পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অধ্যায় ১১ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী

অধ্যায় ১১ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী

 অনুশীলনীর প্রশ্ন ও সমাধান

 অল্পকথায় উত্তর দাও :
প্রশ্ন \ ১ \ পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পোশাকের উদাহরণ দাও।
উত্তর : পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পোশাকের উদাহরণ :
১. ত্রিপুরা মেয়েদের ‘রিনাই’ ও ‘রিসা’।
২. খাসি ছেলেদের ‘ফুংগ মারুং’।
৩. ম্রো মেয়েদের ‘ওয়াংলাই’।
৪. গারো নারীদের ‘দকবান্দা’ বা ‘দকসারি’।
৫. ওঁরাও পুরুষদের ধুতি।
প্রশ্ন \ ২ \ পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উৎসবের উদাহরণ দাও।
উত্তর : পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী উৎসবের উদাহরণ :
১. খাসিদের ‘ফসলহানি’।
২. ম্রোদের জন্ম, বিয়ে, মৃত্যু ইত্যাদিকে ঘিরে উৎসব।
৩. গারোদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ‘ওয়াংগালা’।
৪. ওঁরাওদের প্রধান উৎসবের নাম ‘ফাগুয়া’।
৫. ত্রিপুরাদের নববর্ষের উৎসব।
প্রশ্ন \ ৩ \ পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী খাদ্যের উদাহরণ দাও।
উত্তর : পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী খাদ্যের উদাহরণ :
১. খাসিদের পান-সুপারি এবং চা।
২. ম্রোদের নাপ্পী।
৩. ওঁরাওদের খাবার ভুট্টা।
৪. গারোদের বাঁশের কোড়ল দিয়ে তৈরি করা খাবার।
৫. ত্রিপুরাদের শূকরের মাংস।
 প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
প্রশ্ন \ ১ \ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতি আমরা কীভাবে গণতান্ত্রিক মনোভাব প্রকাশ করতে পারি?
উত্তর : আমাদের আশপাশে বসবাসকৃত ক্ষুদ্র ও বৃহত্তর বহু জাতিসত্তার মানুষের সাথে আমরা সবাই একসাথে লেখাপড়া ও খেলাধুলা করব। পরস্পর পরস্পরকে বিভিন্নভাবে জানার চেষ্টা করব এবং সবাই সবার উৎসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করব। একে অন্যের ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা জানাব। কোনো জাতির মানুষকে ছোট করে না দেখে সকলকে ভালোবাসতে পারলে সকল জাতির চোখে সকলকে ভালোবাসতে পারলে সকল জাতির মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকে। এভাবে শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শনের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকারকে স্বীকার করে নিয়ে এবং কার্যত তাদের প্রাধান্য দিয়ে আমরা তাদের প্রতি গণতান্ত্রিক মনোভাব প্রকাশ করতে পারি।
প্রশ্ন \ ২ \ তিনটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ধর্ম সম্পর্কে লেখ।
উত্তর : গারো : গারোদের আদি ধর্মের নাম সাংসারেক। তবে বর্তমানে বেশিরভাগ গারো খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী।
ত্রিপুরা : ত্রিপুরারা সনাতন ধর্মের অনুসারী। তবে বেশিরভাগই হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং শিব ও কালী পূজা করেন। নিজস্ব কিছু দেব-দেবীর উপাসনাও তারা করেন। যেমন- গ্রামের সকল লোকের মঙ্গলের জন্য তারা ‘কের’ পূজা করেন।
খাসি : খাসিরা বিভিন্ন দেবতার পূজা করেন। তাদের প্রধান দেবতার নাম উবøাই নাংথউ যাকে তারা পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা মনে করেন।
প্রশ্ন \ ৩ \ কোনো একজন মানুষ যে ভিন্ন গোষ্ঠীর তা তুমি কীভাবে বুঝবে?
উত্তর : ভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষকে যেভাবে চেনা যাবে তা হলো :
১. ভাষার মাধ্যমে;
২. সমাজ ব্যবস্থা ও ধর্মের মাধ্যমে;
৩. এলাকা বা অঞ্চলের মাধ্যমে;
৪. পোশাক ও উৎসবের মাধ্যমে;
৫. খাদ্য ধরনের মাধ্যমে ইত্যাদি।

 বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

 যোগ্যতাভিত্তিক
১. বান্দরবান শহরের কাছে চিম্বুক পাহাড়ে গেলে তুমি কোন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ দেখতে পাবে?
ক. ওঁরাও খ. রাজবংশী
গ. মালপাহাড়ি ঘ. ম্রো চ
২. অতীতে সিলেট অঞ্চলে জয়ন্তা ও জৈন্তিয়া নামে একটি রাজ্য ছিল। উক্ত রাজ্যে আগে কোন ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বাস করত বলে ধারণা করা হয়?
ক. খাসি চ খ. ম্রো গ. গারো ঘ. রাখাইন
৩. কে মুরং বিয়ে করে তাদের সমাজব্যবস্থা অনুযায়ী স্ত্রীর সাথে শ্বশুর বাড়িতে থাকেন। কে মুরং কোন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অন্তর্গত?
ক. চাকমা খ. ম্রো গ. ফরম ঘ. গারো চ
৪. নারীরা মাথায় ফুল দিয়ে সেজে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে। এতে কোন উৎসবের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে?
ক. ফাগুয়া খ. সাংগ্রেন গ. বিশু চ ঘ. ওয়াংগালা
৫. রিঝুর পরীক্ষার জন্য সে ‘বিশু’ উৎসবে তেমন বেশি সময় কাটাতে পারেনি। রিঝু কোন উপাজাতির অন্তর্ভুক্ত?
ক. গারো খ. ভালোবাসা
গ. শ্রদ্ধা ঘ. ত্রিপুরা চ
৬. বিজু এমন একটি রাজ্যের নাম জানে যেখানে অতীতে খাসিরা বাস করত। রাজ্যটি হচ্ছে
ক. জয়ন্তা খ. অজন্তা গ. অবেং ঘ. মারুং চ
৭. তোমরা একের অন্যের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে কী জানাবে?
ক. সম্মান খ. ভালোবাসা গ. শ্রদ্ধা চ ঘ. হিংসা
৮. গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। কোন সমাজের প্রভাবে তাদের আচরণ ও অনুশীলন পরিবর্তিত হচ্ছে?
ক. খাসি খ. বাঙালিচ গ. চাকমা ঘ. মালপাহাড়ি
৯. ধ্রæবদের বাড়ি সিলেট জেলায় অবস্থিত। তাদের এলাকায় কোন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
ক. গারো খ. খাসিচ গ. ম্রো ঘ. ত্রিপুরা
১০. রূপালী খাসি জাতিসত্তার সদস্য। চার বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। খাসি সমাজের নিয়ম অনুসারে পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন করা হলে
ক. রূপালী বেশিরভাগের উত্তরাধিকারী হবে চ
খ. বড় বোন বেশিরভাগের উত্তরাধিকারী হবে
গ. দ্বিতীয় বোন বেশিরভাগের উত্তরাধিকারী হবে
ঘ. তৃতীয় বোন বেশিরভাগের উত্তরাধিকারী হবে
১১. তিশমার পরিবারের ছেলেরা ফুংগ মারুং নামক পোশাক পরিধান করে। তিশমার পরিবারের ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য?
ক. মারমা পরিবার খ. গারো পরিবার
গ. খাসি পরিবার চ ঘ. চাকমা পরিবার
১২. ম্রো সমাজে শিশুদের ৩ বছর হলে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের কানেই ছিদ্র করে দেয়া হয়। এর কারণ কী?
ক. এটি একটি রীতি চ খ. এটি ধর্মীয়ভাবে স্বীকৃত
গ. এটি গুরুজনদের আদেশ ঘ. এটি উৎসবের অংশ
১৩. বাংলাদেশের কোন ক্ষুদ্র জাতিসত্তা গ্রামের সকল লোকের মঙ্গলের জন্য ‘কের’ পূজা করেন?
ক. মারমা খ. সাঁওতাল গ. ওঁরাও ঘ. ত্রিপুরা চ
১৪. মনখেমে ভাষাভাষীরা সিলেটে বসবাস করে। তাদের প্রধান দেবতার নামÑ
ক. মন থেমে খ. উবøাই নাংথউ চ
গ. তোরাই ঘ. ফুংগ মারুং
১৫. ত্রিপুরা উপজাতি মেয়েদের বংশ পরিচয় নির্ধারিত হয় কীভাবে?
ক. এলাকা রীতি অনুযায়ী খ. স্বামীর গোষ্ঠী অনুযায়ী
গ. পিতার গোষ্ঠী অনুযায়ী ঘ. মাতার গোষ্ঠী অনুযায়ী চ
১৬. খাসিরা অতিথিদের পান-সুপারি দিয়ে আপ্যায়ন করে কেন?
ক. পান-সুপারিকে পবিত্র মনে করে চ
খ. দাম কম বলে
গ. সহজে পাওয়া যায় বলে
ঘ. প্রধান খাদ্য বলে
১৭. গারো সমাজের মতোই পরিবারের ছোট মেয়ে প্রচুর সম্পত্তির অধিকারী হলো সেজুতি। তার জনগোষ্ঠী কিসের চাষ করে?
ক. জুম খ. পান চ গ. ধান ঘ. মৌমাছি
১৮. ওঁরাওদের ভাষা দুইটি। একটি সাদ্রি। অপরটি
ক. মনখেমে খ. কুড়–খ চ
গ. মৈতৈ ঘ. অবেৎ
১৯. আবির ময়মনসিংহে গিয়ে দেখতে পেল সেখানে সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। সে কোন জনগোষ্ঠীর দেখা পেল?
ক. গারোচ খ. ম্রো গ. ওঁরাও ঘ. ত্রিপুরা
২০. নববর্ষের প্রথম দিনে মানিয়া বিশু উৎসব পালন করে। সে কোন জনগোষ্ঠীর লোক?
ক. চাকমা খ. ওঁরাও গ. ত্রিপুরাচ ঘ. খাসি
২১. মাতৃতান্ত্রিক সমাজ বলতে তুমি কী বুঝবে?
ক. পিতা পরিবারের প্রধান খ. মা পরিবারের প্রধানচ
গ. বড় ভাই পরিবারের প্রধান ঘ. বড় বোন পরিবারের প্রধান
২২. বিনয় ত্রিপুরা পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস করেন। বিনয় কোন ধর্মের অনুসারী?
ক. সাংসারক খ. সনাতন চ
গ. খ্রিষ্ট ঘ. বৌদ্ধ
২৩. বৃহত্তর ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, হালুয়াঘাটে কোন উপজাতি সম্পদ্রায়ের বসবাস?
ক. গারো চ খ. খাসি গ. ম্রো ঘ. ত্রিপুরা
২৪. পাংখুয়া উবøাই নাংথউ-এর পূজা করে। তার ভাষার নাম কী?
ক. মনপুরা খ. মনেপড়ে
গ. মনখেমে চ ঘ. মনযেয়ে
 সাধারণ
২৫. কোন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মেয়েরা ‘কাজিম পিন’ নামক বøাউজ ও লুঙ্গি পরে?
ক. খাসি চ খ. ম্রো
গ. গারো ঘ. ত্রিপুরা
২৬. ওঁরাওদের প্রধান খাবার কোনটি?
ক. মাছ খ. খিচুরি
গ. ভাত চ ঘ. রুটি
২৭. “ওয়াংগালা” কাদের প্রধান উৎসবের নাম?
ক. খাসি খ. গারো চ
গ. ম্রো ঘ. ত্রিপুরা
২৮. গারো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম কী?
ক. দকবান্দাচ খ. লুঙ্গি গ. কাজিম পিন ঘ. ওয়াংলাই
২৯. ওঁরাওদের গ্রাম প্রধান কী নামে পরিচিত?
ক. হেডম্যান খ. কারবারি
গ. রোয়াজা ঘ. মাহাতো চ
৩০. খাসিরা সাধারণত কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করে?
ক. কৃষিকাজ করে চ খ. মাছ চাষ করে
গ. গবাদি পশু পালন করে ঘ. ব্যবসা-বাণিজ্য করে
৩১. গারোরা কোথায় বসবাস করে?
ক. ময়মনসিংহ চ খ. মাগুরা
গ. পটুয়াখালী ঘ. বাগেরহাট
৩২. ‘সালজং’ কিসের প্রতীক?
ক. সমুদ্রের খ. নদীর
গ. পাহাড়ের ঘ. সূর্যের চ
৩৩. কারা পান সুপারিকে খুবই পবিত্র মনে করে?
ক. গারোরা খ. খাসিরা চ
গ. চাকমারা ঘ. ম্রোরা
৩৪. ত্রিপুরারা তাদের দলকে কী বলে?
ক. রয়া খ. রিফা
গ. দফা চ ঘ. ক্রামা
৩৫. ‘কুড়–খ’ কী?
ক. খাবার খ. পোশাক
গ. জাতি ঘ. ভাষা চ
৩৬. বাংলাদেশের কোন এলাকায় ক্ষুদ্র জাতিসত্তা নেই?
ক. ময়মনসিংহ খ. দিনাজপুর
গ. রংপুর ঘ. খুলনা চ
৩৭. বাংলাদেশের ত্রিপুরারা কোন সমাজের অধিকারী?
ক. মাতৃতান্ত্রিক খ. সমাজতান্ত্রিক
গ. ব্যক্তিতান্ত্রিক ঘ. পিতৃতান্ত্রিক চ
৩৮. ‘নকমান্দি’ কাদের বাড়ি?
ক. গারো চ খ. খাসি
গ. ম্রো ঘ. ত্রিপুরা
৩৯. ‘কাজিম পিন’ কোন জাতিসত্তার মেয়েদের পোশাক?
ক. গারো খ. খাসি চ
গ. ওঁরাও ঘ. ত্রিপুরা
৪০. কোন জাতিসত্তার প্রধান উৎসবের নাম ওয়াংগালা?
ক. গারো চ খ. খাসিয়া
গ. হাজং ঘ. বম
৪১. ত্রিপুরা নারীদের পোশাকের কোন অংশকে রিসা বলা হয়?
ক. উপরের খ. নিচের চ
গ. মাঝের ঘ. শেষের
৪২. ওঁরাওদের বসবাস-
ক. বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে খ. বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে চ
গ. বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘ. বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে
৪৩. বাংলাদেশের গারোরা কোন ভাষায় কথা বলে?
ক. আচিক চ খ. মনখেমে
গ. আরাকানি ঘ. ফুলাবারেং
৪৪. কোন সমাজে মেয়েরা পরিবার ও সমাজে কর্তৃত্ব করে?
ক. ম্রো ও ত্রিপুরা খ. গারো ও খাসি চ
গ. চাকমা ও ওঁরাও ঘ. মারমা ও সূর্যবংশী
৪৫. গারোদের আদি ধর্মের নাম কী?
ক. উব্লাই নাংথউ খ. তোরাই
গ. সাংসারেক চ ঘ. ধরমেশ
৪৬. গারোদের সমাজ কিরূপ?
ক. পিতৃতান্ত্রিক খ. মাতৃতান্ত্রিক চ
গ. বড়ভাই প্রধান ঘ. বড় বোন প্রধান
৪৭. গারোরা অধিকাংশই কোন ধর্মাবলম্বী?
ক. ইসলাম খ. হিন্দু
গ. খ্রিষ্ট চ ঘ. বৌদ্ধ

 সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

 যোগ্যতাভিত্তিক
প্রশ্ন-১ : বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সনাতনী ধর্মের নাম সাংসারেক। নৃ-গোষ্ঠীটির নাম কী?
উত্তর : নৃ-গোষ্ঠীটির নাম গারো।
প্রশ্ন-২ : গারো নামক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী দেবতা ‘সালজং’ এর সম্মানে একটি উৎসব পালন করে। এ উৎসবের নাম কী?
উত্তর : এ উৎসবের নাম ওয়াংগালা।
প্রশ্ন-৩ : কৌশিক আচিক ভাষায় কথা বলে। সে কোন নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী?
উত্তর : সে গারো নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী।
প্রশ্ন-৪ : সন্তুদের ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার বাঁশের কোড়ল দিয়ে তৈরি করা হয়। সন্তু কোন নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী?
উত্তর : সন্তু গারো নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী।
প্রশ্ন-৫ : বাংলাদেশর একটি নৃ-গোষ্ঠীর বাড়ি নকমান্দি নামে পরিচিত। নৃ-গোষ্ঠীটির নাম কী?
উত্তর : নৃ-গোষ্ঠীটির নাম গারো।
প্রশ্ন-৬ : লুসিরা উৎসব অনুষ্ঠানে তাদের ঐত্যিবাহী দকসারি পোশাক পরে। লুসিরা কোন নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী?
উত্তর : লুসির গারো নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী।
প্রশ্ন-৭ : ‘ক’ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা প্রায় ৪০০ বছর পূর্বে তিব্বত থেকে এসে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস শুরু করে। ‘ক’ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীটির নাম কী?
উত্তর : ‘ক’ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নাম গারো।
প্রশ্ন-৮ : সঞ্জুরা তাদের বাড়িকে কিম বলে। সঞ্জু কোন নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী?
উত্তর : সঞ্জু ম্রো নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী।
প্রশ্ন-৯ : দিপি তোরাই ধর্মের অনুসারী। সে কোন নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য?
উত্তর : দিপি ম্রো নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য।
প্রশ্ন-১০ : মহুয়ার প্রিয় খাবার নাপ্পি। মহুয়া কোন নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী?
উত্তর : মহুয়া ম্রো নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী।
প্রশ্ন-১১ : শাহেদ তার বন্ধুদের সাথে ‘বিশু’ উৎসব পালন করল। উৎসবটি কোন নৃ-গোষ্ঠীর।
উত্তর : উৎসবটি ত্রিপুরা নৃ-গোষ্ঠীর।
প্রশ্ন-১২ : অরিত্র ‘উমোই’ ভাষায় কথা বলে। অরিত্র কোন নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী?
উত্তর : অরিত্র ত্রিপুরা নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী।
প্রশ্ন-১৩ : সুহৃদ একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী। তাদের মধ্যে ছেলেরা বাবার এবং মেয়েরা মায়ের সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে। সুহৃদ কোন নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী?
উত্তর : সুহৃদ ত্রিপুরা নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী।
প্রশ্ন-১৪ : শাক্য তাদের যেকোনো উৎসব অনুষ্ঠানে নাতং নামের দুল পরে। শাক্য কোন নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর : শাক্য ত্রিপুরা নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন-১৫ : কৌণিকরা তার গ্রামপ্রধানকে মাহাতো বলে। কৌণিক কোন নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী?
উত্তর : কৌণিকরা ওঁরাও নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী।
প্রশ্ন-১৬ : ইকবাল তার এক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ফাগুয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিল। ইকবালের বন্ধু কোন নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী?
উত্তর : ইকবালের বন্ধু ওঁরাও নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসী।
প্রশ্ন-১৭ : নূরের বন্ধু এমন একটি জনগোষ্ঠীর লোক যাদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও এ ভাষায় লিখিত বর্ণমালা নেই। নূরের বন্ধুদের ভাষার নাম কী?
উত্তর : নূরের বন্ধুর ভাষার নাম মনখেমে।
প্রশ্ন-১৮ : জনদের জাতিসত্তার লোকেরা মায়ানমার সীমান্তের কাছে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাস করে। জনরা কোন নৃ-গোষ্ঠীর?
উত্তর : জনরা ম্রো নৃ-গোষ্ঠীর।
প্রশ্ন-১৯ : ইউনেস্কো বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর ভাষাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে। ভাষাটির নাম কী?
উত্তর : ভাষাটির নাম ম্রো।
প্রশ্ন-২০ : সানজিদের অন্যতম সুস্বাদু খাবারের নাম নাপ্পি। তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম কী?
উত্তর : সানজিদদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম ওয়াংলাই।
 সাধারণ
প্রশ্ন-২১ : গারোরা কোন ভাষায় কথা বলে?
উত্তর : গারোরা ‘আচিক’ ভাষায় কথা বলে।
প্রশ্ন-২২ : ত্রিপুরা জাতিসত্তারা কোন ধর্মাবলম্বী?
উত্তর : ত্রিপুরা জাতিসত্তারা সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
প্রশ্ন-২৩ : খাসি সমাজের প্রধান দেবতার নাম কী?
উত্তর : খাসি সমাজের প্রধান দেবতার নাম উবøাই নাংথউ।
প্রশ্ন-২৪ : গারোদের প্রধান উৎসবের নাম লেখ।
উত্তর : গারোদের প্রধান উৎসবের নাম ‘ওয়াংগালা’।
প্রশ্ন-২৫ : খাসিদের ভাষার নাম কী?
উত্তর : খাসিদের ভাষার নাম ‘মনখেমে’।
প্রশ্ন-২৬ : বাংলাদেশের তিনটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নাম লিখ।
উত্তর : বাংলাদেশের তিনটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নাম হচ্ছে- গারো, খাসি ও ত্রিপুরা।
প্রশ্ন-২৭ : ত্রিপুরা উপজাতি কোন কোন জেলায় বসবাস করে।
উত্তর : ত্রিপুরা উপজাতি বাংলাদেশের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দারবান জেলায় বসবাস করে।
প্রশ্ন-২৮ : গারোরা কোথা থেকে বাংলাদেশের আসে?
উত্তর : গারোরা তিব্বত থেকে বাংলাদেশে আসে।
প্রশ্ন-২৯ : ম্রো জাতিসত্তারা কোথায় বসবাস করে?
উত্তর : বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের জনগোষ্ঠী ম্রো, মায়ানমার সীমান্তের কাছে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ম্রো জাতিসত্তা বাস করে।
প্রশ্ন-৩০ : গারোদের পোশাক কেমন?
উত্তর : গারো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হচ্ছে দকবান্দা বা দকশাড়ি। আর পুরুষদের পোশাক শার্ট, লুঙ্গি, ধূতি।
প্রশ্ন-৩১ : ওঁরাও জাতিসত্তা কোথায় বাস করে?
উত্তর : বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী ইত্যাদি জেলায় ওঁরাও জাতিসত্তা বাস করে।
প্রশ্ন-৩২ : নাতং কী?
উত্তর : ত্রিপুরা নারীরা কানে যে দুল পরে তাকে নাতং বলে।
প্রশ্ন-৩৩ : পূর্বের গারোদের বাড়ির নাম কী?
উত্তর : অতীতে গারোরা নদীর ধারে লম্বা এক ধরনের বাড়ি নির্মাণ করত যার নাম ছিল ‘নকমান্দি’।
প্রশ্ন-৩৪ : ‘খাসি’ জনগোষ্ঠী কেন পান সুপারি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করে?
উত্তর : ‘খাসি’ জনগোষ্ঠী পান সুপারিকে পবিত্র মনে করে তাই তারা পান সুপারি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করে।
প্রশ্ন-৩৫ : ওয়াংগালা কিসের নাম?
উত্তর : ওয়াংগালা একটি উৎসবের নাম।
প্রশ্ন-৩৬ : বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে ত্রিপুরারা কোন উৎসব পালন করে?
উত্তর : বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে ত্রিপুরারা ‘বিশু’ উৎসব পালন করে।
প্রশ্ন-৩৭ : কোন তারিখে ‘ফাগুয়া’ উৎসব পালন করা হয়?
উত্তর : ফাল্গুন মাসের শেষ তারিখে ‘ফাগুয়া’ উৎসব পালন করা হয়।
প্রশ্ন-৩৮ : নাপ্পি কী?
উত্তর : নাপ্পী হচ্ছে ম্রোদের সুস্বাদু খাবারের নাম।
প্রশ্ন-৩৯ : ওঁরাওদের গ্রাম পরিষদের নাম কী?
উত্তর : ওঁরাওদের গ্রাম পরিষদের নাম ‘পাহতো’।
প্রশ্ন-৪০ : কত সালে গারো জনগোষ্ঠী ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল?
উত্তর : ১৮৭২ সালে গারো জনগোষ্ঠী ইংরেজদের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল।
প্রশ্ন-৪১ : গারোদের আদি ধর্মের নাম কী?
উত্তর : গারোদের আদি ধর্মের নাম ‘সাংসারেক’।
প্রশ্ন-৪২ : ওঁরাওদের প্রধান উৎসব কোনটি?
উত্তর : ওঁরাওদের প্রধান উৎসব ‘ফাগুয়া’।
প্রশ্ন-৪৩ : বিশু উৎসব কবে পালন করা হয়?
উত্তর : নববর্ষের প্রথম দিনে ‘বিশু’ উৎসব পালন করা হয়।
প্রশ্ন-৪৪ : গারোরা কত বছর পূর্বে বাংলাদেশে আসে?
উত্তর : গারোরা বাংলাদেশে আসে ৪০০ বছর পূর্বে।
প্রশ্ন-৪৫ : অতীতে গারোরা তাদের বাড়িগুলো নির্মাণ করত কোথায়?
উত্তর : অতীতে গারোরা নদীর ধারে তাদের বাড়িগুলো নির্মাণ করত।
প্রশ্ন-৪৬ : গারোদের ঐতিহ্যবাহী খাবার কী?
উত্তর : গারোদের ঐতিহ্যবাহী খাবার হচ্ছে কচি বাঁশের কোড়ল দিয়ে তৈরি করা খাদ্য ।
প্রশ্ন-৪৭ : গারো পুরুষরা কী পরিধান করে?
উত্তর : গারো পুরুষরা পোশাক শার্ট, লুঙ্গি ও ধুতি পরিধান করে।
প্রশ্ন-৪৮ : খাসি জনগোষ্ঠী কোথায় বাস করে?
উত্তর : বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় খাসি জনগোষ্ঠী বাস করে।
প্রশ্ন-৪৯ : খাসিরা কী কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে?
উত্তর : খাসি জনগোষ্ঠী কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।
প্রশ্ন-৫০ : বাড়িতে অতিথি এলে খাসিরা কী দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকে?
উত্তর : অতিথি বাড়িতে বেড়াতে এলে খাসিরা পান সুপারি ও চা দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকে।
প্রশ্ন-৫১ : ত্রিপুরারা কখন বিশু উৎসব পালন করে?
উত্তর : বাংলা বছরের শেষ দু’দিন ও নববর্ষের প্রথম দিনে ত্রিপুরারা বিশু উৎসব পালন করে।
প্রশ্ন-৫২ : ওঁরাওদের প্রধান উৎসবের নাম কী?
উত্তর : ওঁরাওদের প্রধান উৎসবের নাম ‘ফাগুয়া’, যা ফাল্গুন মাসের শেষ তারিখে পালন করা হয়।
প্রশ্ন-৫৩ : খাসিদের প্রধান খাবার কী?
উত্তর : খাসিদের প্রধান খাদ্য হলো ভাত, মাংস, শুঁটকিমাছ, মধু ইত্যাদি।
প্রশ্ন-৫৪ : ম্রোরা সাধারণত কোন ধর্মাবলম্বী?
উত্তর : ম্রোরা সাধারণত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
প্রশ্ন-৫৫ : বাংলাদেশের কোথায় ত্রিপুরারা বসবাস করে?
উত্তর : বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে ত্রিপুরারা বসবাস করে।
প্রশ্ন-৫৬ : ত্রিপুরাদের মোট কতটি দফা রয়েছে?
উত্তর : ত্রিপুরাদের ৩৬টি দফা আছে।
প্রশ্ন-৫৭ : বাংলাদেশে ত্রিপুরাদের কয়টি দফা আছে?
উত্তর : বাংলাদেশে ত্রিপুরাদের ১৬টি দফা আছে।
প্রশ্ন-৫৮ : ভারতের ত্রিপুরাদের কয়টি দফা আছে?
উত্তর : ভারতের ত্রিপুরাদের ২০টি দফা আছে।
প্রশ্ন-৫৯ : ওঁরাও জাতিগোষ্ঠীর মতে পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা কে?
উত্তর : ওঁরাও জাতিগোষ্ঠীর মতে ধরমী বা ধমরেশ পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা।
প্রশ্ন-৬০ : পার্বত্য অঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে চতুর্থ ক্ষুদ্র জাতিসত্তা কোনটি?
উত্তর : পার্বত্য অঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকে চতুর্থ ক্ষুদ্র জাতিসত্তা হলো ম্রো।

 কাঠামোবদ্ধ প্রশ্ন ও উত্তর

 যোগ্যতাভিত্তিক
প্রশ্ন-১ : গারো জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, ধর্ম, খাদ্যাভ্যাস ও পোশাক সম্পর্কে লিখ।
উত্তর : গারো জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, ধর্ম, খাদ্যাভ্যাস ও পোশাক সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
ভাষা : গারোদের ভাষা নাম আচিক।
ধর্ম : গারোদের অধিকাংশ বর্তমানে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী। তারা বড়দিনসহ খ্রিষ্টানদের অন্যান্য উৎসবাদি পালন করে। গারোদের সনাতনী ধর্মের নাম ‘সাংসারেক’।
খাদ্যাভ্যাস : গারোরা ভাতের সাথে মাছ, মাংস, শাকসবজি খায়। তাদের ঐতিহ্যবাহী একটি খাবারে হচ্ছে কচি বাঁশের কোড়ল দিয়ে তৈরি খাদ্য যা অনেক সুস্বাদু।
পোশাক : গারো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হচ্ছে ‘দকবান্দা’ বা ‘দকসারি’ আর পুরুষদের পোশাক শার্ট, লুঙ্গি, ধুতি।
প্রশ্ন-২ : খাসিদের সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে কী জান? তাদের খাদ্য সম্পর্কে লেখ।
উত্তর : খাসিদের সমাজব্যবস্থা বৈচিত্র্যময়। খাসি সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। মায়েদের সূত্র ধরেই তাদের দল, গোত্র ও বংশ গড়ে ওঠে। পারিবারিক সম্পত্তির বেশিরভাগের উত্তরাধিকারী হয় পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ে। তারা খুব সহজ সরল জীবনযাপন করে। সাধারণত কৃষিকাজ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে। তারা প্রচুর মধু ও পান চাষ করে।
খাসিদের প্রধান খাদ্যগুলো হলোÑ ভাত, মাংস, শুঁটকি মাছ, মধু ইত্যাদি। তারা পান-সুপারিকে খুবই পবিত্র মনে করে। কোনো অতিথি তাদের বাড়িতে বেড়াতে এলে পান-সুপারি ও চা দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকে।
প্রশ্ন-৩ : গারো ও খাসিদের মধ্যে বৈসাদৃশ্য ছকে চি‎ি‎হ্নত কর।
উত্তর : গারো ও খাসিদের মধ্যে বৈসাদৃশ্য ছকে চি‎ি‎হ্নত করা হলো :
গারো খাসি
ক. গারো জাতিসত্তাদের বসবাস এদেশের বিভিন্ন স্থানে। ক. এদেশের বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় খাসি জনগোষ্ঠী বাস করে।
খ. গারোদের অধিকাংশই বর্তমানে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী। খ. খাসিরা বিভিন্ন দেবতার পূজা করে।
গ. গারো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হচ্ছে ‘দকবান্দা’ আর পুরুষদের পোশাক শার্ট, লুঙ্গি, ধূতি। গ. খাসি মেয়েরা ‘কাজিম পিন’ নামক বøাউজ ও লুঙ্গি পরে। আর ছেলেরা পকেট ছাড়া জামা ও লুঙ্গি পরে যার নাম ‘ফুংগ মারুং’।
ঘ. এদেশের গারোরা ‘আচিক’ ভাষায় কথা বলে। ঘ. খাসিদের নিজস্ব ভাষা আছে যার নাম ‘মনখেমে’।
প্রশ্ন-৪ : বাংলাদেশে যেসব ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বসবাস করে একটি মানচিত্র এঁকে তা দেখাও।
উত্তর : বাংলাদেশে যেসব ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বসবাস করে একটি মানচিত্র এঁকে তা দেখানো হলো :

বাংলাদেশের কয়েকটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অবস্থান
 সাধারণ
প্রশ্ন-৫ : পাঁচটি বাক্যে গারোদের বাসস্থানের বর্ণনা দাও।
উত্তর : অতীতে গারোরা বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে অথবা নদীর ধারে তাদের বাড়িগুলো নির্মাণ করত। এই বাড়িগুলো সাধারণত দুচালা বিশিষ্ট দীর্ঘ আকারের হতো। এ ধরনের বাড়ির নাম ছিল ‘নকমান্দি’। বর্তমানে এ ধরনের বাড়িঘর দেখা যায় না। বর্তমানে তারা সমতল বাংলাদেশের স্বাভাবিক টিনের চাল বা অন্যান্য প্রচলিত বাড়ির মতোই বাড়ি তৈরি করে।
প্রশ্ন-৬ : গারো সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য লেখ।
উত্তর : গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক অর্থাৎ মা পরিবারের প্রধান। মেয়েরা পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী। আর বাবা পরিবারের দেখাশোনা করেন। বিয়ের পরে তিনি স্ত্রীর সাথে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন এবং তার কর্তব্য পালন করেন। তবে বর্তমানে মাতৃতান্ত্রিক প্রথা চালু থাকলেও দেশের বাঙালি সমাজের মতো তাদের আচরণ ও অনুশীলন পরিবর্তিত হচ্ছে।
প্রশ্ন-৭ : ওঁরাওদের সমাজব্যবস্থার বর্ণনা দাও।
উত্তর : ওঁরাও সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক। তাদের একজন গ্রাম প্রধান থাকে যিনি ‘মাহাতো’ নামে পরিচিত। তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক পরিষদ আছে যা ‘পাহতো’ নামে পরিচিত। এই পরিষদে কয়েকটি গ্রামের প্রতিনিধিরা প্রতিনিধিত্ব করেন।
প্রশ্ন-৮ : বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আচার অনুষ্ঠানের সাথে গারোদের আচার অনুষ্ঠানের ৫টি পার্থক্য লেখ।
উত্তর : বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আচার অনুষ্ঠানের সাথে গারোদের আচার অনুষ্ঠানের পার্থক্য:
১. বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আচার-অনুষ্ঠানে তেমন বিশেষ কোনো সাজসজ্জা গ্রহণ করা হয় না। গারোরা বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে। যেমন- নারীদের ‘দকবান্দা’।
২. বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে আপন সংস্কৃতি লালন করে, গারোরা বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে বাজনা বাজাতে পছন্দ করে।
৩. বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কৃষিজমিতে আপন ঐতিহ্যের ধারায় চাষ করে, গারোরা কৃষিজমিতে অর্ঘ্য নিবেদন করে।
৪. বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ নবান্ন উৎসব পালন করে, গারোরা সূর্য দেবতা সামজং এর প্রতি নতুন শস্য উৎসর্গ করে।
৫. বাংলাদেশের সাধারণ মানুষেরা বৈশাখী উৎসব ও বিভিন্ন জাতীয় উৎসব পালন করে, গারোদের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের নাম ‘ওয়াংগালা’।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply