নবম-দশম শ্রেণির অর্থনীতি অধ্যায় ১০ বাংলাদেশ সরকারের অর্থব্যবস্থা

দশম অধ্যায়
 বাংলাদেশ সরকারের অর্থব্যবস্থা

অর্থনীতির যে শাখায় সরকারের আয়, ব্যয় ও ঋণ সংক্রান্ত বিষয়াবলি আলোচনা হয়, তাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা বলে। একটি দেশের জনসাধারণের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য স্থানীয় সরকার কোন কোন খাতে, কীভাবে, কোন নীতিতে ব্যয় করবে তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় আলোচনা করা হয়। শিখনফল
 সরকারি অর্থব্যবস্থার পরিচয়
 সরকারের আয়ের উৎসসমূহ
 সরকারের ব্যয়ের খাতসমূহ
 বাজেটের ধারণা
 চলতি বাজেট ও মূলধন বাজেটের মধ্যে পার্থক্য
 সুষম বাজেটের সাথে অসম বাজেটের তুলনা
 বাংলাদেশ সরকারের বাজেট ও এর শ্রেণিবিভাগ
 বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন বাজেটের অর্থায়নের উৎসসমূহ
 জাতীয় বাজেটের আলোচনা
অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে জেনে রাখি

 সরকারি অর্থব্যবস্থা : অর্থনীতির যে শাখায় সরকারের আয়, ব্যয় ও ঋণ সংক্রান্ত বিষয়াবলি আলোচনা হয়, তাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা বলে। একটি দেশের জনসাধারণের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য স্থানীয় সরকার কোন কোন খাতে, কীভাবে, কোন নীতিতে ব্যয় করবে তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় আলোচনা করা হয়। সরকারি ব্যয় নির্বাহের জন্য কীভাবে, কোন কোন উৎস হতে আয় করবে অথবা কোন উৎস থেকে কতটুকু ঋণ গ্রহণ করবে তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় আলোচনা করা হয়।
 বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসসমূহ : বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ সাধন, প্রশাসন পরিচালনা, দেশ রক্ষা ইত্যাদি কাজে সরকার অনেক অর্থ ব্যয় করে। এই ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে বিভিন্ন উৎস হতে আয় সংগ্রহ করতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎস প্রধানত দুটি। যথা : (ক) কর রাজস্ব (খ) করবহিভর্‚ত রাজস্ব।
 বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের খাতসমূহ : বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল জনকল্যাণকামী রাষ্ট্র। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, দেশ রক্ষা ও পরিচালনা এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য প্রতিবছর সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। গণতন্ত্রের উন্মেষ ও উন্নয়নের ফলে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের পরিধি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে অনেক নতুন নতুন খাত ও ব্যয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
 বাজেট : বাজেট বলতে আয় ও ব্যয়ের সুবিন্যস্ত হিসাবকে বোঝায়। ব্যক্তি তার বিভিন্ন উৎস থেকে যে আয় পায় তা কীভাবে ব্যয় করে তা যদি সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়, তা হবে ব্যক্তিগত বাজেট। একইভাবে সরকারের কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে বিভিন্ন উৎস থেকে কতটুকু আয় প্রাপ্তির আশা করে এবং বিভিন্ন খাতে কী পরিমাণ ব্যয় করতে চায় তার সুবিন্যস্ত হিসাবকে সরকারি বাজেট বলে। বাংলাদেশে আর্থিক বছর হলো জুন থেকে জুলাই।
 বাজেটের প্রকারভেদ : সরকারের আয়-ব্যয়ের প্রকৃতি অনুযায়ী বাজেটকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা : ১. চলতি বাজেট ও ২. মূলধন বাজেট।
১. চলতি বাজেট : যে বাজেটে সরকারের চলতি আয় ও চলতি ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয় তাকে চলতি বাজেট বলে। চলতি আয় সংগৃহীত হয় কর রাজস্ব হতে। বাজেটের এ অর্থ ব্যয় হয় সরকারের প্রশাসনিক কার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও দেশ রক্ষার জন্য। চলতি বাজেট সাধারণত উদ্বৃত্ত থাকে।
২. মূলধন বাজেট : সরকারের মূলধন আয় ও ব্যয়ের হিসাব যে বাজেটে দেখানো হয় তাকে মূলধন বাজেট বলে। এ বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ও জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধন করা।
আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যের দিক থেকে বাজেটকে প্রথমত দুই ভাগে ভাগ করা যায় : যথা : ১. সুষম বাজেট ও ২. অসম বাজেট।
১. সুষম বাজেট : কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সরকারের প্রত্যাশিত আয় এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ সমান হলে তাকে সুষম বাজেট বলে।
২. অসম বাজেট : কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বা আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ সমান না হলে তাকে অসম বাজেট বলে। সরকারের আয় ও ব্যয়ের অসমতার দিক থেকে অসম বাজেটকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা : ১. উদ্বৃত্ত বাজেট (ঝঁৎঢ়ষঁং ইঁফমবঃ) ২. ঘাটতি বাজেট (উবভরপরঃ ইঁফমবঃ)
১. উদ্বৃত্ত বাজেট (ঝঁৎঢ়ষঁং ইঁফমবঃ) কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ কম হলে তাকে উদ্বৃত্ত বাজেট বলে।
২. ঘাটতি বাজেট (উবভরপরঃ ইঁফমবঃ) : কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলে।
 বাংলাদেশ সরকারের বাজেট : বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এ দেশের আর্থিক বছর জুন-জুলাই। প্রতি বছর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহান জাতীয় সংসদে পরবর্তী বছরের খসড়া বাজেট উপস্থাপন করেন, যা আলোচনা, সমালোচনা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংযোজন ও বিয়োজনের পর উক্ত মাসেই মহান সংসদে চ‚ড়ান্তভাবে গৃহীত হয়।
আমাদের দেশে বাজেটকে সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত করে উপস্থাপন করা হয়। যথা : ১. অ-উন্নয়ন বাজেট; ২. উন্নয়ন বাজেট।

 বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর 
১. কোনটির ওপর আয়কর ধার্য হয়?
 ব্যক্তির আয়ের ওপর
খ কোম্পানির আয়ের ওপর
গ যানবাহন থেকে প্রাপ্ত আয়ের ওপর
ঘ ভ‚মি রাজস্ব থেকে প্রাপ্ত আয়ের ওপর
২.

কোনটিতে কর-বহিভর্‚ত রাজস্বের উৎসসমূহ রয়েছে?
 চিত্র : অ খ চিত্র : ই গ চিত্র : ঈ ঘ চিত্র : উ
নিচের সারণিটি পড়ে ৩ ও ৪নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
একটি আর্থিক বছরে দুটি দেশের সরকারের গৃহীত বাজেট :
দেশ-অ দেশ-ই
প্রত্যাশিত আয় (টাকা) প্রত্যাশিত ব্যয় (টাকা) প্রত্যাশিত আয় (ডলার) প্রত্যাশিত ব্যয় (ডলার)
১০০০ কোটি ১১০০ কোটি ২০ লক্ষ বিলিয়ন ২০ লক্ষ বিলিয়ন
৩. ই দেশের বাজেটকে কোন প্রকারের বাজেট বলে?
 সুষম খ অসম গ ঘাটতি ঘ উদ্বৃত্ত
৪. অ দেশের মতো বাজেট প্রণয়নের ফলে
র. প্রাকৃতিক সম্পদ পরিপূর্ণভাবে ব্যবহৃত হবে
রর. জনগণের জীবনযাত্রার মান বাড়বে
ররর. দ্রব্যের দাম দ্রæত বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর

 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন- ১  বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসসমূহ

ইসরাত একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কেনাকাটা করতে যায়। সে কেনাকাটা শেষে দাম পরিশোধ করে তাকে প্রকৃত দামের সাথে কিছু অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে হয়। এ প্রসঙ্গে দোকানিকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, “এটি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারে ক্রেতার নিকট থেকে আদায় করা হয়।”
ক. ভ‚মি রাজস্ব কাকে বলে?
খ. সম্পূরক শুল্ক কী? ব্যাখ্যা কর।
গ. ইসরাতের কাছ থেকে আদায়কৃত অতিরিক্ত অর্থ সরকারি রাজস্বের কোন উৎসের অন্তর্গত? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. আবগারি শুল্কের সাথে ইসরাত প্রদত্ত অতিরিক্ত অর্থের সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।

ক ভ‚মির মালিকানা ও ভোগ দখলের জন্য ভ‚মির মালিক সরকারকে যে খাজনা দেয়, তাকে ভ‚মি রাজস্ব বলে।
খ বিভিন্ন কারণে সরকার দ্রব্যসামগ্রীর উপর আবগারি শুল্ক বা মূল্য সংযোজন করে বা আমদানি শুল্ক আরোপের পরও অতিরিক্ত যে শুল্ক আরোপ করে, তাকে সম্পূরক শুল্ক বলে। যেমন : বিদেশি সিগারেট দেশে আনতে হলে এর ওপর আমদানি শুল্ক দিতে হয়। এরপর সরকার এই সিগারেট বিক্রির ওপর একটা শুল্ক আরোপ করে। আদায়কৃত এই অতিরিক্ত শুল্কই সম্পূরক শুল্ক।
গ ইসরাতের কাছ থেকে আদায়কৃত অতিরিক্ত অর্থ সরকারি রাজস্বের মূল্য সংযোজন করের অন্তর্ভুক্ত। উৎপাদন ক্ষেত্রে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চ‚ড়ান্ত দ্রব্য উৎপাদন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্তর অতিক্রম করতে হয়। উৎপাদনের এরূপ বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য সংযোজিত হয় তার ওপর নির্দিষ্ট হারে যে কর আরোপ করা হয় তাকে মূল্য সংযোজন কর বলে। উদ্দীপকের ইসরাত এ করই প্রদান করেছে। উদ্দীপকের ইসরাত একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে কেনাকাটা করে। দোকানি তার কাছ থেকে ক্রয়কৃত দ্রব্যের চেয়ে অতিরিক্ত কিছু টাকা বেশি রাখে। স্টোরের ঐ পণ্যগুলো উৎপাদনের বিভিন্ন স্তর পার হয়ে চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে ভোগের জন্য বিক্রিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে এসব পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সংযোজিত মূল্যের ওপরই সরকার মূল্য সংযোজন কর আরোপ করেছে। আর দোকানি ইসরাতের নিকট থেকে এ কর হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে। সুতরাং ইসরাতের প্রদানকৃত অতিরিক্ত অর্থ সরকারি কর রাজস্বের মূল্য সংযোজন করের আওতাভুক্ত।
ঘ আবগারি শুল্কের সাথে ইসরাতের প্রদত্ত মূল্য সংযোজন করের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য সংযোজিত হয় তার উপর যে করারোপ করা হয় তাকে মূল্য সংযোজন কর বলা হয়। অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের ওপর যে কর ধার্য করা হয় তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম এ দুটি আয়ের উৎসের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। আবগারি শুল্ক ও ইসরাতের প্রদত্ত মূল্য সংযোজন কর উভয়ই বাংলাদেশ সরকারের আয়ের অন্যতম দুটি উৎস। উভয় উৎস থেকে বাংলাদেশ সরকার রাজস্ব আয় করে। তবে আবগারি শুল্কের তুলনায় মূল্য সংযোজন খাতে আয়ের পরিমাণ অনেক বেশি। বর্তমানে আমাদের দেশে আমদানিকৃত পণ্য ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দ্রব্যসহ বিভিন্ন সেবা খাতের ওপর মূল্য সংযোজন কর আরোপ করা হয়। আর চা, সিগারেট, চিনি, তামাক, কেরোসিন, ওষুধ ইত্যাদি ক্ষতিকর দ্রব্যের ওপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। এক্ষেত্রে ক্ষতিকর দ্রব্যের ভোগ কমানোর উদ্দেশ্য রয়েছে। উৎপাদিত দ্রব্যের ওপর আবগারি শুল্ক প্রদান করতে হয়। কিন্তু বিক্রয়যোগ্য যেকোনো পণ্য বা দ্রব্যের ওপর মূল্য সংযোজন কর প্রদান করা হয়। পরিশেষে বলা যায়, আবগারি শুল্ক ও ইসরাতের প্রদানকৃত মূল্য সংযোজন কর উভয়ই বাংলাদেশ সরকারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। উভয়ের মধ্যে একটি বিপরীতমুখী সম্পর্ক রয়েছে।

প্রশ্ন- ২  বাংলাদেশ সরকারের বাজেট

জাহিদ একটি সরকারি স্কুলে পড়ে। তাদের স্কুলের সবাই খুশি। কারণ এ বছর একটি নতুন ভবন তৈরি হচ্ছে। সে জানতে পারে সরকার এবার তাদের স্কুলে বড় বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। বাজেট কী তা সে বোঝে না। এ প্রসঙ্গে তার শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তাদের বেতনের মতো এটিও সরকারের এক ধরনের ব্যয় যা বাজেটের মাধ্যমেই সরকার প্রদান করে।
ক. বাজেটের সংজ্ঞা দাও।
খ. সরকারি অর্থব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়?
গ. জাহিদের স্কুলের ভবন নির্মাণের কাজটি সরকারের কোন বাজেটের অন্তর্গত? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. জাহিদের শিক্ষকের বেতন কীভাবে উদ্বৃত্ত বাজেটের অন্তর্গত হতে পারে? বিশ্লেষণ কর।

ক বাজেট বলতে আয় ও ব্যয়ের সুবিন্যস্ত হিসাবকে বোঝায়।
খ অর্থনীতির যে শাখায় সরকারের আয়, ব্যয় ও ঋণ সংক্রান্ত বিষয়াবলি আলোচনা হয়, তাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা বলা হয়। একটি দেশের জনসাধারণের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য স্থানীয় সরকার কোন কোন খাতে, কীভাবে কোন নীতিতে ব্যয় করবে, ব্যয় নির্বাহের জন্য কীভাবে কোন উৎস থেকে আয় করবে অথবা কোন উৎস থেকে কতটুকু ঋণ গ্রহণ করবে তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় আলোচনা করা হয়।
গ জাহিদের স্কুলের ভবন নির্মাণের কাজটি বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন বাজেটের অন্তর্গত। বাজেটের যে অংশে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয় তাকে উন্নয়ন বাজেট বলা হয়। এ বাজেটে বাংলাদেশ সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিস্তারিত বিবরণ ও সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ এবং অর্থসংস্থানের উৎসের বিবরণ লিপিবদ্ধ থাকে। পরিকল্পিত উপায়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সরকার এ বাজেট প্রণয়ন করে। উদ্দীপকের বিদ্যালয় ভবনটি এ বাজেটেরই অন্তর্ভুক্ত। উদ্দীপকের জাহিদের স্কুলের ভবনটি একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এ ভবনটি নির্মাণের ফলে অত্র এলাকায় শিক্ষা উন্নয়ন তথা আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করবে। কেননা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সহায়তা করে। দক্ষ মানবসম্পদ আবার অধিক উৎপাদন ও উৎপাদিত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকার্যের মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে কার্যকর ভ‚মিকা রাখে। আর এ লক্ষ্যে ভৌত অবকাঠামো সৃষ্টি ও বিদ্যমান অবকাঠামোর সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ করা হয়। জাহিদের স্কুলের ভবনের কাজটি এরই আওতাভুক্ত। তাই বলা হয়, জাহিদের স্কুলের ভবন নির্মাণ সরকারের উন্নয়ন বাজেটের ব্যয়ের একটি খাত।
ঘ সরকারের চলতি বাজেটের অংশ হিসেবে জাহিদের শিক্ষকদের বেতন উদ্বৃত্ত বাজেটের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ কম হলে তাকে উদ্বৃত্ত বাজেট বলে। এ ধরনের বাজেট সরকারের চলতি বাজেটেরই একটি রূপ। কারণ চলতি বাজেটে যেমন সরকারের দৈনন্দিন বা চলতি আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয় তেমনি উদ্বৃত্ত বাজেটেও তাই করা হয়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর, শুল্ক এবং করবহিভর্‚ত রাজস্বের মাধ্যমে উদ্বৃত্ত বাজেটের অর্থ সংগ্রহ করা হয়। আর এ অর্থ শিক্ষা, প্রতিরক্ষা জনপ্রশাসন, জনস্বাস্থ্য ইত্যাদি খাতে ব্যয় করা হয়। এজন্য এ বাজেটের অর্থ শিক্ষা খাতের চলতি ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যয় করা হলে তা ঐ বাজেটেরই অন্তর্ভুক্ত হয়। উদ্দীপকের জাহিদের স্কুলের শিক্ষকদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করতে গিয়ে সরকার যে অর্থ ব্যয় করে তা চলতি বাজেটের আওতাভুক্ত। তাই এ বাজেট উদ্বৃত্ত হলে জাহিদের শিক্ষকের বেতন উদ্বৃত্ত বাজেটেরই অংশ হবে। পরিশেষে বলা যায়, চলতি বাজেট উদ্বৃত্ত হয় বলে জাহিদের শিক্ষকের বেতন উদ্বৃত্ত বাজেটের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

 বোর্ড ও সেরা স্কুলের বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১. কত সাল থেকে বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর চালু করা হয়েছে? [স. বো. ’১৬]
ক ১৯৯০-৯১  ১৯৯১-৯২ গ ১৯৯২-৯৩ ঘ ১৯৯৩-৯৪
২. আয় ও ভোগের মধ্যে পার্থক্যকে কী বলে? [স. বো. ’১৫]
ক বিনিয়োগ খ মূলধন  সঞ্চয় ঘ সুদ
৩. রানু স্থানীয়ভাবে বিস্কুট তৈরি করে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে সরবরাহ করে। তার উৎপাদিত বিস্কুটের ওপর সরকারকে কর দিতে হয়। সেটা কী ধরনের কর? [স. বো. ’১৫]
 আবগারি শুল্ক খ আমদানি শুল্ক
গ সম্পূরক শুল্ক ঘ ভ্যাট
৪. সরকার জনগণের নিকট হতে বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ আদায় করে তাকে কী বলা হয়? [কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা]
ক শুল্ক খ ফি  কর ঘ ভর্তুকি
৫. দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের ওপর কোন কর ধার্য করা হয়? [বি এ এফ শাহীন কলেজ, চট্টগ্রাম]
ক মূল্য সংযোজন কর ˜ আবগারি শুল্ক
গ সম্পূরক শুল্ক ঘ টোল
৬. সরকার জনগণকে প্রশাসনিক সেবা দিয়ে কী আদায় করে? [বি এ এফ শাহীন কলেজ, চট্টগ্রাম]
ক কর খ শুল্ক গ খাজনা ˜ ফি
৭. মূল্য সংযোজন করের সংক্ষিপ্ত রূপ কী?
[কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা; পুলিশ লাইন হাই স্কুল, বগুড়া]
ক ঞওচ খ ঘখউ গ এউচ ˜ ঠঅঞ
৮. উদ্বৃত্ত বাজেটের সূত্র কোনটি? [গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়]
˜ মোট আয় > মোট ব্যয় খ মোট আয় < মোট ব্যয়
গ মোট আয় = মোট ব্যয় ঘ মোট আয় ≠ মোট ব্যয়
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৯. আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়- [স. বো. ’১৬]
র. সিগারেট
রর. কেরোসিন
ররর. তামাক
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ রর ও ররর গ র ও ররর  র, রর ও ররর
১০. দারিদ্র্য বিমোচনে অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হলে
র. সামাজিক নিরাপত্তা বাড়বে
রর. পারিবারিক কষ্ট লাঘব হবে
ররর. দেশের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত হবে
নিচের কোনটি সঠিক? [স. বো. ’১৫]
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
১১. মূলধন বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো [বিএএফ শাহীন কলেজ, ঢাকা]
র. অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করা রর. সামাজিক উন্নয়ন সাধন করা
ররর. রাজনৈতিক উন্নয়ন সাধন করা
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ১২ ও ১৩ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
রায়হান যে দেশে বাস করে সে দেশে স¤প্রতি বাজেট পাস হয়েছে। সেখানে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি দেখানো হয়েছে। দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন উৎস থেকে এই ব্যয় মিটানো হয়। [স. বো. ’১৬]
১২. রায়হানের দেশের বাজেটটি কী ধরনের বাজেট?
ক সুষম বাজেট  ঘাটতি বাজেট
গ উদ্বৃত্ত বাজেট ঘ মূলধনী বাজেট
১৩. রায়হানের দেশের বাজেটের অতিরিক্ত অর্থ কোন কোন উৎস থেকে আসে?
র. অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা হতে ঋণ
রর. বৈদেশিক সাহায্য
ররর. কৃষি ও শিল্প উন্নয়ন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর গ র ও ররর  র ও রর
 বিষয়ক্রম অনুযায়ী বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
 ১০.১ ও ১০.২ : সরকারি অর্থব্যবস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসসমূহ  বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ১১৬
 অর্থনীতির যে শাখায় সরকারের আয়, ব্যয় ও ঋণ সংক্রান্ত বিষয়াবলি আলোচনা হয় তাকে বলে সরকারি অর্থব্যবস্থা।
 বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎস ২টি।
 কোনো প্রকার সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে সরকার বাধ্যতামূলকভাবে জনগণের নিকট হতে য অর্থ আদায় করে তাকে বলে কর।

 উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য সংযোজিত হয় তার ওপর নির্দিষ্ট হারে যে করারোপ করা হয় তাকে বলে মূল্য সংযোজন কর।
 আমদানিকৃত দ্রব্য ও সেবার ওপর যে কর ধার্য করা হয় তাকে বলে আমদানি শুল্ক।
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৪. সরকারি অর্থব্যবস্থায় কী নিয়ে আলোচনা হয়? (জ্ঞান)
˜ আয়-ব্যয় খ লাভ-ক্ষতি
গ জাতীয় সমস্যা ও সমাধান ঘ জাতীয় উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি
১৫. বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎস কয়টি? (জ্ঞান)
˜ ২ খ ৩ গ ৪ ঘ ৫
১৬. জনগণ কোনটি প্রদান করে কোনো বাড়তি সুবিধা প্রত্যাশা করতে পারে না? (জ্ঞান)
ক প্রশাসনিক ফি খ টোল
গ লেভি ˜ কর
১৭. গত বছর জনাব মাহিন ব্যবসা করে ৫০০ কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। এর একটি অংশ কর হিসেবে তিনি সরকারকে প্রদান করেন। এটি বাংলাদেশ সরকারের কী ধরনের উৎস? (প্রয়োগ)
ক আবগারি শুল্ক খ সম্পূরক শ্ল্কু
গ লভ্যাংশ ও মুনাফা ˜ আয়কর
১৮. বর্তমানে কোনো পুরুষ কত টাকার অধিক আয় করলে আয়কর দিতে হয়? (জ্ঞান)
ক ১,৫০,০০০ খ ২,২০,০০০  ২,৫০,০০০ ঘ ৩,০০,০০০
১৯. একজন নারী কর্তৃক কত টাকার অধিক আয় করলে আয়কর প্রদান করতে হয়? (জ্ঞান)
ক ১,৭৫,০০০ খ ২,০০,০০০  ৩,০০,০০০ ঘ ২,৫০,০০০
২০. জিসান প্রতিবন্ধী হলেও প্রচুর টাকা উপার্জন করে। সে বার্ষিক কত টাকার অধিক উপার্জন করলে তাকে আয়কর দিতে হবে? (প্রয়োগ)
ক ১,৭৫,০০০ খ ২,০০,০০০
গ ২,২৫,০০০ ˜ ৩,৭৫,০০০
২১. জমির সাহেবকে প্রতি বছর তার লিনা গার্মেন্টস-এর জন্য ৫ লক্ষ টাকা কর দিতে হয়। এটি কী ধরনের কর? (প্রয়োগ)
 আয়কর খ মূল্য সংযোজন কর
গ ভ‚মি রাজস্ব ঘ কর রাজস্ব
২২. ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আয়কর ও মুনাফার ওপর ধার্যকৃত কর হতে কত টাকা আয় হয়? (জ্ঞান)
ক ২৮,০৬১ খ ৩৪,৩০৪ গ ৪৩১৫০  ৫৬,০৮৬
২৩. ঠঅঞ-এর পূর্ণরূপ কী? (জ্ঞান)
ক ঠধষঁধনষব অফফরঃরড়হধষ ঞধশধ
˜ ঠধষঁব অফফবফ ঞধী
গ ঠধষঁব অফফবফ ঞড়ষষ
ঘ ঠধষঁব অফরঃরড়হধষ ঞড়ষষ
২৪. উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরে সংযোজিত মূল্যের ওপর আরোপিত করকে কী বলা হয়? (জ্ঞান)
ক আয়কর ˜ ঠঅঞ গ আবগারি শুল্ক ঘ সম্পূরক শুল্ক
২৫. অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের কোন খাতের স¤প্রসারণের পরিকল্পনা আছে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক আবগারি শুল্ক খ আমদানি শুল্ক
গ মাদক শুল্ক ˜ মূল্য সংযোজন কর
২৬. ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ঠঅঞ-এর মাধ্যমে সরকার কত কোটি টাকা আয় করেছে? (জ্ঞান)
ক ২৮,০৬৯ খ ৩০,৮৮০ গ ৩৪,৩০৪  ৫৫,০১৩
২৭. আমদানিকৃত দ্রব্যের ওপর ধার্যকৃত করকে কী বলা হয়? (জ্ঞান)
ক আবগারি শুল্ক ˜ আমদানি শুল্ক
গ মূল্য সংযোজন কর ঘ সম্পূরক শুল্ক
২৮. জনাব রহমান চীন থেকে মোবাইল সামগ্রী আমদানি করার সময় কর দিয়েছেন। তার প্রদানকৃত করটি কী ধরনের কর? (প্রয়োগ)
˜ আমদানি শুল্ক খ আবগারি শুল্ক
গ ঠঅঞ ঘ সম্পূরক শুল্ক
২৯. ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আমদানি শুল্ক খাত হতে বাংলাদেশ সরকার কত কোটি টাকা আয় করেছে? (জ্ঞান)
ক ১০,৪৩৩ খ ১২,৬৩৪  ১৩৪,৫৯০ ঘ ৩৪,৩০৪
৩০. ক্ষতিকর দ্রব্যের ভোগ হ্রাস করার জন্য কোন কর ধার্য করা হয়? (জ্ঞান)
ক আমদানি শুল্ক ˜ আবগারি শুল্ক
গ সম্পূরক শুল্ক ঘ মূল্য সংযোজন কর
৩১. বাদশাহ সাহেব তার বাড়িতে উৎপাদিত চা নিজ জেলার মধ্যে বাজারজাত করেন। তার ওপর কোন কর আরোপিত হবে? (প্রয়োগ)
ক ভ‚মি রাজস্ব ˜ আবগারি শুল্ক গ সম্পূরক শুল্ক ঘ লেভি
৩২. চা, চিনি ইত্যাদির ওপর কোন কর হয়? (জ্ঞান)
ক মাদক শুল্ক খ সম্পূরক শুল্ক
˜ আবগারি শুল্ক ঘ সংযোজন কর
৩৩. কুষ্টিয়া জেলায় তামাকের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা প্রশাসক খুবই চিন্তিত। তামাকের ব্যবহার কমানোর জন্য তিনি কোন কর আরোপ করতে পারেন? (প্রয়োগ)
ক মূল্য সংযোজন কর ˜ আবগারি শুল্ক
গ সম্পূরক শুল্ক ঘ মাদক শুল্ক
৩৪. ওষুধের ওপর কোন কর ধার্য করা হয়? (জ্ঞান)
ক মাদক শুল্ক খ সম্পূরক শুল্ক
গ মূল্য সংযোজন কর ˜ আবগারি শুল্ক
৩৫. ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আবগারি শুল্ক খাত হতে সরকারের কত কোটি টাকা আয় হয়েছে? (জ্ঞান)
ক ১০০৩ খ ১১০৩  ১২৫১ ঘ ১২৫০
৩৬. সিরামিক টাইলসের ওপর কোনটি ধার্য করা হয়? (জ্ঞান)
ক মূল্য সংযোজন কর  সম্পূরক শুল্ক
গ আবগারি শুল্ক ঘ মাদক শুল্ক
৩৭. ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সম্পূরক শুল্ক হতে সরকার কত কোটি টাকা আয় করে? (জ্ঞান)
ক ১২,৬৩৪ খ ১৪,২২০  ২১,৩৩৪ ঘ ৩৪,৩০৪
৩৮. সরকারের কোন কর আদায়ে শুল্ক আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণ সাধিত হয়? (জ্ঞান)
ক আবগারি শুল্ক খ যানবাহন কর
গ মূল্য সংযোজন কর ˜ মাদক শুল্ক
৩৯. ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার মাদক শুল্ক হতে কত কোটি টাকা উপার্জন করে? (জ্ঞান)
˜ ৭২ খ ১২৩ গ ৪৫০ ঘ ৮৮০
৪০. যানবাহনের ওপর কর আরোপ করে সরকার ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কত কোটি টাকা আয় করে? (জ্ঞান)
ক ১০০০ খ ১০৫৫ গ ১১০০ ˜ ১২৪৮
৪১. ভ‚মি রাজস্ব বলতে কোনটিকে বোঝায়? (অনুধাবন)
ক ফসল উৎপাদনের জন্য প্রদত্ত খাজনাকে
খ ভ‚মির উন্নয়নের জন্য প্রদত্ত অর্থকে
˜ ভ‚মি ভোগ দখলের জন্য প্রদত্ত অর্থকে
ঘ সরকারি ভ‚মিকে দখলের জন্য প্রদত্ত অর্থকে
৪২. ভ‚মির মালিকানা ও ভোগদখলের জন্য ভ‚মির মালিকানার ওপর কোন কর ধার্য করা হয়? (জ্ঞান)
ক কর রাজস্ব ˜ ভ‚মি রাজস্ব গ টোল ঘ লেভি
৪৩. নিচের কোনটির ওপর উন্নয়ন কর আরোপ করা হয়? (জ্ঞান)
ক শ্রমের খ মূলধনের গ যানবাহনের ˜ ভ‚মির
৪৪. ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকার কত কোটি টাকা ভ‚মি রাজস্ব থেকে আদায় করেছে? (জ্ঞান)
ক ৩৬৫ খ ৪৫০ ˜ ৭৩৮ ঘ ৯০০
৪৫. নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প কেন ব্যবহৃত হয়? (অনুধাবন)
ক পণ্য আমদানির জন্য
খ দ্রব্য বাজারজাত করার জন্য
গ বাজেয়াপ্ত সম্পদ উদ্ধারের আবেদনের জন্য
˜ মামলা-মোকদ্দমার আবেদনের জন্য
৪৬. নিচের কোনটি সরকারের করবহিভর্‚ত আয়ের উৎস? (জ্ঞান)
ক আবগারি শুল্ক খ ভ‚মি রাজস্ব গ স্ট্যাম্প ˜ জরিমানা
৪৭. সরকার বাণিজ্যসংস্থা ও কোম্পানি হতে কী আদায় করে? (জ্ঞান)
ক নবায়ন ফি খ অডিট ফি
˜ রেজিস্ট্রেশন ফি ঘ বিমা ফি
৪৮. রহিম মণ্ডলসহ প্রায় ৫০০ জন মিলে ‘লাল সবুজ সমবায় সমিতি’ পরিচালনা করে। তখন সরকারকে কী প্রদান করতে হয়? (জ্ঞান)
ক রেজিস্ট্রেশন ফি ˜ অডিট ফি
গ নবায়ন ফি ঘ মূল্যায়ন ফি
৪৯. সরকার সম্পত্তি ভাড়া ও ইজারা দিয়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কত কোটি টাকা উপার্জন করে? (জ্ঞান)
ক ১৩৯ ˜ ১৫৯ গ ১৬৯ ঘ ১৮৯
৫০. যমুনা সেতু দিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিটি বাস ৮০০ টাকা দেয়। এটি কী? (প্রয়োগ)
ক ফিস খ কর  টোল ঘ খাজনা
৫১. ২০০৮ সালে চালের দাম বৃদ্ধি পেলে দরিদ্রদের জন্য সরকার বিনা লাভে চাল বিক্রির ব্যবস্থা করে। সরকারের এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কী বলা হয়? (প্রয়োগ)
ক অর্থনৈতিক সেবা খ ত্রাণ বিতরণ
গ ভর্তুকি  অবাণিজ্যিক বিক্রয়
৫২. রেলওয়ে থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারের আয় কত কোটি টাকা? (জ্ঞান)
ক ৫০০ গ ৫১৮ গ ৬৭৮  ১১০০
৫৩. ডাক বিভাগ হতে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের সরকারের আয়ের পরিমাণ কত? (জ্ঞান)
˜ ২৯৪ কোটি টাকা খ ৫১৮ কোটি টাকা
গ ৬৬৮ কোটি টাকা ঘ ৯০০ কোটি টাকা
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৫৪. সরকারি অর্থ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলোÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. জনসাধারণের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করা
রর. সরকারের আয় সর্বোচ্চ করা
ররর. দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়ন করা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৫. কর রাজস্বের বৈশিষ্ট্য হলোÑ (অনুধাবন)
র. জনগণ বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করে
রর. কোনো বিনিময় প্রদান করা হয় না
ররর. ক্ষতিকর দ্রব্যের ব্যবহার হ্রাস করা যায়
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৬. মাদক শুল্ক আরোপের উদ্দেশ্য হলোÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. মাদক নিষিদ্ধ করা
রর. সরকারের আয় বৃদ্ধি করা
ররর. সামাজিক কল্যাণ বৃদ্ধি করা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৭. বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে স¤প্রতি সরকারের আয় বৃদ্ধির কারণ হলোÑ (অনুধাবন)
র. রেল সেবার স¤প্রসারণ
রর. রেল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
ররর. রেলওয়ের বহুমুখী সেবা প্রদান
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৮. বাংলাদেশ সরকার অর্থ ব্যয় করেÑ (অনুধাবন)
র. জনকল্যাণের জন্য
রর. দেশ রক্ষা ও পরিচালনার জন্য
ররর. আয়কর প্রদানের জন্য
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৫৯. বাংলাদেশ সরকারের করবহিভর্‚ত রাজস্ব খাত হলোÑ (অনুধাবন)
র. অর্থনৈতিক সেবা
রর. ভাড়া ও ইজারা
ররর. অবাণিজ্যিক বিক্রয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
৬০. সরকার ভ‚মি রাজস্ব আরোপ করেÑ (অনুধাবন)
র. ভ‚মির মালিকানার জন্য
রর. ভ‚মির ভোগদখলের জন্য
ররর. জমিতে অধিক উৎপাদনের জন্য
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৬১ ও ৬২ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
নোমান ও এ্যানি দম্পতি একই অফিসে একই বেতনে চাকরি করেন। তাদের প্রত্যেকের বার্ষিক বেতন প্রায় ২,৫০,০০০ টাকা। কিন্তু নোমান আয়কর দিলেও এ্যানিকে দিতে হয় না।
৬১. এ্যানির বার্ষিক আয় কত বৃদ্ধি পেলে তাকেও আয়কর দিতে হবে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক ৫,০০০ টাকা খ ১০,০০০ টাকা
গ ২৫,০০০ টাকা  ৫০,০০০ টাকা
৬২. নোমান জাতীয় ক্ষেত্রে অবদান রাখছেÑ (উচ্চতর দক্ষতা)
র. সরকারের আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে
রর. সরকারের ব্যয়ের একটা অংশ প্রদানের মাধ্যমে
ররর. দেশের সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারকে সাহায্য প্রদানের মাধ্যমে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর

 ১০.৩ : বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের খাতসমূহ
 বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ১১৯
 বাংলাদেশ সরকার বেশি অর্থ ব্যয় করে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে।
 জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে খাতের ব্যয় অপ্রকাশিত থাকে প্রতিরক্ষা খাতে।
 সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা দিতে যে ব্যয় তাকে বলে জনপ্রশাসন ব্যয়।
 জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থে কোন খাতের ব্যয় অপ্রকাশিত থাকে প্রতিরক্ষা খাতে।
 সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাগ দিতে যে ব্যয় হয় তাকে বলে জনপ্রশাসন ব্যয়।
 কৃষি খাতের স¤প্রসারণ ও উন্নয়নকল্পে সরকার বরাদ্দের পাশাপাশি দিয়ে থাকে- ভর্তুকি।
 শিল্পদূষণ হতে পরিবেশকে রক্ষা করতে ব্যয় করা হয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় হতে।
 বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর ব্যয় করে ১৮টি খাতে।
 ২০১১-১২ অর্থবছরে শিক্ষাখাতে সরকারের ব্যয় ১২,২৪০ কোটি টাকা।
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৬৩. শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সরকারের বৃহৎ বরাদ্দের লক্ষ্য কী? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক দেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা
খ দারিদ্র্য বিমোচন করা
গ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
 মানবসম্পদ তৈরি করা
৬৪. দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার প্রতিবছর কোন খাতে প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় করে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক প্রতিরক্ষা খ জনস্বাস্থ্য
গ দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান ˜ তথ্য ও প্রযুক্তি
৬৫. ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে কত কোটি টাকা ব্যয় করে? (জ্ঞান)
ক ১২,২৪০ খ ১৪,৩৫০ ˜ ১৮,৭৬৯ ঘ ২৩,২৩৭
৬৬. প্রতিরক্ষা খাতে অর্থ ব্যয় করা হয় কেন? (অনুধাবন)
ক অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য
 দেশকে বিদেশি আগ্রাসন হতে রক্ষার জন্য
গ মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য
ঘ জরুরি সমস্যা সমাধানের জন্য
৬৭. ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার রাশিয়া থেকে কয়েকটি সামুদ্রিক রণতরী ক্রয় করে। এটি সরকারের ব্যয়ের কোন খাতের অন্তর্ভুক্ত? (প্রয়োগ)
ক নিরাপত্তা ˜ প্রতিরক্ষা
গ জ্বালানি ঘ স্থানীয় সরকার
৬৮. মো. আবুল হোসেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে নিয়োজিত। তার বেতন-ভাতা সরকারের কোন খাতের ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত? (প্রয়োগ)
˜ প্রতিরক্ষা খ জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা
গ জনপ্রশাসন ঘ পল্লী উন্নয়ন
৬৯. প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয় অপ্রকাশিত থাকে কেন? (অনুধাবন)
ক আলাদা বাজেট হয় বলে
খ এটি সরকারের দায়িত্ব নয় বলে
˜ জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয় বলে
ঘ এটি সামরিক বাহিনী তৈরি করে বলে
৭০. ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে সরকারের ব্যয়ের পরিমাণ কত? (জ্ঞান)
ক ১০,২৩৭ কোটি টাকা খ ১১,৭৫৯ কোটি টাকা
গ ১২৩৫৩ কোটি টাকা ˜ ১২২৪০ কোটি টাকা
৭১. জনাব রকিবুল্লাহ যুগ্মসচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। তার বেতন-ভাতা সরকারের কোন খাতে ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত? (প্রয়োগ)
ক প্রতিরক্ষা খ জনস্বাস্থ্য গ স্থানীয় সরকার ˜ জনপ্রশাসন
৭২. সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয় কোন খাত হতে? (জ্ঞান)
ক প্রতিরক্ষা খ জনশৃঙ্খলা গ নিরাপত্তা ˜ জনপ্রশাসন
৭৩. ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার জনপ্রশাসন খাতে কত কোটি টাকা ব্যয় করে? (প্রয়োগ)
˜ ৫৩,২৩৭ খ ১৮,৭৬৯ গ ১৪,৩৫৩ ঘ ১২,২৪০
৭৪. বাংলাদেশ সরকার মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ৫০০ জন সদস্যকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এটি সরকারের ব্যয়ের কোন খাতের অন্তর্ভুক্ত? (প্রয়োগ)
 জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খ জনপ্রশাসন
গ প্রতিরক্ষা ঘ সামাজিক কল্যাণ
৭৫. ২০০৪ সালে জনগণের নিরাপত্তার জন্য র‌্যাব গঠন করা হয়। সরকারের ব্যয়ের কোন খাত হতে র‌্যাব সদস্যদের বেতন দেওয়া হয়? (প্রয়োগ)
ক প্রতিরক্ষা খ জনপ্রশাসন
˜ জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ঘ স্থানীয় সরকার
৭৬. ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার পুলিশের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করে। এতে সরকারের কোন খাতের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক প্রতিরক্ষা খ জনপ্রশাসন
˜ জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ঘ স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন
৭৭. জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার কত কোটি টাকা ব্যয় করে? (জ্ঞান)
˜ ৮৬০২ খ ৮৫০২ গ ৯৮০২ ঘ ৮৮০৬
৭৮. কোন অর্থবছর হতে সরকার প্রথম কৃষি গবেষণার জন্য বরাদ্দ দেওয়া শুরু করে? (জ্ঞান)
ক ২০০৫-০৬ খ ২০০৬-০৭ ˜ ২০০৭-০৮ ঘ ২০০৮-০৯
৭৯. ২০১১-১২ অর্থবছরে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কৃষি গবেষণায় সরকারের ব্যয় হয়েছে কত কোটি টাকা? (জ্ঞান)
 ১৪,৩৫৩ খ ১২৩৫০ গ ১০৫৬০ ঘ ৮৬০০
৮০. গত বছর সরকার ৫টি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ করেছে। এটি সরকারের কোন খাতের ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত? (প্রয়োগ)
ক জনপ্রশাসন ˜ জনস্বাস্থ্য
গ সামাজিক কল্যাণ ঘ সামাজিক অবকাঠামো
৮১. সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে কতজন এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছে? (জ্ঞান)
˜ ১ খ ২ গ ৩ ঘ ৪
৮২. ২০১১-১২ অর্থবছরে জনস্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ সরকারের ব্যয় কত কোটি টাকা? (জ্ঞান)
ক ৭,১০২ ˜ ৮,১৬৯ গ ৮,৮৬৮ ঘ ৯,৮৬২
৮৩. বয়স্কভাতা কর্মসূচি সরকারের কোন ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত? (জ্ঞান)
 সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খ দারিদ্র্যবিমোচন কর্মসূচি
গ শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবাসমূহ ঘ স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন
৮৪. বিধবা জমিলা প্রতি মাসে সরকার থেকে ৩০০ টাকা ভাতা পান। এটি সরকারের ব্যয়ের কোন খাতের অন্তর্ভুক্ত? (প্রয়োগ)
ক জনস্বাস্থ্য খ দারিদ্র্যবিমোচন ও কর্মসংস্থান
˜ সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ ঘ অর্থনৈতিক সেবাসমূহ
৮৫. একটি বাড়ি একটি খামার সরকারের কোন ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত? (জ্ঞান)
ক দারিদ্র্যবিমোচন কর্মসূচি
˜ সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ
গ জনস্বাস্থ্য
ঘ কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কৃষি গবেষণা
৮৬. ২০১১-১২ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে সরকারের ব্যয় হয়েছে কত কোটি টাকা? (জ্ঞান)
ক ৮,১৫৯ খ ৮,৬০২ গ ১০,৪৮৬ ˜ ১০,৭১৬
৮৭. ২০১১-১২ অর্থবছরের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যয় হয়েছে কত কোটি টাকা? (জ্ঞান)
ক ৫,৫৬৫ খ ৬,৮৬৭ ˜ ৭,৯৫৭ ঘ ৮,৬৫৯
৮৮. ২০১১-১২ অর্থবছরের পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সরকারের ব্যয়ের পরিমাণ কত? (জ্ঞান)
ক ৭,৯৫৭ ˜ ১০,৪৮৬ গ ১০,৭১৬ ঘ ১২,২৪০
৮৯. কোন প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে? (জ্ঞান)
ক সামাজিক বেষ্টনী খ সামাজিক বাস্তুহারা
˜ ন্যাশনাল সার্ভিস ঘ জিআর
৯০. ন্যাশনাল সার্ভিস প্রকল্পের মেয়াদ কত বছর? (জ্ঞান)
ক এক ˜ দুই গ তিন ঘ চার
৯১. ন্যাশনাল সার্ভিসের আওতায় কীভাবে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক সরকারি চাকরিতে নিয়োগের মাধ্যমে
˜ কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে
গ আর্থিক সাহায্যের মাধ্যমে
ঘ অবকাঠামো তৈরিতে কাজে লাগানোর মাধ্যমে
৯২. বিজিএফ ও ভিজিডি বাবদ সরকার প্রতিবছর কত লক্ষ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিতরণ করছে? (জ্ঞান)
ক ৫ ˜ ১০ গ ১৫ ঘ ২০
৯৩. সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস হতে ঋণ গ্রহণ করে কেন? (অনুধাবন)
˜ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য
খ সরকারি কর্মচারিদের বেতন দেওয়ার জন্য
গ প্রতিরক্ষা ব্যয় নির্বাহের জন্য
ঘ কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য
৯৪. ২০১১-১২ অর্থবছরে সরকারের ঋণ ও সুদ পরিশোধ বাবদ কত কোটি টাকা ব্যয় হয়? (জ্ঞান)
ক ১০,৭১৬ খ ১৫,৬৭৬ গ ১৮,৬৯৭ ˜ ১৯,৭৯৬
৯৫. সরকার শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কোন খাতে অর্থ ব্যয় করে? (জ্ঞান)
ক প্রতিরক্ষা খ জনপ্রশাসন
˜ শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবাসমূহ ঘ দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান
৯৬. বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য পুনঃঅর্থায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কেন? (অনুধাবন)
ক অনুন্নত এলাকায় শাখা খোলার জন্য
খ পল্লী উন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য
গ কৃষকদের ঋণ দানে আগ্রহী করার জন্য
˜ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য
৯৭. বাংলাদেশ ব্যাংক কাদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে? (জ্ঞান)
ক বৃহৎ শিল্প খাতে বৃহৎ উদ্যোক্তাদের জন্য
খ শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য
গ শুধু এনজিওসমূহের জন্য
˜ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য
৯৮. স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন খাতে ২০১১-১২ অর্থবছরে সরকারের কত কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে? (জ্ঞান)
˜ ১২,০০৯ খ ১২,২৪০ গ ১৪,৩৫৩ ঘ ১৯,৭৯৬
৯৯. বাংলাদেশ সরকারের অনুন্নয়ন ব্যয় বরাদ্দের খাত কয়টি? (জ্ঞান)
ক ৫০ ˜ ৫৫ গ ৬০ ঘ ৬৫
১০০. বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ সরকার কতটি খাতে ব্যয় করে? (জ্ঞান)
˜ ১৮ খ ২৩ গ ৪৫ ঘ ৫৫
১০১. সুইডেন একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র। দেশটির সরকার কোন খাতে সর্বাধিক ব্যয় করে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক দারিদ্র্যবিমোচন খাতে খ শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে
গ অনুন্নয়নমূলক খাতে ˜ উন্নয়নমূলক খাতে
১০২. কল্যাণকামী রাষ্ট্রের ধারণা অনুুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের কোন খাতে ব্যয়ের পরিধি প্রসারিত করা উচিত? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক অনুন্নয়নমূলক খাতে  উন্নয়নমূলক খাতে
গ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ঘ দারিদ্র্যবিমোচন খাতে
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১০৩. বাংলাদেশ সরকার প্রতিবছর প্রচুর অর্থ ব্যয় করে (প্রয়োগ)
র. দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে
রর. মানবসম্পদ উন্নয়নে
ররর. দেশ রক্ষা ও পরিচালনায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
১০৪. রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের পরিধি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ (অনুধাবন)
র. গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে
রর. সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে
ররর. নতুন নতুন ব্যয়ের খাত সৃষ্টি হচ্ছে
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১০৫. শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের প্রচুর অর্থ ব্যয়ের কারণ (অনুধাবন)
র. মানবসম্পদ তৈরি করা
রর. দারিদ্র্যবিমোচন করা
ররর. আর্থসামাজিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি বৃদ্ধি করা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১০৬. প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয় অপ্রকাশিত থাকার কারণ হলো (অনুধাবন)
র. বৃহৎ বাজেট
রর. জাতীয় নিরাপত্তা
ররর. অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ˜ রর গ ররর ঘ র, রর ও ররর
১০৭. সরকার কৃষি খাতে প্রচুর ভর্তুকি দেওয়ার কারণ হলো (অনুধাবন)
র. কৃষিভিত্তিক শিল্প স¤প্রসারণ করা
রর. কৃষি গবেষণা বৃদ্ধি করা
ররর. বিনামূল্যে কৃষকদের সার-ওষুধ প্রদান করা
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১০৮. জনস্বাস্থ্য খাতে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হলো (অনুধাবন)
র. প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন করা
রর. সকল ইউনিয়নে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহ করা
ররর. প্রত্যন্ত অঞ্চলে দক্ষ ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১০৯. সরকারের ব্যয়ের সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতের আওতায় পড়ে (প্রয়োগ)
র. অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মানীভাতা প্রদান
রর. সাময়িক বেকারত্ব নিরসন করা
ররর. একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প পরিচালনা করা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
১১০. বাংলাদেশ সরকার দারিদ্র্যবিমোচনের লক্ষ্যে (উচ্চতর দক্ষতা)
র. একশ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি পরিচালনা করছে
রর. ন্যাশনাল সার্ভিস প্রকল্প চালাচ্ছে
ররর. মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ দিচ্ছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর ˜ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১১১. আধুনিক কল্যাণকামী রাষ্ট্রগঠনের জন্য সরকারের করণীয় হলো (উচ্চতর দক্ষতা)
র. অনুন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় হ্রাস করা
রর. উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করা
ররর. প্রতিরক্ষা ও জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১১২ ও ১১৩ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
মাহিদুল সাহেব সচিবালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাকে একটি মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মচারীদের বেতন-ভাতার হিসাব রাখতে হয়।
১১২. অনুচ্ছেদটি সরকারের কোন খাতের ব্যয়ের ইঙ্গিত রয়েছে? (প্রয়োগ)
ক প্রতিরক্ষা ˜ জনপ্রশাসন
গ জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ঘ স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন
১১৩. উক্ত খাতে ব্যয়ের উদ্দেশ্য হলো (উচ্চতর দক্ষতা)
র. সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্রপরিচালনা করা
রর. দেশকে বিদেশি আগ্রাসন হতে রক্ষা করা
ররর. সরকারি কর্মচারীদের বেতন দেওয়া
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১১৪ ও ১১৫ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
সুজন ন্যাশনাল সার্ভিস প্রকল্পের একজন সুবিধাভোগী। এ প্রকল্পের মাধ্যমেই প্রশিক্ষণ নিয়েই তিনি আজ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখে আছে।
১১৪. অনুচ্ছেদে সরকারের কোন ব্যয়ের খাতের ইঙ্গিত রয়েছে? (প্রয়োগ)
˜ দারিদ্র্যবিমোচন ও কর্মসংস্থান খ সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ
গ জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ঘ স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন
১১৫. সুজনকে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো (উচ্চতর দক্ষতা)
র. বেকারদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা
রর. কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা
ররর. দারিদ্র্যবিমোচন করা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
 ১০.৪ : বাজেট  বোর্ড বই, পৃষ্ঠা- ১২৩
 আয় ও ব্যয়ের সুবিন্যস্ত হিসাবকে বলে বাজেট।
 নির্দিষ্ট অর্থবছরে সরকার কতটুকু আয় আশা করে এবং বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় পরিকল্পনা করে তাকে বলে সরকারি বাজেট।
 বাজেটকে ভাগ করা যায় ২ ভাগে।
 সুষম বাজেট মোট আয়= মোট ব্যয়।
 বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে দরকার সুষম বাজেট।
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১১৬. আয় ও ব্যয়ের সুবিন্যস্ত হিসাবকে কী বলা হয়? (জ্ঞান)
ক সরকারি অর্থব্যবস্থা ˜ বাজেট
গ ব্যয়সূচি ঘ সরকারি পরিকল্পনা
১১৭. বাংলাদেশের আর্থিক বছর কোনটি? (জ্ঞান)
ক জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর খ মার্চ থেকে ফেব্রæয়ারি
গ মে থেকে এপ্রিল ˜ জুন থেকে জুলাই
১১৮. সরকারি অর্থব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি কোনটি? (জ্ঞান)
ক অডিট ˜ বাজেট
গ নিরীক্ষা ঘ সরকারি পরিকল্পনা
১১৯. সরকারের রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন কোথায় ঘটে? (জ্ঞান)
ক সংবিধানে খ সরকারি অর্থব্যবস্থায়
˜ বাজেটে ঘ স্থানীয় সরকার
১২০. বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করেছেন। বাজেটটি অনুমোদনের জন্য কোথায় উত্থাপন করতে হবে? (প্রয়োগ)
ক বিচার বিভাগে খ সুপ্রিমকোর্টে
গ অর্থ মন্ত্রণালয়ে ˜ জাতীয় সংসদে
১২১. বাজেট সংসদে অনুমোদনের পর কার নিকট প্রেরণ করা হয়? (জ্ঞান)
ক প্রধান বিচারপতির খ প্রধানমন্ত্রীর
˜ রাষ্ট্রপতির ঘ স্পিকারের
১২২. আয়-ব্যয়ের প্রকৃতি অনুযায়ী বাজেট কত প্রকার? (জ্ঞান)
˜ দুই খ তিন গ চার ঘ পাঁচ
১২৩. যে বাজেটে সরকারের চলতি আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়, তাকে কী বাজেট বলে? (জ্ঞান)
˜ চলতি খ মূলধন গ সুষম ঘ ঘাটতি
১২৪. বাংলাদেশ সরকার ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর হতে ৫৫,০১৩ কোটি টাকা আয় করেছে। এটি কোন বাজেটে দেখানো হবে? (প্রয়োগ)
˜ চলতি খ মূলধন গ উন্নয়ন ঘ অউন্নয়ন
১২৫. ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিরাট বরাদ্দ দিয়েছে। এটি কোন বাজেটের আওতাভুক্ত? (প্রয়োগ)
ক মূলধনী ˜ চলতি গ বিশেষ ঘ উন্নয়ন
১২৬. মূলধন বাজেটের মূল লক্ষ্য কী? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক সুষ্ঠুভাবে প্রশাসনিক কার্য সমাধা করা
˜ দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা
গ দারিদ্র্যবিমোচন করা
ঘ অবকাঠামোর উন্নয়ন করা
১২৭. দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য কোন বাজেট প্রণয়ন করা হয়? (জ্ঞান)
ক চলতি ˜ মূলধন গ ঘাটতি ঘ সুষম
১২৮. গত জুনে সরকারের বিশেষ আদেশে বলা হয়, এ মাসে প্রতি কলে অতিরিক্ত ২ পয়সা কাটা হবে পদ্মা সেতুর অর্থায়নের জন্য এটি সরকারের কোন বাজেটে দেখানো হবে? (প্রয়োগ)
ক বিশেষ খ চলতি  মূলধন ঘ সুষম
১২৯. কোন বাজেটের সাথে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্পর্ক রয়েছে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক চলতি ˜ মূলধন গ সুষম ঘ ঘাটতি
১৩০. কোন বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে? (জ্ঞান)
ক চলতি খ মূলধন
˜ সুষম ঘ উদ্বৃত্ত
১৩১. গত কয়েক বছর ধরে ইংল্যান্ডে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। এরূপ ক্ষেত্রে কোন বাজেট সহায়ক? (প্রয়োগ)
ক উদ্বৃত্ত খ ঘাটতি ˜ সুষম ঘ চলতি
১৩২. কোন বাজেট দ্বারা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়? (জ্ঞান)
ক চলতি খ মূলধন ˜ সুষম ঘ অসম
১৩৩. সুষম বাজেটের বৈশিষ্ট্য কোনটি? (জ্ঞান)
ক আয় > ব্যয় খ আয়  ব্যয় ˜ আয় = ব্যয় ঘ আয় # ব্যয়
১৩৪. ‘ক’ দেশের ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট আয় ১,৯৫,০০০ কোটি মার্কিন ডলার এবং মোট ব্যয় ২,৪০,০০০ কোটি মার্কিন ডলার। দেশটির বাজেটের ধরন কী? (প্রয়োগ)
ক সুষম বাজেট ˜ অসম বাজেট
গ চলতি বাজেট ঘ মূলধন বাজেট
১৩৫. অসম বাজেটকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়? (জ্ঞান)
 দুই খ তিন গ চার ঘ পাঁচ
১৩৬. কোন বাজেটের আয় ও ব্যয়ের বিয়োগফল শূন্য অপেক্ষা বেশি হয়? (উচ্চতর দক্ষতা)
˜ উদ্বৃত্ত খ ঘাটতি গ চলতি ঘ মূলধন
১৩৭. ‘ণ’ দেশটি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হলেও বেকারত্বের হার অনেক বেশি। দেশটিতে কোন বাজেট জরুরি? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক উদ্বৃত্ত ˜ ঘাটতি গ চলতি ঘ মূলধন
১৩৮. দক্ষিণ সুদানের মাথাপিছু আয় অনেক কম। দেশটির এ সমস্যা কাটানোর জন্য কোন বাজেট আবশ্যক? (প্রয়োগ)
˜ ঘাটতি খ উদ্বৃত্ত গ চলতি ঘ বিশেষ
১৩৯. বাংলাদেশের জন্য কোন বাজেট উপযুক্ত? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক চলতি খ বিশেষ গ উদ্বৃত্ত ˜ ঘাটতি
১৪০. বাজেটের ঘাটতি পূরণের জন্য ‘ক’ দেশটি প্রতিবছর প্রচুর নতুন অর্থ প্রচলন করে। দেশটিতে কী সমস্যা দেখা দিতে পারে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক বেকারত্ব বৃদ্ধি খ প্রবৃদ্ধি হ্রাস
গ প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা ˜ মুদ্রাস্ফীতি
১৪১. ঘাটতি বাজেটের সূত্র কোনটি? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক মোট আয় = মোট ব্যয় খ মোট আয় ≠ মোট ব্যয়
গ মোট আয় > মোট ব্যয়  মোট আয় < মোট ব্যয়
বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৪২. সরকারের বাজেটের মধ্যে ফুটে ওঠে (উচ্চতর দক্ষতা)
র. রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন
রর. অর্থনীতির সার্বিক চিত্র
ররর. বৈদেশিক বাণিজ্যের নিয়মনীতি
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১৪৩. চলতি বাজেটে ফুটে ওঠে (অনুধাবন)
র. সরকারের চলতি ব্যয়
রর. সরকারের চলতি আয়
ররর. সরকারের বাণিজ্যিক নীতি
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১৪৪. চলতি বাজেটের অর্থ ব্যয় হয় (অনুধাবন)
র. প্রশাসনিক কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য
রর. দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য
ররর. দেশ রক্ষার জন্য
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১৪৫. চলতি বাজেটের ব্যয়ের খাত হলো (অনুধাবন)
র. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ
রর. পুলিশ প্রশাসন
ররর. জনপ্রশাসন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১৪৬. সুষম বাজেট প্রণয়নের সুবিধা হলো (প্রয়োগ)
র. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে
রর. বেকারত্ব দূর করা সহজতর হয়
ররর. মুদ্রাস্ফীতির সম্ভাবনা কম থাকে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১৪৭. মূলধন বাজেটের ফলে (উচ্চতর দক্ষতা)
র. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয়
রর. দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়
ররর. প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
˜ র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১৪৮. উন্নয়নশীল দেশে ঘাটতি বাজেট মঙ্গলজনক, কারণ (অনুধাবন)
র. প্রাকৃতিক সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার করা যায়
রর. মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায়
ররর. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর
১৪৯. অতিরিক্ত নতুন মুদ্রা বা অর্থ সৃষ্টির ফলে দেখা দিতে পারে (উচ্চতর দক্ষতা)
র. দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি
রর. জীবনযাত্রার নিম্নমান
ররর. আয় বৈষম্য
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
১৫০. ঘাটতি বাজেটের অপকারিতা হলো (উচ্চতর দক্ষতা)
র. দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে
রর. জীবনযাত্রার মান হ্রাস পেতে পারে
ররর. আয় বৈষম্য সৃষ্টি হতে পারে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর ˜ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১৫১ ও ১৫২ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট আয় ১,৫০,০০০ কোটি এবং মোট ব্যয় ১,৮০,০০০ কোটি রুপি নির্ধারণ করেছে।
১৫১. অনুচ্ছেদে কোন বাজেটের ইঙ্গিত আছে? (প্রয়োগ)
ক সুষম খ উদ্বৃত্ত ˜ ঘাটতি ঘ মূলধন
১৫২. উক্ত বাজেটের ফলে অঞ্চলটিতে (উচ্চতর দক্ষতা)
র. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে
রর. জনগণের জীবনযাত্রার মান বাড়বে
ররর. মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ˜ র, রর ও ররর

 ১০.৫-১০.৬ : বাংলাদেশ সরকারের বাজেট ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট  বোর্ড বই, পৃষ্ঠা-১২৬ ও ১২৯
 বাংলাদেশে আর্থিক বছর শুরু হয় জুলাই-জুন।
 জাতীয় সংসদে খসড়া বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী।
 বাংলাদেশর সরকারে বাজেট ২ ধরনের।
 ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট হলো ঘাটতি বাজেট।
 বাজেটের যে অংশে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয় তাকে বলে উন্নয়ন বাজেট।
 পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য যে বাজেট করা হয় তা হলো উন্নয়ন বাজেট।
সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
১৫৩. বাংলাদেশের আর্থিক বছর কোনটি? (জ্ঞান)
ক জানুয়ারি-ডিসেম্বর খ মার্চ-ফেব্রæয়ারি
˜ জুন-জুলাই ঘ ডিসেম্বর-নভেম্বর
১৫৪. কখন জাতীয় সংসদে খসড়া বাজেট উপস্থাপন করা হয়? (জ্ঞান)
ক জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে  জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে
গ জুন মাসের শেষ সপ্তাহে ঘ জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে
১৫৫. বাংলাদেশের বাজেট পেশ করেন কে? (জ্ঞান)
ক প্রধানমন্ত্রী খ রাষ্ট্রপতি গ স্পিকার ˜ অর্থমন্ত্রী
১৫৬. বাংলাদেশে জাতীয় বাজেট কোথায় চ‚ড়ান্তভাবে গৃহীত হয়? (জ্ঞান)
ক মন্ত্রিসভায় খ বঙ্গভবনে গ অর্থমন্ত্রণালয়ে ˜ জাতীয় সংসদে
১৫৭. জাতীয় বাজেট কোন মাসে চ‚ড়ান্তভাবে গৃহীত হয়? (জ্ঞান)
˜ জুন খ জুলাই গ ডিসেম্বর ঘ জানুয়ারি
১৫৮. বাংলাদেশ সরকারের বাজেটকে কয়ভাগে ভাগ করা হয়? (জ্ঞান)
˜ ২ খ ৩ গ ৪ ঘ ৫
১৫৯. বাংলাদেশ সরকারের দৈনন্দিন বা চিরাচরিত আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয় কোন বাজেটে? (জ্ঞান)
ক উন্নয়ন ˜ অ-উন্নয়ন গ চলতি ঘ মূলধনী
১৬০. জমির সাহেব বাংলাদেশ সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মচারী। তার বেতন সরকারের কোন বাজেটের অন্তর্ভুক্ত? (জ্ঞান)
˜ অউন্নয়ন খ উন্নয়ন গ মূলধন ঘ চলতি
১৬১. অ-উন্নয়ন বাজেটে কোনটি উল্লেখ থাকে না? (জ্ঞান)
ক ভর্তুকি খ দৈনন্দিন আয়-ব্যয়
গ চিরায়ত আয়-ব্যয় ˜ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা
১৬২. সরকার প্রতিবছর কৃষিখাতে পর্যাপ্ত ভর্তুকি দেয়। এটি কোন বাজেটের অন্তর্ভুক্ত? (প্রয়োগ)
ক চলতি খ মূলধন ˜ অউন্নয়ন ঘ উন্নয়ন
১৬৩. বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেছনে সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। এটি সরকারের কোন বাজেটের ব্যয়ের খাত? (প্রয়োগ)
ক মূলধন খ বিশেষ ˜ অউন্নয়ন ঘ উন্নয়ন
১৬৪. কোনটি উন্নয়ন বাজেটের ব্যয়ের খাত? (জ্ঞান)
˜ কৃষি খ সুদ গ পেনশন ঘ ভর্তুকি

 বোর্ড ও সেরা স্কুলের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন- ১  সুষম বাজেট

নিচে একটি কাল্পনিক বাজেট দেওয়া হলো (অর্থ বছর ২০০৭-০৮) :
আয় (হাজার কোটি টাকা) ব্যয় (হাজার কোটি টাকা)
রাজস্ব প্রাপ্তি ৫০ প্রতিরক্ষা  ৫০
কর রাজস্ব ৪০ বেঃ প্রশাসন ৪০
কর ব্যতীত প্রাপ্তি ২০ শিক্ষা ২০
বৈদেশিক অনুদান ৩০ অপ্রত্যাশিত ব্যায় ৩০
[স. বো. ’১৬]
ক. বাজেট কী? ১
খ. চলতি বাজেট ও মূলধন বাজেটের মধ্যে পার্থক্য কী? ২
গ. ছকে বর্ণিত বাজেটটি কী ধরনের বাজেট? বিশ্লেষণ কর। ৩
ঘ. ছকে উল্লিখিত বাজেটটির কোন খাতে অধিক পরিমাণ ব্যয় বরাদ্দ করা উচিত বলে তুমি মনে কর? ৪

ক আয় ও ব্যয়ের সুবিন্যস্ত হিসাবই বাজেট।
খ চলতি বাজেটে সরকারের চলতি আয় ও চলতি ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়। চলতি আয় সংগৃহীত হয় কর রাজস্ব ও কর বর্হিভ‚ত রাজস্ব হতে। চলতি বাজেটের ব্যয়ের খাতগুলো যেমন : শিক্ষা, জনপ্রশাসন, বিচারবিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ইত্যাদি। অন্যদিকে সরকারের মূলধন আয় ও ব্যয়ের হিসাব যে বাজেটে দেখানো হয় তাকে মূলধন বাজেট বলে। এ বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ও জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধন করা। এ লক্ষ্যে সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং বাস্তবায়নের জন্য অর্থসংস্থান করে।
গ ছকে বর্ণিত বাজেটটি হলো সুষম বাজেট। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সরকারের প্রত্যাশিত আয় এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ সমান হলে তাকে সুষম বাজেট বলে। এ বাজেটে আয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে ব্যয় করা হয় বলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি বা দ্রব্যের দাম দ্রæত বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম থাকে। ফলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তবে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে বেকারত্ব দূর করতে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে এবং জরুরি অবস্থা মোকাবেলা করতে এটি সহায়ক নয়।
সুষম বাজেটের সূত্র :
সুষম বাজেট = মোট আয়-মোট ব্যয় = ০
অর্থাৎ, মোট আয় = মোট ব্যয়
উদ্দীপকের অর্থবছর ২০০৭-২০০৮ এর কাল্পনিক বাজেটেও দেখা যায়, মোট আয় = (৫০ + ৪০ + ২০ + ৩০) হাজার কোটি টাকা বা ১৪০ হাজার কোটি টাকা। আবার বিভিন্ন খাতে মোট ব্যয় = (৫০ + ৪০ + ২০ + ৩০) হাজার কোটি টাকা বা ১৪০ হাজার কোটি টাকা।
অর্থাৎ কাল্পনিক বাজেটটিতে মোট আয় ও মোট ব্যয় সমান। সুতরাং নিঃসন্দেহে ছকে বর্ণিত বাজেটটি একটি সুষম বাজেট।
ঘ আমি মনে করি ছকে উল্লিখিত বাজেটটির শিক্ষা খাতে অধিক পরিমাণ ব্যয় বরাদ্দ করা উচিত। বিশেষ করে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষা খাতে অধিক পরিমাণ বাজেটে বরাদ্দ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকার মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষার স¤প্রসারণ ও গুণগত মান উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার, নারী শিক্ষার উন্নয়ন, ছাত্রছাত্রীদের মেধা বিকাশে বৃত্তি সংখ্যা ও হার বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষার প্রসারে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। শিক্ষার সাথে প্রযুক্তির সমাবেশ ঘটিয়ে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার প্রতি বছর তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় করে। ২০১১-১২ অর্থবছরে এ খাতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১৮৭৬৯ কোটি টাকা। আর এ ব্যয় বরাদ্দ ছিল সর্বোচ্চ। আমি এ বরাদ্দকে সমর্থন করি এবং মনে করি উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষা খাতেই অধিক পরিমাণ ব্যয় বরাদ্দ হওয়া উচিত।

প্রশ্ন- ২  বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসসমূহ

মি. এমরান একজন সফল উদ্যোক্তা। সিলেটে তার একটি চা কারখানা রয়েছে। তিনি তার উৎপাদিত পণ্যের ওপর প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কর প্রদান করেন। তার প্রতিবেশী আরও কয়েকজন শিল্পপতি আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে নিয়োজিত এবং বিপুল সম্পদের মালিক। কিন্তু তারা কর ফাঁকি দেন। [স. বো. ’১৫]
ক. কর বহিভর্‚ত রাজস্ব কাকে বলে? ১
খ. উন্নয়নশীল দেশগুলো ঘাটতি বাজেট প্রণয়নে গুরুত্ব দেয় কেন? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. মি. এমরান কোন ধরনের কর প্রদান করেন? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. মি. এমরান সাহেবের ন্যায় প্রতিবেশী ও অন্যান্যরাও সঠিকভাবে কর প্রদান করলে দেশ আত্মনির্ভরশীল হবেÑ বিশ্লেষণ কর। ৪

ক কর ও শুল্ক ব্যতীত অন্যান্য উৎস থেকে অর্জিত সরকারের আয় বা রাজস্বকে কর বহিভর্‚ত রাজস্ব বলে।
খ কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলা হয়। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির জন্য এ বাজেট সহায়ক। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কম মাথাপিছু আয়, অধিক বেকারত্ব, ভ‚মি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারের অভাব, জনগণের জীবনযাত্রার নিম্নমান, অনুন্নত আর্থসামাজিক অবকাঠামো ইত্যাদি। এমতাবস্থায় ঘাটতি বাজেট প্রণীত হলে ঘাটতি দূর করার জন্য সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ঋণ নেয়। ফলে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়। এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন সহজতর হয়। আর তাই উন্নয়নশীল দেশগুলো ঘাটতি বাজেট প্রণয়নে গুরুত্ব দেয়।
গ মি. এমরান কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত আবগারি শুল্ক প্রদান করেন। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের উপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। রাজস্ব সংগ্রহ ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষতিকর দ্রব্যের ভোগ হ্রাস করার উদ্দেশ্যেও আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। বাংলাদেশে প্রধানত চা, সিগারেট, চিনি, তামাক, কোরোসিন, ওষুধ, স্পিরিট, দিয়াশলাই প্রভৃতি দ্রব্যের ওপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। উদ্দীপকের সফল উদ্যোক্তা মি. এমরান সিলেটে তার চা কারখানায় উৎপাদিত পণ্য তথা চায়ের ওপর প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কর প্রদান করেন। সুতরাং নির্দ্বিধায় বলা যায়, মি. এমরান প্রদত্ত কর হচ্ছে আবগারি শুল্ক।
ঘ উদ্দীপকে মি. এমরান একজন শিল্পপতি যিনি আবগারি শুল্কের আওতায় বিপুল পরিমাণ কর প্রদান করেন। অথচ তার প্রতিবেশী আরও কয়েকজন শিল্পপতি আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে নিয়োজিত ও বিপুল সম্পদের মালিক হলেও কর ফাঁকি দেন। অথচ সবার নিয়মমতো কর প্রদানেই দেশ আত্মনির্ভরশীল হয়। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল জনকল্যাণকামী রাষ্ট্র। দেশটি উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথের যাত্রী। বাংলাদেশ সরকার দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, দেশ রক্ষা ও পরিচালনা এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য প্রতিবছর প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। গণতন্ত্রের উন্মেষ ও উন্নয়নের ফলে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের পরিধি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অউন্নয়ন বাজেটের পাশাপাশি দেশকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার জন্য উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ এবং খাতও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিকল্পিত উপায়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন করে দেশকে আত্মনির্ভরশীল করতে তাই প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সরকারের আয়ের উৎস কর ও রাজস্ব খাতগুলোর বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এমতাবস্থায় দেশের জনগণের কর ফাঁকি দেওয়া উন্নয়নের পথে মারাত্মক অন্তরায়। নাগরিক হিসেবে সবারই উচিত নিয়মমাফিক কর দেওয়া। বস্তুত এ প্রেক্ষিতেই এ কথা সমর্থনযোগ্য যে, মি. এমরান সাহেবের ন্যায় প্রতিবেশী ও অন্যান্যরাও সঠিকভাবে কর প্রদান করলে তথা দেশের নাগরিক কর প্রদানে সচেতন হলে দেশ আত্মনির্ভরশীল হবে।

প্রশ্ন- ৩  বাংলাদেশ সরকারের বাজেট

২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে সরকারি আয় ও ব্যয়ের পরিমাণ নিচে দেওয়া হলো :
মোট আয় ১,৮২,৯৫৪ কোটি টাকা
মোট ব্যয় ২,৫০,৫০৬ কোটি টাকা
আয়ের খাতসমূহ : এনবিআর কর রাজস্ব ১,৪৯,৭২০ কোটি টাকা
এনবিআর বহিভর্‚ত কর রাজস্ব ৫,৫৭২ কোটি টাকা
করবহিভর্‚ত রাজস্ব ২৭,৬৬২ কোটি টাকা
[খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, খুলনা]
ক. বাজেট কী? ১
খ. বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের প্রধান খাতটি ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটটির প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. সারণিতে প্রদর্শিত আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান পূরণে করণীয় কী হতে পারে? বিশ্লেষণ কর। ৪

ক বাজেট হলো সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের সুবিন্যস্ত হিসাব।
খ বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের প্রধান খাত হলো জনপ্রশাসন খাত। রাষ্ট্রের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সরকারকে জনপ্রশাসন পরিচালনা করতে হয়। প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অফিস পরিচালনাবাবদ সরকারকে যে অর্থ ব্যয় করতে হয় তা এ খাতের অন্তর্ভুক্ত। ২০১১-১২ অথবছরে এ খাতে সরকারের ব্যয় হয় ৫৩,২৩৭ কোটি টাকা।
গ উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটটি ঘাটতি বাজেট। কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, সরকারের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি নির্ধারিত হলে তা ঘাটতি বাজেট অর্থাৎ ঘাটতি বাজেট = (মোট আয়-মোট ব্যয়) ০ = মোট আয়  মোট ব্যয়। ঘাটতি বাজেটের এ বৈশিষ্ট্য বিচারে উদ্দীপকের বাজেটটি ঘাটতি বাজেট। উদ্দীপকের ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের বাজেটের খণ্ডাংশ দেখানো হয়েছে। বাজেটটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাজেটটিতে মোট আয় ১,৮২,৯৫৪ কোটি টাকা এবং মোট ব্যয় ২,৫০,৫০৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে ঘাটতি (২,৫০,৫০৬-১,৮২,৯৫৪) = ৬৭,৫৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ বাজেটটিতে মোট আয় অপেক্ষা মোট ব্যয় বেশি ধরা হয়েছে। তাই বাজটটি ঘাটতি বাজেট।
ঘ সারণিতে প্রদর্শিত সরকারি আয় ও ব্যয়ের ঘাটতি পূরণের জন্য বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশ আর্থসামাজিক উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্যবিমোচন, দেশরক্ষা ও পরিচালনা এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। সরকার কর রাজস্ব ও করবহিভর্‚ত খাত থেকে এ অর্থ সংগ্রহ করে। কিন্তু জাতীয় উন্নয়নের জন্য আয়ের তুলনায় বেশি ব্যয় নির্ধারণ করলে অর্থাৎ ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন করলে বিকল্প খাত থেকে সরকারকে ঘাটতি পূরণ করতে হয়। উদ্দীপকে বাজেটে যে ৬৭,৫৫২ কোটি টাকার ঘাটতি লক্ষ করা যায় তা পূরণের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর রাজস্ব ও করবহিভর্‚ত রাজস্ব ছাড়া আরো কিছু খাত চি‎িহ্নত করে। যেমন জনসাধারণের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ, নতুন অর্থ সৃষ্টি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হতে ঋণ গ্রহণ করতে পারে। এসব অভ্যন্তরীণ উৎস ছাড়া বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য গ্রহণ করেও সরকার এ ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করবে। উপরিউক্ত আলোচনায় বলা যায়, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বাংলাদেশ সরকার বাজেটের ঘাটতি পূরণ করবে।
 মাস্টার ট্রেইনার প্রণীত সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন- ৪  বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসসমূহ

সোহান বসুন্ধরা শপিংমল থেকে একটি প্যান্ট ক্রয় করে। প্যান্টের মূল্য ৪৭০০ টাকা লেখা থাকলেও দোকানি তার নিকট হতে ৪৮৫০ টাকা রাখে। অতিরিক্ত ১৫০ টাকা নেওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে দোকানি জানায় এটি সরকারের প্রাপ্য টাকা। বিষয়টি বাড়িতে এসে বাবাকে জানালে তার বাবা বলেন যে, তিনিও তার বেতনের একটি অংশ সরকারকে প্রদান করেন।
ক. ঠঅঞ কী? ১
খ. বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে কেন? ২
গ. উদ্দীপকের সোহানের প্রদত্ত বাড়তি অর্থ কী ধরনের কর ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের বৃহৎ দুটি খাতের উল্লেখ আছেÑ বিশ্লেষণ কর। ৪

ক ঠঅঞ হলো উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরে সংযোজিত মূল্যের ওপর আরোপিত কর।
খ মানবসম্পদ তৈরির জন্য বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। দেশের উন্নয়নের জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন দক্ষ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। প্রাথমিক শিক্ষার স¤প্রসারণ ও গুণগত মান উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার, নারী শিক্ষার প্রসার, বৃত্তির সংখ্যা ও হার বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্র বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব। আর এজন্যই সরকারকে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়।
গ উদ্দীপকে সোহানের প্রদত্ত বাড়তি অর্থ হলো মূল্য সংযোজন কর। একটি দ্রব্য উৎপাদন করতে গেলে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চ‚ড়ান্ত দ্রব্য উৎপাদন পর্যন্ত কয়েকটি স্তর অতিক্রম করতে হয়। উৎপাদনের এসব স্তরে যে মূল্য সংযোজিত হয় তার ওপর নির্দিষ্ট হারে যে কর আরোপ করা হয় তাকে মূল্য সংযোজন কর বা ঠঅঞ (ঠধষঁব অফফবফ ঞধী) বলা হয়। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশ সরকারও ১৯৯১-৯২ সাল থেকে এ কর চালু করেছে। উদ্দীপকের সোহান এ করই প্রদান করেছে। উদ্দীপকের সোহান বসুন্ধরা শপিং মল হতে যে প্যান্টটি ক্রয় করেছে তা একটি চ‚ড়ান্ত পণ্য। এ পণ্যটি অনেকগুলো উৎপাদন স্তর অতিক্রম করে এ স্তরে এসেছে। এর সাথে অতিরিক্ত মূল্য সংযোজিত হয়েছে। আর এ অতিরিক্ত মূল্যের ওপর বাংলাদেশ সরকার সাধারণত মূল্য সংযোজন কর আরোপ করে। তাই বলা যায়, সোহানের প্রদত্ত অতিরিক্ত ১৫০ টাকা হলো মূল্য সংযোজন কর।
ঘ উদ্দীপকে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের বৃহৎ দুটি খাত আয় কর ও মূল্য সংযোজন করের উল্লেখ আছে। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ সাধন, প্রশাসন পরিচালনা, দেশরক্ষা ইত্যাদি কাজে অনেক অর্থ ব্যয় করে। এই ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার যেসব উৎস হতে অর্থ আয় করে তার মধ্যে আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর সর্ব বৃহৎ দুটি খাত। উদ্দীপকে এ দুটি খাতই পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকের সোহান প্যান্ট ক্রয় করে মূল্য সংযোজন কর প্রদান করেছে। এটি বাংলাদেশ সরকারের সর্ববৃহৎ খাত। আমদানিকৃত পণ্য ও স্থায়ীভাবে উৎপাদিত দ্রব্যের ওপর এ কর আরোপ করে বাংলাদেশ সরকার ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫৫,০১৩ কোটি টাকা আয় করেছে। এ খাতের আয় ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা আছে। আবার সোহানের বাবা তার বেতনের একটি অংশ বাংলাদেশ সরকারকে প্রদান করেন। অর্থাৎ তিনি আয়কর প্রদান করেন। এটিও বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম আয়ের খাত। এ খাত হতে সরকার ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫৬,০৮৬ কোটি টাকা আয় করেছে। উপরিউক্ত আলোচনায় বলা যায়, বাংলাদেশ সরকার যেসব খাত হতে আয় করে তার মধ্যে সর্ববৃহৎ দুটি খাত উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়।

প্রশ্ন- ৫  বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসসমূহ

মহিউদ্দিন খান সাহেব একটি অটোমোবাইলের মালিক। তিনি জার্মানি, আমেরিকা ও ইংল্যান্ড থেকে গাড়ি আমদানি করেন। গাড়িগুলোর দাম কম হলেও বাংলাদেশ সরকারকে একটি বিরাট অঙ্কের টাকা দিতে হয় বলে তার আমদানিকৃত গাড়ির দাম বেড়ে যায়। আর তার ভাইয়ের একটি সিগারেট কোম্পানি আছে। তিনিও বছরে একটি বড় অঙ্কের কর প্রদান করেন।
ক. বাংলাদেশ কোন ধরনের দেশ? ১
খ. রেলওয়ে খাতে মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে কেন? ২
গ. মহিউদ্দিন খান সাহেবের প্রদত্ত করটি কী ধরনের কর? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. সামাজিক কারণে তার ভাইয়ের উৎপাদিত পণ্যের ওপর করারোপ করা হয়Ñ বিশ্লেষণ কর। ৪

ক বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ।
খ আধুনিকায়নের কারণে রেলওয়ে খাতে মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ সরকার রেলওয়ে যাত্রীবহন ও দ্রব্যসামগ্রী পরিবহনের ভাড়া বাবদ আয় করে। গত কয়েক বছর ধরে রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। রেলওয়ে খাতে আধুনিকায়ন করা হয়েছে এবং রেলওয়ে সেবাও স¤প্রসারণ করা হয়েছে। তাই এটি এখন আয়ের বড় উৎসে পরিণত হয়েছে।
গ মহিউদ্দিন খান সাহেবের প্রদত্ত করটি আমদানি শুল্ক। দেশের চাহিদা পূরণের জন্য অনেক পণ্য ও সেবা বিদেশ হতে আমদানি করতে হয়। এসব আমদানিকৃত পণ্য ও সেবার ওপর কর ধার্য হয়। এসব করকে আমদানি শুল্ক বলা হয়। এটি বাংলাদেশ সরকারের আয়ের অন্যতম উপায়। উদ্দীপকের আমদানিকারক মহিউদ্দিন সাহেব এ করই প্রদান করেন। তিনি জার্মানি, আমেরিকা ও ইংল্যান্ড হতে গাড়ি আমদানি করে বিক্রি করেন। তার এসব আমদানিকৃত গাড়ির ওপর তিনি সরকারকে বিরাট অঙ্কের টাকা কর হিসেবে প্রদান করেন যা আমদানি শুল্ক নামে পরিচিত। সুতরাং মহিউদ্দিন খান সাহেবের প্রদত্ত করটি আমদানি শুল্ক।
ঘ রাজস্ব আদায় ছাড়াও সামাজিক ক্ষতির দিকটি বিবেচনা করে মহিউদ্দিন খান সাহেবের ভাইয়ের উৎপাদিত সিগারেটের ওপর আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের ওপর যে কর আরোপ করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। চা, সিগারেট, চিনি, তামাক, কেরোসিন, ওষুধ, স্পিরিট, দিয়াশলাই প্রভৃতি দ্রব্যের ওপর এ শুল্ক ধার্য করা হয়। এ উৎস হতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার ১২৫১ কোটি টাকা আয় করে। শুধু রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য এ কর আরোপ করা হয় না। বরং এসব ক্ষতিকর দ্রব্যের ব্যবহার হ্রাস করে সামাজিক কল্যাণের উদ্দেশ্যেও এ কর আরোপ করা হয়। উদ্দীপকের মহিউদ্দিন খান সাহেবের ভাইয়ের একটি সিগারেট কোম্পানি আছে। তার কোম্পানির উৎপাদিত সিগারেট মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য তথা গোটা সমাজের জন্যই ক্ষতিকর। এজন্য দ্রব্যটি যত কম ব্যবহার করা যায়, ততই সমাজের জন্য মঙ্গল। এমতাবস্থায় এই ক্ষতিকর সিগারেটের ওপর কর আরোপ করলে এর দাম বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবহার হ্রাস পাবে। সরকার তার কাছ থেকে কর নিয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করলেও মূলত সামাজিক কল্যাণের কথা চিন্তা করে তার উৎপাদিত পণ্যের ওপর আবগারি শুল্ক ধার্য করেছে। পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক কল্যাণের উদ্দেশ্যেই উদ্দীপকের মহিউদ্দিন খান সাহেবের ভাইয়ের উৎপাদিত সিগারেটের ওপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।

প্রশ্ন- ৬  বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের খাতসমূহ

উদ্দীপক-১ : হারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি অনেক পুরাতন। বর্ষার সময় বৃষ্টির পানি পড়ে। তাই প্রধান শিক্ষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ হয় কম্পিউটার ক্রয় এবং নতুন ভবন তৈরির জন্য।
উদ্দীপক-২ : জমির মিয়া একজন হতদরিদ্র কৃষক। তিনি তার ২বিঘা জমিতে ঠিকমতো চাষাবাদ করতে পারেন না। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরকারিভাবে সার-ওষুধের ব্যবস্থা করে দেন।
ক. আমাদের দেশে বাজেটকে সাধারণত কয় ভাগে বিভক্ত করে উপস্থাপন করা হয়? ১
খ. মূলধন বাজেটের মূল লক্ষ্য কী? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপক ১-এ চিত্রিত সরকারি ব্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকের ব্যয়ের খাতসমূহে পর্যাপ্ত বরাদ্দের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনেতিক উন্নয়ন সম্ভব কি? তোমার মতামত দাও। ৪

ক আমাদের দেশে বাজেটকে সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত করে উপস্থাপন করা হয়।
খ মূলধন বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। সরকারের মূলধন আয় ও ব্যয়ের হিসাব যে বাজেটে দেখানো হয় তাকে মূলধন বাজেট বলা হয়। এ বাজেটের মাধ্যমে দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, মহিলা ও যুব উন্নয়ন, পরিবহন ও যোগাযোগ ইত্যাদি খাতের উন্নয়নে এ বাজেট প্রণীত হয়। সর্বোপরি দেশ ও জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নই মূলধন বাজেটের মূল লক্ষ্য।
গ উদ্দীপক ১-এ চিত্রিত শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সরকারের ব্যয়ের কারণ হলো মানবসম্পদ তৈরি করা। বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল জনকল্যাণকামী রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও প্রযুক্তির উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। একমাত্র এ খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ দিলেই কেবল উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জনসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার এ লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা স¤প্রসারণ ও গুণগত মান উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার, নারী শিক্ষার উন্নয়ন, ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদানের জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে। উদ্দীপক ১-এও এ দিকটিই লক্ষণীয়। উদ্দীপকের হারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ক্রয় ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সরকার অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। এটি বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত। সরকারের এ ব্যয়ের ফলে ঐ এলাকায় শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাবে। ফলে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ তৈরি হবে। সুতরাং উদ্দীপক-১-এর সরকারি ব্যয়ের কারণ হলো দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা।
ঘ উদ্দীপকের শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের মাধ্যমে বাংলাদেশের কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশটির অর্থনীতি পুরোপুরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এজন্য কৃষি খাতের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রত্যাশা করা বৃথা। তাছাড়া বাংলাদেশ একটি জনবহুল রাষ্ট্র হলেও দক্ষ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে ওঠেনি। এমতাবস্থায় দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে উদ্দীপকের খাতদ্বয়ে পর্যাপ্ত বাজেট জরুরি। উদ্দীপক ১-এ সরকারের শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের ব্যয় দেখানো হয়েছে। এখানে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিলে দেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাবে। ফলে জনসংখ্যা বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হবে। আর দক্ষ জনগোষ্ঠী দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করতে পারবে। অন্যদিকে উদ্দীপক ২-এ সরকারের কৃষি খাতের ব্যয় ফুটে ওঠেছে। এ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করলে কৃষির আধুনিকায়ন সম্ভব হবে। দরিদ্র কৃষকদের বিনামূল্যে সার-ওষুধ ও ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করলে দেশের সার্বিক উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষি ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।

প্রশ্ন- ৭  বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের খাতসমূহ : সামাজিক নিরাপত্তা,
দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসংস্থান

জমিরন বিবির স্বামী মারা গেছেন ৮৮-’র বন্যার সময়। তারপর থেকে তিনি এক ছেলেকে নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করেন। মানুষের বাসায় কাজ করে এবং সরকার থেকে মাসিক বিধবা ভাতা দিয়ে কোনোমতে দুবেলা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তার ছেলে সোহেল কাজ করার উপযোগী হলেও কাজ পায় না। অবশেষে স্থানীয় চেয়ারম্যান তাকে একটি সরকারি প্রকল্পে কাজের বন্দোবস্ত করে দেন। এখন সোহেল তার মাকে নিয়ে ভালোই আছে।
ক. ঠঅঞ-এর পূর্ণরূপ কী? ১
খ. আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয় কেন? ২
গ. উদ্দীপকে বাংলাদেশ সরকারের কোন কোন ব্যয়ের খাতের চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উক্ত খাতদ্বয়ে ব্যয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারেÑ বিশ্লেষণ কর। ৪

ক ঠঅঞ-এর পূর্ণরূপ হলো ঠধষঁব অফফবফ ঞধী।
খ রাজস্ব বৃদ্ধি ও ক্ষতিকর দ্রব্যের ভোগ হ্রাস করার জন্য আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের ওপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। বাংলাদেশে প্রধানত চা, সিগারেট, চিনি, তামাক, কেরোসিন, ওষুধ, স্পিরিট, দিয়াশলাই ইত্যাদি পণ্যের ওপর এ কর ধার্য করা হয়। এসব পণ্য ক্ষতিকর। তাই এসব পণ্যের ব্যবহার হ্রাস করার উদ্দেশ্যেই মূলত আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়।
গ উদ্দীপকে বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ এবং দারিদ্র্যবিমোচন ও কর্মসংস্থান খাতদ্বয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশ সরকার অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবন ধারণের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী যেমন : বয়স্কভাতা কর্মসূচি, বিধবা ভাতা, এসিডদগ্ধ মহিলা ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন, মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মানীভাতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ ব্যয় বরাদ্দ রাখে। আবার বৃহৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যবিমোচন ও তাদের কর্মসংস্থানের জন্যও সরকার বাজেটের একটি বৃহৎ অংশ ব্যয় করে। উদ্দীপকে এ দুটি খাতেরই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। উদ্দীপকের বিধবা জমিরন বিবি প্রতি মাসে বিধবাভাতা পান। তার মতো বিধবাদের দেওয়া এ অর্থ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতের অন্তর্ভুক্ত। আর তার ছেলে বেকার অবস্থায় দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন ধারণ করছিল। পরবর্তীতে সে সরকারের একটি প্রকল্পে কাজ পেয়ে তার বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূর করতে সমর্থ হয়। তার মতো বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকার যে ব্যয় করে তা দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান খাতের মধ্যে পড়ে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ এবং দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান ব্যয়ের খাতদ্বয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে।
ঘ উদ্দীপকে চিত্রিত সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ এবং দারিদ্র্যবিমোচন ও কর্মসংস্থান খাতদ্বয়ে পর্যাপ্ত ব্যয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন। যেসব রাষ্ট্র জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে তাদের কল্যাণকামী রাষ্ট্র বলা হয়। এসব রাষ্ট্র শুধু শান্তি-শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, কর আদায় করা ইত্যাদি কাজে সম্পৃক্ত থাকে না, বরং জনগণের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায়। উদ্দীপকের খাতদ্বয়ে ব্যয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে জনগণের সার্বিক উন্নয়ন করতে পারে। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশে মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে এবং বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে দিনাতিপাত করছে। এমতাবস্থায় উদ্দীপকে পরিলক্ষিত সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ এবং দারিদ্র্যবিমোচন ও কর্মসংস্থান খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করা জরুরি। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে এনে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা দরকার। ন্যাশনাল সার্ভিসের মতো দারিদ্র্যবিমোচন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য দূরীকরণ করা সম্ভব। ফলে বাংলাদেশ জনগণের কল্যাণ সাধনে সক্ষম হবে। পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ এবং দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান খাতের পরিধি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।

প্রশ্ন- ৮  বাজেটের প্রকারভেদ

নিচে ছকটি দেখে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
বাংলাদেশ সরকারের ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটের খণ্ডাংশ
ক খ
খাতের নাম ব্যয়ের পরিমাণ (কোটি) খাতের নাম ব্যয়ের পরিমাণ (কোটি)
শিক্ষা ১৮৭৬৯ পরিবহন ও যোগাযোগ ১০৪৮৬
জনপ্রশাসন ৫৩২৩৭ কৃষি ১৪৩৫৩
জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ৮৬০২ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ৭৯৫৭
জনস্বাস্থ্য ৮১৬৯ স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ১২০০৯

ক. কত সাল থেকে ঠঅঞ চালু হয়েছে? ১
খ. রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন? ২
গ. আয়-ব্যয়ের প্রকৃতির বিচারে উদ্দীপকে ‘ক’ পাশের খাতগুলো কোন বাজেটের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ‘ক’ অপেক্ষা ‘খ’ পাশের বাজেট জরুরিÑ বিশ্লেষণ কর। ৪

ক ১৯৯১-৯২ সাল থেকে ঠঅঞ চালু হয়েছে।
খ গণতন্ত্রের উšে§ষ ও উন্নয়নের ফলে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের পরিধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে অধিকাংশ রাষ্ট্রই গণতান্ত্রিক এবং উন্নয়নশীল কল্যাণকামী রাষ্ট্র। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্যবিমোচন, দেশ রক্ষা ও পরিচালনা এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণসহ সরকারের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গ আয়-ব্যয়ের প্রকৃতি বিচারে উদ্দীপকের ‘ক’ পাশের খাতগুলো চলতি বাজেটের অন্তর্ভুক্ত। যে বাজেটে সরকারের চলতি আয় ও চলতি ব্যয় দেখানো হয় তাকে চলতি বাজেট বলা হয়। কর রাজস্ব ও করবহিভর্‚ত রাজস্বের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ সরকারের প্রশাসনিক কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও দেশ রক্ষার জন্য ব্যয় করা হয়। এ বাজেটের ব্যয়ের খাতগুলোর মধ্যে শিক্ষা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উল্লেখযোগ্য। উদ্দীপকে ‘ক’ পাশে বাংলাদেশের ২০১১-১২ অর্থবছরের চলতি বাজেটের অন্তর্ভুক্ত ব্যয়ের খাতগুলো পরিলক্ষিত হয়। ছকের ‘ক’ পাশে শিক্ষা, জনপ্রশাসন, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে। আর এ খাতগুলো হলো সরকারের চলতি ব্যয়। প্রতিবছরই সরকারকে এ খাতে ব্যয় করতে হয়। দেশ পরিচালনার জন্য এগুলো অপরিহার্য। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ‘ক’ পাশের খাতগুলো আয়-ব্যয়ের প্রকৃতি বিচারে চলতি বাজেটের মধ্যে পড়ে।
ঘ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে ‘ক’ পাশের চলতি বাজেটের চেয়ে ‘খ’ পাশের মূলধন বাজেট অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। সরকারের মূলধন আয় ও ব্যয়ের হিসাব যে বাজেটে দেখানো হয় তাকে মূলধন বাজেট বলা হয়। এ ধরনের বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো দেশের এবং জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধন করা। এ লক্ষ্যে সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস হতে অর্থসংস্থান করে। এ বাজেটের আওতায় কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, মহিলা ও যুব উন্নয়ন, পরিবহন ও যোগাযোগ, পল্লি উন্নয়ন ইত্যাদি খাতে অর্থ ব্যয় করা হয়। আর একটি দেশের কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এ খাতগুলোর উন্নয়ন জরুরি। ছকের ‘ক’ পার্শ্বে চলতি বাজেট এবং ‘খ’ পার্শ্বে মূলধন বাজেট দেখানো হয়েছে। চলতি বাজেট শুধুমাত্র সরকারের প্রশাসনিক কার্য পরিচালনা ও দেশরক্ষার জন্য প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু মূলধন বাজেট দেশের জনগণের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের উন্নয়নের জন্য প্রণীত হয়। উদ্দীপকের ‘খ’ পার্শ্বের পরিবহন ও যোগাযোগ, কৃষি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন খাতগুলো অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। এ জন্য এ খাতগুলোর উন্নয়ন অত্যাবশ্যক। আলোচনা থেকে বলা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে উদ্দীপকের চলতি বাজেট অপেক্ষা মূলধন বাজেট অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন- ৯  বাংলাদেশ সরকারের বাজেট

নিচের ছকটি দেখে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
এক নজরে বাজেট ২০১৩-১৪
বিবরণ ব্যয়ের পরিমাণ (কোটি টাকা)
মোট আয় ১,৭৪,১২৯
মোট ব্যয় ২,২২,৪৯১
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ৬৫,৮৭০
জিডিপির শতকরা হার -৪.১

ক. ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় কত? ১
খ. বাংলাদেশে অনুন্নয়নমূলক খাতে সরকারি ব্যয় হ্রাস করা উচিত কেন? ২
গ. উদ্দীপকের বাজেটের সাথে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটের পরিবর্তনের ধারা ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উক্ত ছকের বাজেটটি কি মঙ্গলজনক? মতামত দাও। ৪

ক ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় ১২,২৪০ কোটি টাকা।
খ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে অনুন্নয়নশীল খাতে ব্যয় হ্রাস করা উচিত। সরকারি হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে অনুন্নয়নমূলক ব্যয়ের খাত ৫৫টি এবং উন্নয়নমূলক ব্যয়ের খাত ১৮টি। ফলে উন্নয়নের গতি আশানুরূপ হচ্ছে না। এজন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি করা দরকার। আর তাই উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় হ্রাস করা উচিত।
গ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাজেটের তুলনায় উদ্দীপকের ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটটির আয়, ব্যয় ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দের পরিমাণ বেশি। বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ। অন্যান্য দেশের ন্যায় এদেশেও প্রতি বছর সরকারের আয়-ব্যয়ের প্রেক্ষিতে বাজেট প্রণয়ন করা হয়। দিন দিন বাজেটের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছকের বাজেটের সাথে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটের তুলনা করলে পরিবর্তনের এ ধারাটি সহজে অনুমান করা যায়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে মোট আয় ছিল ১,৭৪,১২৯ কোটি টাকা, মোট ব্যয় ছিল ২,২২,৪৯১ কোটি টাকা এবং ঘাটতি ছিল ৫৫,০৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এটি ঘাটতি বাজেট। অন্যদিকে ছকের ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটটিতে মোট আয় ছিল ২,৪৮,২৬৮ কোটি টাকা, মোট ব্যয় ছিল ৩,৪০,৬০৫ কোটি টাকা এবং ঘাটতি ছিল ৯২,৩৩৭ কোটি টাকা। এটিও ঘাটতি বাজেট। দেখা যাচ্ছে, এ বাজেটে আয়, ব্যয় ও ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং দিন দিন বাংলাদেশের বাজেটের আয়তন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঘ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য উদ্দীপকের ঘাটতি বাজেটটি মঙ্গলজনক বলে আমি মনে করি। কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলা হয়। এ বাজেটের ঘাটতি দূর করার জন্য সরকার জনসাধারণের কাছ থেকে ঋণ, নতুন অর্থ সৃষ্টি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ, বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য গ্রহণ করে। ফলে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি সহজতর হয়। উন্নয়নশীল দেশে এ বাজেট তাই মঙ্গলজনক। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেও তার যথাযথ ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। আবার অধিকাংশ লোক বেকার, মাথাপিছু আয় কম। জীবনযাত্রার নি¤œমান ইত্যাদি সমস্যা বিদ্যমান। এমতাবস্থায় প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির জন্য ব্যয় বৃদ্ধি করা জরুরি। এক্ষেত্রে ঘাটতি বাজেট প্রণীত হলে গুরুত্বপূর্ণ খাতসমূহে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়। পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের সার্বিক প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকের ন্যায় ঘাটতি বাজেট মঙ্গলজনক।

প্রশ্ন- ১০  আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যের ভিত্তিতে বাজেট

নিচের ছকটি দেখে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
‘ক’ রাষ্ট্রের বাজেট
বিবরণ পরিমাণ (মার্কিন ডলার)
মোট আয় ৯০,৫৭০
মোট ব্যয় ৯০,৫৭০

‘খ’ রাষ্ট্রের বাজেট
বিবরণ পরিমাণ (মার্কিন ডলার)
মোট আয় ৬০,৬৭০
মোট ব্যয় ৭৫,৫৯০

ক. বাংলাদেশে কোন মাসে বাজেট প্রণীত হয়? ১
খ. অউন্নয়ন বাজেটের মূল লক্ষ্য কী? ব্যাখ্যা কর। ২
গ. ‘ক’ রাষ্ট্রের বাজেটটি কী ধরনের বাজেট? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকের রাষ্ট্রদ্বয়ের বাজেটের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য কোন বাজেটকে উপযুক্ত বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও। ৪

ক বাংলাদেশের জুন মাসে বাজেট প্রণীত হয়।
খ আউন্নয়ন বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো দেশ রক্ষা ও দেশের প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা। বাজেটের যে অংশে সরকারের দৈনন্দিন চিরাচরিত আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয় এবং বাজেটের ব্যয়ের খাতগুলো সরাসরি উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত নয় তাকে অউন্নয়ন বাজেট বলা হয়। অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বা উন্নয়নের সাথে এর তেমন যোগসূত্র নেই। বরং সরকারের চলতি আয়-ব্যয়গুলোর জন্য এ বাজেট প্রণীত হয়।
গ আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যের ভিত্তিতে ‘ক’ রাষ্ট্রের বাজেটটি হলো সুষম বাজেট। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সরকারের প্রত্যাশিত আয় ও ব্যয়ের পরিমাণ সমান হলে তাকে সুষম বাজেট বলা হয়। সূত্রের সাহায্যে বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যায়।
সুষম বাজেট = মোট আয় – মোট ব্যয় = ০
অর্থাৎ সম্ভাব্য আয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে আয় ও ব্যয়ের পরিমাণ সমান হয়। উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রের বাজেটটি এ রকম একটি বাজেট। উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রের বাজেটের মোট আয় ও মোট ব্যয়ের পরিমাণ যথাক্রমে ৯০,৫৭০ কোটি মার্কিন ডলার এবং ৯০,৫৭০ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থাৎ দেশটির আয় ও ব্যয় সমান। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যের ভিত্তিতে ‘ক’ দেশটির বাজেটটিকে সুষম বাজেট বলে ধরে নেওয়া যায়।
ঘ উদ্দীপকের রাষ্ট্রদ্বয়ের বাজেটের মধ্যে ‘ক’ রাষ্ট্রের ঘাটতি বাজেটটি বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত বলে আমি মনে করি। কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলা হয়। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির জন্য এ বাজেট সহায়ক। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্যও এ বাজেট মঙ্গলজনক। উদ্দীপকের ‘খ’ রাষ্ট্রের বাজেটে ঘাটতি রয়েছে। এ ধরনের বাজেট বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কম মাথাপিছু আয়, অধিক বেকারত্ব ভ‚মি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারের অভাব, জনগণের জীবনযাত্রার নি¤œমান, অনুন্নত আর্থসামাজিক অবকাঠামো ইত্যাদি। এমতাবস্থায় ঘাটতি বাজেট প্রণীত হলে ঘাটতি দূর করার জন্য সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ঋণ নেয়। ফলে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়। এতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন সহজতর হয়। কিন্তু ‘ক’ রাষ্ট্রের সুষম বাজেট প্রণীত হলে বাংলাদেশ সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে এবং জরুরি অবস্থা মোকাবিলা করতে পারবে না। আলোচনায় এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, বাংলাদেশের জন্য ঘাটতি বাজেটই বেশি উপযোগী।

প্রশ্ন- ১১  বাংলাদেশ সরকারের বাজেট : ঘাটতি বাজেট

‘ক’ একটি উন্নয়নশীল দেশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য বাজেট ঘোষণা করেছে দেশটির অর্থমন্ত্রী। মোট রাজস্ব আয় ৬৫,০০০ কোটি ডলার এবং মোট ব্যয় ৭৫,০০০ কোটি ডলার ধরা হয়েছে।
ক. আয়কর কী? ১
খ. মূল্য সংযোজন কর বলতে কী বোঝায়? ২
গ. উদ্দীপকে ‘ক’ দেশটির বাজেট কী ধরনের বাজেট? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. দেশটির জন্য বাজেটটি কি মঙ্গলজনক? তোমার মতামত দাও। ৪

ক আয়কর হলো ব্যক্তির আয়ের ওপর ধার্যকৃত কর।
খ মূল্য সংযোজন কর বলতে দ্রব্য বা সেবা উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরে সংযোজিত মূল্যের ওপর আরোপিত করকে বোঝায়। উৎপাদন ক্ষেত্রে একটি পণ্য উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল থেকে চ‚ড়ান্ত দ্রব্য উৎপাদন পর্যন্ত কয়েকটি স্তর অতিক্রম করতে হয়। উৎপাদনের এসব স্তরে দ্রব্যের সাথে মূল্য সংযোজিত হয়। আর এ মূল্যের ওপর বাংলাদেশ সরকার ১৯৯১-৯২ অর্থবছর থেকে কর আরোপ করেছে। আর এ করকেই মূল্য সংযোজন কর (ঠধষঁব অফফবফ ঞধী-ঠধঃ) বলা হয়।
গ উদ্দীপকের ‘ক’ দেশটির বাজেট ঘাটতি বাজেট। কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলা হয়। অর্থাৎ, মোট আয় < মোট ব্যয়। এক্ষেত্রে সরকারের মোট ব্যয় আয়ের পরিমাণকে অতিক্রম করে। উদ্দীপকের ‘ক’ দেশটিতে এ ধরনেরই একটি বাজেট লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের উন্নয়নশীল ‘ক’ রাষ্ট্রে অর্থমন্ত্রী বাজেট ঘোষণা করে। বাজেটটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সরকারের মোট আনুমানিক ব্যয় মোট আয়কে অতিক্রম করে।
অর্থাৎ, মোট আয় < মোট ব্যয়।
= ৬৫,০০০ কোটি ডলার < ৭৫,০০০ কোটি ডলার।
এখানে মোট ঘাটতি হলো (৭৫,০০০  ৬৫,০০০) = ১০,০০০ কোটি ডলার।
সুতরাং আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যের ভিত্তিতে উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রের বাজেটটি হলো ঘাটতি বাজেট।
ঘ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রের বাজেটটি অত্যন্ত মঙ্গলজনক বলে আমি মনে করি। একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে ঘাটতি বাজেট প্রণীত হলে সরকার বাড়তি অর্থ সংগ্রহের জন্য বিকল্প পন্থা অবলম্বন করে। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি করে উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হয়। উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রের জন্যও তাই ঘাটতি বাজেট কল্যাণকর। উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের অভাব, মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান নি¤œ রয়েছে। তাই এসব ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য বেশি বেশি উন্নয়নমূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া জরুরি। এমতাবস্থায় আয়ের তুলনায় দেশটির ব্যয় বেশি ধরা হলে উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বেশি গ্রহণ করা সম্ভব হবে। সরকারও বিকল্প পন্থা যেমন জনগণের কাছ থেকে ঋণ নতুন অর্থ সৃষ্টি, বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ঘাটতি অর্থ সংগ্রহ করবে। ফলে দেশটিতে বেশি বেশি উন্নয়ন হবে। পরিশেষে বলা যায়, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ‘ক’ দেশের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং উন্নয়ন করার জন্য ঘাটতি বাজেটই উপযুক্ত বলে আমি মনে করি।
প্রশ্ন- ১২  বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসসমূহ

অপু এবং দিপু ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপুর বাবা বিদেশি গাড়ির আমদানিকারক। অপুর বাবা এই বছর সর্বোচ্চ করদাতার পুরস্কার পেয়েছেন। দিপুর বাবা একটি ব্যাংকের জিএম পদে কর্মরত। দিপুর বাবাও প্রতিবছর সরকারকে কর প্রদান করেন।
ক. ঊীপরংব উঁঃরবং এর বাংলা প্রতিশব্দ কী? ১
খ. বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাতটি ব্যাখ্যা কর। ২
গ. দিপুর বাবা সরকারকে কোন ধরনের ট্যাক্স দেন? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. অপুর বাবা সরকারকে যে ট্যাক্স দেন তা সরকারের আয়ের অন্যতম উৎস-ব্যাখ্যা কর। ৪

ক ঊীপরংব উঁঃরবং-এর বাংলা প্রতিশব্দ আবগারি শুল্ক।
খ বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাতটি হলো শিক্ষা। শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে সরকারকে সাম্প্রতিককালে এ খাতে প্রচুর ব্যয় করতে হচ্ছে। শিক্ষার স¤প্রসারণ ও গুণগত মান উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার, নারী শিক্ষার উন্নয়ন, ছাত্রছাত্রীদের মেধাবিকাশে বৃত্তির সংখ্যা ও হার বৃদ্ধি এবং উচ্চ শিক্ষার প্রসারে সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে।
গ দিপুর বাবা সরকারকে যে ট্যাক্স দেন তা হলো আয়কর। বাংলাদেশ সরকার দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, ভৌত-অবকাঠামো নির্মাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দারিদ্র্যবিমোচনের লক্ষ্যে বিপুল অর্থ ব্যয় করে থাকে। এ ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে প্রচুর আয় করতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস আয়কর। জনসাধারণের ব্যক্তিগত আয়ের উপর যে কর ধার্য করা হয় তাকে আয়কর বলা হয়। বাংলাদেশে যাদের আয় একটি নির্দিষ্ট সীমার ঊর্ধ্বে; পুরুষদের ক্ষেত্রে বার্ষিক ২,৫০,০০০ টাকা, মহিলাদের ক্ষেত্রে বার্ষিক ৩,০০,০০০ টাকা এবং প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বার্ষিক ৩,৭৫,০০০ টাকা তাদের নিকট থেকে আয়কর আদায় করা হয়। যেহেতু দিপুর বাবা একটি ব্যাংকের জিএম পদে কর্মরত তাই তিনি সরকারকে যে কর প্রদান করেন তা হলো আয়কর।
ঘ অপুর বাবা সরকারকে যে ট্যাক্স দেন সেটি হলো আমদানি শুল্ক। সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে আয় করে। বাংলাদেশ সরকারের আয়ের প্রধান উৎস হলো আমদানি শুল্ক। দেশের আমদানিকৃত দ্রব্য ও সেবার ওপর যে কর ধার্য করা হয় তাকে আমদানি শুল্ক বলা হয়। বাংলাদেশ সরকার দেশের জনগণ, বিভিন্ন ব্যবসা ও শিল্প কারখানার ওপর কর ধার্য করে কর রাজস্ব আদায় করে থাকে। আর আমদানি শুল্ক এই কর রাজস্বের মধ্যে অন্যতম। উদ্দীপকে উল্লিখিত অপুর বাবা বিদেশি গাড়ির একজন আমদানিকারক। তিনি সর্বোচ্চ করদাতার পুরস্কার পেয়েছেন। অপুর বাবা গাড়ি আমদানি করে যে ব্যবসা পরিচালনা করেন তা থেকে সরকারকে আমদানি শুল্ক প্রদান করতে হয়। সরকার অন্যান্য উৎসের পাশাপাশি আমদানি শুল্ক গ্রহণের মাধ্যমে আয় করে সরকারি ব্যয় মেটায়। পরিশেষে বলা যায়, অপুর বাবা সরকারকে যে ট্যাক্স দেন অর্থাৎ আমদানি শুল্ক সরকারের আয়ের প্রধান উৎস।

 জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটের মোট আয় কত?
উত্তর : ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটের মোট আয় ২,৪৮,২৬৮
কোটি টাকা।
প্রশ্ন \ ২ \ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটের মোট ব্যয় কত?
উত্তর : ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটের মোট ব্যয় ৩,৪০,৬০৫ কোটি টাকা।
প্রশ্ন \ ৩ \ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটের উন্নয়ন ব্যয় কত?
উত্তর : ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটের উন্নয়ন ব্যয় ১,১৭,০২৭ কোটি টাকা।
প্রশ্ন \ ৪ \ সম্পূরক শুল্ক কী?
উত্তর : সম্পূরক শুল্ক হলো অতিরিক্ত শুল্ক।
প্রশ্ন \ ৫ \ বর্তমানে বার্ষিক কত টাকা আয় থাকলে পুরুষদের আয় কর প্রদান করতে হয়?
উত্তর : বর্তমানে বার্ষিক, ২,৫০,০০০ টাকা আয় থাকলে পুরুষদের আয়কর প্রদান করতে হয়।
প্রশ্ন \ ৬ \ ২০১৪-১৫ সালে ঠঅঞ হতে কত কোটি টাকা আয় হয়?
উত্তর : ২০১৪-১৫ সালে ঠঅঞ হতে ৫৫,০১৩ কোটি টাকা আয় হয়।
প্রশ্ন \ ৭ \ আবগারি শুল্ক আরোপের মূল কারণ কী?
উত্তর : আবগারি শুল্ক আরোপের মূল কারণ হলো ক্ষতিকর দ্রব্যের ভোগ হ্রাস করা।
প্রশ্ন \ ৮ \ কর কী?
উত্তর : কর হলো বাধ্যতামূলক ভাবে জনগণের বাধ্যতামূলকভাবে প্রদত্ত অর্থ।
প্রশ্ন \ ৯ \ প্রশাসনিক সেবার বিনিময়ে জনগন সরকারকে কী দেয়?
উত্তর : প্রশাসনিক সেবার বিনিময়ে জনগণ সরকারকে ফি দেয়।
প্রশ্ন \ ১০ \ বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক বছর কোনটি?
উত্তর : বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক বছর হলো জুন থেকে জুলাই।
প্রশ্ন \ ১১ \ আয়-ব্যয়ের প্রকৃতি অনুযায়ী বাজেট কত প্রকার?
উত্তর : আয়-ব্যয়ের প্রকৃতি অনুযায়ী বাজেট দুই প্রকার।
প্রশ্ন \ ১২ \ উন্নয়নশীল দেশের জন্য কোন বাজেট উপযোগী?
উত্তর : উন্নয়নশীল দেশের জন্য ঘাটতি বাজেট উপযোগী।
প্রশ্ন \ ১৩ \ মূলধন বাজেটের লক্ষ্য কী?
উত্তর : মূলধন বাজেটের লক্ষ্য দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা।
প্রশ্ন \ ১৪ \ সরকারি অর্থব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি কোনটি?
উত্তর : সরকারি অর্থব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলো বাজেট।
প্রশ্ন \ ১৫ \ বর্তমানে বার্ষিক কত টাকা আয় থাকলে মহিলাদের আয়কর প্রদান করতে হয়?
উত্তর : বর্তমানে বার্ষিক ৩,০০,০০০ টাকা আয় থাকলে মহিলাদের আয়কর প্রদান করতে হয়।
প্রশ্ন \ ১৬ \ উদ্বৃত্ত বাজেট কাকে বলে?
উত্তর : কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ কম হলে তাকে উদ্বৃত্ত বাজেট বলে।
প্রশ্ন \ ১৭ \ মাননীয় অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে কখন খসড়া বাজেট উপস্থাপন করেন?
উত্তর : মাননীয় অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে খসড়া বাজেট উপস্থাপন করেন।
প্রশ্ন \ ১৮ \ ব্যক্তিগত বাজেট কাকে বলে?
উত্তর : ব্যক্তি তার বিভিন্ন উৎস থেকে যে আয় পায় তা কীভাবে ব্যয় করে তা সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হলে তাকে ব্যক্তিগত বাজেট বলে।
প্রশ্ন \ ১৯ \ বাংলাদেশ সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর প্রায় কয়টি খাতে ব্যয় করে থাকে?
উত্তর : বাংলাদেশ সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর প্রায় ১৮টি খাতে ব্যয় করে থাকে।
প্রশ্ন \ ২০ \ চলতি বাজেট কী?
উত্তর : যে বাজেটে সরকারের চলতি আয় ও চলতি ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয় তাকে চলতি বাজেট বলে।

 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ কর রাজস্ব বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : কর রাজস্ব বলতে সরকার কর্তৃক দেশের নিবাসী বা অনিবাসী ব্যক্তি, বিভিন্ন ব্যবসায় ও শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং পণ্যের ওপর যে কর ধার্য করে তা থেকে প্রাপ্ত আয়কে বোঝায়।
সরকার জনগনের নিকট হতে বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ আদায় করে কিন্তু তার বিনিময়ে জনগণ সরকারের নিকট হতে কোনো সুযোগ সুবিধা আশা করতে পারে না তাকে কর বলে। এককথায় সরকার তার কর্মকাণ্ডের ব্যয় নির্বাহের জন্য যে অর্থ সংগ্রহ করে তাকে কর রাজস্ব বলা হয়।
প্রশ্ন \ ২ \ বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল জনকল্যাণকামী রাষ্ট্র ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : বাংলাদেশের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য ও ব্যয়ের খাতগুলো অবলোকন করে একে উন্নয়নশীল ও জনকল্যাণকামী রাষ্ট্র বলা যায়।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনুন্নত দেশের সকল বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। কিন্তু ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে দেশটি ক্রমে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আবার দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্যবিমোচন সর্বোপরি জনগণের সার্বিক কল্যাণ্যের জন্য প্রতি বছর প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয় যা কল্যাণকামী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য। তাই বাংলাদেশ হলো উন্নয়নশীল অথচ কল্যাণকামী রাষ্ট্র।
প্রশ্ন \ ৩ \ সরকারি ব্যয়ের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর : সরকারি ব্যয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দেশের প্রশাসন পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বিদেশি আক্রমণ থেকে দেশ রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন। মূলকথা দেশ ও দেশের জনগণের কল্যাণ সাধন করাই সরকারি ব্যয়ের মূল উদ্দেশ্য।
প্রশ্ন \ ৪ \ সরকারের আয় বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : আধুনিককালে সরকারকে দেশের অভ্যন্তরে প্রশাসন পরিচালনা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তার জন্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচারকার্য এবং জনগণের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করতে হয়। তা ছাড়া বিদেশি আক্রমণ থেকে দেশ রক্ষা করাও সরকারের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। এসব কাজের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। এ ব্যয়ভার বহনের জন্যে সরকার দেশের জনগণের কাছ থেকে কর আদায় ও অন্যান্য উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করে। একেই সরকারি আয় বলে।
প্রশ্ন \ ৫ \ সরকারি ব্যয় কাকে বলে?
উত্তর : দেশের ভেতর শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, প্রশাসনিক কার্য পরিচালনা, সামাজিক কল্যাণসাধন, দ্রæত অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভৃতি কাজের জন্যে সরকার যে অর্থ ব্যয় করে তাকে সরকারি ব্যয় বলে।
প্রশ্ন \ ৬ \ বাজেট বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : বাজেট বলতে আয় ও ব্যয়ের সুবিন্যস্ত হিসাব বোঝায়।
রাষ্ট্র পরিচালনা, দেশরক্ষা ও জনকল্যানের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। এজন্য সরকার বিভিন্ন খাত হতে অর্থ সংগ্রহ করে। সরকারের কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে বিভিন্ন উৎস থেকে কতটুকু আয় প্রাপ্তির আশা করে এবং বিভিন্ন খাতে কী পরিমাণ ব্যয় করতে চায় তার সুবিন্যস্ত হিসাবকে বাজেট বলা হয়।
প্রশ্ন \ ৭ \ সুষম বাজেট বলকে কী বোঝায়?
উত্তর : কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ সমান হলে তাকে সুষম বাজেট বলা হয়। কোনো আর্থিক বছরে আয় ও ব্যয়ের পরিমাণ সমান হলে তা সুষম বাজেট।
সুত্র : সুষম বাজেট = মোট আয় – মোট ব্যয় = ০
অর্থাৎ সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ বাজেটকে সুষম বাজেট বলা হয়।
প্রশ্ন \ ৮ \ ঘাটতি বাজেট বলতে কী বোঝায়?
উত্তর : কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলে। অর্থাৎ ঘাটতি বাজেট = (মোট আয় – মোট ব্যয়)  ০
যদি সরকারের আয় অপেক্ষা ব্যয় বেশি হয় তবে সেই বাজেটকে ঘাটতি বাজেট বলা হয়।

 

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply