এইচএসসি ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং ষষ্ঠ অধ্যায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন অর্থায়ন সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

অধ্যায়-৬: দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

মমমপ্রশ্ন„১ জনাব আয়নাল হক বন্ড বাজারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তিনি বিনিয়োগের জন্য নিæোক্ত দুটি বন্ড বিবেচনা করছেন :
বন্ড কুপন হার মেয়াদ বাজারমূল্য
চ ১৩% ৫ বছর ১,১৯০ টাকা
ছ ১১% ” ৮০০ টাকা
উভয় বন্ডের অভিহিত মূল্য ১,০০০। জনাব আয়নাল হকের প্রত্যাশিত আয়ের হার ১০% এবং তিনি ছ বন্ডে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। [ঢা. বো. ১৭]
অ ক. জিরো কুপন বন্ড কী? ১
অ খ. অগ্রাধিকার শেয়ারকে কেন শংকর জাতীয় সিকিউরিটি বলা হয়? ২
অ গ. চ বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয় করো। ৩
অ ঘ. তুমি কি মনে করো উদ্দীপকে জনাব আয়নাল হক সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন? বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্যের ভিত্তিতে তোমার মতামত দাও। ৪
১ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক যে বন্ডের লিখিত মূল্যের ওপর কোনো সুদ প্রদান করা হয় না তাকে জিরো কুপন বন্ড বলে।
মখ অগ্রাধিকার শেয়ারে সাধারণ শেয়ার ও ঋণপত্র উভয়ের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় এ ধরনের শেয়ারকে হাউব্রিড বা সংকর জাতীয় সিকিউরিটি বলে।
অগ্রাধিকার শেয়ার ও সাধারণ শেয়ার উভয়ই কোম্পানির মালিকানা নির্দেশ করে। অন্যদিকে অগ্রাধিকার শেয়ার ও ঋণপত্র উভয়ই স্থির আয়যুক্ত সিকিউরিটি। এজন্য অগ্রাধিকার শেয়ারকে হাইব্রিড বা সংকর জাতীয় সিকিউরিটি বলে।
মগ উদ্দীপক হতে চ বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয়:
দেয়া আছে.
কুপন হার = ১৩%
মেয়াদ (হ) = ৫ বছর
প্রত্যাশিত আয়ের হার (কফ) = ১০% বা ০.১০
ধরি, লিখিত মূল্য (গঠ) = ১,০০০ টাকা
 সুদের পরিমাণ (ও) = ১,০০০  ১৩% = ১৩০ টাকা
বন্ডের বর্তমান মূল্য ঠই = ও  ১ –১(১+কফ)হকফ + গঠ(১ + কফ)হ
= ১৩০  ১ –১(১+ ০.১০)৫০.১০ + ১০০০(১ + ০.১০)৫
= ১৩০  ৩.৭৯ + ৬২০.৯২
= ৪৯২.৮০ + ৬২০.৯২
= ১,১১৩.৭২ টাকা
উত্তর: ১,১১৩.৭২ টাকা।
মঘ ছ বন্ডের অন্তর্নিহিত (বর্তমান) মূল্য নির্ণয়:
দেয়া আছে,
কুপন = ১১%
প্রত্যাশিত আয়ের হার (কফ) = ১০% বা ০.১০
ধরি, লিখিত মূল্য (গঠ) = ১,০০০ টাকা
 সুদের পরিমাণ (ও) = ১,০০০  ১১% = ১১০ টাকা
বন্ডের বর্তমান মূল্য (ঠই) = ওকফ = ১১০০.১০ = ১,১০০ টাকা
ছ বন্ডের বর্তমান মূল্য ১,১০০ টাকা; বাজারমূল্য ৮০০ টাকা এবং চ বন্ডের বর্তমান মূল্য ১,১১৩.৭২ টাকা, বাজারমূল্য ১,১৯০ টাকা। এখানে ছ বন্ডটি ক্রয় করা লাভজনক। সুতরাং, জনাব আয়নাল সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মমমপ্রশ্ন„২ সিগমা কোং লি. শেয়ার ইস্যু করে নতুন প্রকল্পের জন্য মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়। কোম্পানি শেয়ার প্রতি লভ্যাংশ ২০ টাকা, প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির হার ৮% ও উপার্জন হার ১০% ঘোষণা করে। পক্ষান্তরে, হাইটেক কোং লি. শেয়ার ইস্যুর পরিবর্তে বন্ড বিক্রি করে নতুন প্রকল্পের জন্য মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়। কোম্পানি ১,০০০ টাকা মূল্যের বন্ড ইস্যু করে। প্রতিটি বন্ডের বাজারমূল্য ৮০০ টাকা, কুপন হার ৬% এবং মেয়াদকাল ৫ বছর। [রা. বো. ১৭]
অ ক. কর্পোরেট বন্ড কী? ১
অ খ. “অগ্রাধিকার শেয়ার হলো নিশ্চিত নিরাপদ আয়ের উৎস” ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. সিগমা কোং লিমিটেডের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য কত? ৩
অ ঘ. জনাব জামান একজন বিনিয়োগকারী। তিনি বিনিয়োগ করতে চাইলে কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবেন? উদ্দীপকের আলোকে তা বিশ্লেষণ করো। ৪
২ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক কর্পোরেট বন্ড হলো কোম্পানি বা কর্পোরেশন কর্তৃক ইস্যুকৃত দীর্ঘমেয়াদি ঋণপত্র।
খ প্রতিষ্ঠানের মুনাফা হলেই অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারগণ পূর্বে উলি­খিত নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন। তাই অগ্রাধিকার শেয়ারকে নিশ্চিত নিরাপদ আয়ের উৎস বলা হয়।
মুনাফা হলে প্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের লভ্যাংশ প্রদানে বাধ্য। তাছাড়া আর্থিক সংকটের কারণে লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে মুনাফা অর্জিত হলেই অগ্রাধিকার শেয়ার মালিকদের পূর্বের বকেয়াসহ সকল লভ্যাংশ পরিশোধ করা হয়। এজন্য অগ্রাধিকার শেয়ারকে নিশ্চিত ও নিরাপদ আয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গ সিগমা কোম্পানির শেয়ারের মূল্য নির্ণয়:
দেওয়া আছে,
শেয়ার প্রতি প্রত্যাশিত লভ্যাংশ, উ১ = ২০ টাকা
প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির হার, ম = ৮% বা ০.০৮
উপার্জন হার, কব = ১০% বা ০.১০
শেয়ারের মূল্য, চ০ = ?
আমরা জানি, সাধারণ শেয়ারের ব্যয়
কব = উ১চ০ + ম
বা, ০.১০ = ২০চ০ + ০.০৮
বা, ২০চ০ = ০.১০ ­ ০.০৮
বা, ২০চ০ = ০.০২
বা, ০.০২ চ০ = ২০
¯ চ০ = ১,০০০
অতএব, সিগমা কোম্পানির শেয়ারের মূল্য হবে ১,০০০ টাকা।
উত্তর: ১,০০০ টাকা।
ঘ কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা উত্তম তা নির্ণয়ের জন্য উভয় কোম্পানির আয়ের হার নির্ণয় করতে হবে।
বন্ডের আয়ের হার নির্ণয়:
মেয়াদপূর্তিতে আয়ের হার, ণঞগ = ও + গঠ – ঝঠহগঠ + ঝঠ২ ূ ১০০
= ৬০ + ১০০০ ­ ৮০০৫১০০০ + ৮০০২ ূ ১০০
= ৬০ + ৪০৯০০ ূ ১০০
= ১১.১১%
হাইটেক কোং লি. কর্তৃক ইস্যুকৃত বন্ডের আয়ের হার ১১.১১%। অন্যদিকে সিগমা কোং লি. কর্তৃক ইস্যুকৃত সাধারণ শেয়ারের উপার্জন হার ১০% যা বন্ডের আয়ের হার অপেক্ষা কম। তাই বিনিয়োগকারী হিসেবে জনাব জামানের বন্ড ইস্যুকারী কোম্পানি হাইটেক কোং লি.-এ বিনিয়োগ করা উচিত।

মমমপ্রশ্ন„৩ মিসেস ফেরদৌসী একজন গৃহিণী। তিনি তার জমানো অর্থ ১২% সুদের হারে ১০ বছর মেয়াদে কুপণ বন্ডে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। প্রতিটি কুপন বন্ডের অভিহিত মূল্য ১০,০০০ টাকা হলেও বাজার মূল্য ১১,৫০০ টাকা। উলে­খ্য, মিসেস ফেরদৌসীর প্রত্যাশিত আয়ের হার ১০%। [দি. বো. ১৭]
অ ক. জিরো কুপন বন্ড কী? ১
অ খ. কোনো বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য বাজারমূল্য অপেক্ষা বেশি হলে বিনিয়োগকারী কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে? ২
অ গ. উদ্দীপকে উলি­খিত বন্ডের চলতি আয়ের হার নির্ণয় করো। ৩
অ ঘ. মিসেস ফেরদৌসীর বন্ডটি ক্রয় করা লাভজনক হবে কি? বিশ্লেষণ করো। ৪
৩ নং প্রশ্নের উত্তর অ
ক যে বন্ডের ক্ষেত্রে এর ধারককে কোনো সুদ প্রদান করা হয় না তাকে জিরো কুপন বন্ড বলে।
সহায়ক তথ্য
উদাহরণ : মনে করি, অঈও কোম্পানি ৫ বছর মেয়াদি ২০% রূপান্তরযোগ্য জিরো কুপন বন্ড ৬২০ টাকায় ইস্যু করেছে যার লিখিত মূল্য ১,০০০ টাকা। এক্ষেত্রে বন্ডহোল্ডার বা বিনিয়োগকারীগণ মেয়াদ শেষে ১,০০০ টাকা পাবেন। সুতরাং, এখানে বিনিয়োগকারীর মুনাফা হলো (লিখিত মূল্য, ১,০০০ টাকা – ক্রয়মূল্য, ৬২০ টাকা) ৩৮০ টাকা।
খ কোনো বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য (ওহঃৎরহংরপ াধষঁব), বাজারমূল্য অপেক্ষা বেশি হলে বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য মূলত বন্ড হতে সম্ভাব্য প্রাপ্ত নগদ প্রবাহের বর্তমান মূল্যকেই নির্দেশ করে। অর্থাৎ বন্ড হতে প্রাপ্তির প্রকৃত মূল্য নির্দেশ করে। যদি অন্তর্নিহিত মূল্য, বাজারমূল্য অপেক্ষা বেশি হয় তবে তা মুনাফা নির্দেশ করে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
গ উদ্দীপকে উলি­খিত বন্ডের চলতি আয়ের হার নির্ণয়:
আমরা জানি,
চলতি আয়ের হার, ঈণ = ওঝঠ  ১০০
এখানে,
বন্ডের অভিহিত মূল্য = ১০,০০০ টাকা
 বন্ডের বার্ষিক সুদের পরিমাণ, ও = (১০,০০০  ১২%) = ১২০০ টাকা
বন্ডের বর্তমান বাজারমূল্য ঝঠ = ১১,৫০০ টাকা
চলতি আয়ের হার, ঈণ = ১২০১১৫০০  ১০০ = ১০.৪৩%
উত্তর: ১০.৪৩%।
ঘ বন্ডটি ক্রয় করা লাভজনক হবে কিনা তা জানতে হলে বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয় করতে হবে।
আমরা জানি,
বন্ডের বর্তমান মূল্য, ঠউ = ও  ১ – ১(১ + কফ)হকফ + গঠ( ১ + কফ)হ
এখানে,
প্রত্যাশিত আয়ের হার = ১০%
মেয়াদকাল (হ) = ১০ বছর
বন্ডের অভিহিত মূল্য, (গঠ) = ১০,০০০ টাকা
বার্ষিক সুদের পরিমাণ, (ও) = (১০,০০০  ১২%) = ১,২০০ টাকা
 বন্ডের বর্তমান মূল্য,
ঠই = ১,২০০ ১ @ ১(১ + ০.১০)১০০.১০ + ১০০০০(১ + ০.১০)১০
= ১,২০০  ৬.১৪৪৬ + ৩,৮৫৫.৪৩
= ৭,৩৭৩.৫২ + ৩,৮৫৫.৪৩
= ১১,২২৮.৯৫
এখানে, বন্ডের বর্তমান মূল্য ১১,২২৮.৯৫ টাকা এবং বাজারমূল্য ১১,৫০০ টাকা। অর্থাৎ বন্ডের বর্তমান মূল্য বাজারমূল্য অপেক্ষা কম হওয়ায় বন্ডটি ক্রয় করা লাভজনক হবে না।

মমমপ্রশ্ন৪ জাহিদ সাহেব তার সঞ্চয়কৃত অর্থ বন্ড বাজারে বিনিয়োগ করতে চাইছেন। তিনি কেয়া ও খেয়া কোম্পানির বন্ডে বিনিয়োগে আগ্রহী। কেয়া কোম্পানির বন্ডের কুপন হার ১২%, বাজারমূল্য ২,৫০০ টাকা এবং মেয়াদ ৭ বছর। অন্যদিকে, খেয়া কোম্পানির বন্ডের কুপন হার ৯% এবং বাজারমূল্য ১,৭০০ টাকা। উভয় বন্ডের অভিহিত মূল্য ২,০০০ টাকা। জাহিদ সাহেবের প্রত্যাশিত আয়ের হার ১০%। [কু. বো. ১৭]
ক. জাঙ্ক বন্ড কী? ১
খ. সংকর জাতীয় সিকিউরিটি কোনটি? ব্যাখ্যা করো। ২
গ. কেয়া কোম্পানির বন্ডের মেয়াদপূর্তিতে আয়ের হার নির্ণয় করো। ৩
ঘ. বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্যের ভিত্তিতে জাহিদ সাহেবের জন্য উত্তম বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত সুপারিশ করো। ৪
৪ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক যে বন্ডে অধিক ঝুঁকি এবং অধিক আয়ের সম্ভাবনা থাকে, তাকে জাঙ্ক বন্ড বলে।
মখ অগ্রাধিকার শেয়ারে সাধারণ শেয়ার ও ঋণপত্র উভয়ের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় এ ধরনের শেয়ারকে হাউব্রিড বা সংকর জাতীয় সিকিউরিটি বলে।
অগ্রাধিকার শেয়ার ও সাধারণ শেয়ার উভয়ই কোম্পানির মালিকানা নির্দেশ করে। অন্যদিকে অগ্রাধিকার শেয়ার ও ঋণপত্র উভয়ই স্থির আয়যুক্ত সিকিউরিটি। এজন্য অগ্রাধিকার শেয়ারকে হাইব্রিড বা সংকর জাতীয় সিকিউরিটি বলে।
মগ কেয়া কোম্পানির বন্ডের মেয়াদপূর্তিতে আয়ের হার নির্ণয়:
আমরা জানি,
মেয়াদপূর্তিতে আয়ের হার, ণঞগ = ও + গঠ – ঝঠহগঠ + ঝঠ২
= ২৪০ + ২০০০ – ২৫০০৭২০০০ + ২৫০০২
= ২৪০ +  ৫০০৭৪৫০০২
= ০.০৭৪৯২ =৭.৪৯%
সুতরাং, কেয়া কোম্পানির বন্ডের মেয়াদপূর্তিতে আয়ের হার ৭.৪৯%।
উত্তর: ৭.৪৯%।
মঘ কেয়া কোম্পানির বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য নির্ণয়:
বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য ঠই = ও  ১  ১(১ + কফ)হকফ + গঠ(১ + কফ)হ
= ২৪০  ১  ১(১ + ০.১০)৭০.১০ + ২০০০(১ + ০.১০)৭
= ২৪০ ূ ৪.৮৬৮৪১৮৮ + ১০২৬.৩১৬২৩৬
= ১,১৬৮.৪২০৫১২ + ১০২৬.৩১৬২৩৬
= ২,১৯৪.৭৩৬৮ টাকা
খেয়া কোম্পানির বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য নির্ণয়:
চিরস্থায়ী বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য,
ঠই = ওকফ
= ১৮০০.১০ = ১,৮০০ টাকা
অতএব, কেয়া কোম্পানির বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য বাজারমূল্য অপেক্ষা কম। অর্থাৎ বন্ডটি অতি মূল্যায়িত হয়েছে। অপরদিকে, খেয়া কোম্পানির বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য (১,৮০০ টাকা) বাজার মূল্য (১,৭০০ টাকা) অপেক্ষা বেশি। তাই খেয়া কোম্পানির বন্ড কিনলে মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা (১,৮০০  ১,৭০০) = ১০০ টাকা। কেয়া কোম্পানির বন্ড কিনলে ক্ষতি হবার সম্ভাবনা (২,৫০০  ২,১৯৫) = ৩০৫ টাকা।
তাই বলা যায়, লাভ-ক্ষতি বিবেচনায় জাহিদ সাহেবের খেয়া কোম্পানির বন্ডে বিনিয়োগ করা উত্তম সিদ্ধান্ত হবে বলে আমি মনে করি।

মমমপ্রশ্ন৫ চিত্রা কোম্পানি লি. ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে ১৫ বছর মেয়াদি ১,০০০ টাকা লিখিত মূল্যের বন্ড বাজারে ইস্যু করে। যার কুপন হার ১০% এবং বন্ড হতে প্রয়োজনীয় আয়ের হার ১২%। [চ. বো. ১৭]
ক. বন্ড বাজার কাকে বলে? ১
খ. কুপন রেট বৃদ্ধির ফলে বন্ডের চলতি আয়ের ওপর কী প্রভাব পড়বে? ২
গ. উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী চিত্রা কোম্পানি লি.-এর বন্ডের মূল্য নির্ণয় করো। ৩
ঘ. যদি বন্ড হতে প্রত্যাশিত আয়ের হার বৃদ্ধি পেয়ে ১৫% হয়, হবে বন্ডটি ক্রয় করা লাভজনক হবে কি? মূল্যায়ন করো। ৪
৫ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক যে বাজারে বিভিন্ন কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত ঋণপত্র এবং সরকারি ঋণপত্র ক্রয়-বিক্রয় করা হয় তাকে বন্ড বাজার বলে।
মখ কুপন রেট বৃদ্ধি পেলে বন্ডের চলতি আয় বৃদ্ধি পাবে। কারণ কুপন রেট ও বন্ডের চলতি আয়ের মধ্যে সমমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান।
বন্ডের বার্ষিক সুদের পরিমাণ বন্ডের বর্তমান বাজার মূল্যের শতকরা কত ভাগ তা নির্ণয়ের মাধ্যমে চলতি আয় পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে সুদের পরিমাণ বাড়লে চলতি আয় বাড়ে। কুপন রেট হলো বার্ষিক সুদ প্রদানের হার। তাই কুপন রেট বাড়লে বার্ষিক সুদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে যা চলতি আয়কে বৃদ্ধি করবে।
মগ চিত্রা কোম্পানি লি.-এর বন্ডের মূল্য নির্ণয়:
বন্ডের মূল্য ঠই = ও  ১  ১(১ + শফ)হশফ + গঠ(১ + শফ)হ
= ১০০ ূ ১  ১(১ + ০.১২)১৫০.১২ + ১০০০(১ + ০.১২)১৫
= ১০০ ূ ৬.৮১০৮৬ + ১৮২.৬৯৬৩
= ৬৮১.০৮৬ + ১৮২.৬৯৬৩
= ৮৬৩.৭৮২৩
চিত্রা কোম্পানির বন্ডের মূল্য ৮৬৩.৭৮ টাকা।
উত্তর: ৮৬৩.৭৮ টাকা।
মঘ যদি বন্ড হতে প্রত্যাশিত আয়ের হার বৃদ্ধি পেয়ে ১৫% হয় তবে বন্ডটির অন্তর্নিহিত মূল্য হবে, ঠই
= ১০০  ১  ১(১ + ০.১৫)১৫০.১৫ + ১০০০(১ + ০.১৫)১৫
= ১০০ ূ ৫.৮৪৭৩৭ + ১২২.৮৯৪৪৯
= ৫৮৪.৭৩৭ + ১২২.৮৯৪৪৯
= ৭০৭.৬৩১৪৯
প্রত্যাশিত আয়ের হার বৃদ্ধি পেয়ে ১৫% হলে বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য হ্রাস পাবে যা একজন বিনিয়োগকারীর জন্য লাভজনক। কারণ বিনিয়োগকারী বর্তমানে বন্ডটি ৭০৭.৬৩ টাকায় ক্রয় করে মেয়াদপূর্তিতে লিখিত মূল্য (১,০০০ টাকা) ফেরত পাবে। যা ১২% প্রত্যাশিত আয়ের হারে ৮৬৩.৭৮ টাকায় ক্রয় করতে হয়। তাই প্রত্যাশিত আয়ের হার বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগকারী দৃষ্টিকোণ হতে তা ক্রয় লাভজনক হবে।

মমমপ্রশ্ন৬ হারুন সাহেব একজন বন্ডের বিনিয়োগকারী। তিনি দুটি বন্ড বিনিয়োগের জন্য পছন্দ করেছেন। তার বিবরণ নিæে দেয়া হলো
বন্ড কুপন সুদের হার বাজারমূল্য মেয়াদ
ঢ ১৪% ১২৫০ ৫ বছর
ণ ১৩% ৮৫০ –
হারুন সাহেবের প্রত্যাশিত আয়ের হার ১২%। প্রতিটি বন্ডের অভিহিত মূল্য ১,০০০ টাকা। [সি. বো. ১৭]
ক. চলতি ইল্ড কী? ১
খ. কুপন হার বন্ডের আয়ের ওপর কী প্রভাব ফেলে? ২
গ. উদ্দীপকে উলি­খিত ঢ বন্ডের মেয়াদপূর্তিতে আয়ের হার নির্ণয় করো। ৩
ঘ. হারুন সাহেবের কোন বন্ডে বিনিয়োগ করা উচিত? বিশ্লেষণ করো। ৪
৬ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক বন্ডের বার্ষিক সুদের পরিমাণ এর বর্তমান বাজারমূল্যের শতকরা কত ভাগ তাকে চলতি ইল্ড বলে।
সহায়ক তথ্য
ইল্ড বা ণরবষফ এর অর্থ বন্ড হতে প্রাপ্তি বা আয়।
মখ কুপন হার বন্ডের আয়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে কারণ এদের মধ্যে সমমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান।
কুপন হার হলো বন্ড হতে প্রাপ্ত আয়। এই আয় যত বেশি হবে আয়ের হারও তত বেশি হবে। অর্থাৎ কুপন হার বাড়লে বন্ডের আয়ের হার বৃদ্ধি পেতে থাকে।
মগ ঢ বন্ডের মেয়াদপূর্তিতে আয়ের হার নির্ণয়:
মেয়াদপূর্তিতে আয়ের হার, ণঞগ = ও + গঠ – ঝঠহগঠ + ঝঠ২
= ১৪০ + ১০০০  ১২৫০৫১০০০ + ১২৫০২
= ১৪০  ৫০১১২৫
= ৯০১১২৫
= ০.০৮
= ৮%
অতএব, ঢ বন্ডের মেয়াদপূর্তিতে আয়ের হার ৮%।
উত্তর: ৮%।
মঘ হারুন সাহেবের কোন বন্ডে বিনিয়োগ করা উচিত তা জানার জন্য উভয় বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য নির্ণয় করতে হবে।
ঢ বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য নির্ণয়:
বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য, ঠই = ও  = ১  ১(১ + কফ)হকফ + গঠ(১ + কফ)হ
= ১৪০ ূ ১  ১(১ + ০.১২)৫০.১২ + ১০০০(১ + ০.১২)৫
= ১৪০ ূ ৩.৬০৪৭৭৬ + ৫৬৭.৪২৬৮৫৫৭
= ৫০৪.৬৬৮৬৭ + ৫৬৭.৪২৬৮৫৫৭
= ১,০৭২.০৯৬ টাকা
ণ-বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য নির্ণয়:
চিরস্থায়ী বন্ডের অন্তনির্হিত মূল্য, ঠই = ওকফ
= ১৩০০.১২
= ১,০৮৩.৩৩
ঢ বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য, বাজারমূল্য (১,২৪০ টাকা) অপেক্ষা কম। তাই এই বন্ডে বিনিয়োগ করলে হারুন সাহেবের ক্ষতি হবে। অন্যদিকে, ণ বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য, বাজারমূল্য (৮৫০ টাকা) অপেক্ষা বেশি। তাই এই বন্ডে বিনিয়োগ করলে হারুন সাহেব লাভবান হবেন। তাই হারুন সাহেবের ণ বন্ডে বিনিয়োগ করা উচিত।

মমমপ্রশ্ন৭ তৌহিদ সাহেব লুকাস কোম্পানির বন্ডে বিনিয়োগ করেছেন। উক্ত বন্ড থেকে বিনিয়োগকারীরা কোনো সুদ পাবেন না। কিন্তু মেয়াদপূর্তিতে অভিহিত মূল্য ফেরত পাবেন। বন্ডটি অভিহিত মূল্য হতে কম মূল্যে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, ছানোয়ার সাহেব সুপার কোম্পানির চিরস্থায়ী বন্ডে বিনিয়োগের চিন্তাভাবনা করছেন। বন্ডের অভিহিত মূল্য ১,০০০ টাকা এবং বাজারমূল্য ১,২০০ টাকা। কুপন রেট ১৪%। জনাব ছানোয়ারের প্রয়োজনীয় আয়ের হার ১০%। [সি. বো. ১৭]
ক. বন্ড কী? ১
খ. ‘শেয়ার প্রতি আয় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্ণায়ক’Ñ ব্যাখ্যা করো। ২
গ. লুকাস কোম্পানি কোন ধরনের বন্ড ইস্যু করেছে? ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ. জনাব ছানোয়ারের সুপার কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা উচিত হবে কি? যুক্তিসহ মতামত দাও। ৪
৭ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক বন্ড হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের দলিল, যা কোম্পানি বা সরকার কর্তৃক দীর্ঘমেয়াদি তহবিল সংগ্রহের জন্য বন্ড ইস্যু করা হয়।
মখ শেয়ার প্রতি আয় একটি প্রতিষ্ঠানের লাভজনকতা নির্দেশ করে, তাই এটি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই এটি নির্ণায়ক হিসেবে কাজ করে।
সাধারণত প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বেশি হলে শেয়ার প্রতি আয় বৃদ্ধি পায়। মুনাফাপ্রবণ প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বভাবতই বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে, কেননা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগকারীরা আয়ের নিশ্চয়তা পেয়ে থাকেন। তাছাড়া বর্ধিত শেয়ার প্রতি আয় ভবিষ্যতের বর্ধিত আয়কে নির্দেশ করে। তাই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শেয়ার প্রতি আয় একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক।
মগ উদ্দীপকের লুকাস কোম্পানি জিরো কুপন বন্ড ইস্যু করেছে।
জিরো কুপন বন্ডের ক্ষেত্রে ধারককে কোনো প্রকার সুদ বা কুপন প্রদান করা হয় না। এই সকল বন্ড বাট্টায় অর্থাৎ লিখিত বা অভিহিত মূল্য অপেক্ষা কম মূল্যে বিক্রয় করা হয়। মেয়াদপূর্তিতে বন্ডের অভিহিত মূল্যে অর্থ পরিশোধ করা হয়। বিক্রয়মূল্য ও অভিহিত মূল্যের পার্থক্যই হলো বিনিয়োগকারীর মুনাফা।
উদ্দীপকের লুকাস কোম্পানি বন্ড ইস্যু করায় উক্ত বন্ড থেকে বিনিয়োগকারীরা কোনো সুদ পাবেন না। বন্ডটি অভিহিত মূল্য হতে কম মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা মেয়াদপূর্তিতে অভিহিত মূল্য ফেরত পাবেন। অর্থাৎ বন্ডের বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে লুকাস কোম্পানির ইস্যুকৃত বন্ডটি জিরো কুপন বন্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, লুকাস কোম্পানি জিরো কুপন বন্ড ইস্যু করেছে।
মঘ চিরস্থায়ী বন্ডের মূল্য নির্ণয়:
আমরা জানি,
বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য, ঠই = ওকফ
= ১৪০০.১০
= ১,৪০০
অতএব, সুপার কোম্পানির ইস্যুকৃত চিরস্থায়ী বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য ১,৪০০ টাকা এবং বাজারমূল্য ১,২০০ টাকা। যদি ছানোয়ার সুপার কোম্পানির বন্ডে বিনিয়োগ করেন, তবে তার মুনাফা হবে (১,৪০০  ১,২০০) = ২০০ টাকা। তাই জনাব ছানোয়ারের সুপার কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা উচিত বলে আমি মনে করি।

মমমপ্রশ্ন৮ জনাব আবীর একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। তিনি ১০ বছর মেয়াদি ১০% কুপন বন্ডে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বন্ডটির লিখিত মূল্য ১,০০০ টাকা। প্রত্যাশিত আয়ের হার ১৩%। [য. বো. ১৭]
ক. শেয়ার কী? ১
খ. প্রত্যাশিত আয়ের হার বলতে কী বোঝ? ২
গ. বন্ডের মূল্য নির্ণয় করো। ৩
ঘ. উদ্দীপকে জনাব আবীরের বন্ডে বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করো। ৪
৮ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক কোম্পানির মোট মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশকে শেয়ার বলে।
মখ বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগকৃত টাকার ওপর যে হারে আয় প্রত্যাশা করে তাকে প্রত্যাশিত আয়ের হার বলে।
অনুমানের ওপর ভিত্তি করেই এটি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সাধারণত ঝুঁকি ও প্রত্যাশিত আয়ের মধ্যে ধনাÍক সম্পর্ক বিদ্যমান। কেননা, ঝুঁকি বাড়লে, তার বিপরীতে প্রত্যাশিত আয়ের হারও বাড়ে।
মগ বন্ডের মূল্য নির্ণয় :
আমরা জানি,
মেয়াদি বন্ডের বর্তমান মূল্য, ঠই = ও  ১  ১(১ + কফ)হকফ + গঠ(১ + কফ)হ
এখানে,
বন্ডের লিখিত মূল্য (গঠ) = ১,০০০ টাকা
সুদের হার = ১০%
বার্ষিক সুদের পরিমাণ (ও) = ১,০০০  ১০% = ১০০ টাকা
প্রত্যাশিত আয় (কফ) = ১৩% বা ০.১৩
মেয়াদকাল, (হ) = ১০ বছর
 বএ´£র বতট্টমান মƒলঞ্ঝ, ঠই = ১০০  ১  ১(১ + ০.১৩)১০০.১৩ + ১০০০(১ + ০.১৩)১০
= ১০০  ৫.৪২৬২ + ২৯৪.৫৮৮৩
= ৫৪২.৬২ + ২৯৪.৫৯
= ৮৩৭.২১ টাকা
অতএব, উদ্দীপকে উলি­খিত বন্ডটির অর্ন্তনিহিত মূল্য ৮৩৭.২১ টাকা
উত্তর : ৮৩৭.২১ টাকা।
মঘ আমরা জানি, বন্ডের বর্তমান মূল্য ৮৩৭.২১ টাকা [গ নং হতে প্রাপ্ত]। বন্ডের লিখিত মূল্য এবং বাজারমূল্য ১,০০০ টাকা।
এখানে, বন্ডের বর্তমান মূল্য বাজারমূল্য অপেক্ষা (১,০০০  ৮৩৭.২১) = ১৬২.৭৯ টাকা কম। অর্থাৎ বন্ডটি ক্রয় করলে ক্ষতি হবে ১৬২.৭৯ টাকা। সুতরাং, আবীরের এই বন্ডে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক হয়নি।
নোট: বন্ডের বাজারমূল্য না থাকায় লিখিত মূল্যকেই বাজারমূল্য ধরা হয়েছে।
মমমপ্রশ্ন৯ মি. হাসান তার নিকট সঞ্চয়কৃত অর্থ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। যেহেতু তিনি কম ঝুঁকি নিতে আগ্রহী তাই শেয়ার বাজারে ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের দুটি বন্ডের কথা বিবেচনা করেন। নিæে বন্ড দু’টির তথ্য দেওয়া হলো :
বন্ড কুপন সুদের হার বাজার মূল্য মেয়াদ
ঢ ১৩% টাকা ১১৯ ৮ বছর
ণ ১১% টাকা ৮০ –
উলে­খ্য, মি. হাসানের প্রত্যাশিত আয়ের হার ১০%। [ব. বো. ১৭]
ক. বন্ড কাকে বলে? ১
খ. ট্রেজারি বন্ডের আয়ের হারকে কেন ঝুঁকিমুক্ত আয়ের হার বলা হয়? ব্যাখ্যা করো। ২
গ. ‘ঢ’ বন্ডের মেয়াদপূর্তিতে আয়ের হার নির্ণয় করো। ৩
ঘ. অন্তর্নিহিত মূল্যের ভিত্তিতে মি. হাসানের কোন বন্ডে বিনিয়োগ করা উচিত? বিশ্লেষণ করো। ৪
৯ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক বন্ড হলো দীর্ঘমেয়াদি ঋণের একটি হাতিয়ার যা বিক্রি করে কোম্পানি তহবিল সংগ্রহ করে।
মখ ট্রেজারি বন্ডের প্রকৃত আয় ও প্রত্যাশিত আয় সব সময় সমান থাকে বিধায় এর আয়ের হারকে ঝুঁকিমুক্ত আয়ের হার বলে।
ট্রেজারি বন্ড বলতে সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত বন্ডকে বোঝায়। সরকার কর্তৃক এ বন্ড ইস্যু হয় বিধায় এতে দেউলিয়াত্বের সম্ভাবনা নেই। এছাড়া এই বন্ডের আয়ের হার সবসময় নির্দিষ্ট থাকে। এ কারণেই ট্রেজারি বন্ডের আয়কে ঝুঁকিমুক্ত আয়ের হার বলা হয়।
সহায়ক তথ্য
দেউলিয়াত্ব : প্রতিষ্ঠানের দায় পরিশোধের অক্ষমতাকে দেউলিয়াত্ব বলা হয়।
মগ ‘ঢ’ বন্ডের মেয়াদপূর্তিতে আয়ের হার নির্ণয় :
আমরা জানি,
মেয়াদপূর্তিতে আয়ের হার, ণঞগ = ও + গঠ  ঝঠহগঠ + ঝঠ২
এখানে,
বন্ডের লিখিত মূল্য, (গঠ) = ১০০ টাকা
সুদের হার, = ১৩%
বার্ষিক সুদের পরিমাণ (ও) = ১০০  ১৩% = ১৩ টাকা
মেয়াদ, (হ) = ৮ বছর
বিক্রয়মূল্য, ঝঠ = ১১৯ টাকা
 মেয়াদপূর্তিতে আয়ের হার, ণঞগ = ১৩ + ১০০  ১১৯৮১০০ + ১১৯২
= ১৩  ২.৩৭৫১০৯.৫
= ১০.৬২৫১০৯.৫
= ০.০৯৭০ বা ৯.৭০%
 ী বন্ডের মেয়াদপূর্তিতে আয়ের হার ৯.৭০%।
উত্তর : ৯.৭০%।
মঘ বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য বা বর্তমান মূল্য নির্ণয় :
আমরা জানি,
মেয়াদি বন্ডের বর্তমান মূল্য, ঠই = ও  ১  ১(১ + কফ)হকফ + গঠ(১ + কফ)হ
এখানে, লিখিত মূল্য, গঠ = ১০০ টাকা
বার্ষিক সুদের পরিমাণ (ও) = ১০০  ১৩% = ১৩ টাকা
প্রত্যাশিত আয়ের হার, কফ = ১০% বা ০.১০
মেয়াদকাল, হ = ৮ বছর
 ঠই = ১৩  ১  ১(১ + ০.১০)৮০.১০ + ১০০(১ + ০.১০)৮
= ১৩  ৫.৩৩৪৯ + ৪৬.৬৫০৭
= ৬৯.৩৫৩৭ + ৪৬.৬৫০৭
= ১১৬.০০৪৪ বা ১১৬ টাকা (প্রায়)
ণ বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয় :
আমরা জানি,
চির স্থায়ী বন্ডের বর্তমান মূল্য, ঠই = ওকফ
এখানে,
বন্ডের লিখিত মূল্য = ১০০ টাকা
সুদের হার = ১১%
বার্ষিক সুদের পরিমাণ (ও) = ১০০  ১১% = ১১ টাকা
প্রত্যাশিত আয়ের হার = ১০% বা ০.১০
 বন্ডের বর্তমান মূল্য, ঠই = ১১০.১০ = ১১০ টাকা
এখানে, ঢ বন্ডের ক্ষেত্রে মুনাফা হবে = (১১৬  ১১৯) =  ৩ টাকা।
অপরদিকে, ণ বন্ডে মুনাফা হবে = (১১০  ৮০) = ৩০ টাকা। অর্থাৎ অন্তর্নিহিত মূল্যের ভিত্তিতে মি. হাসানের ণ বন্ডে বিনিয়োগ করা উচিত।

মমমপ্রশ্ন১০ জনাব রিয়াজুল তার ২৫টি বন্ড বিক্রয় করে ১২% সুদে রমনা ব্যাংকে স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রতি বন্ডের অভিহিত মূল্য ছিল ২,৫০০ টাকা। বাৎসরিক সুদের পরিমাণ ১২%, মেয়াদ ১২ বছর। বন্ডগুলো তিনি প্রতিটি ২,৮০০ টাকায় বিক্রয় করেন। [ঢা. বো. ১৬]
অ ক. জিরো কুপন বন্ড কী? ১
অ খ. ইল্ড টু কল (ণঞঈ) বলতে কী বোঝায়? ২
অ গ. উদ্দীপকে উলে­খিত বন্ডগুলো কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো। ৩
অ ঘ. বন্ডগুলোর মেয়াদপূর্তিতে আয় হারের ভিত্তিতে জনাব রিয়াজুলের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তটি মূল্যায়ন করো। ৪
১০ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক যেসব বন্ডের ওপর কোনো সুদ প্রদান করা হয় না তাকে জিরো কুপন বন্ড বলে।
মখ মেয়াদপূর্তির পূর্ব পর্যন্ত ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তলবকৃত বন্ডের ওপর বিনিয়োগকারীর অর্জিত আয়ের হারকে ইল্ড-টু-কল (ণঞঈ) বলে।
তলবকৃত শর্তযুক্ত বন্ডের বাজারে সুদের হার কুপন সুদের হার হতে কম হলে ইস্যুকারী বাজার হতে বন্ড তুলে নেয়। ফলে বন্ডহোল্ডার মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত আয়ের হার হতে বঞ্চিত হয়। সেক্ষেত্রে শুধু তলব করার পূর্ব পর্যন্ত আয় পায়। তলব করার পূর্ব পর্যন্ত প্রাপ্ত এ আয়ের হারকেই ইল্ড-টু-কল (ণঞঈ) বলে।
মগ উদ্দীপকে উলি­খিত বন্ডগুলো কুপন বন্ড।
যে বন্ডের গায়ে নির্দিষ্ট সুদের হার, পরিপক্ব সময় এবং অভিহিত মূল্য উলে­খ থাকে তাকে কুপন বন্ড বলে।
উদ্দীপকে জনাব রিয়াজুল ২৫টি বন্ড বিক্রয় করে ব্যাংকের স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ করতে চায়। প্রতিটি বন্ডের অভিহিত মূল্য ২,৫০০ টাকা। বাৎসরিক সুদের পরিমাণ ১২%, মেয়াদ ১২ বছর। উলি­খিত বৈশিষ্ট্যগুলো কুপন বন্ডের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়। তাই রিয়াজুলের বন্ডগুলো কুপন বন্ড, যার লিখিত মূল্যের ওপর বন্ডহোল্ডার মেয়াদপূর্তির পূর্ব পর্যন্ত উলি­খিত হারে সুদ পাবে এবং মেয়াদপূর্তিতে অভিহিত মূল্যও ফেরত পাবে।
মঘ মেয়াদপূর্তিতে বন্ডগুলোর আয় হার নির্ণয় :
দেয়া আছে,
প্রতি বন্ডের অভিহিত মূল্য (গঠ) = ২,৫০০ টাকা
বাৎসরিক সুদের পরিমাণ (ও) = (২,৫০০  ১২%) = ৩০০ টাকা
মেয়াদ (হ) = ১২ বছর
বন্ডের বিক্রয়মূল্য (ঘঝঠ) = ২,৮০০ টাকা
 মেয়াদপূর্তিতে আয় হার (ণঞগ) = ও + গঠ  ঘঝঠহগঠ + ঘঝঠ২ ূ ১০০
= ৩০০ + ২৫০০  ২৮০০১২২৫০০ + ২৮০০২ ূ ১০০
= ৩০০  ২৫২৬৫০ ূ ১০০
= ২৭৫২৬৫০ ূ ১০০
= ১০.৩৮%
সিদ্ধান্ত : জনাব রিয়াজুল বন্ডগুলো বিক্রয় না করলে ১০.৩৮% হারে আয় করতে পারবেন। আবার বন্ডগুলো বিক্রয় করে ১২% সুদে রমনা ব্যাংকে বিনিয়োগ করতে পারেন, যা বন্ডের মেয়াদপূর্তি আয় হার হতে বেশি। তাই রিয়াজুলের উচিত বন্ডগুলো বিক্রয় করে ব্যাংকে স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ করা।

মমমপ্রশ্ন১১ সাব্বির একজন নতুন বিনিয়োগকারী। তিনি ঢ ও ণ কোম্পানির বন্ডের মধ্যে কোনটিতে বিনিয়োগ করবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান। বন্ড দুটির প্রাসঙ্গিক তথ্যাবলি নিæরূপ:
কোম্পানি অভিহিত মূল্য কুপন সুদের হার মেয়াদপূর্তির সময় প্রয়োজনীয় আয়ের হার বাজারমূল্য
ঢ ১০০০ টাকা ১৪% ২০ বৎসর ১২% ১১৮০ টাকা
ণ ১০০০ টাকা ১০% ১৬ বৎসর ১০% ৯৭৬ টাকা
[রা. বো. ১৬]
অ ক. ট্রেজারি বিল কী? ১
অ খ. নগদ চক্রের ওপর পরিশোধ সময় বৃদ্ধির প্রভাব ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. সাব্বির ঢ কোম্পানির বন্ডটি কত মূল্যে ক্রয় করবে? ৩
অ ঘ. সাব্বির কোন ধরনের বন্ডে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন? মন্তব্য করো। ৪
১১ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট তারিখে পরিশোধ করার অঙ্গীকার করে সরকার যে স্বল্পমেয়াদি অঙ্গীকারপত্র ইস্যু করে তাকে ট্রেজারি বিল বলে।
মখ নগদ চক্র বলতে উৎপাদনের জন্য বাকিতে ক্রয়ের দেনা পরিশোধ সময় থেকে ধারে বিক্রয়ের পাওনা আদায় সময় পর্যন্তকে বোঝায়।
নগদ চক্র মজুদ পণ্যের গড় অবস্থানকাল, বাকি আদায়ের গড় সময় ও পরিশোধ সময়ের ওপর নির্ভর করে। পরিশোধ সময় মূলত মজুদ পণ্যের গড় অবস্থানকাল এবং আদায়কালের সময়ের যোগফল থেকে বিয়োগ করে পাওয়া যায়। অর্থাৎ অপর দুইটি অপরিবর্তিত রেখে পরিশোধ সময়ের বৃদ্ধি ঘটলে নগদ চক্র ছোট হবে।
মগ ঢ কোম্পানির বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয় :
আমরা জানি,
বন্ডের বর্তমান মূল্য, ঠই = ও  ১  ১(১ + কফ)হকফ + গঠ(১ + শফ)হ
এখানে, গঠ = ১,০০০
ও = ১,০০০  ১৪% = ১৪০
কফ = ১২% = ০.১২
হ = ২০
 ঠই = ১৪০  ১  ১(১ + ০.১২)২০০.১২ + ১০০০(১ + ০.১২)২০
= ১,০৪৫.৭২ + ১০৩.৬৭
= ১১৪৯.৩৯
উত্তর : ১,১৪৯.৩৯ টাকা।
মঘ উদ্দীপকে সাব্বির কোন বন্ডে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন তা জানার জন্য উভয় বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয় করতে হবে।
ী কোম্পানির বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য ১,১৪৯.৩৯ (গ হতে প্রাপ্ত)।
ণ কোম্পানির বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয় :
আমরা জানি,
বন্ডের বর্তমান মূল্য, ঠই = ও  ১  ১(১ + কফ)হকফ + গঠ(১ + কফ)হ
এখানে,
ও = ১,০০০  ১০% = ১০০ টাকা
কফ = ১০%
হ = ১৬ বছর
গঠ = ১,০০০ টাকা
 ঠই = ১০০  ১  ১(১ + ০.১০)১৬০.১০ + ১০০০(১ + ০.১০)১৬
= ৭৮২.৩৭ + ২১৭.৬৩ = ১,০০০
যেহেতু ঢ কোম্পানির বন্ডের বর্তমান মূল্য ১,১৪৯.৩৯ যা এর বাজারমূল্যের ১,১৮০ টাকার তুলনায় কম সেহেতু এটিতে বিনিয়োগ লাভজনক নয়। আবার, ণ কোম্পানির বন্ডের বর্তমান মূল্য ১,০০০ টাকা যা এর বাজারমূল্যের ৯৭৬ টাকার তুলনায় কিছুটা বেশি সেহেতু এই বন্ডে বিনিয়োগ লাভজনক বলা যেতে পারে।

মমমপ্রশ্ন১২ বিটা ফোন লি. ৫ বছর মেয়াদি ১,০০০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১০% কুপন বন্ড ইস্যু করে। মি. নাহিন প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (ওচঙ) মাধ্যমে বিটা ফোন লি. এর বন্ডে আবেদন করেন এবং তিনি ৫টি বন্ড পেয়ে যান। উলে­খ্য বর্তমানে বাজার সুদের হার ১৫%। অন্যদিকে নীলু লি. ৭ বছর মেয়াদি ১০,০০০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৯% কুপন বন্ড ইস্যু করে। আবার, আতিয়া লি. ৮ বছর মেয়াদি ১,০০০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২০% কুপন বন্ড ইস্যু করে। [দি. বো. ১৬]
অ ক. অগ্রাধিকার শেয়ার কী? ১
অ খ. ট্রেজারি বন্ডের আয়ের হারকে কেন ঝুঁকিমুক্ত আয়ের হার বলা হয়? ২
অ গ. উদ্দীপকে উলি­খিত বিটা ফোন লি. এর বন্ডটি যদি জিরো কুপন বন্ড হয় তাহলে বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য কত? ৩
অ ঘ. উদ্দীপকে উলি­খিত নীলু ও আতিয়া লি. এর বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয় করো এবং কোনটি অধিহারে ও অবহারে বিক্রি হচ্ছে এবং এর কারণ বিশ্লেষণ করো। ৪
১২ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক যে শেয়ারের মালিকগণ লভ্যাংশ ও মূলধন ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে সাধারণত শেয়ারহোল্ডারদের চেয়ে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে তাকে অগ্রাধিকার শেয়ার বলে।
মখ ট্রেজারি বন্ডের প্রকৃত আয় ও প্রত্যাশিত আয় সব সময় সমান থাকে বিধায় এর আয়ের হারকে ঝুঁকিমুক্ত আয়ের হার বলে।
ট্রেজারি বন্ড বলতে সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত বন্ডকে বোঝায়। সরকার কর্তৃক এ বন্ড ইস্যু হয় বিধায় এতে দেউলিয়াত্বের সম্ভাবনা নেই। এছাড়া এই বন্ডের আয়ের হার সবসময় নির্দিষ্ট থাকে। এ কারণেই ট্রেজারি বন্ডের আয়কে ঝুঁকিমুক্ত আয়ের হার বলা হয়।
সহায়ক তথ্য
দেউলিয়াত্ব : প্রতিষ্ঠানের দায় পরিশোধের অক্ষমতাকে দেউলিয়াত্ব বলা হয়।
মগ বিটা ফোন লি.-এর বন্ডের মূল্য নির্ণয় :
দেয়া আছে,
মেয়াদপূর্তিতে বন্ডের মূল্য, গঠ = ১,০০০ টাকা
বাজারে সুদের হার, কফ = ১৫% = ০.১৫
বন্ডের মেয়াদকাল, হ = ৫ বছর
উদ্দীপকে উলি­খিত বিটা ফোন লি.-এর বন্ডটি জিরো কুপন বন্ড হলে,
বন্ডের অন্তর্নিহিত মূল্য,
ঠই = গঠ(১ + কফ)হ = ১০০০(১ + ০.১৫)৫ = ১০০০২.০১১৩৫৭ = ৪৯৭ টাকা
উত্তর: ৪৯৭ টাকা।
মঘ নীলু লি.-এর বন্ডের মূল্য নির্ণয় :
দেয়া আছে,
অভিহিত মূল্য, গঠ = ১০,০০০ টাকা
সুদের হার = ৯%
 বার্ষিক সুদের পরিমাণ, ও = ১০,০০০  ৯% = ৯০০ টাকা
বন্ডের মেয়াদ, হ = ৭ বছর
প্রয়োজনীয় আয়ের হার, কফ = ১৫% = ০.১৫
বন্ডের বর্তমান মূল্য, ঠই = ও  ১  ১(১ + কফ)হকফ + গঠ(১ + কফ)হ
= ৯০০  ১  ১(১ + ০.১৫)৭০.১৫ + ১০০০০(১ + ০.১৫)৭
= ৯০০  ৪.১৬০৪ + ৩,৭৫৯.৩৭
= ৩,৭৪৪.৩৮ + ৩,৭৫৯.৩৭
= ৭,৫০৩.৭৫
বন্ডটির বর্তমান মূল্য ৭,৫০৩.৭৫ টাকা যার লিখিত বা অভিহিত মূল্য ১০,০০০ টাকা অপেক্ষা কম। তাই বলা যায়, বন্ডটি অবহারে বিক্রি হবে।
আতিয়া লি.-এর বন্ডের মূল্য নির্ণয় :
দেয়া আছে,
অভিহিত মূল্য বা লিখিত মূল্য, গঠ = ১,০০০ টাকা
সুদের হার = ২০%
 বার্ষিক সুদের পরিমাণ, ও = ১,০০০ ূ ২০% = ২০০ টাকা
বন্ডের মেয়াদ, হ = ৮ বছর
প্রয়োজনীয় আয়ের হার, কফ = ১৫% = ০.১৫
বন্ডের বর্তমান মূল্য, ঠই = ও  ১  ১(১ + কফ)হকফ + গঠ(১ + কফ)হ
= ২০০  ১  ১(১ + ০.১৫)৮০.১৫ + ১০০০(১ + ০.১৫)৮
= ২০০  ৪.৪৮৭৩ + ৩২৬.৯০
= ৮৯৭.৪৬ + ৩২৬.৯০
= ১,২২৪.৩৬ টাকা
আতিয়া লি.-এর বন্ডটির বর্তমান মূল্য ১,২২৪.৩৬ টাকা, যা বন্ডটির লিখিত মূল্য অপেক্ষা বেশি। অর্থাৎ বন্ডটি অধিহারে বিক্রি হবে।

মমমপ্রশ্ন১৩ সাজ্জাদ সাহেব সম্প্রতি চাকরি থেকে অবসরে গেছেন। তিনি তার পেনশন হতে প্রাপ্ত টাকার কিছু অংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তাই তিনি নিæের কোম্পানিসমূহের বন্ড নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করেছেন:
বিবরণ নোমান কোম্পানি সোহাগ কোম্পানি রাজু কোম্পানি
লিখিত মূল্য ১,০০০ টাকা ১,০০০ টাকা ২,০০০ টাকা
কুপন সুদের হার ১০% ১২%
প্রত্যাশিত আয়ের হার ৮% ১৫% ১০%
বাজার মূল্য ১,১০০ ৭০০
বন্ডের ধরন কুপন বন্ড চিরস্থায়ী বন্ড জিরো কুপন বন্ড
[কু. বো. ১৬]
অ ক. ট্রেজারি বন্ড কী? ১
অ খ. কোন সিকিউরিটিকে শংকর জাতীয় সিকিউরিটি বলা হয়? ব্যাখ্যা করো। ২
অ গ. রাজু কোম্পানির বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয় করো। ৩
অ ঘ. নোমান ও সোহাগ কোম্পানির মধ্যে কোনটিতে বিনিয়োগ করা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করো? বিশ্লেষণ করো। ৪
১৩ নং প্রশ্নের উত্তর অ
মক সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত দীর্ঘমেয়াদি বন্ডকে ট্রেজারি বন্ড বলে।
মখ অগ্রাধিকার শেয়ারে সাধারণ শেয়ার ও ঋণপত্র উভয়ের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় এ ধরনের শেয়ারকে হাউব্রিড বা সংকর জাতীয় সিকিউরিটি বলে।
অগ্রাধিকার শেয়ার ও সাধারণ শেয়ার উভয়ই কোম্পানির মালিকানা নির্দেশ করে। অন্যদিকে অগ্রাধিকার শেয়ার ও ঋণপত্র উভয়ই স্থির আয়যুক্ত সিকিউরিটি। এজন্য অগ্রাধিকার শেয়ারকে হাইব্রিড বা সংকর জাতীয় সিকিউরিটি বলে।
মগ রাজু কোম্পানির বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয় :
দেয়া আছে,
বন্ডের লিখিত মূল্য গঠ = ২,০০০ টাকা
প্রত্যাশিত আয়ের হার, কফ = ১০% বা ০.১০
মেয়াদ, হ = ১০ বছর (ধরি) [বি.দ্র.: প্রশ্নে মেয়াদ উলে­খ নেই]
আমরা জানি,
জিরো কুপন বন্ডের বর্তমান মূল্য,
ঠই = গঠ(১ + কফ)হ = ২০০০(১ + ০.১০)১০ = ২০০০২.৫৯৩৭ = ৭৭১.০৯
উত্তর : ৭৭১.০৯ টাকা।
মঘ সোহাগ কোম্পানির বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয় :
দেয়া আছে,
লিখিত মূল্য, গঠ = ১,০০০ টাকা
সুদের হার, র = ১২%
প্রত্যাশিত আয়ের হার, কফ = ১৫% = ০.১৫
সুদের পরিমাণ, ও = (১,০০০  ১২%) = ১২০ টাকা
আমরা জানি,
চিরস্থায়ী বন্ডের বর্তমান মূল্য, ঠই = ওকফ = ১২০০.১৫ = ৮০০
নোমান কোম্পানির বন্ডের বর্তমান মূল্য নির্ণয় :
দেয়া আছে,
লিখিত মূল্য, গঠ = ১,০০০ টাকা
সুদের হার, র = ১০%
 সুদের পরিমাণ, ও = (১,০০০  ১০%) = ১০০ টাকা
প্রত্যাশিত আয়ের হার, কফ = ৮% = ০.০৮
মেয়াদ, হ = ১০ বছর (অনুমানকৃত)
আমরা জানি,
বন্ডের বর্তমান মূল্য, ঠই = ও  ১  ১(১ + কফ)হকফ + গঠ(১ + কফ)হ
= ১০০  ১  ১(১ + ০.০৮)১০০.০৮ + ১০০০(১ + ০.০৮)১০
= (১০০  ৬.৭১০১) + ৪৬৩.১৯৩৫
= ৬৭১.০১ + ৪৬৩.১৯
= ১১৩৪.২০
এখানে, নোমান কোম্পানির বন্ডের বর্তমান মূল্য (১,১৩৪.২) বাজারমূল্যের (১,১০০) তুলনায় মাত্র (১১৩৪.২  ১,১০০) = ৩৪.২ টাকা বেশি। অপরদিকে, সোহাগ কোম্পানির বন্ডের বর্তমান মূল্য বাজারমূল্যের তুলনায় (৮০০  ৭০০) = ১০০ টাকা বেশি। যেহেতু সোহাগ কোম্পানির বন্ডে লাভের পরিমাণ বেশি সেহেতু সাজ্জাদ সাহেবের সোহাগ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা অধিক যুক্তিযুক্ত বলে আমি মনে করি।

প্রিয় জনের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply