশেষজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ২টি করে বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আবার উপব্যবস্থাপকের অধীনে যে দুইজন করে ব্যবস্থাপক আছেন তাদের বিশেষজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। উপব্যবস্থাপক-১-এর অধীনে বিশেষজ্ঞ নির্বাহী হিসেবে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক, উৎপাদন ব্যবস্থাপক ও উপব্যবস্থাপক-২-এর অধীনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপক এবং অর্থ ও হিসাব ব্যবস্থাপক। তাই বলা যায়, সংগঠনটি একটি কার্যভিত্তিক সংগঠন।
ঘ উলি­খিত সংগঠনে কর্মীদের মাঝে দ্বৈত অধীনতা সৃষ্টি হতে পারেÑ আমি বক্তব্যটির সাথে একমত।
কার্যভিত্তিক সংগঠন অন্যান্য সংগঠন থেকে কিছুটা ভিন্নতর। এ ভিন্নতার কারণে সংগঠনটি যেমন কিছু সুবিধা ভোগ করে, তেমনি কিছু অসুবিধারও সম্মুখীন হয়।
চিত্রের সংগঠনটি একটি কার্যভিত্তিক সংগঠন। এ ধরনের সংগঠনে কার্যভিত্তিক বিভাগ সৃষ্টি করা হয় এবং প্রতিটি বিভাগের দায়িত্ব একেকজন বিশেষজ্ঞের ওপর অর্পণ করা হয়।
কার্যভিত্তিক সংগঠনে কার্যের ভিত্তিতে বিভাগ সৃষ্টি করার ফলে কার্যে বিশেষায়ণের সুবিধা অর্জন করা গেলেও এ সংগঠনের নেতিবাচক দিকও আছে। এ ধরনের সংগঠনে বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা মাত্র একটি বিভাগে কাজ করলেও কর্মীকে একই সাথে বিভিন্ন বিভাগের নির্বাহীর অধীনে কাজ করতে হয়। যেমন: উৎপাদন ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীকে একই সাথে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপকের অধীনে কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে। ফলে বিভিন্ন বিভাগের অধীনে কাজ করায় কর্মীরা দ্বৈত অধীনতার মুখোমুখি হয়।

মমমপ্রশ্ন১২ জনাব অখিল একটি জুতা তৈরির কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থাপক। কারখানাটি গত ৮ বছর শুধু উৎপাদন কাজেই নিয়োজিত ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অধীনে একজন সাধারণ ব্যবস্থাপক আছেন। জনাব অখিল উৎপাদন সংক্রান্ত সকল কাজের জন্য সাধারণ ব্যবস্থাপকের নিকট জবাবদিহি করেন। বর্তমানে কারখানাটি জুতার প্যাকেট তৈরির জন্য একটি প্যাকেজিং প্ল্যান্ট স্থাপন করে ও জুতার বাজারজাতকরণের জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলে। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন ও শ্রমিক-কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পৃথক হিসাব বিভাগ, বিপণন বিভাগ ও শ্রমিক-কর্মী বিভাগ খোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের করণীয় সম্পর্কে বিবেচনা করছেন। [কু. বো. ১৬]
অ ক. সংগঠন কাঠামো কী? ১
অ খ. সাংগঠনিক নীতিমালায় কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের সমতা নীতি বলতে কী বোঝায়? ২
অ গ. উদ্দীপকে বিদ্যমান সংগঠন কাঠামোটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকে উলি­খিত পরিস্থিতিতে কোন ধরনের সংগঠন কাঠামো গড়ে তোলা উচিত বলে তুমি মনে করো? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো। ৪
১২ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ, উপবিভাগ ও কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের ধরন বা প্যাটার্নকে সংগঠন কাঠামো বলে।
খ কর্তৃত্ব অর্পণের ফলে কোনো কর্ম সম্পাদনের দায় বা বাধ্যবাধকতাকে দায়িত্ব বলে। আর কর্তৃত্ব বলতে বৈধ ক্ষমতাকে বোঝায়, যার দ্বারা কোনো ব্যক্তি তার অধস্তনদেরকে আদেশ-নির্দেশ দেন, আনুগত্য আদায় করেন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন।
সংগঠন কাঠামোর প্রত্যেক স্তরে কর্মীকে যে পরিমাণ দায়িত্ব অর্পণ করা হবে সেই অনুপাতে কর্তৃত্বও প্রদান করতে হবে। দায়িত্বের তুলনায় কর্তৃত্ব বেশি হলে নির্বাহীগণ স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠবে। অপরদিকে যদি কর্তৃত্বের তুলনায় দায়িত্ব অনেক বেশি থাকে তাহলে নির্বাহীগণ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ ও অসহায় হয়ে পড়বে। এজন্য এ দুয়ের মধ্যে সমতা বজায় রাখতে হবে। তাই বলা হয়, আদর্শ সংগঠনে দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
গ উদ্দীপকে বিদ্যমান সংগঠন কাঠামোটি হলো সরলরৈখিক সংগঠন।
যে সংগঠন কাঠামোতে কর্তৃত্ব রেখা ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ স্তর থেকে ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে সরলরেখার আকারে নেমে আসে তা হলো সরলরৈখিক সংগঠন। সরলরৈখিক সংগঠন সবচেয়ে সহজ ও প্রাচীন সংগঠন কাঠামো।
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অধীনে একজন সাধারণ ব্যবস্থাপক আছেন। জনাব অখিল কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থাপক। তিনি উৎপাদন সংক্রান্ত সব কাজের জন্য সাধারণ ব্যবস্থাপকের নিকট জবাবদিহি করেন। অর্থাৎ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা সাধারণ পরিচালককে এবং সাধারণ পরিচালক উৎপাদন ব্যবস্থাপকের ওপর কর্তৃত্ব প্রয়োগ করেন। এ কারখানায় প্রত্যেকের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব সুস্পষ্ট। এ প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে অধীনস্থ ব্যক্তিবর্গ অপেক্ষাকৃত নিæপদের ব্যক্তিবর্গের ওপর কর্তৃত্বের অধিকারী। এ প্রতিষ্ঠানে কর্তৃত্ব রেখা ব্যবস্থাপনা পরিচালক হতে ক্রমান্বয়ে উৎপাদন ব্যবস্থাপকের দিকে ধাবিত হয়। সুতরাং উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যানুযায়ী বলা যায়, উদ্দীপকে সরলরৈখিক সংগঠন বিদ্যমান।
ঘ উদ্দীপকে উলি­খিত পরিস্থিতিতে কার্যভিত্তিক সংগঠন কাঠামো গড়ে তোলা উচিত বলে আমি মনে করি।
কার্যভিত্তিক সংগঠন হলো এমন এক ধরনের সংগঠন, যেখানে ব্যবস্থাপনার কার্যাবলিকে কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে, এদের একেকটিকে একজন বিশেষজ্ঞের ওপর ন্যস্ত করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক লেনদেন ও শ্রমিক কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ফলে পৃথক হিসাব বিভাগ, বিপণন বিভাগ ও শ্রমিক-কর্মী বিভাগ খোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাদের করণীয় সম্পর্কে বিবেচনা করছেন।
উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটিতে আর্থিক লেনদেন ও শ্রমিক-কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরলরৈখিক নির্বাহীর পক্ষে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটি যদি আলাদাভাবে হিসাব বিভাগ, বিপণন বিভাগ ও শ্রমিক কর্মী বিভাগ খুলে তার দায়িত্ব বিশেষজ্ঞ কর্মীদের ওপর অর্পণ করে তাহলে তারা মিলেমিশে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ফলে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যার্জনও সম্ভব হবে। তাই আমি মনে করি, উক্ত প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কার্যভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলা উচিত।
মমমপ্রশ্ন১৩ প্রতীকী হাউজিং লি. নির্মাণ শিল্পে দ্রুত অগ্রসরমান একটি প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি তাদের সাংগঠনিক কাঠামোর কাজগুলোকে প্রকৃতি অনুযায়ী ভাগ করে বিশেষজ্ঞ কর্মীকে তত্ত¡াবধানের দায়িত্ব পালন করে। ফলে প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়। [চ. বো. ১৬]
অ ক. সরলরৈখিক সংগঠন কী? ১
অ খ. সংগঠন চার্ট বলতে কী বোঝায়? ২
অ গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতীকী হাউজিং লি.-এ সংগঠন কাঠামো কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. ‘আধুনিক ও বৃহৎ আয়তন প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সংগঠন কাঠামোর প্রয়োগ অধিক কার্যকর’Ñ উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো। ৪
১৩ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক যে সংগঠন কাঠামোতে ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব রেখা ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ স্তর থেকে সরলরেখার মতো ক্রমশ নিচের স্তরে নিয়োজিত কর্মীদের দিকে নেমে আসে, তাকে সরলরৈখিক সংগঠন বলা হয়।
মখ একটা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিভিন্ন ব্যক্তি, বিভাগ ও উপবিভাগের মধ্যকার সম্পর্ককে একটা চিত্রে উপস্থাপন করা হলে তাকে সংগঠন চিত্র বলে।
সংগঠন চার্টে প্রতিষ্ঠানের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত কর্মীর অবস্থান, পদ, বিভাগ ও উপবিভাগ সম্পর্কে জানা যায়। এতে কে কার সরাসরি অধীন, সে বিষয়েও ধারণা পাওয়া যায়। তাছাড়া কর্তৃত্ব প্রবাহ, কর্তৃত্ব রেখা ইত্যাদি বিষয়েও জানা যায়। তাই বলা যায়, সংগঠন চার্ট পুরো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেই একটা ধারণা প্রদানে সক্ষম।
গ উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতীকী হাউজিং লি.-এর সংগঠন কাঠামোটি কার্যভিত্তিক সংগঠন কাঠামো।
কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিভাগ সৃষ্টি করে তার দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব একেকজন বিশেষজ্ঞ কর্মীর ওপর ন্যস্ত করা হলো কার্যভিত্তিক সংগঠন। এ ধরনের সংগঠনে বিশেষজ্ঞ কর্মীদের উপদেষ্টা না বানিয়ে সরাসরি নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রতীকী হাউজিং লি. নির্মাণ শিল্পে দ্রুত অগ্রসরমান একটি প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি তাদের সাংগঠনিক কাঠামোয় কাজগুলোকে প্রকৃতি অনুযায়ী ভাগ করে বিশেষজ্ঞ কর্মীর তত্ত¡াবধানে দায়িত্ব প্রদান করে। বিশেষজ্ঞ কর্মীর প্রত্যক্ষ তত্ত¡াবধানে থাকার ফলে কর্মীরা অধিকতর দক্ষতার সাথে কার্যাবলি সম্পাদন করেন। যার ফলে প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি সফলতার সাথে যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়। সুতরাং বলা যায়, প্রতীকী হাউজিং লি. সংগঠনটিতে কার্যভিত্তিক সংগঠনের সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
ঘ আধুনিক ও বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে কার্যভিত্তিক সংগঠন কাঠামোর প্রয়োগ অধিক কার্যকর।
কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিভাগ সৃষ্টি করে প্রতিটি বিভাগের দায়িত্ব একজন বিশেষজ্ঞ কর্মীর ওপর ন্যস্ত করা হলো কার্যভিত্তিক সংগঠন। এ ধরনের সংগঠনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধার্থে প্রতিটি বিভাগে একজন বিশেষজ্ঞ কর্মী নিয়োগ করা হয়ে থাকে।
প্রতীকী উদ্দীপকের হাউজিং লি. একটি বৃহদায়তন নির্মাণ শিল্প প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি তাদের সাংগঠনিক কাঠামোয় কাজগুলোকে প্রকৃতি অনুযায়ী ভাগ করে বিশেষজ্ঞ কর্মীকে তত্ত¡াবধানের দায়িত্ব প্রদান করেছে। যার ফলে কর্মীরা ভালোভাবে তাদের কাজগুলো বুঝে নিয়ে সঠিকভাবে সম্পাদন করতে পারবে। বিশেষজ্ঞের তত্ত¡াবধানে থাকার ফলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা প্রাতিষ্ঠানিক কাজ অধিকতর দক্ষতার সাথে সম্পাদন করতে পারবে।
প্রতীকী হাউজিং লি.-এর মতো বৃহৎ আকারের প্রতিষ্ঠানের কাজগুলো বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করে দক্ষ কর্মীর তত্ত¡াবধানে সম্পাদন করা হলে সঠিক সময়ে কাজ সম্পাদিত হবে। কর্মীরা কাজে দক্ষ হয়ে উঠবে। তাই বলা যায়, কার্যভিত্তিক সংগঠন কাঠামোর প্রয়োগ আধুনিক ও বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক ফলপ্রসূ।
মমমপ্রশ্ন১৪ মি. শাহীন একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক। তার অধীন ৬ জন ব্যবস্থাপক ও ১০ জন শাখা ব্যবস্থাপক আছে। সম্প্রতি কার্যভার বেশি হওয়ায় শাহীনের সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান তার কথা চিন্তা করে একজন পরামর্শক নিয়োগ দেয়। যিনি শাহীনকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শে সহায়তা প্রদান করেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা আরও উন্নতি হচ্ছে। [সি. বো. ১৬]
অ ক. আনুষ্ঠানিক সংগঠন কী? ১
অ খ. সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠন বলতে কী বোঝায়? ২
অ গ. পরামর্শক নিয়োগের পূর্বে প্রতিষ্ঠানের সংগঠন কাঠামো কীরূপ ছিল? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকের আলোকে “সাংগঠনিক পরিবর্তনের ফলেই প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হয়েছে” মূল্যায়ন করো। ৪
১৪ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম-কানুন, রীতি-নীতি ও বিধি-বিধানের আওতায় যে সংগঠন কাঠামো গড়ে ওঠে, তাকে আনুষ্ঠানিক সংগঠন বলে।
মখ সরলরৈখিক নির্বাহীর সহযোগী হিসেবে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ বা উপদেষ্টা কর্মীর সমন্বয়ে যে বিশেষ ধরনের সংগঠন কাঠামো তৈরি হয়, তাকে সরলরৈখিক ও পদস্থ সংগঠন বলে।
এরূপ সংগঠনে সরলরৈখিক নির্বাহী সকল কর্তৃত্ব ভোগ করলেও সহযোগী নির্বাহী সরলরৈখিক নির্বাহীকে সহযোগিতা করেন। উভয়ের সহযোগে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হওয়ায় এরূপ সংগঠনে দু’ধরনের কর্তৃত্ব বিদ্যমান থাকে।
গ পরামর্শক নিয়োগের পূর্বে প্রতিষ্ঠানের সংগঠন কাঠামো ছিল সরলরৈখিক।
যে সংগঠন পদ্ধতিতে ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব রেখা ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ স্তর থেকে সরলরেখার মতো বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে নেমে আসে, তা হলো সরলরৈখিক সংগঠন। এ সংগঠনে একজন অধস্তন মাত্র একজন ঊর্ধ্বতনের কাছে জবাবদিহি করে।
মি. শাহীন একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক। তার অধীনে ৬ জন ব্যবস্থাপক ও ১০ জন শাখা ব্যবস্থাপক আছে। এতে মি. শাহীনই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক। অধীনস্থরা তার আদেশ মানতে বাধ্য। অধীনস্থরা মি. শাহীনের কাছেই জবাবদিহি করে। এতে প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার রেখা সরলরেখার মতো উপর থেকে নিচের দিকে অবস্থান করে। তাই এসব বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বলা যায়, পরামর্শক নিয়োগের পূর্বে প্রতিষ্ঠানের সংগঠন কাঠামোর বৈশিষ্ট্য সরলরৈখিক সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ঘ সাংগঠনিক কাঠামো সরলরৈখিক থেকে সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠন করায় প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হয়েছে।
সরলরৈখিক পদস্থ কর্মী সংগঠন হলো সরলরৈখিক নির্বাহীর সহযোগী হিসেবে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ বা উপদেষ্টা কর্মীর সমন্বয়ে গঠিত এক বিশেষ ধরনের সংগঠন, যেখানে সরলরৈখিক নির্বাহীই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। এ সংগঠন কাঠামোতে একজন ব্যবস্থাপককে সহযোগিতার জন্য আরেকজন বিশেষজ্ঞ বা উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়।
মি. শাহীন একজন নির্বাহী পরিচালক। কার্যভার বেশি হওয়ায় শাহীনের সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হয়। তাই প্রতিষ্ঠানে একজন পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে শাহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরামর্শ ও সহায়তা পেয়ে থাকেন। তারা দুজনে পরামর্শের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে থাকেন।
মি. শাহীন প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক নিয়োগ দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অবস্থা উত্তরোত্তর উন্নতি হবে। কেননা তারা পরামর্শের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তটিই নেবে। বিশেষজ্ঞ কর্মী মি. শাহীনকে গবেষণা, পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কারিগরি কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করবে। ফলে ভুল-ত্র“টি হ্রাস পাবে। প্রতিষ্ঠানের অবস্থারও উন্নতি হবে।

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply