এইচএসসি ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং একাদশ অধ্যায় জীবন বিমা সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়-১১: জীবন বিমা

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

মমমপ্রশ্ন১ জনাব রহিমের বর্তমান বয়স ৪৫ বছর। তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। তিনি তার সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজ নামে ১৫ বছরের একটি জীবন বিমাপত্র গ্রহণ করেন। তিনি তার স্ত্রীকে বিমাপত্রের নমিনি করেন। পরপর ৩ বছর কিস্তি প্রদান করার পর জনাব রহিমের মৃত্যু হয়। মেয়াদপূর্তির পর তার স্ত্রী বিমা কোম্পানির নিকট বিমা দাবি পেশ করে। [ঢা. বো. ১৭]
অ ক. প্রিমিয়াম কী? ১
অ খ. সমর্পণ মূল্য বলতে কী বোঝায়? ২
অ গ. জনাব রহিম কোন ধরনের বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকের আলোকে জনাব রহিমের স্ত্রী কি বিমা দাবি করতে পারবেন? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো। ৪
১ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক বিমা চুক্তিতে বিমাগ্রহীতা এককালীন অথবা নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিমাকারীকে যে অর্থ প্রদান করে তাকে প্রিমিয়াম বলে।
খ যদি বিমাগ্রহীতা কর্তৃক বিমাপত্রের প্রিমিয়াম নিয়মিত পরিশোধ করা সম্ভব না হয়, তাহলে তিনি বিমাপত্র কোম্পানিকে সমর্পণ করে কিছু অর্থ গ্রহণ করেন। একে সমর্পণ মূল্য বলে।
সমর্পণ মূল্য প্রিমিয়ামের একটি অংশ। বিমা চুক্তির মেয়াদ কমপক্ষে দুই বছর উত্তীর্ণ হওয়ার পর সমর্পণ মূল্য পরিশোধ করা হয়।
গ উদ্দীপকের জনাব রহিম মেয়াদি বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন।
এই বিমাপত্রে উলি­খিত নির্দিষ্ট মেয়াদপূর্তিতে বিমাগ্রহীতাকে বিমা দাবির অর্থ বিমাকারী পরিশোধ করে থাকে। সাধারণত মেয়াদি বিমাপত্র নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্যই গৃহীত হয়।
উদ্দীপকের জনাব রহিম শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। তিনি সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নিজ নামে ১৫ বছরের জন্য একটি বিমাপত্র গ্রহণ করেন। অর্থাৎ তিনি নির্দিষ্ট একটি মেয়াদকালের জন্য জীবন বিমাপত্রটি গ্রহণ করেছেন। যা জীবন বিমার আওতাভুক্ত মেয়াদি বিমাপত্র। উক্ত বিমাপত্রটি মেয়াদপূর্তিতে অথবা তার অবর্তমানে উত্তরাধিকারীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।
ঘ উদ্দীপকের জনাব রহিমের গৃহীত মেয়াদি বিমাপত্রের একমাত্র মনোনীত ব্যক্তি তার স্ত্রী হওয়ায় তিনি বিমা দাবির যোগ্য অধিকারী।
মেয়াদি বিমাপত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদপূর্তিতে বিমাগ্রহীতাকে বিমা দাবির অর্থ একত্রে পরিশোধ করা হয়। বিমাগ্রহীতার মৃত্যুতে তার মনোনীত ব্যক্তি বিমা চুক্তির অর্থ গ্রহণের অধিকার রাখে।
উদ্দীপকে জনাব রহিম ১৫ বছরের জন্য মেয়াদি একটি মেয়াদি জীবন বিমাপত্র গ্রহণ করেন। উক্ত বিমাপত্রে জনাব রহিম তার স্ত্রীকে নমিনি হিসেবে মনোনয়ন করেন। তবে পরপর তিন বছর বিমা কিস্তি প্রদানের পর জনাব রহিম মারা যান।
জনাব রহিমের স্ত্রী এ পর্যায়ে বিমাপত্রের একমাত্র দাবিদার। মেয়াদি বিমাপত্রের শর্ত পূরণ করে জনাব রহিম তিন বছর পর্যন্ত প্রিমিয়াম প্রদান করেছেন। আর তার গৃহীত বিমাপত্রে তিনি তার স্ত্রীকে নমিনি হিসেবে উলে­খ করায় বিমাকারী প্রতিষ্ঠান তার স্ত্রীকে বিমা দাবি পরিশোধে বাধ্য। সঙ্গত কারণে জনাব রহিমের স্ত্রী বিমা দাবি করতে পারবেন।

মমমপ্রশ্ন২ জনাব তৌহিদ ১৫ বছরের জন্য ৫ লক্ষ টাকার একটি জীবন বিমা চুক্তি সম্পাদন করেন। ৫ বছর প্রিমিয়াম পরিশোধের পর তিনি আর্থিক অসামর্থের কারণে তার পক্ষে বিমাপত্রটি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে বিমা কোম্পানিকে জানান এবং বিমা দাবি আদায়ের জন্য আবেদন করেন। [রা. বো. ১৭]
অ ক. জীবন বিমা কী? ১
অ খ. জীবন বিমাকে নিশ্চয়তার চুক্তি বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. জনাব তৌহিদ কোন ধরনের জীবন বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন- আলোচনা করো। ৩
অ ঘ. জনাব তৌহিদ কী বিমাকারী কোম্পানি থেকে বিমা দাবি পাওয়ার অধিকারী হবেন? যুক্তি দাও। ৪
২ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক প্রিমিয়াম বা বিমা সেলামির বিনিময়ে বিমাগ্রহীতা নিজের বা অন্যের জীবনের ঝুঁকিজনিত ক্ষতির প্রতিরোধ বা লাঘব করার জন্য বিমা কোম্পানির কাছ থেকে যে প্রতিশ্র“তি পেয়ে থাকেন তাকে জীবন বিমা বলা হয়।
খ যে বিমা চুক্তিতে কোনো ক্ষতি সংঘটিত হলে ক্ষতিপূরণ না করে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের প্রতিশ্র“তি দেয়া হয় তাকে নিশ্চয়তার চুক্তি বলা হয়।
জীবনহানি হলে বা দুর্ঘটনায় পড়লে, মানুষের ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায় না। তাই জীবন বিমাকৃত কেউ মারা গেলে বা পঙ্গু হলে কী পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হবে- বিমা কোম্পানি তার নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে। এ জন্য জীবন বিমাকে নিশ্চয়তার চুক্তি বলা হয়।
গ উদ্দীপকে জনাব তৌহিদ জীবন বিমার মেয়াদি বিমাপত্র (ঊহফড়সিবহঃ ঢ়ড়ষরপু) গ্রহণ করেছেন।
সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মেয়াদি বিমাপত্র করা হয়ে থাকে। এই বিমাপত্রে এমন শর্ত থাকে যে, উক্ত সময়ের মধ্যে বিমাগ্রহীতা মারা গেলে তার মনোনীত ব্যক্তি বিমাকৃত অর্থ পাবেন।
উদ্দীপকে জনাব তৌহিদ ১৫ বছরের জন্য ৫ লক্ষ টাকার একটি জীবন বিমা চুক্তি করেছেন। তাই এ বিমা পলিসির টাকা তিনি ১৫ বছর পর উত্তোলন করতে পারবেন। কিন্তু তিনি এই সময়ের মধ্যে মারা গেলে তার মনোনীত ব্যক্তি এ অর্থ পাবেন। এখানে জনাব তৌহিদের বিমাটি ১৫ বছরের জন্য করা হয়েছে বিধায় তা একটি মেয়াদি জীবন বিমাপত্র হিসেবে বিবেচিত হবে।
ঘ উদ্দীপকের জনাব তৌহিদ বিমা দাবি পাওয়ার অধিকারী হবেন না, তবে তিনি বিমাপত্রের সমর্পণ (ঝঁৎৎবহফবৎ াধষঁব) মূল্য পাবেন।
বিমাগ্রহীতা আর্থিক অসচ্ছলতা বা অন্য কোনো কারণে বিমা চালু রাখতে সক্ষম না হলে বিমা কোম্পানির কাছে তা সমর্পণ করতে পারেন। এর ফলে বিমাকারী কোম্পানি থেকে বিমাগ্রহীতা যে অর্থ পান তাকে বিমাপত্রের সমর্পণ মূল্য বলা হয়।
উদ্দীপকে জনাব তৌহিদ ৫ লক্ষ টাকার একটি মেয়াদি জীবন বিমাপত্র গ্রহণ করেন। ১৫ বছরের বিমাপত্রে তিনি ৫ বছর প্রিমিয়াম পরিশোধের পর আর্থিকভাবে অসমর্থ হয়ে পড়েন। তাই তিনি বিমা দাবি আদায়ের জন্য আবেদন করেন।
এখানে তিনি চুক্তি অনুযায়ী বিমাকৃত সম্পূর্ণ মূল্য দাবি করতে পারবেন না। কারণ বিমাপত্রের মেয়াদ আরও ১০ বছর বাকি আছে এবং তিনি এখনও জীবিত আছেন। তবে তিনি বিমাপত্রের সমর্পণ মূল্য দাবি করতে পারেন। সমর্পণ মূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি শর্ত হলো ন্যূনতম ২ বছর পর্যন্ত কিস্তি প্রদান করতে হবে। এখানে জনাব তৌহিদ ৫ বছর কিস্তি প্রদান করেছেন। তাই তিনি সম্পূর্ণ বিমা দাবি না পেলেও সমর্পণ মূল্য পাবেন।

মমমপ্রশ্ন৩ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মি. কামাল একটি জীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। যার উত্তরাধিকারী করা হয় তার স্ত্রীকে। বিমা পলিসি গ্রহণকালে তিনি তার একটি মারাÍক রোগের কথা গোপন রাখেন। তিনটি প্রিমিয়ামের টাকা প্রদানের পর মি. কামাল মৃত্যুবরণ করেন। মিসেস কামাল বিমা দাবি পেশ করলে বিমা কোম্পানি তা প্রত্যাখ্যান করে। [দি. বো. ১৭]
অ ক. স্থলাভিষিক্তকরণ নীতি কী? ১
অ খ. ‘বিমা হলো ক্ষতিপূরণের চুক্তি’Ñ ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. মি. কামাল কোন ধরনের জীবন বিমা করেছিলেন? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. বিমা কোম্পানি মিসেস কামালের বিমা দাবি প্রত্যাখ্যান করে কেন? বুঝিয়ে বলো। ৪
৩ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক যে নীতি অনুযায়ী বিমাকৃত সম্পত্তির ক্ষতিতে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির মালিকানা বিমা কোম্পানির নিকট স্থানান্তরিত হয় তাকে স্থলাভিষিক্তকরণ নীতি বলে।
উদাহরণ : জনাব আসগর তার ব্যক্তিগত গাড়িটি ৩০ লক্ষ টাকার বিমা করেন। দুর্ঘটনায় গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমা কোম্পানি জনাব আসগরের বিমাদাবি পরিশোধ করে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি বিমা কোম্পানি জনাব রহমানের নিকট ২০,০০০ টাকায় বিক্রি করে। স্থলাভিষিক্তকরণ নীতি অনুযায়ী এই ২০,০০০ টাকা জনাব আসগর দাবি করতে পারবেন না। এই অর্থ বিমা কোম্পানির।
খ বিমা হলো এক ধরনের লিখিত চুক্তি। এই চুক্তিতে বিমাগ্রহীতা বিমাকৃত বস্তুর ক্ষতির ভার নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম প্রদানের মাধ্যমে বিমা কোম্পানির ওপর অর্পণ করে।
সাধারনত কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে বিমা চুক্তি করা হয়। এ চুক্তি অনুসারে বিমাকৃত বস্তু যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে বিমা কোম্পানি বিমাগ্রহীতাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। যেহেতু ক্ষতি হতে রক্ষার্থে এ চুক্তি সম্পাদন করা হয় তাই বিমা চুক্তিকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয়।
গ উদ্দীপকে মি. কামাল আজীবন বিমা গ্রহণ করেছিলেন।
এ বিমা চুক্তির মাধ্যমে এককালীন, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বা আজীবন প্রিমিয়াম প্রদানের বিনিময়ে বিমাকারী বিমাগ্রহীতার মৃত্যুতে তার মনোনীত ব্যক্তিকে বিমাকৃত অর্থ প্রদানের প্রতিশ্র“তি দেয়।
উদ্দীপকে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মি. কামাল একটি জীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। বিমাপত্রে তিনি তার স্ত্রীকে নমিনি হিসেবে উলে­খ করেন। অর্থাৎ জীবন বিমা পত্রটি মি. কামাল কোনে নির্দিষ্ট মেয়াদকালের জন্য গ্রহণ করেন নি। মূলত বিমাপত্রটি তিনি তার অবর্তমানে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গ্রহণ করেছেন। যা আজীবন বিমাপত্রের মূল বিষয়।
ঘ উদ্দীপকে মি. কামাল দ্বারা আজীবন বিমাপত্র গ্রহণে বিমাপত্রের অপরিহার্য উপাদান সদ্বিশ্বাসের সম্পর্ক লঙ্ঘিত হওয়ায় বিমা কোম্পানি দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
বিমাচুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিমাকারী ও বিমাগ্রহীতার মধ্যে সদ্বিশ্বাসের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই এক্ষেত্রে বিমাকৃত বিষয়বস্তু সম্পর্কে সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সঠিকভাবে প্রদানে উভয়পক্ষ একে অন্যের নিকট বাধ্য থাকে।
উদ্দীপকে মি. কামাল বিমাচুক্তি সম্পাদনে তার সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন নি। অর্থাৎ তিনি বিমার অপরিহার্য উপাদান সদ্বিশ্বাসের সম্পর্ক ভঙ্গ করেছেন। যার ফলে বিমাকারী চুক্তি বাতিল বা ক্ষতিপূরণ প্রদান হতে বিরত থাকতে পারে। তাই পরবর্তীতে তার মৃত্যুতে বিমাদাবি উত্থাপিত হলে বিমা কোম্পানি তা যৌক্তিকভাবেই প্রত্যাখ্যান করে।

মমমপ্রশ্ন৪ জনাব হাবিবুর রহমান একজন কলেজের প্রভাষক। কলেজ থেকে ফেরার সময় একটি দুর্ঘটনায় তিমি মারা যান। জনাব হাবিবুর রহমানের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সংসার চালাতে ভয় পান। কিন্তু তিনি জানতে পারলেন যে, তার স্বামী পরিবারের কথা ভেবে ১৫ বছরমেয়াদি একটি বিমা পলিসি করেছিলেন। বিমাপত্রে জনাব রহমানের মনোনীত ব্যক্তি ছিলেন তার স্ত্রী। বিমার দাবি পেশ করায় বিমা কোম্পানি জনাব রহমানের স্ত্রীকে দাবি পরিশোধের আশ্বাস দেন। [কু. বো. ১৭]
অ ক. আজীবন বিমাপত্র কী? ১
অ খ. কোন ধরনের বিমাপত্রের অধীনে কারখানার সকল শ্রমিকের বিমাপত্র করা যায়Ñ ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. উদ্দীপকের আলোকে জনাব রহমান কী ধরনের জীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেছিলেন? আলোচনা করো। ৩
অ ঘ. জনাব রহমানের এই পলিসি তার পরিবারের কাছে কতটুকু গুরুত্ব বহন করেছে বলে তুমি মনে করো? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও। ৪
৪ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক যে জীবন বিমাপত্রে শুধু বিমাকৃত ব্যক্তির মৃত্যুর পরই তার মনোনীত ব্যক্তিকে বিমাদাবি পরিশোধ করা হয় তাকে আজীবন বিমাপত্র বলে।
খ গোষ্ঠী বিমাপত্রের অধীনে কারখানার সকল শ্রমিকের জন্য বিমাপত্র গ্রহন করা যায়।
এ বিমাপত্রের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর সকলের জীবনকে একক বিমাপত্রের অধীনে বিমা করা হয়। সাধারণত একই স্থানে কর্মরত কর্মীদের জন্য এ ধরনের বিমা করা হয়ে থাকে। নিয়োগকর্তা এ ধরনের বিমা করে কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন।
গ উদ্দীপকে জনাব রহমান মেয়াদি জীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেছিলেন।
মেয়াদি বিমাপত্র সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খোলা হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট সময় শেষে বিমাকৃত অর্থ বিমাগ্রহীতাকে দেয়া হয়। তবে, বিমা গ্রহীতা মারা গেলে তার মনোনীত ব্যক্তিকে এ অর্থ মেয়াদের পূর্বেই দেয়া হয়। এরূপ বিমাপত্রে একদিকে বিনিয়োগ ও অন্যদিকে প্রতিরক্ষার সুবিধা পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে জনাব হাবিবুর রহমান একজন কলেজের প্রভাষক। কলেজ থেকে ফেরার পথে তিনি দুর্ঘটনায় মারা যান। পরবর্তীতে তার স্ত্রী জানতে পারেন যে, তিনি ১৫ বছর মেয়াদি একটি বিমা পলিসি করেছিলেন। বিমাপত্রে জনাব রহমানের মনোনীত ব্যক্তি ছিলেন তার স্ত্রী। অর্থাৎ মেয়াদি বিমা পলিসির শর্তানুযায়ী ১৫ বছরের মধ্যে জনাব রহমান মারা গেলে তার স্ত্রী এ অর্থ পাবে। আর যদি মারা না যান তাহলে মেয়াদ শেষে তিনি এ অর্থ পাবেন। এ সকল বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় বলা যায়, জনাব রহমানের বিমাটি একটি মেয়াদি জীবন বিমা।
ঘ উদ্দীপকে জনাব রহমানের মেয়াদি জীবন বিমা পলিসিটি তার পরিবারের কাছে আর্থিক নিরাপত্তাস্বরূপ ভ‚মিকা রাখছে।
জীবন বিমা হলো নিশ্চয়তার চুক্তি। কেননা, মানুষের জীবনহানির কোনো ক্ষতিপূরণ প্রদান সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে বিমাকৃত ব্যক্তির জীবনহানি বা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার পরিবার কিংবা তাকে আর্থিকভাবে সহায়তা দেয়া হয়।
উদ্দীপকে জনাব হাবিবুর রহমান কলেজ থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় মারা যান। এতে তার পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। পরবর্তীতে তার স্ত্রী জানতে পারেন, তিনি ১৫ বছর মেয়াদি একটি জীবন বিমা পলিসি করেছিলেন।
বিমাদাবি পেশ করায় বিমা কোম্পানি জনাব রহমানের স্ত্রীকে এ দাবি পরিশোধের আশ্বাস দেন। জীবন বিমা পলিসি হওয়ার কারণে ১৫ বছর পূর্ণ না হলেও তার স্ত্রী বিমাকৃত সম্পূর্ণ অর্থ পাবে। এর ফলে তার পরিবার আর্থিক নিরাপত্তা পেয়েছে। কেননা, জীবন বিমা পলিসিটি না করা থাকলে তার পরিবারকে চরম আর্থিক সংকটে পড়তে হতো।

মমমপ্রশ্ন৫ জনাব সাঈদ একজন ব্যবসায়ী। তিনি তার সন্তানদের লেখাপড়ার স্বার্থে ১০ বছর মেয়াদি একটি বিশেষ ধরনের বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন। যেখানে তিনি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত বিমা কোম্পানিকে প্রিমিয়াম পরিশোধ করবেন এবং মেয়াদ শেষে বিমা কোম্পানি আবার নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তার সন্তানদেরকে বৃত্তি প্রদান করবে। তিনি চার বছর নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধ করার পর হঠাৎ ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখীন হলে বিমাপত্রটি বাতিলের জন্য আবেদন করেন। বিমা কোম্পানিটি তার আবেদনপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আর্থিক সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করে। [চ. বো. ১৭
অ ক. বিমাযোগ্য স্বার্থ কী? ১
অ খ. জীবন বিমাকে কেন নিশ্চয়তার চুক্তি বলা হয়? ২
অ গ. উদ্দীপকে জনাব সাঈদ কোন ধরনের মেয়াদি জীবন বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকে বিমা কোম্পানিটি জনাব সাঈদকে আর্থিক সুবিধা প্রদানের জন্য যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেটির যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো। ৪
৫ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক বিমাযোগ্য স্বার্থ বলতে বিমাকৃত সম্পদ বা জীবনের ওপর বিমাগ্রহীতার আর্থিক স্বার্থকে বোঝায়।
উদাহরণ : জনাব রাব্বির ব্যবহৃত গাড়ি জনাব রাফি বিমা করতে পারবেন না। কারণ এখানে জনাব রাফির উক্ত গাড়ির ওপর কোনো আর্থিক স্বার্থ নেই। তবে জনাব রাব্বি তার গাড়িটি জনাব রাফির নিকট বন্ধক রাখলে সেক্ষেত্রে জনাব রাফির আর্থিক স্বার্থ সৃষ্টি হবে।
খ যে বিমা চুক্তিতে কোনো ক্ষতি সংঘটিত হলে ক্ষতিপূরণ না করে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের প্রতিশ্র“তি দেয়া হয় তাকে নিশ্চয়তার চুক্তি বলা হয়।
জীবনহানি হলে বা দুর্ঘটনায় পড়লে, মানুষের ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায় না। তাই জীবন বিমাকৃত কেউ মারা গেলে বা পঙ্গু হলে কী পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হবে- বিমা কোম্পানি তার নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে। এ জন্য জীবন বিমাকে নিশ্চয়তার চুক্তি বলা হয়।
গ উদ্দীপকে জনাব সাঈদ মেয়াদি জীবন বিমার শিক্ষাবৃত্তি বিমাপত্রটি গ্রহণ করেছেন।
শিক্ষাবৃত্তি বিমাপত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত বিমাগ্রহীতা কিস্তির অর্থ বা প্রিমিয়াম প্রদান করে। পরবর্তীতে বিমা কোম্পানি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিমাপত্রে উলি­খিত নমিনিকে বৃত্তি হিসেবে অর্থ প্রদান করে।
উদ্দীপকে জনাব সাঈদ একজন ব্যবসায়ী। তিনি তার সন্তানদের লেখাপড়ার স্বার্থে ১০ বছর মেয়াদি একটি বিশেষ ধরনের বিমাপত্র গ্রহণ করেন। বিমা চুক্তির শর্তানুযায়ী তিনি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত বিমা কোম্পানিকে প্রিমিয়াম পরিশোধ করবেন। মেয়াদ শেষে বিমা কোম্পানি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত তার সন্তানদেরকে বৃত্তি প্রদান করবে। জনাব সাঈদ মূলত তার সন্তানদের লেখাপড়ার ভবিষ্যতের খরচ নির্বাহের উদ্দেশ্যেই এ বিমা করেছেন। উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করে বলা যায়, জনাব সাঈদের গৃহীত বিমাটি মেয়াদি জীবন বিমার শিক্ষাবৃত্তি বিমার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং, তার গৃহীত বিমাপত্রটি একটি শিক্ষা বৃত্তি বিমাপত্র।
ঘ উদ্দীপকে বিমা কোম্পানি জনাব সাঈদকে সমর্পণ মূল্য প্রদানের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা যৌক্তিক হয়েছে।
সমর্পণ মূল্য হলো বিমা পলিসি সমর্পণের বিনিময় মূল্য। বিমাগ্রহীতা কোনো কারণে বিমা পলিসির কিস্তি চালিয়ে যেতে অসমর্থ হলে বিমা কোম্পানি সমর্পণ মূল্য প্রদান করে থাকে।
উদ্দীপকে জনাব সাঈদ তার সন্তানদের লেখাপড়ার স্বার্থে ১০ বছর মেয়াদি শিক্ষাবৃত্তি বিমাপত্র গ্রহণ করেন। তিনি চার বছর নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধের পর বিমাপত্রটি বাতিলের জন্য আবেদন করেন। মূলত তিনি আর্থিকভাবে অসমর্থ হওয়ার কারণে এরূপ আবেদন করেন। বিমা কোম্পানিও তাকে আর্থিক সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করে। অর্থাৎ তিনি বিমা কোম্পানি হতে সমর্পণ মূল্য পাবেন।
শর্ত অনুযায়ী সমর্পণ মূল্য পেতে হলে কমপক্ষে দুই বছর বিমার কিস্তির অর্থ বা প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে হয়। এখানে জনাব সাঈদ বিমার কিস্তি চার বছর পর্যন্ত নিয়মিতভাবেই পরিশোধ করেন। অর্থাৎ তিনি সমর্পণ মূল্য পাওয়ার শর্ত পূরণ করেছেন। সুতরাং, বিমা কোম্পানি কর্তৃক তাকে সমর্পণ মূল্য প্রদানের সিদ্ধান্তটি যথার্থই যৌক্তিক।

মমমপ্রশ্ন৬ ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কথা চিন্তা করে মি. ‘ঢ’ একটি ৫ বছর মেয়াদি ও কম প্রিমিয়ামের বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে বিমার মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে শুধু মি. ‘ঢ’ কে বিমাদাবির অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়। অন্যদিকে মি. ‘ণ’ একটি ২০ বছর মেয়াদি বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে বিমা কোম্পানি মেয়াদের মধ্যে মি. ‘ণ’ মারা গেলে তার পরিবারের মনোনিত ব্যক্তিকে অথবা মৃত্যুবরণ না করলে মি. ‘ণ’ কে বোনাসসহ বিমাকৃত অর্থ প্রদানের নিশ্চয়তা প্রদান করে।
[সি. বো. ১৭]
অ ক. বিমাযোগ্য স্বার্থ কী? ১
অ খ. বিমাকে ঝুঁকি বণ্টনের যৌথ ব্যবস্থা বলা হয় কেন? ২
অ গ. মি. ‘ঢ’ কর্তৃক গৃহীত বিমা পলিসিটি বিমাপত্রের মেয়াদের ভিত্তিতে কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. ‘মি. ‘ণ’ কর্তৃক গৃহীত বিমাপত্রটি একাধারে নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করবে’Ñ তুমি কি এ উক্তির সাথে একমত? উদ্দীপকের আলোকে তোমার যৌক্তিক মতামত দাও। ৪
৬ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক বিমাযোগ্য স্বার্থ বলতে বিমাকৃত সম্পদ বা জীবনের ওপর বিমাগ্রহীতার আর্থিক স্বার্থকে বোঝায়।
উদাহরণ : জনাব রাব্বির ব্যবহৃত গাড়ি জনাব রাফি বিমা করতে পারবেন না। কারণ এখানে জনাব রাফির কোনো আর্থিক স্বার্থ নেই। তবে জনাব রাব্বি তার গাড়িটি জনাব রাফির নিকট বন্ধক রাখলে সেক্ষেত্রে জনাব রাফির আর্থিক স্বার্থ সৃষ্টি হবে। তখন জনাব রাফি উক্ত গাড়িটির জন্য বিমা করতে পারবেন।
খ বিমার মাধ্যমে বিমাগ্রহীতা তার সম্ভাব্য ঝুঁকিকে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বণ্টন করে দেয়, তাই বিমাকে ঝুঁকি বণ্টনের যৌথ ব্যবস্থা বলা হয়।
বিমা এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বিমাগ্রহীতার ক্ষতিকে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা করা যায়। এ ব্যবস্থায় বিমাকারী বিভিন্ন বিমাগ্রহীতার কাছ থেকে প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্ত বিমাগ্রহীতার ক্ষতিপূরণ করে।
গ উদ্দীপকে মি. ঢ কর্তৃক গৃহীত বিমা পলিসিটি বিমাপত্রের মেয়াদের ভিত্তিতে একটি বিশুদ্ধ মেয়াদি বিমাপত্র।
বিশুদ্ধ মেয়াদি বিমাপত্রের ক্ষেত্রে যে মেয়াদের জন্য বিমাপত্র খোলা হয় ঐ মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেই শুধু বিমাগ্রহীতা বিমাদাবির অর্থ লাভ করে। এর মধ্যে বিমাকৃত ব্যক্তি মারা গেলে কোনো প্রকার বিমাদাবি পরিশোধিত হয় না। এরূপ বিমাপত্র সাধারণত ৫ বা ১০ বছর মেয়াদি হয়ে থাকে যাতে বিমা প্রিমিয়ামের পরিমাণও কম হয়।
উদ্দীপকে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কথা চিন্তা করে মি. ঢ একটি জীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। যার মেয়াদ ৫ বছর এবং প্রিমিয়ামের পরিমাণ ও অপেক্ষাকৃত কম। তবে এক্ষেত্রে মি. ঢ বিমাপত্রের মেয়াদপূর্তিতে জীবিত থাকলেই কেবল বিমাকারী কোম্পানি দাবি পরিশোধে বাধ্য থাকবে। অর্থাৎ উক্ত মেয়াদর্ত্তীণের পূর্বে মি. ঢ মারা গেলে বিমাদাবি পরিশোধিত হবে না। যা বিশুদ্ধ মেয়াদি জীবন বিমাপত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ঘ উদ্দীপকে মি. ণ কর্তৃক গৃহীত বিমাপত্রটি একাধারে নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করবে’ Ñ এক্ষেত্রে উক্ত বিমাপত্রটি সাধারণ মেয়াদি বিমাপত্র হওয়ায় আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।
সাধারণ মেয়াদি বিমাপত্রের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে বিমাকৃত ব্যক্তি মারা গেলে মনোনীত ব্যক্তিকে বা বিমাকৃত ব্যক্তি জীবিত থাকলে মেয়াদ শেষে তাকে বিমার অর্থ প্রদান করা হয়। ফলে এরূপ বিমাপত্র একাধারে বিনিয়োগ ও অন্যদিকে প্রতিরক্ষার সুবিধা প্রদান করে।
উদ্দীপকে মি. ণ বিশ বছর মেয়াদি একটি বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। উক্ত বিমাপত্রের শর্ত অনুযায়ী মেয়াদের মধ্যে মি. ণ এর মৃত্যু হলে তার পরিবারের মনোনীত ব্যক্তিকে অথবা তিনি জীবিত থাকলে মেয়াদ শেষে তাকে বিমাকৃত অর্থ পরিশোধ করা হবে। অর্থাৎ মি. ণ একটি সাধারণ মেয়াদি জীবন বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন।
মি. ণ এর গৃহীত বিমাপত্রটি তার অবর্তমানে পরিবারের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা স্বরূপ। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময় পরপর কিস্তি পরিশোধ করতে হয় বিধায় তা এক ধরনের বাধ্যতামূলক সঞ্চয়ে পরিণত হয়। যা পরবর্তীতে বিনিয়োগযোগ্য সঞ্চয়ে রূপ লাভ করবে। আবার মি. ণ মারা গেলে এই বিমাটি তার পরিবারের জন্য আর্থিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করবে।

মমমপ্রশ্ন৭ জনাব মাশরুর বিমা দাবি প্রাপ্তির অনিশ্চয়তার কথা চিন্তা করে তার ১০০ কোটি টাকা মূল্যের যন্ত্রপাতির জন্য ‘মডার্ন ইন্সুরেন্স কোম্পানি লি.’ ও ‘পপুলার ইন্সুরেন্স কোম্পানি লি.’ নামক দু’টি বিমা কোম্পানি থেকে বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। অন্যদিকে জনাব সামিয়া তার ২০০ কোটি টাকা মূল্যের জাহাজের জন্য ‘প্রিমিয়ার ইন্সুরেন্স কোম্পানির’ নিকট থেকে একটি বিমা পলিসি সংগ্রহ করেন। ‘প্রিমিয়ার ইন্সুরেন্স কোম্পানি’ উক্ত জাহাজের জন্য আবার ‘জনতা ইন্সুরেন্স কোম্পানির’ নিকট থেকে ভিন্ন একটি বিমা পলিসি গ্রহণ করে। [সি. বো. ১৭]
অ ক. শস্য বিমা কী? ১
অ খ. কোন ধরনের সম্পত্তি বিমায় নৈতিক ঝুঁকির মাত্রা বেশি থাকে? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. জনাব মাশরুর কোন ধরনের বিমা পলিসি গ্রহণ করেছিলেন? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. ‘জনতা ইন্সুরেন্সের নিকট বিমা করায় প্রিমিয়ার ইন্সুরেন্সের ঝুঁকি কমবে এবং জনাব সামিয়ার বিমা দাবি প্রাপ্তির সম্ভাবনা বাড়বে’Ñ তুমি কি এ উক্তি সমর্থন করো? উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত দাও। ৪
৭ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক শস্য বিনষ্টের সম্ভাব্য প্রাকৃতিক ঝুঁকিসমূহ (যেমন: বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ইত্যাদি) এবং অপ্রাকৃতিক ঝুঁকিসমূহ (যেমন: চুরি, লুট, অগ্নিসংযোগ, দাঙ্গা ইত্যাদি) মোকাবিলার জন্য যে বিমা গ্রহণ করা হয় তাকে শস্য বিমা বলে।
খ অগ্নিবিমায় নৈতিক ঝুঁকির মাত্রা বেশি থাকে।
বিমাগ্রহীতার চরিত্র বা পার্শ্ববর্তী লোকজনের কার্যকলাপ থেকে সৃষ্ট ঝুঁকিকেই অগ্নিবিমায় নৈতিক ঝুঁকি বলে। নৈতিক ঝুঁকি অদৃশ্যমান এবং তা মানুষের ওপর নির্ভরশীল। প্রাকৃতিক ঝুঁকির মতো এ ঝুঁকি অনুমান করা প্রায় অসম্ভব। পণ্য গুদাম বিমা করে পণ্য সরিয়ে আগুন লাগানো ও ক্ষতিপূরণ আদায় করা নৈতিক ঝুঁকির আওতাভুক্ত।
গ উদ্দীপকে জনাব মাশরুর একশ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির জন্য ‘মডার্ন ইন্সুরেন্স কোম্পানি লি.’ ও ‘পপুলার ইন্সুরেন্স কোম্পানি লি.’ নামক দু’টি বিমা কোম্পানি থেকে বিমা পলিসি গ্রহণ করায় তা দ্বৈত বিমা।
এ ধরনের বিমা পলিসিতে একক বিষয়বস্তুকে একাধিক বিমা কোম্পানির নিকট বিমা করা হয়। বিমাকৃত মূল্য না পাওয়ার ঝুঁকি এড়ানোই এরূপ বিমার উদ্দেশ্য। সাধারণত উচ্চ মূল্যের সম্পত্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের বিমাপলিসি গ্রহণ করা হয়।
উদ্দীপকে জনাব মাশরুর বিমা দাবি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার বিষয়টি বিবেচনা করে তার মালিকানাধীন যন্ত্রপাতি একাধিক বিমা কোম্পানির নিকট বিমা করেন। এক্ষেত্রে যন্ত্রপাতির মূল্য একশ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিষয়বস্তুর মূল্য অধিক হওয়ায় জনাব মাশরুর তা একাধিক বিমা কোম্পানিতে বিমা করেন। এ পর্যায়ে তিনি বিষয়বস্তুর ক্ষতিতে বিমাকৃত মূল্য নিশ্চিতভাবে পাওয়ার লক্ষ্যে এরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, যা দ্বৈতবিমার মূল বিষয়বস্তু হিসেবে বিবেচ্য।
ঘ উদ্দীপকে উলে­খ্য ‘জনতা ইন্সুরেন্সের নিকট বিমা করায় প্রিমিয়ার ইন্সুরেন্সের ঝুঁকি কমবে এবং জনাব সামিয়ার বিমা দাবি প্রাপ্তির সম্ভাবনা বাড়বে’ Ñ পুনর্বিমার উদ্দেশ্য বিবেচনায় উক্ত বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
এ ধরনের বিমাচুক্তির মাধ্যমে বিমাকারী বিমাকৃত বিষয়বস্তুর ঝুঁকি হ্রাস করে। এটি বিমাকারী কর্তৃক অন্য বিমা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পাদিত চুক্তি। এ চুক্তি দ্বারা প্রথম বিমাকারীর গৃহীত ঝুঁকির অংশ দ্বিতীয় বিমাকারীর সাথে বণ্টনের ব্যবস্থা করা হয়।
উদ্দীপকে জনাব সামিয়া তার দুইশ কোটি টাকা মূল্যের জাহাজের জন্য প্রিমিয়ার ইন্সুরেন্স কোম্পানির নিকট থেকে একটি বিমা পলিসি সংগ্রহ করেন। তবে প্রিমিয়ার ইন্সুরেন্স উক্ত জাহাজের জন্য আবার জনতা ইন্সুরেন্স কোম্পানি হতে একটি বিমা পলিসি গ্রহণ করে।
প্রিমিয়ার ইন্সুরেন্স, জনতা ইন্সুরেন্স হতে জাহাজের জন্য পুনরায় বিমাপত্র গ্রহণ করায় তা একটি পুনর্বিমা চুক্তি। এক্ষেত্রে বিমাকারী ও বিমাগ্রহীতা উভয়ই বিমা কোম্পানি। এ পর্যায়ে প্রিমিয়ার ইন্সুরেন্স কর্তৃক পুনরায় বিমা পলিসি গ্রহণের মাধ্যমে জনাব সামিয়ার দুইশ কোটি টাকার জাহাজের ঝুঁকি বণ্টনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে প্রিমিয়ার ইন্সুরেন্সের যেমন গৃহীত ঝুঁকির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে অনুরূপভাবে জনাব সামিয়ারও বিমা দাবি প্রাপ্তির সম্ভাবনা বেড়েছে।
মমমপ্রশ্ন৮ রুবিনা ইসলাম ২০১১ সালে মর্ডান লাইফ ইন্স্যুারেন্স এর সাথে মাসিক প্রিমিয়াম প্রদানের বিনিময়ে ১০ বছরের জন্য একটি বিমা চুক্তি সম্পাদন করেন। ১০ বছরের মধ্যে তিনি মারা গেলে তার মনোনীত সন্তানেরা বিমার অর্থ পাবেন আর বেঁচে থাকলে তিনি অর্থ পাবেন। পাঁচ বছর পর আর্থিক অসঙ্গতির কারণে তিনি বিমাটি বন্ধ করে দেয়ার জন্য আবেদন করেন এবং প্রদত্ত প্রিমিয়ামের ২৫ শতাংশ ফেরত প্রদানের দাবি করেন। [য. বো. ১৭]
অ ক. প্রিমিয়াম কী? ১
অ খ. জীবন বিমায় মৃত্যুহার পঞ্জি ব্যবহার করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. উদ্দীপকে রুবিনা ইসলাম মেয়াদভিত্তিক কোন ধরনের জীবন বিমাপত্র গ্রহণ করেছিলেন? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. তুমি কি মনে করো, মডার্ন লাইফ ইন্স্যুরেন্স রুবিনা ইসলামকে তার দাবিকৃত অর্থ প্রদান করবে? উদ্দীপকের আলোকে যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো। ৪
৮ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক বিমাচুক্তিতে বিমাকারীর ঝুঁকি বহনের বিনিময়ে বিমাগ্রহীতা বিমাকারীকে যে অর্থ প্রদান করে তাকে প্রিমিয়াম বলে।
জীবন বিমার ক্ষেত্রে বিমা প্রিমিয়াম সাধারণত কিস্তিতে পরিশোধ্য। তবে নৌ, অগ্নি ও অন্যান্য বিমার ক্ষেত্রে একবারেই এরূপ প্রিমিয়াম পরিশোধ করা হয়।
খ জীবন বিমা ব্যবসায়কে অনুমানের গতানুগতিক ধারা থেকে বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশের ধারায় নিয়ে আসতে মৃত্যুহার পঞ্জি ব্যবহার করা হয়।
অতীত পরিসংখ্যান ও অভিজ্ঞতার আলোকে নির্দিষ্ট বয়সসীমায় প্রতি হাজারে সম্ভাব্য মৃত ব্যক্তির সংখ্যা সম্বলিত সারণী দ্বারা মৃত্যুহার পঞ্জি নির্ণয় করা হয়। এরূপ পঞ্জি মৃত্যু ঝুঁকি ও প্রিমিয়ামের পরিমাণ নির্ধারণে সহায়তা করে।
গ উদ্দীপকে রুবিনা ইসলাম জীবন বিমার সাধারণ মেয়াদি বিমাপত্র গ্রহণ করেছিলেন।
সাধারণ মেয়াদি বিমাপত্রের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে বিমাকৃত ব্যক্তির মৃত্যু হলে মনোনীত ব্যক্তিকে বিমার অর্থ প্রদান করা হয়। তবে উক্ত মেয়াদের মধ্যে বিমাকৃত ব্যক্তির মৃত্যু না হলে তাকেই এ অর্থ প্রদান করা হয়।
উদ্দীপকে রুবিনা ইসলাম মডার্ণ লাইফ ইন্সুরেন্সে এর নিকট ১০ বছরের জন্য একটি বিমা চুক্তি করেন। শর্তানুযায়ী, ১০ বছরের মধ্যে তিনি মারা গেলে তার মনোনীত সন্তান বিমার অর্থ পাবে। আর যদি বেঁচে থাকেন তাহলে তিনি নিজেই এ অর্থ পাবেন। অর্থাৎ তার বিমাপত্রটি সাধারণ মেয়াদি বিমাপত্রের মতো একই সাথে বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষার সুবিধা প্রদান করছে। সুতরাং, বিমাচুক্তির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী রুবিনা ইসলামের গৃহীত বিমাপত্রটি হলো সাধারণ মেয়াদি বিমাপত্র।
ঘ উদ্দীপকে মডার্ণ লাইফ ইন্সুরেন্স রুবিনা ইসলামকে তার দাবিকৃত অর্থ সমর্পণ মূল্য হিসেবে প্রদান করবে বলে আমি মনে করি।
সমর্পণ মূল্য হলো বিমা পলিসি সমর্পণের বিনিময় মূল্য। বিমাগ্রহীতা কোনো কারণে বিমার প্রিমিয়াম প্রদানে অসমর্থ বা অনিচ্ছুক হলে বিমা কোম্পানি তার প্রিমিয়ামের একটি অংশ ফেরত দেয়। এই অংশটুকুই হলো সমর্পণ মূল্য।
উদ্দীপকে রুবিনা ইসলাম মডার্ণ লাইফ ইন্সুরেন্স এর নিকট হতে ১০ বছরের জন্য সাধারণ মেয়াদি জীবন বিমাপত্র গ্রহণ করেন। পাঁচ বছর পর আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি বিমাটি বন্ধের জন্য আবেদন করেন এবং প্রদত্ত প্রিমিয়ামের ২৫ শতাংশ ফেরত প্রদানের দাবি করেন।
অর্থাৎ আর্থিক সমস্যার কারণে তিনি জীবন বিমা পলিসিটি বিমা কোম্পানির কাছে সমর্পণ করেন। কমপক্ষে ২ বছর পর্যন্ত প্রিমিয়াম পরিশোধ করা হলে এরূপ প্রস্তাবে বিমা কোম্পানি সমর্পণ মূল্য প্রদান করে। এখানে রুবিনা ইসলাম ৫ বছর পর্যন্ত প্রিমিয়াম পরিশোধ করেন। সুতরাং, তিনি অবশ্যই বিমা কোম্পানির নিকট হতে সমর্পণ মূল্য পাবেন।
মমমপ্রশ্ন৯ রফিক ও শফিক দুই বন্ধু। তারা একই সাথে সুরমা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোং লি.-এ ১০ বছর মেয়াদি ১০ লক্ষ টাকার দুইটি জীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে জনাব রফিক চাকরিচ্যুত হওয়ায় বিমার প্রিমিয়াম দেয়া তার পক্ষে আর সম্ভব হয়ে উঠে না। তবে শফিক তার বিমা পলিসির মেয়াদ পূর্ণ করেন। [ব. বো. ১৭]
অ ক. সমর্পণ মূল্য কী? ১
অ খ. ‘জীবন বিমা মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের আর্থিক হাতিয়ার স্বরূপ’Ñ কথাটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। ২
অ গ. উদ্দীপকের শফিক বিমা কোম্পানির নিকট থেকে কী ধরনের সুবিধা পাবেন? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকের দুই বন্ধুর বিমা সুবিধার চিত্র তুলে ধরো। ৪
৯ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক সমর্পণ মূল্য হলো বিমাগ্রহীতা কর্তৃক পরিশোধিত প্রিমিয়ামের সেই অংশ, যা বিমাপত্র ফেরতদানের সময় তাকে পরিশোধ করা হয়।
উদাহরণ : জনাব শামীম ৬ বছরের জন্য ৩ লক্ষ টাকার একটি জীবন বিমা চুক্তি সম্পাদন করেন। ৩ বছর পর আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি বিমাটি চালিয়ে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বিমা কোম্পানির নিকট বিমা দাবি পেশ করলে বিমা কোম্পানি তার পরিশোধিত প্রিমিয়ামের কিছু অংশ সমর্পণ মূল্য হিসেবে তাকে প্রদান করে।
খ জীবন বিমা হলো আর্থিক নিশ্চয়তার চুক্তি। ক্ষতি সংঘটিত হলে এ চুক্তির ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ না করে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের প্রতিশ্র“তি দেয়া হয়।
মানব জীবন সংশ্লিষ্ট বিমা চুক্তিই হলো জীবন বিমা। আর এ বিমা চুক্তি ব্যক্তির যেকোনো দুর্ঘটনায় অক্ষমতা বা তার মৃত্যুতে পরিবারের আর্থিক অসহায়ত্বে আর্থিক নিরাপত্তার প্রতিশ্র“তি প্রদান করে। এটি প্রাত্যহিক জীবনে কোনো ব্যক্তির অর্থনেতিক হাতিয়ার স্বরূপ।
গ উদ্দীপকের শফিক বিমা কোম্পানির নিকট হতে মেয়াদি বিমাপত্রের সুবিধা পাবেন।
জীবন বিমার অন্তর্ভুক্ত একটি বিমাপত্র হলো মেয়াদি বিমাপত্র। এ বিমা সাধারণত নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য করা হয়। মেয়াদান্তে বিমাগ্রহীতা নিজে অথবা তার অবর্তমানে উত্তরাধিকারী এ বিমার অর্থ পেয়ে থাকে।
উদ্দীপকের শফিক সুরমা লাইফ ইন্স্যুরেন্স-এর নিকট হতে ১০ বছরের জন্য ১০ লক্ষ টাকার একটি জীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। তিনি বিমা চুক্তি অনুযায়ী ১০ বছর পর্যন্ত বিমা প্রিমিয়াম প্রদান করেন। অর্থাৎ তিনি মেয়াদান্তে বিমা চুক্তি অনুযায়ী ১০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বিমা করায় নিঃসন্দেহে বিমাটি একটি মেয়াদি বিমাপত্র। এ বিমার মাধ্যমে শফিক একদিকে বিনিয়োগের সুবিধা এবং অপরদিকে আর্থিক প্রতিরক্ষা পাবেন। কেননা, কোনো কারণে তিনি মারা গেলে বিমা দাবির সম্পূর্ণ অর্থই তার পরিবার পাবে। তাই বলা যায়, শফিক উক্ত বিমাপত্রের মাধ্যমে মেয়াদি বিমার সকল সুবিধাই পাবেন।
ঘ উদ্দীপকের শফিক বিমাকৃত সম্পূর্ণ অর্থ পাবেন এবং রফিক শুধু সমর্পণ মূল্য পাবেন।
জীবন বিমা হলো একটি নিশ্চয়তার চুক্তি। চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদান্তে বিমাগ্রহীতা বিমাকৃত সম্পূর্ণ অর্থই পেয়ে থাকেন। তবে কোনো কারণে মেয়াদপূর্ণ না করতে পারলে বিমা কোম্পানি বিমাগ্রহীতাকে সমর্পণ মূল্য প্রদান করে থাকে।
উদ্দীপকের রফিক এবং শফিক দুজনেই সুরমা লাইফ ইন্স্যুরেন্স হতে ১০ বছর মেয়াদি জীবন বিমাপত্র সংগ্রহ করেন। নির্দিষ্ট মেয়াদের পূর্বে রফিক চাকরিচ্যুত হওয়ায় তার পক্ষে আর বিমার প্রিমিয়াম দেয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু শফিক তার বিমা পলিসির মেয়াদ পূর্ণ করেন।
উদ্দীপকের শফিক বিমা চুক্তি অনুযায়ী বিমার নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ করেছেন। তাই মেয়াদান্তে তার বিমা দাবির সম্পূর্ণ অংশই তিনি বিমা প্রতিষ্ঠান থেকে পাবেন। অপরদিকে, রফিক বিমা পলিসির মেয়াদপূর্ণ করতে পারেন নি। তবে এক্ষেত্রে তিনি তার বিমা দাবি হিসেবে সমর্পণ মূল্য পাবেন। কেননা, মেয়াদি জীবন বিমার ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির পূর্বেই বিমাগ্রহীতা বিমা পলিসি চালিয়ে যেতে অসমর্থ হলে বিমা কোম্পানি এই সমর্পণ মূল্য পরিশোধ করে থাকে।
সমর্পণ মূল্য : এটি হলো বিমাগ্রহীতা কর্তৃক পরিশোধিত প্রিমিয়ামের সেই অংশ যা বিমাপত্র ফেরত দেয়ার সময় তাকে পরিশোধ করা হয়। বিমা কোম্পানি তার প্রয়োজনীয় খরচাদি বাদ দিয়ে মুনাফাবিহীন বিমাপত্রে পরিশোধকৃত বিমা কিস্তির ২৫%-৩০% এবং মুনাফাযুক্ত বিমাপত্রে ৪০% পর্যন্ত সমর্পণ মূল্য প্রদান করে।

মমমপ্রশ্ন১০ ২০১৩ সালে সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ঐ ভবনে অবস্থিত গার্মেন্টসের অনেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। পাশেই আরেকটি ভবনের গার্মেন্টস কর্মীরা উদ্বিগ্ন। তাই তারা জীবন বিমা করার জন্য বিদ্রোহ শুরু করল। এজন্য পার্শ্ববর্তী ভবনের গার্মেন্টস মালিক তার প্রতিষ্ঠানের ৩,০০০ জন শ্রমিকের বিমা করলেন। অনেক গ্রাহক এবং প্রিমিয়াম পাওয়ার ফলে বিমা কোম্পানি ৮% বোনাস ঘোষণা করে, যা ১ বছর পর দেয়া হবে। [ঢা. বো. ১৬]
অ ক. বার্ষিক বৃত্তি কী? ১
অ খ. জীবন বিমায় চ‚ড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের সম্পর্ক কেন প্রয়োজন? ২
অ গ. উদ্দীপকে বিমা কোম্পানি কোন ধরনের বোনাসের ঘোষণা দিয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. সকল শ্রমিকের জন্য একটিমাত্র বিমা করার যৌক্তিকতা কী? বিশ্লেষণ করো। ৪
১০ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক বার্ষিক বৃত্তি হলো নির্দিষ্ট সময়কাল বা মৃত্যুকাল অবধি বিমা কোম্পানি কর্তৃক কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট হারে ভাতা বা বৃত্তি প্রদানের একটি ব্যবস্থা।
খ মানুষের জীবন সংশ্লিষ্ট বিপদের ঝুঁকির বিপক্ষে সম্পাদিত বিমা চুক্তিই হলো জীবন বিমা।
বিমাচুক্তির ফলে বিমাগ্রহীতা বিমাকারীকে বিমাচুক্তির বিষয়ে সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য জানাতে আইনত বাধ্য থাকে। বিমাচুক্তি সম্পর্কিত কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিমাগ্রহীতা কর্তৃক গোপন করা হলে বা ভুল তথ্য দিলে বিমাচুক্তি বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই জীবন বিমায় চ‚ড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের প্রয়োজন। এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই বিমাচুক্তির সংশ্লিষ্ট পক্ষ একে অন্যকে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়।
গ উদ্দীপকে বিমা কোম্পানি তাৎক্ষণিক বোনাসের ঘোষণা দিয়েছে।
যে বোনাসের অর্থ বোনাস ঘোষণার পরই বা নির্দিষ্ট সময় পর পরিশোধ করা হয় তাকে তাৎক্ষণিক বোনাস বলে।
উদ্দীপকে গার্মেন্টস মালিক তার প্রতিষ্ঠানের ৩ হাজার জন শ্রমিকের জন্য বিমা করেন। অনেক গ্রাহক এবং প্রিমিয়াম পাওয়ার ফলে বিমা কোম্পানি ৮% বোনাস ঘোষণা করে। তবে এই বোনাস আগামী ১ বছর পর প্রদান করা হবে। সাধারণত তাৎক্ষণিক বোনাস দুইভাবে প্রদান করা হয়। প্রথমত, বোনাস ঘোষণার পরই প্রদান করা হয় অথবা দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট সময় অর্থাৎ এক বছর পর বোনাস প্রদান করা হবে বিধায় এটিকে তাৎক্ষণিক বোনাস বলা যায়। সুতরাং বিমা কোম্পানি তাৎক্ষণিক বোনাস ঘোষণা দিয়েছে।
ঘ সব শ্রমিকের জন্য একটিমাত্র বিমা করার বিষয়টি অবশ্যই যৌক্তিক।
সাধারণত একই স্থানে কর্মরত কর্মীদের জন্য যে ধরনের বিমা করা হয় তাকে গোষ্ঠী বিমা বলে।
উদ্দীপকে রানা প্লাজা ধসের পর পার্শ্ববর্তী ভবনের গার্মেন্টস কর্মীরা জীবন বিমা করার জন্য বিদ্রোহ শুরু করেন। তাই গার্মেন্টসের মালিক ৩ হাজার শ্রমিকের জন্য একটি বিমাপত্র গ্রহণ করেন। অর্থাৎ তিনি গোষ্ঠী বিমা করেন।
গোষ্ঠী বিমা বিমাপত্রে তালিকাভুক্ত কোনো বিমাগ্রহীতা মারা গেলেও বিমাপত্র চালু থাকে। এর ফলে মালিককে নতুন করে বিমাপত্র সংগ্রহ করতে হয় না। এ বিমার ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোনো কর্মী মারা গেলে বিমা কোম্পানি শুধু ঐ কর্মীর ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। তাছাড়া একাধিক কর্মী কিংবা তালিকাভুক্ত সব কর্মী বিমাপত্রে উলি­খিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমা কোম্পানি প্রত্যেক শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য। এ বিমায় কম প্রিমিয়াম প্রদান করে একত্রে সব শ্রমিকের জীবন বিমা করা যায়। এতে মালিকের ব্যয় ও ঝুঁকি উভয়ই হ্রাস পায়। একটিমাত্র বিমার মাধ্যমে সব শ্রমিকের ঝুঁকি হ্রাস করা যায় বিধায় গোষ্ঠী বিমা করা যৌক্তিক।
মমমপ্রশ্ন১১ জনাব রিফাত সাহেব তার একটি মেশিন ক্রয়ের জন্য ‘সোনালী’ বিমা কোম্পানির সাথে ২,০০,০০০ টাকার এবং ‘রমনা’ বিমা কোম্পানির সাথে ৪,০০,০০০ টাকার বিমাপত্র ক্রয়ের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হলেন। কিন্তু দুর্ঘটনাবশত মেশিনটির ২,০০,০০০ টাকা সমমূল্যের ক্ষতি সংঘটিত হয়। [ঢা. বো. ১৬]
অ ক. দায় বিমা কী? ১
অ খ. ‘নৈতিক ঝুঁকি’ কীভাবে বিমা পলিসিতে প্রভাব ফেলল? ২
অ গ. জনাব রিফাত সাহেব মেশিনের জন্য কোন ধরনের বিমাপত্র গ্রহণ করেন? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকের আলোকে এ ধরনের বিমাপত্র গ্রহণের যৌক্তিকতা কতটুকু? মূল্যায়ন করো। ৪
১১ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক যে চুক্তি মোতাবেক নির্ধারিত ঝুঁকিজনিত যেকোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ করার জন্য বিমাগ্রহীতার মতো বিমাকারী প্রতিষ্ঠানও সমভাবে দায়বদ্ধ থাকে তাকে দায় বিমা বলে।
খ নৈতিক ঝুঁকির সম্ভাবনা যত বেশি সেক্ষেত্রে বিমা গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা তত কম।
বিমাগ্রহীতার চরিত্র বা পার্শ্ববর্তী লোকজনের কার্যকলাপ থেকে সৃষ্ট ঝুঁকিকেই নৈতিক ঝুঁকি বলে। এ ধরনের ঝুঁকির মাত্রা বেশি থাকলে প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই এ ঝুঁকির সম্ভাবনা বেশি হলে বিমা কোম্পানি কর্তৃক বিমা গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা তত কম হয়ে থাকে।
গ উদ্দীপকে জনাব রিফাত সাহেব মেশিনের জন্য দ্বৈত বিমাপত্র গ্রহণ করেন।
কোনো একক বিষয়বস্তু একাধিক বিমা কোম্পানির নিকট বিমা করা হলে তাকে দ্বৈত বিমাপত্র বলে।
উদ্দীপকে রিফাত সাহেব তার মেশিনের জন্য ‘সোনালী’ ও ‘রমনা’ দুটি বিমা কোম্পানির সাথে বিমাচুক্তি করেন। তিনি প্রথমটির জন্য ২ লক্ষ টাকা এবং দ্বিতীয়টির জন্য ৪ লক্ষ টাকার বিমাপত্র গ্রহণ করেন। সাধারণত, সম্পত্তি বিমার ক্ষেত্রে ঝুঁকি হ্রাসের উদ্দেশ্যে একই সম্পত্তি একাধিক বিমা কোম্পানির নিকট বিমা করা যায়। এরূপ বিমাপত্রকে দ্বৈত বিমা বলা হয়ে থাকে। যেহেতু জনাব রিফাত একই মেশিনের জন্য দুটি বিমা কোম্পানির নিকট থেকে বিমাপত্র সংগ্রহ করেন সেহেতু তার বিমাপত্রটি দ্বৈত বিমাপত্রের সাথেই সঙ্গতিপূর্ণ। সুতরাং তিনি মেশিনের জন্য দ্বৈত বিমাপত্র গ্রহণ করেছেন।
ঘ উদ্দীপকে দ্বৈত বিমাপত্র গ্রহণ করা পুরোপুরি যৌক্তিক হয়েছে।
সাধারণত অধিক মূল্যমানের সম্পত্তির ঝুঁকি হ্রাস ও ঝুঁকি বণ্টনের নিমিত্তে একাধিক বিমা কোম্পানিতে একাধিক বিমাচুক্তি সম্পাদন করা হয়, যা দ্বৈত বিমা নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে জনাব রিফাত সাহেব একটি মেশিনের জন্য দ্বৈত বিমাপত্র সংগ্রহ করেন। তিনি সোনালী ও রমনা নামক দু’টি কোম্পানির সাথে একই মেশিনের জন্য বিমাপত্র সংগ্রহ করেন।
সাধারণত অধিক মূল্যের সম্পত্তির ক্ষেত্রে অধিক ঝুঁকি বিদ্যমান। ফলে একটি বিমা কোম্পানির নিকট এরূপ বিমা করা হলে জনাব রিফাতের বিমাকৃত মূল্য প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি সম্পূর্ণ ক্ষতিতে বিমা কোম্পানি দেউলিয়াও হয়ে যেতে পারে। তাই আনুপাতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি দ্বৈত বিমাপত্রের মাধ্যমে হ্রাস করা যায়। সুতরাং এ ধরনের বিমাপত্র গ্রহণ করা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

মমমপ্রশ্ন১২ জনাব ঢ এবং জনাব ণ দুইজন সরকারি চাকরিজীবী। জনাব ঢ দুই বছরের জন্য জাতিসংঘ মিশনে সোমালিয়া যান। তিনি তার সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দুই বছরের জন্য একটি বিমাপত্র গ্রহণ করেন। যেখানে তিনি মারা গেলেই কেবল তার সন্তানেরা বিমা দাবি পাবেন। অপরদিকে জনাব ণ বার্ষিক ২৫,০০০ টাকা বিমা কিস্তিতে ১০ বছরের জন্য তিন লক্ষ টাকায় একটি বিমাপত্র গ্রহণ করেন, যেখানে তিনি মারা না গেলেও নির্দিষ্ট সময় শেষে বিমা দাবি পাবেন।
[রা. বো., সি. বো. ১৬]
অ ক. মৃত্যুহার পঞ্জি কাকে বলে? ১
অ খ. পুনর্বিমা বলতে কী বোঝায়? ২
অ গ. জনাব ঢ-এর গৃহীত বিমাপত্রটি কোন ধরনের বিমাপত্র? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. জনাব ঢ এবং জনাব ণ গৃহীত দুটি বিমাপত্রের মধ্যে কোনটি বেশি লাভজনক বলে তুমি মনে করো? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো। ৪
১২ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক অতীতের পরিসংখ্যান ও অভিজ্ঞতার আলোকে নির্দিষ্ট বয়সসীমায় প্রতি হাজারে সম্ভাব্য মৃত ব্যক্তির সংখ্যা সম্বলিত সারণিকে মৃত্যুহার পঞ্জি বলে।
খ বড় ঝুঁকির ক্ষেত্রে একটি বিমা কোম্পানি সব ঝুঁকি নিতে সক্ষম না হলে ঝুঁকির অংশবিশেষ পুনঃচুক্তির মাধ্যমে অন্য কোনো বিমা কোম্পানির ওপর ন্যস্ত করলে তাকে পুনর্বিমা বলে।
পুনর্বিমা তখনই করা হয় যখন একটি বিমা কোম্পানি অনুধাবন করে যে তার গৃহীত ঝুঁকির পরিমাণ অত্যধিক হয়ে যাচ্ছে এবং সামর্থ্যরে বাইরে চলে যাচ্ছে। পুনর্বিমার মাধ্যমে ঝুঁকিকে বিমাকারীদের মাঝে পুনর্বণ্টন করা হয় ঝুঁকি হ্রাস ও ঝুঁকি বণ্টনের উদ্দেশ্যে।
গ উদ্দীপকে জনাব ঢ কর্তৃক গৃহীত বিমাপত্রটি সাময়িক বিমাপত্র।
স্বল্প মেয়াদের জন্য অর্থাৎ তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জন্য যে জীবন বিমাপত্র খোলা হয় তাকে সাময়িক বিমাপত্র বলে। কেবলমাত্র বিমাকৃত মারা গেলেই বিমা কোম্পানি বিমাদাবির অর্থ পরিশোধ করে।
উদ্দীপকে সরকারি চাকরিজীবী জনাব ঢ দুই বছরের জন্য জাতিসংঘ মিশনে সোমালিয়া যান। তিনি তার সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত এবং তাদের কথা বিবেচনা করে দুই বছর মেয়াদি একটি সাময়িক বিমাপত্র গ্রহণ করেন। চুক্তিপত্র অনুযায়ী দুই বছরের মধ্যে তিনি মারা গেলে তার সন্তানেরা বিমাদাবি পাবেন। আবার সাময়িক বিমার শর্তানুযায়ী তিনি যদি মারা না যান তাহলে তিনি বিমাদাবির কিছুই পাবেন না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, জনাব ঢ-এর গৃহীত বিমাপত্রটির বৈশিষ্ট্যের সাথে সাময়িক বিমাপত্রের বৈশিষ্ট্য মিলে যায়। তাই তার গৃহীত বিমাপত্রটি সাময়িক বিমাপত্র।
ঘ জনাব ঢ এবং জনাব ণ-এর গৃহীত বিমাপত্র দুটি যথাক্রমে সাময়িক ও মেয়াদি বিমাপত্রের মধ্যে মেয়াদি বিমাপত্রটি অধিক লাভজনক বলে আমি মনে করি।
যে বিমাপত্রের অর্থ বিমার মেয়াদপূর্তিতে বা বিমাগ্রহীতার মৃত্যুতে তার মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারীকে নিশ্চিতভাবে পরিশোধ করা হবে বলে প্রতিশ্র“তি দেয়া হয় তাকে মেয়াদি বিমাপত্র বলে।
উদ্দীপকে জনাব ঢ এবং জনাব ণ দুইজন সরকারি চাকরিজীবী। জনাব ঢ সোমালিয়া যান, যে কারণে তিনি দুই বছরের একটি সাময়িক বিমাপত্র নেন। পক্ষান্তরে, জনাব ণ বার্ষিক ২৫,০০০ টাকা কিস্তিতে ১০ বছর মেয়াদি ৩ লক্ষ টাকার একটি মেয়াদি বিমাপত্র গ্রহণ করেন। এখানে তিনি মারা না গেলেও টাকা পাবেন।
উদ্দীপক অনুসারে জনাব ঢ-কে জনাব ণ অপেক্ষা কম প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু জনাব ঢ কর্তৃক গৃহীত সাময়িক বিমাপত্রে কেবল তার মৃত্যুতেই বিমাদাবি পরিশোধ করা হবে। অথচ জনাব ণ কর্তৃক গৃহীত মেয়াদি বিমাপত্রে তার মৃত্যুতে মনোনীত ব্যক্তি বা মেয়াদপূর্তিতে স্বয়ং জনাব ণ ঐ বিমাদাবির অর্থ ভোগ করতে পারবেন, যা জনাব ঢ পারবেন না। তাছাড়া সাময়িক বিমাপত্র সম্পূর্ণ মুনাফাবিহীন। তাই লাভজনকতা বিচারে জনাব ঢ ও জনাব ণ-এর গৃহীত বিমাপত্রদ্বয়ের মধ্যে জনাব ণ-এর বিমা অর্থাৎ মেয়াদি বিমা জনাব ঢ-এর সাময়িক বিমা অপেক্ষা উত্তম।

মমমপ্রশ্ন১৩ মি. সাজ্জাদ একজন বৈমানিক। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি পেশায় নিয়োজিত থাকায় তার পরিবারের কথা চিন্তা করে তিনি এককালীন কিস্তি পরিশোধের ভিত্তিতে ৫ বছর মেয়াদি একটি জীবন বিমাপত্র ক্রয় করেন। ৫ বছর অতিবাহিত হলে তিনি বিমা দাবি করলে বিমা কোম্পানি তা প্রত্যাখ্যান করে। অন্যদিকে মি. আলমগীর ১৮ বছর মেয়াদি একটি জীবন বিমাপত্র গ্রহণ করেন। ৫ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মি. আলমগীরের স্ত্রী দাবি উপস্থাপন করলে বিমা কোম্পানি দাবি পরিশোধ করে। [দি. বো. ১৬]
অ ক. সমর্পন মূল্য কী? ১
অ খ. মৃত্যুহার পঞ্জি বলতে কী বোঝায়? ২
অ গ. উদ্দীপকে মি. সাজ্জাদ যে বিমাপত্র ক্রয় করেছেন তা মেয়াদের ভিত্তিতে কী ধরনের বিমাপত্র? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকের ২য় বিমাপত্রটি একই সাথে বিনিয়োগ ও আর্থিক সুরক্ষার সুযোগ দেয়- তোমার মতামত দাও। ৪
১৩ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক বিমা পলিসি কোম্পানির নিকট অর্পণের পর পলিসি মালিক যে পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করে তাকে সমর্পন মূল্য বলে।
খ অতীত পরিসংখ্যানের আলোকে নির্দিষ্ট বয়সসীমার হাজার প্রতি মৃত্যুর সম্ভাবনা যে সারণিতে প্রস্তুত করা হয় তাকে মৃত্যুহার পঞ্জি বলে।
মৃত্যুহার পঞ্জি তালিকা সাধারণত বিমাকারী প্রতিষ্ঠান তৈরি করে থাকে। এর সাহায্যে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যৎ মৃত্যুহার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
গ উদ্দীপকে মি. সাজ্জাদ মেয়াদের ভিত্তিতে একটি সাময়িক বিমাপত্র ক্রয় করেছেন।
যে বিমাপত্রে স্বল্প মেয়াদের জন্য সাধারণত ৩ মাস থেকে ৫ বছরের জন্য খোলা হয় তাকে সাময়িক বিমাপত্র বলে। এ বিমাপত্রে মেয়াদের মধ্যে বিমাগ্রহীতা মারা গেলে তার মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারী বিমাদাবি আদায় করতে পারেন। তবে মারা না গেলে কোনো বিমাদাবি প্রদান করা হয় না।
উদ্দীপকে মি. সাজ্জাদ এককালীন কিস্তি পরিশোধের মাধ্যমে ৫ বছর মেয়াদি একটি জীবন বিমাপত্র ক্রয় করেন। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হলেও বেঁচে থাকায় তিনি কোনো বিমাদাবি পাননি। কারণ, তার গৃহীত বিমাপত্রটি একটি সাময়িক বিমাপত্র। এ ধরনের জীবন বিমায় শুধু বিমাকৃত ব্যক্তির মৃত্যু হলেই বিমাদাবি পরিশোধ করা হয়। এক্ষেত্রে প্রদত্ত প্রিমিয়াম বিমা কোম্পানির লাভ। সুতরাং মি. সাজ্জাদের ক্রয়কৃত বিমাপত্রটি একটি সাময়িক জীবন বিমাপত্র।
ঘ উদ্দীপকের দ্বিতীয় বিমাপত্রটি একই সাথে বিনিয়োগ ও আর্থিক সুরক্ষার সুযোগ দেয়।
নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য যে বিমাপত্র গ্রহণ করা হয় এবং মেয়াদ শেষে বা বিমাগ্রহীতা মারা গেলে বিমাদাবি পরিশোধ করা হয় তাকে মেয়াদি বিমাপত্র বলে।
উদ্দীপকে উলি­খিত মি. আলমগীর ১৮ বছরের জন্য একটি বিমা চুক্তি সম্পাদন করেন এবং ৫ বছর প্রিমিয়াম প্রদানের পর তিনি মারা যান। মি. আলমীগের স্ত্রী বিমাদাবি করলে বিমা কোম্পানি তা পরিশোধ করে। কারণ, তার গৃহীত বিমাপত্রটি একটি মেয়াদি বিমাপত্র ছিল।
মি. আলমগীরের নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রিমিয়াম প্রদান করেন। এ প্রিমিয়ামের অর্থ যেহেতু মেয়াদপূর্তির আগে প্রদান করা হবে না তাই বিমা কোম্পানি এ অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ পায়। আবার মি. আলমগীর যেহেতু কিস্তিতে প্রিমিয়াম প্রদান করেছেন তাই এটি তাকে সঞ্চয়ের সুবিধাও প্রদান করছে। মেয়াদপূর্তিতে বা বিমাগ্রহীতার মৃত্যুতে এককালীন বিমাদাবি প্রাপ্তিতে তা বিনিয়োগযোগ্য মূলধন হিসেবেও পরিগণিত হয়। তাই বলা যায়, মি. আলমগীরের বিমাপত্রটি একই সাথে বিনিয়োগ ও আর্থিক সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply