এইচএসসি ব্যবসায় উদ্যোগ অষ্টম অধ্যায় ব্যবসায়ের আইনগত দিক সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়-৮

ব্যবসায়ের আইনগত দিক

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন১ জনাব অর্ণব একজন সংগীত শিল্পী। তিনি গান লিখেন এবং সুর করেন। প্রিজম নামের একজন নতুন শিল্পী গানের একক অ্যালবাম বাজারে ছাড়েন। জনাব অর্ণব প্রিজমের প্রকাশিত সিডির একটি গানের সুর তার নিজের বলে দাবি করে আদালতে মামলা করেন। কিন্তু তিনি তাতে কোনো প্রতিকার পাননি। [ঢা. বো. ১৭]
অ ক. সামাজিক ব্যবসায় কী? ১
অ খ. ওঝঙ সনদ বলতে কী বোঝ? ২
অ গ. উদ্দীপকে কোন আইনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. জনাব অর্ণব আদালতের আশ্রয় নিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ার যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো। ৪
১ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক যে ব্যবসায়ে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ প্রাপ্তির কোনো প্রত্যাশা থাকে না বরং সমাজের কল্যাণ ও দারিদ্র্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যে গঠন করা হয় তাকে সামাজিক ব্যবসায় বলে।
খ ওঝঙ (ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঙৎমধহরুধঃরড়হ ভড়ৎ ঝঃধহফধৎফরুধঃরড়হ) হলো আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। এটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্য/সেবার গুণগত মান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে সনদ প্রদান করে।
ওঝঙ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি আন্তর্জাতিক মানের শিল্পকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে সাহায্য করে। এ সনদ অর্জনের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানের পণ্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়।
গ উদ্দীপকে কপিরাইট আইনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
কপিরাইটের মাধ্যমে লেখক বা শিল্পী কর্তৃক তার সৃষ্টিকর্মের ওপর একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থায়ী আইনগত অধিকার দেয়া হয়। কপিরাইট আইনের ফলে শিল্পকর্ম নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিক্রয়, উন্নয়ন বা ব্যবহারের একচ্ছত্র অধিকার লাভ করা যায়। গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা, নাটক, গান, চলচ্চিত্র প্রভৃতির সুরক্ষার জন্য কপিরাইট আইনের সহায়তা নিতে হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জনাব অর্ণব একজন সঙ্গীত শিল্পী। তিনি গান লিখেন ও সুর করেন। প্রিজম নামের একজন নতুন শিল্পী গানের একক এ্যালবাম করে বাজারে ছাড়েন। জনাব অর্ণব প্রিজমের প্রকাশিত সিডির একটি গানের সুর তার নিজের বলে দাবি করে আদালতে মামলা করেন। কারণ, তিনি তার গানের সুর ব্যবহারের ও বিক্রয়ের একক অধিকারী। কেউ যদি তার সৃষ্টিকর্ম নকল করতে চেষ্টা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে। এসব বৈশিষ্ট্য কপিরাইট আইনের সাথে মিল রয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকে কপিরাইট আইনের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ঘ জনাব অর্ণবের সুর করা গান কপিরাইট আইনে নিবন্ধিত না থাকায় আদালতের আশ্রয় নিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ার যৌক্তিকতা রয়েছে।
লেখক বা শিল্পীর সৃষ্টিকর্ম যাতে কেউ নকল করতে না পারে সেজন্য কপিরাইট নিবন্ধন করা প্রয়োজনীয়। এ নিবন্ধন করা না হলে যে কেউ এটি নকল করতে পারে। তখন আদালতে মামলা করেও ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব হয় না।
উদ্দীপকের প্রিজম নামের একজন নতুন শিল্পী গানের একক অ্যালবাম বাজারে ছাড়েন। জনাব অর্ণব প্রিজমের প্রকাশিত সিডির একটি গানের সুর তার নিজের বলে দাবি করে আদালতে মামলা করেন। কিন্তু জনাব অর্ণবের সুর করা গানের এ্যালবামটি কপিরাইট আইনে নিবন্ধিত ছিল না।
কোনো শিল্পী বা লেখক তার সৃষ্টিকর্ম কপিরাইটের মাধ্যমে নিজের ব্যবহারের একক অধিকার লাভ করেন। কিন্তু, তিনি যদি তা কপিরাইট নিবন্ধনের আওতায় না আনেন তাহলে অন্য কেউ ঐ সৃষ্টিকর্ম নকল বা ব্যবহার করলেও সেক্ষেত্রে প্রকৃত সৃষ্টিকারী কোনো আইনি প্রতিকার পান না। উদ্দীপকের জনাব অর্ণবের গানের সুর কপিরাইট আইনে নিবন্ধন করা ছিল না। এ কারণে তার সুর নকল করলে আদালতে মামলা করেও তিনি কোনো আইনি সুরক্ষা পাননি। সুতরাং বলা যায়, কপিরাইট আইনানুযায়ী তার এরূপ আইনি প্রতিকার না পাওয়া সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

মমমপ্রশ্ন২ গ্যালাক্সি লি.-এর কয়েকজন প্রকৌশলী বিশেষ এক ধরনের কাঁচ উদ্ভাবন করেছেন। এ কাঁচ ভবনের দরজা বা জানালায় ব্যবহার করলে তা একই সাথে সৌরবিদ্যুতের উৎস হিসেবে কাজ করবে। এ বিদ্যুৎ যেকোনো কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। প্রতিষ্ঠানটি এ কাঁচ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের একক অধিকার পেতে চায়। তারা এ বিষয়ে সরকারের সাথে একটি চুক্তি সম্পাদন করে।
[ঢা. বো., রা. বো., কু. বো., চ. বো. ১৭]
অ ক. ব্যবসায় পরিবেশ কী? ১
অ খ. পানি দূষণ বলতে কী বোঝায়? ২
অ গ. গ্যালাক্সি লি.-এর উদ্ভাবিত পদ্ধতিটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত চুক্তিটি কি এ প্রতিষ্ঠানকে একক অধিকার ভোগের সুযোগ দিবে? বিশ্লেষণ করো। ৪
২ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের গঠন, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ যেসব পারিপার্শ্বিক উপাদান বা শক্তির দ্বারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হয় সেগুলোর সমষ্টিকে ব্যবসায় পরিবেশ বলে।
খ পানিতে ক্ষতিকর উপাদান মিশ্রিত হয়ে তা ব্যবহারের অনুপযোগী ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়াকে পানি দূষণ বলে।
গৃহস্থালি ও শিল্পবর্জ্য পানিতে মিশে পানি দূষিত হয়। পানি দূষণের কারণে পানিবাহিত রোগের বিস্তার ঘটে জলজ প্রাণীর বসবাসের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হয়। এ দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কলকারখানার বর্জ্য শোধনের ব্যবস্থা করতে হবে। সাথে সাথে পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ করতে হবে।
গ উদ্দীপকে গ্যালাক্সি লি.-এর উদ্ভাবিত পদ্ধতিটি মেধাসম্পদের অন্তর্ভুক্ত।
সৃজনশীল ব্যক্তি তার মেধা ও মননশীলতা প্রয়োগ করে মেধাসম্পদ সৃষ্টি করেন। এক্ষেত্রে তার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ তার মেধাসম্পদ ব্যবহার করতে পারে না। গল্প, নাটক, চলচ্চিত্র, ফটোগ্রাফ, সফটওয়্যার মেধাসম্পদের উদাহরণ।
উদ্দীপকে গ্যালাক্সি লি.-এর কয়েকজন প্রকৌশলী বিশেষ এক ধরনের কাঁচ উদ্ভাবন করেছেন। এ কাঁচ ভবনের দরজা বা জানালায় ব্যবহার করলে তা একই সাথে সৌর বিদ্যুতের উৎস হিসেবে কাজ করবে। এ বিদ্যুৎ যেকোনো কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। এখানে প্রকৌশলীগণ নিজেদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে এ কাঁচ উদ্ভাবন করেছেন। এটি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের বা মেধাসম্পদের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং, গ্যালাক্সি লি.-এর উদ্ভাবিত পদ্ধতিটি মেধাসম্পদের আওতাভুক্ত।
ঘ উদ্দীপকে বর্ণিত উদ্ভাবিত কাঁচের জন্য পেটেন্ট চুক্তি গ্রহণ করায় উক্ত প্রতিষ্ঠান এককভাবে পণ্য ভোগের অধিকার লাভ করবে।
নতুন আবিষ্কৃত পণ্যের ওপর আবিষ্কারকের একক অধিকার অর্জনের জন্য সরকারের সাথে পেটেন্ট চুক্তি করা হয়। এর মাধ্যমে আবিষ্কারক আবিষ্কৃত পণ্যের উন্নয়ন, ব্যবহার ও বিক্রয়ের একক অধিকার ভোগ করেন।
উদ্দীপকে গ্যালাক্সি লি.-এর কয়েকজন প্রকৌশলী এক বিশেষ ধরনের কাঁচ উদ্ভাবন করেন। এটি সৌর বিদ্যুতের উৎস হিসেবে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানটি এ কাঁচ উৎপাদন ও বিপণনের একক অধিকার পেতে চায়। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি সরকারের সাথে একটি চুক্তি সম্পাদন করে; যা পেটেন্ট চুক্তির আওতায় পড়ে।
উদ্ভাবিত কাঁচের জন্য পেটেন্ট চুক্তি করায় প্রতিষ্ঠানটি উক্ত কাঁচ ব্যবহারে একক অধিকার অর্জন করবে। অন্যদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই একক অধিকারে এটি বিক্রয়, ব্যবহার বা ভোগ করতে পারবে। প্রতিষ্ঠানটির অনুমতি ছাড়া কেউ এটি ব্যবহার বা বিক্রয় করলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণও আদায় করা যাবে। সুতরাং, পেটেন্ট চুক্তিটি অবশ্যই উক্ত প্রতিষ্ঠানকে আইনানুযায়ী পণ্যের এককভাবে ভোগের সুযোগ দিবে।

মমমপ্রশ্ন৩ মিসেস রিনা পণ্য ক্রয়ের বিষয়ে খুবই সাবধান থাকেন। বাংলাদেশি কোনো পণ্য কিনতে গেলে তিনি দেখেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কিনা। বিশেষ করে খাদ্য ও প্রসাধনী সামগ্রীর বেলায় এটি থাকতেই হবে। ব্র্যান্ড পণ্য কেনার প্রতি তার আগ্রহ। তিনি মনে করেন স্কয়ার, প্রাণ ইত্যাদি বড় প্রতিষ্ঠানে একটি মান মেনে চলা হয়। এক্ষেত্রে নকলের সম্ভাবনাও কম। [রা. বো. ১৭]
অ ক. ট্রেডমার্ক কী? ১
অ খ. পরিবেশ আইন কী? ব্যাখ্যা করো। ২
ই গ. মিসেস রিনা কোন ধরনের কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আছে কিনা তা পরীক্ষা করেন? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. মিসেস রিনা যে আইনগত বিষয়টি দেখে পণ্য ক্রয় করেন তার যথার্থতা মূল্যায়ন করো। ৪
৩ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক কোনো প্রতিষ্ঠান বা এর পণ্যের স্বাতন্ত্র্য প্রকাশ করার জন্য যে বিশেষ চিহ্ন, প্রতীক, শব্দ বা লোগো ব্যবহার করা হয় তাকে ট্রেডমার্ক বলে।
খ যে আইনে পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় বিধি বিধানের উলে­খ রয়েছে তাকে পরিবেশ আইন বলে।
বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ ও পরিবেশ সংরক্ষণ নীতিমালা ১৯৯৭ বিদ্যমান রয়েছে। এ আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ ও অনুসরণ ব্যবসায়-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে।
গ উদ্দীপকে মিসেস রিনা ইঝঞও (ইধহমষধফবংয ঝঃধহফধৎফং ধহফ ঞবংঃরহম ওহংঃরঃঁঃরড়হ) প্রতিষ্ঠানের বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আছে কিনা তা পরীক্ষা করেন।
এটি বাংলাদেশের পণ্যের মান নির্ধারণ, পণ্যমান পরীক্ষা ও মান নিশ্চিত করার জন্য নিয়োজিত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পণ্যের মান নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা করা।
উদ্দীপকের মিসেস রিনা বাংলাদেশি পণ্য সাবধানে কেনাকাটা করেন। পণ্য কেনার সময় দেখেন পণ্যের মোড়কের গায়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আছে কিনা। বিশেষ করে খাদ্য ও প্রসাধনী সামগ্রীর বেলায় এটি থাকতেই হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকলে তিনি পণ্য ও সেবার গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চিত হন। বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার এ গুণগত মান নিশ্চিত করে ইঝঞও। সুতরাং, মিসেস রিনা ইঝঞও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পরীক্ষা করে পণ্য ক্রয় করেন।
ঘ উদ্দীপকে মিসেস রিনা যে আইনগত বিষয়টি দেখে পণ্য ক্রয় করেন তা হলো ট্রেডমার্ক যা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে।
কোনো প্রতিষ্ঠান বা এর পণ্যের স্বাতন্ত্র্যতা প্রকাশ করার জন্য ট্রেডমার্কের বিশেষ চিহ্ন, লোগো বা প্রতীক ব্যবহৃত হয়। এটি প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত। এটি কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্যকে ক্রেতাদের কাছে পরিচিত করে তোলে।
উদ্দীপকে মিসেস রিনা ব্র্যান্ড দেখে পণ্য ক্রয় করেন। পণ্যের ব্র্যান্ড দেখেই তিনি ঐ পণ্যের গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চিত হন। এ ব্র্যান্ড হলো ট্রেডমার্ক।
মিসেস রিনা ট্রেডমার্ক চিহ্ন দেখে পণ্য কেনার মাধ্যমে কাক্সিক্ষত প্রতিষ্ঠানের পণ্য ক্রয় করতে পারেন। এতে নকল পণ্য ক্রয়ের সম্ভাবনা থাকে না। ফলে তিনি কখনোই ঠকেন না। এভাবে পণ্য ক্রয় করা সুবিধাজনক। এছাড়া ব্র্যান্ডের মাধ্যমে ক্রেতার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারলে প্রতিষ্ঠানেরও সুনাম বাড়ে। তাই, পণ্যের ট্রেডমার্ক পরীক্ষা করে মিসেস রিনার কেনাকাটা করা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

মমমপ্রশ্ন৪ ইলিয়াছ এমন একটি নতুন প্রযুক্তির যন্ত্র উদ্ভাবন করেন যা দিয়ে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ২৪ ঘণ্টা ফ্রিজ চালানো যায়। তিনি এ যন্ত্রটি ‘ঠঙখঞঅ’ নাম দিয়ে বাজারজাত করেন। ‘ঠঙখঞঅ’ নাম ও চিহ্নটি তিনি একটি বিশেষ আইনে নিবন্ধন করেন। ‘ঠঙখঞঅ’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করায় বগুড়ার সানোয়ার ‘ঠঙখঞঅ’ নামে একই ধরনের যন্ত্র তৈরি করে বাজারে বিক্রয় শুরু করে। অন্যদিকে সিলেটের নাসির ‘ঊখঊঈঞজঙ’ নাম দিয়ে একই প্রযুক্তির যন্ত্র তৈরি করে বাজারজাত করছে। ইলিয়াছ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনজীবীর পরামর্শ চান। আইনজীবী অভিমত দেন যে, সানোয়ারের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার পাওয়া গেলেও সীমাবদ্ধতার কারণে নাসিরের বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব হবে না। [সি. বো. ১৭]
অ ক. কপিরাইট কী? ১
অ খ. ব্যবসায়ের জন্য বিমা অত্যন্ত সহায়ক কেন? ২
অ গ. ইলিয়াছ উদ্দীপকের যন্ত্রটি কোন আইনে নিবন্ধন করেছেন? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকে আইনজীবীর অভিমতের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো। ৪
৪ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক লেখক বা শিল্পী কর্তৃক তার সৃষ্টিকর্মের ওপর একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থায়ী আইনগত অধিকারকে কপিরাইট বলে।
খ বিমা হলো বিমাগ্রহীতা ও বিমাকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি যেখানে বিমাকারীকে বিমাগ্রহীতা নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি বা বিপদে ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়।
ব্যবসায়ে সর্বদা ঝুঁকি থাকে। মূল্য হ্রাস, চুরি, ডাকাতি, অগ্নিকাণ্ড, অতি বৃষ্টির কারণে ব্যবসায়ে ক্ষতি হতে পারে। এ ঝুঁকির কথা মাথায় নিয়েই ব্যবসায়ীকে প্রতিনিয়ত ব্যবসায় পরিচালনা করতে হয়। এক্ষেত্রে ঝুঁকির মাত্রা কমানো গেলে ব্যবসায়ী আরও সফলভাবে ব্যবসায় চালাতে পারে। বিমা এ ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। তাই, ব্যবসায়ের জন্য বিমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গ উদ্দীপকের যন্ত্রটি ইলিয়াছ ট্রেডমার্ক আইনে নিবন্ধন করেছেন।
কোনো প্রতিষ্ঠান বা এর পণ্যের স্বাতন্ত্র্যতা প্রকাশ করার জন্য ট্রেডমার্ক ব্যবহৃত হয়। এটি প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত। এটি কোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্যকে ক্রেতাদের কাছে সহজে পরিচিত করে তোলে।
উদ্দীপকে ইলিয়াছ নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেন। এটি দিয়ে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ফ্রিজ চালানো যায়। তিনি তার উদ্ভাবিত এ যন্ত্রটি বাজারে ছাড়ার পূর্বে ‘ঠঙখঞঅ’ নাম নির্ধারণ করেন। এ ঠঙখঞঅ নামটি তিনি একটি বিশেষ আইনে নিবন্ধন করেন। ঠঙখঞঅ নামেই যন্ত্রটি বাজারে পরিচিতি লাভ করে যা ট্রেডমার্কের বৈশিষ্ট্যর সাথে মিল রয়েছে। তাই বলা যায়, ইলিয়াছের উদ্ভাবিত ঠঙখঞঅ নামক যন্ত্রটি ট্রেডমার্ক আইনে নিবন্ধন করা হয়েছে।
ঘ উদ্দীপকে ইলিয়াছ নতুন প্রযুক্তিটি ট্রেডমার্ক আইনে নিবন্ধন করলেও পেটেন্ট চুক্তি না করার কারণে তিনি সব ধরনের আইনগত সুবিধা পাবেন না।
নতুন আবিষ্কৃত পণ্য একচ্ছত্র ব্যবহারের জন্য আবিষ্কারক ও সরকারের মধ্যে পেটেন্ট চুক্তি করা হয়। এ চুক্তি না থাকলে আবিষ্কারকের উদ্ভাবিত পণ্য কেউ নকল করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।
উদ্দীপকে ইলিয়াছ একটি যন্ত্র আবিষ্কার করে ঠঙখঞঅ নামে তা নিবন্ধন করেন। সানোয়ার নামের এক ব্যক্তি ঠঙখঞঅ নামেই একই ধরনের যন্ত্র বাজারে ছাড়েন। অপরদিকে সিলেটের নাসির ‘ঊখঊঈঞজঙ’ নামে ঐ একই ধরনের আরও একটি যন্ত্র বাজারে ছাড়েন। উভয়ের বিরুদ্ধে ইলিয়াছ আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে সানোয়ারের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার পাওয়া গেলেও নাসিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না বলে আইনজীবী জানান।
নতুন প্রযুক্তিটি ইলিয়াছ ট্রেডমার্ক আইনে নিবন্ধন করলেও পেটেন্ট চুক্তি করেননি। ট্রেডমার্ক আইনে নিবন্ধন থাকায় সানোয়ার এ নামে পণ্য বাজারে ছাড়তে পারেন না। তাই ইলিয়াছ সানোয়ারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন। কিন্তু যন্ত্রটির পেটেন্ট চুক্তি না থাকায় যে কেউ নকল করে অন্য নামে তা বাজারে ছাড়তে পারে। তাই নাসির এ সুযোগটি গ্রহণ করে একই ধরনের যন্ত্র ভিন্ন নামে বাজারে ছেড়েছেন। এজন্যই আইনজীবী বলেছেন, সানোয়ারের বিরুদ্ধে আইনত প্রতিকার পাওয়া গেলেও নাসিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না।

মমমপ্রশ্ন৫ নোবেল বিজয়ী জনাব রুবায়েত আলম-এর ‘যুদ্ধ’ উপন্যাসটি বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ৫০ লক্ষ সেট বইয়ের ফরমায়েশ পান। বইগুলো জাহাজীকরণের পূর্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে এগুলো সুরক্ষার জন্য তিনি একটি বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। এখন তিনি তার বই নকল মুদ্রণের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। [য. বো. ১৭]
অ ক. ওঝঙ কী? ১
অ খ. চচচ বলতে কী বোঝ? ২
অ গ. জনাব রুবায়েত আলম কোন ধরনের বিমা পলিসি গ্রহণ করেছেন? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. জনাব রুবায়েত আলমকে উদ্বেগমুক্ত করতে উদ্দীপকের আলোকে তোমার পরমর্শ তুলে ধরো। ৪
৫ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক ওঝঙ (ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঙৎমধহরুধঃরড়হ ভড়ৎ ঝঃধহফধৎফরুধঃরড়হ) হলো আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা যা কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার গুণগত মান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে সনদ প্রদান করে।
খ সরকারি-বেসরকারি যৌথ অর্থায়নে ও সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায় কার্যক্রমকে চচচ বলে।
চচচ-এর পূর্ণরূপ হলো চঁনষরপ চৎরাধঃব চধৎঃহবৎংযরঢ় বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব। বৃহদায়তন অবকাঠামো নির্মাণ, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে এ ধরনের ব্যবসায় অধিক কার্যকর। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটে ও প্রকল্প বাস্তবায়ণে সরকারের আর্থিক চাপ কমে।
গ উদ্দীপকে জনাব রুবায়েত আলম নৌ বিমা পলিসি গ্রহণ করেছেন।
নৌপথে চলাচলকারী জাহাজ ও এর পণ্যসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্র“তি দিয়ে নৌ বিমা চুক্তি করা হয়। নির্ধারিত প্রিমিয়ামের বিনিময়ে বিমাকারী ও বিমাগ্রহীতার মধ্যে এরূপ চুক্তি সম্পন্ন হয়।এ ধরনের বিমা গ্রহণ করা হলে পণ্য কিংবা জাহাজের ক্ষতি আংশিক বা সম্পূর্ণ যাই হোক, বিমাকারী তা পূরণ করে দেয়।
উদ্দীপকে জনাব রুবায়েত আলম যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ-এর বিভিন্ন দেশ থেকে ৫০ লক্ষ সেট বইয়ের ফরমায়েশ পান। বইগুলো জাহাজীকরণের পূর্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষার জন্য তিনি একটি বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। এ বিমার মূল বিষয়বস্তুই হলো জাহাজ ও জাহাজে অবস্থিত বই। এরূপ বিমা পলিসি গ্রহণ করায় বই পরিবহনের সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোনো ক্ষতি হলে বিমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বইগুলো সুরক্ষার জন্যই এ বিমা পলিসি গ্রহণ করা হয়েছে । এসব বৈশিষ্ট্য নৌ বিমা পলিসির কার্যক্রমের আওতায় পড়ে। সুতরাং বলা যায়, জনাব রুবায়েত আলম নৌ বিমা পলিসি গ্রহণ করেছেন।
ঘ জনাব রুবায়েত আলম বইয়ের কপিরাইট চুক্তি করে উদ্বেগমুক্ত থাকতে পারেন।
লেখক বা শিল্পী তার সৃষ্টি কর্মের ওপর একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থায়ী আইনগত অধিকার পাওয়ার জন্য কপিরাইট চুক্তি করেন। এর উদ্দেশ্য হলো স্বত্বাধিকারীর সৃষ্টিকর্মকে নকল থেকে রক্ষা করা। বই, চলচ্চিত্র, গান, সফটওয়্যার প্রভৃতি নকলমুক্ত করার জন্য কপিরাইট চুক্তি প্রয়োজন।
উদ্দীপকে জনাব রুবায়েত আলমের ‘যুদ্ধ’ উপন্যাসটি বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ৫০ লক্ষ সেট বইয়ের ফরমায়েশ পান। অনেক চাহিদা ও জনপ্রিয়তার কারণে তিনি বইটির নকলের আশঙ্কায় চিন্তিত।
এ অবস্থায় জনাব রুবায়েত আলম তার বইয়ের কপিরাইট চুক্তি করতে পারেন। কপিরাইট চুক্তি করা হলে তিনি তার রচিত বইয়ের ওপর একক অধিকার লাভ করবেন। ফলে কেউ তার বইটি নকল করলে, ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এতে ক্ষতিপূরণ আদায় করাও সম্ভব হবে। এভাবে কপিরাইট চুক্তির মাধ্যমে জনাব রুবায়েত আলম তার রচিত বইকে আইনগত সুরক্ষা দিতে পারবেন যা তাকে উদ্বেগমুক্ত করবে।

মমমপ্রশ্ন৬ জনাব রিয়াজ রহমান বাজারে একটি নতুন সাবান ছাড়েন, যা শরীরের ধুলাবালি পরিষ্কার করে এবং এর সুঘ্রাণ রক্তনালীকে সম্প্রসারণ করে। তিনি সাবানের গায়ে একটি বিশেষ লোগো ব্যবহার করেন। ফলে ক্রেতারা সহজে সাবানটি শনাক্ত করতে পারে। বাজারে সাবানটির প্রচুর চাহিদা। সম্প্রতি ‘ওমেগা কোম্পানি’ নামে অন্য একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সাবানটি উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। [য. বো. ১৭]
অ ক. ইঝঞও কী? ১
অ খ. ব্যবসায় নৈতিকতা বলতে কী বোঝায়? ২
অ গ. উদ্দীপকে সাবানের গায়ে ব্যবহৃত লোগোটি কী? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. ওমেগা কোম্পানিকে উক্ত সাবান উৎপাদন থেকে বিরত রাখতে করণীয় কী? যুক্তিসহ তোমার মতামত উপস্থাপন করো। ৪
৬ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক বাংলাদেশে পণ্যের মান নির্ধারণ, পণ্যমান পরীক্ষা ও মান নিশ্চিত করার জন্য নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম হলো ইঝঞও (ইধহমষধফবংয ঝঃধহফধৎফং ধহফ ঞবংঃরহম ওহংঃরঃঁঃরড়হ)।
খ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে উচিত-অনুচিত মেনে চলা বা ভালোকে গ্রহণ ও মন্দকে বর্জন করে চলাই হলো ব্যবসায় নৈতিকতা।
আইন মেনে যেমনি ব্যবসায় চালানো আবশ্যক, তেমনি নীতি বা আদর্শ মেনে (করণীয় ও বর্জনীয়) ব্যবসায় পরিচালনা করাও অপরিহার্য। সঠিক মাপে পণ্য দেওয়া, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা, ক্রেতাদের সাথে উত্তম আচরণ প্রভৃতি ব্যবসায় নৈতিকতার আওতায় পড়ে।
গ উদ্দীপকে সাবানের গায়ে ব্যবহৃত লোগোটি হলো ট্রেডমার্ক।
ট্রেডমার্ক হলো পণ্য বা ব্যবসায়ের এমন কোনো স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্য, চিহ্ন বা প্রতীক যা সকলের নিকট পণ্যকে সহজে পরিচিত করে তোলে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অন্য কোনো পণ্য বা প্রতিষ্ঠান থেকে এর ভিন্নতা রক্ষা করা।
উদ্দীপকের জনাব রিয়াজ রহমান বাজারে একটি নতুন সাবান ছাড়েন। তিনি সাবানের গায়ে একটি বিশেষ লোগো ব্যবহার করেন। যেটি ব্যবহারের কারণে অন্য কোম্পানির সাবান থেকে এর ভিন্নতা রক্ষিত হয়। এরূপ লোগো থাকায় ক্রেতারা সহজেই ঐ প্রতিষ্ঠানের পণ্যটি চিহ্নিত করতে পারে। এতে ক্রয়-বিক্রয় উভয় ক্ষেত্রেই সুবিধা হয়। এসব বৈশিষ্ট্যানুযায়ী সাবানের গায়ে ব্যবহৃত লোগোটিকে ট্রেডমার্ক বলা যায়।
ঘ উদ্দীপকের জনাব রিয়াজ রহমান সাবানটির ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করার মাধ্যমে ওমেগা কোম্পানিকে উক্ত সাবান উৎপাদন থেকে বিরত রাখতে পারেন।
ট্রেডমার্কের মূল উদ্দেশ্য হলো অন্য পণ্য বা প্রতিষ্ঠান থেকে এর ভিন্নতা রক্ষা করা। এ ট্রেডমার্কের স্বাতন্ত্র্য চিহ্ন কোনো কোম্পানির মালিকানাকে নির্দেশ করে। ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করা হলে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পণ্যকে নকল করা সম্ভব না। আর নকল করলেও ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায়।
উদ্দীপকের জনাব রিয়াজ রহমানের নতুন উৎপাদিত সাবান শরীরের ধূলাবালি পরিষ্কার করে এবং এর সুঘ্রাণ রক্তনালীকে সম্প্রসারণ করে। বাজারে সাবানটির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। সম্প্রতি ‘ওমেগা কোম্পানি’ নামে অন্য একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সাবানটি উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। এ অবস্থায় জনাব রিয়াজ রহমান সাবানটির ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করতে পারেন।
নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক নকল করা হলে আইনানুযায়ী তার প্রতিকার দাবি করা যায়। জনাব রিয়াজ রহমান যদি ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করেন তাহলে ওমেগা কোম্পানি তার সাবানের লোগো ব্যবহার বা নকল করে কোনো সাবান বাজারে ছাড়তে পারবে না। আর নকল করলেও তিনি ঐ কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনগতভাবে মামলা করে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবেন। সুতরাং, ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের মাধ্যমেই ওমেগা কোম্পানিকে উক্ত সাবান উৎপাদন থেকে বিরত রাখা যাবে।

মমমপ্রশ্ন৭ নাজিব বগুড়া শহরে কীটনাশকের একজন বিখ্যাত পাইকারি বিক্রেতা। তার কীটনাশকের গুদামঘরটি একটি জনাকীর্ণ এলাকায়, যেখানে অনেক ছোট ছোট চায়ের দোকান আছে। এজন্য সে মাঝে মাঝে নিজেকে অনিরাপদ মনে করে। এ বছর তার ব্যবসায়ের পরিধি বাড়ানোর অন্য একটি মধ্যমেয়াদি ঋণের প্রয়োজন। এজন্য সে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে চায় যেটি তার উভয় ধরনের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে। [ব. বো. ১৭]
অ ক. কপিরাইট কী? ১
অ খ. মেধাস্বত্ব বলতে কী বোঝায়? ২
অ গ. নাজিব বর্তমানে কোন ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলা করছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান নাজিবের এ দু’ধরনের সমস্যা একাই সমাধান করতে পারে? কীভাবে পারে? ব্যাখ্যা করো। ৪
৭ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক লেখক বা শিল্পীর মৌলিক ও সৃজনশীল শিল্পকর্ম নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিক্রয়, উন্নয়ন বা ব্যবহারের একচ্ছত্র ও বিধিবদ্ধ অধিকারকে কপিরাইট বলে।
খ ব্যক্তি তার মেধা ও মননশীলতা ব্যবহার করে যা কিছু সৃষ্টি করেন তাকে মেধাস্বত্ব বলে।
সৃজনশীল ব্যক্তি দীর্ঘদিন প্রচেষ্টা চালিয়ে মেধাসম্পদ সৃষ্টি করেন। এক্ষেত্রে তার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ তার মেধাসম্পদ ব্যবহার করতে পারে না। গল্প, নাটক, চলচ্চিত্র, ফটোগ্রাফ, সফটওয়্যার মেধাসম্পদের উদাহরণ।
গ উদ্দীপকের নাজিব বর্তমানে আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলা করছে।
ঋণের অর্থ পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত নগদ প্রবাহ না পাওয়ার সম্ভাবনাই হলো আর্থিক ঝুঁকি। কোনো ব্যবসায়ে ঋণকৃত মূলধন না থাকলে ঐ প্রতিষ্ঠানে কোনো আর্থিক ঝুঁকি থাকে না।
উদ্দীপকের নাজিব কীটনাশকের একজন বিখ্যাত পাইকারি বিক্রেতা। এ বছর তার ব্যবসায়ের পরিধি বাড়ানোর জন্য একটি মধ্যমমেয়াদি ঋণের প্রয়োজন। এখন তিনি যদি ঋণগ্রহণ করেন তাহলে ঋণকৃত অর্থ সুদসহ পরিশোধ করতে হবে। সে-ই পরিমাণ পর্যাপ্ত নগদ অর্থও তার কাছে নেই এবং ভবিষ্যতে থাকবে কিনা তা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। ঝুঁকির বৈশিষ্ট্যনুযায়ী এটি আর্থিক ঝুঁকির আওতায় পড়ে। সুতরাং, নাজিব বর্তমানে আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলা করছে।
ঘ ‘বিমা’ প্রতিষ্ঠান নাজিবের ব্যবসায়ের দু’ধরনের সমস্যা একাই সমাধান করতে পারে।
বিমা হলো বিমাগ্রহীতা ও বিমাকারীর মধ্যে সম্পাদিত একটি চুক্তি। যেখানে বিমাকারীকে বিমাগ্রহীতা নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি বা ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়।
উদ্দীপকের নাজিবের কীটনাশকের গুদামঘরটি একটি জনাকীর্ণ এলাকায় অবস্থিত, যেখানে অনেক ছোট ছোট চায়ের দোকান আছে। এজন্য সে নিজেকে অনিরাপদ মনে করে। এ বছর ব্যবসায় বাড়াতে তার মধ্যমেয়াদি ঋণের প্রয়োজন। এজন্য সে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে চায় যেটি তার উভয় ধরনের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে।
এ অবস্থায় নাজিব বিমা প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হতে পারেন। বিমা হলো ঝুঁকি বণ্টনের ব্যবস্থা। প্রাকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক কারণে ব্যবসায় যে আর্থিক ঝুঁকির সম্মুখীন হয় তা বিমার মাধ্যমে হ্রাস করা যায়। নাজিব তার গুদাম ঘরের জন্য বিমা করলে ভবিষ্যতে কোনো কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হলে ক্ষতিপূরণ পাবে। আবার বিমা হলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এটি ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য ঋণ প্রদান করে থাকে। সুতরাং বলা যায়, এ বিমা প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলে নাজিব তার দু’ধরনের সমস্যাই সমাধান করতে পারবে।

মমমপ্রশ্ন৮ জনাব মুহিববুল­াহ দীর্ঘদিন গবেষণা করে এক ধরনের নতুন ধান বীজ উদ্ভাবন করেন। এ বীজ হতে অতি অল্প সেচে এবং অল্প সময়ে ধান উৎপন্ন হয়। তিনি বিশেষ চিহ্ন বিশিষ্ট প্যাকেটে করে উদ্ভাবিত ধান বীজ বাজারে বিক্রি করে থাকেন। তথাপি একটি অসাধু বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তার উদ্ভাবিত বীজের অনুরূপ ধানের বীজ নকল করে বাজারজাত করছে। কিন্তু যথাযথ প্রমাণের অভাবে মুহিববুল­াহ উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন নি। [ঢা. বো. ১৬]
অ ক. পেটেন্ট কী? ১
অ খ. কপিরাইট বলতে কী বোঝায়? ২
অ গ. উদ্দীপকে উলি­খিত বিশেষ চিহ্নটিকে সংশ্লিষ্ট আইনের দৃষ্টিতে কী বলা হয়? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনাব মুহিববুল­াহ কর্তৃক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ করো। ৪
৮ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক নতুন কোনো উদ্ভাবিত জিনিস, বিষয় বা পদ্ধতি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আবিষ্কারককে ব্যবহার, বিক্রয় বা উন্নয়ন করার ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক অনুমোদনকৃত একচ্ছত্র অধিকারকে পেটেন্ট বলে।
মখ লেখক বা শিল্পী কর্তৃক তার সৃষ্টকর্মের ওপর একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থায়ী আইনগত অধিকারকে কপিরাইট বলে।
কপিরাইট একটি আইনগত ধারণা। এর উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টকর্ম নকল হতে রক্ষা করে প্রকৃত লেখক, শিল্পী বা স্বত্বাধিকারীর স্বার্থ সুরক্ষা করা। কপিরাইট আইন মোতাবেক একজন উদ্ভাবক তার বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির ওপর পূর্ণ অধিকার লাভ করেন। সাধারণত বই, প্রবন্ধ, নৃত্য, সংগীত কৌশল ইত্যাদি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ কপিরাইটের আওতাভুক্ত।
মগ উদ্দীপকে উলি­খিত বিশেষ চিহ্নটিকে সংশ্লিষ্ট আইনের দৃষ্টিতে ট্রেডমার্ক বলা হয়।
ট্রেডমার্ক হলো পণ্য বা ব্যবসায়ের এমন স্বতন্ত্রসূচক বৈশিষ্ট্য বা চিহ্ন, যা সবার নিকট পণ্যকে পরিচিতি করে তোলে। এতে মালিকের একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের ভিন্নতা বোঝাতেই ট্রেডমার্ক ব্যবহার করা হয়।
উদ্দীপকে জনাব মুহিববুল­াহ দীর্ঘদিন গবেষণা করে এক ধরনের নতুন ধান বীজ উদ্ভাবন করেন। এ বীজ হতে অতি অল্প সেচে এবং সময়ে ধান উৎপন্ন হয়। তিনি বিশেষ চিহ্ন বিশিষ্ট প্যাকেটে করে উদ্ভাবিত ধানের বীজ বাজারে বিক্রি করেন। অর্থাৎ জনাব মহিববুল­াহর ব্যবহৃত বিশেষ চিহ্ন দ্বারা ক্রেতারা সহজেই পণ্যটি শনাক্ত করতে পারে। এর ফলে নির্ধারিত মানের পণ্যটি তারা ক্রয় করতে পারে। এতে মালিক মহিববুল­াহও একচ্ছত্র সুবিধা পায়। তার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ প্যাকেটের চিহ্নটি ব্যবহার বা নকল করতে পারবে না। তাই বলা যায়, উলি­খিত বিশেষ চিহ্নটি আইনের দৃষ্টিতে ট্রেডমার্ক।
মঘ উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতিতে জনাব মুহিববুল­াহ কর্তৃক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যর্থতার কারণ হলো পেটেন্ট নিবন্ধনের অভাব।
নতুন আবিষ্কারের মর্যাদা লাভের পাশাপাশি এর ওপর একচ্ছত্র অধিকার ভোগের জন্য আবিষ্কারককে পেটেন্ট সনদ সংগ্রহ করতে হয়। এতে বিনা অনুমতিতে অন্য কেউ পণ্যটি তৈরি, উন্নয়ন, ব্যবহার ও বিক্রি করতে পারে না।
উদ্দীপকে জনাব মুহিববুল­াহ দীর্ঘদিন গবেষণা করে এক ধরনের নতুন ধান বীজ উদ্ভাবন করেন। ট্রেডমার্ক ব্যবহার করে তিনি ধান বীজ বিক্রি করেন। একটি অসাধু বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তার উদ্ভাবিত বীজের অনুরূপ ধানের বীজ নকল করে বাজারজাত করছে। কিন্তু যথাযথ প্রমাণের অভাবে মুহিববুল­াহ উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন না।
জনাব মুহিববুল­াহ তার নতুন ধান উদ্ভাবন পদ্ধতির পেটেন্ট নিবন্ধন করেননি। পণ্যটি পেটেন্ট আইনে নিবন্ধন করলে অন্য কেউ এরূপ বীজ উদ্ভাবন বা নকল করতে পারত না। কিংবা নকল করলে প্রতিকার পাওয়া যেত। পেটেন্ট না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও আদালত তা গ্রহণ করবে না। তাই বলা যায়, পেটেন্ট নিবন্ধনের অভাবে জনাব মুহিববুল­াহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন।

মমমপ্রশ্ন৯ জনাব আব্দুল মান্নান ‘বাংলাদেশ ও ব্যবস্থাপনা’ নামক একটি বই লিখেন। ‘অহনা প্রকাশনী’ বইটির গ্রন্থস্বত্ব কিনে নেয়। বইটি পাঠক সমাজে খুবই সমাদৃত হওয়ায় চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘তিশা প্রকাশনী’ বইটির কভার পৃষ্ঠা ও বিষয়বস্তুর সামান্য পরিবর্তন করে হুবহু প্রকাশ করে। ফলে অহনা প্রকাশনীর বিক্রয় হ্রাস পায়। ‘অহনা প্রকাশনী’ ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার চেয়ে ‘তিশা প্রকাশনী’র বিরুদ্ধে মামলা করে। [রা. বো. ১৬]
অ ক. ট্রেডমার্ক কী? ১
অ খ. ‘বিমা হচ্ছে সদ্বিশ্বাসের চুক্তি’Ñ ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. ‘অহনা প্রকাশনীর’ গ্রন্থস্বত্ব ক্রয় ব্যবসায়ের কোন আইনের সাথে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. তুমি কি মনে করো ‘অহনা প্রকাশনী’ আইনের মাধ্যমে তার ক্ষতিপূরণে সক্ষম হবে? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। ৪
৯ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক কোনো প্রতিষ্ঠান বা এর পণ্যের স্বাতন্ত্র্য প্রকাশ করার জন্য যে বিশেষ চিহ্ন, প্রতীক, শব্দ বা লোগো ব্যবহার করা হয় তাকে ট্রেডমার্ক বলে।
মখ চ‚ড়ান্ত স্বদ্বিশ্বাস বলতে বিমাকারী ও বিমাগ্রহীতার মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের সম্পর্ক থাকা বোঝায়।
বিমা ক্ষেত্রে বিমাগ্রহীতা বিমার বিষয়বস্তু সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিমাকারীকে অবহিত করে। বিমাকারী বিমা চুক্তির শর্তসমূহ সম্পূর্ণভাবে বিমাগ্রহীতাকে জানায়। এতে উভয়পক্ষ ধরে নেয় প্রয়োজনীয় সব তথ্য তারা একে অপরকে অবহিত করেছে। এ বিশ্বাসের মাধ্যমে তাদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হয় বলে বিমা চুক্তিকে চ‚ড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের চুক্তি বলা হয়।
মগ উদ্দীপকের ‘অহনা প্রকাশনী’র গ্রন্থস্বত্ব ক্রয় ব্যবসায়ের কপিরাইট আইনের সাথে সম্পর্কিত।
কপিরাইটের মাধ্যমে লেখক বা শিল্পী কর্তৃক তার সৃষ্টকর্মের ওপর একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থায়ী আইনগত অধিকার দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য নকল করা থেকে প্রকৃত লেখক, শিল্পী বা স্বত্বাধিকারীকে ক্ষতির হাত হতে রক্ষা করা।
উদ্দীপকে জনাব আব্দুল মান্নান ‘বাংলাদেশ ও ব্যবস্থাপনা’ নামক বই লিখেন। ‘অহনা প্রকাশনী’ বইটির গ্রন্থস্বত্ব কিনে নেয়। বইটি পাঠক সমাজে খুবই সমাদৃত হওয়ায় চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘অহনা প্রকাশনীর’ গ্রন্থস্বত্ব ক্রয়ের মাধ্যমে জনাব আব্দুল মান্নান শর্ত অনুযায়ী অর্থ পাবেন। আবার এ বইটি শুধু ‘অহনা প্রকাশনী’ প্রকাশ এবং বিক্রয় করতে পারবে, অন্য কোনো প্রকাশনী নকল করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, যা কপিরাইট আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং, ‘অহনা প্রকাশনীর’ গ্রন্থস্বত্ব ক্রয় ব্যবসায়ের কপিরাইট আইন সম্পর্কিত।
মঘ আমি মনে করি ‘অহনা প্রকাশনী’ আইনের মাধ্যমে তার ক্ষতিপূরণ আদায়ে সক্ষম হবে।
কপিরাইট নিবন্ধকের অফিসে কোনো কর্মের প্রণেতা, প্রকাশক বা কপিরাইটের স্বত্বাধিকারী নিবন্ধন করতে পারে। ফলে কপিরাইট আইনের বিঘœ ঘটলে উক্ত ব্যক্তি আইনগত প্রতিকার পাবেন।
উদ্দীপকে ‘বাংলাদেশ ও ব্যবস্থাপনা’ বইটি গ্রন্থস্বত্ব ‘অহনা প্রকাশনী’ কিনে নেয়। ‘তিশা প্রকাশনীর’ বইটির কভার পৃষ্ঠা ও বিষয়বস্তুর সামান্য পরিবর্তন করে হুবহু প্রকাশ করে। এতে অহনা প্রকাশনীর বিক্রয় হ্রাস পায়। তাই ‘অহনা প্রকাশনী’ ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার চেয়ে আদালতে তিশা প্রকাশনীর বিরুদ্ধে মামলা করে।
গ্রন্থস্বত্বটি ‘অহনা প্রকাশনী’ কপিরাইট আইনে নিবন্ধন করেছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দলিলপত্রাদি আদালতে উপস্থাপন করতে হবে। তিশা প্রকাশনীর নকল কপির প্রমাণপত্রাদিও উপস্থাপন করতে হবে। তবেই আদালতের মাধ্যমে ‘অহনা প্রকাশনী’ ক্ষতিপূরণ পাবে।

মমমপ্রশ্ন১০ জনাব কালাম মিয়া সৌদি আরবে দীর্ঘদিন একটি ওয়ার্কশপে কাজ করছিলেন। সেখান থেকে দেশে ফিরে এসে মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে তার অভিজ্ঞতা দিয়ে সৌরচালিত ভিন্ন ধরনের একটি পাওয়ার টিলার আবিষ্কার করেন। তার উদ্ভাবিত যন্ত্রটি গত বছর বিজ্ঞান মেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে। আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ধরনের আবিষ্কার থেকে তিনি আর্থিক সুবিধা নিতে পারেননি। কিন্তু পরবর্তীতে একটি প্রতিষ্ঠান যন্ত্রটি নকল করে বাজারজাত করতে থাকে এবং জনগণের নিকট থেকে ব্যাপক সাড়া পায়। পিতার আবিষ্কারের স্বত্ব রক্ষার্থে পুত্র মি. সোহান যথানিয়মে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেন। [দি. বো. ১৬]
অ ক. কপিরাইট কী? ১
অ খ. আইএসও-এর গুরুত্ব আলোচনা করো। ২
অ গ. জনাব কালামের কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল তা ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. মি. সোহান কি পিতার আবিষ্কারের স্বত্ব ফিরে পাবেন? উদ্দীপকের আলোকে তার যথার্থতা মূল্যায়ন করো। ৪
১০ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক লেখক বা শিল্পীর মৌলিক ও সৃজনশীল সাহিত্য বা শিল্পকর্ম নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিক্রয়, উন্নয়ন বা ব্যবহারের একচ্ছত্র ও বিধিবদ্ধ অধিকারকে কপিরাইট বলে।
মখ ওঝঙ হলো আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা, যা কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের পণ্য/সেবার গুণগত মান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে সনদ প্রদান করে।
পণ্য ও সেবার শিল্প বিবরণী প্রদানের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক মানের শিল্পকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে সাহায্য করে। আন্তর্জাতিক ঐকমত্য স্থাপনে তারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বাধা দূর করে।
মগ মি. কালামের যে ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন ছিল তা হলো পেটেন্ট।
পেটেন্টের মাধ্যমে নতুন আবিষ্কৃত ও নিবন্ধিত পণ্য বা বস্তুর ওপর আবিষ্কারকের একচ্ছত্র অধিকার পাওয়া যায়। ফলে আবিষ্কারক এটি তৈরি, উন্নয়ন, ব্যবহার ও বিক্রির একক অধিকার ভোগ করেন।
উদ্দীপকের মি. কালাম মিয়া সৌদি আরবে তার কাজের অভিজ্ঞতা দিয়ে সৌরচালিত ভিন্ন ধরনের একটি পাওয়ার টিলার আবিষ্কার করেন। এটি গত বছর বিজ্ঞান মেলায় প্রথম স্থান অধিকার করে। কিন্তু আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়াতে এ আবিষ্কার থেকে তিনি কোনো আর্থিক সুবিধা নিতে পারেননি। এক্ষেত্রে তিনি যদি পেটেন্ট নিবন্ধন করতেন তাহলে অন্য প্রতিষ্ঠান তা নকল করতে পারত না। তাই বলা যায়, মি. কালামের পেটেন্ট সনদ গ্রহণ করা প্রয়োজন ছিল।
মঘ মি. সোহান তার পিতার আবিষ্কারের স্বত্ব ফিরে পাবেন।
পেটেন্টের মাধ্যমে নতুন আবিষ্কৃত ও নিবন্ধিত পণ্য বা বস্তুর ওপর আবিষ্কারককে এটি একচ্ছত্রভাবে তৈরি, উন্নয়ন, ব্যবহার ও বিক্রির অধিকার দেওয়া হয়। এর ফলে আবিষ্কারক তার আবিষ্কারের সুফল ভোগ করতে পারেন ও নিরাপদ বোধ করেন।
মি. কালাম তার সৌদি আরবের কাজের অভিজ্ঞতা দিয়ে মৃত্যুর কিছু দিন পূর্বে একটি সৌর পাওয়ার টিলার তৈরি করেন। তবে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি এ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পাননি। পরবর্তীতে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান যন্ত্রটি নকল করে বাজারজাত করে ও ব্যাপক সাড়া পায়। তখন তার পুত্র মি. সোহান এ আবিষ্কারের স্বত্ব রক্ষার্থে যথানিয়মে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেন।
মি. সোহান সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তার পিতার আবিষ্কৃত পাওয়ার টিলারের নিবন্ধন গ্রহণ করলে একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে অন্য কেউ এটি নকল করতে পারবে না। তাই এখন পেটেন্ট সনদ গ্রহণ করে নিবন্ধন করলে স্বত্ব ফেরত পাবেন।

মমমপ্রশ্ন১১ জনাব হারুন নতুন ধরনের প্রযুক্তি আবিষ্কারের মাধ্যমে নতুন টর্চলাইট উৎপাদন করেন। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে টর্চলাইটটি সূর্যালোক ও চন্দ্রালোকের মাধ্যমে চার্জ হয়। তিনি ‘ঐধৎঁহ ঞড়ৎপয’ নামে এ টর্চলাইট বাজারজাত করেছেন। তিনি এ নাম ও প্রতীক যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট নিবন্ধন করেন। হারুনের বন্ধু রুবেল তাকে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের জন্য অপর একটি আইনেও রেজিস্ট্রি করতে বলেন। [কু. বো. ১৬]
অ ক. ইএগঊঅ-এর পূর্ণরূপ কী? ১
অ খ. ব্যবসায়ে সহায়ক সেবা প্রয়োজন কেন? ২
অ গ. উদ্দীপকে উলি­খিত ‘ঐধৎঁহ ঞড়ৎপয’-এর রেজিস্ট্রেশন কোন আইনের অধীনে করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকে উলি­খিত ‘ঐধৎঁহ ঞড়ৎপয’-এর রেজিস্ট্রেশন আইন ও রুবেল কর্তৃক বর্ণিত অপর আইনের তুলনা করো। ৪
১১ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক ইএগঊঅ-এর পূর্ণরূপ হলো ইধহমষধফবংয এধৎসবহঃ গধহঁভধপঃঁৎবৎং ধহফ ঊীঢ়ড়ৎঃবৎং অংংড়পরধঃরড়হ।
মখ একটি ব্যবসায় গঠন ও পরিচালনায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যে সেবার প্রয়োজন পড়ে, তাকে ব্যবসায়ে সেবা বলে।
ব্যবসায় করতে অনেক কিছু জানতে হয়। অনেকের সাহায্য-সহযোগিতার প্রয়োজন পড়ে। এখানে নানা ধরনের নিয়ম ও বাধ্যবাধকতা থাকে, যা প্রতিষ্ঠানের মান্য করার প্রয়োজন পড়ে। এসব নিয়ম পালন করতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সেবার দরকার হয়। এসব কারণে ব্যবসায়ের সহায়ক সেবার দরকার হয়।
মগ উদ্দীপকের ‘ঐধৎঁহ ঞড়ৎপয’-এর রেজিস্ট্রেশন ট্রেডমার্ক আইনের অধীনে করা হয়েছে।
ট্রেডমার্ক হলো পণ্য বা ব্যবসায়ের এমন কোনো স্বতন্ত্রসূচক বৈশিষ্ট্য, চিহ্ন বা প্রতীক, যা সকলের নিকট ব্যবসায় বা পণ্যকে পরিচিত করে তোলে এবং এর মালিকের একচ্ছত্র অধিকার নির্দেশ করে। ট্রেডমার্ক একটি পণ্যকে সমজাতীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য হতে পৃথক করে।
উদ্দীপকে হারুন নতুন ধরনের প্রযুক্তি আবিষ্কারের মাধ্যমে নতুন টর্চলাইট উৎপাদন করেন। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে টর্চলাইট সূর্যালোক ও চন্দ্রালোকের মাধ্যমে চার্জ হয়। তিনি ‘ঐধৎঁহ ঞড়ৎপয’ নামে এ টর্চলাইট বাজারজাত করেছেন এবং এ নাম ও প্রতীক যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট নিবন্ধন করেন। এ নাম ও প্রতীক তার টর্চলাইটকে বাজারের অন্যান্য টর্চলাইট থেকে আলাদা করবে। সুতরাং, ‘ঐধৎঁহ ঞড়ৎপয’-এর রেজিস্ট্রেশন স্পষ্টতই ট্রেডমার্ক আইনের অধীনে সম্পন্ন হয়েছে।
মঘ উদ্দীপকের ‘ঐধৎঁহ ঞড়ৎপয’-এর রেজিস্ট্রেশন আইন হলো ট্রেডমার্ক আইনের অধীন এবং রুবেল কর্তৃক বর্ণিত আইন হলো পেটেন্ট আইনের অধীন।
ট্রেডমার্কের মাধ্যমে পণ্য বা সেবাকে অন্যদের থেকে আলাদা করা যায়। স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসূচক চিহ্ন, নকশা বা প্রতীকের মাধ্যমে এটি করা হয়। অন্যদিকে পেটেন্ট হলো নতুন আবিষ্কৃত ও নিবন্ধিত পণ্য বা বস্তুর ওপর আবিষ্কারকের একচ্ছত্র অধিকার, যার মাধ্যমে তিনি এটি তৈরি, উন্নয়ন, ব্যবহার ও বিক্রির একক অধিকার ভোগ করেন।
জনাব হারুন নতুন ধরনের প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন ‘ঐধৎঁহ ঞড়ৎপয’ নামে বিশেষ ধরনের টর্চলাইট উৎপাদন করেন, যা সূর্যালোক ও চন্দ্রালোকের মাধ্যমে চার্জ হয়। তিনি এ নাম ও প্রতীক যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট নিবন্ধন করেন। কিন্তু হারুনের বন্ধু তাকে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের জন্য পেটেন্ট আইনেও রেজিস্ট্রি করতে বলেন।
পেটেন্ট আইনে সরকার জনাব হারুনকে তার টর্চলাইট আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ অনুমোদন দিবে। তাই তার অনুমতি ছাড়া এ টর্চলাইট কেউ উৎপাদন কিংবা বিক্রি করতে পারবে না। এতে জনাব হারুনের আবিষ্কৃত মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ হবে।

মমমপ্রশ্ন১২ জনাব কাশেম একজন স্বনামধন্য লেখক। সম্প্রতি তার লেখা নিবন্ধিত একটি বই বাজারে পাঠকদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বইয়ের কাটতি দেখে মি. আলম তার প্রকাশনা থেকে জনাব কাশেমকে না জানিয়ে বইটি পুনঃপ্রকাশ করে বাজারে ছাড়েন। এতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং মি. আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। [চ. বো. ১৬]
অ ক. ইওগঝঞঊঈ কী? ১
অ খ. ঊট কেন গঠন করা হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. মি. আলম বাংলাদেশের প্রচলিত কোন ব্যবসায়িক আইন লঙ্ঘন করেন? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. জনাব কাশেম কি দেওয়ানি আইনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাবেন? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করো। ৪
১২ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডসহ সাতটি দেশ নিজেদের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে উন্নয়নের জন্য যে উপআঞ্চলিক জোট গঠন করেছে তাকে বিমসটেক বলে।
মখ ইইউ-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
ইইউ একটি স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্থা। ইউরোপসহ বিশ্বের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একক মুদ্রার প্রচলন, মুক্তবাজার সৃষ্টি, নিরাপত্তা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে এ সংস্থাটি গঠন করা হয়। কৃষি, মৎস্য, খাদ্য, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিও এর অন্যতম কাজ।
মগ জনাব আলম বাংলাদেশে প্রচলিত ব্যবসায়িক আইন ‘কপিরাইট’ লঙ্ঘন করেন।
কপিরাইটের মাধ্যমে সাহিত্য কর্ম, নাট্যকর্ম, সংগীত, চলচ্চিত্র ছবি বা শব্দ রেকর্ড করা, শিল্প কর্ম, চিত্রকর্ম, ভাস্কার্য, স্থাপত্য, কলা ইত্যাদি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির ওপর লেখকের অধিকার সংরক্ষণ করা যায়। বুদ্ধিবৃত্তিক সব সম্পত্তি কপিরাইট চুক্তির মাধ্যমে বাজারজাত করা যায়। কপিরাইটের মাধ্যমে মেধা সম্পদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে উদ্যোক্তা ক্ষতি হতে রক্ষা পান।
উদ্দীপকে জনাব কাশেম একজন স্বনামধন্য লেখক। সম্প্রতি তার লেখা নিবন্ধিত একটি বই বাজারে পাঠকের মাঝে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বইয়ের জনপ্রিয়তা দেখে মি. আলম লেখকের অনুমতি না নিয়ে পুনঃপ্রকাশ করে বাজারে ছাড়েন। এতে জনাব কাশেম আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হন। জনাব কাশেমের বইটি অনুমতি না নিয়ে পুনঃপ্রকাশ করায় মি. আলম কপিরাইট আইন ভঙ্গ করেছেন।
মঘ উদ্দীপকের জনাব কাশেম দেওয়ানি আইনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাবেন।
বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মের স্বত্বাধিকার সংরক্ষণ করার একটি আইন কপিরাইট। কপিরাইট আইনের ফলে লেখক আর্থিক এবং সামাজিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নিবন্ধিত কোনো বইয়ের পুনঃপ্রকাশ বা আংশিক কপি করে বাজারে ছাড়ে তবে তিনি কপিরাইট আইন লঙ্ঘনকারী।
উদ্দীপকের জনাব আলম কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করেছেন। তিনি জনাব কাশেমের বই তাকে না জানিয়ে পুনঃপ্রকাশ করে বাজারে ছাড়েন। যেটি কপিরাইট আইনের পরিপন্থী। কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করায় ন্যূনতম ছয় মাস থেকে চার বছরের কারাদণ্ড হতে পারে কিংবা ৫০,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ হতে পারে।
জনাব কাশেম দেওয়ানি আইনের মাধ্যমে প্রতিকার পাবেন। কারণ, কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের জন্য স্বত্বাধিকারীর দেওয়ানি আইনে প্রতিকার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি আদালতের দেওয়া রায় অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবেন। সুতরাং, বইটি কপিরাইট আইনে নিবন্ধিত হওয়ায় জনাব কাশেম দেওয়ানি আইনের অধীনে ক্ষতিপূরণ পাবেন।

মমমপ্রশ্ন১৩ এম এ খালেক একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তিনি নতুন একটি সফটওয়্যার ডেভেলপ করে তা নিবন্ধন করার পর ২০ লক্ষ টাকায় একটি বড় কোম্পানির কাছে বিক্রয় করেন। কোম্পানিটি তাদের হিসাব সংরক্ষণে ঐ সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকে। ১ বছর পর তিনি লক্ষ করলেন তার উদ্ভাবিত সফটওয়্যারটি অপর দুটি কোম্পানিও ব্যবহার করছে। তিনি ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করলেন।
[সি. বো., য. বো. ১৬]
অ ক. ট্রেডমার্ক কী? ১
অ খ. ‘বিমা হচ্ছে সদ্বিশ্বাসের চুক্তি’Ñ ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. এম এ খালেকের আবিষ্কারটি কোন আইনে নিবন্ধন করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে এম এ খালেক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। ৪
১৩ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক কোনো প্রতিষ্ঠান বা এর পণ্যের স্বাতন্ত্র্য প্রকাশ করার জন্য যে বিশেষ চিহ্ন, প্রতীক, শব্দ বা লোগো ব্যবহার করা হয় তাকে ট্রেডমার্ক বলে।
মখ চ‚ড়ান্ত স্বদ্বিশ্বাস বলতে বিমাকারী ও বিমাগ্রহীতার মধ্যে পারস্পারিক বিশ্বাসের সম্পর্ক থাকা বোঝায়।
বিমার ক্ষেত্রে বিমাগ্রহীতা বিমার বিষয়বস্তু সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিমাকারীকে অবহিত করে। বিমাকারী বিমা চুক্তির শর্তসমূহ সম্পূর্ণভাবে বিমাগ্রহীতাকে জানায়। এতে উভয় পক্ষ ধরে নেয় প্রয়োজনীয় সব তথ্য তারা একে অপরকে অবহিত করেছে। এ বিশ্বাসের মাধ্যমে তাদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হয় বলে বিমা চুক্তিকে চ‚ড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের চুক্তি বলা হয়।
মগ উদ্দীপকের এম এ খালেকের আবিষ্কারটি কপিরাইট আইনে নিবন্ধন করা হয়েছে।
কপিরাইট হলো সরকার কর্তৃক এক ধরনের বিধিবদ্ধ অধিকার। যার দ্বারা লেখক বা শিল্পী তার নতুন ও সৃষ্টিশীল সাহিত্য বা শিল্পকর্ম নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহারের একচ্ছত্র অধিকার লাভ করে থাকেন। এ আইনের মাধ্যমে গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা, থিসিস, নাটক, চলচ্চিত্র, সাহিত্যকর্ম, অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং, ফটোগ্রাফ, সফটওয়্যার ইত্যাদি কপিরাইট করা হয়।
উদ্দীপকের এম এ খালেক একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তিনি তার ডেভেলপ করা সফটওয়্যার নিবন্ধন করেন, যা তাকে একচ্ছত্র অধিকার দিয়ে থাকে। এটি এমন একটি মেধাভিত্তিক সম্পদ, যা না করলে এম এ খালেক ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। তিনি নিবন্ধন করেছেন বলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সফটওয়্যারটি অন্য কেউ স্বত্বাধিকারী বলে দাবি করতে পারবে না। অন্য কেউ এটি ব্যবহার করলে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবেন। সুতরাং, এম এ খালেক তার ডেভেলপ করা সফটওয়্যারটি কপিরাইট আইনে নিবন্ধন করেছেন।
মঘ উদ্দীপকের জনাব এম এ খালেক উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে কপিরাইট আইনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাবেন।
কেউ যদি উদ্ভাবকের আবিষ্কার তার অনুমতি না নিয়ে ব্যবহার বা বিক্রি করে তবে তিনি কপিরাইট আইন লঙ্ঘনকারী। কপিরাইট আইন লঙ্ঘনকারী ন্যূনতম ছয় মাস থেকে চার বছর কারাদণ্ড অন্যথায় ৫০,০০০ টাকা জরিমানার শিকার হতে পারেন।
এম এ খালেক একটি সফটওয়্যার উদ্ভাবন করেন। তিনি একটি কোম্পানিকে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করার অনুমতি দেন। কোম্পানিটি তাদের হিসাব সংরক্ষণে ঐ সফটওয়্যারটি ব্যবহার করছে। ১ বছর পর দেখা গেল, অন্য দুইটি কোম্পানি ঐ সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। অন্য দুটি কোম্পানি ঐ সফটওয়্যার ব্যবহার করায় এটি কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করার শামিল।
এম এ খালেক কোম্পানি দুটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। কপিরাইট নিবন্ধন করা থাকায় আদালত কোম্পানি দুটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। তিনি আদালতের মাধ্যমে কপিরাইট আইনের অধীনে ক্ষতিপূরণ পাবেন এবং কোম্পানি দুটিকে জরিমানা প্রদান করতে হবে।

মমমপ্রশ্ন১৪ পদ্মা নদীর ধারে রবিন ফার্মাসিউটিক্যাল লি.-এর কারখানা অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি ভালো মানের ঔষধ উৎপাদন ও বিক্রয় করে। কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীর পানির সঙ্গে মিশছে। এতে নদীর পানি ও এলাকার বায়ু দূষিত হচ্ছে। এলাকার অধিকাংশ লোক ক্ষুব্ধ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি দূষণ রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। [ব. বো. ১৬]
অ ক. ইঝঞও কী? ১
অ খ. কপিরাইট কেন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. রবিন ফার্মাসিউটিক্যাল লি. কোন ধরনের আইন অমান্য করছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. দূষণরোধের জন্য রবিন ফার্মাসিউটিক্যাল লি. কোন ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে? মতামত দাও। ৪
১৪ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক বাংলাদেশে পণ্য বা সেবার মান নির্ধারণ, পরীক্ষণ, নিশ্চিতকরণ ও উন্নতি সাধনের কাজে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম হলো ইঝঞও।
মখ লেখক বা শিল্পী তার নতুন ও সৃজনশীল কর্ম নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিক্রয়, উন্নয়ন বা ব্যবহারের একচ্ছত্র ও বিধিবদ্ধ অধিকারকে কপিরাইট বলে।
কপিরাইট নিবন্ধন করা হয় সৃষ্টিকারীর স্বত্ব রক্ষা করার জন্য। কপিরাইট আইনের অধীনে কোনো সাহিত্য, চিত্রকর্ম বা বইয়ের স্বত্বাধিকারীর স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয় সম্পূর্ণভাবে। মূলত মালিকের স্বত্বাধিকার রক্ষা করার জন্যই কপিরাইট নিবন্ধন করা হয়।
মগ উদ্দীপকের রবিন ফার্মাসিউটিক্যাল লি. পরিবেশ আইন অমান্য করেছে।
পরিবেশ রক্ষার জন্য এ আইন প্রণয়ন করা হয়। পরিবেশ আইন পরিবেশকে বিভিন্ন রকম দূষণ থেকে রক্ষা করে। পরিবেশ আইন অমান্য করলে মানব জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
উদ্দীপকে রবিন ফার্মাসিউটিক্যাল লি.-এর কারখানা পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত। কারখানাটির অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হয়। এতে নদীর পানি ও এলাকার বায়ু দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ আইন অনুযায়ী রবিন ফার্মাসিউটিক্যাল লি.-এর উচিত ছিল বর্জ্য নদীতে না ফেলে কারখানার বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তা না করে সরাসরি নদীতে ফেলে আইন অমান্য করেছে।
মঘ উদ্দীপকের রবিন ফার্মাসিউটিক্যাল লি. পানি দূষণ রোধে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
পরিবেশের স্বাভাবিক অবস্থার বিপর্যয় হলো দূষণ। পরিবেশ দূষণের মধ্যে অন্যতম হলো পানি দূষণ। এ পানি দূষণ রোধে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।
রবিন ফার্মাসিউটিক্যাল লি.-এর কারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীর পানির সঙ্গে মিশছে। এতে নদীর পানি ও এলাকার বায়ু দূষিত হচ্ছে। এলাকার অধিকাংশ মানুষ ক্ষুব্ধ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি পানি দূষণ রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
এ অবস্থায় রবিন ফার্মাসিউটিক্যাল লি. বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। এটিকে ইটিপি প্রযুক্তি বলে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে দূষিত বর্জ্য পরিশোধন করা হয়। ফলে শোধিত বর্জ্য পানিতে মিশে পানি দূষণ রোধ করবে। এতে বায়ু দূষণও থাকবে না। সুতরাং, বর্জ্য নিষ্কাশনের মাধ্যমেই রবিন ফার্মাসিউটিক্যাল লি. পানির দূষণ রোধ করতে পারে।

 

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply