নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায় জীবনের জন্য পানি

এসএসসি সাধারণ বিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায় জীবনের জন্য পানি

পাঠ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি

পানির ধর্ম : বরফের গলনাঙ্ক ০ সেলসিয়াস। পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০ সেলসিয়াস। ৪ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ। বিশুদ্ধ পানি তড়িৎ পরিবহন করে না তবে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ দ্রবীভ‚ত থাকলে তড়িৎ পরিবহন করে। পানি একটি উভধর্মী পদার্থ হিসেবে কাজ করে। বিশুদ্ধ পানি পুরোপুরি নিরপেক্ষ অর্থাৎ এর ঢ়ঐ ৭।
 পানির গঠন : পানি দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু দিয়ে গঠিত। ঐ২ঙ হলো পানির রাসায়নিক সংকেত। আমরা যে পানি দেখি সেখানে অনেক পানির অণু ক্লাস্টার আকারে থাকে।
 পানির উৎস : পানির সবচেয়ে বড় উৎস হলো সাগর, মহাসাগর বা সমুদ্র। পানির আরেকটি অন্যতম উৎস হলো হিমবাহ ও তুষার স্রোত যেখানে পানি মূলত বরফ আকারে থাকে। ব্যবহার উপযোগী উৎস হলো নদনদী, খালবিল, হ্রদ, পুকুর ও ভ‚গর্ভস্থ পানি।
 জলজ উদ্ভিদ ও জলজ প্রাণীর জন্য পানির প্রয়োজনীয়তা : পানি না থাকলে বেশির ভাগ জলজ উদ্ভিদ জš§াতই না, অথবা কিছু কিছু জš§ালেও বেড়ে উঠতে পারত না। জলজ উদ্ভিদ না থাকলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী বাঁচতে পারত না।
 পানির মানদণ্ড : পানির নির্দিষ্ট মান যদি বজায় না থাকে তাহলে এটি জীববৈচিত্র্য বা পরিবেশের জন্য যেমন ক্ষতিকর হবে, তেমনি অন্যান্য কাজে এর ব্যবহার ব্যাহত হবে। পানির মানদণ্ড কেমন হওয়া উচিত তা নির্ভর করে এর বর্ণ ও স্বাদ, ঘোলাটে ভাব, তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি, ময়লা-আবর্জনার উপস্থিতি, দ্রবীভ‚ত অক্সিজেনের পরিমাণ, তাপমাত্রা, ঢ়ঐ, লবণাক্ততা ইত্যাদির ওপর। সাধারণত ব্যবহারের ধরনের ওপর ভিত্তি করে পানির মানদণ্ড ঠিক করা হয়।
 ঢ়ঐ : ঢ়ঐ হলো এমন একটি রাশি, যার দ্বারা বোঝা যায় পানি বা জলীয় দ্রবণ এসিডিক, ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ। নিরপেক্ষ হলে ঢ়ঐ হয় ৭, এসিডিক হলে মান হয় ৭ এর কম আর ক্ষারীয় হলে মান হয় ৭ এর বেশি। এসিডের পরিমাণ যত বাড়বে ঢ়ঐ এর মান তত কমবে; অন্যদিকে ক্ষারের পরিমাণ যত বাড়বে ঢ়ঐ এর মান তত বাড়বে।
 পরিবেশ সংরক্ষণে পানির পুনঃআবর্তনের ধাপসমূহ : দিনের বেলা সূর্যের তাপে ভ‚পৃষ্ঠের পানি বাষ্পীভ‚ত হয়ে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে বাষ্প ঘনীভ‚ত হলে প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টির আকারে ফিরে আসে। এই বৃষ্টির পানির বড় একটি অংশ নদনদী, খালবিল ও সমুদ্রে গিয়ে পড়ে এবং আবার বাষ্পীভ‚ত হয় ও বৃষ্টি আকারে ফিরে আসে।
 মানসম্মত পানির প্রয়োজনীয়তা : পানি যদি মানসম্মত না হয় তাহলে প্রতিটি কাজেই বিঘœ ঘটবে। খাওয়ার পানি যদি মানসম্মত না হয়, বিশেষ করে এতে যদি রোগজীবাণু থাকে তাহলে মারাত্মক স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটাতে পারে।
সমুদ্রের পানিতে প্রচুর লবণ থাকে যা শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির ক্ষয় সাধন করে ও নষ্ট করে ফেলে। একইভাবে আমাদের বেশিরভাগ ফসলাদিই লবণ পানিতে জš§াতে পারে না। শিল্প কারখানা থেকে শুরু করে কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজেই মানসম্মত পানি অত্যাবশ্যকীয়।
 পানি বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া : যে সমস্ত প্রক্রিয়ায় সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ করা হয় সেগুলো হলো পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন, স্ফুটন, পাতন ইত্যাদি।
১. পরিস্রাবণ : পরিস্রাবণ হলো তরল ও কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে পানিকে প্রবাহিত করা হয়। এতে করে পানিতে অদ্রবণীয় ময়লার কণাগুলো বালির স্তরে আটকা পড়ে যায়। বালির স্তর ছাড়াও খুব সূ²ভাবে তৈরি কাপড় ব্যবহার করেও পরিস্রাবণ করা যায়।
২. ক্লোরিনেশন : পানিতে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু দূর করা হয় জীবাণুনাশক ব্যবহার করে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো ক্লোরিন গ্যাস (ঈষ২)। এছাড়া বিøচিং পাউডার [ঈধ(ঙঈষ)ঈষ এবং আরও কিছু পদার্থ যার মধ্যে ক্লোরিন আছে এবং যা জীবাণু ধ্বংস করতে পারে তা ব্যবহার করা হয়। ক্লোরিন ছাড়াও ওজোন (ঙ৩) গ্যাস দিয়ে অথবা অতি বেগুনি রশ্মি দিয়েও পানিতে থাকা রোগ জীবাণু ধ্বংস করা যায়।
৩. স্ফুটন : পানিকে খুব ভালোভাবে ফুটালে এতে উপস্থিত জীবাণু মরে যায়। স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ধরে ফুটালে পানি জীবাণুমুক্ত হয়।
৪. পাতন : এই প্রক্রিয়ায় একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা হয়। পরে ওই বাষ্পকে আবার ঘনীভ‚ত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়।
 বাংলাদেশের পানির উৎসে দূষণের কারণ : বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত বর্জ্যপানির বড় একটি অংশ নর্দমার মাধ্যমে নদনদীতে নিয়ে ফেলা হয় এবং তা পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে।
পঁচা বর্জ্য যেখানে রোগজীবাণুসহ নানারকম রাসায়নিক পদার্থ বিদ্যমান থাকে, তা বৃষ্টির পানির সাথে মিশে নদনদী, খাল বিল বা লেকের পানিকে দূষিত করে। বৃষ্টি হলে অথবা বন্যার সময় কৃষিজমি প্লাবিত হলে কৃষি জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ও জৈবসার ও কীটনাশক পানিতে মিশে পানিকে দূষিত করে। চামড়ার কারখানা থেকে প্রচুর বর্জ্য নদীতে গিয়ে পড়ার ফলে পানি দূষিত হচ্ছে। স্টিমার ও জাহাজ থেকে ফেলা মলমূত্রে ও তেল জাতীয় পদার্থের মাধ্যমে নদনদী ও সমুদ্রের পানি দূষিত হয়।
 পানি দূষণের প্রভাব : নদনদী, পুকুর, খালবিল ও ভ‚গর্ভস্থ প্রভৃতি উৎসের পানি দূষিত হলে তা উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষের ওপর নানা রকম ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে এমনকি কখনোও কখনোও তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। টাইফয়েড, জ্বর, কলেরা, আমাশয়, সংক্রামক হেপাটাইটিস বি এসবই পানিবাহিত রোগ। পানিতে ফসফেট ও নাইট্রোজেন খুব বেড়ে গেলে তা প্রচুর শ্যাওলা জš§াতে সাহায্য করে। এই শ্যাওলাগুলো যখন মরে যায় তখন পানিতে থাকা দ্রবীভ‚ত অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। এর ফলে পানিতে অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয় এবং তার ফলে মাছসহ সকল প্রাণী মারা যায়। অজৈব পদার্থসমূহ (যেমন : এসিড, ক্ষার, লবণ) পানিতে বসবাসকারী উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য খুবই ক্ষতিকর। পানিতে যদি ক্ষতিকর ধাতব পদার্থ (যেমন : পারদ, সিসা, আর্সেনিক ইত্যাদি) থাকে ওই পানি পান করলে তা মানুষের দেহে নানাবিধ রোগের কারণ হতে পারে। নিচে পারদ, সিসা ও আর্সেনিকের প্রভাব উল্লেখ করা হলো :
১. পারদ : মস্তিষ্কের বিকল হওয়া, ত্বকের ক্যান্সার, বিকলাঙ্গ হওয়া।
২. সিসা : বিতৃষ্ণাবোধ বা খিটখিটে মেজাজ, শরীর জ্বালাপোড়া, রক্তশূন্যতা, কিডনি বিকল হওয়া, পরিমাণে খুব বেশি হলে মস্তিষ্ক বিকল হওয়া।
৩. আর্সেনিক : আর্সেনিকোসিস, ত্বক ও ফুসফুসের ক্যান্সার, পাকস্থলীর রোগ।
তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন : ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, সিজিয়াম, রেডন প্রভৃতি দ্বারা পানি দূষিত হলে তা জীবদেহে ক্যান্সার ও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগ সৃষ্টি করে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কারখানার বর্জ্য, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে সৃষ্ট বর্জ্যরে দ্বারা পানিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়েও পানি দূষিত হয়।
 বাংলাদেশের মিঠা পানিতে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব : বৈশ্বিক উষ্ণতা হলো বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া। তাপমাত্রার সামান্য বৃদ্ধিতেই মেরু অঞ্চলসহ অন্যান্য জায়গায় সঞ্চিত বরফ গলতে শুরু করে। এর ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি নদনদী, খালবিল, পুকুর, ভ‚গর্ভস্থ ও হ্রদের পানিতে মিশে যাবে। ফলে পানির সকল উৎসই লবণাক্ত হয়ে পড়বে। মিঠা পানিতে বসবাসকারী জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং এক পর্যায়ে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে পড়বে।
 বাংলাদেশে পানি দূষণের প্রতিরোধের কৌশল এবং নাগরিকের দায়িত্ব :
১. জলাভ‚মি রক্ষা : জলাভ‚মি, বনভ‚মি এগুলো রক্ষা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা পানির দূষণ রোধের সহায়ক হবে। বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করলে পুরো পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভ‚মিকা রাখবে।
২. জনসচেতনতা বৃদ্ধি : জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য রেডিও টেলিভিশনে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান ও সতর্কবার্তা প্রচার করা যেতে পারে। এমনকি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা পানির প্রয়োজনীয়তা, অপ্রতুলতা এবং দূষণ প্রতিরোধ বিষয়ে পোস্টার তৈরি করে মানুষকে সচেতন করতে পারে।
৩. শিল্প কারখানার দ্বারা পানির দূষণ প্রতিরোধ : শিল্প কারখানার সৃষ্ট বর্জ্য পানি বিশেষ করে নদীর পানি দূষণের অন্যতম কারণ। এই দূষণ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সৃষ্ট বর্জ্য পানি বিশোধন করে তারপর নদীতে ফেলা। এ পরিশোধনের কাজের জন্য দরকার বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা (ঊভভষঁবহঃ ঞৎবধঃসবহঃ চষধহঃ বা, ঊঞচ)।
৪. কৃষিজমি থেকে মাটির ক্ষয়জনিত কারণে দূষণ প্রতিরোধ : যখন তখন সার প্রয়োগ না করে ঠিক সময়ে বিশেষ করে বৃষ্টিপাতের আগ মুহ‚র্তে সার প্রয়োগ না করে দূষণ প্রতিরোধ করা যায়।
 উন্নয়ন কার্যক্রমে পানির ভ‚মিকা : আমাদের দেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষির উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন অসম্ভব। আর সেই কৃষিকাজে সেচের জন্য দরকার পানি অর্থাৎ পানি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। এমন কোনো শিল্প কারখানা নেই যেখানে কোনো না কোনো পর্যায়ে পানির ব্যবহার না হয়। সুতরাং উন্নয়ন ও পানি একে অপরের পরিপূরক।
 বাংলাদেশে পানি উৎসে হুমকি : আমাদের পানির উৎসসমূহ স্পষ্টতই বেশ কয়েকটি হুমকির মুখে রয়েছে :
১. বন্যা ও মাটির ক্ষয়জনিত কারণে সৃষ্ট হুমকি : এতে একদিকে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয় ও অন্যদিকে নদী শুকিয়ে যেতে পারে বা মরেও যেতে পারে। নদী শুকিয়ে যাওয়ার অর্থই হলো পানি সম্পদ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া।
২. নদী দখল : এর ফলে নদীর গতিপথ সরু হয়ে যাচ্ছে ও পানিধারণ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। যে কারণে ভারী বর্ষণ হলেই বন্যা দেখা দিচ্ছে।
৩. নদীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ : পদ্মা, যমুনাসহ বেশ কয়েকটি নদীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দেয়ার ফলে এদের শাখা-প্রশাখায় পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে।
৪. অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা : ঢাকা শহরে দৈনিক প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন কঠিন বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয়। নদী এসব বর্জ্য দিয়ে ভরে উঠেছে, নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে।
৫. পানির গতিপথ পরিবর্তন : গঙ্গার পানির গতিপথ পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অনেক নদী পানি শূন্য হয়ে পড়েছে যা ঐ অঞ্চলকে খরা অঞ্চলে পরিণত করেছে।
 পানি প্রাপ্তি একটি মৌলিক অধিকার : মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকার হলো খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা। এসব অধিকার পানির ওপর নির্ভরশীল। তাই পানি প্রাপ্তিও মানুষের মৌলিক অধিকার।
 পানির উৎস সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা : আমরা যদি পানির উৎস সংরক্ষণে সজাগ না হই, তাহলে ভয়াবহ পরিণাম ভোগ করতে হতে পারে। যেকোনো ধরনের উন্নয়ন কাজ তা শিল্প কারখানা, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, নগরায়ন যাই হোক না কেন পানির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
কাজেই যেখানে সেখানে যত্রতত্রভাবে শিল্প কারখানা ও নগরায়ন না করে পরিকল্পিত উপায়ে সম্পন্ন করতে হবে। যাতে করে পানির উৎসসমূহ কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
 পানি প্রবাহের সার্বজনীনতা এবং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি : পানি সম্পদ অবশ্যই একটি সার্বজনীন বিষয়। এটি কোনো জাতিগোষ্ঠী, দেশ ও মহাদেশের সম্পদ নয়। জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে বিভিন্ন দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদনদীর ক্ষেত্রে পানির বণ্টন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সমঝোতা চুক্তি তৈরি করে।
 রামসার কনভেনশান : ১৯৭১ সালের ২ ফেব্রæয়ারিতে ইরানের রামসারে ইউনেস্কোর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নেওয়া জলাভ‚মি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তসমূহ হলো রামসার কনভেনশান। বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে এই সমঝোতা চুক্তিতে সম্মতি জ্ঞাপন করে স্বাক্ষর করে।
 আন্তর্জাতিক নদী কনভেনশান : জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আইন কমিশন আন্তর্জাতিক পানির ব্যবহারের জন্য চুক্তি তৈরি করে যা ১৯৯৭ সালের ২১ মে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় কনভেনশান হিসেবে গৃহীত হয়। এই কনভেনশান অনুযায়ী একের অধিক দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর পানি কোনো দেশই অন্য দেশের অনুমতি ছাড়া একতরফাভাবে ব্যবহার করতে পারবে না। তবে এই রীতি অনুযায়ী দেশসমূহ ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসঙ্গতভাবে নিজ নিজ দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত অংশের পানি ব্যবহার করতে পারে। এতে অন্য দেশের অংশে পানি প্রবাহে যাতে কোনো বিঘœ না ঘটে তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

অনুশীলনীর বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

১. কোন উদ্ভিদটি পানিতে এবং স্থলে উভয় জায়গায় জন্মে?
ক শ্যাওলা  কলমি গ সিংগারা ঘ ক্ষুদিপানা
২. পানির ঢ়ঐ মান খুব কমে গেলে জলজ প্রাণীর
র. অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে বিকশিত হবে না
রর. দেহাভ্যন্তরে খনিজ পদার্থ কমে যাবে
ররর. রোগব্যাধি সৃষ্টি হবে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
অনিক ও তুষার দুজনে দুটি পুকুরে মাছ চাষ করে। অনিকের পুকুরের মাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক। আর তুষারের পুকুরের মাছগুলো দুর্বল; এদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো সঠিকভাবে বিকশিত হয়নি।
৩. অনিকের পুকুরের পানি কোন ধরনের?
ক এসিডিক খ ক্ষারীয়
 নিরপেক্ষ ঘ ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ
৪. তুষারের পুকুরের পানিতে নিচের কোনটি প্রয়োগ করা উচিত?
ক এসিড খ ক্ষার  ক্যালসিয়াম ঘ ফসফরাস

গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

৫. গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি হয় কোন সালে?
 ১৯৭৭ খ ১৯৭৫ গ ১৯৭৩ ঘ ১৯৯৬
৬. জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য ঢ়ঐ থাকা প্রয়োজন-
 ৬-৮ এর মধ্যে খ ৭-১০ এর মধ্যে
গ ১০-১২ এর মধ্যে ঘ ১২-১৪ এর মধ্যে
৭. পানিতে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকলে কী ঘটে?
ক পানি আবর্জনা মুক্ত হয়
 জলজ জীবের ক্যান্সার হতে পারে
গ পানিতে দ্রবীভ‚ত অক্সিজেন বৃদ্ধি পায়
ঘ পানিতে জীবাণু হ্রাস পায়
৮. নিচের কোনটি পানি ও মাটি উভয় জায়গায় জন্মে?]
ক শাপলা  কলমি গ সিংগারা ঘ শ্যাওলা
৯. পানির অণুর আকৃতি কেমন?
ক গোলাকার খ পিরামিডীয় গ সরলরৈখিক  কৌণিক
১০. জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য প্রতি লিটার পানিতে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন। ০.১২৫ গ্রাম অক্সিজেন কত লিটার পানিতে মিশ্রিত থাকবে?
 ২৫ লিটার খ ১২৫ লিটার গ ৫২৫ লিটার ঘ ৬২৫ লিটার
১১. বিশুদ্ধ পানির ধর্ম কোনটি?
ক স্বাদযুক্ত খ গন্ধযুক্ত
 বর্ণহীন ঘ তড়িৎ পরিবাহী
১২. ভ‚-পৃষ্ঠের মোট কতভাগ পানি?
ক ৬০% খ ৬৫% গ ৭০%  ৭৫%
১৩. বিশুদ্ধ পানির ঢ়ঐ কত?
ক ৪ খ ৫ গ ৬  ৭
১৪. কোনটির দ্বারা ক্লোরিনেশন করা হয় না?
ক ঈধ(ঙঈও) ঈষ খ ঈষ২  ঙ৩ ঘ ঘধঙঈষ
১৫. কোনটি শুধু পানিতেই জন্মায়?
ক হেলেঞ্চা খ কেশরদাম গ কলমি  সিংগারা
১৬. বুড়িগঙ্গা নদীকে কোন হ্রদের সাথে তুলনা করা যায়?
ক কাপ্তাই খ ফয়েজ  এরি ঘ মেঘলা
১৭. পানির প্রধান উৎস কোনটি?
ক পুকুর  সমুদ্র গ নদী ঘ বিল
১৮. বিশুদ্ধ পানি হচ্ছে-
ক ঘোলাটে  স্বাদহীন
গ লবণাক্ত ঘ কম অক্সিজেনযুক্ত
১৯. সমুদ্রের উচ্চতা দুই মিটার বাড়লে বাংলাদেশের কি পরিমাণ এলাকা পানির নিচে চলে যাবে?
 এক দশমাংশ খ এক সপ্তমাংশ
গ এক পঞ্চমাংশ ঘ এক তৃতীয়াংশ
২০. বিøচিং পাউডার এর সংকেত কোনটি?
ক ঘধঈষ  [ঈধ(ঙঈও) ঈষ]
গ ঘধ২ঈঙ৩ ঘ ঈধ(ঙঐ)২
২১. কত ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সর্বাধিক?
ক ২ খ ৩  ৪ ঘ ৫
২২. একটি জলাশয়ের পানিতে পাশের কারখানা থেকে ঐ২ঝঙ৪ যুক্ত বর্জ্য নিষ্কাশিত হয়। এর ফলে- [কু. বো. ’১৫]
র. পানির ঢ়ঐ কমে যায়
রর. পানি নীল লিটমাসকে লাল করবে
ররর. মাছের বংশবৃদ্ধি হবে না
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
২৩. জলজ উদ্ভিদের-
র. অঙ্গ প্রত্যঙ্গ খুব নরম হয়
রর. সাধারণত অঙ্গজ উপায়ে বংশ বিস্তার হয়
ররর. জন্ম ও বেড়ে উঠার জন্য পানি প্রয়োজন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
২৪. বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পানির তাপমাত্রা-
র. কমে যায়
রর. বেড়ে যায়
ররর. অপরিবর্তিত থাকে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র  রর গ ররর ঘ রর ও ররর
২৫. একটি পুকুরের পানির ঢ়ঐ =৯, পুকুরটির পানি-
র. মাছ চাষ অনুপযোগী
রর. ক্ষারের মাত্রা বেশি
ররর. এসিডের মাত্রা বেশি
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ পৃথিবীর সবচেয়ে সহজলভ্য তরল পদার্থ কোনটি?
উত্তর : পৃথিবীর সবচেয়ে সহজলভ্য তরল পদার্থ হলো পানি।
প্রশ্ন \ ২ \ বিশুদ্ধ পানির ধর্ম কী?
উত্তর : বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীন ও বর্ণহীন হয়।
প্রশ্ন \ ৩ \ বিশুদ্ধ পানি তড়িৎ পরিবহন করে কি?
উত্তর : বিশুদ্ধ পানি তড়িৎ পরিবহন করে না।
প্রশ্ন \ ৪ \ পানি কী দিয়ে গঠিত?
উত্তর : পানি দুইটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু দিয়ে গঠিত।
প্রশ্ন \ ৫ \ ব্যবহার উপযোগী পানির উৎসসমূহ কী কী?
উত্তর : ব্যবহার উপযোগী পানির উৎস হলো নদনদী, খালবিল, হ্রদ, পুকুর, ঝর্না ও ভ‚গর্ভস্থ পানি।
প্রশ্ন \ ৬ \ বাংলাদেশে মিঠা পানির উৎস কী কী?
উত্তর : বাংলাদেশের মিঠা পানির উৎস হলো নদনদী, খালবিল, পুকুর, হ্রদ ও ভ‚গর্ভ।
প্রশ্ন \ ৭ \ জলজ উদ্ভিদ কীভাবে বংশবিস্তার করে থাকে?
উত্তর : জলজ উদ্ভিদ সাধারণত অঙ্গজ উপায়ে বংশবিস্তার করে থাকে।
প্রশ্ন \ ৮ \ আমাদের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের শতকরা কত ভাগ মাছ থেকে আসে?
উত্তর : আমাদের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই আসে মাছ থেকে।
প্রশ্ন \ ৯ \ পানি ঘোলা হওয়ার মূল কারণ কী?
উত্তর : পানি ঘোলা হওয়ার মূল কারণ হলো পানিতে অদ্রবণীয় পদার্থ যেমন : মাটি, বালি, তেল, গ্রিজ ইত্যাদির উপস্থিতি।
প্রশ্ন \ ১০ \ পানিতে থাকা প্রাণীরা অক্সিজেন কোথা থেকে পায়?
উত্তর : পানিতে থাকা প্রাণীরা অক্সিজেন পায় পানিতে দ্রবীভ‚ত অক্সিজেন থেকে।
প্রশ্ন \ ১১ \ পানি বিশুদ্ধকরণের পদ্ধতিগুলো কী কী?
উত্তর : পানি বিশুদ্ধকরণের পদ্ধতিগুলো হলো: পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন, স্ফুটন ও পাতন পদ্ধতি।
প্রশ্ন \ ১২ \ শিল্প কারখানা ও গার্হস্থ্য কাজে বর্জ্যপানি কোথায় যায়?
উত্তর : শিল্প কারখানা ও গার্হস্থ্য কাজের বর্জ্যপানির বড় একটি অংশ নর্দমার মাধ্যমে নদনদীতে নিয়ে ফেলা হয়।
প্রশ্ন \ ১২ \ কোন কোন রাসায়নিক পদার্থ পানির দ্রবীভ‚ত অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে?
উত্তর : গোবর, গাছপালার ধ্বংসাবশেষ, খাদ্যের বর্জ্য ইত্যাদি পচনের সময় পানিতে দ্রবীভ‚ত অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
প্রশ্ন \ ১২ \ রামসার কনভেনশন কী?
উত্তর : ১৯৭১ সালের ২ ফেব্রæয়ারিতে ইরানের রামসারে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নেওয়া জলাভ‚মি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তসমূহ হলো রামসার কনভেনশন।
প্রশ্ন \ ১৩ \ আর্সেনিকোসিস কী?
উত্তর : আর্সেনিক দ্বারা দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে মানবদেহে যে রোগসৃষ্টি হয় তাকে আর্সেনিকোসিস বলে।
প্রশ্ন \ ১৪ \ ব্লিচিং পাউডার দ্বারা পানি বিশুদ্ধ করা হয় কোন প্রক্রিয়ায়?
উত্তর : ব্লিচিং পাউডার দ্বারা পানি বিশুদ্ধ করা হয় ক্লোরিনেশন প্রক্রিয়ায়।
প্রশ্ন \ ১৫ \ পানি বিশুদ্ধকরণের কোন প্রক্রিয়ায় পানিকে ফুটানো হয়?
উত্তর : পানি বিশুদ্ধকরণের স্ফুটন প্রক্রিয়ায় পানিকে ফুটানো হয়।
প্রশ্ন \ ১৬ \ পানি তড়িৎ পরিবহন করে কখন?
উত্তর : পানিতে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ যেমন লবণ অথবা এসিড দ্রবীভূত থাকলে পানি তড়িৎ পরিবহন করে।
প্রশ্ন \ ১৭ \ আমরা প্রয়োজনীয় প্রোটিনের কত ভাগ মাছ থেকে পাই?
উত্তর : ৮০ ভাগ।
প্রশ্ন \ ১৮ \ ঘধঙঈষ কোন যৌগের সংকেত?
উত্তর : ঘধঙঈষ সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইডের সংকেত।
প্রশ্ন \ ১৯ \ ক্লোরিন গ্যাস ছাড়া আর কী দিয়ে পানিকে জীবাণুমুক্ত করা যায়?
উত্তর : ওজোন গ্যাস অথবা অতিবেগুনি রশ্মি দিয়ে।
প্রশ্ন \ ২০ \ এরি হ্রদ কোথায়?
উত্তর : আমেরিকার উত্তর ওহাইও অঙ্গরাজ্যে।
প্রশ্ন \ ২১ \ আন্তর্জাতিক পানি ব্যবহার চুক্তিটি কোন সংস্থা করে?
উত্তর : জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আইন কমিশন এই চুক্তিটি তৈরি করে।
 অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর 
প্রশ্ন \ ১ \ ৪ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ৪ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ আর তা হলো ১ গ্রাম/সিসি বা ১০০০ কেজি/মিটার৩ অর্থাৎ ১ সিসি পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি।
প্রশ্ন \ ২ \ বুড়িগঙ্গা নদীতে মাছ না পাওয়ার কারণ লেখ।
উত্তর : শিল্প কারখানার সৃষ্ট বর্জ্যপানির কারণে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়ছে। যার কারণে এটি জলজ প্রাণী শূন্য প্রায় মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। এজন্য মাছ পাওয়া যায় না।
প্রশ্ন \ ৩ \ পানি একটি উভধর্মী পদার্থ- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : পানি একটি উভধর্মী পদার্থ হিসেবে কাজ করে অর্থাৎ কখনো এসিড, কখনো ক্ষার হিসেবে কাজ করে। সাধারণত এসিডের উপস্থিতিতে পানি ক্ষার হিসেবে অপরদিকে ক্ষারের উপস্থিতিতে এসিড হিসেবে কাজ করে।
প্রশ্ন \ ৪ \ পানিকে সার্বজনীন দ্রাবক বলা হয় কেন?
উত্তর : পানির বিশেষ ধর্ম হলো এটি অজৈব যৌগ ও জৈব যৌগকে দ্রবীভ‚ত করতে পারে। এজন্য একে সার্বজনীন দ্রাবক বলা হয়।
প্রশ্ন \ ৫ \ পানিতে জলজ উদ্ভিদ না জন্মালে কী ঘটত?
উত্তর : জলজ উদ্ভিদগুলো একদিকে যেমন সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে অক্সিজেন তৈরি করে পানিতে দ্রবীভ‚ত অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখে, অন্যদিকে শ্যাওলা জাতীয় জলজ উদ্ভিদগুলো জলজ প্রাণীদের খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে। পানিতে জলজ উদ্ভিদ না থাকলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী বাঁচতে পারত না।
প্রশ্ন \ ৬ \ পানির মানদণ্ড কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর : পানির মানদণ্ড নির্ভর করে কোন কাজে ব্যবহার করা হবে তার ওপর। বিশুদ্ধ পানি বর্ণহীন ও স্বাদহীন হয়। পানি পরিষ্কার, ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ও তেজস্ক্রিয়তামুক্ত হতে হবে। পানির ঢ়ঐ মান ৬-৮ এর মধ্যে থাকতে হবে।
প্রশ্ন \ ৭ \ পানি ঘোলা হলে কী অসুবিধা হয়?
উত্তর : পানি ঘোলা হলে সূর্যের আলো পানির নিচে থাকা উদ্ভিদ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, ফলে সালোকসংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে পানিতে থাকা উদ্ভিদের খাবার তৈরিতে ব্যাঘাত ঘটে, যা তাদের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। আবার সালোকসংশ্লেষণের ফলে যে অক্সিজেন তৈরি হতো তা বন্ধ হয়ে যায়। পানি ঘোলা হলে মাছ বা অন্য প্রাণী ঠিকমতো খাবার সংগ্রহ করতে পারে না।
প্রশ্ন \ ৮ \ নদনদীর পানি কেন তেজস্ক্রিয়তামুক্ত হতে হবে?
উত্তর : নদনদীর পানিতে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকলে তা জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহে ক্যান্সারের মতো রোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া এই তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলো খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে এলে নানা ধরনের দুরারোগ্য ব্যাধি সৃষ্টি করে। তাই নদনদীর পানি তেজস্ক্রিয়তামুক্ত হতে হবে।
প্রশ্ন \ ৯ \ পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে কী হয়?
উত্তর : পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে, একদিকে যেমন দ্রবীভ‚ত অক্সিজেন কমে যায়, অন্যদিকে জলজ প্রাণীর প্রজনন থেকে শুরু করে নানা শারীরবৃত্তীয় কাজেও সমস্যা সৃষ্টি হয়।
প্রশ্ন \ ১০ \ আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ ডিম ছাড়ার সময় মিঠা পানিতে আসে কেন?
উত্তর : ইলিশ সামুদ্রিক মাছ হলেও ডিম ছাড়ার সময় মিঠা পানিতে আসে। কারণ, সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ডিম নষ্ট করে ফেলে। ফলে ওই ডিম থেকে আর পোনা মাছ তৈরি হতে পারে না। তাই প্রকৃতির নিয়মেই ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ার সময় মিঠা পানিতে আসে।
প্রশ্ন \ ১১ \ প্রকৃতিতে পানির পুনঃআবর্তন না হলে কী ধরনের সমস্যা হতো?
উত্তর : প্রকৃতিতে পানির পুনঃআবর্তন না হলে বৃষ্টি হতো না, ফলে মরুভ‚মিতে পরিণত হতো পৃথিবী। প্রচণ্ড খরা হতো, ফসল উৎপাদন কমে যেত। বৃষ্টি হলো প্রাকৃতিকভাবে পানির পুনঃআবর্তন।
প্রশ্ন \ ১২ \ পানিবাহিত রোগ কীভাবে ছড়ায়?
উত্তর : মলমূত্র, আবর্জনা ইত্যাদি বর্জ্যরে মাধ্যমে পানিবাহিত রোগের জীবাণু ছড়ায়। সেই পানিতে গোসল করলে, পান করলে, খাবার রান্না করলে বা ধুলে অথবা যেকোনোভাবে দূষিত পানির সংস্পর্শে এলে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দেহে জীবাণু সংক্রমিত হয়ে রোগ সৃষ্টি করে।
প্রশ্ন \ ১৩ \ তেজস্ক্রিয় পদার্থ দ্বারা পানি দূষিত হলে মানবদেহে কী প্রভাব পড়ে?
উত্তর : তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন : ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম, সিজিয়াম, রেডন প্রভৃতি দ্বারা পানি দূষিত হলে তা জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর দ্বারা খাদ্য শৃঙ্খল মাধ্যমে চলে আসবে। পরবর্তীতে মানুষ যখন এই উদ্ভিদ ও মাছ ভক্ষণ করবে তখন মানবদেহে পদার্থগুলো চলে আসবে। এই পদার্থগুলো মানব দেহে ক্যান্সার ও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগ সৃষ্টি করে।
প্রশ্ন \ ১৪ \ পানির সকল উৎস লবণাক্ত হলে কী কী অসুবিধা হবে?
উত্তর : পানির সকল উৎস লবণাক্ত হলে মিঠা পানিতে বসবাসকারী জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীসমূহ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং এক পর্যায়ে নিশ্চি‎‎হ্ন হয়ে যাবে। কারণ, লবণাক্ততার প্রভাবে মিঠা পানিতে দ্রবীভ‚ত অক্সিজেন অনেক কমে যাবে, যার ফলে জলজ প্রাণীসমূহ বাঁচতে পারবে না। জলজ উদ্ভিদের বড় একটি অংশ লবণাক্ত পানিতে জন্মাতে পারে না, বেড়ে উঠতেও পারে না, যে কারণে পানির জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।
প্রশ্ন \ ১৫ \ বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়লে নাতিশীতোষ্ণ এলাকায় কী প্রভাব পড়বে?
উত্তর : বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়লে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও ধরনের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটতে পারে। নাতিশীতোষ্ণ এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাবে, যা খরা সৃষ্টি করবে, এমনকি মরুভ‚মিতেও পরিণত করতে পারে।
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও ধরন পরিবর্তন হলে নদনদী, খালবিলে পানির পরিমাণ ও প্রবাহ পরিবর্তিত হবে যা অনেক ক্ষেত্রে বিপর্যয় ডেকে আনবে।
প্রশ্ন \ ১৬ \ জলাভ‚মি ও বনভ‚মি পরিবেশ রক্ষায় কী ভ‚মিকা পালন করে?
উত্তর : জলাভ‚মি একদিকে পানি ধারণ করে যেমন বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে, অন্যদিকে তেমনি ক্ষতিকর পদার্থ শোষণ করে, ভ‚গর্ভে ও নদীতে বিশুদ্ধ পানি সঞ্চালন করে ও বন্যপ্রাণীদের সহায়তা করে। বনভ‚মিও কিন্তু ভ‚গর্ভে পানি সঞ্চালনে সাহায্য করে এবং বন্যপ্রাণীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। এগুলো ধ্বংস হলে নদীর দূষণ বেড়ে যায়।
প্রশ্ন \ ১৭ \ পানির উৎস সংরক্ষণ করা জরুরি কেন?
উত্তর : যেকোনো ধরনের উন্নয়নকাজ তা শিল্প-কারখানা, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, নগরায়ন যাই হোক না কেন পানির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আবার এসব উন্নয়নের ফলে পানির উৎসসমূহ যদি হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে প্রকৃতপক্ষে সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই থমকে যাবে। আমাদের ব্যবহারযোগ্য পানিসম্পদের পরিমাণ সীমিত। এমতাবস্থায় আমরা যদি পানির উৎস সংরক্ষণে সজাগ না হই, তাহলে ভয়াবহ পরিণাম ভোগ করতে হতে পারে।
প্রশ্ন \ ১৮ \ আন্তর্জাতিক নদী কনভেনশনে কী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়?
উত্তর : সিদ্ধান্তসমূহ হলো : আন্তর্জাতিক নদী কনভেনশন অনুযায়ী, একের অধিক দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীর পানি কোনো দেশই অন্য দেশের অনুমতি ছাড়া একতরফাভাবে ব্যবহার করতে পারবে না। তবে এই রীতি অনুযায়ী দেশসমূহ ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসঙ্গতভাবে নিজ নিজ দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত অংশের পানি ব্যবহার করতে পারে। এক্ষেত্রে অন্য দেশের অংশে পানি প্রবাহে যাতে কোনো বিঘœ না ঘটে তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশ্ন \ ১৯ \ ডিটারজেন্ট তৈরির কারখানার বর্জ্য পকুরে গেলে কী অবস্থা হবে?
উত্তর : ডিটারজেন্ট তৈরির কারখানা থেকে সৃষ্ট বর্জ্য পুকুরে ফেলার ফলে পুকুরের পানিতে ফসফেটের মাত্রা বেড়ে যাবে। পানিতে ফসফেট খুব বেড়ে গেলে সেখানে প্রচুর শ্যাওলা জন্মাবে। এই শ্যাওলাগুলো যখন মরে যাবে তখন পানির অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের অভাব সৃষ্টি করবে। এর ফলে পুকুরটির জলজ প্রাণীগুলো মরে যাবে এবং আস্তে আস্তে পুকুরটি মরা পুকরে পরিণত হবে।

অনুশীলনীর সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

নিচের চিত্রটি দেখ এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক. পানিতে দ্রবীভ‚ত কোন গ্যাসের সাথে গøুকোজ বিক্রিয়া করে?
খ. পানির পুনঃআবর্তন বলতে কী বোঝায়?
গ. নদীটি কোন ধরনের নদীতে পরিণত হতে পারে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. তুমি কি মনে কর নদীটিকে জলজ প্রাণী বসবাসের উপযোগী করা সম্ভব? যুক্তিসহ মতামত দাও।
 ১নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. পানিতে দ্রবীভ‚ত অক্সিজেন গ্যাসের সাথে গøুকোজ বিক্রিয়া করে।
খ. সূর্যের তাপে ভ‚পৃষ্ঠের পানির উৎস- সমুদ্র, নদনদী, খাল-বিল, পুকুর, হ্রদ এর পানি বাষ্পীভ‚ত হয়ে বায়ুমণ্ডলে চলে আসে। এরপর ঘনীভ‚ত হয়ে প্রথমে মেঘ ও পরে তা বৃষ্টি আকারে ভ‚পৃষ্ঠে ফিরে আসে। এই বৃষ্টির পানির বড় অংশ আবার নদনদী, সমুদ্র, খাল ও বিলে গিয়ে পড়ে এবং আবার বাষ্পীভ‚ত ও ঘনীভ‚ত হয়ে বৃষ্টির আকারে ভ‚পৃষ্ঠে ফিরে আসে। প্রাকৃতিকভাবে সংগঠিত এ চক্রটিকে পানির পুনঃআবর্তন বলে।
গ. নদীটি মরা নদীতে পরিণত হতে পারে।
নদীটি দখল করে নানারকম শিল্প কারখানা এমনকি আবাসিক এলাকা পর্যন্ত গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে নদীর গতিপথ সরু হয়ে গেছে এবং পানি ধারণক্ষমতা অনেকটাই কমে আসছে।
শিল্প কারখানার সৃষ্ট বর্জ্যপানি নদীর পানিকে দূষিত করে তুলছে। ইঞ্জিনচালিত নৌকা, লঞ্চ, স্টিমার বা জাহাজ থেকে ফেলা মলমূত্র ও তেল জাতীয় পদার্থের মাধ্যমে নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়ছে। এই বর্জ্য পানিতে রোগজীবাণু থেকে শুরু করে নানারকম রাসায়নিক বস্তু মিশ্রিত অবস্থায় আছে। এর ফলে পানিতে দ্রবীভ‚ত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে আসছে। এক্ষেত্রে পানিতে বসবাসকারী মাছসহ সকল প্রাণী অক্সিজেন স্বল্পতায় ভুগছে।
এ অবস্থায় বেশি দিন চলতে থাকলে একপর্যায়ে এ নদী প্রাণিশূন্য হয়ে পড়বে। তখন নদীটি মরা নদীতে পরিণত হবে।
ঘ. আমি মনে করি নদীটির জলজ প্রাণী বসবাসের উপযোগী করা সম্ভব।
শিল্পকারখানার সৃষ্ট বর্জ্যপানি বিশেষ করে নদীর পানি দূষণের অন্যতম কারণ। এই প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, সৃষ্ট বর্জ্যপানি পরিশোধন করে তারপর নদীতে ফেলা। এ পরিশোধন কাজের জন্য দরকার বর্জ্য পরিশোধন অথবা (ঊভভষঁবহঃ ঞৎবধঃসবহঃ চষধহঃ বা ঊঞচ) ইটিপি। ইটিপি কীভাবে তৈরি করা হবে তা নির্ভর করে কী ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ বর্জ্য পানিতে বিদ্যমান তার ওপর। যেহেতু একেক ধরনের বর্জ্যপানি একেক শিল্পকারখানা থেকে বের হয় তাই একটি সাধারণ ইটিপি দিয়ে সব কারখানার বর্জ্যপানি পরিশোধন করা সম্ভব নয়। তবে একই ধরনের শিল্প কারখানা দিয়ে একটি শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলে সব কারখানার বর্জ্য পানি একত্রিত করে একটি ঊঞচ তে পরিশোধন করা যেতে পারে।
উদ্দীপকের চিত্রের কলকারখানার বর্জ্য পরিশোধনের জন্য একটি ঊঞচ স্থাপন করে, তাতে বর্জ্যসমূহ পরিশোধন করে নদীতে ফেলা হলে নদীর পানির ঢ়ঐ পরিবর্তন এবং জলজ পরিবেশ নষ্ট হবে না। তাছাড়া নদীতে চলাচলকারী জলযান হতে তেল ও বর্জ্য নদীতে নিক্ষেপ করার ওপর আইন প্রণয়ন এবং জনমত গড়ে তোলা গেলে চিত্রের নদীটি জলজ প্রাণীর বসবাসের উপযোগী করা সম্ভব।
সুতরাং আমি মনে করি, জলজ পরিবেশ রক্ষার জন্য জনমত গড়ে তোলা এবং পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে নদীটিতে জলজ প্রাণী বসবাসের উপযোগী করা সম্ভব।
প্রশ্ন -২ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জমিলা খাতুন বাড়ির পাশের পুকুরের ঘোলা পানিকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় রান্নার উপযোগী করেন। অপরদিকে রতন সাহেব তার পানি বোতলজাতকরণ কারখানায় ও ঔষধ তৈরির কারখানায় পানিকে জীবাণুমুক্ত করে ব্যবহার করেন।
ক. পানির স্ফুটনাঙ্ক কাকে বলে?
খ. জলজ উদ্ভিদ পানির স্রোতে ভেঙে যায় না কেন?
গ. জমিলা খাতুন পুকুরের পানিকে কীভাবে রান্নার উপযোগী করেন? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. রতন সাহেব তার দুই কারখানার কাজে ব্যবহার করা পানি কি একইভাবে জীবাণুমুক্ত করেন? যুক্তিসহ মতামত দাও।
 ২নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. বায়ুমণ্ডলীয় চাপে পানি যে তাপমাত্রায় বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে পানির স্ফুটনাঙ্ক বলে।
খ. জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুব নরম হয় যা পানির স্রোত ও জলজ প্রাণীর চলাচলের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। তাই এটি এক ধরনের অভিযোজন। পানির স্রোত এগুলোতে প্রভাব ফেলতে পারে না। এজন্যই জলজ উদ্ভিদ পানির স্রোতে ভেঙে যায় না।
গ. জমিলা খাতুন পুকুরের পানিকে রান্নার উপযোগী করতে পরিস্রাবণ পদ্ধতিকে কাজে লাগান। কারণ পুকুরের পানি ঘোলা ছিল।
পরিস্রাবণ হলো তরল ও কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া। পানিতে অদ্রবণীয় ধুলাবালির কণা থেকে শুরু করে নানারকম ময়লা আবর্জনার কণা মিশে থাকে। এজন্য পুকুর বা নদনদীর পানি অনেকসময় ঘোলা দেখায়। পরিস্রাবণের মাধ্যমে এদের পানি থেকে দূর করা যায়। এক্ষেত্রে বালি ও পাথরের স্তরের মধ্য দিয়ে পানিকে প্রবাহিত করা হয়। এতে করে পানিতে অদ্রবণীয় ময়লার কণাগুলো বালির স্তরে আটকে যায়। বালির স্তর ছাড়াও খুব সূ²ভাবে তৈরি কাপড় ব্যবহার করে পরিস্রাবণ করা যায়। এ পদ্ধতিতে অদ্রবণীয় সূ² ভাসমান পদার্থও পৃথক হয়। জমিলা খাতুন পুকুরের পানিকে এভাবেই রান্নার উপযোগী করে থাকেন।
ঘ. রতন সাহেব তার দুই কারখানার কাজে ব্যবহার করা পানি একইভাবে জীবাণুমুক্ত করেন না।
পানি বোতলজাতকরণ কারখানায় তিনি ক্লোরিনেশন পদ্ধতির সাহায্যে পানিকে জীবাণুমুক্ত করেন। এজন্য নানারকম জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধকরণে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো ক্লোরিন গ্যাস (ঈষ২)। এছাড়া সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড (ঘধঙঈষ) এবং আরও কিছু পদার্থ যার মধ্যে ক্লোরিন আছে এবং যা জীবাণু ধ্বংস করতে পারে তা ব্যবহার করা হয়। তবে রতন সাহেব বোতলজাত পানির কারখানায় ওজোন (ঙ৩) গ্যাস দিয়ে অথবা অতিবেগুনি রশ্মি দিয়েও পানিতে থাকা রোগজীবাণু ধ্বংস করে পানিকে রোগজীবাণুমুক্ত করেন।
ওষুধ তৈরির জন্য ও পরীক্ষাগারে রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ইত্যাদি কাজে পুরোপুরি বিশুদ্ধ পানির দরকার হয়। তখন পাতন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা হয়। পরে ঐ বাষ্পকে আবার ঘনীভ‚ত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধকৃত পানিতে অন্য পদার্থ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
এজন্য রতন সাহেব পাতন পদ্ধতিতে ওষুধ কারখানার পানি বিশুদ্ধ করেন।

প্রশ্ন -৩ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

চিত্র : অ চিত্র : ই
ক. গলনাংক কাকে বলে? ১
খ. ক্লোরিনেশন বলতে কী বোঝায়? ২
গ. চিত্রে অ উদ্ভিদটির টিকে থাকার জন্য পানি আবশ্যকÑ ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. বর্তমানে নদ-নদীতে ই চিত্রের প্রাণীটির কমে যাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৩নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. কোনো কঠিন পদার্থ যে তাপমাত্রায় গলে যায় বা তরলে পরিণত হয় তাকে ঐ পদার্থের গলনাংক বলে।
খ. নানা রকমের জীবাণু নাশক পানি বিশুদ্ধকরণে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এদের মধ্যে অন্যতম হলো ক্লোরিন (ঈষ২) গ্যাস। এছাড়া বিøচিং পাউডার ও সোডিয়াম হাইপো ক্লোরাইড এবং অন্যান্য পদার্থ যার মধ্যে ক্লোরিন আছে ব্যবহার করে পানিকে বিশুদ্ধকরণ করা হয়। ক্লোরিন দিয়ে যেহেতু পানিকে বিশুদ্ধ করা হয় যেহেতু পানির এই বিশুদ্ধকরণ পদ্ধতিকে ক্লোরিনেশন বলা হয়।
গ. চিত্রের অ উদ্ভিদটি একটি জলজ উদ্ভিদ।
জলজ উদ্ভিদসমূহ পানিতে বাস করে। জলজ উদ্ভিদসমূহ মূল ও সারা দেহের মাধ্যমে পানিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান বিশেষ করে খনিজ লবণ সংগ্রহ করে থাকে। তাই এদের সমগ্র দেহ পানির সংস্পর্শে না এলে এদের বেড়ে ওঠার ব্যাঘাত ঘটত। আরেকটি লক্ষণীয় ব্যাপার হলো জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খুব নরম হয় যা পানিতে স্রোত ও জলজ প্রাণির চলাচলের সঙ্গে মানানসই। তাছাড়া জলজ উদ্ভিদসমূহ সাধারণত অঙ্গজ উপায়ে বংশবিস্তার করে থাকে। পানি না থাকলে এরা বাঁচতে পারবে না। এরা পানিতে দ্রবীভ‚ত কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরী করে। পানিতে দ্রবীভ‚ত অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বসন কার্য সম্পন্ন করি। জলজ উদ্ভিদগুলো শুধুমাত্র পানিতে জন্মায় ও বংশবৃদ্ধির জন্য অভিযোজিত হয়েছে।
অতএব, উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটা সুস্পষ্ট যে চিত্রের অ উদ্ভিদটির টিকে থাকার জন্য পানি একান্ত আবশ্যক।
ঘ. ই চিত্রের প্রাণীটি হলো মাছ যা বর্তমানে নদ-নদীতে কমে যাওয়ার কারণ হলো পানি দূষণ এবং অক্সিজেনের অভাব।
হাজারো জলজ প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত জলজ প্রাণী হলো মাছ। অক্সিজেন ছাড়া মাছ বাঁচতে পারে না। মাছ অক্সিজেন গ্রহণ করে ফুলকার মাধ্যমে। আর ফুলকা এমনভাবে তৈরি যে, এটি শুধু পানি থেকেই অক্সিজেন নিতে পারে, বাতাস থেকে নয়। তাই পানিতে অক্সিজেন না থাকলে মাছ বাঁচতে পারে না। পানিতে অক্সিজেন কমে যাওয়ার কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
 কিছু কিছু রাসায়নিক পদার্থ আছে, যেমনÑ গোবর, গাছপালার ধ্বংসাবশেষ, খাদ্যদ্রব্য বিশেষ করে চিনি, গøুকোজ ইত্যাদি পানিতে দ্রবীভ‚ত অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। ফলে পানিতে দ্রবীভ‚ত অক্সিজেন কমে যায়। আর যদি ঐ সকল পদার্থ খুব বেশি থাকে তাহলে পানিতে দ্রবীভ‚ত অক্সিজেনের পরিমাণ শূন্যে নেমে আসতে পারে।
 পানিতে ফসফেট ও নাইট্রোজেন খুব বেড়ে গেলে তা প্রচুর শ্যাওলা জন্মাতে সাহায্য করে। এই শ্যাওলাগুলো যখন মরে যায় তখন পানিতে থাকা দ্রবীভ‚ত অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। এর ফলে পানিতে অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয় এবং তার ফলে মাছসহ সকল প্রাণী মরে যায়।
 পানির তাপমাত্রা এবং লবণাক্ততা বাড়লে দ্রবীভ‚ত অক্সিজেন কমে। অর্থাৎ বৈশ্বিক উষ্ণতাও পানিতে অক্সিজেন স্বল্পতার কারণ।
অতএব, উপরিউক্ত কারণে বর্তমানে নদনদীতে মাছ কমে যাচ্ছে।
প্রশ্ন -৪ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ঢাকা নিবাসী নিশাদদের বাসায় পানির লাইনে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি আসে। এতে তাদের প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘিœত হয়। এছাড়া ঢাকা শহরে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প কারখানা স্থাপন, ভাসমান লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি, অধিক যানবাহনে নদীর পানি যেমন দূষিত হচ্ছে, পাশাপাশি শহরের বাতাসও হচ্ছে দূষিত।
ক. বিøচিং পাউডারের সংকেত লেখ। ১
খ. পানিকে একটি সার্বজনীন দ্রাবক বলা হয় কেন? ২
গ. নিশাদদের বাসার পানি ব্যবহার উপযোগী করার উপায়সমূহ ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকের এরূপ অবস্থার জন্য জনগণের অসচেতনতাই দায়ী। উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর। ৪
 ৪নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. বিøচিং পাউডারের সংকেত হলো [ঈধ(ঙঈষ)ঈষ)]
খ. পানি বেশিরভাগ অজৈব যৌগ ও অনেক জৈব যৌগকে দ্রবীভ‚ত করতে পারে বলে পানিকে সার্বজনীন দ্রাবক বলা হয়।
পানি পৃথিবীর সবচেয়ে সহজলভ্য তরল পদার্থ। পৃথিবীপৃষ্ঠের শতকরা ৭৫ ভাগই পানি দিয়ে গঠিত। এর বিশেষ ধর্ম হলো এটি খুব ভালো একটি দ্রাবক। পৃথিবীর অধিকাংশ মৌলিক ও যৌগিক পদার্থ, জৈব ও অজৈব পদার্থকে পানি দ্রবীভ‚ত করতে পারে। যা অন্য কোনো তরল পারে না। এ কারণেই পানিকে একটি সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়।
গ. নিশাদদের পানিতে যেহেতু দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি আসে, তাই তাদের পানি অত্যন্ত ভালোরূপে বিশুদ্ধ করা প্রয়োজন।
নিচে উক্ত পানি ব্যবহার উপযোগী করার উপায়গুলো ব্যাখ্যা করা হলো। পরিস্রাবণ : প্রথমে পানিতে অদ্রবণীয় ধূলি-বালির কণা থেকে শুরু করে নানারকম ময়লা আবর্জনার কণা পরিস্রাবণের মাধ্যমে পানি থেকে দূর করতে হবে। বালির স্তরের মধ্য দিয়ে পানিকে প্রবাহিত করলে, পানিতে অদ্রবণীয় ময়লার কণাগুলো তাতে আটকে যায়। বালির স্তর ছাড়াও খুব সূ²ভাবে তৈরি কাপড় ব্যবহার করে পরিস্রাবণ করা যায়। ইদানিং বাসা-বাড়িতে যেসব ফিল্টার ব্যবহৃত, সেখানে আরো উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে পরিস্রাবণ করা হয়। নিশাদের বাসার পানি পরিস্রাবণ করার পর নিম্নোক্ত উপায়ে পানি বিশুদ্ধ করা যেতে পারে।
ক্লোরিনেশন : যদি পানিতে রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে, তবে নানারকম জীবাণুনাশক যেমন : ক্লোরিন গ্যাস (ঈষ২), বিøচিং পাউডার [ঈধ(ঙঈষ)ঈষ] এবং আরও কিছু পদার্থ যার মধ্যে ক্লোরিন আছে এবং যা জীবাণু ধ্বংস করতে পারে তা ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বা সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড (ঘধঙঈষ) পানিতে থাকা রোগজীবাণুকে ধ্বংস করে।
স্ফুটন : পানিকে খুব ভালোভাবে ফুটালে এতে উপস্থিত জীবাণু মরে যায়। স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫Ñ২০ মিনিট ধরে স্ফুটন করলে পানি জীবাণুমুক্ত হয়। বাসা-বাড়িতে খাওয়ার পানির জন্য এটি একটি সহজ ও সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া।
পাতন : এ প্রক্রিয়ায় একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করে। ঐ বাষ্পকে আবার ঘনীভ‚ত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধকৃত পানিতে অন্য পদার্থ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
উপযুক্ত পদ্ধতিগুলো আলোচনা করে দেখা যায় দুগন্ধযুক্ত ময়লা পানি ভালোভাবে বিশুদ্ধ করার জন্য প্রত্যেকটি উপায় কার্যকরী। তাই যেকোনো একটি উপায় অবলম্বন করেই নিশাদদের বাসার পানি ব্যবহার উপযোগী করা যেতে পারে।
ঘ. উদ্দীপকে যে অবস্থার কথা বলা হয়েছে তা হলো পানিদূষণ। আর পানির এই দূষিত অবস্থার জন্য দায়ী মানুষের তথা জনগণের সচেতনতার অভাব।
উদ্দীপকে পানি দূষণ, বায়ু দূষণের কথা বলা হয়েছে যার কারণ শহরে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প কারখানা স্থাপন, ভাসমান লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি, অধিক যানবাহন ইত্যাদি নিচে কারণগুলো ব্যাখ্যা করা হলো।
১. গোসল, পায়খানাসহ অন্যান্য কাজের পর বর্জ্যপানির বড় একটি অংশ নর্দমার নলের মাধ্যমে নদ-নদীতে নিয়ে ফেলা হয়। এই বর্জপানিতে রোগজীবাণু থেকে শুরু করে নানারকম রাসায়নিক বস্তু থাকে। ফলে পানি দূষিত হয়।
২. বাসা-বাড়িতে যেসব বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয়, সেগুলো সাধারণত বাড়ির পাশে ডাস্টবিন বা খোলা জায়গায় ফেলা হয় দু’ এক দিনের মধ্যে তা পচে বৃষ্টির পানির সাথে মিশে নদ-নদী, খাল-বিল বা লেকের পানিকে দূষিত করে।
৩. কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার, জৈব সার ও কীটনাশক বৃষ্টি বা বন্যার পানিতে মিশে পানিকে দূষিত করে।
৪. টেক্সটাইল মিল, ডাইং, রং তৈরির কারখানা, সার কারখানা, কাগজ তৈরির কারখানা ইত্যাদি নানারকম শিল্প কারখানার বর্জ্যপদার্থের দ্বারা নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। নৌকা, লঞ্চ, স্টিমার বা জাহাজ থেকে ফেলা মলমূত্র ও তেল জাতীয় পদার্থের মাধ্যমে নদ-নদী ও সমুদ্রের পানি দূষিত হয়। পরীক্ষাগার থেকে সৃষ্ট বর্জ্য পানি যেখানে এসিড, ক্ষারসহ নানারকম রাসায়নিক পদার্থ থাকে, তাও পানিকে দূষিত করে।
দেখা যাচ্ছে যে, মানুষের বিভিন্ন অসচেতন ও যাচ্ছে তাই কর্মকাণ্ডের জন্যই পানির এত দূষণ ও দূরাবস্থা। কাজেই, উদ্দীপকের উল্লিখিত অবস্থার জন্য জনগণের সচেতনতাই দায়ীÑ উক্তিটি যথার্থ ও বাস্তবসম্মত।
প্রশ্ন -৫ ল্ফ নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ফাহাদের বাড়ির পাশে নদীর পাড়ে অনেক শিল্প কারখানা গড়ে ওঠায় নদীর পানির ঢ়ঐ এর মান পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। পানি খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফাহাদের মা আগে পানি ফুটাতেন কিন্তু ইদানীং সেটিও সম্ভব হচ্ছে না।
ক. বিøচিং পাউডারের সংকেত কী? ১
খ. সমুদ্রের পানি লোনা হয় কেন? ২
গ. ফাহাদের মা কীভাবে পানি খাওয়ার উপযোগী করে তুলতে পারেন ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ঢ়ঐ পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণ কর। ৪
 ৫নং প্রশ্নের উত্তর 
ক. বিøচিং পাউডারের সংকেত [ঈধ(ঙঈষ)ঈষ]।
খ. সমুদ্রের পানিতে প্রচুর পরিমাণে লবণ থাকায় তা লোনা হয়।
পানির সবচেয়ে বড় উৎস হলো সমুদ্র বা সাগর এবং মহাসাগর। পৃথিবীর মোট পানির শতকরা ৯০ ভাগেরই উৎস হলো সমুদ্র। কিন্তু সমুদ্রের পানিতে প্রচুর লবণ থাকায় তা পানযোগ্য নয়। এমনকি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা অন্য কাজেও ব্যবহারের উপযোগী নয়। একারণেই সমুদ্রের পানি লোনা।

গ. ফাহাদের মা পানিকে বিশুদ্ধ করার জন্য পানি ফুটাতেন। কিন্তু ইদানীং তাতেও কাজ হচ্ছে না। এখন তিনি একমাত্র পাতন পদ্ধতির দ্বারা পানি বিশুদ্ধ করতে পারেন। কারণ পানির ঢ়ঐ এর মান এর পরিবর্তন হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি হবে বর্ণহীন, স্বাদহীন এবং নিরপেক্ষ এই মানদণ্ড সম্পন্ন পানি পেতে হলে পাতনের বিকল্প নেই। নিচে পাতন পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হলো :
যখন খুব বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়, তখন পাতন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা হয়। পরে ঐ বাষ্পকে আবার ঘনীভ‚ত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধকৃত পানিতে অন্য পদার্থ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।
অতএব, ফাহাদের মা উপরিউক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করে পানিকে খাওয়ার উপযোগী করে তুলতে পারেন।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায় ঢ়ঐ পরিবর্তনের প্রভাবে পানি দূষিত এবং পানের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এছাড়াও ঢ়ঐ পরিবর্তনের আরও অনেক প্রভাব রয়েছে বা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
ঢ়ঐ হলো এমন একটি রাশি, যার দ্বারা বোঝা যায় পানি বা জলীয় দ্রবণ এসিডিক, ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ। নিরপেক্ষ হলে ঢ়ঐ হয় ৭, এসিডিক হলে ৭-এর কম, আর ক্ষারীয় হলে ৭-এর বেশি। এসিডের পরিমাণ যত বাড়ে ঢ়ঐএর মান তত কমে, অন্যদিকে ক্ষারের পরিমাণ যত বাড়ে, ঢ়ঐ এর মানও তত বাড়ে। নদনদী, খালবিল ইত্যাদি জন্য ঢ়ঐ এর মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত নদনদীর পানি ক্ষারীয় হয়। গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে নদনদীর পানির ঢ়ঐ যদি ৬-৮ এর মধ্যে থাকে, তবে তা জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য কোনো অসুবিধার সৃষ্টি করে না। তবে ঢ়ঐ এর মান যদি খুব কমে যায় বা বেড়ে যায়, তাহলে ঐ পানিতে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের মারাত্মক ক্ষতি হয়। মাছের ডিম, পোনা মাছ এরা খুব কম বা বেশি ঢ়ঐ হলে বাঁচতে পারে না, পানিতে এসিডের পরিমাণ খুব বেড়ে গেলে অর্থাৎ ঢ়ঐ এর মান খুব কমে গেলে জলজ প্রাণীদের দেহ থেকে ক্যালসিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ বাইরে চলে আসে, ফলে মাছ রোগাক্রান্ত হয়।
অতএব, উপরিউক্ত আলোচনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢ়ঐ পরিবর্তনের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গুরুত্বপূর্ণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

৫. গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি হয় কোন সালে?
 ১৯৭৭ খ ১৯৭৫ গ ১৯৭৩ ঘ ১৯৯৬
৬. জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য ঢ়ঐ থাকা প্রয়োজন-
 ৬-৮ এর মধ্যে খ ৭-১০ এর মধ্যে
গ ১০-১২ এর মধ্যে ঘ ১২-১৪ এর মধ্যে
৭. পানিতে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকলে কী ঘটে?
ক পানি আবর্জনা মুক্ত হয়
 জলজ জীবের ক্যান্সার হতে পারে
গ পানিতে দ্রবীভ‚ত অক্সিজেন বৃদ্ধি পায়
ঘ পানিতে জীবাণু হ্রাস পায়
৮. নিচের কোনটি পানি ও মাটি উভয় জায়গায় জন্মে?]
ক শাপলা  কলমি গ সিংগারা ঘ শ্যাওলা
৯. পানির অণুর আকৃতি কেমন?
ক গোলাকার খ পিরামিডীয় গ সরলরৈখিক  কৌণিক
১০. জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য প্রতি লিটার পানিতে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন। ০.১২৫ গ্রাম অক্সিজেন কত লিটার পানিতে মিশ্রিত থাকবে?
 ২৫ লিটার খ ১২৫ লিটার গ ৫২৫ লিটার ঘ ৬২৫ লিটার
১১. বিশুদ্ধ পানির ধর্ম কোনটি?
ক স্বাদযুক্ত খ গন্ধযুক্ত
 বর্ণহীন ঘ তড়িৎ পরিবাহী
১২. ভ‚-পৃষ্ঠের মোট কতভাগ পানি?
ক ৬০% খ ৬৫% গ ৭০%  ৭৫%
১৩. বিশুদ্ধ পানির ঢ়ঐ কত?
ক ৪ খ ৫ গ ৬  ৭
১৪. কোনটির দ্বারা ক্লোরিনেশন করা হয় না?
ক ঈধ(ঙঈও) ঈষ খ ঈষ২  ঙ৩ ঘ ঘধঙঈষ
১৫. কোনটি শুধু পানিতেই জন্মায়?
ক হেলেঞ্চা খ কেশরদাম গ কলমি  সিংগারা
১৬. বুড়িগঙ্গা নদীকে কোন হ্রদের সাথে তুলনা করা যায়?
ক কাপ্তাই খ ফয়েজ  এরি ঘ মেঘলা
১৭. পানির প্রধান উৎস কোনটি?
ক পুকুর  সমুদ্র গ নদী ঘ বিল
১৮. বিশুদ্ধ পানি হচ্ছে-
ক ঘোলাটে  স্বাদহীন
গ লবণাক্ত ঘ কম অক্সিজেনযুক্ত
১৯. সমুদ্রের উচ্চতা দুই মিটার বাড়লে বাংলাদেশের কি পরিমাণ এলাকা পানির নিচে চলে যাবে?
 এক দশমাংশ খ এক সপ্তমাংশ
গ এক পঞ্চমাংশ ঘ এক তৃতীয়াংশ
২০. বিøচিং পাউডার এর সংকেত কোনটি?
ক ঘধঈষ  [ঈধ(ঙঈও) ঈষ]
গ ঘধ২ঈঙ৩ ঘ ঈধ(ঙঐ)২
২১. কত ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সর্বাধিক?
ক ২ খ ৩  ৪ ঘ ৫
২২. একটি জলাশয়ের পানিতে পাশের কারখানা থেকে ঐ২ঝঙ৪ যুক্ত বর্জ্য নিষ্কাশিত হয়। এর ফলে- [কু. বো. ’১৫]
র. পানির ঢ়ঐ কমে যায়
রর. পানি নীল লিটমাসকে লাল করবে
ররর. মাছের বংশবৃদ্ধি হবে না
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
২৩. জলজ উদ্ভিদের-
র. অঙ্গ প্রত্যঙ্গ খুব নরম হয়
রর. সাধারণত অঙ্গজ উপায়ে বংশ বিস্তার হয়
ররর. জন্ম ও বেড়ে উঠার জন্য পানি প্রয়োজন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
২৪. বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে পানির তাপমাত্রা-
র. কমে যায়
রর. বেড়ে যায়
ররর. অপরিবর্তিত থাকে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র  রর গ ররর ঘ রর ও ররর
২৫. একটি পুকুরের পানির ঢ়ঐ =৯, পুকুরটির পানি-
র. মাছ চাষ অনুপযোগী
রর. ক্ষারের মাত্রা বেশি
ররর. এসিডের মাত্রা বেশি
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর

অতিরিক্ত বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

পানির ধর্ম, গলনাংক ও স্ফুটনাংক, পানির গঠন, উৎস ও বাংলাদেশে মিঠা পানির উৎস
 সাধারণ বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
২৬. বরফের গলনাংক কত? (জ্ঞান)
ক Ñ১ সেলসিয়াস  ০ সেলসিয়াস
গ ১ সেলসিয়াস ঘ ২ সেলসিয়াস
২৭. ঢ়ঐ এর কোন মানটি নিরপেক্ষ? (জ্ঞান)
ক ৩.৫ খ ৬  ৭ ঘ ৭.৫
২৮. ঢ়ঐ মান ৭ নিচের কোনটির? (অনুধাবন)
ক ক্ষারযুক্ত পানির  বিশুদ্ধ পানির
গ এসিডযুক্ত পানির ঘ লবণযুক্ত পানির
২৯. ৪ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব কত? (জ্ঞান)
 ১ গ্রাম/সি.সি. খ ২ গ্রাম/সি.সি.
গ ৪ গ্রাম/সি.সি. ঘ ৬ গ্রাম/সি.সি.
৩০. ৪ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১ কিউবিক মিটার পানির ভর কত? (প্রয়োগ)
ক ৯০০ কেজি  ১০০০ কেজি
গ ১৫০০ কেজি ঘ ২০০০ কেজি
৩১. মিঠা পানির উৎস কোনটি? (অনুধাবন)
 পদ্মা নদী খ আরব সাগর
গ বঙ্গোপসাগর ঘ সুন্দরবনের নদনদী
৩২. সুন্দরবনের নদনদী ও বঙ্গোপসাগর কোন ধরনের পানির উৎস? (প্রয়োগ)
ক মিঠা পানির  লোনা পানির
গ খাবার পানির ঘ পাতিত পানির
৩৩. পৃথিবীতে সবচেয়ে সহজলভ্য তরল পদার্থ কোনটি? (জ্ঞান)
 পানি খ গ্যাস গ খনিজ তেল ঘ অকটেন
৩৪. মানবদেহের শতকরা কত ভাগ পানি? (জ্ঞান)
ক ৬০-৭০  ৬৫-৭৫ গ ৭০-৮০ ঘ ৮৫-৯৫
৩৫. মাছ, মাংস ও শাকসবজিতে শতকরা কত ভাগ পানি থাকে? (জ্ঞান)
ক ৪০-৬৫ খ ৫০-৭৫  ৬০-৯০ ঘ ৭০-৯৫
৩৬. পৃথিবীপৃষ্ঠের শতকরা কত ভাগ পানি দ্বারা গঠিত? (জ্ঞান)
ক ৫৫ খ ৬৫  ৭৫ ঘ ৮৫
৩৭. পানির স্ফুটনাংক কত? (জ্ঞান)
ক ৯০ সেলসিয়াস  ১০০ সেলসিয়াস
গ ১২০ সেলসিয়াস ঘ ১৩০ সেলসিয়াস
৩৮. পানির ঘনত্ব কিসের ওপর নির্ভর করে? (জ্ঞান)
 তাপমাত্রা খ চাপ
গ ভর ঘ অভিকর্ষজ ত্বরণ
৩৯. পানির ঘনত্ব কখন সর্বোচ্চ হয়? (জ্ঞান)
ক ০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় খ ২ সেলসিয়াস তাপমাত্রায়
গ ৩ সেলসিয়াস তাপমাত্রায়  ৪ সেলসিয়াস তাপমাত্রায়
৪০. বিশুদ্ধ পানির ঢ়ঐ কত? (জ্ঞান)
 ৭ খ ৭.৫ গ ৮ ঘ ৮.৫
৪১. পানির রাসায়নিক গঠন কোনটি? (জ্ঞান)
ক একটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও দুটি অক্সিজেন পরমাণু
খ একটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু
 দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু
ঘ দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও দুটি অক্সিজেন পরমাণু
৪২. পানির অণু কী আকারে থাকে? (জ্ঞান)
ক আয়ন  ক্লাস্টার গ কলয়েড ঘ সাসপেনশন
৪৩. পৃথিবীর পানির শতকরা কত ভাগ সমুদ্র ধারণ করে আছে? (জ্ঞান)
ক ৮০% খ ৮৫%  ৯০% ঘ ৯৫%
৪৪. পৃথিবীর ব্যবহার উপযোগী পানি শতকরা কত ভাগ? (জ্ঞান)
 ১% খ ২% গ ৩% ঘ ৪%
৪৫. ভ‚গর্ভস্থ পানি আমরা কিসের সাহায্যে উত্তোলন করি? (জ্ঞান)
ক হর্স পাইপ খ জেট পাম্প
গ লো লিফট পাম্প  নলক‚প
৪৬. পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত কত? (জ্ঞান)
ক ১ ঃ ২  ২ ঃ ১ গ ২ ঃ ৩ ঘ ৩ ঃ ১
৪৭. পানির প্রধান উৎস কোনটি? (জ্ঞান)
ক ঝরনা খ নদী গ বৃষ্টি  সমুদ্র
৪৮. পানির কঠিন অবস্থাকে কী বলা হয়? (অনুধাবন)
ক বাষ্প খ তরল ˜ বরফ ঘ বায়বীয়
৪৯. নিচের কোন তাপমাত্রাদ্বয় পানির গলনাংক ও স্ফুটনাংক নির্দেশ করছে?
(অনুধাবন)
˜ ০ক্ক ও ১০০ক্ক সেলসিয়াস খ ৪ক্ক ও ৯৮ক্ক সেলসিয়াস
গ ০ক্ক ও ৯০ক্ক সেলসিয়াস ঘ ৪ক্ক ও ১০০ক্ক সেলসিয়াস
৫০. ১ সিসি পানির ভর কত? (অনুধাবন)
˜ ১ গ্রাম খ ১০ গ্রাম গ ১০০ গ্রাম ঘ ১০০০ গ্রাম
৫১. পানি কী ধরনের যৌগ? (জ্ঞান)
˜ উভধর্মী খ ক্ষারধর্মী গ অ¤øধর্মী ঘ নিরপেক্ষ
৫২. পানি কখন তড়িৎ পরিবহন করে? (অনুধাবন)
ক বিশুদ্ধ অবস্থায় খ নিরপেক্ষ অবস্থায়
˜ লবণ দ্রবীভ‚ত থাকা অবস্থায় ঘ যখন ঢ়ঐ ৭ থাকে
৫৩. পানিকে উভধর্মী পদার্থ বলা হয় কেন? (অনুধাবন)
ক অধিকাংশ যৌগকে দ্রবীভ‚ত করে বলে
˜ এসিড ও ক্ষার হিসেবে কাজ করে বলে
গ স্বাদ ও গন্ধহীন তরল পদার্থ বলে
ঘ তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ দ্রবীভ‚ত করে বলে
৫৪. সমুদ্রের পানি পানযোগ্য নয় কেন? (অনুধাবন)
ক প্রচুর আয়রন থাকায় খ ঘনত্ব অনেক বেশি
˜ প্রচুর লবণ বিদ্যমান ঘ প্রচুর আর্সেনিক আছে
৫৫. কোনটিকে গধৎরহব ডধঃবৎ বলা হয়? (অনুধাবন)
˜ সমুদ্রের পানি খ নদীর পানি
গ নলক‚পের পানি ঘ ঝরনার পানি
৫৬. তাপমাত্রা কত হলে পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ হয়? (জ্ঞান)
ক ০ঈ  ৪ঈ গ ১০ঈ ঘ ১০০ঈ
৫৭. যে তাপমাত্রায় পানির তরল রূপ বাষ্প হয় তাকে কী বলা হয়? (প্রয়োগ)
ক হিমাংক খ বাষ্পীভবন গ বাষ্পীয় অবস্থা ˜ স্ফুটনাংক
৫৮. ১ কিউবিক মিটার পানির ভর কত? (প্রয়োগ)
ক ১ কেজি খ ১০ কেজি গ ১০০ কেজি  ১০০০ কেজি
৫৯. বাংলাদেশের কিছু এলাকার ভ‚গর্ভস্থ পানি কেন পানের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে? (উচ্চতর দক্ষতা)
ক শিল্প কারখানার বিস্তৃতি ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায়
খ পানি দূষণ অব্যাহত গতিতে বাড়তে থাকায়
গ রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের বিস্তৃতি ঘটায়
˜ ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ আর্সেনিক মিশ্রিত থাকায়
৬০. কোনটি বিশুদ্ধ পানির বৈশিষ্ট্য? (জ্ঞান)
 বর্ণহীন, স্বাদহীন ও গন্ধহীন
খ স্বাদযুক্ত, গন্ধহীন ও বর্ণহীন
গ স্বাদহীন, গন্ধহীন ও নীল বর্ণের
ঘ কটুস্বাদযুক্ত, গন্ধহীন ও বর্ণহীন
৬১. কোনটি তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ? (অনুধাবন)
 সোডিয়াম ক্লোরাইড খ গøুকোজ
গ চিনি ঘ গিøসারল
৬২. কোনটি সার্বজনীন দ্রাবক? (জ্ঞান)
 ঐ২ঙ খ ঐঈষ গ ঘধঙঐ ঘ ঘধঐঈঙ৩
৬৩. কোনটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ? (অনুধাবন)
ক এসিড মিশ্রিত পানি  বিশুদ্ধ পানি
গ ক্ষার মিশ্রিত পানি ঘ ব্রাইন
৬৪. কোনটি পানির রাসায়নিক সংকেত? (জ্ঞান)
ক ঐ২ঙ২ খ ঐ২ঙ৩ গ ঐঙঐ ˜ ঐ২ঙ
৬৫. যে তাপমাত্রায় বরফ গলে, তাকে কী বলে? (জ্ঞান)
ক বাষ্পীভবন খ স্ফুটনাংক ˜ গলনাংক ঘ স্ফুটন
৬৬. বায়ুমণ্ডলীয় চাপে কোনো তরল পদার্থ যে তাপমাত্রায় বাষ্পে পরিণত হয় তাকে কী বলে? (জ্ঞান)
ক গলনাংক ˜ স্ফুটনাংক গ বাষ্পীভবন ঘ স্ফুটন
৬৭. নিচের কোনটির গলনাংক ০ সেলসিয়াস? (জ্ঞান)
ক খাবার লবণ খ লবণ পানি গ পানি  বরফ
৬৮. সমুদ্রের পানিকে কী বলা হয়? (জ্ঞান)
ক গরহবৎধষ ধিঃবৎ  গধৎরহব ধিঃবৎ
গ ঋৎবংয ধিঃবৎ ঘ ওহষধহফ ধিঃবৎ
 বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
৬৯. বিশুদ্ধ পানিÑ (অনুধাবন)
র. স্বাদহীন
রর. গন্ধহীন
ররর. বর্ণহীন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৭০. ৪ক্ক সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্বÑ (অনুধাবন)
র. ১ গ্রাম/সি.সি
রর. ১০০০ কেজি/মিটার৩
ররর. ১০০ মিলি/কেলভিন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ˜ র ও রর গ র ও ররর ঘ রর ও ররর
৭১. ঢ়ঐ এর মান ৭ (অনুধাবন)
র. বিশুদ্ধ পানির
রর. সমুদ্রের পানির
ররর. পাতিত পানির
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ রর গ ররর ˜ র ও ররর
৭২. ব্যবহার উপযোগী পানির উৎস হলোÑ (অনুধাবন)
র. ভ‚গর্ভস্থ পানি
রর. সমুদ্রের পানি
ররর. ঝরনার পানি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর  র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৭৩. ঐঈষ + ঢ  ঐ৩ঙ+ + ঈষ¯; বিক্রিয়ায়- (উচ্চতর দক্ষতা)
র. ঢ একটি উভধর্মী পদার্থ
রর. ঢ এর ঢ়ঐ ৩
ররর. ঢ ক্ষার হিসেবে কাজ করে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র খ র ও রর  র ও ররর ঘ র, রর ও ররর
৭৪. ঐ২ঙ পদার্থটি- (উচ্চতর দক্ষতা)
র. উভধর্মী
রর. সার্বজনীন দ্রাবক
ররর. ২টি ঐ পরমাণু ও ১টি ঙ পরমাণু দ্বারা গঠিত
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৭৫. বিশুদ্ধ পানির ধর্ম- (অনুধাবন)
র. স্ফুটনাংক ৯৯.৯৮ সেলসিয়াস
রর. হিমাংক ০ সেলসিয়াস
ররর. ঢ়ঐ এর মান ৭
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৭৬. সাধারণত পানি- (অনুধাবন)
র. এসিডের উপস্থিতিতে ক্ষার হিসেবে কাজ করে
রর. ক্ষারের উপস্থিতিতে এসিড হিসেবে কাজ করে
ররর. ১০০ সেলসিয়াসে বাষ্পে পরিণত হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
৭৭. পানির ধর্ম হলো- (অনুধাবন)
র. বেশিরভাগ অজৈব যৌগকে দ্রবীভ‚ত করতে পারে
রর. অনেক জৈব যৌগকে দ্রবীভ‚ত করতে পারে
ররর. সব জৈব ও অজৈব যৌগকে দ্রবীভ‚ত করতে পারে
নিচের কোনটি সঠিক?
 র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর ঘ র, রর ও ররর
 অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর
নিচের অনুচ্ছেদ পড় এবং ৭৮ ও ৭৯নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
পানি দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু দিয়ে গঠিত। পানির সংকেত হলো ঐ২ঙ।
৭৮. উক্ত অণু কী আকারে বিন্যস্ত থাকে? (অনুধাবন)
 ক্লাস্টার খ আয়ন গ যৌগমূলক ঘ যোজনী
৭৯. উদ্দীপকের সংকেতে ঐ ও ঙ সন্নিবেশিত থাকে কোন অনুপাতে? (প্রয়োগ)
ক ১ : ১ খ ১ : ২  ২ : ১ ঘ ৩ : ১
উদ্দীপকের আলোকে ৮০ ও ৮১ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
একটি দ্রাবকের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎপ্রবাহ চালনা করলে নমুনাটি বিদ্যুৎ পরিবহন করে না।
৮০. ওই দ্রাবকের ঢ়ঐ কত? (অনুধাবন)
ক ৫ খ ৬  ৭ ঘ ৮
৮১. ওই দ্রাবকটি- (প্রয়োগ)
র. সার্বজনীন দ্রাবক
রর. ০ক্কঈ এ কঠিন অবস্থায় থাকে
ররর. ১০০ক্কঈ তাপমাত্রায় ফুটতে শুরু করে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর
উদ্দীপকের আলোকে ৮২ ও ৮৩ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :

৮২. উক্ত পদার্থটির গলনাংক কত? (প্রয়োগ)
 ০ঈ খ ১ঈ গ ৪ঈ ঘ ১০০ঈ
৮৩. উদ্দীপকের পদার্থটি (উচ্চতর দক্ষতা)
র. বিশুদ্ধ অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে না
রর. দুটি ঐ ও একটি ঙ নিয়ে গঠিত
ররর. ঙঐ¯ আয়ন তৈরি হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক র ও রর খ র ও ররর গ রর ও ররর  র, রর ও ররর

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply